খনি দুর্নীতি: খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পেছাল

খনি দুর্নীতি: খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পেছাল

রোববার মামলাটির অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার সময়ের আবেদন করেন। এরপর আদালত ১ ডিসেম্বর নতুন তারিখ দেয়।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ফের পিছিয়েছে।

রোববার মামলাটির অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার সময়ের আবেদন করেন। এরপর আদালত ১ ডিসেম্বর নতুন তারিখ দেয়।

ঢাকার বিশেষ জজ-২ এর বিচারক এ এইচ এম রুহুল ইমরান এ তারিখ দেন।

খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী হান্নান ভূইয়া নিউজবাংলাকে জানান, দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে কয়লা উত্তোলন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম এবং রাষ্ট্রের ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ক্ষতি ও আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় মামলাটি হয়। ওই বছরের ৫ অক্টোবর ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন এম সাইফুর রহমান, আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মো. মুজাহিদ, এম কে আনোয়ার, এম শামসুল ইসলাম, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, একেএম মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম, এসআর ওসমানী, মঈনুল আহসান, সিরাজুল ইসলাম ও মোয়াজ্জেম হোসেন।

আসামিদের মধ্যে যারা মারা গেছেন তাদের এই মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চট্টগ্রামের উন্নয়নকাজে ক্ষতিগ্রস্ত যারা

চট্টগ্রামের উন্নয়নকাজে ক্ষতিগ্রস্ত যারা

প্রকল্প এলাকায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উন্নয়ন কাজের জন্য ওই এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। এই অবস্থা দীর্ঘ হলে অস্তিত্ব সংকটে পড়বেন ব্যবসায়ীরা।’

চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড এলাকার প্রধান সড়কের পাশে ১০ বছর ধরে মায়ের দোয়া নামে একটি খাবার হোটেল চালাতেন তফাজ্জল হোসেন। প্রতিদিন এই হোটেলে বিক্রি হতো প্রায় ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু ২০১৯ সাল থেকে চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শুরু হলে কমতে থাকে বিক্রি। একপর্যায়ে নেমে আসে ১০ হাজার টাকার নিচে। ৫ লাখ টাকা লোকসান দিয়ে গত আগস্টে হোটেল ছেড়ে তার পাশেই ছোট্ট একটি দোকানে পানের ব্যবসা করেন তিনি।

তফাজ্জল জানান, পানের দোকানে দৈনিক ২ হাজার টাকা বিক্রিতে সামান্য যে আয় হয় তা দিয়ে চার সদস্যের পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।

তিনি বলেন, ‘হোটেল যখন ছিল তখন অনেক স্বচ্ছল ছিলাম। এখন অভাব-অনটনে দিন যাচ্ছে।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। তবে প্রকল্প এলাকায় আগে জমজমাট ব্যবসা করতেন এমন অনেক ব্যবসায়ীর অবস্থাই এখন তফাজ্জল হোসেনের মতো। প্রতিটি দোকানে বিক্রি কমেছে। দোকান ভাড়া পরিশোধ করে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই এখন দায় হয়ে পড়েছে।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে যেসব এলাকা দিয়ে গেছে সেইসব এলাকা; বিশেষ করে- নগরীর দেওয়ানহাট, চৌমুহনী, আগ্রাবাদ, ফকিরহাট, সল্টগোলা ক্রসিং, ইপিজেড, বন্দরটিলা, স্টিলমিল, কাঠগড়, পতেঙ্গা, সী বিচ রোড এলাকার ব্যবসায়ীরা এখন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। বিক্রি কমে যাওয়ায় অলস সময় পার করছেন অনেক ব্যবসায়ী।

চট্টগ্রাম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম বন্দর, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস, চট্টগ্রাম ইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেড, ছয়টি বেসরকারী অফডক সহ রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এই সড়ক দিয়ে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। শুধু ইপিজেড এলাকাগুলোতেই এই রাস্তা দিয়ে প্রায় ৪ লাখ শ্রমিক চলাচল করে। প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় শুধু যানজটের কারণেই প্রতিদিন লাখ লাখ শ্রমঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এসব শ্রমিকের। ব্যহত হচ্ছে কারখানার উৎপাদনও। আমদানি ও রপ্তানি পণ্য পরিবহনেও পোহাতে হয় ভোগান্তি।

বারিক বিল্ডিং এলাকার রহিম এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. রহিম বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে মাসের প্রথম সপ্তাহেই অন্তত ৪০ হাজার টাকার ফার্নিচার বিক্রি হতো। এখন সারা মাসে ৪০ হাজার টাকার ফার্নিচার বিক্রি করতে কষ্ট হয়।’

মন্দা ব্যবসার জন্য করোনার প্রভাব ছাড়াও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উন্নয়ন কাজকেও দায়ী করেছেন রহিম।

একই এলাকায় ওয়ালটনের শো-রুম ছিল মোর্শেদ আলীর। ব্যবসা কমে যাওয়ায় তিনি এখন শো-রুমের স্থান পরিবর্তন করে অন্য এলাকায় নিয়ে যাচ্ছেন।

মোর্শেদ বলেন, ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলায় এলাকায় ব্যবসার অবস্থা শোচনীয়। কাস্টমাররা এখন এই এলাকায় আসতে চান না।’

চট্টগ্রামের উন্নয়নকাজে ক্ষতিগ্রস্ত যারা
বারিক বিল্ডিং এলাকা থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন মোর্শেদ আলী

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উন্নয়ন কাজের জন্য ওই এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। এই অবস্থা দীর্ঘ হলে অস্তিত্ব সংকটে পড়বেন ব্যবসায়ীরা। তাই দ্রুত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ করা উচিত।’

এলিভেডেট এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিচালক সিডিএ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বার বার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। নয়তো এত দেরি হতো না। তবে আমরা ২০২৩ সালের জুন নাগাদ এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।’

২০১৭ সালের ১১ জুলাই একনেক সভায় ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকার এই প্রকল্প অনুমোদন পায়। সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই প্রকল্পের কাজ ৩ বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এক্সপ্রেসওয়টি প্রশস্ত হবে ৫৪ ফুট। ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক্সপ্রেসওয়ের পিলার পাইলিং কাজের উদ্বোধন করেন।

বর্তমানে যানজট পেরিয়ে লালখানবাজার থেকে বিমানবন্দর এবং পতেঙ্গা সৈকতে যেতে সময় লাগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছতে না পারায় ফ্লাইট মিস হওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে। তবে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এসব দুর্ভোগ আর থাকবেনা বলেই মনে করেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

শেয়ার করুন

হাজার ইউপিতে ভোটের অপেক্ষা

হাজার ইউপিতে ভোটের অপেক্ষা

তৃতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচনের আগের দিন শনিবার মেহেরপুরের কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের হাতে দেয়া হয় নির্বাচনি সরঞ্জাম। ছবি: নিউজবাংলা

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী তৃতীয় ধাপে এক হাজার সাতটি ইউপিতে ভোট হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু নানা কারণে সাত ইউপিতে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। ভোট নেয়া হবে ইভিএম পদ্ধতিতে। এর আগে প্রথম ধাপে গত ২১ জুন ২০৪ ইউপি ও ২০ সেপ্টেম্বর ১৬০ ইউপির ভোট হয়। দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৬ ইউপির ভোট হয় ১১ নভেম্বর। তৃতীয় ধাপে ১০০০ ইউপির ভোট হচ্ছে আজ।

তৃতীয় ধাপে ১ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভোট শুরু হচ্ছে আজ। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ ভোট চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

দ্বিতীয় ধাপের আগে-পরে ব্যাপক সহিংসতা ও প্রাণহানির পর এ পর্যায়ের ভোটে রক্তপাত বন্ধে ব্যবস্থার কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। সে আশ্বাসের বাস্তবায়ন দেখা যাবে ভোট শুরু হলেই।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী তৃতীয় ধাপে এক হাজার সাতটি ইউপিতে ভোট হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু নানা কারণে সাত ইউপিতে ভোট স্থগিত করা হয়েছে।

একই দিনে অষ্টম ধাপে ৯টি পৌরসভায়ও ভোট হবে। ভোট নেয়া হবে ইভিএম পদ্ধতিতে। নীলফামারীর জলঢাকা ও কক্সবাজার পৌরসভায় শুধু কাউন্সিলর পদে ভোট হবে।

এর আগে প্রথম ধাপে গত ২১ জুন ২০৪ ইউপি ও ২০ সেপ্টেম্বর ১৬০ ইউপির ভোট হয়। দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৬ ইউপির ভোট হয় ১১ নভেম্বর।

তৃতীয় ধাপে ১০০০ ইউপির ভোট হচ্ছে আজ। চতুর্থ ধাপে ৮৪০ ইউপিতে ভোট হবে ২৬ ডিসেম্বর। পঞ্চম ধাপে ৭০৭ ইউপিতে ভোট হবে ৫ জানুয়ারি।

তৃতীয় ধাপের এ নির্বাচনে ৫৬৯ জন প্রার্থী এরই মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। তাদের মধ্যে চেয়ারম্যানের সংখ্যা ১০০। এ ছাড়া সাধারণ সদস্য ৩৩৭ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ীর সংখ্যা ১৩২।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় শুক্রবার এসব তথ্য জানিয়েছে।

ইসি জানায়, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ীদের বাদ দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫০ হাজার ১৪৬ প্রার্থী। চেয়ারম্যান পদে মাঠে আছেন ৪ হাজার ৪০৯ জন। সংরক্ষিত সদস্যপদে ১১ হাজার ১০৫ এবং সাধারণ সদস্যপদে ৩৪ হাজার ৬৩২ জন ভোটে লড়াই করছেন।

মোট ১০ হাজার ১৫৯টি কেন্দ্রে হবে ভোট। এগুলোতে মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা ৬১ হাজার ৮৩০টি। ৩৩টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট হবে।

১ হাজারটি ইউপিতে ভোটার সংখ্যা ২ কোটি ১৪ লাখ ৯ হাজার ২৭৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ২১ লাখ ৫ হাজার ৪২৩। নারী ভোটার ৯৯ লাখ ৩২ হাজার ৫৩০ জন। এর বাইরে ট্রান্সজেন্ডার ভোটার আছেন ১৯ জন।

ভোটের নিরাপত্তা

ভোটের সার্বিক পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২২ জন সদস্য রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশের একজন এসআই বা এএসআই বা নায়েক থাকবেন। আর পুলিশের কনস্টেবল থাকবেন চারজন। অস্ত্রসহ পিসি ও এপিসি মর্যাদার আনসার থাকবেন দুজন। লাঠিসহ অঙ্গীভূত আনসার-ভিডিপি সদস্য থাকবেন ১৫ জন। তাদের মধ্যে নারী থাকবেন ৭ জন। বাকি ৮ জন পুরুষ।

পুলিশ, এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে গঠিত একটি মোবাইল ফোর্স প্রতি ইউনিয়নে আর স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে প্রতি তিন ইউনিয়নে একটি।
প্রতি উপজেলায় র‌্যাবের মোবাইল টিম থাকবে দুটি আর স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে একটি। প্রতি উপজেলায় বিজিবির মোবাইল টিম থাকবে দুই প্লাটুন। স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে এক প্লাটুন।

প্রতিটি উপকূলীয় উপজেলায় কোস্ট গার্ডের মোবাইল ফোর্স দুই প্লাটুন এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে এক প্লাটুন।

ভোটের আগের দুই দিন, ভোটের দিন ও পরের দিন মিলে চার দিন মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই পদ্ধতিতে প্রতি উপজেলায় ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন তিনজন। আর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন একজন।

শেয়ার করুন

মিলন উৎসবে মাতলেন জাবি বিসিএস ক্যাডাররা

মিলন উৎসবে মাতলেন জাবি বিসিএস ক্যাডাররা

শুক্রবার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বিসিএস অফিসার্স ফোরাম। ছবি: সংগৃহীত

ডিএমপি মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার মো. আ. আহাদ বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে দেশ পরিচালনায় জুবফের প্রতিটি সদস্য প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকবে।'

অনন্য এক মিলন উৎসবে মাতলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিসিএস ক্যাডাররা।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় শুক্রবার।

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বিসিএস অফিসার্স ফোরাম (জুবফ)।

আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম।

অনুষ্ঠান শুরুর আগেই কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট পরিণত হয় জুবফ সদস্যদের প্রাণের মেলায়। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিসে জাবির যে গ্র্যাজুয়েটরা যোগ দিয়েছেন তাদের পেশাজীবী সংগঠন জুবফ। ভেন্যু প্রাঙ্গণে স্থাপিত বিভিন্ন স্টলে জুবফ সদস্যরা ছোট ছোট গ্রুপে আড্ডার মাধ্যমে পিঠা, ফুচকা ও অন্যান্য মজাদার খাবার খেতে খেতে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণ করেন।

ক্যাম্পাসের স্থাপনার আদলে নির্মিত দুটি ফটো বুথে ছবি তুলতে গিয়ে অনেকেই যেন ফিরে যান ছাত্রজীবনে।

মূল আয়োজন শুরু হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায়। বাংলাদেশ পুলিশ নাট্যদল মঞ্চস্থ করে তাদের প্রযোজিত নাটক ‘অভিশপ্ত আগস্ট’। নাটকটি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের মূল মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয়। এর মধ্য দিয়ে উপস্থিত হাজারখানেক জুবফ সদস্য পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের ঘটনাবলী ও তার পটভূমি অবলোকন করেন।

নাট্য পরিবেশনার পর শুরু হয় আলোচনা সভা। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জুবফ সাধারণ সম্পাদক ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার মো. আ. আহাদ। তিনি জুবফ গঠনের ইতিহাস, তাৎপর্য ও লক্ষ্য তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে সঠিকভাবে দেশ পরিচালনায় ফোরামের প্রতিটি সদস্য প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকবে।

জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন দেশের বাইরে থাকায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। জাবির এই সাবেক শিক্ষার্থী একটি লিখিত বক্তব্য মেইল করে পাঠান। পরে তার পক্ষে সেটি পাঠ করা হয়।

পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম তার বক্তব্যে তার ক্যাম্পাস জীবনের স্মৃতিচারণ করেন ও বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জুবফের সফলতা কামনা করেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে শেখ হাসিনার নির্দেশনায় দেশ সেবায় নিয়োজিত থাকায় তিনি সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানান।

সভায় অন্যদের মধ্যে জুবফ সভাপতি সাবেক সচিব মনোয়ার আহমেদ, সাবেক সচিব ও জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন প্রস্তুতি উপ-কমিটির আহবায়ক মো. তাহিয়াত হোসেনসহ সংগঠনটির নেতারা বক্তব্য দেন।

শেয়ার করুন

‘ক্ষোভে’ প্রার্থী হলেন ভিক্ষুক মুনসুর

‘ক্ষোভে’ প্রার্থী হলেন ভিক্ষুক মুনসুর

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ২ নম্বর বৈলর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল মুনসুর। ছবি: নিউজবাংলা

ভিক্ষুক হয়েও চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় অবশ্য মুনসুরকে নিয়ে অনেকেই হাসি ঠাট্টা করছেন। লোকজন না থাকায় নিজেই সাটাচ্ছেন পোস্টার। একা একাই ভোট চাচ্ছেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ২ নম্বর বৈলর ইউনিয়নের আবুল মুনসুর পরিচিত ভিক্ষুক হিসেবে। অভাব-অনটনের মধ্যে জীবন কাটলেও এবার তিনিই নেমেছেন ভোট যুদ্ধে। নিজের ইউনিয়নে হয়েছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী।

স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাচনে পাস করতে প্রার্থীরা বিভিন্ন মিথ্যা আশ্বাস দেন, তবে পাস করার পর তারা আর জনগণের খোঁজ রাখেন না। আবুল মুনসুরও বিভিন্ন নির্বাচনে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে মুক্ত করার আশ্বাস পেয়েছেন প্রার্থীদের কাছ থেকে, তবে কখনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা তার খোঁজ নেননি। ভিক্ষাবৃত্তি নিরসনে সহযোগিতা করেননি। সেই ক্ষোভ থেকে এবার নিজেই চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন।

ভিক্ষুক হয়েও চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় অবশ্য মুনসুরকে নিয়ে অনেকেই হাসি ঠাট্টা করছেন। লোকজন না থাকায় নিজেই সাটাচ্ছেন পোস্টার। একা একাই ভোট চাচ্ছেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে।

২ নম্বর বৈলর ইউনিয়নের জালাল উদ্দিন নামে এক প্রবীণ বলেন, ‘আবুল মুনসুর ভিক্ষুক হলেও তিনি সবার সঙ্গে গুছিয়ে কথা বলতে পারেন। তার মন মানসিকতাও খুব ভালো। তবে টাকা নেই বলে হাতেগোনা কয়েকজন তাকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিলেও ভোট চাওয়ার সময় কেউ তার সঙ্গে থাকছেন না।

ফয়জুর রহমান নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আসলে তিনি (মুনসুর) ভিক্ষুক বলে অনেকে লজ্জায় তাকে সমর্থন দিচ্ছে না। তিনি কথা দিয়েছেন, নির্বাচনে জয়ী হলে ইউনিয়নের ভিক্ষুকদের উন্নয়নে কাজ করবেন। ভিক্ষাবৃত্তি নিরসন করবেন। এ ছাড়া ইউনিয়নকে দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত করতে কাজ করবেন।’

চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল মুনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে চশমা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোট চাওয়ার সময় ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। তবে আমার টাকা নেই বলে আমার সঙ্গে ভোট চাইতে কেউ যাচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাত পোহালেই ভোট। নির্বাচন যদি সুষ্ঠু হয়, তাহলে নীরব ভোটের মাধ্যমে বিপুল ভোটে জয় লাভ করব।’

তৃতীয় দফায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ময়মনসিংহের তিনটি উপজেলার ২৭টি ইউনিয়নে ভোট রোববার। এসব ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৪৯ জন।

শেয়ার করুন

নারী নির্যাতন নির্মূল না হওয়ায় আক্ষেপ পরিকল্পনামন্ত্রীর

নারী নির্যাতন নির্মূল না হওয়ায় আক্ষেপ পরিকল্পনামন্ত্রীর

শনিবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

সুলতানা কামাল বলেন, 'দেশে নারীর ক্ষমতায়ন হলেও নারীর সম অবস্থান তৈরি হয়নি। অসাম্প্রদায়িক, নির্যাতনমুক্ত, সহিংসতাহীন, সভ্য, সব মানুষের জন্য সমমর্যাদার দেশ গড়ে তুলতে আমাদের মিলেমিশে কাজ করতে হবে।'

বহুমুখী প্রচেষ্টার পরও দেশে নারী নির্যাতন নির্মূল করতে না পারায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

মন্ত্রী বলেছেন, 'সমাজের সব নির্যাতন ও অন্যায় দূর করতে সামাজিকভাবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। অনেক চেষ্টার পরও দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা নির্মূলের মতো আমরা নারী নির্যাতন নির্মূল করতে পারিনি।

‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারী অধিকারসহ এসব বিষয়ে অনেক কাজ করতে চান। কিন্তু নানা ধরনের বাধা ও প্রতিকূলতায় সঠিকভাবে কাজগুলো হচ্ছে না। বাস্তবতা মেনে নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে।’

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতীয় সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন। পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট ‘আমরাই পারি’ এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

জোটের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল বলেন, ‘দেশে নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে কিন্তু নারীর সম অবস্থান এখনও তৈরি হয়নি। একটি অসাম্প্রদায়িক, নির্যাতনমুক্ত, সহিংসতাহীন, সভ্য, সব মানুষের জন্য সমমর্যাদার দেশ গড়ে তুলতে আমাদের মিলেমিশে কাজ করতে হবে।’

সম্মেলন সঞ্চালনা করেন আমরাই পারি জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক।

সম্মেলনে অক্সফামের হেড অফ জেন্ডার জাস্টিস এন্ড সোশ্যাল ইনক্লুশেন মাহমুদা সুলতানা, জোটের কো-চেয়ারপারসন শাহীন আনাম, সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্তসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

আলোচকরা বলেন, স্বাধীন দেশে একটি নির্যাতনমুক্ত পরিবেশ আমরা কামনা করতেই পারি। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরও দেশে নারী নির্যাতনের পরিসংখ্যান আমাদের লজ্জিত করে। আমরা যদি নিজেদের পরিবর্তন না আনি তাহলে পুলিশ বা আইন দিয়ে কোন কিছুর পরিবর্তন সম্ভব নয়।

নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠা, নারী-শিশুদের জন্য নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান জোট নেতারা।

শেয়ার করুন

বিনিয়োগ সম্মেলন শুরু রোববার

বিনিয়োগ সম্মেলন শুরু রোববার

শনিবার বিডা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সালমান এফ রহমান। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, দেশে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ গত কয়েক বছর ধরেই ৩০-৩১ শতাংশে আটকে আছে। এই অনুপাত ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) আকারের তুলনায় দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ কম। এটা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিতে সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে। এর অংশ হিসাবে লাভজনক বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে রোববার ঢাকায় শুরু হচ্ছে দু’দিনের বিনিয়োগ সম্মেলন।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিনিয়োগ সম্মেলন সামনে রেখে শনিবার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সালমান এফ রহমান বক্তব্য দেন। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকার রেডিসন হোটেলে ২৮ ও ২৯ নভেম্বর দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন-২০২১ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। এর আগে ২০১৬ সালে ঢাকায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

দেশে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ গত কয়েক বছর ধরেই ৩০-৩১ শতাংশে আটকে আছে। অবশ্য করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে দেশের সার্বিক বিনিয়োগের সঙ্গে জিডিপির অনুপাত ২৯ দশমিক ৯২ শতাংশে নেমে আছে। এই অনুপাত ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আমাদের গ্রাজুয়েশন (উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ) পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এজন্য দেশের বিভিন্ন সম্ভাবানময় খাত সামনে রেখে আমরা বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নিয়েছি। বিডার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন করছি। আমেরিকার চারটি শহরে ও দুবাইয়ে আমরা বিনিয়োগ বিষয়ক রোড-শো করেছি। প্যারিস, সৌদি আরব থেকে বিনিয়োগ আনতে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এর সুফলও আমরা পাচ্ছি। বিডাতে বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা যোগাযোগ করছেন।

‘আগে জাপান, কোরিয়া, চীনসহ অল্প কয়েকটি দেশ থেকে আমাদের বিনিয়োগ আসত। এখন অনেক নতুন নতুন দেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে। ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি দেশ বিনিয়োগ করতে চাইছে। দেশি বিনিয়োগও বাড়ছে।’

করোনার নতুন ধরনের (ভ্যারিয়েন্ট) কারণে বিনিয়োগ সম্মেলনের কোনো প্রভাব পড়বে কীনা এমন প্রশ্নে এফ রহমান বলেন, খুব একটা প্রভাব পড়বে না। কারণ ইতোমধ্যে অনেক অতিথি চলে এসেছেন। সৌদি সরকারের মন্ত্রী পর্যায়ের একটি বড় প্রতিনিধিদল এসেছে। অনেকেই ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন। তবে নতুন ভ্যারিয়েস্টের প্রকোপ আরও ৮-১০ দিন আগে দেখা দিলে সম্মেলনে সরাসরি অংশগ্রহণ হয়তো আমরা বন্ধ করতাম।’

বর্তমানে দেশের অর্থনীতির আকার (জিডিপি) ৪০৯ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৫ লাখ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৮৪ কোটি ৭০ লাখ ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে।

বিডা জানায়, বিনিয়োগ সম্মেলনে মূলত দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ, অর্থনৈতিক অঞ্চল, সমুদ্র অর্থনীতি খাতে বিনিয়োগ উপযোগিতা তুলে ধরা হবে। এছাড়া বিভিন্ন সেশনে স্বাস্থ্য ও ওষুধ শিল্প, পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খাত, শেয়ার বাজার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, অবকাঠামো, আর্থিক সেবা, কৃষি বাণিজ্য, তৈরি পোশাক, তথ্য-প্রযুক্তি, ইলেক্ট্রিক্যাল পণ্য তৈরিসহ ১৪টি খাত নিয়ে নির্দিষ্ট আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ৫০০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪৩ লাখ কোটি অর্থনীতির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকসহ (এআইআইবি) বৈশ্বিক অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা এই সম্মেলনে অংশ নেবেন।

প্রতিটি সেশনে একজন বিশেষজ্ঞ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরা আলোচনা করবেন। সংশ্লিষ্ট খাতের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন।

শেয়ার করুন

মেয়র আব্বাসের উত্থান যেভাবে

মেয়র আব্বাসের উত্থান যেভাবে

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী। ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানান, ২০০২ সালের পর আব্বাস আলী যুবলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ওঠাবসা শুরু করেন। এর তিন বছরের মাথায় তিনি মহানগর যুবলীগের সহসভাপতি পদ পেয়ে যান। এর পর থেকে তিনি রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে থাকেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে তিনি উপরে উঠে আসেন।

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলা রাজশাহীর কাটাখালীর নৌকার মেয়র আব্বাস আলীকে দলে অনুপ্রবেশকারী বলেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা। তার রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের ভূমিকা আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে আব্বাসকে নৌকা প্রতীক দিতে সুপারিশ করেছিলেন তারা।

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ইস্যু নিয়ে সমালোচনা শুরু হওয়ার পর ওই সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন এখন আব্বাসের শাস্তি দাবি করছেন। আর আব্বাস বলছেন, তিনি বিপদে পড়েছেন, এ জন্য তাকে ঘিরে অপপ্রচার চলছে। তিনি দলে সব সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিই করেছেন।

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ২০০২ সালের পর আব্বাস আলী যুবলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ওঠাবসা শুরু করেন। এর তিন বছরের মাথায় তিনি মহানগর যুবলীগের সহসভাপতি পদ পেয়ে যান। এর পর থেকে তিনি রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে থাকেন। দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বিরোধে। এরই জেরে ২০০৭ সালে তিনি যুবলীগের সহসভাপতি পদ থেকে বহিষ্কৃত হন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মেরাজউদ্দিন মোল্লা। আব্বাস তার সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করেন এবং কাটাখালী এলাকায় নিজের আধিপত্য পাকাপোক্ত করেন। গড়ে তোলেন নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী। পশুর হাটের ইজারাসহ শ্যামপুর বালু মহাল দখলের অভিযোগ ওঠে তার বিরদ্ধে।

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান আয়েন উদ্দিন। তখন মেরাজ উদ্দিন মোল্লা হন বিদ্রোহী প্রার্থী। নৌকার প্রার্থী আয়েন উদ্দিনের বিপক্ষে মাঠে ছিলেন আব্বাস ও তার সমর্থকরা। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়ায় আব্বাস বাহিনী।

নির্বাচনে আয়েন উদ্দিন বিজয়ী হলে আব্বাস আবার তার অবস্থান পাল্টান। এমপি আয়েনও তাকে কাছে টেনে নেন নিজের অবস্থান শক্ত করার আশায়। ফলে এমপি বদল হলেও আব্বাসের আধিপত্য থেকেই যায়। এর সুবাদে দলে কোনো পদে না থাকলেও ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর কাটাখালী পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে যান আব্বাস আলী। মেয়র হওয়ার পর তার প্রতাপ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হয় আব্বাসের। এই সময়ে তার বেপরোয়া আচরণে ক্ষুব্ধ হলেও ত্যাগী নেতা-কর্মীরা হয়ে যান নিরুপায়।

মেয়র নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পর ২০১৮ সালে কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটি (আহ্বায়ক কমিটি) দেয়া হয়। এই কমিটির আহ্বায়ক হন আব্বাস।

২০২০ সালের পৌরসভা নির্বাচনে একটি বড় অংশ তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। মেয়র আব্বাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। কিন্তু সুবিধা করতে পারেননি তারা। সেবারও আওয়ামী লীগের টিকিট পান মেয়র আব্বাস। দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়ে আব্বাস হয়ে যান লাগামহীন। নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও তিনি থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

পৌরসভা ভবনে শুক্রবার প্রতিবাদ সভায় কাউন্সিলররা মেয়র আব্বাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মঞ্জুর রহমান বলেন, ‘রাজস্ব আদায় বাবদ পৌরসভার ফান্ডে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ছিল। অথচ এখন চা খাওয়ার টাকাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হঠাৎ করে পৌর ফান্ডের টাকা গায়েব হয়ে গেছে। বিষয়টি আমি দ্রুত তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘করোনাকালীন অনুদান দেয়ার জন্য কাটাখালী বাজারের কাপড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করেন মেয়র আব্বাস। কিন্তু সে টাকা কাউকে দেয়া হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই।

‘কারোনাকালে চা দোকানদারদের অনুদান দেয়ার নামে কয়েক লাখ টাকা পৌরসভার ফান্ড থেকে হাতিয়ে নেন মেয়র। কিন্তু কোনো চায়ের দোকানদার করোনাকালে অনুদান পাননি।’

৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মজিদ জানান, পৌরসভার কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৩৬ মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া আছে। ফান্ডে টাকা থাকার পরও মেয়র আব্বাস এই বেতন-ভাতা দেননি। তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জোর করে বিভিন্ন কাগজে সই করতে বাধ্য করেন। কেউ সই না করলে তাকে চাকরিচ্যুতিসহ নানা হুমকি দেন।

তিনি বলেন, ‘প্রতিবাদ করলে কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গালিগালাজ করতেন মেয়র। আত্মীয়-স্বজনদের নামে ঠিকাদারী লাইসেন্স করে নগর অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ মেয়র নিজে করতেন। আত্মীয়-স্বজনদের নামে হাট-ঘাট ও যানবাহনের টোল আদায়ের ইজারা নিয়েছেন। এসব টোল আদায়ের নামে নিজের লোকজন দিয়ে চাঁদাবাজি করেন।’

পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন বলেন, ‘মেয়র ভোটের পর থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের কারও সঙ্গে চলেন না। তার সঙ্গে থাকেন বিএনপি নেতারা। কৃষি প্রণোদনাও পায় বিএনপি নেতারা। তার আপন ভাই বিএনপি করে। অন্য এক পক্ষের ভাই করে জাতীয় পার্টি।’

কাঁটাখালি পৌরসভার যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জনি ইসলাম বলেন, ‘মেয়র বিভিন্ন জায়গা দখল করেছেন। স্কুলের জমি দখল করে তার বাড়ি যাওয়ার রাস্তা তৈরি করছেন। জমি দখল করে তার বাবার নামে স্কুল করেছেন। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার দোকানদারদের হয়রানি করে চাঁদাবজি করেছেন। সরকারি খাল দখল করে মার্কেট নির্মাণ করেছেন।’

মেয়র আব্বাসের উত্থান যেভাবে
শুক্রবার ফেসবুক লাইভে এসে কাঁদেন রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী

কাটাখালি পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোত্তালেব বলেন, ‘মেয়রের অপকর্মের শেষ নেই। একেবারে জিরো থেকে হিরো। প্রথম মেয়র হওয়ার সময় তেমন টাকা ছিল না, অথচ এখন এখন তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক।’

তিনি বলেন, ‘৯০ সালের দিকে তিনি (আব্বাস) জাতীয়তাবাদী তরুণ দল করতেন। তারপর তিনি জাতীয় পার্টি করতেন। গোপনে গোপনে জামায়াতের সঙ্গে তার আঁতাত ছিল। তার প্রমাণ হচ্ছে ২০১১ সালের নির্বাচনে দলীয় নির্দেশ উপেক্ষা করে বিদ্রোহী হওয়া। ওই নির্বাচনে তিনি নিজেও হারেন, দলীয় প্রার্থীকেও হারান। জিতে যান জামায়াতের নেতা।’

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারের কাছে বৃহস্পতিবার আব্বাসের উত্থান প্রসঙ্গে জানতে চান সংবাদ কর্মীরা। এ সময় তিনি জানান, তাকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়নপত্র দেয়ার দায়িত্ব আসলে মহানগর আওয়ামী লীগের নয়। এটি কেন্দ্রীয় কমিটি যাচাই-বাছাই করে দেয়। এখানে জেলা আওয়ামী লীগের হয়তো সুপারিশ থাকে। এভাবে হয়তো সুপারিশের ভিত্তিতে নৌকা পেয়ে থাকতে পারেন।

ডাবলু সরকার বলেন, ‘আমরা জানি, আব্বাসের পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার এক ভাই হত্যা মামলার আসামি। তার ভাই যুবদল করে। আমাদের বুঝতে দেরি হয়েছে, তিনি একজন অনুপ্রবেশকারী।’

কার ছত্রছায়ায় তিনি আওয়ামী লীগে প্রবেশ করলেন, দলীয় মনোনয়ন পেলেন, সে বিষয়ে তদন্ত হবে বলেও জানান ডাবলু সরকার।

জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল কুমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউজবাংলাকে জানান, ওই সময় কে বা কারা তাকে দলে ঢোকাল, কার সুপারিশে আব্বাস আলী নৌকার মনোনয়ন পেল, এটা তারও প্রশ্ন। তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ওই সময়ের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই সময়ে পৌর আওয়ামী লীগ এবং থানা আওয়ামী লীগের রেজুলেশনে মনোনয়নের জন্য চার জনের নামের তালিকা দেয়া হয়েছিল। তার মধ্যে আব্বাসের নাম এক নম্বরে দিয়েছিল তারা। আমি আর জেলা সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সম্পাদক, কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক বসেছিলাম।

‘তখন এমপি আয়েন উদ্দিন বলল, আব্বাসকে দিলে আমরা জিততে পারব। প্রস্তাবিত চার জনের নামই আমরা পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। সেখান থেকেই তাকে মনোনয়োন দেয়া হয়েছে। কেন্দ্র থেকেই তাকে দেয়া হয়েছে। আমাদের কাছে যে প্রস্তাব এসেছিল সেই প্রস্তাবগুলো আমার শুধু বাহক হিসেবে পৌঁছে দিয়েছি কেন্দ্রে।’

মেয়র আব্বাস আলীর উত্থানের জন্য অনেকে দায়ী করেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আয়েন উদ্দিনের ভূমিকার। তবে আব্বাসের অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সংবাদ সম্মেলন করে তার শাস্তির দাবি করেন এমপি আয়েন।

দলে তার অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা তো অনেক সময় বুঝতে পারি না। যদি বুঝতেই পারতাম...তাহলে জাতির পিতাকে হারাইতাম না। খন্দকার মোশতাকের অনুসারীরা অনেক সময় অনেক ঘটনা ঘটায়। সেটি শুধু দলের নয়, দেশের জন্য অত্যন্ত লজ্জা ও দুঃখজনক ঘটনা।’

আয়েন বলেন, ‘এটাও সত্য তার (আব্বাস) ভাই যুবদল করত। সে অন্য দলের সঙ্গে জড়িত ছিল। আপনারা নিশ্চই জানেন, এক ভাই বিএনপি করে, এক ভাই আওয়ামী লীগ করে - এটি দেশের অনেক জায়গাতেই আছে। সংসদ সদস্য নির্বাচনে রহিম ভরসা, করিম ভরসার মতো দুই ভাই দু দলের হিসেবে কাজ করেন। আমাদের দলের নেতাকর্মীরা হয়তো সেটি মনে করেছে।’

অভিযোগের বিষয়ে মেয়র আব্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পৌরসভার ফান্ড থেকে টাকা নেয়ার প্রশ্নই আসে না। অনুপ্রবেশকারী নয়, আমি শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছি। এখন আমাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে।’

শেয়ার করুন