চার বন্ধুর শেষ শয্যাও পাশাপাশি

চার বন্ধুর শেষ শয্যাও পাশাপাশি

চার শিশুকে হারিয়ে নওগাঁর এ গ্রাম শোকাচ্ছন্ন। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় হানিফ উদ্দিন বলেন, ‘ওই শিশুদের বাড়ির পাশেই আমার বাড়ি। প্রতিদিন সকালে কাজে যাওয়ার জন্য বের হলেই তাদের দেখি খেলাধুলা করতে বাড়ির পাশের উঠানে। কী চমৎকার করে তারা চাচ্চু বলে ডাকত। ভাবতেই খুব কষ্ট পাচ্ছি। শিশুগুলো আমার প্রতিবেশী হলেও অনেক আপন মনে হতো।’

নওগাঁ শহরের আরজি নওগাঁ গ্রামের নিত্যদিনের ব্যস্ততা দেখা যায়নি রোববার সকালে। চারদিকে শোক; চাপা কান্নায় সন্তানকে বুকে চেপে আছেন বাবা-মায়েরা।

এই গ্রামের চার শিশু শনিবার দুপুরে খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে। ওই চার শিশু ছিল খেলার সাথি। এর মধ্যে দুইজন ভাই-বোন।

এই শিশুদের চঞ্চলতায় মুখর থাকত এলাকা। খেলতে খেলতেই চার বন্ধু একসঙ্গে পাড়ি দিয়েছে পরপারে। তাদের সমাধিও হয়েছে পাশাপাশি।

মারা যাওয়া শিশুরা হলো টুকু মণ্ডলের ৮ বছরের ছেলে ফরহাদ হোসেন ও ৯ বছরের মেয়ে সুরাইয়া খাতুন, আনোয়ার হোসেনের ১০ বছরের মেয়ে আশা খাতুন এবং আব্দুস সালামের ৮ বছরের মেয়ে খাদিজা খাতুন।

সন্তানহারা পরিবারগুলোতে চলছে মাতম। তাদের সান্ত্বনা দিতে দেখা গেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের।

স্থানীয়রা বলছেন, একসঙ্গে চার শিশুর মৃত্যুর এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি এ গ্রামে। অভিভাবকরা সাবধান হলে এমন ঘটনা ঘটত না বলে তারা মনে করেন।

চার বন্ধুর শেষ শয্যাও পাশাপাশি

স্থানীয় হানিফ উদ্দিন কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, ‘ওই শিশুদের বাড়ির পাশেই আমার বাড়ি। প্রতিদিন সকালে কাজে যাওয়ার জন্য বের হলেই তাদের দেখি খেলাধুলা করতে বাড়ির পাশের উঠানে। কী চমৎকার করে তারা চাচ্চু বলে ডাকত। আর ডাকবে না আমাকে চাচ্চু বলে।

‘ভাবতেই খুব কষ্ট পাচ্ছি। শিশুগুলো আমার প্রতিবেশী হলেও অনেক আপন মনে হতো। আমারই তো খুব কষ্ট লাগছে, তাহলে ভাবুন নিহত শিশুদের মা-বাবারা কত কষ্ট পাচ্ছেন।’

শিশুদের পুকুর থেকে উদ্ধারের সময় সেখানে ছিলেন রাব্বি চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি যখন ঘটে তখন পুকুর থেকে শিশুদের উদ্ধার করার জন্য আমিও ছিলাম, কিন্তু ততক্ষণে খুব দেরি হয়ে গেছে। শিশুদের তোলার পর স্থানীয় এক ডাক্তার এসে তাদের মৃত বলে জানান।

‘একসঙ্গে চার শিশু মারা গেল। এটা মেনে নিতে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। বারবার একই কথা ভাবছি, যদি শিশুদের সে সময় বাইরে বের হতে না দিত, যদি তাদের পুকুরপাড়ে যেতে না দিত পরিবারের সদস্যরা, তাহলে আজ এমন দৃশ্য আমাদের কারও দেখতে হতো না। প্রতিবেশীদের সন্তান হলেও তারা আমাদের সন্তানের মতোই ছিল।’

ওই পুকুরের পাশেই বাড়ি জামাল হোসেনের। তিনি বলেন, ‘দুই শিশুকে পুকুরপাড়ে কাঁদতে দেখে আমরা কয়েকজন কাছে যাই। তখন তারা বলে পুকুরে তাদের চার বন্ধু ডুবে গেছে। এরপর আমরা একজনকে পাঠাই তাদের পরিবারকে খবর দিতে। অন্যদিকে আমরা কয়েকজন পুকুরে নেমে শিশুদের উদ্ধার করি।

‘রাতেই শিশুদের দাফন করা হয়েছে। এমন অকাল মৃত্যু শুধু আমাকে নয়, এই এলাকার সবাইকে কাঁদাচ্ছে। যাদের সন্তানরা পরপারে চলে গেল তারা আরও গভীরভাবে আঘাত পেয়েছেন। আহারে এমন করে কারও বুক যেন খালি না হয়। ছোট সন্তানদের প্রতি আমরা যারা অভিভাবক আছি, তাদের আরও দায়িত্ববান হতে হবে।’

স্থানীয় একটি গোরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে চার বন্ধুকে।

চার বন্ধুর শেষ শয্যাও পাশাপাশি

একসঙ্গে দুই সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় ফরহাদ ও সুমাইয়ার বাবা টুকু মণ্ডল।

তিনি বলেন, ‘হামি (আমি) ফেরি করে ফল বিক্রি করা সংসার চালাই। ছেলে আর মেয়েডা আরজি নওগাঁ সরকারি প্রাথমিক স্কুলে তৃতীয় কেলাশে (ক্লাশে) পড়ত। ইচ্ছা আসলো পড়াশোনা করা দুই জনাক মাস্টার বানামু। হামি মূর্খ মানুষ পড়াশোনা করবার পারিনি। তারা মানুষের মতো মানুষ হবে, কিন্তু হামাকো (আমাকে) ছাড়া আজ চলা গেল ওই পাড়ে।’

মৃত শিশু আশার বাবা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অটো চালায় পরিবার চালাই। কেলাশ থিরিতে (তৃতীয় শ্রেণিতে) পড়ত হামার মেয়েডা। একমাত্র মেয়েডা মরা গেল আজ। থাক ডাক্তার করবার চাছনু (ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলাম)। সেডা আর হলো না। কপাল হামাকে খারাপ। যদি হামরা এ্যানা সচেতন হনুনি তয় আজ এদিন দেকা লাগলোনানি (আমরা সচেতন হলে এই দিন দেখা লাগত না)। কী আর কমু কিছু কওয়ার ভাষা নাই।’

তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত খাতিজা খাতুনও। মেয়েকে হারিয়ে আব্দুস সালাম বলেন, ‘তারা চারজন একসঙ্গেই খেলাধুলা করত-পড়ত। আজ হামার মেয়েডাসহ চারজনার একসঙ্গে কবর দিনু। কলজাডা হামার ফাটা যাচ্ছে কী কমুরে বা (কলিজাটা ফেটে যাচ্ছে কী আর বলব)।’

নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, মৃত শিশুদের পরিবারকে সহায়তা দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল জানান, মৃত শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

শিশুদের বিষয়ে আরও সচেতন হতে অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছেন ওসি।

আরও পড়ুন:
পুকুরে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু
গোমতীতে মিলল জুবায়েরের নিথর দেহ
খেলতে গিয়ে গোমতীতে হারাল জুবায়ের
নদীতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু
পুকুরে ডুবে এক পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মেয়র আব্বাস কোথায়

মেয়র আব্বাস কোথায়

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী। ছবি: সংগৃহীত

নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘আমরাও আব্বাস আলীকে খুঁজছি। ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তাও নিচ্ছি। আমরা আশা করছি তাকে পেয়ে যাব।’

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলায় রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীর নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার পর তাকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। স্থানীয়রা বলছেন, তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন।

মেয়রকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি চলছে।

গত ২৩ নভেম্বর থেকে মেয়র আব্বাসের একটি অডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এর পরই লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান তিনি।

মেয়র অফিস করছেন না। তবে তার মোবাইল ফোনটি চালু। কখনও ফোন ধরছেন, কখনও সাড়া দিচ্ছেন না।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে আব্বাস দাবি করেন, অডিওটি এডিট করা। তবে শুক্রবার বিকেলে তিনি ফেসবুকে লাইভে এসে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসানো নিয়ে আপত্তির বিষয়টি স্বীকার করেন। এ জন্য তিনি ক্ষমাও চান।

ওই দিন তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি রাজশাহীর বাইরে আছি। আমি ফেসবুক লাইভে এসে কথা বলব। সেখানেই অনেক বিষয়ে আপনারা ক্লিয়ার হবেন। আমি কন্টিনিউ লাইভে আসব, সেখানেই প্রশ্নের উত্তর দিব।’

কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীর নামে গত ২৪ নভেম্বর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা হয়। নগরীর বোয়ালিয়া থানায় করা মামলার বাদী নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ও ১৩ নম্বর কাউন্সিলর আব্দুল মোমিন। এ ছাড়া ২৩ নভেম্বর চন্দ্রিমা থানায় নগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তহিদুল হক সুমান এবং রাজপাড়া থানায় ১৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন একই অভিযোগ এনে দুটি এজাহার জমা দেন।

অডিও প্রকাশের পর থেকে রাজশাহী শহর এবং কাটাখালীতে আলাদা কর্মসূচি থেকে আব্বাস আলীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। তবে এখন তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে।

কাটাখালী পৌরসভার কাউন্সিলর আব্দুল মজিদ জানান, ‘গত ১৫ নভেম্বরের পর থেকেই আব্বাস আলী পৌরসভায় যাননি। আমরা তার গ্রেপ্তার ও শাস্তিসহ বিভিন্ন দাবি করেছি। কিন্তু তিনি কোথায় আছেন, এটি আমরাও নিশ্চিত হতে পারছি না।’

আব্বাসের অনুপস্থিতিতে পৌরসভার সেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য কাউন্সিলররা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।

পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন বলেন, ‘আব্বাস আলী যে অপরাধ করেছেন তার জন্য তাকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি। তিনি কোথায় সেটি নিশ্চিত হতে পারছি না। তবে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে শুনতে পারছি তিনি ঢাকায় থাকতে পারেন।’

নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘আমরাও আব্বাস আলীকে খুঁজছি। ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তাও নিচ্ছি। আমরা আশা করছি তাকে পেয়ে যাব।’

ওসি বলেন, ‘মেয়র আব্বাসের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার তদন্ত চলছে। অডিও ক্লিপটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রক্রিয়ার মাঝেই তিনি ২৬ নভেম্বর নিজেই ফেসবুক লাইভে এসে স্বীকারোক্তি দিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন। কাজেই এটি আর খতিয়ে দেখার কিছু নাই।’

ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘তিনি যে মামলার আসামি তাতে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই। এখন আমরা মূলত তাকে খুঁজে বের করার জন্য যা যা করার দরকার করছি।’

আরও পড়ুন:
পুকুরে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু
গোমতীতে মিলল জুবায়েরের নিথর দেহ
খেলতে গিয়ে গোমতীতে হারাল জুবায়ের
নদীতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু
পুকুরে ডুবে এক পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু

শেয়ার করুন

কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: আরও দুই আসামি গ্রেপ্তার

কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: আরও দুই আসামি গ্রেপ্তার

মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন জানান, আশিককে লালমনিরহাটের চন্ডীবাজার থেকে এবং আলমকে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার বড়জালা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। খুব শিগগিরই তাদের থানায় হস্তান্তর করা হবে।

কুমিল্লায় কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সঙ্গীকে গুলি করে হত্যা মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলো চারজন।

কুমিল্লার র‍্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন শনিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারের তথ্য নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন মামলার ৬ নম্বর আসামি আশিকুর রহমান রকি ও ৭ নম্বর আসামি আলম মিয়া।

মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন জানান, আশিককে লালমনিরহাটের চন্ডীবাজার থেকে এবং আলমকে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার বড়জালা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। খুব শিগগিরই তাদের থানায় হস্তান্তর করা হবে।

কুমিল্লার চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড থেকে বৃহস্পতিবার আসামি মো. মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাসুম হত্যা মামলায় ৯ নম্বর আসামি। এর আগে মো. সুমন নামে একজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ।

কাউন্সিলর সোহেল হত্যার ঘটনায় কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় মঙ্গলবার রাতে মামলা হয়।

কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর জানান, মামলায় ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলমকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে ১০-১২ জনকে।

নিজ কার্যালয়ে ২২ নভেম্বর (সোমবার) বিকেলে কাউন্সিলর সোহেলসহ গুলিবিদ্ধ হন অন্তত ৬ জন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহেল ও তার সঙ্গী হরিপদ সাহার মৃত্যু হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওসি জানান, কাউন্সিলর সোহেল সুজানগরে তার কার্যালয়ে বসে ছিলেন। এ সময় মুখোশ পরা ১৫ থেকে ২০ জন তাকে গুলি করে। এতে কাউন্সিলর সোহেল লুটিয়ে পড়েন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন হরিপদ সাহা, পাথুরীয়াপাড়ার মো. রিজু ও মো. জুয়েল এবং সুজানগর এলাকার সোহেল চৌধুরী ও মাজেদুল।

চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে এ ঘটনা বলে জানান স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন:
পুকুরে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু
গোমতীতে মিলল জুবায়েরের নিথর দেহ
খেলতে গিয়ে গোমতীতে হারাল জুবায়ের
নদীতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু
পুকুরে ডুবে এক পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু

শেয়ার করুন

এবার আ.লীগ থেকে মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি

এবার আ.লীগ থেকে মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী। ছবি: সংগৃহীত

জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী কমিটির সদস্যপদ থেকে মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি দিয়ে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার মেয়র আব্বাসকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলা রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে এবার জেলা আওয়ামী লীগের সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী কমিটির সদস্যপদ থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়ে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভা শেষে এ কথা জানান সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুুদ দারা।

এর আগে গত বুধবার মেয়র আব্বাসকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

আব্বাস আলী রাজশাহীর কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে তিনি প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন।

ঘরোয়া একটি আলোচনায় মেয়র আব্বাস বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের বিরোধিতা করে কথা বলেন। গত সোমবার এই আলোচনার অডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের বক্তব্য শোনা যাচ্ছে, তিনি একজনকে বলছেন, ‘সিটি গেট আমার অংশে। … ফ্রার্মকে দিয়েছে তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে; ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা। কিন্তু একটু থেমে গেছি, গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে… যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর সেটা ইসলামি শরিয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না (রাখব না), সব করব তবে শেষ মাথাতে যেটা… ওটা (ম্যুরাল)।’

মেয়র আব্বাস আলী বলছেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, ম্যুরালটা ঠিক হবে না দিলে। আমার পাপ হবে; তো কেন দিব, দিব না। আমি তো কানা না, যেভাবে বুঝাইছে তাতে আমার মনে হয়েছে, ম্যুরালটা হলে আমার ভুল করা হবে।

‘এ খবরটা যদি যায় তাহলে আমার রাজনীতির বারোটা বাজবে যে এই ম্যুরাল দিছে না। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে গিয়ে… আল্লাহকে নারাজ করব নাকি। এ জন্য কিছু করার নাই। মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা যাবে না।’

এই বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে শুক্রবার বিকালে ফেসবুক লাইভে মেয়র আব্বাস বলেন, ‘আমি তো মানুষ। আমি তো ভুল করতেই পারি। তার জন্য ক্ষমা চাই। তারপরও মনঃপূত না হলে বহিষ্কার করবেন, আমার নামে মামলা দিবেন যতটুকু ভুল করেছি, তার জন্য, কিন্তু একের পর এক অত্যাচার জুলুম। আমার অসুস্থ মা তিন-চার দিন না খেয়ে আছে...

‘... আমি কী এত বড় অন্যায় করেছি? অন্যায় করলে তো আইন আছে। এভাবে এতকিছু করা কী ঠিক?... আমাকে বলা হচ্ছে, আমি দলের অনুপ্রবেশকারী। আমি যদি আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য কোনো দল জীবনে থাকি তাহলে সব শাস্তি মাথা পেত নেব... কেউ প্রমাণ করতে পারলে সুইসাইড করব।’

আরও পড়ুন:
পুকুরে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু
গোমতীতে মিলল জুবায়েরের নিথর দেহ
খেলতে গিয়ে গোমতীতে হারাল জুবায়ের
নদীতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু
পুকুরে ডুবে এক পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু

শেয়ার করুন

নটর ডেমের ছাত্র নিহত: সেই গাড়ির মূল চালক গ্রেপ্তার

নটর ডেমের ছাত্র নিহত: সেই গাড়ির মূল চালক গ্রেপ্তার

ডিএসসিসির ময়লাবাহী গাড়ির ধাক্কায় নিহত নটর ডেম ছাত্রের কাছ থেকে পাওয়া যায় এ কার্ড। ফাইল ছবি

গুলিস্তানে নটর ডেম কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্র নাঈমকে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ধাক্কা দেয় ডিএসসিসির একটি ট্রাক। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল খান। গাড়ির মূল চালক ছিলেন হারুন মিয়া।

রাজধানীর গুলিস্তানের গোল চত্বরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ময়লাবাহী যে গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসান নিহত হয়েছিলেন, তার মূল চালক হারুন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

র‌্যাব-৩-এর অপারেশন্স অফিসার বীণা রানী দাস নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গুলিস্তানে নটর ডেম কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্র নাঈমকে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ধাক্কা দেয় ডিএসসিসির একটি ট্রাক।

দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল খান। গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ও টহল পুলিশ ট্রাক ও চালকের আসনে থাকা রাসেলকে আটক করে। পরে নাঈমের বাবার করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে তোলা হলে রাসেলকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান বিচারক।

এদিকে ময়লার গাড়ির চাপায় নাঈম হাসান নিহত হওয়ার ঘটনায় দুজনকে কর্মচ্যুত ও একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ডিএসসিসির মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত দপ্তর আদেশ পাঠান।

আরও পড়ুন:
পুকুরে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু
গোমতীতে মিলল জুবায়েরের নিথর দেহ
খেলতে গিয়ে গোমতীতে হারাল জুবায়ের
নদীতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু
পুকুরে ডুবে এক পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু

শেয়ার করুন

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: লাইভে ক্ষমা চাইলেন মেয়র আব্বাস

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: লাইভে ক্ষমা চাইলেন মেয়র আব্বাস

ফেসবুক লাইভে কাঁদলেন রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী। ছবি: নিউজবাংলা

মেয়র আব্বাস বলেন, ‘আমি ভুল করেছি, তার জন্য আইন আছে। আমি আজ কয়েক দিন ধরে না খেয়ে আছি। আমি অসুস্থ হয়ে গেছি। আমাকে হেল্প করুন। আমাকে বাঁচান প্লিজ।’

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলা ভুল ছিল জানিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন রাজশাহীর কাটাখালীর পৌর মেয়র আব্বাস আলী।

ফেসবুকে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে লাইভে এসে তিনি তার ভাইরাল হওয়া অডিও রেকর্ডের বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষমা চান। লাইভে তাকে কাঁদতেও দেখা গেছে।

তিনি বলেন, ‘ম্যুরাল নিয়ে ছড়ানো অডিওটা একটি ঘরোয়া আড্ডার। সেখানে আমি গল্পে কিছু কথা বলেছি, কিন্তু বাস্তবে আমি ম্যুরালের বিরোধিতা করিনি... এটি আমি ভুল করে থাকতে পারি। মানুষই তো ভুল করে। এ জন্য আমি ক্ষমা চাই, কিন্তু আমাকে এ জন্য যে শাস্তি দেয়া হচ্ছে তা অনেক বেশি।’

গত ২৩ নভেম্বর থেকে মেয়র আব্বাসের একটি অডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। তাতে আব্বাসকে বলতে শোনা যায়, ‘সিটি গেট আমার অংশে…ফ্রার্মকে দিয়েছে তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে; ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা, কিন্তু একটু থেমে গেছি, গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে…যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর, সেটা ইসলামি শরিয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না (রাখব না), সব করব, তবে শেষ মাথাতে যেটা…ওটা (ম্যুরাল)।’

এটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে শুরু হয় সমালোচনা। ২৩ নভেম্বর রাতে এক ফেসবুক পোস্টে আব্বাস দাবি করেন, ওই অডিও এডিট করা।

মেয়র আব্বাসকে বুধবার দুপুরে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার তার ওপর অনাস্থা জানান পৌরসভার সব কাউন্সিলর।

তাকে আওয়ামী লীগের পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে আজীবন বহিষ্কারের দাবিতে শুক্রবার দিনভর রাজশাহী নগরীতে চলে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ-সমাবেশ।

ওই অডিও রেকর্ডের বক্তব্যের বিষয়ে লাইভে আব্বাস বলেন, ‘ম্যুরাল নিয়ে আমার কিছু কথা এখানে বলার আছে। কাটাখালীতে দুটি গেট করার জন্য আমি ভিডিও আপলোড দিয়েছিলাম। সবার মতামত চেয়েছিলাম। এখানে যে বিচ্যুতিটা আমার ঘটেছে, যে জিনিসটা নিয়ে কথা হচ্ছে। আমি একটা মানুষ, একটা দল করি, কিন্তু আমি মুসলমান। আমাদের এখানে একটা মাদ্রাসা আছে।

‘ম্যুরালের বক্তব্যটা নিয়ে যে কথা আসছে, ওই মাদ্রাসার যে বড় হুজুর, মাঝেমধ্যেই জানাজা বা অনুষ্ঠানের কারণে আমার যাওয়া হয়...মানুষটা বড় হুজুর, জামাল উদ্দিন মাহমুদ সন্দিপি... আমি মাদ্রাসায় বসেছি, কথা তুলতে তুলতে ভিডিওটা তো দেখলাম, ম্যুরালটার বিষয়ে কোনো চেঞ্জ আনা যায় না? কী সমস্যা? উনি ব্যাখা দিলেন। বোঝালেন। আমি শুনেছি। আমি তো মানুষ, আমি তো একটা মুসলমান। আল্লার কথায় আসলে কে না দুর্বল হয়। আমিও একটু দুর্বল হলাম। আমি সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করিনি। বলেছি, আমি ম্যুরালটা করলে ইসলামে ঠিক হবে না। এটা পাপ হবে। আড্ডার মধ্যে অনেক গল্পই তো করে। আমিও হয়তো করেছি। হয়তো ভুল করেছি, কত বড় ভুল করেছি?’

আব্বাস দাবি করেন, ওই অডিও ভাইরালের জেরে দল থেকে অব্যাহতি দেয়ার পর কাউন্সিলরদের হুমকি দিয়ে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা জানাতে বাধ্য করা হয়। তার কাটাখালীর দোকানে হামলা হয়। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানাননি, কার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করছেন।

আব্বাস বলেন, ‘আমি তো মানুষ। আমি তো ভুল করতেই পারি। তার জন্য ক্ষমা চাই। তারপরও মনঃপূত না হলে বহিষ্কার করবেন, আমার নামে মামলা দিবেন যতটুকু ভুল করেছি, তার জন্য, কিন্তু একের পর এক অত্যাচার জুলুম। আমার অসুস্থ মা তিন-চার দিন না খেয়ে আছে...

‘... আমি কী এত বড় অন্যায় করেছি? অন্যায় করলে তো আইন আছে। এভাবে এত কিছু করা ক ঠিক?... আমাকে বলা হচ্ছে, আমি দলের অনুপ্রবেশকারী। আমি যদি আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য কোনো দল জীবনে থাকি তাহলে সব শাস্তি মাথা পেত নেব... কেউ প্রমাণ করতে পারলে সুইসাইড করব।’

লাইভে তিনি সবার কাছে সাহায্য চেয়ে বলেছেন, ‘... যদি আমি মনে করেন, বড় অন্যায় করেছি, আমার পাশে দাঁড়ানোর দরকার নাই। যদি অন্যায় না হয় আমার পাশে দাঁড়ান, অনেক সহযোগিতা চাই। আমার অসহায় মাকে দেখতে দিন। কয়দিন আগে চিকিৎসা করিয়ে এসেছি। চার মাসের বাচ্চার কাছে যেতে চাই। আমার পাশে একটু দাঁড়ান প্লিজ। আল্লার ওয়াস্তে দাঁড়ান।

‘আমি ভুল করেছি, তার জন্য আইন আছে। আমি আজ কয়েক দিন ধরে না খেয়ে আছি। আমি অসুস্থ হয়ে গেছি। আমাকে হেল্প করুন। আমাকে বাঁচান প্লিজ।’

ভাইরাল ওই অডিও রেকর্ডের জেরে মেয়র আব্বাসের নামে গত বৃহস্পতিবার রাতে বোয়ালিয়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়।

এর আগে দলীয় কার্যালয়ে পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের জরুরি বৈঠকে বুধবার দুপুরে আব্বাসকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে কেন দলীয় সদস্যপদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হবে না, জানতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

আব্বাস আলী রাজশাহীর কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে তিনি প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন:
পুকুরে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু
গোমতীতে মিলল জুবায়েরের নিথর দেহ
খেলতে গিয়ে গোমতীতে হারাল জুবায়ের
নদীতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু
পুকুরে ডুবে এক পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু

শেয়ার করুন

ফেসবুক লাইভে আসছেন মেয়র আব্বাস

ফেসবুক লাইভে আসছেন মেয়র আব্বাস

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী। ছবি: সংগৃহীত

আব্বাস বলেন, ‘আমি রাজশাহীর বাইরে আছি। ফেসবুক লাইভে এসে কথা বলব। তখন অনেক বিষয় আপনারা ক্লিয়ার হবেন। আমি স্ট্যাটাস দিয়েছি। বিকেল সাড়ে ৪টায় লাইভে আসব, দেখেন অনেক তথ্য সেখানে পাবেন।’

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলার অডিও ফাঁসের জেরে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া রাজশাহীর কাটাখালী পৌর মেয়র আব্বাস আলী ফেসবুক লাইভে আসার কথা জানিয়েছেন।

আব্বাস নিউজবাংলাকে তার ফেসবুক আইডি থেকে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় লাইভে আসার কথা জানিয়েছেন।

এক ফেসবুক পোস্টে শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে তিনি বিষয়টি জানান।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অডিও ফাঁসের পর থেকে এ বিষয়ে সরাসরি আব্বাসের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শুক্রবার বিকেলে তিনি ফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি রাজশাহীর বাইরে আছি। ফেসবুক লাইভে এসে কথা বলব। তখন অনেক বিষয় আপনারা ক্লিয়ার হবেন। আমি স্ট্যাটাস দিয়েছি। বিকেল সাড়ে ৪টায় লাইভে আসব, দেখেন অনেক তথ্য সেখানে পাবেন।

‘দেখতে থাকেন আর ভালো লাগলে শেয়ার করতে থাকেন। দেখেন ঘটনা কোন জায়গা থেকে কোন জায়গায় যায়। আজ থেকে শুরু করছি, এখন আমি লাইভেই কথা বলব। আমি কন্টিনিউ লাইভে আসব, সেখানেই প্রশ্নের উত্তর দেব। এখন কিছু বলব না।’

ফেসবুক লাইভে আসছেন মেয়র আব্বাস
শুক্রবার দুপুরে মেয়র আব্বাসের কুশপুতুল পোড়ায় ছাত্রলীগের কর্মীরা

গত ২৩ নভেম্বর থেকে মেয়র আব্বাসের একটি অডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ফাঁস হওয়া ১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের বক্তব্যে আব্বাসকে বলতে শোনা যায়, ‘সিটি গেট আমার অংশে…ফ্রার্মকে দিয়েছে তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে; ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা, কিন্তু একটু থেমে গেছি, গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে…যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর, সেটা ইসলামি শরিয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না (রাখব না), সব করব, তবে শেষ মাথাতে যেটা…ওটা (ম্যুরাল)।’

মেয়র আরও বলেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, ম্যুরালটা ঠিক হবে না দিলে। আমার পাপ হবে; তো কেন দিব, দিব না। আমি তো কানা না। যেভাবে বুঝাইছে তাতে আমার মনে হয়েছে, ম্যুরালটা হলে আমার ভুল করা হবে।

‘এ খবরটা যদি যায় তাহলে আমার রাজনীতির ১২টা বাজবে যে এই ম্যুরাল দিছে না। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে গিয়ে…আল্লাহকে নারাজ করব নাকি। এ জন্য কিছু করার নাই। মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা যাবে না।’

এই অডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে শুরু হয় সমালোচনা। ২৩ নভেম্বর রাতে এক ফেসবুক পোস্টে আব্বাস দাবি করেন, ওই অডিও এডিট করা।

মেয়র আব্বাসকে বুধবার দুপুরে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার তার ওপর অনাস্থা জানান পৌরসভার সব কাউন্সিলর।

তাকে আওয়ামী লীগের পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে আজীবন বহিষ্কারের দাবিতে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। তারা নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে আব্বাসের কুশপুতুল পোড়ায়।

আরও পড়ুন:
পুকুরে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু
গোমতীতে মিলল জুবায়েরের নিথর দেহ
খেলতে গিয়ে গোমতীতে হারাল জুবায়ের
নদীতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু
পুকুরে ডুবে এক পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু

শেয়ার করুন

এসএসসি পরীক্ষার্থী হত্যা: সংশোধনাগারে আরও ২ কিশোর

এসএসসি পরীক্ষার্থী হত্যা: সংশোধনাগারে আরও ২ কিশোর

আদালত পুলিশের পরিদর্শক কে এম জাহাঙ্গীর কবীর জানান, এসএসসি পরীক্ষার্থী তন্ময় আহমেদ তপু হত্যা মামলার দুই আসামি বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করে। আদালত তাদের আবেদন নাকচ করে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। শুক্রবার এই দুই কিশোর আসামিকে সেখানে পাঠানো হবে।

চুয়াডাঙ্গায় এসএসসি পরীক্ষার্থী হত্যা মামলার আরও দুই কিশোর আসামিকে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুসরাত জেরিন বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে এ নির্দেশ দেন।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক কে এম জাহাঙ্গীর কবীর নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, এসএসসি পরীক্ষার্থী তন্ময় আহমেদ তপু হত্যা মামলার দুই আসামি বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করে। আদালত তাদের আবেদন নাকচ করে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। শুক্রবার এই দুই কিশোর আসামিকে সেখানে পাঠানো হবে।

জাহাঙ্গীর আরও জানান, গত ২৩ নভেম্বর এই মামলার আরেক আসামি আত্মসমর্পণ করে। তার বয়সও ১৮ বছরের কম হওয়ায় বিচারক তাকে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ৭ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার গুলশানপাড়ায় আল হেলাল মাধ্যমিক ইসলামি একাডেমিতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে তপুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

ওই দিন রাত ১২টার দিকে তার বড় ভাই মাসুদুর রহমান সাতজনের নামে ও অজ্ঞাতপরিচয় ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

এ মামলায় ৮ নভেম্বর পুলিশ মো. সুমনকে গ্রেপ্তার করে। ১১ নভেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এমদাদুল হক আকাশ। তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পুকুরে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু
গোমতীতে মিলল জুবায়েরের নিথর দেহ
খেলতে গিয়ে গোমতীতে হারাল জুবায়ের
নদীতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু
পুকুরে ডুবে এক পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু

শেয়ার করুন