প্রত্যাশিত আয়ে বাধা টার্নওভার কর: রবি

প্রত্যাশিত আয়ে বাধা টার্নওভার কর: রবি

‘প্রথম নয় মাসে আমাদের কর পরবর্তী মুনাফা ১৬৭ দশমিক ৪ কোটি টাকার পরিবর্তে ২৮৯ দশমিক ৩ কোটি টাকা হতে পারত, যদি ২ শতাংশ ন্যূনতম টার্নওভার কর আমাদের উপর আরোপ করা না হতো। যার ফলে শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানিতে তাদের বিনিয়োগের প্রাপ্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি রবি বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা মতো আয় করতে না পারার কারণ হিসেবে টার্নওভার করের বিষয়টি তুলে ধরেছে।

তিন প্রান্তিক মিলিয়ে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করতে পেরেছে কেবল ৩২ পয়সা। এর মধ্যে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আয় করেছে ১৭ পয়সা; সব মিলিয়ে ৮৬ টাকা ৫০ লাখ টাকা।

কোম্পানিটি বলছে, ২ শতাংশ ন্যূনতম টার্নওভার কর না থাকলে, মুনাফার পরিমাণ হতো ১২৮ কোটি ২০ লাখ টাকা।

রোববার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানিটির তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল তুলে ধরেন অ্যাক্টিং সিইও অ্যান্ড সিএফও এম রিয়াজ রশীদ।

তিনি বলেন, ‘প্রথম নয় মাসে আমাদের কর পরবর্তী মুনাফা ১৬৭ দশমিক ৪ কোটি টাকার পরিবর্তে ২৮৯ দশমিক ৩ কোটি টাকা হতে পারত, যদি ২ শতাংশ ন্যূনতম টার্নওভার কর আমাদের উপর আরোপ করা না হতো। যার ফলে শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানিতে তাদের বিনিয়োগের প্রাপ্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

গত বছরের শেষে পুঁজিবাজারে রবির তালিকাভুক্তি নিয়ে উচ্ছ্বাস থাকলেও প্রত্যাশিত আয় করতে না পারার পর কোনো লভ্যাংশ পাননি বিনিয়োগকারীরা। চলতি বছরও যে আর্থিক হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে এবারও লভ্যাংশ কত হবে, তা নিয়ে আছে প্রশ্ন।

অথচ টেলিকমিউনিকেশন খাতের আরেক কোম্পানি গ্রামীণ ফোন প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ আয় করে বিনিয়োগকারীদেরকে আকর্ষণীয় হারে লভ্যাংশ দিয়ে আসছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রবির সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা ৫ কোটি ৩০ লাখ, যা দেশের মোট মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ। ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটি ৯২ লাখ, যা রবির মোট গ্রাহকের ৭৪ শতাংশ। এর মধ্যে ২ কোটি ২৪ লাখ গ্রাহক ফোরজি সেবার আওতায় এসেছে।

এই প্রান্তিকে রাজস্ব আয় হয়েছে ২ হাজার ৮৫ কোটি টাকা, যা গত প্রান্তিকের তুলনায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ মার্জিনসহ ইবিআইটিডিএ (ব্যয় পরবর্তী আয়) ৮৬১ দশমিক ১ কোটি টাকা, মূলধনি বিনিয়োগ ৬৫০ দশমিক ৭ কোটি টাকা।

এ সময় অপারেটরটি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা ১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা, যা তৃতীয় প্রান্তিকে রবির অর্জিত রাজস্ব আয়ের ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশ। বছরের প্রথম নয় মাসে রবি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে ৩ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা, যা কোম্পানির মোট রাজস্বের ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

রিয়াজ রশীদ বলেন, গত বছরের তুলনায় ডিজিটাল কাস্টমার টাচপয়েন্টে গ্রাহকের যোগাযোগ ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর দ্বারা এটি স্পষ্ট যে রবি তার ডিজিটাল লক্ষ্যমাত্রার দিকে সুন্দরভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে রবি’র ফোরজি গ্রাহক সংখ্যা ১২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। আর ২০২০ সালের একই প্রান্তিকের তুলনায় বেড়েছে ৫১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।

২০২০ সালের একই প্রান্তিকের তুলনায় এ প্রান্তিকে রবি’র গ্রাহক সংখ্যা ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে রবি’র গ্রাহক সংখ্যা ২ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরও পড়ুন:
আয় কিছুটা বাড়াতে পারল ‘হতাশার’ রবি
তুমুল আগ্রহের রবি আর জ্বলেনি
প্রথম দিনে রবির শেয়ার ছাড়েননি বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বৈঠকের অপেক্ষা, দর বাড়লেও শেয়ার কেনায় আগ্রহ কম

বৈঠকের অপেক্ষা, দর বাড়লেও শেয়ার কেনায় আগ্রহ কম

ঢাকার একটি ব্রোকারেজ হাউসে লেনদেন দেখছেন বিনিয়োগকারী। ফাইল ছবি

টানা তিন কর্মদিবসে সূচক বাড়ল ২৬২ পয়েন্ট। তবে লেনদেনে পড়েছে ভাটা। বৃহস্পতিবার ১ হাজার ২৪৫ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা ছিল লেনদেন। সেটি কমে দাঁড়িয়েছে ৮৯৪ কোটি ৯৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

পুঁজিবাজার নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংককে নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈঠকের আগে আগে বিনিয়োগকারীরা শেয়ারে নতুন করে বিনিয়োগ না করে অপেক্ষায় আছেন।

বৈঠকে ভালো কিছু হবে, এমন আশায় বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার ছাড়তে রাজি হচ্ছেন না, তবে কেনাবেচা বেশ কম। তিন কর্মদিবস পর লেনদেন আবার নেমে এসেছে হাজার কোটি টাকার নিচে।

রোববার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ৩ মিনিটেই সূচক ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে শুরু হয় লেনদেন। বেলা সোয়া ১১টায় সূচক বেড়ে যায় ৪৮ পয়েন্ট। তবে সেখান থেকে দুপুর ১২টা ৭ মিনিট পর সূচক টানা পড়তে থাকে।

আগের দিনের চেয়ে সূচকের অবস্থান ৫ পয়েন্ট কম ছিল সে সময়। এরপর আবার পতনের আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ায় পুঁজিবাজার। আগের দিনের চেয়ে ২৯ পয়েন্ট বেড়ে শেষ পর্যন্ত সূচকের অবস্থান দাঁড়ায় ৬ হাজার ৯৬৫ পয়েন্টে।

এ নিয়ে টানা তিন কর্মদিবসে সূচক বাড়ল ২৬২ পয়েন্ট। তবে লেনদেনে পড়েছে ভাটা। বৃহস্পতিবার ১ হাজার ২৪৫ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা ছিল লেনদেন। সেটি কমে দাঁড়িয়েছে ৮৯৪ কোটি ৯৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

দিন শেষে বেড়েছে ২৪৫টি কোম্পানির দর, কমেছে ৭৯টির। দর ধরে রাখতে পেরেছে আরও ৪৯টি।

বৈঠকের অপেক্ষা, দর বাড়লেও শেয়ার কেনায় আগ্রহ কম
রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

প্রায় সব খাতেই গেছে ভালো দিন। তবে প্রধান খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো গেছে বিমায়। বেশ কিছুদিন পরে বস্ত্র খাতে একটি ভালো দিন দেখলেন বিনিয়োগকারীরা। প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগকারীরাও হাসিমুখে শেষ করেছেন লেনদেন।

লেনদেনে সেরা ব্যাংক খাতে দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিবিধ খাতের প্রধান কোম্পানি বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার দিনভর ওঠানামা করেছে। শেষ পর্যন্ত ২০ পয়সা কমেছে শেয়ার দর।

আড়াই মাস ধরে দর সংশোধনে থাকা পুঁজিবাজারে সম্প্রতি টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয় বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে বিরোধ ইস্যুতে।

গত ৩০ ডিসেম্বর দুই পক্ষের বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা যা এক্সপোজার লিমিট ও বন্ডে বিনিয়োগ নিয়ে মতভিন্নতার অবসানের আশা তৈরি হয়।

সেই বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে কেউ বক্তব্য না দিলেও বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ জানান, শেয়ারের ক্রয়মূল্যে এক্সপোজার লিমিট গণনা ও বন্ডে বিনিয়োগ ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিটের বাইরে রাখার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তারা নীতিগতভাবে এসব বিষয়ে একমত হয়েছেন।

পরদিন পুঁজিবাজারে হয় উত্থান। এক দিনেই সূচক বাড়ে ১৪৩ পয়েন্ট। তবে সেদিন সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরেক বিজ্ঞপ্তিতে তৈরি হয় উদ্বেগ।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএসইসি কমিশনারের বরাত দিয়ে যেসব সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, সেসব সঠিক নয়।

এই খবরে বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবসে লেনদেন শুরুই হয় ৮৪ পয়েন্ট পতনের মধ্য দিয়ে। তবে এ সময় তার আগের রাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি আদেশ তুমুল আলোচনা তৈরি করে, ঘুরে দাঁড়ায় বাজার। শেষ পর্যন্ত লেনদেন শেষ হয় ৮৯ পয়েন্ট সূচক বাড়ার মধ্য দিয়ে।

আগামী ৭ ডিসেম্বর মঙ্গলবার পুঁজিবাজার নিয়ে বৈঠক ডেকেছে মন্ত্রণালয়। এতে বিএসইসি চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে ডাকা হয়েছে।

ওই বিকেলে রাজধানীতে এক আলোচনায় বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের যে আন্তরিকতা আছে, তা প্রকাশ হবে সামনের কিছু দিনে।

এসব ঘটনার পর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটিতে যায় পুঁজিবাজার। এই সময়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা আলোচনা, পর্যালোচনা, তর্ক-বিতর্ক তৈরি হয়। বাজার নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত কী আসছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান পাল্টাবে কি না, বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হবে- এ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হতে থাকে পুঁজিবাজারকেন্দ্রিক বিভিন্ন ফেসবুক পেজে।

দিনভর উত্থান-পতনে থাকা পুঁজিবাজার শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক অবস্থান নিয়ে লেনদেন শেষ করতে পারার পেছনে প্রধান অবদান ছিল ওয়ালটনের। ৩.৪ শতাংশ দর বাড়ায় সূচক বেড়েছে ১০.৩৩ পয়েন্ট।

বৈঠকের অপেক্ষা, দর বাড়লেও শেয়ার কেনায় আগ্রহ কম
সূচক বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকায় ছিল এই ১০ কোম্পানি

গ্রামীণফোন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি, রবি, একমি ল্যাবরেটরিজ, সিটি ব্যাংক, গ্রিনডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, ব্র্যাক ব্যাংক, সোনালী পেপার ও ওরিয়ন ফার্মা ছিল সূচক বাড়াতে প্রধান ভূমিকায়।

এই ১০টি কোম্পানির কারণেই সূচকে যোগ হয়েছে ২৩.২৭ পয়েন্ট।

অন্যদিকে সূচক নিচের দিকে টেনে নামানোর প্রধান চেষ্টায় ছিল ইউনাইটেড পাওয়ার, যেটির ১.০৭ শতাংশ দরপতনে সূচক পড়েছে ১.৪২ পয়েন্ট।

বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্‌ল কোম্পানি, সামিট পাওয়ার, এমজেএলবিডি, শাহজিবাজার পাওয়ার, পাওয়ারগ্রিড, বেক্সিমকো ফার্মা, বিএসআরএম লিমিটেড, বিকন ফার্মা ও রেনাটাও ছিল একই ভূমিকায়।

তবে দরপতনের হার বেশি না হওয়ায় এই ১০টি কোম্পানি সূচক নিচে নামাতে পেরেছে কমই। সব মিলিয়ে কমেছে ৭.৫৩ পয়েন্ট।

বৈঠকের অপেক্ষা, দর বাড়লেও শেয়ার কেনায় আগ্রহ কম
বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ার দিন সূচক টেনে ধরেছে এই ১০ কোম্পানি

দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

এই তালিকায় কোনো একক খাতের প্রাধান্য দেখা যায়নি। তবে সবচেয়ে বেশি ছিল বিমা খাতের ৩টি কোম্পানি।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০ শতাংশ দাম বেড়েছে এশিয়ার ইন্স্যুরেন্সের। শেয়ারদর ৮২ টাকা থেকে ৮ টাকা ২০ পয়সা বেড়ে হয়েছে ৯০ টাকা ২০ পয়সা।

কোম্পানিটির ৪ রাখ ৩৩ হাজার ৫৭১ টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকায়।

দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল কাগজ ও প্রকাশনা খাতের পেপার প্রসেসিং। ওটিসি ফেরত কোম্পানিটি চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশ ভালো আয় করেছে। এই খবর প্রকাশের পর শেয়ারদর এক দিনে যত বাড়া সম্ভব, বেড়েছে ততটাই। ৯.৯৮ শতাংশ বেড়ে ১৪৫ টাকা ২০ পয়সা থেকে শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ১৫৯ টাকা ৬০ পয়সা।

তৃতীয় অবস্থানে ছিল বস্ত্র খাতের স্ট্রাইলক্রাফট। লোকসানি কোম্পানিটির শেয়ারদর সম্প্রতি অনেকটাই কমেছে। এক দিনে ৯.৯৫ শতাংশ বেড়ে ৯৭ টাকা ৪০ পয়সা থেকে হয়েছে ১০৭ টাকা ১০ পয়সা।

চতুর্থ অবস্থানে ছিল নতুন তালিকাভুক্ত সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্স। গত ৭ নভেম্বর ১০ টাকায় লেনদেন শুরুর পর প্রতিদিনই সর্বোচ্চ পরিমাণে বেড়ে শেয়ারদর এখন দাঁড়িয়েছে ৭২ টাকা।

আজ বেড়েছে ৯.৯২ শতাংশ। ৪৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকায় হাতবদল হয়েছে ৬ লাখ ৯২ হাজার ৬৬৯টি শেয়ার। আগের দিন ৬৫ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়েছিল ৪৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯০৪টি শেয়ার।

বৈঠকের অপেক্ষা, দর বাড়লেও শেয়ার কেনায় আগ্রহ কম
যে ছয় খাতে লেনদেন সবচেয়ে বেশি

বিমা খাতের আরেকটি কোম্পানি প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের দরও বেড়েছে দিনের সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত। ৯.৯০ শতাংশ বেড়ে ৫৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে হয়েছে ৫৯ টাকা ৯০ পয়সা।

দিনের দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমায় ছিল তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আইএসএনও। ৯.৮৮ শতাংশ বেড়ে ৩৫ টাকা ৪০ পয়সা থেকে হয়েছে ২৮ টাকা ৯০ পয়সা।

একই খাতের আমরা নেটওয়ার্কের দরও বেড়েছে দিনের সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত। ৯.৮১ শতাংশ বেড়েছে কোম্পানিটির শেয়ারদর।

এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সিভিও পেট্রোকেমিক্যালের দর ৯.২১ শতাংশ, জেমিনি সি ফুডের দর ৮.৭২ শতাংশ এবং রহিমা ফুডের দর বেড়েছে ৮.৬২ শতাংশ।

শীর্ষ ১০ ছাড়া অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৮ শতাংশের বেশি ৩টির, ৭ শতাংশের বেশি ৬টির, ৬ শতাংশের বেশি ৫টির, ৫ শতাংশের বেশি ১৩টির, ৪ শতাংশের বেশি ২৫টির, ৩ শতাংশের বেশি ২৬টির, ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে ৪৯টি কোম্পানির দর।

দরপতনের শীর্ষ ১০

এই তালিকার শীর্ষে ছিল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ভ্যানগার্ড বিডি ফাইন্যান্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান। ফান্ডটি এবার ইউনিটপ্রতি লভ্যাংশ দিয়েছে দেড় টাকা। এরপর দুই দিনে শেয়ারদর কমল ১ টাকা ৬০ পয়সা।

দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের শাহজিবাজার পাওয়ার, যার দর কমেছে ৪.৩৭ শতাংশ।

তৃতীয় অবস্থানে ছিল ইমাম বাটন, যার দর কমেছে ৩.৭৫ শতাংশ; চতুর্থ অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ সাবমেরিন কোম্পানি, যার দর কমেছে ৩.২৫ শতাংশ।

দরপতনের পঞ্চম স্থানে ছিল ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, যার দর কমেছে ৩.২৪ শতাংশ।

এছাড়া এনভয় টেক্সটাইলের দর ৩.০৪ শতাংশ, এমজেএল বিডির দর ২.৯৬ শতাংশ, নতুন তালিকাভুক্ত একমি পেস্ট্রিসাইডসের দর ২.৭১ শতাংশ, ওয়ান ব্যাংকের দর ২.৬০ শতাংশ এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংকের দর ২.৫৯ শতাংশ কমেছে।

শীর্ষ দশের বাইরে আরও ৫টি কোম্পানির দর ২ শতাংশের বেশি এবং ২৭টির দর ১ শতাংশের বেশি কমেছে।

লেনদেনে সেরা

এই তালিকায় আবার বেক্সিমকো লিমিটেড। শেয়ারদর ২০ পয়সা হারালেও লেনদেন হয়েছে ১১৭ কোটি ৩০ লাখ ৪৯ হাজার টাকার। দিনভর শেয়ারদর ১৭১ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১৬৪ টাকা পর্যন্ত উঠানামা করেছে। দিন শেষে দর দাঁড়িয়েছে ১৬৮ টাকা।

বৈঠকের অপেক্ষা, দর বাড়লেও শেয়ার কেনায় আগ্রহ কম
বেশিরভাগ খাতেই লেনদেন কমে গেছে

দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সাম্প্রতিক সময়ে তুমুল আগ্রহ তৈরি করা ওয়ান ব্যাংক। শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা দর হারানো কোম্পানিটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৮ কোটি ৮৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। হাতবদল হয়েছে ২ কোটি ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৮১২টি শেয়ার।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকে লেনদেন হয়েছে ৩৩ কোটি ১৪ লাখ ২৪০ টাকা।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ১৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।

পঞ্চম স্থানে ছিল পাওয়ারগ্রিডে লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৭২ লাখ ৩ হাজার টাকার।

শীর্ষ দশের অন্য পাঁচটি কোম্পানি হলো ফরচুন সুজ, আইএফআইসি ব্যাংক, ওরিয়ন ফার্মা, সোনালী পেপার ও একমি পেস্ট্রিসাইডস।

সব মিলিয়ে ১০টি কোম্পানিতে লেনদেন হয়েছে ২৪৫ কোটি ২৮ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, যা মোট লেনদেনের ২৭.৪০ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
আয় কিছুটা বাড়াতে পারল ‘হতাশার’ রবি
তুমুল আগ্রহের রবি আর জ্বলেনি
প্রথম দিনে রবির শেয়ার ছাড়েননি বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী

শেয়ার করুন

চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’

চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’

অস্বস্তি নিয়ে শুরু হওয়া দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে স্বস্তির আভাস দিয়ে। ব্রোকারেজ হাউসগুলোয় এ নিয়ে ছিল তুমুল আলোচনা। ছবি: নিউজবাংলা

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরুই হয় ৮৪ পয়েন্ট পতন দিয়ে। একপর্যায়ে পড়ে যায় ৯০ পয়েন্ট। তবে এই পরিস্থিতি থাকেনি বেশিক্ষণ। বেলা পৌনে ১২টার দিকেই হারিয়ে ফেলা সূচক ফিরে পায় পুঁজিবাজার। এর পর থেকে বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে বেলা ১টা ৪৩ মিনিটে আগের দিনের সূচকের সঙ্গে যোগ হয় ১০১ পয়েন্ট। বেলা শেষে সেখান থেকে কিছুটা কমে ৮৯ পয়েন্ট যোগ হয়ে শেষ হয় লেনদেন।

বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন বিজ্ঞপ্তিতে আতঙ্ক তৈরির পর বড় পতন দিয়ে পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরুর পর তা শেষ হয়েছে উত্থানে। দিনে সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান আর সর্বোচ্চ অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য পৌনে ২০০ পয়েন্টের বেশি।

সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার ঢাকা ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের এই চিত্র বিনিয়োগকারীদের মনের শঙ্কা, আতঙ্ক ও চিড় ধরা মনোবল অনেকটাই চাঙ্গা করবে সন্দেহ নেই। সংশোধন কাটিয়ে বাজারে আবার চাঙ্গাভাব ফিরবে, এমন আশার কথা বলাবলি হচ্ছে এরই মধ্যে।

টানা দরপতনের মধ্যে থাকা পুঁজিবাজারে বুধবার বড় উত্থান হয় বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায়। আগের দিন বিকেলে সেই বৈঠক শেষে বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ জানান, বাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট বাজারমূল্যের বদলে ক্রয়মূল্যে বিবেচনা এবং বন্ডের বিনিয়োগ এই সীমার বাইরে রাখার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এই বিষয়টি রিভিও করার কথাও বলেন তিনি।

তবে দুই পক্ষ কেবল নীতিগতভাবে একমত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ নিয়ে আরও আলাপ-আলোচনা হবে।

দুই পক্ষে আলোচনা হয়েছে আরও নানা ইস্যুতে। তবে এক্সপোজার ও বন্ড ইস্যুতে এক মাসের বেশি সময় ধরে টালমাটাল ছিল পুঁজিবাজার আর দুটি সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান বদলের আভাসে বুধবার শেয়ারদর ও সূচকে দেয় লাফ। এক দিনেই বাড়ে ১৪৩ পয়েন্ট।

তবে সেদিন সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পাঠানো আরেক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এমনকি এমনও বলা হয়, বিএসইসি কমিশনারের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, সেটি সঠিক নয়।

এই বিজ্ঞপ্তির পর তুমুল আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়, এই বিজ্ঞপ্তিটি নিয়ে। বিনিয়োগকারীদের একটি পক্ষ বলতে থাকে, এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বক্তব্য নয়, সেটি বানোয়াট। কারণ সেটি তাদের অফিসিয়াল সাইটে নেই।

পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সেটি প্রকাশ হওয়ার পর সেই বিতর্ক আর এগোয়নি আর ছড়ায় উদ্বেগ।

চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’
সকালে লেনদেন শুরুই হয় ৮৪ পয়েন্ট পতনের মধ্য দিয়ে। দিন শেষে ৮৯ পয়েন্ট উত্থানে বিনিয়োগকারীদের মনে ফেরে স্বস্তি

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরুই হয় ৮৪ পয়েন্ট পতন দিয়ে। একপর্যায়ে পড়ে যায় ৯০ পয়েন্ট। তবে এই পরিস্থিতি থাকেনি বেশিক্ষণ। বেলা পৌনে ১২টার দিকেই হারিয়ে ফেলা সূচক ফিরে পায় পুঁজিবাজার। এর পর থেকে বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে বেলা ১টা ৪৩ মিনিটে আগের দিনের সূচকের সঙ্গে যোগ হয় ১০১ পয়েন্ট। বেলা শেষে সেখান থেকে কিছুটা কমে ৮৯ পয়েন্ট যোগ হয়ে শেষ হয় লেনদেন।

এ নিয়ে দুই দিনেই সূচক বাড়ল ২৩২ পয়েন্ট।

দিনে সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান ও বেলা শেষের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য ১৭৯ পয়েন্ট।

কেবল সূচক নয়, বেড়েছে লেনদেনও। গত সাত কর্মদিবসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ২৪৫ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।

সূচকের উত্থানে প্রধান ভূমিকায় যেসব কোম্পানি

দিন শেষে বেড়েছে ২০৮টি কোম্পানির দর। কমে ১১৮টির আর অপরিবর্তিত থাকে ৪৮টির দর।

প্রধান খাতগুলোর মধ্যে ব্যাংক, আর্থিক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, ওষুধ ও রসায়ন, প্রকৌশল খাতে গেছে ভালো দিন।

লেনদেনের সেরা ছিল ব্যাংক, এরপর বেক্সিমকো লিমিটেডের কারণে বিবিধ খাত। ওধুধ ও জ্বালানি খাতেও লেনদেন ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

এদিন সূচক বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকায় ছিল ওয়ালটন ইন্ডাস্ট্রিজ, যার শেয়ারদর ৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ১১ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট।

চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’
সূচকের উত্থানে প্রধান ভূমিকায় ছিল এই ১০ কোম্পানি

টানা পড়তে থাকা ইউনাইটেড পাওয়ারের শেয়ারদর টানা দ্বিতীয় দিন বেড়েছে। শেয়ারদর ১২ টাকা বা ৪ দশমিক ৮২ শতাংশ বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ৭ দশমিক ৪২ পয়েন্ট।

এ ছাড়া আইসিবি, রেনাটা, গ্রামীণফোন, পাওয়ারগ্রিড, স্কয়ার ফার্মা, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, সামিট পাওয়ার ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির দরবৃদ্ধিতে সূচকে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট যোগ হয়েছে।

সব মিলিয়ে ১০টি কোম্পানিই সূচক বাড়িয়েছে ৫০ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট।

উত্থানের দ্বিতীয় দিনে সূচক টেনে ধরেছে, এমন কোম্পানিগুলোর ভূমিকা ছিল কমই। ডেল্টা লাইফের দরপতনে সূচক কমেছে সবচেয়ে বেশি শূন্য দশমিক ৮৮ পয়েন্ট।

ফরচুন সুজ, আইএফআইসি ব্যাংক, ওরিয়ন ফার্মা, এনআরবিসি ব্যাংক, জেনেক্স ইনফোসিস, ওয়ান ব্যাংক, সি পার্ল রহিম টেক্সটাইল ও গ্রিনডেল্টা ইন্স্যুরেন্সও সূচক নিচের দিকে টেনে ধরেছে।

এই ১০টি কোম্পানি মিলিয়ে সূচক কমিয়েছে ২ দশমিক ৭১ পয়েন্ট।

চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’
উত্থানের দিন সূচক কিছুটা হলেও টেনে ধরেছে এই ১০টি কোম্পানি

দর বৃদ্ধিতে সেরা ১০ কোম্পানি

আবার দর বৃদ্ধিতে সেরা নতুন তালিকাভুক্ত সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির শেয়ারদর আবার বেড়েছে এক দিনে যতটা বাড়া সম্ভব ততটাই।

টানা ২০ কর্মদিবস সর্বোচ্চ পরিমাণ বেড়ে ১০ টাকার শেয়ারদর এখন দাঁড়িয়েছে ৬৫ টাকা ৪০ পয়সা। গত ৭ নভেম্বর লেনদেন শুরুর পর এই প্রথম উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শেয়ার হাতবদল হয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৪৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯০৪টি শেয়ার।

দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল নতুন তালিকাভুক্ত আরেক কোম্পানি এমকি পেস্ট্রিসাইডস। আগের কর্মদিবস প্রথমবারের মতো দর হারানো কোম্পানিটি দিনের শুরুতে আবার দর হারায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আগের দিনের চেয়ে ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। দিনের শুরুতে দাম দাঁড়ায় ৩১ টাকা, আর লেনদেন শেষ করে ৩৬ টাকা ৯০ পয়সায়। হাতবদল হয়েছে ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৪৯টি শেয়ার।

চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’
ব্যাংক খাতে আবার ছিল লেনদেনে সেরা

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের এমজেএল বাংলাদেশের দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এদিন দিনের সর্বোচ্চ বা ১০ শতাংশের কাছাকাছি শেয়ারদর বেড়েছে ছয়টি কোম্পানির। এর মধ্যে এমজেএল বাংলাদেশ ছিল তিন নম্বরে। হাতবদল হয়েছে ৫ লাখ ২৯ হাজার ৭৪৯টি শেয়ার।

এদিন সবচয়ে বেশি দর বৃদ্ধির তালিকায় প্রাধান্য ছিল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের। ১০টি কোম্পানির মধ্যে তিনটি ছিল এই খাতের।

পাওয়ার গ্রিডের দর ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে ৮৬ টাকা ১০ পয়সা থেকে পৌঁছে যায় ৬১ টাকা ৬০ পয়সায়। হাতবদল হয়েছে ৮৩ লাখ ৬৯ হাজার ৭২৫টি শেয়ার।

একই খাতের আরেক কোম্পানি জিবিবি পাওয়ারের দর বেড়েছে ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ।

বস্ত্র খাতের মিথুন নিটিংয়ের দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

প্রকৌশল খাতের দুটি কোম্পানির অবস্থান ছিল এরপর। এর মধ্যে বিএসআরএম স্টিলের দর ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ আর একই গ্রুপের বিএসআরএম লিমিটেডের দর বেড়েছে ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ।

৭ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ারদর বেড়েছে দুটি কোম্পানির। এর মধ্যে সোনালী পেপারের শেয়ারদর বেড়েছে ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ ও বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।

৬ শতাংশের বেশি শেয়ারদর বেড়েছে চারটি কোম্পানির। ৫ শতাংশের বেশি শেয়ারদর বেড়েছে তিনটি কোম্পানির। এগুলো হচ্ছে তিতাস গ্যাস, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানি ও ইউনাইটড পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি।

উত্তরা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, বারাকা পাওয়ার, বিচ হ্যাচারিসহ নয়টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ৪ শতাংশের বেশি।

দর পতনের ১০ কোম্পানি

এদিন সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, যার ইউনিটপ্রতি দর হারিয়েছে ৯ দশমিক ১৮ শতাংশ। ফান্ডটি ইউনিটপ্রতি দেড় টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ছিল বুধবার। আর পরদিনই এই দরপতন দেখল বিনিয়োগকারীরা।

সর্বোচ্চ দরপতনের দিনেও লেনদেন খুব বেশি হয়নি। যারা বিক্রয়ের আদেশ দিয়েছেন, তারা বেচতে পারেননি ক্রেতা না থাকায়।

দরপতনের দিক দিয়ে তার পরই ছিল রহিম টেক্সটাইল, যার দর কমেছে ৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ। কোম্পাটির মোট ২ লাখ ৪ হাজার টাকার ২২ হাজার ৮৯৪টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা ফার্স্ট ফাইন্যান্স কোম্পানির দর কমেছে ৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৭ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ১০ পয়সা। ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকায লেনদেন হয়েছে ৪৮ হাজার ৫৯৪টি শেয়ার।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের এমারেল্ড অয়েলের দর কমেছে ৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ। ৮১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা লেনদেন হাতবদল হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৯৭০টি শেয়ার।

চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’
এই খাতগুলোর বেশিরভাগেই লেনদেন বেড়েছে

সাভার রিফ্যাক্টরিজের দর ১৬০ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ কমে হয়েছে ১৫৫ টাকা। কোম্পানিটির ১ লাখ ৭২ হাজার টাকার ১ হাজার ১০২টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ৩ দশমিক ১১ শতাংশ, সাফকো স্পিনিংয়ের দর ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ, জাহিন টেক্সের দর ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমেছে।

এদিন ২ শতাংশের বেশি শেয়ারদর বেড়েছে ১০টি কোম্পানির।

লেনদেনে এগিয়ে থাকা ১০ কোম্পানি

লেনদেনে এগিয়ে ছিল বিবিধ খাতের বেক্সিমকো লিমিটেড। ১৫৬ কোটি ১১ লাখ টাকায় হাতবদল হয়েছে ৯৩ কোটি ৪৮ লাখ ৮৪৭টি শেয়ার।

কোম্পানিটির দর ১৬৬ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬৮ টাকা ২০ পয়সা।

ওয়ান ব্যাংকের মোট লেনদেন হয়েছে ৬৮ কোটি ৮ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ৩ কোটি ৫০ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭০টি শেয়ার। লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা কোম্পানিটির দর কমেছে ২০ পয়সা।

ব্যাংক খাতের আরেক কোম্পানি ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংক ছিল লেনদেনে শীর্ষ দশের তিন নম্বরে। ব্যাংকটির ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫৮ হাজার ১৭১টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৫৪ কোটি ৮১ লাখ টাকায়।

পাওয়ার গ্রিডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫০ কোটি ১১ লাখ টাকার। হাতবদল হয়েছে ৮৩ লাখ ৬৯ হাজার ৭২৫টি শেয়ার।

ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ১৫ লাখ ৬১ হাজার ৬৩৪টি শেয়ার।

সোনালী পেপারের লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ৫ লাখ ১৮ হাজার ৬০১টি শেয়ার।

বিমা খাতের সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের এদিন ২৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। হাতবদল হয়েছে মোট ৪৫ কোটি ৫৫ লাখ ৯০৪টি শেয়ার।

আইএফআইসি ব্যাংকের লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ ১৪ হাজার ৫৪৯টি শেয়ার।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ২৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। হাতবদল হয়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৩৫ হাজার ৯৫৮টি শেয়ার।

লেনদেনে দশম অবস্থানে থাকা আইডিএলসি ফাইন্যান্সে লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ২ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ৩৭ লাখ ৩৯ হাজার ৫৫২টি শেয়ার।

সব মিলিয়ে ১০টি কোম্পানিতে লেনদেন হয়েছে ৫০১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
আয় কিছুটা বাড়াতে পারল ‘হতাশার’ রবি
তুমুল আগ্রহের রবি আর জ্বলেনি
প্রথম দিনে রবির শেয়ার ছাড়েননি বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী

শেয়ার করুন

এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসিকে নিয়ে বসছে মন্ত্রণালয়

এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসিকে নিয়ে বসছে মন্ত্রণালয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির (বাঁয়ে) ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব নাহিদ হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই বৈঠকের কারণ হিসেবে ‘পুঁজিবাজার উন্নয়নের’ কথা জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে অংশীজনের মতবিনিময় সভার প্রস্তাবনাগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন কাজ সমন্বয় ও তদারকির জন্য এই আলোচনা হবে।

পুঁজিবাজার নিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সভা ডেকেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির প্রতিনিধি ছাড়াও থাকবেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, অর্থ বিভাগ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবির প্রতিনিধি।

আগামী মঙ্গলবার বেলা ১১টায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই বৈঠক হবে বলে মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিএসইসি ও বিআইসিএম শাখা থেকে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব নাহিদ হোসেন সাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে এই বৈঠকের কারণ হিসেবে ‘পুঁজিবাজার উন্নয়নের’ কথা জানানো হয়েছে।

বলা হয়েছে, অর্থমন্ত্রীর সাঙ্গে অংশীজনের মতবিনিময় সভার প্রস্তাবনাগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন কাজ সমন্বয় ও তদারকির জন্য এই আলোচনা হবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং পুঁজিবাজার কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকি কমিটির আহ্বায়ক মফিজ উদ্দীন আহমেদ এই সভার সভাপতিত্বে থাকবেন। সভায় গভর্নর ও বিএসইসি চেয়ারম্যান তাদের প্রতিনিধি পাঠাবেন বলে জানা গেছে।

এই বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত সচিব মফিজ উদ্দীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আগেই নানা বিষয় আলোচনা হয়েছিল যেসব বিষয় নিয়ে, সেগুলোর বাস্তবায়ন, অগ্রগতি ও পর্যালোচনার জন্য এই বৈঠক ডাকা হয়েছে।’

তবে কোন কোন বিষয় কবে আলোচনা হয়েছিল, সেগুলো উল্লেখ করেননি এই কর্মকর্তা।

পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই বৈঠকের দিকে দৃষ্টি রয়েছে বিনিয়াগকারীদের।

আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির মধ্যে নানা বিষয়ে মতভেদের প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। বাজার যখন উত্থানে ছিল, তখন এই বিষয়গুলো সেভাবে গুরুত্ব পায়নি। তবে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বাজার সংশোধন শুরু হওয়ার পর এই মতভেদ বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এর মধ্যে গত মঙ্গলবার দুই পক্ষে আনুষ্ঠানিক একটি বৈঠক হয়। এতে আলোচনা হয় মূলত চারটি বিষয় নিয়ে। তবে বিনিয়োগকারীরা অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন দুই ইস্যুতে। প্রথমত ব্যাংকের শেয়ার কেনার বিনিয়োগসীমা ক্রয়মূল্যে নাকি বাজারমূল্যে বিবেচনা করা হবে; দ্বিতীয়ত, বন্ডের বিনিয়োগ ব্যাংকের এই বিনিয়োগসীমার বাইরে থাকবে কি না।

বন্ডে ব্যাংকের বিনিয়োগ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের বুঝিয়ে বলেছি, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বন্ডে ব্যাংকের বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার মধ্যে না রাখতে। এতে বাংলাদেশের বন্ড বাজার বড় হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি।’

বৈঠকের পর দিন পুঁজিবাজারে বড় উত্থান হয়। টানা পতনের মধ্যে থাকা পুঁজিবাজারে এক দিনেই সূচক বেড়ে যায় ১৪৩ পয়েন্ট।

এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসিকে নিয়ে বসছে মন্ত্রণালয়

তবে এ নিয়ে উচ্ছ্বাসের মধ্যে সন্ধ্যার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে ফের উদ্বেগ দেখা যায়। এই বিজ্ঞপ্তির ভাষার সঙ্গে বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিনের বলা কথার মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। তারপরেও বৈঠকের পর কোনো কথা না বলার একদিন পর এই বিজ্ঞপ্তি বিনিয়োগকারীদের মনে প্রশ্ন জন্ম দেয়।

বিএসইসি কমিশনার জানিয়েছিলেন, তারা আলোচনায় ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন, নীতিগতভাবে একমত হতে পেরেছেন। তার বক্তব্য ছিল এমন: ‘এক্সপোজার লিমিট নিয়ে আমরা নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পেরেছি। আমরা এটা রিভিউ করব। গ্লোবালি এক্সপোজার লিমিট কস্ট প্রাইজের ভিত্তিতে করা হয়। এটি টেকনিক্যাল বিষয়, আরও গভীরভাবে আলোচনা করতে হবে।

‘আমরা নীতিগতভাবে একমত হয়েছি। এগুলোর দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ করে বিস্তারিত জানানো হবে।’

সেই বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলামও সাংবাদিকদের বলেন, ‘খুবই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। যে বিষয়গুলোয় আলোচনা হয়েছে, সামনে এসব বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তির ভাষাটা ছিল এমন- ‘সভা শেষে বিএসইসি কমিশনের প্রতিনিধির বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উক্ত সভায় কতিপয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের যে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে তা সঠিক নয়।’

এতে বলা হয়, ‘সভায় পুঁজিবাজারে তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।…ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ এ পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের বিষয়ে বিদ্যমান কতিপয় আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়েও বিএসইসি প্রতিনিধি দলকে স্পষ্টীকরণ করা হয়। তবে এসব বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকের দুই দিন আগেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের বক্তব্য জানিয়ে এসেছে বিএসইসি। সরকার যেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে, সে অনুরোধ জানানো হয়েছে এতে।

আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠকের পরদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। তিনি সরকার প্রধানকে জানান, বাজার মূল্যে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা নির্ধারণ হওয়ায় পুঁজিবাজারে অযাচিত বিক্রয়চাপ তৈরি হচ্ছে। এ কারণে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের অনুরোধ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী কী বলেছেন, সেটি না জানালেও বিএসইসি চেয়ারম্যান বৈঠকের ফলাফল প্রসঙ্গে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুপার হয়েছে। এক্সিলেন্টও।

যে আলোচনা হয়েছে, তা পুঁজিবাজারে কেমন প্রভাব ফেলবে- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অনেক ভালো হবে। সব আলোচনা হয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ে।’

বিএসইসির সূত্র বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সেই বিজ্ঞপ্তির পর গণমাধ্যমের সামনে আসতে চেয়েছিলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। পরে তিনি কথা বলেন অর্থ সচিবের সঙ্গে। সচিব তাকে কয়েকদিন অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, বিষয়টি তারা দেখছেন।

আরও পড়ুন:
আয় কিছুটা বাড়াতে পারল ‘হতাশার’ রবি
তুমুল আগ্রহের রবি আর জ্বলেনি
প্রথম দিনে রবির শেয়ার ছাড়েননি বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী

শেয়ার করুন

ডিএসই ফিক্স প্রটোকল সনদ পেল সিটি ব্রোকারেজ

ডিএসই ফিক্স প্রটোকল সনদ পেল সিটি ব্রোকারেজ

বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবায়াত-উল-ইসলাম বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে সিটি ব্রোকারেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফফান ইউসুফের হাতে ডিএসই ফিক্স প্রটোকল কানেকশন সনদ তুলে দেন।

ডিএসই ফিক্স প্রটোকল কানেকশন সনদ পেয়েছে সিটি ব্রোকারেজ লিমিটেড।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবায়াত-উল-ইসলাম বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে সিটি ব্রোকারেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফফান ইউসুফের হাতে এ সনদ তুলে দেন।

বিএসইসি ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, মিজানুর রহমান, আবদুল হালিম, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক আমিন ভূঁইয়া এবং বিএসইসি, ডিএসই ও সিটি ব্রোকারেজের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
আয় কিছুটা বাড়াতে পারল ‘হতাশার’ রবি
তুমুল আগ্রহের রবি আর জ্বলেনি
প্রথম দিনে রবির শেয়ার ছাড়েননি বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী

শেয়ার করুন

বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক

বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক

আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

‘ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ এ পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের বিষয়ে বিদ্যমান কতিপয় আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়েও বিএসইসি প্রতিনিধি দলকে স্পষ্টীকরণ করা হয়। তবে এসব বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসির বৈঠকের পর সংস্থাটির পক্ষ থেকে দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পুঁজিবাজারে উত্থান হওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেয়া একটি বক্তব্যে আবার তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মঙ্গলবারের বৈঠকে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। অবশ্য সেই বৈঠকের পর বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদও বলেননি সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি নীতিগতভাবে একমত হওয়ার কথা বলেছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক জিএম আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘সভায় পুঁজিবাজারে তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

‘ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ এ পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের বিষয়ে বিদ্যমান কতিপয় আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়েও বিএসইসি প্রতিনিধি দলকে স্পষ্টীকরণ করা হয়। তবে এসব বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।’

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির এই বৈঠকের প্রতি বিনিয়োগকারীরা অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন দুই ইস্যুতে। প্রথমত ব্যাংকের শেয়ার কেনার বিনিয়োগসীমা ক্রয়মূল্যে নাকি বাজারমূল্যে বিবেচনা করা হবে; দ্বিতীয়ত, বন্ডের বিনিয়োগ ব্যাংকের এই বিনিয়োগসীমার বাইরে থাকবে কি না।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কেউ কথা বলেননি। তবে বিএসইসির পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেয়া কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এক্সপোজার লিমিট নিয়ে আমরা নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পেরেছি। আমরা এটা রিভিউ করব। গ্লোবালি এক্সপোজার লিমিট কস্ট প্রাইজের ভিত্তিতে করা হয়। এটি টেকনিক্যাল বিষয়, আরও গভীরভাবে আলোচনা করতে হবে।’

বন্ডে ব্যাংকের বিনিয়োগ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের বুঝিয়ে বলেছি, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বন্ডে ব্যাংকের বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার মধ্যে না রাখতে। এতে বাংলাদেশের বন্ড বাজার বড় হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি।’

বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকের পর মঙ্গলবার গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো বক্তব্য দেয়নি

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সভা শেষে বিএসইসি কমিশনের প্রতিনিধির বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উক্ত সভায় কতিপয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের যে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে তা সঠিক নয়।’

অবশ্য শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেননি কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে। তার বক্তব্য ছিল এমন: ‘আমরা নীতিগতভাবে একমত হয়েছি। এগুলোর দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ করে বিস্তারিত জানানো হবে।’

সেই বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলামও সাংবাদিকদের বলেন, ‘খুবই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। যে বিষয়গুলোয় আলোচনা হয়েছে, সামনে এসব বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্রের এই ধরনের বক্তব্যের পরদিন এর বিপরীতমুখী বক্তব্য দেয়ার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকা মোবাইল ফোন নম্বরে কল করা হলে রিসিভ করলেও প্রশ্ন শুনে তা কেটে দেয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আর যেসব বিষয় উঠে এসেছে

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবারের বৈঠকের বিষয়ে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর একেএম সাজেদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে ৩০ নভেম্বর বিএসইসির একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সভা বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বিএসইসির উদ্যোগে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড গঠনের ফলে তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন এবং পুঞ্জীভূত লোকসান বিদ্যমান থাকলেও সংশ্লিষ্ট বছরের মুনাফায় নগদ লভ্যাংশ বিতরণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক
বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকের দিন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বললেও পর দিন এই বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে

‘সভায় ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৩৫(১)(গ) ধারা ও ২২ ধারা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩-এর ১০ ধারার বিষয়গুলো ব্যাখ্যাপূর্বক ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের অদাবীকৃত তহবিল স্থানান্তরের এবং পুস্তি লোকসান বিদ্যমান থাকলেও সংশ্লিষ্ট বছরের মুনাফা হতে নগদ লভ্যাংশ বিতরণের বিষয়টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আইনসম্মত নয় বলে বিএসইসি প্রতিনিধি দলকে অবহিত করা হয় এবং এতদবিষয়ে বিএসইসির নোটিফিকেশনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনয়নের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।’

আরও পড়ুন:
আয় কিছুটা বাড়াতে পারল ‘হতাশার’ রবি
তুমুল আগ্রহের রবি আর জ্বলেনি
প্রথম দিনে রবির শেয়ার ছাড়েননি বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুপার’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুপার’

ক্যাপিটাল মার্কেট নিয়ে নিউইয়র্কে রোডশোর আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

সরকারপ্রধানের সঙ্গে আলোচনার ফলাফল কী- এমন প্রশ্নে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার একান্তে বৈঠক হয়েছে। সিদ্ধান্ত কী হয়েছে, সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আগে আমার বলা উচিত হবে না।’ বৈঠকের বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের জন্য কী বার্তা থাকবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সুপার হয়েছে। এক্সিলেন্টও।’ যে আলোচনা হয়েছে, তা পুঁজিবাজারে কেমন প্রভাব ফেলবে- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অনেক ভালো হবে। সব আলোচনায় হয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ে।’

পুঁজিবাজার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকের পরদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সরকারপ্রধান কী জানিয়েছেন, সে বিষয়ে কিছু জানালেন না বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। তবে জানিয়েছেন, আলোচনায় তৃপ্ত তিনি। এক বাক্যে বললেন, ‘সুপার হয়েছে’ যার মাধ্যমে তার উচ্ছ্বাসটা স্পষ্ট হয়েছে।

বুধবার বেলা ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান বিএসইসি চেয়ারম্যান। বেলা পৌনে ১টার দিকে নিউজবাংলার সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

সরকারপ্রধানের সঙ্গে আলোচনার ফলাফল কী- এমন প্রশ্নে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার একান্তে বৈঠক হয়েছে। সিদ্ধান্ত কী হয়েছে, সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আগে আমার বলা উচিত হবে না।’

কিন্তু বৈঠকের বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের জন্য কী বার্তা থাকবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সুপার হয়েছে। এক্সিলেন্টও।’

যে আলোচনা হয়েছে, তা পুঁজিবাজারে কেমন প্রভাব ফেলবে- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অনেক ভালো হবে। সব আলোচনা হয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ে।’

বিস্তারিত না জানালেও বিএসইসি চেয়ারম্যান জানিয়ছেন, পুঁজিবাজারের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। কোন কোন বাধার কারণে পুঁজিবাজার তার নিজস্ব গতিতে যেতে পারছে না, সে বিষয়গুলোও তুলে ধরেছেন তিনি।

গত বছরের মে মাসে করোনা পরিস্থিতিতে শিবলী রুবাইয়াতকে প্রধান করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি পুনর্গঠনের পর থেকে পুঁজিবাজারে দারুণ দিন ফিরতে শুরু করে। প্রায় এক যুগ আগের মহাধসে হারানো শেয়ারদর কিছুটা হলেও ফিরে পেতে শুরু করে।

প্রথম দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও পুঁজিবাজারে তারল্য বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নেয়। ব্যাংকগুলো তার বিনিয়োগসীমার বাইরে গিয়ে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেয় আলাদা তহবিল করে।

এই পরিস্থিতিতে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে সূচক মহাধসের পর প্রথমবারের মতো ৭ হাজার পয়েন্টের সীমা অতিক্রম করে। কিন্তু এ পর্যায়ে এসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ কিছু পদক্ষেপ পুঁজিবাজারে তারল্য কমিয়ে দেয়।

ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ তার সীমার মধ্যে আছে কি না, সে বিষয়টিতে কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি প্রতিদিনের লেনদেনের তথ্য চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাজারমূল্যে বিনিয়োগসীমা নির্ধারণ করায় শেয়ার মূল্য বেড়ে গিয়ে ব্যাংকের সেই নির্ধারিত অঙ্কের বেশি শেয়ার ধারণ করলেই জরিমানার মুখে পড়তে হয় ব্যাংকগুলোকে।

পাশাপাশি ব্যাংকগুলো বন্ডে যে বিনিয়োগ করেছে, সেটিও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার মধ্যেই ধরার কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনা করা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির কাছেও প্রতিদিনের লেনদেনের তথ্য চায় তারা।

এসব ঘটনায় বাজারে অযাচিত বিক্রয় চাপ তৈরি হয়, নতুন বিনিয়োগও আটকে যায়। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বড় বিনিয়োগকারীরাও হাত গুটিয়ে বসে থাকে।

ফলে শুরু হয় ধসের মতো পরিস্থিতি। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠকের আগের আট কর্মদিবসে একদিন বাড়ে প্রতিদিনই সূচক পড়েছে। এই কয়দিনেই বাজার থেকে সূচক কমে যায় প্রায় ৪০০ পয়েন্ট।

বহুল প্রতীক্ষিত সেই বৈঠক শেষে বিএসইসির পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেয়া কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ জানান, তারা যেসব দাবি তুলেছিলেন, তা মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বন্ডে বিনিয়োগ ব্যাংকের বিনিয়োগসীমার বাইরে থাকবে। আবার সারা পৃথিবীর মতো ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট শেয়ারের ক্রয়মূল্যে বিবেচনার বিষয়য়েও কেন্দ্রীয় ব্যাংক একমত হয়েছে নীতিগতভাবে।

পরের দিন সরকারপ্রধানের সঙ্গে আলোচনাতেও ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট ও বন্ডে বিনিয়োগ ইস্যু তুলে ধরেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক।’

আরও পড়ুন:
আয় কিছুটা বাড়াতে পারল ‘হতাশার’ রবি
তুমুল আগ্রহের রবি আর জ্বলেনি
প্রথম দিনে রবির শেয়ার ছাড়েননি বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী

শেয়ার করুন

‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ

‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ

পুঁজিবাজারে লেনদেনে ব্যস্ত বিনিয়োগকারীরা। ফাইল ছবি

ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে বিবেচনা, বন্ডে বিনিয়োগ- পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখার বিষয়ে রাজি হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে আদেশ জারি করা হবে। এই খবরে দরপতনের মধ্যে থাকা পুঁজিবাজারে দারুণ দিন দেখল বিনিয়োগকারীরা।

ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা ক্রয়মূল্যে বিবেচনা, পাশাপাশি বন্ডে বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানানোর পর পড়তে থাকা শেয়ারমূল্য দিয়েছে লাফ। এক দিনে ৩০০ কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ার প্রভাবে সূচক বেড়েছে ১০০ পয়েন্টের বেশি।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সঙ্গে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের মতভিন্নতার ইস্যুতে টানা দরপতনের কারণে যে হতাশা দেখা গিয়েছিল পুঁজিবাজারে, দুই পক্ষের বৈঠকের পর তার আপাত অবসান দেখা গেছে।

মঙ্গলবার বহুল প্রতীক্ষিত এই বৈঠক শেষে কোনো সার্কুলার জারি হয়নি। তবে বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাদের পক্ষ থেকে যেসব বিষয় তোলা হয়েছিল, তার প্রতিটির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে বিবেচনা, বন্ডে বিনিয়োগ- পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখার বিষয়ে রাজি হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে আদেশ জারি করা হবে।

সেই বৈঠকের পরদিন বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যাওয়ার কথা সেই রাতেই চাওর হয়ে যায়। বৈঠক শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান কোনো সিদ্ধান্ত না জানালেও বলেছেন, যে কথাবার্তা হয়েছে, তা পুঁজিবাজারের জন্য দারুণ হবে।

এসব ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের মনের চাপ দূর হওয়ার পর বুধবার সকালে লেনদেন শুরুই হয় ১২৮ পয়েন্ট দিয়ে। লেনদেনের সাড়ে ৪ ঘণ্টায় একটিবারের জন্যও তা সেখান থেকে খুব বেশি কমে দেখা যায়নি। বরং শেষ বেলায় আরও বাড়ে।

‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ
বুধবার পুঁজিবাজারে লেনদেন পয়েন্ট বেড়েছে।

বেলা ১১টা ২৮ মিনিটে সূচক আগের দিনের চেয়ে ১৫৪ পয়েন্ট বেড়ে লেনদেন হতে থাকে। তখন সূচক ছিল ৬ হাজার ৮৫৭ পয়েন্ট। এরপর সেখান থেকে অল্প কিছু কমলেও শেষ সময়ে আবার শেয়ারদর বেড়ে সূচকের অবস্থান দাঁড়ায় ৬ হাজার ৮৪৭ পয়েন্ট, যা দিনের সর্বোচ্চ অবস্থান।

এক দিনেই সূচক বেড়েছে ১৪৩ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট।

তবে সূচকের ঊর্ধ্বগতিতেও লেনদেন সেভাবে গতি পায়নি। বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ এখনও বাজারকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে। আবার যারা বেশি দামে শেয়ার কিনে ধরে রেখেছেন, তাদের কেনা দামের কাছাকাছিও আসেনি শেয়ার। এ কারণে বিক্রয় চাপ কম ছিল। এ কারণে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কম হয়েছে।

দিন শেষে বেড়েছে ২৯৩টি শেয়ারের দর, কমেছে ৪৫টির, অপরিবর্তিত ছিল ৩৫টির দর।

সূচক বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকায় ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। টানা পাঁচ কর্মদিবস দর হারানো কোম্পানিটির শেয়ারদর এক দিনেই বাড়ল ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। এর প্রভাবে সূচকে যোগ হয়েছে ২১ দশমিক ৮২ পয়েন্ট।

গ্রামীণফোন, বেক্সিমকো ফার্মা, স্কয়ার ফার্মা, ওয়ালটন, রবি, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি, ইউনাইটেড পাওয়ার, পাওয়ারগ্রিড, ডেল্টা লাইফের দর বৃদ্ধিতে সূচকে যোগ হয়েছে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানিই সূচক বাড়িয়েছে ৮৬ দশমিক ৪১ পয়েন্ট।

‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ
পুঁজিবাজারে সূচক সবচেয়ে বেশি বাড়িয়েছে যে ১০টি কোম্পানি

অন্যদিকে পুঁজিবাজারে দারুণ দিনে এতদিন ক্রমাগতভাবে বাড়তে থাকা ওয়ান ব্যাংক দর হারানোয় সূচক থেকে কমেছে ১ দশমিক ০৯ পয়েন্ট।

ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনিট হোটেল, সামিট পাওয়ার, আরামিট সিমেন্ট, তুংহাই নিটিং, ইস্টার্ন ক্যাবলস, নিউলাইন ক্লথিং, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স ও এমারেল্ড অয়েলের দরপতনের কারণে সূচক থেকে কিছু পয়েন্ট কমেছে।

তবে দরপতনের হার খুব একটা বেশি না হওয়ায় এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে কেবল ৩ দশমিক ১৩ পয়েন্ট।

দর বৃদ্ধিতে ১০ কোম্পানি

গত ২৮ নভেম্বর থেকে দর কমতে থাকা বিবিধ খাতের ইনডেক্স এগ্রোর শেয়ার দরে চমক লেগেছে। কোম্পানিটির দর বেড়েছে দিনের সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

তবে এই দর বৃদ্ধি নতুন বিনিয়োগকারীদের মুনাফা দিলেও রেকর্ড ডেট ২৮ নভেম্বর যারা শেয়ার কিনে ধরে রেখেছিলেন তাদের জন্য খুব একটা ভালো সংবাদ দেয়নি। কারণ সেদিনও কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি দর ছিল ১২২ টাকা। বুধবারও লেনদেন শেষে শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকায়। এই সময়ে কোম্পানিটির সর্বনিম্ম দর ছিল ১১০ টাকা।

দর বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় স্থানে থাকা নতুন তালিকাভুক্ত সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ। দিন শেষে দর দাঁড়িয়েছে ৫৯ টাকা ৬০ পয়সা। তবে এই দামেও শেয়ার বিক্রি করতে রাজি নন বিনিয়োগকারীরা। দিন শেষে হাতবদল হয়েছে কেবল ৮৪ হাজার ৯৫৩টি শেয়ার।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। কোম্পানিটির শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৭৫ লাখ ২৩৪টি। শেয়ার দর ১৫২ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬৬ টাকা ৯০ পয়সা।

বেক্সিমকোর শেয়ার দর গত ১৭ নভেম্বর থেকে টানা পতনে ছিল। ১৭২ টাকা থেকে এই সময়ে দর নেমে আসে ১৫২ টাকায়। সেখান থেকে বুধবারই প্রথম বড় উত্থান হলো কোম্পানিটির।

‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ
যেসব কোম্পানির দর বেড়েছে, কমেছে

বস্ত্র খাতের এনভয় টেক্সটাইলের দরও বেড়েছে ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আগের দিন দাম ছিল ৪৫ টাকা। দিন শেষে দাঁড়িয়েছে ৪৯ টাকা ৪০ পয়সায়।

ব্যাংক খাতের ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ দর বৃদ্ধির মাধ্যমে পৌঁছেছে ১৫ টাকা ৩০ পয়সায়। ১৮ নভেম্বরের এটির ব্যাংকটির সর্বোচ্চ দর।

বুধবার ৮ শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে এমন কোম্পানির সংখ্যা ছিল তিনটি। এর মধ্যে পাট খাতের কোম্পানি জুট স্পিনার্সের দর ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ, খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের শ্যামপুর সুগারের দর ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ আর বিমা খাতের ডেল্টা লাইফের শেয়ার দর বেড়েছে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ।

দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশের নয় ও দশ নম্বরে ছিল জিবিবি পাওয়ার, যার শেয়ার বেড়েছে ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ আর সোনালী পেপারের শেয়ার দর বেড়েছে ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

এই ১০টি ছাড়া ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে আরও ৭টি কোম্পানির দর। ৬ শতাংশের বেশি আরও ৩টির, ৫ শতাংশের বেশি ৭টির, ৪ শতাংশের বেশি ৬টির, ৩ শতাংশের বেশি ২৩টির, ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে আরও ৬০টি কোম্পানির দর।

দর পতনের ১০ কোম্পানি

গত ৫ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা করে লোকসান থাকায় কোনো বছরের জন্যই লভ্যাংশ ঘোষণা না করা তুংহাই নিটিংয়ের রেকর্ড ডেটের পর প্রথম লেনদেন ছিল বুধবার। ফলে এদিন কোম্পানিটির শেয়ার দরে উত্থান পতনে কোনো সীমা ছিল না। লভ্যাংশ না দেয়ায় কোম্পানিটির শেয়ার দর স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে বেশি দর পতন হয়েছে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। শেয়ার দর ৬ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৬ টাকা।

এরপরই ছিল আরামিট সিমেন্ট। কোম্পানিটির দর কমেছে ৮. দশমিক ৩০ শতাংশ। ২ কোটি ২৭ লাখ টাকা লেনদেন হওয়া কোম্পানিটির ৭৪ লাখ ৩১ হাজার ২৯টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ
বুধবারের লেনদেনে যেসব কোম্পানির দাম বেড়েছে-কমেছে।

ওয়ান ব্যাংকের শেয়ার দর এদিন কমেছে ৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ। গত ১৭ নভেম্বর থেকে শেয়ার দরে উত্থানে থাকা এই ব্যাংকটির য়েশার দর ৩০ নভেম্বর থেকে কমছে। বুধবার লেনদেন শেষে ব্যাংকটির দর ছিল ১৯ টাকা ৪০ পয়সা।

এদিন দর পতনের থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে বস্ত্র খাতের কোম্পানি ছিল সবচেয়ে বেশি। শীর্ষ দশ কোম্পানির মধ্যে ছয়টি ছিল বস্ত্র খাতের।

মিথুন নিটিংয়ের দর কমেছে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। শেয়ার দর ১২ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১১ টাকা ৬০ পয়সা। ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা লেনদেন হওয়া কোম্পানিটির মোট ১৬ হাজার ৫৫৫টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

এমারেল্ড অয়েলের শেয়ার দর কমেছে ২ দশমিক ৫২ শতাংশ। এ ছাড়া আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের দর কমেছে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ।

সাভার রিফ্যাক্টরিজ, নিউ লাইন ক্লথিং, সোনারবাংলা টেক্সটাইল, ইস্টার্ন ক্যাবলস, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স ছিল দর পতন হওয়া শীর্ষ কোম্পানির তালিকায়।

লেনদেনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি

বুধবার লেনদেনে এগিয়ে থাকা দশ কোম্পানির মধ্যে শীর্ষে বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানিটির মোট ১২২ কোটি ২৮ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। হাতবদল হয়েছে ৭৫ লাখ ২৩৪টি শেয়ার।

লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে মাত্র দুটি কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। এ তালিকায় দর পতন হওয়া কোম্পানি দুটি ছিল ওয়ান ব্যাংক ও একমি পেস্ট্রিসাইডস। নতুন তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এই প্রথম দাম কমল শেয়ারটির।

এদিন ওয়ান ব্যাংকের মোট লেনদেন হয়েছে ১৩২ কোট ১১ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৫ কোটি ৭৫ লাখ ৩৭ হাজার ৯১২টি।

ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের মোট লেনদেন হয়েছে ৭৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ৫ কোটি ১৮ লাখ ৯৯ হাজার ৯৪৬টি।

ডেল্টা লাইফের লেনদেন হয়েছে ৪৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ২২ লাখ ৫ হাজার ১৯টি।

আইএফআইসি ব্যাংকের লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১৩ লাখ ৯০ হাজার ৬৪৪টি। এর আগে ছিল একমি পেস্টিসাইডস। যার শেয়ার হাতবদল হয়েছ ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৭২টি। লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

জেনেক্স ইফফোসিসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

শীর্ষ দশের এই তালিকায় আরও ছিল ওরিয়ান ফার্মা, প্যারামাউন্ড টেক্সটাইল, ফরচুন সুজ।

আরও পড়ুন:
আয় কিছুটা বাড়াতে পারল ‘হতাশার’ রবি
তুমুল আগ্রহের রবি আর জ্বলেনি
প্রথম দিনে রবির শেয়ার ছাড়েননি বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী

শেয়ার করুন