অভাবনীয় রপ্তানি আয়ে উচ্ছ্বাস

অভাবনীয় রপ্তানি আয়ে উচ্ছ্বাস

বরাবরের মতোই রপ্তানি আয়ে এবারও প্রধান ভূমিকায় তৈরি পোশাক খাত। ফাইল ছবি

অক্টোবরে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬০ শতাংশের বেশি। সব মিলিয়ে সাড়ে ৪০ হাজার কোটি টাকার পণ্য বিদেশে পাঠিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর আগে কোনো মাসে এত বেশি পণ্য রপ্তানি হয়নি। কেবল এই মাস নয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসের রপ্তানি আয়ও গড়েছে রেকর্ড। প্রায় ২৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

যে প্রত্যাশা করা হয়েছিল, ছাড়িয়ে গেছে তাও। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক রপ্তানি আয়ে ধারণার চেয়েও বেশি উল্লম্ফন হয়েছে।

সদ্য সমাপ্ত অক্টোবর মাসে ৪৭২ কোটি ৭৫ লাখ ৩০ হাজার (৪.৭৩ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৭০ পয়সা) এই অর্থের পরিমাণ ৪০ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা।

এই আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৩৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি; যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬০ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই এক মাসে এই পরিমাণ পণ্য রপ্তানি হয়নি। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৪১৭ কোটি ডলার বা ৩৫ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছিল।

সব মিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ১ হাজার ৫৭৫ কোটি (১৫.৭৫ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। টাকার হিসাবে যা ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা।

এই চার মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২২ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি বিদেশি মুদ্রা দেশে এনেছেন রপ্তানিকারকরা। লক্ষ্যের চেয়ে আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকে ভর করেই পণ্য রপ্তানিতে সুবাতাস বইছে। অক্টোবরে পোশাক রপ্তানি থেকে মোট ১ হাজার ১৬২ কোটি ১১ লাখ (১২.৬২ বিলিয়ন) ডলার দেশে এসেছে; যা মোট রপ্তানির ৮০ দশমিক ১৩ শতাংশ।

এই চার মাসে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২১ শতাংশ বেশি বিদেশি মুদ্রা দেশে এসেছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ৪১ শতাংশ।

পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান রপ্তানি আয়ের এই উল্লম্ফনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সত্যিই আমরা খুশি। এত দ্রুত করোনা মহামারির ধাক্কা সামলে আমরা ঘুরে দাঁড়াব, ভাবতে পারিনি।’

আগামী দিনগুলোতে রপ্তানি আয় আরও বাড়বে বলে আশার কথা শোনান তিনি।

একই সুখবর দিয়েছেন নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এখনও প্রচুর অর্ডার আসছে। দামও ভালো পাচ্ছি আমরা। সামনে বড়দিন (২৫ ডিসেম্বর)। চীন, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারের অনেক অর্ডার বাংলাদেশে আসছে। সব মিলিয়ে আমাদের রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য ভালো দিনই অপেক্ষা করছে বলে মনে হচ্ছে।’

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) মঙ্গলবার রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের চতুর্থ মাস অক্টোবরে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৪৭২ কোটি ৭৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় করেছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ৩৪৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

২০২০ সালের অক্টোবরে পণ্য রপ্তানি থেকে ২৯৪ কোটি ৭৮ লাখ ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ।

আর অর্থবছরের প্রথম চার মাসে অর্থাৎ জুলাই-অক্টোবর সময়ে মোট ১ হাজার ৫৭৫ কোটি ডলার আয় করে বাংলাদেশ, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২২ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি।

২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পণ্য রপ্তানি থেকে ১ হাজার ২৮৪ কোটি ৪৬ লাখ ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ। এই চার মাসে লক্ষ্য ধরা ছিল ১ হাজার ৩৮৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার (১৩.৮৯ বিলিয়ন) ডলার।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই তিন মাসে মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি এসেছে তৈরি পোশাক থেকে।

এই চার মাসে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অথচ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১১ দশমিক ০২ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি নিয়ে শুরু হয়েছিল নতুন বছর। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই পরিমাণ আয় কমে গিয়েছিল। এর পর থেকে প্রতি মাসেই বাড়ছে রপ্তানি আয়।

আগস্টে পণ্য রপ্তানি থেকে গত বছরের একই মাসের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি আয় আসে দেশে।

পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোরবানির ঈদের ছুটি এবং লকডাউনের কারণে ১০-১১ দিন পোশাক কারখানা বন্ধ থাকায় জুলাই মাসে রপ্তানি আয় কম এসেছিল। ১ আগস্ট থেকে পুরোদমে কারখানায় উৎপাদন চলছে। প্রচুর অর্ডার আসছে; দামও বেশি পাচ্ছি। সব কারখানাতেই এখন উৎসব উৎসব ভাব।’

তিনি বলেন, ‘প্রধান বাজার ইউরোপ-আমেরিকায় করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। মানুষ আগের মতো পোশাক কিনছে। সে কারণেই প্রচুর অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের এখানেও করোনা পরিস্থিতির স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। ২৫ ডিসেম্বরের বড়দিনকে ঘিরেও ভালো অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে।

‘সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পোশাকের জন্য সুদিন আসছে বলেই মনে হচ্ছে। এখন যদি আর কোনো সমস্যা না হয়, তাহলে আগামী দিনগুলোতে পোশাকসহ অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি বাড়বে। এবারও একটা ভালো প্রবৃদ্ধি উপহার দিতে পারব আমরা।’

ফারুক হাসান বলেন, ‘জুলাইয়ে রপ্তানি আয় কম আসবে, এটা অবধারিত ছিল। ঈদের ছুটি ও লকডাউনের কারণে টানা ১১/১২ দিন সব কারখানা বন্ধ ছিল। উৎপাদন হয়নি; রপ্তানিও হয়নি। আমরা ওই মাসের রপ্তানির চিত্র নিয়ে মোটেই বিচলিত ছিলাম না।‘

নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বিশ্ব বাণিজ্যের যে গতিবিধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেশ বাড়বে। ইউরোপ-আমেরিকায় পরিস্থিতি ভালো। তারা এখন প্রচুর পোশাক কেনা শুরু করেছে। আমরা যদি তাদের চাহিদা অনুযায়ী পোশাক দিতে পারি, তাহলে রপ্তানি আরও বাড়বে।’

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই-অক্টোবর সময়ে রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় খাত তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ২৬২ কোটি ১১ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ দশমিক ৭৮ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ৪১ শতাংশ।

এই চার মাসে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৪ দশমিক ২৭ শতাংশ। উভেনে বেড়েছে ১৬ দশমিক ৪১ শতাংশ।

তবে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি কমেছে ২৪ দশমিক ১১ শতাংশ।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত মাছ, কৃষি পণ্যসহ অন্য সব খাতের রপ্তানি আয় বেড়েছে।

জুলাই-অক্টোবর সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে ২২ কোটি ৩০ লাখ ডলার আয় হয়েছে। গত বছরের এই চার মাসে আয় হয়েছিল ৪৩ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ৪৫ কোটি ৩৬ লাখ ডলার।

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, জুলাই-অক্টোবর সময়ে পাট খাতের রপ্তানি আয় কমেছে ২৪ দশমিক ১১ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ।

এই চার মাসে হিমায়িত মাছ রপ্তানি বেড়েছে ১৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ। কৃষিপণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ৩১ দশমিক ৬০ শতাংশ। প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২ ৯দশমিক ০৪ শতাংশ। হোম টেক্সটাইল রপ্তানি বেড়েছে ১৬ দশমিক ৫২ শতাংশ।

স্পেশালাইজড টেক্সটাইল রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৬৫ শতাংশ।

১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের মোট লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪৩ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয়ের লক্ষ্য ধরা আছে ৩৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৩৮ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার আয় করে বাংলাদেশ, যা ছিল আগের বছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩ হাজার ৩৬৭ কোটি (৩৩.৬৭ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৭ শতাংশ কম।

আরও পড়ুন:
এলডিসি পরবর্তী রপ্তানিতে সবচেয়ে সম্ভাবনা আফ্রিকায়
সঠিক সিদ্ধান্তের ফলে মহামারিতে সচল অর্থনীতি
সেবা রপ্তানির পালেও হাওয়া
মধ্যপ্রাচ্যে গেল বাঁশের বেড়া
রপ্তানিতে রেকর্ড আয় সেপ্টেম্বরে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দেড় বছর আগেই বিজিএমইএ নির্বাচনে ফোরামের দলনেতা ঘোষণা

দেড় বছর আগেই বিজিএমইএ নির্বাচনে ফোরামের দলনেতা ঘোষণা

ফয়সাল সামাদ

মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুই বছর মেয়াদের (২০২১-২৩) বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন গত ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় ফারুক হাসানের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদ। ১৬ এপ্রিল ফারুক হাসানের নেতৃত্বে নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহন করে।

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে তার কোনো ঠিক নেই। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৩ সালের এপ্রিলের শেষের দিকে। সে হিসাবে এই দেড় বছরে যে সংগঠনটির নির্বাচন হচ্ছে না-এটা নিশ্চিত করে বলা যায়।

তবে ইতোমধ্যে বিজিএমইএর নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট ফোরাম সংগঠনটির আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য নিজেদের প্যানেল লিডার বা দলনেতা হিসেবে ফয়সাল সামাদের নাম ঘোষণা করেছে। তিনি একাধিকবার বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাজধানীর সেনা মালঞ্চে মঙ্গলবার রাতে ফোরামের আয়োজনে ‘বিজয়ের মাসে হেমন্ত আড্ডা’ শিরোনামে এক অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর আগামী নির্বাচনের জন্য প্যানেল লিডার হিসেবে ফয়সাল সামাদের নাম ঘোষণা করেন জোটটির নেতারা। একই সঙ্গে ফোরামের নতুন সভাপতি হিসেবে এশিয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সালামকে চূড়ান্ত করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ফোরামের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ।

মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুই বছর মেয়াদের (২০২১-২৩) বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন গত ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় ফারুক হাসানের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদ। ১৬ এপ্রিল ফারুক হাসানের নেতৃত্বে নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহন করে।

সে হিসাবে সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নির্বাচন হবে ২০২৩ সালের এপ্রিলে। তার মানে নির্বাচনের বাকি আরও প্রায় দেড় বছরের মতো।

ফোরামের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়, স্বাধীনতার ৫০ বছর উদ্‌যাপনের আলোকে মঙ্গলবারে অনুষ্ঠানে আড্ডা, গান ও মেজবানে বিজিএমইএর হাজারখানেক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। শেষ পর্যায়ে ফোরামের বিদায়ী সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ নতুন সভাপতি হিসেবে এশিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আবদুস সালামকে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান সিনহা, রুবানা হকসহ ফোরামের জ্যেষ্ঠ নেতারা মঞ্চে আগামী নির্বাচনের জন্য জোটের দলনেতা হিসেবে ফয়সাল সামাদের নাম ঘোষণা করেন।

দেড় বছর আগেই বিজিএমইএ নির্বাচনে ফোরামের দলনেতা ঘোষণা
সেনা মালঞ্চে মঙ্গলবার রাতে ফোরামের আয়োজনে ‘বিজয়ের মাসে হেমন্ত আড্ডা’ অনুষ্ঠান।

ফোরাম জানায়, আগামী নির্বাচনের দলনেতা ফয়সাল সামাদ সাভারটেক্স গ্রুপ ও সুরমা গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনিসুল হক, আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ ও রুবানা হকের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও আবদুস সালাম, বর্তমান পরিচালক আসিফ ইব্রাহিম প্রমুখ।

দীর্ঘ সাত বছর পর গত ৪ এপ্রিল বিজিএমইএর নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। তার আগে ২০১৩ সালে সাধারণ সদস্যদের সরাসরি ভোটে বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচিত হয়েছিল। পরের বার সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম দুই মেয়াদের জন্য সমঝোতা করে।

পরের মেয়াদে সমঝোতার কমিটি করার উদ্যোগ নেয় দুই জোট। তবে বাগড়া দেয় স্বাধীনতা পরিষদ। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০১৮ সালের শুরুতে সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে। সে সময় নির্বাচন থেকে তাদের সরিয়ে দিতে নানামুখী চেষ্টাও করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা পরিষদ খণ্ডিত প্যানেলে প্রার্থী দেয়। সে কারণে ঢাকায় নিয়ম রক্ষার ভোট হয়েছিল। তবে স্বাধীনতা পরিষদের কেউ সেই নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি।

বিজিএমইএ প্রতিষ্ঠান পর থেকেই এর নির্বাচনে পোশাকশিল্প মালিকদের দুই জোট ফোরাম ও স্বাধীনতা পরিষদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে।

আরও পড়ুন:
এলডিসি পরবর্তী রপ্তানিতে সবচেয়ে সম্ভাবনা আফ্রিকায়
সঠিক সিদ্ধান্তের ফলে মহামারিতে সচল অর্থনীতি
সেবা রপ্তানির পালেও হাওয়া
মধ্যপ্রাচ্যে গেল বাঁশের বেড়া
রপ্তানিতে রেকর্ড আয় সেপ্টেম্বরে

শেয়ার করুন

দিন ফুরায় টিসিবির ট্রাকের পেছনে লাইন ফুরায় না

দিন ফুরায় টিসিবির ট্রাকের পেছনে লাইন ফুরায় না

কারওয়ান বাজারে টিসিবির ট্রাকের পেছনে বুধবার সন্ধ্যায়ও ছিল ক্রেতার দীর্ঘ লাইন। ছবি: নিউজবাংলা

‘বাজারে দুই লিটার তেল কিনতেই ৩২০ টাকা লাগে, যা এখানে ২২০ টাকায় পাওয়া যায়। দুই লিটার তেল, দুই কেজি ডাল, তিন কেজি পেঁয়াজের প্যাকেজ ৪৩০ টাকা নিয়েছে। কষ্ট করে দুই দিন লাইনে দাঁড়ালে মাসের তেল, চিনি, ডাল, পেঁয়াজের জন্য আর ভাবতে হয় না।’

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ট্রেডিং করপোরেশন (টিসিবি) ভবনসংলগ্ন রাস্তায় বুধবার শেষ বিকেলেও দাঁড়িয়ে ছিল টিসিবির ট্রাক। সন্ধ্যা আসন্ন, অদূরে মসজিদের মাইকে মাগরিবের নামাজের আজান। তখনও ট্রাকের পেছনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় টিসিবির পণ্যে ঝুঁকছেন অপেক্ষাকৃত কিছুটা বাড়তি আয়ের মানুষও। অপেক্ষমাণ ক্রেতার সারিতে নিম্নবিত্তদের সঙ্গে আছেন মধ্যবিত্তসহ সরকারি চাকুরেরাও। দিন ফুরালেও টিসিসির ট্রাকের পেছনের লাইন যেন শেষ হয় না।

লাইনের পাশে দাঁড়ানো মাঝবয়সী নারী জুলি বেগম এসেছেন মগবাজার দিলু রোড থেকে। দুই হাতে টিসিবির বেশ কিছু পণ্য। দুই ছেলে-মেয়ে এমবিএ পড়ছে। সংসারের ‍কিছু টাকা সাশ্রয়ের জন্য টিসিবির পণ্য কিনেছেন বলে জানালেন অপেক্ষাকৃত অবস্থাপন্ন পরিবারের এই নারী।

জুলি বেগম বললেন, ‘সংসার চালানোর হিসাবটা তো আমাকেই রাখতে হয়। বাজারে দুই লিটার তেল কিনতেই ৩২০ টাকা লাগে, যা এখানে ২২০ টাকায় পাওয়া যায়। দুই লিটার তেল, দুই কেজি ডাল, তিন কেজি পেঁয়াজের প্যাকেজ ৪৩০ টাকা নিয়েছে। কষ্ট করে দুই দিন লাইনে দাঁড়ালে মাসের তেল, চিনি, ডাল, পেঁয়াজের জন্য আর ভাবতে হয় না।’

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তার জন্য নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সারা দেশে সাড়ে ৪০০ ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। ৪ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলবে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বরাবরের মতোই ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এই উদ্যোগ। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনছে মানুষ।

নারী ও পুরুষ পৃথক লাইন করে পণ্য বিক্রি করা হয়। পণ্য কমে আসছে শুনে লাইনে দাঁড়ানো মানুষ চিৎকার শুরু করে। তাদের একজন আমেনা বলে ওঠেন, ‘আধা ঘণ্টা খাড়ায়া আছি। এহন কিছু নাই কইলে অইব? আমরা তো কিছু পাই নাই। আমগো মাল দিতে অইবো।’

এ সময় ট্রাকের বিক্রয়কর্মী সবুজ তাদের আশ্বস্ত করে বলেন- ‘পণ্য এখনো শেষ হয়নি, সবাই পাবেন। আজ চিনি একটু কম পাইছি, তাই শেষ গেছে। কাস্টমার বেশি, প্যাকেজ করে বিক্রি করতেছি। এতে সময়ও কম লাগে, কাস্টমারগো লাইনে বিশক্ষণ দাঁড়াইতেও হয় না। কেউ শুধু তেল, ডাল বা অন্য কিছু চাইলেও দিচ্ছি। সব বিক্রি করেই যাব। তবে মানুষ বেশি চায় তেল ও ডাল। এ দুটো পণ্য পরিমাণে বেশিও পাইছি।’

কারওয়ান বাজারেই একটা সরকারি অফিসে চাকরি করেন আসাদুর রহমান। অফিস শেষ করে রাস্তায় টিসিরি ট্রাক দেখে তিনিও দাঁড়িয়ে যান লাইনে। বলেন, ‘খরচ তো সবারই বেড়েছে। দুশ’ টাকা বাঁচলেও অনেক। বাসায়ই যাচ্ছিলাম, পথে কিছু কিনে নিলাম। বাসায় যেতে না হয় ২০ মিনিট দেরি হবে। টাকা তো কিছু বাঁচল। এখানে আমার দুই কলিগও আছে।’

চারটি পণ্য ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি শুরু হয়েছে টিসিবি। জনপ্রতি প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকায় সর্বোচ্চ দুই কেজি, মসুর ডাল ৬০ টাকা দরে সর্বোচ্চ দুই কেজি, সয়াবিন তেল ১১০ টাকা দরে সর্বোচ্চ দুই লিটার আর পেঁয়াজ ৩০ টাকা দরে সর্বোচ্চ চার কেজি বিক্রি করা হয়। তবে ক্রেতার চাহিদা বুঝে পণ্য কমবেশি করেও বিক্রি হয়।

বেসরকারি চাকরিজীবী নজরুল বলেন, ‘বাজারে তেলের অনেক দাম। অফিস থেকে বের হয়ে দেখলাম ট্রাক। তাই তেলের জন্য লাইনে দাঁড়ালাম। দুই লিটার তেল নিয়ে যাব। আরেকদিন এলে পুরো মাসের তেলের ভাবনা করতে হবে না।

ট্রাক থেকে একটু দূরে তিনটি প্যাকেট নিয়ে বসে থাকতে দেখা গেল অল্পবয়সী এক মেয়েকে। এগুলো কার প্রশ্ন করতেই লাইনে দাঁড়ানো মাঝবয়সী এক নারী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ‘বাবা কী করমু, প্রত্যেক দিন তো আইতে পারি না, কাম থাকে। তাই ছেলে-মেয়ে নিয়া এক লগে লাইনে দাঁড়াইছি। পুরা মাস যাতে আর আসন না লাগে।’

টিসিবি জানায়, দিনে প্রতি ট্রাকে ২০০ থেকে ৫০০ কেজি চিনি, ৩০০ থেকে ৬০০ কেজি মসুর ডাল, ৪০০ থেকে ৬০০ লিটার সয়াবিন তেল এবং ৫০০ থেকে এক হাজার কেজি পেঁয়াজ দেয়া হয়। ক্রেতার চাহিদা ‍বুঝে পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন:
এলডিসি পরবর্তী রপ্তানিতে সবচেয়ে সম্ভাবনা আফ্রিকায়
সঠিক সিদ্ধান্তের ফলে মহামারিতে সচল অর্থনীতি
সেবা রপ্তানির পালেও হাওয়া
মধ্যপ্রাচ্যে গেল বাঁশের বেড়া
রপ্তানিতে রেকর্ড আয় সেপ্টেম্বরে

শেয়ার করুন

লেনদেন ভারসাম্যে বড় ঘাটতিতে বাংলাদেশ

লেনদেন ভারসাম্যে বড় ঘাটতিতে বাংলাদেশ

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছর শুরুই হয়েছিল লেনদেনের ভারসাম্যে ঘাটতি নিয়ে। প্রথম তিন মাসে অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৩১ কোটি ৪০ লাখ (২.৩১ বিলিয়ন) ডলার। চার মাস শেষে (জুলাই-অক্টোবর) তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারে।

বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অফ পেমেন্ট) বড় ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরের চার মাসেই (জুলাই-অক্টোবর) এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৭৭ কোটি (৪.৭৭ বিলিয়ন) ডলার।

অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক ৩৬৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছর শুরুই হয়েছিল লেনদেনের ভারসাম্যে ঘাটতি নিয়ে। প্রথম তিন মাসে অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৩১ কোটি ৪০ লাখ (২.৩১ বিলিয়ন) ডলার। চার মাস শেষে (জুলাই-অক্টোবর) তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারে।

অথচ গত বছরের একই সময়ে এই সূচক ৩৬৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল।

নিয়মিত আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য আয়-ব্যয় চলতি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। এই হিসাব উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়।

অর্থনীতির গবেষক আহসান এইচ মনসুর বলছেন, আমদানি বাড়ায় বৈদেশিক লেনদেনে এই ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে, এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আমদানি বাড়ার ভালো দিকও আছে। দেশে বিনিয়োগ বাড়বে; কর্মসংস্থান হবে। অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হবে।

প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি নিয়ে শেষ হয়েছিল গত ২০২০-২১ অর্থবছর। নয় মাস পর্যন্তও (জুলাই-মার্চ) এই সূচক উদ্বৃত্ত ছিল। কিন্তু আমদানি বেড়ে যাওয়ায় এপ্রিল থেকে ঘাটতি (ঋণাত্মক) দেখা দেয়।

বেশ কয়েক বছর পর সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যেও ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৩৪ কোটি ডলার। অথচ গত বছরের এই চার মাসে উদ্বৃত্ত ছিল ৪১৪ কোটি ১০ লাখ (৪.১৪ বিলিয়ন) ডলার।

৯২৭ কোটি ৪০ লাখ (৯.২৭ বিলিয়ন) ডলারের বড় উদ্বৃত্ত নিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছর শেষ হয়েছিল। তার আগের বছরে উদ্বৃত্ত ছিল ৩১৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

লেনদেন ভারসাম্যে বড় ঘাটতিতে বাংলাদেশ

তবে আর্থিক হিসাবে এখনও উদ্বৃত্ত ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। জুলাই-অক্টোবর সময়ে এই উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৩৭৭ কোটি ৭০ লাখ (৩.৭৭ বিলিয়ন) ডলার। গত বছরের এই সময়ে ৬৫ কোটি ২০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল।

করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ অন্য দাতাদেশ ও সংস্থার কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত ঋণসহায়তা পাওয়ায় আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত হয়েছে বলে জানান আহসান মনসুর।

বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে তিন গুণ

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমদানিতে জোয়ার বইতে শুরু করেছে। আর এতে আমদানি-রপ্তানির মধ্যে ব্যবধান চূড়ায় উঠছে।

অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বাংলাদেশে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯১০ কোটি (৯.১০ বিলিয়ন) ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় তিন গুণ।

২০২০-২১ অর্থবছরের এই চার মাসে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৩৪৯ কোটি ৬০ লাখ (৩.৪৯ বিলিয়ন) ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে ২ হাজার ৩৯০ কোটি (২৩.৯০ বিলিয়ন) ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরের এই চার মাসে ১ হাজার ৫৭৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল।

অন্যদিকে ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ১ হাজার ৪৮০ কোটি ১০ লাখ (১৪.৮০ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছেন রপ্তানিকারকরা। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২০ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি।

এ হিসাবেই অর্থবছরের প্রথম চার মাসে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯১০ বিলিয়ন ডলার।

এই ধারা অব্যাহত থাকলে গত অর্থবছরের চেয়ে অনেক বেশি বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে অর্থবছর শেষ হবে বলে মনে করছেন গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘একটা স্বস্তির জায়গা হচ্ছে, আমদানির সঙ্গে রপ্তানিও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। রপ্তানির এই ইতিবাচক ধারা বেশ কিছুদিন অব্যাহত থাকবে বলে মনে হচ্ছে। তাই, আমদানি যেটা বাড়ছে, তা যদি ঠিকঠাকমতো বিনিয়োগে আসে, তাহলে অর্থনীতির জন্য ভালো হবে।

‘আশার কথা হচ্ছে, পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে আগামী বছর থেকেই যান চলাচল করবে। মেট্রোরেলও পুরোদমে চালু হবে। কর্ণফুলী টানেলের নির্মাণকাজও শেষ হবে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি বড় প্রকল্পের কাজ চলছে। কয়েকটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ শেষ হয়েছে। আরও কয়েকটির কাজ চলছে। এসব বড় প্রকল্প বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ভিন্নমাত্রা যোগ করবে।

‘আর এসব উন্নয়নযজ্ঞকে কেন্দ্র করেই বিনিয়োগের ছক কষছেন উদ্যোক্তারা। সেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পণ্য সরঞ্জাম আমদানি করছেন তারা। তাতেই বাড়ছে আমদানি।’

সেবা বাণিজ্যে ঘাটতিও বাড়ছে

জুলাই-অক্টোবর সময়ে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৯৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ৭০ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

মূলত বিমা, ভ্রমণ ইত্যাদি খাতের আয়-ব্যয় হিসাব করে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি পরিমাপ করা হয়।

আরও পড়ুন:
এলডিসি পরবর্তী রপ্তানিতে সবচেয়ে সম্ভাবনা আফ্রিকায়
সঠিক সিদ্ধান্তের ফলে মহামারিতে সচল অর্থনীতি
সেবা রপ্তানির পালেও হাওয়া
মধ্যপ্রাচ্যে গেল বাঁশের বেড়া
রপ্তানিতে রেকর্ড আয় সেপ্টেম্বরে

শেয়ার করুন

আরেকটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

আরেকটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

প্রতীকী ছবি

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সাভারের বলিয়ারপুর থেকে নিমতলী-কেরানীগঞ্জ-ফতুল্লা-নারায়ণগঞ্জ বন্দর হয়ে লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত হবে এই এক্সপ্রেসওয়ে। এটির দৈর্ঘ্য হবে ৩৯ কিলোমিটার।

রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসনে আরেকটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে। এটির নাম দেয়া হয়েছে ‘ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প’।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সরকার। ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সেতু বিভাগ।

বুধবার অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রকল্পটি নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিসভা পরিষদের অতিরিক্ত সচিব শামসুল আরেফিন ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সাভারের বলিয়ারপুর থেকে নিমতলী-কেরানীগঞ্জ-ফতুল্লা-নারায়ণগঞ্জ বন্দর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত হবে এই এক্সপ্রেসওয়ে। এটির দৈর্ঘ্য হবে ৩৯ কিলোমিটার।

কবে নাগাদ ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শুরু হবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে অতিরিক্ত সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ‘নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এখন এটি টেন্ডারে দেয়া হবে।’

টেন্ডারে দেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে। সে জন্য তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে।

সেতু বিভাগ বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম-সিলেটসহ দেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর যানবাহন ঢাকা শহরে প্রবেশ না করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ২০টি জেলায় সরাসরি চলাচল করতে পারবে। এর ফলে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট অনেকাংশে কমে আসবে।

ইস্ট-ওয়েস্ট এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের বিষয়ে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের সর্ববৃহৎ ও ঘনবসতিপূর্ণ নগর ঢাকায় জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচলের জন্য ঢাকা শহরের বিদ্যমান সড়ক নেটওয়ার্ক প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

বিশেষত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং চট্টগ্রাম-সিলেটসহ পূর্বাঞ্চলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করতে হলে ঢাকা শহরে প্রবেশ করতে হয়। এর ফলে ঢাকা মহানগরে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

এই যানজট নিরসনে আলোচ্য প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সেতু বিভাগ বলেছে, ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ২০১৭ সালে ‘ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে। প্রস্তাবিত এক্সপ্রেসওয়েটি ‘রিভাইজড স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (আরএসটিপি)’-এ উল্লিখিত আউটার রিং রোডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার উপজেলার বলিয়ারপুর থেকে শুরু হয়ে কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দর উপজেলা হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁও উপজেলার লাঙ্গলবন্দে শেষ হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৩১৬ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে। এই জমির দাম, স্থাপনা ও অন্যান্য ক্ষতিপূরণ সরকারি খাত থেকে দেয়া হবে। এ ছাড়া প্রকল্প এলাকায় বিদ্যমান পরিষেবাগুলো স্থানান্তরের ব্যয়ও সরকারি তহবিল থেকে করা হবে।

আরও পড়ুন:
এলডিসি পরবর্তী রপ্তানিতে সবচেয়ে সম্ভাবনা আফ্রিকায়
সঠিক সিদ্ধান্তের ফলে মহামারিতে সচল অর্থনীতি
সেবা রপ্তানির পালেও হাওয়া
মধ্যপ্রাচ্যে গেল বাঁশের বেড়া
রপ্তানিতে রেকর্ড আয় সেপ্টেম্বরে

শেয়ার করুন

প্যান্ডোরা পেপারস, ‘কিছু করার নেই’ অর্থমন্ত্রীর

প্যান্ডোরা পেপারস, ‘কিছু করার নেই’ অর্থমন্ত্রীর

বুধবার পেন্ডোরা পেপারস কেলেঙ্কারির দ্বিতীয় যে তালিকা প্রকাশ হয়, তাতে আট বাংলাদেশির নাম উঠে এসেছে। অর্থমন্ত্রী বলছেন, এ সংক্রান্ত একটি মামলা উচ্চ আদালতে রয়েছে। দুদক নতুনদের নামও তাতে যুক্ত করবে বলে আশা করেন তিনি। আর এ বিষয়ে আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবে, সরকার সেভাবেই কাজ করবে।

প্যান্ডোরা পেপারস নামে পরিচিতি পাওয়া অবৈধভাবে বিদেশে বিনিয়োগকারীদের যে নতুন তালিকা প্রকাশ হয়েছে, তাতে নাম আসা বাংলাদেশিদের বিষয়ে কিছু বলা ঠিক হবে না বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এই বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন তিনি।

পানামা ও প্যান্ডোরা পেপারস নামে পরিচিতি পাওয়া কেলেঙ্কারিতে নাম আসা বাংলাদেশিদের নাম দুদক উচ্চ আদালতে জমা দিয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। কাজেই বিচারাধীন বিষয়ে আমার পক্ষে কিছু বলা ঠিক হবে না।’

বুধবার অর্থনৈতিক ও ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

বুধবার প্যান্ডোরা পেপারস কেলেঙ্কারির দ্বিতীয় যে তালিকা প্রকাশ হয়, তাতে আট বাংলাদেশির নাম উঠে এসেছে।

এতে নাম থাকা নারী নিহাদ কবীর ২০১৭ সাল থেকে মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্সের (এমসিসিআই) প্রেসিডেন্টের পদে রয়েছেন।

ক্যাপিটাল ফেয়ার হোল্ডিংস লিমিটেড নামে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে তার মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ২০০৮ সালের ৮ আগস্ট ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে অফশোর কোম্পানি হিসেবে এটি নিবন্ধিত হয়।

এই নথিতে ইসলাম মঞ্জুরুল নামের আরেক বাংলাদেশির নাম রয়েছে। ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে ওরিয়েন্টাল এগ্রিকালচারাল কেমিক্যাল কোম্পানি নামে নিবন্ধিত একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি। তার যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে।

অন্য বাংলাদেশি যাদের নাম নথিতে ফাঁস হয়েছে তারা হলেন সাইদুল হুদা চৌধুরী, আনিতা রানী ভৌমিক, সাকিনা মিরালি, মোহাম্মদ ভাই, ওয়াল্টার প্রাহমাদ ও ড্যানিয়াল আরনেস্টো আয়ুবতী।

এই আটজনের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে- জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের নাম নতুন করে এসেছে তাদের তালিকা ও হাইকোর্টে জমা দিবে দুদক। আমরা বিশ্বাস করি, ন্যায়বিচার পাব এবং আদালত যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা মেনে নেব।’

এ সময় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে উচ্ছ্বাশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। বলেন, ‘দেশ যেভাবে এগোচ্ছে তাতে করে ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা বিশ্বের শীর্ষ ২০ টি দেশের মধ্যে একটি হব।’

মন্ত্রী বলেন, ‘৫০ বছরে বাংলাদেশের অর্জন সারাবিশ্বে প্রশংসনীয়। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে আমরা অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছি।

‘স্বাধীনতার প্রথম ৩৮ বছর আমাদের জিডিপির আকার ছিল ১০০ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে তা চার গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১১ বিলিয়ন ডলারে। এই অর্জন এদেশের সাধারণ মানুষের। আমি বিশ্বাস করি এই অর্জন আগামী দিনগুলোতে অব্যাহত থাকবে।’

যুক্তরাজ্যের সেন্টার ফর ইকনোমিক বিজনেস রিসার্চ-এর সবশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে ২৫ তম অর্থনৈতিক দেশে পরিণত হবে।

আরও পড়ুন:
এলডিসি পরবর্তী রপ্তানিতে সবচেয়ে সম্ভাবনা আফ্রিকায়
সঠিক সিদ্ধান্তের ফলে মহামারিতে সচল অর্থনীতি
সেবা রপ্তানির পালেও হাওয়া
মধ্যপ্রাচ্যে গেল বাঁশের বেড়া
রপ্তানিতে রেকর্ড আয় সেপ্টেম্বরে

শেয়ার করুন

মাশুল বাড়াচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর, ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা

মাশুল বাড়াচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর, ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর সেবাদানকারী সংস্থা। ব্যবহারকারীদের সেবা দিয়ে যাবেন, লাভ-ক্ষতি নিয়ে চিন্তার তো দরকার নেই। ১৯৮৬ সালে ডলারের বিনিময় হার ছিল ৩০ টাকা, এখন ৮৮ টাকা। আধুনিক যন্ত্রপাতি যুক্ত হয়েছে। সেই হিসাবে তো মাশুল আরও কমানোর কথা, সেখানে বাড়বে কেন?’

চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন সেবার মাশুল বাড়াচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে মাশুল বাড়ানো প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছে সেবার নতুন হার নির্ধারণের দায়িত্ব। বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর কাছেও মতামত চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।

করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতির এই সময়ে মাশুল বাড়ানোর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। নেতারা বলছেন, মাশুল বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। বন্দরের কাজ হলো সেবা দেয়া; ব্যবসা করা নয়।

তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, ১৯৮৬ সালের মাশুল আর কত দিন চলবে? বন্দরে সেবার বিনিময়ে কেবল খরচ আদায় করা হয়। বর্তমানে আদায় করা মাশুলের পরিমাণ খরচের চেয়ে অনেক কম। নতুন হিসাবে খরচ অনুযায়ী মাশুল আদায় হবে।

১৯৮৬ সালে নির্ধারিত হারে এত দিন মাশুল আদায় করে আসছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রায় তিন যুগ পর ২০১৯ সালে মাশুল আদায়ের হার যুগোপযোগী করতে উদ্যোগ নেয়া হয়, তবে তখন তা বাস্তবায়ন করা যায়নি।

বন্দর কর্তৃপক্ষ ১৫টি সেবার বিপরীতে বিভিন্ন উপখাতে ৩৩ থেকে ৪৮৮ শতাংশ পর্যন্ত মাশুল বাড়ানোর চিন্তা করছে বলে জানা গেছে।

তার মধ্যে রয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ পোর্ট ডিউজ, পাইলটেজ ফি, বার্থিং-আনবার্থিং ফি, বার্থে অবস্থান, মুরিংয়ে অবস্থান, পানি সরবরাহ চার্জ, রিভার ডিউজ (প্রথাগত) ও ল্যান্ডিং অথবা শিপিং চার্জ (প্রথাগত), বন্দরের স্থান ব্যবহার ভাড়া (স্পেস রেন্ট), কনটেইনার বোঝাই ও খালাসকরণ, রেফার কনটেইনার সেবা, রিভার ডিউজ (কনটেইনারাইজড), লিফট অন/লিফট অফ চার্জ (চট্টগ্রাম বন্দর), লিফট অন/লিফট অফ চার্জ (ঢাকা আইসিডি) ও ঢাকার আইসিডিতে কনটেইনারের স্টোরেজ সেবা খাত।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খরচ অনুযায়ী (কস্ট বেইজড) ট্যারিফ নির্ধারণে বিদেশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হয়েছে। গঠন করা হয়েছে পরামর্শক টিম। স্পেনের মেসার্স আইডিওম কনসালটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড আর্কিটেকচার এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস লজিকফ্রুম লিমিটেড সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজটি করছে।

এরই মধ্যে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে তাদের মতামত নেয়ার পর কাজ চলছে। চলতি মাসে প্রাথমিক প্রস্তাব দেয়ার কথা রয়েছে। সেটি বন্দর কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করলে আগামী বছরের মার্চে নতুন মাশুল চূড়ান্ত হবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মানের একটি ট্যারিফ কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। তবে মাশুল নির্ধারণ হবে আঞ্চলিক বন্দরগুলোর সঙ্গে তুলনা করে। আশপাশের বন্দরে মাশুল আদায়ের হার এরই মধ্যে পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রতিটি খাতের সেবায় খরচ অনুযায়ীই মাশুল আদায় করা হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবসা করবে না, তবে বন্দরের উন্নয়ন করতে হলে ব্যাপক বিনিয়োগ করতে হবে। সেবা দিয়েই সেই টাকা তুলে নিতে হবে। যৌক্তিক হারেই মাশুল বাড়ানো হবে।

তবে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর সেবাদানকারী সংস্থা। ব্যবহারকারীদের সেবা দিয়ে যাবেন, লাভ-ক্ষতি নিয়ে চিন্তার তো দরকার নেই। ১৯৮৬ সালে ডলারের বিনিময় হার ছিল ৩০ টাকা, এখন ৮৮ টাকা। আধুনিক যন্ত্রপাতি যুক্ত হয়েছে। সেই হিসাবে তো মাশুল আরও কমানোর কথা, সেখানে বাড়বে কেন?’

মাশুল না বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্সের সহসভাপতি মাহবুব চৌধুরী।

করোনা সংকটের এই সময়ে মাশুল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিজিএমইএ প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

আর ট্যারিফসংক্রান্ত মতামতের চিঠির উত্তরে মাশুল না বাড়িয়ে বন্দরের সেবাকে গতিশীল করার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, ‘১৯৮৬ সালের ট্যারিফ দিয়ে আর কত চলবে। এ ছাড়া বন্দর লাভের জন্য ট্যারিফ পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়নি। কেবল সেবা দিতে গিয়ে যে খরচ হবে, সেটি আদায় করবে। সে হিসাবেই (কস্ট বেইজড) ট্যারিফ নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে সেবার বিপরীতে যে মাশুল আদায় করা হয় তা খরচের চেয়ে অনেক কম। এর পরও ট্যারিফ নির্ধারণের পর ব্যবসায়ীদের মতামত নেয়া হবে। তাদের পরামর্শ বিবেচনায় রেখে চূড়ান্ত হবে। ব্যবসার ক্ষতি হয়, এমন কোনো সিদ্ধান্ত বন্দর কর্তৃপক্ষ নেবে না।’

আরও পড়ুন:
এলডিসি পরবর্তী রপ্তানিতে সবচেয়ে সম্ভাবনা আফ্রিকায়
সঠিক সিদ্ধান্তের ফলে মহামারিতে সচল অর্থনীতি
সেবা রপ্তানির পালেও হাওয়া
মধ্যপ্রাচ্যে গেল বাঁশের বেড়া
রপ্তানিতে রেকর্ড আয় সেপ্টেম্বরে

শেয়ার করুন

নগদে চরকির সাবস্ক্রিপশনে ৫০% ছাড়

নগদে চরকির সাবস্ক্রিপশনে ৫০% ছাড়

চরকিতে সাবস্ক্রিপশনে নগদে ৫০ শতাংশ ছাড় দিতে চুক্তি। ছবি: সৌজন্যে

মঙ্গলবার বিকেল থেকে শুধু ‘নগদ’-এ চালু হওয়া অফারটি চলবে আগামী বছর ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর মাধ্যমে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে সাবস্ক্রাইব করলে তাৎক্ষণিক ৫০ শতাংশ ছাড় পাচ্ছেন গ্রাহকরা।

মঙ্গলবার বিকেল থেকে শুধু ‘নগদ’-এ চালু হওয়া অফারটি চলবে আগামী বছর ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত।

রাজধানীর একটি হোটেলে ‘নগদ’ নিবেদিত চরকি অরিজিনাল সিরিজ ‘জাগো বাহে’ সিরিজের ট্রেইলার মুক্তির সময় এই ঘোষণা দেন ‘নগদ’-এর নির্বাহী পরিচালক নিয়াজ মোর্শেদ এলিট।

এ সময় চরকির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি, ‘জাগো বাহে’ সিরিজের নির্মাতারা, সিরিজের শিল্পী, কলাকুশলীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বলেন, “নগদ যেমন দেশীয় প্রতিষ্ঠান, তেমনি চরকিও। চরকির এমন আয়োজনের সঙ্গে ‘নগদ’ যুক্ত হতে পেরে বেশ ভালো লাগছে। আশা করি দেশীয় এই দুই প্রতিষ্ঠান মিলে আগামী দিনে দর্শকদের জন্য আরও ভালো কিছু করবে। এই উদ্যোগের ফলে দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গল্পগুলোও মানুষের সামনে উঠে আসবে।”

এলিট বলেন, এই অফারের ফলে ‘নগদ’-এর সাড়ে ৫ কোটি গ্রাহকের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিনোদন আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।

দর্শকেরা অরিজিনাল সিরিজটি প্রিমিয়াম কনটেন্ট হিসেবে চরকির অ্যাপ ও ওয়েবসাইট থেকে উপভোগ করতে পারবেন।

‘নগদ’-এর মাধ্যমে ৫০ শতাংশ ছাড় উপভোগ করতে চাইলে তারা বেছে নিতে পারবেন এক মাস, ছয় মাস কিংবা ১২ মাসের সাবস্ক্রিপশন প্যাকেজ।

‘নগদ’ নিবেদিত ‘জাগো বাহে’ সিরিজে ‘শব্দের খোয়াব’; ‘লাইটস, ক্যামেরা, অবজেকশন’ ও ‘বাংকার বয়’ নামে তিনটি পর্ব রয়েছে, যা পরিচালনা করেছেন যথাক্রমে সিদ্দিক আহমেদ, সালেহ সোবহান অনীম এবং সুকর্ণ শাহেদ ধীমান।

এই সিরিজের প্রথম পর্বটি মুক্তি পাবে আগামীকাল এবং পর্যায়ক্রমে ১৬ ও ২৩ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে বাকি দুটি পর্ব। সে অর্থে দর্শকরা প্রতি সপ্তাহে এই অ্যান্থোলজি সিরিজটির একটি করে পর্ব দেখতে পারবেন।

স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ এই অ্যান্থোলজি সিরিজটির অংশীদার হয়েছে ‘নগদ’।

ডাক বিভাগের ‘নগদ’ কর্তৃক নিবেদিত এই সিরিজে বাংলাদেশের ইতিহাসের তাৎপর্যপূর্ণ তিনটি বছর— ১৯৫২, ১৯৬৯ ও ১৯৭১ এর সময়কার গল্প উঠে এসেছে। যাতে বর্ণনা করা হয়েছে বাঙালির জেগে ওঠার, দ্রোহ, প্রতিরোধ আর বিপ্লবের গল্প।

আরও পড়ুন:
এলডিসি পরবর্তী রপ্তানিতে সবচেয়ে সম্ভাবনা আফ্রিকায়
সঠিক সিদ্ধান্তের ফলে মহামারিতে সচল অর্থনীতি
সেবা রপ্তানির পালেও হাওয়া
মধ্যপ্রাচ্যে গেল বাঁশের বেড়া
রপ্তানিতে রেকর্ড আয় সেপ্টেম্বরে

শেয়ার করুন