গ্লাসগোর পথে প্রধানমন্ত্রী

গ্লাসগোর পথে প্রধানমন্ত্রী

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান মন্ত্রিসভার সদস্যরা। ফাইল ছবি

বৈশ্বিক করোনা মহামারির মধ্যে এটি প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় বিদেশ সফর। এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন তিনি। আর ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের পর যুক্তরাজ্যে এটাই হবে তার প্রথম সফর।

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জের মুখে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীকে বাঁচানোর রূপরেখা নিয়ে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোর উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশের একটি বিশেষ ফ্লাইটে রোববার সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে ১৫ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা ছাড়েন সরকারপ্রধান।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান মন্ত্রিসভার সদস্যরা।

বৈশ্বিক করোনা মহামারির মধ্যে এটি প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় বিদেশ সফর। এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন তিনি। আর ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের পর যুক্তরাজ্যে এটাই হবে তার প্রথম সফর।

সফরকালে সোম ও মঙ্গলবার কপ-২৬-এর ওয়ার্ল্ড লিডার্স সামিটে অংশ নেবেন শেখ হাসিনা।

শীর্ষ সম্মেলনসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। ১ নভেম্বর কপ-২৬-এর শীর্ষ বৈঠকে ভাষণ দেবেন তিনি। একই দিন সিভিএফ কমনওয়েলথের একটি যৌথ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবেও অংশ নেবেন শেখ হাসিনা।

১ নভেম্বর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে অ্যাকশন অ্যান্ড সলিডারিটি দ্য ক্রিটিকাল ডিকেইড শীর্ষক একটি সভায় অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। ২ নভেম্বর ওম্যান অ্যান্ড ক্লাইমেট শীর্ষক সভায় অংশ নেবেন তিনি।

গ্লাসগোতে অবস্থানকালে স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্যদের উদ্দেশে ‘আ কল ফর ক্লাইমেট প্রোসপারিটি’ শীর্ষক বক্তব্য দেবেন শেখ হাসিনা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার পাশাপাশি তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, প্রিন্স অফ ওয়েলস ও শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টসহ আরও কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে তার।

বুধবার স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো ছেড়ে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

এ সময় তিনি শহরের ওয়েস্ট মিনস্টার প্যালেসে দেশটির সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন ও বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের বিনিয়োগ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

ইউনেসকোর সাধারণ সম্মেলনে অংশ নিতে ৯ নভেম্বর লন্ডন থেকে প্যারিসের উদ্দেশে রওনা হবেন সরকারপ্রধান।

ইউনেসকোর সাধারণ সম্মেলনে অংশ নেয়ার পাশাপাশি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তিনি। বেশ কিছু ফরাসি প্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ এমইডিএইএফএর প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের সময় বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক ও লেটার অফ ইনটেন্ট সই হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী ১২ নভেম্বর ইউনেসকোর ৭৫তম বার্ষিকী উদযাপনে উচ্চপর্যায়ের সভায় যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এতে বঙ্গবন্ধুর বিশ্বজনীন আদর্শ তুলে ধরার পাশাপাশি জাতিসংঘের টেকসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘প্যারিসের এনগেজমেন্টটা খুব এক্সটেনসিভ। সেখানে তিনটি স্থানে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অফ অনার প্রদান করা হবে। ফ্রান্সের অনেক কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী, আমরাও সেখানে রপ্তানি করতে চাই। এয়ারবাসের সঙ্গে সেখানে বৈঠক আছে, এভিয়েশনের সঙ্গে বৈঠক আছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রভাবশালী দেশ ফ্রান্স। ইউরোপে পরিবর্তনের ফলে নতুন করে ইইউ গঠিত হওয়ার পরে এটিই প্রথম সফর।’

সফরকালে বঙ্গবন্ধুর নামে ঘোষিত ইউনেসকো পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে তুলে দিতে পারেন বলেও জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

১৩ নভেম্বর প্যারিস হতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন শেখ হাসিনা। ১৪ নভেম্বর সকাল ১০টায় তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। সেদিন বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনেও অংশ নেবেন তিনি।

ইউরোপের বিনিয়োগে চোখ

প্রধানমন্ত্রীর ইউরোপ সফরে ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আশা করছে ঢাকা। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে বিনিয়োগের বিষয়টি তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা সব দেশের সঙ্গেই আমাদের সম্পর্ক মজবুত করছি। আপনারা খেয়াল করবেন, আমরা যখন মুজিব চিরন্তন করলাম। প্রতিটি দেশই বাংলাদেশের লিডারশিপের ওপর আস্থা দেখিয়েছে। এ জন্য দেখিয়েছে যে আমাদের গত ১২ বছরের অর্জন অভাবনীয়।

‘এ অবস্থায় আমরা সম্পর্কগুলো আরও মজবুত করতে চাই। একটি বড় লক্ষ্য আমাদের, আমরা দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চাই। আমাদের দেশে বিনিয়োগের জন্য সব আছে। আমরা এটাতে খুব জোর দিচ্ছি। আমরা বাংলাদেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব বানাতে চাই।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ জন্য প্রধানমন্ত্রী যেখানেই যাচ্ছেন ব্যবসায়ীদের আহ্বান করছেন বিনিয়োগের জন্য। আগেও আমরা যখন ফ্রান্সে গিয়েছিলাম, যথেষ্ট আকর্ষণ দেখা গিয়েছিল। তাদের অনেক কোম্পানি সারা বিশ্বে বিনিয়োগ করে। বাংলাদেশও তাদের বিনিয়োগের জায়গা হতে পারে। ফ্রান্সে সরাসরি ফ্লাইট নাই। আমরা এটা নিয়েও আলাপ করব। আশা করছি, আমরা এটা পেয়ে যাব।

‘এই যে তিনি স্কটল্যান্ডে কমিউনিটির সঙ্গে আলাপ করবেন, সেখানেও ব্যবসার কথা উঠবে। লন্ডনে বিপুল ব্যবসায়ী অনুষ্ঠান হচ্ছে। আমাদের অনেক ব্যবসায়ী সেখানে যাচ্ছেন।’

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক ঝালাই

প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্য সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে যে বৈঠক করবেন তাতে পুরোনো সম্পর্ক ঝালাইয়ে জোর থাকবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আমাদের অনেক ভালো সম্পর্ক। বহু দ্বিপক্ষীয় ও মাল্টিলেটারেল আলোচনা অনগোয়িং।

‘আমাদের একটি বড় বিষয় হচ্ছে, আমরা স্বল্প আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে মুভ করেছি। এতে বিভিন্ন সুবিধা যেটা আমরা পাই, এটা যদি ধরে রাখতে চাই…এরই মধ্যে ইউএনের সঙ্গে আলাপ করে ২০২৯ সাল পর্যন্ত আমরা এটা নির্ধারিত করেছি। আমরা আরও চাই। এই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আলাপ করব।’

আব্দুল মোমেন বলেন, ‘ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আমাদের অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্ক রয়েছে। আমরা নিরাপত্তার বিষয়েও কথা বলছি সাম্প্রতিককালে। আগে যেগুলো আলোচনা হয়েছিল, সেগুলো আবার ঝালাই করা হবে। প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনা হলে এটি হবে হাইট অফ দ্য ডায়ালগ।’

আরও পড়ুন:
পৃথিবী বাঁচানোর রূপরেখা নিয়ে ইউরোপ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
‘আয়েশি ভাব বাদ দিয়ে, করোনা ঠেকাতে সতর্ক হোন’
আমরা বিজয়ী জাতি, মাথা উঁচু করে চলব: প্রধানমন্ত্রী
বাণিজ্যে প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সেতু হবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
ক্ষুধা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া চান প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মামলা ৯০ দিনে শেষ করার নির্দেশ

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মামলা ৯০ দিনে শেষ করার নির্দেশ

সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'দেশের সব অধস্তন ফৌজদারি আদালত ও ট্রাইব্যুনালে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের মামলার অভিযোগপত্র বিচারিক আদালতে প্রাপ্তির ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে আবশ্যিকভাবে নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেয়া হলো।'

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অভিযোগে হওয়া মামলা ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

দেশের সর্বোচ্চ আদালত বুধবার এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আলী আকবর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের সব অধস্তন ফৌজদারি আদালত ও ট্রাইব্যুনালে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের মামলার অভিযোগপত্র বিচারিক আদালতে প্রাপ্তির ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে আবশ্যিকভাবে নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেয়া হলো।

ওই সময়সীমার মধ্যে মামলা নিষ্পত্তিতে ব্যর্থ হলে কারণ উল্লেখপূর্বক ব্যাখ্যা সুপ্রিম কোর্টে পাঠাতে নির্দেশ দেয়া হলো। এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন:
পৃথিবী বাঁচানোর রূপরেখা নিয়ে ইউরোপ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
‘আয়েশি ভাব বাদ দিয়ে, করোনা ঠেকাতে সতর্ক হোন’
আমরা বিজয়ী জাতি, মাথা উঁচু করে চলব: প্রধানমন্ত্রী
বাণিজ্যে প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সেতু হবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
ক্ষুধা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া চান প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ভার্চুয়াল কোর্টেই মুক্তি: প্রধান বিচারপতি

ভার্চুয়াল কোর্টেই মুক্তি: প্রধান বিচারপতি

সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে বুধবার ডিজিটাল আর্কাইভিং এবং ই-ফাইলিং ব্যবস্থাপনার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন (বামে প্রথম)। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘২০০৭ সালে জুডিশিয়ারি পৃথক হয়েছে। এখনও সব জায়গায় ভবন হয়নি। আমরা বিচারক দুই-তিন গুণ করব। তাদেরকে কোথায় বসাব? একমাত্র ভার্চুয়াল কোর্ট যদি প্রবর্তন করা যায় তাহলে বিচারকের বাসায় থেকে, আইনজীবীদের ভালোভাবে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। তাহলে অচিরেই আমরা মামলার জট থেকে মুক্তি পেতে পারব। তা ছাড়া মামলার জট থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন ব্যাপার।’

‘আমাদের মুক্তি হলো ভার্চুয়াল কোর্টে। ই-জুডিশিয়ারি ও ই-ফাইলিং চালু হলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে মামলার জট থাকবে না।’

সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে বুধবার ডিজিটাল আর্কাইভিং এবং ই-ফাইলিং ব্যবস্থাপনার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

মামলার জট কমাতে ভার্চুয়াল কোর্টের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০২০ সালের ৫ এপ্রিল আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম, আমরা জজ সাহেবরা ১০ লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রীর ফান্ডে দেয়ার জন্য। প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে টাকাটা দিয়ে বললাম, কোর্ট তো ফাংশন করছে না। সারা পৃথিবীতে কোর্ট চলছে। বাংলাদেশে শুধু কোর্ট চলছে না। তখন প্রধানমন্ত্রী আমাকে বললেন, ‘ভার্চুয়াল কোর্ট করেন।’ ভার্চুয়াল কোর্টের আইন করা যে কত কঠিন!

‘সেই আইন আমরা স্বল্পতম সময়ের মধ্যে করেছি। এ জন্য আমি মাননীয় আইনমন্ত্রী, বিচারপতি ইমান আলী ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে ধন্যবাদ দেব। আমরা সকলে বসে ভালো করে দেখেছি। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে তার পরে আমরা আইনটা করেছি।’

সে সময়কার ঘটনা বর্ণনা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, “তারপরে দেখা গেল মন্ত্রিসভা বৈঠক আর হচ্ছে না। তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আবার অনুরোধ করা হলো। পরে তিনি তিনজন মন্ত্রীকে দিয়ে গণভবনে মন্ত্রিসভার মিটিং করে আমাদের আইনের জন্য যে অর্ডিন্যান্স, সেটা পাস করেছেন। সুতরাং এত স্বল্পতম সময়ে এবং পরে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘যেই দিন আমার কাছে আসবে সেই দিন সাথে সাথে সই করে দিব।’ সুতরাং এই স্বল্পতম সময়ে এ আইনটা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় আইনমন্ত্রীর কাছে আমি চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকব।

“কারণ বিচারব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল। তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, জেলখানা আমার পক্ষে কন্ট্রোল করা সম্ভব হচ্ছে না। কিছু একটা করেন। এখন আইনজীবীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা কোর্টে যাবেন না। তারপরে ভার্চুয়াল কোর্ট হওয়ার পরে এক লাখ লোকের জামিন হয়েছে ভার্চুয়াল কোর্ট থেকে।”

তিনি বলেন, ‘প্রথম আমাদের একটা মিসটেক ছিল; ইউএনডিপির হেল্প নিয়েছি। ইউএনডিপির রিসোর্স লিমিটেড। আর সরকারের রিসোর্স হচ্ছে আনলিমিটেড। ইউএনডিপির রিসোর্স দিয়ে জাজদের অ্যাপ দিতে পারি নাই। সব কোর্ট কাজ করতে পারে নাই। লজিস্টিকের এত অভাব ছিল।

‘এমনকি নিম্ন আদালতে তারা ফ্রি অ্যাপ দিয়ে কাজ করেছে। নিম্ন আদালতের জাজদের আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ দিব। তারা তখন ফ্রি অ্যাপের মাধ্যমে কাজ করেছে।’

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “তারপর আমি দেখলাম এটা তো সমাধান হতে পারে না। কারণ এই প্যানডেমিক কত দিন চলবে তার কোনো ঠিক নাই। আমি আবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করি। প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, ‘আপনি তো ভার্চুয়াল কোর্ট করে দিয়েছেন। এখন তো ভার্চুয়াল কোর্ট ভালোভাবে চলছে না লজিস্টিকের অভাবে।’ তখন প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘এটা তো আমাকে প্রথমেই বলা উচিত ছিল। আপনার কত টাকার প্রয়োজন?’

“আমি বললাম আপাতত ১০ কোটি টাকা দিলে অ্যাপ-ট্যাপ এগুলা কিনব। তখন প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে কি কেউ ১০ কোটি টাকা চায়?’ আমি একটু লজ্জা পেলাম। তারপরে প্রধানমন্ত্রী মাননীয় আইসিটি প্রতিমন্ত্রীকে বললেন, ‘প্রধান বিচারপতি যা কিছু চাবে, সব তাৎক্ষণিক দিতে হবে।’ এরপর সাথে সাথে প্রতিমন্ত্রী সব দিয়েছেন। এরপর আমি সবকিছু চালু করতে পেরেছি। সুতরাং এটা আমার কাছে বেশি সাফল্য।”

তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে আরও বলেছিলাম, লাখ লাখ ফাইল আমাদের বারান্দায় পড়ে আছে। আমি একদিন আমাদের বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল, তখন তিনি বারের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তাকে নিয়ে দেখলাম লাখ লাখ ফাইল বারান্দায় পড়ে আছে। তারপর গেলাম ক্রিমিনাল সেকশনে। সেখানেও একই অবস্থা। এখান থেকে ফাইল খুঁজে বের করে কোর্টে দেয়াটা দুঃসাধ্য কাজ।

‘আমরা যদি এটা আর্কাইভ করে রাখতে পারি, এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। আমি আশা করি আমরা অচিরেই এটা করতে পারব। মাননীয় আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর প্রতি আমি বিশেষ কৃতজ্ঞ। তার সঙ্গে আমি দুইটি মিটিং করেছি। তিনি আমাদের ফুল সাপোর্ট দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, টাকা কোনো সমস্যা না। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে শুধু সুপ্রিম কোর্টের কাজ করার জন্য ২২০ কোটি টাকা দিয়েছে। যেখানে আমরা ভার্চুয়াল কোর্ট শুরু করেছি ১ লাখ ডলার দিয়ে, সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দিয়েছে ২২০ কোটি টাকা। এখানে হচ্ছে একটা ডেটা সেন্টার, যেটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে আমাদের সমস্ত কিছু থাকবে, এটার জন্য খরচ হবে ১৫০ কোটি টাকা।’

সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘মাননীয় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী ও আইসিটি উপদেষ্টা আমাদের যেইভাবে সাপোর্ট করেছেন, আমার চলে যাওয়ার সময় হয়েছে। আমি তাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ। একজন প্রধান বিচারপতির সময় কোর্ট বন্ধ থাকা, এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আমার জীবনে বোধ হয় কোনো ঘটনা ঘটেনি। সুতরাং আমি যে কোর্ট চালু রাখতে পেরেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় আইনমন্ত্রী, আইসিটি উপদেষ্টা, আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ।

‘আমি আর একটা কথা বলব, আমার উত্তরসূরি যে আসবেন, উনি এ কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবেন। এটাকে অনেক সামনে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের মুক্তি হলো ভার্চুয়াল কোর্টে। কারণ আমাদের বিচারক সংখ্যা দুই, তিন গুণ করা প্রয়োজন হবে। এখনও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিল্ডিং হয়নি সব জায়গায়।’

তিনি বলেন, ‘২০০৭ সালে জুডিশিয়ারি পৃথক হয়েছে। এখনও সব জায়গায় ভবন হয়নি। আমরা বিচারক দুই-তিন গুণ করব। তাদেরকে কোথায় বসাব? একমাত্র ভার্চুয়াল কোর্ট যদি প্রবর্তন করা যায় তাহলে বিচারকের বাসায় থেকে, আইনজীবীদের ভালোভাবে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। তাহলে অচিরেই আমরা মামলার জট থেকে মুক্তি পেতে পারব। তা ছাড়া মামলার জট থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন ব্যাপার। যেমন: অ্যাফিডেভিট সেকশনে আসতে হয়, চেষ্টা করা হবে আইনজীবীর চেম্বারে আইনজীবী এনআইডির সঙ্গে করেসপন্ড করে যদি করা যায়, তাহলে অ্যাফিডেভিট সেকশনে আসতে হবে না। এর ফলে ২৪ ঘণ্টা ফাইল করা যাবে।

‘ভারতে ২৪ ঘণ্টা ফাইল করা যাচ্ছে। আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে আমার যে উত্তরসূরি আসবে তিনি যদি এটা করেন, বিচার বিভাগে একটা বিপ্লব ঘটে যাবে। শুধু তাই নয়, এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স যে জায়গায় যাচ্ছে, শুধু মুখে কথা বলবেন, লেখা হয়ে যাবে; কষ্ট অনেক কমে যাবে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এমন জায়গায় যাবে যে জুডিশিয়ারিতে কোনো পেন্ডিং মামলা থাকবে না।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, আইন সচিব গোলাম সারোয়ার। এ সময় আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
পৃথিবী বাঁচানোর রূপরেখা নিয়ে ইউরোপ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
‘আয়েশি ভাব বাদ দিয়ে, করোনা ঠেকাতে সতর্ক হোন’
আমরা বিজয়ী জাতি, মাথা উঁচু করে চলব: প্রধানমন্ত্রী
বাণিজ্যে প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সেতু হবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
ক্ষুধা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া চান প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

বর্জ্য-বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ, চুক্তি সই

বর্জ্য-বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ, চুক্তি সই

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে পরিমাণ আবর্জনা প্রয়োজন হবে তা সরবরাহ করলে শহরে ময়লা ব্যবস্থাপনায়ও বড় একটি সংকটের সমাধান হবে। এই কেন্দ্রে পরিবেশের ভারসাম্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বহুল আলোচিত পরিবেশবান্ধব ‘বর্জ্য বিদ্যুৎ’ যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে জ্বালানি বিভাগ। এ লক্ষ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘আমিন বাজার ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র’ স্থাপন সংক্রান্ত এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এবং ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।

মন্ত্রী তাজুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, ইনসিনারেশন পদ্ধতি অর্থাৎ বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা প্রয়োজন হবে তা সরবরাহ করলে শহরে ময়লা ব্যবস্থাপনায়ও বড় একটি সংকটের সমাধান হবে।

‘এই কেন্দ্রে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। কার্যক্রম শুরু হওয়ার ১৮ মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে চীনা কোম্পানি। এ ব্যাপারে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

বর্জ্য-বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ, চুক্তি সই
‘আমিন বাজার ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র’ স্থাপন সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। ছবি: নিউজবাংলা

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘চীনা কোম্পানি নিজ ঝুঁকিতে প্ল্যান্ট স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে। সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ ও নিয়মিত বর্জ্য সরবরাহ করবে। আর উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনে নেবে বিদ্যুৎ বিভাগ।

‘শুধু ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নয়; ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি), গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় ও জেলা শহর এমনকি পৌরসভাগুলোতেও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান।

‘যেসব বিভাগ, জেলা শহর ও পৌরসভা প্রতিদিন ছয়শ’ টন আবর্জনা সরবরাহ করতে পারবে তারা বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সরাসরি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারবে।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘জাপান ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যে মডেল অনুসরণ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে তার চেয়ে বাংলাদেশের জন্য ইনসিনারেশন অর্থাৎ বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন পদ্ধতি উন্নত। এই পদ্ধতিতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয় না। তাই প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিসাপেক্ষে বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

নসরুল হামিদ বলেন, ‘বর্জ্য-বিদ্যুৎ স্মার্ট শহর গড়তে তাৎপর্যময় অবদান রাখবে। বর্জ্যের এই ব্যবস্থাপনা শুধু বিদ্যুৎই দেবে না; একইসঙ্গে গ্রিন হাউজ গ্যাস কমিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমিত করবে।

‘দেশের সব জেলায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। ঢাকা শহরে দ্রুত ইলেক্ট্রিক ভেহিক্যাল চালু করতে পারলে পরিবেশের জন্য ভালো হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ প্রয়োজনীয় চার্জিং স্টেশন করে দেবে।’

বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সচিব সাইফুল ইসলাম আজাদ ও চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (সিএমইসি) উপ-মহাব্যবস্থাপক ওয়াং পেংফেই এবং বাস্তবায়ন চুক্তিতে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষে যুগ্ম সচিব নাজমুল আবেদীন স্বাক্ষর করেন।

ঢাকা উত্তর সিটির আমিনবাজারে সিএমইসি ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করবে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১৫ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। প্ল্যান্টটি সচল রাখতে প্রতিদিন তিন হাজার টন বর্জ্য প্রয়োজন হবে। আর এখানে উৎপাদিত প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম পড়বে ১৮ টাকা ৩০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
পৃথিবী বাঁচানোর রূপরেখা নিয়ে ইউরোপ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
‘আয়েশি ভাব বাদ দিয়ে, করোনা ঠেকাতে সতর্ক হোন’
আমরা বিজয়ী জাতি, মাথা উঁচু করে চলব: প্রধানমন্ত্রী
বাণিজ্যে প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সেতু হবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
ক্ষুধা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া চান প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ যেতে ৩ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবে

সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ যেতে ৩ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবে

ফাইল ছবি

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালে বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৬ কোটি টাকার ফগলাইট কিনতে যুক্তরাষ্ট্রে যান প্রতিষ্ঠানটির তখনকার চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, পরিচালক জ্ঞান রঞ্জন শীল, জিএম ক্যাপ্টেন শওকত সরদার ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পংকজ কুমার পাল। এই চার সদস্যের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন মাত্র একজন। মাওয়া আরিচা ফেরিঘাটে ফগ লাইট পরীক্ষা করার পারে দেখা যায়, ৭ হাজার ওয়ার্ডের ফগলাইট কাজ করছে মাত্র ৩ হাজার ওয়ার্ডের সমান।

সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি মন্ত্রিসভার অনুমতি লাগবে বলে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত একটি রায় বুধবার প্রকাশ হয়েছে। বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

১৪ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।

এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর এ রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট।

ওই দিন আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কেনাকাটায় বিদেশ ভ্রমণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানাতে হবে। রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় রোধ করতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাইফুর রশিদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সাইফুজ্জামান।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালে বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৬ কোটি টাকার ফগলাইট কিনতে যুক্তরাষ্ট্রে যান প্রতিষ্ঠানটির তখনকার চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, পরিচালক জ্ঞান রঞ্জন শীল, জিএম ক্যাপ্টেন শওকত সরদার ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পংকজ কুমার পাল। এই চার সদস্যের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার ছিল মাত্র একজন।

৬ কোটি টাকা দিয়ে ১০টি ফগ লাইট ক্রয় করেন তারা যা ছিল নিম্নমানের। এছাড়া দেশে ফিরে গ্রীষ্মকালেই তারা এই ফগ (কুয়াশা) লাইট পরীক্ষা করেছে। মাওয়া আরিচা ফেরিঘাটে ফগলাইট পরীক্ষা করার পারে দেখা যায়, ৭ হাজার ওয়ার্ডের ফগলাইট কাজ করছে মাত্র ৩ হাজার ওয়ার্ডের সমান। কিন্তু এর মধ্যে টাকা তুলে নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জনি করপোরেশন। তবে অনিয়ম ধরা পড়ায় আটকে দেয়া হয় প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক গ্যারান্টির টাকা।

এরপর ২০১৬ সালে হাইকোর্টের দ্বারস্ত হয় ফগলাইট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জনি করপোরেশন। ওই রিটের দীর্ঘ শুনানি শেষে রিটটি খারিজ করে দিয়ে এ রায় দেয় হাইকোর্ট।

সাইফুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, অকার্যকর ফগলাইট সরবরাহের জন্য প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক গ্যারান্টি ২৮ লাখ উদ্ধারে করা রিট খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন:
পৃথিবী বাঁচানোর রূপরেখা নিয়ে ইউরোপ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
‘আয়েশি ভাব বাদ দিয়ে, করোনা ঠেকাতে সতর্ক হোন’
আমরা বিজয়ী জাতি, মাথা উঁচু করে চলব: প্রধানমন্ত্রী
বাণিজ্যে প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সেতু হবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
ক্ষুধা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া চান প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহত: কনডাক্টর-হেলপার রিমান্ডে

বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহত: কনডাক্টর-হেলপার রিমান্ডে

অনাবিল পরিবহনের একটি বাসের চাপায় শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন নিহত হয়। ফাইল ছবি

ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম বুধবার বাসের কনডাক্টর গোলাম রাব্বী ওরফে বিন রহমান ও হেলপার চাঁন মিয়াকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

রাজধানীর রামপুরায় বাসচাপায় শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন ইসলাম নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার অনাবিল পরিবহনের বাসের কনডাক্টর ও হেলপারকে এক দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম বুধবার তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের এ আদেশ দেন।

রিমান্ডের আদেশ পাওয়া দুজন হলেন সেই বাসের কনডাক্টর গোলাম রাব্বী ওরফে বিন রহমান ও হেলপার চাঁন মিয়া।

আদালতে রামপুরার থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা থানার এসআই মোহাম্মদ আল আমিন মীর সড়ক পরিবহন আইনে মাইনুদ্দিনের মায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন। আদালত তাদের এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা বাজারে সোনালী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় অনাবিল পরিবহনের বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় মাইনুদ্দিন নামে শিক্ষার্থীর।

মাইনুদ্দিন একরামুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ায় বাবার ব্যবসায় সহযোগিতা করছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা বাজারে সোনালী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা অনাবিল পরিবহনের একাধিক বাসসহ অন্তত আটটি বাসে আগুন ও চারটি বাস ভাঙচুর করে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ এসে রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

দুর্ঘটনার সময় চালক মো. সোহেলকে আটক করে প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাকে পিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে দেয়া হয়। বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।

পরের দিন মঙ্গলবার ভোরে সায়েদাবাদ এলাকা থেকে হেলপার চাঁন মিয়াকে আটক করে র‌্যাব। পরে তাকে রামপুরা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

একই দিন সন্ধ্যায় সায়েদাবাদ থেকে কনডাক্টর রাব্বীকে আটক করে র‌্যাব। তাকেও রামপুরা থানা পুলিশের কাছে দেয়া হয়।

তিনজনকেই পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয় সড়ক পরিবহন আইনে মাইনুদ্দিনের মায়ের করা মামলায়।

আরও পড়ুন:
পৃথিবী বাঁচানোর রূপরেখা নিয়ে ইউরোপ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
‘আয়েশি ভাব বাদ দিয়ে, করোনা ঠেকাতে সতর্ক হোন’
আমরা বিজয়ী জাতি, মাথা উঁচু করে চলব: প্রধানমন্ত্রী
বাণিজ্যে প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সেতু হবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
ক্ষুধা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া চান প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

খালেদার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক: ড্যাব

খালেদার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক: ড্যাব

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

চিকিৎসকদের বিএনপিপন্থি সংগঠনটির সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় খালেদা জিয়ার রক্তের হিমোগ্লোবিন কমেছে। বাংলাদেশের যত চিকিৎসাপ্রযুক্তি আছে, তার জন্য সবগুলো প্রয়োগ করা হয়েছে। পূর্ণ সুস্থ করতে হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে তাকে বিদেশে পাঠানো জরুরি।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ড্যাব)। বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠনটি দ্রুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে চিকিৎসা করানোর আহ্বান জানিয়েছে।

খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ড্যাবের শীর্ষ নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তিনি লিভারের মারাত্মক জটিলতাসহ কয়েকটি জটিল রোগে ভুগছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় তার রক্তের হিমোগ্লোবিন কমেছে। বাংলাদেশের যত চিকিৎসাপ্রযুক্তি আছে, তার জন্য সবগুলো প্রয়োগ করা হয়েছে। পূর্ণ সুস্থ করতে হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে তাকে বিদেশে পাঠানো জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ড্যাবের মহাসচিব ডা. আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া করোনা-পরবর্তী জটিলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রিউমোটয়েড আর্থ্রাইটিস, লিভার, কিডনি ও হার্টের বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে গত ১৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তিনি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।’

চিকিৎসক সালাম বলেন, ‘মেডিক্যাল বোর্ডের ভাষ্য অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়ার পরবর্তী চিকিৎসা আর বাংলাদেশে সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় তার বিদেশে সুচিকিৎসা ও স্থায়ী মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।’

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের অন্যতম চিকিৎসক অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকীর বরাতে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৩ নভেম্বর বিএনপি নেত্রীকে হাসপাতালে ভর্তির রাতেই তার রক্তবমি হয়। তার খাদ্যনালিতে ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়েছে। জীবন রক্ষায় তাকে দ্রুত রক্ত ও প্লাজমা ফ্লুইড দেয়া হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি খুবই দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

লিভার সিরোসিসের কারণে খালেদা জিয়ার রক্তক্ষরণের বিষয়টি তুলে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘এসব রোগীর পুনরায় রক্তক্ষরণ খুবই স্বাভাবিক। পরবর্তী সময়ে ফের রক্তক্ষরণে খালেদা জিয়ার মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। কারণ রক্তক্ষরণ বন্ধের জন্য আমাদের দেশে যে প্রযুক্তি আছে, তা ইতোমধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে প্রয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়া যেসব আধুনিক পদ্ধতি আছে, সেগুলো আমাদের দেশে নেই, এমনকি উপমহাদেশের বা এশিয়ার অন্য কোনো দেশেও নেই৷’

ড্যাব নেতা সালাম বলেন, ‘এমন অবস্থায় চিকিৎসক হিসেবে আমরা জরুরি ভিত্তিতে খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিদেশে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। আশা করি, মানবিক বিবেচনায় স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বর্তমান সরকার তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেবে।’

‘সরকারের বক্তব্য দিয়েছে বিএমএ’

উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদাকে বিদেশ নিতে বিএনপি ও তার পরিবার থেকে সরকারের প্রতি বারবার আহ্বান জানালেও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) বলছে, বিএনপি নেত্রীর চিকিৎসা দেশেই সম্ভব।

আওয়ামী লীগপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠনটি সোমবার এক বিবৃতিতে দাবি করে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বাংলাদেশেই সম্ভব। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাই এই রোগের বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা দিতে সক্ষম।

বিএমএর এই ধরনের বক্তব্য সরকারের শেখানো বুলি বলে মন্তব্য করেছে ড্যাব।

ড্যাব নেতা হারুন আল রশিদ বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। সমাজকে বিভক্ত করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ এবং বিপক্ষ। খালেদা জিয়া তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। আজ তিনি গুরুতর অসুস্থ। তার মেডিক্যাল বোর্ড বলেছে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেশে তো নয়, বরং উপমহাদেশেও সম্ভব না।

‘সুতরাং বিএমএর নেতারা যা বলেছেন তা সরকারেরই বক্তব্য। তারা সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আশা ছিল খালেদা জিয়ার এই দুঃসময়ে তারা সঠিক কথা বলবেন এবং মেডিক্যাল বোর্ডের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করবেন।’

বিদেশে থেকে চিকিৎসক আনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে হৃদরোগের সব চিকিৎসা হয়। তার পরও আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ওবায়দুল কাদের অসুস্থ হলে তাকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করানো হয়েছে। বিদেশ থেকে একজন চিকিৎসক আনলেই হবে না। এটা টিমওয়ার্ক। সুতরাং এই কথার মানে হচ্ছে সময় ক্ষেপণ করা।’

সংবাদ সম্মেলনে ড্যাবের অন্য নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, সিরাজউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক এমএ সেলিম, মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস ডাম্বেল, শহীদ হাসান, এরফানুল হক সিদ্দিকী, জহিরুল ইসলাম শাকিল, মেহেদী হাসান, মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, পারভেজ রেজা কাকন, সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, শেখ ফরহাদ, খালেকুজ্জামান দীপু, নিলোফা ইয়াসমিন, ফখরুজ্জামান ফখরুল।

আরও পড়ুন:
পৃথিবী বাঁচানোর রূপরেখা নিয়ে ইউরোপ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
‘আয়েশি ভাব বাদ দিয়ে, করোনা ঠেকাতে সতর্ক হোন’
আমরা বিজয়ী জাতি, মাথা উঁচু করে চলব: প্রধানমন্ত্রী
বাণিজ্যে প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সেতু হবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
ক্ষুধা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া চান প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

অধ্যাপক রফিকুলের দাফন আজিমপুর কবরস্থানে

অধ্যাপক রফিকুলের দাফন আজিমপুর কবরস্থানে

বাংলা একাডেমিতে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের মরদেহবাহী কফিনে শেষ শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছবি: নিউজবাংলা

শ্রদ্ধা জানানো শেষে বাংলা একাডেমি থেকে অধ্যাপক রফিকুলের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান অধ্যাপককে। পরে জানাজা শেষে আসরের নামাজের পর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বুধবার জানাজা শেষে বাবার কবরের পাশে সমাহিত করা হয় তাকে।

এর আগে বাংলা একাডেমি থেকে শেষ বিদায় জানানো হয় প্রতিষ্ঠানটির সাবেক মহাপরিচালককে।

দুপুর দেড়টায় রফিকুল ইসলামের মরদেহ একাডেমি প্রাঙ্গণে আনা হয়। নজরুল গবেষক এই অধ্যাপকের মরদেহবাহী কফিন একাডেমির নজরুল মঞ্চে রাখা হয়। সেখানে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান তার সহকর্মী ও পরিচিতজনরা।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর। এরপর বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক মো. নুরুল হুদার নেতৃত্বে একাডেমি পরিবার, কবি কাজী নজরুল ইনস্টিটিউট, শালুক, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, স্বাধীনতা ফাউন্ডেশন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপন ও জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। সর্বশেষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান কলকাতার কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোনালিসা দাস।

শ্রদ্ধা জানানো শেষে অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের একমাত্র ছেলে বর্ষণ ইসলাম বলেন, “আমার বাবার সম্পূর্ণ জীবনই সফলতা। আমি কখনো কোনো ব্যর্থতা দেখিনি। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সময় আব্বুর ক্যামেরায় ধারণকৃত ছবিগুলোই ইতিহাস।

“সেগুলো যদি না থাকত তাহলে আমরা আজকে ইতিহাস জানতে পারতাম না। আমি আব্বুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘কোনো ছবিতে আপনার নাম দেখলাম না।’ আব্বু বলেছেন, ‘আমার নামের তো দরকার নেই। সবাই ইতিহাস জানতে পারছে, তাতেই হবে।’”

বর্ষণ বলেন, ‘আমরা আব্বুকে বিদেশ নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আব্বু দেশেই থাকতে চেয়েছেন। তাই আমরা উনাকে বিদেশ নিয়ে যেতে পারিনি।’

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোনালিসা দাস বলেন, ‘আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন নজরুল গবেষণা সেন্টার তৈরি হয়, তখনই রফিকুল ইসলাম স্যার এবং আনিসুজ্জামান স্যার পথিকৃৎ হয়ে নজরুলবিষয়ক গবেষণাকে কেন্দ্র করে গবেষণাগার তৈরি করে দেন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রফিকুল ইসলাম স্যারকে সম্মানসূচক ডি লিট ডিগ্রি দেয়ার কথা। যে বছর দেয়ার কথা ছিল, তার পরের বছর করোনা হয়ে গেছে।

‘করোনায় সব বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য আমরা এখনও দিতে পারিনি। নিশ্চয়ই আমরা সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। গবেষণার মাধ্যমে নজরুলকে দেশে-বিদেশে আমাদের সকলের মধ্যে যেভাবে তুলে ধরেছেন, তা একমাত্র রফিকুল ইসলাম স্যারের পক্ষেই সম্ভব।’

শ্রদ্ধা জানানো শেষে বাংলা একাডেমি থেকে এ অধ্যাপকের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান অধ্যাপককে। পরে জানাজা শেষে আসরের নামাজের পর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

আরও পড়ুন:
পৃথিবী বাঁচানোর রূপরেখা নিয়ে ইউরোপ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
‘আয়েশি ভাব বাদ দিয়ে, করোনা ঠেকাতে সতর্ক হোন’
আমরা বিজয়ী জাতি, মাথা উঁচু করে চলব: প্রধানমন্ত্রী
বাণিজ্যে প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সেতু হবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
ক্ষুধা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া চান প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন