এক মাসের ব্যবধানে ফের বাড়ল এলপিজির দাম

এক মাসের ব্যবধানে ফের বাড়ল এলপিজির দাম

এর আগে ১০ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ভোক্তা পর্যায়ে বাড়ানো হয়েছিল ২২৬ টাকা। সেই থেকে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার মূসকসহ গুনতে হচ্ছিল ১ হাজার ২৫৯ টাকা।

কম সময়ের মধ্যে আবারও বেসরকারি খাতে বাড়ানো হলো তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। ৫৪ টাকা দাম বাড়ানোয় এখন থেকে গ্রাহক পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম পড়বে ১ হাজার ৩১৩ টাকা।

অনলাইনে এক সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির এই দামের ঘোষণা দেয় এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

এর আগে ১০ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ভোক্তা পর্যায়ে বাড়ানো হয়েছিল ২২৬ টাকা। সেই থেকে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার মূসকসহ গুনতে হচ্ছিল ১ হাজার ২৫৯ টাকা।

গত ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো এলপিজি গ্যাসের দাম বেঁধে দেয় বিইআরসি। তখন বলা হয়েছিল, সৌদি রাষ্ট্রীয় কোম্পানি আরামকো ঘোষিত দরকে প্রতি মাসের ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে। সৌদির দর ওঠানামা করলে এলপিজির মূল্য ওঠানামা করবে।

আমদানিকারকের অন্যান্য কমিশন ও খরচ অপরিবর্তিত থাকবে। কমিশনের সেই নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি মাসে দর নির্ধারণ করা হচ্ছে। যদিও বিইআরসি ঘোষিত দর খুব কম ক্ষেত্রেই কার্যকর হতে দেখা গেছে।

আগে এলপিজির দর ছিল কোম্পানিগুলোর ইচ্ছাধীন। দর নির্ধারণের বিষয়ে অনেক দিন ধরেই কথা হলেও জ্বালানি বিভাগ, বিইআরসি নাকি বিপিসি করবে সে নিয়ে ছিল রশি টানাটানি।

ক্যাবের এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এলপিজির দর নির্ধারণ না করায় বিইআরসিকে শোকজ করে। সে মোতাবেক ১৪ জানুয়ারি গণশুনানি নিয়ে ১২ এপ্রিল দর ঘোষণা করে বিইআরসি।

দর ঘোষণার দিনেই আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা হয়। তারা দাবি করে দর বেশি হওয়া উচিত ছিল। এরপর থেকে বিইআরসির সঙ্গে টানাপোড়েন শুরু হয় লোয়াবের। তারা প্রতি মাসের দর ঘোষণাও বর্জন করে। বিভিন্নভাবে বিইআরসির ওপর চাপ তৈরি করে। এমনকি এলপিজি আমদানি বন্ধ করে দেয়ারও হুমকি দেয়া হয়।

একপর্যায়ে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ অনেকটা ব্যবসায়ীদের সুরেই কথা বলতে থাকেন। বিইআরসি অনেকটা বাধ্য হয়েই গত ১৩ সেপ্টেম্বর গণশুনানি গ্রহণ করে ১০ অক্টোবর আমদানিকারকদের কমিশন বাড়িয়ে দেয়া হয়।

গত এপ্রিলে ঘোষিত দরে এলপিজির আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার জন্য ১২ কেজির সিলিন্ডারে মোট ৩৫৯ দশমিক ৪০ টাকা কমিশন নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই চার্জ বাড়িয়ে ৪৪১ টাকা করা হয়েছে। ১২ কেজি সিলিন্ডারে কমিশন বাড়ানো হয়েছে ৮১ দশমিক ৬ টাকা। ডিলার এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন বাড়িয়ে যথাক্রমে ৩৪ ও ৩৮ টাকা করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে এলপি গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিইআরসি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল।

আরও পড়ুন:
১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ২২৬ টাকা
এলপিজির দাম বাড়ল ১০২ টাকা
দাম নির্ধারণের এখতিয়ার নেই বিইআরসির: লোয়াব
এলপিজি: ৮৪২ টাকার সিলিন্ডার মিলছে না হাজার টাকায়ও
এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমল ৬৪ টাকা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিনিয়োগ সম্মেলন শুরু রোববার

বিনিয়োগ সম্মেলন শুরু রোববার

শনিবার বিডা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সালমান এফ রহমান। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, দেশে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ গত কয়েক বছর ধরেই ৩০-৩১ শতাংশে আটকে আছে। এই অনুপাত ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) আকারের তুলনায় দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ কম। এটা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিতে সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে। এর অংশ হিসাবে লাভজনক বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে রোববার ঢাকায় শুরু হচ্ছে দু’দিনের বিনিয়োগ সম্মেলন।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিনিয়োগ সম্মেলন সামনে রেখে শনিবার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সালমান এফ রহমান বক্তব্য দেন। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকার রেডিসন হোটেলে ২৮ ও ২৯ নভেম্বর দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন-২০২১ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। এর আগে ২০১৬ সালে ঢাকায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

দেশে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ গত কয়েক বছর ধরেই ৩০-৩১ শতাংশে আটকে আছে। অবশ্য করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে দেশের সার্বিক বিনিয়োগের সঙ্গে জিডিপির অনুপাত ২৯ দশমিক ৯২ শতাংশে নেমে আছে। এই অনুপাত ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আমাদের গ্রাজুয়েশন (উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ) পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এজন্য দেশের বিভিন্ন সম্ভাবানময় খাত সামনে রেখে আমরা বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নিয়েছি। বিডার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন করছি। আমেরিকার চারটি শহরে ও দুবাইয়ে আমরা বিনিয়োগ বিষয়ক রোড-শো করেছি। প্যারিস, সৌদি আরব থেকে বিনিয়োগ আনতে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এর সুফলও আমরা পাচ্ছি। বিডাতে বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা যোগাযোগ করছেন।

‘আগে জাপান, কোরিয়া, চীনসহ অল্প কয়েকটি দেশ থেকে আমাদের বিনিয়োগ আসত। এখন অনেক নতুন নতুন দেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে। ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি দেশ বিনিয়োগ করতে চাইছে। দেশি বিনিয়োগও বাড়ছে।’

করোনার নতুন ধরনের (ভ্যারিয়েন্ট) কারণে বিনিয়োগ সম্মেলনের কোনো প্রভাব পড়বে কীনা এমন প্রশ্নে এফ রহমান বলেন, খুব একটা প্রভাব পড়বে না। কারণ ইতোমধ্যে অনেক অতিথি চলে এসেছেন। সৌদি সরকারের মন্ত্রী পর্যায়ের একটি বড় প্রতিনিধিদল এসেছে। অনেকেই ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন। তবে নতুন ভ্যারিয়েস্টের প্রকোপ আরও ৮-১০ দিন আগে দেখা দিলে সম্মেলনে সরাসরি অংশগ্রহণ হয়তো আমরা বন্ধ করতাম।’

বর্তমানে দেশের অর্থনীতির আকার (জিডিপি) ৪০৯ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৫ লাখ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৮৪ কোটি ৭০ লাখ ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে।

বিডা জানায়, বিনিয়োগ সম্মেলনে মূলত দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ, অর্থনৈতিক অঞ্চল, সমুদ্র অর্থনীতি খাতে বিনিয়োগ উপযোগিতা তুলে ধরা হবে। এছাড়া বিভিন্ন সেশনে স্বাস্থ্য ও ওষুধ শিল্প, পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খাত, শেয়ার বাজার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, অবকাঠামো, আর্থিক সেবা, কৃষি বাণিজ্য, তৈরি পোশাক, তথ্য-প্রযুক্তি, ইলেক্ট্রিক্যাল পণ্য তৈরিসহ ১৪টি খাত নিয়ে নির্দিষ্ট আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ৫০০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪৩ লাখ কোটি অর্থনীতির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকসহ (এআইআইবি) বৈশ্বিক অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা এই সম্মেলনে অংশ নেবেন।

প্রতিটি সেশনে একজন বিশেষজ্ঞ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরা আলোচনা করবেন। সংশ্লিষ্ট খাতের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন।

আরও পড়ুন:
১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ২২৬ টাকা
এলপিজির দাম বাড়ল ১০২ টাকা
দাম নির্ধারণের এখতিয়ার নেই বিইআরসির: লোয়াব
এলপিজি: ৮৪২ টাকার সিলিন্ডার মিলছে না হাজার টাকায়ও
এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমল ৬৪ টাকা

শেয়ার করুন

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমার আগ্রহ বাড়ছে

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমার আগ্রহ বাড়ছে

ইলেকট্রনিক বা অনলাইন পদ্ধতিতে রিটার্ন্ জমার আগ্রহ বাড়ছে। চলতি বছরের ১০ অক্টোবর থেকে ই-রিটার্ন পদ্ধতি চালু করেছে এনবিআর। রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা বলেছে, এ পদ্ধতি খুব সহজ এবং করদাতাবান্ধব।

৩০ নভেম্বর ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বলেছে, সময় বাড়ানো হবে না।

করদাতাদের সুবিধার জন্য এবারও কর অঞ্চলগুলোতে মেলার আবহে রিটার্ন্ জমাসহ সব ধরনের সেবা দেয়ার ব্যবস্থা করেছে এনবিআর।

শেষ মুহূর্তে করদাতাদের পদচারণা বাড়ছে কর অঞ্চলগুলোতে। শেষের দুই দিন ভিড় আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

ইলেকট্রনিক বা অনলাইন পদ্ধতিতে রিটার্ন্ জমার আগ্রহ বাড়ছে। চলতি বছরের ১০ অক্টোবর থেকে ই-রিটার্ন পদ্ধতি চালু করেছে এনবিআর। রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা বলেছে, এ পদ্ধতি খুব সহজ এবং করদাতাবান্ধব।

এনবিআরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত ৩০ হাজার করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছেন। আর নিবন্ধন নিয়েছেন ৬৭ হাজারের বেশি। শেষের তিন দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।

বর্তমান আইনে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও যাতায়াত ভাতা বাদ দিয়ে বছরে আয় ৩ লাখ টাকার বেশি হলে তাকে প্রযোজ্য হারে কর দিতে হয়। এ হিসাবে কারও মাসিক আয় ২৫ হাজার টাকার বেশি হলেই করযোগ্য আয় আছে বলে বিবেচনা করা হয়।

প্রযোজ্য হার মানে সর্বনিম্ম কর হার হার ৫ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ।

আয় থাকুক আর না থাকুক, ট্যাক্স পেয়ার আইডেনটিফিকেশন নম্বার বা করদাতা শণাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকলেই সবাইকে রিটার্ন জামা দিতে হয়।

সময়মতো রিটার্ন জামা না দিলে জরিমানা গুণতে হয়। জরিমানার পরিমাণ এককালীন ১ হাজার টাকা। তার সঙ্গে পরবর্তী প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত ৫০ টাকা।

নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও রিটার্ন জমা দেয়া যায়। তবে তার জন্য পিটিশন বা আবেদন করতে হয় উপ-করকমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তার কাছে। আবেদনকারীকে সময় বাড়ানোর পক্ষে অবশ্যই উপযুক্ত প্রমাণ দিতে হয়।

আইনে ব্যক্তি এবং কোম্পানি উভয় ক্ষেত্রে রিটার্ন জমা দেয়ার নিয়ম রয়েছে। ব্যক্তির ক্ষেত্রে ৩০ নভেম্বর রিটার্ন জমার শেষ সময়। আর কোম্পানির ক্ষেত্রে বার্ষিক হিসাব ক্লোজের দিন থেকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে রিটার্ন্ দাখিল করার নিয়ম রয়েছে।

যেভাবে অনলাইনে রিটার্ন জমা

এনবিআর বলেছে, যাদের করযোগ্য আয় নেই, কিন্তু টিআইএন আছে, তাদের জন্য সহজ ব্যবস্থা হচ্ছে অনলাইনে রিটার্ন দেয়া। কারণ, এ পদ্ধতিতে হিসাবের ঝামেলা কম। সহজ উপায়ে তথ্য পূরণ করা যায়।

অনলাইনে রিটার্ন্ দিতে হলে প্রথমে ইট্যাক্স এনবিআর ডট জিওবি ডট বিডি (etaxnbr.gov.bd) পেজে ঢুকে ই-রিটার্ন সিলেক্ট করুন। আপনি চলে এলেন রিটার্ন দাখিল সিস্টেমে।

নিজের নামে মোবাইল ফোন নম্বার দিয়ে নিবন্ধন করুন। নিবন্ধনের সময় নিজের পাসওয়ার্ড নিজে সেট করে নিতে হয়।

নিবন্ধন করার সাথে সাথে আপনার নিজের একটা ই-রিটার্ন অ্যাকাউন্ট হয়ে গেল। নিজের টিআইএন এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে যে কোনো সময় যে কোনো জায়গা থেকে অ্যাকাউন্ট সাইন ইন করতে পারবেন।

নিবন্ধন হয়ে গেলে এবার সাইন-ইন করুন। যাদের করযোগ্য আয় নেই বা ‘জিরো ট্যাক্স’, তাদের কিছু তথ্য দিয়ে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে রিটার্ন জমার কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে।

যাদের করযোগ্য আয় রয়েছে, তোদের কর নিরূপণের জন্য হিসাব করতে হয়। তবে ভয়ের কোনো কারণ নেই। স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানা যাবে, আপনার মোট আয় কত হলো, করের পরিমাণ কত, কত রেয়াত পাওয়া যাবে, রিটার্নের সাথে কত টাকা দিতে হবে।

অনলাইনে রিটার্ন জামার সাথে সাথে ‘প্রাপ্তিস্বীকার’ স্লিপ পাওয়া যাবে।

এনবিআরের কর্মকর্তারা বলেছেন, ই-রিটার্ন থাকার অনেক সুবিধা রয়েছে। এটা দিয়ে রিটার্ন দাখিল করা যাবে, ই-পেমেন্ট করা যাবে, ঘরে বসে সনদ নেয়া যাবে, আয়কর রিটার্নের কপি নেয়া যাবে এবং রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানোর আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন:
১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ২২৬ টাকা
এলপিজির দাম বাড়ল ১০২ টাকা
দাম নির্ধারণের এখতিয়ার নেই বিইআরসির: লোয়াব
এলপিজি: ৮৪২ টাকার সিলিন্ডার মিলছে না হাজার টাকায়ও
এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমল ৬৪ টাকা

শেয়ার করুন

করোনা: বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সম্মেলন স্থগিত

করোনা: বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সম্মেলন স্থগিত

অ্যাম্ব ডেসিও ক্যাস্টিলোর বলেন, ‘করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট এবং এ কেন্দ্রিক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মন্ত্রীপর্যায়ের সম্মেলন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে পরিস্থিতি যখন অনুকূল হবে, তখন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দিন-তারিখ ঠিক করে এই সম্মেলন ফের আয়োজন করা হবে। তবে এ মুহূর্তে স্থগিত ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মন্ত্রীপর্যায়ের দ্বাদশ সম্মেলন (এমসি-১২) এ বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চার দিনব্যাপী এই সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা ছিল।

সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশসহ ১৬৪ দেশের সরকার প্রতিনিধিরা ডব্লিউটিওর মহাপরিচালকের আমন্ত্রণে যোগ দিতে জেনেভামুখী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই আফ্রিকায় করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট দেখা দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ডব্লিউটিওর জেনারেল কাউন্সিল থেকে স্থগিত করা হয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্রিক দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ও পূর্বনির্ধারিত এই সম্মেলন।

ইতোমধ্যে সম্মেলনকে ঘিরে আফ্রিকার কয়েকটি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সুইজারল্যান্ডসহ অন্যান্য অনেক ইউরোপীয় দেশ। এমনকি ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোয়ারেন্টিনের প্রয়োজনীয়তাও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এর ফলে এমসি-১২ সম্মেলনে অনেক দেশের মন্ত্রীদের অংশগ্রহণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে শুক্রবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে জেনারেল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যাম্ব ডেসিও ক্যাস্টিলোর নেতৃত্বে সদস্য দেশগুলোর এক জরুরি সভায় সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

সিদ্ধান্তের বিষয়ে ডব্লিউটিওর জেনারেল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যাম্ব ডেসিও ক্যাস্টিলোর বলেন, ‘করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট এবং এ কেন্দ্রিক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মন্ত্রীপর্যায়ের সম্মেলন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে পরিস্থিতি যখন অনুকূল হবে, তখন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দিন-তারিখ ঠিক করে এই সম্মেলন ফের আয়োজন করা হবে। তবে এ মুহূর্তে স্থগিত ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি যে আপনারা পরিস্থিতির গুরুত্বকে পুরোপুরি উপলব্ধি করবেন।’

ডব্লিউটিওর মহাপরিচালক এনগোজি ওকোনজো-আইওয়ালা জানান, ভ্রমণের সীমাবদ্ধতা বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের অর্থ হলো বিশ্বের অনেক মন্ত্রী এবং সিনিয়র প্রতিনিধি সম্মেলনে মুখোমুখি আলোচনায় অংশ নিতে পারতেন না। এটি সমান ভিত্তিতে অংশগ্রহণকে অসম্ভব করে তুলবে এবং এতে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়ে জটিল আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ থেকে বঞ্চিত করবে। এ কারণে এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মহাপরিচালক হিসেবে আমার অগ্রাধিকার হলো সমস্ত এমসি-১২ এ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী মন্ত্রী, প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজ- সবার স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা।’

এনগোজি ওকোনজো-আইওয়ালা বলেন, ‘এটাও আশ্বস্ত করতে চাই, সম্মেলন স্থগিত মানে সব কিছু শেষ হয়ে যায়নি। সম্মেলনে আলোচনার বিষয়গুলোতে আমাদের দৃষ্টি সব সময় থাকবে। আলোচনাকে সমঝোতা ও সেটি বাস্তবায়ন পর্যায়ে নিয়ে যেতে আমাদের চেষ্টা চলবে। যত দ্রুত সম্ভব আমরা আবার আলোচনায় বসব।’

আরও পড়ুন:
১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ২২৬ টাকা
এলপিজির দাম বাড়ল ১০২ টাকা
দাম নির্ধারণের এখতিয়ার নেই বিইআরসির: লোয়াব
এলপিজি: ৮৪২ টাকার সিলিন্ডার মিলছে না হাজার টাকায়ও
এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমল ৬৪ টাকা

শেয়ার করুন

দেশে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আভাস

দেশে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আভাস

ফাইল ছবি

এর আগে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর অজুহাতে গত ৪ নভেম্বর থেকে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ৮০ টাকা নির্ধারণ করে সরকার।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমায় বাংলাদেশেও কমানোর আভাস দিয়েছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

শনিবার তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ করছি। দাম কমছে। তবে, এই কমার প্রভাব এখনও বাজারে পড়েনি। যদি পড়ে তাহলে আমরাও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করব।’

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ আরও বলেন, ‘আমরা যদি কেনার সময় কম দামে পাই তাহলে অবশ্যই কমাব।’

এর আগে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর অজুহাতে গত ৪ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকারও ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে এক লাফে ১৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ৮০ টাকা নির্ধারণ করে। এর প্রভাবে দেশের সব ধরনের পরিবহন ভাড়া বাড়ানো হয়।

এদিকে, দেশের বাজারে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানোর কয়েক দিন পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী হতে শুরু করে। শনিবার হয় সবচেয়ে বড় দরপতন। এক দিনের ব্যবধানে দাম ব্যারেল প্রতি ১০ ডলার ২২ সেন্ট বা ১৩ শতাংশের বেশি কমে ৬৮ ডলারে নেমে এসেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ২০২০ সালের এপ্রিলের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সবচেয়ে বড় দরপতন এটি।

শনিবার প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেল ৬৮ ডলার ১৭ সেন্টে বিক্রি হয়েছে। এটা আগের দিনের চেয়ে ১০ ডলার ২২ সেন্ট বা ১৩ দশমিক ০৪ শতাংশ কম।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্ত হওয়ার পরই হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের এই বড় দরপতন হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, কোভিড-১৯-এর এই নতুন ধরনের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমে যেতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনার এই নতুন ধরনের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে সংকট দেখা দিতে পারে। কমে যেতে পারে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। তার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদাও কমে যেতে পারে। আর এই ভয়েই তেলের দামে বড় পতন হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘ওমিক্রন’ নামে করোনা ভাইরাসের নতুন যে ধরন শনাক্ত করেছে তা এখন উদ্বেগের কারণ। সেই উদ্বেগ থেকেই প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মূল্য এক দিনের ব্যবধানে ১৩ শতাংশের বেশি কমেছে।

এর আগে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ও ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে কম।

শনিবার বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল বিক্রি হয়েছে ৭৩ ডলার ৮১ সেন্টে, যা আগের দিনের চেয়ে ১০ দশমিক ২৩ শতাংশ কম।

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। করোনা মহামারির মধ্যেও টানা বেড়েছে তেলের দাম। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় তা আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়।

গত ২৭ অক্টোবর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে ৮৫ দশমিক ০৭ ডলারে ওঠে। এরপর থেকেই তা কমতে থাকে। ৮ নভেম্বর এর দর ছিল ৮২ দশমিক ৫ ডলার। এক মাস আগে ১৬ অক্টোবর দাম ছিল ৮০ ডলার। আর এক বছর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ৪২ ডলার।

প্যারিসভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি বা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) গত জুলাইয়ের শুরুতে এক পূর্বাভাসে বলেছিল, করোনা ভাইরাসের প্রকোপ আবার বাড়তে শুরু করায় বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা আগামী বছরের শেষের দিকে আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।

আইইএ'র মতে, চলতি বছর বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা মোটামুটি বাড়বে। তবে আগামী বছর জ্বালানি তেলের দৈনিক চাহিদা বেড়ে ১০ কোটি ৬ লাখ ব্যারেলে উন্নীত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ কোম্পানি ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্সও মাস তিনেক আগে তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছিল, কোভিড-১৯-এর কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় যে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছিল তা দূর হচ্ছে। পাশাপাশি দেশে দেশে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে এ বছরের জানুয়ারি মাসে জ্বালানি তেলের দাম ছিল গড়ে প্রতি ব্যারেল ৪৯ ডলার। এরপর থেকে গড়ে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ফেব্রুয়ারি মাসে ৫৩ ডলার, মার্চে ৬০, এপ্রিলে ৬৫, মে মাসে ৬৪, জুনে ৬৬ , জুলাইয়ে ৭৩ এবং আগস্টে ৭৪ ডলার। অক্টোবর মাসে এই দাম ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছিল, শিগগিরই তা ১০০ ডলার হয়ে যেতে পারে।

তবে চলতি নভেম্বর থেকে দাম নিম্নমুখী হয়। তারপরও দামটা নিয়ন্ত্রণে আসছিল না। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে আনতে নিজ দেশের পেট্রোলিয়াম ভান্ডার থেকে পাঁছ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

গত ২৩ নভেম্বর টুইট বার্তায় বাইডেন ঘোষণা দেন, ‘আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য তেল ও গ্যাসের দাম কমাতে পদক্ষেপের কথা আজ ঘোষণা করছি। আমেরিকাবাসীর জন্য স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ব আমরা, যাতে তেল ও গ্যাসের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসে।’

দেশে তেল ও গ্যাসের মতো জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি রুখতে এই পদক্ষেপ নেন জো বাইডেন। এর জেরে সে দেশে জ্বালানির দাম কমবে বলে মনে করা হচ্ছিল। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছিলেন অনেকে।

তবে, বাইডেনের এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম খুব একটা কমেনি।

আরও পড়ুন:
১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ২২৬ টাকা
এলপিজির দাম বাড়ল ১০২ টাকা
দাম নির্ধারণের এখতিয়ার নেই বিইআরসির: লোয়াব
এলপিজি: ৮৪২ টাকার সিলিন্ডার মিলছে না হাজার টাকায়ও
এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমল ৬৪ টাকা

শেয়ার করুন

জ্বালানি তেলে বড় দরপতন

জ্বালানি তেলে বড় দরপতন

প্রতীকী ছবি

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্ত হওয়ার পরই হঠাৎ করে জ্বালানি তেলে এই বড় দরপতন হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, কোভিড-১৯ এর এই নতুন ধরনের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমে যেতে পারে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলে বড় দরপতন হয়েছে। এক দিনের ব্যবধানে দাম ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলার ২২ সেন্ট বা ১৩ শতাংশের বেশি কমে ৬৮ ডলারে নেমে এসেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ২০২০ সালের এপ্রিলের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সবচেয়ে বড় দরপতন এটি।

শনিবার প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেল ৬৮ ডলার ১৭ সেন্টে বিক্রি হয়েছে। এটা আগের দিনের চেয়ে ১০ ডলার ২২ সেন্ট বা ১৩ দশমিক ০৪ শতাংশ কম।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্ত হওয়ার পরই হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের এই বড় দরপতন হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, কোভিড-১৯ এর এই নতুন ধরনের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমে যেতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনার এই নতুন ধরনের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে সঙ্কট দেখা দিতে পারে। কমে যেতে পারে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। তার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদাও কমে যেতে পারে। আর এই ভয়েই তেলের দামে বড় পতন হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘ওমিক্রন’ নামে করোনা ভাইরাসের নতুন যে ধরন শনাক্ত করেছে তা এখন উদ্বেগের কারণ। সেই উদ্বেগ থেকেই প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মূল্য এক দিনের ব্যবধানে ১৩ শতাংশের বেশি কমেছে।

এর আগে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ও ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে কম।

শনিবার বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল বিক্রি হয়েছে ৭৩ ডলার ৮১ সেন্টে, যা আগের দিনের চেয়ে ১০ দশমিক ২৩ শতাংশ কম।

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। করোনা মহামারির মধ্যেও টানা বেড়েছে তেলের দাম। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় তা আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়।

গত ২৭ অক্টোবর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে ৮৫ দশমিক ০৭ ডলারে ওঠে। এরপর থেকেই তা কমতে থাকে। ৮ নভেম্বর এর দর ছিল ৮২ দশমিক ৫ ডলার। এক মাস আগে ১৬ অক্টোবর দাম ছিল ৮০ ডলার। আর এক বছর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ৪২ ডলার।

প্যারিসভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি বা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) গত জুলাইয়ের শুরুতে এক পূর্বাভাসে বলেছিল, করোনা ভাইরাসের প্রকোপ আবার বাড়তে শুরু করায় বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা আগামী বছরের শেষের দিকে আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।

আইইএ'র মতে, চলতি বছর বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা মোটামুটি বাড়বে। তবে আগামী বছর জ্বালানি তেলের দৈনিক চাহিদা বেড়ে ১০ কোটি ৬ লাখ ব্যারেলে উন্নীত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ কোম্পানি ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্সও মাস তিনেক আগে তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছিল, কোভিড-১৯ এর কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় যে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছিল তা দূর হচ্ছে। পাশাপাশি দেশে দেশে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে এ বছরের জানুয়ারি মাসে জ্বালানি তেলের দাম ছিল গড়ে প্রতি ব্যারেল ৪৯ ডলার। এরপর থেকে গড়ে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ফেব্রুয়ারি মাসে ৫৩ ডলার, মার্চে ৬০, এপ্রিলে ৬৫, মে মাসে ৬৪, জুনে ৬৬ , জুলাইয়ে ৭৩ এবং আগস্টে ৭৪ ডলার। অক্টোবর মাসে এই দাম ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছিল, শিগগিরই তা ১০০ ডলার হয়ে যেতে পারে।

তবে চলতি নভেম্বর থেকে দাম নিম্নমুখী হয়। তারপরও দামটা নিয়ন্ত্রণে আসছিল না। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে আনতে নিজ দেশের পেট্রোলিয়াম ভাণ্ডার থেকে পাঁছ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

গত ২৩ নভেম্বর টুইট বার্তায় বাইডেন ঘোষণা দেন, ‘আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য তেল ও গ্যাসের দাম কমাতে পদক্ষেপের কথা আজ ঘোষণা করছি। আমেরিকাবাসীর জন্য স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ব আমরা, যাতে তেল ও গ্যাসের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসে।’

দেশে তেল ও গ্যাসের মতো জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি রুখতে এই পদক্ষেপ নেন জো বাইডেন। এর জেরে সে দেশে জ্বালানির দাম কমবে বলে মনে করা হচ্ছিল। পাশাপাশি বিশ্ব জুড়ে জ্বালানির দামেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছিলেন অনেকে।

তবে, বাইডেনের এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম খুব একটা কমেনি।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর অজুহাতে গত ৪ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকারও ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে এক লাফে ১৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ৮০ টাকা নির্ধারণ করে।

আরও পড়ুন:
১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ২২৬ টাকা
এলপিজির দাম বাড়ল ১০২ টাকা
দাম নির্ধারণের এখতিয়ার নেই বিইআরসির: লোয়াব
এলপিজি: ৮৪২ টাকার সিলিন্ডার মিলছে না হাজার টাকায়ও
এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমল ৬৪ টাকা

শেয়ার করুন

ইউএস-বাংলার বহরে আরও দুই বোয়িং উড়োজাহাজ

ইউএস-বাংলার বহরে আরও দুই বোয়িং উড়োজাহাজ

ইউএস বাংলার বহরে যুক্ত হওয়া নতুন উড়োজাহাজ। ছবি: সৌজন্যে

এ নিয়ে ইউএস বাংলার বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬টিতে। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠানের পর দেশি এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে ইউএস বাংলার উড়োজাহাজের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

ইউএস-বাংলা এয়ারের বহরে যুক্ত হয়েছে আরও দুটি নতুন বোয়িং সেভেন থ্রি সেভেন মডেলের উড়োজাহাজ।

শুক্রবার রাতে উড়োজাহাজ দুটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছে বলে প্রতিষ্ঠানটি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

এ নিয়ে ইউএস বাংলার বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬টিতে। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠানের পর দেশি এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন উড়োজাহাজগুলোর প্রত্যেকটিতে ১৮৯টি আসন রয়েছে। এগুলো দিয়ে শ্রীলঙ্কার কলম্বো, আরব আমিরাতে শারজাহ ও ভারতের দিল্লিতে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ২২৬ টাকা
এলপিজির দাম বাড়ল ১০২ টাকা
দাম নির্ধারণের এখতিয়ার নেই বিইআরসির: লোয়াব
এলপিজি: ৮৪২ টাকার সিলিন্ডার মিলছে না হাজার টাকায়ও
এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমল ৬৪ টাকা

শেয়ার করুন

বিসিএস কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সহিদুল, মহাসচিব নুরুল

বিসিএস কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সহিদুল, মহাসচিব নুরুল

ড. মো. সহিদুল ইসলাম ও একেএম নুরুল হুদা আজাদ (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

শুক্রবার বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে এজিএম ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০২১-২০২৩ মেয়াদের ২১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচন করা হয়।

বিসিএস (কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট) অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলেট ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ড. মো. সহিদুল ইসলাম। মহাসচিব হয়েছেন কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম নুরুল হুদা আজাদ।

শনিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে এজিএম ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০২১-২০২৩ মেয়াদের ২১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

কমিটিতে সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও ভ্যাট কমিশনারেটের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান, কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কমিশনার কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, কাস্টম হাউস, পানগাঁওয়ের কমিশনার মো. শওকাত হোসেন।

কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ও হাসান মুহাম্মদ তারেক রিকাবদার, কোষাধ্যক্ষ পদে ড. নাহিদা ফরিদী, প্রচার ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে শাকিলা পারভীন ও অফিস সেক্রেটারি পদে মো. ইফতেখার আলম ভূঁইয়া নির্বাচিত হয়েছেন।

কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য ড. আব্দুল মান্নান শিকদার ও জাকিয়া সুলতানা, কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হক ও মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, কাজী মুহম্মদ জিয়াউদ্দীন, মো. খায়রুল কবির মিয়া, মোহাম্মদ সফিউর রহমান, আ আ ম আমীমুল ইহসান খান, মো. মিনহাজ উদ্দিন, সাইদুল আলম, নূর-এ-হাসনা সানজিদা অনুসূয়া নির্বাচিত হয়েছেন।

আরও পড়ুন:
১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ২২৬ টাকা
এলপিজির দাম বাড়ল ১০২ টাকা
দাম নির্ধারণের এখতিয়ার নেই বিইআরসির: লোয়াব
এলপিজি: ৮৪২ টাকার সিলিন্ডার মিলছে না হাজার টাকায়ও
এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমল ৬৪ টাকা

শেয়ার করুন