বস্ত্রে উত্থান, বাজারে বড় পতন

বস্ত্রে উত্থান, বাজারে বড় পতন

ক্রমেই কমছে শেয়ার দর। এর মধ্যে অবশ্য আলো ছড়াচ্ছে বস্ত্র খাত। লেনদেনের চার ভাগের এক ভাগই এখন একটি খাতে। সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর তালিকাতেও এই খাতেরই প্রাধান্য।

টানা দরপতনের মধ্যে থাকা পুঁজিবাজারের সূচক আবার কমল টানা তিন কর্মদিবস।

গত দুই সপ্তাহ মিলিয়ে সাত কর্মদিবস পতনের পর টানা তিন দিনের উত্থান শেষে চলতি সপ্তাহে আবার পুরোনো দৃশ্য বাজারে হতাশা বাড়িয়ে দিয়েছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া দর সংশোধন গত সপ্তাহে আতঙ্ক তৈরি করে। তবে টানা সাত কর্মদিবস পতন শেষে ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর সূচক বাড়ার পর চলতি সপ্তাহে তিন দিনই আবার পতন হলো।

রোববার ৬২ পয়েন্ট, সোমবার প্রায় ৩ পয়েন্টের পর মঙ্গলবার সূচকের পতন হলো ৪৩ পয়েন্ট। গতি ফিরে পায়নি লেনদেনও।

সূচকের পতনে প্রধান ভূমিকায় ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো। কোম্পানিটি থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ২ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা বকেয়া রাজস্ব দাবি করেছে- এই খবর আগের দিন প্রকাশ হয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে। এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার পর এই দাবি স্থগিত হয়েছে। তারপরেও বিষয়টি মনস্তাত্ত্বিক চাপে ফেলেছে বিনিয়োগকারীদের।

বস্ত্রে উত্থান, বাজারে বড় পতন
সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকায় ছিল এই ১০টি কোম্পানি

এ ছাড়া লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, ওয়ালটন, স্কয়ার ফার্মা, আইসিবি, ইউনাইটেড পাওয়ার, ওরিয়ন ফার্মা, আইএফআইসি ব্যাংক, ডেল্টা লাইফ, বিকন ফার্মার মতো বড় মূলধনি কোম্পানির দরপতনের চাপ নিতে পারেনি পুঁজিবাজার।

এই ১০টি কোম্পানির দরপতনেই সূচক কমেছে ৩৬.৫৩ পয়েন্ট।

গ্রামীণফোন, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বেক্সিমকো ফার্মা, ম্যারিকো, রিংসাইন টেক্সটাইল, রহিমা ফুড, কেয়া কসমেটিকস, ইবিএল, বিডি ফাইন্যান্স ও ফার কেমিক্যাল সূচকের আরও বড় পতন ঠেকিয়েছে।

এই ১০টি কোম্পানি মিলে সূচক বাড়িয়েছে ১৩.৮১ শতাংশ।

বস্ত্রে উত্থান, বাজারে বড় পতন
এই ১০টি কোম্পানি সূচকের আরও বেশি পতন ঠেকিয়েছে।

ক্রমেই কমছে শেয়ার দর। এর মধ্যে অবশ্য আলো ছড়াচ্ছে বস্ত্র খাত। লেনদেনের চার ভাগের একভাগই এখন একটি খাতে। সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর তালিকাতেও এই খাতেরই প্রাধান্য।

সব মিলিয়ে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৯৫ কোটি ১১ লাখ টাকা। এর মধ্যে বস্ত্র খাতের অবদান ৩৩৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

এর মধ্যে শেয়ারে ২০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা একটি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ২২ শতাংশ। একই খাতের আরও তিনটি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে এক দিনে যত বাড়া সম্ভব ততই।

বিপরীতে ব্যাংক, জ্বালানি, বিমা খাতে ঢালাও পতন হয়েছে। অন্যদিকে প্রকৌশল খাতে দেখা গেছে ভালো দিন। আর্থিক, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, ওষুধ ও রসায়ন, বিবিধ ও সিমেন্ট খাতে দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা।

দিন শেষে সূচকের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯৫৪ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট। দিন শেষে বেড়েছে ১৪৭টির দর, কমেছে ২০১টির। অপরিবর্তিত ছিল বাকি ২৮ টির দর।

বস্ত্রে উত্থান, বাজারে বড় পতন
মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের এই চিত্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে যাওয়া হতাশা আরও বাড়িয়েছে

লেনদেনের সিংহভাগ চার খাতে

গত সপ্তাহ থেকেই হঠাৎ করে বস্ত্র খাতে বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক দেখা দেয়। চলতি সপ্তাহে তা আরও বেড়েছে। আগের দিন ২২৫ কোটি টাকা হাতবদল হয়েছিল। তা আরও বেড়ে পরদিন হয়েছে ৩৩৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

এই খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৩৫টির, কমেছে ১৯টির, অপরিবর্তিত ছিল বাকি চারটির দর।

এই খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে প্রাইম টেক্সটাইলের দর। চতুর্থ প্রান্তিকের অবিশ্বাস্য আয়ে লোকসান কাটিয়ে কোম্পানিটি গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে ৬২ পয়সা আয় করার পর ২০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

গত বছর শেয়ার প্রতি ২ টাকা ৬৭ পয়সা লোকসান দেয়া কোম্পানিটি এবারও মার্চ পর্যন্ত শেয়ারে ২ টাকা ১২ পয়সা লোকসানে ছিল। সেখান থেকে মুনাফায় ফিরে ২ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণায় বিনিয়োগকারীরা এতটাই আপ্লুত হয়েছে যে, বিনিয়োগকারীরা আগের দিনের চেয়ে ২২.৩১ শতাংশ বেশি দাম দিতে রাজি ছিলেন।

আগের দিন শেয়ারদর ছিল ২৪ টাকা ২০ পয়সা। দিন শেষে দাম দাঁড়িয়েছে ২৯ টাকা ৬০ পয়সা। তবে দিনের সর্বোচ্চ দর ছিল ৩২ টাকা।

বস্ত্রে উত্থান, বাজারে বড় পতন
গত সপ্তাহ থেকেই বস্ত্র খাতের প্রতি বিনিয়োগাকারীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে

শেয়ারে ২০ পয়সা করে লভ্যাংশ ঘোষণা করার পর দর কমে যাওয়া ইভিন্স টেক্সটাইল ঘুরে দাঁড়িয়ে এক দিনেই দর বেড়েছে ৯.৬৪ শতাংশ।

পর্ষদ পুনর্গঠন করার পর উৎপাদন চালু হওয়া রিংসাইন টেক্সটাইলের দর বেড়েছ ৯.২৫ শতাংশ। এছাড়া ডেল্টা স্পিনার্সের দর ৯.০৯ শতাংশ, রিজেন্ট টেক্সটাইলের দর ৮.৬২ শতাংশ, তাল্লু স্পিনিংয়ের দর ৬.০৩ শতাংশ, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলসের দর ৫.৫৩ শতাংশ, আনলিমা ইয়ার্নের দর ৫.৩৩ শতাংশ, তুংহাইয়ের দর ৫.০৮ শতাংশ, ঢাকা ডায়িংয়ের দর ৪.৯১ শতাংশ বেড়েছে।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে ওষুধ প্রযুক্তি খাতে। হাতবদল হয়েছে মোট ১৫৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। দাম বৃদ্ধি ও হ্রাস পাওয়া কোম্পানির সংখ্যা সমান সংখ্যক ১৫টি করে। আগের দিন লেনদেন ছিল ১৪০ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

এই খাতের কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ফার কেমিক্যালের দর, ৯.৪৪ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮.২৫ শতাংশ বেড়েছে সালভো কেমিক্যালের দর। এছাড়া লিবরা ইনফিউশনের দর ৭.৪৯ শতাংশ, ফার্মা এইডের দর ৭.৪৮ শতাংশ, কেয়া কসমেটিকসের দর ৫.১৯ শতাংশ, ওয়াটা কেমিক্যালের দর ৪.৮১ শতাংশ, সেন্ট্রাল ফার্মার দর ৪.৫৪ শতাংশ বেড়েছে।

কোম্পানিগুলো দর হারালেও ব্যাংকিং খাতে লেনদেনের গতি ছিল ভালো। ৩২টি কোম্পানির মধ্যে বেড়েছে কেবল ২টির দর, কমেছে ২৫টির, অপরিবর্তিত ছির বাকি ৫টির।

লেনদেন হয়েছে ১৫০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, যা আগের কর্মদিবসের তুলনায় বেশি। সোমবার এই খাতে লেনদেন হয় ১২৬ কোটি ৬ লাখ টাকা।

কেবল ইবিএলের শেয়ার দর বেড়েছে ৪০ পয়সা আর ব্যাংক এশিয়ার ১০ পয়সা। বিপরীতে ডাচ্-বাংলার শেয়ার সবচেয়ে বেশি ১ টাকা ১০ পয়সা, রূপালী ব্যাংকের শেয়ার এক টাকা, এনআরবিসির শেয়ার ৮০ পয়সা, আইএফআইসি ৬০ পয়সা, শাহজালাল ৫০ পয়সা, সিটি ও মার্কেন্টাইলের শেয়ার ৪০ পয়সা করে দর হারিয়েছে। বাকি ব্যাংকগুলোর শেয়ারদর ১০ থেকে ৩০ পয়সা করে দর হারিয়েছে।

বেক্সিমকো লিমিটেডের কল্যাণে বিবিধি খাত সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া খাতের মধ্যে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। এই খাতে লেনদেন হয়েছে ১৪২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, যা আগের দিন ছিল ১৪৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেডেই হাতবদল হয়েছে ১২৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

এই খাতের ১৪টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৮টির, কমেছে ৬টির।

অন্যান্য খাতে লেনদেন

প্রকৌশল খাতে শেয়ারদর বাড়লেও লেনদেনে গতি ফেরেনি। ৪২টি কোম্পানির মধ্যে ২৮টিরই শেয়ারদর বেড়েছে। কমেছে ১৩টির। লেনদেন হয়েছে ৭৫ কোটি ৭ লাখ টাকা। আগের দিন এই খাতে লেনদেন ছিল ৭২ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

বিমা খাতে ঢালাও পতন হয়েছে। ৫১টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ৪৫টি। বেড়েছে কেবল ৫টির দর, অপরিবর্তিত ছিল একটির দর।

লেনদেন কমে আবার ১০০ কোটি টাকার নিচে নেমেছে। হাতবদল হয়েছে মোট ৭৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন ছিল ১২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

বিদ্যুৎ-জ্বালানির ২৩টি কোম্পানিতে লেনদেন কমে হয়েছে ৫২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। বেড়েছে কেবল ৬টির দর, কমেছে ১৭টির।

আগের দিন এই খাতে লেনদেন ছিল ৫৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

বস্ত্রে উত্থান, বাজারে বড় পতন
এই খাতগুলোর বেশিরভাগেই লেনদেন আগের দিনের চেয়ে পড়ে গেছে

আর্থিক খাতের ২৩টি কোম্পানির মধ্যে একটির লেনদেন স্থগিত। বাকিগুলোর মধ্যে বেড়েছে ১২টির দর, কমেছে ৮টির। দুটির দর ছিল অপরিবর্তিত।

লেনদেন হয়েছে ৪৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আগের দিন এই খাতে লেনদেন ছিল ৫১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ২০টি কোম্পানির মধ্যে সমান সংখ্যক ১০টি করে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ও কমেছে। লেনদেন হয়েছে ৫৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আগের দিন এই খাতে লেনদেন ছিল ৪৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

সিমেন্ট খাতে ৭টি কোম্পানির মধ্যে ৩টির দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ৪টির দর। লেনদেন আরও কমে হয়েছে ২৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। আগের দিন এই খাতে লেনদেন ছিল ৩৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

প্রায় সব খাতেই লেনদেন কমার দিন ঘুমিয়ে থাকা মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ১২ কোটি ২০ লাখ টাকা। সেটি খানিকটা বেড়ে হয়েছে ১৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

তবে দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি খাতটি। চারটি ফান্ডের দর বেড়েছে ১০ পয়সা করে। কমেছে ২৪টির দর। অপরিবর্তিত ছিল বাকি ৮টি।

আরও পড়ুন:
এবার অস্বস্তি লেনদেনে, ৪ মাসের সর্বনিম্ন
নিলামে বিক্রি পুঁজিবাজারের কোম্পানি মিথুন, নেই ঘোষণা
হল্টেডের পর সোনারগাঁওয়ের নো ডিভিডেন্ড
লিগ্যাসিরও নামমাত্র লভ্যাংশ
টানা পতনের বৃত্ত ভাঙল অবশেষে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দরপতন: পুঁজিবাজার নিয়ে বসছে বাংলাদেশ ব্যাংক-বিএসইসি

দরপতন: পুঁজিবাজার নিয়ে বসছে বাংলাদেশ ব্যাংক-বিএসইসি

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি ভবন। ছবি: নিউজবাংলা

দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে মতভিন্নতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাজার সংশোধনের মধ্যে দুই সংস্থার মতভিন্নতার কারণে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও পারছে না। গত সপ্তাহে সংশোধন কাটিয়ে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিলেও চলতি সপ্তাহে পাঁচ কর্মদিবসই সূচকের পতন ঘটল। সেই সঙ্গে কমে গেছে লেনদেন। বড় বিনিয়োগকারী বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা হাত গুটিয়ে বসে আছে বলেই ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনা নিয়ে মতভিন্নতা, শেয়ারের দর বেড়ে গেলেও এক্সপোজার লিমিট অতিক্রম করে গেলে জরিমানা, বন্ডে বিনিয়োগ পুঁজিবাজারের বিনিয়োগসীমার মধ্যে থাকবে কি না, এই নিয়ে বিতর্কের মধ্যে গত পাঁচ কর্মদিবস ধরে পুঁজিবাজারে টানা দরপতন হচ্ছে।

এর মধ্যে এই বৈঠকটি ডাকার কথা নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘আগামী মঙ্গলবার এই বৈঠক হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি চিঠি ইস্যু করেছে বলে জেনেছি। তবে বিস্তারিত কিছু জানি না।’

বৈঠকের আলোচ্য বিষয় নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, তারা এক্সপোজার লিমিট, বন্ডে বিনিয়োগসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করবেন।

কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেছেন, বৈঠকে পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা, পুঁজিবাজারের জন্য গঠিত বিশেষ তহবিলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ জমা, পুঞ্জীভূত লোকসান থাকলে শুধু সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেয়া ও বন্ডের বিনিয়োগসংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনা করা হবে।

পুঁজিবাজার নিয়ে বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে সমন্বয় সভা প্রতিবছরই হয়। গত ১৮ মার্চ শেষবার দুই পক্ষ একসঙ্গে বসেছিল। সেই বৈঠকের পর বিএসইসির পক্ষ থেকে যে বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে দেয়া হয়, তার অনেকগুলোই পরে বাস্তবায়ন হয়নি।

সেই বিষয়গুলো ছাড়াও গত ৯ মাসে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে মতভিন্নতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাজার সংশোধনের মধ্যে দুই সংস্থার মতভিন্নতার কারণে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও পারছে না। গত সপ্তাহে সংশোধন কাটিয়ে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিলেও চলতি সপ্তাহে পাঁচ কর্মদিবসই সূচকের পতন ঘটল। সেই সঙ্গে কমে গেছে লেনদেন।

বড় বিনিয়োগকারী বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা হাত গুটিয়ে বসে আছে বলেই ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। এ অবস্থায় দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই বৈঠকের খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফেরাতে পারে।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমা নিয়ে উভয়সংকটে পড়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। একদিকে বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ তহবিলের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে বিশেষ পদ্ধতিতে গণনার কারণে শেয়ার দর বেড়ে গিয়ে বিনিয়োগসীমা পেরিয়ে যাওয়ার কারণে গুনতে হচ্ছে জরিমানা।

আইন অনুযায়ী, একটি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তার মোট মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবে না। আর শেয়ারের ধারণকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হয় বাজারমূল্যের ভিত্তিতে। আর এখানেই বিপত্তি।

ব্যাংক তার বিনিয়োগসীমার মধ্যেই শেয়ার কিনলেও তার দাম বেড়ে গেলে বাজারমূল্যের ভিত্তিকে বিনিয়োগ গণনার কারণে বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে আগেভাগেই। এতে পুঁজিবাজারে বিক্রয় চাপ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বাজারে হচ্ছে দরপতন।

এমনিতেই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের অভাবে ভুগতে থাকা পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলো নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় গেছে, সেটি বাজারে দরপতনকে ত্বরান্বিত করতে পারে, যেটি দেখা যাচ্ছে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে। গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে পুঁজিবাজারে উত্থানে সূচক বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। এতে বিনিয়োগকারীরা হাতের হারিয়ে ফেলা টাকা ফিরে পেতে শুরু করে।

তবে এক দশক পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মূল্যসূচক ৭ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে মূলত ব্যাংকের শেয়ারের বিক্রয় চাপে সূচকের নিম্নগতি দেখা দেয়।

এই সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোকে হাতের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য করেছে। এর ফলে দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হতেই পারছে না পুঁজিবাজার। শেয়ার দর কমে আসায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

এর মধ্যে আবার বন্ডের বিনিয়োগও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই বিনিয়োগসীমার মধ্যে ধরছে। অথচ বিএসইসি এই বিনিয়োগকে ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখার পক্ষে। তারা বলছে, সারা বিশ্বেই এই বন্ডে বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বাইরে থাকে।

সরকার পুঁজিবাজারে বন্ড মার্কেটকে জনপ্রিয় করতে চাইছে। এর অংশ হিসেবে সুকুক বন্ড ছেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা তুলতে অনুমতি দিয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডকে। আকর্ষণীয় মুনাফার এই বন্ডে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করেছে। আর বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করে যায় বলে ব্যাংকগুলো হাতের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছে। যারা করেনি, তাদের জরিমানার শিকার হতে হয়েছে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম সরাসরি বলেছেন, বন্ডে বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সীমার বাইরে থাকা উচিত, সারা বিশ্বেই এই রীতি রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই বিষয়টি গুলিয়ে ফেলেছে বলেই তিনি মনে করেন।

এক্সপোজার লিমিট গণনার ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্যে এটি বিবেচনার কথা তিনি কয়েক মাস ধরেই বলে আসছেন। গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে পরবর্তী সমন্বয় বৈঠকে বিষয়টি তোলা হবে। তবে এই বৈঠক আহ্বান করা হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে। কিন্তু সেই উদ্যোগ এখনও নেয়া হয়নি।

এই দুটি বিষয় ছাড়াও আরও দুটি বিষয় নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির মধ্যে মতভিন্নতার তথ্য এসেছে গণমাধ্যমে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অবণ্টিত লভ্যাংশ নিয়ে যে তহবিল গঠন করা হয়েছে, তাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবণ্টিত লভ্যাংশ জমা দিতে রাজি ছিল না বাংলাদেশ ব্যাংক। তাদের যুক্তি, এটি আমানতকারীদের টাকা। তবে বিএসইসি বলছে, লভ্যাংশ আমানতকারীদের টাকা নয়।

আবার ওয়ান ব্যাংকের লভ্যাংশ ইস্যুতেও আছে মতপার্থক্য। গত অর্থবছরে কোম্পানিটি যে লভ্যাংশ দিয়েছে, তা বার্ষিক সাধারণ সভায় পরিবর্তন করতে বলেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বিএসইসি বলছে, লভ্যাংশ কী হবে, সেটি শেয়ারধারীদের সিদ্ধান্তের বিষয়। এটা বাংলাদেশ ব্যাংক পরিবর্তন করার নির্দেশ দিতে পারে না।

আরও পড়ুন:
এবার অস্বস্তি লেনদেনে, ৪ মাসের সর্বনিম্ন
নিলামে বিক্রি পুঁজিবাজারের কোম্পানি মিথুন, নেই ঘোষণা
হল্টেডের পর সোনারগাঁওয়ের নো ডিভিডেন্ড
লিগ্যাসিরও নামমাত্র লভ্যাংশ
টানা পতনের বৃত্ত ভাঙল অবশেষে

শেয়ার করুন

পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে

পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে

পুঁজিবাজারে ক্রমাগত পতনের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইপিএলের সাবেক গবেষণাপ্রধান দেবব্রত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লেনদেন একটি পর্যায় পর্যন্ত ঠিক ছিল। সূচকের বড় পতন হলেও লেনদেন হাজার কোটি টাকার ওপরে ছিল। কিন্তু এখন তা এর অনেক নিচে নেমে আসায় কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

ব্যাংকের বিনিয়োগ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ির ঘটনায় পড়তে থাকা পুঁজিবাজারে পতন থামছে না। টানা পাঁচ দিন কমল সূচক। আর ৭ মাস পর লেনদেন নামল এক হাজার কোটি টাকার নিচে।

আগের কর্মদিবসে ৯৫ পয়েন্ট সূচক পতনের স্মৃতি নিয়ে বৃহস্পতিবার লেনদেনের আগেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ছিল চিড় ধরা। বেলা ১১টা পর্যন্ত সূচক তার অবস্থান ধরে রাখতে পারলেও এরপর শেয়ারগুলো দর হারাতে থাকায় শেষ পর্যন্ত ৬৫ পয়েন্ট পতন দিয়ে শেষ হয়েছে লেনদেন।

সূচকের এই অবস্থান গত ৮ নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন। সেদিন সূচক ছিল ৬ হাজার ৭৯৯ পয়েন্ট। সেদিনের পর থেকে সূচক বেড়ে ১৮ নভেম্বর দাঁড়ায় ৭ হাজার ৯১ পয়েন্ট। কিন্তু এরপর সেখান থেকে আবার শুরু হয় পতন।

সূচকের পতনের পাশাপাশি লেনদেনও কমে আসছিল গত কয়েক দিনে। এবার সেটি গত ২৮ এপ্রিলের পর প্রথমবারের মতো নেমে গেল এক হাজার কোটি টাকার নিচে।

১৩৬ কর্মদিবস আগে সেদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে হাতবদল হয়েছিল ৯৪০ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। আজ লেনদেন হয়েছে ৮৪৯ কোটি ৯৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।

গত ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া বাজার সংশোধনে যে পর্যন্ত লেনদেন সেভাবে কমেনি, সে পর্যন্ত পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা সেভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। তবে লেনদেন হাজার কোটি টাকার নিচে নামার পর তারাও এখন আর আশার কথা বলছেন না।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইপিএলের সাবেক গবেষণাপ্রধান দেবব্রত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লেনদেন একটি পর্যায় পর্যন্ত ঠিক ছিল। সূচকের বড় পতন হলেও লেনদেন হাজার কোটি টাকার ওপরে ছিল। কিন্ত এখন তা এর অনেক নিচে নেমে আসায় কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী মশিউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে পতনে বিনিয়োগকারীরা এখন আতঙ্কিত। গত কয়েক সপ্তাহ আগে যে শেয়ার ৫০ টাকায় কেনা হয়েছে, সেটির দাম এখন ৩০ টাকার ঘরে। ফলে কেনা দামে আবার শেয়ার বিক্রি করা যাবে কি না, সেটি নিয়েও সংশয় আছে।’

তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজার যখনই ভালো হতে থাকে, তখনই বাংলাদেশ ব্যাংকের নজর আসে এদিকে। সম্প্রতি এক্সপ্লোজার লিমিটের কারণে কয়েকটি ব্যাংককে জরিমানা করায় অন্য ব্যাংকগুলো এখন হাত গুটিয়ে নিয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো যেভাবে বিনিয়োগে আসছিল সেখান থেকে ফিরে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘এক্সপ্লোজার লিমিট অবশ্যই কেনা দাম বিবেচনা করা উচিত। মার্কেট প্রাইসের ভিত্তিতে বিবেচনা করলে যখনই বাজার ভালো হবে তখনই স্বাভাবিকভাবে ব্যাংকের ওপর শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়বে। পুঁজিবাজারে গতিশীলতা আনার জন্য দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।’

আগের দিনের মতো এদিনও প্রায় আড়াই শ কোম্পানির দরপতন হলো এক দিনে। দিন শেষে বেড়েছে কেবল ৮৯টি কোম্পানির দর, কমেছে ২৪১টির। ৩২টি কোম্পানি দর ধরে রাখতে পারে।

পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে
বেলা ১১টা পর্যন্ত সূচক অবস্থান ধরে রাখতে পারলেও পরে সূচক টানা কমেছে

লেনদেন শুরুর এক ঘণ্টা পর বেলা ১১টায় সূচক দিনের সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৯২২ পয়েন্টে ছিল। সেখান থেকে বেলা ১১টা ৫৪ মিনিটে শেয়ার বিক্রির চাপে সূচক টানা নেমে আসে ৬ হাজার ৮৬০ পয়েন্টে।

সেখান থেকে কিছুটা উত্থান হলেও দেড়টাই সূচক দিনের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে ৬ হাজার ৮৫০ পয়েন্টে।

সূচক পতনে প্রধান ভূমিকায় যারা

এদিন সূচক পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের। কোম্পানির শেয়ার দর দশমিক ৯৩ শতাংশ কমায় সূচক কমেছে ৬.২৭ শতাংশ।

গত এক বছরে শেয়ার দর সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়া বেক্সিমকো লিমিটেড আরও ২.০৭ শতাংশ দর হারানোয় সূচক কমেছে ৬.২৭ শতাংশ। কোম্পানিটির মালিকপক্ষ তিন কোটি শেয়ার কেনার ঘোষণা দেয়ার পরও দাম কমে যাওয়ার এই বিষয়টি বাজারের প্রতি অনাস্থার প্রমাণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ইউনাইটেড পাওয়ার অ্যান্ড জেনারেশনের শেয়ার দর কমেছে আরও ১.৯৫ শতাংশ। এতে সূচক কমেছে ৫.৭১ শতাংশ।

পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে
সূচক কমায় সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা ১০ কোম্পানি

কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ১৭ টাকা লভ্যাংশ ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত ৫০ টাকারও বেশি দর হারিয়েছে। যারা এই লভ্যাংশ নিয়েছেন, লাভ হয়নি তাদের। যত টাকা লভ্যাংশ পেয়েছেন, রেকর্ড ডেটের পর দাম কমেছে এর চেয়ে বেশি।

সূচক পতনে ভূমিকা রেখেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ১.৭ শতাংশ দরপতনও। এর ফলে সূচক থেকে কমেছে আরও ৩.১১ পয়েন্ট। দরপতন হয়েছে স্কয়ার ফার্মাও।

ব্যাংক খাতের পাঁচটি কোম্পানিও সূচক ফেলে দিয়েছে অনেকখানি। এগুলো হলো হলো ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, আইএফআইসি, সিটি ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক।

এই ১০টি কোম্পানির কারণেই সূচক পড়েছে ৩৪.৩ পয়েন্ট।

এর বিপরীতে আগের তিন দিন টানা পতন হওয়া এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের শেয়ার দর কিছুটা বাড়ায় সূচকে একক কোম্পানি হিসেবে সবচেয়ে বেশি ১.৪৫ পয়েন্ট যোগ করেছে।

ওরিয়ন ফার্মা, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, জেনেক্স ইনফোসিস, গ্রামীণফোন, আমান ফিড, ওয়ান ব্যাংক, বাংলাদেশ সাবমেরিন কোম্পানি লিমিটেড, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট ও আমান ফিডের শেয়ার দর কিছুটা বাড়ায় সূচকে অল্প কিছু পয়েন্ট যোগ করেছে।

তবে শেয়ার দর অল্প বাড়ার কারণে সূচকে খুব বেশি পয়েন্ট যোগ হয়নি। ১০টি কোম্পানি মিলিয়ে যোগ হয়েছে ৮.৭৩ পয়েন্ট।

পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে
এই ১০টি কোম্পানি অল্পবিস্তর পয়েন্ট যোগ করেছে সূচকে

আগের দিনের মতোই ঢালাও দরপতন হয়েছে ব্যাংক খাতে। তবে আগের দিনের মতো সব ব্যাংকের শেয়ার দর কমেনি। ৪টির দর অল্প বেড়েছে।

বিমা খাতেও দেখা গেছে একই চিত্র। এই খাতের ৫২টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ৪৩টি। একটির দর ছিল অপরিবর্তিত। বেড়েছে কেবল ৭টির দর।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডে দর বৃদ্ধির হারও বেশি নয়, কমার হারও বেশি নয়। ১০ থেকে ২০ পয়সা পর্যন্ত পার্থক্য ছিল ইউনিটপ্রতি। সেখানেও ৩টির ইউনিট দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ১৫টির।

কেবল তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর বাড়তে দেখা গেছে। এই খাতের ১১টি কোম্পানির মধ্যে বেড়েছে ৬টির দর, কমেছে ৪টির। একটির লেনদেন ছিল স্থগিত।

দর বৃদ্ধিতে ১০ কোম্পানি

দর বৃদ্ধিতে থাকা সেরা ১০ কোম্পানির মধ্যে দুটি ছিল সদ্য তালিকাভুক্ত। তবে আগের মতোই দিনের সর্বোচ্চ দরেও শেয়ার বিক্রিতে আগ্রহী হয়নি বিনিয়োগকারীরা।

সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর বেড়েছে ৯.৯৪ শতাংশ আর একমি পেস্টিসাইডসের দর বেড়েছে ৯.৮১ শতাংশ।

দর বৃদ্ধিতে বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতের আধিক্য ছিল বেশি। বস্ত্র খাতের নিউ লাইনের শেয়ার দর বেড়েছে ৬.০৪ শতাংশ। আর দেশ গার্মেন্টসের শেয়ার দর বেড়েছে ৫.৮৬ শতাংশ।

পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে
৭ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম লেনদেনের দিন কেবল দুটি খাতেই লেনদেন হয়েছে এক শ কোটি টাকার বেশি

প্রকৌশল খাতের সুহৃদের দর বেড়েছে ৯.৬৭ শতাংশ। কোম্পানিটির লেনদেন হয়েছে ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ২১ লাখ ৫ হাজার ৯৪৫টি শেয়ার। একই খাতের আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের দর বেড়েছে ৬.৬৯ শতাংশ।

দর বৃদ্ধির সেরা দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমতা লেদারের শেয়ার দর ৫.৪৫ শতাংশ, আমান ফিডের দর ৪.৬৫ শতাংশ, হেমিনি সি ফুডের দর ৪.৯৫ শতাংশ, আরামিট সিমেন্টের দর বেড়েছে ৪.৬৫ শতাংশ।

সেরা দশের পর ৩ শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে ৫টি কোম্পানির। দুই শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে ১৭টি কোম্পানির। আর ১ শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে ৩৩টি কোম্পানির।

দর পতনের সেরা ১০

সবচেয়ে বেশি দর পতন হওয়া কোম্পানির তালিকায় ছিল এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান, যার ইউনিটপ্রতি দর কমেছে ৯.৮৭ শতাংশ। আগের দিন বুধবারও একই হারে দর কমেছিল এই ফান্ডটির।

ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৫১ পয়সা লভ্যাংশ যারা নিয়েছেন, রেকর্ড ডেট শেষে দ্বিতীয় দিনেই তারা লোকসানে পড়ে গেছেন। দুই দিনে ইউনিট দর কমেছে ১ টাকা ৭০ পয়সা।

দ্বিতীয় স্থানে ছিল ন্যাশনাল টি কোম্পানি, যার শেয়ারপ্রতি দর কমেছে ৬.০৩ শতাংশ।

শ্যামপুর সুগার মিলের শেয়ার দর কমেছে ৫.৮৫ শতাংশ। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৭৮ টাকা ৬০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭৪ টাকা। ২৩ লাখ টাকা লেনদেন হাতবদল হয়েছে ৩২ হাজার ১০২টি শেয়ার।

এ ছাড়া কেডিএস একসেসোরিজের দর কমেছে ৫.৭৪ শতাংশ। ৬৭ টাকা ৯০ পয়সার শেয়ার কমে হয়েছে ৬৪ টাকায়।

পেনিনসুলার দর কমেছে ৫.৬০ শতাংশ। ৩৫ টাকা ৭০ পয়সার শেয়ার কমে হয়েছে ৩৩ টাকা ৭০ পয়সা।

এ ছাড়া ঢাকা ডাইংয়ের দর ৫.২৪ শতাংশ, বারাকা পাওয়ারের দর ৫.১১ শতাংশ, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের দর কমেছে ৪.৬৬ শতাংশ, জনতা ইন্স্যুরেন্সের দর ৪.৫৬ শতাংশ আর ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণার পর এসএস স্টিলের দর কমেছে ৪.৪৪ শতাংশ।

লেনদেনে সেরা ১০ কোম্পানি

লেনদেনে সেরার অবস্থান এক দিন পরই ফিরে পেয়ছে বেক্সিমকো লিমিটেড, যার মোট ১১৮ কোটি ৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। হাতবদল হয়েছে ৬৮ লাখ ১৯ হাজার ২১৪টি শেয়ার।

কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি দর কমেছে ৩ টাকা ৬০ পয়সা। ১৭৩ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৭০ টাকা ২০ পয়সা।

আগের দুই দিন লেনদেনে শীর্ষে থাকা ওয়ান ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬০ কোটি ২৭ লাখ টাকার। আগের দিন ৫ কোটির বেশি শেয়ার হাতবদল হলেও বৃহস্পতিবার হাতবদল হয়েছে ৩ কোটি ১৮ লাখ ৬ হাজার ১৭৩টি শেয়ার।

পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে
এই খাতগুলোর প্রতিটিতেই লেনদেন একসময় এক শ কোটি টাকার বেশি হতো

প্যারামাউন্ড টেক্সটাইলের ৪৬ লাখ ৪৫ হাজার ৩৪২টি শেয়ার ৪৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় হাতবদল হয়েছে। এই কোম্পানিটি সবচেয়ে বেশি লেনদেনের তালিকায় তৃতীয় স্থানে ছিল।

চতুর্থ স্থানে থাকা ব্যাংক খাতের আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ার দর হারিয়েছে ৫০ পয়সা। আগের দিন দাম ছিল ১৯ টাকা ২০ পয়সা, সেটি কমে হয়েছে ১৮ টাকা ৭০ পয়সা। লেনদেন হয়েছে ৩৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংক ছিল লেনদেনে সেরা ১০ কোম্পানির ৬ নম্বরে। ব্যাংকটির ১ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার ২৬৯টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে ২৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকায়।

জেনেক্স ইনফোসিসের লেনদেন হয়েছে ৩৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকায়। হাতবদল হয়েছে ২১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৮৩টি শেয়ার।

এ ছাড়া ফরচুন সুজের ২৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, এনআরবিসির ২১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, সাইফ পাওয়ারটেকের ১৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, ওরিয়ন ফার্মার ১৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

ব্যাংক খাতের আরও কিছু প্রতিষ্ঠান লেনদেনে এগিয়ে থাকলেও কমেছে শেয়ার দর। এর মধ্যে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে ৪০ পয়সা। ব্যাংকটির লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। প্রিমিয়ার ব্যাংকের দর কমেছে ৫০ পয়সা। লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
এবার অস্বস্তি লেনদেনে, ৪ মাসের সর্বনিম্ন
নিলামে বিক্রি পুঁজিবাজারের কোম্পানি মিথুন, নেই ঘোষণা
হল্টেডের পর সোনারগাঁওয়ের নো ডিভিডেন্ড
লিগ্যাসিরও নামমাত্র লভ্যাংশ
টানা পতনের বৃত্ত ভাঙল অবশেষে

শেয়ার করুন

আবার বড় পতন, লেনদেনেও খরা, সূচক ৭ হাজারের নিচে

আবার বড় পতন, লেনদেনেও খরা, সূচক ৭ হাজারের নিচে

আগের টানা তিন দিনে সূচক যতটা পড়েছিল, চতুর্থ দিন বুধবার এক দিনেই সূচক পড়ল তার চেয়ে বেশি। ৯৫ পয়েন্ট পতনে সূচক নেমে গেল ৭ হাজার পয়েন্টের নিচে। দিন শেষে বেড়েছে কেবল ৭৫টি কোম্পানির দর, বিপরীতে কমেছে ২৫৯টির। দর ধরে রাখতে পেরেছে ৩১টি।

টানা তিন দিন দরপতনের পর পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে তো পারলই না, উল্টো বড় দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মনে আতঙ্ক আরও বড় করে তুলেছে।

গত সপ্তাহ থেকে পুঁজিবাজার টেনে তোলা ব্যাংক খাতে ঢালাও পতনের দিন এমন কোনো খাত ছিল না, যা নিয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে থাকা যায়।

বিমা, আর্থিক, প্রকৌশল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, ওষুধ ও রসায়ন খাতেও দেখা দিয়েছে প্রায় একই ধরনের চিত্র।

শেষের ১৫ মিনিটের লেনদেন মোট লেনদেন হাজার কোটি টাকার ঘরে নিয়ে গেছে। তবে একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল গত ২৮ এপ্রিলের ৯৪০ কোটি ৩২ লাখ টাকার স্মৃতি বুঝি ফিরে আসবে।

আগের টানা তিন দিনে সূচক যতটা পড়েছিল, চতুর্থ দিন বুধবার এক দিনেই সূচক পড়ল তার চেয়ে বেশি। ৯৫ পয়েন্ট পতনে সূচক নেমে গেলে ৭ হাজার পয়েন্টের নিচে।

দিন শেষে বেড়েছে কেবল ৭৫টি কোম্পানির দর, বিপরীতে কমেছে ২৫৯টির। দর ধরে রাখতে পেরেছে ৩১টি।

দিন শেষে সূচকের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯১৭ পয়েন্টে, যা গত ১০ নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন অবস্থান।

আবার বড় পতন, লেনদেনেও খরা, সূচক ৭ হাজারের নিচে
লেনদেনের শুরুতে ১৫ মিনিটের মতো সূচক বাড়লেও এরপর টানা কমেছে

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবিসি), লাফার্জ হোলসিম, রবির মতো কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দরপতন সূচক পতন ত্বরান্বিত করেছে।

এ ছাড়া ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দর ১.১৪ শতাংশ পতনের কারণে সূচকের পতন হয়েছে ৭.৬৩ শতাংশ। স্কয়ার ফার্মার শেয়ার দর ১.৭০ শতাংশ পতনের কারণে সূচক কমেছে ৬.৫২ শতাংশ।

সূচক পতনের পেছনে যে ১০টি কোম্পানির সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল, তার মধ্যে ব্যাংক খাতের ছিল ৪টি। এই চারটি ব্যাংকের শেয়ারের দর পতনে সূচক কমেছে ১১.০৫ শতাংশ।

আবার বড় পতন, লেনদেনেও খরা, সূচক ৭ হাজারের নিচে
গত কয়েক দিনে শেয়ার দর ব্যাপকভাবে বাড়লেও সূচক পতনের প্রধান ভূমিকায় ছিল এই খাতটি

পাশাপাশি যেসব কোম্পানির শেয়ার দর বেড়ে সূচক উত্থানে প্রচেষ্টায় ছিল তার মধ্যে প্রথমে ছিল গ্রামীণফোন, যার শেয়ার দর দশমিক ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি সূচকে উত্থান হতে ২.৩৫ শতাংশ চেষ্টায় ছিল।

লেনদেনে খাতভিত্তিক বিবেচনায় দর বৃদ্ধিতে এগিয়ে ছিল বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলো। স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি বা বন্ধ কিছু কোম্পানির শেয়ার দর বাড়তে দেখা গেছে।

আবার বড় পতন, লেনদেনেও খরা, সূচক ৭ হাজারের নিচে
দরপতনের দিন সূচকে কিছুটা হলেও পয়েন্ট যোগ করেছে এই ১০টি কোম্পানি

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ব্যাংক খাত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের যে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল, এক দিনেই তা পরিণত হয়েছে হতাশায়। তালিকাভুক্ত ৩২টি ব্যাংকেরই শেয়ার দর এক দিনে কমার বিষয়টি সহসা দেখা যায় না, যেটি ঘটেছে আজ।

দর বৃদ্ধিতে ১০ কোম্পানি

এর মধ্যে শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে দিনের সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানি ছিল চারটি। এগুলোর দাম ১০ শতাংশ বা আশপাশে বেড়েছে।

দিনের সর্বোচ্চ দর ‍বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির মধ্যে শীর্ষে ছিল প্রকৌশল খাতের জেড ক্যাটাগরির সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ। ৯.৯২ শতাংশ দর বৃদ্ধির মাধ্যমে সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকা কোম্পানিটির মোট লেনদেন হয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৭৭৮টি শেয়ার।

সদ্য তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানি ছিল এই তালিকায়। এর মধ্যে একমি পেস্টিসাইডস ও সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই বাড়ছে সর্বোচ্চ পরিমাণে। তবে এখনও বলার মতো লেনদেন হয়নি।

কোম্পানি দুটির শেয়ার বিক্রিতে বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহ ছিল। একমি পেস্টিসাইডসে ১৬৩টি শেয়ার আর সেনাকল্যাণের ১ হাজার ৬১৬টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

এ ছাড়া ৮ শতাংশ পর্যন্ত দর বেড়েছে একটির। আর ৬ শতাংশ পর্যন্ত দর বেড়েছে তিনটির। ৫ শতাংশের কোনো কোম্পানি না থাকলেও ৪ শতাংশের বেশি দর বেড়েছে তিনটির।

তারপর দর বৃদ্ধির তালিকায় থাকা তিনটি কোম্পানি ছিল বস্ত্র খাতের। তবে শীর্ষ দর বৃদ্ধিতে বস্ত্র খাতের ছিল আরও একটি কোম্পানি। তসরিফার দর বেড়েছে ৯.৫৭ শতাংশ। মিথুন নিটিংয়ের দর বেড়েছে ৮.৭৭ শতাংশ আর মুন্নু ফেব্রিক্সের বেড়েছে ৬.৮৭ শতাংশ। প্যারামাউন্ড টেক্সটাইলের শেয়ার দর বেড়েছে ৪.৮৮ শতাংশ।

দর বৃদ্ধিতে থাকা অপর কোম্পানিগুলোর মধ্যে ছিল সিমেন্ট খাতের এমআই সিমেন্ট, যার দর বেড়েছে ৬.৩৮ শতাংশ। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের জিলবাংলা সুগার মিলের শেয়ার দর বেড়েছে ৪.৯৮ শতাংশ।

এ তালিকায় তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের একটি কোম্পানি ছিল। অগ্নি সিস্টেমসের শেয়ার দর বেড়েছে ৪.৩৯ শতাংশ। কোম্পানির মোট হাতবদল হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার ৬২২টি শেয়ার।

দর পতনের ১০

দর পতনের শীর্ষে ১০ কোম্পানির মধ্যে প্রথমেই ছিল মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এলআর গ্লোবাল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটপ্রতি দর কমেছে ১০ শতাংশ। ইউনিটিপ্রতি দর ৯ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৮ টাকা ১০ পয়সা।

তবে এই ফান্ডটি ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৫১ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণার পর রেকর্ড ডেটের পর প্রথম কর্মদিবস ছিল আজ। নগদ লভ্যাংশ সমন্বয়ের কথা না থাকলেও বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে এই প্রবণতা আবার দেখা গেল।

এক দিনে ১০ শতাংশের বেশি দর কমা সম্ভব ছিল না আর এই সর্বোচ্চ পরিমাণে দর কমার পরেও ফান্ডটির ক্রেতা ছিল খুবই কম।

ফান্ডটির ৬৬ হাজার ৫৩২টি ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যার বাজারমূল্য ছিল ৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা।

বিষয়টি বাদ দিলে বলা যায় সবচেয় বেশি কমেছে কাট্টলি টেক্সটাইলের শেয়ার দর। ৯.০৬ শতাংশ কমে ২১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৬টি শেয়ার হাতবদলের মাধ্যমে মোট লেনদেন হয়েছে ৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

আবার বড় পতন, লেনদেনেও খরা, সূচক ৭ হাজারের নিচে
ঢালাও দরপতনের পরেও ব্যাংক খাত ছিল লেনদেনে সেরা

বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স বা বিআইএফসির দর কমেছে ৮.৬৯ শতাংশ। জেমিনি সি ফুডের শেয়ার দর কমেছে ৮.০৪ শতাংশ। কোম্পানিটির মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৯০৬টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। লেনদেন হয়েছে মোট ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

২০২০ সালের ডিসেম্বরে অর্থবছর সমাপ্তের প্রায় ১০ মাস পর লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত জানানো প্রিমিয়ার লিজিং কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে ৭.৯২ শতাংশ।

লোকসানে থাকার পরও লভ্যাংশ ঘোষণার পর লাফ দেয়া হামিদ ফেব্রিক্সের শেয়ার দর আরও কমেছে ৬.৮৪ শতাংশ।

ব্যাংক খাতের আইএফআইসির দর কমেছে ৪.৯৫ শতাংশ। ২০ টাকা ২০ পয়সার শেয়ার কমে হয়েছে ১৯ টাকা ২০ পয়সা।

ব্যাংকটির ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯৬১টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে যার বাজারমূল্য ছিল ৬৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

ব্যাংক খাতের আরেক প্রতিষ্ঠান এনআরবিসির শেয়ার দরও আবার ৪.৯০ শতাংশ কমেছে। হাতবদল হয়েছে ৭০ লাখ ২৮ হাজার ৩০টি শেয়ার। যার বাজারমূল্য ছিল ২২ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

এ ছাড়া গোল্ডেনসনের শেয়ার দর ৪.৮৮ শতাংশ, সালভো কেমিক্যালের দর ৪.৮৭ শতাংশ, রেনউইক যজ্ঞেশ্বরের দর কমেছে ৪.৭০ শতাংশ।

লেনদেনের শীর্ষে ১০

এদিন লেনদেনের শীর্ষে ছিল ওয়ান ব্যাংক। যার মোট ৫ কোটি ৬৩ লাখ ৪ হাজার ৮০০টি শেয়ার হাতবদলের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ১০৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

লেনদেনে এগিয়ে থাকলেও এদিন কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে দশমিক ২ শতাংশ। শেয়ার দর ১৮ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৮ টাকা ৫০ পয়সা।

তারপরই ছিল বিবিধ খাতের বেক্সিমকো লিমিটেড, যার লেনদেন হয়েছে ১০৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৬১ লাখ ৭ হাজার ১১৬টি।

ব্যাংক খাতের আরেক কোম্পানি আইএফআইসি ব্যাংকের মোট লেনদেন হয়েছে ৬৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, হাতবদল হয়েছে ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯৬১টি।

আবার বড় পতন, লেনদেনেও খরা, সূচক ৭ হাজারের নিচে
বেশি কিছু খাতে লেনদেন ছিল একেবারেই তলানিতে

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন হয়েছে ৫৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ৩ কোটি ৬১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৮৫টি।

বিমা খাতের ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪২ কোটি ৭১ লাখ টাকার। হাতবদল হয়েছে ২০ লাখ ১৭ হাজার ৩৮৬টি শেয়ার।

প্যারামাউন্ড টেক্সটাইলের লেনদেন হয়েছে ৩৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ৩৮ লাখ ৪১ হাজার ১৩৩টি শেয়ার।

সাইফ পাওয়ারটেকের শেয়ার দর কমেছে দশমিক ৩ শতাংশ। কোম্পানিটির লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ৬২ লাখ ৯৬ হাজার ৮৫৩টি শেয়ার।

এদিন ব্যাংক খাতের এনআরবিসি ও ফরচুর সুজ ছিল লেনদেনে শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায়।

আরও পড়ুন:
এবার অস্বস্তি লেনদেনে, ৪ মাসের সর্বনিম্ন
নিলামে বিক্রি পুঁজিবাজারের কোম্পানি মিথুন, নেই ঘোষণা
হল্টেডের পর সোনারগাঁওয়ের নো ডিভিডেন্ড
লিগ্যাসিরও নামমাত্র লভ্যাংশ
টানা পতনের বৃত্ত ভাঙল অবশেষে

শেয়ার করুন

বেক্সিমকো সিনথেটিকস: বিলম্বের দায় বিএসইসি-ডিএসইকে দিলেন সালমান

বেক্সিমকো সিনথেটিকস: বিলম্বের দায় বিএসইসি-ডিএসইকে দিলেন সালমান

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মিট দ্য প্রেসে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। ছবি: নিউজবাংলা

গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর শেয়ার কিনে নিয়ে তালিকাচ্যুত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে ঢাকা ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে বার্তা দেয় বেক্সিমকো সিনথেটিকস। এর ১৪ মাসেও সেই শেয়ার কেনা হয়নি। এতে বিনিয়োগকারীদের বিপুল পরিমাণ টাকা আটকা পড়ে আছে। কোম্পানিটির কর্ণধার সালমান এফ রহমান বলছেন, তারা ডিএসইকে তাগাদা দিয়েছেন, তবে তাদের পক্ষ থেকেই উদ্যোগ নেই।

পুঁজিবাজার থেকে তালিকাচ্যুত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করার পরও বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের বিনিময়ে টাকা পরিশোধ না করার পেছনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষকে দায়ী করলেন বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান।

বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে শেয়ার কিনে তালিকাচ্যুত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করার ১৪ মাস পরেও সেটি না হওয়ায় কোম্পানিটিতে লগ্নিকারীরা হতাশ। মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মিট দ্য প্রেসে এই প্রসঙ্গটি তোলা হলে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা এই কথা বলেন।

বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে শেয়ার কিনে কবে টাকা দেয়া হবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা ঘোষণা দিয়ে দিয়েছি যাদের কাছে বেক্সিমকো সিনথেটিকের শেয়ার আছে, তাদের শেয়ারগুলো আমরা কিনব। কিন্তু কী দামে শেয়ার কিনব সেটিসহ সব বিষয়ে গুছিয়ে আনার জন্য বিএসইসি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে দায়িত্ব দিয়েছে। তারা এখনও এটা করে নাই।’

গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর শেয়ার কিনে নিয়ে তালিকাচ্যুত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে ঢাকা ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে বার্তা দেয় বেক্সিমকো সিনথেটিকস।

লেনদেন স্থগিত হওয়ার সময় শেয়ারের দর ছিল ৮ টাকা ৪০ পয়সা। বেক্সিমকো সিনথেটিকস অভিহিত মূল্য ১০ টাকায় এই শেয়ার কেনার প্রস্তাব দিয়েছিল বিএসইসিতে।

সোয়া এক বছর আগে দেয়া প্রস্তাব অনুযায়ী এই শেয়ার বাই ব্যাকের জন্য ব্যাংকের বিশেষায়িত ‘এস্ক্রু’ হিসেবে আগেই ওই টাকা কোম্পানির পক্ষ থেকে জমা করা হবে। এরপর শেয়ারধারীদের কাছ থেকে শেয়ার ফেরত নিয়ে তার বিপরীতে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের হিসাবে প্রাপ্য অর্থ ফেরত দেয়া হবে।

ব্যাংকের এস্ক্রু হিসাবে টাকা রাখলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি ছাড়া ওই হিসাব থেকে কোনো অর্থ লেনদেন করা যায় না। এ কারণে এস্ক্রু হিসাবের মাধ্যমে কোম্পানিটির শেয়ারের বাইব্যাক কার্যক্রম সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়।

এই সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীরা খুব একটা অখুশি ছিল এমন নয়। কারণ বাজার মূল্যের চেয়ের ২০ শতাংশের মতো বেশি টাকা পেতে পারত তারা। কিন্তু এরপর ১৪ মাস পেরিয়ে গেলেও সেই শেয়ার বাইব্যাকের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়নি।

এই সময়ে পুঁজিবাজারের সূচক বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারদর বেড়ে দ্বিগুণ বা তার চেয়ে বেশিও হয়েছে। ফলে বেক্সিমকো সিনথেটিকের এই অর্থ পেলে বিনিয়োগকারীরা তা নিয়ে অন্য কোম্পানির শেয়ার কিনে লাভবান হতে পারতেন।

বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কিনে কবে তাদের টাকা দেয়া হবে- এমন প্রশ্নে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে রিমাইন্ডার দিয়েছি। আসলে সিনথেটিকের আউটস্ট্যান্ডিং যে শেয়ারগুলো আছে সেগুলো বেশি না। ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকার শেয়ার আছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ যদি আমাদের পদ্ধতিটা ঠিক করে দেয় তাহলে আমরা শিগগিরই টাকাগুলো দিয়ে দেব।’

বেক্সিমকো সিনথেটিকসের শেয়ারের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিএসইর উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটি নিয়ে একটি প্রস্তাব ডিএসই থেকে বিএসইসিতে পাঠানো হবে।’

সেটি কবে যাবে, আর সালমান এফ রহমান যে কথা বলেছেন, তার বিপরীতে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিস্তারিত কিছু না বলে তিনি বলেন, ‘কালকে জেনে জানাব।’

কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৮ কোটি ৬৭ লাখ ১২ হাজার ৩৫৯টি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানির পক্ষ থেকে দেয়া তথ্য অনুযায়ী এর মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে ৩৫.৬৭ শতাংশ হিসাবে আছে ৩ কোটি ৯ লাখ ৩০ হাজার ২৯৮টি। বাকি ৫ কোটি ৫৭ লাখ ৮২ হাজার ৬১টি শেয়ার ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে।

এই হিসাবে ১০ টাকায় শেয়ার কিনতে হলে বেক্সিমকো সিনথেটিকসের খরচ হবে ৫৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকার কিছু বেশি।

কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে ১৯৯৩ সালে। লোকসানের কারণে ২০১২ সালের পর থেকে কোম্পানিটি কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। গত জুনে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি লোকসান দিয়েছে ১ টাকা ৩৮ পয়সা।

তবে চলতি অর্থবছরে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে লোকসান কমাতে পেরেছে কোম্পানিটি। এই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয় ৪৭ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৮৫ পয়সা।

আরও পড়ুন:
এবার অস্বস্তি লেনদেনে, ৪ মাসের সর্বনিম্ন
নিলামে বিক্রি পুঁজিবাজারের কোম্পানি মিথুন, নেই ঘোষণা
হল্টেডের পর সোনারগাঁওয়ের নো ডিভিডেন্ড
লিগ্যাসিরও নামমাত্র লভ্যাংশ
টানা পতনের বৃত্ত ভাঙল অবশেষে

শেয়ার করুন

পিপলস লিজিংকে ফেরাতে হাত বাড়াবে বিএসইসি

পিপলস লিজিংকে ফেরাতে হাত বাড়াবে বিএসইসি

টাকা ফেরত চেয়ে রাজধানীতে পিপলস লিজিংয়ের আমানতকারীদের মানববব্ধন। ফাইল ছবি

বিএসইসি কোম্পানিতে কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দিতে বলেছে। কোম্পানিটিকে স্ট্যাটুটরি অডিট করতে বলা হয়েছে। কোম্পানিটিতে যেসব আর্থিক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ নিরীক্ষা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের পিপলস লিজিং ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (পিএলএফএসএল) চালুর সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার বিএসইসি’র কমিশন সভায় এ বিষয় আলোচনা শেষ জানানো হয়, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ফিন্যান্সিয়াল রিস্ট্রাকচারিংয়ের বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে কোম্পানির কার্যক্রম চালু করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে কমিশন।

এর আগে সোমবার পিপলস লিজিংয়ের পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম। সেখানে কোম্পানিটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর আলোচনা হয়েছে।

সেজন্য বিএসইসি কোম্পানিতে কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দিতে বলেছে। কোম্পানিটিকে স্ট্যাটুটরি অডিট করতে বলা হয়েছে। কোম্পানিটিতে যেসব আর্থিক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ নিরীক্ষা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কমিশন সভা শেষে জানানো হয়, কোম্পানিটির ২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আর্থিক বিবরণী ও অন্যান্য কার্যক্রমের ওপর বিশেষ নিরীক্ষা পরিচালনা করা হবে।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের নির্দেশনা মোতাবেক ২২ নভেম্বর পিপলস লিজিংয়ের নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আলোচনার পর আরও একটি সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

যেখানে বলা হয়, আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক এবং ‍পিএলএফের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সাথে আলোচনাপূর্বক ফিন্যান্সিয়াল রিস্ট্রাকচারিং এর বিভিন্ন দিক বিবেচনাপূর্বক কোম্পানির কার্যক্রম চালুকরণে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে কমিশন।

চলতি বছরের ১৩ জুলাই বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আদেশে পপিলস লিজিংয়ের পুনরুজ্জীবিত করতে ১০ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেয়।

কোম্পানিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল-উল আলমকে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিপলস লিজিংকে ১৯৯৭ সালের ২৪ নভেম্বর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০০৫ সালে সেটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ২০১৫ সাল থেকে কোম্পানিটির ধারাবাহিকভাবে লোকসান হতে থাকে।

আলোচিত ব্যাংকার পি কে হালদারের ঋণ কেলেঙ্কারিতে জর্জর কোম্পানিটি এক পর্যায়ে ডুবে গেছে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পিপলস লিজিংকে অবসায়নের পক্ষে সম্মতি দেয় সরকার।

ওই বছরের ১৩ আগস্ট থেকে শেয়ারের লেনদেন বন্ধ রাখে ডিএসই ও সিএসই। তবে উচ্চ আদালত আমানতকারীদের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদেশ দেয়।

স্থগিতের আগে কোম্পানিটির ১০ টাকার শেয়ারদর দাঁড়ায় ৩ টাকায়।

এর শেয়ার সংখ্যা ২৮ কোটি ৫৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৯৭টি। এই শেয়ারের ২৩.২১ শতাংশ আছে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে ৬৭.৯৮ শতাংশই ধারণ করে আছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। ৮.৬২ শতাংশ আছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হিস্যা ০.১৯ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
এবার অস্বস্তি লেনদেনে, ৪ মাসের সর্বনিম্ন
নিলামে বিক্রি পুঁজিবাজারের কোম্পানি মিথুন, নেই ঘোষণা
হল্টেডের পর সোনারগাঁওয়ের নো ডিভিডেন্ড
লিগ্যাসিরও নামমাত্র লভ্যাংশ
টানা পতনের বৃত্ত ভাঙল অবশেষে

শেয়ার করুন

জিএমজির প্লেসমেন্টের বেশির ভাগ টাকা ফেরত দিয়েছি: সালমান

জিএমজির প্লেসমেন্টের বেশির ভাগ টাকা ফেরত দিয়েছি: সালমান

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মিট দ্য প্রেসে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। ছবি: নিউজবাংলা

‘প্লেসমেন্ট শেয়ারের মধ্যে পাবলিকের যতগুলো ছিল, মোটামুটি আমরা অনেকগুলো ফেরত দিয়েছি। প্রাতিষ্ঠানিকদের কিছু বাকি আছে। সেগুলো দেব। পর্যায়ক্রমে কিন্তু সেগুলো ফেরত দেয়ার চিন্তা আছে।’

প্রায় এক দশক সময় আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া জিএমজি এয়ারলাইনসের প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করে যে টাকা তোলা হয়েছিল, তার বেশির ভাগ ফেরত দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন জিএমজির মালিক বেক্সিমকো লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান।

সম্প্রতি বেক্সিমকো সুকুক বন্ড ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে তিন হাজার কোটি টাকা তোলার প্রক্রিয়া শুরু করলে জিএমজির প্লেসমেন্ট শেয়ারের বিষয়টি সামনে আসে। শত শত বিনিয়োগকারী ফেসবুকে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানান, তারা টাকা দিয়ে ফেরত পাননি। সুকুকের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটবে।

সুকুক বেশ আকর্ষণীয় অফার দিয়ে বাজার থেকে টাকা তোলার চেষ্টা করলেও ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা এতে খুব একটা আগ্রহ দেখাননি। পরে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বন্ড কেনেন।

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মিট দ্য প্রেসে জিএমজির প্লেসমেন্ট শেয়ারের ইস্যুটি তোলা হলে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ‘ব্যক্তি শ্রেণির যারা প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়েছেন তাদের বেশির ভাগ টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।’

তবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অনেকের টাকা এখনও রয়ে গেছে, এটা স্বীকার করেছেন তিনি। সেই টাকা ফেরত দেয়ার অঙ্গীকারও করেছেন তিনি।

১৯৯৮ সালের এপ্রিলে জিএমজি এয়ারলাইনস দেশের প্রথম বেসরকারি বিমান সংস্থা হিসেবে লাইসেন্স নেয়। ২০০৯ সালে বেক্সিমকো লিমিটেড কোম্পানিটির শেয়ার কিনে মালিকানায় আসে।

২০১২ সালে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওতে টাকা তোলার প্রক্রিয়া শুরু করে। এর আগেই পুঁজিবাজারের বাইরে প্লেসমেন্টে শেয়ার বিক্রি করা হয়। ১০ টাকার একেকটি শেয়ার বিক্রি করা হয় ৫০ টাকা করে। সব মিলিয়ে তোলা হয় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।

কিন্তু আর্থিক অস্বচ্ছতা ও দুর্বল আর্থিক ভিত্তির জন্য কোম্পানিটির আইপিও আবেদন বাতিল করে দেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এতে প্লেসমেন্ট শেয়ারধারীরা পড়েন বিপাকে। কারণ, তাদের বহুজনের টাকা এখনও ফেরত দেয়া হয়নি।

মোজাম্মেল হক নামে একজন প্লেসমেন্ট শেয়ারধারী নিউজবাংলাকে জানান, তিনি ও তার কয়েকজন বন্ধু মিলে এক কোটি টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়েছিলেন। কিন্তু এক টাকাও ফেরত পাননি। তাদের কাছে শেয়ার বরাদ্দের এবং টাকা দেয়ার সব নথিপত্র আছে। বারবার তারা যোগাযোগ করেছেন, কিন্তু তাদের টাকা দেয়া হয়নি।

জিএমজি এয়ারলইনস প্লেসমেন্টধারীরা টাকা ফেরত পাবেন কি না প্রশ্নে আরও বিস্তারিত আলোচনায় এফ রহমান বলেন, ‘প্লেসমেন্ট শেয়ারের মধ্যে পাবলিকের যতগুলো ছিল, মোটামুটি আমরা অনেকগুলো ফেরত দিয়েছি। প্রাতিষ্ঠানিকদের কিছু বাকি আছে। সেগুলো দেব। পর্যায়ক্রমে কিন্তু সেগুলো ফেরত দেয়ার চিন্তা আছে।’

জিএমজি এয়ারলাইনস বন্ধ করে দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যে সময় জিএমজিকে বন্ধ করেছি, তখন জ্বালানি তেলের দাম ছিল অনেক বেশি। টাইমলি যদি আমরা এটিকে বন্ধ করে না দিতাম তাহলে ইন্ডিয়ার কিং ফিশারের যে অবস্থা হয়েছিল আমাদের ও তাই হতো। কিং ফিশারের অবস্থা পর্যালোচনা করে যদি এটি বন্ধ করে দেয়া হতো তাহলে মালিকের অন্য ব্যবসায় প্রভাব পড়ত না।’

সালমান বলেন, ‘আমরা যদি সে সময় জিএমজি বন্ধ করে না দিতাম, তাহলে পুরো বেক্সিমকোর ওপর প্রভাব পড়ত।’

আরও পড়ুন:
এবার অস্বস্তি লেনদেনে, ৪ মাসের সর্বনিম্ন
নিলামে বিক্রি পুঁজিবাজারের কোম্পানি মিথুন, নেই ঘোষণা
হল্টেডের পর সোনারগাঁওয়ের নো ডিভিডেন্ড
লিগ্যাসিরও নামমাত্র লভ্যাংশ
টানা পতনের বৃত্ত ভাঙল অবশেষে

শেয়ার করুন

উৎপাদন বাড়াচ্ছে ফ্যামিলিটেক্স, তবে দিচ্ছে না তথ্য

উৎপাদন বাড়াচ্ছে ফ্যামিলিটেক্স, তবে দিচ্ছে না তথ্য

গত সেপ্টেম্বরে চিটাগং ইপিজেডে ফ্যামিলে টেক্সের কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে সেটি চালু থাকতে দেখেন বিএসইসির পুনর্গঠিত বোর্ডের সদস্যরা।

করোনা পরিস্থিতির কারণে পোশাক রপ্তানি অনেক কমেছে। এর পরও আমরা অনেক চেষ্টা করছি ঘুরে দাঁড়াতে। এখন আমাদের সক্ষমতার অর্ধেক চালু আছে। ধীরে ধীরে আমরা পুরোদমে উৎপাদনে যাব। ধীরে ধীরে সবগুলো ইউনিট চালু করা হবে: ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ-ই-মোস্তফা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি ফ্যামিলিটেক্স বন্ধ হয়ে গেছে, এমন তথ্যে সেটিকে উৎপাদনে ফেরাতে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। কিন্তু কোম্পানিটি কেবল উৎপাদনে আছে এমন নয়, করোনার মধ্যে উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণ করে পূর্ণ সক্ষমতার অর্ধেকটা এরই মধ্যে ব্যবহার হচ্ছে। আবার নতুন করে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে।

কিন্তু কোম্পানিটির পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারে এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়া হচ্ছে না। গত জুনে অর্থবছর শেষ হলেও গত ডিসেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের পর কোনো প্রান্তিকও ঘোষণা করা হয়নি।

২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কারখানাটি চট্টগ্রাম ইপিজেডে অবস্থিত। এর উদ্যোক্তা-পরিচালকরা ঘোষণা না দিয়ে হাতে থাকা শেয়ারের প্রায় সবই বিক্রি করে দিয়েছেন।

বিএসইসি বন্ধ ও লোকসানি ১২টির বেশি কোম্পানিতে প্রাণ ফেরাতে যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার মধ্যে একটি এই ফ্যামিলিটেক্স।

গত ফেব্রুয়ারিতে বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়। তারপর অনেকবার আলোচনায় আসে কোম্পানিটি আর চালু করা সম্ভব হবে না। বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম এমনও বলেন যে, তারা কারখানামালিকদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন। পরে কারখানা বিক্রি করে দেয়ার পরিকল্পনার কথা বলেন।

কিন্তু সেপ্টেম্বরের শুরুতে পুনর্গঠন করা বোর্ডের সদস্যরা পরিদর্শন করেন ফ্যামিলিটেক্সের কারখানা। সেখান থেকে ফিরে তারা জানালেন, কোম্পানির সক্ষমতার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ উৎপাদনে।

সেপ্টেম্বরের পর দুই মাসে উৎপাদন আরও বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ-ই-মোস্তফা নিজে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন এই তথ্য। তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে পোশাক রপ্তানি অনেক কমেছে। এরপরও আমরা অনেক চেষ্টা করছি ঘুরে দাঁড়াতে। এখন আমাদের সক্ষমতার অর্ধেক চালু আছে। ধীরে ধীরে আমরা পুরোদমে উৎপাদনে যাব। ধীরে ধীরে সবগুলো ইউনিট চালু করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রায় ২ হাজার শ্রমিক এখন নিয়মিত কাজ করছেন। নতুন নতুন কার্যাদেশ পাচ্ছি। এভাবে চলতে থাকলে শিগগির আমরা মুনাফায় ফিরব।’

ঠিক সময়ে আর্থিক প্রতিবেদন কেন দেয়া হয় না জানতে চাইলে ফ্যামিলিটেক্সের এমডি বলেন, ‘কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুনদের দায়িত্ব দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। আর্থিক প্রতিবেদনসহ সব বিষয় পরিচালনা পর্ষদ দেখভাল করে। তারাই বিষয়টি বলতে পারবে।’

এই বিষয়ে জানতে বিএসইসির মনোনীত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ফরজ আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, যে প্রান্তিকগুলোর তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, সেটি জানাবে আর বছর শেষে আর্থিক প্রতিবেদন আমাদের কাছে পাঠাবে। কিন্তু এখনও এ বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে কিছুই পাঠানো হয়নি।’

উৎপাদন বাড়াচ্ছে ফ্যামিলিটেক্স, তবে দিচ্ছে না তথ্য

পরিদর্শনে যাওয়া পর্ষদ সদস্যদের কোম্পানির পরিচালকের পক্ষ থেকে আর্থিক প্রতিবেদন পাঠানোর অঙ্গীকার করা হয়। তবে কথা রাখেনি তারা

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিমের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’

তবে রেজাউল করিম কিছু জানেন না বললেও নতুন পরিচালনা পর্ষদ গত সেপ্টেম্বরেই বিএসইসিকে কোম্পানিটির বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। তারা কোম্পানিটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সাবেক পরিচালক মেরাজ মোস্তফা কায়সারকে দিয়েই কোম্পানিটিকে পরিচালনা করার পক্ষে।

তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সব পরিচালক গোপনে শেয়ার বিক্রি করে দিলেও মেরাজ মোস্তফা নামে একজন পরিচালক তা করেননি। তিনিই এখন ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন।

কোম্পানি চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় চলতি মূলধনের ব্যবস্থা করে দিলে তিনি আগের মতোই উৎপাদন শুরু করতে পারবেন বলে গত সেপ্টেম্বরে নতুন পরিচালনা পর্ষদ সদস্যদের জানিয়েছেন। তবে এই প্রতিবেদনের বিষয়ে বিএসইসি কোনো বক্তব্য দেয়নি।

পুনর্গঠিত পর্ষদের প্রধান ড. মো. ফরজ আলী গত সেপ্টেম্বরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন যিনি কোম্পানিটি পরিচালনা করছেন, তিনি চালালেও কোম্পানির কমপ্লায়েন্স বাস্তবায়ন করতে হবে, অন্য কাউকে দিয়ে চালালেও তা বাস্তবায়ন করতে হবে। ফলে যিনি বর্তমানে এটি পরিচালনা করছেন তাকে দিয়ে করানোই ভালো। কারণ, তার এ খাতের ভালো অভিজ্ঞতা আছে।’

পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ’-এর সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিএসইসি যদি বলে তারা কিছুই জানে না, তাহলে আমরা বিনিয়োগকারীরা কোথায় যাব? যদি ফ্যামিলিটেক্সের এই ঘটনাটি ঘটে, তাহলে বিএসইসি, ডিএসইর উচিত তাদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া। সরেজমিনে গিয়ে দেখে এসে তারাই বিনিয়োগকারীদের আরও তথ্য দিতে পারে।’

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইপিএলের সাবেক গবেষণা প্রধান দেবব্রত কুমার সরকার বলেন, ‘যেহেতু বোর্ড পুনর্গঠন করে দেয়া হয়েছে, সেহেতু সেখানে কী হচ্ছে না হচ্ছে, সেটি তদারকির দায়িত্ব নতুন বোর্ডের। তবে বোর্ডে যারা আছে, তাদের বেশির ভাগই শিক্ষক। তারা হয়তো বিষয়টির দেখভাল করতে পারছেন না, তাই তাদের কাছে তথ্যগুলো আসছে না।’

তালিকাভুক্ত হওয়ার ৭ বছর আগে ২০০৬ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসে ফ্যামিলিটেক্স। প্রথম দিকে মুনাফায় থাকলেও গত কয়েক বছরে উদ্যোক্তাদের ব্যর্থতা, দ্বন্দ্ব, অদূরদর্শিতা, অপব্যবস্থাপনায় লোকসানি কোম্পানিতে পরিণত হয়। ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত টানা লোকসান দিয়েছে তারা। তবে লোকসানের পরিমাণ খুব একটা বেশি নয়।

২০১৯-২০ অর্থবছরের নিট লোকসান হয় ৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। শেয়ারপ্রতি এই লোকসান ছিল ১৫ পয়সা। আগের বছর লোকসান ছিল ৮ পয়সা, তার আগের বছর ৭ পয়সা, তার আগের বছর ৪ পয়সা।

লোকসানে থেকেও ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৫ শতাংশ করে বোনাস শেয়ার দিয়েছিল কোম্পানিটি। তবে পরের দুই বছর লভ্যাংশ দেয়নি।

২০২০ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি ১৩ পয়সা লোকসান দেখানোর পর কোম্পানিটির পক্ষ থেকে আর কোনো তথ্যই প্রকাশ করা হয়নি।

ফ্যামিলিটেক্সের আদ্যোপান্ত

২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় কোম্পানিটি। ১০ টাকা মূল্যমানের সাড়ে ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে তারা সংগ্রহ করে ৩৫ কোটি টাকা।

তালিকাভুক্তির পর ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক হিসাব পর্যালোচনা করে কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। তবে ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১০০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।

ওই বছর কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় দেখানো হয় ৭ টাকা ২৬ পয়সা আর শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য হয় ২১ টাকা ৭২ পয়সা। এই লভ্যাংশ ঘোষণার পরদিন ১ এপ্রিল কোম্পানিটির শেয়ার দর দাঁড়ায় ৬২ টাকা, যদিও একপর্যায়ে দাম ৭৪ টাকা ৮০ পয়সায় দাঁড়িয়েছিল।

বিপুল পরিমাণ বোনাস শেয়ার দেয়ার পর থেকেই ফ্যামিলিটেক্সের আয় কমতে থাকে। ২০১৫ থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত সমাপ্ত অর্থবছরে তারা সবশেষ মুনাফা করেছিল। তখন শেয়ারপ্রতি আয় হয় ৮২ পয়সা। এর পরের চার বছর ধরে লোকসান দিচ্ছে তারা।

২০১৭ সালে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয় সাড়ে ৪ পয়সার মতো। পরের বছর লোকসান হয় ৭ পয়সা, ২০১৯ সালে লোকসান হয় ৮ পয়সা। আর ২০২০ সালে লোকসান হয় ১৫ পয়সা।

২০১৩ সালে ১০০ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে দেয়ার পরের বছর তারা দেয় আরও ১০ শতাংশ বোনাস। এর পরের তিন বছর দেয় ৫ শতাংশ করে। কিন্তু গত দুই বছর কোনো লভ্যাংশই দেয়া হয়নি।

অথচ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে কোম্পানির আয় ক্রমেই বাড়ছিল। তালিকাভুক্তির আগে তিন বছরের আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে হয় বিএসইসিতে।

সেখানে দেখা গিয়েছিল ২০১১ ও ২০১২ সালে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছিল চার গুণের বেশি। আর তালিকাভুক্ত হওয়ার বছরে মুনাফা বাড়ে আরও ৭৬ শতাংশ।

এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকরা আরেকটি আইনবিরুদ্ধ কাজ করেন। পুঁজিবাজারে ঘোষণা না দিয়েই উদ্যোক্তা-পরিচালকরা তাদের হাতে থাকা সিংহভাগ শেয়ার বিক্রি করে দেন।

এই বিষয়টি তদন্তে ডিসেম্বরের শেষে একটি কমিটি করে বিএসইসি। তারা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছে কি না, সেটি এখনও জানা যায়নি। আর এ জন্য পরিচালকদের তেমন কোনো শাস্তিও পেতে হয়নি।

কোম্পানিটির ৩৫ কোটি ৪০ লাখ শেয়ারের মধ্যে এখন মাত্র ৪.০২ শতাংশের মালিক কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকরা। অথচ বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী অন্তত ৩০ শতাংশ শেয়ার ধরে রাখতে হবে মালিকপক্ষ।

এই কোম্পানির ৭৭.৫৭ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। ক্রমাগত লোকসান দিতে থাকা কোম্পানির শেয়ার দরও একেবারে তলানিতে। একপর্যায়ে দাম ২ টাকা ৪০ পয়সায় নেমে আসে। তবে বোর্ড পুনর্গঠনের পর গত আগস্টে দাম বেড়ে একপর্যায়ে ৬ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত পৌঁছে। তবে এরপর দাম ধীরে ধীরে কমে আসছে। সোমবার দাম দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৪০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
এবার অস্বস্তি লেনদেনে, ৪ মাসের সর্বনিম্ন
নিলামে বিক্রি পুঁজিবাজারের কোম্পানি মিথুন, নেই ঘোষণা
হল্টেডের পর সোনারগাঁওয়ের নো ডিভিডেন্ড
লিগ্যাসিরও নামমাত্র লভ্যাংশ
টানা পতনের বৃত্ত ভাঙল অবশেষে

শেয়ার করুন