‘কর্নেল অফ দ্য রেজিমেন্ট’ হিসেবে অভিষেক সেনাপ্রধানের

‘কর্নেল অফ দ্য রেজিমেন্ট’ হিসেবে অভিষেক সেনাপ্রধানের

অভিষেকের মধ্য দিয়ে ‘কর্নেল অফ দ্য রেজিমেন্ট’ হিসেবে সামরিক রীতি অনুযায়ী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রাচীন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অভিভাবকের দায়িত্ব নিলেন সেনাপ্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। ছবি: আইএসপিআর

আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিষেকের মধ্য দিয়ে ‘কর্নেল অফ দ্য রেজিমেন্ট’ হিসেবে সামরিক রীতি অনুযায়ী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রাচীন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অভিভাবকের দায়িত্ব নিলেন সেনাপ্রধান।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ১৬তম ‘কর্নেল অফ দ্য রেজিমেন্ট’ হিসেবে অভিষেক হয়েছে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের।

চট্টগ্রাম সেনানিবাসে বুধবার ঐতিহ্যবাহী ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারের শহীদ এম আর চৌধুরী প্যারেড গ্রাউন্ডে অভিষেক অনুষ্ঠান হয়।

অনুষ্ঠানে সেনাসদর, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড, স্থানীয় ফরমেশন এবং বাংলাদেশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিষেকের মধ্য দিয়ে ‘কর্নেল অফ দ্য রেজিমেন্ট’ হিসেবে সামরিক রীতি অনুযায়ী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রাচীন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অভিভাবকের দায়িত্ব নিলেন সেনাপ্রধান।

এর আগে প্যারেড স্কয়ারে পৌঁছালে সেনাপ্রধানকে আনুষ্ঠানিক অভিবাদন জানানো হয় এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার দেয়।

এরপর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের জ্যেষ্ঠ অধিনায়ক এবং মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার সেনাপ্রধানকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ‘কর্নেল র‌্যাংক ব্যাজ’-এ ভূষিত করেন।

অভিষেক অনুষ্ঠানে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্যে সেনাপ্রধান বলেন, ‘এই রেজিমেন্টের বীর সেনানিরাই ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় সম্মুখসমরে অংশগ্রহণ করে দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।’

ওই সময় স্বাধীনতার মহান স্থপতি এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছা ও একনিষ্ঠ উদ্যোগের ফলে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যুক্ত হয়েছে আরও ১০টি ব্যাটালিয়ন। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারই দিক নির্দেশনায় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে সুসজ্জিত করা হয়েছে যুগোপযোগী ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এপিসি, যানবাহন, মিসাইল, ভারী অস্ত্র, গ্রাউন্ড সার্ভেইলেন্স রাডার, মডার্ন ইনফ্যান্ট্রি গ্যাজেট ও অত্যাধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম দিয়ে।’

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বীর শহীদদের স্মরণে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে অবস্থিত অজানা শহীদ সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান সেনাপ্রধান।

অনুষ্ঠান শেষে সেনাবাহিনীর প্রধান ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ৩৪তম বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন এবং এই রেজিমেন্টের উন্নয়ন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও দেশে-বিদেশে পরিচালিত সেনাবাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে দিক নির্দেশনা দেন।

আইএসপিআর জানিয়েছে, সেনাপ্রধান ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ‘কর্নেল অফ দ্য রেজিমেন্ট’ হিসেবে দায়িত্ব নেয়ায় রেজিমেন্ট সদস্যদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি রেজিমেন্টের প্রতিটি সদস্যের মধ্যে আগামী দিনে দেশসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
আর্মি এভিয়েশন ফরওয়ার্ড বেস পেল চট্টগ্রাম
সেনাপ্রধানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
‘কর্নেল কমান্ড্যান্ট’ হিসেবে অভিষিক্ত হলেন সেনাপ্রধান
যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সিলেট সেনানিবাসে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য

সিলেট সেনানিবাসে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ রোববার সিলেট সেনানিবাসের এভিনিউ-১৭ এর মুজিব চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ‘বজ্রকণ্ঠ’ উদ্বোধন করেন। ছবি: আইএসপিআর

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি স্থাপনের মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জাতির প্রতি তার অবদানকে অবিস্মরণীয় করে রাখার প্রয়াস নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভাস্কর্যটি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উজ্জীবিত করবে। এছাড়া ভাস্কর্যটি নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে ফুটিয়ে তুলবে।

সিলেট সেনানিবাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য উদ্বোধন করা হয়েছে।

রোববার বজ্রকণ্ঠ নামের ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করা হয়।

সিলেট সেনানিবাসের মূল সড়ক এভিনিউ-১৭ এর মুজিব চত্বরে ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে স্মরণীয় করে রাখতে এরিয়া সদর দপ্তর সিলেটের তত্ত্বাবধানে মুজিব চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। ভাস্কর্যটির উচ্চতা ১৫ ফুট এবং বেইজের উচ্চতা ছয় ফিট। দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্যটি সিলেট-তামাবিল বাইপাস সড়ক থেকে দৃশ্যমান।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি স্থাপনের মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জাতির প্রতি তার অবদানকে অবিস্মরণীয় করে রাখার প্রয়াস নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভাস্কর্যটি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উজ্জীবিত করবে। এছাড়া ভাস্কর্যটি নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে ফুটিয়ে তুলবে।

অনুষ্ঠানে জিওসি ১৭ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার সিলেট এরিয়াসহ সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সিলেট এরিয়ায় কর্মরত অফিসার, জেসিও এবং অন্যান্য পদবীর সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
আর্মি এভিয়েশন ফরওয়ার্ড বেস পেল চট্টগ্রাম
সেনাপ্রধানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
‘কর্নেল কমান্ড্যান্ট’ হিসেবে অভিষিক্ত হলেন সেনাপ্রধান
যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

শেয়ার করুন

সার্ভার জটিলতা: আড়াই লাখ টিকাগ্রহীতার তথ্য উধাও

সার্ভার জটিলতা: আড়াই লাখ টিকাগ্রহীতার তথ্য উধাও

ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিক্যাল অফিসার ডা. দেবাশিস বিশ্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই দুই দিনে টিকা নেওয়া প্রায় সবার ক্ষেত্রেই এমন সমস্যার তথ্য পাওয়া গেছে। সার্ভার জটিলতায় এমনটা হয়ে থাকতে পারে।’

নিবন্ধনের তিন মাস পর ১৩ অক্টোবর জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে করোনা টিকার প্রথম ডোজ নেন নুসরাত জাবীন বিভা। নিয়ম অনুযায়ী টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার কথা এক মাস পর। তবে দেড় মাসের বেশি সময় পার হলেও টিকাসংক্রান্ত এসএমএস পাননি তিনি। এক প্রকার নিরুপায় হয়ে দ্বিতীয় ডোজ নিতে ২ ডিসেম্বর টিকাকেন্দ্রে যোগাযোগ করেন তিনি।

কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বলেন, ১৩ অক্টোবর যারা টিকা নিয়েছেন তাদের তথ্য সার্ভার থেকে ডিলিট হয়ে গেছে। যে কারণে ওই দিনে টিকা নেয়া কাউকেই এসএমএস দেয়া সম্ভব হয়নি। নিজ উদ্যোগে যারা টিকাকেন্দ্রে আসছেন তাদের টিকাদানের তারিখ আপডেট করে দেয়া হচ্ছে। এরপর দু-একদিনের মধ্যে তাদের এসএমএস পাঠানো হচ্ছে। এতে নতুন করে ভোগান্তিতে পড়ছেন টিকার প্রথম ডোজ গ্রহীতারা।

শুধু নুসরাত জাবীন বিভা নন, ওই দিন টিকা দেয়া আড়াই লাখের বেশি টিকাগ্রহীতার তথ্য সার্ভার উধাও হয়ে গেছে। তবে টিকা গ্রহণের তারিখ সার্ভার থেকে কেন কীভাবে উধাও হয়ে গেল, তা জানা নেই ওই কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্তকর্তা স্বীকার করেছেন, সার্ভারের জটিলতার কারণেই গত ১৩ অক্টোবর সারা দেশে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৬১ জন টিকাগ্রহীতার টিকা গ্রহণের তারিখ সুরক্ষা ওয়েবসাইটের (www.surokkha.gov.bd) সার্ভার থেকে উধাও হয়ে গেছে।

তারা বলছেন, ইতিমধ্যে এমন একাধিক অভিযোগ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আসছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যাদের তথ্য গায়েব হয়েছে, তাদের কিছুদিন পর নতুন করে টিকা কার্ড ডাউনলোড করতে হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা রোববার নিউজবাংলাকে বলেন, সার্ভার জটিলতার কারণে ওই দিন হয়তো এমনটা হতে পারে। টিকাগ্রহীতার টিকা নেয়া তারিখ খুঁজে না পাওয়ায় ইতিমধ্যে বিষয়টি আইসিটি বিভাগকে জানানো হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সমস্যার সমাধান হলে ওই দিনের টিকাগ্রহীতারা নতুন করে টিকা কার্ড ডাউনলোড করলে ৮০ শতাংশই টিকা গ্রহণের তারিখ পেয়ে যাবেন। বাকি ২০ শতাংশের ক্ষেত্রে যে সমস্যাটা তৈরি হবে, তা সরাসরি আইসিটি বিভাগকে জানানো হবে। আশা করা যায়, এরপর তাদের সমস্যারও সমাধান হবে।

‘এমন কোনো সমস্যা দেখা দিলেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বিষয়টি আইসিটি বিভাগকে জানিয়ে দেয়া হয়। এ বিষয়টি ইতিমধ্যে আমরা জানিয়ে দিয়েছি। তারা জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে।’

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘শুধু ১৩ অক্টোবর নয়, ওই মাসের ২৮ তারিখেও দেশের কিছু কেন্দ্রে এমন সমস্যা দেখা দেয়। তা নিয়েও কাজ করছে আইসিটি বিভাগ।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিক্যাল অফিসার ডা. দেবাশিস বিশ্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই দুই দিনে টিকা নেওয়া প্রায় সবার ক্ষেত্রেই এমন সমস্যা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সার্ভার জটিলতার কারণে এমন সমস্যা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে টিকার তথ্যগুলো আছে, কিন্তু হ্যাং হয়ে গেছে। এখনো সেগুলো উদ্ধার করা যায়নি। এখন নতুন করে নিতে গেলে একই তথ্য দুবার নেয়া হয়ে যাবে। এটা নিয়ে অধিদপ্তর ও আইসিটি বিভাগ কাজ করছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমন তথ্য আমার জানা নেই। তবে এমনটা হয়ে থাকলে বিষয়টি অবশ্যই আইসিটি বিভাগে জানানো হবে।’

আরও পড়ুন:
আর্মি এভিয়েশন ফরওয়ার্ড বেস পেল চট্টগ্রাম
সেনাপ্রধানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
‘কর্নেল কমান্ড্যান্ট’ হিসেবে অভিষিক্ত হলেন সেনাপ্রধান
যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

শেয়ার করুন

মামলা মাদারীপুরে, ঢাকায় সাংবাদিকপুত্র গ্রেপ্তারে প্রশ্ন

মামলা মাদারীপুরে, ঢাকায় সাংবাদিকপুত্র গ্রেপ্তারে প্রশ্ন

মাদারীপুরের রাজৈর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার সাংবাদিকপুত্র আহসান হাবিব নাহিদ। ছবি: নিউজবাংলা

যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই আহসান হাবিব নাহিদ কখনও মাদারীপুরে যাননি বলে দাবি করেছে তার পরিবার। সেখানে ২০২০ সালের ১৪ জুন যে মামলা হয়েছিল, তাতেও তার নাম ছিল না।

দেড় বছর আগে মাদারীপুরে সন্ত্রাস দমন আইনে এক মামলায় ঢাকা থেকে এক জনকে গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সেই তরুণের বাবা একজন গণমাধ্যমকর্মী। তার অভিযোগ, ছেলেকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি শুরুতে তাকে জানানো হয়নি। এজন্য নিখোঁজ ভেবে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই আহসান হাবিব নাহিদ কখনও মাদারীপুরে যাননি বলে দাবি করছে পরিবার। সেখানে ২০২০ সালের ১৪ জুন যে মামলা হয়েছিল, তাতেও তার নাম ছিল না। সেই মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে কয়েকজনের কথা উল্লেখ ছিল, সেই আসামিদের একজন হিসেবেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এই নাহিদকে।

নাহিদের বাবা তোফাজ্জল হোসেন কাজ করেন দৈনিক খোলা কাগজে। সম্প্রতি হয়ে যাওয়া ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন। তবে জিততে পারেননি।

তোফাজ্জল জানান, ভোটের আগের দিন ২৯ নভেম্বর সকালে আদাবরের বাসার সামনে থেকে তার ছেলে নাহিদ নিখোঁজ হন। সে দিনই মোহাম্মদপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তারা। পরদিন দুপুরে তার স্ত্রীর ফোনে র‍্যাব সদস্য পরিচয়ে একজন ফোন করে জানান, নাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি এখন মাদারীপুর কারাগারে।

কোন মামলা, কী অভিযোগ

২০২০ সালের ১৪ জুন জেএমবির দাওয়াতি শাখার সক্রিয় সদস্য হিসেবে মাদারীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় খোকন মিয়া নামে একজনকে। সন্ত্রাস দমন আইন ২০০৯, (সংশোধিত/২০১৩) ধারায় খোকন মিয়াসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০/১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করে র‍্যাব।

সেই অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে নাহিদ ও আবু সাঈদকে ২৯ নভেম্বর মোহাম্মদপুর আদাবর সম্পা মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মাদারীপুরের রাজৈর থানায় করা মামলার এজাহারে লেখা আছে, খোকন মিয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জেএমবির সংগঠক ও দাওয়াতি শাখার সক্রিয় সদস্য। তিনি অন্য সদস্যদের নিয়ে ঢাকা, মাদারীপুর, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় দাওয়াতি কার্যক্রম চালান।

গত ২৯ নভেম্বর গ্রেপ্তারের সময় নাহিদের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও দুটি সিম কার্ড এবং সাঈদের কাছ থেকে একটা মোবাইল ফোন ও একটি সিম কার্ড জব্দ করে র‍্যাব।

আদালতে নাহিদের সম্পর্কে র‍্যাবের দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, আহসান হাবিব নাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, মুসলিম ভাই নামে একজন প্রথমে তাকে আহলে হাদিসে আসার দাওয়াত দেন এবং তখন থেকে নাহিদ আল আমিন মসজিদে যাতায়াত শুরু করেন।

নাহিদ ‘আল্লাহর জন্য ভালবাসা’ ও ‘দ্বীনি আলোচনা’ নামে দুটি গ্রুপ খোলেন বলেও উল্লেখ করেছে র‍্যাব।

তবে ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মানছেন না তোফাজ্জল হোসেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এগুলো সাজানো গল্প। অনার্স শেষ করে ১৫ দিন আগে ঢাকায় একটি বেসরকারি আইটি ফার্মে চাকরিতে প্রবেশ করেছে আমার ছেলে। ২৯ তারিখ সকালে অফিসের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয় সে। তখন আমার ছেলেকে র‍্যাব নিয়ে গেছে।

‘আমার ছেলে ছোট থেকে মোহাম্মদপুর এলাকায় বড় হয়েছে। কোনো দিন মাদারীপুর এলাকায় যায়নি। এমনকি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও সম্পৃক্ত নয়।’

নাহিদের মা শরিফা নাজনীন বলেন, ‘আমাদের গ্রাম গাইবান্ধায়। ছেলে কখনোই মাদারীপুরের রাজৈর যায়নি। এরপরও রাজৈর থানার মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

নাহিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানতে চাইলে তাকে গ্রেপ্তার করা র‍্যাব-৮-এর স্কোয়াড কমান্ডার (সিপিএসসি) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সহকারী উপপরিচালক) শেখ ইয়াছিন আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মামলাটি তো কোর্টে বিচারাধীন আছে। এ বিষয়ে কোর্টে খোঁজ নিলে জানতে পারবেন।’

তার বিরুদ্ধে জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, মাদারীপুর কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক রমেশ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘অনেকগুলো আসামি কোর্টে আনা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু আসামি জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে যদি ওই (আহসান হাবিব নাহিদ) থেকে থাকে তাহলে তাকেও জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। আমার জানা মতে, মামলাটি রাজৈর থানায় হলেও র‍্যাব-৮ তদন্ত করছে। কাল (সোমবার) ডকুমেন্ট দেখে বিস্তারিত বলতে পারব।’

রাজৈর থানার ওসি শেখ মো. সাদিক বলেন, ‘মামলাটি যখন করা হয়, তখন আমি রাজৈর থানায় ছিলাম না। তবে যতটুকু শুনেছি, মামলাটি র‍্যাব-৮-এর সদস্যরা করে পুলিশ হেড কোয়ার্টারস থেকে অনুমোদন নিয়ে তারাই তদন্ত করছে।

‘আসামি গ্রেপ্তারসহ যে কোনো বিষয়ে র‍্যাবই তথ্য দিতে পারবে। এর বাইরে তেমন কিছু জানা নেই।’

আরও পড়ুন:
আর্মি এভিয়েশন ফরওয়ার্ড বেস পেল চট্টগ্রাম
সেনাপ্রধানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
‘কর্নেল কমান্ড্যান্ট’ হিসেবে অভিষিক্ত হলেন সেনাপ্রধান
যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

শেয়ার করুন

রাজারবাগ শরিফ গোপালগঞ্জ পাল্টে করেছে গোলাপগঞ্জ

রাজারবাগ শরিফ গোপালগঞ্জ পাল্টে করেছে গোলাপগঞ্জ

কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজারবাগ শরিফ গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বেশ কয়েকটি জেলা ও স্থানের নাম পরিবর্তন করে সাম্প্রদায়িক মনোভাব ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

সারা দেশে যেসব জেলার নামের সঙ্গে হিন্দু ব্যক্তিদের নামের মিল রয়েছে, সেসব জেলার নাম পাল্টে দিয়েছে রাজারবাগ পিরের দরবার শরিফ। তারা গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তন করে গোলাপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জকে নূরানীগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওকে নূরগাঁও, ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে আমানবাড়িয়া বলে প্রচার করছে।

কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে রাজারবাগ পিরের দরবার নিয়ে এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার প্রতিবেদনটি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে দাখিল করার পর আদালত সেটি পড়ে শোনায়।

প্রতিবেদনের একটি জায়গায় বলা হয়েছে, ‘তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তন করে গোলাপগঞ্জ করে আলোচ্য পত্রিকার মাধ্যমে প্রচার করছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলার নাম পাল্টে নূরানীগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও জেলার নাম পরিবর্তন করে নূরগাঁও, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাম পরিবর্তন করে আমানবাড়িয়া- এ রকম আরও বেশ কয়েকটি জেলা ও স্থানের নাম পরিবর্তন করে তারা নিজেদের সাম্প্রদায়িক মনোভাব সারা দেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে।

‘উপরোক্ত পর্যালোচনায় দেখা যায় যে ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ধর্মান্ধ। মানুষের এই ধর্মানুভূতি কাজে লাগিয়ে এই পির ও তার দরবার শরিফ সামাজিকভাবে কুসংস্কার, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘পির দিল্লুর রহমানের দরবার থেকে প্রকাশিত আলোচিত দুটি পত্রিকা মাসিক আল বাইয়্যিনাত ও দৈনিক আল ইহসানের মাধ্যমে গুটিকয়েক ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করা হলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে নানাভাবে ধর্মীয় উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ, ধর্মীয় কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটছে।

‘তাদের এসব কার্যক্রম সরাসরি সরকারি নীতিমালা, দেশের প্রচলিত আইন, সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিবিরোধী। দেশের বিভিন্ন থানায় রাজারবাগ দরবার শরিফের পির ও তার মুরিদদের বিরুদ্ধে রুজুকৃত মামলা ও মামলাগুলো তদন্তে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।’

প্রতিবেদন পড়ে শোনানোর পর সব পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে আদালত কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়ে ২০২২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন ঠিক করে দেয়।

আরও পড়ুন:
আর্মি এভিয়েশন ফরওয়ার্ড বেস পেল চট্টগ্রাম
সেনাপ্রধানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
‘কর্নেল কমান্ড্যান্ট’ হিসেবে অভিষিক্ত হলেন সেনাপ্রধান
যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

শেয়ার করুন

বিচারিক তদন্তের মুখে দিনাজপুরের এসপি

বিচারিক তদন্তের মুখে দিনাজপুরের এসপি

ফাইল ছবি

ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, ‘৬০ দিনের ব্যবধানে ১৮ মামলার ঘটনায় পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ মহাপরিদর্শক বরাবর আবেদন করেছিলেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টন। এ আবেদনের সাড়া না দেয়ায় পুলিশ মহাপরিদর্শকের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৫ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন তিনি। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রোববার আদেশ দেয়।’

দুই মাসে এক ব্যবসায়ীর নামে হওয়া ১৮টি মামলার ঘটনায় দিনাজপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনোয়ার হোসেনের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

আগামী তিন মাসের মধ্যে রংপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে এসপি আনোয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।

রোববার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরির্দশকসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

পরে ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, ‘৬০ দিনের ব্যবধানে ১৮ মামলার ঘটনায় পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ মহাপরিদর্শক বরাবর আবেদন করেছিলেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টন। এ আবেদনের সাড়া না দেয়ায় পুলিশ মহাপরিদর্শকের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৫ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন তিনি। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রোববার আদেশ দেয়।’

‘ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দুই মাসের ব্যবধানে ১৮ মামলা, বাদী পুলিশের সোর্স’ শিরোনামে গত ২১ নভেম্বর পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দিনাজপুরে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা হয়েছে। ১৩টি জিআর ও ৫টি এনজিআর মিলে ১৮টি মিথ্যা মামলার বেশিরভাগের বাদী পুলিশের ‘সোর্স’।

প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে গত ২০ নভেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে করে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দেন ব্যবসায়ী মো. খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টন।

আরও পড়ুন:
আর্মি এভিয়েশন ফরওয়ার্ড বেস পেল চট্টগ্রাম
সেনাপ্রধানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
‘কর্নেল কমান্ড্যান্ট’ হিসেবে অভিষিক্ত হলেন সেনাপ্রধান
যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

শেয়ার করুন

তিস্তার দু’পাশে চলছে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন

তিস্তার দু’পাশে চলছে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন

রোববার ঢাকায় ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম মিলনায়তনে রংপুর বিভাগীয় সাংবাদিক সমিতির এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ছবি: নিউজবাংলা

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘রংপুর অঞ্চল একসময় পিছিয়ে ছিল। তবে এখন আর পিছিয়ে নেই। দেশের উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রংপুরও এগিয়ে যাচ্ছে, সেই উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান।’

তিস্তা নদীর দু’পাশে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার উন্নয়নকাজ হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

রোববার ঢাকায় ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে রংপুর বিভাগীয় সাংবাদিক সমিতি (আরডিজেএ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এই তথ্য জানান।

আরডিজেএর প্রয়াত সদস্যের সন্তানদের বৃত্তি প্রদান উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে রংপুরে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘রংপুর অঞ্চল একসময় পিছিয়ে ছিল। তবে এখন আর পিছিয়ে নেই। দেশের উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রংপুরও এগিয়ে যাচ্ছে, সেই উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান।

‘রংপুরে পাইপে গ্যাস সরবরাহের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে, অল্প সময়ের মধ্যে তা শেষ হবে। রংপুর অঞ্চলে বেশ কয়েকটি স্পেশাল ইকনোমিক জোন গড়ে তোলার কাজ চলছে। প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তিস্তা নদীর দুই ধারে উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এখানে শিল্প-কলকারখানা গড়ে তোলা হচ্ছে। উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে নদীপথে মালামাল আনা-নেয়ার জন্য বন্দর গড়ে তোলা হয়েছে। নৌযান চলাচলের সুবিধার জন্য নদীর নাব্যতা বাড়ানো হচ্ছে।’

টিপু মুনশি বলেন, ‘শুধু রংপুর নয়, কুড়িগ্রামেও একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার কাজ চলছে, সংসদে এ সংক্রান্ত বিল পাস হয়েছে। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আধুনিক করে গড়ে তোলা হচ্ছে। ভুটান ও নেপাল এই বিমানবন্দর ব্যবহার করবে। প্রতিদিন সৈয়দপুরে ১৫-১৬টি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।’

মন্ত্রী জানান, ‘রংপুর অঞ্চলে এখন মঙ্গা নেই। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকার সময়ে শেখ হাসিনা রংপুর সফরের সময় বলেছিলেন- আমরা ক্ষমতায় গেলে রংপুর অঞ্চলের মঙ্গা দূর করব। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে আজ তা-ই হয়েছে।’

আরডিজেএ সভাপতি মোকছুদার রহমান মাকসুদের সভাপতিত্বে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি শফিকুল করিম সাবু ও নাজমূল হক সরকার, ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান।

আরও পড়ুন:
আর্মি এভিয়েশন ফরওয়ার্ড বেস পেল চট্টগ্রাম
সেনাপ্রধানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
‘কর্নেল কমান্ড্যান্ট’ হিসেবে অভিষিক্ত হলেন সেনাপ্রধান
যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

শেয়ার করুন

ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ১৮ মামলা: এসপির ভূমিকা তদন্তের নির্দেশ

ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ১৮ মামলা: এসপির ভূমিকা তদন্তের নির্দেশ

ফাইল ছবি

আগামী তিন মাসের মধ্যে রংপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।

দিনাজপুরে মাত্র দুই মাসের মধ্যে ব্যবসায়ী মো. খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টনের বিরুদ্ধে ১৮টি মামলার ঘটনায় পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেনের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

আগামী তিন মাসের মধ্যে রংপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।

রোববার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরির্দশকসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

পরে ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, ‘৬০ দিনের ব্যবধানে ১৮ মামলার ঘটনায় পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ মহাপরিদর্শক বরাবর আবেদন করেছিলেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টন। এ আবেদনের সাড়া না দেয়ায় পুলিশ মহাপরিদর্শকের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৫ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন তিনি। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রোববার আদেশ দেয়।’

‘ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দুই মাসের ব্যবধানে ১৮ মামলা, বাদী পুলিশের সোর্স’ শিরোনামে গত ২১ নভেম্বর পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দিনাজপুরে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা হয়েছে। ১৩টি জিআর ও ৫টি এনজিআর মিলে ১৮টি মিথ্যা মামলার বেশিরভাগের বাদী পুলিশের ‘সোর্স’।

প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে গত ২০ নভেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে করে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দেন ব্যবসায়ী মো. খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টন।

আরও পড়ুন:
আর্মি এভিয়েশন ফরওয়ার্ড বেস পেল চট্টগ্রাম
সেনাপ্রধানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
‘কর্নেল কমান্ড্যান্ট’ হিসেবে অভিষিক্ত হলেন সেনাপ্রধান
যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

শেয়ার করুন