পণ্য পরিবহনে ফুডপান্ডার ‘প্যান্ডাগো’

পণ্য পরিবহনে ফুডপান্ডার ‘প্যান্ডাগো’

প্রচলিত ডেলিভারি সার্ভিসে অগ্রিম বুকিং দেয়ার পর পণ্য পরিবহনে দুদিন পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হয়। সেখানে দূরত্বের ওপর নির্ভর করে পিক-আপের পর এক ঘণ্টারও কম সময়ে পণ্য ডেলিভারি দেবে প্যান্ডাগো।

দ্রুত পণ্য পরিবহনে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ‘প্যান্ডাগো’ নামে একটি লজিস্টিক সার্ভিস সলিউশন চালু করেছে অনলাইন ফুড এবং গ্রোসারি ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ফুডপান্ডা।

সেবাটি চালু হয়েছে দেশের ৬৪ জেলায়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার এ কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এই অন ডিমান্ড রাইডার সার্ভিস ব্যবহার করে রেস্তোরাঁ, চেইন স্টোরস, কনজ্যুমার গুডস কোম্পানি, এফ-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, হোমশেফ বা ক্যাটারিং সার্ভিসের মতো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুবই দ্রুত তাদের গ্রাহকের কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে পারবে।

প্যান্ডাগো সেবা পেতে কোনো কমিশনের প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়েছে ফুডপান্ডা। এমনকি ফুডপান্ডা প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত নয়, এমন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ডেলিভারি সেবা পেতে ফুডপান্ডা অফিশিয়াল ফেসবুক পেজের মাধ্যমে সাইন-আপ করতে পারবে।

একজন প্রতিনিধি প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে প্যান্ডাগোতে সাইন-আপ করা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে দেবেন। এরপর প্যান্ডাগোর পোর্টালে প্রবেশাধিকার পাবে ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে প্রয়োজন অনুযায়ী রাইডার রিকোয়েস্ট করতে পারবেন।

‘পে-পার-ইউস’ ভিত্তিতে ব্যবসায়ীরা প্যান্ডাগো ব্যবহার করতে পারবেন। এ প্ল্যাটফর্মে বেসিক চার্জ ৬০ টাকা ধরে দূরত্ব অনুযায়ী ডেলিভারি ফি নির্ধারণ করা হয়।

তবে বিভিন্ন শহরের জন্য ডেলিভারি চার্জ আলাদা হয়ে থাকে। লেনদেনের তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের জন্য এখানে রয়েছে রিয়েল টাইম ট্র্যাকিং সিস্টেম। পাশাপাশি, প্যান্ডাগো ব্যবহার করে গ্রাহকরা একটি ট্র্যাকিং লিংকের সাহায্যে তাদের পার্সেলের অবস্থানও জানতে পারবেন।

ফুডপান্ডা বাংলাদেশের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুবায়ের সিদ্দিকী বলেন, ‘অর্ডার করার পর পণ্য পেতে গ্রাহকরা এখন দুই থেকে তিন দিন অপেক্ষা করতে রাজি নন। ফলে বাজারে দ্রুত ডেলিভারির নির্ভরযোগ্য সেবার একটা ঘাটতি বিদ্যমান রয়েছে।

‘বছরের পর বছর ধরে ফুডপান্ডা একটি শক্তিশালী ও কার্যকর লজিস্টিক অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। এখন আমরা এই অবকাঠামোকে খাদ্য ও গ্রোসারি পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিস্তৃত করতে চাই। ফলে বিভিন্ন আকারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যারা একটি নির্ভরযোগ্য অন ডিমান্ড ডেলিভারি সেবা খুঁজছেন তারাও এ সেবা নিতে পারবেন।’

প্রচলিত ডেলিভারি সার্ভিসে অগ্রিম বুকিং দেয়ার পর পণ্য পরিবহনে দুদিন পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হয়। সেখানে দূরত্বের ওপর নির্ভর করে পিক-আপের পর এক ঘণ্টারও কম সময়ে পণ্য ডেলিভারি দেবে প্যান্ডাগো।

এখন পর্যন্ত প্রায় চার হাজারের বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্যান্ডাগো প্ল্যাটফর্মে সাইন আপ করেছে বলে জানিয়েছে ফুডপান্ডা। নিবন্ধিত অনেক প্রতিষ্ঠান পণ্য পরিবহনে নিয়মিত প্যান্ডাগো ব্যবহার করছেন।

যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ডেলিভারির জন্য থার্ড পার্টি ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানের সেবা গ্রহণ করে থাকে কিংবা যেসব রেস্টুরেন্টস ব্যবসায়ীদের নিজস্ব ডেলিভারি সক্ষমতা আছে তারাও ডেলিভারির চাহিদা বাড়লে জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত পণ্য ডেলিভারি দিতে প্যান্ডাগো ব্যবহার করতে পারবেন।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে ফুডপ্যান্ডায় খাবার ও মুদিপণ্য

শেয়ার করুন

মন্তব্য

৪১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের তালিকা নিয়ে দুদক যাচ্ছে হাইকোর্টে

৪১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের তালিকা নিয়ে দুদক যাচ্ছে হাইকোর্টে

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ফাইল ছবি

দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান জানান, অর্থ পাচারে সঙ্গে জড়িতদের নিয়ে দুদকের তৈরি করা তালিকাটি রোববার হাইকোর্টে জমা দেয়া হবে। সংবাদমাধ্যম, প্যারাডাইস পেপারস, পানামা পেপারসসহ বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের নাম সংগ্রহ করেছে দুদক।

হাইকোর্টে জমা দিতে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত ১৪টি প্রতিষ্ঠান ও ২৯ ব্যক্তির তালিকা তৈরি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের এ তালিকায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু ও তার স্ত্রী-সন্তান এবং আলোচিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের নামও রয়েছে।

জানা গেছে, বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রোববার এ তালিকা দেয়া হবে।

দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান গণমাধ্যমকে জানান, অর্থপাচারে সঙ্গে জড়িতদের নিয়ে দুদকের তৈরি করা তালিকাটি রোববার হাইকোর্টে জমা দেয়া হবে।

সংবাদমাধ্যম, প্যারাডাইস পেপারস, পানামা পেপারসসহ বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িতদের নাম সংগ্রহ করেছে দুদক।

জানা গেছে, তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে দুদক।

তালিকায় থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: মাল্টিমোড লিমিটেডের আবদুল আউয়াল মিন্টু ও তার স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়াল এবং তাদের সন্তান তাবিথ আউয়াল, তাফসির আউয়াল ও তাজওয়ার মো. আউয়াল, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মোগল ফরিদা ওয়াই ও শহিদ উল্লাহ, ঢাকার বনানীর চৌধুরী ফয়সাল, বারিধারার আহমাদ সামির, ব্রামার অ্যান্ড পার্টনার্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, ভেনাস ওভারসিজ কোং-এর মুসা বিন শমসের।

আরও আছেন ডাইনামিক এনার্জির ফজলে এলাহী, ইন্ট্রিপিড গ্রুপের কেএইচ আসাদুল ইসলাম, খালেদা শিপিং কোম্পানির জুলফিকার আহমেদ, নারায়ণগঞ্জের জেমিকো ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের তাজুল ইসলাম তাজুল, চট্টগ্রামের বেঙ্গল শিপিং লাইনসের মোহাম্মদ মালেক, ঢাকার সাউদার্ন আইস শিপিং কোম্পানির শাহনাজ হুদা রাজ্জাক, ওসান আইস শিপিং কোম্পানির ইমরান রহমান, শামস শিপিং লিমিটিডের মোহাম্মদ এ আউয়াল।

অর্থ পাচারের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আছে ঢাকার উত্তরার এরিক জনসন আনড্রেস উইলসন, ইন্ট্রিডিপ গ্রুপের ফারহান ইয়াকুবুর রহমান, জেমিকো ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের তাজুল ইসলাম, পদ্মা টেক্সটাইলের আমানুল্লাহ চাগলা, রাশিয়ার নিউটেকনোলজি ইনভেস্টমেন্টের মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান, মাল্টার মোহাম্মদ রেজাউল হক, নারায়ণগঞ্জের জেমিকো ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মোহাম্মদ কামাল ভূঁইয়া, তুহিন-সুমন, সেলকন শিপিং কোম্পানির মাহতাবা রহমান, নারায়ণগঞ্জের জেমিকো ট্রেড ইন্টান্যাশনালের ফারুক পালওয়ান ও আয়ারল্যান্ডের গ্লোবাল এডুকেশন সিস্টেমের মাহমুদ হোসাইনের নাম।

এছাড়া আছে বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী, সেতু করপোরেশনের চেয়ারম্যান উম্মে রুবানা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, ঢাকার আজমত মঈন, সালমা হক, এসএম জোবায়দুল হক, ড. সৈয়দ সিরাজুল হক, শরীফ জহির, তারিক ইকরামুল হক, ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা, প্রতিষ্ঠানটির তিন পরিচালক খন্দকার মঈনুল আহসান শামীম, আহমেদ ইসমাইল হোসেন এবং আখতার মাহমুদের নাম।

কর ফাঁকি দিয়ে নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়া, আইন অমান্য করে দেশের টাকা বিদেশে পাচার ও অবৈধ আয়ে বৈধ ক্ষমতার মালিক হওয়া নিয়ে ২০১৬ সালের এপ্রিলে পানামা পেপারস নামে দুর্নীতির সংবাদ আসে বিশ্ব গণমাধ্যমে।

বিশ্বের সাবেক ও বর্তমান শতাধিক রাষ্ট্রনায়ক ও রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, খেলোয়াড়, অভিনেতা, শিল্পী অনেকের নাম ছিল এ তালিকায়।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষন করে দুদক প্রথম পর্বে ৪৩ ব্যক্তি ও ২টি প্রতিষ্ঠান এবং দ্বিতীয় পর্বে ১৮ ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানসহ মোট ৬১ ব্যক্তি এবং ৭টি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায়।

বিদেশে পাচার করা অর্থ উদ্ধারের যথাযথ পদক্ষেপ চেয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম খান ও সুবীর নন্দী দাস।

ওই রিটের শুনানি শেষে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রুলসহ আদেশ দেন হাইকোর্ট। তারই ধারাবাহিকতায় এবার হাইকোর্টে অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তালিকা জমা দিতে যাচ্ছে দুদক।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে ফুডপ্যান্ডায় খাবার ও মুদিপণ্য

শেয়ার করুন

বস্ত্র খাতকে রক্ষায় সম্মাননা পেল সাত সংগঠন

বস্ত্র খাতকে রক্ষায় সম্মাননা পেল সাত সংগঠন

বিজিএমইএর পক্ষে ক্রেস্ট গ্রহণ করেন সংগঠনের সভাপতি ফারুক হাসান। ছবি: নিউজবাংলা

সাত সংগঠনের মধ্যে রয়েছে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। সংগঠনগুলোর নেতাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।

মহামারি করোনাভাইরাসের ছোবল থেকে বস্ত্র খাতকে রক্ষায় অবদানের জন্য রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ সাত সংগঠনকে সম্মাননা দিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।

শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘জাতীয় বস্ত্র দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাত সংগঠনের নেতাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মির্জা আজম।

বিজিএমইএর পক্ষে ক্রেস্ট গ্রহণ করেন সংগঠনের সভাপতি ফারুক হাসান। অন্য যে পাঁচ সংগঠন সম্মাননা পেয়েছে, সেগুলো হলো দেশের বস্ত্রশিল্প মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ, বায়িং হাউসগুলোর সংগঠন বিজিবিএ, স্পেশালাইজড টেক্সটাইল কারখানাগুলোর সংগঠন বিএসটিএমপিআইএ, টেরি টাওয়েল ও লিনেন উৎপাদন ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিটিটিএলএমইএ এবং বাংলাদেশ জাতীয় তাঁতি সমিতি।

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, “বস্ত্র খাতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বিশেষ প্রণোদনার কারণে এ খাত জাতীয় রপ্তানির ধারাকে করোনাভাইরাসের ক্ষতিকর প্রভাবমুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছে। বস্ত্রশিল্পের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের গতি বেগবান করা এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদাকে সামনে রেখে জাতীয় বস্ত্র দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য ‘বস্ত্র খাতের বিশ্বায়ন, বাংলাদেশের উন্নয়ন’।”

তিনি বলেন, বস্ত্র খাতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে সরকারি পর্যায়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, তাঁত প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং ফ্যাশন ডিজাইন ইনস্টিটিউট পরিচালিত হচ্ছে। বস্ত্র খাতে দক্ষ জনবলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এ ধরনের আরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য মসলিনকে বড় পরিসরে বাণিজ্যিক রূপদানের জন্য ‘ঢাকাই মসলিন হাউস’ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘পোশাকশিল্প বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আরও বেশি অবদান রাখছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপ ব্যাপকভাবে শিল্প খাতের ওপর নির্ভর করবে, যেখানে পোশাকশিল্প মুখ্য ভূমিকা পালন করবে।

‘বিজিএমইএ বাংলাদেশের পোশাক খাতের সব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সব উপায় খুঁজে বের করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শিল্পটি ক্রমবর্ধমানভাবে পণ্যের ধরন বিস্তৃতকরণ, বিশেষ করে উচ্চমূল্য সংযোজন এবং নন-কটন পোশাক, বাজার বৈচিত্র্যকরণ, দক্ষতা অর্জন ও দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত আপগ্রেডেশন এবং পণ্য উন্নয়ন ও অপটিমাইজেশন প্রক্রিয়ায় উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগ বাড়াচ্ছে।’

এর আগে জাতীয় বস্ত্র দিবস ২০২১ উদ্‌যাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালিতে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, বস্ত্র ও পাট সচিব আব্দুর রউফ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম, বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. নুরুজ্জামান, বিটিএমএর সভাপতি মোহাম্মদ আলী, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বস্ত্র খাতের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতিনিধিসহ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে ফুডপ্যান্ডায় খাবার ও মুদিপণ্য

শেয়ার করুন

বাণিজ্য উন্নয়নের মহাপরিকল্পনায় এফবিসিসিআই

বাণিজ্য উন্নয়নের মহাপরিকল্পনায় এফবিসিসিআই

সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন তুলে ধরেন আগামীর বাণিজ্য পরিকল্পনা। ছবি: সংগৃহীত

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার পর বাংলাদেশের জন্য বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও রপ্তানি খাতে চাহিদা তৈরি হবে নতুন পণ্যের। অর্থনীতির আকারও বড় হবে।'

আগামী দশকের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির চাহিদা বিবেচনায় কর্মকৌশল নির্ধারণ করছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই)। এ জন্য ১০ বছর মেয়াদি একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলছে।

রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শনিবার এ তথ্য জানান সংগঠনটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার পর বাংলাদেশের জন্য বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও রপ্তানি খাতে চাহিদা তৈরি হবে নতুন পণ্যের। অর্থনীতির আকারও বড় হবে। সরকারের নেয়া নানা অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন শেষ হলে বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে। তখন পণ্য পরিবহন, বন্দরের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।

‘সবকিছুকে বিবেচনায় রেখে এফবিসিসিআই আগামী দশকের অর্থনীতির চাহিদার উপযোগী কর্মকৌশল নির্ধারণ করতে ১০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করছে।’

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘এলডিসি-পরবর্তী বৈশ্বিক চাহিদা মোকাবিলায় খাতভিত্তিক সক্ষমতা বৃদ্ধি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে একটি ইনোভেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে এফবিসিসিআই। আগামী মাসেই এ-সংক্রান্ত ধারণাপত্রটি সরকারের কাছে জমা দেয়া হবে।’

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ নিয়ে এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে কাজ করছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়- এমন তথ্য দিয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, ‘চলমান এ কার্যক্রম শেষ হলে দেশের বর্জ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকৃত পণ্যের উৎপাদন করা হবে।’

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশি প্রবাসীদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্ম দেশ দুটির মূল অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। কিন্তু তাদের বাংলাদেশ সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে ওই সব প্রবাসী উদ্যোক্তাকে যুক্ত করতে পারলে দেশ দুটির মূল বাজার ধরা সহজ হবে।’

এ লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মূল ধারার বাণিজ্য সংগঠনের সঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথাও জানান তিনি।

এ ছাড়া তৈরি পোশাকের বাইরে নতুন নতুন সম্ভাবনাময় পণ্যের তালিকা, সেগুলো রপ্তানির সুযোগ ও প্রতিবন্ধকতা বিষয়ে গবেষণা করতে এইচএসবিসির সঙ্গেও সমঝোতা স্মারক সই করেছে এফবিসিসিআই।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, এসব কার্যক্রমের ফলে এলডিসি-পরবর্তী সময়ের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির চাকা বেগবান হবে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এফিবিসিসিআইয়ের আয়োজনে ‘বিজয়ের ৫০ বছর: লাল সবুজের মহোৎসব’ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে। ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এ উৎসব।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও লাখো শহীদের প্রতি ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতাবোধের প্রকাশ হিসেবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মহোৎসব করছে এফবিসিসিআই।’ তিনি সবাইকে এ মহোৎসবে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহসভাপতি এম এ মোমেন, মো. আমিনুল হক শামীম, মো. আমিন হেলালী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, এম.এ রাজ্জাক খান রাজসহ বর্তমান কমিটির পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে ফুডপ্যান্ডায় খাবার ও মুদিপণ্য

শেয়ার করুন

ওমিক্রন রোধে পোশাক কারখানায় ১৭ নির্দেশনা

ওমিক্রন রোধে পোশাক কারখানায় ১৭ নির্দেশনা

কর্মক্ষেত্রে সার্বক্ষণিকভাবে শ্রমিক-কর্মচারীদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে সদস্য কারখানাগুলোর প্রতি এ নির্দেশনা দিয়েছে বিজিএমইএ। এ ছাড়া সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অন্যান্য লোকসমাগম এড়িয়ে চলতে শ্রমিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মহামারি করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। ধরনটি দ্রুত ছাড়তে পারে- এ আশঙ্কায় দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক কারখানাগুলোকে ১৭টি নির্দেশনা দিয়ে তা মানতে বলেছে পোশাকশিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ।

নিজেদের সদস্য কারখানার প্রতি গত সপ্তাহে দেওয়া এ নির্দেশনায় বিজিএমইএ বলেছে, পোশাক কারখানায় উৎপাদন শুরু ও ছুটির সময় শ্রমিকদের ভিড় এড়ানোর জন্য ভিন্ন ভিন্ন সময় নির্ধারণে জোর দিতে হবে। তা ছাড়া শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচলের ব্যবস্থা করা দরকার। সম্ভব হলে বিভিন্ন বিভাগের কর্মঘণ্টার জন্য আলাদা শিফটের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। কারখানায় প্রবেশের সময় শ্রমিকদের দেহের তাপমাত্রা পরিমাপ এবং প্রয়োজনে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠাতে হবে।

কারখানায় প্রবেশের সময় প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় শ্রমিকদের হাত ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত সাবান-পানির ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দিয়েছে বিজিএমইএ। এ ছাড়া কাজের জায়গায় শ্রমিকদের ভিড় এড়িয়ে চলার জন্য শ্রমিকদের উৎসাহিত করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া দুপুরের খাবারের বিরতিসহ অন্যান্য বিরতির সময় বিভিন্ন বিভাগের শ্রমিকদের আলাদা আলাদা সময় নির্ধারণ করতে হবে।

কর্মক্ষেত্রে সার্বক্ষণিকভাবে শ্রমিক-কর্মচারীদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে সদস্য কারখানাগুলোর প্রতি এ নির্দেশনা দিয়েছে বিজিএমইএ। এ ছাড়া সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অন্যান্য লোকসমাগম এড়িয়ে চলতে শ্রমিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিজিএমইএর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, করোনা সংক্রমণের লক্ষণ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে আইসোলেশনে রাখতে হবে। তার নমুনা পরীক্ষার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে। পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ হলে রোগীকে আইসোলেশনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রোগীর সংস্পর্শে আসা অন্যদের কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করতে হবে কারখানা কর্তৃপক্ষকে।

বিজিএমইএর সচিব ফয়জুর রহমান স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তৈরি পোশাকশিল্পে করোনার সংক্রমণের মাত্রা ছিল খুবই সামান্য। সরকারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা গাইডলাইন ও হেলথ প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছিল। অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন ৩৮ দেশে শনাক্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই ধরনে আক্রান্ত কারোর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এসব তথ্য জানিয়েছে। ডব্লিউএইচও বলেছে, ওমিক্রন ধরনের সংক্রমণে এখনো কোনো মৃত্যুর কথা তারা জানাতে পারেনি। তবে নতুন এ ধরন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় সব দেশকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।

ডব্লিউএইচও বলছে, আগামী কয়েক মাসে ইউরোপে মোট কোভিড সংক্রমণের অর্ধেকই হতে পারে ওমিক্রনের কারণে।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে ফুডপ্যান্ডায় খাবার ও মুদিপণ্য

শেয়ার করুন

১১০ টাকা লিটারে তেল ও ৫৫ টাকা কেজিতে চিনি বিক্রি করবে টিসিবি

১১০ টাকা লিটারে তেল ও ৫৫ টাকা কেজিতে চিনি বিক্রি করবে টিসিবি

টিসিবি বলেছে, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে এবং করোনাকালীন সাধারণ আয়ের জনগণের সহায়তার জন্য দেশের সব মহানগর, জেলা ও উপজেলায় ৪০০ থেকে ৪৫০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে পেঁয়াজ, মসুর ডাল, চিনি ও সয়াবিন তেল বিক্রি করা হবে। ২৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার পর্যন্ত কার্যক্রম চলবে।

কম আয়ের মানুষের জন্য আবারও কম দামে পণ্য বিক্রি শুরু করছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

রোববার থেকে সংস্থাটি আবারও সারা দেশে তাদের ট্রাকে বিক্রি কার্যক্রম শুরু করবে। টিসিবির ট্রাক থেকে ১১০ টাকা দরে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারবেন ক্রেতারা। পেঁয়াজ কিনতে পারবেন ৩০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া চিনি ও মসুর ডালও কম দামে বিক্রি করবে সংস্থটি।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে ষষ্ঠবারের মতো এ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে টিসিবি। গত ১ নভেম্বর থেকে টিসিবির ট্রাকে বিক্রি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এক মাস বিরতির পর রোববার থেকে ফের এ কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দিয়ে শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিসিবি বলেছে, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে এবং করোনাকালীন সাধারণ আয়ের জনগণের সহায়তার জন্য দেশের সব মহানগর, জেলা ও উপজেলায় ৪০০ থেকে ৪৫০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে পেঁয়াজ, মসুর ডাল, চিনি ও সয়াবিন তেল বিক্রি করা হবে। ২৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার পর্যন্ত এ বিক্রয় কার্যক্রম চলবে। তবে শুক্রবার এ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

টিসিবির ট্রাক থেকে একজন ক্রেতা প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকায়, মসুর ডাল ৬০ টাকায়, সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১১০ টাকায় এবং পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩০ টাকায় কিনতে পারবেন। একজন ক্রেতা সর্বনিম্ন দুই থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি পেঁয়াজ, দুই কেজি মসুর ডাল, দুই কেজি চিনি ও দুই লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারবেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

টিসিবি প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের যে খুচরা বাজারদর প্রকাশ করে থাকে তাতে দেখা যায়, শনিবার রাজধানীর বাজারগুলোয় প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। চিনি প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে, ৭৫-৮০ টাকা। বড় দানার প্রতি কেজি মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে ৮৫-৯০ টাকা। মাঝারি মানের মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে ৯৫-১০০ টাকা। আর ছোট দানার সবচেয়ে ভালো মানের মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে ১২০-১৩০ টাকা।

পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০-৫৫ টাকা কেজি দরে।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে ফুডপ্যান্ডায় খাবার ও মুদিপণ্য

শেয়ার করুন

সিটি ব্যাংকের ‘সিটি ইসলামিক’ সেবা চালু

সিটি ব্যাংকের ‘সিটি ইসলামিক’ সেবা চালু

শনিবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে সিটি ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য নতুন রূপে ইসলামী ব্যাংকিং সেবা ‘সিটি ইসলামিক’ সেবার উদ্বোধন করা হয়।

মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘সিটি ব্যাংকের গ্রাহকরা এখন থেকে দেশব্যাপী দেড়শটির মতো শাখা, উপশাখা, সিটিজেম ও এসএমই সেন্টারগুলোয় প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি পরিপূর্ণ শরিয়াহ ও উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন ইসলামী ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। শুধু তা-ই নয়, সিটি ব্যাংকের বিশ্বমানের ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাপ সিটিটাচের মাধ্যমেও গ্রাহকরা ইসলামী ব্যাংকিং সেবা নিতে পারবেন।’

পরিপূর্ণ শরিয়াহ ও উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন ইসলামী ব্যাংকিং সেবা ‘সিটি ইসলামিক’ চালু করেছে সিটি ব্যাংক লিমিটেড।

বেসরকারি এ ব্যাংকটির গ্রাহকরা এখন সারা দেশের সব শাখা, উপশাখা, সিটিজেম ও এসএমই সেন্টার থেকে প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি আধুনিক ইসলামী ব্যাংকিং সেবা পাবেন। এত দিন স্বল্প পরিসরে পরিচালিত হয়ে আসা ‘সিটি মানারাহ’কে আধুনিক রূপ দিতে এই সেবা নিয়ে এসেছে সিটি ব্যাংক।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে সিটি ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য নতুন রূপে ইসলামী ব্যাংকিং সেবা ‘সিটি ইসলামিক’ সেবার উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার, ভাইস চেয়ারম্যান হোসেন খালেদ, শরিয়া সুপারভাইজরি কমিটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসাইন মোল্লা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মারুফ।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘সিটি ব্যাংকের গ্রাহকরা এখন থেকে দেশব্যাপী দেড়শটির মতো শাখা, উপশাখা, সিটিজেম ও এসএমই সেন্টারগুলোয় প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি পরিপূর্ণ শরিয়াহ ও উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন ইসলামী ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। শুধু তা-ই নয়, সিটি ব্যাংকের বিশ্বমানের ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাপ সিটিটাচের মাধ্যমেও গ্রাহকরা ইসলামী ব্যাংকিং সেবা নিতে পারবেন।

‘পাশাপাশি আমরা সিটি ইসলামিক গ্রাহকদের জন্য নিয়ে এসেছি দেশের প্রথম আমেরিকান এক্সপ্রেস ইসলামিক ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড।’

মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘সিটি ইসলামিক গ্রাহকদের জন্য রয়েছে শরিয়াহভিত্তিক সব ধরনের ডিপোজিট ও বিনিয়োগ সুবিধা। সুদবিহীন মুনাফা বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য সিটি ইসলামিক গ্রাহকদের মাঝে ইনভেস্টমেন্ট ইনকাম শেয়ারিং রেশিও পদ্ধতিতে মুনাফা প্রদান করা হবে।’

‘অন্য ব্যাংকের মতো সিটি ইসলামিক ডিপোজিট গ্রাহকদের জন্য পূর্বনির্ধারিত মুনাফার হার ঘোষণা করে না। এই সিটি ইসলামিক ব্যাংকিং সিস্টেমে গ্রাহকরা তাদের ইসলামিক বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাত্যহিক জীবনের ব্যাংকিং প্রয়োজন মেটাতে পার্সোনাল ব্যাংকিং থেকে শুরু করে করপোরেট ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।’

ব্যাংকের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার বলেন, ‘অর্থনীতিতে এখন ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই গ্রাহকদের কথা বিবেচনা করে পূর্ণাঙ্গভাবে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং সেবাদানের লক্ষ্যে আমরা ‘সিটি ইসলামিক’ সেবা চালু করলাম।’

তিনি বলেন, ‘২০০৩ সালে আমরা ‘সিটি মানারাহ’ ইসলামী ব্যাংকিং সেবা চালু করেছিলাম; সেটা ছিল স্বল্প পরিসরে। আজ আমরা আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন পরিপূর্ণ ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘সিটি ইসলামিক’ চালু করলাম। এর মাধ্যমে আমাদের সারা দেশের গ্রাহক ইসলামী ব্যাংকিং সেবা পাবেন।’

সিটি ব্যাংকের ‘সিটি ইসলামিক’ সেবা চালু
ইসলামী ব্যাংকিং সেবা ‘সিটি ইসলামিক’ চালু করেছে সিটি ব্যাংক।

ভাইস চেয়ারম্যান হোসেন খালেদ বলেন, ‘আমরা আরও এগিয়ে যেতে চাই। দেশের অর্থনীতিতে আরও বেশি অবদান রাখতে চাই। আর সে লক্ষ্য সামনে রেখেই আমরা ‘সিটি ইসলামিক’ সেবা নিয়ে এসেছি।’

গ্রাহকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই সিটি ব্যাংকের পাশে থেকে আমাদের আজকের অবস্থানে আসার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ভবিষ্যতেও আমাদের পাশে থাকবেন।’

আরও পড়ুন:
লকডাউনে ফুডপ্যান্ডায় খাবার ও মুদিপণ্য

শেয়ার করুন

ব্যাংকারদের চোখে আগামীর ব্যাংকিং

ব্যাংকারদের চোখে আগামীর ব্যাংকিং

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে ব্যাংকিং সেবায়। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মোহম্মদ শামস্-উল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখন অনেক ক্যাশলেস ব্যাংকিং করি। প্লাস্টিক কার্ডের ব্যবহার বেড়েছে। ক্যাশলেস ব্যাংকিংয়ের দিকে দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছি। একসময় দেখা যাবে নগদ টাকা ব্যবহার হচ্ছে না। ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিটকয়েন, ইথেরিয়াম এগুলোর ব্যবহার বাড়বে।’

আন্তর্জাতিক ব্যাংক দিবস আজ। এ উপলক্ষে দেশের চারটি ব্যাংকের চার শীর্ষ কর্মকর্তা তুলে ধরেছেন আগামীর ব্যাংক ভাবনা। পরিবর্তনশীল বিশ্বে প্রযুক্তির বিপ্লবের মধ্যে ব্যাংকিং সেবার ধরন আগামীতে কী হতে যাচ্ছে, তারা তা তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত আগামীতে কোথায় যেতে পারে, কোথায় যাওয়া উচিত, সে বিষয়েও ভাবনা তুলে ধরেছেন তারা।

পৃথিবীর ৫০০ ব্যাংকের মধ্যে যেন আমাদের ব্যাংক থাকে

ড. আহসান এইচ মনসুর, চেয়ারম্যান, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড

আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় ব্যাংকের সুযোগ-সুবিধা আগামীতে যাতে প্রত্যেক বাঙালি পরিবার পায়, সে ব্যাপারে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রত্যেক পরিবার যেন ব্যাংকিং খাতের আওতায় আসে।

আমাদের দেশে অনেক ব্যাংক থাকলেও বড় আকারের কোনো ব্যাংক নেই। বিশ্ব পরিমাপে কোনো ব্যাংক এখনও তহবিল করতে পারেনি। কারণ আমাদের চাহিদার তুলনায় ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি।

আমাদের একটি ব্যাংকের সর্বোচ্চ যে সম্পদ আছে, সেটা আপেক্ষিকভাবে অনেক কম। বহির্বিশ্বে ব্যাংকে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের ওপর সম্পদ আছে। আমাদের একটি ব্যাংকের সর্বোচ্চ সম্পদ ১০ বিলিয়ন ডলারেরও কম।

আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাশীল ব্যাংকের প্রয়োজন। পৃথিবীর অন্তত ৫০০টি ব্যাংকের মধ্যে যেন একটি আমাদের ব্যাংক হয়। সেই মাপের ব্যাংক আমাদের দরকার।

ব্যাংকারদের চোখে আগামীর ব্যাংকিং
আহসান এইচ মনসুর

ব্যাংক খাতে গভর্নেন্সে (সুশাসন) বিশাল সমস্যা বিদ্যমান। এ সমস্যা ব্যাংক খাতের প্রবৃদ্ধিকে কমিয়ে ফেলবে। ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বিষয়টিতে অবশ্যই নজর দিতে হবে।

টেকনোলজি বা প্রযুক্তিগতভাবে আমরা খুব বেশি এগোতে পারিনি। প্রযুক্তির খরচ অনেকটা ফিক্সড। ছোট ব্যাংকের জন্য যে খরচ, বড় ব্যাংকগুলোর জন্যেও একই খরচ করতে হয়। বিদেশি ব্যাংকগুলোর সম্পদের পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণে তারা এটা ভালোভাবে করতে পারে, কিন্তু আমাদের দেশের ব্যাংকের আকার ছোট, সম্পদ কম। এ জন্য এ খাতে পর্যাপ্ত ব্যয় করার সামর্থ্য ব্যাংকের নেই। ফলে প্রযুক্তিগত ব্যাংকিং প্রতিযোগিতায় আমরা পিছিয়ে পড়ব। সামনের দিনে এ ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যাংকের বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

যে ব্যাংকগুলো ছোট, মূলধন কম, তাদের জন্য প্রযুক্তি খাতের বিশাল ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন। ফলে তারা এটা করতে পারবে না।

টেকনোলজির পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তায় জোর দিতে হবে। এখানেও ছোট ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে সমস্যা হবে। কারণ এটাও ব্যয়বহুল। আর আমাদের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা খুবই সীমিত। সাইবার হামলা মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এ খাতে বিনিয়োগ করতে হবে। সাইবার হামলার বিষয়ে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। সাইবার হামলা সব দেশেই হয়। আমাদের এখানেও হয়েছে, আগামীতেও হবে। এ জন্য এসব বিষয়ে প্রস্তুতি আগে থেকে নিতে হবে।

ব্যাংক বেশি হওয়ার কারণে দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাব দেখা গেছে। আবার ব্যাংকে সুশাসনের ঘাটতি থাকায় দক্ষভাবে পরিচালনাও সম্ভব হয় না। আগামীতে এদিকে আরও জোর দিতে হবে।

টাকাহীন যুগের জন্য ব্যাংককে প্রস্তুত হতে হবে

মোহম্মদ শামস্-উল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, অগ্রণী ব্যাংক

আদিকাল থেকে ব্যাংকিং পদ্ধতি বিভিন্নভাবে বিবর্তিত হয়ে আজ এ পর্যায়ে এসেছে। আমূল পরিবর্তন আগামী কয়েক বছরের মধ্যে হয়ে যাবে।

আমাদের গতানুগতিক ব্যাংকিং সিস্টেমে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। আমরা এখনও আগের পদ্ধতিতে ব্যাংকের মূল্যায়ন করি। ব্যাংকের কয়টি শাখা, সেটা দেখে আমরা এখনও বলি কোন ব্যাংক কত বড়। যে ব্যাংকের শাখা যত বেশি, সেই ব্যাংককে তত বড় ব্যাংক হিসেবে পরিমাপ করা হয়। সামনের দিনে এমন থাকবে না। ব্যাংকের মোবাইল ওয়ালেট কত, মোবাইল ব্যাংকিং কত, ডিজিটাল প্লাটফর্ম কেমন, ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা– এসব বিষয় মূল্যায়ন করা হবে।

আমরা এখন অনেক ক্যাশলেস ব্যাংকিং করি। প্লাস্টিক কার্ডের ব্যবহার বেড়েছে। ক্যাশলেস ব্যাংকিংয়ের দিকে দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছি। একসময় দেখা যাবে নগদ টাকা ব্যবহার হচ্ছে না। ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিটকয়েন, ইথেরিয়াম এগুলোর ব্যবহার বাড়বে।

আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো নগদ টাকার ব্যবহার করবেই না। সব ডিজিটাল হয়ে যাবে।

আমাদের এখন থেকে সেদিকে আগ্রহী হতে হবে। কারণ গ্রাহক উপস্থিত থেকে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ এখন কমে গেছে। অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতিও আসবে। তখন মেশিন অনেক কাজ করবে, যেটা এখন মানুষকে করতে হয়। একসময় কারেন্সিও থাকবে না। তখন ব্যাংকিং পদ্ধতি অন্য রকম হবে।

ব্যাংকারদের চোখে আগামীর ব্যাংকিং
মোহম্মদ শামস্-উল ইসলাম

সেই আমূল পরিবর্তনে নিজেদের মানিয়ে নিতে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। কারণ, ব্যাংকিং সেবা পদ্ধতি অন্য রকম হলে সেই পরিবেশে নিজেদের টিকে থাকা বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রযুক্তির সঙ্গে খাপখাইয়ে নিতে সক্ষমতার বিকল্প নেই। আমাদের হয়তো রাতারাতি সব কিছু পরিবর্তন হবে না। কিন্তু ধীরে ধীরে এসব চালু হবে।

তখন ব্যাংকের এত শাখাও থাকবে না। কারণ একটি শাখা চালাতে অনেক খরচ। সেখানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে এসব কাজ করা যাবে। ঘরে বসে মানুষ যেমন ব্যাংকের অনেক সেবা পাচ্ছে, তেমনি ঘরে বসে ব্যাংকিং সেবাও দেয়া যাবে।

ব্যাংকিং সেবাতেও প্রযুক্তির বিস্ফোরণ দেখতে চাই

মো. এহসান খসরু, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড

স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় মালিকানার চারটি আর বিশেষায়িত ব্যাংক ছিল দুটি। তখন ৭ কোটি মানুষের দেশে ছয়টি ব্যাংক পর্যাপ্ত ছিল না। ব্যাংকিং চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এখন সব মিলিয়ে ৬১টি ব্যাংক হয়েছে। কিন্তু ব্যাংকের সংখ্যা বাড়লেও চাহিদা তৈরি করার তেমন উদ্যোগ ব্যাংকগুলো নিতে পারেনি।

প্রান্তিক জনগণের কাছে ব্যাংক সেভাবে যেতে পারেনি। ইনোভেটিভ ব্যাংকিং হচ্ছিল না। ফলে ব্যাংকের চাহিদা তৈরির জন্য ইনক্লুসিভ ব্যাংকিং সেবা শুরু হলো। প্রান্তিক মানুষকে ব্যাংকসেবার আওতায় আনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন প্রণোদনা দেয়া শুরু করে। এরপর থেকে কৃষি ও এসএমই ঋণ, রেমিট্যান্সে প্রণোদনা– সব সেবা ব্যাংকের মাধ্যমে দেয়া শুরু হয়।

ব্যাংকের চাহিদা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন সেবা চালু হলো। এতে অধিকসংখ্যক মানুষ ব্যাংকের সুবিধাগুলো নেয়া শুরু করে। ফলে অনেক মানুষ ব্যাংক সেবার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হলো।

ব্যাংকগুলোও নিজ উদ্যোগে সীমিত ক্ষমতায় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংক কার্যক্রম চালু করে। কিন্তু বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাংকের সেবা পৌঁছে দেয়ার সক্ষমতা সব ব্যাংকের নেই। ফলে অনেক ধরনের সেবা চালু হলেও ইনক্লুসিভ ব্যাংকিংয়ের পরিপূর্ণতা এখনও আসেনি।

ব্যাংকারদের চোখে আগামীর ব্যাংকিং
মো. এহসান খসরু

সামনের দিনে ব্যাংকিং খাতের ফিন্যানশিয়াল ইনক্লুশনের ক্ষেত্রে টেকনোলজির অবকাঠামো সরকারিভাবে আসা দরকার। কারণ একটার পর একটা ধাক্কা আসবে। করোনার পর আসছে ওমিক্রন। আগের মতো অর্থনীতিতে প্রভাব পড়লে ব্যাংকেও তার আঘাত লাগবে।

সামনের দিনে এসব মহামারি মেকাবিলার জন্য আরও প্রস্তুতি নিতে হবে। এই মুহূর্তে সব মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হবে। কারণ টিকা দেয়া না হলে মানুষের চলাচলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মুভমেন্ট কমে যায়।

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ট্যাক্সি কোম্পানি উবার, কিন্তু এটা দেখা যায় না। সবচেয়ে বড় হোটেল এয়ার বিএনবি, এটাও দেখা যায় না। এগুলো টেকনোলজির বিস্ফোরণ। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এগুলো পরিচালনা করা হয়।

সামনের দিনে ব্যাংকিং সেবাতেও এ জাতীয় টেকনোলজির বিস্ফোরণ দেখতে চাই, যে সেবা দেখা যাবে না, কিন্তু টেকনোলজির অবকাঠামোর কারণে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে যাবে।

এ অবকাঠামোর খরচ বহন করার সামর্থ্য সব ব্যাংকের নেই। ব্যাংকিং সিস্টেমে ইন্টিগ্রেটেড উপায়ে টেকনোলজিকে এগিয়ে নিতে হবে। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে প্রান্তিক পর্যায়ে এটা করতে হবে।

টেকনোলজির মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষ যেন সরাসরি ব্যাংক সেবা পেতে পারে, সে ব্যবস্থা করা দরকার।

আগামী দিনে ‘ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের’ শাস্তি দিতে দেশে শক্তিশালী আইন হচ্ছে। ব্যাংকগুলোই ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের চিহ্নিত করবে। কিন্তু আইন যদি সাপোর্টিভ না হয়, ক্লায়েন্ট যদি রিট করে দেয়, তাহলে আর কাজ হয় না। এ জন্য আইন শক্তিশালী করা হচ্ছে।

পাশাপাশি আদালতে কোনো রিট যেন না হয়, সেদিকে দেখতে হবে। আইন যেন সরাসরি ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিপক্ষেই থাকে।

ব্যাংকিং সেবা সব মানুষের কাছে পৌঁছাবে

মো. আরফান আলী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড

আমরা লেজার বুক মার্কিং দিয়ে ব্যাংকসেবা শুরু করেছিলাম। স্বাধীনতার পর ’৯০-এর দশক পর্যন্ত এভাবেই চলে। এর পরই কিছু কিছু ব্যাংক অনলাইন লেনদেন চালু করে।

২০০০ সালের পর থেকে যে পরিবর্তন হয়েছে, সেটা লক্ষণীয়। ব্যাংকগুলোর প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। কম্পিউটার ও এমআইএস ব্যাংকিং (ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) সফটওয়্যার ব্যবহার অনেক বেড়েছে। পরবর্তীকালে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন চলছে।

আমরা এখন পরিবর্তনের সময়ে অবস্থান করছি। বিশেষ করে ব্যাংকিং রেগুলেশনে যেমন অনেক পরিবর্তন আসছে, পাশাপাশি ব্যাংকিং পদ্ধতিরও অনেক পরিবর্তন আসছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো ডিজিটাইজেশনের যুগে আমরা প্রবেশ করেছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ স্লোগানের সঙ্গে ব্যাংকিং সেবাও পুরো ডিজিটাল করার পরিকল্পনা সব ব্যাংকেরই আছে।

ব্যাংকিং চ্যানেলে নতুন নতুন সেবা যুক্ত হচ্ছে। পারসোনাল (ব্যক্তি) ব্যাংকিংয়ে অনেক ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে একজন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সব লেনদেন সম্পন্ন করতে পারে। এর সঙ্গে এজেন্ট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং এবং বিভিন্ন পেমেন্ট সেবাও চালু আছে। সামনে এসব সেবা আরও বাড়বে।

ব্যাংকারদের চোখে আগামীর ব্যাংকিং
মো. আরফান আলী

বাংলাদেশের ব্যাংকের অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউস ও ন্যাশনাল পেমেন্ট সিস্টেমের আওতায় ব্যাংকিং সেবাকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে।

করপোরেট বিশ্বেও গ্রাহকের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা হয়েছে।

ভবিষ্যতে ব্যাংকিং সেবা সব মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। এখনও ৫০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ব্যাংক সেবার বাইরে আছে। তাদের কাছে প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাংকসেবা পৌঁছাতে হবে। এটা ব্যাংক কমিউনিটির দায়।

আমাদের সরকারের ফিন্যানশিয়াল ইনক্লুশন স্ট্রাটেজি পেপারে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মধ্যে সবার জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। ২০২৪ সালের মধ্যে জনসংখ্যার বিরাট অংশকে ব্যাংক সেবার আওতায় আনতে পারব এবং নতুন নতুন সেবা দিয়ে গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে পারব।

আমাদের ব্যাংকগুলো শহরভিত্তিক ছিল, কিন্তু এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ব্যাংকের সেবা পৌঁছে গেছে। এটা আরও ছড়িয়ে দিতে হবে।

আগামী দিনের ব্যাংক খাত আরও ভালো করবে বলে আমি আশা করি। সম্পদের সমৃদ্ধি আরও ভালো হবে। ক্যারিয়ার ব্যাংকিংও ভালো হবে। ব্যাংক খাতে কাজ করার সক্ষমতা আরও বাড়বে।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে ফুডপ্যান্ডায় খাবার ও মুদিপণ্য

শেয়ার করুন