ফেসবুকে বন্ধ হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় ট্যাগিং অপশন

ফেসবুকে বন্ধ হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় ট্যাগিং অপশন

ফেসবুক জানিয়েছে, দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। এটি বন্ধ করতে তারা এখন ধাপে ধাপে ১০০ কোটির বেশি ব্যবহারকারীর ‘ফেসিয়াল রিকগনেশন টেমপ্লেট’ মুছে ফেলবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক তার জনপ্রিয় ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম (চেহারা শনাক্ত করার ব্যবস্থা) বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। ছবি ও ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করার এ প্রযুক্তি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ করা হবে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে ফেসবুক।

এর ফলে আগামীতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবি বা ভিডিওতে ট্যাগিং অপশন আর আসবে না, এটি করা যাবে ম্যানুয়ালি।

নতুন পদক্ষেপ বাস্তবায়নে ১০০ কোটির বেশি মানুষের ‘ফেসিয়াল রিকগনিশন টেমপ্লেট’ মুছে ফেলার ঘোষণাও দিয়েছে ফেসবুক।

জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মটির ব্যবহারকারীদের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে ওঠা গুরুতর উদ্বেগের মধ্যেই এ ঘোষণা দেয়া হলো। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন ও ফেসবুকের ব্লগে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে ফেসবুকের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেরমি পেসেন্টি একটি ব্লগ পোস্টে লিখেছেন, ‘ব্যবস্থাপকরা এখনও এটি পরিচালনায় একটি সুস্পষ্ট নিয়ম দেয়ার চেষ্টা করছেন। চলমান এই অনিশ্চয়তার মধ্যে আমরা বিশ্বাস করি, এটির ব্যবহার নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আনাই উপযুক্ত।’

বিশ্বের বৃহত্তম সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মটি গত কয়েক বছর ধরেই প্রযুক্তি ব্যবহারের নৈতিকতার নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখে রয়েছে।

সমালোচকরা বলছেন, সাধারণ বিক্রেতা, হাসপাতাল এবং বিভিন্ন ব্যবসায় যুক্ত মানুষদের কাছে জনপ্রিয় এই প্রযুক্তি গোপনীয়তা লঙ্ঘন, প্রান্তিক গোষ্ঠীকে টার্গেট করা এবং নজরদারিতে ব্যবহার হতে পারে।

ফেসবুক তাদের ব্লগে দেয়া পোস্টে জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মগুলোর অপব্যবহারের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রক ও আইন প্রণেতাদের গভীর তদন্তের মধ্যে রয়েছে।

ফেসিয়াল রিকগনিশন বন্ধের বিষয়ে টেক জায়ান্টটি জানিয়েছে, দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। এটি বন্ধ করতে তারা এখন ধাপে ধাপে ১০০ কোটির বেশি ব্যবহারকারীর ‘ফেসিয়াল রিকগনিশন টেমপ্লেট’ মুছে ফেলবে।

ফেসবুকের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, অপসারণের কাজটি বিশ্বব্যাপী চালু হবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে এটি শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফেসিয়াল রিকগনিশন বন্ধ হলে ফেসবুকের স্বয়ংক্রিয় অল্টারনেটিভ টেক্সট টুলের (এটিটি) ওপর বিশেষ প্রভাব ফেলবে। এটি দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ছবির একটি বর্ণনা তৈরি করে। এটি বন্ধ হয়ে গেলে এখন আর ছবিতে কারা আছে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানাবে না ফেসবুক। তবে এটিটির অন্যান্য ব্যবহার স্বাভাবিক থাকবে।

টেক জায়ান্টটি জানিয়েছে, প্রযুক্তিটি এখন কিছু নির্দিষ্ট সেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। লক হয়ে যাওয়া অ্যাকাউন্টগুলো চালু, ব্যক্তিগত ডিভাইস আনলক করার মতো কাজে এটি ব্যবহার হবে।

আরও পড়ুন:
চার মাসে বাংলাদেশে ফেসবুকের ব্যবসা ৭০ কোটি টাকার
জাকারবার্গের মেটা ও মেটাভার্স কী
ফেসবুকে যোগ দিচ্ছেন শাবিপ্রবির দুই ছাত্র
ফেসবুকের নতুন নাম ‘মেটা’
ফেসবুক-ইউটিউবের কনটেন্ট সরাতে পারে বাংলাদেশ: জব্বার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সেই জেব্রা ক্রসিংয়ের মালিকানা কার

সেই জেব্রা ক্রসিংয়ের মালিকানা কার

জেব্রা ক্রসিং দেখা গেলেও রাস্তা পার হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। ছবি: নিউজবাংলা

আশরাফুল ইসলাম নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী বলেন, ‘এখানে ক্রসিং দিয়ে চালকদের ধোঁকা দেয়া হয়েছে। কারণ এই চিহ্ন দেখলে যানবাহনের গতি কমিয়ে দেয়ার কথা। তবে রাস্তা পার হওয়ার তো ব্যবস্থা নেই। আমার মনে হয়, এটির কোনো প্রয়োজনই নেই। আবার যদি ক্রসিং দেয়াই হলো, তবে সেখানে পকেট গেট কেন রাখা হলো না।’

রাজশাহীর রেলস্টেশন থেকে ভদ্রা মোড় পর্যন্ত রাস্তায় আছে বেশ কয়েকটি জেব্রা ক্রসিং। কিছুদূর পরপর রাস্তা পার হতে রাখা হয়েছে পকেট গেট।

ছোট এসব গেট জেব্রা ক্রসিংয়ের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে শুভ পেট্রল পাম্পের পাশে একটি জেব্রা ক্রসিং দেখা গেলেও রাস্তা পার হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। বিভাজক অংশে লোহার পাত, রড বসানো হয়েছে। মাঝখানে লাগানো হয়েছে গাছ। সম্প্রতি এই ক্রসিংয়ের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, কীভাবে এই জেব্রা ক্রসিংটি এলো সেটি তাদের অজানা।

সরেজমিন দেখা গেছে, জেব্রা ক্রসিংয়ের এক পাশে কোনো স্থাপনা নেই। অন্য পাশে রয়েছে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগ। রাস্তায় সাদা প্রলেপ দেয়া জায়গাটি থেকে এক পাশে প্রায় ২০ গজ দূরে আছে ছোট পকেট গেট। আরেক পাশে প্রায় ৫০ গজ দূরে আছে ইউটার্ন নেয়ার মতো রাস্তা। এ অবস্থায় সেখানে এই জেব্রা ক্রসিংয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আশরাফুল ইসলাম নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী বলেন, ‘এখানে ক্রসিং দিয়ে চালকদের ধোঁকা দেয়া হয়েছে। কারণ এই চিহ্ন দেখলে যানবাহনের গতি কমিয়ে দেয়ার কথা। তবে রাস্তা পার হওয়ার তো ব্যবস্থা নেই। আমার মনে হয়, এটির কোনো প্রয়োজনই নেই। আবার যদি ক্রসিং দেয়াই হলো, তবে সেখানে পকেট গেট কেন রাখা হলো না।’

পথচারী ষাটোর্ধ্ব আবুল কাশেমকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রথমে তিনি হাসতে শুরু করেন। তিনি বলেন, এই পথ দিয়ে তিনি মাঝেমধ্যে যাওয়া-আসা করেন। তবে এভাবে তার নজরে আসেনি। এটি বড় কোনো ঘটনা না হলেও একটা ভুল। কর্তৃপক্ষের এটি নজরে নেয়া বা ভাবনা থাকা উচিত ছিল।’

৫০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে নিজের ফ্যান পেজে পোস্ট করেন মাহফুজ আরেফিন নামে এক কৌতুকশিল্পী। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ভিডিওটি দেখা হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার বার। এতে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন প্রায় তিন হাজার মানুষ।

রহমান শিশির নামে একজন কমেন্টে লিখেছেন, ‘হাইজাম্প শেখার প্রয়োজনীয়তা থেকেই যে এটা করা হয়েছে তা কে বোঝাবে!’

মেরাজ মুহাম্মদ মেসবাহ নামে একজন লিখেছেন, ‘কাজলা এবং মেইন গেটে স্পিড ব্রেকারের ওপর দিয়ে জেব্রা ক্রসিং দেয়া। মানে কী বলব বুঝতে পারছি না।’

নবিউল ইসলাম নামে একজন লিখেছেন, ‘মুরগি দিয়ে হাল চাষ করলে এমনই হয়।’

পোস্টদাতা কৌতুকশিল্পী মাহফুজ আরেফিন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের কমেডি রিয়েলিটি শো ‘হা-শোর’ সিজন পাঁচে অংশ নিয়েছিলেন।

সেই জেব্রা ক্রসিংয়ের মালিকানা কার


নিউজবাংলাকে মাহফুজ আরেফিন বলেন, ‘আমি ওই রাস্তা দিয়েই নিয়মিত যাওয়া-আসা করতাম। দেখতাম জেব্রা ক্রসিং দিয়ে কেউ পার হচ্ছে না। সেখান থেকে ১০-১২ হাত দূর দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে। সেটি দেখতে গিয়ে দেখি জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। সেখান থেকে ১০-১২ হাত দূরে পকেট গেট আছে।

‘আমার মনে হয়, সেখানে লোহার রড দিয়ে যে ডিভাইডার দেয়া হয়েছে, ভুলটা সেখানেই হয়েছে। যে গেটটি ১০ হাত দূরে করেছে, সেটি ক্রসিং চিহ্নর সামনে করলে এটা নিয়ে কথা উঠত না।’

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নজরে এসেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগেরও। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নূর ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ক্রসিংয়ের বিষয়টি আমাদেরও নজরে এসেছে। এটি সিটি করপোরেশনের দেয়া জেব্রা ক্রসিং কিনা এটি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যতটুকু মনে হচ্ছে, এটি আমাদের করা নয়। এটি কে করেছে, কখন করেছে, কেন করেছে এসব আমরা খতিয়ে দেখছি।’

যে কেউ যে কোনো স্থানে ইচ্ছে হলেই জেব্রা ক্রসিং দিতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ জন্য প্রশাসন রয়েছে। এসব দেয়ার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা হয়। তারপর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা জানার চেষ্টা করছি আদৌ সেখানে কোনো ক্রসিং দরকার আছে কি না। যদি থাকে তবে পকেট গেট করে দেব। আর না থাকলে ক্রসিং মুছে দেয়ার ব্যবস্থা করব।’

আরও পড়ুন:
চার মাসে বাংলাদেশে ফেসবুকের ব্যবসা ৭০ কোটি টাকার
জাকারবার্গের মেটা ও মেটাভার্স কী
ফেসবুকে যোগ দিচ্ছেন শাবিপ্রবির দুই ছাত্র
ফেসবুকের নতুন নাম ‘মেটা’
ফেসবুক-ইউটিউবের কনটেন্ট সরাতে পারে বাংলাদেশ: জব্বার

শেয়ার করুন

‘কাঁচা বাদাম’ গানের কপিরাইট চান ভুবন

‘কাঁচা বাদাম’ গানের কপিরাইট চান ভুবন

গান গেয়ে বাদাম বিক্রি করছেন ভারতের ভুবন বাদ্যকর। ছবি: সংগৃহীত

ভুবন বলেন, ‘গানটি ভাইরাল হওয়ার পর আমার বাড়িতে মানুষের আনাগোনা বেড়ে গেছে। তারা গানের ভিডিও করছেন। পরে সেই গান ইন্টারনেটে ছেড়ে অনেক টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন। অথচ আমার হাত খালি।’

বাদাম বাদাম, দাদা কাঁচা বাদাম, আমার কাছে নাই গো বুবু ভাজা বাদাম... গানটি নিয়ে তোলপাড় নেট দুনিয়ায়। বিশ্বজুড়ে বাংলাভাষাভাষিদের কাছে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে গানটি।

এর গায়ক ভুবন বাদ্যকর। ভারতের বীরভূমের কুড়ালজুড়ি গ্রামের ভুবন পেশায় বাদাম বিক্রেতা। আর সুর নিয়ে খেলা তার নেশা।

গানটিকে রিমেক করে সামাজিক মাধ্যমগুলোয় বাহবা কুড়িয়ে নিচ্ছেন বহু মানুষ। কামিয়ে নিচ্ছেন টাকাও। আর এখানেই আপত্তি ভুবন বাদ্যকরের। অর্থ তো পাচ্ছেনই না, মিলছে না কৃতজ্ঞতাও।

ক্ষুব্ধ ভুবন বিষয়টিকে মেনে নিতে পারছেন না। উপায়ান্তর না দেখে সরাসরি থানায় গিয়ে অভিযোগ করে বসলেন।

ভুবন বলেন, ‘গানটি ভাইরাল হওয়ার পর আমার বাড়িতে মানুষের আনাগোনা বেড়ে গেছে। তারা গানের ভিডিও করছেন। পরে সেই গান ইন্টারনেটে ছেড়ে অনেক টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন। অথচ আমার হাত খালি।’

ইউটিউবে গানটির স্বত্ব ‘সংরক্ষিত’ দেখানো হলেও সেখানে নিজের কোনো অ্যাকাউন্টই নেই বলে জানিয়েছেন ভুবন।

বিষয়টি তদন্ত করে দুবরাজপুর থানা পুলিশ যেন তার প্রাপ্য টাকা পাইয়ে দেয়, সেই দাবি ভুবনের।

গান জনপ্রিয় হওয়ায় রীতিমতো খ্যাতির বিড়ম্বনায় পড়েছেন ভুবন। রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া ভুবনকে দেখলেই লোকজন ছুটে আসে। তার সঙ্গে ছবি তুলতে চায়। আর এ কারণে শুক্রবার হেলমেট পরে থানায় উপস্থিত হন।

মজার বিষয় হলো থানায় যখন হেলমেট খোলেন, সেখানেও বেঁধে যায় জটলা। ছবি তোলার আবদার নিয়ে আসেন অনেকেই। অবশ্য হাসিমুখেই তাদের আবদার মেটান ভুবন বাদ্যকর।

আরও পড়ুন:
চার মাসে বাংলাদেশে ফেসবুকের ব্যবসা ৭০ কোটি টাকার
জাকারবার্গের মেটা ও মেটাভার্স কী
ফেসবুকে যোগ দিচ্ছেন শাবিপ্রবির দুই ছাত্র
ফেসবুকের নতুন নাম ‘মেটা’
ফেসবুক-ইউটিউবের কনটেন্ট সরাতে পারে বাংলাদেশ: জব্বার

শেয়ার করুন

‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবার ‘সাক্ষ্য আইনের বিতর্কিত ধারা’

‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবার ‘সাক্ষ্য আইনের বিতর্কিত ধারা’

নিজের আইনগত অধিকার সম্পর্কে না জানলে যে কেউ কোনো বিষয়ে ভুল পরামর্শ দিয়ে আপনাকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে। কোনো নাগরিক রাষ্ট্রের কাছে কী কী সুযোগ-সুবিধার অধিকারী, সেটি যদি তিনি না জানেন, তাহলে তিনি ন্যায্য দাবি আদায় করতে পারবেন না।

সব ধরনের আইনি পরামর্শ ও সহায়তা দিতে নিউজবাংলার নিয়মিত আয়োজন ‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবারের বিষয়: সাক্ষ্য আইনের বিতর্কিত ধারা’। প্রচারিত হবে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

শবনম ফারিয়ার সঞ্চালনায় শনিবার এ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার হবে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

আলোচনায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ব্যারিস্টার মিতি সানজানা ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের আইন বিভাগের প্রভাষক মেহেরবা সাবরীন। অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করা হবে শাহ্‌ সিমেন্টের সৌজন্যে।

‘আমার আইন, আমার অধিকার’ সম্পর্কে নিউজবাংলার এক মুখপাত্র বলেন, আইন জানা নাগরিকের জন্য একান্ত প্রয়োজন। আইন ও আইনজীবী- এই শব্দগুলো নিয়ে একধরনের ভীতি কাজ করে। তবে আইনের আশ্রয় লাভ করা একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।

নিজের আইনগত অধিকার সম্পর্কে না জানলে যে কেউ কোনো বিষয়ে ভুল পরামর্শ দিয়ে আপনাকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে। কোনো নাগরিক রাষ্ট্রের কাছে কী কী সুযোগ-সুবিধার অধিকারী, সেটি যদি তিনি না জানেন, তাহলে তিনি ন্যায্য দাবি আদায় করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, নাগরিকের আইনি অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি সহজভাবে জানাতে কাজ করবে ‘আমার আইন, আমার অধিকার’। দেয়া হবে পরামর্শ। প্রয়োজনে তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরাসরি আইনি সহায়তাও দেয়া হবে।

আইনি সুবিধাবঞ্চিত আর্থিকভাবে অসহায় ভুক্তভোগীরা এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে আইনি সহায়তা চাইলে তাদের পাশে দাঁড়াবে নিউজবাংলার ‘আমার আইন, আমার অধিকার’।

বিনা মূল্যে আইনি পরামর্শ এবং সহায়তা পেতে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চোখ রাখুন নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

অনুষ্ঠান চলাকালে ফোন করুন ০২৫৫০৫৫২৮৯ নম্বরে। এ ছাড়া সমস্যা জানাতে ০১৯৫৮০৫৬৬৬৮ নম্বরে ফোন করুন যেকোনো সময়। হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন ভিডিও করেও পাঠাতে পারেন একই নম্বরে।

নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ https://www.facebook.com/nwsbn24 এবং ই-মেইল [email protected]এ মেসেজ পাঠানোরও সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন:
চার মাসে বাংলাদেশে ফেসবুকের ব্যবসা ৭০ কোটি টাকার
জাকারবার্গের মেটা ও মেটাভার্স কী
ফেসবুকে যোগ দিচ্ছেন শাবিপ্রবির দুই ছাত্র
ফেসবুকের নতুন নাম ‘মেটা’
ফেসবুক-ইউটিউবের কনটেন্ট সরাতে পারে বাংলাদেশ: জব্বার

শেয়ার করুন

‘ভাষার অপমানে’ মোস্তফা জব্বারের ‘আত্মহত্যার ইচ্ছা’

‘ভাষার অপমানে’ মোস্তফা জব্বারের ‘আত্মহত্যার ইচ্ছা’

‘আসলে দেখেন, সংখ্যা লেখা অথবা অংক লেখা, এরকম কোনো বাধ্যবাধকতা কোনো চেকের ক্ষেত্রে নেই। ধরেন, আমি ইংরেজিতে 02 December 2021 অথবা 21 লিখতাম, তাহলে সেটার ক্ষেত্রেও কোনো আপত্তি ওদের ছিল না। আসলে এটা মানসিকতার বিষয়।’

চেকে মাসের নাম বাংলায় লেখার পর ব্যাংক থেকে প্রত্যাখানকে ‘ভাষার অপমান’ হিসেবে নিয়ে আত্মহত্যার ইচ্ছা জেগেছিল ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারের মনে। পরে নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, ‘কোন দেশে আছি?’

ঘটনাটি বৃহস্পতিবারের। টাকা তুলতে চেক দিয়ে একজনকে ব্যাংকে পাঠান মন্ত্রী। কিন্তু টাকা তুলতে ব্যর্থ হলেন সেই চেক বাহক। ব্যাংক জানাল, চেকের পাতায় তারিখ লেখা হয়েছে বাংলায়।

সেই কথা কানে আসতেই নিজের ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মোস্তফা জব্বার। তিনি লিখেছেন, ‘মন চাইছে আত্মহত্যা রি একটি চেকে মি ডিসেম্বর বাংলায় লিখেছি বলে কাউন্টার থেকে চেকটি ফেরৎ দিয়েছে কোন দেশে ছি?

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় মন্ত্রীর সঙ্গে। তবে ব্যাংকের নাম জানাতে চাইলেন না তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি ব্যাংকের নাম বলব না। কারণ, ব্যাংক একটা ভুল করেছে। সেই ভুলের জন্য অ্যাকচুয়েলি ব্যাংকের নাম সামনে আনার দরকার নেই। আমার যে ব্যবস্থা নেয়ার সে আমি নিয়েছি। এবং যথারীতি আমার চেক তারা অনার করে টাকা যে প্রাপক ছিল তাকে দিয়ে দিয়েছে।’

তাহলে সমস্যা কোথায় ছিল- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘ওরা (ব্যাংক) যে জায়গাটির মধ্যে ভুল করেছিল, সেই জায়গাটি হচ্ছে, ওদের নিজস্ব প্রসিডিওর যে চেকে তারিখের জায়গাতে বাংলায় যদি কোনো মাসের নাম লেখা হয়, ওটা ওরা প্রসেস করে না। পরবর্তীকালে আমি যখন কথা বলেছি, একেবারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত কথা বলার প্রেক্ষিতে ওরা তাদের ভুলটা বুঝতে পেরেছে এবং সেটা সংশোধন করে নিয়েছে।’

ডিসেম্বর বোঝাতে সংখ্যায় ‘১২’ লেখা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘না, ১২ লিখি নাই, আমি ডিসেম্বর লিখেছিলাম। ২ ডিসেম্বর ২১। ২ আর ২১ লিখেছিলাম সংখ্যায় আর ডিসেম্বর লিখেছিলাম কথায়।’

চেকের প্রথম পৃষ্ঠায় কথায় তারিখ লেখার সুযোগ কী আছে?-এমন প্রশ্নের জবাবে মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘আসলে দেখেন, সংখ্যা লেখা অথবা অংক লেখা, এরকম কোনো বাধ্যবাধকতা কোনো চেকের ক্ষেত্রে নেই। ধরেন, আমি ইংরেজিতে 02 December 2021 অথবা 21 লিখতাম, তাহলে সেটার ক্ষেত্রেও কোনো আপত্তি ওদের ছিল না। আসলে এটা মানসিকতার বিষয়।’

‘চেকের সবই বাংলায় লিখেছি। ওখানে একটাও ইংরেজি শব্দ নেই’ দাবি করে মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘আমি কনফার্ম করেছি, ব্যাংকের বিধি-বিধান, নিয়ম-কানুন- বাংলা লেখার ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু কাউন্টারে যে লোক ছিলেন, অথবা শাখার যে ব্যবস্থাপনা ছিল অথবা তাদের যে প্রসিডিওর আছে, নিজেরা যেটা তৈরি করেছে সেখানে তাদের গলদটা ছিল। এই গলদটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হয়েছে।’

‘ভাষার অপমানে’ মোস্তফা জব্বারের ‘আত্মহত্যার ইচ্ছা’

চেক ফিরিয়ে দেয়ার পরেও কোনো পরিবর্তন করা হয়নি বলে দাবি করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি চেকের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন করিনি। কিন্তু অবশেষে সেটাকে তারা অনার করেছেন। এবং প্রাপক, যে টাকা পাওয়ার কথা তিনি পেয়ে গেছেন।’

তবে এমন ঘটনার কোনো পুনরাবৃত্তি চান না মন্ত্রী। তিনি চান সাধারণ মানুষও যেন বাংলায় লিখে, তার প্রাপ্য সেবাটা বুঝে পান।

তিনি বলেন, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষ মানেই তো ব্যাংক, আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তাদের সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। আমার ধারণা, এই ক্ষেত্রে কেউ দ্বিমত পোষণ করবেন না।

‘ইভেন আমি যে ব্যাংক, তাদের এমডি (ব্যাবস্থাপনা পরিচালক) পর্যায়ে কথা বলেছি। ওনিও দ্বিমত পোষণ করেননি এবং দুঃখপ্রকাশ করেছেন যে এ ধরনের আচরণ আমাদের কাউন্টার থেকে করা উচিত হয়নি। কোনো অবস্থাতেই আমরা বাংলা ভাষার বিপক্ষে না। সেটা আমরা হতেও চাই না। সেক্ষেত্রে যতটুকু ভুল করা হয়েছে, ওইটা একটা পার্টিকুলার শাখায় হয়েছে।’

নাম বলতে না চাইলেও ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী দাবি করেছেন, ওই ব্যাংকের সঙ্গে তার অতীত অভিজ্ঞতা ভালো ছিল।

তিনি বলেন, ‘ওদের হেড অফিসে আমার ব্যাংকিং হয়। সেক্ষেত্রে আমার কখনই কোনো প্রবলেম হয়নি। একটা শাখা অফিসে বিয়ারার চেক নিয়ে গিয়েছিল, সেখানে এই প্রবলেম হয়েছে।’

যেদিন থেকে তিনি ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করেছেন, সেদিন থেকেই চেকের মধ্যে পুরোটা বাংলায় লিখে আসছেন বলেও জানান মোস্তফা জব্বার। তিনি বলেন, ‘আমি কোনোদিন ইংরেজি লিখেছি, আমার মনে পড়ে না।’

আরও পড়ুন:
চার মাসে বাংলাদেশে ফেসবুকের ব্যবসা ৭০ কোটি টাকার
জাকারবার্গের মেটা ও মেটাভার্স কী
ফেসবুকে যোগ দিচ্ছেন শাবিপ্রবির দুই ছাত্র
ফেসবুকের নতুন নাম ‘মেটা’
ফেসবুক-ইউটিউবের কনটেন্ট সরাতে পারে বাংলাদেশ: জব্বার

শেয়ার করুন

টুইটার ছাড়ছেন ডরসি, দায়িত্বে ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরাগ

টুইটার ছাড়ছেন ডরসি, দায়িত্বে ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরাগ

টুইটারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসি। ছবি: এএফপি

বিশ্লেষকরা জ্যাক ডরসির টুইটার ছাড়ার কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির ওপর বিনিয়োগকারীদের সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অত্যধিক চাপের কথা উল্লেখ করছেন।

মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারের প্রধান নির্বাহী কর্মর্কতা বা সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন প্ল্যাটফর্মটির সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসি।

টুইটার জানায়, তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা পরাগ আগারওয়াল।

টুইটারের সিইও হিসেবে যোগ দিয়ে বিশ্বের বড় কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব উঠে এলো ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা। মাইক্রোসফটের সত্য নাদেলা, গুগলের সুন্দর পিচাইয়ের পর টুইটারের সিইও হিসেবে যোগ দিলেন পরাগ আগারওয়াল।

বিবিসির খবরে বলা হয়, জ্যাক ডরসি ২০০৬ সালে বিজ স্টোন, ইভান উইলিয়ামস এবং নোয়া গ্লাসের সঙ্গে মিলে টুইটার প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় থেকেই তিনি টুইটারের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্বে ছিলেন।

পরে নিয়ে আসেন পেমেন্ট গেটওয়ে ফার্ম স্কয়ার। সেটিরও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন ডরসি।

দায়িত্ব নিয়ে টুইটারকে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তুলতে কাজ করেন ডরসি। নিয়ে আসেন নানা ধরনের নতুন সব প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন।

এক বিবৃতিতে ডরসি বলেন, ‘অবশেষে আমার চলে যাওয়ার সময় হলো।’

বলেন, ‘কোম্পানি এখন সামনের দিকে এগোতে প্রস্তুত।’

ডরসি জানান, গভীর বিশ্বাস থেকেই তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করছেন।

টুইটার ছাড়ছেন ডরসি, দায়িত্বে ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরাগ
টুইটারের নতুন সিইও ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরাগ আগারওয়াল (বাঁয়ে) ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসি। ছবি: এএফপি

‘আমি তার দক্ষতা, মন ও আত্মার প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এটাই তার নেতৃত্ব দেয়ার উপযুক্ত সময়’, বলেন ডরসি।

পরাগ আগারওয়াল ২০১১ সালে টুইটারে যোগ দেন। ২০১৭ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব বুঝে নেন।

বিশ্লেষকরা জ্যাক ডরসির টুইটার ছাড়ার কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির ওপর বিনিয়োগকারীদের সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অত্যধিক চাপের কথা উল্লেখ করছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পেমেন্ট গেটওয়ে স্কয়ার চালুর পর টুইটার তার নিজের কাজে কিছুটা অমনোযোগী হয়ে পড়েছে।

সে জন্য বিনিয়োগকারীরা মাধ্যমটির উপর কিছুটা নাখোশ।

ডরসি জানান, তিনি টুইটারের সিইও পদ ছাড়লেও প্রতিষ্ঠানটির বোর্ডে থাকবেন। ২০২২ সাল পর্যন্ত তাকে ওই বোর্ডে থাকতে হচ্ছে।

আগারওয়াল বিবৃতিতে বলেন, তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়ে টুইটারকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে ও সমৃদ্ধ করতে কাজ করবেন।

আরও পড়ুন:
চার মাসে বাংলাদেশে ফেসবুকের ব্যবসা ৭০ কোটি টাকার
জাকারবার্গের মেটা ও মেটাভার্স কী
ফেসবুকে যোগ দিচ্ছেন শাবিপ্রবির দুই ছাত্র
ফেসবুকের নতুন নাম ‘মেটা’
ফেসবুক-ইউটিউবের কনটেন্ট সরাতে পারে বাংলাদেশ: জব্বার

শেয়ার করুন

সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রল বন্ধে কঠোর আইনের পথে অস্ট্রেলিয়া

সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রল বন্ধে কঠোর আইনের পথে অস্ট্রেলিয়া

প্রতীকী ছবি

নতুন আইনে মানহানিকর কোনো পোস্ট সরিয়ে নেয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে অনুরোধ করা যাবে। তারা তা না সরালে পোস্টকারী ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করতে হবে এবং সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করা যাবে।

অনলাইনে বেনামে ট্রল ও মানহানিকর পোস্ট দেয়া ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে বাধ্য করতে নতুন আইন করছে অস্ট্রেলিয়া।

এক বিবৃতিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন জানিয়েছেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো প্রায়ই কাপুরুষদের প্রাসাদে রূপ নেয়, যেখানে নাম প্রকাশ না করে, কোনো পরিণাম ভোগ না করে অন্যকে হুমকি, হয়রানি এমনকি ধ্বংসও করে দেয়া যায়।’

নতুন আইনে মানহানিকর কোনো পোস্ট সরিয়ে নেয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে অনুরোধ করা যাবে। তারা তা না সরালে পোস্টকারী ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করতে হবে এবং সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করা যাবে।

মরিসন বলেছেন, ‘নতুন আইনে সোশ্যাল মিডিয়াকে প্রকাশক ধরে নিয়ে সেই প্রকাশনার দায়িত্ব তাদের নেয়ার কথা বলা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলছেন, ‘এই জায়গাটি তারা (সোশ্যাল মিডিয়া) তৈরি করেছে। এটিকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে। তারা তা না নিলে আমরাই সে দায়িত্ব নেব।’

আইনটি এখনও পাস হয়নি। এখনও প্রস্তাব আকারে রয়েছে। পাশ করার আগে এটি জনগণের মতের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
চার মাসে বাংলাদেশে ফেসবুকের ব্যবসা ৭০ কোটি টাকার
জাকারবার্গের মেটা ও মেটাভার্স কী
ফেসবুকে যোগ দিচ্ছেন শাবিপ্রবির দুই ছাত্র
ফেসবুকের নতুন নাম ‘মেটা’
ফেসবুক-ইউটিউবের কনটেন্ট সরাতে পারে বাংলাদেশ: জব্বার

শেয়ার করুন

ভাইরাল ছবিটি কি আসলেই তথ্যমন্ত্রীর?

ভাইরাল ছবিটি কি আসলেই তথ্যমন্ত্রীর?

গত কয়েক দিন ধরে ফেসবুকে এই ছবিটি ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এর সত্যতা নিয়ে বিতর্কও হচ্ছে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা কায়ছারুল আলম বলেন, ‘এটি একটি বানানো ছবি। লন্ডন থেকে এটি বানানো হয়েছে।’ এ বিষয়ে মন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে মন্ত্রী মহোদয় কোনো মন্তব্য করেননি। এত সিলি (তুচ্ছ) বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলবেন না। এসব বিষয়ে নিয়ে মন্তব্য করা মানে এগুলোকে আরও বাড়তে দেয়া।’

একজন মানুষ খেতে বসেছেন। তার সামনে থরে থরে সাজানো নানা সুস্বাদু খাবার। টেবিলজুড়ে সাজিয়ে রাখা খাবারগুলোর মধ্যে মাছ, মাংস, সবজি, ভর্তা কোনো কিছুর কমতি নেই।

সাদা চোখে দেখা যায়, যিনি খাচ্ছেন তিনি তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ। ছবিটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল। সেটি নিয়ে অনেকে করছেন ট্রল।

ছবিটি নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার দিয়েছেন লেখক তসলিমা নাসরিন। তিনি লিখেছেন, ‘কাউকে বাড়িতে নেমন্তন্ন করলে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত লোকেরা প্রায় কুড়ি-পঁচিশ পদ খাবার রান্না করে। তারা তো ভাতের থালায় ভাত খায় না, স্যুপের থালায় ভাত খায়। ওতে খাবার বেশি ধরে।’

তিনি আরও লেখেন, “রান্নাটা আর্ট, খাওয়ানোটাও আর্ট। নেমন্তন্ন অবশ্য ‘বাড়িতে একটু ডাল-ভাত খাবেন’ বলে করা হয়।”

শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৩ হাজার ৬০০ মানুষ সেই পোস্টটিতে রিঅ্যাক্ট করেছেন। যার মধ্যে লাইক দিয়েছেন ১৪ হাজার ১০০ জন। আর হা হা রিঅ্যাক্ট করেছেন সাড়ে ৬ হাজার মানুষ।

কমেন্ট জমা হয়েছে ১২৪টি। আর পোস্টটি শেয়ার করেছেন ৫৮২ জন।

ছবিটি নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ কোনো মন্তব্য না করলেও তার দপ্তর থেকে ছবিটিকে বানানো বলে দাবি করা হয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা কায়ছারুল আলম বলেন, ‘এটি একটি বানানো ছবি। লন্ডন থেকে এটি বানানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে মন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে মন্ত্রী মহোদয় কোনো মন্তব্য করেননি। এত সিলি (তুচ্ছ) বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলবেন না। এসব বিষয়ে নিয়ে মন্তব্য করা মানে এগুলোকে আরও বাড়তে দেয়া।’

কোনো প্রতিবাদ বা ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে কায়ছারুল বলেন, ‘প্রতিবাদ তো হচ্ছেই।’

ভাইরাল ছবিটি কি আসলেই তথ্যমন্ত্রীর?
হাছান মাহমুদের নামে সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর মন্ত্রীর অনুসারীরাও ফেসবুকে এই ছবিটি ছড়াচ্ছেন

এরই মধ্যে ছবিটি বানানো দাবি করেও পোস্ট দিতে শুরু করেছেন হাছান মাহমুদের অনুসারীরা। তাদের দাবি, তথ্যমন্ত্রীকে হেয়প্রতিপন্ন করতেই সরকারবিরোধীরা এসব অপপ্রচার করছেন।

এর মধ্যে প্রথম ছবিটির পাশাপাশি আরও একটি ছবি ছড়িয়েছে ফেসবুকে। এরপর তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। কোন ছবিটি আসল, কোনটি নকল, তা নিয়ে নানাজন নানা বক্তব্য দিচ্ছেন। কেউ বলছেন নতুন ছবিটি নকল, কেউ বলছেন পুরোনো ছবিটি নকল।

আরও পড়ুন:
চার মাসে বাংলাদেশে ফেসবুকের ব্যবসা ৭০ কোটি টাকার
জাকারবার্গের মেটা ও মেটাভার্স কী
ফেসবুকে যোগ দিচ্ছেন শাবিপ্রবির দুই ছাত্র
ফেসবুকের নতুন নাম ‘মেটা’
ফেসবুক-ইউটিউবের কনটেন্ট সরাতে পারে বাংলাদেশ: জব্বার

শেয়ার করুন