ভাতিজাকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়ালেন নৌকার প্রার্থী

সংবাদ সম্মেলন

স্বতন্ত্র প্রার্থী আজাদুর রহমান খানকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তবিবর রহমান খান। ছবি: নিউজবাংলা

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেব। কীভাবে তিনি ভাতিজাকে সমর্থন দেন? এটা আমরা লিখিতভাবে কেন্দ্রকে জানাব। আশা করি, দল বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে বহিষ্কার করবে।’

যশোরের চৌগাছার জগদীশপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ভাতিজাকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক তবিবর রহমান খান।

তার ভাতিজা উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আজাদুর রহমান খান আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

চৌগাছা প্রেস ক্লাবে রোববার দুপুর ১২টার দিকে আজাদকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তবিবর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

তার এমন সিদ্ধান্তে তাকে দল থেকে বহিষ্কার চেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

সংবাদ সম্মেলনে তবিবর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগেও আমাকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ দিয়েছেন। আমি তার সম্মান রক্ষা করতে পেরেছি। চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণের সেবায় নিয়োজিত আছি।

‘আসন্ন ইউপি নির্বাচনে তিনি আবারও আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেন। মনোনয়ন পেয়ে আমি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে ছিলাম। তবে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েছি। আপনারা জানেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমার পক্ষে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। তাই নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করছি।’

নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ায় দলীয় সভাপতির কাছে তিনি ক্ষমাপ্রার্থনা করেন।

কোনো ধরনের চাপে পড়ে তার এই সিদ্ধান্ত কি না, সে প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কোনো চাপ বা ভয়ভীতির কারণে আমি এমন সিদ্ধান্ত নিইনি। মূলত অসুস্থতার কারণেই এই সিদ্ধান্ত। অসুস্থতার কথা আমি সভাপতি ও সম্পাদককে জানিয়েছি।’

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম হাবিবুর রহমান বলেন, ‘তবিবর রহমান খান জানিয়েছেন তিনি অসুস্থ। নির্বাচনি প্রচারের জন্য আমি নিজে তার ইউনিয়নে গেছি। তার জন্য মানুষের কাছে ভোট চেয়েছি, প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের কথা বলেছি। এখন শুনলাম তিনি অসুস্থ। এতটুকুই জেনেছি।’

তবিবরের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মনে করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধুরী।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌকার প্রার্থী এই ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান হয়ে আসছে। ওখানে আওয়ামী লীগ এত দৈন্যদশায় পড়েনি যে প্রার্থী প্রত্যাহার করতে হবে। কয়েক দিন আগেই তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এখানে আত্মীয়তার কোনো সুযোগ নেই। আমি এটা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মনে করছি।

‘আমরা তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেব। কীভাবে তিনি ভাতিজাকে সমর্থন দেন? এটা আমরা লিখিতভাবে কেন্দ্রকে জানাব। আশা করি, দল বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে বহিষ্কার করবে।’

এর আগে গত শুক্রবার রাতে নৌকার সমর্থকদের হামলায় তিনজন আহত হওয়ার অভিযোগ করেন আজাদ।

এ বিষয়ে তিনি চৌগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও তা মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, হামলার পর আজাদ একপর্যায়ে আত্মহত্যার হুমকি দেন। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

রোববারের সংবাদ সম্মেলনে আজাদ মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে বসে থাকলেও সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি।

আরও পড়ুন:
হাত-পায়ের রগ কেটে নদীতে নিক্ষেপ
ধামরাইয়ে দুই প্রার্থীর সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা
ফের উত্তপ্ত পটুয়াখালী
আ.লীগ প্রার্থীর মিছিলে যেতে না চাওয়ায় মারধরের অভিযোগ
সংঘর্ষে আহত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ৫, কাউ‌ন্সিলর আটক      

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফেনীতে ভোটকেন্দ্রে যেতে ‘বাধা দেয়ায়’ প্রার্থীসহ আটক ১২

ফেনীতে ভোটকেন্দ্রে যেতে ‘বাধা দেয়ায়’ প্রার্থীসহ আটক ১২

ছাগলনাইয়ার শুভপুর ইউনিয়নের উত্তর মন্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে আটক চার সদস্য প্রার্থী। ছবি: নিউজবাংলা

রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, মির্জানগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মধুগ্রাম কেন্দ্রে গোপন কক্ষে ঢুকে এক ভোটারকে ইভিএম মেশিনের বাটন চেপে ভোট দিতে সহযোগিতা করায় নাসিমা বেগম নামের একজন পোলিং এজেন্টকে প্রত্যাহার করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

ফেনীতে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের যেতে বাধা দেয়ার অভিযোগে দুই উপজেলার দুইটি কেন্দ্র থেকে প্রার্থীসহ ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। কেন্দ্রে গোপন ভোটারের সঙ্গে যাওয়ায় এক পোলিং এজেন্টকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায় রোববার সকালে এ ঘটনাগুলো ঘটে।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আবদুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে জানান, পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের খন্ডল হাই উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের যেতে বাধা দেয়ায় ও বিশৃঙ্খলা করায় কেন্দ্র থেকে সকাল ৯টার দিকে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম জানান, ছাগলনাইয়ার শুভপুর ইউনিয়নের উত্তর মন্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকেও ভোটারদের যেতে বাধা দেয়ায় চার সদস্য প্রার্থীসহ সাতজনকে আটক করা হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ছাগলনাইয়া ও পরশুরাম উপজেলার আট ইউনিয়নে ভোট হচ্ছে। সাত ইউনিয়নে ব্যালট পেপারে ভোট হলেও পরশুরামের মির্জানগরে ইভিএমে ভোট হচ্ছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, মির্জানগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মধুগ্রাম কেন্দ্রে গোপন কক্ষে ঢুকে এক ভোটারকে ইভিএম মেশিনের বাটন টিপে ভোট দিতে সহযোগিতা করায় নাসিমা বেগম নামের একজন পোলিং এজেন্টকে প্রত্যাহার করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

আরও পড়ুন:
হাত-পায়ের রগ কেটে নদীতে নিক্ষেপ
ধামরাইয়ে দুই প্রার্থীর সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা
ফের উত্তপ্ত পটুয়াখালী
আ.লীগ প্রার্থীর মিছিলে যেতে না চাওয়ায় মারধরের অভিযোগ
সংঘর্ষে আহত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ৫, কাউ‌ন্সিলর আটক      

শেয়ার করুন

শীত উপেক্ষা করে চরফ্যাশনে ভোটারদের লাইন

শীত উপেক্ষা করে চরফ্যাশনে ভোটারদের লাইন

চর মানিকা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের লাইন। ছবি: নিউজবাংলা

ভোলা জেলা নির্বাচন অফিসার আলাউদ্দিন আল মামুন বলেন, ‘সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক। বেলা বাড়লে ভোটার আরও বাড়বে। কেন্দ্রগুলোতে পুরুষের পাশাপাশি নারী ভোটারদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রতীকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।’

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সাত ইউনিয়নে চলছে ভোট। শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতিও বাড়ছে।

সাত ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে চারজনসহ ২৫৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাত ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ১১ হাজার ৬৩৪ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫৮ হাজার ৩২৮ জন এবং নারী ভোটার ৫৩ হাজার ৩০৬ জন।

ইউনিয়নগুলো হচ্ছে ওসমানগঞ্জ, আবাদুল্লাহপুর, রসুলপুর, চর মানিকা, অধ্যক্ষ নজরুল নগর, কুকরি-মুকরি ও আবু বকরপুর ইউনিয়ন।

এ দিকে সাত ইউনিয়নের ৬৯টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২৮টি কেন্দ্রে ঝুঁকিপূর্ণ। ওইসব কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।

শীত উপেক্ষা করে চরফ্যাশনে ভোটারদের লাইন
কেন্দ্রগুলোতে পুরুষ ভোটারের পাশাপাশি নারী ভোটারদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। ছবি: নিউজবাংলা

সাত ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিতে নৌকার প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছে। এর ফলে সাত ইউপিতে মেম্বার (সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য) পদে নির্বাচন হলেও চেয়ারম্যান পদে ভোট হচ্ছে দুই ইউনিয়নে। ইউনিয়ন দুটি হলো কুকরি-মুকরি ও ওসমানগঞ্জ।

এদিকে বিচ্ছিন্ন চর কুকরি মুকরিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিয়া কবিরের এজেন্ট বের করে দেয়া, ভোটারদের সামনে ভোট প্রদান করার অভিযোগ করেছে।

ভোটকে কেন্দ্র করে রয়েছে ৪ স্তরের নিরাপত্তা। মাঠে রয়েছে পুলিশ, আনসার, র‍্যাব ও কোস্টগার্ড সদস্যরা। এ ছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মোবাইল টিম, স্টাইকিং ফোর্স নিয়োজিত আছেন।

ভোলা জেলা নির্বাচন অফিসার আলাউদ্দিন আল মামুন বলেন, ‘সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক। বেলা বাড়লে ভোটার আরও বাড়বে। কেন্দ্রগুলোতে পুরুষের পাশাপাশি নারী ভোটারদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রতীকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।’

আরও পড়ুন:
হাত-পায়ের রগ কেটে নদীতে নিক্ষেপ
ধামরাইয়ে দুই প্রার্থীর সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা
ফের উত্তপ্ত পটুয়াখালী
আ.লীগ প্রার্থীর মিছিলে যেতে না চাওয়ায় মারধরের অভিযোগ
সংঘর্ষে আহত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ৫, কাউ‌ন্সিলর আটক      

শেয়ার করুন

রাবির ডাইনিং-ক্যান্টিনে কি খাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

রাবির ডাইনিং-ক্যান্টিনে কি খাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের রান্নাঘরের চিত্র। ছবি: নিউজবাংলা

মুন্নুজান হলের শিক্ষার্থী ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘হলের খাবার খুবই বাজে। পুঁই শাক, পেঁপে আর আলু এই তিন ধরনের খাবার প্রতিদিন দিচ্ছে। বাধ্য হয়েই খাচ্ছি। দুই দিনের বেশি খাওয়া যায় না। খেলেই অসুস্থ হতে হয়। আর হলের ডাইনিং ও ক্যান্টিনের একটিও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নয়, খুবই নোংরা পরিবেশ।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলগুলোর ডাইনিং ও ক্যান্টিনে স্বাস্থ্যসম্মত দেয়া হচ্ছে না। একদিকে যেমন রান্নাঘরে ধুলাবালি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অন্যদিকে মানহীন ও একই খাবার প্রতিদিন দেয়ায় ডাইনিং-ক্যান্টিনে খাবারের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

তারা বলছেন, অপুষ্টিকর, পচা ও দুপুরের খাবার রাতের খাবারে মিশিয়ে দেয়া হচ্ছে, যা বাধ্য হয়েই খাচ্ছেন তারা। নিম্নমানের খাবার খেয়ে ক্ষুধামন্দা ও চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসকরা বলছেন, এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা আমাশয়, ডায়রিয়া, হ্যাপাটাইটিস, জন্ডিস, এলার্জিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া পেটের সমস্যা নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে আসছেন।

প্রশাসনের ভাষ্য, বাজারে সব কিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী। তবুও সব সমস্যা সমাধানের জন্য তারা চেষ্টা করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো ঘুরে দেখা গেছে, হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের খাবারের জন্য হলের ডাইনিং ও ক্যান্টিনের ওপর ভরসা করতে হয়। সে ডাইনিং-ক্যান্টিনগুলোর রান্নাঘরে ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর। যেখানে অস্বাস্থ্যকর ও ধুলাবালির মধ্যে খাবার রান্না ও পরিবেশন করতে দেখা যায়।

রাবির ডাইনিং-ক্যান্টিনে কি খাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছাত্রদের জন্য ১১টি ও ছাত্রীদের জন্য ৬টিসহ মোট ১৭টি হল রয়েছে। এসব হলে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। হলের আবাসিক শিক্ষার্থীসহ বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের অনেকেই হলের ডাইনিং-ক্যান্টিনে নিয়মিত খাবার খেয়ে থাকেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের বলেন, ‘হলের ডাইনিংয়ে একই খাবার প্রতিদিন দিচ্ছে। পেঁপে ও আলুর সঙ্গে মাছ অথবা ব্রয়লার মুরগি প্রতিদিন খেতে হচ্ছে; সাথে পানির মতো ডাল।

‘এরপর যদি ক্যান্টিনে খেতে যাই সেখানে দাম অতিরিক্ত নেয়। কিন্তু খাবারের মান তত উন্নত না। মূলত বাধ্য হয়েই খাচ্ছি। মাঝে মধ্যে পেটে সমস্যা হয়, অসুস্থ হই।’

তিনি আনও বলেন, ‘ডাইনিং ও ক্যান্টিন দুইটাতেই ধুলাবালি, ময়লা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সব সময় দেখা যায়। কয়েকদিন খাবারে মাছি ও পোকামাকড় পেয়েছি, তখন খাবার রেখে চলে আসতে হয়েছে।’

শহীদ জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আবু হানিফ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ভালো স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নিয়ে মোটেই চিন্তা করছে না। যদি তারা চিন্তা করত তাহলে হলে এই ধরনের বাজে, অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হতো না আমাদের।’

এ ছাড়া কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুপুরের খাবার রাতের খাবারে মিশিয়ে দেয়ার অভিযোগ করে মতিহার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী জুয়েল মামুন বলেন, ‘কর্মচারীরা কম করে তরকারি দিয়ে দুপুরের খাবার রাতের খাবারে মিশিয়ে দেয়। এটা করে তারা অতিরিক্ত আয়ের চেষ্টা করেন।

‘সেই সাথে হলের রান্নাঘর থাকে ময়লায় পরিপূর্ণ। খাবারে পচা আলু, চালে পাথর, রান্না করার অপরিচ্ছন্ন হাঁড়ি-পাতিল ছাড়াও প্রতিদিন একই পদের খাবারে আমরা খাই।’

মুন্নুজান হলের শিক্ষার্থী ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘হলের খাবার খুবই বাজে। পুই শাক, পেঁপে আর আলু এই তিন ধরনের খাবার প্রতিদিন দিচ্ছে। বাধ্য হয়েই খাচ্ছি। দুই দিনের বেশি খাওয়া যায় না। খেলেই অসুস্থ হতে হয়। আর হলের ডাইনিং ও ক্যান্টিনের একটিও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নয়, খুবই নোংরা।’

২০ নভেম্বর অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের খাবার নিয়ে আন্দোলন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের ছাত্রীরা।

তাদের অভিযোগ, হলের ডাইনিং ও ক্যান্টিন সব সময় অপরিষ্কার থাকে। খাবারে মশা ও মাছি থাকে; খাবার নিম্নমানের। বারবার এ নিয়ে হল প্রাধ্যক্ষকে লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো পরিবর্তন আসেনি। এর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি হল কর্তৃপক্ষ।

৫ নভেম্বর হলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ এনে তাপসী রাবেয়া হলের ছাত্রীরা আন্দোলনে নেমেছিল। সেখানেও খাবারের মান উন্নয়নের দাবি জানিয়েছে তারা।

পেটের পীড়াজনিতে অসুখে প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের সংখ্যাটাও নেহাত কম নয়।

এ বিষয়ে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসক তবিবুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এখন করোনার সিম্পটম নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন। তবে পেটের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম নয়।

‘যাদের বেশিরভাগই ডায়রিয়া, হ্যাপাটাইটিস, জন্ডিস, এলার্জি, ফুড পয়জনিং আক্রান্ত। এ সবের কারণ পঁচা, ময়লাযুক্ত, অস্বাস্থ্যকর ও অপুষ্টিকর খাবার খাওয়া। তারা অরুচি, অনীহা, ও পুষ্টিহীনতায় ভোগে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকাটা স্বাভাবিক।’

চিকিৎসক আরও বলেন, ‘ডায়রিয়া ও পেটের পীড়াজনিত সমস্যা নিয়ে আসা বেশিরভাগ রোগীকে জিজ্ঞেস করলে দেখা যায়, তারা হল ডাইনিং, ক্যান্টিন ও বাইরের খোলা দোকানে খাবার খেয়েছে। খাবারের মান ঠিক না থাকা ও প্রতিদিন একই খাবার খাওয়া এসবের জন্য দায়ী।’

হল প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ রওশন জাহিদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যকর খাবার দিতে সব প্রভোস্ট আন্তরিক। আমি চাইলেও ডাইনিং-ক্যান্টিনে খাবারের মান উন্নত করতে পারি না।

‘বাজারে চাল, ডালসহ তরিতরকারির কেজি ৪৫-৫০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। দামের এ ঊর্ধ্বগতিতে খাবারের মান বাড়ানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো ধরনের ভর্তুকি দেয়ার ব্যবস্থা নেই। প্রশাসন শুধু ডাইনিং-ক্যান্টিনের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিয়ে থাকেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘খাবারে মশা-মাছি পড়ার বিষয়টি আমি জেনেছি। এর জন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আর কর্মচারীরা রাত-দিন কষ্ট করে রান্না ও শিক্ষার্থীদের খাবার নিয়ে পরিশ্রম করছে, একটু সমস্যা তো হবেই। আমরাও হলে ছিলাম, তখনও এই ধরনের সমস্যা ছিল।’

ছাত্র-ছাত্রীদের এসব সমস্যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা তারেক নূর বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগ নিয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যেক হলের প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে প্রশাসন আলোচনায় বসব। এরপর সংশ্লিষ্ট হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়গুলো সমাধান করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘দুপুরের তরকারি রাতের তরকারির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া ও খাবারে মশা-মাছি থাকার বিষয়ে হলের কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দেয়া হবে।’

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, ‘খাবারের এই অভিযোগগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়গুলো সমাধান হবে বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন:
হাত-পায়ের রগ কেটে নদীতে নিক্ষেপ
ধামরাইয়ে দুই প্রার্থীর সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা
ফের উত্তপ্ত পটুয়াখালী
আ.লীগ প্রার্থীর মিছিলে যেতে না চাওয়ায় মারধরের অভিযোগ
সংঘর্ষে আহত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ৫, কাউ‌ন্সিলর আটক      

শেয়ার করুন

নৌকায় ‘ওপেন ভোট’ নিতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে হুমকি

নৌকায় ‘ওপেন ভোট’ নিতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে হুমকি

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবুল খায়ের। ছবি: নিউজবাংলা

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবুল খায়ের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান সওদাগরের কয়েকজন সমর্থক এসে নৌকা প্রতীকে ‘ওপেন ভোট’ নিতে আমাকে চাপ দেন। আমি রাজি না হয়ে গোপনকক্ষে ভোট দেয়ার কথা বললে, তারা আমাকে হুমকি দেন। পরে বিষয়টি দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জানিয়েছি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে লাউরফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থকের বিরুদ্ধে ‘ওপেন ভোট’ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ইউনিয়নের হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে ‘ওপেন ভোট’ নেয়ার অভিযোগ করেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লাউরফতেহপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান সওদাগর। তার সমর্থকরা সকালে কেন্দ্রে এসে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবুল খায়েরকে হুমকি দেন। এ নিয়ে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবুল খায়ের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ওই প্রার্থীর কয়েকজন সমর্থক এসে ‘ওপেন ভোট’ নিতে আমাকে চাপ দেন। আমি রাজি না হয়ে গোপনকক্ষে ভোট দেয়ার কথা বললে, তারা আমাকে হুমকি দেন। পরে বিষয়টি দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জানিয়েছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুজিবুর রহমানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

রোবাবর সকাল ৮টা থেকে নবীনগর, বাঞ্ছারামপুর ও সরাইল উপজেলার ৩২ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ৩১৮ টি কেন্দ্রে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

আরও পড়ুন:
হাত-পায়ের রগ কেটে নদীতে নিক্ষেপ
ধামরাইয়ে দুই প্রার্থীর সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা
ফের উত্তপ্ত পটুয়াখালী
আ.লীগ প্রার্থীর মিছিলে যেতে না চাওয়ায় মারধরের অভিযোগ
সংঘর্ষে আহত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ৫, কাউ‌ন্সিলর আটক      

শেয়ার করুন

পা অচল, হাতে ভর দিয়েই ভোটকেন্দ্রে মোর্শেদা

পা অচল, হাতে ভর দিয়েই ভোটকেন্দ্রে মোর্শেদা

দুই হাতে ভর দিয়ে ভোট দিতে আসা মোর্শেদা বেগম। ছবি: নিউজবাংলা

মোর্শেদা বলেন, ‘আমাদের ভাশখোলা খুবই শান্তিপ্রিয় এলাকা। ভোটের দিন সবাই আসে ভোট দিতে। এলাকায় একটা উৎসবের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। আমার ভালো লাগে দেখতে। তাই আমিও এসেছি। খুশি লাগছে অনেক।’

মোর্শেদা বেগমের বয়স যখন দেড় বছর তখন টাইফয়েডে দুই পা অচল হয়ে যায়। দুই হাতে ভর দিয়ে পা টেনে টেনে চলতে হয় তাকে। তবুও ভোটের দিন কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন।

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার উত্তর ইলিয়টগঞ্জ ইউনিয়নের ভাশখোলা কেন্দ্রে রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আসেন মোর্শেদা।

ভোট দিয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের ভাশখোলা খুবই শান্তিপ্রিয় এলাকা। ভোটের দিন সবাই আসে ভোট দিতে। এলাকায় একটা উৎসবের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। আমার ভালো লাগে দেখতে। তাই আমিও এসেছি। খুশি লাগছে অনেক।’

মোর্শেদার সঙ্গে এসেছেন ভাই মো. রবিউল। তিনি বলেন, ‘আমডার (আমাদের) বাড়ি ভাশখোলা পূর্বপাড়া। আমার বইনডার বয়স যহন ১৮ মাস তহন টাইফড জ্বরে পাওডি অচল হইয়া গেছে। বিয়া দিছিলাম। জামাইডা চইল্লা গেছে।

‘আমার পাঁচ বছরের ভাগিনাডারে লইয়া বইনডা আমডার বাইত থাহে। টেইলারের কাম কইরা যা আয় হয় তা দিয়া পোলারে লইয়া চলে।’

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে দেশের ১ হাজার ইউনিয়নে চলছে ভোট।

১ হাজারটি ইউপিতে ভোটার সংখ্যা ২ কোটি ১৪ লাখ ৯ হাজার ২৭৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ২১ লাখ ৫ হাজার ৪২৩ জন । নারী ভোটার ৯৯ লাখ ৩২ হাজার ৫৩০ জন। এর বাইরে ট্রান্সজেন্ডার ভোটার আছেন ১৯ জন।

আরও পড়ুন:
হাত-পায়ের রগ কেটে নদীতে নিক্ষেপ
ধামরাইয়ে দুই প্রার্থীর সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা
ফের উত্তপ্ত পটুয়াখালী
আ.লীগ প্রার্থীর মিছিলে যেতে না চাওয়ায় মারধরের অভিযোগ
সংঘর্ষে আহত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ৫, কাউ‌ন্সিলর আটক      

শেয়ার করুন

নাতিদের কাঁধে চড়ে নয়া মিয়ার ভোট

নাতিদের কাঁধে চড়ে নয়া মিয়ার ভোট

দুই নাতি নয়া মিয়াকে নিয়ে আসেন ভোট দিতে। ছবি: নিউজবাংলা

নাতি সজীব বলেন, ‘কাল রাইতোত নানা বলি রাখছে, তোমরা মোক ভোট দিবের নিবেন। নানা খাঁড়া হতে পারে না কিন্তু ভোট দিবের খুব ইচ্ছা।’

‘কয়দিন থাকি মোর কাছোত (কাছে) মেলা মানুষ আইসে ভোট চায়। মোরও খুব মন চায় ভোট দিবের (দেয়ার)। শরীল তো চলে না, নাতিরা ঘাড়োত করি তুলি আনছে। কোনোমতে আসি ভোট দিনুং (দিলাম)। ভোট দিয়ে খুব ভালো নাগছে।’

ভোট দিয়ে এভাবেই নিজের কথা বলছিলেন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের বাহাগালি গ্রামে নয়া মিয়া। নয়া মিয়ার বয়স প্রায় ১৩৫ বছর।

দুই নাতি দেলোয়ার হোসেন ও সজীব রহমানে সাহায্যে রোববার সকাল পৌনে নয়টার দিকে কাউনিয়া উপজেলার সিংহের কুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন নয়া মিয়া।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মোর বয়স মেলা হইচে, কানে কম শোনোং। নাতিক কইচোং (বলেছি), ওমরা (ওরা) মার্কা দেকি ভোট দিচে।’

নাতি দেলোয়ার হোসেন জানান, তাদের নানা কোনোবারই ভোট বাদ দেন না। ভোট দেয়ার প্রতি ওনার খুব আগ্রহ। নাতিরা প্রতিবারই তাকে এভাবে কেন্দ্রে নিয়ে আসেন।

আরেক নাতি সজীব বলেন, ‘কাল রাইতোত নানা বলি রাখছে, তোমরা মোক ভোট দিবের নিবেন। নানা খাঁড়া হতে পারে না কিন্তু ভোট দিবের খুব ইচ্ছা।’

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে রংপুর সদর, কাউনিয়া ও তারাগঞ্জে এবং একই দিনে পীরগঞ্জ পৌরসভায় ভোট চলছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে চাই। এ জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, র‍্যাব, আনসার সদস্যরা রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
হাত-পায়ের রগ কেটে নদীতে নিক্ষেপ
ধামরাইয়ে দুই প্রার্থীর সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা
ফের উত্তপ্ত পটুয়াখালী
আ.লীগ প্রার্থীর মিছিলে যেতে না চাওয়ায় মারধরের অভিযোগ
সংঘর্ষে আহত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ৫, কাউ‌ন্সিলর আটক      

শেয়ার করুন

নির্বাচনি সহিংসতায় যুবক নিহত, হয়নি মামলা

নির্বাচনি সহিংসতায় যুবক নিহত, হয়নি মামলা

নিহত কুতুবউদ্দিন আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম জানান, নির্বাচনকে ঘিরে শনিবার বিকেলে কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদপ্রার্থী ইকতিয়ার ও হবিবর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উভয় পক্ষের ১১ থেকে ১২ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কুতুবউদ্দিন আহমেদ সন্ধ্যায় মারা যান। মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ বা মামলা করেনি। মামলা না হলেও হামলাকারীদের আটকে অভিযান চলছে।

যশোরের শার্শায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে রুদ্রপুর বাজারে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক নিহতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

এরই মধ্যে উপজেলার ডিহি ইউনিয়নে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে রোববার নির্বাচনী সহিংসতায় আরও চারজন আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তারা কোন দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থক সে বিষয়টি এখনও জানা যায়নি।

এর আগে শনিবার সহিংসতার ঘটনায় আহত হয়েছেন আলাউদ্দীন, ইউনুস আলী, শাহাবুদ্দিন, আরশাদ আলী, ইখতিয়ার, আমিরুল, কাওসার ও রাব্বি নামের ৮ জন। তারা যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নিহত যুবকের নাম কুতুবউদ্দিন আহমেদ। ৪০ বছরের কুতুবউদ্দিনের বাড়ি রুদ্রপুর গ্রামেই।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক নাহিদ শাহরিয়ার সাব্বির বলেন, ‘আমি কুতুবউদ্দিনকে মৃত পেয়েছি। তার মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।’

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম জানান, নির্বাচনকে ঘিরে শনিবার বিকেলে কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদপ্রার্থী ইকতিয়ার ও হবিবর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উভয় পক্ষের ১১ থেকে ১২ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কুতুবউদ্দিন আহমেদ সন্ধ্যায় মারা যান।

ওসি বলেন, ‘মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ বা মামলা করেনি। তবে মামলা না হলেও হামলাকারীদের আটকে অভিযান চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আবার যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, এ জন্য রুদ্রপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
হাত-পায়ের রগ কেটে নদীতে নিক্ষেপ
ধামরাইয়ে দুই প্রার্থীর সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা
ফের উত্তপ্ত পটুয়াখালী
আ.লীগ প্রার্থীর মিছিলে যেতে না চাওয়ায় মারধরের অভিযোগ
সংঘর্ষে আহত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ৫, কাউ‌ন্সিলর আটক      

শেয়ার করুন