জামিনের মেয়াদ বাড়ল স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজির

জামিনের মেয়াদ বাড়ল স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজির

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ। ফাইল ছবি

নির্ধারিত দিনে স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি আবুল কালাম আজাদ আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন বাড়ানোর আবেদন করেন। আদালত তার জামিন বাড়ানোর আদেশ দেয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণের তারিখ আগামী ২৩ জানুয়ারি ঠিক করেছে আদালত।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজির জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে।

ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশ মঙ্গলবার এসব আদেশ দেন।

আদালতে দুদকের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা জুলফিকার আলী নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

মামলার অন্য ৫ আসামি হলেন রিজেন্ট হাসপাতালের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ডা. আমিনুল হাসান, উপপরিচালক ডা. মো. ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক ডা. মো. শফিউর রহমান এবং গবেষণা কর্মকর্তা ডা. মো. দিদারুল ইসলাম।

আসামিদের মধ্যে সাহেদ কারাগারে আছেন। অন্য ৫ আসামি জামিনে আছেন। তারা মঙ্গলবার আদালতে হাজিরা দেন।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন আবুল কালাম আজাদ। আদালত তাকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত জামিন দেন।

নির্ধারিত দিনে স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন বাড়ানোর আবেদন করেন। আদালত তার জামিন বাড়ানোর আদেশ দেয়।

এর আগে আবুল কালাম আজাদসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী।

অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে লাইসেন্স নবায়নবিহীন বন্ধ রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও সরকারি প্রতিষ্ঠান নিপসমের ল্যাবে ৩ হাজার ৯৩৯ জন করোনা রোগীর নমুনা বিনা মূল্যে পরীক্ষা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা অবৈধ পারিতোষিক বাবদ রোগীপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ টাকা হিসাবে এক কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা নেন।

এ ছাড়া অভিযোগপত্রে রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখার চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ড বয় ও অন্য কর্মকর্তাদের খাবার খরচ বরাদ্দের বিষয়ে ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকার মাসিক চাহিদা তুলে ধরাসহ সমঝোতা স্মারকের খসড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে মোট ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ ৫ জনের নামে মামলাটি করেন ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী। সেখানে আবুল কালাম আজাদকে আসামি করা হয়নি। তবে তদন্তে নাম আসায় অভিযোগপত্রে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

আরও পড়ুন:
বেড়েছে গড় আয়ু, কমেছে মা ও শিশুমৃত্যুর হার
৮ মাস পর ফের চালু স্বাস্থ্য বুলেটিন
রোগ পরীক্ষার মূল্য তালিকা টানানোর নির্দেশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কবির খানকে চাপা দেয়া ময়লার গাড়ির চালক গ্রেপ্তার

কবির খানকে চাপা দেয়া ময়লার গাড়ির চালক গ্রেপ্তার

ডিএনসিসি ময়লার গাড়ির ধাক্কায় সাবেক সংবাদকর্মী আহসান কবির খান নিহতের ঘটনায় গাড়িচালক মো. হানিফকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

সিটি করপোরেশনের ময়লা বহনকারী গাড়ির চাপায় সংবাদকর্মী আহসান কবীর খানের নিহতের ঘটনায় গাড়িচালক মো. হানিফকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। কারওয়ানবাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টার শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় এ বিষয়ে মিডিয়া ব্রিফে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

রাজধানীর পান্থপথে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ময়লার গাড়ির ধাক্কায় সাবেক সংবাদকর্মী আহসান কবির খান নিহতের ঘটনায় গাড়িচালক মো. হানিফকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।

কারওয়ানবাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

সিটি করপোরেশনের ময়লা বহনকারী গাড়ির চাপায় আহসান কবীর খানের নিহতের ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার রাতে কলাবাগান থানায় মামলা করেন স্ত্রী নাদিরা পারভীন।

মামলায় ময়লার গাড়িটির চালককে আসামি করা হয়।

এ তথ্য নিশ্চিত করে কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিতোষ চন্দ্র জানান, মামলার আসামি ওই গাড়ির চালক পলাতক রয়েছেন।

এই ঘটনার একদিন আগে, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় নিহত হন নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসান। তার মৃত্যুর প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় মারা যান আহসান কবির খান। পান্থপথ বসুন্ধরা সিটির বিপরীত পাশের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি দৈনিক সংবাদ ও প্রথম আলোর সাবেক কর্মী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে কলাবাগান থানা পুলিশ জানায়, সিগন্যাল ছাড়ার পর ময়লা বহনকারী উত্তর সিটির একটি ট্রাক সামনে থাকা মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে পেছনে থাকা আহসান কবির ছিটকে রাস্তায় পড়ে গেলে তার ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যান চালক। এসময় তার মাথার ওপর দিয়ে ট্রাকের চাকা চলে যায়। চাপা দেয়ার পর গাড়িটি নিয়ে পান্থপথ সিগন্যালের দিকে পালিয়ে যান চালক। সিগন্যালের আগে সড়কের পাশে গাড়ি রেখে তিনি পালিয়ে যান।

ঘটনা তদন্তে ডিএনসিসি তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে। মেয়র আতিকুল ইসলামের নির্দেশে গঠিত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বেড়েছে গড় আয়ু, কমেছে মা ও শিশুমৃত্যুর হার
৮ মাস পর ফের চালু স্বাস্থ্য বুলেটিন
রোগ পরীক্ষার মূল্য তালিকা টানানোর নির্দেশ

শেয়ার করুন

লাইফ সার্পোটে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম

লাইফ সার্পোটে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম

জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি ‘ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে’ আছেন। নিউমোনিয়ার সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় তার শ্বাসকষ্ট তীব্র হয়েছে। তাকে এইচডিইউতে নেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ভ্যান্টিলেশন দিতে হতে পারে তাকে।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম লাইফ সার্পোটে রয়েছেন।

শুক্রবার বিকেলে তাকে রাজধানীর বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি ‘ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে’ আছেন। নিউমোনিয়ার সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় তার শ্বাসকষ্ট বেড়েছে। সন্ধ্যায় তাকে এইচডিইউতে নেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ভ্যান্টিলেশন দিতে হতে পারে তাকে।

পেটের ব্যথা নিয়ে গত ৭ অক্টোবর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয় ৮৭ বছর বয়সী জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার ফুসফুসে পানি ধরা পড়ে। তখন থেকে তিনি সেখানেই বক্ষব্যাধি (রেসপিরেটরি মেডিসিন) বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশাররফ হোসেনের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা রফিকুল ইসলামকে ভারতে নিয়ে যেতে চাইলেও তিনি রাজি হননি।

চারদিন আগে রফিকুল ইসলামকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তার শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা শুরু করা হয়।

নজরুল গবেষক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম নজরুল অধ্যাপক এবং নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের প্রথম পরিচালক ছিলেন।

৮৭ বছর বয়সী এই ভাষাবিজ্ঞানী, লেখক ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। সেই সময়ের দুর্লভ আলোকচিত্রও ধারণ করেন তিনি।

বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের এই প্রত্যক্ষ সাক্ষী সেইসব ইতিহাস গ্রন্থিত করেছেন তার লেখায়। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে প্রথম গ্রন্থ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের ইতিহাসের প্রথম গ্রন্থটিসহ প্রায় ৩০টি বই তার হাত দিয়ে এসেছে।

ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের সাবেক উপাচার্য রফিকুল ইসলাম এক সময় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালে সরকার তাকে জাতীয় অধ্যাপক করে নেয়।

স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ, গবেষক ও লেখক ড. রফিকুল ইসলাম বেশ কয়েকটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপালন করেছেন।

২০২১ সালের ১৮ মে সরকার তাকে তিন বছরের জন্য বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব দেয়।

এই বছর মাতৃভাষা সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন, বিকাশ, চর্চা, প্রচার-প্রসারে অবদান রাখায় তাকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক’ দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
বেড়েছে গড় আয়ু, কমেছে মা ও শিশুমৃত্যুর হার
৮ মাস পর ফের চালু স্বাস্থ্য বুলেটিন
রোগ পরীক্ষার মূল্য তালিকা টানানোর নির্দেশ

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান আ. লীগের

শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান আ. লীগের

বাস ভাড়া অর্ধেক নির্ধারণের দাবিতে রাজপথে শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় কয়েকজন নেতা বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে শিক্ষার্থীদের এই দাবি পরিবহনমালিকদের মেনে নেয়া উচিত।

শিক্ষার্থীদের পরিবহনে অর্ধেক ভাড়া নির্ধারণের দাবি মেনে নিতে পরিবহনমালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলটির সম্পাদকমণ্ডলীল সভায় এই আহ্বান জানানো হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শুরু হয় শুক্রবার বিকেলে। সভায় কয়েকজন নেতা বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে শিক্ষার্থীদের এই দাবি পরিবহনমালিকদের মেনে নেয়া উচিত।

বৈঠকে সূচনা বক্তব্য দেন দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, আফজাল হোসেন, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম নিউজবাংলাকে বলেন, বৈঠকে বিআরটিসি বাসে ৫০ শতাংশ ভাড়া নির্ধারণ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি মালিক ও শ্রমিকদের শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়ার দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আমরা মনে করছি শিক্ষার্থীদের এই দাবি যৌক্তিক। সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে এবং শিক্ষার পরিবেশ সমুন্নত রাখতে বিষয়টি বাসমালিক ও শ্রমিকদের মেনে নেয়া উচিত।

বৈঠক সূত্র জানায়, আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে গণশোভাযাত্রা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। শোভাযাত্রাটি ১৮ ডিসেম্বর দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে শুরু হয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি সারা দেশে শোভাযাত্রা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিজয় দিবস উপলক্ষে দলের সহযোগী সংগঠনগুলোর আয়োজনে মাসব্যাপী কর্মসূচি নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠকে ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনার পর তা চূড়ান্ত করা হবে।

পরিবহনে হাফ ভাড়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে বৃহস্পতিবার রমনায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘বেসরকারি খাতে গাড়িতে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নেয়ার কোনো প্রভিশন নেই। বিআরটিসিতে (সংস্থাটির গাড়ি) হাফ ভাড়া নেয়ার প্রভিশন আছে।’

তবে একই সভায় শিক্ষার্থীদের বাস ভাড়া কমানোর আহ্বান জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘মালিক-শ্রমিকদের বলছি, সমস্যাটির একটি যৌক্তিক সমাধান নিয়ে আপনারা চিন্তা-ভাবনা করুন।’

আগামী শনিবার বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেন ওবায়দুল কাদের। তবে বিকেলে বিআরটিএ ও বাসমালিকদের বৈঠক শেষ হয় কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই।

সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর বাসভাড়া ২৭ শতাংশ বাড়িয়ে আদেশ দেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এর প্রেক্ষাপটে কিছুদিন আগে থেকেই রাজধানীর কয়েকটি স্থানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবহনের চালক ও শ্রমিকদের কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। কোথাও কোথাও হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাসভাড়া অর্ধেক নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীতে রাস্তায় নামে শিক্ষার্থীরা। আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এর আগে ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে যৌক্তিক বলে আখ্যায়িত করেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও বৃহস্পতিবার এই দাবি মেনে নেয়া উচিত মন্তব্য করে মালিকদের প্রতি দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকও শিক্ষার্থীদের এই দাবিকে যৌক্তিক বলে আখ্যায়িত করেন।

আরও পড়ুন:
বেড়েছে গড় আয়ু, কমেছে মা ও শিশুমৃত্যুর হার
৮ মাস পর ফের চালু স্বাস্থ্য বুলেটিন
রোগ পরীক্ষার মূল্য তালিকা টানানোর নির্দেশ

শেয়ার করুন

কে এই ঠিকাদার স্বপন চৌধুরী?

কে এই ঠিকাদার স্বপন চৌধুরী?

ঠিকাদার ফজলুল করিম চৌধুরী স্বপন।

প্রভাব খাটিয়ে ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ চুক্তির মাধ্যমে বড় বড় ঠিকাদারি কাজ নিলেও সেগুলো সম্পন্ন না করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে স্বপন চৌধুরীর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে তিনি প্রভাব বিস্তার করে প্রতারণা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঠিকাদার মহলে ফজলুল করিম চৌধুরী পরিচিত স্বপন চৌধুরী নামে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। প্রভাব বিস্তার করে এবং জালিয়াতির মাধ্যমে বড় বড় ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠছে তার বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরে, যার বেশির ভাগই সরকারি ভবন নির্মাণের কাজ।

ফেনী জেলা বিএনপির সাবেক এই নেতা ক্ষমতার পালাবদলের পর মিশে যান আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে। নানা কৌশল অবলম্বন করে কয়েক বছরের মধ্যেই ঠিকাদারিতে নিজের দুর্বল প্রতিষ্ঠানের অধীনে বাগিয়ে নেন প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ। কিন্তু এত কাজ পেয়েও তার দুর্বল প্রতিষ্ঠানের নাম উজ্জ্বল হয়নি, বরং প্রকল্প সম্পন্ন না করা ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বেশি।

স্বপন চৌধুরী স্বাক্ষরিত দি বিল্ডার্সের চলমান কাজের একটি নথি এসেছে নিউজবাংলার হাতে। সেখানে দেখা যায়, ২৩টি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ চলছে তার প্রতিষ্ঠানটির অধীনে, যেগুলোর প্রাক্কলিত ব্যয় ১ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা। এগুলোর মধ্যে আছে লালমাটিয়া ন্যাশনাল হাউজিং প্রজেক্ট, ভূমি সংস্কার বোর্ডের নতুন ভবন, তেজগাঁও বিসিক ভবন, নয়াপল্টন এলাকায় মধুমতি টাওয়ার, মিরপুরে এন এইচ এ ভবন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাপ্তান বাজার মার্কেট ভবন, চানখাঁর পুল মার্কেট, ওসমানী ‍উদ্যানের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন, আগ্রাবাদে বিএসটিআই ভবন, আফতাবনগর পাওয়ার ‍গ্রিড প্রকল্প, মতিঝিলে অগ্রণী ব্যাংক ভবন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভবন নির্মাণ প্রকল্প, খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, লালমনিরহাটে হাসপাতাল নির্মাণ, গোপালগঞ্জ পৌর সুপার মার্কেট, খেপুপাড়া মডেল মসজিদ, মালিবাগে সরকারি কর্মচারীদের বাসভবন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের রাস্তা-ড্রেন নির্মাণকাজ, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ কমপ্লেক্স, চট্টগ্রাম বন্দরে শেড নির্মাণকাজ ও যাত্রাবাড়ীতে পিডব্লিউডির ভবন নির্মাণের কাজ।

একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, স্বপন চৌধুরীর প্রতিষ্ঠান ‘দি বিল্ডার্স’ ছোট কোনো কাজ পাওয়ারও যোগ্যতা রাখে না। কারণ কাজ দেবার আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মূল্যায়ন করা হয় তার আগের কাজ সফলভাবে সম্পাদনের অভিজ্ঞতা ও সুনামের ওপর ভিত্তি করে। এগুলোর কোনোটিই দি বিল্ডার্সের নেই। তবুও বড় বড় সরকারি-বেসরকারি নির্মাণকাজের ঠিকাদারি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

অভিযোগ রয়েছে এসব কাজ পেতে ক্ষমতার অপব্যবহার, পেশিশক্তির প্রয়োগসহ নানা কৌশল অবলম্বন করেছেন ফজলুল করিম চৌধুরী স্বপন।

স্বপন চৌধুরী একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিতে সুসম্পর্ক তৈরি করেছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে। তার সুসম্পর্ক ছিল যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া এবং যুবলীগের কথিত নেতা জি কে শামীমের সঙ্গে।

জি কে শামীমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জি কে বিল্ডার্সের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে (জেভি) চুক্তি ও জাল কাগজ তৈরির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজের ঠিকাদারি পান স্বপন চৌধুরী। একইভাবে যাত্রাবাড়ীতে পিডব্লিউডির ভবন নির্মাণের কাজটি পেতে বঙ্গ বিল্ডার্সের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ (জেভি) চুক্তি করেন স্বপন চৌধুরী।

কার্যাদেশ নিয়ে প্রতারণা

প্রভাব খাটিয়ে ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জেভি চুক্তির মাধ্যমে বড় বড় কাজ নিলেও সেগুলো সম্পন্ন না করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে স্বপন চৌধুরীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জেভি চুক্তির মাধ্যমে স্বপন কাজ নিতেন নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে। কাজ পেয়ে যাবার পর বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রাপ্য কমিশন বুঝিয়ে দিয়ে পুরো কাজের দায়িত্ব নিতেন স্বপন। এরপর আবার সেই কাজ সাব-কনট্রাক্টে অন্য ঠিকাদারদের কাছে বিক্রি করে দিতেন। কিছুদিন কাজ করে ওই ঠিকাদার বিল জমা দিলে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে টাকা তুলে আত্মসাৎ করতেন তিনি। এভাবে একটি কাজ কয়েকজন ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করতেন স্বপন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাপ্তান বাজার মার্কেট নির্মাণের জন্য ৩০ কোটি টাকার কাজ পায় স্বপন চৌধুরীর দি বিল্ডার্স। কাজটি পাওয়ার পর জিয়াউর রহমান পারভেজ ও এনামুজ্জামান চৌধুরী নামের দুই ঠিকাদারের কাছে কাজটি বিক্রি করেন তিনি। প্রকল্পে কিছু কাজ করেছেন দাবি করে প্রথমে তাদের কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা বুঝে নেন স্বপন। এরপর শর্ত ছিল কাজ করে সময়ে সময়ে সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে বিল বুঝে নেবেন ওই দুই ঠিকাদার। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম ধাপের নির্মাণকাজ শেষে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বিল সিটি করপোরেশনে জমা দেন পারভেজ ও এনামুজ্জামান। তখন সিটি করপোরেশন থেকে ওই বিলের টাকার একটি চেক দেয়া হয় দি বিল্ডার্সের নামে। কারণ খাতায়-কলমে কাজটি পেয়েছে দি বিল্ডার্স।

সেই চেক ভাঙিয়ে নগদ অর্থ পরিশোধের জন্য স্বপন চৌধুরীর কাছে দেয়া হলে ওই টাকার পুরোটাই আত্মসাৎ করেন স্বপন। পারভেজ ও এনাম যখন বুঝতে পারেন তারা প্রতারণার শিকার, তখন তারা বিষয়টি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে জানালে দি বিল্ডার্সের ওই প্রকল্পের কাজ স্থগিত করে দেয়া হয়।

জিয়াউর রহমান পারভেজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বপন চৌধুরী আমাদের এসে বললেন কাপ্তান বাজার মার্কেটের কাজটা পেয়েছি, কিন্তু আমার হাতে টাকা নেই। আপনারা কাজটা করে বিল নিয়ে নিয়েন। আমরা তার সঙ্গে চুক্তি করলাম। উনি কিছু কাজ করেছেন বলে দাবি করেছিলেন, সে জন্য অগ্রিম ১৬ লাখ টাকাও দেয়া হয়।

‘নিজেদের টাকা বিনিয়োগ করে আমরা কাজ করলাম। কিন্তু উনি এভাবে প্রতারণা করবেন, আমরা বুঝতেও পারিনি। প্রায় দেড় বছর হয়ে গেল কোনো টাকা ফেরত পেলাম না। এখন তার কাছে টাকা চাইলে হুমকিধমকি দেন। আমি পল্টন থানায় একটি জিডি করে রেখেছি, এখন মামলায় যাব।’

প্রতারণার শিকার অপর ঠিকাদার এনামুজ্জামান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা জাসদের সভাপতি। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বপন চৌধুরী যে শুধু আমাদের বিলের টাকা আত্মসাৎ করেছেন, তাই নয়, আমাদের কাছে কাজ বিক্রি করার আগে তিনি এই প্রকল্প দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে রেখেছিলেন, যা আমাদের কাছে তিনি গোপন রাখেন। যখন বুঝতে পারলাম আমরা ভয়ংকর প্রতারণার শিকার, তখন কাজ বন্ধ করে দিলাম।’

স্বপন চৌধুরী বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়েও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ম্যানেজ করে এসব প্রতারণা করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন এনামুজ্জামান চৌধুরী।

ইতিমধ্যে দি বিল্ডার্সের কাপ্তানবাজার মার্কেট ভবন, চানখাঁরপুল মার্কেট ভবন ও ওসমানী উদ্যানের সৌন্দর্যবর্ধনের প্রকল্পের কার্যাদেশ স্থগিত করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

এ বিষয়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীলদের কোনো বক্তব্য না পাওয়া গেলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, ‘দি বিল্ডার্সের নানা অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ মেয়র ফজলে নূর তাপসের কাছে এসেছে। সে জন্য তিনি ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ স্থগিত করে দিয়েছেন।’

স্বপন চৌধুরীর প্রতারণা থেকে বাদ পড়েননি সরকারি কর্মকর্তারাও। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ২০ তলা ভবন নির্মাণের কাজে বিনিয়োগ করে প্রায় আড়াই কোটি টাকা খুইয়েছেন সরকারি কলেজের অধ্যাপক মো. কাইয়্যুম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বপন চৌধুরী আমার কাছে এসে একদিন বললেন, তার প্রতিষ্ঠান ও বঙ্গ বিল্ডার্স যৌথভাবে কাজটি পেয়েছে। কিন্তু তার হাতে টাকা না থাকায় কাজ এগোচ্ছে না। তাই তিনি আমাকে বিনিয়োগ করার প্রস্তাব দেন। বিনিময়ে লভ্যাংশসহ বিলের টাকা আমি পাব, এমন আশ্বাস দেয়।

‘তখন আমি তার কথা বিশ্বাস করে ব্যাংক লোন ও আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে তার ওই প্রজেক্টে বিনিয়োগ করি। পরে বিলের আড়াই কোটি টাকা আনতে গেলে জানতে পারি, স্বপন আগেই সেই টাকা উঠিয়ে নিয়েছেন।

‘স্বপনের এই প্রতারণার পর থেকে এখন প্রতি মাসে ব্যাংক ঋণ আর আত্মীয়-স্বজনদের দেনার ভার আমার কাঁধে। স্বপন তো আড়াই কোটি টাকা নিয়েই গেছে, আরও আড়াই কোটি টাকা আমার এখন পরিশোধ করতে হচ্ছে।’

শিক্ষক কাইয়্যুম আরও বলেন, ‘আমি গত এক বছর ধরে তার কাছ থেকে টাকা চেয়ে যাচ্ছি। কিন্তু উল্টো আমাকে হুমকি দিচ্ছেন, ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছেন। এমনকি তিনি অন্য এক মামলার আসামির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জাল করে সেখানে আমার নাম লিখে আমাকে হয়রানি করছেন।’

স্বপন চৌধুরীর এই প্রতারণায় রাজধানীর গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ওই শিক্ষক। সেটির তদন্তকাজ শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সেখানে স্বপন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওই শিক্ষকের প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, স্বপন চৌধুরী একই প্রকল্পের কাজ আগে আরও দুইবার অন্য ব্যক্তিদের কাছে বিক্রি করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। এতে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের পরিচয় ব্যবহার করে স্বপন চৌধুরী এসব প্রতারণা করে যাচ্ছেন। মামলার তদন্ত করতে গিয়ে স্বপন চৌধুরীর বিরুদ্ধে অন্তত ছয়টি প্রতারণা-অর্থ আত্মসাৎ মামলা ও জিডির খোঁজ পেয়েছে সিআইডি।

এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে ফজলুল করিম চৌধুরী স্বপনের তিনটি নম্বরে ফোন করে সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার অফিসের নম্বরে ফোন করা হলে একজন কর্মকর্তা তা রিসিভ করেন। দি বিল্ডার্সের চলমান কাজগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে নিজ পরিচয় না দিয়ে তিনি বলেন, ‘কাজের বিষয়ে এমডি সাহেব জানেন, এ নিয়ে কিছু বলা যাবে না।’

স্বপন চৌধুরী কোথায় আছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কিছু জানি না।’

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দি বিল্ডার্সের প্রায় প্রতিটি প্রকল্প ব্যবহার করে এমন প্রতারণা করেছেন। আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত চাইতে গেলে হুমকি-হামলা-মামলার ভয় দেখান স্বপন চৌধুরী। তার ভুয়া মামলায় অনেকে জেল খাটছেন। একাধিক প্রতারণা মামলায় স্বপন চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলেও আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
বেড়েছে গড় আয়ু, কমেছে মা ও শিশুমৃত্যুর হার
৮ মাস পর ফের চালু স্বাস্থ্য বুলেটিন
রোগ পরীক্ষার মূল্য তালিকা টানানোর নির্দেশ

শেয়ার করুন

সাত ইউপিতে ভোট হচ্ছে না রোববার

সাত ইউপিতে ভোট হচ্ছে না রোববার

রোববার অনুষ্ঠেয় ১ হাজার ইউপির মধ্যে ৫৬৯ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে চেয়ারম্যান ১০০ জন। এ ছাড়া সাধারণ সদস্য ৩৩৭ ও সংরক্ষিত সদস্যপদে ১৩২ জন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে রোববার ভোট হবে এক হাজার ইউনিয়ন পরিষদে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী এক হাজার সাতটি ইউপিতে ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সাতটি ইউপিতে নানা কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।

রোববার অনুষ্ঠেয় ১ হাজার ইউপির মধ্যে ৫৬৯ জন প্রার্থী ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে চেয়ারম্যানের সংখ্যা ১০০ জন। এ ছাড়া সাধারণ সদস্য ৩৩৭ ও সংরক্ষিত সদস্যপদে ১৩২ জন।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় শুক্রবার এসব তথ্য জানিয়েছে।

ইসি জানায়, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ীদের বাদ দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫০ হাজার ১৪৬ প্রার্থী। চেয়ারম্যান পদে মাঠে আছেন ৪ হাজার ৪০৯ জন। সংরক্ষিত সদস্যপদে ১১ হাজার ১০৫ এবং সাধারণ সদস্যপদে ৩৪ হাজার ৬৩২ জন ভোটে লড়াই করছেন।

মোট ১০ হাজার ১৫৯টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে এই ভোট। এগুলোতে মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা ৬১ হাজার ৮৩০টি। মোট ৩৩টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট হবে।

১ হাজারটি ইউপিতে ভোটার সংখ্যা ২ কোটি ১৪ লাখ ৯ হাজার ২৭৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ২১ লাখ ৫ হাজার ৪২৩ ও নারী ভোটার ৯৯ লাখ ৩২ হাজার ৫৩০ জন। এর বাইরে ট্রান্সজেন্ডার ভোটার আছেন ১৯ জন।

ভোটের সার্বিক পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২২ জন সদস্য রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশের একজন এসআই বা এএসআই বা নায়েক থাকবেন। আর পুলিশের কনস্টেবল থাকবেন চারজন। অস্ত্রসহ পিসি ও এপিসি মর্যাদার আনসার থাকবেন দুজন। লাঠিসহ অঙ্গীভূত আনসার-ভিডিপি সদস্য থাকবেন ১৫ জন। তাদের মধ্যে নারী থাকবেন ৭ জন। বাকি ৮ জন পুরুষ।

পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে গঠিত একটি মোবাইল ফোর্স প্রতি ইউনিয়নে আর স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে প্রতি তিন ইউনিয়নে একটি।

প্রতি উপজেলায় র‌্যাবের মোবাইল টিম থাকবে দুটি আর স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে একটি। প্রতি উপজেলায় বিজিবির মোবাইল টিম থাকবে দুই প্লাটুন আর স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে এক প্লাটুন। প্রতিটি উপকূলীয় উপজেলায় কোস্ট গার্ডের মোবাইল ফোর্স দুই প্লাটুন এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে এক প্লাটুন।

ভোটের আগের দুই দিন, ভোটের দিন ও পরদিন মিলে মোট চার দিন মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই পদ্ধতিতে প্রতি উপজেলায় ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন তিনজন। আর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন একজন।

একই দিনে অষ্টম ধাপে ৯টি পৌরসভায়ও ভোট হবে। ভোট নেয়া হবে ইভিএম পদ্ধতিতে। নীলফামারীর জলঢাকা ও কক্সবাজার পৌরসভায় শুধু কাউন্সিলর পদে ভোট হবে।

আরও পড়ুন:
বেড়েছে গড় আয়ু, কমেছে মা ও শিশুমৃত্যুর হার
৮ মাস পর ফের চালু স্বাস্থ্য বুলেটিন
রোগ পরীক্ষার মূল্য তালিকা টানানোর নির্দেশ

শেয়ার করুন

বাঁচানো যায়নি দুর্জয় ও অবন্তিকাকে

বাঁচানো যায়নি দুর্জয় ও অবন্তিকাকে

মা বেলীর সঙ্গে দুর্জয় ও অবন্তিকা।

মৃত্যুর আগে মা বেলীর সঙ্গে থাকত দুর্জয় ও অবন্তিকা। তাই মাছিবাহিত রোগে ছানা দুটির মৃত্যুর পর মা বাঘটিকেও বিচ্ছিন্ন করে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় মারা গেল রয়েল বেঙ্গল প্রজাতির ছয় মাসের বাঘ শাবক দুর্জয় ও অবন্তিকা। শুক্রবার নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর আবদুল লতিফ।

লতিফ জানান, গত ১৫ নভেম্বর শাবক দুটিকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখার পর, তাদের চিকিৎসার উদ্যোগ নেয় চিড়িয়াখানা মেডিক্যাল বোর্ড। পরে তাদের রক্ত পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় রক্তে মাছিবাহিত পরজীবী ধরা পড়লে তাদের চিকিৎসাও শুরু হয়।

শাবক দুটির চিকিৎসায় গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক থেকেও একজন চিকিৎসককে যুক্ত করে চিড়িয়াখানার মেডিক্যাল বোর্ড। যে রোগে বাঘ ছানা দুটি আক্রান্ত হয়েছিল, সেটিকে মানব শরীরের ডেঙ্গুর সঙ্গেও তুলনা করেন আবদুল লতিফ।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুর্জয় ও অবন্তিকাকে আর বাঁচানো যায়নি। গত ২১ নভেম্বর মারা যায় দুই শাবকই।

করোনা মহামারিতে দেশজুড়ে যখন লকডাউন চলছিল, তখন চিড়িয়াখানার নিরিবিলি পরিবেশে জন্ম হয় শাবক দুটির। বাঘ দম্পতি টগর আর বেলী হলো তাদের বাবা-মা। বাঘিনী বেলীর জন্ম ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর ও বাঘ টগরের জন্ম ২০১৭ সালের ১ মার্চ। চলতি বছরের ২৬ মে প্রথমবারের মতো সন্তান প্রসব করে এই বাঘ দম্পতি। তবে দুর্জয় ও অবন্তিকার খবরটি গণমাধ্যমে দেয়া হয় ১৬ আগস্ট।

মৃত্যুর আগে মা বেলীর সঙ্গে থাকত দুর্জয় ও অবন্তিকা। তাই মাছিবাহিত রোগে ছানা দুটির মৃত্যুর পর মা বাঘটিকেও বিচ্ছিন্ন করে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এমনকি বাঘিনী বেলীকে এই মুহূর্তে দর্শনার্থীরাও দেখার সুযোগ পাচ্ছেন না।

বাঘ শাবকের মৃত্যুতে কিউরেটর আবদুল লতিফ কিছুটা বিষাদগ্রস্ত হলেও জানালেন আশার কথা। শিগগিরই চিড়িয়াখানায় নতুন ব্যাঘ্র শাবক যুক্ত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন। তবে এই বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি তিনি।

আরও পড়ুন:
বেড়েছে গড় আয়ু, কমেছে মা ও শিশুমৃত্যুর হার
৮ মাস পর ফের চালু স্বাস্থ্য বুলেটিন
রোগ পরীক্ষার মূল্য তালিকা টানানোর নির্দেশ

শেয়ার করুন

দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ দিতে নতুন উদ্যোগ চান প্রধানমন্ত্রী

দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ দিতে নতুন উদ্যোগ চান প্রধানমন্ত্রী

২০০৯ সালে দেশে বিদ্যুতের গ্রাহকসংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮ লাখ। বর্তমানে এ সংখ্যা বেড়ে ৪ কোটি ১৪ লাখে উন্নীত হয়েছে। এ ছাড়া ২০০৯ সালে সেচ সংযোগ ছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার, বর্তমানে সেচ সংযোগের সংখ্যা ৪ লাখ ৪৬ হাজার। ২০০৯ সালে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা। গত ২০২১-২০২২ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ২৮ হাজার ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

এখনও যারা বিদ্যুৎ-সুবিধার বাইরে আছেন, তাদের এই সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চর এবং দুর্গম অঞ্চলের মানুষের জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করে শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ-সুবিধা দিতে প্রয়োজনে নতুন প্রকল্প নিতে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

দেশের ৯৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ মানুষকে বিদ্যুৎ-সুবিধার আওতায় আনা গেলেও রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার চরাঞ্চলের কয়েক হাজার পরিবার এখনও বিদ্যুৎ-সুবিধার বাইরে আছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বিষয়টি শুক্রবার গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর দ্রুততম সময়ে চর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবশিষ্ট মানুষকে বিদ্যুৎ সেবার আওতায় আনতে কাজ শুরু করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তোফাজ্জল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কোনো বাড়ি বা পরিবার অন্ধকারে থাকবে না। তার নির্দেশনা অনুযায়ী শতভাগ মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনার যে লক্ষ্য, সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি।’

পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের (পিডিবিএফ) তথ্য অনুযায়ী, ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎবিহীন প্রত্যন্ত এবং চর এলাকায় সৌরশক্তির উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় রংপুরের সদর ও গঙ্গাচড়া উপজেলা এবং লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলায় মোট ১২ হাজার ১৭০টি সোলার হোম সিস্টেম বসানোর কথা ছিল।

এখন পর্যন্ত সেখানে ৯ হাজার ৮৪৫টি সোলার সিস্টেম স্থাপন করতে সক্ষম হয় বাস্তবায়নকারী সংস্থা পিডিবিএফ।

গঙ্গাচড়ায় সর্বশেষ নির্বাচিত ৪ হাজার ৫০৪ পরিবারের মধ্যে থেকে যারা কন্ট্রিবিউশনের অর্থ ও এনআইডি জমা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করেছেন, তাদের মধ্যে চলতি বছরের জুনে ৭১২ পরিবারকে সোলার হোম সিস্টেম দেয়া হয়।

৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও তালিকাভুক্ত ৯০ পরিবারের মাঝে সোলার হোম সিস্টেম বিতরণ করতে পারেনি পিডিবিএফ। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসলে তার নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করে সেই ৯০ জনের বাড়িতে সোলার হোম সিস্টেম বসানো হয়।

একই সঙ্গে বিদ্যুৎ-সুবিধার বাইরে থাকা অন্য পরিবারগুলোকেও দ্রুত বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের আনার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারপ্রধানের নির্দেশে বিদ্যুৎ-সুবিধার বাইরে থাকা গঙ্গাচড়ার অবশিষ্ট ৩ হাজার ৭০৮ পরিবারকেও দ্রুত বিদ্যুৎ-সুবিধার আওতায় আনার কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্টরা।

পিডিবিএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহম্মদ মউদুদউর রশীদ সফদার বলেন, ‘রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার চরাঞ্চলের ৩ হাজার ৭০৮ পরিবারকে কীভাবে বিদ্যুতের আওতায় আনা যায় সে লক্ষ্যে আমরা পল্লী বিদ্যুতের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছি।’

তিনি বলেন, ‘যেসব প্রত্যন্ত অঞ্চলে পল্লী বিদ্যুতের লাইন টানা যাবে না সেখানে সোলার হোম প্যানেল সিস্টেম বসানোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।’

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে এখন পর্যন্ত ৬২ লাখ হোম সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। এসব সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ২৬৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। নামমাত্র মূল্যে বিতরণ করা এসব সোলার প্যানেল সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ-সুবিধার আওতায় এসেছেন ২ কোটি মানুষ।

২০০৯ সালে দেশের ৪৭ শতাংশ জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎ-সুবিধা পেত। বর্তমান সরকার গত এক যুগে বিদ্যুৎ খাতে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের ৯৯ দশমিক ৭৫ ভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সেবার আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াট। যেখানে ২০০৯ সালে এ সক্ষমতা ছিল ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, ২০০৯ সালে দেশে বিদ্যুতের গ্রাহকসংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮ লাখ। বর্তমানে এ সংখ্যা বেড়ে ৪ কোটি ১৪ লাখে উন্নীত হয়েছে। এ ছাড়া ২০০৯ সালে সেচ সংযোগ ছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার, বর্তমানে সেচ সংযোগ সংখ্যা ৪ লাখ ৪৬ হাজার।

২০০৯ সালে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা। গত ২০২১-২০২২ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ২৮ হাজার ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

আরও পড়ুন:
বেড়েছে গড় আয়ু, কমেছে মা ও শিশুমৃত্যুর হার
৮ মাস পর ফের চালু স্বাস্থ্য বুলেটিন
রোগ পরীক্ষার মূল্য তালিকা টানানোর নির্দেশ

শেয়ার করুন