২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকবে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর

বন্দর সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টাই খোলা

বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টাই খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। ছবি: নিউজবাংলা

পরীক্ষামূলকভাবে আগামী তিন মাসের জন্য বেনাপোল-পেট্রাপোল সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টাই খোলা রাখা হবে। এই নির্দেশিকা সফল হলে তা স্থায়ীভাবে চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

এশিয়ার সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল-পেট্রাপোল সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টাই খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। বাংলাদেশ ইতিবাচক সাড়া দিলে দুই দেশের নাগরিকরা ২৪ ঘণ্টাই এই বন্দর দিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন।

একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হবে রাত-দিন সব সময়। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ল্যান্ড পোর্ট অথরিটির পরিচালক অজিত কুমার সিং (অপারেশন) গত ২৫ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছেন। সেই নির্দেশিকা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ভারতীয় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

পরীক্ষামূলকভাবে আগামী তিন মাসের জন্য আপাতত নতুন এই নিয়ম চালু করা হবে। এই নির্দেশিকা সফল হলে তা স্থায়ীভাবে চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। তবে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে শুধু বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তে।

বর্তমানে সকাল ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পণ্য পরিবহন চালু রয়েছে। পাশাপাশি সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যাত্রী পরিষেবা চালু রয়েছে। এ সময়ের বাইরে কোনো যাত্রীর সীমান্ত পার হওয়ার যতই প্রয়োজন থাকুক না কেন, নির্দিষ্ট সময়ের পর ইমিগ্রেশন দপ্তর খোলা না থাকায় তাদের আটকে থাকতে হতো চেকপোস্ট এলাকায়। ফলে যাত্রী পরিষেবা ২৪ ঘণ্টার জন্যই চালু হলে হয়রানি কমবে দুই দেশের নাগরিকদের।

গত ৩১ আগস্ট এ বিষয়ে দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বর্ডার ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে একটি বৈঠক হয়। তারপরই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে বেনাপোলের ব্যবসায়ীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, ভারতের বনগাঁ পৌরসভার কালিতলা পার্কিংয়ের সিন্ডিকেট না ভাঙলে ২৪ ঘণ্টা পণ্য পরিবহনে আমদানি-রপ্তানিতে কোনো উপকারই আসবে না। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা ট্রাকগুলো বনগাঁর কালিতলা পার্কিংয়ে দিনের পর দিন আটকে রেখে ব্যবসায়ীদের নানাভাবে হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বর্তমানে ভারত থেকে আমদানি করা পণ্য চালানের একেকটি ট্রাক মাত্র ৬ কিলোমিটার দূর বনগাঁ থেকে বেনাপোল বন্দরে আসতে এক মাস থেকে দেড় মাস সময় লাগছে। ওপারের পার্কিংয়ের দৌরাত্ম্য কমাতে না পারলে ২৪ ঘণ্টা খোলা রেখে ব্যবসায়ীদের কোনো উপকারেই আসবে না। আগে যেখানে ৪০০ থেকে ৪৫০ ট্রাক পণ্য বেনাপোল বন্দরে আসত, এখন সেটা কমে ২৫০ থেকে ৩০০-এ দাঁড়িয়েছে।

ইন্দো-বাংলা চেম্বার অফ কমার্স সাবকমিটির পরিচালক মতিয়ার রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাণিজ্য আর চিকিৎসাসেবা নিতে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বিপুল যাত্রী যাতায়াত করে থাকে। বর্তমানে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যাত্রী পরিষেবা চালু রয়েছে ইমিগ্রেশনে। এ সময়ের বাইরে কোনো যাত্রীর সীমান্ত পার হওয়ার যতই প্রয়োজন থাকুক না কেন, নির্দিষ্ট সময়ের পর ইমিগ্রেশন দপ্তর খোলা না হওয়া অবধি তাদের আটকে পড়তে হতো চেকপোস্টে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল বন্দর ২৪ ঘণ্টা সচল রাখার। যাত্রী পরিষেবা ২৪ ঘণ্টার জন্য চালু হলে হয়রানি কমবে দুই দেশের নাগরিকদের।’

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, ‘বর্তমানে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে সপ্তাহে ৬ দিন আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য হয়। এ ছাড়া সরকারি ছুটির দিন বাণিজ্য বন্ধ থাকে। এখন সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা আমদানি-রপ্তানি চালু হলে হলে বাণিজ্যে গতি ফিরবে। এতে সরকারেরও রাজস্ব আয় বাড়বে।

‘তবে কালিতলা পার্কিংয়ের সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। এমন সিদ্ধান্তে উপকৃত হবে দুই দেশের মানুষ।’

এশিয়ার সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল-পেট্রাপোল। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য রপ্তানির পরিমাণ বাড়ানোর লক্ষ্যে বহির্বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে বছর তিনেক আগেই এই সীমান্ত দিয়ে ২৪ ঘণ্টার জন্য পণ্য পরিবহন পরিষেবা চালু করা হয়। তবে ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট দিয়ে ২৪ ঘণ্টার পণ্য পরিষেবা চালু থাকলেও করোনার কারণে লকডাউন পরিস্থিতিতে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনও বেশ কিছুদিনের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পণ্য পরিবহন চালু হয়েছে। এবার দুই দেশের মধ্যে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা চালু হবে যাত্রী পরিষেবাও। এর ফলে নানা প্রয়োজনে দুই দেশে মানুষই উপকৃত হবে। বাণিজ্য ও যাত্রী যাতায়াত দুই খাতেই প্রসার ঘটবে।

প্রতিবছর বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার আমদানি ও ৮ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি বাণিজ্য হয়ে থাকে ভারতের সঙ্গে। আমদানি বাণিজ্য থেকে সরকারের বছরে রাজস্ব আয় হয় ৬ হাজার কোটি টাকার মতো। আর এ পথে দুই দেশের মধ্যে বছরে প্রায় ১৮ লাখ যাত্রী যাতায়াত করে। ভ্রমণ খাতে সরকারের রাজস্ব আসে প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে মেডিক্যাল, বিজনেস ও স্টুডেন্ট ভিসায় যাত্রী যাতায়াত চালু রয়েছে। গত বছরের ১৩ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে ভ্রমণ ভিসা।

এ ব্যাপারে বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক মামুন তরফদার বলেন, ‘২৪ ঘণ্টা বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য চালুসহ ২৪ ঘণ্টা চেকপোস্ট খোলা রেখে যাত্রীসেবা দেয়ার ভারতীয় সিদ্ধান্ত শুনেছি। তবে এ-সংক্রান্ত কোনো পত্র আমরা পাইনি।’

তিনি বলেন, ‘দেশের স্বার্থে ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে আমরা প্রস্তুত আছি।’

আরও পড়ুন:
খরচ কমাতে বেনাপোল বন্দরে অক্সিজেন খালাস
অবৈধ পথে ভারতে ঘুরতে গিয়ে ছয় মাস পর দেশে ৩ তরুণ
বেনাপোল স্থলবন্দর অটোমেশনের আওতায়
করোনার সনদ থাকলে দেশে ফিরে কোয়ারেন্টাইন নয়
জন্মাষ্টমীতে বেনাপোলে বন্ধ আমদানি-রপ্তানি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মাস্টারকার্ড এক্সিলেন্স পুরস্কার পেল দারাজ

মাস্টারকার্ড এক্সিলেন্স পুরস্কার পেল দারাজ

মাস্টারকার্ডের পুরস্কার গ্রহণ করেন দারাজের কর্মকর্তা।

দারাজ বাংলাদেশের হেড অফ প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পেমেন্টস মঞ্জুরি মল্লিক বলেন, ‘মাস্টারকার্ড সারা বিশ্বের অন্যতম প্রধান পেমেন্ট পার্টনার এবং দারাজের আর্থিক কার্যক্রমে এর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।’

মাস্টারকার্ড এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২১ পেয়েছে দেশের বৃহত্তম অনলাইন মার্কেটপ্লেস দারাজ বাংলাদেশ।

‘এক্সিলেন্স ইন মাস্টারকার্ড বিজনেস (মার্চেন্ট)- অনলাইন ২০২০-২১’ বিভাগে এই পুরস্কার পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনার ৩০ বছর এবং দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপনের লক্ষ্যে মাস্টারকার্ড গত ১৮ নভেম্বর এক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. খুরশিদ আলম এবং গেস্ট অফ অনার ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের ‘চার্জ দি অ্যাফেয়ার্স’ হেলেন লা ফেইভ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্টনার ব্যাংকগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ফিনটেক পার্টনার, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সারা দেশের মার্চেন্টরা।

দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার খন্দকার তাসফিন আলম প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন।

এই অর্জনের ব্যাপারে দারাজ বাংলাদেশের হেড অফ প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পেমেন্টস মঞ্জুরি মল্লিক বলেন, ‘মাস্টারকার্ড সারা বিশ্বের অন্যতম প্রধান পেমেন্ট পার্টনার এবং দারাজের আর্থিক কার্যক্রমে এর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।

‘সম্মানজনক এই অ্যাওয়ার্ড অর্জন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। মাস্টারকার্ডের মতো নির্ভরযোগ্য পার্টনারদের সাথে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারবো বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন:
খরচ কমাতে বেনাপোল বন্দরে অক্সিজেন খালাস
অবৈধ পথে ভারতে ঘুরতে গিয়ে ছয় মাস পর দেশে ৩ তরুণ
বেনাপোল স্থলবন্দর অটোমেশনের আওতায়
করোনার সনদ থাকলে দেশে ফিরে কোয়ারেন্টাইন নয়
জন্মাষ্টমীতে বেনাপোলে বন্ধ আমদানি-রপ্তানি

শেয়ার করুন

ওমিক্রনে ফের বেসামাল বিশ্ব অর্থনীতি, আতঙ্ক দেশেও

ওমিক্রনে ফের বেসামাল বিশ্ব অর্থনীতি, আতঙ্ক দেশেও

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে আতঙ্ক বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। ছবি: নিউ ইয়র্ক টাইমস

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রমের বিষযটি সরকার পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন। অতিসংক্রামক এই ধরন শনাক্তের জেরে আবারও ধাক্কা লেগেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। ধস নেমেছে বিশ্বের বড় বড় পুঁজিবাজারে। ২৯ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় ৬৮ ডলারে নেমে এসেছে।

আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাংলাদেশেও। আবার কি বন্ধ হয়ে যাবে সবকিছু? থমকে যাবে পৃথিবী? আমদানি-রপ্তানিতে যে গতি ফিরে এসেছিল, তা কি থমকে দাঁড়াবে, ওলট-পালট হয়ে সব হিসাবনিকাশ? এ সব চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়েছে সরকার, ব্যবসায়ী-শিল্পপতি ও অর্থনিতিবিদদের।

পৌনে দুই বছরের করোনার ছোবলে তছতছ হয়ে যাওয়া বিশ্ব অর্থনীতি মাত্র ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল। তখনই করোনার নতুন ধরণ ‘ওমিক্রন’ নতুন সঙ্কটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বকে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের খবর বলছে, শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে ১০ শতাংশের বেশি। মার্কিন তেলের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দর ১৩ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৬৮ দশমিক ১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল বিক্রি হয়েছে ৭২ দশমিক ৭২ ডলারে।

২০২০ সালের এপ্রিলে করোনা মহামারির প্রথম দিকে রেকর্ড ধসের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামের এটাই সবচেয়ে বড় পতন।

মাত্র কয়েকদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আহ্বানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ সমন্বিতভাবে স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) বা কৌশলগত মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু যে আশা করা হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। বিশ্ববাজারে এর প্রভাব পড়েছে একেবারেই সামান্য। তবে করোনার নতুন ধরনের ছড়ানোর খবর সামনে আসতেই কমতে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম।

শুধু তেলের বাজারই নয়, ওমিক্রনের ধাক্কায় অস্থির হয়ে উঠেছে শেয়ারবাজারও। যুক্তরাষ্ট্রের ডো জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজের সূচক কমেছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। যা ২০২০ সালের অক্টোবরের পর থেকে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি। ইউরোপীয় শেয়ারবাজারগুলো বিগত ১৭ মাসের মধ্যে সবচেয়ে নিম্নমুখী ছিল। ইউরোপীয় বেঞ্চমার্ক স্টক্স ৬০০ এর লেনদেন শেষে হয়েছে সূচকে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ পতনের মাধ্যমে, যা ২০২০ সালের জুনের পর থেকে সর্বনিম্ন।

তবে সবচেয়ে বেশি বিপদ যাচ্ছে এয়ারলাইন ও ভ্রমণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর। শুক্রবার ক্রুজ পরিচালনাকারী কার্নিভাল করপোরেশন, রয়্যাল ক্যারিবিয়ান ক্রুজেস ও নরওয়েজিয়ান ক্রুজ লাইনের শেয়ারের দাম কমেছে ১০ শতাংশের বেশি। পাশাপাশি ইউনাইডেট এয়ারলাইনস, ডেল্টা এয়ারলাইন ও আমেরিকান এয়ারলাইনসের অবস্থাও ছিল প্রায় একই।

ঢাকার রেডিসন হোটেলে ২৮ ও ২৯ নভেম্বর দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন-২০২১ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল মাধ্যমে রোববার সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন।

সম্মেলন উপলক্ষে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

করোনার নতুন ধরনের (ওমিক্রন) কারণে বিনিয়োগ সম্মেলনের কোনো প্রভাব পড়বে কী-না এমন প্রশ্নে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘খুব একটা প্রভাব পড়বে না। কারণ ইতোমধ্যে অনেক অতিথি চলে এসেছেন। সৌদি সরকারের মন্ত্রী পর্যায়ের একটি বড় প্রতিনিধিদল এসেছে। অনেকেই ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন। তবে নতুন ভ্যারিয়েন্টের প্রকোপ আরও ৮-১০ দিন আগে দেখা দিলে সম্মেলনে সরাসরি অংশগ্রহণ হয়তো আমরা বন্ধ করতাম।’

ওমিক্রমের বিষযটি সরকার পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান সালমান।

অর্থনীতির গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অবস্থা বেশ খারাপ মনে হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে আরেকটি বড় ধাক্কা আসছে মনে হচ্ছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়বে।’

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘আমরা খুবই চিন্তিত। প্রতিটি মুহূর্ত উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে কাটছে আমাদের।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাত্রই আমরা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করছিলাম। রপ্তানি বেশ ভালই বাড়ছিল; প্রচুর অর্ডার আসছিল। কিন্তু ওমিক্রনের ধাক্কা আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে, কে জানে?’

আরও পড়ুন:
খরচ কমাতে বেনাপোল বন্দরে অক্সিজেন খালাস
অবৈধ পথে ভারতে ঘুরতে গিয়ে ছয় মাস পর দেশে ৩ তরুণ
বেনাপোল স্থলবন্দর অটোমেশনের আওতায়
করোনার সনদ থাকলে দেশে ফিরে কোয়ারেন্টাইন নয়
জন্মাষ্টমীতে বেনাপোলে বন্ধ আমদানি-রপ্তানি

শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের উন্নয়নকাজে ক্ষতিগ্রস্ত যারা

চট্টগ্রামের উন্নয়নকাজে ক্ষতিগ্রস্ত যারা

প্রকল্প এলাকায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উন্নয়ন কাজের জন্য ওই এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। এই অবস্থা দীর্ঘ হলে অস্তিত্ব সংকটে পড়বেন ব্যবসায়ীরা।’

চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড এলাকার প্রধান সড়কের পাশে ১০ বছর ধরে মায়ের দোয়া নামে একটি খাবার হোটেল চালাতেন তফাজ্জল হোসেন। প্রতিদিন এই হোটেলে বিক্রি হতো প্রায় ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু ২০১৯ সাল থেকে চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শুরু হলে কমতে থাকে বিক্রি। একপর্যায়ে নেমে আসে ১০ হাজার টাকার নিচে। ৫ লাখ টাকা লোকসান দিয়ে গত আগস্টে হোটেল ছেড়ে তার পাশেই ছোট্ট একটি দোকানে পানের ব্যবসা করেন তিনি।

তফাজ্জল জানান, পানের দোকানে দৈনিক ২ হাজার টাকা বিক্রিতে সামান্য যে আয় হয় তা দিয়ে চার সদস্যের পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।

তিনি বলেন, ‘হোটেল যখন ছিল তখন অনেক স্বচ্ছল ছিলাম। এখন অভাব-অনটনে দিন যাচ্ছে।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। তবে প্রকল্প এলাকায় আগে জমজমাট ব্যবসা করতেন এমন অনেক ব্যবসায়ীর অবস্থাই এখন তফাজ্জল হোসেনের মতো। প্রতিটি দোকানে বিক্রি কমেছে। দোকান ভাড়া পরিশোধ করে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই এখন দায় হয়ে পড়েছে।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে যেসব এলাকা দিয়ে গেছে সেইসব এলাকা; বিশেষ করে- নগরীর দেওয়ানহাট, চৌমুহনী, আগ্রাবাদ, ফকিরহাট, সল্টগোলা ক্রসিং, ইপিজেড, বন্দরটিলা, স্টিলমিল, কাঠগড়, পতেঙ্গা, সী বিচ রোড এলাকার ব্যবসায়ীরা এখন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। বিক্রি কমে যাওয়ায় অলস সময় পার করছেন অনেক ব্যবসায়ী।

চট্টগ্রাম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম বন্দর, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস, চট্টগ্রাম ইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেড, ছয়টি বেসরকারী অফডক সহ রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এই সড়ক দিয়ে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। শুধু ইপিজেড এলাকাগুলোতেই এই রাস্তা দিয়ে প্রায় ৪ লাখ শ্রমিক চলাচল করে। প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় শুধু যানজটের কারণেই প্রতিদিন লাখ লাখ শ্রমঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এসব শ্রমিকের। ব্যহত হচ্ছে কারখানার উৎপাদনও। আমদানি ও রপ্তানি পণ্য পরিবহনেও পোহাতে হয় ভোগান্তি।

বারিক বিল্ডিং এলাকার রহিম এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. রহিম বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে মাসের প্রথম সপ্তাহেই অন্তত ৪০ হাজার টাকার ফার্নিচার বিক্রি হতো। এখন সারা মাসে ৪০ হাজার টাকার ফার্নিচার বিক্রি করতে কষ্ট হয়।’

মন্দা ব্যবসার জন্য করোনার প্রভাব ছাড়াও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উন্নয়ন কাজকেও দায়ী করেছেন রহিম।

একই এলাকায় ওয়ালটনের শো-রুম ছিল মোর্শেদ আলীর। ব্যবসা কমে যাওয়ায় তিনি এখন শো-রুমের স্থান পরিবর্তন করে অন্য এলাকায় নিয়ে যাচ্ছেন।

মোর্শেদ বলেন, ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলায় এলাকায় ব্যবসার অবস্থা শোচনীয়। কাস্টমাররা এখন এই এলাকায় আসতে চান না।’

চট্টগ্রামের উন্নয়নকাজে ক্ষতিগ্রস্ত যারা
বারিক বিল্ডিং এলাকা থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন মোর্শেদ আলী

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উন্নয়ন কাজের জন্য ওই এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। এই অবস্থা দীর্ঘ হলে অস্তিত্ব সংকটে পড়বেন ব্যবসায়ীরা। তাই দ্রুত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ করা উচিত।’

এলিভেডেট এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিচালক সিডিএ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বার বার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। নয়তো এত দেরি হতো না। তবে আমরা ২০২৩ সালের জুন নাগাদ এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।’

২০১৭ সালের ১১ জুলাই একনেক সভায় ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকার এই প্রকল্প অনুমোদন পায়। সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই প্রকল্পের কাজ ৩ বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এক্সপ্রেসওয়টি প্রশস্ত হবে ৫৪ ফুট। ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক্সপ্রেসওয়ের পিলার পাইলিং কাজের উদ্বোধন করেন।

বর্তমানে যানজট পেরিয়ে লালখানবাজার থেকে বিমানবন্দর এবং পতেঙ্গা সৈকতে যেতে সময় লাগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছতে না পারায় ফ্লাইট মিস হওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে। তবে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এসব দুর্ভোগ আর থাকবেনা বলেই মনে করেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

আরও পড়ুন:
খরচ কমাতে বেনাপোল বন্দরে অক্সিজেন খালাস
অবৈধ পথে ভারতে ঘুরতে গিয়ে ছয় মাস পর দেশে ৩ তরুণ
বেনাপোল স্থলবন্দর অটোমেশনের আওতায়
করোনার সনদ থাকলে দেশে ফিরে কোয়ারেন্টাইন নয়
জন্মাষ্টমীতে বেনাপোলে বন্ধ আমদানি-রপ্তানি

শেয়ার করুন

বিনিয়োগ সম্মেলন শুরু রোববার

বিনিয়োগ সম্মেলন শুরু রোববার

শনিবার বিডা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সালমান এফ রহমান। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, দেশে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ গত কয়েক বছর ধরেই ৩০-৩১ শতাংশে আটকে আছে। এই অনুপাত ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) আকারের তুলনায় দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ কম। এটা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিতে সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে। এর অংশ হিসাবে লাভজনক বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে রোববার ঢাকায় শুরু হচ্ছে দু’দিনের বিনিয়োগ সম্মেলন।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিনিয়োগ সম্মেলন সামনে রেখে শনিবার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সালমান এফ রহমান বক্তব্য দেন। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকার রেডিসন হোটেলে ২৮ ও ২৯ নভেম্বর দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন-২০২১ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। এর আগে ২০১৬ সালে ঢাকায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

দেশে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ গত কয়েক বছর ধরেই ৩০-৩১ শতাংশে আটকে আছে। অবশ্য করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে দেশের সার্বিক বিনিয়োগের সঙ্গে জিডিপির অনুপাত ২৯ দশমিক ৯২ শতাংশে নেমে আছে। এই অনুপাত ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আমাদের গ্রাজুয়েশন (উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ) পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এজন্য দেশের বিভিন্ন সম্ভাবানময় খাত সামনে রেখে আমরা বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নিয়েছি। বিডার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন করছি। আমেরিকার চারটি শহরে ও দুবাইয়ে আমরা বিনিয়োগ বিষয়ক রোড-শো করেছি। প্যারিস, সৌদি আরব থেকে বিনিয়োগ আনতে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এর সুফলও আমরা পাচ্ছি। বিডাতে বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা যোগাযোগ করছেন।

‘আগে জাপান, কোরিয়া, চীনসহ অল্প কয়েকটি দেশ থেকে আমাদের বিনিয়োগ আসত। এখন অনেক নতুন নতুন দেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে। ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি দেশ বিনিয়োগ করতে চাইছে। দেশি বিনিয়োগও বাড়ছে।’

করোনার নতুন ধরনের (ভ্যারিয়েন্ট) কারণে বিনিয়োগ সম্মেলনের কোনো প্রভাব পড়বে কীনা এমন প্রশ্নে এফ রহমান বলেন, খুব একটা প্রভাব পড়বে না। কারণ ইতোমধ্যে অনেক অতিথি চলে এসেছেন। সৌদি সরকারের মন্ত্রী পর্যায়ের একটি বড় প্রতিনিধিদল এসেছে। অনেকেই ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন। তবে নতুন ভ্যারিয়েস্টের প্রকোপ আরও ৮-১০ দিন আগে দেখা দিলে সম্মেলনে সরাসরি অংশগ্রহণ হয়তো আমরা বন্ধ করতাম।’

বর্তমানে দেশের অর্থনীতির আকার (জিডিপি) ৪০৯ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৫ লাখ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৮৪ কোটি ৭০ লাখ ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে।

বিডা জানায়, বিনিয়োগ সম্মেলনে মূলত দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ, অর্থনৈতিক অঞ্চল, সমুদ্র অর্থনীতি খাতে বিনিয়োগ উপযোগিতা তুলে ধরা হবে। এছাড়া বিভিন্ন সেশনে স্বাস্থ্য ও ওষুধ শিল্প, পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খাত, শেয়ার বাজার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, অবকাঠামো, আর্থিক সেবা, কৃষি বাণিজ্য, তৈরি পোশাক, তথ্য-প্রযুক্তি, ইলেক্ট্রিক্যাল পণ্য তৈরিসহ ১৪টি খাত নিয়ে নির্দিষ্ট আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ৫০০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪৩ লাখ কোটি অর্থনীতির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকসহ (এআইআইবি) বৈশ্বিক অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা এই সম্মেলনে অংশ নেবেন।

প্রতিটি সেশনে একজন বিশেষজ্ঞ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরা আলোচনা করবেন। সংশ্লিষ্ট খাতের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন।

আরও পড়ুন:
খরচ কমাতে বেনাপোল বন্দরে অক্সিজেন খালাস
অবৈধ পথে ভারতে ঘুরতে গিয়ে ছয় মাস পর দেশে ৩ তরুণ
বেনাপোল স্থলবন্দর অটোমেশনের আওতায়
করোনার সনদ থাকলে দেশে ফিরে কোয়ারেন্টাইন নয়
জন্মাষ্টমীতে বেনাপোলে বন্ধ আমদানি-রপ্তানি

শেয়ার করুন

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমার আগ্রহ বাড়ছে

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমার আগ্রহ বাড়ছে

ইলেকট্রনিক বা অনলাইন পদ্ধতিতে রিটার্ন্ জমার আগ্রহ বাড়ছে। চলতি বছরের ১০ অক্টোবর থেকে ই-রিটার্ন পদ্ধতি চালু করেছে এনবিআর। রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা বলেছে, এ পদ্ধতি খুব সহজ এবং করদাতাবান্ধব।

৩০ নভেম্বর ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বলেছে, সময় বাড়ানো হবে না।

করদাতাদের সুবিধার জন্য এবারও কর অঞ্চলগুলোতে মেলার আবহে রিটার্ন্ জমাসহ সব ধরনের সেবা দেয়ার ব্যবস্থা করেছে এনবিআর।

শেষ মুহূর্তে করদাতাদের পদচারণা বাড়ছে কর অঞ্চলগুলোতে। শেষের দুই দিন ভিড় আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

ইলেকট্রনিক বা অনলাইন পদ্ধতিতে রিটার্ন্ জমার আগ্রহ বাড়ছে। চলতি বছরের ১০ অক্টোবর থেকে ই-রিটার্ন পদ্ধতি চালু করেছে এনবিআর। রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা বলেছে, এ পদ্ধতি খুব সহজ এবং করদাতাবান্ধব।

এনবিআরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত ৩০ হাজার করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছেন। আর নিবন্ধন নিয়েছেন ৬৭ হাজারের বেশি। শেষের তিন দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।

বর্তমান আইনে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও যাতায়াত ভাতা বাদ দিয়ে বছরে আয় ৩ লাখ টাকার বেশি হলে তাকে প্রযোজ্য হারে কর দিতে হয়। এ হিসাবে কারও মাসিক আয় ২৫ হাজার টাকার বেশি হলেই করযোগ্য আয় আছে বলে বিবেচনা করা হয়।

প্রযোজ্য হার মানে সর্বনিম্ম কর হার হার ৫ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ।

আয় থাকুক আর না থাকুক, ট্যাক্স পেয়ার আইডেনটিফিকেশন নম্বার বা করদাতা শণাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকলেই সবাইকে রিটার্ন জামা দিতে হয়।

সময়মতো রিটার্ন জামা না দিলে জরিমানা গুণতে হয়। জরিমানার পরিমাণ এককালীন ১ হাজার টাকা। তার সঙ্গে পরবর্তী প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত ৫০ টাকা।

নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও রিটার্ন জমা দেয়া যায়। তবে তার জন্য পিটিশন বা আবেদন করতে হয় উপ-করকমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তার কাছে। আবেদনকারীকে সময় বাড়ানোর পক্ষে অবশ্যই উপযুক্ত প্রমাণ দিতে হয়।

আইনে ব্যক্তি এবং কোম্পানি উভয় ক্ষেত্রে রিটার্ন জমা দেয়ার নিয়ম রয়েছে। ব্যক্তির ক্ষেত্রে ৩০ নভেম্বর রিটার্ন জমার শেষ সময়। আর কোম্পানির ক্ষেত্রে বার্ষিক হিসাব ক্লোজের দিন থেকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে রিটার্ন্ দাখিল করার নিয়ম রয়েছে।

যেভাবে অনলাইনে রিটার্ন জমা

এনবিআর বলেছে, যাদের করযোগ্য আয় নেই, কিন্তু টিআইএন আছে, তাদের জন্য সহজ ব্যবস্থা হচ্ছে অনলাইনে রিটার্ন দেয়া। কারণ, এ পদ্ধতিতে হিসাবের ঝামেলা কম। সহজ উপায়ে তথ্য পূরণ করা যায়।

অনলাইনে রিটার্ন্ দিতে হলে প্রথমে ইট্যাক্স এনবিআর ডট জিওবি ডট বিডি (etaxnbr.gov.bd) পেজে ঢুকে ই-রিটার্ন সিলেক্ট করুন। আপনি চলে এলেন রিটার্ন দাখিল সিস্টেমে।

নিজের নামে মোবাইল ফোন নম্বার দিয়ে নিবন্ধন করুন। নিবন্ধনের সময় নিজের পাসওয়ার্ড নিজে সেট করে নিতে হয়।

নিবন্ধন করার সাথে সাথে আপনার নিজের একটা ই-রিটার্ন অ্যাকাউন্ট হয়ে গেল। নিজের টিআইএন এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে যে কোনো সময় যে কোনো জায়গা থেকে অ্যাকাউন্ট সাইন ইন করতে পারবেন।

নিবন্ধন হয়ে গেলে এবার সাইন-ইন করুন। যাদের করযোগ্য আয় নেই বা ‘জিরো ট্যাক্স’, তাদের কিছু তথ্য দিয়ে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে রিটার্ন জমার কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে।

যাদের করযোগ্য আয় রয়েছে, তোদের কর নিরূপণের জন্য হিসাব করতে হয়। তবে ভয়ের কোনো কারণ নেই। স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানা যাবে, আপনার মোট আয় কত হলো, করের পরিমাণ কত, কত রেয়াত পাওয়া যাবে, রিটার্নের সাথে কত টাকা দিতে হবে।

অনলাইনে রিটার্ন জামার সাথে সাথে ‘প্রাপ্তিস্বীকার’ স্লিপ পাওয়া যাবে।

এনবিআরের কর্মকর্তারা বলেছেন, ই-রিটার্ন থাকার অনেক সুবিধা রয়েছে। এটা দিয়ে রিটার্ন দাখিল করা যাবে, ই-পেমেন্ট করা যাবে, ঘরে বসে সনদ নেয়া যাবে, আয়কর রিটার্নের কপি নেয়া যাবে এবং রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানোর আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন:
খরচ কমাতে বেনাপোল বন্দরে অক্সিজেন খালাস
অবৈধ পথে ভারতে ঘুরতে গিয়ে ছয় মাস পর দেশে ৩ তরুণ
বেনাপোল স্থলবন্দর অটোমেশনের আওতায়
করোনার সনদ থাকলে দেশে ফিরে কোয়ারেন্টাইন নয়
জন্মাষ্টমীতে বেনাপোলে বন্ধ আমদানি-রপ্তানি

শেয়ার করুন

করোনা: বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সম্মেলন স্থগিত

করোনা: বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সম্মেলন স্থগিত

অ্যাম্ব ডেসিও ক্যাস্টিলোর বলেন, ‘করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট এবং এ কেন্দ্রিক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মন্ত্রীপর্যায়ের সম্মেলন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে পরিস্থিতি যখন অনুকূল হবে, তখন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দিন-তারিখ ঠিক করে এই সম্মেলন ফের আয়োজন করা হবে। তবে এ মুহূর্তে স্থগিত ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মন্ত্রীপর্যায়ের দ্বাদশ সম্মেলন (এমসি-১২) এ বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চার দিনব্যাপী এই সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা ছিল।

সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশসহ ১৬৪ দেশের সরকার প্রতিনিধিরা ডব্লিউটিওর মহাপরিচালকের আমন্ত্রণে যোগ দিতে জেনেভামুখী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই আফ্রিকায় করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট দেখা দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ডব্লিউটিওর জেনারেল কাউন্সিল থেকে স্থগিত করা হয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্রিক দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ও পূর্বনির্ধারিত এই সম্মেলন।

ইতোমধ্যে সম্মেলনকে ঘিরে আফ্রিকার কয়েকটি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সুইজারল্যান্ডসহ অন্যান্য অনেক ইউরোপীয় দেশ। এমনকি ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোয়ারেন্টিনের প্রয়োজনীয়তাও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এর ফলে এমসি-১২ সম্মেলনে অনেক দেশের মন্ত্রীদের অংশগ্রহণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে শুক্রবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে জেনারেল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যাম্ব ডেসিও ক্যাস্টিলোর নেতৃত্বে সদস্য দেশগুলোর এক জরুরি সভায় সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

সিদ্ধান্তের বিষয়ে ডব্লিউটিওর জেনারেল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যাম্ব ডেসিও ক্যাস্টিলোর বলেন, ‘করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট এবং এ কেন্দ্রিক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মন্ত্রীপর্যায়ের সম্মেলন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে পরিস্থিতি যখন অনুকূল হবে, তখন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দিন-তারিখ ঠিক করে এই সম্মেলন ফের আয়োজন করা হবে। তবে এ মুহূর্তে স্থগিত ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি যে আপনারা পরিস্থিতির গুরুত্বকে পুরোপুরি উপলব্ধি করবেন।’

ডব্লিউটিওর মহাপরিচালক এনগোজি ওকোনজো-আইওয়ালা জানান, ভ্রমণের সীমাবদ্ধতা বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের অর্থ হলো বিশ্বের অনেক মন্ত্রী এবং সিনিয়র প্রতিনিধি সম্মেলনে মুখোমুখি আলোচনায় অংশ নিতে পারতেন না। এটি সমান ভিত্তিতে অংশগ্রহণকে অসম্ভব করে তুলবে এবং এতে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়ে জটিল আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ থেকে বঞ্চিত করবে। এ কারণে এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মহাপরিচালক হিসেবে আমার অগ্রাধিকার হলো সমস্ত এমসি-১২ এ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী মন্ত্রী, প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজ- সবার স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা।’

এনগোজি ওকোনজো-আইওয়ালা বলেন, ‘এটাও আশ্বস্ত করতে চাই, সম্মেলন স্থগিত মানে সব কিছু শেষ হয়ে যায়নি। সম্মেলনে আলোচনার বিষয়গুলোতে আমাদের দৃষ্টি সব সময় থাকবে। আলোচনাকে সমঝোতা ও সেটি বাস্তবায়ন পর্যায়ে নিয়ে যেতে আমাদের চেষ্টা চলবে। যত দ্রুত সম্ভব আমরা আবার আলোচনায় বসব।’

আরও পড়ুন:
খরচ কমাতে বেনাপোল বন্দরে অক্সিজেন খালাস
অবৈধ পথে ভারতে ঘুরতে গিয়ে ছয় মাস পর দেশে ৩ তরুণ
বেনাপোল স্থলবন্দর অটোমেশনের আওতায়
করোনার সনদ থাকলে দেশে ফিরে কোয়ারেন্টাইন নয়
জন্মাষ্টমীতে বেনাপোলে বন্ধ আমদানি-রপ্তানি

শেয়ার করুন

দেশে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আভাস

দেশে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আভাস

ফাইল ছবি

এর আগে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর অজুহাতে গত ৪ নভেম্বর থেকে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ৮০ টাকা নির্ধারণ করে সরকার।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমায় বাংলাদেশেও কমানোর আভাস দিয়েছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

শনিবার তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ করছি। দাম কমছে। তবে, এই কমার প্রভাব এখনও বাজারে পড়েনি। যদি পড়ে তাহলে আমরাও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করব।’

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ আরও বলেন, ‘আমরা যদি কেনার সময় কম দামে পাই তাহলে অবশ্যই কমাব।’

এর আগে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর অজুহাতে গত ৪ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকারও ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে এক লাফে ১৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ৮০ টাকা নির্ধারণ করে। এর প্রভাবে দেশের সব ধরনের পরিবহন ভাড়া বাড়ানো হয়।

এদিকে, দেশের বাজারে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানোর কয়েক দিন পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী হতে শুরু করে। শনিবার হয় সবচেয়ে বড় দরপতন। এক দিনের ব্যবধানে দাম ব্যারেল প্রতি ১০ ডলার ২২ সেন্ট বা ১৩ শতাংশের বেশি কমে ৬৮ ডলারে নেমে এসেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ২০২০ সালের এপ্রিলের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সবচেয়ে বড় দরপতন এটি।

শনিবার প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেল ৬৮ ডলার ১৭ সেন্টে বিক্রি হয়েছে। এটা আগের দিনের চেয়ে ১০ ডলার ২২ সেন্ট বা ১৩ দশমিক ০৪ শতাংশ কম।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্ত হওয়ার পরই হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের এই বড় দরপতন হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, কোভিড-১৯-এর এই নতুন ধরনের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমে যেতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনার এই নতুন ধরনের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে সংকট দেখা দিতে পারে। কমে যেতে পারে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। তার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদাও কমে যেতে পারে। আর এই ভয়েই তেলের দামে বড় পতন হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘ওমিক্রন’ নামে করোনা ভাইরাসের নতুন যে ধরন শনাক্ত করেছে তা এখন উদ্বেগের কারণ। সেই উদ্বেগ থেকেই প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মূল্য এক দিনের ব্যবধানে ১৩ শতাংশের বেশি কমেছে।

এর আগে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ও ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে কম।

শনিবার বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল বিক্রি হয়েছে ৭৩ ডলার ৮১ সেন্টে, যা আগের দিনের চেয়ে ১০ দশমিক ২৩ শতাংশ কম।

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। করোনা মহামারির মধ্যেও টানা বেড়েছে তেলের দাম। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় তা আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়।

গত ২৭ অক্টোবর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে ৮৫ দশমিক ০৭ ডলারে ওঠে। এরপর থেকেই তা কমতে থাকে। ৮ নভেম্বর এর দর ছিল ৮২ দশমিক ৫ ডলার। এক মাস আগে ১৬ অক্টোবর দাম ছিল ৮০ ডলার। আর এক বছর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ৪২ ডলার।

প্যারিসভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি বা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) গত জুলাইয়ের শুরুতে এক পূর্বাভাসে বলেছিল, করোনা ভাইরাসের প্রকোপ আবার বাড়তে শুরু করায় বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা আগামী বছরের শেষের দিকে আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।

আইইএ'র মতে, চলতি বছর বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা মোটামুটি বাড়বে। তবে আগামী বছর জ্বালানি তেলের দৈনিক চাহিদা বেড়ে ১০ কোটি ৬ লাখ ব্যারেলে উন্নীত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ কোম্পানি ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্সও মাস তিনেক আগে তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছিল, কোভিড-১৯-এর কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় যে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছিল তা দূর হচ্ছে। পাশাপাশি দেশে দেশে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে এ বছরের জানুয়ারি মাসে জ্বালানি তেলের দাম ছিল গড়ে প্রতি ব্যারেল ৪৯ ডলার। এরপর থেকে গড়ে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ফেব্রুয়ারি মাসে ৫৩ ডলার, মার্চে ৬০, এপ্রিলে ৬৫, মে মাসে ৬৪, জুনে ৬৬ , জুলাইয়ে ৭৩ এবং আগস্টে ৭৪ ডলার। অক্টোবর মাসে এই দাম ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছিল, শিগগিরই তা ১০০ ডলার হয়ে যেতে পারে।

তবে চলতি নভেম্বর থেকে দাম নিম্নমুখী হয়। তারপরও দামটা নিয়ন্ত্রণে আসছিল না। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে আনতে নিজ দেশের পেট্রোলিয়াম ভান্ডার থেকে পাঁছ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

গত ২৩ নভেম্বর টুইট বার্তায় বাইডেন ঘোষণা দেন, ‘আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য তেল ও গ্যাসের দাম কমাতে পদক্ষেপের কথা আজ ঘোষণা করছি। আমেরিকাবাসীর জন্য স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ব আমরা, যাতে তেল ও গ্যাসের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসে।’

দেশে তেল ও গ্যাসের মতো জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি রুখতে এই পদক্ষেপ নেন জো বাইডেন। এর জেরে সে দেশে জ্বালানির দাম কমবে বলে মনে করা হচ্ছিল। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছিলেন অনেকে।

তবে, বাইডেনের এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম খুব একটা কমেনি।

আরও পড়ুন:
খরচ কমাতে বেনাপোল বন্দরে অক্সিজেন খালাস
অবৈধ পথে ভারতে ঘুরতে গিয়ে ছয় মাস পর দেশে ৩ তরুণ
বেনাপোল স্থলবন্দর অটোমেশনের আওতায়
করোনার সনদ থাকলে দেশে ফিরে কোয়ারেন্টাইন নয়
জন্মাষ্টমীতে বেনাপোলে বন্ধ আমদানি-রপ্তানি

শেয়ার করুন