পিটিয়ে হত্যা করা সেই ‘আরসা নেতার’ মরদেহ কোথায়

পিটিয়ে হত্যা করা সেই ‘আরসা নেতার’  মরদেহ কোথায়

টেকনাফের হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান মঙ্গলবার রাতে হাশিমের মরদেহ পাওয়ার খবর নিশ্চিত করে ঘটনাস্থলের দিকে যাওয়ার তথ্য জানিয়েছিলেন। তিনি জানান, সারা রাত ক্যাম্পে তল্লাশি চলেছে। এখনো চলছে। কিন্তু যে স্থানে মরদেহটি থাকার কথা সেখানে এসে তা পাওয়া যায়নি। 

কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের রোহিঙ্গা শিবিরে কথিত আরসা নেতা মোহাম্মদ হাশিমের মরদেহ পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছিল পুলিশ। রোহিঙ্গাদের পিটুনিতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। এ সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। তবে বুধবার দুপুর পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়েও তার মরদেহটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। কে বা কারা তাকে হত্যা করে মরদেহ গায়েব করেছে-তার অনুসন্ধানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহত হাশিমের টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনছিপ্রাংয়ের ২২ নম্বর ক্যাম্পের মৃত নুরুল আমিনের ছেলে। তিনি কথিত আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ ছিলেন। অবশ্য বাংলাদেশে আরসার কোনো অস্তিত্ব নেই বলে দাবি করছে প্রশাসন।

টেকনাফের হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান মঙ্গলবার রাতে মরদেহ পাওয়ার খবর নিশ্চিত করে ঘটনাস্থলের দিকে যাওয়ার তথ্য জানিয়েছিলেন। তিনি জানান, সারা রাত ক্যাম্পে তল্লাশি চলেছে। এখনো চলছে। কিন্তু যে স্থানে মরদেহটি থাকার কথা সেখানে এসে তা পাওয়া যায়নি।

‘১৬ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম ২২ নম্বর ক্যাম্পে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে।’ যোগ করেন এসআই মাহমুদুল।

তিনি জানান, কিছুদিন আগে মাহমুদুল করিম নামে এক রোহিঙ্গাকে হত্যার পর তার মরদেহ গায়েব করা হয়। ক্যাম্পটি অতি দুর্গম এলাকায় হওয়ায় ৪৩ দিন পর তার মরদেহ মিলেছিল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, আরসার নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল হাশিমের। তিনি সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা ও মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে ৬ জন হত্যার অন্যতম হুকুমদাতা বলে অভিযোগ রয়েছে। তার মৃত্যুর বিষয়টি অনেকটাই তারা নিশ্চিত। কিন্তু মরদেহটি কোথায় গায়েব করা হয়েছে তার অনুসন্ধান চলছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চাহিদার আখই পাচ্ছে না চিনিকল, গুনছে লোকসান 

চাহিদার আখই পাচ্ছে না চিনিকল, গুনছে লোকসান 

নাটোর চিনিকলে গত অর্থবছরে আখ দেয়া চাষিদের জমির পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৫৮৪ একর। এই অর্থবছরে সেখানে আখ চাষ হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৫৩৫ একর জমিতে। নর্থবেঙ্গল চিনিকলের অবস্থাও একই। ২৬ হাজার ৫০ একর জমি থেকে কমে এবার আখ চাষ হয়েছে ১৪ হাজার ৫৬৪ একরে।

নতুন মৌসুমে আখ মাড়াই শুরু হয়েছে নাটোর চিনিকল ও নর্থবেঙ্গল চিনিকলে। কাজ শুরু হলেও নাটোরের এই দুই চিনিকল সক্ষমতার অর্ধেক সময়ও চলবে না আখ সংকটে।

তীব্র আখ সংকটের কারণে কয়েক বছর ধরেই চিনিকল দুটি গুনছে লোকসান। গত মৌসুমেও নাটোর চিনিকল গুনেছে ৩২ কোটি টাকা লোকসান। নর্থবেঙ্গলের ক্ষতি ছিল ২০ কোটি টাকা।

এমন পরিস্থিতিতে যেখানে আখ উৎপাদন বাড়ানোর কথা ছিল সেখানে এ বছর আখ উৎপাদন হয়েছে অর্ধেকেরও কম জমিতে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে নাটোর চিনিকলে আখ দেয়া চাষিদের জমির পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৫৮৪ একর। ২০২০-২১ অর্থবছরে সেখানে আখ চাষ হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৫৩৫ একর জমিতে।

চিনিকলের কর্মকর্তারা বলছেন, এই জমির আখ দিয়ে চিনিকল চলবে মাত্র এক মাস, অথচ প্রায় ছয় মাস ধরে চলবে আখ মাড়াইয়ের মৌসুম।

নর্থবেঙ্গল চিনিকলের অবস্থাও একই। ২৬ হাজার ৫০ একর জমি থেকে কমে এবার আখ চাষ হয়েছে ১৪ হাজার ৫৬৪ একরে।

আখ চাষিরা বলছেন, দাম কমসহ সময় মতো টাকা না পাওয়ায় আখ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন তারা। আবার সরকার থেকেও তাদের প্রণোদনাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয় না।

নাটোর চিনিকলে এ বছর আখ মাড়াই শুরু হয় ৩ ডিসেম্বর। আর ২৬ নভেম্বর মাড়াই শুরু করেছে নর্থবেঙ্গল চিনিকল।

গত দুই-তিন বছর ধরেই এ দুই চিনিকল চাহিদা অনুযায়ী আখ না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যায়। এবারও একই অবস্থা হবে।

নাটোর সদর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের আখচাষি মামুন হোসেন জানান, আগে তার বাবা-চাচারা প্রায় ৪৫ বিঘা জমিতে আখ চাষ করতেন। কম দামের পাশাপাশি সময় মতো পাওনা না পাওয়ায় তারা এখন পাঁচ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেন।

একই গ্রামের আখচাষি কামরুল ইসলাম জানান, এখন কৃষি জমিতে বছরে দুই-তিন ধরনের ফসল হয়। সেই ফসল নগদে বিক্রি করা যায়। অন্যদিকে বিঘা প্রতি আখের যা ফলন হয় তা দিয়ে লাভ হয় না।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে এক মণ আখের দাম ১৪০ টাকা, যা অন্য ফসলের তুলনায় খুবই কম। এ ছাড়া জমি তৈরি, সার, বীজ, শ্রমিক খরচ সব নগদ টাকায় করতে হলেও সুগার মিলে আখ সরবরাহ করে বছরের পর বছর টাকার জন্য ধরনা দিতে হয়। তাই তারা আখ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

চিনিকল বাঁচাতে সরকারকে উন্নতমানের বীজ, সারসহ সবকিছু কৃষকদের মাঝে সহজ শর্তে সরবরাহ করতে হবে বলেও জানান তিনি।

আখের দাম নিয়ে আখচাষি মামুন জানান, বর্তমান জাতে এক একর জমিতে এখন আখ পাওয়া যায় ৩০০ মণের মতো। ১৪০ টাকা মণ হিসাবে সেখান থেকে পাওয়া যায় ৪২ হাজার টাকা। উৎপাদন খরচ লাগে ১৮-২০ হাজার টাকা। এক একর জমিতে সারা বছরে মাত্র ১৫-২০ হাজার টাকা লাভে কিছুই হয় না।

তিনি আরও জানান, উন্নতজাতের আখের পাশাপাশি ভালো মতো সার ও পরিচর্যা করলে এই আখই একরে ৭৫০ মণ পাওয়া যায়। তাতে উৎপাদন খরচ বেড়ে ৩০-৩৫ হাজার টাকায় যাবে। মণপ্রতি দাম ২০০ টাকা দিলে সেক্ষেত্রে চিনিকলের পাশাপাশি তারাও লাভবান হতেন।

তবে সরকারি সহায়তা না থাকা ও পাওনা পেতে দেরি হওয়ায় তারা এখন আখ চাষের আগ্রহই হারিয়ে ফেলেছেন।

নাটোর চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মসলেম উদ্দিন বলেন, ‘চিনিশিল্পকে সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করে এদিকে সরকারের বিশেষ নজর দিতে হবে। আখচাষিদের প্রণোদনার আওতায় এনে তাদের মধ্যে উন্নতমানের বীজ সরবরাহের মাধ্যমে সংকট নিরসন হবে। সেই সঙ্গে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতসহ সময়মতো কৃষকদের টাকা পরিশোধ করতে হবে।’

আখ সংকটে নির্ধারিত সময়ের আগেই মিল বন্ধ করতে বাধ্য হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নাটোর চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আনোয়ার হোসেন জানান, গত বছর এ চিনিকলে লোকসান ছিল ৩২ কোটি টাকা। তবে তারা সংকট নিরসনে কৃষকদের সময় মতো পাওনা টাকা দেয়া, উন্নতমানের বীজ সরবরাহসহ চিনিকলের উন্নয়নে সব উদ্যোগ নিচ্ছে।

এরই মধ্যে শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা এবং বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের অতিরিক্ত সচিব আরিফুল ইসলাম তপু নাটোরের দুই চিনিকল পরিদর্শন করেছেন বলে জানালেন আনোয়ার।

তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষকদের প্রণোদনাসহ উন্নতমানের বীজ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছি। চলতি বছর নাটোর চিনিকলে এক লাখ টন আখ মাড়াই করে সাত হাজার ৬০০ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।’

নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবীর জানান, এই চিনিকলে চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৮৬ টন আখ মাড়াই করে ১৩ হাজার ৬০০ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গত বছর করোনাভাইরাসের কারণে কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের বীজ ও সার সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। এ বছর চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন চিনিকলের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছে। সবার সম্মিলিত উদ্যোগ আবারও চিনিকল লাভের মুখ দেখবে বলে আশা করছি।’

শেয়ার করুন

করতোয়ার তীরে মস্তকহীন নবজাতক

করতোয়ার তীরে মস্তকহীন নবজাতক

উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে নবজাতকের মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। খণ্ডিত মাথাটি খোঁজার চেষ্টা চলছে।’

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় করতোয়া নদীর তীর থেকে মস্তকহীন এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের কালিগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকা থেকে শনিবার বিকেলে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবীর।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে নবজাতকের মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। খণ্ডিত মাথাটি খোঁজার চেষ্টা চলছে।

‘ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার রাতে কোনো একসময় শিশুটির জন্ম হয়েছিল। কিছু সময়ের মধ্যে হত্যা করা হয় নবজাতককে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

উল্লাপাড়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নবজাতকের মাথা উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্তে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে কাজ করছে পুলিশ। থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

শেয়ার করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৮

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৮

নবীনগর থানার সামনে দুপক্ষের সংঘর্ষে আটজন আহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে নবীপুর গ্রামের শাওন নামে এক যুবককে শ্রীরামপুর এলাকায় আলমনগর গ্রামের কয়েকজন মারধর করে। এ ঘটনার জেরে বিকেলে নবীনগর থানার সামনে দুপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার সামনে পূর্ববিরোধের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষে তিন পুলিশ কর্মকর্তাসহ আটজন আহত হয়েছেন।

উপজেলার নবীপুর ও আলমনগর গ্রামের লোকজন শনিবার বিকেলে থানা গেটের সামনে গিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আজিজ, আশরাফুল ইসলাম ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল্লাহ আল মামুন। বাকিরা হলেন শাওন মিয়া, কাউছার মিয়া, ছুবুর মিয়া, পাবেল মিয়া ও রাজিব।

ওসি জানান, কয়েক মাস ধরে নবীনগর ইউনিয়নের নবীপুর ও পৌর এলাকার আলমনগর গ্রামের যুবকদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। উভয়পক্ষ একে অন্যের বিরুদ্ধে মামলাও করেছে।

স্থানীয়দের বরাতে ওসি আরও জানান, শনিবার সকালে নবীপুর গ্রামের শাওন নামে এক যুবককে শ্রীরামপুর এলাকায় আলমনগর গ্রামের কয়েকজন মারধর করেন। এ ঘটনার জেরে বিকেলে নবীনগর থানার সামনে দুপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে পুলিশের তিন কর্মকর্তাসহ আটজন আহত হন। তাদের নবীনগর সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানেও সংঘর্ষ হয়।

দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান ওসি আমিনুর।

শেয়ার করুন

ইন্সপেক্টরের সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গ’, সেই নারী পুলিশকেও প্রত্যাহার

ইন্সপেক্টরের সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গ’, সেই নারী পুলিশকেও প্রত্যাহার

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ জাবেদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ওই নারী কনস্টেবলকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি ছুটিতে থাকা অবস্থায় প্রদীপ কুমার দাসের কক্ষে রাতের বেলা কী কারণে গেলেন, তা জানাতে তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) আদালত পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) প্রদীপ কুমার দাসের সঙ্গে অন্তরঙ্গ হওয়ার অভিযোগে নারী কনস্টেবলকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে।

এর আগে একই অভিযোগে প্রদীপ কুমার দাসকেও ক্লোজড করা হয়।

অভিযুক্ত ওই নারী কনস্টেবল ছুটিতে ছিলেন। তার ছুটি বাতিল করে ক্লোজড করা হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ জাবেদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ওই নারী কনস্টেবলকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে যুক্ত করা হয়।

পাশাপাশি ছুটিতে থাকা অবস্থায় প্রদীপ কুমার দাসের কক্ষে রাতের বেলা কী কারণে গেলেন, তা জানাতে তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার রাতে আদালতে নিজ কক্ষে নারী কনস্টেবলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার অভিযোগ উঠে প্রদীপ কুমার দাসের বিরুদ্ধে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ছুটিতে থাকা ওই নারী কনস্টেবলকে রাতে কোর্ট বিল্ডিংয়ে নিজ কক্ষে ডেকে নেন কোর্ট ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার দাস। রাত ৯টার দিকে কোর্ট ইন্সপেক্টরের কক্ষের দরজা খোলা এবং ভেতরে আলো নেভানো দেখে অন্য পুলিশ সদস্যরা সেই কক্ষে ঢোকেন। আলো জ্বালানোর পর দুজনকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখতে পান। পরে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।

এরপর ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার দাসকে ক্লোজড করে গত বৃহস্পতিবার পুলিশ লাইন্সে যুক্ত করা হয়।

অভিযুক্তের সত্যতা পেলে প্রদীপের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফউল্লাহ তাহের।

শেয়ার করুন

দুই সন্তানকে ‘হত্যার’ পর মায়ের ‘আত্মহত্যা চেষ্টা’

দুই সন্তানকে ‘হত্যার’ পর মায়ের ‘আত্মহত্যা চেষ্টা’

প্রতীকী ছবি

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার জাকির হাসান (উত্তর) নিউজবাংলাকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে শিশু দুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন মা লিজা আক্তার। অচেতন লিজাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গাজীপুর সদরের মুক্তারটেক এলাকায় একটি বাড়ি থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

২৬ নম্বর ওয়ার্ডের তিনতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলো চার বছরের তাসকিয়া জাহান ও ৯ মাস বয়সী তাসনিম জাহান।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার জাকির হাসান (উত্তর) নিউজবাংলাকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে শিশু দুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন মা লিজা আক্তার। অচেতন লিজাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শিশুদের বাবা বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। সন্তানদের নিয়ে দুই মাস ধরে এই বাসায় ভাড়া থাকছেন তারা। কিছুদিন ধরে মানসিক রোগে ভুগছিল লিজা।

‘শনিবার বিকেল ৫টার দিকে বাচ্চাদের জন্য নাস্তা কিনতে বাইরে গিয়েছিলাম। ১ ঘণ্টা পর বাড়ি ফিরে দেখি ওড়না পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে লিজা। বিছানায় পড়ে আছে বাচ্চাদের নিথর দেহ। আমার চিৎকারে আশপাশের লোকজন লিজাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।’

পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) জাকির হাসান বলেন, ‘মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শিশুদের মা সুস্থ হলে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

শেয়ার করুন

‘গ্রেপ্তার জঙ্গিদের ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ছিল তাদের’

‘গ্রেপ্তার জঙ্গিদের ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ছিল তাদের’

নীলফামারীর মাঝাপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ৫ জনকে। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব-১৩ জানায়, গোপন সংবাদে শুক্রবার রাতে সদরের মাঝাপাড়ার একটি বাড়ি থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় বোমা তৈরির সরঞ্জাম, একটি দেশীয় পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও পাঁচ রাউন্ড গুলি।

নিষিদ্ধ সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) রংপুর অঞ্চলের সামরিক প্রধান আহিদুল ইসলামসহ পাঁচজন আটক হয়েছেন নীলফামারীতে।

গোপন সংবাদে শুক্রবার রাতে সদরের মাঝাপাড়ার একটি বাড়ি থেকে তাদের আটক করে র‍্যাব। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় বোমা তৈরির সরঞ্জাম, একটি দেশীয় পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও পাঁচ রাউন্ড গুলি।

আটকরা হলেন রংপুর অঞ্চলের সামরিক প্রধান আহিদুল ইসলাম আহিদ ওরফে পলাশ, ওয়াহেদ আলী ওরফে আব্দুর রহমান, আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে ডা. সুজা, জাহিদুল ইসলাম ওরফে জাহিদ, নুর আমিন ওরফে সুবজ। তাদের সবার বাড়ি নীলফামারী জেলায়।

রংপুর র‌্যাব-১৩ কার্যালয়ে শনিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার শেখ আল মঈন।

তিনি জানান, গ্রেপ্তার জঙ্গিদের আদালতে নেয়ার পথে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ছিল তাদের। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাঝপাড়া থেকে তাদের আটক করা হয়।

‘দুই-তিন বছর আগে আহিদুলের মাধ্যমে বাকি চারজন জেএমবিতে যোগ দেন। ইন্টারনেট ঘেঁটে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ নেয়া এই পাঁচজন সদস্য সংগ্রহের কাজও করতেন।

আটকদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান র‍্যাবের এই কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

‘পোয়া বারেটার ভিতুর আইবো হই, ন আইলো আর’

‘পোয়া বারেটার ভিতুর আইবো হই, ন আইলো আর’

দুর্ঘটনা কবলিত সিএনজি ঘিরে মানুষের ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা

সাতরাজের মরদেহ বাড়িতে নেয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মা। নিউজবাংলার কাছে বলতে থাকেন, ‘আঁর পোয়া হদ্দে বিএনসিসির জরুরি হাজ, যনই পরিবো। হিতারা পাঁচজনেরে ডাইক্কি। হয়জে (বলছে), বই থাকক (বইগুলো এভাবে থাক), আঁই আইয়িনে পইত্তাম বস্সুম (পড়তে বসব)। যঅন আর আইয়্যুন শুধু (যাব আর আসব)। ওমা.... আঁর পোয়া বারেটার ভিতুর আইবো হই, ন আইলো আর।’

বাসা থেকে বের হয়ে কিছু সময় পরই আবার ফিরতে চেয়েছিলেন কিশোর সাতরাজ উদ্দিন শাহিন। তবে তা আর হয়নি। ফিরেছে তার মরদেহ। সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা শামিমা আক্তার। বিলাপ করতে করতে যেন পাথর হয়ে গেছেন।

শনিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের খুলশীতে ডেমু ট্রেন, বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং মাহিন্দ্রের সংঘর্ষে ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবলসহ যে তিনজন নিহত হন তাদের একজন সাতরাজ।

সাতরাজের মরদেহ বাড়িতে নেয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মা। নিউজবাংলার কাছে বলতে থাকেন, ‘আঁর পোয়া হদ্দে বিএনসিসির জরুরি হাজ, যনই পরিবো। হিতারা পাঁচজনেরে ডাইক্কি। হয়জে (বলছে), বই থাকক (বইগুলো এভাবে থাক), আঁই আইয়িনে পইত্তাম বস্সুম (পড়তে বসব)। যঅন আর আইয়্যুন শুধু (যাব আর আসব)। ওমা.... আঁর পোয়া বারেটার ভিতুর আইবো হই, ন আইলো আর।’

জানা যায়, সাতরাজের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছিল। সোমবার ছিল তার পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষা। এদিন সকালে বিএনসিসির জরুরি কাজে কলেজে যাচ্ছিলেন তিনি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর হামজারবাগের বাসা থেকে জিইসি হয়ে মাহিন্দ্রতে পাহাড়তলী কলেজের উদ্দেশে যাওয়ার পথে খুলশীতে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। এ দুর্ঘটনায় নিহত হন সাতরাজসহ তিনজন। আহত হন অন্তত ছয়জন।

একমাত্র ভাইকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল ইসতিয়াক উদ্দিন সায়েম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকালে আম্মু, আমি আর ভাইয়া তিনটা রুটি দিয়ে নাস্তা করেছিলাম। আমি কোচিং থেকে আসার পর আরবি পড়তে বসি। এ সময় ভাইয়া পড়ছিলেন। কিছুক্ষণ পর দেখি ভাইয়া বাইরে যাচ্ছে। আম্মুকে বলছে ১২টার মধ্যে চলে আসব৷ ’

নিহত সাতরাজের মামা ইউসুফ সিদ্দিক আজম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুই ভাইয়ের মধ্যে সাতরাজ উদ্দিন বড়। পাহাড়তলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এইচএসসি দিচ্ছিল এবার। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) সঙ্গে যুক্ত ছিল, বিএনসিসি এয়ার উইংয়ের ক্যাডেট আন্ডার অফিসার ছিল সাতরাজ। বিএনসিসির কাজেই কলেজে যাচ্ছিল সে।

‘চট্টগ্রাম শহরের হামজারবাগ এলাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতো৷ ওই এলাকায় বাবা ফজল করিমের একটি মুদি দোকান আছে। দোকানের আয় দিয়েই দুই ছেলেকে পড়াশোনা করাচ্ছিলেন তিনি।’

শেয়ার করুন