আপিলের আগে কারাগারে ফাঁসির আদেশ কীভাবে গেল

আপিলের আগে কারাগারে ফাঁসির আদেশ কীভাবে গেল

হত্যা মামলায় আপিল নিষ্পত্তির আগেই ফাঁসির দড়িতে ঝোলা গোলাম রসুল ঝড়ু (বাঁয়ে) ও আব্দুল মোকিম। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান জেলার তুহিন কান্তি খান দাবি করেছেন, দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে উচ্চ আদালতের লিখিত আদেশ তাদের কাছে আছে। দুই আসামি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন, সেই নথিও তাদের কাছে। তবে এই দাবির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দুই আসামির মামলা পাওয়া আইনজীবী।

উচ্চ আদালতে আপিল নিষ্পত্তির চার বছর আগে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য মিললেও জেলার বলছেন ভিন্ন কথা। তার দাবি, আইন অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই ২০১৭ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

যখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, তখন জেলার ছিলেন আবু তালেব। বিষয়টি নিয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

তবে বর্তমান জেলার তুহিন কান্তি খান দাবি করেছেন, দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে উচ্চ আদালতের লিখিত আদেশ তাদের কাছে আছে। দুই আসামি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন, সেই নথিও তাদের কাছে।

তবে এই দাবির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উচ্চ আদালতে আট বছর আগে দুই আসামির মামলা পাওয়া আইনজীবী।

যাদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে তারা হলেন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারি ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামের আব্দুল মোকিম ও গোলাম রসুল ঝড়ু।

১৯৯৪ সালের ২৮ জুন কুমারি ইউনিয়নের দুর্লভপুর এলাকার সাবেক মেম্বার মনোয়ার হোসেন খুন হন।

ওই ঘটনায় তার চাচাতো ভাই মো. অহিমউদ্দিন বাদী হয়ে ২৬ জনের নামে মামলা করেন। মামলার এজাহারে মোকিম ও ঝড়ুর নাম আসে।

২০০৮ সালের ১৭ এপ্রিল এই মামলার বিচারে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, দুজনকে যাবজ্জীবন ও অপর আসামিদের খালাস দেয় চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-২। মৃত্যুদণ্ড পান একই ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, মোকিম ও ঝড়ু।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর নিয়ম অনুসারে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি হাইকোর্টে আসে। মামলার ডেথ রেফারেন্স নম্বর ছিল ৩৯/২০০৮। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট মোকিম ও ঝড়ুর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে ২০১৩ সালের ৭ জুলাই ও ৮ জুলাই মামলার রায় ঘোষণা করে। বাকি আসামিদের খালাস দেয়া হয়।

হাইকোর্টের রায়ের পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে আরও তিনটি ধাপ বাকি থাকে। প্রথমত আপিল বিভাগে এই রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করা যায়। সেখানেও নাকচ হলে রায় পুনর্বিবেচনা বা রিভিউয়ের সুযোগ থাকে।

আপিলের আগে কারাগারে ফাঁসির আদেশ কীভাবে গেল
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর রাতে ফাঁসি কার্যকর হয় আব্দুল মোকিম ও গোলাম রসুল ঝড়ুর

রিভিউয়েও রায় না পাল্টালে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ থাকে।

সেই বিধান অনুযায়ী এরপর ঝড়ু ও মোকিমের পক্ষ থেকে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়।

আট বছর আগে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যে আবেদন করা হয়েছিল, তার শুনানির তারিখ পরে বুধবার। কিন্তু শুনানির প্রস্তুতি নিতে গিয়ে আইনজীবী হতবাক হয়ে যান। তিনি জানতে পারেন, আরও চার বছর আগেই দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়ে গেছে।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর রাতে আসামি দুজনের ফাঁসি হয় বলে তাদের স্বজনরা আইনজীবী হুমায়ন কবিরকে জানান।

এই আইনজীবী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাইকোর্ট যখন তাদের ফাঁসির আদেশ দেয়, তখনই আমরা ২০১৩ সালে আপিল করে রাখি। দীর্ঘদিন পর বুধবার তালিকায় আসে মামলাটি। এটি আপিল বিভাগের কার্যতালিকার ১১ নম্বরে আছে।

‘মামলাটি যখন তালিকায় আসে, তখন আমরা আসামির পরিবারকে খবর দিই। আসামি মোকিমের স্ত্রী এসে জানান, চার বছর আগেই ফাঁসি কার্যকর করেছে। তার আগে কারাগারে তারা শেষ সাক্ষাৎও করেছেন। ফাঁসি কার্যকরের পর লাশ এনে দাফনও করা হয়।’

ঘটনাটি আপিলের দৃষ্টিতে এনেছিলেন কি না, এমন প্রশ্নে হুমায়ন কবির বলেন, ‘বুধবার মামলাটি তালিকায় থাকলেও শুনানি হয়নি। যেদিন শুনানি হবে সেটি আদালতের দৃষ্টিতে বিষয়টি আনব। ঘটনাটি যদি সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই কারও না কারও ভুলে হয়েছে।’

বিষয়টি বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য আবেদন জানাবেন বলে জানান এই আইনজীবী।

বিষয়টি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনের নজরে আনে নিউজবাংলা। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি এখনও তেমন কিছু জানি না। না জেনে তো এ বিষয়ে বলা ঠিক হবে না।’

ঘটনাটি নিয়ে উচ্চ আদালত থেকে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের তথ্য মিলছে না।

জেলার তুহিন কান্তি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের কাছে যে ডকুমেন্টস আছে সেটা দেখতে পাচ্ছি সব ঠিক আছে। এখন কোথাও সমস্যা আছে কি না ঢাকা থেকে কাগজপত্র এলে বোঝা যাবে।’

আপিল বিভাগে শুনানি হওয়ার আগে কীভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কাগজপত্র থাকবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আপিল নিষ্পত্তির কপি ও রাষ্ট্রপতির নামঞ্জুরের কপি আমাদের কাছে আছে।’

কপিগুলো দেখতে চাইলে অবশ্য তিনি তা দেখাতে রাজি হননি।

জেলারের বক্তব্যের বিষয়ে আইনজীবী হুমায়ন কবির বলেন, ‘আপিলের শুনানি হলে আমরা জানতাম। আমার জানামতে শুনানি হয়নি। যখন শুনানি হবে তখন বিস্তারিত বলব। এ বিষয়ে আপাতত আর কথা বলতে চাচ্ছি না।’

আরও পড়ুন:
আপিল নিষ্পত্তির ৪ বছর আগেই দুজনের ফাঁসি
ধর্ষণ ও হত্যা: ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত ২ আসামির
দুই নারীকে কুপিয়ে হত্যায় ফাঁসি
স্ত্রীকে এসিড নিক্ষেপে ফাঁসি বহাল
ফাঁসির রায়ের ১১ বছর পর নির্দোষ প্রমাণ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘জমির বিরোধের বলি’ ২৫০ হাঁস

‘জমির বিরোধের বলি’ ২৫০ হাঁস

সাভারের এই খামারের ২৫০ হাঁস মরে পড়ে ছিল। ছবি: নিউজবাংলা

খামারমালিক রাশেদ বলেন, ‘জাহাঙ্গীরের সঙ্গে জমি নিয়ে আমার বিরোধ চলছিল। গতকালকেও জাহাঙ্গীর খামারে দুইটা লোক পাঠায় ১০টা হাঁস চেয়েছিল খাওয়ার জন্য। আমি রাজি হইনাই দেখে সে হুমকি দিয়ে চলে যায়। আমি জিডিও করেছিলাম। এ কারণেই সে হাঁসগুলো মেরে ফেলসে।’

ঢাকার সাভারে ২৫০ হাঁস বিষ দিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ তুলেছেন এক খামারি। তিনি জানান, জমির বিরোধের জেরে খামারের ম্যানেজারকে মারধর করে হাঁসগুলোকে বিষ দেয়া হয়েছে।

আশুলিয়ার দরগার পাড় এলাকার রাশেদ ভূঁইয়ার খামারে বৃহস্পতিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, মরে পড়ে আছে হাঁসগুলো।

রাশেদ নিউজবাংলাকে জানান, চাচাতো ভাইয়ের কাছ থেকে লিজ নেয়া জমিতে এক বছর আগে এই খামার গড়ে তোলেন তিনি। ১০০ বেলজিয়াম ও ১৫০ খাকি ক্যাম্বেল হাঁসের বাচ্চা সংগ্রহ করে লালনপালন শুরু করেন। খামারের দেখভালের জন্য ম্যানেজারও রাখেন।

রাশেদ বলেন, ‘আজ দুপুরে ম্যানেজার ফোন করে জানায় যে জাহাঙ্গীর, ফারুক ও বশিরসহ কয়েকজন এসে শেডের চাবি চায়। চাবি না দেয়ায় তাকে মারধর করা হয়। সে পালিয়ে গিয়ে আমাকে ফোন করে। আমি খামারে গিয়ে দেখি একে একে সব হাঁস মারা যাচ্ছে।’

‘জাহাঙ্গীরের সঙ্গে জমি নিয়ে আমার বিরোধ চলছিল। গতকালকেও জাহাঙ্গীর খামারে দুইটা লোক পাঠায় ১০টা হাঁস চেয়েছিল খাওয়ার জন্য। আমি রাজি হইনাই দেখে সে হুমকি দিয়ে চলে যায়। আমি জিডিও করেছিলাম। এ কারণেই সে হাঁসগুলো মেরে ফেলসে।’

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসওয়াদুর রহমান জানান, রাশেদ থানায় জিডি করেছেন যে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। তবে হাঁস মারা যাওয়ার কোনো অভিযোগ এখনও পাওয়া যায়নি।

সাভার উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, খামারমালিক থানায় অভিযোগ করলে পুলিশের মাধ্যমে হাঁসগুলোর ময়নাতদন্ত করা হবে। তারপরই নিশ্চিত করা যাবে, কীভাবে সেগুলো মারা গেল।

আরও পড়ুন:
আপিল নিষ্পত্তির ৪ বছর আগেই দুজনের ফাঁসি
ধর্ষণ ও হত্যা: ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত ২ আসামির
দুই নারীকে কুপিয়ে হত্যায় ফাঁসি
স্ত্রীকে এসিড নিক্ষেপে ফাঁসি বহাল
ফাঁসির রায়ের ১১ বছর পর নির্দোষ প্রমাণ

শেয়ার করুন

পাহাড়ে শান্তি না ফেরার কারণ কী

পাহাড়ে শান্তি না ফেরার কারণ কী

পাহাড়ের বাসিন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনী মনে করছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘাত বাড়ার পেছনে মূল কারণ সংগঠনগুলোর স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও চাঁদার ভাগ-বাটোয়ারা।

শান্তি চুক্তির দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও এখনও বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে শান্তি ফেরেনি। পাহাড়ে গুম, খুন, চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। সহিংসতার ভয়ে কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছেন।

চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে সরকার ও পাহাড়ের বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে রয়েছে ভিন্নমত।

সরকার বলছে, পার্বত্য চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত ও ১৫টি আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে। এ ছাড়া ৯টি ধারার বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান।

তবে পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা বলছেন, এতো দীর্ঘ সময়ে মাত্র ২৫টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে, ১৮টি আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি ২৯টি ধারার কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি।

ভূমি সমস্যা সমাধানসহ চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলায় ক্ষোভ, হতাশা ও অসন্তোষ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন পাহাড়ের নেতারা।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সঙ্গে চুক্তি করেন, যেটিকে ‘শান্তি চুক্তি’ নামে অভিহিত করা হয়।

চুক্তি স্বাক্ষরের পরও অস্ত্রের ঝনঝনানি থামেনি পাহাড়ে। নতুন নতুন সশস্ত্র গ্রুপের আবির্ভাব এবং সেগুলোর অন্তর্কোন্দলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেই চলেছে। নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের কলহে আঞ্চলিক সংগঠনগুলো জড়িয়ে পড়ছে সংঘাতে।


পাহাড়ে শান্তি না ফেরার কারণ কী


দুই যুগে আড়াই হাজার খুন

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, শান্তি চুক্তির পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সামাজিক অপরাধের বাইরে তিন পার্বত্য জেলায় খুন হয়েছে ২ হাজার ৫৭৩ জন মানুষ। অপহৃত হয়েছে অন্তত ২ হাজার ৬২৬ জন। নিহতদের মধ্যে পাহাড়ি-বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের লোক আছে।

গত চার বছরে শুধুমাত্র রাঙামাটিতেই আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে খুন হয়েছে ১২৪ জন। পার্বত্য তিন জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হানাহানির ঘটনা ঘটেছে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে। এই দুই জেলায় নিহত হন ১০৫ জন। আর বান্দরবানে নিহত হন ১৯ জন।

পাহাড়ে শান্তি না ফেরার কারণ কী
ইউপি সদস্য সমর বিজয় চাকমাকে পিআইও অফিসে ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

নিহতদের মধ্যে ৯২ জন পার্বত্য এলাকার চারটি আঞ্চলিক দলের নেতা-কর্মী। এর মধ্যে ইউপিডিএফের ৩৯ জন, জেএসএসের (লারমা) ৩৮ জন, পিসিজেএসএসের ১৩ জন ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের ২ জন। অন্যদের মধ্যে ২০ জন সাধারণ নাগরিক, একজন সেনাসদস্য, বিএনপির নেতা ১ জন, আওয়ামী লীগের ১০ জন ও মগ পার্টির ১ জন রয়েছেন।

পাহাড়ের রাজনীতির মারপ্যাঁচ

পাহাড়ে এক সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) নামে একটিমাত্র আঞ্চলিক দল ছিল। এই দলের সঙ্গেই ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তি করেছিল সরকার। চুক্তির বিরোধিতা করে প্রথমে একটি অংশ জেএসএস থেকে বেরিয়ে ১৯৯৮ সালে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) নামে নতুন সংগঠন করে। পরে জেএসএস ভেঙে জেএসএস (সংস্কারপন্থি) নামে ২০০৭ সালে আরেকটি সংগঠন হয়েছে। অন্যদিকে ২০১৭ সালে ইউপিডিএফ ভেঙে ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক নামে নতুন সংগঠন হয়।

পার্বত্য চুক্তির এক বছরের মধ্যে চুক্তির পক্ষের জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সঙ্গে ইউপিডিএফের রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। ২০০৭ সালে জনসংহতি সমিতি ভেঙে গঠিত হয় জনসংহতি সমিতি (লারমা) বা জেএসএস (লারমা) নামের নতুন দল। ২০১৭ সালে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের মধ্যে ভাঙন সৃষ্টি হয়। ওই বছরের ১৫ নভেম্বর তপনজ্যোতি চাকমার নেতৃত্বে ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক নামের নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

পাহাড়ে শান্তি না ফেরার কারণ কী


পার্বত্য চট্টগ্রামে এই চারটি সংগঠনের বাইরে আরও কয়েকটি সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে আরাকান লিবারেশন পার্টি (এএলপি)। এই দলের সদস্যদের অবস্থান বান্দরবানের গহীনে। ২০১৮ সালে এএলপি ভেঙে গঠিত হয় মগ পার্টি। তাদের অবস্থানও বান্দরবানে। তবে এই দুই দলের অবস্থান শুধু বান্দরবানে; রাঙামাটি কিংবা খাগড়াছড়িতে এদের কোনো তৎপরতা নেই।

কার শক্তি কোথায়?

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিদে যে চারটি গ্রুপ বা সংগঠন রয়েছে, সেগুলোর একেকটির অবস্থান একেক জায়গায় শক্ত। এর মধ্যে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের দুটি অংশের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। খাগড়াছড়ির স্থানীয় বাসিন্দা ও পাহাড়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের শক্ত অবস্থান রয়েছে। অন্যদিকে বান্দরবানে জেএসএসের দুইটি অংশের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। সেখানে জেএসএস শক্তিশালী। বান্দরবানের ইউপিডিএফের তৎপরতা নেই বললে চলে। আর রাঙামাটিতে জেএসএস এবং ইউপিডিএফের চার পক্ষই শক্তিশালী।

শান্তি না ফেরার কারণ কী?

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) নেতা ত্রিদিব চাকমা বলেন, ‘চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে সমস্যা সমাধান হবে না। দুই যুগেও চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হয়নি।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস লারমা) কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক সুদর্শন চাকমা বলেন, চুক্তি ‘বাস্তবায়নের জন্য আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করে যাচ্ছি। আমরাও চাই পাহাড়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থা থাকুক। সবাই নিরাপদে শান্তিতে বসবাস করুক।’

ইউপিডিএফের সংগঠক অংগ মারমা বলেন, ‘পাহাড়ে অশান্তির মূল কারণ পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়া। চুক্তি বাস্তবায়নে যেসব কথা বলা হয়েছে, সেগুলো ন্যূনতম বাস্তবায়ন হয়নি। এ জন্য এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।’

তবে, পাহাড়ের বাসিন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনী মনে করছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘাত, হানাহানি বাড়ার পেছনে মূল কারণ সংগঠনগুলোর স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও চাঁদার ভাগ-বাটোয়ারা।

তবে আঞ্চলিক দলগুলোর নেতারা বলছেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ায় পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের হতাশা থেকে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাই পাহাড়ে শান্তি ফেরেনি।

ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা বলেন, ‘প্রসীত খীসার ইউপিডিএফের জন্য আজ পাহাড়ে এত সংঘাত। তারা তখন চুক্তির বিরোধিতা না করলে হয়তো পাহাড়ে আজ চারটি আঞ্চলিক সংগঠন হতো না। পাহাড়ে রক্তপাত বন্ধ হোক, এটা আমরা সব সময় চাই।’

পাহাড়ের সংগঠনগুলো যা বলছে

পার্বত্য চুক্তির যতদিন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হবে, ততদিন শান্তি ফিরবে না বলে মনে করছে পাহাড়ের নাগরিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনরত সংগঠনের কর্মীরা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুল বলেন, ‘আমরা চাই সরকার অবিলম্বে চুক্তির মৌলিক বিষয়সহ লিখিতভাবে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করুক।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান বলেন, ‘চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো আইন-শৃঙ্খলা, ভূমি সমস্যার সমাধান, আঞ্চলিক পরিষদ আইন সংশোধন ও বিধিমালা তৈরি, ভারত প্রত্যাগত ৮৩ হাজার অভ্যন্তরীণ পাহাড়ি শরণার্থীর পুনর্বাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।’

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্যাঞ্চল শাখার সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা বলেন, ‘পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ফসল। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশের তথা পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য মঙ্গল ও শান্তি বয়ে আনবে।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার আন্দোলন ও সংরক্ষণ কমিটির জেলা সমন্বয়ক জোয়াম লিয়ান আমলাই বলেন, ‘পার্বত্য চুক্তির যতদিন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হবে, ততদিন শান্তি তিমিরেই থাকবে।’

যা বলছেন সরকারদলীয় নেতারা

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু বলেন, শেখ হাসিনার সরকার চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তিন পার্বত্য জেলার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো বেশি ক্ষমতায়িত করেছে।

শরণার্থীবিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির অন্যতম সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেন, কিছু সমস্যা থাকলেও চুক্তির অধিকাংশ ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে।

রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার বলেন, ‘এখানকার মানুষের মধ্যে সমঝোতা, আত্মবিশ্বাস তৈরি করা এবং চুক্তির পক্ষে সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে একটি পরিবেশ সৃষ্টি প্রধান শর্ত। শান্তিপূর্ণভাবে চুক্তি বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

আরও পড়ুন:
আপিল নিষ্পত্তির ৪ বছর আগেই দুজনের ফাঁসি
ধর্ষণ ও হত্যা: ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত ২ আসামির
দুই নারীকে কুপিয়ে হত্যায় ফাঁসি
স্ত্রীকে এসিড নিক্ষেপে ফাঁসি বহাল
ফাঁসির রায়ের ১১ বছর পর নির্দোষ প্রমাণ

শেয়ার করুন

চকবাজারে বহুতল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

চকবাজারে বহুতল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

চন্দনপুরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্কুর ম্যানশন ভবনের ৩য় তলার ফ্ল্যাটে আগুনের সূত্রপাত। আমরা বিকেল সাড়ে তিনটার পরে ঘটনাস্থলে যাই। দুটি ইউনিট ১০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই ফ্ল্যাটে ১৩ বছরের এক শিশু আটকা পড়েছিল।’

চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার এলাকায় চারতলা ভবনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস।

ডিসি রোডের শুক্কুর ম্যানশন ভবনে লাগা আগুন বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার পরে নিয়ন্ত্রণে আসে।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চন্দনপুরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র অফিসার শহিদুল ইসলাম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্কুর ম্যানশন ভবনের ৩য় তলার ফ্ল্যাটে আগুনের সূত্রপাত। আমরা বিকেল সাড়ে তিনটার পরে ঘটনাস্থলে যাই। দুটি ইউনিট ১০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই ফ্ল্যাটে ১৩ বছরের এক শিশু আটকা পড়েছিল। তাকে আমরা উদ্ধার করেছি। সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তবে নিরাপদে আছে।’

আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত না করে বলা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
আপিল নিষ্পত্তির ৪ বছর আগেই দুজনের ফাঁসি
ধর্ষণ ও হত্যা: ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত ২ আসামির
দুই নারীকে কুপিয়ে হত্যায় ফাঁসি
স্ত্রীকে এসিড নিক্ষেপে ফাঁসি বহাল
ফাঁসির রায়ের ১১ বছর পর নির্দোষ প্রমাণ

শেয়ার করুন

ফের চালু ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’, এসি চেয়ার না থাকায় অসন্তোষ

ফের চালু ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’, এসি চেয়ার না থাকায় অসন্তোষ

বেনপোল স্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বেনাপোল এক্সপ্রেসটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আজ পুনরায় চালু হয়েছে। আগে এ রুটে যে বেনাপোল এক্সপ্রেসটি চলতো সেটিতে এসি আসন ছিল। কিন্তু নতুন চালু হওয়া ট্রেনে এসি কেবিন থাকলেও এসি চেয়ার নেই।

দীর্ঘ ৮ মাস পর বেনাপোল-ঢাকা রুটে পুনরায় চালু হয়েছে ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে ট্রেনটি বেনাপোল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে গত বছরের ৫ এপ্রিল থেকে ঢাকা-বেনাপোল রুটে আন্তঃনগর ট্রেনটিও বন্ধ করে দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন পর ট্রেনটি পুনরায় চালু হওয়ায় স্থানীয় যাত্রীসাধারণ খুশি হলেও সেবা সুবিধা নিয়ে সন্তুষ্ট নন তারা।

রেল সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বেনাপোল এক্সপ্রেস উদ্বোধন করেন। ৮৮৬ আসন বিশিষ্ট ট্রেনটির ১২টি বগিতে ৪৮টি কেবিন আসন, ৭৮টি এসি চেয়ার আসন, ৭৬০টি নন এসি চেয়ার আসন ছিল।

কিন্তু বৃহস্পতিবার যে ট্রেন দিয়ে বেনাপোল এক্সপ্রেস পুনরায় চালু করা করা হয়েছে সেটিতে আগের ট্রেনের তুলনায় যাত্রী সুবিধার ঘাটতি রয়েছে।

যাত্রীরা বলছেন, নতুন করে চালু হওয়া ট্রেনটিতে কোনো এসি বগি নেই। ৮টি বগিতে ৪৮টি কেবিন আসন আছে। বাকি ৭৪৫টি ননএসি চেয়ার আসন আছে। ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ননএসি আসন প্রতি ৪৮৫ টাকা ও কেবিন প্রতি ১ হাজার ১১৬ টাকা।

নিউজবাংলাকে ট্রেনের যাত্রী হাবিব চৌধুরী বলেন, ব্যবসায়িক কাজে প্রতিমাসে ৪ থেকে ৫ বার ঢাকায় যাতায়াত করতে হয়। বেনাপোল এক্সপ্রেস চালু হওয়ার পর থেকে আমি ঢাকায় প্লেনে না গিয়ে ট্রেনে চলাচল শুরু করি। অনেকদিন পর আজ পুনরায় ট্রেনটি চালু হওযার পর স্টেশনে এসে ট্রেনে এসি নাই শুনে অবাক হলাম।

'বেনাপোলে নানা শ্রেণির মানুষকে চাকরির সুবাদে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসতে হয়। কাস্টমস ও বন্দরের অনেক কর্মকর্তা এসি ট্রেনে চলাচল করতেন। এখন এসি চেয়ার না থাকলে আগের মতোই ভোগান্তি হবে যাত্রীদের। কেউ ওই সুবিধাটুকু নিয়ে ট্রেনে ঢাকায় যাতায়াত করতে চাইলে তাকে যশোর থেকে এসি ট্রেনে উঠতে হবে। এতে খরচ বাড়ার পাশাপাশি ভোগান্তির শিকার হতে হবে।
বেনাপোল স্টেশনমাস্টার সাইদুর রহমান এ ব্যাপারে নিউজবাংলাকে বলেন, 'করোনা ভাইরাসের কারণে বেনাপোল এক্সপ্রেসটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আজ পুনরায় চালু হয়েছে। আগে এ রুটে যে বেনাপোল এক্সপ্রেস চলতো সেটি ইন্দোনেশিয়ার তৈরি। আর নতুন যাত্রা শুরু করা ট্রেনটি তৈরি হয়েছে ভারতে। আগের ট্রেনে এসি আসন ছিল। এটিতে এসি কেবিন থাকলেও এসি চেয়ার নেই।'

বেনাপোল এক্সপ্রেসটি আগের মত সপ্তাহে ছয় দিন চলবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
আপিল নিষ্পত্তির ৪ বছর আগেই দুজনের ফাঁসি
ধর্ষণ ও হত্যা: ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত ২ আসামির
দুই নারীকে কুপিয়ে হত্যায় ফাঁসি
স্ত্রীকে এসিড নিক্ষেপে ফাঁসি বহাল
ফাঁসির রায়ের ১১ বছর পর নির্দোষ প্রমাণ

শেয়ার করুন

যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল জানান, ২০১৩ সালের ৩১ মে আকিমুল যৌতুকের দাবিকৃত টাকা না পেয়ে হালিমাকে মারপিট করেন। এতে অন্তঃসত্ত্বা হালিমা মারা যান। আকিমুল ও তার পরিবারের লোকজন হালিমার মরদেহ ফেলে পালিয়ে যান। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ঘটনা জেনে হালিমার বাড়ির লোকজন পুলিশের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করেন।

যশোরে যৌতুকের জন্য অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী আকিমুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নীলুফার শিরিন বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রায় দেন।

দণ্ডিত আকিমুল যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নায়রা গ্রামের বাসিন্দা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী স্পেশাল পিপি মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, আকিমুল যৌতুকের জন্য তার স্ত্রী হালিমা খাতুনকে প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন করতেন। নির্যাতন থেকে বাঁচতে হালিমা বিভিন্ন সময় তার বাবার কাছ থেকে টাকা এনে স্বামীকে দিতেন। আকিমুল সর্বশেষ ১৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন।

২০১৩ সালের ৩১ মে হালিমা তার বাবার কাছ থেকে ১ লাখ টাকার চেক এনে দেন। আকিমুল দাবিকৃত টাকা না পেয়ে হালিমাকে মারপিট করেন। এতে অন্তঃসত্ত্বা হালিমা মারা যান। আকিমুল ও তার পরিবারের লোকজন হালিমার মরদেহ ফেলে পালিয়ে যান। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ঘটনা জেনে হালিমার বাড়ির লোকজন পুলিশের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করেন।

হালিমার বাবা লিয়াকত আলী বাদী হয়ে আকিমুল ইসলামের নামে হত্যা মামলা করেন।

পিপি জানান, অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় বিচারক আকিমুলকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার রায় দেন।

আরও পড়ুন:
আপিল নিষ্পত্তির ৪ বছর আগেই দুজনের ফাঁসি
ধর্ষণ ও হত্যা: ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত ২ আসামির
দুই নারীকে কুপিয়ে হত্যায় ফাঁসি
স্ত্রীকে এসিড নিক্ষেপে ফাঁসি বহাল
ফাঁসির রায়ের ১১ বছর পর নির্দোষ প্রমাণ

শেয়ার করুন

চাঁদাবাজি মামলা: তিন পুলিশসহ ৫ জনের কারাদণ্ড

চাঁদাবাজি মামলা: তিন পুলিশসহ ৫ জনের কারাদণ্ড

প্রতীকী ছবি

দণ্ডিতরা হ‌লেন কনস্টেবল মোল্লা মেসবাহউ‌দ্দিন, কনস্টেবল ফরহাদ আহ‌মেদ, কনস্টেবল মোস্তা‌ফিজুর রহমান, আরমান শিকদার জ‌নি ও মো. বা‌য়ে‌জিত। কনস্টেবলরা খুলনা পু‌লিশ লাই‌নে কর্মরত ছি‌লেন। এর মধ্যে মোল্লা মেসবাহ উ‌দ্দিন ও মোস্তা‌ফিজুর রহমান পলাতক আছেন।

খুলনায় চাঁদাবাজি মামলায় তিন পুলিশ সদস্যসহ পাঁচ জনের সাত বছ‌রের সশ্রম কারাদণ্ড দি‌য়ে‌ছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক‌কে ১২ হাজার টাকা জ‌রিমানা অনাদা‌য়ে আরও ৬ মা‌সের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হ‌য়ে‌ছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক এসএম আশিকুর রহমান এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাজী সাব্বির আহমেদ নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডিতরা হ‌লেন কনস্টেবল মোল্লা মেসবাহউ‌দ্দিন, কনস্টেবল ফরহাদ আহ‌মেদ, কনস্টেবল মোস্তা‌ফিজুর রহমান, আরমান শিকদার জ‌নি ও মো. বা‌য়ে‌জিত।

কনস্টেবলরা খুলনা পু‌লিশ লাই‌নে কর্মরত ছি‌লেন। এর মধ্যে মোল্লা মেসবাহ উ‌দ্দিন ও মোস্তা‌ফিজুর রহমান পলাতক আছেন।

এজাহারে বলা হয়, ২০১৪ সালের ১২ ডিসেম্বর দৌলতপুর বিএল কলেজের দ্বিতীয় গেটের সামনে একটি চায়ের দোকানে শাহরিয়ার রিন্টু ও আবু ইছহাক নামে দুই ব্যক্তিকে আটকে রাখেন আসামিরা।

এ সময় আসামি মেসবাহউ‌দ্দিন নিজেকে পুলিশের এসআই পরিচয় দিয়ে তাদের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এক পর্যায়ে ৩০ হাজার টাকা দিলে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে বলা হয়। পুলিশ অপহৃতকে উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় দৌলতপুর থানার এসআই কাজী বাবুল হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। ২০১৫ সালের ১৯ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বাবলু খান তাদের পাঁচ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আরও পড়ুন:
আপিল নিষ্পত্তির ৪ বছর আগেই দুজনের ফাঁসি
ধর্ষণ ও হত্যা: ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত ২ আসামির
দুই নারীকে কুপিয়ে হত্যায় ফাঁসি
স্ত্রীকে এসিড নিক্ষেপে ফাঁসি বহাল
ফাঁসির রায়ের ১১ বছর পর নির্দোষ প্রমাণ

শেয়ার করুন

সেতু আছে খাল নেই

সেতু আছে খাল নেই

শরীয়তপুর জেলা শহরে থাকা সেতুর নিচে পুরোটাই ভরাট করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

খাল ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করা লিটন বেপারি বলেন, ‘আমাগো কাগজপত্র আছে। নিজেগো জায়গায়ই ঘর তুলছি। খালের জায়গা রাইখ্যা আমরা ঘর উডাইছি। দোকানঘরের সামনে যে খাল ছিল অহন সবাই ভইরা হালাইছে, তাই আমরাও ভরছি।’

শরীয়তপুর জেলা শহরের উত্তর বাজার থেকে কোটাপাড়া পর্যন্ত সড়কের পাশে চোখ দিলে দেখা যাবে শুকনো ভূমির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে একের পর এক সেতু। গুনলে পাওয়া যাবে সাতটি, অথচ কোনো সেতুর নিচে পানি দূরে থাক, নিচু ভূমিরও অস্তিত্ব নেই।

স্থানীয়রা জানায়, জেলা শহরের মধ্য দিয়ে একসময় প্রবাহমান পালং-কোটাপাড়া খালের ওপর ছিল সেতুগুলো। এক যুগ ধরে খালটির প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে পাকা, আধাপাকা স্থাপনা ও সংযোগ সড়ক।

খাল ভরাট হওয়ায় পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে বিরূপ প্রভাব পড়েছে চরপালং ও কোটাপাড়া এলাকার কৃষিতে। এ ছাড়া এক যুগের বেশি সময় ধরে বর্ষা মৌসুম এলেই শহরে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা।

শরীয়তপুর পৌরসভা থেকে খালটি উদ্ধারে বিভিন্ন সময় পদক্ষেপ নিলেও নানা জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি।

এতে ভেঙে পড়েছে পৌর শহরের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা। সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। আবার দীর্ঘমেয়াদে পানি জমে থাকায় অনাবাদি থেকে যাচ্ছে এসব এলাকার শত শত একর জমি।

সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের পাশ দিয়ে পালং উত্তর বাজার থেকে কোটাপাড়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকার বিভিন্ন স্থানে রয়েছে ছোট-বড় এসব সেতু। তবে সেতুগুলোর কোনো প্রান্তেই খালের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সেতু আছে খাল নেই

প্রেমতলা, কোটাপাড়া, বাসস্ট্যান্ড, চরপালং, ফায়ার সার্ভিস ও চেম্বার অফ কমার্সের সামনে থাকা প্রত্যেকটি সেতুর নিচের পুরোটা ভরাট হয়ে গেছে। খাল ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে বাণিজ্যিক পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা। খালের পাশে থাকা বিপণিবিতানে যাতায়াতের জন্য ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে সংযোগ সড়ক।

শরীয়তপুর পৌরসভা থেকে জানা যায়, জেলা শহরের পয়োনিষ্কাশন, নৌপথে যোগাযোগ ও কৃষিকে সমৃদ্ধ করতে কীর্তিনাশা নদীর সঙ্গে সংযোগ করে অন্তত ৪০ বছর আগে খনন করা হয় পালং-কোটাপাড়া খালটি। ২০ বছর আগেও প্রবাহমান খালটির ওপর নির্ভর করে জীবিকা চলত স্থানীয় অনেকের।

তবে গত ২০ বছরে ধারাবাহিকভাবে ভরাট করা হয়েছে খালটির সম্পূর্ণ অংশ। এখন শুধু সেতুগুলো ছাড়া কোথাও খালের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। ফলে ভেঙে পড়েছে পৌর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে থাকা খালটির আশপাশের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা। চরপালং, কোটাপড়াসহ ওই এলাকার ফসলি মাঠ পানির নিচে তলিয়ে থাকে সারা বছর।

চরপালং এলাকার মো. জয়নাল বলেন, ‘এই জমিতে আমরা সব জিরাত লাগাইতাম। ধান, শৈষ্যা, গম, মুহুরি, আবোর ইরি ব্লকও করতাম। অনেক বছর ধইরা জমির পানি নামে না। জিরাতও করতে পারি না।’

‘হুদাহুদি জমি পইরা রইছে। আর বৃষ্টি-বাদলের সময় পানি বাইড়া ঘরের তোন রাস্তাও যাইতে পারি না। সব পানিতে তলাইয়া যায়। খালডা থাকলে আর এমন অইতো না।’

সেতু আছে খাল নেই

খাল ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করা লিটন বেপারি বলেন, ‘আমাগো কাগজপত্র আছে। নিজেগো জায়গায়ই ঘর তুলছি। রেকর্ড, পরচাসহ সব ধরনের কাগজপত্র আছে। সরকারি খালে দোকান উডাই নাই। খালের জায়গা রাইখ্যা আমরা ঘর উডাইছি। দোকানঘরের সামনে যে খাল ছিল, অহন সবাই ভইরা হালাইছে, তাই আমরাও ভরছি।’

শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র পারভেজ রহমান জানান, পৌর শহরে থাকা ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়া সাতটি খালকে চিহ্নিত করে জেলা পানি সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। পৌর শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে খালগুলো উদ্ধারের জন্য চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্বকে আহ্বায়ক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে।

এরপর করোনা মহামারি ও বিভিন্ন আইনি জটিলতায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা যায়নি। দখল হয়ে যাওয়া খালগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্ধার করা না গেলে পৌর শহরের জলাবদ্ধতা স্থায়ী হয়ে যাবে।

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আসমাউল হুসনা লিজা বলেন, ‘জেলা পানি সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা শহরে দখল হয়ে যাওয়া খালের তালিকাসহ বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দেয়া হয়েছে।’

‘এ ছাড়া দখলদারদের নাম, পরিচয় এবং দখলীয় সম্পত্তির বিবরণ চেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে তালিকা চাওয়া হয়েছে। আগামী সভায় এসব তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করার কথা রয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য অভিযান চালানো হবে।’

আরও পড়ুন:
আপিল নিষ্পত্তির ৪ বছর আগেই দুজনের ফাঁসি
ধর্ষণ ও হত্যা: ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত ২ আসামির
দুই নারীকে কুপিয়ে হত্যায় ফাঁসি
স্ত্রীকে এসিড নিক্ষেপে ফাঁসি বহাল
ফাঁসির রায়ের ১১ বছর পর নির্দোষ প্রমাণ

শেয়ার করুন