মনোহরগঞ্জে বাসচাপায় নিহত ৩

মনোহরগঞ্জে বাসচাপায় নিহত ৩

পুলিশ পরিদর্শক জাফর আহমেদ বলেন, ‘একুশে পরিবহনের বাসটি হিমাচল পরিবহনের একটি বাসকে ওভারটেক করতে গিয়ে অটোরিকশাকে চাপা দেয়। আমরা নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছি। চাপাদেয়া বাসটিকে আটক করেছি। তবে চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন।’

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে বাসচাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। মৃতদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী ও কলেজ ছাত্রী রয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অটোচালক।

উপজেলার বিপুলাসার ইউনিয়নের কাঁচি এলাকায় মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মনোহরগঞ্জ থানার নাথেরপেটুয়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক জাফর আহমেদ।

নিহতরা ইউনিয়নের সাইকচাইল গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলেন কুয়েত প্রবাসী হারুনুর রশিদের মেয়ে নাথেরপেটুয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী সায়মুনা আক্তার, আবদুল হাকিমের ছেলে রুহল আমিন এবং তার স্ত্রী সেলিনা আক্তার। গুরুতর আহত মিশুক চালক খোকন মিয়াকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ পরিদর্শক জাফর আহমেদ বলেন, ‘একুশে পরিবহনের বাসটি হিমাচল পরিবহনের একটি বাসকে ওভারটেক করতে গিয়ে অটোরিকশাকে চাপা দেয়। আমরা নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছি। চাপাদেয়া বাসটিকে আটক করেছি। তবে চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন।’

এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সাভারে সড়ক-মহাসড়কে হাঁটু পানি, যানজট

সাভারে সড়ক-মহাসড়কে হাঁটু পানি, যানজট

টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সাভারের সড়ক-মহাসড়ক। ছবি: নিউজবাংলা

সাভার বাজারে মো. মিলন নামের স্থানীয় একজন বলেন, ‘আমি শিমুলতলা যাচ্ছিলাম। পুরো সড়কে পানি জমে যাওয়ায় আমার সাইকেল তলিয়ে গেছে। প্যান্ট গুঁজেও লাভ হয়নি, সব ভিজে গেছে। এই জায়গাটায় একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে। অথচ কিছুদিন আগে সড়কে সুয়ারেজ লাইন তৈরি করা হয়েছে, সেই লাইন কোনো কাজে আসছে না। টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কেই হাঁটু পানি হয়ে গেছে৷ বাস-ট্রাক গেলে বিশাল ঢেউ হয়। এতে পথচারীরা পুরো ভিজে যায়।’

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সাভারের সড়ক-মহাসড়ক। হাঁটু পানিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকসহ স্থানীয়রা।

সোমবার সকাল থেকে সারা দিন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক এবং টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কে রাত সাড়ে ১১টার দিকেও জলাবদ্ধতার কারণে যানজট লেগে ছিল।

বৃষ্টির পানিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার বাসস্ট্যান্ড থেকে রেডিও কলোনি পর্যন্ত আরিচামুখী লেনে হাটুঁ পরিমাণ পানি জমে আছে। যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। এতে সড়কের পাশ দিয়ে চলাচলেও চরম দুর্ভোগে পড়েন পথচারীরা।

অন্যদিকে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের ইউনিক বাসস্ট্যান্ড থেকে জামগড়া পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমেছে। সড়কে আগে থেকেই খানাখন্দ থাকায় দিনভর যানবাহন চলাচলে ছিল ধীরগতি।

সাভার বাজারে মো. মিলন নামের স্থানীয় একজন বলেন, ‘আমি শিমুলতলা যাচ্ছিলাম। পুরো সড়কে পানি জমে যাওয়ায় আমার সাইকেল তলিয়ে গেছে। প্যান্ট গুঁজেও লাভ হয়নি, সব ভিজে গেছে।

‘এই জায়গাটায় একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে। অথচ কিছুদিন আগে সড়কে সুয়ারেজ লাইন তৈরি করা হয়েছে, সেই লাইন কোনো কাজে আসছে না। টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কেই হাঁটু পানি হয়ে গেছে৷ বাস-ট্রাক গেলে বিশাল ঢেউ হয়। এতে পথচারীরা পুরো ভিজে যায়।’

জামগড়া এলাকার পোশাক শ্রমিক রোকেয়া বেগম বলেন, ‘সকালে অফিসে গেলাম হালকা পানি পাড়িয়ে। দুপুরে খাবারের সময় এসে দেখি অনেক পানি। ড্রেনের ময়লা পানিও রাস্তায় এসে পড়েছে।’

সৌরভ পরিবহনের বাসচালক ইসতিয়াক হোসেন বলেন, ‘রাস্তাটা এমনিতে ভাঙা। তার মধ্যে দুই দিন থেকে টানা বৃষ্টি। এতে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড়বড় গর্ত তৈরি হইছে। গাড়ি খুব সাবধানে চালাইতে হইতেছে।’

শেয়ার করুন

নৌকা পেয়েও ভোট করতে চান না আ.লীগ নেতা

নৌকা পেয়েও ভোট করতে চান না আ.লীগ নেতা

বগুড়ার মোকামতলা ইউপি নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পাওয়া ওয়াশিম রেজা রাজা চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

ওয়াশিম রেজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার আপন চাচাতো ভাই আওলাদ চৌধুরী প্রতিবার ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ভোট করেন। মনোনয়ন চাওয়ার আগে আওলাদ পারিবারিকভাবে ওয়াদা করেছিলেন আমি নৌকা প্রতীক পেলে তিনি নির্বাচন থেকে সরে আসবেন। তবে তার কথা তিনি রাখেননি। আমি মনে করছি, একই বাড়ি ও পরিবার থেকে দুই ভাই ভোট করলে কেউ উঠতে পারব না। আমি হেরে গেলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।’

ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পেতে যেকোনো নির্বাচনে মুখিয়ে থাকেন প্রার্থীরা। চলে নানা ধরনের তদবির। তবে উল্টো ঘটনা ঘটেছে বগুড়ার শিবগঞ্জের মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে।

এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েও ভোট করতে চান না দলের নেতা ওয়াশিম রেজা রাজা চৌধুরী। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাহার চেয়ে শনিবার লিখিত আবেদনও করেছেন।

দলের মনোনয়ন পেয়েও সরে যাওয়ার পেছনে ওয়াশিম রেজার দেখানো কারণ অনেকটাই পারিবারিক। দলের ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টার কথাও উঠে এসেছে তার কথায়।

ওয়াশিম রেজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার আপন চাচাতো ভাই আওলাদ চৌধুরী প্রতিবার ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ভোট করেন। মনোনয়ন চাওয়ার আগে আওলাদ পারিবারিকভাবে ওয়াদা করেছিলেন আমি নৌকা প্রতীক পেলে তিনি নির্বাচন থেকে সরে আসবেন। তবে তার কথা তিনি রাখেননি।

‘আমি মনে করছি, একই বাড়ি ও পরিবার থেকে দুই ভাই ভোট করলে কেউ উঠতে পারব না। আমি হেরে গেলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। এর চেয়ে ভালো অন্য কেউ নৌকা মার্কা নিয়ে ভোট করুক। আমি তার পক্ষে কাজ করব।’

ছোট ভাইয়ের অভিযোগের বিষয়ে আওলাদ চৌধুরী বলেন, ‘আমি কয়েক যুগ থেকে নির্বাচন করছি। কে ভোট করবে আর করবে না, সেটা তার ব্যক্তিগত। আমার বিরুদ্ধে এগুলো অপপ্রচার। আমি মাঠে ছিলাম, আছি এবং থাকব।’

ওয়াশিম রেজা আবেদনের পর এখন ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে দলকে নৌকার জন্য নতুন মুখ বেছে নিতে হবে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, রাজা চৌধুরী সরে যাওয়ায় এখানে নৌকার মাঝি হতে পারেন শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আহসান হাবিব সবুজ অথবা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান আপেল।

শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তা বলেন, ‘তৃণমূলের সিদ্ধান্তক্রমে আমরা তিনজনের নাম জেলা কমিটির কাছে পাঠিয়েছিলাম। তারা হলেন মোকামতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াশিম রেজা রাজা চৌধুরী, শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আহসান হাবিব সবুজ ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান আপেল।

‘পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড ওয়াশিম রেজা রাজা চৌধুরীকে নৌকার মনোনয়ন দেন। মনোনয়ন পাবার তিন দিন পর মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন করেন তিনি।’

মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রত্যাহারের আবেদন করায় আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা অবশ্য জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অসম্মান করার অভিযোগ এনে তাকে দল থেকে বহিষ্কার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি আবদুল হালিম বলেন, ‘নৌকা পাবার পর ভোট না করার সিদ্ধান্ত দুঃখজনক। এই ঘটনা দলের প্রধান শেখ হাসিনা ও নৌকা প্রতীককে অবমাননার শামিল। এ জন্য আমরা ওয়াশিম রেজা রাজা চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার করে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।’

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আল রাজী জুয়েল জানান, ‘আমরা জেলা থেকে কেন্দ্রের কাছে কয়েকজনের নাম দিয়েছিলাম। কেন্দ্র এখন সিদ্ধান্ত দেবে মোকামতলা থেকে নৌকা প্রতীকে কে ভোট করবেন।’

সোমবার রাত ১০টা পর্যন্ত অবশ্য এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়া হয়নি।

শেয়ার করুন

মুরাদের আসনে আ.লীগের আনন্দ মিছিল

মুরাদের আসনে আ.লীগের আনন্দ মিছিল

তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করতে বলায় তার নির্বাচনি এলাকা জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত

পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম বিদ্যুৎ ফেসবুকে লেখেন, ‘অবশেষে উইকেট পড়ে গেল।’

তুমুল সমালোচিত তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করতে বলায় তার নির্বাচনি এলাকা জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে আনন্দ মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ।

রাতে তারাকান্দি শহীদ মিনার চত্বরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা আনন্দ মিছিল বের করেন। মিষ্টিও বিতরণ করেন তারা। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

উপজেলার কয়েকটি স্থানে মানুষ পটকা ফুটিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নারীর প্রতি ‘অবমাননাকর’ ও ‘বর্ণবাদী’ মন্তব্য করে আগে থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে ফাঁস হওয়া একটি ফোনালাপে এক চিত্রনায়িকাকে ধর্ষণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবারের মধ্যে তাকে পদ ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার রাতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ সন্ধ্যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে এবং আমি আজ রাত ৮টায় প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে বার্তাটি পৌঁছে দিই।’

মুরাদের একান্ত সচিব (রাজনৈতিক) জাহিদ নাঈম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তিনি (মুরাদ) পদত্যাগ করবেন শুনেছি। তবে তার সঙ্গে আমার সরাসরি কথা হয়নি। তাই বলতে পারছি না কখন পদত্যাগ করবেন।’

মুরাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের খবর ফেসবুকে ছড়ালে সেখানেও প্রতিক্রিয়া জানান জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। কমেন্টসহ নানা রিঅ্যাক্ট দিতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষকেও।

ফেসবুক পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম বিদ্যুৎ লেখেন, ‘অবশেষে উইকেট পড়ে গেল।’

তবে ঘোষণাটি প্রচারের পর প্রতিমন্ত্রীর কর্মী-সমর্থকদের এলাকায় দেখা যায়নি।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মোড়ে মোড়ে দোকানপাটে লোকজনের জটলা। অনেকেই চোখ রেখেছেন টেলিভিশনের পর্দায়। কেউ কেউ অনলাইনে পড়ছেন মুরাদকে নিয়ে প্রকাশিত সবশেষ খবর।

নেতাকর্মীদের ভিড় দেখা গেছে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীমের বাড়িতেও।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান হেলাল বলেন, ‘দলকে বিতর্কের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন, এটা প্রশংসনীয়।’

মুরাদ জামালপুরের সরিষাবাড়ী থেকে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে তার আসনটি জোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে আবার তাকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ।

নির্বাচনের পর মুরাদকে প্রথমে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী করা হয়। একটি বেসরকারি হাসপাতালে আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর তাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী করা হয়।

শেয়ার করুন

সরকারবিরোধী বক্তব্য: পৌর মেয়র বরখাস্ত

সরকারবিরোধী বক্তব্য: পৌর মেয়র বরখাস্ত

সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল সাময়িকভাবে বরখাস্ত। ছবি: নিউজবাংলা

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘আপনি (আমিনুল ইসলাম রাবেল) ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে মতবিনিময় সভায় সরকার এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের বিরুদ্ধে হানিকর ও রাষ্ট্রের জন্য হানিকর বক্তব্য দিয়েছেন। আপনার এ ধরনের জনহানিকর বক্তব্য স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩২ এর (খ) ও (ঘ) অনুযায়ী মেয়রের পদ থেকে অপসারণযোগ্য অপরাধ।’

সরকারবিরোধী বক্তব্য দেয়ায় সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

সোমবার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেনের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘যেহেতু, আপনি (আমিনুল ইসলাম রাবেল) ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট ফোরাম আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ সরকার এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের বিরুদ্ধে হানিকর ও রাষ্ট্রের জন্য হানিকর বক্তব্য দিয়েছেন; তাই, আপনার এ ধরনের জনহানিকর বক্তব্য স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩২ এর (খ) ও (ঘ) অনুযায়ী মেয়রের পদ থেকে অপসারণযোগ্য অপরাধ।’

‘যেহেতু, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩১(১) মোতাবেক যে ক্ষেত্রে কোন পৌরসভার মেয়র অথবা কোন কাউন্সিলর অপসারণের কার্যক্রম আরম্ভ করা হয়েছে অথবা তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলায় অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হয়েছে, সেই ক্ষেত্রে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় মেয়র অথবা কাউন্সিলর কর্তৃক ক্ষমতা প্রয়োগ পৌরসভার স্বার্থের পরিপন্থি অথবা প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন না হলে, সরকার লিখিত আদেশের মাধ্যমে মেয়র অথবা কাউন্সিলরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করতে পারে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘যেহেতু, আপনি জনাব আমিনুল ইসলাম রাবেল, মেয়র, গোলাপগঞ্জ পৌরসভা, সিলেট স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩২ উপ-ধারা ১(খ) ও ১(ঘ) মোতাবেক বাংলাদেশ সরকার এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের বিরুদ্ধে হানিকর ও জনহানিকর বক্তব্য দেয়ায় আপনার এমন অপরাধমূলক কার্যক্রম পৌর পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থি মর্মে সরকার মনে করে।’

‘সেহেতু, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩১(১) অনুযায়ী আপনাকে মেয়র, সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেলকে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়রের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।’

এ আদেশ শিগগির কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

গত ৩০ জানুয়ারি সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম রাবেল। দলীয় নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার রাবেলকে বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ। বহিষ্কার হওয়ার আগে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন রাবেল।

দলীয় পদ যাওয়ার পর এবার পৌরসভা মেয়রের পদও হারালেন রাবেল।

শেয়ার করুন

ভোটে ‘পক্ষে না থাকায়’ টিউবওয়েল তুলে নিলেন চেয়ারম্যান

ভোটে ‘পক্ষে না থাকায়’ টিউবওয়েল তুলে নিলেন চেয়ারম্যান

চেয়ারম্যান মুকুল বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে এ টিউবওয়েল দিয়েছি। আমার ইচ্ছায় আবার নিয়ে এসেছি।’

নীলফামারীর জলঢাকার গুচ্ছগ্রাম থেকে অনুদানের টিউবওয়েল তুলে নিয়েছেন নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান। ওই গ্রামের মানুষের অভিযোগ, তাদের একজন নির্বাচনে প্রতিপক্ষের হয়ে কাজ করায় চেয়ারম্যান টিউবওয়েলটি নিয়ে গেছেন।

টিউবওয়েল তুলে নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও এর কারণ স্পষ্ট করে জানাননি ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মুকুল।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার দুপুরে ইউনিয়নের নেকবক্ত বাজারের পাশের গুচ্ছগ্রামে। টিউবওয়েলটি সেখানকার দবির উদ্দিনের বাড়িতে বসানো ছিল।

গুচ্ছগ্রামবাসী জানান, চেয়ারম্যান মুকুলের সুপারিশে প্রায় ৮ মাস আগে অনুদানের টিউবওয়েলটি পেয়েছিলেন গুচ্ছগ্রামের দবির উদ্দিন। গত ২৮ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনে মুকুল নয়, লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী রোকনুজ্জামান খোকনের পক্ষে কাজ করেন দবির। এতে ক্ষিপ্ত হওয়ায় টিউবওয়েলটি খুলে নেয়ার নির্দেশ দেন মুকুল।

দবির উদ্দিন বলেন, ‘আমি দীর্ঘকাল ধরে মুকুল চেয়ারম্যানের সমর্থক ছিলাম। গত নির্বাচনগুলোতে আমার ভূমিকা ছিল। আমার বাড়িতে টিউবওয়েল না থাকায় তার সুপারিশে পানি খাওয়ার জন্য এই টিউবওয়েলটি পেয়েছিলাম উপজেলা থেকে।

‘গেল নির্বাচনের আগে তার আচরণগুলো ভাল ছিল না। সেজন্য আমি তার প্রতিপক্ষ রোকোনুজ্জান খোকনের লাঙ্গল মার্কায় ভোট করি। সেই অপরাধে আজ উনি আমার বাড়িতে তিনজন গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে টিউবওয়েলটি তুলে নিয়ে যায়। এখন ৫টা মানুষের পরিবার নিয়ে এখন বিপাকে পরতে হলো।’

গ্রাম পুলিশ রশিদুল ইসলাম বলেন, ‘চেয়ারম্যান আমাকে টিউবওয়েলটি নিয়ে আসতে বলেছে তাই আমরা দবিরের বাড়ি থেকে টিউবওয়েল নিয়ে এসেছি।’

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মুকুল বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে এ টিউবওয়েল দিয়েছি। আমার ইচ্ছায় আবার নিয়ে এসেছি।’

শেয়ার করুন

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ: ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় উপকূলের কৃষক

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ: ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায়  উপকূলের কৃষক

রাজবাড়ীতে টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ক্ষেতে কেটে রাখা আমন ধান। ছবি: নিউজবাংলা

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে সোমবার। সেই নিম্নচাপের প্রভাবে রোববার থেকেই থেমে থেমে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি শুরু হয়। সোমবার সারা দিন এই বৃষ্টি ছিল। টানা দুই দিনের বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো বাতাসে উপকূলীয় অঞ্চলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদের’ প্রভাবে সৃষ্ট বৈরি আবহাওয়ায় দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমন ওঠার এই সময়ে ঝোড়ো বাতাস ও বৃষ্টি অনেক এলাকার ধান গাছ মাটিতে পড়ে গেছে। ক্ষেতে পানি জমে শীতের সবজিও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে সোমবার। তবে নিম্নচাপের প্রভাবে রোববার থেকেই থেমে থেমে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি শুরু হয়। সোমবার সারা দিন এই বৃষ্টি ছিল।

টানা দুই দিনের বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো বাতাসে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তাই কৃষকদের। এরই মধ্যে অনেক এলাকায় ফসলের বেশ ক্ষতি হয়েছে। তবে বৃষ্টি না কমা পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

নিউজবাংলার বরগুনা, পটুয়াখালী ও রাজবাড়ি জেলা প্রতিনিধির পাঠানো খবর-

বরগুনা: উপকূলীয় জেলা বরগুনার অনেক এলাকায় এরই মধ্যে নুয়ে পড়েছে আমন ধান। ক্ষেতে পানি জমায় ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন এখানকার কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের (খামার বাড়ি) তথ্যমতে, বরগুনায় এ বছর ৯৮ লাখ ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে।

কৃষিবিভাগ জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের প্রধান ফসল রোপা আমন। বিভিন্ন এলাকার মাটির ধরন অনুযায়ী জেলার ৫৫ ভাগ জমিতে বিআর, ব্রি ও বিনা এই তিন জাতের উফশী আবাদ হয়েছে। বাকি ৪৫ ভাগ জমিতে স্থানীয় জাতের রোপা আমনের আবাদ হয়েছে।

কৃষকরা জানান, তিন দিনের বৃষ্টি ও বাতাসে হেলে পড়েছে ধান গাছ। মাঠে পানি জমায় ওই ধান পচে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ: ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায়  উপকূলের কৃষক
ঝোড়ো বাতাসে নুয়ে পড়েছে ক্ষেতের ধান গাছ

বরগুনা সদর উপজেলার ক্রোক বৈঠাকাটা এলাকার কৃষক আলম মিয়া জানান, ‘মুই এই বচ্ছর চাইর একর জমিনে রোপা আমন আবাদ করছি। গত দুই দিনের দেওই আর বাতাসে মোর জমির এক তিনের দুই ভাগ ধান সব মাডিতে পইর‌্যা গ্যাছে।’

একই অবস্থা ওই এলাকার কৃষক শাহজাহান, মজিদ, আফজাল, কুদ্দুস ও কামালসহ প্রায় সব আমনচাষির।

পাথরঘাটার কালমেঘা ইউনিয়নের কৃষক আইয়ুব আলী হাওলাদার বলেন, ‘গত কয় দিনের দেওই আর বাতাসে মোর খ্যাতের অর্ধেক ধান নুইয়া মাডিতে পইর‌্যা গ্যাছে। পানি জইম্মা গ্যাছে কোলায় (গোড়ায়)। এহন হেই পানতে ধান হুইয়া পইর‌্যা নষ্ট অইয়া যাইতে আছে।’

তালতলীর নিশানবাড়িয়া এলাকার আবদুল হক মিয়া বলেন, ‘মোগো এই ধানই মেরুদণ্ড। ধানে কেবল পাইক্কা আইছে এই সোমায় মোর ধানগুলা বেবাক খ্যাতে হুইয়া পড়ছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুর রশীদ বলেন, ‘আমন মৌসুমে রোপা আমনের ধান পোক্ত হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই ধান কাটা শুরু হবে। এ অবস্থায় জাওয়াদের প্রভাবে ধান গাছ মাটিতে হেলে পড়েছে।

‘এতে কিছু ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। আমরা কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে ধানগাছগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও মাঠের পানি অপসারণের পরামর্শ দিচ্ছি।’

এদিকে জাওয়াদের প্রভাবে সোমবার বিকেল পর্যন্ত বরগুনায় গুঁড়িগুঁড়ি ও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে বেড়েছে শীতের তীব্রতাও।

এতে ভোগান্তিতে পড়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষ।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, সারা দিন বৃষ্টিপাত হতে পারে দেশের অনেক জায়গায়। মঙ্গলবার থেকে দেশের বেশিরভাগ এলাকার আকাশ পরিষ্কার হতে থাকবে। আগামী দুই-এক দিন পর থেকে বাড়বে শীতের প্রকোপ।

পটুয়াখালী: জেলায় আমন, ডাল ও তরমুজের ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

ক্ষেতের জমানো পানি নেমে গেলে অবশ্য তেমন একটা ক্ষতি নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক একেএম মহিউদ্দিন। সোমবার সকাল থেকে কলাপাড়া ও গলাচিপার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

মহিউদ্দিন জানান, জেলায় এবার ১ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হলেও এরই মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর জমির ধান ঘরে তুলেছেন কৃষকরা। বাকি যে আমন মাঠে রয়েছে তার মধ্যে শুধু দেশি জাতের ধান বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তা ছাড়া বেড়িবাঁধের বাইরে যে সব এলাকায় পাকা ফসল ক্ষেত রয়েছে সেখানে পানি জমলে ক্ষতি হতে পারে। তারমতে, এ অঞ্চলের জমিতেই খুব একটা পানি জমে না, এ জন্য আমনের তেমন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

এ কৃষি কর্মকর্তা অবশ্য খেসারি ডালের ভালো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

তিনি জানান, জেলায় এ বছর ৪ হাজার হেক্টর জমিতে খেসারি ডালের আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হতে পারে। আগামী দুই-এক দিনেরও বৃষ্টি হলে এ ক্ষতি হতে পারে বলে শঙ্কা তার।

তবে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির ডালে তেমন ক্ষতি হবে না বলে দাবি করেন তিনি।

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ: ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায়  উপকূলের কৃষক
ক্ষেতে পানি জমায় শঙ্কা দিয়েছে চারা নষ্ট হওয়ার

মহিউদ্দিন আরও জানান, রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়ার চাষিরা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম তরমুজ চাষ করেছেন। এর মধ্যে গত দুই দিনে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিতে তরমুজ গাছের ক্ষতি হয়েছে।

বিশেষ করে বেড়িবাঁধের বাইরের অনেক স্থানে বীজ নষ্ট হবার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আগামী দুই-এক দিন না গেলে বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতির হিসাব বের করা সম্ভব না বলে জানান তিনি।

জেলা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মাসুদ রানা জানান, সোমবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পটুয়াখালীতে ২৯ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত আরও ২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও জেলায় ভারী বর্ষণের আভাস রয়েছে।

রাজবাড়ী: টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে রাজবাড়ীতে পাঁচ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আমন ও শীতকালীন ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

সোমবার সদর উপজেলার রামকান্তপুরের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ক্ষেতে কেটে রাখা পাকা ধান পানিতে ডুবে গেছে। এ ছাড়া বাঁধাকপি ও ফুলকপি ক্ষেতে পানি জমে গেছে।

সদরের রামকান্তপুরের কৃষক কলি শেখ জানান, দুই দিন আগে পাকা ধান কেটে জমিতে রেখেছিলেন শুকানোর জন্য। এরপর থেকেই বৃষ্টি হওয়ায় ক্ষেতের সব ধান পানিতে ডুবে গেছে। এতে ধান ঘরে তুলতে পারবেন কি না এই নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এই ধান দুই-এক দিনের মধ্যে ঘরে তুলতে না পারলে এখানেই নষ্ট হয়ে যাবে। আমার ২ বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সারা মৌসুমের কষ্ট বৃথা যাচ্ছে।’

একই এলাকার কৃষক দেনেশ নারায়ন জানান, তিনিও ৩ দিন আগে ধান কেটে আটি বাঁধার জন্য জমিতে রেখে দিয়েছিলেন, কিন্তু বৃষ্টিতে ৩ বিঘা জমির পাকা ধান এখন পানির নিচে। এতে সব ধান নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে ভয় তার।

শীতকালীন সবজি চাষি বক্কার শেখ জানান, তার ফুলকপি ক্ষেতে পানি আটকে আছে। গাছগুলো এরই মধ্যে নেতিয়ে পড়েছে। গাছগুলো মরে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তার।

দেশের পেঁয়াজ উৎপাদনে শীর্ষ জেলারগুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে আছে রাজবাড়ী। এ বছর জেলায় ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের বীজ রোপন করা হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে এখন দুশ্চিন্তায় জেলার পেঁয়াজ চাষিরা।

জেলা কৃষি অফিস থেকে জানা যায়, জেলায় এ বছর প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে সবজি রয়েছে, যেখানে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের উপপরিচালক এসএম শহীদ নূর আকবর জানান, তাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বিভিন্ন এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করেছেন। বৃষ্টি শেষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে। তবে এরই মধ্যে ক্ষয়ক্ষতি কিছু তথ্য মিলেছে।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন বরগুনা প্রতিনিধি রুদ্র রুহান, পটুয়াখালী প্রতিনিধি জাকারিয়া হৃদয় ও রাজবাড়ী প্রতিনিধি রবিউল আউয়াল।

শেয়ার করুন

চলতে চলতে দুইভাগ ট্রেন

চলতে চলতে দুইভাগ ট্রেন

সংগৃহিত

শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশনের ঊর্ধ্বতন উপ সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল্লা জানান, ট্রেনের ১১ নম্বর বগির ক্লিপটি ভেঙে যায়। যে কারণে পেছনের ৫টি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে আখাউড়া থেকে ক্লিপ এনে বগি সংযোগ দিলে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে ছেড়ে যায়।

হবিগঞ্জের মাধবপুরে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের বগির জয়েন্ট ছুটে গিয়ে ট্রেনটি দুভাগে বিভক্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

মাধবপুর উপজেলার মনতলা স্টেশন এলাকায় বিকেল ৪টার দিকে ট্রেনটির বগি বিচ্ছিন্ন হয়। এর প্রায় ৩ ঘণ্টা পর বগিগুলো সংযোগ দিয়ে ট্রেনটি গন্তব্যে ছেড়ে যায়।

শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশনের ঊর্ধ্বতন উপ সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল্লা জানান, সোমবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে ‘আন্তনগর জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা স্টেশনে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে যাত্রাবিরতি করে।

বিরতি শেষে আবারও যাত্রা শুরু করলে ট্রেনের ১৫টি বগির মধ্যে পেছনে ৫টি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বাকি ১০টি বগি নিয়ে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছুটতে থাকে। বিষয়টি রেখে যাওয়া বগির বুকিং ক্লার্ক চালককে জানালে তিনি ট্রেন থামান।

তিনি বলেন, ‘ট্রেনের ১১ নম্বর বগির ক্লিপটি ভেঙে যায়। যে কারণে পেছনের ৫টি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে আখাউড়া থেকে ক্লিপ এনে বগি সংযোগ দিলে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে ছেড়ে যায়। তবে স্টেশনের মধ্যে ঘটনাটি ঘটার কারণে অন্য কোনো ট্রেন আটকা পড়েনি। বিকল্প প্ল্যাটফর্মে ট্রেন চলাচল করেছে।

শেয়ার করুন