এসএমইর উন্নয়নে এডিবি দেবে আরও ১২৭৫ কোটি টাকা

এসএমইর উন্নয়নে এডিবি দেবে আরও ১২৭৫ কোটি টাকা

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উদ্যোক্তাদের নিয়ে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে নবম জাতীয় এসএমই মেলা। ফাইল ছবি

চলমান ‘স্মল স্কেল এমপ্লয়মেন্ট প্রোগামের’ আওতায় কম সুদে ও সহজ শর্তে আরও ১৫ কোটি ডলার ঋণ দেয়া হবে। আগামী মাসের শেষ দিকে এডিবির বোর্ড সভায় এ সংক্রান্ত ঋণ প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হবে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইআরডির এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই খাত) উন্নয়নে আরও ১৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে ম্যানিলাভিত্তিক বহুজাতিক ঋণদানকারী সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় এক হাজার ২৭৫ কোটি টাকা।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তারা এ বিষয়ে এডিবির সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত করেছে। আগামী মাসের শেষের দিকে এডিবির বোর্ড সভায় এ সংক্রান্ত ঋণ প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হবে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইআরডির এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

চলমান ‘স্মল স্কেল এমপ্লয়মেন্ট প্রোগামের’ আওতায় কম সুদে ও সহজ শর্তে এই ঋণ দেয়া হবে।

এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে এসএমই খাতের উন্নয়নে ২৫ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় এডিবি। এরিমধ্যে বাংলাদেশ সরকার ও এডিবির মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি সই হয়েছে। এখন নতুন করে আরও ১৫ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এসএমইর উন্নয়নে এডিবি দেবে আরও ১২৭৫ কোটি টাকা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক। ফাইল ছবি

ইআরডির এক কর্মকর্তা বলেন, নতুন ঋণ প্রস্তাব এডিবির বোর্ড সভায় পাসের পর দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি সই হবে। এর পর অর্থ ছাড় হবে।

ঢাকা চেম্বারের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২৫ শতাংশ আসে ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত থেকে। এই খাত সারা বিশ্বে উন্নয়নের চালিকা শক্তি। বাংলাদেশেও এসএমই খাতে অসংখ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। মোট কর্মসংস্থানের ৩৬ শতাংশ এই খাতের অবদান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, করোনায় এ খাতের উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ২০২১ সালে এসএমই খাতের বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৮৬ শতাংশ কমে গেছে।

ইআরডির কর্মকর্তারা বলেন, এসএমই খাতে বড় একটি অংশ নারী উদ্যোক্তা। করোনায় এদের অনেকেরই প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। বহু কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। কমে গেছে আয়ও।

আলোচ্য প্রোগ্রামের আওতায়, ক্ষতিগ্রস্ত ওই সব নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা হবে। এ ছাড়া ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে বিদেশ ফেরত কর্মী ও প্রশিক্ষিত যুবকের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

ইআরডি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, ঋণের টাকা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। সর্বনিম্ম ১০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়া হবে।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার এ পর্যন্ত ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। এতে মোট অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা।

এর মধ্যে এসএমই খাতের উন্নয়নে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়। তবে এ তহবিল থেকে ঋণ পেতে নানা ধরনের জটিলতা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। ঋণ বিতরণে ধীর গতির কারণে অনেক উদ্যোক্তারা ব্যবসা শুরু করতে পারছে না।

উদ্যোক্তারা বলেছেন, সময়মতো ঋণ না পাওয়া তাদের জন্য বড় বাধা।

আরও পড়ুন:
এডিবির নতুন আবাসিক প্রতিনিধি এডিমন গিন্টিং
দুই প্রকল্পে এডিবির ঋণ সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা
করোনার ক্ষতি কাটাতে ২ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে এডিবি
প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮ শতাংশ: এডিবি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জ্বালানির দাম কমানোর সিদ্ধান্ত ‘বিশ্ববাজার স্থিতিশীল হলে’

জ্বালানির দাম কমানোর সিদ্ধান্ত ‘বিশ্ববাজার স্থিতিশীল হলে’

‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করছে। কখনও বাড়ছে, আবার কখনও কমছে। দাম স্থিতিশীল হলে কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে দিলেও দেশের বাজারে দাম কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরও অপেক্ষা করতে চান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, দাম স্থিতিশীল হলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।

সরকারি ক্রয় কমিটির বৈঠক শেষে বুধবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করছে। কখনও বাড়ছে, আবার কখনও কমছে। দাম স্থিতিশীল হলে কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

দাম কমানোর বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন থেকে এখনও কোনো প্রস্তাব আসেনি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যদি প্রস্তাব আসে, তা হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসায় অর্থনীতি স্বাভাবিক গতিতে ফেরার মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম ক্রমেই বাড়তে থাকে। বাংলাদেশেও গত ৪ নভেম্বর থেকে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম এক লাফে লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে করা হয় ৮০ টাকা।

এই সিদ্ধান্তের প্রভাবে পরিবহন ভাড়া বেড়ে গেলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে সরকার আবার সমন্বয় করবে।

দেশে তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসার দুই সপ্তাহের মধ্যেই জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমতে থাকে করোনার নতুন ধরন শনাক্তের খবরে।

গত ২৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অশোধিত তেলের দাম ৮৫ ডলার থেকে গত রাতে সেটি নেমে এসেছে ৬৭ ডলার ৮৮ সেন্টে। এই দাম ২০২০ সালের এপ্রিলের পর সবচেয়ে কম।

অবশ্য এখন তেলের যে দাম, সে তেল দেশে আসতে দুই মাসেরও বেশি সময় লেগে যাবে। ফলে এর সুফল পেতে আরও অপেক্ষা করতে হবে।

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম কিছুদিন পর পর বাড়ানো হলেও কমানোর প্রবণতা খুবই কম। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর একবার লিটারে ৩ টাকা কমানোর পর পরিবহন ভাড়া কমেনি। এরপর সরকার আর দাম কমায়নি।

‘ওমিক্রন বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর হবে না’

করোনার নতুন ধরনের প্রভাব দেশে খুব একটা পড়বে না বলেও আশা করছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ওমিক্রন অতটা কঠোর নয়। বাংলাদেশে এখনও সংক্রমণ হয়নি। যদি সংক্রমণ ঘটে, দেশের মানুষ ও অর্থনীতির ওপর কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে, তা মোকাবিলায় সরকার সর্বদা প্রস্তুত।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এটা দেশের জন্য তেমন ক্ষতি বয়ে আনবে না।’

‘অর্থপাচারে কারা জানি না’

জাতীয় সংসদে এ ধরনের মন্তব্য দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়া অর্থমন্ত্রী আবার বললেন একই কথা। তিনি বলেন, ‘আমি সংসদে বলেছি, আগেও বলেছি কারা টাকা পাচার করছে আমার জানা নেই। টাকা পাচারের কোনো ম্যাকানিজম আমার কাছে নেই।’

টাকা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আমরা আইগত ব্যবস্থা নিয়েছি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কিন্তু বিষয়টি গণমাধ্যমে জানানো হয়নি।’

কয়েক বছর ধরে টাকা পাচারের অপরাধে কাদের বিরুদ্ধে, কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে মিডিয়ার সামনে তুলে ধরা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

বলেন, ‘টাকা পাচার বন্ধ করতে হলে আইন মন্ত্রণালয়সহ সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে।’

আরও পড়ুন:
এডিবির নতুন আবাসিক প্রতিনিধি এডিমন গিন্টিং
দুই প্রকল্পে এডিবির ঋণ সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা
করোনার ক্ষতি কাটাতে ২ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে এডিবি
প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮ শতাংশ: এডিবি

শেয়ার করুন

দেশজুড়ে ২০০ গ্রামীণফোন সেন্টার

দেশজুড়ে ২০০ গ্রামীণফোন সেন্টার

উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে জিপিসি চালুর মধ্য দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের কানেক্টিভিটি পার্টনার ২০০তম জিপিসি স্থাপন করল প্রতিষ্ঠানটি।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতেও গ্রামীণফোন সেন্টার (জিপিসি) খুলেছে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন। এ নিয়ে দেশজুড়ে ২০০টি জিপি সেন্টারের মাইলফলকে পৌঁছাল।

গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে সারা দেশে এই জিপিসি সেন্টারগুলো খুলেছে গ্রামীণফোন। বুধবার দেশের উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে জিপিসি চালুর মধ্য দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের কানেক্টিভিটি পার্টনার ২০০তম জিপিসি স্থাপন করল প্রতিষ্ঠানটি।

এ উপলক্ষে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিটিআরসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ এই জিপিসি উদ্বোধন করেন বলে প্রতিষ্ঠানটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

গ্রামীণফোনের হেড অফ কমিউনিকেশনস খায়রুল বাশারের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার সাজ্জাদ হাসিব, চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) হোসেন সাদাত ও হেড অফ কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স অ্যান্ড সার্ভিস আওলাদ হোসেন।

অনুষ্ঠানে গ্রাহক ও জিপিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে গ্রামীণফোনের হেড অফ কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স অ্যান্ড সার্ভিস আওলাদ হোসেন কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকা নাগেশ্বরী থেকে যুক্ত হন এবং জিপিসির কার্যক্রম তুলে ধরেন।

গ্রাহকদের উন্নত সেবা প্রদানের অনুপ্রেরণা থেকে এখন দেশজুড়ে গ্রামীণফোনের প্রয়োজনীয় কাস্টমার সল্যুশন সেন্টার রয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে সর্বোচ্চ সম্পৃক্ততা এবং প্রতিশ্রুতি পূরণের আন্তরিক প্রচেষ্টা নিশ্চিত করছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০০ জিপিসির পাশাপাশি গ্রামীণফোনের বিদ্যমান অন্যান্য ডিজিটাল সেবা চ্যানেল-১২১ হটলাইন ও মাইজিপি অ্যাপ্লিকেশনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। জেলা সদরের বাইরে জিপিসির বিস্তৃতি ঘটেছে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখন গ্রামীণফোন সেন্টার রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০০টি জিপিসির মধ্যে ঢাকায় ২৪টি, সিলেটে ২৪টি, রাজশাহীতে ২১টি, বরিশালে ১৯টি, বগুড়ায় ১৮টি, খুলনায় ১৭টি, ময়মনসিংহে ১৭টি, কুমিল্লায় ১৬টি, চট্টগ্রামে ১২টি এবং রংপুরে ৭টি জিপিসি রয়েছে। এ ছাড়া গ্রাহকরা সারা দেশের ৪ লাখ ২০ হাজার রিটেইল পয়েন্ট থেকেও সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিটিআরসির মহাপরিচালক নাসিম পারভেজ বলেন, ‘সত্যিকার অর্থেই গ্রামীণফোনের জন্য আজকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন, কারণ জনগণের কাছাকাছি আসার এক বিশাল মাইলফলক প্রতিষ্ঠানটি অর্জন করেছে। জনগণের সঙ্গে কানেক্টেড হওয়ার জন্য গ্রামীণফোনের হটলাইন, মাইজিপির মতো সেবা থাকলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য গ্রামীণফোন সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা সব সময়ই থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি। সাধারণ মানুষ যারা এখনও পুরোপুরি ডিজিটাল সেবায় অন্ত অন্তর্ভুক্ত হয়নি, জিপি সেন্টার তাদের জন্য সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার সাজ্জাদ হাসিব বলেন, ‘২০০তম জিপিসির এই দুর্দান্ত মাইলফলক অর্জন নিয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এই স্টোরগুলো গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানে আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রতিফলন। দুই দশক ধরে গ্রাহকরা আমাদের কাছ থেকে তাদের পছন্দসই পণ্য, সেবা এবং সুবিধা পেতে সানন্দে আমাদের সেন্টারগুলোয় আসছেন। গ্রামীণফোন সেন্টারে আমরা প্রত্যেক গ্রাহকের চাহিদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি এবং তাদের ডিজিটাল জীবনধারার মানোন্নয়নে যথোপযোগী সমাধান প্রদান করি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশজুড়ে সবচেয়ে বিস্তৃত উচ্চ গতিসম্পন্ন ফোরজি কাভারেজ রয়েছে এবং গ্রাহকদের সেবা প্রদানে এই সেন্টারগুলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও রয়েছে। গ্রাহকরা এসব সেন্টার থেকে তাদের ডিজিটালের সব প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে পারবেন।’

হেড অফ গ্রামীণফোন কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স অ্যান্ড সার্ভিস মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা ২০০ গ্রামীণফোন সেন্টারের এক বিশাল মাইলফলক অর্জন করেছি, যা একই সঙ্গে অত্যন্ত আনন্দের এবং গর্বের বিষয়। সামনের দিনগুলোয় আরও স্টোর চালুর মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের কাছাকাছি পৌঁছানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।’

গ্রামীণফোনের অ্যাক্টিং সিসিএও হোসেন সাদাত বলেন, ‘সর্বোচ্চ গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে গ্রামীণফোন এ ধরনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করবে। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই বেশিসংখ্যক গ্রাহকের ডিজিটাল সেবায় অন্তর্ভুক্ত করার কাজ আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।’

আরও পড়ুন:
এডিবির নতুন আবাসিক প্রতিনিধি এডিমন গিন্টিং
দুই প্রকল্পে এডিবির ঋণ সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা
করোনার ক্ষতি কাটাতে ২ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে এডিবি
প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮ শতাংশ: এডিবি

শেয়ার করুন

দেশের বাজারে ইতালিয়ান ইঞ্জিন অয়েল পাকেলো

দেশের বাজারে ইতালিয়ান ইঞ্জিন অয়েল পাকেলো

বাংলাদেশের বাজারে মঙ্গলবার রাতে ইতালিয়ান ইঞ্জিন অয়েল পাকেলোর যাত্রা শুরুর অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: সংগৃহীত

এখন থেকে মানসি গ্রুপের সহযোগিতায় দেশের যে কোনো জায়গায় পাকেলো অয়েল পাবেন গ্রাহকরা।

বাংলাদেশের বাজারে যাত্রা শুরু করেছে ইতালিয়ান ইঞ্জিন অয়েল পাকেলো।

রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে মঙ্গলবার রাতে এক অনুষ্ঠানে এ যাত্রা শুরু হয়।

এখন থেকে মানসি গ্রুপের সহযোগিতায় দেশের যে কোনো জায়গায় পাকেলো অয়েল পাবেন গ্রাহকরা।

প্রতিষ্ঠানটির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- গাড়ি, মোটরসাইকেল, ভারী যানবাহন, আর্থ মুভিং মেশিনারি, কৃষি, মেরিন, শিল্প-কারখানা এবং খাদ্যশিল্পের জন্য উচ্চ কার্যক্ষমতা সম্পন্ন লুব্রিকেন্ট, কুল্যান্ট, গ্রিজ, গিয়ার অয়েল, অ্যাডিটিভস সরাসরি ইতালি থেকে আমদানি করে মানসি।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৩০ সাল থেকে যাত্রা শুরু করা পাকেলো আপসহীনভাবে গুণগত মান বজায় রেখেছে। গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে প্রতিষ্ঠানটি রেখেছে বিশেষ প্রযুক্তিগত পরামর্শের ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ প্রকৌশল বিভাগ, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং অংশীদারদের জন্য প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের সুযোগ।

পাকেলো সব সময় শতভাগ ভার্জিন বেজ অয়েল ব্যবহার করে থাকে। কোনো ধরনের পুনর্ব্যবহৃত বেজ অয়েল ব্যবহার করে না প্রতিষ্ঠানটি। তা ছাড়া কোম্পানিটি পরিবেশের কথা চিন্তা করে পরিবেশবান্ধব তেল নিয়ে এসেছে।

বাজারে যেসব ইঞ্জিন আসছে, সেগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্রমাগতই নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে আসছে পাকেলো।

এ বিষয়ে মানসি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আহমেদ বলেন, ‘গাড়ি, মোটরসাইকেল, ভারী যানবহন, আর্থ মুভিং মেশিনারি, কৃষি, মেরিন, শিল্প এবং খাদ্যশিল্পের জন্য উচ্চ কার্যকার লুব্রিকেন্ট, কুল্যান্ট এবং গ্রিজ উত্পাদন করে থাকে পাকেলো। এ ছাড়া পাকেলো ফর্মুলা ১, ফর্মুলা ২, ফর্মুলা ৩, জিটি সিরিজ, ফর্মুলা ই, ডিটিএম, মোটো জিপি, এন্ডুরোজিপি, ইউরোপীয় লেম্যানস ২৪, রিসি কম্পিটিজিওনি ইত্যাদি রেসিং প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন সময়ে অংশগ্রহণকারী রেসিং টিমগুলোকে সহযোগিতা করছে।

‘ওইএম এবং পেশাদারদের সরাসরি পরামর্শ দেয়ার জন্য পাকেলোর কাছে উন্নত প্রযুক্তির ল্যাব আছে। পাকেলোর পণ্যের অভিজাত পরিসর ইঞ্জিনকে সব ধরনের চ্যালেঞ্জিং অবস্থায় সুরক্ষা দিয়ে থাকে। বাংলাদেশে আমরাই প্রথম পাকেলোর পণ্য নিয়ে এসেছি। আশা করি দেশের মানুষ তাদের পছন্দের গাড়ির জন্য পাকেলোর পণ্য সবার শীর্ষে রাখবে।’

আরও পড়ুন:
এডিবির নতুন আবাসিক প্রতিনিধি এডিমন গিন্টিং
দুই প্রকল্পে এডিবির ঋণ সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা
করোনার ক্ষতি কাটাতে ২ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে এডিবি
প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮ শতাংশ: এডিবি

শেয়ার করুন

চার মাসে ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার এলসি

চার মাসে ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার এলসি

আমদানি ও রপ্তানি কাজে ব্যস্ত চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: নিউজবাংলা

ইউরোপ-আমেরিকা করোনার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে শুরু করায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-শিল্পোদ্যোক্তারা নতুন উদ্যমে উৎপাদন কর্মকাণ্ডে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। সে কারণে শিল্পের কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য, মূলধনি যন্ত্রপাতিসহ (ক্যাপিটাল মেশিনারি) সব ধরনের পণ্য আমদানিই বেড়ে গিয়েছে, বেড়েছে এলসি খোলার পরিমাণ।

পণ্য আমদানির ঋণপত্র বা এলসি খোলার পরিমাণ বাড়ছেই। প্রতি মাসে রেকর্ড হচ্ছে। সর্বশেষ অক্টোবর মাসে প্রায় সাড়ে ৭ বিলিয়ন (৭৪২ কোটি ১৬ লাখ) ডলারের এলসি খুলেছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা।

বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা) টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ৬৩ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই এক মাসে পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুলতে এত বিপুল অঙ্কের বিদেশি মুদ্রা খরচ দেখা যায়নি।

সব মিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ২৭ দশমিক ৩২ বিলিয়ন (২ হাজার ৭৩২ কোটি) ডলারের এলসি খুলেছেন ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ২ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে ১৭ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই চার মাসে দেশে এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে ৫২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এই চার মাসে প্রতি মাসে গড়ে ৬ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছে দেশে।

আর এলসি খোলার এই হিড়িকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভেও টান পড়েছে, নেমে এসেছে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসতে শুরু করায় সেসব দেশের মানুষ আগের মতো পণ্য কেনা শুরু করেছিল। দেশের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে এসেছিল। সব মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সব ধরনের পণ্যের চাহিদা ব্যাপক বেড়ে গিয়েছিল।

সে চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখেই বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-শিল্পোদ্যোক্তারা নতুন উদ্যমে উৎপাদন কর্মকাণ্ডে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। সে কারণেই শিল্পের কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য, মূলধনি যন্ত্রপাতিসহ (ক্যাপিটাল মেশিনারি) সব ধরনের পণ্য আমদানিই বেড়ে গিয়েছিল, বেড়েছিল এলসি খোলার পরিমাণ।

এ ছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্যসহ অন্য সব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এলসি খুলতে বেশি অর্থ খরচ হয়েছে বলে জানান তারা।

তবে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের ধাক্কায় ফের বেসামাল বিশ্ব অর্থনীতি; আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাংলাদেশেও। জ্বালানি তেলের দাম বেশ কমে গেছে। এ অবস্থায় আগামী দিনগুলোতে বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুলবেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও গত ২০২০-২১ অর্থবছরে পণ্য আমদানির জন্য ৬ হাজার ৭০৪ কোটি (৬৭.০৪ বিলিয়ন) ডলারের ঋণপত্র (এলসি) খুলেছিলেন ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। ওই অঙ্ক ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার এলসি খোলার সর্বশেষ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে জুলাই-অক্টোবর সময়ে এলসি খুলতে সবচেয়ে বেশি বিদেশি মুদ্রা খরচ হয়েছে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে; সেটা ৯৭০ কোটি ২৭ লাখ (৯.৭০ বিলিয়ন) ডলার, গত বছরের একই সময়ের চেয়ে যা ৪৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি।

মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ১৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে, বেড়েছে ২১ দশমিক ২১ শতাংশ। শিল্পের মধ্যবর্তী পণ্যের জন্য এলসি খোলা হয়েছে ২৩৮ কোটি ২০ লাখ ডলার; প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬০ দশমিক ২৮ শতাংশ। অন্যান্য শিল্প যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি খোলা হয়েছে ৭৬৭ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের; বেড়েছে ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ। এ ছাড়া জ্বালানি তেল আমদানির জন্য ২৩৫ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ; ৯০ দশমিক ৪০ শতাংশ। খাদ্যপণ্য (চাল ও গম) আমদানির এলসি খোলা হয়েছে ২৮৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার। বেড়েছে ৬০ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

চার মাসের পণ্য আমদানির এলসি খোলার এই তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেশ ভালোই চলছিল; করোনার ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশের অর্থনীতি। আমদানি-রপ্তানি বাড়ছিল। রাজস্ব আদায়ে গতি এসেছিল। রেমিট্যান্স ছাড়া অর্থনীতির প্রায় সূচকই ইতিবাচক ধারায় চলে এসেছিল। পণ্য আমদানি যেটা বাড়ছিল, তার প্রভাব বিনিয়োগে পড়তে শুরু করেছিল। অর্থনীতি প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করেছিল।

‘কিন্তু এখন অবস্থা বেশ খারাপ মনে হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে আরেকটি বড় ধাক্কা আসছে মনে হচ্ছে। আর সেটা নিয়ে আসছে ওমিক্রন। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়বে। ওমিক্রনের ধাক্কা কতটা মারাত্মক হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।’

বিশ্ব পরিস্থিতি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে আমদানি-রপ্তানিসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেশের ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দেন আহসান মনসুর।

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘আমরা খুবই চিন্তিত। প্রতিটি মুহূর্ত উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে কাটছে আমাদের।’

তিনি বলেন, ‘মাত্রই আমরা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করছিলাম। রপ্তানি বেশ ভালোই বাড়ছিল; প্রচুর অর্ডার আসছিল। কিন্তু ওমিক্রনের ধাক্কা আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে, কে জানে!’
২০১৯-২০ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য মোট ৫৬ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল, যা ছিল আগের (২০১৮-১৯) অর্থবছরের চেয়ে ১০ দশমিক ২১ শতাংশ কম।

রিজার্ভে টান
আমদানি বাড়ায় বাংলাদেশের বিদেশি রিজার্ভও কমছে, নেমে এসেছে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে। রোববার দিন শেষে রিজার্ভ ছিল ৪৪ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার। প্রতি মাসে ৭ বিলিয়ন ডলার হিসেবে বর্তমানের এই রিজার্ভ দিয়ে ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুত থাকতে হয়।

গত ৪ নভেম্বর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৪ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে, যা ছিল গত সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। এরপর আর তা ৪৫ বিলিয়ন ডলারের নিচেই অবস্থান করছে।

বেশ কয়েক বছর ধরে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে। একের পর এক রেকর্ড হয়। করোনাকালে আমদানিতে ধীরগতি আর রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে গত ২৪ আগস্ট বাংলাদেশের অর্থনীতির এই সূচক ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে, যা ছিল অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

আরও পড়ুন:
এডিবির নতুন আবাসিক প্রতিনিধি এডিমন গিন্টিং
দুই প্রকল্পে এডিবির ঋণ সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা
করোনার ক্ষতি কাটাতে ২ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে এডিবি
প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮ শতাংশ: এডিবি

শেয়ার করুন

বিএফআইইউর প্রধান হলেন মাসুদ বিশ্বাস

বিএফআইইউর প্রধান হলেন মাসুদ বিশ্বাস

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ মঙ্গলবার তাকে এই পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। মঙ্গলবারই তিনি নির্বাহী পরিচালক পদ থেকে অবসর নিয়ে বিএফআইইউর প্রধান হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

আর্থিক খাতের গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মাসুদ বিশ্বাস। তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বিএফআইইউ উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগমঙ্গলবার তাকে এই পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। মঙ্গলবারই তিনি নির্বাহী পরিচালক পদ থেকে আগাম অবসর নিয়ে বিএফআইইউর প্রধান হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মাসুদ বিশ্বাসের মেয়াদ হবে দুই বছর। তার পদমর্যাদা হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের সমমান।

বিএফআইইউর কার্যালয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হলেও এটি একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান। যদিও শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা এটি পরিচালনা করে আসছেন। অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে সমন্বয়কের ভূমিকা রাখে বিএফআইইউ। বিএফআইইউ বিভিন্ন সময়ে ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট বা গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করে বিভিন্ন সংস্থার কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাঠায়। আবার বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেও কাজ করে।

বিএফআইইউর সদ্য বিদায়ী প্রধান ছিলেন আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান। তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হওয়ার পর বিএফআইইউর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান।

গত ১০ সেপ্টেম্বর আবু হেনার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব পান করছিলেন মাসুদ বিশ্বাস। ১৯৮৮ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে ২০১৭ সালের আগস্টে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পান।

দীর্ঘ ৩৩ বছরের কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম ও বগুড়া অফিস ছাড়াও প্রধান কার্যালয়ের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগ, ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস, ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিকেশন, বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন, এফএসএসএসপি প্রকল্প, গভর্নর সচিবালয় ও পরিচালনা পর্ষদের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন:
এডিবির নতুন আবাসিক প্রতিনিধি এডিমন গিন্টিং
দুই প্রকল্পে এডিবির ঋণ সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা
করোনার ক্ষতি কাটাতে ২ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে এডিবি
প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮ শতাংশ: এডিবি

শেয়ার করুন

ওমিক্রন আরও কমাল জ্বালানি তেলের দাম

ওমিক্রন আরও কমাল জ্বালানি তেলের দাম

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও কমে যেতে পারে। ছবি: এএফপি

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্ত হওয়ার পরই হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের বড় দরপতন হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রভাবে তেলের দাম আরও কমে যেতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ওমিক্রনের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে সংকট দেখা দিতে পারে। কমে যেতে পারে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার। তার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদাও কমে যেতে পারে। আর এ কারণেই তেলের দাম কমছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও কমেছে। করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর গত ২৭ নভেম্বর তেলের দরে বড় দরপতন হয়। ওই দিন এক দিনের ব্যবধানে দাম ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলার ২২ সেন্ট কমে ৬৮ ডলারে নেমে এসেছিল। শতাংশের হিসাবে দরপতন হয়েছে ১৩-এর বেশি।

গত দুই দিনে তা কিছুটা বেড়ে ফের ৭০ ডলারের ওপরে উঠে গিয়েছিল। মঙ্গলবার প্রতি ব্যারেলে ২ ডলার ০৭ সেন্ট বা ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ কমে ৬৭ ডলার ৮৮ সেন্টে নেমে এসেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের এই দর ২০২০ সালের এপ্রিলের পর সবচেয়ে কম। কোভিড-১৯ নতুন ধরনের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমে যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ঢাকার সময় রাত সাড়ে ৭টায় প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেল ৬৭ ডলার ০৭ সেন্টে বিক্রি হয়েছে। এই দর আগের দিনের চেয়ে ২ ডলার ০৭ সেন্ট বা ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ কম।

ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ ডলার ৩৭ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ৭১ ডলার ০৭ সেন্টে বিক্রি হয়েছে।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্ত হওয়ার পরই হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের এই বড় দরপতন হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, কোভিড-১৯-এর এই নতুন ধরনের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমে যেতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে সংকট দেখা দিতে পারে। কমে যেতে পারে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার। তার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদাও কমে যেতে পারে। আর এই কারণেই তেলের দাম কমছে।

গত ২৩ নভেম্বর জ্বালানি তেলের দাম কমাতে নিজ দেশের পেট্রোলিয়াম ভাণ্ডার থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এর পরই বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় দরপতন হয়।

২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। করোনা মহামারির মধ্যেও টানা বেড়েছে তেলের দাম। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় তা আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়।

গত ২৭ অক্টোবর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে ৮৫ দশমিক ০৭ ডলারে ওঠে। এর পর থেকেই তা কমতে থাকে। ৮ নভেম্বর এর দর ছিল ৮২ দশমিক ৫ ডলার। এক মাস আগে ১৬ অক্টোবর দাম ছিল ৮০ ডলার। আর এক বছর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ৪২ ডলার।

আন্তর্জাতিক বাজারে এ বছরের জানুয়ারি মাসে জ্বালানি তেলের দাম ছিল গড়ে প্রতি ব্যারেল ৪৯ ডলার। এর পর থেকে গড়ে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ফেব্রুয়ারিতে ৫৩ ডলার, মার্চে ৬০, এপ্রিলে ৬৫, মে মাসে ৬৪, জুনে ৬৬, জুলাইয়ে ৭৩ এবং আগস্টে ৭৪ ডলার। অক্টোবরে এই দাম ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছিল, শিগগিরই তা ১০০ ডলার হয়ে যেতে পারে।

তবে চলতি নভেম্বর থেকে দাম নিম্নমুখী হয়। তার পরও দামটা নিয়ন্ত্রণে আসছিল না। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে আনতে নিজ দেশের পেট্রোলিয়াম ভাণ্ডার থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

গত ২৩ নভেম্বর টুইট বার্তায় বাইডেন ঘোষণা দেন, ‘আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য তেল ও গ্যাসের দাম কমাতে পদক্ষেপের কথা আজ ঘোষণা করছি। আমেরিকাবাসীর জন্য স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ব আমরা, যাতে তেল ও গ্যাসের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসে।’

দেশে তেল ও গ্যাসের মতো জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি রুখতে এই পদক্ষেপ নেন জো বাইডেন। এর জেরে সে দেশে জ্বালানির দাম কমবে বলে মনে করা হচ্ছিল। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছিলেন অনেকে।

তবে বাইডেনের এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম খুব একটা কমেনি।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর অজুহাতে গত ৪ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকারও ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে এক লাফে ১৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ৮০ টাকা নির্ধারণ করে।

আরও পড়ুন:
এডিবির নতুন আবাসিক প্রতিনিধি এডিমন গিন্টিং
দুই প্রকল্পে এডিবির ঋণ সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা
করোনার ক্ষতি কাটাতে ২ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে এডিবি
প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮ শতাংশ: এডিবি

শেয়ার করুন

আয়কর রিটার্ন জমার সময় বাড়ল এক মাস

আয়কর রিটার্ন জমার সময় বাড়ল এক মাস

এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে এনবিআর বলেছে, ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট অসুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার ২০২১-২২ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ৩০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো।’

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআরের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক সৈয়দ এ মুমেন নিউজবাংলাকে বলেন, সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে আয়কর রিটার্ন জমার সময় এক মাস বাড়ানো হয়েছে। এখন ডিসেম্বরজুড়ে করদাতারা তাদের রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

মঙ্গলবার রাতে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে এনবিআর বলেছে, ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট অসুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার ২০২১-২২ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ৩০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো।’

এর আগে চট্টগ্রাম চেম্বারসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজন বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সময় বাড়ানোর দাবি জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়ানো হয়েছে বলে জানান এনবিআরের কর্মকর্তারা।

রিটার্ন জমার সময় বারবার বাড়ানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে ২০১৬ সালে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে ৩০ নভেম্বর আয়কর দিবসে রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন নির্দিষ্ট করা হয়। এ নিয়ে সে বছরই সংসদে আইন পাস হয়।

এনবিআর বলেছে, দেশে কোনো মহামারি কিংবা দুর্যোগ পরিস্থিতি হলে বিশেষ ব্যবস্থায় যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা রয়েছে সরকারের। এর অংশ হিসেবে করোনা সংক্রমণের মধ্যে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ১৮৪ জি ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আয়কর রিটার্ন জমার সময় বাড়ানো হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানা দিতে হয়। তবে জরিমানা এড়াতে সময় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে আবেদন করলে তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় দেয়া হয়।

গত করবর্ষে মোট ২৪ লাখ ৩১ হাজার রিটার্ন জমা পড়ে। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে ২৯ লাখ রিটার্ন জমা পড়েছে। বর্তমানে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ৭০ লাখের বেশি।

জমা পড়া রিটার্নের বড় অংশ চাকরিজীবী ও পেশাজীবী। গত বছর করোনায় ব্যবসা-বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব পড়ায় রিটার্নের সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। করোনা নিয়ন্ত্রণে আসায় দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ফলে এবার ব্যবসায়ীদের পক্ষে উল্লেখযোগ্য রিটার্ন দাখিল হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

আরও পড়ুন:
এডিবির নতুন আবাসিক প্রতিনিধি এডিমন গিন্টিং
দুই প্রকল্পে এডিবির ঋণ সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা
করোনার ক্ষতি কাটাতে ২ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে এডিবি
প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮ শতাংশ: এডিবি

শেয়ার করুন