সম্পত্তির জন্য ছেলের নির্যাতন, মায়ের মামলা

সম্পত্তির জন্য ছেলের নির্যাতন, মায়ের মামলা

মামলার অভিযোগে নাজেরা বেগম বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর অন্য সন্তানরা আমার দেখভাল করলেও বড় ছেলে কোনো খোঁজখবর রাখেনি, ভরণপোষণও দেয়নি। বরং প্রতিদিন আমাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করছে। হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমি এর বিচারসহ জীবনের নিরাপত্তা চাই।’

সম্পত্তির জন্য ছেলে ও নাতির নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে নাজেরা বেগম নামের এক বৃদ্ধ আদালতে মামলা করেছেন।

রোববার বিকেলে মেহেরপুর বিচারিক হাকিম আদালতে তার বড় ছেলে শামসুল আলম পিন্টু ও নাতি (বড় ছেলের সন্তান) সালেহীন আলম অঙ্কুরের নামে মামলা করেন তিনি।

মামলার অভিযোগে নাজেরা বেগম বলেন, ‘আমি বিধবা নারী। ২০ বছর আগে আমার স্বামী মারা গেছে। আমার জ্যেষ্ঠ পুত্র শামসুল আলম পিন্টু আমার নামের সম্পত্তি ব্যাংকে বন্ধক রেখে ৫ লাখ টাকা লোন নেয়। সেই লোনের টাকা পরিশোধ না করে সে তার পরিবার নিয়ে আলাদাভাবে বসবাস শুরু করে। আমি বাধ্য হয়ে অন্য ছেলেদের সহযোগিতায় সুদসহ ১০ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে সেই জমি রক্ষা করি।

‘গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আমার ছেলে ও নাতি একদল সন্ত্রাসী নিয়ে এসে আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে ওই সম্পত্তিতে তাদের অংশ লিখে দিতে চাপ দেয়। তখন আমি মেহেরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করি।’

অভিযোগে আরও বলা হয়, ‘তারা বাপ-বেটা কয়েক মাস চুপ থাকে। হঠাৎ গত শনিবার হাতুড়ি, শাবলসহ দেশি অস্ত্র হাতে ১০-১২ জনকে নিয়ে এসে আমার বাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। তারা আমাকে হুইলচেয়ার থেকে ছুড়ে ফেলে দেয়।

‘এ সময় আমি চিৎকার করে কান্না শুরু করি। পাশে আলাদাভাবে বসবাস করা আমার অন্য ছেলে শামসুল আলম রন্টু ও শামসুজ্জামান এসে উদ্ধার করার চেষ্টা করলে তাদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করে বহিরাগত সন্ত্রাসী ও আমার ছেলে-নাতিরা। স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর অন্য সন্তানরা আমার দেখভাল করলেও বড় ছেলে কোনো খোঁজখবর রাখেনি, ভরণপোষণও দেয়নি। বরং প্রতিদিন আমাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করছে। হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমি এর বিচারসহ জীবনের নিরাপত্তা চাই।’

অভিযুক্ত শামসুল আলম পিন্টুর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে বলেন, ‘টাকা আমি নিজে নিই নাই। তবে টাকা নিয়েছিল আমার ছেলে। তখন আমার মায়ের তাতে সম্মতি ছিল। আমি টাকা পরিশোধের জন্য মায়ের কাছে সময় চেয়েছিলাম। তিনি সেই সময় দেননি। তিনি তা পরিশোধ করে দিয়েছেন।’

নাজেরা বেগমের মামলার আইনজীবী নুরুজ্জামান জামান বলেন, ‘বৃদ্ধা তার বড় ছেলে শামসুল আলম পিন্টুর বিরুদ্ধে বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা করেছেন। তার নিজের ও সম্পত্তির নিরাপত্তা চেয়ে আদালত মামলাটি আমলে নিয়েছে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিজিবি সদস্যকে হত্যা: ঘটনাস্থলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টিম

বিজিবি সদস্যকে হত্যা: ঘটনাস্থলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টিম

পরাজিত প্রার্থীর চাচি ইয়ামিন বেগম জানান, ‘আমরা হেরে গেছি। তারপর কী হয়েছে আমাদের জানা নেই। রাত ২টার দিকে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে কিছু ব্যক্তি।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বিজিবি সদস্যের ময়নাতদন্ত হয়েছে।

জেনারেল হাসপাতালের মর্গে সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মেজবাহুর হাসান চৌধুরী।

তিনি জানান, দুপুর ১২টার দিকে বিজিবি সদস্যে রুবেল মন্ডলের ময়নাতদন্ত হয়। পরে কর্তৃপক্ষের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিহত রুবেলের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি টিম। এতে ছিলেন বিজিবি রংপুর রিজিওনাল কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুবুর রহমান খান, রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত উপপুলিশ মহাপরিদর্শক ওয়ালিদ হোসেন ও নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা মুরাদ হাসান বেগ।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে মিজানুর রহমান বলেন, এই মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না। সবার সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানান হবে।

নির্বাচনি সহিংসতায় বিজিবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার পর নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের গাড়াগ্রামের মাঝাপাড়া এখন সুনসান।

ঘটনাস্থলে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গিয়ে দেখা গেছে গুমট পরিবেশ। পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আশপাশে কাউকে ভিড়তে দিচ্ছে না পুলিশ।

ফল ঘোষণার পর জাতীয় পার্টির পরাজিত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিকের সমর্থকদের হামলায় বিজিবি সদস্য রুবেল হোসেন নিহত হন বলে অভিযোগ উঠেছে। রুবেল বাহিনীটির নায়েক ছিলেন।

এ ঘটনার পর পরাজিত প্রার্থীর বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। দুজনকে বাড়ি থেকে তুলে নেয়ার অভিযোগও করেছেন ওই প্রার্থীর এক স্বজন।

সহিংসতার বর্ণনা দিতে গিয়ে স্থানীয়রা জানান, গাড়াগ্রাম ইউপিতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী জোনাব আলীকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। সেই ফল প্রত্যাখান করেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিকের সমর্থকরা। কেন্দ্র থেকে ব্যালটসহ নির্বাচনি সরঞ্জাম নিয়ে উপজেলা সদরে রির্টানিং কর্মকর্তার দপ্তরে যাওয়ার সময় কর্মকর্তাদের ওপর লাটিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান তারা।

তারা আরও জানান, ওই সময় আত্মরক্ষায় বিজিবি সদস্য রুবেল কেন্দ্রের একটি কক্ষে আশ্রয় নিলে বিক্ষুব্ধরা সেখানে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান। পুলিশের গাড়ি ও ভোট কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের চেষ্টাও চলান তারা। আত্মরক্ষায় তখন কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সরকার বিভাগের উপপরিচালক আবদুর রহমান বলেন, ‘হামলায় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসসহ নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন।’

নির্বাচনি সহিংসতার পর গাড়াগ্রামের মাঝাপাড়ায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা জোসনা বেগম জানান, প্রথম শোনা গেছে বর্তমান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। পরে আবার জানা গেল সে হেরে গিয়ে জিতেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী। এনিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয় স্থানীয়দের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

শুনছি সে সময় বিজিবির এক সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে ঘটনার পর থেকে এলাকায় কোনো মানুষ নেই।

পরাজিত প্রার্থীর চাচি ইয়ামিন বেগম জানান, ‘আমরা হেরে গেছি। তারপর কী হয়েছে আমাদের জানা নেই। রাত ২টার দিকে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে কিছু ব্যক্তি।

‘আমার পরিবার থেকে দুজনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কে বা কারা নিয়ে গেছে তা আমরা জানি না।’

প্রতিবেশী ফজিলা বেগম বলেন, ‘রাতে শুনেছি হাঙ্গামার খবর। সকাল থেকে এই এলাকায় কোনো মানুষ পাওয়া যায়নি।’

সহিংসতার ঘটনায় কেউ আটক আছে কিনা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। তিনি কথা বলতে চাননি মামলার প্রসঙ্গেও।

শেয়ার করুন

কাউন্সিলর সোহেল হত্যায় গ্রেপ্তার আরও দুই

কাউন্সিলর সোহেল হত্যায় গ্রেপ্তার আরও দুই

কুমিল্লার কাউন্সিলর সোহেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও দুজনকে। ছবি: নিউজবাংলা

সবশেষ গ্রেপ্তার দুজন হলেন নগরীর সুজানগরের জিসান মিয়া ও সংরাইশ এলাকার মোহাম্মদ রাব্বি ইসলাম অন্তু। এর মধ্যে জিসান মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। আর রাব্বিকে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলেন ছয়জন।

কুমিল্লায় কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সঙ্গীকে গুলি করে হত্যা মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলেন ছয়জন।

সবশেষ গ্রেপ্তার দুজন হলেন নগরীর সুজানগরের জিসান মিয়া ও সংরাইশ এলাকার মোহাম্মদ রাব্বি ইসলাম অন্তু।

এর মধ্যে জিসান মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। আর রাব্বিকে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার মধ্যরাতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী এলাকা থেকে জিসান ও দেবিদ্বার উপজেলা সদর থেকে অন্তুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার।

জেলা পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, ঘটনার দিন অন্তুর বাড়িতে দুপুরের খাবার খান এজাহারভুক্ত সাত আসামি। এ কারণে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অন্তুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিজ কার্যালয়ে গত ২২ নভেম্বর বিকেলে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেলসহ গুলিবিদ্ধ হন অন্তত ছয়জন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোহেল ও তার সঙ্গী হরিপদ সাহার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলমকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নামে মামলা হয় কোতোয়ালি থানায়। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে ১০-১২ জনকে।

শেয়ার করুন

ভোটে হেরে ‘ফেরত নিলেন’ অনুদানের কম্বল

ভোটে হেরে ‘ফেরত নিলেন’ অনুদানের কম্বল

পরাজিত সদস্য প্রার্থী রমেছা খানম তার দেয়া অনুদানের কম্বল ফেরত নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

কম্বল পাওয়া অনু মিয়া বলেন, ‘যে কাজটি রমেছা খানম করলেন তা এলাকাবাসী দেখলেন। গরিবদের প্রতি তার অবিচার আগে থেকেই। এ জন্য তার পক্ষে নির্বাচন করিনি। এ কারণেই তিনি আজ সকালে (সোমবার) এসে সব কম্বল নিয়ে গেছেন।’

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ভোটে হেরে যাওয়ায় চারজনকে দেয়া অনুদানের কম্বল ফিরিয়ে নিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী রমেছা খানম। ওই চারজন এমন অভিযোগ করেছেন।

তারা বলছেন, রমেছার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় ও সেই প্রার্থী বিজয়ী হওয়ায় ক্ষেপে গিয়ে রমেছা এ কাজ করেছেন।

রমেছা খানম সহদেবপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের সদস্য থাকাকালে দুই বছর আগে ইউপির অনুদানের টাকায় একটি করে কম্বল দেন আকুয়া গ্রামের মকবুল হোসেন, অনু মিয়া, মো. সংকু ও মো. বংকুকে। তারা চারজন ভাই।

ওই আসনের জন্য এবার রমেছার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জোসনা বেগম। ভোটে জয় হয় জোসনার। কম্বল পাওয়া চার ভাইয়ের বাড়ি জোসনার বাড়ির পাশেই। তারা জোসনার পক্ষে নির্বাচনে কাজও করেছেন বলে জানান।

এর মধ্যে মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমার পাশের বাড়ির জোসনা বেগম এ বছর নির্বাচন করলে আমরা তার পক্ষে কাজ করি। এ জন্য রমেছা আমাদের দেয়া কম্বলগুলো নিয়ে গেছেন।’

অনু মিয়া বলেন, ‘যে কাজটি রমেছা খানম করলেন তা এলাকাবাসী দেখলেন। গরিবদের প্রতি তার অবিচার আগে থেকেই। এ জন্য তার পক্ষে নির্বাচন করিনি। এ কারণেই তিনি আজ সকালে (সোমবার) এসে সব কম্বল নিয়ে গেছেন।’

অভিযোগ সত্য কিনা জানতে রমেছা খানমকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে পারব না।’

শেয়ার করুন

নির্বাচনি সহিংসতা: আহত স্কুলছাত্রের মৃত্যু

নির্বাচনি সহিংসতা: আহত স্কুলছাত্রের মৃত্যু

সলঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাকেরিয়া ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, ৩নং ওয়ার্ডের দুই মেম্বর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত স্কুলছাত্র বগুড়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। সুরতহাল শেষে তার মরদেহ নিজ বাড়িতে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হবে।

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় নির্বাচনি সহিংসতায় আহত স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ নিয়ে ইউপি নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ৭ জেলায় প্রাণ গেল ৯ জনের।

মৃত দেলোয়ার হোসেন সাগর মাছুয়াকান্দি গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে ও সলঙ্গা ইসলামি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়ত।

হাটিকুমরুল ইউপি চেয়ারম্যার হেতায়েতুল আলম নিউজবাংলাকে জানান, রোববার দুপুরে ভোট চলাকালে মাছিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর প্রার্থী সেলিম রেজা মোল্লা ও হিরা সর্দারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

ভোট দেখতে এসে মারধরের শিকার হন স্কুলছাত্র সাগর। তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোররাতে ছেলেটি মারা যায়।

সংঘর্ষ দুপক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলেও জানান চেয়ারম্যান।

আহতদের মধ্যে হিরা মন্ডল, আমিরুল হোসেন সবুজ, হাদি, ইব্রাহিম, আশরাফুল, মতি, আমিরুল ইসলাম ও শফি খানকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

সলঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাকেরিয়া ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, ৩নং ওয়ার্ডের দুই মেম্বর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত স্কুলছাত্র বগুড়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। সুরতহাল শেষে তার মরদেহ নিজ বাড়িতে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হবে।

শেয়ার করুন

রায়পুরায় নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রায়পুরায় নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রতীকী ছবি

এসআই জব্বার বলেন, ‘আমরা ফারজানার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছি। তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে আমরা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলতে পারব।’

নরসিংদীর রায়পুরায় এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার আমিরগঞ্জ বাজারের একটি বিউটি পার্লারের ভেতর থেকে ফারজানা আক্তারের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

মৃতের স্বামী মো. লোকমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

ফারজানা উপজেলার আদিয়াবাদ ইউনিয়নের টিপ্পিনগর এলাকার বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।

স্থানীয়দের বরাতে রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল জব্বার বলেন, লোকমান-ফারজানা দম্পতি আমিরগঞ্জ বাজারের কাছে দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। এরমধ্যে একটিতে তারা থাকতেন আরেকটিতে ফারজানা বিউটি পার্লার করেন।

রোববার রাত দুইটায় লোকমান স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ফারজানাকে বিউটি পার্লারের কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পুলিশ দুপুরে এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

এসআই জব্বার বলেন, ‘আমরা ফারজানার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছি। তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে আমরা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলতে পারব।’

শেয়ার করুন

ভোটের পরদিনও লক্ষ্মীপুরে সংঘর্ষ

ভোটের পরদিনও লক্ষ্মীপুরে সংঘর্ষ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরায় ইউপির ভোটে জয়ী ও পরাজিত সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

ভোটের দিন সংঘর্ষ হয় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ও রামগঞ্জের কয়েকটি কেন্দ্রে। ভোট শেষের আগমুহূর্তে রামগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতা নিহত হন। পরদিনও রায়পুরে ভোটে জয়ী-পরাজিত সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়ান।

লক্ষ্মীপুরে ভোটের পরদিনও থেমে নেই সহিংসতা। ভোটের দিন সংঘর্ষে রামগঞ্জ উপজেলায় একজনের প্রাণহানির পর সোমবার আবারও রায়পুর উপজেলায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই উপজেলায় ভোটের দিনও সংঘর্ষ হয়েছে।

রায়পুরের উত্তর চরবংশীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুচিয়া মোড় এলাকায় সোমবার দুপুরে সংঘর্ষে জড়ান নির্বাচনে জয়ী ও পরাজিত সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা। এ সময় তারা অন্তত ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করেন।

সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছেন রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, রোববারের নির্বাচনে ওই ওয়ার্ডের সদস্য হন জাহাঙ্গীর বকসি। পরাজিত প্রার্থী মফিজ দেওয়ানের সমর্থকরা দুপুরে কুচিয়া মোড় এলাকায় জড়ো হন। জাহাঙ্গীরের লোকজন সেখানে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়, যা পড়ে সংঘর্ষে গড়ায়।

তিনি বলেন, অন্তত ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আহত অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

সংঘর্ষের বিষয়ে পরাজিত প্রার্থী মফিজ দেওয়ান অভিযোগ করে বলেন, তার সমর্থকরা বসে চা খাচ্ছিল। এ সময় জাহাঙ্গীর বকসির ভাই লিটন বকসির নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা হয়। হামলাকারীরা কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর করে, একটি মাছ ধরার নৌকা ও জাল পুড়িয়ে দেয়।

জবাবে বিজয়ী প্রার্থী জাহাঙ্গীর বলেন, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার মফিজের ক্ষুব্ধ সমর্থকরা হামলা চালায় তার লোকজনের ওপর।

এর আগে ভোটের দিন রায়পুরের দক্ষিণ চরবংশীর পশ্চিম চরলক্ষ্মী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই সদস্য পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

স্থানীয় লোকজন জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী আলমগীর হোসেন তার সমর্থকদের নিয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার সময় অন্য সদস্য পদপ্রার্থী খালেকুজ্জামান খালেক বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।

এতে খালেকুজ্জামানসহ দুই পক্ষের ছয়জন আহত হয়েছেন।

একই সময় রামগঞ্জের বাদুর ইউপির আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহিদ হোসেনের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে হানুবাইশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে।

এরপর ভোট শেষের আগমুহুর্তে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও এর বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সজিব হোসেন নিহত হন।

ইউনিয়নের নয়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে এই সংঘর্ষ হয়।

নিহত সজিব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহনাজ আক্তারের সমর্থক ছিলেন।

শেয়ার করুন

ট্রান্সজেন্ডার ঋতুর বিশাল জয় যে কারণে

ট্রান্সজেন্ডার ঋতুর বিশাল জয় যে কারণে

ট্রান্সজেন্ডার নজরুল ইসলাম ঋতু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বিপদে-আপদে সবার পাশে থাকেন ঋতু। তার কাছে নিরাপদ থাকবে ইউনিয়ন। ঋতু সরকারি বরাদ্দ নয়ছয় করবেন না, এমনটিও আশা ভোটারদের।  

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে প্রায় দ্বিগুণ ব্যবধানে হারিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ট্রান্সজেন্ডার নজরুল ইসলাম ঋতু। দেশে তিনিই প্রথম ট্রান্সজেন্ডার, যিনি ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

আনারস প্রতীকে ঋতুর বিশাল জয়ে উচ্ছ্বসিত তার সমর্থকরা। নৌকার প্রার্থীও পরাজয় মেনে নিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ঋতুকে।
নতুন চেয়ারম্যান বলছেন, সবাইকে পাশে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন।

ইউপি নির্বাচনে ঋতু পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৫৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রার্থী নজরুল ইসলাম ছানা পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২৯ ভোট। তৃতীয় স্থানে থাকা হাতপাখার মাহবুবুর রহমান পেয়েছেন ৮০৯ ভোট।

ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের বদিলাপাড়ার ইউসুফ আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যাকে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছিল তার চেয়ে ঋতু অনেক ভালো। তিনি মানুষের উপকার করেন। তাই আমরা তাকে ভোট দিছি।’

বহিরগাছি গ্রামের শুকুর আলী বলেন, ‘ঋতু বিপদে-আপদে আমাদের পাশে থেকেছে। তাই আমরা তাকে ভোট দিয়েছি। তাকে আমরা জিতাইছি। এখন সে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেটা বাস্তবায়ন করুক।’

বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আজিম শেখ বলেন, ‘ঋতুর ঘর নেই, সংসার নেই, তার কাছে ইউনিয়ন নিরাপদ। আশা করছি, আমাদের জন্য আসা সরকারি বরাদ্দ তিনি ঠিকমতো বিতরণ করবেন।’

আবুল কাশেম নামের এক বৃদ্ধ বলেন, ‘মানুষ বলে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কোনো মূল্যায়ন নেই। সে কথাটা ঠিক না। তার অন্যতম উদাহরণ আমাদের ইউনিয়ন।

‘‘মানুষ যদি যোগ্য হয় তাহলে তার স্থান ঠিকই পাবে। সারা দেশের ‘হিজড়া সম্প্রদায়ের’ মানুষের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, আপনারা ঋতুর মতো যোগ্য হন, মানুষের উপকার করেন। তাহলেও মানুষও আপনাদের মূল্যায়ন করবে।’’

ট্রান্সজেন্ডার ঋতুর বিশাল জয় যে কারণে


বিজয়ী নজরুল ইসলাম ঋতু নিউজবাংলাকে জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের সন্তান তিনি। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসারে তার বয়স ৪৩ বছর। সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতায় প্রাথমিক স্কুলের গণ্ডি পেরোনো হয়নি। অল্প বয়সে চলে যেতে হয়েছিল ঢাকায়। সেখানে ডেমরা থানায় দলের গুরুমার কাছেই তার বেড়ে ওঠা।

ঋতু বলেন, ‘ঢাকায় থাকলেও নিয়ম করে এলাকায় যেতাম। এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতাম।

‘জনগণ আমার পক্ষে আছে। আমি একটা কথা জানি, অনেক মানুষের অনেক কথা থাকে। আমার কিচ্ছু নেই। আমার ঘর নেই, সংসার নেই। এই জন্য আমার লোভ-লালসা নেই। এই জনগণই আমার সব।’

আগামীর পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জনগণকেই সঙ্গে নিয়ে সব করতে চাই। জনগণ যা বলবে আমি তাই করব। জনগণ বলেছে, ওর ছেলে নেই মেয়ে নেই, ঘর সংসার নেই, ও আমাদের জন্যই কাজ করবে। আমি জনগণের পক্ষেই সব সময় থাকব। জনগণ আমাকে যেইটা বলে আমি সেইটা করব।’

ঋতু বলেন, ‘আমার এলাকায় অনেক কাজ এখনও হয়নি। রাস্তাঘাট ভাঙা রয়েছে। সরকারের সহযোগিতায় এসব কাজ করার জন্য আমি চেষ্টা করব, প্রধানমন্ত্রী যেন একটু সুনজর দেন।’

পরাজিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মানুষ যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভালো নিয়েছে। আমি তাদের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই।’

পরাজয়ের কারণ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী টাকার বিনিময়ে ভোট কিনেছেন।

তবে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ওই ইউনিয়নে সুষ্ঠু ভোট হয়েছে। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব- এই স্লোগান বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।’

শেয়ার করুন