পুলিশের ‘নির্যাতনে মৃত্যু’র ঘটনায় রংপুরে তুলকালাম

পুলিশের ‘নির্যাতনে মৃত্যু’র ঘটনায় রংপুরে তুলকালাম

পুলিশের মারধরে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে- এই অভিযোগ তুলে রংপুর-হারাগাছ সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা। পরে তারা হারাগাছ থানা ঘেরাও করে। পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর বিক্ষোভকারীরা রংপুর-হারাগাছ সড়কের হক বাজার এলাকায় অবস্থা নেয়। সেখান পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

রংপুরের হারাগাছে পুলিশের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ তুলে থানা ঘেরাওয়ের পর স্থানীয়দের সঙ্গে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে পুলিশের। বিক্ষুব্ধরা এ সময় বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করে, সড়ক অবরোধেরও চেষ্টা করে।

প্রায় তিন ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ।

নগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন এই তথ্য জানিয়েছেন নিউজবাংলাকে।

হারাগাছের বাছিবানিয়া এলাকায় সোমবার সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

৫৫ বছরের মৃত ব্যক্তির নাম তাজুল ইসলাম।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, হারাগাছের বছি বানিয়া এলাকা থেকে সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে তাজুল ইসলামকে গাঁজাসহ আটকের দাবি করে পুলিশ। এ সময় তিনি ভয়ে জ্ঞান হারান। পুলিশ তখন তাকে মারধর করলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাজুলের।

এর প্রতিবাদে প্রথমে রংপুর-হারাগাছ সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা। পরে তারা হারাগাছ থানা ঘেরাও করে। পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর বিক্ষোভকারীরা রংপুর-হারাগাছ সড়কের হক বাজার এলাকায় অবস্থা নেয়।

পুলিশের ‘নির্যাতনে মৃত্যু’র ঘটনায় রংপুরে তুলকালাম

সেখানে পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। রাত ১০ টার দিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা হারাগাছ থানা ক্যাস্পাসে প্রথমে হামলা চালায়। সেখানে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের গাড়ি, মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল ছুড়ে পুলিশ। এ সময় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

নগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে। কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

আরও পড়ুন:
পুলিশের ‘নির্যাতনে’ মৃত্যু: থানা ঘেরাও
অটোরিকশাচালক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ২ ছিনতাইকারী
মিতু হত্যা: বাবুলের নারাজি আবেদনের আদেশ ৩ নভেম্বর
জামিনে বেরিয়ে মাকে হত্যা, যুবক আটক
মিতু হত্যা: আদালতে বাবুল আকতার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: ৪ আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে

কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: ৪ আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে

কুমিল্লার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সঙ্গী হরিপদ। ছবি: নিউজবাংলা

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কায়সার হামিদ জানান, এই জোড়া খুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত এজাহারনামীয় পাঁচজন ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র‍্যাব। পুলিশের সঙ্গে ‘গোলাগুলি’তে নিহত হয়েছেন প্রধান আসামি শাহ আলম, সাব্বির হোসেন ও মো. সাজন। এখনও পলাতক এজাহারনামীয় তিন আসামি।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ হত্যা মামলার চার আসামিকে পাঁচ দিন করে রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।

আসামিদের সোমবার বিকেলে জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে তোলা হলে বিচারক চন্দন কান্তি নাথ তাদের রিমান্ডে পাঠান।

রিমান্ডে নেয়া আসামিরা হলেন আশিকুর রহমান রকি, মো. আলম, মো. জিসান ও মো. মাসুম।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) কায়সার হামিদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এই জোড়া খুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত এজাহারনামীয় পাঁচজন ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। পুলিশের সঙ্গে ‘গোলাগুলি’তে নিহত হয়েছেন প্রধান আসামি শাহ আলম, সাব্বির হোসেন ও মো. সাজন। এখনও পলাতক এজাহারনামীয় তিন আসামি।

সুজানগরে নিজ কার্যালয়ে ২২ নভেম্বর বিকেলে কাউন্সিলর সোহেলসহ গুলিবিদ্ধ হন অন্তত ছয়জন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহেল ও তার সঙ্গী হরিপদ সাহার মৃত্যু হয়। পরদিন সোহেলের ভাই সৈয়দ মো. রুমন থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
পুলিশের ‘নির্যাতনে’ মৃত্যু: থানা ঘেরাও
অটোরিকশাচালক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ২ ছিনতাইকারী
মিতু হত্যা: বাবুলের নারাজি আবেদনের আদেশ ৩ নভেম্বর
জামিনে বেরিয়ে মাকে হত্যা, যুবক আটক
মিতু হত্যা: আদালতে বাবুল আকতার

শেয়ার করুন

রায়হান হত্যা মামলার সাক্ষীর ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু

রায়হান হত্যা মামলার সাক্ষীর ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু

মারা যাওয়া ছোলাই লাল নগরের কাস্টঘর এলাকার হরিজন পল্লীর বাসিন্দা। গত বছরের ১০ অক্টোবর তার ঘর থেকেই বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ রায়হানকে ধরে নিয়ে যায়। ফাঁড়িতে নির্যাতনে পরদিন সকালে তিনি মারা যান। রায়হান হত্যায় তার স্ত্রীর করা মামলার ১২ নম্বর সাক্ষী ছোলাই।

সিলেটে রায়হান আহমেদ হত্যা মামলার এক সাক্ষীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে মামলার সাক্ষীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে রহস্যজনক বলছেন রায়হানের মা। তার অভিযোগ, এই হত্যা মামলার আরেক সাক্ষীকে হুমকি দেয়া হচ্ছে।

রোববার রায়হান হত্যা মামলার শুনানির নির্ধারিত তারিখে সালমা বেগমই এক সাক্ষীর মৃত্যুর খবর প্রথম সংবাদ মাধ্যমকে জানান।

মারা যাওয়া ছোলাই লাল নগরের কাস্টঘর এলাকার হরিজন পল্লীর বাসিন্দা। গত বছরের ১০ অক্টোবর তার ঘর থেকেই বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ রায়হানকে ধরে নিয়ে যায়। ফাঁড়িতে নির্যাতনে পরদিন সকালে তিনি মারা যান। রায়হান হত্যায় তার স্ত্রীর করা মামলার ১২ নম্বর সাক্ষী ছোলাই।

সিলেট কতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আলী মাহমুদ জানান, গত বুধবার ছোলাই লাল নিজের ঘরে আত্মহত্যা করেন।

ওসি জানান, গত ১ ডিসেম্বর সকাল ১১টার দিকে ছোলাই লালের দেহ গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় ঝুলছে দেখতে পান তার পরিবারের সদস্যরা। তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ছোলাই লালকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি মুহাম্মদ আলী মাহমুদ আরও জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ছোলাই লালের বোন প্রতিমা বলেন, ‘ছোলাই বেশিরভাগ সময় নিজের ঘরে দরজা লাগিয়ে বসে মদ পান করতেন। ১ ডিসেম্বর সকালে অনেকক্ষণ দরজায় ডাকাডাকি করে তার সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে দেহ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখতে পাই।’

রোববার আদালত চত্বরে সালমা বেগম বলেন, ‘রায়হানকে ছুলাই লালের ঘর থেকে সুস্থভাবে ধরে আনে পুলিশ। তাকে মারধর করে রায়হানকে ধরে আনা হয়। ছুলাই লাল হলেন প্রথম সাক্ষী। তিনি নাকি মারা গেছেন। এখন আমি শুনছি, কেউ কেউ বলছে, পুলিশও বলছে, তিনি নাকি আত্মহত্যা করেছেন। আমি সঠিক জানি না- তিনি আত্মহত্যা করেছেন, কী তাকে হত্যা করা হয়েছে। এই মৃত্যু রহস্যজনক।’

আরেক সাক্ষীকে হুমকি দেয়া হচ্ছে অভিযোগ করে সালমা বলেন, আসামিরা জেলে থাকলেও তাদের সঙ্গীরা এখনও প্রশাসনে আছেন। তারা সাক্ষীদের হুমকি দিচ্ছে।

গত বছরের ১০ অক্টোবর গভীর রাতে সিলেট শহরের আখালিয়ার এলাকার বাসিন্দা রায়হানকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ধরে নেয়া হয়। সেখানে মারধরে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরদিন সকালে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তিনি সেখানে মারা যান। এ ঘটনায় তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নী হেফাজতে মৃত্যু আইনে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

মামলাটির তদন্তে প্রথমে পুলিশ ছিল। পরে সে বছরের ১৩ অক্টোবর মামলাটি স্থানান্তর করা হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে। চলতি বছরের ৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক আওলাদ হোসেন আদালতে চার্জশিট জমা দেন। এতে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

যে ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়, তাদের পাঁচজনই পুলিশ সদস্য। তারা হলেন বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়া, এসআই হাসান উদ্দিন, এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল টিটুচন্দ্র দাস ও হারুনুর রশিদ।

অভিযুক্ত অপরজন আব্দুল্লাহ আল নোমান, যার বাড়ি কোম্পানীগঞ্জে। তার বিরুদ্ধে ঘটনার পর ভিডিও ফুটেজ গায়েব করার অভিযোগ আছে।

অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্য কারাগারে থাকলেও নোমান এখনও পলাতক আছেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর আদালতের বিচারক আবুল মোমেন রায়হান হত্যা মামলার চার্জশিট গ্রহণ করে নোমানের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন।

আব্দুল্লাহ আল নোমানের মালামাল ক্রোকের বিষয়ে পরোয়ানার শুনানির দিন ধার্য ছিলো রোববার। ওইদিন সিলেট অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে জারি করা ক্রোক পরোয়ানা তামিল হয়ে না আসায় পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত।

আরও পড়ুন:
পুলিশের ‘নির্যাতনে’ মৃত্যু: থানা ঘেরাও
অটোরিকশাচালক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ২ ছিনতাইকারী
মিতু হত্যা: বাবুলের নারাজি আবেদনের আদেশ ৩ নভেম্বর
জামিনে বেরিয়ে মাকে হত্যা, যুবক আটক
মিতু হত্যা: আদালতে বাবুল আকতার

শেয়ার করুন

মেয়েকে ‘উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায়’ বাবার ওপর হামলায় মামলা

মেয়েকে ‘উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায়’ বাবার ওপর হামলায় মামলা

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় দুর্বৃত্তের হামলায় আহত হন এক স্কুলছাত্রীর বাবা। ছবি: নিউজবাংলা

ভেড়ামারার নওদাপাড়া এলাকায় রোববার সন্ধ্যায় হামলার ঘটনা ঘটে। রাতেই থানায় গিয়ে মামলা করেন স্কুলছাত্রীর বাবা।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় নবম শ্রেণির ছাত্রীকে ‘উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায়’ তার বাবার ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে।

ভেড়ামারা থানায় রোববার মধ্যরাতে মামলা করেছেন হামলায় আহত ব্যক্তি নিজেই। তাতে আসামি করা হয়েছে প্রতিবেশী মো. রাতুলসহ তিনজনকে। অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বাদী জানান, হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে তিনি বাসায় ফিরেছেন। পুলিশ তাকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

ভেড়ামারার নওদাপাড়া এলাকায় রোববার সন্ধ্যায় হামলার ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তি ওই এলাকার একটি কাপড়ের দোকানের মালিক। তার বন্ধু মো. রুপম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রায় তিন মাস ধরে প্রতিবেশী রাতুল আমার বন্ধুর মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি তার পরিবারকেও জানানো হয়েছে।

রোববার সকালে মেয়ের খালুর মোবাইলে কল দিয়ে ওই ছেলে মেয়েকে ফোনটি দিতে বলেন। ফোন না দিলে বিপদ হবে বলে হুমকি দেন। ঘটনা শুনে আমার বন্ধু রাতুলের বাড়িতে যান। রাতুলকে জানান যে মেয়েকে আর বিরক্ত করলে মামলা দেবেন।

‘এরপর সন্ধ্যায় আমার বন্ধু দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। রাতুল ও তার কয়েকজন বন্ধু রামদা ও রড নিয়ে তার দিকে তেড়ে আসে। আমার বন্ধু দৌড়ে পালাতে গেলে তাকে ধাওয়া করে কুপিয়ে তারা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে পরে একটি ক্লিনিকে নেয়া হয়।’

আরও পড়ুন:
পুলিশের ‘নির্যাতনে’ মৃত্যু: থানা ঘেরাও
অটোরিকশাচালক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ২ ছিনতাইকারী
মিতু হত্যা: বাবুলের নারাজি আবেদনের আদেশ ৩ নভেম্বর
জামিনে বেরিয়ে মাকে হত্যা, যুবক আটক
মিতু হত্যা: আদালতে বাবুল আকতার

শেয়ার করুন

আড়ালে প্রতিমন্ত্রী মুরাদ, যাননি অনুষ্ঠানে

আড়ালে প্রতিমন্ত্রী মুরাদ, যাননি অনুষ্ঠানে

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। ফাইল ছবি

অভিনেতা ইমন ও অভিনেত্রী মাহিয়া মাহির সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের একটি ফোনালাপ ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ বিষয়ে সোমবার দিনভর চেষ্টা করেও প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় একটি আলোচনা সভায় মুরাদ হাসানকে প্রধান অতিথি করা হলেও তিনি সেখানে যাননি।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের একটি ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে তোপের মুখে পড়েছেন তিনি। নারীর প্রতি ‘অবমাননাকর’ ও ‘বর্ণবাদী’ মন্তব্য করে আগে থেকেই তীব্র সমালোচনার মধ্যে আছেন এই প্রতিমন্ত্রী।

নারীর প্রতি ‘অবমাননাকর’ ও ‘বর্ণবাদী’ মন্তব্য নিয়ে সমালোচনাকে গায়ে না মাখার কথা রোববার নিউজবাংলাকে জানিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী মুরাদ। তবে রাতে এক ফেসবুক লাইভে তার উপস্থিতিতেই আপত্তিকর শব্দের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন নাহিদ রেইনস নামে এক ইউটিউবার ও ফেসবুকার।

তবে চলচ্চিত্র অভিনেতা ইমন ও অভিনেত্রী মাহিয়া মাহির সঙ্গে আলাপচারিতার ফোনালাপ ফাঁস নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই ফোনালাপের সত্যতা নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা ইমন।

গত ১ ডিসেম্বর রাতে ‘অসুস্থ খালেদা, বিকৃত বিএনপির নেতাকর্মী’ শিরোনামে এক ফেসবুক লাইভে যুক্ত হন মুরাদ হাসান। লাইভটির সঞ্চালক ছিলেন নাহিদ রেইনস নামে এক ইউটিউবার ও ফেসবুকার।

লাইভে বিএনপির রাজনীতির সমালোচনার একপর্যায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে তিনি বিভিন্ন মন্তব্য করেন। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্ম ও পরিবারের সদস্যদের নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রীর এসব মন্তব্যকে ‘কুরুচিপূর্ণ’, ‘অশালীন’ ও ‘মর্যাদাহানিকর’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা।

এসব মন্তব্য ও তীব্র সমালোচনা নিয়ে রোববার দুপুরে প্রতিমন্ত্রী মুরাদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, এসব তিনি পাত্তা দিচ্ছেন না। তবে রাতেই তিনি নিজের অবস্থান পাল্টান। নাহিদ রেইনসের সঙ্গে রোববার রাতে আবারও লাইভে যুক্ত হন মুরাদ।

লাইভে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে ‘দুঃখ প্রকাশ’ করেন নাহিদ রেইনস।

এ সময় নাহিদ রেইনস বলেন, ‘ফর ফিউ সেকেন্ডস তারেক রহমানের কন্যাকে নিয়ে আমাদের কনভারসেশন ছিল। আপনি (মুরাদ) তখন কমেন্ট করছিলেন একজন অপরাধীর ফ্যামিলির মেম্বারদের নিয়ে।’

সেই ‘এক-দুই সেকেন্ডের কনভারসেশনকে’ ব্যবহার করে অনেকে আন্দোলন প্রতিবাদ করছেন বলে অভিযোগ করেন সঞ্চালক নাহিদ।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটা বলতে পারি যে, কেউ যদি ওই কনভারসেশনে মুরাদ ভাইয়ের কথায়, ইনফ্যাক্ট আমার কথায়ও কেউ যদি হার্ট হয়ে থাকেন সেটা যে কোনো অরগানাইজেশন হোক, কোনো মানুষ হোক, হু এভার ইট ইজ, আপনারা ভুল বুঝেও যদি হার্ট হয়ে থাকেন, দেন আই অ্যাম স্যরি, উই আর স্যরি ফর দ্যাট।’

এ সময় মাথা নেড়ে নাহিদের কথার সমর্থন জানান ডা. মুরাদ হাসান।

রোববার রাতের লাইভে এসে জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর কোনো মন্তব্য করেননি বলেও দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কোনো কন্যাসন্তানকে নিয়ে, কোনো মাকে নিয়ে, কোনো বোনকে নিয়ে কোনো প্রকার কুরুচিপূর্ণ বা অশ্রাব্য বা শ্রুতিকটু শব্দ ব্যবহার আমি করি নাই, এটা করতেও চাই না।’

সরাসরি না বললেও প্রতিমন্ত্রীর ইঙ্গিত ছিল সম্পাদনার কারসাজিতে তার বক্তব্য বিতর্কিত করা হয়েছে।

মুরাদ হাসান বলেন, ‘ইদানীং কেউ কেউ ভালো ফটোশপ করতে পারেন, এডিটিং করতে পারেন। আমার বিরুদ্ধে একটি বিরাট বলয় কাজ করছে, যারা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে না, বহন করে না।’

জাইমা রহমানকে নিজের মেয়ের সঙ্গে তুলনা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জাইমা রহমানকে পারসোনালি অ্যাটাক করা বা তাকে সরাসরি জড়িয়ে কোনো কথা বলার মানসিকতা আমি পোষণ করি না। তার বয়স এবং আমার নিজের মেয়ের বয়স একেবারে কাছাকাছি। তো আমার কন্যা সমতুল্য একজন মেয়েকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য করার, মন্তব্য করার কোনো মানসিকতা পোষণ করি না।’

এ সময় নারীবাদীদেরও আক্রমণ করেন মুরাদ হাসান। তিনি বলেন, ‘আবার কেউ কেউ অতিরিক্তি নারীবাদী ভাব। তারা যেন আমাদের মায়েদের, আমাদের বোনদের, আমাদের নারী সমাজকে কিনে ফেলেছে।’

ফোনালাপে নতুন তোপ

রোববার রাতে প্রতিমন্ত্রীর লাইভ প্রচারের সময় চলচ্চিত্র অভিনেতা ইমন ও অভিনেত্রী মাহিয়া মাহির সঙ্গে তার একটি ফোনালাপ ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ফাঁস হওয়া ওই ফোনালাপে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মাহিকে ‘ধর্ষণের হুমকি’ দেয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় তুলে আনার হুমকি দেন। তার বক্তব্যজুড়ে ছিল অজস্র অশালীন শব্দ।

এই ফোনালাপ ঘিরে ফের তোপের মুখে পড়েছেন মুরাদ হাসান। ফোনালাপের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা ইমন।

তিনি সোমবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা আমার কণ্ঠ এবং এটা আমি।’

নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে ইমন বলেন, ‘এমন পর্যায় থেকে ফোন এলে আর কী করার থাকে। তার পরও আপনার শুনে থাকবেন, আমি ফোন ধরছিলাম না, দেরি করে ফোন ধরেছি।’

ফোন ধরতে দেরি করাকে অনেকটা এড়িয়ে চলার কৌশল বলেই ইঙ্গিত করেন ইমন। তিনি বলেন, ‘এটা অনেক কিছুর ইঙ্গিত করে।’

এই ফোনালাপ কবেকার সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যান ইমন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘কখন, কবে এ ফোনের ঘটনা মনে নেই এখন। সম্ভবত শুটিংয়ে ছিলাম বা শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এর বেশি কিছু বলতে চাচ্ছি না।’

কথোপকথনের সময় নির্দিষ্ট করে বোঝা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপচারিতার ঘটনাটি গত বছর ইমন-মাহি অভিনীত এবং ওয়াজেদ আলী সুমন পরিচালিত ব্লাড চলচ্চিত্রের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সময়ের।

মুরাদের ফোন বন্ধ

ফাঁস হওয়া ফোনালাপ এবং ফেসবুকে সবশেষ লাইভ নিয়ে মুরাদ হাসানের বক্তব্য জানতে সোমবার সকাল থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে নিউজবাংলা।

তবে বেলা দেড়টা পর্যন্ত তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বেলা আড়াইটার দিকে তার ফোন খোলা পাওয়া যায়, কিন্তু কয়েকবার কল করা হলেও তিনি কেটে দেন। এরপর প্রতিমন্ত্রীর মোবাইল ফোনটি আবার বন্ধ পাওয়া গেছে।

জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সোমবার বেলা সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি করা হয়েছিল প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে। তবে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হলেও সেখানে যাননি প্রতিমন্ত্রী। ফলে তাকে ছাড়াই অনুষ্ঠান শুরু করেন আয়োজকরা।

এদিকে প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের বক্তব্যের ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে দেয়া প্রয়োজন মনে করলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির আইনজীবী খন্দকার রেজা ই রাকিব।

এই আইনজীবী সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত যখনই কোনো নির্দেশনা দেয়, বিটিআরসি সেটাকে সিরিয়াসলি অ্যাড্রেস করে। ফেসবুক, ইউটিউবসহ অন্য সব প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যোগাযোগ করে নামানোর জন্য যা যা করার দরকার, তারা তা করে।’

তবে সব সময় আদালতের সিদ্ধান্তেই কন্টেন্ট সরানো হয়, বিষয়টি তেমন নয় বলেও জানান রেজা।

তিনি বলেন, ‘বিটিআরসির বিভিন্ন কমিটি আছে। ল এনফোর্সের কিছু এজেন্সিও আছে। তারাও এসব জিনিস দেখে। বিটিআরসির কাছে টাইম টু টাইম তারা জানায়। তখন বিটিআরসি অ্যাকশন নেয়।’

আরও পড়ুন:
পুলিশের ‘নির্যাতনে’ মৃত্যু: থানা ঘেরাও
অটোরিকশাচালক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ২ ছিনতাইকারী
মিতু হত্যা: বাবুলের নারাজি আবেদনের আদেশ ৩ নভেম্বর
জামিনে বেরিয়ে মাকে হত্যা, যুবক আটক
মিতু হত্যা: আদালতে বাবুল আকতার

শেয়ার করুন

মেয়র আব্বাস রিমান্ডে

মেয়র আব্বাস রিমান্ডে

রাজশাহী মহানগর আদালত পরিদর্শক আবুল হাসেম আলী জানান, আসামিকে ১০ দিন রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলা রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

সোমবার দুপুরে রাজশাহী মহানগর আদালত-২-এর বিচারক শংকর কুমার তাকে রিমান্ডে পাঠান।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মহানগর আদালত পরিদর্শক আবুল হাসেম। তিনি জানান, আসামিকে ১০ দিন রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠান।

এর আগে আব্বাস আলীর জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী।

রাজধানীর হোটেল রাজমনি ইশা খাঁ থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তাকে আটক করে র‍্যাব। পরে র‌্যাবের কাছ থেকে আব্বাসকে গ্রহণ করে বোয়ালিয়া থানা পুলিশের একটি দল।

ঘরোয়া একটি আলোচনায় মেয়র আব্বাস বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের বিরোধিতা করে কথা বলেন। ২২ নভেম্বর সেই আলোচনার অডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

২৪ নভেম্বর মেয়র আব্বাসের নামে বোয়ালিয়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। মামলার বাদী নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি এবং ১৩ নম্বর কাউন্সিলর আব্দুল মোমিন।

এ ছাড়া চন্দ্রিমা থানায় নগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন এবং রাজপাড়া থানায় ১৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন একই ধরনের অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

আপত্তিকর মন্তব্যের সূত্র ধরে ২৫ নভেম্বর তাকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক পদ এবং ২৬ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

২৫ নভেম্বর কাটাখালী পৌরসভার ১২ জন কাউন্সিলরের সবাই তার প্রতি অনাস্থা জানিয়ে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। এই দাবির একটি আবেদন রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিয়েছেন তারা।

যা বলেছিলেন মেয়র আব্বাস

১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের বক্তব্যে শোনা যাচ্ছে, তিনি একজনকে বলছেন, ‘সিটি গেট আমার অংশে। ... ফার্মকে দিয়েছে তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে; ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা। কিন্তু একটু থেমে গেছি, গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর, সেটা ইসলামি শরিয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না (রাখব না), সব করব তবে শেষ মাথাতে যেটা ওটা (ম্যুরাল)।’

মেয়র আব্বাস আলী বলছেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, ম্যুরালটা ঠিক হবে না দিলে। আমার পাপ হবে; তো কেন দিব, দিব না। আমি তো কানা না, যেভাবে বুঝাইছে তাতে আমার মনে হয়েছে, ম্যুরালটা হলে আমার ভুল করা হবে।

‘এ খবরটা যদি যায় তাহলে আমার রাজনীতির বারোটা বাজবে যে এই ম্যুরাল দিছে না। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে গিয়ে আল্লাহকে নারাজ করব নাকি। এ জন্য কিছু করার নাই। মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা যাবে না।’

এই বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে গত শুক্রবার বিকেলে ফেসবুক লাইভে মেয়র আব্বাস বলেন, ‘আমি তো মানুষ। আমি তো ভুল করতেই পারি। তার জন্য ক্ষমা চাই। তারপরও না হলে বহিষ্কার করবেন, আমার নামে মামলা দিবেন, যতটুকু ভুল করেছি, তার জন্য, কিন্তু একের পর এক অত্যাচার-জুলুম। আমার অসুস্থ মা তিন-চার দিন না খেয়ে আছে...

‘... আমি কী এত বড় অন্যায় করেছি? অন্যায় করলে তো আইন আছে। এভাবে এত কিছু করা কি ঠিক?... আমাকে বলা হচ্ছে, আমি দলের অনুপ্রবেশকারী। আমি যদি আওয়ামী লীগ ব্যতিত অন্য কোনো দল জীবনে করে থাকি, তাহলে সব শাস্তি মাথা পেত নেব... কেউ প্রমাণ করতে পারলে সুইসাইড করব।’

আরও পড়ুন:
পুলিশের ‘নির্যাতনে’ মৃত্যু: থানা ঘেরাও
অটোরিকশাচালক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ২ ছিনতাইকারী
মিতু হত্যা: বাবুলের নারাজি আবেদনের আদেশ ৩ নভেম্বর
জামিনে বেরিয়ে মাকে হত্যা, যুবক আটক
মিতু হত্যা: আদালতে বাবুল আকতার

শেয়ার করুন

আদালত থেকে পালানো আসামি গ্রেপ্তার

আদালত থেকে পালানো আসামি গ্রেপ্তার

টেকনাফ থেকে গ্রেপ্তার আদালত পালানো আসামি আবুল কালাম। ছবি: নিউজবাংলা

টেকনাফ থানার ওসি খোরশেদ আলম বলেন, ‘চট্টগ্রাম আদালতে পুলিশের হেফাজত থেকে পালানো আসামি কালামকে টেকনাফ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে চট্টগ্রামে নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করে বিস্তারিত জানানো হবে।’

চট্টগ্রাম আদালতে পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া আসামিকে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ ও টেকনাফ থানা পুলিশের যৌথ চেষ্টায় সোমবার ভোররাতে আবুল কালামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মাদক মামলার আসামি কালামের বাড়ি টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘কালামকে টেকনাফ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে চট্টগ্রামে নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করে বিস্তারিত জানানো হবে।’

এর আগে চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার ওসি নেজাম উদ্দিন জানান, আবুল কালামকে রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর থানার জিআরও শাখায় রেজিস্ট্রেশন শেষে আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে নামানোর সময় কৌশলে তিনি পালিয়ে যান।

বিষয়টি জানাজানি হলে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আসামির সঙ্গে থাকা দুই পুলিশ কনস্টেবল মো. শাহাদাত ও মো. নজরুল এবং একজন উপপরিদর্শককে (এসআই) অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তবে ওই উপপরিদর্শকের নাম জানা যায়নি।

এর আগে চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা শাখা রোববার সকালে চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার কদমতলী মোড়ের উত্তর পাশের চায়ের দোকান থেকে ১ হাজার ৫০ পিস ইয়াবাসহ কালামকে আটক করে।

গোয়েন্দা শাখার এসআই মোহাম্মদ্দ টিপু সুলতান কোতোয়ালি থানায় কালামের নামে মামলা করেন। এরপর তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

আরও পড়ুন:
পুলিশের ‘নির্যাতনে’ মৃত্যু: থানা ঘেরাও
অটোরিকশাচালক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ২ ছিনতাইকারী
মিতু হত্যা: বাবুলের নারাজি আবেদনের আদেশ ৩ নভেম্বর
জামিনে বেরিয়ে মাকে হত্যা, যুবক আটক
মিতু হত্যা: আদালতে বাবুল আকতার

শেয়ার করুন

ডেমু-বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষ: গেটম্যান আটক

ডেমু-বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষ: গেটম্যান আটক

খুলশীতে শনিবার ডেমু,বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, পাহাড়তলী এলাকা থেকে রোববার সন্ধ্যায় আশরাফুলকে আটক করা হয়। তাকে থানায় নেয়া হলেও ঘটনা চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার অধীনে বলে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

চট্টগ্রামের খুলশীর ঝাউতলা রেলগেটে ডেমু ট্রেনের সঙ্গে অটোরিকশা-বাসের সংঘর্ষের ঘটনার সময় রেলগেটের দায়িত্বে থাকা গেটম্যানকে আটক করেছে পুলিশ।

মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোখলেছুর রহমান রোববার রাত ১১টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি নিউজবাংলাকে জানান, আশরাফুল আলমগীর নামে ওই গেটম্যানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, পাহাড়তলী এলাকা থেকে রোববার সন্ধ্যায় আশরাফুলকে আটক করা হয়। তাকে থানায় নেয়া হলেও ঘটনা চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার অধীনে বলে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের ঝাউতলা এলাকায় ডেমু ট্রেন, বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবলসহ তিনজন নিহত হন।

নিহতরা হলেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ট্রাফিক উত্তর বিভাগের কনস্টেবল মনির হোসেন। তার বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে। বাকি দুজন নগরীর হামজারবাগ এলাকার সৈয়দ বাহাউদ্দিন আহমেদ ও পাহাড়তলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র সাতরাজ উদ্দিন।

দুর্ঘটনার পরই স্থানীয়দের বরাত দিয়ে রেলওয়ে থানার ওসি নাজিম উদ্দিন জানান, একটি ডেমু ট্রেন ষোলশহর থেকে চট্টগ্রাম স্টেশনে যাচ্ছিল। এ সময় জাকির হোসেন রোডের ওই লেভেল ক্রসিংয়ের দুই দিকের গেট আটকানো ছিল।

তবে এর মধ্যেও একটি অটোরিকশা উল্টোপথে লাইন অতিক্রম করার চেষ্টা করে। এর পেছনে একটি বাসও লাইনের ওপর উঠে যায়। এ সময় ট্রেনটি বাস ও অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়।

শনিবার দুপুরে রেলওয়ে পুলিশের চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল গফুরকে প্রধান করে এ সংঘর্ষের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় গেটম্যানের কোনো অবহেলা থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এরপর শনিবার রাতে চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানায় বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা করেন উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম।

আরও পড়ুন:
পুলিশের ‘নির্যাতনে’ মৃত্যু: থানা ঘেরাও
অটোরিকশাচালক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ২ ছিনতাইকারী
মিতু হত্যা: বাবুলের নারাজি আবেদনের আদেশ ৩ নভেম্বর
জামিনে বেরিয়ে মাকে হত্যা, যুবক আটক
মিতু হত্যা: আদালতে বাবুল আকতার

শেয়ার করুন