‘নির্বাচনে বিদ্রোহী হলে আ.লীগ করা যাবে না’

‘নির্বাচনে বিদ্রোহী হলে আ.লীগ করা যাবে না’

চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ। ছবি: নিউজবাংলা

কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত মাথা পেতে মেনে নিতে হবে। দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে সবাইকে সমর্থন দিতে হবে। বিদ্রোহী হয়ে দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের ছাড় দেয়া হবে না। নির্বাচনে বিদ্রোহী হলে আর যা-ই হোক, তিনি আওয়ামী লীগ করতে পারবেন না।’

নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে আর আওয়ামী লীগ করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত মাথা পেতে মেনে নিতে হবে। দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষেই সবাইকে সমর্থন দিতে হবে। বিদ্রোহী হয়ে দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের ছাড় দেয়া হবে না। নির্বাচনে বিদ্রোহী হলে আর যা-ই হোক, তিনি আওয়ামী লীগ করতে পারবেন না।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, সেটা তাদের বিষয়। বিএনপি কেন নির্বাচনে অংশ নিতে চায় না, সেটা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। আমরা আওয়ামী লীগ করি। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী একটি দল।

‘নির্বাচনের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে। আমরা জানি, ক্ষমতায় যাওয়ার একমাত্র উপায় দেশের সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার। মানুষের সমর্থন নিয়েই ক্ষমতায় টিকে থাকতে হয়।’

কাজী জাফর উল্লাহ আরও বলেন, ‘তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে রূপান্তরিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে সব অপশক্তিকে মোকাবিলা করতে হবে। ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে হবে।’

চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আমিরুল আলম মিলন, পারভীন জামান কল্পনা ও গ্লোরিয়া সরকার ঝর্ণা।

প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক।

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগার টগর, সহসভাপতি আসাদুল হক বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমগীর হান্নান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার।

ছয় বছর পর চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা হয়।

আরও পড়ুন:
বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় ১৬ নেতাকে বহিষ্কার
খালি মাঠ বা ওয়াকওভার চায় না আ.লীগ: কাদের
ইউপি নির্বাচন নিয়ে দল দুর্বিষহ অবস্থায়: কাদের
বিতর্কিতদের বাদ দিতে নাম চায় আওয়ামী লীগ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কাউখালীতে অস্ত্র, গুলি, মাদকসহ আটক ৪

কাউখালীতে অস্ত্র, গুলি, মাদকসহ আটক ৪

ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্টে আটক ব্যক্তিদের ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-প্রসিত গ্রুপ) সদস্য বলে প্রচার করা হয়েছে। তবে এই সংগঠনের মুখপাত্র অংগ্য মারমা নিউজবাংলাকে জানান, আটক ব্যক্তিরা তাদের কর্মী নন।

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে অস্ত্র, গুলি ও গাঁজাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কাউখালীর কচুছড়ি উপরপাড়া এলাকায় রোববার ভোরে এই অভিযান চালানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নবীন সুন্দর চাকমা, রিনয় চাকমা, নিক্সন চাকমা ও জ্ঞান জ্যোতি চাকমা।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদ উল্লাহ।

তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি দেশীয় বন্দুক, রাইফেলের ৭ রাউন্ড ও শটগানের ৩ রাউন্ড গুলি, একটি চাঁদা আদায়ের রশীদ বই, চারটি মোবাইল সেটসহ ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি বলেন, ‘তারা কোন দলের সঙ্গে জড়িত তা আমি জানি না। তাদের বিরুদ্ধে থানায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।’

ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্টে আটক ব্যক্তিদের ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-প্রসিত গ্রুপ) সদস্য বলে প্রচার করা হয়েছে। তবে এই সংগঠনের মুখপাত্র অংগ্য মারমা নিউজবাংলাকে জানান, আটক ব্যক্তিরা তাদের কর্মী নন।

আরও পড়ুন:
বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় ১৬ নেতাকে বহিষ্কার
খালি মাঠ বা ওয়াকওভার চায় না আ.লীগ: কাদের
ইউপি নির্বাচন নিয়ে দল দুর্বিষহ অবস্থায়: কাদের
বিতর্কিতদের বাদ দিতে নাম চায় আওয়ামী লীগ

শেয়ার করুন

মেয়েকে ‘উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায়’ বাবার ওপর হামলা

মেয়েকে ‘উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায়’ বাবার ওপর হামলা

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় দুর্বৃত্তের হামলায় আহত হন এক স্কুলছাত্রীর বাবা। ছবি: নিউজবাংলা

আহত ব্যক্তির বন্ধু মো. রুপম জানান, মেয়েকে আর উত্ত্যক্ত করলে মামলা দেয়া হবে বলায় রাতুল ওই ব্যক্তির ওপর হামলা চালায়।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় নবম শ্রেণির ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় তার বাবার ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভেড়ামারার নওদাপাড়া এলাকায় রোববার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটেছে।

হামলায় আহত ব্যক্তি ওই এলাকার একটি কাপড়ের দোকানের মালিক।

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান জানান, এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ নিয়ে থানায় গিয়েছেন আহত ব্যক্তির বন্ধু মো. রুপম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রায় তিন মাস ধরে প্রতিবেশী রাতুল আমার বন্ধুর মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি তার পরিবারকেও জানানো হয়েছে। আজ রোববার সকালে মেয়ের খালুর মোবাইলে কল দিয়ে ওই ছেলে মেয়েকে ফোনটি দিতে বলেন। ফোন না দিলে বিপদ হবে বলে হুমকি দেন। ঘটনা শুনে আমার বন্ধু রাতুলের বাড়িতে যান। রাতুলকে জানান যে মেয়েকে আর বিরক্ত করলে মামলা দেবেন।

‘এরপর সন্ধ্যায় আমার বন্ধু দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। রাতুল ও তার কয়েকজন বন্ধু রামদা ও রড নিয়ে তার দিকে তেড়ে আসে। আমার বন্ধু দৌড়ে পালাতে গেলে তাকে ধাওয়া করে কুপিয়ে তারা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে পরে একটি ক্লিনিকে নেয়া হয়। এখনও আমার বন্ধুর জ্ঞান ফেরেনি।’

থানার ওসি মজিবর রহমান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে রাতুল বা তার পরিবারের কারও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় ১৬ নেতাকে বহিষ্কার
খালি মাঠ বা ওয়াকওভার চায় না আ.লীগ: কাদের
ইউপি নির্বাচন নিয়ে দল দুর্বিষহ অবস্থায়: কাদের
বিতর্কিতদের বাদ দিতে নাম চায় আওয়ামী লীগ

শেয়ার করুন

নৌকার সেই প্রার্থী বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুরের মামলা থেকে খালাস পাওয়া

নৌকার সেই প্রার্থী বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুরের মামলা থেকে খালাস পাওয়া

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রিপন জমাদ্দার। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৬ সালে হওয়া মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই বছরের ১৯ নভেম্বর টিকিকাটা ইউনিয়নের বাইশকুড়া বাজারের একটি ক্লাবে স্থানীয় কলেজ ছাত্রলীগ নেতা রুবেল আকনকে মারধর ও ক্লাবে ভাঙচুর চালানো হয়। ওই সময় বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করা হয়। সে ঘটনায় আহত ছাত্রলীগ নেতা আকনের বাবার করা মামলায় প্রধান আসামি করা হয় রিপনকে।

পিরোজপুর মঠবাড়িয়া উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নৌকা পাওয়া প্রার্থী বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর মামলার প্রধান আসামি বলে তথ্য মিলেছিল। তবে পরে জানা গেছে, আসামি হলেও তাকে পরে সেই মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রিপন জমাদ্দারকে নৌকা দেয়া হয়। এরপরই অভিযোগ ওঠে, তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর মামলার প্রধান আসামি।

তবে রিপন জানিয়েছেন, তিনি সেই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। নিউজবাংলার কাছে সেই অব্যাহতির আদেশের কপিও এসেছে।

এতে দেখা যায়, পিরোজপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. ফয়সাল ২০২০ সালের ০৬ এপ্রিল তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। অভিযোগ গঠনের মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকার কথা জানানো হয় সেই আদেশে।

২০১৬ সালে হওয়া মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই বছরের ১৯ নভেম্বর টিকিকাটা ইউনিয়নের বাইশকুড়া বাজারের একটি ক্লাবে স্থানীয় কলেজ ছাত্রলীগ নেতা রুবেল আকনকে মারধর ও ক্লাবে ভাঙচুর চালানো হয়। ওই সময় বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করা হয়।

সেই ঘটনায় আহত ছাত্রলীগ নেতা আকনের বাবার করা মামলায় প্রধান আসামি করা হয় রিপনকে।

মামলায় রিপনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্রও দেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে তাতে নৌকা পাওয়া রিপনের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ না থাকার কথা জানানো হয়। এরপর বিচারক তা মেনে নেন।

রিপন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মঠবাড়িয়ার কিছু রাজনৈতিক নেতার ইন্ধনে তখন আমার নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়। আমি বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসি। মামলার অভিযোগ মিথ্যা হওয়ায় আদালত আমাকে প্রথম হাজিরাতেই জামিন দিয়ে দেয়। মামলা থেকে আমার নাম বাদও দেয়া হয়েছে।’

ঘটনার সময় তিনি বরিশাল ছিলেন-এমন দাবি করে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় রাজনীতির কারণে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আশরাফুর রহমানের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ওই মামলার আসামি হয়।’

তবে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌকার মনোনয়ন পাওয়া রিপন জমাদ্দারের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। লোকমুখে শুনেছি।’

আরও পড়ুন:
বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় ১৬ নেতাকে বহিষ্কার
খালি মাঠ বা ওয়াকওভার চায় না আ.লীগ: কাদের
ইউপি নির্বাচন নিয়ে দল দুর্বিষহ অবস্থায়: কাদের
বিতর্কিতদের বাদ দিতে নাম চায় আওয়ামী লীগ

শেয়ার করুন

হাওরে অপুষ্টিতে ভুগছে ৫২ শতাংশ শিশু

হাওরে অপুষ্টিতে ভুগছে ৫২ শতাংশ শিশু

সুনামগঞ্জের হাওরে অপুষ্টিতে ভুগছে অনেক শিশু। ছবি: নিউজবাংলা

সুনামগঞ্জ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্যমতে, জেলায় বর্তমান খর্বাকার রোগে ভুগছে ৫২ শতাংশ শিশু, ক্ষীণকার ১৫ শতাংশ, কম ওজন নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুর সংখ্যা ২৬ শতাংশ এবং নিরাপদ মায়ের বুকের দুধের অভাবে ভুগছে ৫৫ শতাংশ শিশু। অর্থ ও সচেতনতার অভাবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই বেশি অপুষ্টিতে ভুগছে।

হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ প্রাকৃতিকভাবে সমৃদ্ধ হলেও দারিদ্র্যের হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অপুষ্টিতে ভুগছে অধিকাংশ শিশু।

সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের সবশেষ জরিপ অনুযায়ী, জেলায় ৫২ শতাংশ শিশু অপুষ্টিজনিত রোগে আক্রান্ত। এ হারকে স্বাস্থ্য বিভাগ উচ্চতর সমস্যা বললেও পর্যাপ্ত জনবল সংকটে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের।

অভাব-অনটনের কারণে শিশুদের জন্য আলাদা করে পুষ্টিকর খাবার জোগাড়ে ব্যর্থতা এবং সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করছেন অভিভাবকরা।

সুনামগঞ্জ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্যমতে, জেলায় বর্তমান খর্বাকার রোগে ভুগছে ৫২ শতাংশ শিশু, ক্ষীণকার ১৫ শতাংশ, কম ওজন নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুর সংখ্যা ২৬ শতাংশ এবং নিরাপদ মায়ের বুকের দুধের অভাবে ভুগছে ৫৫ শতাংশ শিশু।

অর্থ ও সচেতনতার অভাবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই বেশি অপুষ্টিতে ভুগছে। সুনামগঞ্জের শাল্লা, মধ্যনগর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার শিশুরা তুলনামূলকভাবে বেশি অপুষ্টির শিকার।

দোয়ারাবাজার ও শাল্লা উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, শহরের শিশুদের তুলনায় প্রত্যন্ত এলাকার শিশুরা রোগা ও বেটে। এসব গ্রামের মানুষের ‘দিন আনি দিন খাই’ অবস্থা হওয়ায় আলাদাভাবে শিশুর বিকাশের দিকে মনোযোগ নেই অভিভাবকদের।

সুনামগঞ্জ ধান ও মাছের জন্য বিখ্যাত হলেও শাকসবজির ফলন কম। হাওরে জেলেদের জালে ছোট-বড় দেশি পুষ্টিকর মাছ উঠলেও সেই মাছ সন্তানদের না খাইয়ে বাজারে বিক্রি করে বাড়িতে নিয়ে যান পাঙাশ মাছ।

এ অঞ্চলের মানুষের অভিযোগ, সরকারিভাবে শিশুদের টিকাদান ও ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানো ছাড়া আর কোনো কার্যক্রম নেই।

হাওরে অপুষ্টিতে ভুগছে ৫২ শতাংশ শিশু
সুনামগঞ্জের হাওরে অপুষ্টিতে ভুগছে অনেক শিশু। ছবি: নিউজবাংলা

শাল্লা উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের আছিয়া বেগম বলেন, ‘আমার চার সন্তানের সবাই বেশির ভাগ সময় অসুস্থ থাকে। ডাক্তার দেখাই কিন্তু ভালা কিচ্ছু কিনিয়া বাচ্চাগুনতে মুখও দেয়ার মুরদ নাই আমরার, আলু আর পাঙাশ মাছ ইটা দিয়াই চলরাম আমরা। যেদিন তাইনের একটু ভালা ইনকাম হয়, তে একদিন মাংস খাইলায়। কিন্তু বাজারও যে জিনিসের দাম বাড়ছে এখন তিনবেলা কোনো রকম খাইয়া বাছিয়া আছি।’

একই গ্রামের কৃষক জয়ন্ত দাস বলেন, ‘ছেলেমেয়েরে কিতা খাওয়াইতাম বাজারও যে জিনিসের দাম আগুন, এখন ধান লাগানিত গেলেও টাকা লাগব বেশি, আমরা কিতা করতাম, যা নিজে খাই তাই ছেলেরারে খাওয়াই, সরকার যদি আমরারে একটু দেখে তাইলে ভালা অইতো।’

দোয়ারাবাজারের আমবাড়ী এলাকার শিল্পী বেগম বলেন, ‘বাজারও নতুন নতুন সবজি আইছে, কিন্তু যে আগুন দাম ইতা কিনিয়া আনিয়া খাওয়ানি যাইত না। স্বাস্থ্যকর্মীরা আয় তারা টিকা আর ভিটামিন ট্যাবলেট দেয়, ইটাই শেষ আর কিচ্ছু করে না। যা কইবার মুখে কয়, কিন্তু গরিবের কথা শুনিয়া লাভ নাই, যদি পারে সাহায্য করতে পারে।’

বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান) সুনামগঞ্জের সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমরা হাওর এলাকার কৃষক-জেলে থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষকে ফসল ও শাকসবজি উৎপাদন এবং এসবের ভিটামিন সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছি। তারা প্রশিক্ষণ অনুযায়ী জীবনযাপন করলে পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্ট ফসল বিক্রি করে লাভবান হতে পারবেন।’

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘হাওরের প্রান্তিক পর্যায়ের শিশুরাই পুষ্টিহীনতায় বেশি ভুগছে, তাদের তুলনায় শহরকেন্দ্রিক বসবাস করা শিশুরা ভালো আছে।

‘হাওরের মায়েদেরও কিছুটা দায়সারা ভাব রয়েছে। এমনও দেখা যায়, পুষ্টিকর মাছ ধরে বিক্রি করে তারা চাল, ডাল, আলু আর পাঙাশ মাছ নিয়ে যাচ্ছেন। এখানে সব মানুষের খাবারে বৈচিত্র্যের অভাব রয়েছে। এক জরিপে দেখা গেছে, সুনামগঞ্জের ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবার দৈনিক ব্যবহারের জন্য শুধু প্রধান খাদ্য কেনে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কিছু করার নেই, এখানে আমি একাই কাজ করি। বাকি পদগুলো শূন্য রয়েছে। একা সবদিক কীভাবে দেখব। তবে প্রায় সময়ই নিয়োগের জন্য বলি, ফল হয় না।’

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন বলেন, ‘জেলার প্রতিটি ওয়ার্ডেই পুষ্টিবিষয়ক কার্যক্রম চালু আছে। মা সমাবেশসহ নানা প্রচারণা চালানো হয়। তবে আলাদাভাবে আমাদের হাতে কোনো প্রকল্প নেই।’

আরও পড়ুন:
বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় ১৬ নেতাকে বহিষ্কার
খালি মাঠ বা ওয়াকওভার চায় না আ.লীগ: কাদের
ইউপি নির্বাচন নিয়ে দল দুর্বিষহ অবস্থায়: কাদের
বিতর্কিতদের বাদ দিতে নাম চায় আওয়ামী লীগ

শেয়ার করুন

আ.লীগ কর্মী হত্যা মামলার আসামির হাতে নৌকা

আ.লীগ কর্মী হত্যা মামলার আসামির হাতে নৌকা

হত্যা মামলার আসামি হয়েও চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন পারভেজ দেওয়ান। ছবি: নিউজবাংলা

পাথালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইউসুফ হাওলাদার বলেন, ‘উনি মার্ডার কেসের প্রধান আসামি। তারে কীভাবে নমিনেশন দিছে সেটা উপরেই জানে। আমরা পরিবর্তন চেয়েছিলাম। কারণ একটা পরিবর্তন আসলে আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী হতো। এতে আমাদের তৃণমূলের যে ভরসা সেটা প্রতিফলিত হয়নি। আমরা হতাশ।’

ঢাকার সাভারে আওয়ামী লীগ কর্মীকে হত্যা মামলার আসামি ইউপির চেয়ারম্যান পদে নৌকার মনোনয়ন পাওয়ায় ক্ষুব্ধ তৃণমুলের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, নৌকার মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে তাদের মতামতের মূল্যায়ন করা হয়নি।

নৌকা পাওয়া পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী পারভেজ দেওয়ানের দাবি, ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা মামলায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

মামলার এজাহারে আছে, ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ তৎকালীন চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ানের নির্দেশে আশুলিয়ার নয়ারহাট বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী আব্দুর রহিমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে নিহতের ভাই যুবলীগ নেতা সুমন পন্ডি ২৭ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ইউপি নির্বাচনে দ্বন্দের জেরে আব্দুর রহিমকে হত্যার নির্দেশ দেন পারভেজ। পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি পারভেজসহ ছয় আসামিকে বাদ দেয়া হয়। সবশেষ সিআইডির তদন্তে পারভেজসহ ১৩ আসামিকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়।

মামলার বাদী সুমন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার ভাই পাথালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। নির্বাচনে তৎকালীন চেয়ারম্যান পারভেজ চেয়ারম্যানের প্রতিপক্ষকে সমর্থন করতেন তিনি। নির্বাচনে জেতার চার-পাঁচ মাস পর চেয়ারম্যানের লোকজন দিনেদুপুরে আমার ভাইকে গুলি করে হত্যা করে।

‘তার (পারভেজের) হুকুমেই আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করলেও হাজতবাসের পর জামিনে মুক্ত হয়। এরপর রহস্যজনকভাবে পুলিশ আমার স্বাক্ষর ছাড়াই গোপনে প্রধান আসামি চেয়ারম্যানসহ ৬ আসামিকে বাদ দিয়ে চার্জশিট দেয়। পরে আদালতে আপত্তি জানালে সিআইডি দেড় মাস তদন্ত করে চেয়ারম্যানসহ ১৩ আসামিকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয়।’

পারভেজ একটি হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও নৌকার মনোনয়ন পাওয়ায় ক্ষুব্ধ পাথালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ হাওলাদার।

তিনি বলেন, ‘উনি মার্ডার কেসের প্রধান আসামি। তারে কীভাবে নমিনেশন দিছে সেটা উপরেই জানে। আমরা পরিবর্তন চেয়েছিলাম। কারণ একটা পরিবর্তন আসলে আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী হতো। এতে আমাদের তৃণমূলের যে ভরসা সেটা প্রতিফলিত হয়নি। আমরা হতাশ।’

৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘যাকে মেরে ফেলা হয়েছে উনি আওয়ামী লীগের সবচেয়ে সক্রিয় সদস্য ছিল। আবারও উনি (পারভেজ দেওয়ান) ওইরকম পায়তারা করতেছে। হুমকি-ধামকি দিতেছে। আবারও কর্মীদের উপর আক্রমণ করার চেষ্টা করতেছে। উনি নৌকা পাওয়াতে আমরা আতঙ্কিত।

‘আওয়ামী লীগের মতো এতো সুসংগঠিত দলের উপর কেন জানি এখন ঘৃণা চলে আসছে। তিনি তিনবারের চেয়ারম্যান হয়েও একটা নিজস্ব ইউনিয়ন পরিষদ ভবন করতে পারেননি। এখনও ভাড়া ভবনে চলছে সব কার্যক্রম। উনি নির্বাচনে আসলে বিপুল ভোটে পরাজিত হবে।’

নৌকা পাওয়ার বিষয়ে পারভেজ দেওয়ান বলেন, ‘মিথ্যা মার্ডার মামলায় থানা থেকে আমারে অব্যাহতি দিছে। তারপর তারা (বাদীপক্ষ) নারাজি দিলে মামলা ডিবিতে দিছে। ওখান থাইকাও আমারে অব্যাহতি দিছে। বরং তারা সিআইডির সঙ্গে আঁতাত করে একমাসের মধ্যে তদন্ত না করে আমার বিরুদ্ধে চার্জশিট করাইছে।

‘আমার মনে হয়, পুলিশ ডিপার্টমেন্টের আইজি ও প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পাথালিয়া ইউনিয়নের পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট চলে গেছে। নির্বাচনে যাতে আমার উপর প্রভাব পড়ে এজন্য মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়েছে। যেটা সবাই জানে।’

মনোনয়ন প্রক্রিয়ার বিষয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য বেনজির আহমেদ বলেন, ‘আমার যেটা ধারণা, মনোনয়ন বোর্ডের নজরে এটা হয়ত আসে নাই। উনারা হয়ত জানেন না। কারণ এটা সাধারণত ইউনিয়ন থেকে উপজেলা তারপর জেলা। ইউনিয়ন থেকে যেভাবে আসছে তাতে এরকম কোনো কিছু আমরা পাই নাই। এটা আমাদের নলেজে দেয়া হয়নি। যদি কেউ জানাইতো তাহলে হয়তো আমরা কেন্দ্রে জানাইতে পারতাম।’

দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান বলেন, ‘এটাতো কাজ করছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। সেখানে অনুমোদন দিছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। এখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংসদ সদস্যদের কোনো ভূমিকা নাই। এটা পার্লামেন্টারি বোর্ডের সিদ্ধান্ত। এখানে আমার কোনো কমেন্ট না করাই ভালো। সর্বোচ্চ জায়গা থেকে সিদ্ধান্ত হইছে। ওনারা যাচাইবাছাই করেই সিদ্ধান্ত দিছেন।’

আরও পড়ুন:
বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় ১৬ নেতাকে বহিষ্কার
খালি মাঠ বা ওয়াকওভার চায় না আ.লীগ: কাদের
ইউপি নির্বাচন নিয়ে দল দুর্বিষহ অবস্থায়: কাদের
বিতর্কিতদের বাদ দিতে নাম চায় আওয়ামী লীগ

শেয়ার করুন

বিকাশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই

বিকাশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই

শিবচরে বিকাশের কর্মকর্তা মাহবুব রহমানকে কুপিয়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে ছিনতাইকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

শিবচর বিকাশ অফিসের ম্যানেজার পারভেজ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কর্মী মাহবুবকে কুপিয়ে আহত করে সাড়ে ৩ লাখ টাকা লুটে নিয়েছে ছিনতাইকারী চক্র। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মাহবুবের কাছ থেকে পাওয়া ছিনতাইকারীদের মোটরসাইকেলের নম্বর কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।’

মাদারীপুরের শিবচরে বিকাশের কর্মকর্তা মাহবুব রহমানকে কুপিয়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে ছিনতাইকারীরা।

উপজেলার দক্ষিণ বহেরাতলা ইউনিয়নের সিংগাপুর মোড়ে রোববার বেলা ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

শিবচর বিকাশ অফিস জানায়, বিকাশের সেলস অফিসার মাহবুব রহমান সকালে বহেরাতলা রুটে কাজে বের হন। বেলা ২টার দিকে তিনি উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের সাহেবের হাট থেকে মোটরসাইকেলে দক্ষিণ বহেরাতলা ইউনিয়নের সিংগাপুর মোড়ে যাচ্ছিলেন।

পথে একটি ইঞ্জিনচালিত ভ্যান তার গতিরোধ করে। এ সময় পেছন থেকে মোটরসাইকেলে দুজন এসে মাহবুবকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ব্যাগে থাকা সাড়ে ৩ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় এক ব্যক্তি মাহবুবকে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

শিবচর বিকাশ অফিসের ম্যানেজার পারভেজ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কর্মী মাহবুবকে কুপিয়ে আহত করে সাড়ে ৩ লাখ টাকা লুটে নিয়েছে ছিনতাইকারী চক্র। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মাহবুবের কাছ থেকে পাওয়া ছিনতাইকারীদের মোটরসাইকেলের নম্বর কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।’

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজ হোসেন বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ব্যাপারে বিকাশের পক্ষ থেকে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় ১৬ নেতাকে বহিষ্কার
খালি মাঠ বা ওয়াকওভার চায় না আ.লীগ: কাদের
ইউপি নির্বাচন নিয়ে দল দুর্বিষহ অবস্থায়: কাদের
বিতর্কিতদের বাদ দিতে নাম চায় আওয়ামী লীগ

শেয়ার করুন

উপবৃত্তির টাকা দেয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা

উপবৃত্তির টাকা দেয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা

বড়সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজ। ছবি: নিউজবাংলা

কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তিতুদহ হুলিয়ামারী গ্রামের রাজিয়া খাতুনের মোবাইল নম্বরে গত বৃহস্পতিবার ফোন দেয় প্রতারক চক্র। শিক্ষা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ওই ফোনে উপবৃত্তির ৫০ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে সাড়ে ২৩ হাজার টাকা পাঠাতে বলা হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর ‍উপজেলার একটি কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও যশোর বোর্ডের কর্মকর্তা পরিচয়ে উপবৃত্তির টাকা দেয়ার কথা বলে বিকাশে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত কয়েক দিনে বড়সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজ নামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে প্রতারক চক্র ফোন দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার। এর মধ্যে কয়েকজন তাদের ফাঁদে পা দিয়ে বড় অঙ্কের টাকা খুইয়েছেন।

কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তিতুদহ হুলিয়ামারী গ্রামের রাজিয়া খাতুনের মোবাইল নম্বরে গত বৃহস্পতিবার ফোন দেয় প্রতারক চক্র। শিক্ষা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ওই ফোনে উপবৃত্তির ৫০ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে সাড়ে ২৩ হাজার টাকা পাঠাতে বলা হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে রাজিয়ার বড় বোন সন্ধ্যা খাতুন বলেন, বেলা ১১টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন দেন এক নারী। রাজিয়ার কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বড় বোন হিসেবে পরিচয় দেন।

রাজিয়া তখন কলেজে প্রি-টেস্ট পরীক্ষা দিচ্ছিল। ওই নারী তখন রাজিয়া উপবৃত্তির ৫০ হাজার টাকা পেয়েছে জানিয়ে একটি বিকাশ নম্বরে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা দিতে বলেন। পরে তিতুদহ বাজারের কাজল টেলিকমে গিয়ে তিনি ওই টাকা প্রতারক চক্রের নম্বরে বিকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, বিকাশ করা টাকা পরিশোধ না করায় তাকে সেখানে বসিয়ে রাখেন দোকানি। উপবৃত্তির টাকা আসার জন্য অপেক্ষার একপর্যায়ে তিনি দোকানিকে বললে প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারেন।

সন্ধ্যা বলেন, তার পরিবার দরিদ্র হওয়ায় চড়া সুদে টাকা নিয়ে দোকানিকে সেই টাকা শোধ করতে হয়েছে।

ওই ঘটনার পরদিন শুক্রবার সদর উপজেলার বড়সলুয়া গ্রামের তানিয়া আক্তারের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে সাড়ে ১৬ হাজার টাকা। সে ওই কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

বড়সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার জানান, কলেজের প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীর কাছে উপবৃত্তির প্রলোভন দেখিয়ে ফোন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করেছেন। লিখিত নোটিশও দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া এ ধরনের ফোন পেলে নম্বরটি তাকে দিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুল কবীর জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাজটি একটু কঠিন তবে অসম্ভব নয়।

প্রতারক চক্র কীভাবে শিক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বর ও পারিবারিক পরিচয় জানতে পারছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘চক্রের অনেক সদস্য এলাকায় অবস্থান করে এসব তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। সময় ও সুযোগ বুঝে কাজ শুরু করে তারা।’

আরও পড়ুন:
বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় ১৬ নেতাকে বহিষ্কার
খালি মাঠ বা ওয়াকওভার চায় না আ.লীগ: কাদের
ইউপি নির্বাচন নিয়ে দল দুর্বিষহ অবস্থায়: কাদের
বিতর্কিতদের বাদ দিতে নাম চায় আওয়ামী লীগ

শেয়ার করুন