মাছ ব্যবসায়ীকে হত্যায় মৃত্যুদণ্ড

মাছ ব্যবসায়ীকে হত্যায় মৃত্যুদণ্ড

ডুমুরিয়ায় মাহবুবের ঘেরের ব্যবসা ছিল। সেখানে কাজ করতেন মিন্টু। ঘেরে থাকা অবস্থায় প্রায়ই তিনি কর্মচারীদের সঙ্গে মাদক সেবন করতেন। ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর রাতে মাদক কেনার টাকা নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে মাহবুবকে কুপিয়ে হত্যার পর পালিয়ে যান মিন্টু।

খুলনার ডুমুরিয়ায় মাছ ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান মাহবুবকে হত্যার দায়ে আসামি মিন্টু রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। হত্যা মামলার আরেক ধারায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক তসনীম জোহরা বৃহস্পতিবার দুপুরে এই রায় দেন।

আসামি মিন্টু পলাতক। তার বাড়ি ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর গ্রামে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম আবুল কালাম আজাদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডুমুরিয়া উপজেলার চক আহসানখালীতে নিহত মাহবুবের ঘেরের ব্যবসা ছিল। সেখানে কাজ করতেন মিন্টু। ঘেরে থাকা অবস্থায় প্রায়ই তিনি কর্মচারীদের সঙ্গে মাদক সেবন করতেন। ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর রাত ১২টার দিকে মাদক কেনার টাকা নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে মাহবুব মিন্টুকে চড় মারেন।

এর প্রতিশোধ নিতে রাত ১টার দিকে ঘেরের ভেতরে রাখা বঁটি দিয়ে মাহবুবকে কুপিয়ে হত্যার পর পালিয়ে যান মিন্টু। পরদিন মাহবুবের স্ত্রী গিয়ে মরদেহ দেখতে পান। তিনিই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে ডুমুরিয়া থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্তে নেমে ঘেরের কর্মচারী আলমগীর কবির খোকন ও জাহাঙ্গীর কবিরকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের মাধ্যমে মিন্টুকে ঝিকরগাছা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেন।

পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি পলাতক।

২০১৩ সালের ২২ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডুমুরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তাজুল ইসলাম মিন্টুকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে আটক অন্য দুইজনকে। ২৫ জনের সাক্ষ্য নেয়ার পর এই রায় দেয় আদালত।

আরও পড়ুন:
ইয়াবা পাচার করায় ৫ রোহিঙ্গার ১০ বছরে কারাদণ্ড
হত্যা মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড
ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার পোস্ট দেয়ায় ৩ জনের কারাদণ্ড
স্ত্রী হত্যায় মৃত্যুদণ্ড
দিনমজুরকে হত্যায় আসামির যাবজ্জীবন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নারীকে লাঞ্ছনাকর সাজা, ইউপি সদস্য বললেন ‘কম শাস্তি’

নারীকে লাঞ্ছনাকর সাজা, ইউপি সদস্য বললেন ‘কম শাস্তি’

নারীকে লাঞ্ছনার ভাইরাল ভিডিও থেকে নেয়া ছবি। নিউজবাংলা

ওই নারীকে লাঞ্ছনা করার কথা স্বীকার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য কাওসার চৌধুরী জানিয়েছেন, স্বামী বিদেশ থাকার সুযোগে তিনি যে অপরাধ করেছেন, তার জন্য এটি ‘কম শাস্তি’।

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে বিয়েবহির্ভূত সর্ম্পকের অভিযোগ তুলে এক গৃহবধূকে প্রকাশ্যে জুতার মালা পরিয়ে লাঠিপেটা করা হয়েছে। এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে ফেসবুকে।

ওই নারীকে লাঞ্ছনা করার কথা স্বীকার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য কাওসার চৌধুরী বলেন, স্বামী বিদেশ থাকার সুযোগে তিনি যে অপরাধ করেছেন, তার জন্য এটি ‘কম শাস্তি’।

লাঞ্ছিত ওই নারী নিউজবাংলাকে জানান, মারধরের পর তার টাকা ও গয়না ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। সামাজিকভাবে তিনি হেয় হয়েছেন।

এ ঘটনা উপজেলার চুনখোলা ইউনিয়নের সিংগাতী গ্রামের।

ইউপি সদস্য কাওসার চৌধুরীসহ গ্রামের কয়েকজন লোক অভিযোগ করেন, বিভিন্ন লোকের সঙ্গে ওই নারীর বিয়েবর্হিভূত সম্পর্ক ছিল।

ইউপি সদস্য বলেন, ‘এগুলো আমাদের কাছে খারাপ লাগে। সোমবার রাতে নিজের মেয়ের শ্বশুরের সঙ্গে ওই নারীকে এক ঘরে পেয়ে তাদেরকে ধরা হয়। এরপর তার বিচার করা হয়।

‘কেবল জুতার মালা গলায় দিয়ে ও কঞ্চির লাঠি দিয়ে বাড়িয়ে লাঞ্ছিত করছি, তার বিচার আরও কঠিন হওয়া উচিত ছিল।’

ওই নারী বলেন, ‘আমার বাড়ির আশপাশের লোকজন আমাকে ধরে আমার সিঁড়ির কাছে নিয়ে আমার গলায় চেইন ছিল এক ভরি ওজনের, আট আনা ওজনের কানের দুল ও ৯৫ হাজার টাকা দামের একটি মোবাইল নিয়ে গেছে। কাওসার মেম্বার ও জানিক ছিল, এরা আমারে জুতার মালা দেছে ও কঞ্চি দিয়ে বাইড়াইছে।

‘আমি এর বিচার প্রশাসনের কাছে চাই। আর এই যে ভিডিও সব জায়গা ছড়াইছে, আমার মানসম্মান যা যাবার তা তো গেইছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এ খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিন্দ্য মন্ডল ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রুনীয়া আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

অনিন্দ্য মন্ডল নিউজবাংলাকে বলেন, 'ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে পাওয়া যায়নি। শোনা গেছে তিনি ওই ঘটনার পর গ্রাম ছেড়েছেন।'

রুনীয়া আক্তার বলেন, ‘ওই নারীকে এলাকায় পাওয়া যায়‌নি। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পা‌রি‌নি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে‌ছি। বিষয়‌টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখ‌ছি।’

মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোমেন দাশ বলেন, ‘থানায় অভিযোগ পাইনি, পেলে ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
ইয়াবা পাচার করায় ৫ রোহিঙ্গার ১০ বছরে কারাদণ্ড
হত্যা মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড
ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার পোস্ট দেয়ায় ৩ জনের কারাদণ্ড
স্ত্রী হত্যায় মৃত্যুদণ্ড
দিনমজুরকে হত্যায় আসামির যাবজ্জীবন

শেয়ার করুন

ছাত্রদল নেতার মৃত্যু: ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৮ জনের নামে মামলা

ছাত্রদল নেতার মৃত্যু: ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৮ জনের নামে মামলা

পাঁচবিবি পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি নেতা ডালিম নিউজবাংলাকে জানান, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হঠাৎ এসে তার মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মামলা করতে পাঁচবিবি থানায় যান। সেখান থেকে ফোনে ছাত্রদল নেতা ফারুককে পৌর পার্কে ডেকে নিয়ে মারধর করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা-কর্মীরা।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের আট নেতা-কর্মীর নামে মামলা করেছেন নিহতের মা।

পাঁচবিবি থানায় বুধবার সন্ধ্যায় করা এই মামলায় আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় আরও আটজনকে।

এর আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতা-কর্মীকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

তারা হলেন মহীপুর হাজী মহাসীন সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, কুসুম্বা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা আরিফুল ইসলাম, যুবলীগ সদস্য আনিছুর রহমান ও মুজাহিদুল ইসলাম।

পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পলাশ চন্দ্র দেব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মৃত ফারুক হোসেনের মা বিলকিস বেগম এজাহারে লিখেছেন, ফোন করে ডেকে নিয়ে তার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মঙ্গলবার মধ্যরাতে মারা যান পাঁচবিবি পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন। তার বাড়ি পৌর শহরের দানেজপুর এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ওসি পলাশ জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলা যুবলীগের সদস্য আনিছুর রহমান শিপনের সঙ্গে বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ডালিমের তর্ক হয়। এর জেরে শিপন ডালিমের মোটরসাইকেলে পুড়িয়ে দেন।

বিএনপি নেতা ডালিম নিউজবাংলাকে জানান, দলীয় কার্যালয়ে বসে তারা সন্ধ্যায় আলোচনা করছিলেন। সে সময় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হঠাৎ এসে তার মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মামলা করতে পাঁচবিবি থানায় যান। সেখান থেকে ফোনে ছাত্রদল নেতা ফারুককে পৌর পার্কে ডেকে নিয়ে মারধর করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা-কর্মীরা।

ডালিম আরও জানান, ফারুককে তারা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে পাঁচবিবি উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক মিন্নুর বলেন, ‘ফারুক হত্যার সঙ্গে যুবলীগ নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য নয়।’

পাঁচবিবি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ধীমান চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘ছাত্রলীগের কোনো নেতা-কর্মী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকবে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রাফসান জানি বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই ফারুকের মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার পকেটে নাইট্রো গ্লিসারিনের একটি প্যাকেট পাওয়া গেছে। হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হতে পারে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’

পাঁচবিবি থানার ওসি পলাশ জানান, বিএনপি নেতার মোটরসাইকেল পোড়ানোর ঘটনায় মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ইয়াবা পাচার করায় ৫ রোহিঙ্গার ১০ বছরে কারাদণ্ড
হত্যা মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড
ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার পোস্ট দেয়ায় ৩ জনের কারাদণ্ড
স্ত্রী হত্যায় মৃত্যুদণ্ড
দিনমজুরকে হত্যায় আসামির যাবজ্জীবন

শেয়ার করুন

ইয়াবা পাচারের দায়ে রোহিঙ্গা মা-ছেলের কারাদণ্ড

ইয়াবা পাচারের দায়ে রোহিঙ্গা মা-ছেলের কারাদণ্ড

২০১৬ সালের ২৮ জুলাই দুপুরে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়ায় অভিযান চালায় বিজিবির একটি দল। সেখান থেকে ৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকা মূল্যের ৩ হাজার ৩৩০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয় রোহিঙ্গা মা-ছেলেকে।

কক্সবাজারে ইয়াবা পাচারের দায়ে এক রোহিঙ্গা নারী ও তার ছেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক মাহমুদুল হাসান বুধবার দুপুরে এ রায় দেন।

আসামিদের মধ্যে মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার মংডুর দলিয়াপাড়ার নুনু বেগমকে ছয় বছরের এবং তার ছেলে মোহাম্মদ ইউনুসকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আবদুর রউফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ২০১৬ সালের ২৮ জুলাই দুপুরে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়ায় অভিযান চালায় বিজিবির একটি দল। সেখান থেকে ৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকা মূল্যের ৩ হাজার ৩৩০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয় আসামিদের।

তাদের নামে টেকনাফ থানায় মাদকের মামলা করেন ২ নম্বর বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের নায়েক সুবেদার গুরুপদ বিশ্বাস।

আরও পড়ুন:
ইয়াবা পাচার করায় ৫ রোহিঙ্গার ১০ বছরে কারাদণ্ড
হত্যা মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড
ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার পোস্ট দেয়ায় ৩ জনের কারাদণ্ড
স্ত্রী হত্যায় মৃত্যুদণ্ড
দিনমজুরকে হত্যায় আসামির যাবজ্জীবন

শেয়ার করুন

হামলায় ভাঙল ইউপি সদস্যের দুই পা

হামলায় ভাঙল ইউপি সদস্যের দুই পা

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শেখ। ছবি: নিউজবাংলা

সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রুহুল জানান, গত ১১ নভেম্বরের ইউপি নির্বাচনে তিনি সদস্য হিসেবে বিজয়ী হন। এ নির্বাচনে তিনি নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় প্রতিপক্ষের লোকজন।

পিরোজপুর সদরে পুর্ব বিরোধের জেরে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যেকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। হামলা ভেঙে গেছে ওই ইউপি সদস্যের দুই পা।

সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নে বুধবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। আহত রুহুল আমিন শেখ শিকদারমল্লিক ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. জা. মো. মাসুদুজ্জামান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রুহুল জানান, গত ১১ নভেম্বরের ইউপি নির্বাচনে তিনি সদস্য হিসেবে বিজয়ী হন। এ নির্বাচনে তিনি নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় প্রতিপক্ষের লোকজন।

আমিন অভিযোগ করেন, বুধবার তিনি শিকদারমল্লিক ইউনিয়নের চালিতাখালী গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে সদরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে কদমতলা ইউনিয়নের ঝনঝনিয়াতলা এলাকায় মো. ফারুকসহ ২০ থেকে ২৫ জন লোক তার পথরোধ করে। পরে তাকে তুলে কিছুদূর নিয়ে জিআই পাইপ ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। পিটিয়ে তার দুই পা ভেঙে দেয়া হয়।

সদর হাসপাতালের চিকিৎসক তন্ময় মজুমদার জানান, হাসপাতালে আহত অবস্থায় রুহুলকে আনা হয়। তার দুই পা শক্ত কোনো বস্তুর আঘাতে ভেঙে গেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও আছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সদর থানার ওসি মাসুদুজ্জামান জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে কদমতলা এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ইয়াবা পাচার করায় ৫ রোহিঙ্গার ১০ বছরে কারাদণ্ড
হত্যা মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড
ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার পোস্ট দেয়ায় ৩ জনের কারাদণ্ড
স্ত্রী হত্যায় মৃত্যুদণ্ড
দিনমজুরকে হত্যায় আসামির যাবজ্জীবন

শেয়ার করুন

‘অল্প বয়সে প্রতিমন্ত্রী হয়ে মুরাদের মাথা ঠিক ছিল না’

‘অল্প বয়সে প্রতিমন্ত্রী হয়ে মুরাদের মাথা ঠিক ছিল না’

সদ্য সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান। ছবি: সংগৃহীত

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ বাকী বিল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জামালপুরে কোনো ধরনের উন্নয়ন মুরাদ করতে পারেনি। উন্নয়ন করার ক্ষমতাও তার ছিল না। মুরাদ সরিষাবাড়ী থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, কিন্তু তার উপজেলাতেও উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন নেই।’

সদ্য পদত্যাগ করা তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান জামালপুর এলে তার বিভিন্ন সভা মুখরিত থাকত শ শ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের স্লোগানে। তবে সাম্প্রতিক বিতর্কের জেরে পদত্যাগ করার পর থেকে তার পক্ষে কোনো নেতাকর্মীকে সরব হতে দেখা যায়নি।

জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা মনে করেন, মুরাদ ক্ষমতায় থাকাকালে নিজ নির্বাচনি এলাকা সরিষাবাড়ীতেই উন্নয়নমূলক কোনো কাজ করেননি। এসব কারণে নেতাকর্মীরা তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ বাকী বিল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মুরাদ আমাদের ছেলের সমান। অল্প বয়সে প্রতিমন্ত্রী হয়ে মাথা ঠিক ছিল না। এজন্য যখন যা ইচ্ছা করেছে তাই বলেছে। এর উচিত শিক্ষাও পেয়েছেন তিনি।

‘জামালপুরে কোনো ধরনের উন্নয়ন মুরাদ করতে পারেনি। উন্নয়ন করার ক্ষমতাও তার ছিল না। মুরাদ সরিষাবাড়ী থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, কিন্তু তার উপজেলাতেও উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন নেই।’

স্থানীয় নেতাকর্মীরা মুরাদের পদ হারানোর বিষয়টি কীভাবে দেখছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিতর্কিত মুরাদ ইতোমধ্যে রাজনৈতিকভাবে শাস্তি পেয়েছে। তার ব্যবহার সব জায়গায় পরিস্কার হওয়ায় নেতাকর্মীরা মুরাদের বিপক্ষে। আমারও তাকে জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছি।’

সরিষাবাড়ী উপজেলা যুবলীগের সদস্য রানা সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী (মুরাদ) কোনো সমাবেশে যোগ দিলে পাশে থাকত অসংখ্য নেতাকর্মী। মাঝেমধ্যে ভুল বক্তব্য দিলেও পাশে থাকা নেতাকর্মীরা হাততালি দিয়ে উৎসাহ দিতেন। প্রতিমন্ত্রী মনোক্ষুণ্ণ হবে এমন আশংকায় কেউ কোনোদিন তার ভুল মন্তব্য বা বক্তব্যের জন্য বাধা দেয়নি।

‘হাইব্রিড নব্য অসংখ্য কর্মী তিনি প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে আশপাশে ঘুরঘুর করেছে। প্রতিমন্ত্রীও তাদেরকে কাছে টেনে নিয়েছেন। ফলে এসব কর্মীরা বাগিয়ে নিয়েছেন নানা সুযোগ-সুবিধা, কিন্তু ত্যাগী নেতাকর্মীরা কোনো ধরনের সুবিধা পায়নি।’

যুবলীগের এই নেতা মনে করেন, প্রতিমন্ত্রীর খারাপ সময় চলে এসেছে এমন আশংকায় শুরুতেই সুবিধাভোগী নেতাকর্মীরা সটকে পড়েছেন। আগে তার বাড়িতে নেতাকর্মীদের আনাগোনা থাকলেও এখন কাউকে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, ‘মুরাদের নিজের ভুলের জন্য আজকে তার এমন অবস্থা। ক্ষমতায় থাকলে মাথা ঠান্ডা রেখে বুঝেশুনে কথাবার্তা বলতে হয়। উদ্ভট ও মনগড়া মন্তব্য করে মাঝেমধ্যেই বিতর্কিত হয়েছেন তিনি। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। ফলে এমন নেতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে নেতাকর্মীরা।’

সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসনের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মুরাদ হাসানের বক্তব্য সম্বলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে ‘অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।

তার ওই বক্তব্যের সমালোচনায় সোচ্চার হয়েছিলেন নারী অধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সে সময় প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে মুরাদ হাসানকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবিও উঠেছিল।

এর মধ্যে এক চিত্রনায়িকার সঙ্গে তার ফোনালাপ ভাইরাল হয়। সেই নারীকে তিনি তার কাছে যেতে বলেন। না গেলে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়ে উঠিয়ে নেয়ার হুমকি দেন। তার কাছে গেলে ধর্ষণ করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও অবমাননাকর বক্তব্য রাখেন আরেকটি অনলাইন আলোচনায়।

মুরাদকে বহিষ্কারে বিএনপি, নাগরিক সমাজ, নারী অধিকার কর্মী ও ছাত্রলীগের নারী কর্মীদের দাবির মধ্যে গত সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সিদ্ধান্ত জানান। মুরাদকে মঙ্গলবারের মধ্যে পদত্যাগের নির্দেশ দিলে তিনি পদত্যাগ করেন।

এরপর মঙ্গলবার জেলা আওয়ামী লীগে সভাপতি বাকী বিল্লাহ জানান, মুরাদকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এর আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছিলেন মুরাদ হাসানকে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
ইয়াবা পাচার করায় ৫ রোহিঙ্গার ১০ বছরে কারাদণ্ড
হত্যা মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড
ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার পোস্ট দেয়ায় ৩ জনের কারাদণ্ড
স্ত্রী হত্যায় মৃত্যুদণ্ড
দিনমজুরকে হত্যায় আসামির যাবজ্জীবন

শেয়ার করুন

সিলেটে হচ্ছে নতুন ৩ থানা

সিলেটে হচ্ছে নতুন ৩ থানা

সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ বলেন, ‘এ রকম একটি প্রস্তাব আমরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। তারা যাচাই-বাছাই করে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে পাঠাবেন। সেখান থেকে সিলেটের ডিআইজির মাধ্যমে এই প্রস্তাব যাবে পুলিশ সদর দপ্তরে।’

নতুন করে আরও তিনটি থানা গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)। বর্তমানে এসএমপির আওতাধীন ছয়টি থানা আছে। এই ছয় থানার মাধ্যমে নগরের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের কর্মকর্তারা।

প্রস্তাবিত নতুন থানাগুলো হচ্ছে গাজী বুরহান উদ্দিন (রহ.) থানা, শাহী ঈদগাহ থানা ও জালালপুর থানা।

দেশে বর্তমানে আটটি নগরে মহানগর পুলিশের কার্যক্রম আছে। এর মধ্যে সিলেট মহানগর পুলিশের আয়তন সবচেয়ে বেশি। ৫১৮ দশমিক ৪৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এসএমপিতে বর্তমানে তিন হাজার জনবল রয়েছে।

নতুন তিনটি থানা গঠনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ রকম একটি প্রস্তাব আমরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। তারা যাচাই-বাছাই করে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে পাঠাবেন। সেখান থেকে সিলেটের ডিআইজির মাধ্যমে এই প্রস্তাব যাবে পুলিশ সদর দপ্তরে।’

পুলিশ কমিশনার বলেন, নগরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি অপরাধও বাড়ছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা দেয়াই পুলিশের কাজ। এ জন্য পুলিশি সেবা জনসাধারণের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে নতুন তিনটি থানা গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, আম্বরখানা-শাহী ঈদগাহ এলাকার লোকজনকে এয়ারপোর্ট থানায় যেতে হয়। তেমনি শাহজালাল উপশহরের বাসিন্দাদের যেতে হয় শাহপরান (রহ.) থানায়। একইভাবে জালালপুর এলাকার লোকজনকে হয় মোগলাবাজার থানায় নতুবা দক্ষিণ সুরমা থানায় যেতে হচ্ছে।

থানাগুলো দূরে থাকায় কোনো ঘটনা ঘটলে এসব এলাকায় পুলিশ যেতে অনেক দেরি হয়। এ কারণে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধীদের আটক করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে নতুন আরও তিনটি থানা গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

থানাগুলো গঠন করা হলে কোনো ঘটনা ঘটার পর তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যেতে পারবে উল্লেখ করে পুলিশ কমিশনার বলেন, এতে জনগণ কম সময়ে আরও কাছে পুলিশের সেবা পাবেন। এর ফলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জনগণকে পুলিশ আরও ভালো সেবাও দিতে পারবে।

কোতোয়ালি থানা এবং শাহপরান (রহ.) থানার অংশবিশেষ নিয়ে গাজী বুরহান উদ্দিন থানা, কোতোয়ালি থানা, এয়ারপোর্ট থানা এবং জালালাবাদ থানার অংশবিশেষ নিয়ে শাহী ঈদগাহ থানা এবং দক্ষিণ সুরমা থানা ও মোগলাবাজার থানার অংশবিশেষ নিয়ে জালালপুর থানা গঠনের জন্য একটি প্রস্তাব সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পাঠিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশ।

সেখান থেকে বিভাগীয় কমিশনার ও সিলেটের ডিআইজি কার্যালয় হয়ে প্রস্তাবনাটি পাঠানো হবে পুলিশ সদর দপ্তরে। পুলিশ সদর দপ্তর যাচাই-বাছাই করার পর প্রস্তাবটি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটিতে (নিকার) পাঠানো হবে। নিকারের সভায় অনুমোদনের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে নতুন তিন থানার কার্যক্রম।

২০০৬ সালের ১৫ অক্টোবর কোতোয়ালি ও দক্ষিণ সুরমা থানা এবং এই দুই থানার আওতাধীন বন্দরবাজার ফাঁড়ি, কদমতলী ফাঁড়ি, সোবহানিঘাট ফাঁড়ি, লামাবাজার ফাঁড়ি ও আম্বরখানা ফাঁড়ি নিয়ে গঠন করা হয় সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)।

২৬ অক্টোবর তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এসএমপির কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ড, সিলেট সদর উপজেলা ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন মহানগর পুলিশের আওতাভুক্ত।

প্রতিষ্ঠাকালে মহানগর পুলিশ এলাকার মোট জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ লাখ। এখন জনসংখ্যা প্রায় ২৫ লাখে পৌঁছেছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) বি এম আশরাফ উল্লাহ তাহের বলেন, অন্যান্য মহানগরের চেয়ে সিলেটের আয়তন বেশি। আগের চেয়ে এখানে জনসংখ্যাও বেড়েছে। কিন্তু থানার সংখ্যা বাড়েনি। নতুন থানা গঠন করা হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেয়া আরও সহজ হবে।

আরও পড়ুন:
ইয়াবা পাচার করায় ৫ রোহিঙ্গার ১০ বছরে কারাদণ্ড
হত্যা মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড
ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার পোস্ট দেয়ায় ৩ জনের কারাদণ্ড
স্ত্রী হত্যায় মৃত্যুদণ্ড
দিনমজুরকে হত্যায় আসামির যাবজ্জীবন

শেয়ার করুন

নৌকার বিরোধী দলে, শামীম ওসমানকে ইঙ্গিত করে আইভী

নৌকার বিরোধী দলে, শামীম ওসমানকে ইঙ্গিত করে আইভী

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন সিটি করপোরেশনের মেয়র আইভী। ছবি: নিউজবাংলা

আইভী বলেন, ‘নৌকার বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র হচ্ছে। বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। হামলার কথা বলা হচ্ছে। নৌকার বিরুদ্ধে প্রার্থী খোঁজা হচ্ছে, কিন্তু ইনশাআল্লাহ জয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী দলের মধ্য থেকেই বিরোধিতার অভিযোগ তুলেছেন। বিরোধিতার জন্য ইঙ্গিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের দিকে।

নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বুধবার বিকেলে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এ অভিযোগ তোলেন তিনি।

আইভী বলেন, ‘নৌকার বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র হচ্ছে। বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। হামলার কথা বলা হচ্ছে। নৌকার বিরুদ্ধে প্রার্থী খোঁজা হচ্ছে, কিন্তু ইনশাআল্লাহ জয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।’

শামীম ওসমানকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘ইউপি নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা করে প্রার্থীদের পরাজিত করে সরকারের ইমেজ নষ্ট করেছেন। এখন সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নৌকার প্রতি সম্মান দেখাতে পারছেন না।

‘যারা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জকে অস্থির করতে চান তাদের বলব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে প্রার্থী দিয়েছেন তার বিরুদ্ধাচার করবেন, নাকি নিজেদের অস্তিত্ব রাখার চেষ্টা করবেন, তা ভেবে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

আইভী আরও বলেন, ‘বেশি বাড়াবাড়ি ভালো না। তার কারণ আপনারা দেখেছেন সম্প্রতি ঘটে যাওয়া তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর অবস্থা, তা দেখে শিক্ষা নেন।’

সভায় নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু দলের নেতা-কর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর আশা পূরণে নৌকায় ভোট দিয়ে আইভীকে জয়ী করার আহ্বান জানান।

রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভার মেয়র হাসিনা গাজী বলেন, ‘নারীরা দায়িত্ব পেয়ে কখনও অসৎ হন না, অপকর্ম করেন না। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তুলে দেয়া নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আইভীকে জয়ী করতে হবে।’

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই।

আরও পড়ুন:
ইয়াবা পাচার করায় ৫ রোহিঙ্গার ১০ বছরে কারাদণ্ড
হত্যা মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড
ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার পোস্ট দেয়ায় ৩ জনের কারাদণ্ড
স্ত্রী হত্যায় মৃত্যুদণ্ড
দিনমজুরকে হত্যায় আসামির যাবজ্জীবন

শেয়ার করুন