এক পৌরসভায় ৮৭ প্রার্থী

এক পৌরসভায় ৮৭ প্রার্থী

নীলফামারী পৌর ভবন

আগামী বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই করা হবে। ১১ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করা যাবে। এরপর প্রার্থিতা চূড়ান্ত হলে ১২ নভেম্বর বরাদ্দ করা হবে প্রতীক।

নীলফামারী পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিতে চান ৮৭ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে মেয়র পদে আগ্রহী চারজন। সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৬১ জন আর সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে লড়াই করতে চান ২২ জন।

আগামী ২৮ নভেম্বরের ভোটকে সামনে রেখে মঙ্গলবার ছিল প্রার্থিতা জমা দেয়ার শেষ দিন। আর এই ৮৭ জন এদিন মনোনয়নপত্র জমা দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আফতাব উজ জামান।

মেয়র পদে আওয়ামী লীগের হয়ে প্রার্থিতা জমা দিয়েছেন সদ্য বিদায়ী মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ। নৌকা না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান বুলেট।

বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে না এলেও দলটির দুই নেতাও আছেন মেয়র হওয়ার লড়াইয়ে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম ও পৌর বিএনপির সভাপতি মাহবুব উর রহমানও প্রার্থিতা জমা দিয়েছেন স্বতন্ত্র হিসেবে।

কাউন্সিলর পদে ১ নম্বর ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ ১৪ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া ২ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ জন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৭ জন, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৮ জন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৮ জন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ জন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৭ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন।

সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের তিনটি ওয়ার্ডের মধ্যে ১ নম্বর ওয়ার্ডে ৮ জন, ২ নম্বর ওয়ার্ডে ৭ জন এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৭ জন রয়েছেন।

সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আফতাব উজ জামান জানান, আগামী বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই করা হবে। ১১ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করা যাবে। এরপর প্রার্থিতা চূড়ান্ত হলে ১২ নভেম্বর বরাদ্দ করা হবে প্রতীক।

রিটার্নিং অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ৩৮হাজার ১৩৪জন ভোটার রয়েছে এই পৌরসভায়। এর মধ্যে পুরুষ ১৭ হাজার ৪১৬ জন এবং নারী রয়েছেন ২০ হাজার ৭১৮জন।

১৪টি কেন্দ্রের ৯২টি কক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ভোটাররা।

এবারই প্রথম ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমে ভোট হবে এই পৌরসভায়। ভোটের আগে মক ভোটিং হবে।

আরও পড়ুন:
পাকুন্দিয়ায় বিএনপির দুই নেতার চেয়ে বেশি ভোট নৌকায়
নিজের ভোট দিতে পারলেন না আ. লীগ প্রার্থী কবিতা 
ছাগলনাইয়া পৌর নির্বাচন: মাঠে নেই অন্য দল, আ.লীগে দ্বন্দ্ব
প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট
কক্সবাজারে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সাগরে বিকল ফিশিং বোট, ৫ দিন পর উদ্ধার ১৩ জেলে

সাগরে বিকল ফিশিং বোট, ৫ দিন পর উদ্ধার ১৩ জেলে

ফাইল ছবি

কোস্টগার্ডের মাস্টার চিফ পেটি অফিসার খলিলুর রহমান জানান, মাছ ধরতে গত ১ ডিসেম্বর ফিশিং বোট নিয়ে সাগরে যান ওই জেলেরা। বোটের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে তারা ভাসমান অবস্থায় আটকা পড়েন।

নোয়াখালীর হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ এলাকায় সাগরে বিকল হয়ে পাঁচদিন ধরে ভেসে থাকা ফিশিং বোটের ১৩ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

ভাসানচর আশ্রয়ন কেন্দ্র কোস্টগার্ডের একটি দল রোববার সন্ধ্যার দিকে নিঝুম দ্বীপের ১৫ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরের পূর্ব দিক থেকে তাদের উদ্ধার করে।

কোস্টগার্ডের মাস্টার চিফ পেটি অফিসার খলিলুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মাছ ধরতে গত ১ ডিসেম্বর ফিশিং বোট নিয়ে সাগরে যান ওই জেলেরা। এক পর্যায়ে বোটটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে তারা ভাসমান অবস্থায় আটকা পড়েন। খবর পেয়ে ভাসানচর আশ্রয়ন কেন্দ্রের কোস্টগার্ডের একটি দল উদ্ধারে যায়।

উদ্ধার জেলেদের স্বাস্থ্যের কী পরিস্থিতি তা পরীক্ষা করে জানা যাবে বলেও জানান কোস্টগার্ড কর্মকর্তা খলিলুর।

আরও পড়ুন:
পাকুন্দিয়ায় বিএনপির দুই নেতার চেয়ে বেশি ভোট নৌকায়
নিজের ভোট দিতে পারলেন না আ. লীগ প্রার্থী কবিতা 
ছাগলনাইয়া পৌর নির্বাচন: মাঠে নেই অন্য দল, আ.লীগে দ্বন্দ্ব
প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট
কক্সবাজারে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২

শেয়ার করুন

আদালত থেকে আসামির পলায়ন, ৩ পুলিশকে অব্যাহতি

আদালত থেকে আসামির পলায়ন, ৩ পুলিশকে অব্যাহতি

থানা সুত্রে জানা গেছে, পালিয়ে যাওয়া ওই আসামি হলেন আবুল কালাম। তিনি মাদক মামলার আসামি ও কক্সবাজারের টেকনাফ থানার লেদাপাড়ার রোহিঙ্গা

চট্টগ্রাম আদালতে পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন।

তিনি জানান, রোববার বেলা ৩টায় আদালতে ওই ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত হয়।

থানা সুত্রে জানা গেছে, পালিয়ে যাওয়া ওই আসামি হলেন আবুল কালাম। তিনি মাদক মামলার আসামি ও কক্সবাজারের টেকনাফ থানার লেদাপাড়ার রোহিঙ্গা।

ওসি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাদক মামলায় গ্রেপ্তার আবুল কালামকে রোববার বিকালে চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর থানার জিআরও শাখায় রেজিস্ট্রেশন শেষে আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে নামানোর সময় কৌশলে তিনি পালিয়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আসামির সঙ্গে থাকা ৩ পুলিশকে অব্যাহতি দেয়া হয়। তবে এখন তাদের নাম জানানো যাচ্ছে না।’

তিনি জানান, আবুল কালামকে রোববার সকালে কোতোয়ালি থানার কদমতলী মোড়ের একটি চা দোকানের সামনে থেকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ১ হাজার ৫০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। পরে থানায় নিয়ে তার নামে মামলা দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
পাকুন্দিয়ায় বিএনপির দুই নেতার চেয়ে বেশি ভোট নৌকায়
নিজের ভোট দিতে পারলেন না আ. লীগ প্রার্থী কবিতা 
ছাগলনাইয়া পৌর নির্বাচন: মাঠে নেই অন্য দল, আ.লীগে দ্বন্দ্ব
প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট
কক্সবাজারে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২

শেয়ার করুন

কাউখালীতে অস্ত্র, গুলি, মাদকসহ আটক ৪

কাউখালীতে অস্ত্র, গুলি, মাদকসহ আটক ৪

ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্টে আটক ব্যক্তিদের ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-প্রসিত গ্রুপ) সদস্য বলে প্রচার করা হয়েছে। তবে এই সংগঠনের মুখপাত্র অংগ্য মারমা নিউজবাংলাকে জানান, আটক ব্যক্তিরা তাদের কর্মী নন।

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে অস্ত্র, গুলি ও গাঁজাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কাউখালীর কচুছড়ি উপরপাড়া এলাকায় রোববার ভোরে এই অভিযান চালানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নবীন সুন্দর চাকমা, রিনয় চাকমা, নিক্সন চাকমা ও জ্ঞান জ্যোতি চাকমা।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদ উল্লাহ।

তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি দেশীয় বন্দুক, রাইফেলের ৭ রাউন্ড ও শটগানের ৩ রাউন্ড গুলি, একটি চাঁদা আদায়ের রশীদ বই, চারটি মোবাইল সেটসহ ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি বলেন, ‘তারা কোন দলের সঙ্গে জড়িত তা আমি জানি না। তাদের বিরুদ্ধে থানায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।’

ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্টে আটক ব্যক্তিদের ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-প্রসিত গ্রুপ) সদস্য বলে প্রচার করা হয়েছে। তবে এই সংগঠনের মুখপাত্র অংগ্য মারমা নিউজবাংলাকে জানান, আটক ব্যক্তিরা তাদের কর্মী নন।

আরও পড়ুন:
পাকুন্দিয়ায় বিএনপির দুই নেতার চেয়ে বেশি ভোট নৌকায়
নিজের ভোট দিতে পারলেন না আ. লীগ প্রার্থী কবিতা 
ছাগলনাইয়া পৌর নির্বাচন: মাঠে নেই অন্য দল, আ.লীগে দ্বন্দ্ব
প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট
কক্সবাজারে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২

শেয়ার করুন

মেয়েকে ‘উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায়’ বাবার ওপর হামলা

মেয়েকে ‘উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায়’ বাবার ওপর হামলা

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় দুর্বৃত্তের হামলায় আহত হন এক স্কুলছাত্রীর বাবা। ছবি: নিউজবাংলা

আহত ব্যক্তির বন্ধু মো. রুপম জানান, মেয়েকে আর উত্ত্যক্ত করলে মামলা দেয়া হবে বলায় রাতুল ওই ব্যক্তির ওপর হামলা চালায়।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় নবম শ্রেণির ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় তার বাবার ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভেড়ামারার নওদাপাড়া এলাকায় রোববার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটেছে।

হামলায় আহত ব্যক্তি ওই এলাকার একটি কাপড়ের দোকানের মালিক।

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান জানান, এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ নিয়ে থানায় গিয়েছেন আহত ব্যক্তির বন্ধু মো. রুপম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রায় তিন মাস ধরে প্রতিবেশী রাতুল আমার বন্ধুর মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি তার পরিবারকেও জানানো হয়েছে। আজ রোববার সকালে মেয়ের খালুর মোবাইলে কল দিয়ে ওই ছেলে মেয়েকে ফোনটি দিতে বলেন। ফোন না দিলে বিপদ হবে বলে হুমকি দেন। ঘটনা শুনে আমার বন্ধু রাতুলের বাড়িতে যান। রাতুলকে জানান যে মেয়েকে আর বিরক্ত করলে মামলা দেবেন।

‘এরপর সন্ধ্যায় আমার বন্ধু দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। রাতুল ও তার কয়েকজন বন্ধু রামদা ও রড নিয়ে তার দিকে তেড়ে আসে। আমার বন্ধু দৌড়ে পালাতে গেলে তাকে ধাওয়া করে কুপিয়ে তারা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে পরে একটি ক্লিনিকে নেয়া হয়। এখনও আমার বন্ধুর জ্ঞান ফেরেনি।’

থানার ওসি মজিবর রহমান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে রাতুল বা তার পরিবারের কারও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
পাকুন্দিয়ায় বিএনপির দুই নেতার চেয়ে বেশি ভোট নৌকায়
নিজের ভোট দিতে পারলেন না আ. লীগ প্রার্থী কবিতা 
ছাগলনাইয়া পৌর নির্বাচন: মাঠে নেই অন্য দল, আ.লীগে দ্বন্দ্ব
প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট
কক্সবাজারে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২

শেয়ার করুন

নৌকার সেই প্রার্থী বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুরের মামলা থেকে খালাস পাওয়া

নৌকার সেই প্রার্থী বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুরের মামলা থেকে খালাস পাওয়া

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রিপন জমাদ্দার। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৬ সালে হওয়া মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই বছরের ১৯ নভেম্বর টিকিকাটা ইউনিয়নের বাইশকুড়া বাজারের একটি ক্লাবে স্থানীয় কলেজ ছাত্রলীগ নেতা রুবেল আকনকে মারধর ও ক্লাবে ভাঙচুর চালানো হয়। ওই সময় বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করা হয়। সে ঘটনায় আহত ছাত্রলীগ নেতা আকনের বাবার করা মামলায় প্রধান আসামি করা হয় রিপনকে।

পিরোজপুর মঠবাড়িয়া উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নৌকা পাওয়া প্রার্থী বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর মামলার প্রধান আসামি বলে তথ্য মিলেছিল। তবে পরে জানা গেছে, আসামি হলেও তাকে পরে সেই মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রিপন জমাদ্দারকে নৌকা দেয়া হয়। এরপরই অভিযোগ ওঠে, তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর মামলার প্রধান আসামি।

তবে রিপন জানিয়েছেন, তিনি সেই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। নিউজবাংলার কাছে সেই অব্যাহতির আদেশের কপিও এসেছে।

এতে দেখা যায়, পিরোজপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. ফয়সাল ২০২০ সালের ০৬ এপ্রিল তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। অভিযোগ গঠনের মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকার কথা জানানো হয় সেই আদেশে।

২০১৬ সালে হওয়া মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই বছরের ১৯ নভেম্বর টিকিকাটা ইউনিয়নের বাইশকুড়া বাজারের একটি ক্লাবে স্থানীয় কলেজ ছাত্রলীগ নেতা রুবেল আকনকে মারধর ও ক্লাবে ভাঙচুর চালানো হয়। ওই সময় বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করা হয়।

সেই ঘটনায় আহত ছাত্রলীগ নেতা আকনের বাবার করা মামলায় প্রধান আসামি করা হয় রিপনকে।

মামলায় রিপনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্রও দেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে তাতে নৌকা পাওয়া রিপনের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ না থাকার কথা জানানো হয়। এরপর বিচারক তা মেনে নেন।

রিপন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মঠবাড়িয়ার কিছু রাজনৈতিক নেতার ইন্ধনে তখন আমার নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়। আমি বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসি। মামলার অভিযোগ মিথ্যা হওয়ায় আদালত আমাকে প্রথম হাজিরাতেই জামিন দিয়ে দেয়। মামলা থেকে আমার নাম বাদও দেয়া হয়েছে।’

ঘটনার সময় তিনি বরিশাল ছিলেন-এমন দাবি করে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় রাজনীতির কারণে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আশরাফুর রহমানের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ওই মামলার আসামি হয়।’

তবে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌকার মনোনয়ন পাওয়া রিপন জমাদ্দারের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। লোকমুখে শুনেছি।’

আরও পড়ুন:
পাকুন্দিয়ায় বিএনপির দুই নেতার চেয়ে বেশি ভোট নৌকায়
নিজের ভোট দিতে পারলেন না আ. লীগ প্রার্থী কবিতা 
ছাগলনাইয়া পৌর নির্বাচন: মাঠে নেই অন্য দল, আ.লীগে দ্বন্দ্ব
প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট
কক্সবাজারে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২

শেয়ার করুন

হাওরে অপুষ্টিতে ভুগছে ৫২ শতাংশ শিশু

হাওরে অপুষ্টিতে ভুগছে ৫২ শতাংশ শিশু

সুনামগঞ্জের হাওরে অপুষ্টিতে ভুগছে অনেক শিশু। ছবি: নিউজবাংলা

সুনামগঞ্জ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্যমতে, জেলায় বর্তমান খর্বাকার রোগে ভুগছে ৫২ শতাংশ শিশু, ক্ষীণকার ১৫ শতাংশ, কম ওজন নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুর সংখ্যা ২৬ শতাংশ এবং নিরাপদ মায়ের বুকের দুধের অভাবে ভুগছে ৫৫ শতাংশ শিশু। অর্থ ও সচেতনতার অভাবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই বেশি অপুষ্টিতে ভুগছে।

হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ প্রাকৃতিকভাবে সমৃদ্ধ হলেও দারিদ্র্যের হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অপুষ্টিতে ভুগছে অধিকাংশ শিশু।

সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের সবশেষ জরিপ অনুযায়ী, জেলায় ৫২ শতাংশ শিশু অপুষ্টিজনিত রোগে আক্রান্ত। এ হারকে স্বাস্থ্য বিভাগ উচ্চতর সমস্যা বললেও পর্যাপ্ত জনবল সংকটে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের।

অভাব-অনটনের কারণে শিশুদের জন্য আলাদা করে পুষ্টিকর খাবার জোগাড়ে ব্যর্থতা এবং সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করছেন অভিভাবকরা।

সুনামগঞ্জ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্যমতে, জেলায় বর্তমান খর্বাকার রোগে ভুগছে ৫২ শতাংশ শিশু, ক্ষীণকার ১৫ শতাংশ, কম ওজন নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুর সংখ্যা ২৬ শতাংশ এবং নিরাপদ মায়ের বুকের দুধের অভাবে ভুগছে ৫৫ শতাংশ শিশু।

অর্থ ও সচেতনতার অভাবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই বেশি অপুষ্টিতে ভুগছে। সুনামগঞ্জের শাল্লা, মধ্যনগর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার শিশুরা তুলনামূলকভাবে বেশি অপুষ্টির শিকার।

দোয়ারাবাজার ও শাল্লা উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, শহরের শিশুদের তুলনায় প্রত্যন্ত এলাকার শিশুরা রোগা ও বেটে। এসব গ্রামের মানুষের ‘দিন আনি দিন খাই’ অবস্থা হওয়ায় আলাদাভাবে শিশুর বিকাশের দিকে মনোযোগ নেই অভিভাবকদের।

সুনামগঞ্জ ধান ও মাছের জন্য বিখ্যাত হলেও শাকসবজির ফলন কম। হাওরে জেলেদের জালে ছোট-বড় দেশি পুষ্টিকর মাছ উঠলেও সেই মাছ সন্তানদের না খাইয়ে বাজারে বিক্রি করে বাড়িতে নিয়ে যান পাঙাশ মাছ।

এ অঞ্চলের মানুষের অভিযোগ, সরকারিভাবে শিশুদের টিকাদান ও ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানো ছাড়া আর কোনো কার্যক্রম নেই।

হাওরে অপুষ্টিতে ভুগছে ৫২ শতাংশ শিশু
সুনামগঞ্জের হাওরে অপুষ্টিতে ভুগছে অনেক শিশু। ছবি: নিউজবাংলা

শাল্লা উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের আছিয়া বেগম বলেন, ‘আমার চার সন্তানের সবাই বেশির ভাগ সময় অসুস্থ থাকে। ডাক্তার দেখাই কিন্তু ভালা কিচ্ছু কিনিয়া বাচ্চাগুনতে মুখও দেয়ার মুরদ নাই আমরার, আলু আর পাঙাশ মাছ ইটা দিয়াই চলরাম আমরা। যেদিন তাইনের একটু ভালা ইনকাম হয়, তে একদিন মাংস খাইলায়। কিন্তু বাজারও যে জিনিসের দাম বাড়ছে এখন তিনবেলা কোনো রকম খাইয়া বাছিয়া আছি।’

একই গ্রামের কৃষক জয়ন্ত দাস বলেন, ‘ছেলেমেয়েরে কিতা খাওয়াইতাম বাজারও যে জিনিসের দাম আগুন, এখন ধান লাগানিত গেলেও টাকা লাগব বেশি, আমরা কিতা করতাম, যা নিজে খাই তাই ছেলেরারে খাওয়াই, সরকার যদি আমরারে একটু দেখে তাইলে ভালা অইতো।’

দোয়ারাবাজারের আমবাড়ী এলাকার শিল্পী বেগম বলেন, ‘বাজারও নতুন নতুন সবজি আইছে, কিন্তু যে আগুন দাম ইতা কিনিয়া আনিয়া খাওয়ানি যাইত না। স্বাস্থ্যকর্মীরা আয় তারা টিকা আর ভিটামিন ট্যাবলেট দেয়, ইটাই শেষ আর কিচ্ছু করে না। যা কইবার মুখে কয়, কিন্তু গরিবের কথা শুনিয়া লাভ নাই, যদি পারে সাহায্য করতে পারে।’

বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান) সুনামগঞ্জের সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমরা হাওর এলাকার কৃষক-জেলে থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষকে ফসল ও শাকসবজি উৎপাদন এবং এসবের ভিটামিন সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছি। তারা প্রশিক্ষণ অনুযায়ী জীবনযাপন করলে পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্ট ফসল বিক্রি করে লাভবান হতে পারবেন।’

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘হাওরের প্রান্তিক পর্যায়ের শিশুরাই পুষ্টিহীনতায় বেশি ভুগছে, তাদের তুলনায় শহরকেন্দ্রিক বসবাস করা শিশুরা ভালো আছে।

‘হাওরের মায়েদেরও কিছুটা দায়সারা ভাব রয়েছে। এমনও দেখা যায়, পুষ্টিকর মাছ ধরে বিক্রি করে তারা চাল, ডাল, আলু আর পাঙাশ মাছ নিয়ে যাচ্ছেন। এখানে সব মানুষের খাবারে বৈচিত্র্যের অভাব রয়েছে। এক জরিপে দেখা গেছে, সুনামগঞ্জের ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবার দৈনিক ব্যবহারের জন্য শুধু প্রধান খাদ্য কেনে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কিছু করার নেই, এখানে আমি একাই কাজ করি। বাকি পদগুলো শূন্য রয়েছে। একা সবদিক কীভাবে দেখব। তবে প্রায় সময়ই নিয়োগের জন্য বলি, ফল হয় না।’

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন বলেন, ‘জেলার প্রতিটি ওয়ার্ডেই পুষ্টিবিষয়ক কার্যক্রম চালু আছে। মা সমাবেশসহ নানা প্রচারণা চালানো হয়। তবে আলাদাভাবে আমাদের হাতে কোনো প্রকল্প নেই।’

আরও পড়ুন:
পাকুন্দিয়ায় বিএনপির দুই নেতার চেয়ে বেশি ভোট নৌকায়
নিজের ভোট দিতে পারলেন না আ. লীগ প্রার্থী কবিতা 
ছাগলনাইয়া পৌর নির্বাচন: মাঠে নেই অন্য দল, আ.লীগে দ্বন্দ্ব
প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট
কক্সবাজারে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২

শেয়ার করুন

আ.লীগ কর্মী হত্যা মামলার আসামির হাতে নৌকা

আ.লীগ কর্মী হত্যা মামলার আসামির হাতে নৌকা

হত্যা মামলার আসামি হয়েও চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন পারভেজ দেওয়ান। ছবি: নিউজবাংলা

পাথালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইউসুফ হাওলাদার বলেন, ‘উনি মার্ডার কেসের প্রধান আসামি। তারে কীভাবে নমিনেশন দিছে সেটা উপরেই জানে। আমরা পরিবর্তন চেয়েছিলাম। কারণ একটা পরিবর্তন আসলে আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী হতো। এতে আমাদের তৃণমূলের যে ভরসা সেটা প্রতিফলিত হয়নি। আমরা হতাশ।’

ঢাকার সাভারে আওয়ামী লীগ কর্মীকে হত্যা মামলার আসামি ইউপির চেয়ারম্যান পদে নৌকার মনোনয়ন পাওয়ায় ক্ষুব্ধ তৃণমুলের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, নৌকার মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে তাদের মতামতের মূল্যায়ন করা হয়নি।

নৌকা পাওয়া পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী পারভেজ দেওয়ানের দাবি, ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা মামলায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

মামলার এজাহারে আছে, ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ তৎকালীন চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ানের নির্দেশে আশুলিয়ার নয়ারহাট বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী আব্দুর রহিমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে নিহতের ভাই যুবলীগ নেতা সুমন পন্ডি ২৭ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ইউপি নির্বাচনে দ্বন্দের জেরে আব্দুর রহিমকে হত্যার নির্দেশ দেন পারভেজ। পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি পারভেজসহ ছয় আসামিকে বাদ দেয়া হয়। সবশেষ সিআইডির তদন্তে পারভেজসহ ১৩ আসামিকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়।

মামলার বাদী সুমন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার ভাই পাথালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। নির্বাচনে তৎকালীন চেয়ারম্যান পারভেজ চেয়ারম্যানের প্রতিপক্ষকে সমর্থন করতেন তিনি। নির্বাচনে জেতার চার-পাঁচ মাস পর চেয়ারম্যানের লোকজন দিনেদুপুরে আমার ভাইকে গুলি করে হত্যা করে।

‘তার (পারভেজের) হুকুমেই আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করলেও হাজতবাসের পর জামিনে মুক্ত হয়। এরপর রহস্যজনকভাবে পুলিশ আমার স্বাক্ষর ছাড়াই গোপনে প্রধান আসামি চেয়ারম্যানসহ ৬ আসামিকে বাদ দিয়ে চার্জশিট দেয়। পরে আদালতে আপত্তি জানালে সিআইডি দেড় মাস তদন্ত করে চেয়ারম্যানসহ ১৩ আসামিকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয়।’

পারভেজ একটি হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও নৌকার মনোনয়ন পাওয়ায় ক্ষুব্ধ পাথালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ হাওলাদার।

তিনি বলেন, ‘উনি মার্ডার কেসের প্রধান আসামি। তারে কীভাবে নমিনেশন দিছে সেটা উপরেই জানে। আমরা পরিবর্তন চেয়েছিলাম। কারণ একটা পরিবর্তন আসলে আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী হতো। এতে আমাদের তৃণমূলের যে ভরসা সেটা প্রতিফলিত হয়নি। আমরা হতাশ।’

৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘যাকে মেরে ফেলা হয়েছে উনি আওয়ামী লীগের সবচেয়ে সক্রিয় সদস্য ছিল। আবারও উনি (পারভেজ দেওয়ান) ওইরকম পায়তারা করতেছে। হুমকি-ধামকি দিতেছে। আবারও কর্মীদের উপর আক্রমণ করার চেষ্টা করতেছে। উনি নৌকা পাওয়াতে আমরা আতঙ্কিত।

‘আওয়ামী লীগের মতো এতো সুসংগঠিত দলের উপর কেন জানি এখন ঘৃণা চলে আসছে। তিনি তিনবারের চেয়ারম্যান হয়েও একটা নিজস্ব ইউনিয়ন পরিষদ ভবন করতে পারেননি। এখনও ভাড়া ভবনে চলছে সব কার্যক্রম। উনি নির্বাচনে আসলে বিপুল ভোটে পরাজিত হবে।’

নৌকা পাওয়ার বিষয়ে পারভেজ দেওয়ান বলেন, ‘মিথ্যা মার্ডার মামলায় থানা থেকে আমারে অব্যাহতি দিছে। তারপর তারা (বাদীপক্ষ) নারাজি দিলে মামলা ডিবিতে দিছে। ওখান থাইকাও আমারে অব্যাহতি দিছে। বরং তারা সিআইডির সঙ্গে আঁতাত করে একমাসের মধ্যে তদন্ত না করে আমার বিরুদ্ধে চার্জশিট করাইছে।

‘আমার মনে হয়, পুলিশ ডিপার্টমেন্টের আইজি ও প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পাথালিয়া ইউনিয়নের পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট চলে গেছে। নির্বাচনে যাতে আমার উপর প্রভাব পড়ে এজন্য মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়েছে। যেটা সবাই জানে।’

মনোনয়ন প্রক্রিয়ার বিষয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য বেনজির আহমেদ বলেন, ‘আমার যেটা ধারণা, মনোনয়ন বোর্ডের নজরে এটা হয়ত আসে নাই। উনারা হয়ত জানেন না। কারণ এটা সাধারণত ইউনিয়ন থেকে উপজেলা তারপর জেলা। ইউনিয়ন থেকে যেভাবে আসছে তাতে এরকম কোনো কিছু আমরা পাই নাই। এটা আমাদের নলেজে দেয়া হয়নি। যদি কেউ জানাইতো তাহলে হয়তো আমরা কেন্দ্রে জানাইতে পারতাম।’

দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান বলেন, ‘এটাতো কাজ করছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। সেখানে অনুমোদন দিছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। এখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংসদ সদস্যদের কোনো ভূমিকা নাই। এটা পার্লামেন্টারি বোর্ডের সিদ্ধান্ত। এখানে আমার কোনো কমেন্ট না করাই ভালো। সর্বোচ্চ জায়গা থেকে সিদ্ধান্ত হইছে। ওনারা যাচাইবাছাই করেই সিদ্ধান্ত দিছেন।’

আরও পড়ুন:
পাকুন্দিয়ায় বিএনপির দুই নেতার চেয়ে বেশি ভোট নৌকায়
নিজের ভোট দিতে পারলেন না আ. লীগ প্রার্থী কবিতা 
ছাগলনাইয়া পৌর নির্বাচন: মাঠে নেই অন্য দল, আ.লীগে দ্বন্দ্ব
প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট
কক্সবাজারে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২

শেয়ার করুন