যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকট নিরসন না হলে অর্জন হবে শূন্য

রোহিঙ্গা সংকট নিরসন না হলে অর্জন হবে শূন্য

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘রোহিঙ্গারা যাতে অবিলম্বে নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব রয়েছে। এই সংকট জিইয়ে রেখে সংশ্লিষ্ট সবার অর্জন হবে কেবল শূন্য।’

দুই দেশের অংশীদারত্বকে দেখার ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে দেশটিকে জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।

তিনি মনে করছেন, এ সংকট নিরসন না হলে সবার অর্জন হবে শূন্য।

স্থানীয় সময় বুধবার যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্যদের (এমপি) উদ্দেশে দেয়া বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ওই দিন লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে স্পিকার্স হাউস স্টেট রুমে ‘বাংলাদেশ অ্যাট ফিফটি: দি রিজিলেন্ট ডেল্টা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার এটাই সময়। আমাদের অংশীদারত্বকে দেখার ক্ষেত্রে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটানো প্রয়োজন।’

দেশটির এমপি রুশনারা আলী, হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড জিতেশ গাধিয়া ওয়েস্টমিনস্টারে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সত্যিকার অর্থেই দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে কৌশলগত হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে শান্তি রক্ষা, সন্ত্রাস দমন, সামুদ্রিক ও বিমান পরিবহন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর দৃষ্টি দিতে হবে।’

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য গর্ব অনুভব করেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওয়েস্টমিনস্টারে তাদের ক্রমবর্ধমান প্রতিনিধিত্ব দেখে আমি আনন্দিত। আবার তাদের সবাই নারী। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বৈচিত্র্যপূর্ণ এই মহান পার্লামেন্টে তাদের আরও অনেকে নির্বাচিত হবেন।’

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান খুঁজে বের করতে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের তাদের জন্মভূমি মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কক্সবাজারের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ আরও তীব্র হচ্ছে। এ চ্যালেঞ্জগুলো শিগগিরই এ অঞ্চলে এবং এর বাইরেও প্রভাব ফেলতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা যাতে অবিলম্বে নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব রয়েছে। এই সংকট জিইয়ে রেখে সংশ্লিষ্ট সবার অর্জন হবে কেবল শূন্য।’

স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনা ও প্রতিশ্রুতির দেশ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতের স্থিতিস্থাপকতা থেকে দেশ শক্তি অর্জন করেছে। এখন দেশ সুযোগ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত; একটি মিশন ও ভিশন নিয়ে তাকিয়ে আছে ভবিষ্যতের দিকে।’

অর্থনীতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং ডিজিটালাইজেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন ও উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮.১৫সহ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গড় হার ৬ শতাংশের ওপরে।

তিনি বলেন, সরকার এক দশকে দারিদ্র্যের হার ৩১ দশমিক ৫ ভাগ থেকে কমিয়ে ২০ দশমিক ৫ ভাগে এনেছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭৩ বছর।

ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার উদ্দেশ্য ছিল একটি পরিবর্তনের অঙ্গীকার। আমাদের সরকার মূল ভিত্তি গড়ে দিয়েছে এবং আমাদের জনগণ তা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন লোকও গৃহহীন থাকবে না—এ ব্যাপারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ায় গত এক দশকে প্রায় ১০ লাখ মানুষকে উপযুক্ত ঘর তৈরি করে দেয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মহামারি করোনা মোকাবিলা আবারও আমাদের সহনশীলতা পরীক্ষা করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে কম কোভিড-১৯ মৃত্যুর হার ছিল আমাদের দেশে। আমরা গ্লোবাল ভ্যাকসিন ইক্যুইটি নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, কেউ পিছিয়ে থাকবে না। মহামারির ক্ষতিকর প্রভাব কাটিয়ে ওঠার জন্য আমাদের অবশ্যই ভালো, শক্তিশালী এবং সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতে হাতে হাত রেখে কাজ করতে হবে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আমরা রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত। আমরা এখন জলবায়ু সহনশীলতা নিয়ে কাজ করছি। সম্প্রতি আমরা ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিকল্পনা বাতিল করেছি।’

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে শেখ হাসিনা বলেন, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে শিক্ষা ও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি এমন একটি সমাজের কল্পনা করি, যেখানে নারী ও কন্যাশিশুদের প্রতি কোনো বৈষম্য থাকবে না।’

বাংলাদেশ গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতি বজায় রেখেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাজনীতিতে পুনর্বাসিত সাম্প্রদায়িক শক্তি এখনও আমাদের সামাজিক কাঠামোকে ব্যাহত করছে। তাদের বিষাক্ত থাবা এখন সাইবার স্পেসে ছড়িয়ে পড়েছে।

‘এই শক্তির বিরুদ্ধে এখনও সংগ্রাম অব্যাহত আছে, তবে এই ব্যাপারে আমরা মনোযোগী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাশে থাকবে অস্ট্রেলিয়া
ভাসানচর থেকে পালাতে গিয়ে শিশুসহ ৩ রোহিঙ্গা নারী আটক
পিটিয়ে হত্যা করা সেই ‘আরসা নেতার’ মরদেহ কোথায়
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘আরসা নেতা’ হাশিমের মরদেহ
সেপটিক ট্যাংকে দুই রোহিঙ্গার মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিনিয়োগ সম্মেলন শুরু রোববার

বিনিয়োগ সম্মেলন শুরু রোববার

শনিবার বিডা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সালমান এফ রহমান। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, দেশে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ গত কয়েক বছর ধরেই ৩০-৩১ শতাংশে আটকে আছে। এই অনুপাত ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) আকারের তুলনায় দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ কম। এটা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিতে সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে। এর অংশ হিসাবে লাভজনক বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে রোববার ঢাকায় শুরু হচ্ছে দু’দিনের বিনিয়োগ সম্মেলন।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিনিয়োগ সম্মেলন সামনে রেখে শনিবার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সালমান এফ রহমান বক্তব্য দেন। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকার রেডিসন হোটেলে ২৮ ও ২৯ নভেম্বর দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন-২০২১ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। এর আগে ২০১৬ সালে ঢাকায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

দেশে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ গত কয়েক বছর ধরেই ৩০-৩১ শতাংশে আটকে আছে। অবশ্য করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে দেশের সার্বিক বিনিয়োগের সঙ্গে জিডিপির অনুপাত ২৯ দশমিক ৯২ শতাংশে নেমে আছে। এই অনুপাত ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আমাদের গ্রাজুয়েশন (উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ) পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এজন্য দেশের বিভিন্ন সম্ভাবানময় খাত সামনে রেখে আমরা বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নিয়েছি। বিডার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন করছি। আমেরিকার চারটি শহরে ও দুবাইয়ে আমরা বিনিয়োগ বিষয়ক রোড-শো করেছি। প্যারিস, সৌদি আরব থেকে বিনিয়োগ আনতে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এর সুফলও আমরা পাচ্ছি। বিডাতে বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা যোগাযোগ করছেন।

‘আগে জাপান, কোরিয়া, চীনসহ অল্প কয়েকটি দেশ থেকে আমাদের বিনিয়োগ আসত। এখন অনেক নতুন নতুন দেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে। ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি দেশ বিনিয়োগ করতে চাইছে। দেশি বিনিয়োগও বাড়ছে।’

করোনার নতুন ধরনের (ভ্যারিয়েন্ট) কারণে বিনিয়োগ সম্মেলনের কোনো প্রভাব পড়বে কীনা এমন প্রশ্নে এফ রহমান বলেন, খুব একটা প্রভাব পড়বে না। কারণ ইতোমধ্যে অনেক অতিথি চলে এসেছেন। সৌদি সরকারের মন্ত্রী পর্যায়ের একটি বড় প্রতিনিধিদল এসেছে। অনেকেই ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন। তবে নতুন ভ্যারিয়েস্টের প্রকোপ আরও ৮-১০ দিন আগে দেখা দিলে সম্মেলনে সরাসরি অংশগ্রহণ হয়তো আমরা বন্ধ করতাম।’

বর্তমানে দেশের অর্থনীতির আকার (জিডিপি) ৪০৯ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৫ লাখ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৮৪ কোটি ৭০ লাখ ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে।

বিডা জানায়, বিনিয়োগ সম্মেলনে মূলত দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ, অর্থনৈতিক অঞ্চল, সমুদ্র অর্থনীতি খাতে বিনিয়োগ উপযোগিতা তুলে ধরা হবে। এছাড়া বিভিন্ন সেশনে স্বাস্থ্য ও ওষুধ শিল্প, পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খাত, শেয়ার বাজার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, অবকাঠামো, আর্থিক সেবা, কৃষি বাণিজ্য, তৈরি পোশাক, তথ্য-প্রযুক্তি, ইলেক্ট্রিক্যাল পণ্য তৈরিসহ ১৪টি খাত নিয়ে নির্দিষ্ট আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ৫০০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪৩ লাখ কোটি অর্থনীতির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকসহ (এআইআইবি) বৈশ্বিক অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা এই সম্মেলনে অংশ নেবেন।

প্রতিটি সেশনে একজন বিশেষজ্ঞ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরা আলোচনা করবেন। সংশ্লিষ্ট খাতের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাশে থাকবে অস্ট্রেলিয়া
ভাসানচর থেকে পালাতে গিয়ে শিশুসহ ৩ রোহিঙ্গা নারী আটক
পিটিয়ে হত্যা করা সেই ‘আরসা নেতার’ মরদেহ কোথায়
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘আরসা নেতা’ হাশিমের মরদেহ
সেপটিক ট্যাংকে দুই রোহিঙ্গার মৃত্যু

শেয়ার করুন

খালেদার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবি ২৬৮৪ চিকিৎসকের

খালেদার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবি ২৬৮৪ চিকিৎসকের

ফাইল ছবি

ড্যাব নেতারা বিবৃতিতে বলেন, ‘পছন্দমতো চিকিৎসা নেয়াটা একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। খালেদা জিয়া সেই অধিকার থেকে ক্রমাগতভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।'

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্থায়ী মুক্তি দিয়ে বিদেশে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) দু’হাজার ৬৮৪ জন চিকিৎসক।

ড্যাব নেতারা শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘পছন্দমতো চিকিৎসা নেয়াটা একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। খালেদা জিয়া সেই অধিকার থেকে ক্রমাগতভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।

‘একটি মিথ্যা সাজানো মামলায় ফরমায়েশি রায়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই চিকিৎসা বঞ্চিত। এর ফলে তিনি ভয়াবহ শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। পরিত্যক্ত কারাগারে একক ব্যক্তি হিসেবে রেখে তার মানসিক শক্তি ভেঙে দেয়ারও অপচেষ্টা হয়েছে।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘ড্যাবসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ইতোপূর্বে বার বার খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিদেশে পাঠানোর দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু কর্তৃত্ববাদী সরকার কর্ণপাত করেনি। এমনকি পরিবারের লিখিত আবেদনেরও কোন গুরুত্ব দেয়নি।

‘চিকিৎসক হিসেবে আমাদের আকুল আহ্বান, জরুরিভিত্তিতে তার মুক্তির ব্যবস্থা করে বিদেশে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হোক। খালেদা জিয়ার কিছু হলে তার দায়-দায়িত্ব সরকারের নীতিনির্ধারকদের বহন করতে হবে।’

বিবৃতিতে অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, ডা. মো. আব্দুস সালাম, ডা. মো. আব্দুস সেলিম, অধ্যাপক ডা. শহিদুল আলম, ডা. শাহাদাত হোসেন, অধ্যাপক ডা. মো. সিরাজুল ইসলামসহ ড্যাবের দু’হাজার ৬৮৪ জন চিকিৎসক স্বাক্ষর করেন।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাশে থাকবে অস্ট্রেলিয়া
ভাসানচর থেকে পালাতে গিয়ে শিশুসহ ৩ রোহিঙ্গা নারী আটক
পিটিয়ে হত্যা করা সেই ‘আরসা নেতার’ মরদেহ কোথায়
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘আরসা নেতা’ হাশিমের মরদেহ
সেপটিক ট্যাংকে দুই রোহিঙ্গার মৃত্যু

শেয়ার করুন

অর্থ পাচারকারীর তালিকা থাকলে দিন: অর্থমন্ত্রী

অর্থ পাচারকারীর তালিকা থাকলে দিন: অর্থমন্ত্রী

ফাইল ছবি

সংসদে বিএনপি দলীয় সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ‘টাকা পাচারের কথা আমরা শুনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তার কাছে লিস্ট আছে যে আমলারা বেশি টাকা পাচার করেন। এখন কারা পাচার করে, কী পাচার করে, কত পাচার করে এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী যদি পরিষ্কার চিত্র দেন তাহলে সৎ আমলারা মুক্ত থাকতে পারেন।’

বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের তালিকা চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। শনিবার সংসদ অধিবেশনে ব্যাংকার বই স্বাক্ষর বিল নিয়ে আলোচনার সময় টাকা পাচার ও খেলাপি ঋণ নিয়ে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে তিনি পাচারকারীদের সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়েছেন।

বিএনপি দলীয় সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী বলছেন যে আমাদের মন্দ ঋণের পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকার মতো। কিন্তু প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কার্পেটের নিচে লুকানো মন্দ ঋণগুলো যোগ করলে এর পরিমাণ দাঁড়াবে সাড়ে তিন থেকে চার লাখ কোটি টাকা।

‘টাকা পাচারের কথা আমরা শুনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তার কাছে লিস্ট আছে যে আমলারা বেশি টাকা পাচার করেন। এখন কারা পাচার করে, কি পাচার করে, কত পাচার করে এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী যদি পরিষ্কার চিত্র দেন তাহলে সৎ আমলারা মুক্ত থাকতে পারেন।’

দেশের ব্যাংকিং খাত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রুমিন। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকে সুদের হার কমে গেছে। যাদের সীমিত আয় তারা ব্যাংক সুদের ওপর চলে। সেখানে সুদ খুবই কম। মূল্যস্ফীতি যদি ছয় ভাগ হয় সেখানে সুদের হার সাড়ে ৫ বা ছয় ভাগ। এখন মধ্যবিত্তরা কোথায় যাবে? বিনিয়োগের পরিবেশ কি আছে? সঞ্চয়পত্রও লিমিট করে দেয়া হয়েছে। মধ্যবিত্তদের যত ভাবে সম্ভব চাপে রাখা হচ্ছে।

‘যখন ব্যাংকের সুদ হার কমে যায় তখন মানুষ শেয়ার বাজারের দিকে ঝোঁকে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যখন আওয়ামী লীগ আসে তখন শেয়ার বাজারেও একটি সমস্যা তৈরি হয়ে যায়। সেখানেও মানুষ টাকা রাখতে ভয় পায়। এ অবস্থায় অর্থমন্ত্রী মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের জন্য কি ভাবছেন সেটা জানতে চাই।’

এসব প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল সংসদে বলেন, ‘আমরা জানি একটি দেশের অর্থনীতির মূল চালক হচ্ছে ব্যাংকিং সেক্টর। আমাদের যদি মন্দই হবে তাহলে আজ যখন সারাবিশ্বের টালমাটাল অবস্থা সেখানে সবাই বলছে আমরা ভালো করছি। আপনার কাছে যদি প্রমাণ থাকে যে বাংলাদেশের অর্থনীতি আশপাশের দেশের চেয়ে পেছনে তাহলে অবশ্যই এর সমাধান দায়িত্ব নিয়ে করবো।

‘অর্থনীতি চ্যালেঞ্জিং টাইম অতিবাহিত করছে। এর মধ্যে সারা বিশ্বের অর্থনীতি ৩ ভাগ সংকুচিত হয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে হয়নি। আমাদের সম্পর্কে বলা হচ্ছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে আমাদের অর্থনীতি হবে সারা বিশ্বে ২৫তম। আপনারা যেভাবে বলেন তাতে মনে হচ্ছে দেশে কোনো অর্থনীতি নেই, ব্যাংকিং খাত নেই, কিছুই নেই। কিছুই যদি না থাকবে তাহলে আমরা উন্নয়ন করি কিভাবে? প্রবৃদ্ধি আসে কোথা থেকে? আমরা এগুচ্ছি কিভাবে?’

মোস্তফা কামাল বলেন, ‘অনেক বার এই সংসদে বলেছেন যে টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। আমি বলেছি যে তালিকা দেন। আমি তো পাচার করি না, আমি বিশ্বাস করি আপনারাও পাচার করেন না। সুতরাং পাচার কে করে আমি জানবো কেমন করে যদি আপনারা না বলেন। বার বার বলছি, আমাকে জানান। কাম উইথ দ্য লিস্ট।

‘ব্যাংকিং নিয়ে কিছু তথ্য দিচ্ছি, ২০০৮ সালে দেশে ব্যাংক ছিলো ৪৮টি। এখন দেশে ব্যাংক ২১টি। প্রতিটি ব্যাংক এখন প্রফিটে আছে। ২০০৮ সালে গ্রাহক সংখ্যা ছিল ২৬ শতাংশ। এখন সেটা বেড়ে হয়েছে ৭১ শতাংশ। আমানত ২০০৮ সালে ছিল দুই লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা, এখন সাড়ে ছয় গুণ বেড়ে তা দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ১৪ কোটি টাকা।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাপি ঋণ নিয়ে কথা হচ্ছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে এখন সবচেয়ে কম। ২০০৬ সালে খেলাপি ছিলো ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ। এখন খেলাপি ঋণের পরিমাণ সেপ্টেম্বর কোয়ার্টার পর্যন্ত ১ লাখ ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এটা ৮ দশমিক ১২ শতাংশ।

‘আমরা ২০০৭-০৮ সালে করপোরেট ট্যাক্স পেয়েছিলাম দুই হাজার ১৫ কোটি টাকা। এখন শুধু ব্যাংকিং খাত থেকেই আসে ৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা। এখানে যারা অনিয়ম করে তাদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা-মোকদ্দমা করি। এই যে ই-কমার্সের কথা বলছেন তাদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। চলমান এমন মামলার সংখ্যা দুই লাখ ৪৪টি। এগুলোর সংখ্যা আগে আরো বেশি ছিল। আপনারা যা বলছেন যদি অ্যাকশন নেয়ার মতো হলে অবশ্যই নেয়া হবে। আপনারা আমাকে সাহায্য করুন।’

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাশে থাকবে অস্ট্রেলিয়া
ভাসানচর থেকে পালাতে গিয়ে শিশুসহ ৩ রোহিঙ্গা নারী আটক
পিটিয়ে হত্যা করা সেই ‘আরসা নেতার’ মরদেহ কোথায়
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘আরসা নেতা’ হাশিমের মরদেহ
সেপটিক ট্যাংকে দুই রোহিঙ্গার মৃত্যু

শেয়ার করুন

দুই মেয়ে ও দাদাসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে হত্যা

দুই মেয়ে ও দাদাসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে হত্যা

অভিযুক্ত প্রদীপকে আটকের পর পুলিশ ভ্যানে তুলে বেঁধে রাখা হয়। ছবি: সংগৃহীত

ত্রিপুরা পুলিশের ডিজিপি ভি এস যাদব বলেন, ‘রাজমিস্ত্রি প্রদীপ শাবল দিয়ে প্রথমে নিজের দুই মেয়ে ও দাদাকে হত্যা করে। এরপর এক পথচারী ও পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা চালায়।'

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই এলাকায় এক ব্যক্তি শাবল নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে নিজ পরিবারের তিন সদস্যসহ পাঁচজনকে হত্যা করেছে। নিহত অন্য দু’জনের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য ও অপরজন পথচারী।

শুক্রবার রাতেই অভিযুক্ত প্রদীপ দেব রায়কে গ্রেপ্তার করেছে খোয়াই থানা পুলিশ। পেশায় রাজমিস্ত্রি এই ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানা গেছে।

ত্রিপুরা পুলিশের ডিজিপি ভি এস যাদব বলেন, ‘ওই রাজমিস্ত্রি হঠাৎই শাবল নিয়ে নিজের পরিবারের ওপর হামলা চালায়। প্রথমেই সে নিজের দুই মেয়ে ও দাদাকে হত্যা করে। এরপর রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া এক ব্যক্তির ওপর চড়াও হয়। ওই পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে সত্যজিৎ মালিক নামে খোয়াই থানার এক পুলিশ সদস্যও নিহত হন।

হামলার সময় বাধা দিতে গিয়ে প্রদীপ দেব রায়ের স্ত্রী মীনা দেবীও আহত হন। গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, রাজমিস্ত্রি প্রদীপ বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। শুক্রবার রাতে তিনি হঠাৎই শাবল নিয়ে হামলা চালালে তার দুই মেয়ে ও দাদা প্রাণ হারান। এরপর বাড়ির বাইরে বেরিয়ে পাড়ার ঘরে ঘরে গিয়ে হামলা চালালে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। এ সময় এক পথচারীকেও খুন করেন তিনি। আর পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে খুন হন খোয়াই থানার পুলিশকর্মী সত্যজিৎ মালিক।

পুলিশ জানায়, ‘অভিযুক্ত প্রদীপকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ধৃত ব্যক্তি মানসিক অবসাদের শিকার। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাশে থাকবে অস্ট্রেলিয়া
ভাসানচর থেকে পালাতে গিয়ে শিশুসহ ৩ রোহিঙ্গা নারী আটক
পিটিয়ে হত্যা করা সেই ‘আরসা নেতার’ মরদেহ কোথায়
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘আরসা নেতা’ হাশিমের মরদেহ
সেপটিক ট্যাংকে দুই রোহিঙ্গার মৃত্যু

শেয়ার করুন

আবরার হত্যা: রায়ে সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা পরিবারের

আবরার হত্যা: রায়ে সর্বোচ্চ শাস্তির 
প্রত্যাশা পরিবারের

বুয়েট ছাত্র আবরারকে পেটানোর পর সন্দেহভাজনরা ধরাধরি করে কক্ষ থেকে বাইরে নিয়ে যান। সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে সে দৃশ্য। ফাইল ছবি

ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান আলোচিত এই মামলার রায় রোববার দুপুর ১২টার দিকে পড়ে শোনাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আবু আব্দুল্লাহ ভুঞা।

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বী হত্যা মামলার রায় আগামীকাল রোববার ঘোষণা করা হবে।

ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান আলোচিত এই মামলার রায় দুপুর ১২টার দিকে পড়ে শোনাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবু আব্দুল্লাহ ভুঞা।

১৪ নভেম্বর রোববার ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার এই তারিখ ঠিক করেন বিচারক।

২৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছেন মর্মে সর্বোচ্চ সাজার প্রত্যাশাও করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

সঙ্গে সর্বোচ্চ সাজার প্রত্যাশা করছে আবরারের পরিবার।

অন্য দিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এদিন বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হননি। কাজেই আসামিরা খালাস পাবেন।

এদিন শুনানির সময় কারাগারে থাকা ২২ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানির পর তাদের আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

রায় ঘোষণার আগে রোববার ২২ আসামিকে আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত করা হবে। তাদের উপস্থিতিতেই বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান মামলার রায় পড়বেন বলে জানান পিপি আবু আব্দুল্লাহ।

রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী শনিবার বলেন, ‘আসামিরা বুয়েটের মেধাবী ছাত্র হলেও এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি অনিবার্য হোক এটাই প্রত্যাশা করি।’

অন্যদিকে আসামি মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, মেহেদী হাসান রাসেল ও মেফতাহুল ইসলাম জীওনের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু নিউজবাংলাকে বলেন, এ মামলায় আসামিদের শাস্তি হলে সেটা হবে প্রহসনমূলক।

সাবেক এই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (বর্তমান আইনজীবী) বলেন, ‘মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম ঘটনার রাজসাক্ষী হওয়া উচিত ছিল। মেহেদী হাসান রাসেল ঘটনাস্থলে আদৌ উপস্থিত ছিলেন না। এ ছাড়া মেফতাহুল ইসলাম জীওন ২০১৬ সাল থেকে এক দুর্ঘটনায় ডান হাতের তরুণাস্থি বিচ্ছিন্ন এবং অকেজো। এ হাত দিয়ে কোনো প্রকার স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে সে সক্ষম নয়। জীওনকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। এটা তিনি নিজের সাফাই সাক্ষ্যে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আদালতে বর্ণনা করেছেন। বিজ্ঞ আদালত সেসব বিচার্য বিষয় ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছেন। এজন্য তারা খালাস পাওয়ার হকদার।’

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরদিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ।

ওই বছরের ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক ওয়াহেদুজ্জামান।

গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ২৫ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরু করে আদালত। মামলাটিতে ৬০ সাক্ষীর মধ্যে ৪৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

গত ১৪ মার্চ এ মামলায় কারাগারে থাকা ২২ আসামি প্রথমবারের মতো আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। এরপর কয়েক আসামি নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন।

মামলায় কিছু ত্রুটি থাকায় গত ৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটির আরেকটি চার্জ গঠনের আবেদন করে। পরদিন আদালত ২৫ আসামির বিরুদ্ধে পুনরায় চার্জ গঠন করে ১৪ সেপ্টেম্বর আত্মপক্ষ শুনানির তারিখ ধার্য করে।

আসামিরা হলেন- বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহতামিম ফুয়াদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. অনিক সরকার ওরফে অপু, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন ওরফে শান্ত, আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা, উপ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, গ্রন্থ ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ইশতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, কর্মী মুনতাসির আল জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, মো. মুজাহিদুর রহমান, মো. মনিরুজ্জামান মনির, আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মো. মাজেদুর রহমান মাজেদ, শামীম বিল্লাহ, মুয়াজ ওরফে আবু হুরায়রা, এএসএম নাজমুস সাদাত, আবরারের রুমমেট মিজানুর রহমান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মোর্শেদ অমত্য ইসলাম, এস এম মাহমুদ সেতু, মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল ওরফে জিসান, এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম ও মুজতবা রাফিদ।

আসামিদের মধ্যে প্রথম ২২ জন কারাগারে। শেষের তিনজন পলাতক। আসামিদের মধ্যে ৮ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাশে থাকবে অস্ট্রেলিয়া
ভাসানচর থেকে পালাতে গিয়ে শিশুসহ ৩ রোহিঙ্গা নারী আটক
পিটিয়ে হত্যা করা সেই ‘আরসা নেতার’ মরদেহ কোথায়
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘আরসা নেতা’ হাশিমের মরদেহ
সেপটিক ট্যাংকে দুই রোহিঙ্গার মৃত্যু

শেয়ার করুন

হাফ ভাড়া: বাস্তবায়ন নিয়ে ১১ মত পরিবহন নেতাদের

হাফ ভাড়া: বাস্তবায়ন নিয়ে ১১ মত পরিবহন নেতাদের

হাফ ভাড়া নিয়ে শনিবার পরিবহন নেতাদের সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠক করেন বিআরটিএর কর্মকর্তারা। ছবি: নিউজবাংলা

খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘সরকার ছাত্রদের দাবি যৌক্তিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করছে। ঢাকার ৮০ ভাগ মালিক গরিব। হাফ ভাড়া নিলে মালিকদের যে ক্ষতি হবে, তা সরকার কীভাবে পূরণ করবে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা কিছু প্রস্তাব দিয়েছি। সবার সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি।’

গণপরিবহনে হাফ ভাড়া বাস্তবায়নে পরিবহন নেতাদের সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠক করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

বৈঠকে শিক্ষার্থীদের জন্য কীভাবে হাফ ভাড়া বাস্তবায়ন হবে, সেটি নির্ধারণে টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে পরিবহন নেতাদের পক্ষ থেকে। বিআরটিএর সঙ্গে আলোচনায় তারা ১১টি মত দিয়েছেন।

সভায় পরিবহন নেতারা জানান, হাফ ভাড়া নিয়ে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছে। ভাড়া বৃদ্ধির সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকরা যুক্ত নন, তবে আদায়ের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থী এবং যাত্রীদের ক্ষোভের প্রধান টার্গেট হয়ে পড়েন শ্রমিকরা। এ কারণে প্রতিদিন কিছু না কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। এ অবস্থা থেকে পরিবহন শ্রমিকরা মুক্তি চান।

১১ মত

বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পরিবহন নেতারা ১১টি মত দেন। এগুলো হলো:

১. সরকার সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিআরটিসি পরিচালিত বাসে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া নেয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে কীভাবে, তা জানা থাকলে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের জন্য ভালো হবে। তা না হলে ‌‌‌‌‌‌‘বিআরটিসি বাসে হাফ ভাড়া, অন্য বাসগুলোতে কেন নয়’ বলে উত্তেজনা আরও বাড়বে।

২. হাফ ভাড়া শিক্ষার্থীরা দেবে। বাকি টাকা পূরণ করা হবে কীভাবে এবং কোন তহবিল থেকে, তা স্পষ্ট করতে হবে।

৩. সারা দেশে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার জন্য বাস ব্যবহার করেন কতজন, হাফ ভাড়া নিলে ভর্তুকি কত টাকা দিতে হবে, সেটি আমলে নিতে হবে।

৪. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা কীভাবে কনসেশন (ছাড়) দেয়, তা জানতে হবে।

৫. শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন কার্ড চালু করা দরকার, যা প্রতিষ্ঠান দেবে। তাহলে শিক্ষার্থী কোন প্রতিষ্ঠানের সেটি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

৬. এ বছর শিক্ষা বাজেট ৭১ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকার সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মিলে মোট বাজেট দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা। প্রতি বছর শিক্ষা বাজেট থেকে বেশ কিছু টাকা ফেরত যায়। এ টাকাটা পরিবহন ভর্তুকি হিসেবে দেয়া যেতে পারে।

৭. যেসব পরিবহনে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া কার্যকর হবে, সেসব পরিবহনে কিছু বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

৮. দেশে সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থী। তাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব আছে। একটি যুক্তিসংগত নিয়ম কার্যকর হলে সেটি শিক্ষার্থী ও পরিবহন শ্রমিক উভয়ের জন্য মঙ্গলজনক হবে।

৯. বড় শহরের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামেই নগর পরিবহন আছে। বাকি সারা দেশে সাধারণত স্বল্প দূরত্বে শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে।

১০. সরকার, পরিবহন মালিক ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নিয়ে বিভিন্ন স্তরে মনিটরিং সেল গঠন করা যেতে পারে। তাহলে যেকোনো উত্তেজনা সহজেই প্রশমন করা সম্ভব হবে।

১১. সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বেতন কম। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বেশি। উভয় ক্ষেত্রে যারা গণপরিবহন ব্যবহার করেন তাদের জন্য পরিবহন ফি ঠিক করে সেটি দিয়ে কেন্দ্রীয় তহবিল গঠন করা যেতে পারে।

বৈঠক শেষে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বাসে হাফ ভাড়ার সিদ্ধান্ত আসার আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, ‘পরিবহন নেতাদের পক্ষ থেকে কনসেশন দেয়ার প্রস্তাব এসেছে। কত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কত ছাত্র, কতজন বাস ব্যবহার করে তার একটা পরিসংখ্যান চেয়েছেন নেতারা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেই তথ্য দেবে।’

টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাসে হাফ ভাড়া বাস্তবায়নে পরিবহন নেতারা আন্তরিক। কিন্তু তাদের যে ক্ষতি হবে সেটি কীভাবে পূরণ করা হবে, কত ভর্তুকি দেবে, সেসব বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য সরকার ও পরিবহনে সম্পৃক্তদের নিয়ে টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব এসেছে। সরকারকে টাস্কফোর্সের বিষয়ে জানাব।’

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘সরকার ছাত্রদের দাবি যৌক্তিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করছে। ঢাকার ৮০ ভাগ মালিক গরিব।

‌‘হাফ ভাড়া নিলে মালিকদের যে ক্ষতি হবে, তা সরকার কীভাবে পূরণ করবে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা কিছু প্রস্তাব দিয়েছি। সবার সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি।’

শিক্ষার্থীদের অনুরোধ জানিয়ে এই পরিবহন নেতা বলেন, ‘হাফ ভাড়ার দাবিতে বাস ভাঙচুর, শ্রমিকদের মারধর অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, তারা যেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যান।’

টাস্কফোর্স কবে গঠন করা হবে, এমন প্রশ্নে বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটা নতুন প্রস্তাব। টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত হবে।’

শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার বিষয়টি সুরাহা করতে শনিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিআরটিএ কার্যালয়ে বাসমালিক সমিতি, শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের সঙ্গে বিআরটিএসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় বসেন।

সেখান থেকে বিষয়টি নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত আসার কথা ছিল।

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল বাতেন বাবু, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, বিআরটির চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী কমিশনার মো. আশফাকসহ বিআরটিএর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাশে থাকবে অস্ট্রেলিয়া
ভাসানচর থেকে পালাতে গিয়ে শিশুসহ ৩ রোহিঙ্গা নারী আটক
পিটিয়ে হত্যা করা সেই ‘আরসা নেতার’ মরদেহ কোথায়
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘আরসা নেতা’ হাশিমের মরদেহ
সেপটিক ট্যাংকে দুই রোহিঙ্গার মৃত্যু

শেয়ার করুন

ফালগুনী শপের সিইওসহ রিমান্ডে ৩

ফালগুনী শপের সিইওসহ রিমান্ডে ৩

র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার পাভেল ও তার সহযোগীরা। ফাইল ছবি

অনলাইনে পণ্যবেচার নামে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণার মামলায় পাভেল হোসেনের দুই দিন এবং অপর দুই আসামির এক দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এছাড়া অস্ত্র আইনের মামলায় একমাত্র আসামি পাভেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আরও দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ফাল্গুনী শপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পাভেল হোসেনসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ। মোছা. ফারজানা আক্তার মিম নামে এক নারীর রিমান্ড নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার ঢাকার মহানগর হাকিম মইনুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া অপর দুই আসামি হলেন মো. সাইদুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহ আল হাসান।

অনলাইনে পণ্যবেচার নামে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণার মামলায় পাভেল হোসেনের দুই দিন এবং অপর দুই আসামির এক দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এছাড়া অস্ত্র আইনের মামলায় একমাত্র আসামি পাভেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আরও দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলগাঁও থানার এসআই মিল্টন কুমার দেবরাজ চার আসামিকে বিকেলে আদালতে হাজির করেন। প্রতারণার মামলায় চার আসামির সাত দিন এবং অস্ত্র মামলায় পাভেলের আরও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন আসামির রিমান্ড এবং একজনের রিমান্ড নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলগাঁও থানার পুলিশের উপপরিদর্শক মিল্টন কুমার দেবরাজ।

এর আগে ২৪ নভেম্বর বনশ্রী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেন র‌্যাব সদস্যরা। এসময় তাদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, গুলি, মদ ও ওয়্যারহাউজ থেকে নানান পণ্য জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘মে মাসে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পাভেল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছিল। জামিনে মুক্ত হয়ে ফের প্রতারণা শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, শতাধিক গ্রাহককে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছেন তিনি। কিছু ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিকাল ৫টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত র‌্যাব-৪ এর একটি দল রাজধানীর খিলগাঁও থানার বনশ্রী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।’

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাশে থাকবে অস্ট্রেলিয়া
ভাসানচর থেকে পালাতে গিয়ে শিশুসহ ৩ রোহিঙ্গা নারী আটক
পিটিয়ে হত্যা করা সেই ‘আরসা নেতার’ মরদেহ কোথায়
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘আরসা নেতা’ হাশিমের মরদেহ
সেপটিক ট্যাংকে দুই রোহিঙ্গার মৃত্যু

শেয়ার করুন