ডিজেলের দাম বৃদ্ধি: ট্রাক ধর্মঘটের ডাক

ডিজেলের দাম বৃদ্ধি: ট্রাক ধর্মঘটের ডাক

বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হোসেন মো. মজুমদার বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম গতকাল হঠাৎ করে বাড়িয়েছে সরকার। এক দিন আগে বাড়িয়েছে ব্রিজ টোল। সেই ব্রিজ টোলটা ২৫৭ থেকে ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছিল। তার এক দিন পর ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা করে বাড়িয়েছে। সারা বাংলাদেশের মালিক-শ্রমিকরা এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি।’

ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য প্রতি লিটার ১৫ টাকা বৃদ্ধির পরের দিনই ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি। আর ভাড়া সমন্বয় করতে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হোসেন মো. মজুমদার বৃহস্পতিবার দুপুরে ধর্মঘট ডাক দেয়ার বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম গতকাল হঠাৎ করে বাড়িয়েছে সরকার। এক দিন আগে বাড়িয়েছে ব্রিজ টোল। সেই ব্রিজ টোলটা ২৫৭ থেকে ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছিল। তার এক দিন পর ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা করে বাড়িয়েছে।

‘সারা বাংলাদেশের মালিক-শ্রমিকরা এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। আগামীকাল (শুক্রবার) সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেয়া পর্যন্ত পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকবে।’

বাসের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে দ্রুতই সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘দূরপাল্লা ও আন্তজেলা বাস ভাড়া বাড়াতে আলোচনায় বসতে আজই আমরা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানাব। আমাদের পক্ষ থেকে ভাড়া সমন্বয় করতে দাবি জানানো হবে।’

হঠাৎ করে লিটারে ২৩ শতাংশ হারে তেলের দাম বৃদ্ধি অস্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন এনায়েত।

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলাপ-আলোচনা করা হয়নি। হঠাৎ করে গভীর রাতে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই দাম বৃদ্ধি কোনোভাবে মেনে নেয়া সম্ভব নয়। বর্তমান যে বাসভাড়া রয়েছে এটা ৭ বছর আগের ভাড়া। ৭ বছরে বাসের ভাড়া বাড়েনি।

‘হঠাৎ করেই তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন অবস্থায় বাস ভাড়া না বাড়লে বাস মালিকের কোনো লাভ হবে না। উল্টো লোকসান গুনতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে ভাড়া না বাড়লে গাড়ি চালানো সম্ভব হবে না।’

প্রতি কিলোমিটারে কী পরিমাণ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেবেন জানতে চাইলে এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘ভাড়া নির্ধারণে গঠিত ব্যয় বিশ্লেষণ কমিটি রয়েছে তারা মূলত ভাড়া নির্ধারণ করেন। এ বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত জানাবেন এবং সুপারিশ করবেন।’

তবে বৈঠকটি কখন হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলতে পারেননি ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির এই নেতা। বললেন, ‘আজ বৃহস্পতিবার হওয়ায় আজই যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে এই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’

বুধবার রাতে হঠাৎ ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানায় সরকার। এর ফলে এখনও গণপরিবহন আগের ভাড়াতেই চলছে।

বৃহস্পতিবার সকালে মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, সরকারের নির্ধারিত ভাড়াতেই যাত্রীরা তাদের গন্তব্যের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন। আগের ভাড়াই নিচ্ছে গণপরিবহনগুলো। ভাড়া বাড়ানো নিয়ে কাউন্টারগুলোতে কোনো কথাও শোনা যায়নি।

বিনিময় পরিবহন ঢাকা থেকে ধনবাড়ী চলাচল করে। এই পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার আরিফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকার মহাখালী থেকে ধনবাড়ী মধুপুর রোডে প্রতিবার যেতে এই পরিবহনে ১০০ লিটার তেল প্রয়োজন হয়। এই তেল কিনতে সাড়ে ৬ হাজার টাকা লাগত। আজ থেকে বাড়তি আরও ১৫০০ টাকা লাগবে। অনেক টিপে যাত্রী কম ওঠায় ভাড়া আসে ১৫০০ টাকা। এমন বাস্তবতায় মালিকপক্ষের বসতে হবে। তারা যে ভাড়া নির্ধারণ করে দেবে, সেটাই আমরা নেব।’

এনা পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার সাইফুল ইসলাম রুবেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল রাত থেকে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে এখনও আমাদের পরিবহন মালিকের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। আগের নির্ধারিত ভাড়া নেয়া হচ্ছে আমাদের পরিবহনে। আমরা সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি।’

শাহ ফতেহ আলী পরিবহনে করে বগুড়া থেকে বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসছেন আনসার আলী। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে ভাড়া সাড়ে ৩০০ টাকা দিয়ে টিকিট নিয়ে ঢাকাতে আসছি। গতরাতেই ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে এখনও পরিবহনে ভাড়া বাড়েনি। ভাড়া বাড়লে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হবে আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের। তাই সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি যাতে ভাড়া না বাড়ানো হয়। সরকারের কাছে দাবি, আগের দাম রেখে মালিকপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা।’

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশেও ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়িয়েছে সরকার। লিটারপ্রতি এক লাফে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা হয়েছে। সে হিসাবে দাম এক লাফে বাড়ল ২৩ শতাংশ। নতুন দাম এরই মধ্যে কার্যকর হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সিলেটে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক
ঘোষণা ছাড়াই পরিবহন ধর্মঘট, দুর্ভোগে যাত্রীরা
পরিবহন ধর্মঘট নিষিদ্ধ করে আইন হচ্ছে
ট্রাকের চাকা ঘুরছে না, উদ্বেগে কৃষক-ব্যবসায়ী
ট্রাকের চাকা ঘুরবে না ৩ দিন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সরকার কেন চুক্তি করেছিল, প্রশ্ন সন্তু লারমার

সরকার কেন চুক্তি করেছিল, প্রশ্ন সন্তু লারমার

বৃহস্পতিবার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই যুগ পূর্তিতে আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে আলোচনায় বক্তব্য দেন দুই যুগ আগে সরকারের সঙ্গে চুক্তিতে সই করা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বা সন্তু লারমা। ছবি: নিউজবাংলা

দুই যুগ আগে সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে সই করা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বা সন্তু লারমা বলেন, ‘আজ প্রশ্ন করতে হচ্ছে, সরকার কেন চুক্তি করেছিল? পার্বত্য সমস্যাকে সমাধানের জন্য নাকি, জুম্ম জনগণের অস্তিত্বকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার জন্য?’

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি অভিযোগ করে একে হতাশাজনক বলেছেন দুই যুগ আগে সরকারের সঙ্গে চুক্তিতে সই করা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বা সন্তু লারমা।

যে সরকার এই চুক্তি করেছিল, গত ২৪ বছরে সেই সরকারই ক্ষমতায় আছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, তাহলে কেন এই চুক্তি করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই যুগ পূর্তিতে রাজধানীর ঢাকার আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে এক আলোচনায় তিনি এই প্রশ্ন রাখেন।

৮০ দশক থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে থাকা পার্বত্য চট্টগ্রম জনসংহতি সমিতির সামরিক শাখা ‘শান্তি বাহিনী’কে অস্ত্র সমর্পণে রাজি করিয়ে ১৯৯৭ সালের ১ ডিসেম্বর সই হয় ঐহিতাসিক চুক্তি। এতে সরকারের পক্ষ থেকে সরকারের পক্ষ থেকে সই করেন আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, আর জনসংহতি সমিতির পক্ষ থেকে সই করেন প্রধান সন্তু লারমা।

চুক্তিতে যেসব শর্তের উল্লেখ ছিল, তার অনেকগুলো বাস্তবায়ন হলেও বেশ কিছু ধারা এখনও অবাস্তবায়িত অবস্থায় আছে। প্রতি বছর চুক্তির বার্ষিকীতে সেই বিষয়গুলো উঠে আসে।

সন্তু লারমা বলেন, ‘আজ প্রশ্ন করতে হচ্ছে, সরকার কেন চুক্তি করেছিল? পার্বত্য সমস্যাকে সমাধানের জন্য নাকি, জুম্ম জনগণের অস্তিত্বকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার জন্য?’

তিনি বলেন, ‘যে সরকারের আমলে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, গত ২৪ বছরে সে সরকারই অধিকাংশ সময় ক্ষমতায় আছে। কিন্তু চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া একেবারেই থেমে আছে।... পাহাড়ের মানুষ শান্তিপ্রিয় বলে এখনও অপেক্ষা করছে সরকার চুক্তি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে।’

চুক্তি যদি বাস্তবায়ন না হয় তবে পাহাড়ের ছাত্র যুব সমাজ রুখে দাঁড়াবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সন্তু লামরা বলেন, ‘পার্বত্য জনগণ তাদের ভূমির অধিকার, অস্তিত্বকে সুরক্ষার জন্যই আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছিল। পাহাড়ের মানুষের জন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্য থাকত, তাহলে পাহাড়ের জুম্ম জনগণ সরকারের সঙ্গে আলোচনায় আসত না।’

জনসংহতি সমিতির সভাপতি বলেন, ‘সরকার বলছে তারা উন্নয়ন করছে। কিন্তু পাঁচ তারকা হোটেল করে পাহাড়িদের জীবিকার সর্বনাশ করার তাদের উন্নয়ন।...পার্বত্য চট্টগ্রাম আজ বড় ধরনের কারাগারে পরিণত হয়েছে। কারাগারে যেভাবে কয়েদিদের বসবাস করতে হয় আজকে সেভাবেই বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছি।’

সন্তু লারমা করেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে আজ দুটি পক্ষ। একটি পক্ষ যারা পাহাড়ের নিরীহ মানুষ, যারা চুক্তির বাস্তবায়ন চায়; আর আরেকটি পক্ষ সরকার এবং তার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষ।’

আজও জনসংহতি সমিতিকে ‘সন্ত্রাসী দল’ হিসাবে চিহ্নিত করে দমন-পীড়ন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয় আলোচনায়। বলেন, ‘অনেক নেতাকর্মীকে আজ মামলা দিয়ে, হামলা করে নিপীড়ন চালানো হচ্ছে।...বহিরাগত যে গরিব বাঙালিদেরকে জিয়াউর রহমান নিয়ে গিয়েছিল, তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এখনো চলমান। তারা আজ পাহাড়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।

‘সেখানে বলার অধিকার নেই, জীবিকার অধিকার নেই। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত পাহাড়ে আদিবাসী জনগণের জুম চাষ, আদা-হলুদ চাষের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।’

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং এর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের কো-চেয়ার সুলতানা কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মেসবাহ কামাল ও সাদেকা হালিমও আলোচনায় বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
সিলেটে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক
ঘোষণা ছাড়াই পরিবহন ধর্মঘট, দুর্ভোগে যাত্রীরা
পরিবহন ধর্মঘট নিষিদ্ধ করে আইন হচ্ছে
ট্রাকের চাকা ঘুরছে না, উদ্বেগে কৃষক-ব্যবসায়ী
ট্রাকের চাকা ঘুরবে না ৩ দিন

শেয়ার করুন

ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান খুঁজুন: জাতিসংঘে বাংলাদেশ

ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান খুঁজুন: জাতিসংঘে বাংলাদেশ

গাজা সীমান্তে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফিলিস্তিনিরা। ছবি: এএফপি

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ইসরায়েল যাতে সব আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইন এবং জাতিসংঘ রেজুলেশন ২৩৩৪-এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য জাতিসংঘ রেজুলেশন যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে সম্মত হয়, তা আমাদেরই নিশ্চিত করতে হবে।’

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই ফিলিস্তিন সংকটের মূল কারণ খুঁজে বের করে তার সমাধান করতে হবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ।

একই সঙ্গে ইসরায়েলি আগ্রাসনের অবসানে সত্যিকারের প্রচেষ্টা নেয়ারও আহ্বান জানিয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ইসরায়েল যাতে সব আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইন এবং জাতিসংঘ রেজুলেশন ২৩৩৪-এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য জাতিসংঘ রেজুলেশন যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে সম্মত হয়, তা আমাদেরই নিশ্চিত করতে হবে।’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিন প্রশ্নে আয়োজিত প্লেনারি সভায় দেশের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন সংস্থাটিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা।

১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন, কার্যকর ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায়সংগত অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের অটুট ও অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর মাধ্যমে বাড়িঘর ও অবকাঠামো ভেঙে ফেলা, দখল করা, বহিষ্কার, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং ফিলিস্তিনিদের রক্তপাত ঘটানোর কারণে ইসরায়েল অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ইসরায়েলের এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাতিসংঘ রেজুলেশন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের প্রতি সুস্পষ্ট অবজ্ঞা প্রদর্শন।

তিনি বলেন, অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার ঘৃণ্য সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে এবং অধিকৃত ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সংঘটিত নৃশংস অপরাধের অবশ্যই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন:
সিলেটে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক
ঘোষণা ছাড়াই পরিবহন ধর্মঘট, দুর্ভোগে যাত্রীরা
পরিবহন ধর্মঘট নিষিদ্ধ করে আইন হচ্ছে
ট্রাকের চাকা ঘুরছে না, উদ্বেগে কৃষক-ব্যবসায়ী
ট্রাকের চাকা ঘুরবে না ৩ দিন

শেয়ার করুন

বিজয়ের ৫০ উৎসবে আসছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি

বিজয়ের ৫০ উৎসবে আসছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি

ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দ। ফাইল ছবি। এএফপি

করোনা পরীক্ষা ছাড়া কেউই বিজয় দিবসের কোন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন না বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বলেন, ‘কোভিড দেশে থেকে যায়নি সেটি মাথায় রেখেই কোভিড টেস্ট বাধ্যতামূলক। যারা দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন তারাই সেখানে আসবেন। আমরা অবশ্যই নেগেটিভ সার্টিফিকেট পরীক্ষা করব। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এখানে আসতে সবাইকে আহ্বান করছি।’

বাংলাদেশের বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে থাকবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দ।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বিজয় দিবস উদযাপন সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত জেনেছি একজন রাষ্ট্রপ্রধান আসবেন। বিদেশি মেহমান আরও কিছু আসার কথা।’

গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার এই আগমনকে ঘিরে সে সময় দেশে ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা ব্যাপক হাঙ্গামা করেছিলেন।

প্রতিবাদ থেকে সহিংস হয়ে উঠে সংগঠনের কর্মীরা। পরে পুলিশের অভিযান শুরু হলে হেফাজতের নেতৃত্বেও ধরে ভাঙন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিজয় দিবসের ৫০ বছরের পূর্তি হতে যাচ্ছে। সেজন্য মানুষের মধ্যে একটা আগ্রহ রয়েছে। তারা সবাই উন্মুখ হয়ে আছেন তারা সবাই অংশগ্রহণ করবেন। বাংলাদেশের যে যেখানে থাকেন তারা এই অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নেবেন, যাতে নিরাপত্তার অভাব অনুভব না করেন, সেজন্য আমরা মিটিং করেছি।’

অনুষ্ঠানগুলো ঘিরে ট্রাফিক ব্যবস্থা কী হবে, নিরাপত্তার জন্য কী কী চ্যালেঞ্জ হতে পারে- সবকিছু নিয়ে আমরা আলাপ করার কথা জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘যার যা করণীয় সেগুলো আমরা ভাগ করে দিয়েছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশি মেহমান যারাই আসবেন, তাদের নিরাপত্তা, তাদের আসা-যাওয়া, তাদের অবস্থান...বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড স্কয়ার ও জাতীয় সংসদের সামনে মুজিব জন্মশতবর্ষের শেষ অনুষ্ঠান এবং বিজয় দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সব মিলে আমরা যে অনুষ্ঠানগুলো করতে যাচ্ছি, এর সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে।’

করোনা পরীক্ষা ছাড়া কেউই বিজয় দিবসের কোন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন না বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘কোভিড দেশে থেকে যায়নি সেটি মাথায় রেখেই কোভিড টেস্ট বাধ্যতামূলক। যারা দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন তারাই সেখানে আসবেন। আমরা অবশ্যেই নেগেটিভ সার্টিফিকেট পরীক্ষা করব। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এখানে আসতে সবাইকে আহ্বান করছি।’

আরও পড়ুন:
সিলেটে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক
ঘোষণা ছাড়াই পরিবহন ধর্মঘট, দুর্ভোগে যাত্রীরা
পরিবহন ধর্মঘট নিষিদ্ধ করে আইন হচ্ছে
ট্রাকের চাকা ঘুরছে না, উদ্বেগে কৃষক-ব্যবসায়ী
ট্রাকের চাকা ঘুরবে না ৩ দিন

শেয়ার করুন

বিশ্বে বাংলাদেশি অভিবাসী ৭৪ লাখ: আইওএম

বিশ্বে বাংলাদেশি অভিবাসী ৭৪ লাখ: আইওএম

প্রতীকী ছবি

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নানা তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী বসবাস করা বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ৭.৪ মিলিয়ন বা ৭৪ লাখ।

বিশ্বে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা সাত দশমিক ৪ মিলিয়ন বা ৭৪ লাখ বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

সে হিসাবে অভিবাসী থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ।

আইওএমের বৃহস্পতিবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে বুধবার ‘বিশ্ব অভিবাসন প্রতিবেদন ২০২২’ প্রকাশ করে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অভিবাসীর সংখ্যা ১৯৭০ সালে বিশ্বব্যাপী ৮৪ মিলিয়ন থেকে ২০২০ সালে ২৮১ মিলিয়নে উন্নীত হয়েছে যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৩.৬ শতাংশ। বিশ্বব্যাপী বেশিরভাগ মানুষই (৯৬.৪ শতাংশ) যে দেশে জন্মগ্রহণ করে, সে দেশেই বসবাস করে। কোভিড-১৯ এর কারণে ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক অভিবাসীর সংখ্যা ২ মিলিয়নের মতো কম ছিল।

আইওএম তাদের এ প্রতিবেদনের বিশ্বকে সতর্ক করে বলে, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ক্রমাগতভাবে সারা বিশ্বে অভিবাসীর সংখ্যা বাড়িয়ে চলছে। বর্তমানে পৃথিবীতে ২৮ কোটি ১০ লাখ অভিবাসী রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা ৭৪ লাখ (৭.৪০ মিলিয়ন)। আর রেমিট্যান্স পাঠানোয় অষ্টম।

প্রতিবেদনে গত দুই বছরে বিশ্বব্যাপী অভিবাসন খাতের আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিষয় বিশ্লেষণ বিবেচনায় নেয়া হয়েছে অভিবাসনের ঐতিহাসিক ও সমসাময়িক কারণগুলো।

আইওএম বলছে, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী চলাচলে নিয়ন্ত্রণ এবং ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিপর্যয়, সংঘাত এবং সহিংসতার কারণে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি বেড়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বব্যাপী আকাশপথে যাত্রীর সংখ্যা ৬০ শতাংশ কমেছে। ২০১৯ সালে যাত্রীসংখ্যা ছিল ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন, যা ২০২০ সালে ১ দশমিক ৮ বিলিয়নে দাঁড়ায়। একই সময়ে দুর্যোগ, সংঘাত এবং সহিংসতার ফলে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪০ দশমিক ৫ মিলিয়ন, যা এক বছর আগে ছিল ৩১ দশমিক ৫ মিলিয়ন।

প্রতিবেদন সম্পর্কে আইওএমর মহাপরিচালক অ্যান্টোনিও ভিটোরিনো বলেন, ‘আমরা একটি বৈপরীত্য লক্ষ্য করছি, যা মানব ইতিহাসে আগে দেখা যায়নি। কোভিড-১৯ এর কারণে শত কোটি মানুষ আটকা পড়েছে। তারপরও লাখ লাখ বাস্তুচ্যুতির ঘটনায় বিপুলসংখ্যক মানুষ গৃহহীন হতে বাধ্য হয়েছে।’

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নানা তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী বসবাস করা বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ৭.৪ মিলিয়ন বা ৭৪ লাখ।

এতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের বাইরে বসবাস করেও প্রবাসীরা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশি অভিবাসীরা ২০১৯ সালে ১৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি দেশে পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে ৭৩ শতাংশ প্রবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে এসেছে যারা গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) দেশগুলোতে প্রধানত আধা দক্ষ শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। এই রেমিট্যান্স, জিডিপির ৬ শতাংশের বেশি এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক আয়ের উৎস।’

প্রবাসীদের রেমিট্যান্স সম্পর্কে বলা হয়, অভিবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোয় উদ্বুদ্ধ করার জন্য নীতিনির্ধারকদের নেয়া পদক্ষেপের ফলে এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

‘বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৯ সালে নগদ প্রণোদনা স্কিমের সর্বোচ্চ সীমা তিন গুণেরও বেশি বাড়িয়েছে, যার ফলে রেমিট্যান্স সুবিধাভোগীরা আনুষ্ঠানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে টাকা পাঠানোর ওপর দুই শতাংশ বোনাস পান ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত। এ ছাড়া রেমিট্যান্স পাঠানোর উৎসাহ আরও বাড়াতে কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক অতিরিক্ত এক শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে’, বলা হয় প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনটির সম্পাদক ম্যারি ম্যাকঅলিফ বলেন, বিশ্ব অভিবাসন প্রতিবেদন সিরিজের ১১তম সংস্করণটিতে অভিবাসন বিষয়ে সাম্প্রতিক তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে অভিবাসন প্রবণতা তুলে ধরা হয়েছে। ব্যাখ্যা করা হয়েছে অভিবাসন নীতির নতুন নতুন দিক।

আইওএমের বাংলাদেশ অফিসার ইন চার্জ ফাতিমা নুসরাত গাজ্জালি বলেন, ‘রেমিট্যান্সের প্রবাহের ওপর কোভিড-১৯ অতিমারির নেতিবাচক প্রভাব সত্ত্বেও ২০২০ সালে ২১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হয়েছে। অভিবাসন বাংলাদেশের উন্নতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

‘অভিবাসীরা গন্তব্য দেশে উন্নত অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য অভিবাসন করে এবং তারপরে নিজ দেশে জীবনযাত্রার মান বাড়াতে সহায়তা করে।’

আরও পড়ুন:
সিলেটে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক
ঘোষণা ছাড়াই পরিবহন ধর্মঘট, দুর্ভোগে যাত্রীরা
পরিবহন ধর্মঘট নিষিদ্ধ করে আইন হচ্ছে
ট্রাকের চাকা ঘুরছে না, উদ্বেগে কৃষক-ব্যবসায়ী
ট্রাকের চাকা ঘুরবে না ৩ দিন

শেয়ার করুন

স্কুলে ভর্তি শেষ করতে হবে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে

স্কুলে ভর্তি শেষ করতে হবে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে

ফাইল ছবি

মাউশি মহাপরিচালক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেন, সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়া যেন ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হয় এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভর্তির ক্ষেত্রে যেন পরীক্ষা নেয়া না হয় এ বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবগত করা হয়েছে।

সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়া ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে। আর শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি ছাড়া ভর্তি পরীক্ষা নেয়া যাবে না।

বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুকের সই করা অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মাউশি মহাপরিচালক বলেন, সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়া যেন ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হয় এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভর্তির ক্ষেত্রে যেন পরীক্ষা নেয়া না হয় এ বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবগত করা হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়, সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন ও ভর্তি প্রক্রিয়া অবশ্যই আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে। লটারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ভর্তি পরিচালনা কমিটি, ঢাকা মহানগরের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাউশি অভিভাবক, ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষক প্রতিনিধির উপস্থিতি থাকতে হবে।

আরও বলা হয়, শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ভর্তি নীতিমালা (সংশোধিত-২০২১) অনুসরণ করে লটারির কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। কোনোভাবেই ১১০ টাকার বেশি ফি নেয়া যাবে না।

আগামী বছরের জন্য সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলোয় প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন শুরু হয়েছে ২৫ নভেম্বর। এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ৮ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

২০২২ শিক্ষাবর্ষে সরকারি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তিতে শিক্ষার্থীর বয়স ছয় বছরের বেশি হতে হবে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এই বয়স নির্ধারণ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।

ভর্তি কার্যক্রমের শর্তাবলি

সরকারি বিদ্যালয়: ঢাকা মহানগরে ৪৪টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় তিনটি ভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত থাকবে। আবেদনের সময় একজন শিক্ষার্থী একটি গ্রুপের পাঁচটি বিদ্যালয় নির্বাচন করতে পারবে। এখান থেকে লটারির মাধ্যমে একটি বিদ্যালয় নির্বাচন করা হবে।

সারা দেশে আবেদনকারীরা আবেদনের সময় প্রতিষ্ঠান নির্বাচনকালে থানাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা পাবে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীরা প্রাপ্যতার ভিত্তিতে প্রতিটি আবেদনে সর্বোচ্চ পাঁচটি স্কুল পছন্দের ক্রমানুসারে নির্বাচন করতে পারবে।

ডাবল শিফটের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উভয় শিফট পছন্দ করলে দুটি পছন্দক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। একই পছন্দক্রমের বিদ্যালয় কিংবা শিফট দ্বিতীয়বার পছন্দ করা যাবে না।

এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির মোট শূন্য আসনের ১০ শতাংশ কোটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

বেসরকারি বিদ্যালয়: ঢাকা মহানগরীর বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন কমপক্ষে একটি এবং সর্বোচ্চ তিনটি প্রশাসনিক থানা ক্যাচমেন্ট এরিয়া হিসেবে নির্ধারণ করা যাবে।

আবেদনকারীরা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনকালে মহানগর পর্যায়ের জন্য বিভাগীয় সদরের মেট্রোপলিটন এলাকা এবং জেলা সদরের সদর উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা পাবে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীরা প্রাপ্যতার ভিত্তিতে প্রতিটি আবেদনে সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয় পছন্দের ক্রমানুসারে নির্বাচন করতে পারবে।

ডাবল শিফটের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উভয় শিফট পছন্দ করলে দুটি পছন্দক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। একই পছন্দক্রমের বিদ্যালয় কিংবা শিফট দ্বিতীয়বার পছন্দ করা যাবে না।

করোনা মহামারির কারণে গত বছর প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এর আগে শুধু প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো। আর দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তিতে পরীক্ষা নেয়া হতো। নবম শ্রেণিতে ভর্তি করা হতো জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে।

আরও পড়ুন:
সিলেটে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক
ঘোষণা ছাড়াই পরিবহন ধর্মঘট, দুর্ভোগে যাত্রীরা
পরিবহন ধর্মঘট নিষিদ্ধ করে আইন হচ্ছে
ট্রাকের চাকা ঘুরছে না, উদ্বেগে কৃষক-ব্যবসায়ী
ট্রাকের চাকা ঘুরবে না ৩ দিন

শেয়ার করুন

আফ্রিকা ফেরতদের বোর্ডিং পাস নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আফ্রিকা ফেরতদের বোর্ডিং পাস নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রী বলেন, ‘আফ্রিকায় আমাদের বিমান যায় না। তবে অন্য কোনো এয়ারলাইনসে সেদেশ থেকে এলে, তাদেরকে বোর্ডিং পাস দেয়া হবে না। আর বোডিং পাস যদি দিতেও হয়, তবে যাদের ডাবল ভ্যাক্সিন আছে এবং টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ তাদেরকে দেয়া হবে। দেশে এসে তাদের ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।’ 

সাউথ আফ্রিকা ফেরতদের বোর্ডিং পাস দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেন, যাদের ডাবল ভ্যাক্সিন আছে এবং টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ তাদেরকে কেবল বোর্ডিং দেয়া হবে। তবে দেশে এসে তাদের ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।

সিলেটে সালুটিকর এলাকায় বৃ্হস্পতিবার বিকেলে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা কেপ ফাউন্ডেশনের ‘আরফান ভিলেজ’ এর উদ্বোধনকালে ওমিক্রন সতর্কতা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আফ্রিকায় আমাদের বিমান যায় না। তবে অন্য কোনো এয়ারলাইনসে সেদেশ থেকে এলে, তাদেরকে বোর্ডিং পাস দেয়া হবে না। আর বোর্ডিং পাস যদি দিতেও হয়, তবে যাদের ডাবল ভ্যাক্সিন আছে এবং টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ তাদেরকে দেয়া হবে। দেশে এসে তাদের ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।’

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন গত ২৪ নভেম্বর শনাক্ত হয় সাউথ আফ্রিকায়। দ্রুত এটি ছড়িয়ে পড়ে যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, বতসোয়ানা, হংকং ও ইসরায়েলে।

যেসব দেশে এই ধরন পাওয়া গেছে সেসব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হতে পারে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে সাউথ আফ্রিকার সঙ্গে স্থগিত করা হয়েছে যোগাযোগ।

এই প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আফ্রিকার আশপাশের দেশগুলোতে যারা আছেন, তাদের ডিসকারেজ করার জন্য অথবা এখন দেশে না ফেরার জন্য সবগুলো মিশনকে বলে দেয়া হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ প্রস্তুত, এটা সমস্যা হবে না বলেও জানান তিনি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সংক্ষিপ্ত সফরে বিমানযোগে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। বিকালে ক্যাপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ওরফান ভিলেজ স্থাপনের একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও ক্যাপ ফাউন্ডেশনের সিইও মো. আব্দুল নূর, সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, চ্যানেল এস এর চেয়ারম্যন আহমেদুস সামাদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সিলেটে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক
ঘোষণা ছাড়াই পরিবহন ধর্মঘট, দুর্ভোগে যাত্রীরা
পরিবহন ধর্মঘট নিষিদ্ধ করে আইন হচ্ছে
ট্রাকের চাকা ঘুরছে না, উদ্বেগে কৃষক-ব্যবসায়ী
ট্রাকের চাকা ঘুরবে না ৩ দিন

শেয়ার করুন

শর্ত ভেঙে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠান প্রচারে ব্যবস্থা

শর্ত ভেঙে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠান প্রচারে ব্যবস্থা

প্রতীকী ছবি

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে অ্যাটকোর নেতৃবৃন্দের সাথে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। অনেকগুলো বিষয় আমরা আলোচনা করেছি। অ্যাটকোর পক্ষ থেকে কয়েকটি বিষয় তোলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে মোবাইল অপারেটররা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করছে।’

লাইসেন্সের শর্ত ভেঙে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠান প্রচার করলে মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাটকোর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

বৈঠকে আইপি টিভির নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা আছে কি না, তা তথ্যমন্ত্রীকে ভেবে দেখার অনুরোধ জানিয়েছে অ্যাটকো।

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে অ্যাটকোর নেতৃবৃন্দের সাথে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। অনেকগুলো বিষয় আমরা আলোচনা করেছি। অ্যাটকোর পক্ষ থেকে কয়েকটি বিষয় তোলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে মোবাইল অপারেটররা, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করছে।

‘অ্যাটকোর বক্তব্য হচ্ছে এর জন্য তারা কোনো লাইসেন্সপ্রাপ্ত নন। সেখান থেকে উপার্জন করছে, কনটেন্ট বানাচ্ছে এবং সেগুলো অনলাইনে প্রচার করছে, যেটি তাদের লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ। আমরা বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করব। টেলিকম মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি এবং একই সাথে মোবাইল অপারেটরদের আমরা নোটিফাই করব যে, তারা কেন এটি করছে। তারা যদি নিয়ম-বহির্ভূতভাবে এটা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘আরেকটি বিষয় আলোচনা এসেছে, সেটি হচ্ছে আইপি টিভি। আপনারা জানেন আমরা আইপি টিভির রেজিস্ট্রেশন দেয়া শুরু করেছি। আইপি টিভি পৃথিবীর বাস্তবতা, তবে ব্যাঙের ছাতার মতো আইপি টিভি সমীচীন নয়। অ্যাটকোর পক্ষ থেকে যেটা বলা হয়েছে যে, আইপি টিভির রেজিস্ট্রেশন দেয়ার প্রয়োজন আছে কি না, সে প্রশ্ন তারা তুলেছেন।

‘আমরা ইতিমধ্যে ১৪টি আইপি টিভি রেজিস্ট্রেশনের অনুমতি দিয়েছি। আইপি টিভি কিন্তু কোনোভাবেই সংবাদ প্রচার করতে পারবে না। একই সাথে আইপি টিভি কোনোভাবেই কেবলের মাধ্যমে সম্প্রচার করতে পারবে না। সেটা শুধু ইন্টারনেটের মাধ্যমেই প্রচার করতে পারবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অত্যন্ত যত্ন সহকারে আমরা আইপি টিভির বিষয়ে অগ্রসর হতে চাই। যথেচ্ছভাবে রেজিস্ট্রেশন আমরা মনে করি সমীচীন হবে না।’

এর আগে অ্যাটকোর জ্যেষ্ঠ নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদের আমন্ত্রণে আমরা একটি নির্ধারিত বৈঠকে বসেছিলাম। আমাদের দুটি সমস্যা আছে। যেমন: টিআরপির বিষয়ে আমরা আগেও আলাপ করেছি। সেটিও তারা (মন্ত্রণালয়) সমাধান করার পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন।

‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বিষয়ে টিআরপি নির্ধারণের সম্ভাবনা তারা বিবেচনা করছেন। আমরা আশা করছি এ সমস্যাটিও সমাধান হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আজকে বলেছি, আমাদের আইপি টিভির নামে নতুন করে কিছু নিবন্ধন দেয়া হচ্ছে, সেখানে আমাদের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর পক্ষ থেকে উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। আমরা বলেছি, আইপি টিভি কোনো টেলিভিশন নেটওয়ার্কের সিদ্ধান্তের মধ্যে আসে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরে এখন প্রায় ৩ ডজনের মতো টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচার করছে, তথ্য প্রচার করছে ও অনুষ্ঠান প্রচার করছে, সেখানে আইপি টিভি অনুমোদনের কোনো প্রয়োজন আছে কি না সেটা আমরা মন্ত্রীকে উদ্বেগের কথা বলেছি।

‘সেখানে বলেছি, আইপি টিভি যেন এগজিস্টিং টিভিগুলোর বিকল্প সেটা ব্যবসা বলুন বা অনুষ্ঠান সম্প্রচার বলুন, তার যেন বিকল্প না হতে পারে। এর জন্য আমরা তাকে অনুরোধ জানিয়েছি। আমরা বলেছি এটি দেয়ার আগে একটি নীতিমালা হওয়া দরকার। সেটি যেন করা হয়।’

ইকবাল সোবহান বলেন, ‘আমরা আরেকটি দাবি জানিয়েছি। বর্তমানে মোবাইল ফোন অপারেটররা ওটিটির মাধ্যমে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করছেন। এমনকি সংবাদও সেখানে প্রচার করছেন। আমরা বলেছি তাদের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে মোবাইল সেবা দেয়ার জন্য। তাদের কিন্তু ওটিটির মাধ্যমে কোনো অনুষ্ঠানের অনুমোদন কিন্তু দেয়া হয়নি।

‘তাই আমরা মনে করি, এটি অবৈধভাবে যারা ওটিটির মাধ্যমে যেটা করছেন, এটাকে বন্ধ করার জন্য দাবি জানিয়েছি। মন্ত্রী আমাদের কথা অত্যন্ত সহানুভূতির সাথে শুনেছেন এবং তিনি এ বিষয়ে নির্দেশনা দেবেন বলেই আমরা আশা করছি।’

আরও পড়ুন:
সিলেটে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক
ঘোষণা ছাড়াই পরিবহন ধর্মঘট, দুর্ভোগে যাত্রীরা
পরিবহন ধর্মঘট নিষিদ্ধ করে আইন হচ্ছে
ট্রাকের চাকা ঘুরছে না, উদ্বেগে কৃষক-ব্যবসায়ী
ট্রাকের চাকা ঘুরবে না ৩ দিন

শেয়ার করুন