পোশাক শ্রমিকদের জন্য এক ছাতার নিচে ব্র্যাকের সেবা

পোশাক শ্রমিকদের জন্য এক ছাতার নিচে ব্র্যাকের সেবা

সাভারের ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে চিকিৎসা নিতে আসা পোশাক কারখানা শ্রমিক। ছবি: নিউজবাংলা

পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় সাভার, টঙ্গী ও গাজীপুরে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু করেছে ব্র্যাক। প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসব জায়গার মোট ২৯টি কারখানার ৫০ হাজার শ্রমিককে সেবা দেয়ার লক্ষ্য থাকলেও গত আগস্ট পর্যন্ত সেবা পেয়েছেন ৫৬ হাজার ১২৭ জন।

১৬ মাসের সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে এসেছেন পোশাক কারখানা শ্রমিক আছমা আক্তার। নিজের বা পরিবারের সদস্যদের যে কোনো অসুস্থতায় তিনি বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা পেতে সাভারের কাতলাপুরের এই ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে আসেন। এখানে চিকিৎসকের পরামর্শ নয়, মেলে প্রয়োজনীয় ওষুধও।

আছমা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের গার্মেন্টসেও ডাক্তার আছেন। কারখানায় আগে মাসে একদিন আমাদের ডেকে প্রেশার মাপত, কিন্তু কোনো ওষুধ দিত না। এখানে আমি ওষুধও পাচ্ছি। আমার বাচ্চা হওয়ার পর বাচ্চার চিকিৎসাও পাই এখান থেকে।’

আছমার মতো এলাকার নয়টি পোশাক কারখানার শ্রমিক ও তাদের পরিবার ব্র্যাকের ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার থেকে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। সেই সঙ্গে আরও কিছু সহায়তাও দিচ্ছে ব্র্যাক।

আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় ব্র্যাক ঢাকার আশপাশে তিনটি জায়গায় চার বছর আগে পরীক্ষামূলক ভাবে চালু করে এ প্রকল্প।

এমপাওয়ারিং দ্য রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়ার্কার লিভিং ইন আরবান স্লামস অফ ঢাকা নামের এ প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসাসহ কয়েকটি সেবা দেয়া হচ্ছে।

প্রকল্পের লক্ষ্য, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও আইনি সেবা দেয়া, দক্ষতা বৃদ্ধি ও আর্থিক সক্ষমতা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পোশাক শ্রমিকদের শারীরিক ও আইনি সমস্যা থেকে যত দূরে রাখা যাবে, কারখানায় তত কর্মদক্ষতা বাড়বে। অসুস্থতা বা অন্য কারণে কারখানায় অনুপস্থিতির ঘটনাও কমবে। এতে কারখানা উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকের উপার্জন বাড়বে।

পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় সাভার, টঙ্গী ও গাজীপুরে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু করেছে ব্র্যাক। প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান অনুযায়ী,এসব জায়গার মোট ২৯টি কারখানার ৫০ হাজার শ্রমিককে সেবা দেয়ার লক্ষ্য থাকলেও গত আগস্ট পর্যন্ত সেবা পেয়েছেন ৫৬ হাজার ১২৭ জন।

প্রকল্প ব্যবস্থাপক মজিবুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা আরএমজি শ্রমিকদের এক ছাতার নিচে অনেকগুলো সার্ভিস দেই। বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য সেবা, দক্ষতা বৃদ্ধি প্রশিক্ষণ, আইনি সহায়তা, ডিপিএস, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, বিকাশের সেবা আমরা দেই।

‘এক জায়গা থেকে এত ধরনের সেবা দেয়ার কারণ, শ্রমিকরা অনেক ব্যস্ত থাকেন। বিভিন্ন প্রয়োজনে বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করা তাদের জন্য কঠিন। এখানে এসে তারা সব রকমের সুবিধা পাচ্ছেন। এই সেন্টার শনিবার ছাড়া সপ্তাহের আর সব দিন খোলা থাকে।’

সাভারের কেন্দ্রটি সম্পর্কে মজিবুল হক বলেন, ‘আমরা সাভার পৌর মেয়রের মাধ্যমে এ এলাকার নয়টি কারখানার সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখানকার শ্রমিকদের যুক্ত করেছি। কারখানাগুলো আমাদের সার্ভিস সেন্টারের তিন কিলোমিটারের মধ্যে। তাই শ্রমিকদের যাতায়াত বা যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা হয় না।’

মো. মাহাবুব নামের এক শ্রমিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি এখানে এসে ডিপোজিট আর হেলথ ইন্স্যুরেন্স করেছি। আমিও টাকা দেই, ব্র্যাকও টাকা দেয়। ডিপোজিটের জন্য আমি ১০০ টাকা দেই, ব্র্যাকও ১০০ টাকা দেয়। এক বছর তারা এভাবে দেবে। তারপর শুধু আমাকে চালাতে হবে।

‘এখান থেকে এক বছর মেয়াদি হেলথ কার্ড দিয়েছে। এটি দেখিয়ে ফ্রি চিকিৎসা পাওয়া যায়। আর অবস্থা বেশি খারাপ হলে তারা হাসপাতালে পাঠায়।’

পোশাক শ্রমিকদের জন্য এক ছাতার নিচে ব্র্যাকের সেবা
সাভার পৌরসভার মেয়র আবদুল গনি

সাভার পৌরসভার মেয়র আবদুল গনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা একটি শিল্প অঞ্চল। এখানে অনেক শিল্প কারখানা, বিশেষ করে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি আছে। ব্র্যাক এখানে সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ দিয়ে গার্মেন্টসে মানুষের চাকরির ব্যবস্থা করছে।

‘তারা বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেয়ার জন্য একজন এমবিবিএস ডাক্তার রেখেছে। বিনা মূল্যে ওষুধও দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বস্তির মানুষের জন্য পানির ব্যবস্থা, আবর্জনা পরিবহনের জন্য ভ্যান দিয়েছে।’

পরীক্ষামূলক প্রকল্পের মেয়াদ ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত হলেও বিদেশি দাতা সংস্থার তহবিল থেকে যাওয়ায় আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে জানান প্রকল্প ব্যবস্থাপক মজিবুল হক।

তিনি বলেন, ‘আশা করছি, এরপর এটি মূল প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন করা যাবে।’

প্রকল্পের মাঠ কার্যক্রম ব্যবস্থাপক রেজভিনা আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এখনও প্রকল্পের মূল্যায়ন করিনি। প্রকল্পের শেষ দিকে এই মূল্যায়ন করে আওতা বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
ক্লান্তি নিয়ে কাজে শ্রমিকরা
‘একটা গাড়ি আইন্না দেন’
পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৬

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খালেদার অবস্থা আগের চেয়ে বেটার: চিকিৎসক

খালেদার অবস্থা আগের চেয়ে বেটার: চিকিৎসক

নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা নিয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ছবি: সংগৃহীত

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের একজন চিকিৎসক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শরীরের অবস্থা আগের চেয়ে বেটার। আগের চেয়ে উন্নতি লাভ করছে।’

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে বেটার বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের একজন সদস্য।

মেডিক্যাল বোর্ডের ওই সদস্য সোমবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শরীরের অবস্থা আগের চেয়ে বেটার। আগের চেয়ে উন্নতি লাভ করছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিসের কারণে ব্লিডিং হচ্ছে জানিয়ে তার চিকিৎসায় গঠিত দলের মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসকরা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানির বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার সুপারিশ করেছেন।

রোববার সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, বিএনপি নেত্রীর যকৃৎ বা লিভারে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। একবার এই রক্তক্ষরণ সামাল দেয়া গেছে। তবে এখন তার যে অবস্থা, সেটি আবার সামাল দেয়া কঠিন হবে।

বাংলাদেশে দুই থেকে তিনবার রক্তক্ষরণ সামাল দেয়ার কারিগরি সুযোগ নেই দাবি করে যত দ্রুত সম্ভব তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তারা।

নিউজবাংলাকে ওই চিকিৎসক বলেন, ‘সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর এখন সবচেয়ে বেশি সমস্যা লিভার সিরোসিসের কারণে ব্লিডিং। এটা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে চিকিৎসকরা।’

তিনি জানান, প্রতিদিনের মতো সোমবার বিকেলে খালেদার স্বাস্থ্য বিষয়ে মেডিক্যাল টিমের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এতে মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ পাঁচ থেকে ছয়জন চিকিৎসকের অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। আগের দিনের বৈঠকে নির্দেশনার অংশ হিসেবে কিছু পরীক্ষাও দেয়া হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল বিকেলে পাওয়া যাবে।

১৩ নভেম্বর বিকেলে খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে এভারকেয়ারে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হওয়ায় পরের দিন ভোরে তাকে সিসিইউতে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার।

খালেদার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য তার পরিবার ও দল থেকে সরকারের প্রতি বারবার আহ্বান জানানো হলেও তাতে সাড়া মিলছে না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের নেত্রীর অবস্থা ‘ভ্যারি ক্রিটিক্যাল’। তাকে অবিলম্বে বিদেশে নেয়া দরকার।

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার অনুমতি আদায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি।

আরও পড়ুন:
ক্লান্তি নিয়ে কাজে শ্রমিকরা
‘একটা গাড়ি আইন্না দেন’
পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৬

শেয়ার করুন

শারীরিক উপস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট বুধবার থেকে

শারীরিক উপস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট বুধবার থেকে

দেশে করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে প্রায় ১ বছর ৯ মাস ধরে আপিল বিভাগ ভার্চুয়ালি চলছে। তবে হাইকোর্ট বিভাগের কিছু বেঞ্চ শারীরিক উপস্থিতিতে এবং কয়েকটি বেঞ্চ ভার্চুয়ালি চলছে।

আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে শারীরিক উপস্থিতিতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম চলবে। এতে ১ বছর ৯ মাস পর আপিল বিভাগে শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারকাজ শুরু হতে যাচ্ছে।

প্রধান বিচারপতির নির্দেশক্রমে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেন।

এতে বলা হয়, ‘প্রধান বিচারপতি, জ্যেষ্ঠ বিচারপতিগণের সঙ্গে আলোচনাক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, আগামী ১ ডিসেম্বর, বুধবার হতে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করে শারীরিক উপস্থিতিতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।’

দেশে করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে প্রায় ১ বছর ৯ মাস ধরে আপিল বিভাগ ভার্চুয়ালি চলছে। তবে হাইকোর্ট বিভাগের কিছু বেঞ্চ শারীরিক উপস্থিতিতে এবং কয়েকটি বেঞ্চ ভার্চুয়ালি চলছে।

দেশের করোনা পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসায় ফের স্বাভাবিক রূপে ফিরছে সুপ্রিম কোর্ট। ১ ডিসেম্বর থেকে সব আদালতের কার্যক্রম চলবে শারীরিক উপস্থিতিতে।

আরও পড়ুন:
ক্লান্তি নিয়ে কাজে শ্রমিকরা
‘একটা গাড়ি আইন্না দেন’
পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৬

শেয়ার করুন

হাফ পাসের দাবিতে শাহবাগে ৮ ছাত্র সংগঠন, পুলিশের বাধা

হাফ পাসের দাবিতে শাহবাগে ৮ ছাত্র সংগঠন, পুলিশের বাধা

শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার দাবিকে সমর্থন জানিয়ে শাহবাগ অবরোধে গেলে বামপন্থি আট ছাত্র সংগঠনকে বাধা দেয় পুলিশ। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

ছাত্র ইউনিয়নের সহসভাপতি অনিক রায় বলেন, ‘আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী টিএসসি থেকে শাহবাগ অবরোধের জন্য মোড়ের দিকে আসতে শুরু করি। কিন্তু শাহবাগ থানার সামনে এলে পুলিশ আমাদের বাধা দেয়।’

বাসে শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক ভাড়া কার্যকর করাসহ তিন দফা দাবিতে প্রগতিশীল আটটি ছাত্র সংগঠনের শাহবাগ অবরোধ কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ।

বাধা পেয়ে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ শুরু করে।

শাহবাগ অবরোধের জন্য সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে মিছিল শুরু করেন নেতা-কর্মীরা।

মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে এগোলে শাহবাগ থানার সামনে আগে থেকে অবস্থান নেয়া পুলিশ সদস্যরা বাধা দেন। সেখানে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়।

একপর্যায়ে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নিয়ে নেতা-কর্মীরা সমাবেশ শুরু করেন।

শিক্ষার্থীদের বাসে হাফ ভাড়ার আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে শাহবাগ অবরোধ করতে যাওয়া বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের মধ্যে রয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্ট, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র ফেডারেশন, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, ছাত্র ফেডারেশন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ এবং বিপ্লব ছাত্র-যুব আন্দোলন।

পুলিশের বাধার বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়নের সহসভাপতি অনিক রায় বলেন, ‘আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী টিএসসি থেকে শাহবাগ অবরোধের জন্য মোড়ের দিকে আসতে শুরু করি। কিন্তু শাহবাগ থানার সামনে এলে পুলিশ আমাদের বাধা দেয়।’

পুলিশের পক্ষ থেকে কী বলা হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুলিশ বলছে তারা আমাদের কোনোভাবেই শাহবাগ অবরোধ করতে দেবে না। প্রয়োজনে তারা বল প্রয়োগ করবে। তাই আমরা এখানেই বসে প্রতিবাদ করছি।’

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান বলেন, ‘শাহবাগ এটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। দুই পাশে দুটি হাসপাতাল রয়েছে। এই মোড় অবরোধ করা হলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে। তাই আমরা তাদের শাহবাগ মোড় অবরোধ না করার অনুরোধ করি।। এরপরও তারা সামনে এগোতে চাইলে আমরা তাদের বাধা দেই। পরে তারা জাদুঘরের সামনে সমাবেশ করে তাদের কর্মসূচি শেষ করে।’

আরও পড়ুন:
ক্লান্তি নিয়ে কাজে শ্রমিকরা
‘একটা গাড়ি আইন্না দেন’
পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৬

শেয়ার করুন

হেফাজতের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদীর মৃত্যু

হেফাজতের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদীর মৃত্যু

হেফাজত ইসলামের মহাসচিব নূরুল ইসলাম জিহাদী

শনিবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে নুরুল ইসলামকে ল্যাবএইডে ভর্তি করা হয়। তখন থেকেই লাইফসাপোর্টে ছিলেন তিনি।

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন দুদিন ধরে। নেয়া হয় লাইফ সার্পোর্টে। সেখান থেকে আর ফেরা হলো না হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদীর।

সোমবার সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ ইদ্রিস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হজুর ইন্তেকাল করেছেন। তার নামাজে জানাজা বাদ এশা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।’

শনিবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে নুরুল ইসলামকে ল্যাবএইডে ভর্তি করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন বাস্তবায়ন নিয়ে কর্মব্যস্ত ছিলেন নুরুল ইসলাম। সম্মেলন শেষে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।

নুরুল ইসলামের ছেলে মাওলানা রাশেদ বিন নূর রোববার নিউজবাংলাকে বলেছিলেন, ‘বাবার হঠাৎ স্ট্রোক করেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার জন্য রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব ছাড়াও নুরুল ইসলাম রাজধানীর খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম ছিলেন।

হেফাজতের আমির হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার এক বছরের কম সময়ের মধ্যে মৃত্যু হলো নুরুল ইসলামের। গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর সংগঠনটির মহাসচিব নুর হোসাইন কাসেমী মারা গেলে ১০ দিন পর নুরুল ইসলামকে এই পদে বসানো হয়।

তখন হেফাজতের আমির ছিলেন জুনায়েদ বাবুনগরী। গত ১৯ অগাস্ট তিনিও মারা যান। বর্তমানে ইসলামপন্থি দলটির আমিরের দায়িত্বে আছেন মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী।

নুরুল ইসলামের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইর পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

শোক বার্তায় তিনি বলেন, আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদী একজন বরেণ্য ও প্রথিতযশা আলেমেদীন ও শায়খুল হাদীস ছিলেন। তিনি হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব নির্বাচিত হয়ে সকলস্তরের আলেমদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আন্তরিক চেষ্টা করেছেন।

আরও পড়ুন:
ক্লান্তি নিয়ে কাজে শ্রমিকরা
‘একটা গাড়ি আইন্না দেন’
পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৬

শেয়ার করুন

অ্যাম্বুলেন্সে করে আদালতে জিকে শামীমের মা

অ্যাম্বুলেন্সে করে আদালতে জিকে শামীমের মা

আগাম জামিনের জন্য অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাইকোর্ট উপস্থিত হন জিকে শামীমের মা। ছবি: নিউজবাংলা

মামলা থেকে জানা যায়, জি কে শামীম ও তার মা আয়েশা আকতার পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে অবৈধ উপায়ে নিজেদের নামে ২৯৭ কোটি ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫১ টাকা নিজেদের ভোগ দখলে রেখেছেন। তাদের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় আগাম জামিন নিতে অ্যাম্বুল্যান্সে করে আদালতে উপস্থিত হয়েছেন জি কে শামীমের মা আয়েশা আক্তার। আদালত জামিন আবেদন গ্রহণ করে আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এবিএম আলতাফ হোসেন।

মামলা থেকে জানা যায়, এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম (জি কে শামীম) ও তার মা আয়েশা আকতার পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে অবৈধ উপায়ে নিজেদের নামে ২৯৭ কোটি ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫১ টাকা নিজেদের ভোগ দখলে রেখেছেন।

তাদের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন।

গত ২২ নভেম্বর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মামলায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছিলেন আয়েশা আকতার। ওই আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে নিম্ন আদালতে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন:
ক্লান্তি নিয়ে কাজে শ্রমিকরা
‘একটা গাড়ি আইন্না দেন’
পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৬

শেয়ার করুন

এলডিসি উত্তরণ: আবেগে ভাসলেন শেখ হাসিনা

এলডিসি উত্তরণ: আবেগে ভাসলেন শেখ হাসিনা

জাতীয় সংসদের সমাপনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আরও আগে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য অর্জন করা যেত। ছবি বিটিভির ভিডিও থেকে নেয়া

জাতির পিতাকে হত্যার পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তারা কেউই দেশের কথা ভাবেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জেনারেল জিয়ার কথা বলেন, জেনারেল এরশাদের কথা বলেন বা বেগম জিয়ার কথা বলেন। এরা তো কেউ দেশকে উন্নত করতে চায়নি। ক্ষমতা তাদের কাছে ছিল ভোগের বস্তু। ক্ষমতা তাদের কাছে ছিল নিজেদের জীবনকে বিলাসবহুল করে তোলার মাধ্যম।’

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার অর্জন তুলে ধরতে গিয়ে আবেগে ভাসলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় সংসদের সমাপনী অধিবেশনে সংসদ নেতার বক্তব্য দিতে গিয়ে বারবার স্মরণ করেন জাতি পিতাকে। বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আরও আগে এ লক্ষ্য অর্জিত হতো।

নিজের বক্তব্যে ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট প্রসঙ্গ আসতেই আবেগতাড়িত হতে দেখা যায় সরকারপ্রধানকে। কথা বলতে গিয়ে বাবরবারই কেঁপে উঠেছিল তার কণ্ঠ।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘৭৫-এর ১৫ আগস্ট সব হারিয়েছিলাম। আমার বাবা, আমার মা, ছোট তিনটি ভাই, ভ্রাতৃবধূ, একমাত্র চাচাসহ আত্মীয় স্বজনদের। সবকিছু হারিয়ে হারানোর বেদনা পাশে রেখে শুধু একটা লক্ষ্য সামনে রেখেছি।

‘এই বাংলাদেশ লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত। এই বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমার বাবা সারাটা জীবন কষ্ট করেছেন। জেল-জুলুম-অত্যাচার সহ্য করেছেন। নিজের জীবনে তিনি কিছু চাননি। পাশে থেকেছিলেন আমার মা। আমাদের দেশে বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমার মায়ের ভূমিকা রয়েছে। পর্দার আড়ালে থেকে এ দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামকে তিনি এগিয়ে নিয়ে গেছেন।’

তিনি বলেন, ‘কী আশ্চর্য! দুঃখের বিষয়, যে দেশের মানুষের জন্য তিনি সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন, এত তাগ স্বীকার করলেন, সেই বাংলাদেশের মানুষের হাতেই তাকে জীবন দিতে হলো। শুধু আমার বাবাকে না, পুরো পরিবারকে। রেহানা আর আমি বিদেশে ছিলাম বলে বেঁচে গিয়েছিলাম। রিফিউজি হিসেবে বিদেশে থাকতে হয়েছিল।

‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আমার অবর্তমানে যখন আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করে, তখন খুনিরা মুক্ত, যুদ্ধাপরাধীরা মুক্ত, তারাই দেশ চালাচ্ছে। যেখানে আমার ছোট ১০ বছরের ভাইকেও ছাড়েনি, সেখানে আমিও রেহাই পাব না। হয়তো যেকোনো সময় মৃত্যু আমার হতে পারে। এটা জেনেও শুধু দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের নিয়ত নিয়ে দেশে এসেছিলাম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ছোট বাচ্চা, ১০ বছরের ছেলে জয় আর ৮ বছরের মেয়েকে বোনের কাছে দিয়ে বাংলার মাটিতে ফিরে এসেছিলাম একটি লক্ষ্য নিয়ে। যে স্বপ্ন নিয়ে আমার বাবা এ দেশ স্বাধীন করেছেন, যে স্বপ্ন নিয়ে আমার বাবা তার সারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, যে স্বপ্নটা অধরা রয়ে গেছে। সেই স্বপ্নটা যেন পূরণ করতে পারি। সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।

‘বারবার আঘাত এসেছে, আমি জানি না, আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন আমাকে বাঁচিয়েছেন এবং আমার দলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন সময়ে মানবঢাল রচনা করে আমাকে সুরক্ষা দিয়েছেন। আমাকে এটুকু সুযোগ দিয়েছেন আজকে একটি মর্যাদায় বাংলাদেশকে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি।’

জাতির পিতাকে হত্যার পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তারা কেউই দেশের কথা ভাবেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জেনারেল জিয়ার কথা বলেন, জেনারেল এরশাদের কথা বলেন বা বেগম জিয়ার কথা বলেন। এরা তো কেউ দেশকে উন্নত করতে চায়নি। ক্ষমতা তাদের কাছে ছিল ভোগের বস্তু। ক্ষমতা তাদের কাছে ছিল নিজেদের জীবনকে বিলাসবহুল করে তোলার মাধ্যম।

‘তাদের সঙ্গে কিছু লোক, ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে দলে নিয়ে এলিট শ্রেণি তৈরি করা। দেশের সাধারণ মানুষ কিন্তু যে তিমিরে সেই তিমিরেই রয়ে ছিল। সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কেউ এগিয়ে আসেনি।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা একটি কথা সব সময় বলতেন আমাদের মাটি আছে মানুষ আছে। এ দিয়েই আমরা দেশ গড়ব। এ কথা কিন্তু এখন কেউ বাস্তবায়নও করেনি, চিন্তাও করেনি। বরং বিদেশ থেকে আরও আমদানি হবে, সেখান থেকে কমিশন খাবে, দেশে উৎপাদন হবে না। বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়বে।

‘সেই শস্যবীজ, ধানের বীজ সবকিছুতেই পরনির্ভরশীলতা। আর মানুষের কাছে ভিক্ষা চেয়ে হাত পাতা। এটাই ছিল তাদের নীতি। কিন্তু আওয়ামী লীগের নীতি হচ্ছে, যে আদর্শ জাতির পিতা দিয়ে গেছেন, যে আদর্শের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করেছি, সেটি বাস্তবায়ন করা। সেভাবে পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছি বলেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে।’

এলডিসি উত্তরণ বাংলাদেশের সামনে অনেক সুযোগ নিয়ে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘তবে এটি বাস্তবায়নের ফলে অনেক সুবিধাও আমরা যেখানে পাব, সেদিক আমি মনে করি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ আমাদের নিতে হবে এবং সেই প্রস্তুতিও কিন্তু আমরা নিয়ে রেখেছি। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বল্পোন্নত দেশের যে সুবিধাগুলো সেটি হয়তো পাব না সব, তবে আমরা একটি কাজ করেছি।

‘আমরা জাতিসংঘের কাছে একটি সময় চেয়ে নিয়েছি। ২০২৪ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণটা সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য আমরা সময় নিয়েছি ২০২৬ পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে আমরা পরিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সব কাজ করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণ অনেক সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের কাছে ব্র্যান্ডিং করার একটি নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করে দিয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি উদীয়মান। বাংলাদেশের জন্য একটি বড় বাজার সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এই বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে আমরা পৌঁছাতে পারব।

‘যে যেটাই বলুক, যত সমালোচনাই করুক। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং কাজ করে যাব। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের এ গতি যেন কেউ রোধ করতে না পারে। অনেক রকমের চক্রান্ত থাকবে। সেগুলোকে মাথায় নিয়েই আমাদের চলতে হবে। আমরা আজকে উন্নয়নশীল দেশের যে মার্যাদা পেয়েছি, এটি জনগণেরই অবদান। তাদের প্রতি আবারও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
ক্লান্তি নিয়ে কাজে শ্রমিকরা
‘একটা গাড়ি আইন্না দেন’
পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৬

শেয়ার করুন

‘বদলে যাওয়া বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের বড় বাজার’

‘বদলে যাওয়া বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের বড় বাজার’

রোববার রাজধানীর রেডিসন হোটেলে শুরু হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট সামিট। ছবি: নিউজবাংলা

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশে এখন পুরোপুরি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গত ১২ বছরে আমরা নতুন বাংলাদেশ তৈরি করতে পেরেছি। বদলে যাওয়া বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের বড় বাজার। বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আসছে। বাড়ছে দেশি বিনিয়োগও।’

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবে মুনাফা কতটুকু হবে সে বিষয়ে সরকারের কিছুই করণীয় নেই বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তিনি বলেছেন, অবকাঠামো খাতের উন্নয়নসহ ব্যবসা করার ক্ষেত্রে সহজ উপায় বের করতে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে রোববার রাজধানীতে শুরু হয়েছে দু’দিনব্যাপী ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট সামিট (আইআইএস)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদ ভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন সরকার প্রধান।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ডের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সামিটে অংশ নিচ্ছে ৫৪টি দেশ। অনলাইনে যুক্ত হতে বিদেশ থেকে দু’হাজার ৫৭৪ জন ও দেশের দু’হাজার ১০৯ জন নিবন্ধন করেছেন।

রাজধানীর রেডিসন হোটেলে শুরু হওয়া সম্মেলনটি শেষ হবে সোমবার। সমাপনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল উপস্থিত থাকবেন।

সামিটে যোগ দিতে বেশ কয়েকটি দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসেছে। অনুষ্ঠানে সরাসরি যোগ দিতে সৌদি আরবের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল এখন ঢাকায়। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী ও চীনের ভাইস মিনিস্টার (বাণিজ্য মন্ত্রণালয়) ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন। এছাড়া জাপানের একজন ভাইস মিনিস্টারের বার্তা ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি সম্মেলনে পড়ে শোনান।

সামিটে বিডার পক্ষ থেকে ১১টি খাতকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কেউ এর বাইরে অন্য কোনো খাত নিয়ে আগ্রহ দেখালে তা নিয়েও আলোচনার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

এর আগে ২০১৬ সালে সর্বশেষ বিনিয়োগ সম্মেলন (ইনভেস্টমেন্ট সামিট) অনুষ্ঠিত হয়।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা নীতি সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বিনিয়োগের সফলতা পেতে পারে। এদেশে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবেন।

‘অবকাঠামোগত এসব উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশে এখন পুরোপুরি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ রয়েছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও বন্দরসহ বড় বড় বহু প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গত ১২ বছরে আমরা নতুন বাংলাদেশ তৈরি করতে পেরেছি। বদলে যাওয়া বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের বড় বাজার। বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আসছে। বাড়ছে দেশি বিনিয়োগও। একইসঙ্গে এখানে বিদেশি বিনিয়োগের নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ‘গত কয়েক বছর ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। জিডিপি ৪১১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু গড় আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৫৫৪ ডলার। আগের হিসেবে তা ছিল দুই হাজার ২২৭ ডলার। দেশের অভ্যন্তরে কৃষি, শিল্প ও সেবাসহ সব খাত এগিয়ে যাচ্ছে। সবজি উৎপাদনে আমরা বিশ্বে তৃতীয়, চাল উৎপাদনে চতুর্থ স্থানে রয়েছি।

‘তৈরি পোশাক, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, আইসিটি, প্লাস্টিক, চামড়াজাতীয় পণ্যসহ বাংলাদেশে কয়েকটি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। দেশে একশ’ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন হচ্ছে। এখানে বিনিয়োগে সব ধরনের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।’

বিডার আয়োজনে সামিটে সহযোগী হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস অথরিটি (বেজা), বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনস অথরিটি (বেপজা), বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক অথরিটি (বিএইচটিপিএ), পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ), ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই)।

এছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন ও ইউকেএইড সামিট আয়োজনে সহায়তা করছে।

সম্মেলনের প্রথম দিন বিজনেস সেশনে ‘ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড লজিস্টিক: দ্য রাইট মুভ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ‘ক্যাপিটাল মার্কেট: দ্য রাইজিং টাইগার’, ‘পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি: চার্জ অ্যাহেড’, ‘লিগাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস: এনশিউরিং সাসটেইন গ্রোথ’, ‘এগ্রোবিজনেস: গ্রোথ বাই ন্যাচার’, ‘লেদার অ্যান্ড লেদারগুডস: স্টেপ ইট আপ’, ‘রেডিমেড গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল: ওয়েভিং দ্য ওয়ে’, ‘ইলেকট্রিক্যাল ইলেক্ট্রনিকস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড প্লাস্টিক গুডস: রাইড দ্য কারেন্ট’ বিষয়ে সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন সোমবার প্লেনারি সেশনে থাকছে ইনভেস্টমেন্ট কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড বিজনেস এনভায়রনমেন্ট: রেসিং নিউ হাইস্ট ইন দ্য নিউ নরমাল শীর্ষক আলোচনা। দুটি বিজনেস সেশন ইন প্যারালালে থাকছে ইকোনমিক জুন: এক্সেডিং অল এক্সপেক্টেশনস, ব্লু ইকোনমি: ডিসকভার দ্য ফিউচার, লেভেরাজিং ফোর্থ-আইআর: নিউজ এভিনিউ ফর ইনোভেটিভ ইনভেস্টমেন্ট, হেলথ অ্যান্ড ফার্মাসিটিক্যালস: অ্যাফর্ডেবল ওয়েলবিং: হেলদি লিভিং ফর অল শীর্ষক আলোচনা।

আরও পড়ুন:
ক্লান্তি নিয়ে কাজে শ্রমিকরা
‘একটা গাড়ি আইন্না দেন’
পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৬

শেয়ার করুন