চাকরি খোঁজা নয়, উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা

চাকরি খোঁজা নয়, উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা

দেশের ৫ কোটি ৩০ লাখ তরুণ উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে হাঁটছেন, তাদের কাছে চাকরি একমাত্র বিকল্প নয়। ফাইল ছবি

দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণের অনেকেই চাকরি খোঁজার পরিবর্তে নিজের দক্ষতা, যোগ্যতা ও উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগাচ্ছেন। নিজেই নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করছেন তারা। পাশাপাশি অসংখ্য বেকারের চাকরিরও সংস্থান করছেন। সরকারও উদ্যোক্তা তৈরিতে উৎসাহ জোগাচ্ছে।

‘এই স্বাধীনতা পূর্ণ হবে না যদি এ দেশের মানুষ, যারা আমার যুবক শ্রেণি আছে, তারা চাকরি না পায় বা কাজ না পায়। এ স্বাধীনতা আমার ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি আমার বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না পায়।’

দেশে কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কথাগুলো বলেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি যে বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে এ মন্তব্য করেন, সেই বাস্তবতার সঙ্গে আজকের বাংলাদেশের পার্থক্য অনেক।

তখন উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তার ঘাটতি ছিল। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল চাকরি। এখন প্রেক্ষাপট বদলেছে। দেশের যে ৫ কোটি ৩০ লাখ তরুণ জনগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে হাঁটছেন, তাদের কাছে চাকরি একমাত্র বিকল্প নয়।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার ‘তারুণ্যের শক্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’। সরকারের নানামুখী উন্নয়ন তৎপরতার ওপর দাঁড়িয়ে সে লক্ষ্যে হাঁটা শুরু করেছে দেশ।

এখন এই বিপুলসংখ্যক তরুণের অনেকেই চাকরির খোঁজার পরিবর্তে নিজের দক্ষতা, যোগ্যতা ও উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগাচ্ছেন। নিজেই নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করছেন তারা। পাশাপাশি অসংখ্য বেকারের চাকরিরও সংস্থান করছেন। কর্মমুখী শিক্ষাও রপ্ত করেছেন অনেকে, যা বেসরকারি বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে তাদের ভালো মানের চাকরি পেতে কাজে লাগছে।

চাকরি খোঁজা নয়, উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প এবং মাঝারি শিল্প খাতের ঋণে নারী উদ্যোক্তাদের প্রণোদনার ঘোষণা দেয় সরকার।

এ ছাড়া বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে চাকচিক্যময় শো-রুম খুলে ব্যবসার ধারণাতেও এসেছে পরিবর্তন। তরুণ উদ্যোক্তাদের অনেকেই এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যবসা করছেন। ওয়েবসাইটে খুলে বসেছেন বিচিত্র পণ্যের পসরা। গ্রাহকের কাছে পণ্য পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজন হচ্ছে ডেলিভারিম্যানের। কর্মসংস্থানে দেশে এটিও একটি নতুন ধারণা ও বিপুল সম্ভাবনার নাম।

আত্ম-কর্মসংস্থানে আরেকটি নতুন ধারণা যুক্ত হয়েছে মোটর সাইকেল বা মোটরগাড়িতে রাইডশেয়ারিং। এ খাতে সারা দেশে কয়েক লাখ কর্মসংস্থান এরই মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে। আউটসোর্সিংয়ে ৬ লাখের বেশি দক্ষ আইটি ফ্রিল্যান্সারের আত্ম-কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে দেশে।

উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে ডেইরি, পোল্ট্রি, কৃষি, নার্সারি, মোবাইল সার্ভিসিং, ব্লক, বাটিক, স্ক্রিন প্রিন্টিং, ফ্যাশন ডিজাইনিং, ক্যাটারিং, বিউটিফিকেশন, গৃহসজ্জা, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ওয়েল্ডিং, ফটোগ্রাফি, সোলার প্যানেল স্থাপনসহ বিভিন্ন খাতে।

অর্থাৎ তরুণদের মধ্যে এখন চাকরি করার বদ্ধমূল ধারণায় পরিবর্তন এসেছে।

২০১৮ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর করা শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে ৬০ শতাংশ চাকরিজীবী কাজ করেন ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন ১৪ শতাংশ।

চাকরি খোঁজা নয়, উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা

নারী উদ্যোক্তাদের প্ল্যাটফর্ম উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরাম আয়োজিত অনলাইন আলোচনা সভায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ফাইল ছবি

সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে হাতেগোনা কয়েক হাজার সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা বেড়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে তা প্রায় ২০ লাখে দাঁড়ায়, তবে কর্মসংস্থান বিবেচনায় সরকারি খাতের অবদান ৪ শতাংশের কম। অথচ বছরে প্রায় ২০ লাখ তরুণ নতুন করে শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে।

এদের অনেকেই সরকারি চাকরি খোঁজার পেছনে এখন আর বছরের পর বছর সময় নষ্ট করতে রাজি নন। তারা হয় নিজেরাই উদ্যোক্তা হচ্ছেন অথবা স্বনির্ভর কোনো কাজে যুক্ত হচ্ছেন। বাকিরা বেসরকারি খাত কিংবা ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান যোগ দিচ্ছেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বৃহৎ, কুটির, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৭৮ লাখ ১৩ হাজার। এগুলোর মালিকদের ৯৯ শতাংশই উদ্যোক্তা।

অন্যদিকে দেশে বেসরকারি খাতে এখন প্রায় ৫ কোটি মানুষ কাজ করছে। ছোট-বড় ব্যবসায়ী সৃষ্টি হয়েছে সাড়ে ৩ কোটি।

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যক্তি মালিকানার কিংবা বেসরকারি খাতের এই উত্থানের বড় শক্তি ছিল দেশের যুব সমাজের চাকরিপ্রার্থী না হয়ে চাকরিদাতা হওয়ার মনোভাব। আজকের অর্থনীতিতে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

বাড়ছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে যোগ হচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। এসব উদ্যোক্তার সংখ্যাগরিষ্ঠই তরুণ বা যুবশ্রেণি। তাদের অনেকেই বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে স্বপ্নের কথা বলছেন খোলামেলা। তাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, তারা চাকরিপ্রার্থী হতে চান না; উদ্যোক্তা হতে চান। তারা চান অন্যকে চাকরি দিতে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আসলে উদ্যোক্তা হওয়ার মতো সেই মেধা, উৎকর্ষ, প্রশিক্ষণ এবং ঝুঁকি নেয়ার অদম্য সাহস তাদের ছিল বলেই নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশে বেসরকারি খাতের আজকের এ অবস্থানে আসা সম্ভব হয়েছে।

‘তবে তরুণ উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক এবং সম্ভাবনময় শ্রেণিকে বাধাহীন এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি এবং তাদের সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার মতো অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। এ জন্য সরকারসহ খাত সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থা ও সংগঠনগুলোকেও নীতিগতভাবে বিভিন্ন সুবিধা তৈরি করে দিতে হবে।’

ঢাকা চেম্বার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির একটি প্রকল্প নিয়েছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তুলছে। একই সঙ্গে এসএমই ফাউন্ডেশন থেকেও এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তারাও প্রশিক্ষণ দিয়ে উদ্যোক্তা তৈরি করছে।

উদ্যোগী নারীদের সংগঠিত ও প্রশিক্ষণ দিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলছে জয়ীতা ফাউন্ডেশন। উইমেন চেম্বার থেকেও নারী উদ্যোক্তাদের নানাভাবে সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান মাইডাস থেকেও ছোট উদ্যোক্তাদের নানাভাবে সহায়তা দিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে। পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন কর্ম সৃজন প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ এলাকায় ছোট ছোট উদ্যোক্তা গড়ে তুলছে।

চাকরি খোঁজা নয়, উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা

তরুণ উদ্যোক্তাদেরকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে এ জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে পরিণত করা সম্ভব। উদ্যোক্তাদের সম্মাননা দেয় জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ। ফাইল ছবি

এ ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় পাহাড়ি এলাকায় ছোট ছোট উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিয়ে তাদের বিকাশের সুযোগ করে দিচ্ছে। দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও তাদের ঋণ সহায়তা দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ১০০ কোটি টাকার একটি তহবিলও গঠন করেছে।

কী বলছেন সংশ্লিষ্টরা

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত বলেন, ‘যুব উদ্যোক্তাদের জন্য যদি যুব ব্যাংক বা অন্য কোনো বিশেষায়িত ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে তার মাধ্যমে স্বল্প সুদে নমনীয় শর্তে ঋণ দেয়া হয় এবং সাফল্য বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে ওই ঋণের পরিমাণ বাড়ানো হয়, তাহলে ২০৩০ সাল নাগাদ দেশে লাখ লাখ উদ্যোক্তা তৈরি হবে।’

এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবং দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতার তাগিদে জীবনমুখী কর্মসংস্থানের জন্যই তরুণদের মধ্যে তাদের ভবিষ্যত নির্মাণের ভাবনায় একটা বদ্ধমূল পরিবর্তন এসেছে। এটা যতটা না পারিবারিক, তার চেয়ে বেশি তারুণ্যনির্ভর ও প্রযুক্তিসই মানসিকতা ধারণ করার কারণে।’

তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের সবার উচিত এ যুব প্রজন্মকে অর্থনৈতিক কার্যকর ধারায় সম্পৃক্ত করা। অর্থাৎ কর্মসংস্থান সৃষ্টির চেষ্টার চেয়ে উদ্যোক্তা তৈরির চেষ্টাই অর্থনীতিতে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারে। এ লক্ষ্যে অব্যাহতভাবে নানামুখী উদ্যোগে যুবকদের সম্পৃক্ত করার এখনই সময়।’

দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করছে জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ‘এর পাশাপাশি বেকার যুব সমাজের জন্যও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে এই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাত।’

তিনি বলেন, ‘এ খাতের উন্নয়নে সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে এসএমই ফাউন্ডেশন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সারা দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পণ্য উৎপাদন, বাজার সংযোগ সৃষ্টি এবং দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছে তারা। এসব উদ্যোগের ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য আজ সারা বিশ্বে রপ্তানি হচ্ছে। করোনার মধ্যেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ও গ্রামে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের তরুণ ও যুব সমাজ এখন চাকরি খুঁজছে না, নিজেরাই চাকরি দেয়ার ব্যবস্থা করছে। আগে বলা হতো লেখাপড়া করে যে গাড়ি ঘোড়ায় চড়ে সে। এর বদলে এখন বলতে হয় উদ্যোক্তা হয় যে, গাড়ি-ঘোড়া বানায় সে।’

আইসিটি খাতে ২০২৫ সালের মধ্যে ৩০ লক্ষাধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন জানান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার পর ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫০ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এদের থেকে ২২ লাখ ৮০ হাজার ১৫৩ জন আত্মকর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে তারা যাতে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠতে পারেন, সে জন্য যুব ঋণ সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম যুব পাইকারি সেল ডটকম যুবাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বাজারজাত করতেও ভূমিকা রাখছে।

আরও পড়ুন:
নারী উদ্যোক্তাদের স্টার্ট আপ ইকোসিস্টেম শেখাল আইডিয়া প্রকল্প
নিজের তৈরি বিমানে চড়ার স্বপ্ন আশিরের
১৭ লাখের সেতু বানাল গ্রামবাসীই
পথশিশুদের স্বপ্নদ্রষ্টা রাসেল
বাক্সে বাক্সে ঝিঙে-কুমড়া

শেয়ার করুন

মন্তব্য

স্কুলের মেয়েদের জন্য বিডি গার্লস কোডিং শুরু

স্কুলের মেয়েদের জন্য বিডি গার্লস কোডিং শুরু

স্কুলের মেয়েদের প্রোগ্রামিং শেখাতে বিডিওএসএনের চুক্তি সই। ছবি: সৌজন্যে

এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিডিওএসএন ও ইকো বাংলাদেশ পারস্পরিক সহযোগিতায় স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং শেখানো হবে। ইকো বাংলাদেশের অর্থায়নে শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ও প্রোগ্রামিং ক্যাম্পের আয়োজন করবে বিডিওএসএন।

এডুকেশনাল চ্যারিটেবল অ্যান্ড হিউম্যানিটেরিয়ান অর্গানাইজেশন (ইকো) এবং বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) মেয়ে শিক্ষার্থীদের কোডিং শেখানোর জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ঢাকার বনানীতে ইকো বাংলাদেশের অফিসে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

স্কুলের মেয়ে শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিংয়ের সঙ্গে পরিচিত করা এবং সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে ভবিষ্যতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কাজের উপযুক্ত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করবে সংগঠন দুটি।

চলতি মাসের শুরুর দিন থেকে এর পরীক্ষামূলক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে।

বিডিওএসএন অনলাইন ও অফলাইনে নানা রকম প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। এই চুক্তির ফলে বিডি গার্লস কোডিং প্রকল্পের মাধ্যমে ইকো বাংলাদেশ ও বিডিওএসএন সম্মিলিতভাবে সারা দেশে স্কুলের মেয়েদের জন্য প্রোগ্রামিং শেখানোর ওয়ার্কশপ ও প্রোগ্রামিং কনটেস্ট আয়োজন করবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের তথ্যমতে, আগামীতে স্কুল শিক্ষার্থীদের আইসিটি বইয়ে নতুন সংযোজন হিসেবে প্রোগ্রামিং বিষয়টি যুক্ত করা হবে। এই প্রকল্পে স্কুলের মেয়ে শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিংয়ের সঙ্গে পরিচিত করা হবে, যেন শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমে প্রোগ্রামিং শেখা সহজ হয়।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিডিওএসএন ও ইকো বাংলাদেশ পারস্পরিক সহযোগিতায় স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং শেখানো হবে। ইকো বাংলাদেশের অর্থায়নে শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ও প্রোগ্রামিং ক্যাম্পের আয়োজন করবে বিডিওএসএন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইকো বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ইকো বাংলাদেশের সভাপতি নওয়াজীস আরা, সাধারণ সম্পাদক আমাতুর রশিদ, সদস্য ড. আহমাদ সালাহুদদীন, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী এবং শেফা ইনস্টিটিউটের সদস্য আমাতুর রহীম।

বিডিওএসএন-এর পক্ষে ছিলেন বিডিওএসএনের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা।

চুক্তিপত্রে ইকো বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন আমাতুর রশিদ এবং বিডিওএসএনের পক্ষে স্বাক্ষর করেন কানিজ ফাতেমা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তা ও সদস্যরা মেয়ে শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং শেখানোর ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইকো বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আমাতুর রশিদ বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং একই লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। ইকো বাংলাদেশের এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য ড. আহমাদ সালাহুদদীন আশা করেন, এই চুক্তির ফলে এখন থেকে মেয়ে শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং শেখা সহজতর হবে।

আরও পড়ুন:
নারী উদ্যোক্তাদের স্টার্ট আপ ইকোসিস্টেম শেখাল আইডিয়া প্রকল্প
নিজের তৈরি বিমানে চড়ার স্বপ্ন আশিরের
১৭ লাখের সেতু বানাল গ্রামবাসীই
পথশিশুদের স্বপ্নদ্রষ্টা রাসেল
বাক্সে বাক্সে ঝিঙে-কুমড়া

শেয়ার করুন

এবার লোবুচে শৃঙ্গ জিতলেন নিশাত

এবার লোবুচে শৃঙ্গ জিতলেন নিশাত

লোবুচে পর্বতের চূড়ায় নিশাত মজুমদার। ছবি: অভিযাত্রী

লোবুচে জয় করার সংকল্প নিয়ে গত ৭ নভেম্বর নেপালের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন নিশাত। ২১ নভেম্বর নেপালের স্থানীয় সময় ভোর ৬টায় পর্বতশৃঙ্গটি জয় করেন তিনি।

প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্ট জয় করা নিশাত মজুমদার এবার পা রাখলেন লোবুচে পর্বতের চূড়ায়।

২১ নভেম্বর নেপালের স্থানীয় সময় ভোর ৬টার সময় তিনি এই লোবুচে পূর্ব পর্বতশৃঙ্গটি জয় করেন। উড়িয়েছেন লাল-সবুজ পতাকা।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন সংগঠন অভিযাত্রীর সমন্বয়ক মির্জা জাকারিয়া বেগ।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘লোবুচে জয় করার সংকল্প নিয়ে গত ৭ নভেম্বর নেপালের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন নিশাত। ২১ নভেম্বর নেপালের স্থানীয় সময় ভোর ৬টায় পর্বতশৃঙ্গটি জয় করেন তিনি।’

আগামী ২৮ নভেম্বর নিশাত মজুমদার দেশে ফিরবেন বলেও জানিয়েছেন তার বন্ধু মির্জা জাকারিয়া।

নেপালের লোবুচে পর্বতের উচ্চতা ৬ হাজার ১১৯ মিটার বা ২০ হাজার ৭৫ ফুট। তবে কদিনের চেষ্টায় এই পর্বত আরোহণ করেছেন নিশাত, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি।

এর আগে ২০১২ সালের ১৯ মে প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্ট জয় করেন নিশাত মজুমদার। তার সঙ্গে ছিলেন আরেক এভারেস্টজয়ী এম এ মুহিত, যিনি এর আগেও একবার এভারেস্ট জয় করেছিলেন।

বাবা আবদুল মান্নান মজুমদার ও মা আশুরা মজুমদারের চার সন্তানের মধ্যে নিশাত দ্বিতীয়। তার জন্ম ১৯৮১ সালে লক্ষ্মীপুরে। নিশাত মজুমদার ফার্মগেটের বটমূলী হোম উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, শহীদ আনোয়ার গার্লস কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং ঢাকা সিটি কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছেন।

এভারেস্ট বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তিতে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে ৩ হাজার ১৭২ ফুট উচ্চতার কেওক্রাডং জয় করেন নিশাত।

এবার লোবুচে শৃঙ্গ জিতলেন নিশাত

২০০৬ সালের মার্চে বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মাউন্টেনিয়ারিং ও ট্রেকিং ক্লাবের (বিএমটিসি) আয়োজনে বাংলাদেশের নারী অভিযাত্রী দলের সঙ্গে আবারও আরোহণ করেন কেওক্রাডং চূড়া।

ওই বছরের সেপ্টেম্বরে বিএমটিসি আয়োজিত নারী অভিযাত্রী দলের সঙ্গে তিনি এভারেস্ট বেস ক্যাম্প (১৭ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতা) ট্রেকিংয়ে অংশ নেন।

এরপর ২০০৭ সালের মেতে ভারতের দার্জিলিংয়ের হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট থেকে মৌলিক পর্বতারোহণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন তিনি। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে নিশাত জয় করেন হিমালয়ের মেরা পর্বতশৃঙ্গ। যার উচ্চতা ছিল ২১ হাজার ৮৩০ ফুট।

নিশাতের আগে বাংলাদেশের আরও চার পর্বতারোহী লোবুচে জয় করেন। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ মাউন্টেনিয়ারিং ও ট্রেকিং ক্লাবের হয়ে এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী এম এ মুহিতসহ তিন আরোহী এই পর্বতশৃঙ্গ জয় করেন।

এ বছরের ১ নভেম্বর দেশের প্রথম নারী হিসেবে এই পর্বত আরোহণ করেন পর্বতারোহী জয়নাব বিনতে হোসেন শান্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স-মাস্টার্স শেষে জয়নাব এখন শিক্ষক। সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

লোবুচে পর্বতের দুটি শৃঙ্গ। একটির নাম লোবুচে পশ্চিম এবং অপরটি লোবুচে পূর্ব। ট্রেকারদের মতে লোবুচে পশ্চিম জয় করা খুব কষ্টসাধ্য। তাই লোবুচে পূর্ব শৃঙ্গটি আরোহণ করেন বেশির ভাগ অভিযাত্রিক।

লোবুচে চূড়া আরোহণে এভারেস্ট শৃঙ্গের পথ ধরেই এগিয়ে যেতে হয়। তারপর লুকলা হয়ে ১১ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতার নামছেতে অবস্থান। সেখান থেকেই মূল অভিযান শুরু হবে। ইয়ান টেইলর ট্রেকিং ডটকম বলছে, ৫ হাজার ৪৫ মিটার উচ্চতায় লোবুচের মূল বেস ক্যাম্প। সেখান থেকে আরও ৬৫৫ মিটার এগিয়ে গেলে হাই ক্যাম্প। তারপর মূল ট্রেকিং শুরু। আরও ৫১৯ মিটার এগিয়ে গেলেই লোবুচে শৃঙ্গ।

আরও পড়ুন:
নারী উদ্যোক্তাদের স্টার্ট আপ ইকোসিস্টেম শেখাল আইডিয়া প্রকল্প
নিজের তৈরি বিমানে চড়ার স্বপ্ন আশিরের
১৭ লাখের সেতু বানাল গ্রামবাসীই
পথশিশুদের স্বপ্নদ্রষ্টা রাসেল
বাক্সে বাক্সে ঝিঙে-কুমড়া

শেয়ার করুন

প্রথমবারের মতো ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ

প্রথমবারের মতো ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ

ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডে অনলাইনে নিজেদের প্রেজেন্টেশন দিচ্ছে বাংলাদেশ দল। ছবি: সৌজন্যে

গত মাসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্স এবং মেধার ওপর ভিত্তি করে ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডের জন্য বাংলাদেশ দল নির্বাচিত করা হয়। কানাডা থেকে অনলাইনের মাধ্যমে অলিম্পিয়াডটি জাজমেন্ট এবং মনিটরিং করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডে অংশ নিচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এ অলিম্পিয়াডের মূল পর্বে দেশের দুটি টিম ঢাকা থেকে অনলাইনে অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) এ অলিম্পিয়াডের বাংলাদেশ পর্ব আয়োজন করে।

গত মাসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের পারফরমান্স এবং মেধার ওপর ভিত্তি করে ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডের জন্য বাংলাদেশ দল নির্বাচিত করা হয়।

কানাডা থেকে অনলাইনের মাধ্যমে অলিম্পিয়াডটি জাজমেন্ট এবং মনিটরিং করা হচ্ছে।

এ বছর অলিম্পিয়াডের ‘ওপেন ক্যাটাগরি’ এবং ‘ফিউচার ইঞ্জিনিয়ারস’ ক্যাটাগরিতে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার দুপুরে অনলাইনের মাধ্যমে বিচারকদের সামনে নিজেদের রোবট প্রদর্শন করে ওপেন ক্যাটাগরিতে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা।

এ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ থেকে ‘ইকো এগ্রোমেট’ রোবট নিয়ে অংশ নেয় ‘পাওয়ারিয়াম’ নামের একটি দল। এ দলের সদস্য ছিলেন ঢাকা কলেজের মুহাম্মদ আবরার জাওয়াদ, সরকারি বিজ্ঞান কলেজের তানজিম জামান খান এবং নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী আশরাফুজ্জামান ফুয়াদ।

অন্যদিকে ফিউচার ইঞ্জিনিয়ারস ক্যাটাগরিতে অংশ নেয় ‘টিম প্রডিজি’। এ দলের সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের সাজ্জাদ ইসলাম এবং নটর ডেম কলেজের তৌসিফ সামিন।

এ বছর ৬০টি দেশ ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডে অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এই অলিম্পিয়াডে অংশ নিচ্ছে।

আরও পড়ুন:
নারী উদ্যোক্তাদের স্টার্ট আপ ইকোসিস্টেম শেখাল আইডিয়া প্রকল্প
নিজের তৈরি বিমানে চড়ার স্বপ্ন আশিরের
১৭ লাখের সেতু বানাল গ্রামবাসীই
পথশিশুদের স্বপ্নদ্রষ্টা রাসেল
বাক্সে বাক্সে ঝিঙে-কুমড়া

শেয়ার করুন

চীনের ট্রেনিং শেষে এখন গ্লোবাল কম্পিটিশনে বাংলাদেশ দল

চীনের ট্রেনিং শেষে এখন গ্লোবাল কম্পিটিশনে বাংলাদেশ দল

এ বছর বাংলাদেশ ও অন্য দেশের শিক্ষার্থীরা হুয়াওয়ে সদর দপ্তর থেকে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ পান এবং প্রযুক্তিগত নানা বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন। টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, আইসিটির গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, ফাইভজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ক্লাউড কম্পিউটিং ইত্যাদি বিষয়ে তারা ধারণা লাভ করেন। এর পাশাপাশি এ প্রোগ্রামে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে একটি বিশেষ সেশনেও অংশ নেন। 

হুয়াওয়ে সদর দপ্তরের সমন্বয়ে অনলাইন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সিডস ফর দ্য ফিউচার ২০২১-এর গ্র্যাজুয়েশন শেষ হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার দেশের আটটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত সেরা ১৬ শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং হুয়াওয়ে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ও প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা।

এ বছর বাংলাদেশ ও অন্য দেশের শিক্ষার্থীরা হুয়াওয়ে সদর দপ্তর থেকে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ পান এবং প্রযুক্তিগত নানা বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন। টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, আইসিটির গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, ফাইভজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ক্লাউড কম্পিউটিং ইত্যাদি বিষয়ে তারা ধারণা লাভ করেন। এর পাশাপাশি, এ প্রোগ্রামে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে একটি বিশেষ সেশনেও অংশ নেন।

টেক ফর অল থিমের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা তাদের প্রজেক্ট প্রেজেন্টেশন জমা দিয়েছেন, যা এই প্রতিযোগিতার পরের রাউন্ডের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই রাউন্ডে ১৩০টি দেশ ও অঞ্চলের শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। বিভিন্ন মাপকাঠির বিচারে শীর্ষ তিন প্রকল্প ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ঘোষণা করা হবে।

গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের অসংখ্য উদ্ভাবনী আইডিয়া রয়েছে। সঠিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে তারা এসব আইডিয়াকে বাস্তবে রূপ দিতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমরা এ ব্যাপারে সব প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু, ইকোসিস্টেমও গুরুত্বপূর্ণ। সব সময় আমাদের পাশে থেকে ভবিষ্যতের কল্যাণে আইসিটিতে দক্ষ জনবল গড়ে তোলায় কাজ করার জন্য আমি হুয়াওয়েকে ধন্যবাদ জানাই। আমি মনে করি, এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নতুন কিছু শিখেছে, যা তারা দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজে লাগাবে।’

হুয়াওয়ে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ঝ্যাং ঝেংজুন বলেন, ‘বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক জনসম্পদ রয়েছে, যার একটি বড় অংশ হলো প্রতিভাবান তরুণ। হুয়াওয়ে বিশ্বাস করে ডিজিটাল অগ্রগতির পাশাপাশি উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে তরুণ সমাজ। হুয়াওয়ে তরুণদের মূল্যবান বলে মনে করে এবং তাদের দক্ষতাকে মূল্যায়ন করে। তারা যাতে সঠিক পথ বেছে নিতে পারে, তাদের নিজেদের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে এবং সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে, এ জন্য তাদের সঠিক পথ দেখানোকে আমরা দায়িত্ব বলে মনে করি। এই অনুপ্রেরণা থেকেই হুয়াওয়ে দেশে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’

হুয়াওয়ে বাংলাদেশের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান হুয়াং বাওশিওং বলেন, ‘হুয়াওয়ে তরুণদের অঙ্কুর হিসেবে বিবেচনা করে। তারা উদ্ভাবক, সৃষ্টিশীল এবং নেতৃত্বের অধিকারী; এবং তারাই একটি টেকসই সমৃদ্ধির দিকে বিশ্বকে পরিচালিত করবে। আর তাই, তাদের শিক্ষানুরাগী, সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম উদ্যোক্তা ও ডেভেলপার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এটিই সিডস ফর দ্য ফিউচারের লক্ষ্য।’

গত ১৩ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এ বছর বাংলাদেশে সিডস ফর দ্য ফিউচার প্রোগ্রাম শুরু হয়। প্রোগ্রামের ঘোষণার পর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নেয় যেখানে ছিল ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি (ইডব্লিউ), আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এইউএসটি)। পাশাপাশি ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি)-এর মতো আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়। পরবর্তীতে বাছাই পর্বের মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ১৬ জন দক্ষ মেধাবী শিক্ষার্থী (প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন ছেলে এবং একজন মেয়ে শিক্ষার্থী) নির্বাচিত হয়।

‘সিডস ফর দ্য ফিউচার’ বিশ্বব্যাপী এসটিইএম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশলবিদ্যা ও গণিত) শিক্ষার্থীদের জন্য হুয়াওয়ের বিশেষ একটি ফ্ল্যাগশিপ সিএসআর প্রোগ্রাম। এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে আইসিটি খাতের মেধাবী শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করা হয়। ২০১৪ সালে বাংলাদেশে চালু হওয়ার পর থেকেই এ প্রোগ্রামটি আইসিটি খাতের প্রতিভাবানদের মেধা বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। এর আগে, এই প্রোগ্রামের কয়েকজন বিজয়ী হুয়াওয়ের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।

আরও পড়ুন:
নারী উদ্যোক্তাদের স্টার্ট আপ ইকোসিস্টেম শেখাল আইডিয়া প্রকল্প
নিজের তৈরি বিমানে চড়ার স্বপ্ন আশিরের
১৭ লাখের সেতু বানাল গ্রামবাসীই
পথশিশুদের স্বপ্নদ্রষ্টা রাসেল
বাক্সে বাক্সে ঝিঙে-কুমড়া

শেয়ার করুন

তারা বই পড়ান, ইতিহাস জানান

তারা বই পড়ান, ইতিহাস জানান

দেড় দশক ধরে তরুণ ও কিশোরদের বই পড়ানো এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানোর কাজ করে যাচ্ছে ‘ইনোভেটর’। ছবি: নিউজবাংলা

টানা ১৫ বছর ধরে সিলেটে তরুণ ও কিশোরদের বই পড়ানো ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানোর কাজ করে যাচ্ছে ‘ইনোভেটর’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। প্রতি মাসে একটি করে নতুন বই পড়ানো হয় এতে অংশগ্রহণকারীদের।

তখন ২০০৬ সাল। দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে জঙ্গিবাদ। নানাভাবে বিকৃত করা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।

এমন অস্থির সময়ে তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানোর জন্য সিলেটে গড়ে ওঠে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ইতিহাস জানানোর পাশাপাশি তরুণদের বই পড়ায় আগ্রহী করে তোলারও উদ্যোগ নেয় সংগঠনটি। এই দুই লক্ষ্যে আয়োজন করা হয় ‘মুক্তিযুদ্ধের বইপড়া উৎসব’।

‘জ্ঞানের আলোয় অবাক সূর্যোদয়!/এসো পাঠ করি/ বিকৃতির তমসা থেকে/ আবিষ্কার করি স্বাধীনতার ইতিহাস’- এ স্লোগানে গড়ে ওঠা এই সংগঠনটির নাম রাখা হয় ‘ইনোভেটর’।

টানা ১৫ বছর ধরে তরুণ ও কিশোরদের বই পড়ানো ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানোর কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। এমনকি করোনা সংক্রমণের কারণে সব কিছুতেই যখন স্থবিরতা, তখনও থেমে থাকেনি ইনোভেটরের কার্যক্রম। ঘরবন্দি সেই সময়ে তারা আয়োজন করে ‘অনলাইনে বইপড়া কর্মসূচির’। প্রতি মাসে একটি করে নতুন বই পড়ানো হয় এতে অংশগ্রহণকারীদের।

শুরুতে ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু করেছিল বই পড়া ও ইতিহাস জানানোর এই উদ্যোগ। তবে দিনে দিনে তার ব্যাপকতা বেড়েছে। এখন প্রতিবছর এই কর্মসূচিতে হাজারখানেক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে এতে অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। এরপর উৎসব করে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যে নির্বাচিত বই তুলে দেয়া হয়। সকলের বই পড়া নিশ্চিত করতে বিতরণকৃত বইয়ের ওপর একটি নির্ধারিত সময়ের পর পরীক্ষা নেয়া হয়। এতে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয় আয়োজন করে।

এখন সিলেটের অন্যতম বড় কর্মসূচিতে পরিণত হওয়া এই উদ্যোগের শুরুর দিকটা এতটা মসৃণ ছিল না।

তারা বই পড়ান, ইতিহাস জানান

এ প্রসঙ্গে ইনোভেটরের নির্বাহী সঞ্চালক প্রণবকান্তি দেব বলেন, ‘যে সময়ে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছিলাম, তখন তরুণদের সঠিক ইতিহাস জানার পথ রুদ্ধ ছিল। ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছিল। জঙ্গিবাদ আর মৌলবাদ বিস্তার লাভ করায় তরুণরা বিপথগামী হয়ে পড়ছিল।’

তিনি বলেন, ‘এ রকম সময় আমাদের এই উদ্যোগকে অনেকে ভালোভাবে নেননি। মুক্তিযুদ্ধের বই পড়ানো কেন- এমনও প্রশ্ন তোলা হতো। পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসত কেউ। এ ছাড়া আমরা যে বইগুলো পড়ানোর জন্য নির্ধারণ করতাম, চাহিদামতো তার কপি পাওয়াও যেত না।’

এখন এসব সংকট পেরিয়ে এসেছে ইনোভেটর। তাদের বইপড়া আয়োজনে এখন পৃষ্ঠপোষকতা করে সিলেট জেলা পরিষদ।

তবে এখন নতুন আরেকটি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

প্রণবকান্তি দেব বলেন, ‘করোনার কারণে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনও খোলেনি। এ ছাড়া পরিবারে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই পড়ার তেমন চর্চা নেই। আর তরুণরা এখন মোবাইল ফোন আর ইন্টারনেটে আসক্ত হয়ে পড়েছে। বই পড়ায় তাদের আগ্রহ কমেছে। তাদের বই পড়ায় আগ্রহী করে তুলতে অনেক বেগ পেতে হয়।’

তবে এমন চ্যালেঞ্জ জয় করেই এগিয়ে চলছে বই পড়ার এই উদ্যোগ। প্রথম দিকে কেবল কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এই উদ্যোগ। এখন স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যেও তা বিস্তৃত হয়েছে। তারাও অংশ নেয় বইপড়া কর্মসূচিতে। প্রতিবছর হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা। এ পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ৪৭৬ শিক্ষার্থী সরাসরি বইপড়া উৎসবে অংশ নিয়েছে।

২০০৬ সালে প্রথমবার পড়ানো হয়েছিল শহীদ জননী জাহানারা ইমামের স্মৃতিকথাএকাত্তরের দিনগুলি। এরপর একে একে সেলিনা হোসেনের হাঙর নদী গ্রেনেড, হাসান আজিজুল হকের নামহীন গোত্রহীন, মেজর (অব.) কামরুল হাসান ভূঁইয়ার জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা, মাহমুদুল হকের খেলাঘর, শওকত ওসমানের দুই সৈনিক, আনোয়ার পাশার রাইফেল রোটি আওরাত, শাহীন আখতারের তালাশ, সেলিনা হোসেনের গল্পটা শেষ হয় না, সৈয়দ শামসুল হকের নিষিদ্ধ লোবান, রাবেয়া খাতুনের মেঘের পরে মেঘ, রশিদ হায়দারের শোভনের স্বাধীনতা, আমজাদ হোসেনের উত্তরকাল, আনিসুল হকের একাত্তরের একদল দুষ্টু ছেলে এবং শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়ানো হয়।

তারা বই পড়ান, ইতিহাস জানান

করোনার কারণে গত বছর অনলাইনে বইপড়া কার্যক্রম চালানো হয়। এবার করোনা সংক্রমণ কিছুটা কমে আসায় আবার ‘বইপড়া উৎসব’ আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই উৎসবে অংশ নেয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

উদ্যোক্তারা জানান, নিবন্ধন কার্যক্রম শেষে আগামী ২৪ ডিসেম্বর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করা হবে। এ বছর এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছেন। এক হাজার শিক্ষার্থীর নিবন্ধন করানোর লক্ষ্যে কাজ করছেন ইনোভেটরের সদস্যরা।

ইনোভেটরের মুখ্য সঞ্চালক রেজোয়ান আহমদ বলেন, বইপড়া উৎসবের পাশাপাশি আমরা বই বিনিময় উৎসব, পাঠচক্র, বই আলোচনা প্রতিযোগিতা, বই কুইজ, বই বিতর্ক ইত্যাদি আয়োজনের মধ্য দিয়ে তরুণদের পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির জন্য কাজ করছি। এসব কার্যক্রমে সিলেটের বাইরের দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরাও অংশ নিচ্ছে।

আরও পড়ুন:
নারী উদ্যোক্তাদের স্টার্ট আপ ইকোসিস্টেম শেখাল আইডিয়া প্রকল্প
নিজের তৈরি বিমানে চড়ার স্বপ্ন আশিরের
১৭ লাখের সেতু বানাল গ্রামবাসীই
পথশিশুদের স্বপ্নদ্রষ্টা রাসেল
বাক্সে বাক্সে ঝিঙে-কুমড়া

শেয়ার করুন

ডিআরইউ ক্রিকেটে নিউজবাংলার দাপুটে সূচনা

ডিআরইউ ক্রিকেটে নিউজবাংলার দাপুটে সূচনা

ওয়াল্টন-ডিআরইউ ক্রিকেটে শুভ সূচনার পর নিউজবাংলা টিমের উচ্ছ্বাস। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে সব কটি উইকেট হারিয়ে ৩৯ রান করে বাংলাদেশ কণ্ঠ। জবাবে এক ওভার হাতে রেখে ২ উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নিউজবাংলা।

ওয়ালটন-ডিআরইউ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে দাপুটে সূচনা পেয়েছে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ কণ্ঠকে উড়িয়ে দিয়েছে দলটি।

পল্টন আউটার স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সকালে সিক্স আ সাইড ম্যাচটিতে ৪ উইকেটের জয় পায় নিউজবাংলা।

টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে সব কটি উইকেট হারিয়ে ৩৯ রান করে বাংলাদেশ কণ্ঠ। জবাবে এক ওভার হাতে রেখে ২ উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নিউজবাংলা।

ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হয়েছেন দলটির অলরাউন্ডার তবিবুর রহমান। ৩টি উইকেট নেয়ার পাশাপাশি করেন ১০ রান।

ডিআরইউ ক্রিকেটে নিউজবাংলার দাপুটে সূচনা
বোলিং অ্যাকশনে নিউজবাংলা দলের অধিনায়ক হাসান ইমাম রুবেল

নিউজবাংলা দলের অধিনায়ক ছিলেন আরেক অলরাউন্ডার হাসান ইমাম রুবেল। একটি উইকেট নেয়ার পাশাপাশি অপরাজিত ৭ রান করে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।

দলের অন্য সদস্যরা হলেন আবু কাওসার, মাসুদুল আলম তুষার, রহমান মাসুদ, সাখাওয়াত হোসেন সুমন, আবু সাইম ও আব্দুল জব্বার খান।

আরও পড়ুন:
নারী উদ্যোক্তাদের স্টার্ট আপ ইকোসিস্টেম শেখাল আইডিয়া প্রকল্প
নিজের তৈরি বিমানে চড়ার স্বপ্ন আশিরের
১৭ লাখের সেতু বানাল গ্রামবাসীই
পথশিশুদের স্বপ্নদ্রষ্টা রাসেল
বাক্সে বাক্সে ঝিঙে-কুমড়া

শেয়ার করুন

অনলাইন প্রিন্টিংয়ে অনিকের ‘প্রিন্টএগ্রাফি’

অনলাইন প্রিন্টিংয়ে অনিকের ‘প্রিন্টএগ্রাফি’

অনলাইন প্রিন্টিং নিয়ে কাজ করা উদ্যোক্তা আল মাহমুদ অনিক। ছবি: সংগৃহীত

অনিক বলেন, ‘খুব ছোট পরিসরে কাজ শুরু করেছিলাম। এত অল্প সময়ে এত বেশি সাড়া পাব ভাবিনি। এখন আমরা শুধু দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই কাজ করছি না, আমাদের কাজ এখন যাচ্ছে বিদেশেও।’

একটা সময় ছিল যখন বছর শেষ হতে না হতেই আমরা খোঁজ করতাম নতুন বছরের ক্যালেন্ডার। সে ক্যালেন্ডারে আঁকা থাকত নানা ধরনের দৃশ্যপট। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানা রঙে সে ক্যালেন্ডার বাজারে ছাড়ত। শুধু ক্যালেন্ডার নয়, বই, খাতা থেকে শুরু করে নানান ধরনের কাজের একমাত্র ভরসা ছিল অ্যানালগ প্রিন্টিং।

সময়ের পরিক্রমায় প্রিন্টিংয়ের ধারণা পাল্টেছে। আগে একটা প্রিন্ট করাতে যেখানে ছুটতে হতো কমপক্ষে জেলা শহরে, সেখানে এখন চাইলে ঘরে বসেই যেকোনো কিছু প্রিন্ট করা যাচ্ছে। এমন সব সুবিধা নিয়ে প্রিন্টিং ডিজিটালাইজড করার উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছেন এসএম আল মাহমুদ অনিক।

দেশে কয়েক দশকের প্রিন্টিংয়ের ইতিহাস হলেও তার ধারণা কিছুটা ব্যতিক্রম। দেশের প্রেক্ষপটে প্রিন্টিংয়ের ডিজিটালাইজেশন খুব একটা চোখে পড়ে না। কিন্তু বাধা থাকলেও তরুণ উদ্যোক্তা অনিক সেটা করছেন।

পড়ালেখা শেষ করে চাকরির খোঁজ না করে তিনি গড়ে তুলেছেন অনলাইন প্রিন্টিং প্রতিষ্ঠান ‘প্রিন্টএগ্রাফি’।

অনলাইন প্রিন্টিংয়ে অনিকের ‘প্রিন্টএগ্রাফি’
নিজেদের অফিসে প্রিন্টএগ্রাফির কর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত

শুধু প্রিন্টিং নয়, পাশাপাশি প্যাকেজিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভিডিওগ্রাফি ও ওয়েব ডিজাইনসহ অনলাইনভিত্তিক বেশ কিছু সেবা দিচ্ছে তার প্রতিষ্ঠান।

অনিক জানান, ২০১৮ সালে তিনিসহ কয়েকজন তরুণ শুরু করেন প্রিন্টিং নিয়ে কাজ। সেটা পুরোটাই অনলাইনভিত্তিক। ধীরে ধীরে পরিসর বেড়েছে।

তিনি বলেন, ‘শুরুতে আমাদের নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আমাদের দেশে এখনও প্রিন্টিংয়ের বিষয়টি কম্পিউটারাইজড বা ডিজিটাল হয়ে ওঠেনি। ফলে প্রথম দিকে গ্রাহকের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়েছে।’

সেসব সমস্যা নিজেদের মতো করে কাটিয়ে উঠছেন তারা। এখন প্রিন্টএগ্রাফিতে ২৩ তরুণ কাজ করছেন বলে জানান অনিক।

পথচলার তিন বছরের মধ্যেই অনিকের প্রিন্টএগ্রাফি দেশের টপ ব্র্যান্ডসহ সরকারি বেশ কিছু কাজ করে সফলতা পেয়েছে বলে জানান তিনি।

অনিক বলেন, ‘খুব ছোট পরিসরে কাজ শুরু করেছিলাম। এত অল্প সময়ে এত বেশি সাড়া পাব ভাবিনি। এখন আমরা শুধু দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই কাজ করছি না, আমাদের কাজ এখন যাচ্ছে বিদেশেও।’

এরই মধ্যে লন্ডনে বেশকিছু প্রিন্টিং পণ্য রপ্তানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

অনিক জানান, তারা ক্যালেন্ডার, নোট-প্যাড, খাম, প্যাকেজিং, ভিজিটিং কার্ডসহ প্রিন্টিয়ের যেকোনো পণ্য খুচরা ও পাইকারিভাবে ছাপানোর কাজ করেন। সেটা অর্ডার থেকে শুরু করে কাজ, সবই হয় অনলাইনে।

‘চাইলে ক্রেতারা নিজেরা ডিজাইন দিতে পারেন। যদি চান, আমরাও তাদের মতো করে ডিজাইন করে দিই। এ জন্য আমাদের রয়েছে গ্রাফিক্স ডিজাইনার।’

অনলাইন প্রিন্টিংয়ে অনিকের ‘প্রিন্টএগ্রাফি’
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে অনিক ও অন্যরা। ছবি: সংগৃহীত

প্রিন্টএগ্রাফির কাজ লন্ডনেও যাচ্ছে বলে জানান অনিক। বলেন, ‘প্রিন্টিং কোনো কিছু যে রপ্তানি করা যায় সেটা আমরা জানতাম না। কিন্তু যখন প্রথম আমরা একটি অর্ডার পাই লন্ডন থেকে, সেই কাজটা করে তাদের পাঠাই। বিমানে করে দেশটিতে আমাদের প্রিন্টিংয়ের কাজ গেছে। তারপরও তাদের অনেক অর্থ সাশ্রয় হয়েছে।’

ভবিষ্যতে বিদেশ থেকে যেন আরও কাজের অর্ডার আসে সে জন্য লন্ডনে একটি অফিস খুলেছে প্রিন্টএগ্রাফি।

উদ্যোক্তা হলেও সমাজসেবামূলক কাজও করেন অনিক। ‘চিলড্রেন'স হ্যাভেন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন তিনি। যেখানে সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের শিক্ষা ও পুনর্বাসনে সহযোগিতা করা হয়।

আরও পড়ুন:
নারী উদ্যোক্তাদের স্টার্ট আপ ইকোসিস্টেম শেখাল আইডিয়া প্রকল্প
নিজের তৈরি বিমানে চড়ার স্বপ্ন আশিরের
১৭ লাখের সেতু বানাল গ্রামবাসীই
পথশিশুদের স্বপ্নদ্রষ্টা রাসেল
বাক্সে বাক্সে ঝিঙে-কুমড়া

শেয়ার করুন