রাজধানীতে ওয়াকিটকির অবৈধ ব্যবহার

রাজধানীতে ওয়াকিটকির অবৈধ ব্যবহার

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর সায়দাবাদ, মনিপুরীপাড়া, রাজারবাগ ও শেওড়াপাড়া এলাকা থেকে ৩১৭টি অবৈধ ওয়াকিটকি সেট ও বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামাদিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশের প্রচলিত আইন অমান্য করে অবৈধভাবে সাধারণ মানুষের কাছে কালো রঙের ওয়াকিটকি সেট বিক্রি করেছেন যা সার্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। এই ধরনের অবৈধ ওয়াকিটকি সেট ব্যবহার করে অপরাধী চক্র ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, দস্যুতা, চাঁদাবাজি, প্রতারণাসহ নানা ধরনের অপরাধ করে থাকে।

একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজে কালো রঙের ওয়াকিটকি ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। তবে একটি চক্র অবৈধ উপায়ে এই কালো রঙের ওয়াকিটকির সরঞ্জামাদি আমদানি করে রাজধানী ঢাকায় ওয়াকিটকি তৈরি করে তা বিক্রি করত। আর এই ওয়াকিটকি ব্যবহার হয় অবৈধ কাজে।

রোববার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক অ্যাডিশনাল ডিআইজি মাহফুজুর রহমান।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর সায়দাবাদ, মনিপুরীপাড়া, রাজারবাগ ও শেওড়াপাড়া এলাকা থেকে ৩১৭টি অবৈধ ওয়াকিটকি সেট ও বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামাদিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

শনিবার বিকেল ৪টা থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত র‍্যাব-১০ বিটিআরসির সহযোগিতায় ওয়াকিটকি সেটের অবৈধ আমদানি, মজুত, বিক্রি, বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রদর্শন, ইজারারোধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।

রাজধানীতে ওয়াকিটকির অবৈধ ব্যবহার

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩১৭টি অবৈধ ওয়াকিটকি সেট ও বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামাদি জব্দ করে র‍্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

এই অভিযানে অবৈধ ৩১৭টি বিভিন্ন প্রকার ওয়াকিটকি সেট, ১১৬টি মোবাইল ও পাঁচ হাজার ২৪৪টি বিভিন্ন প্রকার এক্সেসরিস জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মেহেদী হাসান, সাদিক হাসান, মো. ফয়সাল, তালিবুর রহমান ও ফারুক হাসান।

তাদের মধ্যে মেহেদী হাসানের কাছ থেকে ২২৪টি ওয়াকিটকি ওয়্যারলেস সেট, ফারুক হাসানের কাছ থেকে ৩০টি ওয়াকিটকি ওয়্যারলেস সেট এবং পলাতক গোলাম মোহাম্মদ ফেরদৌসের বাসা থেকে ৬৩টি ওয়াকিটকি ওয়্যারলেস সেট ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১-এর ধারা ৫৫(৭) অনুযায়ী ওয়াকিটকি ব্যবহারের জন্য কোনো প্রকার লাইসেন্স বা তরঙ্গ গ্রহণ করেননি। এ ছাড়া একই আইনের ৫৭(৩) ধারা অনুযায়ী ওয়াকিটকি আমদানি করার আগে বিটিআরসি থেকে অনাপত্তি গ্রহণের নিয়ম থাকলেও গ্রেপ্তারকৃতরা নিয়ম ভেঙে অবৈধভাবে ওয়াকিটকিগুলো আমদানি করেছেন এবং বিক্রি করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা চট্টগ্রামের কতিপয় ব্যক্তির মাধ্যমে বিদেশ থেকে দীর্ঘ এক বছর ধরে লাইসেন্স ব্যতীত ওয়াকিটকি সেট ও সরঞ্জামাদি অবৈধ পথে সংগ্রহ করে আসছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আটককৃতদের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত তারা আনুমানিক এক হাজার ১৫০টি ওয়াকিটকি সেট অবৈধ কেনা-বেচা ও ইজারা দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে ওয়াকিটকি সেট ও প্রয়োজনীয় তরঙ্গ ব্যবহারের লাইসেন্স দেয়ার মাধ্যমে সরকার যে রাজস্ব আদায় করত তা থেকে সরকার বঞ্চিত হয়েছে।’

মূলত সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার উদ্দেশ্যে তারা অবৈধ উপায়ে জব্দকৃত ওয়াকিটকি সেট ও সরঞ্জমাদি আমদানি করেছেন।

অ্যাডিশনাল ডিআইজি মাহফুজুর রহমান বলেন, বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কালো রঙের ওয়াকিটকি সেট ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। এ ক্ষেত্রে গ্রেপ্তারকৃতরা দেশের প্রচলিত আইন অমান্য করে অবৈধভাবে সাধারণ মানুষের কাছে কালো রঙের ওয়াকিটকি সেট বিক্রি করেছে যা সার্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। এই ধরনের অবৈধ ওয়াকিটকি সেট ব্যবহার করে অপরাধী চক্র ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, দস্যুতা, চাঁদাবাজি, প্রতারণাসহ নানা ধরনের অপরাধ করে থাকে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই ধরনের অবৈধ ওয়াকিটকি সেট ব্যবহার করে অপরাধী চক্র ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, দস্যুতা, চাঁদাবাজি, প্রতারণাসহ বহুবিধ অপরাধ করে থাকে। বিভিন্ন সময় ভুয়া র‌্যাব কিংবা পুলিশ সদস্য আটকের পর এই ধরনের ওয়াকিটকি সেট জব্দ করার ঘটনা ঘটছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিটিআরসির উপপরিচালক (এনফোর্সমেন্ট ও ইন্সপেকশন) এসএম গোলাম সারওয়ার বলেন, ‘বিটিআরসির অনুমোদন ছাড়াও অবৈধভাবে তরঙ্গ ব্যবহার করা সম্ভব। তবে বিটিআরসি নিয়মিত অভিযান ও মনিটরিং করে থাকে। যারা অবৈধভাবে তরঙ্গ ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকি।’

তিনি বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কালো ওয়্যারলেস সেট ব্যবহার সাধারণদের সুযোগ নেই। তারপরও বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের সেট ব্যবহারের অভিযোগ পাই। এই ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিটিআরসি কাজ করছে। ঢাকা ছাড়াও দেশের ৫টি স্থানে আমাদের মনিটরিং স্টেশন আছে।’

বিভিন্ন গার্মেন্টস, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, বিনোদন কেন্দ্র, হোটেল কর্তৃপক্ষ ওয়াকিটকি সেট ব্যবহার করে থাকে। ওয়াকিটকির অবৈধ ব্যবহার বন্ধে সচেতনতার জন্য সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেয়া হয়েছে, যোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার কথিত মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান
‘অপরাধী শনাক্তে এক ধাপ এগিয়ে র‍্যাব’
পরিচয় মিলল ভাটারা থেকে উদ্ধার নারীর মরদেহের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সিদ্ধিরগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে আরও একজনের মৃত্যু

সিদ্ধিরগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে আরও একজনের মৃত্যু

ভবনে বিস্ফোরণের পর এই জীবন বাঁচাতে এই পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন দুই যুবক। ফাইল ছবি

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল খান জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে দগ্ধ হয়ে গত বৃহস্পতিবার তিনজন শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে পারভেজ মারা যান। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের মর্গে রাখা হয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ আদনান টাওয়ারে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় মো. পারভেজ নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে তিনি মারা যান।

গত বৃহস্পতিবারের ওই বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল দুজনে। গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় সেদিন তিনজন দগ্ধ হয়েছিলেন।

বিস্ফোরণে পারভেজের শরীরের ১০০ ভাগই দগ্ধ হয়েছিল বলে জানান চিকিৎসক।

পারভেজের আগে মারা যাওয়া মামুনের শরীরেও শতভাগ দগ্ধ হয়েছিল। জীবন নামের আরেকজন ৩০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি রয়েছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল খান জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে দগ্ধ হয়ে গত বৃহস্পতিবার তিনজন শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে পারভেজ মারা যান। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের মর্গে রাখা হয়েছে।’

নিহতের ভাই মো. সুমন বলেন, ‘আমার ভাই ১০ বছর ধরে অনন্ত অ্যাপারেলস গার্মেন্টসে সুপারভাইজার হিসেবে চাকরি করতেন। তার পরিবারে তিন বছর বয়সী মেয়ে ও এক বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে।’

তাদের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার নন্দীগ্রামে। পারভেজ সিদ্ধিরগঞ্জে সহকর্মীদের সঙ্গে মেস বাসায় থাকতেন।

আরও পড়ুন:
অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার কথিত মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান
‘অপরাধী শনাক্তে এক ধাপ এগিয়ে র‍্যাব’
পরিচয় মিলল ভাটারা থেকে উদ্ধার নারীর মরদেহের

শেয়ার করুন

নারী নির্যাতন নির্মূল না হওয়ায় আক্ষেপ পরিকল্পনামন্ত্রীর

নারী নির্যাতন নির্মূল না হওয়ায় আক্ষেপ পরিকল্পনামন্ত্রীর

শনিবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

সুলতানা কামাল বলেন, 'দেশে নারীর ক্ষমতায়ন হলেও নারীর সম অবস্থান তৈরি হয়নি। অসাম্প্রদায়িক, নির্যাতনমুক্ত, সহিংসতাহীন, সভ্য, সব মানুষের জন্য সমমর্যাদার দেশ গড়ে তুলতে আমাদের মিলেমিশে কাজ করতে হবে।'

বহুমুখী প্রচেষ্টার পরও দেশে নারী নির্যাতন নির্মূল করতে না পারায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

মন্ত্রী বলেছেন, 'সমাজের সব নির্যাতন ও অন্যায় দূর করতে সামাজিকভাবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। অনেক চেষ্টার পরও দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা নির্মূলের মতো আমরা নারী নির্যাতন নির্মূল করতে পারিনি।

‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারী অধিকারসহ এসব বিষয়ে অনেক কাজ করতে চান। কিন্তু নানা ধরনের বাধা ও প্রতিকূলতায় সঠিকভাবে কাজগুলো হচ্ছে না। বাস্তবতা মেনে নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে।’

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতীয় সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন। পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট ‘আমরাই পারি’ এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

জোটের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল বলেন, ‘দেশে নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে কিন্তু নারীর সম অবস্থান এখনও তৈরি হয়নি। একটি অসাম্প্রদায়িক, নির্যাতনমুক্ত, সহিংসতাহীন, সভ্য, সব মানুষের জন্য সমমর্যাদার দেশ গড়ে তুলতে আমাদের মিলেমিশে কাজ করতে হবে।’

সম্মেলন সঞ্চালনা করেন আমরাই পারি জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক।

সম্মেলনে অক্সফামের হেড অফ জেন্ডার জাস্টিস এন্ড সোশ্যাল ইনক্লুশেন মাহমুদা সুলতানা, জোটের কো-চেয়ারপারসন শাহীন আনাম, সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্তসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

আলোচকরা বলেন, স্বাধীন দেশে একটি নির্যাতনমুক্ত পরিবেশ আমরা কামনা করতেই পারি। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরও দেশে নারী নির্যাতনের পরিসংখ্যান আমাদের লজ্জিত করে। আমরা যদি নিজেদের পরিবর্তন না আনি তাহলে পুলিশ বা আইন দিয়ে কোন কিছুর পরিবর্তন সম্ভব নয়।

নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠা, নারী-শিশুদের জন্য নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান জোট নেতারা।

আরও পড়ুন:
অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার কথিত মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান
‘অপরাধী শনাক্তে এক ধাপ এগিয়ে র‍্যাব’
পরিচয় মিলল ভাটারা থেকে উদ্ধার নারীর মরদেহের

শেয়ার করুন

উত্তরা থেকে যুবকের রহস্যজনক অন্তর্ধান

উত্তরা থেকে যুবকের রহস্যজনক অন্তর্ধান

আনিসুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

উত্তরায় বন্ধুর বাসা থেকে বেরিয়ে ১৩ দিন ধরে নিখোঁজ এক যুবক। অন্তর্ধানের আগে তিনি নিজের ফোন বিক্রি করে দিয়েছিলেন। স্ত্রী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। 

রাজধানীর উত্তরা থেকে আনিসুর রহমান (৩৮) নামে এক ব্যক্তি গত ১৩ দিন ধরে নিখোঁজ। তিনি বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার আর্থ ফ্যাশন লিমিটেড নামে একটি বায়িং হাউজের কোয়ালিটি (কিউসি) ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত।

গত ১৪ নভেম্বর রাতে উত্তরায় বন্ধুর বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ১৮ নভেম্বর আনিসুরের স্ত্রী ফাতিহা ইয়াসমিন উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

জিডির তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই বদরুল মিল্লাদ বলেন, ‘আনিসুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি আমরা উদ্ধার করেছি, যেটি তিনি বিক্রয় ডটকমের মাধ্যমে ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় বিক্রি করেছিলেন। এরপর থেকে ওনার ফোন বন্ধ। এরপর তিনি তার এক বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলেন। সেই বন্ধুর বাসা থেকে আনিসুর তার নিজের বাসায় ফেরার জন্য বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ।’

আনিসুরের নিখোঁজ থাকাকে রহস্যজনক বলছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা। এসআই বদরুল বলেন, ‘নিখোঁজ হওয়ার দিন কারো ফোন রিসিভ না করা, ফোনটি বিক্রি করে দেয়া, এরপর থেকে খোঁজ না পাওয়া বা বাসায় না ফেরা রহস্যজনক। তিনি নিজে থেকে নিখোঁজ রয়েছেন, না কোনো সমস্যা হয়েছে, তা আমরা তদন্ত করছি। আমরা আনিসুরকে উদ্ধারে চেষ্টা করছি।’

নিখোঁজের স্ত্রী ফাতিহা ইয়াসমিন বলেন, ‘ঘটনার দিন আমাদের কারও সঙ্গে উনি ফোনে কথা বলেননি। আমার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয়েছে। তিনি বাসায় ফিরবেন বলছিলেন, কিন্তু ফেরেননি।’

উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই বদরুল বলেন, যে বন্ধুর বাসায় আনিসুল সর্বশেষ গিয়েছিলেন, তাকে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

আরও পড়ুন:
অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার কথিত মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান
‘অপরাধী শনাক্তে এক ধাপ এগিয়ে র‍্যাব’
পরিচয় মিলল ভাটারা থেকে উদ্ধার নারীর মরদেহের

শেয়ার করুন

নটর ডেমের ছাত্র নিহত: গ্রেপ্তার হারুন রিমান্ডে

নটর ডেমের ছাত্র নিহত: গ্রেপ্তার হারুন রিমান্ডে

নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসানের লাইব্রেরি কার্ড। ফাইল ছবি

আসামি হারুন মিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত হারুনকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেয়।

গাড়িচাপায় নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসান নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মী হারুন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দুই দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

ঢাকার মহানগর হাকিম মইনুল ইসলাম শনিবার রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিছুর রহমান সড়ক দুর্ঘটনা আইনে করা মামলায় আসামিকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন।

আসামির পক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত হারুন মিয়াকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেয় বলে নিউজবাংলাকে জানান পল্টন থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা এসআই মো. মোতালেব হোসেন।

র‌্যাব শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে হারুন গ্রেপ্তার করে। এ মামলায় বৃহস্পতিবার পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল খানকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দেয় আদালত।

গত বুধবার বেলা ১১টার দিকে গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের দক্ষিণ পাশে নটর ডেম কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্র নাঈম হাসানকে ধাক্কা দেয় ডিএসসিসির একটি ট্রাক। ওই সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল খান।

গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ও এলাকার টহল পুলিশ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ অফিসের পূর্ব পাশ থেকে ট্রাক ও চালকের আসনে থাকা রাসেলকে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর বাবা শাহ আলম দেওয়ান পল্টন থানায় মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার কথিত মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান
‘অপরাধী শনাক্তে এক ধাপ এগিয়ে র‍্যাব’
পরিচয় মিলল ভাটারা থেকে উদ্ধার নারীর মরদেহের

শেয়ার করুন

পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় বউ-শাশুড়ি নিহত

পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় বউ-শাশুড়ি নিহত

নিহত গৃহবধূ মৌসুমী আক্তারের জা রুবিনা বেগম বলেন, ‘আমার শাশুড়ি রুপবানু ও আমার জা মৌসুমী সকাল ৮টার দিকে সিএনজি অটোরিকশায় ভ্যাকসিন নিতে মিটফোর্ড হাসপাতালে যায়। সেখান থেকে সাড়ে ১২টায় আবারও সিএনজিতে বাসায় ফেরার পথে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ বিআরটিএর সামনে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় একটি দ্রুতগামী পিকআপ দুজনকে ধাক্কা দেয়।’

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে করোনার টিকা নিয়ে বাসায় ফেরার পথে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় বউ-শাশুড়ি নিহত হয়েছেন।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন মৌসুমী আক্তার এবং তার শাশুড়ি রুপবানু।

নিহত গৃহবধূ মৌসুমী আক্তারের জা রুবিনা বেগম বলেন, ‘আমার শাশুড়ি রুপবানু ও আমার জা মৌসুমী সকাল ৮টার দিকে সিএনজি অটোরিকশায় ভ্যাকসিন নিতে মিটফোর্ড হাসপাতালে যায়। সেখান থেকে সাড়ে ১২টায় আবারও সিএনজিতে বাসায় ফেরার পথে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ বিআরটিএর সামনে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় একটি দ্রুতগামী পিকআপ দুজনকে ধাক্কা দেয়।’

তিনি জানান, তাদের সঙ্গে থাকা মৌসুমী আক্তারের মেয়ে মোহনা আক্তার আহত হয়েছে।

আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে আদ দ্বীন হাসপাতাল নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তার শাশুড়িকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান রুবিনা বেগম।

পরে মৌসুমীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে বেলা আড়াইটার দিকে তাকেও মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

রুবিনা জানান, মৌসুমীর স্বামী মোহন মিয়া সৌদী প্রবাসী।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘কেরানীগঞ্জের সড়ক দুর্ঘটনায় এক গৃহবধূকে হাসপাতালে আনার পর মৃত্যু হয়েছে। তার মরদেহ জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানায় বিষয়টি জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার কথিত মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান
‘অপরাধী শনাক্তে এক ধাপ এগিয়ে র‍্যাব’
পরিচয় মিলল ভাটারা থেকে উদ্ধার নারীর মরদেহের

শেয়ার করুন

৭ কোটি ৩৫ লাখ ভারতীয় জাল রুপিসহ গ্রেপ্তার ২

৭ কোটি ৩৫ লাখ ভারতীয় জাল রুপিসহ গ্রেপ্তার ২

জব্দ করা ভারতীয় রুপি। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ বলছে, এসব মুদ্রা পাকিস্তান থেকে দেশটির দুই নাগরিকের মাধ্যমে আমদানি করা মার্বেল পাথরের সঙ্গে আনা হয়েছে। শ্রীলঙ্কা হয়ে বাংলাদেশে আনা হয় এসব মুদ্রা।

রাজধানীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৭ কোটি ৩৫ লাখ ভারতীয় জাল রুপিসহ জালিয়াতি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগ।

রাজধানীর খিলক্ষেত ও ডেমরা থানা এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে শনিবার ব্রিফিংয়ে জানায় ডিএমপি।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ফাতেমা আক্তার অপি ও শেখ মো. আবু তালেব।

ব্রিফিংয়ে ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান জানান, খিলক্ষেত থানার বনরূপা আবাসিক এলাকার মেইন গেটের সামনে পাকা রাস্তার ওপর এক নারী ভারতীয় জাল রুপিসহ অবস্থান করছেন বলে তথ্য পায় খিলক্ষেত থানা পুলিশ। এর ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফাতেমা আক্তার অপি নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৫০ হাজার ভারতীয় জাল রুপি উদ্ধার করা হয়।

পরে ফাতেমার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখান থানার পন্ডিতপাড়া এলাকায় তার নিজ বাসা থেকে আরও ৭ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার ভারতীয় জাল রুপি উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ডেমরা থানার সারুলিয়া এলাকা থেকে জালিয়াতি চক্রের অপর সদস্য শেখ মো. আবু তালেবকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ফাতেমা আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ ভারতীয় জাল মুদ্রা পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান থেকে আন্তর্জাতিক চক্রের মাধ্যমে ভারতীয় জাল মুদ্রা কৌশলে সংগ্রহ করে দেশীয় চক্রের অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিপণনসহ ভারতে পাচার করত। জব্দ করা মুদ্রা গত ২৩ নভেম্বর ফাতেমার কাছে হস্তান্তর করেছিলেন তালেব।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, তালেব পাকিস্তানি নাগরিক সুলতান ও শফির মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে আমদানি করা মার্বেল পাথরের ৫০০টি বস্তার মধ্যে ৯৫টি বস্তায় করে ভারতীয় রুপিগুলো আনেন। এসব মুদ্রা শ্রীলঙ্কা হয়ে বাংলাদেশে আনা হয়।

পুলিশ জানায়, ফাতেমার বিরুদ্ধে আগেও মতিঝিল থানায় জাল টাকা সংক্রান্ত মামলা করা হয়েছিল। এবার তার বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় আরও একটি মামলা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার কথিত মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান
‘অপরাধী শনাক্তে এক ধাপ এগিয়ে র‍্যাব’
পরিচয় মিলল ভাটারা থেকে উদ্ধার নারীর মরদেহের

শেয়ার করুন

ফের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা

ফের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা

ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়কে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: নিউজবাংলা

শনিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন ধানমন্ডি গভ. বয়েজ স্কুল, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল, রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল ও সেন্ট জোসেফ স্কুলের কয়েক শ শিক্ষার্থী। বাসে হাফ পাস কার্যকর, নটর ডেমের নাঈম হাসানের নিহতের ঘটনায় বিচার চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন তারা।

সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির ধাক্কায় রাজধানীর গুলিস্তানে নটর ডেম কলেজের নাঈম হাসানের নিহতের ঘটনায় বিচার এবং বাসে হাফ পাস কার্যকরের দাবিতে ফের বিক্ষোভে নেমেছে শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক অবরোধ করেছে তারা।

শনিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে ধানমন্ডি গভ. বয়েজ স্কুল, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল, রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল ও সেন্ট জোসেফ স্কুলের কয়েক শ শিক্ষার্থী। বাসে হাফ পাস কার্যকর, নটর ডেমের নাঈম হাসানের নিহতের ঘটনায় বিচার চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছে তারা।

তাদের অবস্থানের কারণে রাস্তায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাবে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর ও এর আশপাশের সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন ডিএমপির তেঁজগাও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ছাত্ররা তাদের কয়েকটি দাবি নিয়ে রাস্তা অবরোধ করেছে। আমরা তাদের সাধারণদের ভোগান্তির কথা বুঝিয়ে বলেছি। তারা আর কিছুক্ষণ থেকে চলে যাবে বলেছে। কিছুক্ষণ পর আমরা তাদের আবার বোঝাব। এখানে যেন কোনো অপ্রীতিকর কিছু না ঘটে সে জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।’

সরকারের প্রতি শিক্ষার্থীদের আহ্বান, তাদের ৯টি দাবি যেন দ্রুত কার্যকর করে সরকার। তাদের দাবিগুলো হলো:

০১. দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে শিক্ষার্থীসহ সকল সড়ক হত্যার বিচার করতে হবে ও পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

০২. ঢাকাসহ সারা দেশে সকল গণপরিবহনে (সড়ক, নৌ, রেল ও মেট্রোরেল) শিক্ষার্থীদের হাফ পাস নিশ্চিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।

০৩. গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং জনসাধারণের চলাচলের জন্য যথাস্থানে ফুটপাত, ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপত্তাব্যবস্থা দ্রুততর সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।

০৪. সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সকল যাত্রী এবং পরিবহন শ্রমিকের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।

০৫. পরিকল্পিত বাস স্টপেজ ও পার্কিং স্পেস নির্মাণ ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। (এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে)।

০৬. দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ও যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের দায়ভার সংশিষ্ট ব্যক্তি বা মহলকে নিতে হবে।

০৭. বৈধ ও অবৈধ যানবাহন চালকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বৈধতার আওতায় আনতে হবে এবং বিআরটিএর সকল কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

০৮. আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ঢাকাসহ সারা দেশে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা অবিলম্বে স্বয়ংক্রিয় ও আধুনিকায়ন এবং পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

০৯. ট্রাফিক আইনের প্রতি জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য একে পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে হবে।

দাবিগুলোর বাস্তবায়ন না হলে নিয়মিত আন্দোলন চালিয়ে যাবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

গত বুধবার বেলা ১১টার দিকে গুলিস্তান বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের দক্ষিণ পাশে নটর ডেম কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানকে ধাক্কা দেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি ময়লাবাহী ট্রাক। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার বিচার, বাসে হাফ পাস কার্যকর এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে টানা দুই দিন বিক্ষোভের পর শুক্রবার বিরতি দিয়ে ফের রাস্তায় নেমেছে তারা।

আরও পড়ুন:
অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার কথিত মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান
‘অপরাধী শনাক্তে এক ধাপ এগিয়ে র‍্যাব’
পরিচয় মিলল ভাটারা থেকে উদ্ধার নারীর মরদেহের

শেয়ার করুন