এক মাস আগেও গায়েব হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নথি

এক মাস আগেও গায়েব হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নথি

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অতিরিক্ত সচিব বলেন, এক মাস আগে আরও কিছু নথি উধাও হয়েছিল। সে বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। এই নথির দায়িত্বে ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন নারী কর্মকর্তা। নথি হারানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে তাকে শোকজ করা হয়েছিল।

স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের নথি উধাওয়ে আরও ঘটনা আছে। এক মাস আগে নথি হারানোর এক ঘটনা এখন তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অতিরিক্ত সচিব নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এক মাস আগে আরও কিছু নথি উধাও হয়েছিল। সে বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। এই নথির দায়িত্বে ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন নারী কর্মকর্তা। নথি হারানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে তাকে শোকজ করা হয়েছিল।

‘তিনি কিছুদিন পর শোকজের জবাব দিয়েছিলেন। তবে তার জবাবে সন্তুষ্ট নয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন বিভাগে চিঠি দেয়া হয়েছে। তবে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে এখনও ব্যবস্থা নেয়নি।’

এক মাস হলেও কেন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘অভিযুক্ত নারী কর্মকর্তা সন্তানসম্ভবা। এখনই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সন্তানের ওপর ঘটনার প্রভাব পড়তে পারে। মানবিক কারণে বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন অবস্থায় রয়ে গেছে।’

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের ১৭টি নথি পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে বৃহস্পতিবার শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে মন্ত্রণালয়। এর পরই নথি চুরির নানা ঘটনা আলোচনায় এসেছে।

উপসচিব নাদিয়া হায়দার শাহবাগ থানায় বৃহস্পতিবার জিডি করার পর সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ১৭টি নথি উধাওয়ের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করেছে। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) শাহাদাৎ হোসাইন নিউজবাংলাকে জানান, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) শাহ্ আলমকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। অন্য দুই সদস্য হলেন যুগ্ম সচিব (চিকিৎসা শিক্ষা) আহসান কবীর ও উপসচিব (চিকিৎসা শিক্ষা-১) মোহাম্মদ আবদুল কাদের।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭ নথি উধাও

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনায় সাত বিভাগে মৃত্যু শূন্য

করোনায় সাত বিভাগে মৃত্যু শূন্য

দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুই জনই ঢাকার বাসিন্দা। এ ছাড়া সাত বিভাগে কোনো মৃত্যুর তথ্য দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ সময়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে ২২৭ জনের শরীরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সোমবার বিকেলে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১১ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৯৮০ জনের।

বিস্তারিত আসছে...

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭ নথি উধাও

শেয়ার করুন

কীভাবে শনাক্ত হলো ওমিক্রন, উপসর্গ কী

কীভাবে শনাক্ত হলো ওমিক্রন, উপসর্গ কী

সাউথ আফ্রিকায় করোনার টিকাবিষয়ক মন্ত্রীপর্যায়ের উপদেষ্টা কমিটির অন্যতম সদস্য ড. কোয়েৎজি। তার মতে, ডেল্টার মতো ওমিক্রনে আক্রান্ত হলে স্বাদ-ঘ্রাণ হারানো কিংবা অক্সিজেনের লেভেল বড় ব্যবধানে কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ এখনও দেখা যায়নি। কোয়েৎজির অভিজ্ঞতা বলছে, ওমিক্রনে আক্রান্তরা সবাই ৪০ বছরের কম বয়সী বা তরুণ। আক্রান্ত যাদের তিনি চিকিৎসা দিয়েছিলেন, তাদের প্রায় অর্ধেকের করোনা প্রতিরোধী টিকা নেয়া ছিল না।

রোগীদের মধ্যে ওমিক্রনকে করোনাভাইরাসের রূপ পরিবর্তিত নতুন বৈশিষ্ট্য হিসেবে শনাক্ত করা প্রথম চিকিৎসকদের একজন সাউথ আফ্রিকার ড. অ্যাঞ্জেলিক কোয়েৎজি। নতুন ধরনের ভাইরাসটির উপসর্গ এখন পর্যন্ত বেশ মৃদু এবং বাড়িতে থেকেই এর চিকিৎসা নেয়া সম্ভব বলে মত তার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাউথ আফ্রিকায় করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ডেল্টা বেশি সংক্রমিত। কিন্তু ড. কোয়েৎজি গত ১৮ নভেম্বর নিজের ক্লিনিকে সাতজন রোগীর মধ্যে ডেল্টা উপসর্গের চেয়ে কিছু ভিন্ন উপসর্গ লক্ষ্য করে সতর্ক হন, যদিও সেসব উপসর্গ ছিল অত্যন্ত মৃদু।

সাউথ আফ্রিকান চিকিৎসক সমিতির প্রধান ড. কোয়েৎজি জানান, ওই রোগীরা দুই দিন ধরে ‘অতিরিক্ত ক্লান্তিতে ভুগছিলেন’। সঙ্গে মাথা ও শরীর ব্যথা তো ছিলই।

তিনি বলেন, ‘এই পর্যায়ের উপসর্গ সাধারণ ভাইরাস সংক্রমণের মতোই। কিন্তু গত ৮ থেকে ১০ সপ্তাহ কোনো কোভিড রোগী পাইনি বলে আমরা তাদের পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নিই।’

পরীক্ষায় এক পরিবারের সব সদস্য করোনা পজিটিভ শনাক্ত হন।

একই দিন কাছাকাছি উপসর্গ নিয়ে আরও রোগী আসতে শুরু করলে নড়ে বসেন ড. কোয়েৎজি। কারণ এর আগ পর্যন্ত দিনে বড়জোর দুই থেকে তিনজন রোগী দেখছিলেন তিনি।

কোয়েৎজি বলেন, ‘মহামারির তৃতীয় ধাক্কার সময় ডেল্টায় আক্রান্ত অসংখ্য রোগী আমরা পেয়েছি। নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে যাচাই করে বুঝতে পারি যে তখনকার দৃশ্যপটের তুলনায় এখনকার দৃশ্যপটের পার্থক্য আছে।’

নমুনা পরীক্ষার ফল সেদিনই সাউথ আফ্রিকার জাতীয় সংক্রামক রোগ ইনস্টিটিউটে (এনআইসিডি) জমা দেন কোয়েৎজি।

তিনি বলেন, ‘যারা ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছেন, তাদের বেশির ভাগের মধ্যেই খুব মৃদু উপসর্গ ছিল এবং কাউকেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়নি। তাদের বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিতে বলেছিলাম আমরা। সেভাবে চিকিৎসা নিয়ে তারা সুস্থ আছেন।’

সাউথ আফ্রিকায় করোনার টিকাবিষয়ক মন্ত্রীপর্যায়ের উপদেষ্টা কমিটির অন্যতম সদস্য ড. কোয়েৎজি। তার মতে, ডেল্টার মতো ওমিক্রনে আক্রান্ত হলে স্বাদ-ঘ্রাণ হারানো কিংবা অক্সিজেনের লেভেল বড় ব্যবধানে কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ এখনও দেখা যায়নি।

কোয়েৎজির অভিজ্ঞতা বলছে, ওমিক্রনে আক্রান্তরা সবাই ৪০ বছরের কম বয়সী বা তরুণ। আক্রান্ত যাদের তিনি চিকিৎসা দিয়েছিলেন, তাদের প্রায় অর্ধেকের করোনা প্রতিরোধী টিকা নেয়া ছিল না।

গত ১৪ থেকে ১৬ নভেম্বর গবেষণাগার থেকে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার ভিত্তিতে ২৫ নভেম্বর করোনার নতুন ধরনটির অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে বলে ঘোষণা দেয় এনআইসিডি। পরদিন একে ওমিক্রন নাম দিয়ে চিহ্নিত করে ডব্লিউএইচও।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭ নথি উধাও

শেয়ার করুন

কানাডাতেও ওমিক্রনের হানা

কানাডাতেও ওমিক্রনের হানা

নাইজেরিয়া ভ্রমণ করে কানাডায় পৌঁছানো দুই ব্যক্তি ওমিক্রনে আক্রান্ত। ছবি: সিবিসি নিউজ

ওন্টারিওর প্রাদেশিক সরকার জনগণের প্রতি দ্রুত করোনা প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। যদিও নতুন ধরনটি করোনার বিদ্যমান টিকার কার্যক্ষমতাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম বলে শঙ্কা জোরালো হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের রূপ পরিবর্তিত নতুন ধরন ওমিক্রন পৌঁছেছে সুদূর উত্তর আমেরিকাতেও। কানাডার অটোয়াতে দুই ব্যক্তির দেহে শনাক্ত হয়েছে করোনার নতুন ধরনটি।

ওন্টারিও সরকার রোববার এক বিবৃতিতে জানায়, ওমিক্রনে আক্রান্ত দুজনই সম্প্রতি আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশ নাইজেরিয়া ভ্রমণ করে দেশে ফেরেন। তারা বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন। তাদের সংস্পর্শে যাওয়া ব্যক্তিদেরও খুঁজে বের করা হচ্ছে।

সিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত দুই সপ্তাহের মধ্যে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের দেশ ভ্রমণ করে কানাডায় পৌঁছানো বিদেশি নাগরিকদের ওপর নতুন ভ্রমণ নীতিমালা জারি করেছে সরকার। এর মধ্যেই দেশটিতে ওমিক্রন শনাক্তের খবর এলো।

নতুন ভ্রমণ নীতিমালা কার্যকর হয়েছে গত শুক্রবার। সাউথ আফ্রিকার গবেষকরা ওমিক্রন ভাইরাসটি প্রথম চিহ্নিত করেছেন। বর্তমানে বিশ্বের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভাইরাসটি।

করোনার নতুন এ ধরনটি সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য জানা যায়নি। তবে এটিতে বিপুলসংখ্যক পরিবর্তন চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা, যার ভিত্তিতে একে উদ্বেগের কারণ বলে মনে করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

সাউথ আফ্রিকার একটি প্রদেশে করোনা সংক্রমণ হঠাৎ বেড়ে চলার কারণ হিসেবেও দায়ী করা হচ্ছে ওমিক্রনকে।

কিন্তু আসলে ওমিক্রন করোনার অন্য প্রজাতিগুলোর তুলনায় অধিক সংক্রামক বা বিপজ্জনক কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন বিজ্ঞানীরা।

এমন পরিস্থিতিতে ওন্টারিওর প্রাদেশিক সরকার জনগণের প্রতি দ্রুত করোনা প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

যদিও নতুন ধরনটি করোনার বিদ্যমান টিকার কার্যক্ষমতাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম বলে শঙ্কা জোরালো হচ্ছে।

বতসোয়ানা থেকে ভাইরাসটি সাউথ আফ্রিকায় পৌঁছানোর পর এর বিষয়ে জানতে পারে বিশ্ব। এরপর যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, ইসরায়েল, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শনাক্ত হয়েছে ওমিক্রন।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭ নথি উধাও

শেয়ার করুন

ডেল্টার চেয়ে বিপজ্জনক ওমিক্রন?

ডেল্টার চেয়ে বিপজ্জনক ওমিক্রন?

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, আগে যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তারা ওমিক্রনেও আক্রান্ত হতে পারেন বলে প্রাথমিক গবেষণায় ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ কোভিডে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নতুন ধরন ওমিক্রনের সহজ শিকার হতে পারেন।

করোনাভাইরাসের রূপ পরিবর্তিত নতুন ধরন বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইনকে চলতি সপ্তাহে ওমিক্রন নাম দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ২০১৯ সালে চীনের উহানে শনাক্ত কোভিড নাইনটিনের চেয়ে ওমিক্রন একেবারেই আলাদা।

কোভিডের ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ধরনগুলোর মধ্যে এর আগে সবচেয়ে উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছিল ডেল্টাকে। ওমিক্রনের অস্তিত্ব শনাক্তের পর থেকে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি শোনা যাচ্ছে, তা হলো ওমিক্রন ডেল্টার চেয়েও বিপজ্জনক কি না।

বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকার মধ্যেই ডব্লিউএইচও রোববার ওমিক্রনের বিষয়ে সবশেষ সংগৃহীত কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে।

ওমিক্রনের মধ্যে অনেক পরিবর্তন শনাক্ত হয়েছে, যা ভাইরাসটির আচরণেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত করা সাউথ আফ্রিকার স্বাস্থ্যবিদদের মতে, এখন পর্যন্ত অর্ধশত পরিবর্তন শনাক্ত হয়েছে নতুন ধরনে। এর বহিঃ আবরণীতে থাকা আমিষের যে অংশটি ভাইরাসকে কোষের সঙ্গে যুক্ত থাকতে সাহায্য করে, সেই ‘স্পাইক প্রোটিন’-এর সংখ্যা ৩০টি।

করোনা প্রতিরোধী টিকা মূলত ভাইরাসের এই ‘স্পাইক প্রোটিন’কেই আক্রমণ করে। কারণ ‘স্পাইক প্রোটিন’ ব্যবহার করেই ভাইরাসটি দেহের কোষে প্রবেশের পথ উন্মুক্ত করে।

ভাইরাস তার যে অংশ ব্যবহার করে প্রথমবার মানবদেহের কোষের সংস্পর্শে আসে, করোনার নতুন ধরনেই সেই অংশে ১০টি পরিবর্তন শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়ানো আগের ধরনটি, অর্থাৎ করোনার ডেল্টা ভাইরাসে এ পরিবর্তনের সংখ্যা ছিল মাত্র দুই।

ফলে এসব পরিবর্তন ওমিক্রনকে আরও সহজে ও দ্রুত সংক্রমণযোগ্য করে তুলেছে কি না, কিংবা আরও গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে কি না ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, আগে যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তারা ওমিক্রনেও আক্রান্ত হতে পারেন বলে প্রাথমিক গবেষণায় ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ কোভিডে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নতুন ধরন ওমিক্রনের সহজ শিকার হতে পারেন।

ডেল্টাসহ করোনার অন্য ধরনগুলোর তুলনায় ওমিক্রন ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে অধিক সংক্রামক কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত কেবল আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে পরীক্ষার মাধ্যমেই নতুন ধরনটি শনাক্ত করা সম্ভব।

টিকার ওপর এই ভ্যারিয়েন্টটির প্রভাব খতিয়ে দেখতেও কাজ শুরু করেছে ডব্লিউএইচও।

ওমিক্রনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কতটা, সে বিষয়টিও স্পষ্ট হয়নি। উপসর্গের দিক থেকে করোনার অন্য ধরনগুলোর চেয়ে ওমিক্রন আলাদা কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য মেলেনি।

প্রাথমিক তথ্য অবশ্য বলছে যে সম্প্রতি সাউথ আফ্রিকায় করোনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে শুধু ওমিক্রনে আক্রান্ত হওয়ার চেয়ে বরং এ ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণেও হতে পারে এটি।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭ নথি উধাও

শেয়ার করুন

রামেক হাসপাতালে জরুরি বিভাগ আছে, সেবা নেই

রামেক হাসপাতালে জরুরি বিভাগ আছে, সেবা নেই

রামেক হাসপাতালে জরুরি বিভাগ থাকলেও মিলছে না সেবা। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, বর্তমানে জরুরি বিভাগ থেকে রোগীদের তাড়াতাড়িই পাঠানো হচ্ছে। তবে রোগীদের ওয়ার্ডে যেতে যেতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট লেগে যায়। এই সময়টা এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ১০ মিনিটের মধ্যে রোগী ম্যানেজ করতে পারলে এক ধরেনের রেজাল্ট আসে আবার ১০ মিনিট পর ম্যানেজ করলে আরেক ধরনের রেজাল্ট পাওয়া যায়। এখানকার প্রতিটি মিনিটই গোল্ডেন মিনিট।

গুরুতর রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে জরুরি বিভাগ থাকলেও সেখানে কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোগীদের জরুরি চিকিৎসা না দিয়েই পাঠানো হয় বিভিন্ন ওয়ার্ডে। এতে তাৎক্ষণিক সেবা না পেয়ে রোগীর জটিলতা বাড়ে এমনকি অনেকের মৃত্যুও হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীর নাম-ঠিকানা রেজিস্ট্রার আর কোন ওয়ার্ডে যাবে সেটি ঠিক করে দেয়া ছাড়া কোনো কাজ নেই। জরুরি বিভাগে সার্বক্ষণিক একজন চিকিৎসক থাকলেও সেখানে রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই।

রাজশাহী নগরীর ছোট বনগ্রাম এলাকার জাহিদুজ্জামান চলতি মাসের শুরুর দিকে তার স্ট্রোক করা মাকে নিয়ে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। সেখানে টিকিট কেটে খাতায় নাম এন্ট্রি করে প্রায় ২০ মিনিট পর মাকে নিয়ে পৌঁছান ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে।

এরপর রিপোর্ট নিয়ে যান ওয়ার্ড চিকিৎসকের কাছে। সেখানেও লম্বা লাইন। মিনিট বিশেক পর সিরিয়াল পান ডাক্তারের। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বাইরে থেকে ওষুধপত্র আনাসহ নানা প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ঘণ্টা দুয়েক পর তার মায়ের চিকিৎসা শুরু হয়। অথচ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সেবা মিললে চিকিৎসা আরও আগে শুরু করা যেত।

শুধু জাহিদুজ্জামানের মা নন, এভাবে প্রত্যেক রোগীকেই হাসপাতালে যাওয়ার পর এক থেকে দেড় ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করতে হয় চিকিৎসা শুরু হতে।

দুর্গাপুর উপজেলার সায়বাড় গ্রামের বাসিন্দা জনাব আলীর স্বজনরা জানান, জনাব আলী ডায়াবেটিস রোগী। রক্তচাপ কমে যাওয়ায় ২২ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়।

জরুরি বিভাগে নাম, ঠিকানা এন্ট্রি শেষে তাকে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে নিতে বলা হয়। রোগীকে ট্রলিতে তুলে ওয়ার্ডের দিকে যাচ্ছিলেন স্বজনরা। মাঝপথে রোগীর তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তাই আবারও জরুরি বিভাগের দিকে ট্রলি ঘুরিয়ে নেয়া হয়। তবে জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর সময়ই তিনি মারা যান।

এমনকি জরুরি বিভাগে ইসিজি করার ব্যবস্থা না থাকায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করতে পারেনি নার্স। ইসিজি করতে পাঠানো হয় ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে। পরে জনাব আলীকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করা হয় বেলা ১১টা ৫ মিনিটে।

একইভাবে ১৫ জুন নাটোরের সিংড়ার বাসিন্দা বেলালুজ্জামানকে নেয়া হয় রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সেখানে যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয় ৩৬ মিনিটে। এরপর চিকিৎসা শুরু হতে না হতেই তিনি মারা যান।

এভাবে অনেক রোগীই হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার পথেই মারা যাচ্ছেন। জরুরি সেবা না থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।

তবে জরুরি সেবার বিষয়ে রামেক হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ডা. শামসুর রহমান জানান, জরুরি বিভাগে রোগী এলে তার অবস্থা বুঝেই তাকে ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। এখানে সার্বক্ষণিক একজন চিকিৎসক থাকেন। তারা রোগী দেখে প্রয়োজনে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রোগীদের ওয়ার্ডে পাঠান।

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, রোগীদের জরুরি সেবা দিতে না পারার বিষয়টি নিয়ে তারা ভাবছেন। জরুরি বিভাগকে আধুনিকায়ন করার পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে। এটির বাস্তবায়ন হলে এ বিভাগেই মিলবে সব ধরনের চিকিৎসা।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, বর্তমানে জরুরি বিভাগ থেকে রোগীদের তাড়াতাড়িই পাঠানো হচ্ছে। তবে রোগীদের ওয়ার্ডে যেতে যেতে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মতো সময় লেগে যায়। এই সময়টা এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘১০ মিনিটের মধ্যে রোগী ম্যানেজ করতে পারলে এক ধরনের রেজাল্ট আসে, আবার ১০ মিনিট পর ম্যানেজ করলে আরেক ধরনের রেজাল্ট পাওয়া যায়। এখানকার প্রতিটি মিনিটই গোল্ডেন মিনিট।

‘এখন জরুরি বিভাগ ৮ থেকে ৯ জন ডাক্তার দিয়ে চলে। তারা সময় ভাগ করে দায়িত্ব পালন করেন। জরুরি বিভাগকে যুগোপযোগী করতে আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা করেছি। এটি আধুনিকায়নের জন্য বাজেটও চেয়েছি। পেলে এ বিভাগ আরও সমৃদ্ধ হবে।’

পরিচালক বলেন, ‘আমাদের জরুরি বিভাগের ভবনে বর্তমানে ওয়ানস্টপ সেবা, পুলিশ বক্স, ডিএনএসহ নানা বিভাগ ঢুকে পড়েছে। এগুলো এখান থেকে সরিয়ে ভবনটি জরুরি সেবার জন্য ছেড়ে দিতে হবে। তবে ওই বিভাগগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ওই বিভাগগুলোর জন্য আমরা জায়গা দিয়েছি। এখন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য বাজেট এলেই কাজ শুরু করা হবে।’

জরুরি বিভাগে কী কী থাকছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কার্ডিওলজি বিভাগ থেকে শুরু করে সব কিছুই থাকবে সেখানে। ছোটোখাটো অপারেশনও করা হবে। এখন যেমন হার্টের রোগী এলে তাকে ওয়ার্ডে পাঠাতে হয়। তখন আর সময় নষ্ট হবে না। এখানেই চিকিৎসা শুরু করব। অর্থপেডিকের চিকিৎসাও শুরু করার পরিকল্পনা আছে। অনেক রোগীকে এখান থেকেই চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭ নথি উধাও

শেয়ার করুন

ওমিক্রন ঠেকাতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ‘অবৈজ্ঞানিক’

ওমিক্রন ঠেকাতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ‘অবৈজ্ঞানিক’

করোনার ওমিক্রন ধরন ঠেকাতে আফ্রিকায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বেশ কিছু দেশ। ফাইল ছবি

সাউথ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট রামাফোসা বলেন, ‘ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ভাইরাসটি ঠেকানোর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। এটা বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন। এর মাধ্যমে আফ্রিকার সঙ্গে অনায্য বৈষম্য করা হচ্ছে। ভাইরাসটির এই ধরন ছড়ানো ঠেকাতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কোনো কাজে আসবে না।’

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন ঠেকাতে আফ্রিকার উত্তরাঞ্চলের দেশগুলোতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দ্রুত তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাউথ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা।

করোনা ঠেকাতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, এটা আফ্রিকা অঞ্চলের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ।

বিবিসির খবরে বলা হয়, সিরিল রামাফোসা আফ্রিকার ওপর দেয়া ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় ‘গভীরভাবে মর্মাহত’ বলে উল্লেখ করেন। এতে দেশগুলোর সঙ্গে অবিচার করা হচ্ছে দাবি করে তিনি দ্রুত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান জানান।

যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও কিছু দেশ আফ্রিকায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

করোনার নতুন ধরন ঠেকাতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে ভ্রমণ আপাতত বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন।

ওমিক্রন ধরনটিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এটি খুব দ্রুত সংক্রমিত ধরন।

চলতি মাসের শুরুর দিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া করোনার নতুন ধরনটি প্রথম শনাক্ত হয় আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানায়। এরপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত বুধবার ধরনটি সম্পর্কে জানায়।

বতসোয়ানার পর সাউথ আফ্রিকার গৌটেং প্রদেশে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণটি শনাক্ত হয়। এরপর দেশটির প্রায় সব প্রদেশেই এটি ধরা পড়েছে।

সাউথ আফ্রিকার পাশাপাশি অনেক দেশেই এরই মধ্যে ওমিক্রন শনাক্ত করা হয়েছে।

ওমিক্রন শনাক্তের পর খুব দ্রুত পদক্ষেপ হিসেবে কয়েকটি দেশের আফ্রিকার ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়ার ঘটনার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এখনটি এমন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়া উচিত নয়। এজন্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর নজর দেয়া উচিত।

রোববার সাউথ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট রামাফোসা এক বক্তৃতায় বলেন, ‘ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ভাইরাসটি ঠেকানোর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। এটা বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন। এর মাধ্যমে আফ্রিকার সঙ্গে অনায্য বৈষম্য করা হচ্ছে। ভাইরাসটির এই ধরন ছড়ানো ঠেকাতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কোনো কাজে আসবে না।’

তিনি বলেন, ‘ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বা কড়াকড়ি করার ফলে আবারও অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। করোনাভাইরাস মহামারি থেকে বিভিন্ন দেশ যে উত্তরণ করছিল, এমন কর্মকাণ্ডে সেটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

যেসব দেশ এরইমধ্যে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তাদের তা প্রত্যাহার করে নেয়ার আহ্বান জানান সিরিল রামাফোসা।

তিনি বলেন, ‘আবারও অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আগেই তাদের এ সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে হবে।’

ওমিক্রন ছড়ানোর কারণ হিসেবে রামাফোসা বিশ্বে করোনার টিকা বৈষম্যকে দায়ী করেন। আফ্রিকা সবচেয়ে বেশি টিকা বৈষম্যের শিকার হয়েছে বলেও দাবি তার।

আফ্রিকার বাইরে এরইমধ্যে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ইসরায়েলের মতো দেশে।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭ নথি উধাও

শেয়ার করুন

অলিগলিতে অনুমোদনহীন ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার

অলিগলিতে অনুমোদনহীন ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার

ফরিদপুরে অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে একাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক। ছবি: নিউজবাংলা

সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধু উপজেলা সদরেই ক্লিনিক রয়েছে ছয়টি। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ১৪টি। এর মধ্যে অনুমোদন আছে হাতেগোনা কয়েকটির। আবার কয়েকটির লাইসেন্স থাকলেও তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। অনেক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স পর্যন্ত নেই।

ফরিদপুরের মধুখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা সদরের আনাচ-কানাচে অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে একাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক।

প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব চিকিৎসক, নার্স, প্যাথলজিস্ট বা টেকনিশিয়ানও নেই, অথচ সাইনবোর্ড লাগিয়ে সাধারণ রোগীদের জীবন নিয়ে করছে ব্যবসা।

সরকারি তদারকি না থাকায় দালালচক্রের মাধ্যমে অসাধু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা রোগীদের ঠকিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। অথচ এ বিষয়ে নেয়া হচ্ছে না কার্যকর পদক্ষেপ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধু উপজেলা সদরেই ক্লিনিক রয়েছে ছয়টি। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ১৪টি। এর মধ্যে অনুমোদন আছে হাতেগোনা কয়েকটির। আবার কয়েকটির লাইসেন্স থাকলেও তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। অনেক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স পর্যন্ত নেই।

ক্লিনিকগুলোতে বাইরের চিকিৎসক দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশনও করা হচ্ছে নিয়মিত। কয়েকটি ক্লিনিকে আবার অস্ত্রোপচার করছেন সহযোগী চিকিৎসকরা। কিছু ক্লিনিকে নেই অপারেশন থিয়েটার পর্যন্ত। এ ছাড়া পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা।

সম্প্রতি জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে এমন চারটি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হলেও তা মানা হয়নি। উপসম ক্লিনিক, কবিতা ক্লিনিক, সুমী প্রাইভেট হাসপাতাল ও দি শাপলা ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ক্লিনিকের দায়িত্বে থাকা একজন জানান, তাদের নিজস্ব কোনো চিকিৎসক ও নার্স নেই। প্রসূতি এলে তারা ফরিদপুর থেকে চিকিৎসক এনে সিজারিয়ান অপারেশন করেন। লাইসেন্স আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আবেদন করা হয়েছে, এখনও অনুমোদন পাননি।

একটি ক্লিনিকে এক্স-রে করতে যাওয়া আসমা বেগম জানান, উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক বাইরে থেকে এক্স-রে করতে বলেছেন। তাই বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে দ্বিগুণ টাকায় এক্স-রে করিয়েছেন।

প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রামসহ নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষায়ও তাদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো টাকা আদায়ের অভিযোগ করেন তিনি।

শরিফ নামে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক কর্মচারী জানান, বেশির ভাগ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্যাথলজিস্ট নেই। যেগুলোতে রয়েছে তারা কেউই ডিপ্লোমা করা না। বেশির ভাগই দেখে দেখে শেখা লোক। তাদের দিয়েই পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ করানো হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, কিছু প্রতিষ্ঠান আবার রোগী আসার পর নমুনা ফরিদপুর নিয়ে পরীক্ষা করে এনে রিপোর্ট দেয়। সেই খরচও রোগীর কাছ থেকে তোলা হয়।

মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুস সালাম বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে যেসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন নেই সেগুলো বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

লাইসেন্সের বিষয়ে বলেন, ‘কেউ কেউ লাইসেন্সের জন্য আবেদনও করেছে। আবার অনেকে আবেদন করেনি। লাইসেন্স পাওয়ার জন্য যে দিকনির্দেশনা রয়েছে, তা বেশির ভাগেরই নেই।

‘এক মাস সময় দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তাদের প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ঠিক করতে বলা হয়েছে। এর ব্যত্যয় হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিকুর রহমান চৌধুরী জানান, অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে শিগগিরই তারা ব্যবস্থা নেবেন।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭ নথি উধাও

শেয়ার করুন