দেশও তো রক্ষা করতে হবে: আপিল বিভাগ

দেশও তো রক্ষা করতে হবে: আপিল বিভাগ

প্রতীকী ছবি

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের তো দেশও রক্ষা করতে হবে। এখন যদি ১০০, ২০০ ও ৩০০ গ্রাম হেরোইন মামলাতেও জামিন দিয়ে দেয়, তাহলে আমরা কি করব? আমরা কি জামিন স্থগিত করব না?’

১০০ গ্রাম বা তার বেশি পরিমাণ হেরোইনের মামলাতেও সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ জামিন দিলে চেম্বার আদালত তা স্থগিত ছাড়া কী করবে, সে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের এক আবেদন প্রসঙ্গে মঙ্গলবার এমন প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি।

মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের তো দেশও রক্ষা করতে হবে। এখন যদি ১০০, ২০০ ও ৩০০ গ্রাম হেরোইন মামলাতেও জামিন দিয়ে দেয়, তাহলে আমরা কি করব? আমরা কি জামিন স্থগিত করব না?’

সকালে আপিল বিভাগের বিচার চলাকালে আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল তার একটি মামলায় চেম্বার আদালতের দেয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চান। তখন আপিল বিভাগ সেটি না দিতে চাইলে রুহুল কুদ্দস বলেন, ‘মাই লর্ড, আইটেম নম্বর ১১। মাই লর্ড, আমি চেম্বারে স্টে (স্থগিত) পেয়েছি।’

তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘তাহলে এখন আমরা আপনার এটা ভালো করে দেখি। চেম্বারে স্টে যেহেতু পেয়েছেন, তাহলে ভালো করে দেখি। আপনি এটা আবার হেয়ারিং (শুনানি) করেন।’

প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আইনজীবী কাজল বলেন, ‘মাই লর্ড, এটা হেয়ারিং করলে একই রেজাল্ট হবে।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আসেন, করতে থাকেন কতক্ষণ।’ এর মধ্যে স্থগিতাদেশ বহাল রেখে আদেশও দিয়ে দেন প্রধান বিচারপতি।

তখন আইনজীবী কাজল বলেন, ‘হাইকোর্টের রুলসটা পরিবর্তন করে দেন। কারণ আমরা যখন প্র্যাকটিসে আসি তখন থেকে দেখিনি ইন্টেরিম (অন্তবর্তী) অর্ডারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে আপিল করতে।’

তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘শুনেন, হাইকোর্টে সপ্তাহে অন্ততপক্ষে প্রতি ১ হাজার জামিনের আদেশ হয়। রাষ্ট্রপক্ষ আপিলে আসে ৫০ বা ১০০টা নিয়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘১০০, ২০০ ও ৩০০ গ্রাম হেরোইন মামলা যদি জামিন দিয়ে দেয়, তাহলে আমরা কী করব? দেশও তো রক্ষা করতে হবে। আমি তো হাইকোর্টে ছিলাম। আমি আন্দাজে জামিন দেইনি। যেটাতে পাওয়ার মতো, সেটাতে দিয়েছি।

‘অথচ হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছে, ব্যাংকের সব ইন্টারেস্ট মাফ। ২০ বছরে টাকা পরিশোধ করবে, তাও শুধু মূল অংশ। এ রকম ইন্টেরিম অর্ডার কি কেউ দিতে পারে? প্রথম দিনেই বলতেছে সমস্ত ইন্টারেস্ট বাদ। এ রকম শুধু একটা না, এ রকম তিনটা কোর্ট আদেশ দিয়েছে। এটা নিয়ে ফুল কোর্ট মিটিংয়ে পর্যন্ত বলা হয়েছে। তারপরও বন্ধ হয়নি।’

আইনজীবী কাজল বলেন, ‘গরিব আইনজীবীদের কনসার্ন হলো জামিন। সাধারণ আইনজীবী দুই-একটা জামিন নিয়ে কাজ করেন।’

তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা তো ১০ হাজার ফেনসিডিল বোতল পর্যন্ত ধরি না।’

আইনজীবী কাজলের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘হাইকোর্টে এখন এত আগাম জামিন হয়। এটা আগে দেখেছেন কখনো? এখন প্রত্যেকটা কোর্টেই আগাম জামিন হয়।

‘ধর্ষণ মামলা, খুনের মামলা, হেরোইনের মামলায় যদি আগাম জামিন নিয়ে নেয় তাহলে আমরা কি করব? আমাদের আপিলের রায় কি মানে?’

আইনজীবী কাজল বলেন, ‘প্রত্যেকটা মামলাতে ভিন্ন ভিন্ন ফ্যাক্ট রয়েছে। এখানে (আপিলে) যত সহজে মামলা নিষ্পত্তি হয়, হাইকোর্টে একটি মামলায় জামিন পাওয়া গলদঘর্ম হয়ে যায়।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘হ্যাঁ, গলদঘর্ম হয়ে যায়। হাইকোর্টে প্রতিদিন ৩০০ জামিন হয় আর বলছে গলদঘর্ম হয়ে যায়।’

ওই সময় জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ইমান আলী বলেন, ‘মিস্টার রুহুল কুদ্দুস, এই যে ধর্ষণ, হত্যা মামলাগুলা দেখে দেখে স্টে (স্থগিত) দিচ্ছি, এটা কি আনজাস্টিফাই মনে করছেন? ধর্ষণ মামলায়, খুনের মামলায় জামিন দিয়ে দিচ্ছে, সেগুলো এখানে নিয়ে আসবে না?’

আপিল বিভাগের আরেক বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান বলেন, ‘মিস্টার রুহুল কুদ্দুস, নিজের চেহারার দিকে তাকান। বারের সেক্রেটারির রুমে বসে কেউ মামলা করে নাই।

‘আমরাও বার রিপ্রেজেন্ট করেছি। সভাপতি-সম্পাদকের রুমে মক্কেল জায়গা দিইনি। আপনি দীর্ঘদিন যাবত এখানে বসে প্র্যাকটিস করতেছেন।’

তখন কাজল বলেন, ‘মাই লর্ড, আপনি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বলছেন।’ তখন বিচারক বলেন, ‘আপনি তো ব্যক্তিগতভাবে কোর্টকে বলছেন।’

আইনজীবী কাজল বলেন, ‘এখন ভার্চুয়ালি শুনানি হচ্ছে। আপনারা আপনাদের চেম্বারে বসে করছেন। আমি আমার সেক্রেটারির চেম্বারে বসে করছি।’

বিচারপতি নূরুজ্জামান বলেন, ‘হ্যাঁ, সেক্রেটারির রুম দিয়েছে আপনাকে প্র্যাকটিস করার জন্য?’

ওই সময় অ্যাটর্নি জেনারেল আইনজীবী কাজলকে থামিয়ে দেন। পরে প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ অফিসারকে অন্য আইটেম কল করতে বলেন। এরপর অন্য মামলার শুনানি হয়।

আরও পড়ুন:
আইনজীবী ছাড়া কোর্টে দাঁড়ানো ফ্যাশন হয়ে গেছে
কারাগারে মৃত্যু, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সিরাজ মাস্টারের আপিল বাতিল
আপিল বিভাগে নতুন বিচারক নিয়োগ কবে
শিশু হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড চূড়ান্ত রায়ে বহাল
আপিলে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে ৪ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ক্যানবেরায় বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস উদযাপন

ক্যানবেরায় বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস উদযাপন

ক্যানবেরায় হায়াত রিজেন্সী হোটেলে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাংলাদেশের উন্নয়নের সূচনা, বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়নের অগ্রযাত্রা এবং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিষয়ে ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। বাংলাদেশি ও ভারতীয় শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন।

অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় উদযাপন হলো বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরকে স্মরণীয় করে রাখতে হায়াত রিজেন্সী হোটেলে বাংলাদেশ ও ভারতের হাইকমিশন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ক্যানবেরার বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে কাউন্সিলর তৌহিদুলের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত সব শহীদ স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালির মুক্তির সংগ্রাম, ১৯৭১ সালে সংঘটিত গণহত্যা, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও এতে ভারতীয় সহায়তা, বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণা, বিশ্ব মিডিয়ায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারণা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে তৎকালীন ভারত সরকারের ভূমিকা এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও উন্নয়ন সহযোগিতা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাংলাদেশের উন্নয়নের সূচনা, বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়নের অগ্রযাত্রা এবং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। বাংলাদেশি ও ভারতীয় শিল্পীরা পৃথকভাবে সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুফিউর রহমান, ভারতের হাইকমিশনার মনপ্রীত ভোরা ও অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হারিন্দার সিধু বক্তব্য দেন।

এছাড়া রাশিয়াসহ অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত ৩১টি দেশের মিশনপ্রধান, ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, থিংকট্যাঙ্ক, মুক্তিযোদ্ধা, প্রবাসী বাংলাদেশি ও ভারতীয়সহ শতাধিক ব্যক্তি এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

হাইকমিশনার সুফিউর রহমান ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা, স্বাধীন বাংলাদেশের যুদ্ধবিধ্বস্ত প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সহায়তা এবং প্রধানমন্ত্রী মুজিব ও ইন্দিরা কর্তৃক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপনের বিষয়কে স্মরণ করেন। তিনি ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ এবং দু’দেশের সব ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করেন, যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গতিশীল নেতৃত্বে বেগবান হয়েছে।

ভারতের হাইকমিশনার মনপ্রীত ভোরা বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে থাকতে পেরে ভারতের জনগণ গর্বিত। বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং বাংলাদেশ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হারিন্দার সিধু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং পরবর্তীতে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনে অস্ট্রেলিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন। ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয়দানের জন্য বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেন তিনি। শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে একযোগে কাজ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অস্ট্রেলিয়াসহ ১৮টি দেশে বাংলাদেশ ও ভারতীয় দূতাবাস যৌথভাবে দিবসটি পালন করেছে। গত মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে ভারত কর্তৃক বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির দিবস ৬ ডিসেম্বরকে মৈত্রী দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুন:
আইনজীবী ছাড়া কোর্টে দাঁড়ানো ফ্যাশন হয়ে গেছে
কারাগারে মৃত্যু, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সিরাজ মাস্টারের আপিল বাতিল
আপিল বিভাগে নতুন বিচারক নিয়োগ কবে
শিশু হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড চূড়ান্ত রায়ে বহাল
আপিলে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে ৪ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তি

শেয়ার করুন

সরকারবিরোধী বক্তব্য: পৌর মেয়র বরখাস্ত

সরকারবিরোধী বক্তব্য: পৌর মেয়র বরখাস্ত

সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল সাময়িকভাবে বরখাস্ত। ছবি: নিউজবাংলা

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘আপনি (আমিনুল ইসলাম রাবেল) ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে মতবিনিময় সভায় সরকার এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের বিরুদ্ধে হানিকর ও রাষ্ট্রের জন্য হানিকর বক্তব্য দিয়েছেন। আপনার এ ধরনের জনহানিকর বক্তব্য স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩২ এর (খ) ও (ঘ) অনুযায়ী মেয়রের পদ থেকে অপসারণযোগ্য অপরাধ।’

সরকারবিরোধী বক্তব্য দেয়ায় সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

সোমবার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেনের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘যেহেতু, আপনি (আমিনুল ইসলাম রাবেল) ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট ফোরাম আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ সরকার এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের বিরুদ্ধে হানিকর ও রাষ্ট্রের জন্য হানিকর বক্তব্য দিয়েছেন; তাই, আপনার এ ধরনের জনহানিকর বক্তব্য স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩২ এর (খ) ও (ঘ) অনুযায়ী মেয়রের পদ থেকে অপসারণযোগ্য অপরাধ।’

‘যেহেতু, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩১(১) মোতাবেক যে ক্ষেত্রে কোন পৌরসভার মেয়র অথবা কোন কাউন্সিলর অপসারণের কার্যক্রম আরম্ভ করা হয়েছে অথবা তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলায় অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হয়েছে, সেই ক্ষেত্রে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় মেয়র অথবা কাউন্সিলর কর্তৃক ক্ষমতা প্রয়োগ পৌরসভার স্বার্থের পরিপন্থি অথবা প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন না হলে, সরকার লিখিত আদেশের মাধ্যমে মেয়র অথবা কাউন্সিলরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করতে পারে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘যেহেতু, আপনি জনাব আমিনুল ইসলাম রাবেল, মেয়র, গোলাপগঞ্জ পৌরসভা, সিলেট স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩২ উপ-ধারা ১(খ) ও ১(ঘ) মোতাবেক বাংলাদেশ সরকার এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের বিরুদ্ধে হানিকর ও জনহানিকর বক্তব্য দেয়ায় আপনার এমন অপরাধমূলক কার্যক্রম পৌর পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থি মর্মে সরকার মনে করে।’

‘সেহেতু, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩১(১) অনুযায়ী আপনাকে মেয়র, সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেলকে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়রের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।’

এ আদেশ শিগগির কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

গত ৩০ জানুয়ারি সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম রাবেল। দলীয় নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার রাবেলকে বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ। বহিষ্কার হওয়ার আগে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন রাবেল।

দলীয় পদ যাওয়ার পর এবার পৌরসভা মেয়রের পদও হারালেন রাবেল।

আরও পড়ুন:
আইনজীবী ছাড়া কোর্টে দাঁড়ানো ফ্যাশন হয়ে গেছে
কারাগারে মৃত্যু, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সিরাজ মাস্টারের আপিল বাতিল
আপিল বিভাগে নতুন বিচারক নিয়োগ কবে
শিশু হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড চূড়ান্ত রায়ে বহাল
আপিলে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে ৪ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তি

শেয়ার করুন

ঢাকায় আসছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি

ঢাকায় আসছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি

ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। ফাইল ছবি

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে আগামী ১৫-১৭ ডিসেম্বর তিনি ঢাকা সফর করবেন বলে সোমবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে আগামী ১৫-১৭ ডিসেম্বর তিনি ঢাকা সফর করবেন বলে সোমবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

সফরকালে ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক করবেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রপতির বৈঠক হবে।

এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে যোগ দিতে চলতি বছরের ২৬ থেকে ২৭ মার্চ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফর করেছিলেন।

এ বছরই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি হয়েছে।

আরও পড়ুন:
আইনজীবী ছাড়া কোর্টে দাঁড়ানো ফ্যাশন হয়ে গেছে
কারাগারে মৃত্যু, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সিরাজ মাস্টারের আপিল বাতিল
আপিল বিভাগে নতুন বিচারক নিয়োগ কবে
শিশু হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড চূড়ান্ত রায়ে বহাল
আপিলে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে ৪ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তি

শেয়ার করুন

ঢাকায় টানা বৃষ্টিতে ভাঙল ৫০ বছরের রেকর্ড

ঢাকায় টানা বৃষ্টিতে ভাঙল ৫০ বছরের রেকর্ড

সোমবার টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর অনেক এলাকায় রাস্তায় পানি জমে যায়। ছবি: নিউজবাংলা

আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সোমবার ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় মোট ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামীকাল সকাল থেকেই বৃষ্টি কমে আসবে। তবে আকাশ মেঘলা থাকবে।’

ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’-এর প্রভাবে সোমবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শুরু হয় বৃষ্টি। তা চলেছে বিরামহীন। এদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় রাজধানী ঢাকায় ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে রাজধানীতে একদিনে বৃষ্টিপাতের এই পরিমাণ গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আগেরদিন রোববার রাজধানীতে ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়, তা ছিল একই সময়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।

নভেম্বর মাসে রাজধানী ঢাকায় সাধারণত যে পরিমাণ বৃষ্টি হয় এবার তা হয়নি। আবার ডিসেম্বরে এসে বিপরীত চিত্র। সোমবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এটা গত ৫০ বছরের মধ্যে ডিসেম্বরে একদিনে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির রেকর্ড।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে এর আগে কাছাকাছি মাত্রায় বৃষ্টি হয়েছিল ২০১০ সালের ৯ ডিসেম্বর, ৬১ মিলিমিটার। এর আগে ১৯৭৩ সালের ৮ ও ৯ ডিসেম্বর ৪৪ ও ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। আর ডিসেম্বর মাসে সারাদেশের হিসাবে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের রেকর্ড রয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফে। ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর দেশের সর্বদক্ষিণের এই জনপদে বৃষ্টি হয়েছিল ১৫৪ মিলিমিটার।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজ ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় মোট ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামীকাল সকাল থেকেই বৃষ্টি কমে আসবে। তবে আকাশ মেঘলা থাকবে।’

রোববার মধ্যরাত থেকেই রাজধানীতে বৃষ্টির প্রভাব বাড়তে থাকে। এই বৃষ্টি সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অনেকটা বিরামহীন চলতে থাকে। বৃষ্টির কারণে রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক অনেক কম। এতে অফিসগামী ও শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় ভোগান্তিতে।

রাজধানীর বেশ কিছু এলাকার রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। রাস্তায় গণপরিবহন কম থাকায় রিকশাচালকরাও হাঁকেন অতিরিক্ত ভাড়া। চরম দুর্ভোগে পড়েন ঘর থেকে বের হওয়া সাধারণ মানুষজন।

এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছিল, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে লঘুচাপ আকারে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আজ সন্ধ্যায় লঘুচাপে পরিণত হতে পারে।

লঘুচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
আইনজীবী ছাড়া কোর্টে দাঁড়ানো ফ্যাশন হয়ে গেছে
কারাগারে মৃত্যু, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সিরাজ মাস্টারের আপিল বাতিল
আপিল বিভাগে নতুন বিচারক নিয়োগ কবে
শিশু হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড চূড়ান্ত রায়ে বহাল
আপিলে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে ৪ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তি

শেয়ার করুন

দুর্নীতির বিরুদ্ধে বসে থাকার সুযোগ নাই: হাইকোর্ট

দুর্নীতির বিরুদ্ধে বসে থাকার সুযোগ নাই: হাইকোর্ট

ফাইল ছবি

শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার দুদককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘পানামা পেপার্সে যাদের নাম এসেছে তাদের বিষয়ে কী করা হয়েছে, সেটা আমরা দেখতে চাই। পানামা পেপার্সে যে নামগুলো আসলো সেটা কী হলো। আপনারা না পারলে বলে দেন।’

দুর্নীতিবাজ ও অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সক্রিয় হতে হবে, বসে থাকার সুযোগ নাই, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে উদ্দেশ করে এমন মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট।

সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করে।

অর্থ পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্যারাডাইস ও পানামা পেপার্সে নাম আসা ৪৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা জমা দেয়ার পর এ বিষয়ে শুনানিকালে আদালত এ মন্তব্য করে।

এ সময় রিটের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন আব্দুল কাইয়ুম, দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

শুনানির এক পর্যায়ে আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারক বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার দুদককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘পানামা পেপার্সে যাদের নাম এসেছে তাদের বিষয়ে কী করা হয়েছে, সেটা আমরা দেখতে চাই। পানামা পেপার্সে যে নামগুলো আসলো সেটা কী হলো। আপনারা না পারলে বলে দেন।’

বিচারক বলেন, ‘আমরা কিন্তু হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না। আমাদের কিছু একটা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে অনেক ধরনের সংগঠন আছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো সংগঠন নেই। যেটা ভারতে আছে। দেশের অর্থ বিদেশে পাচার হোক এটা আমরা চাই না। আমরা কেন? কেউই চায় না।’

এ সময় লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন ভূখণ্ডের কথা উল্লেখ করে এ বিচারপতি বলেন, ‘আমাদের দেশটা বির্নিমাণ করতে হবে। রক্তের বিনিময়ে গড়া দেশটা। আমাদেরকেও কিছু একটা করতে হবে। বাংলাদেশ একটি সভরিন (সার্বভৌম) রাষ্ট্র। দেশের প্রয়োজনে এটা করতে হবে। দেশ যেটা চাইবে, সেটাই হবে। বসে থাকার সময় নাই। কাজ করতে হবে।

পরে আদালত পানামা ও প্যারাডাইস পেপার্সে নাম আসা বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানাতে নির্দেশ দিয়েছে দেয় আদালত। আগামী ৯ জানুয়ারির মধ্যে সিআইডি ও বিএফআইইউকে জানাতে বলা হয়েছে।

এর আগে রোববার দুদকের পক্ষ থেকে ৪৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা জমা দেয়া হয়। যার মধ্যে প্যারাডাইস পেপার্সে ২৯ আর পানামা পেপার্সে ১৪। এ প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর রোববার আংশিক শুনানির পর সোমবার পর্যন্ত মূলতবি করা হয়। এরপর আজকে পরবর্তী শুনানি নিয়ে আদালত এ আদেশ দেয়।

আরও পড়ুন:
আইনজীবী ছাড়া কোর্টে দাঁড়ানো ফ্যাশন হয়ে গেছে
কারাগারে মৃত্যু, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সিরাজ মাস্টারের আপিল বাতিল
আপিল বিভাগে নতুন বিচারক নিয়োগ কবে
শিশু হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড চূড়ান্ত রায়ে বহাল
আপিলে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে ৪ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তি

শেয়ার করুন

দেশে টিকা উৎপাদনে দুই-চার দিনের মধ্যে চুক্তি

দেশে টিকা উৎপাদনে দুই-চার দিনের মধ্যে চুক্তি

সোমবার ’টাইমস অফ বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ’দেশীয়ভাবে টিকা উৎপাদনের জন্য আমরা একটি প্রস্তাবনা জমা দিয়েছি। দুই-চার দিনের মধ্যে একটি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে।’

দেশে করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদনের লক্ষ্যে দুই-চার দিনের মধ্যে একটি দেশের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি সই হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে ’টাইমস অফ বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে সোমবার সন্ধ্যায় তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ’দেশীয়ভাবে টিকা উৎপাদনের জন্য আমরা একটি প্রস্তাবনা জমা দিয়েছি। দুই-চার দিনের মধ্যে একটি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে।’

কোন দেশের সঙ্গে বা কোন কোম্পানির সঙ্গে এই চুক্তি সই হবে এটা মন্ত্রী উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, ’দেশের টিকা উৎপাদনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চলমান রয়েছে।’

এর আগে গত ১৫ আগস্ট চীনা একটি কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশ কলেজ অফ ফিজিশিয়ান অ্যান্ড সার্জন (বিসিপিএস) মিলনায়তনে বাংলাদেশ সরকারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

ওই চুক্তিতে ছয় মাসের মধ্যে টিকা উৎপাদনের কথা উল্লেখ করা হলেও বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি।

আরও পড়ুন:
আইনজীবী ছাড়া কোর্টে দাঁড়ানো ফ্যাশন হয়ে গেছে
কারাগারে মৃত্যু, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সিরাজ মাস্টারের আপিল বাতিল
আপিল বিভাগে নতুন বিচারক নিয়োগ কবে
শিশু হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড চূড়ান্ত রায়ে বহাল
আপিলে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে ৪ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তি

শেয়ার করুন

অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস স্থূলতা বাড়াচ্ছে

অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস স্থূলতা বাড়াচ্ছে

সোমবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক স্লিপ অ্যাপেনিয়া শীর্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘সবকিছু মিলে স্থূলতা সমস্যা সারা বিশ্বেই মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। ওবিসিটি বাড়ার অন্যতম কারণ আমাদের অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও কায়িক পরিশ্রম কমে আসা।’

ফাস্টফুড, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও হতাশাজনক জীবনযাত্রা স্থূলতা (ওবিসিটি) বাড়াচ্ছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশেও এই সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে।

সোমবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক স্লিপ অ্যাপনিয়া শীর্ষক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি (বিএমএ) অধ্যাপক ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোসাররফ হোসেন ও অধ্যাপক ডা. আবুল হাসনাত জোয়ারদার।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সবকিছু মিলে স্থূলতা সমস্যা সারা বিশ্বেই মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। ওবিসিটি বাড়ার অন্যতম কারণ আমাদের অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও কায়িক পরিশ্রম কমে আসা।

‘শিশুদের মধ্যে স্থূলতার হার বেড়ে চলেছে। সঠিক সময়ে খেলাধুলা করতে না পেরে বড়দের মতো শিশুরাও এই সমস্যায় ভুগছে। শিশুদের জন্য উন্মুক্ত খেলার মাঠ নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে হবে।

নাক ডাকার ক্ষেত্রে ওবিসিটি একটি কারণ উল্লেখ করেন দীপু মনি বলেন, ‘নাক ডাকা বিষয়ে অনেক গবেষণা দরকার। এ বিষয়ে আমাদের সচেতনতারও প্রয়োজন রয়েছে। নাক ডাকা যে অসুস্থতা, এটা অনেকেই জানেন না। নাক ডাকার যে ভালো চিকিৎসা রয়েছে, সেটাও অনেকের অজানা। এ বিষয়ে আমাদের যথেষ্ট সচেতনতা তৈরির প্রয়োজন রয়েছে।

‘ঘুমের বিষয়টি জরুরি। খাবার ছাড়া একটা মানুষ ৬৬ দিন বাঁচতে পারে, আর ঘুম ছাড়া বাঁচতে পারে মাত্র ১১ দিন- এমন একটি গবেষণা রয়েছে। না ঘুমালে মস্তিষ্ক কাজ করে না।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাক-কান-গলা বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান তফাদার বলেন, ‘ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার ফলে মানুষের ঘুম নষ্ট হয়। সারা‌ দিনের কাজে কর্মস্পৃহা থাকে না। বিশেষ করে গা‌ড়িচালকরা য‌দি ওবিসি‌টি সমস‌্যায় ভোগেন, তা হলে সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

‘দেশে যত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে সেগুলোর অধিকাংশই ঘটে থাকে চালকের স্লিপ অ্যাপেনিয়ার কারণে। এই কনফারেন্সের মাধ‌্যমে আমরা সব চালকের স্লিপ‌ অ‌্যাপেনিয়া স্টা‌ডি (পরীক্ষা) আইন করে বাধ‌্যতামূলক করার আহ্বান জানাচ্ছি।

‘পাশাপা‌শি এটাও স্মরণে রাখতে হবে, কারও মধ্যে নাক ডাকার সমস‌্যা দেখা দিলেই তা বন্ধের পিল বা ঘুমের ওষুধ খাওয়া‌ যাবে না। নাক ডাকা বন্ধে ক‌বিরা‌জি চি‌কিৎসার মতো কুসংস্কারও রয়েছে। এটা বন্ধ করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
আইনজীবী ছাড়া কোর্টে দাঁড়ানো ফ্যাশন হয়ে গেছে
কারাগারে মৃত্যু, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সিরাজ মাস্টারের আপিল বাতিল
আপিল বিভাগে নতুন বিচারক নিয়োগ কবে
শিশু হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড চূড়ান্ত রায়ে বহাল
আপিলে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে ৪ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তি

শেয়ার করুন