স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নথি উধাও তদন্তে কমিটি

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নথি উধাও তদন্তে কমিটি

নথিগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের। ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব আলী নূর নিউজবাংলাকে জানান, কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের ১৭টি নথি উধাওয়ের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) শাহাদাৎ হোসাইন নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) শাহ্ আলমকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। অন্য দুই সদস্য হলেন যুগ্ম সচিব (চিকিৎসা শিক্ষা) আহসান কবীর ও উপসচিব (চিকিৎসা শিক্ষা-১) মোহাম্মদ আবদুল কাদের।

নথি সরানোর বিষয়ে কাউকে সন্দেহ করছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শাহাদাৎ বলেন, ‘আসলে যে ১৭টি নথি সরানো হয়েছে এগুলোর বেশিরভাগ মেডিক্যাল কলেজের ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত। এগুলোতে শুধু প্রশাসনিক আদেশ দেয়া হয়। আমার মাথায় আসছে না প্রশাসনিক আদেশ নিয়ে তারা কী করবে। তবে যারা এই নথি সরিয়েছে তারা চাবি দিয়ে তালা খুলে নথি নিয়েছে।

‘যেহেতু চাবি দিয়ে তালা খোলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের ভেতরের লোকজনের সহযোগিতা থাকতে পারে। আমরা চাচ্ছি যেকোনো মূল্যে এই ঘটনার সত্য উদ্‌ঘাটন হোক। আমরা এই ঘটনার আসল আসামি ধরতে চাই। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সব ধরনের ডকুমেন্ট দেয়া হচ্ছে। রোববার থেকে এই তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে।’

স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের ১৭টি নথি পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে শাহবাগ থানায় বৃহস্পতিবার একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মওদুত হাওলাদার জানান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) শাহাদৎ হোসাইনের কক্ষে (ভবন নং-৩, কক্ষ নং-২৯) ক্রয় ও সংগ্রহ শাখা-২-এর সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর জোসেফ সরদার এবং সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর আয়েশা সিদ্দিকার হেফাজতে থাকা ১৭টি ফাইলের হদিস মিলছে না।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭ নথি উধাও

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রোবট মাছে কেমো হবে নির্ভুল, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত

রোবট মাছে কেমো হবে নির্ভুল, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত

চীনা বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত রোবট মাছ। ছবি: ডেইলি মেইল

বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে কেমোর ওষুধ রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে সারা শরীরে ঘুরে বেড়ায় আর ক্যান্সার কোষগুলোর সঙ্গে যুদ্ধ করে। কিন্তু এই যুদ্ধে ক্যান্সার কোষ ছাড়াও অসংখ্য সুস্থ কোষও মারা যায়। যার প্রভাবে রোগীর শরীরে বিভিন্ন পর্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

অতি ক্ষুদ্র এই রোবটটি দেখতে ঠিক মাছের মতো। ক্যান্সার প্রতিরোধে এবার এই রোবট মাছকেই মাঠে নামাতে চাইছেন বিজ্ঞানীরা। কেমোথেরাপির সঙ্গে এই বস্তুটিকে সরাসরি টিউমারে স্থাপন করা হবে। কেমোথেরাপিতে শরীরে যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, এই পদ্মতিতে তা থেকে মুক্তি পাবেন রোগীরা।

ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষুদ্র ওই রোবট মাছগুলো আয়তনে এক মিলিমিটারের ১০০ ভাগের এক ভাগের সমান। বিশেষ থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে একটি জেল থেকে এগুলোকে সৃষ্টি করেছেন একদল চীনা বিজ্ঞানী। ভিন্ন পিএইচ মাত্রায় গেলে এরা আকৃতি পরিবর্তন করে।

আবিষ্কারের পর রোবট মাছটিগুলোকে আয়রন অক্সাইড সল্যুশনে চুবিয়ে রাখলে বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, এগুলোর মধ্যে চৌম্বক শক্তির সৃষ্টি হয়েছে। কেমো চিকিৎসায় এই চৌম্বক শক্তিকেই কাজে লাগানো হবে।

ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই মাছগুলোকে প্রথমে রক্তনালীতে ইনজেকশনের মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হবে। পরে ওই চৌম্বক শক্তি তাদের টিউমারের স্থানটিতে নিয়ে যাবে।

ক্যান্সার কোষগুলো টিউমারের চারপাশের রক্তরসে থাকা পিএইচ লেভেলকে আরও অম্লীয় করে তোলে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই কেমোর ওষুধ নিয়ে সেখানে গিয়ে হাজির হবে রোবট মাছ। পরে ভিন্ন পিএইচ মাত্রার সংস্পর্শে যাওয়ায় এগুলোর আকৃতি পরিবর্তন ঘটবে। এক পর্যায়ে এগুলো সঙ্গে নিয়ে যাওয়া কেমোর ওষুধ মুখ হা করে ছেড়ে দেবে।

প্রাথমিকভাবে মাছগুলোর এমন আচরণ কাচের পাত্রে পরীক্ষা করে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে এগুলোর আকৃতি আরও ছোট করার চিন্তা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে কেমোর ওষুধকে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রথমে শরীরে প্রবেশ করানো হয়। পরে রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে এই ওষুধ সারা শরীরে ঘুরে বেড়ায় আর ক্যান্সার কোষগুলোর সঙ্গে যুদ্ধ করে। কিন্তু এই যুদ্ধে ক্যান্সার কোষ ছাড়াও অসংখ্য সুস্থ কোষও মারা যায়। যার প্রভাবে রোগীর শরীরে বিভিন্ন পর্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়। শারীরিক অস্বস্তি ও চুল পড়ে যাওয়া এর মধ্যে অন্যতম।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, রোবট মাছ শুধু ক্যান্সার কোষগুলোকেই নিশানা করবে। এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত থাকবেন রোগীরা।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭ নথি উধাও

শেয়ার করুন

হাওরে অপুষ্টিতে ভুগছে ৫২ শতাংশ শিশু

হাওরে অপুষ্টিতে ভুগছে ৫২ শতাংশ শিশু

সুনামগঞ্জের হাওরে অপুষ্টিতে ভুগছে অনেক শিশু। ছবি: নিউজবাংলা

সুনামগঞ্জ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্যমতে, জেলায় বর্তমান খর্বাকার রোগে ভুগছে ৫২ শতাংশ শিশু, ক্ষীণকার ১৫ শতাংশ, কম ওজন নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুর সংখ্যা ২৬ শতাংশ এবং নিরাপদ মায়ের বুকের দুধের অভাবে ভুগছে ৫৫ শতাংশ শিশু। অর্থ ও সচেতনতার অভাবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই বেশি অপুষ্টিতে ভুগছে।

হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ প্রাকৃতিকভাবে সমৃদ্ধ হলেও দারিদ্র্যের হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অপুষ্টিতে ভুগছে অধিকাংশ শিশু।

সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের সবশেষ জরিপ অনুযায়ী, জেলায় ৫২ শতাংশ শিশু অপুষ্টিজনিত রোগে আক্রান্ত। এ হারকে স্বাস্থ্য বিভাগ উচ্চতর সমস্যা বললেও পর্যাপ্ত জনবল সংকটে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের।

অভাব-অনটনের কারণে শিশুদের জন্য আলাদা করে পুষ্টিকর খাবার জোগাড়ে ব্যর্থতা এবং সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করছেন অভিভাবকরা।

সুনামগঞ্জ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্যমতে, জেলায় বর্তমান খর্বাকার রোগে ভুগছে ৫২ শতাংশ শিশু, ক্ষীণকার ১৫ শতাংশ, কম ওজন নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুর সংখ্যা ২৬ শতাংশ এবং নিরাপদ মায়ের বুকের দুধের অভাবে ভুগছে ৫৫ শতাংশ শিশু।

অর্থ ও সচেতনতার অভাবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই বেশি অপুষ্টিতে ভুগছে। সুনামগঞ্জের শাল্লা, মধ্যনগর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার শিশুরা তুলনামূলকভাবে বেশি অপুষ্টির শিকার।

দোয়ারাবাজার ও শাল্লা উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, শহরের শিশুদের তুলনায় প্রত্যন্ত এলাকার শিশুরা রোগা ও বেটে। এসব গ্রামের মানুষের ‘দিন আনি দিন খাই’ অবস্থা হওয়ায় আলাদাভাবে শিশুর বিকাশের দিকে মনোযোগ নেই অভিভাবকদের।

সুনামগঞ্জ ধান ও মাছের জন্য বিখ্যাত হলেও শাকসবজির ফলন কম। হাওরে জেলেদের জালে ছোট-বড় দেশি পুষ্টিকর মাছ উঠলেও সেই মাছ সন্তানদের না খাইয়ে বাজারে বিক্রি করে বাড়িতে নিয়ে যান পাঙাশ মাছ।

এ অঞ্চলের মানুষের অভিযোগ, সরকারিভাবে শিশুদের টিকাদান ও ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানো ছাড়া আর কোনো কার্যক্রম নেই।

হাওরে অপুষ্টিতে ভুগছে ৫২ শতাংশ শিশু
সুনামগঞ্জের হাওরে অপুষ্টিতে ভুগছে অনেক শিশু। ছবি: নিউজবাংলা

শাল্লা উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের আছিয়া বেগম বলেন, ‘আমার চার সন্তানের সবাই বেশির ভাগ সময় অসুস্থ থাকে। ডাক্তার দেখাই কিন্তু ভালা কিচ্ছু কিনিয়া বাচ্চাগুনতে মুখও দেয়ার মুরদ নাই আমরার, আলু আর পাঙাশ মাছ ইটা দিয়াই চলরাম আমরা। যেদিন তাইনের একটু ভালা ইনকাম হয়, তে একদিন মাংস খাইলায়। কিন্তু বাজারও যে জিনিসের দাম বাড়ছে এখন তিনবেলা কোনো রকম খাইয়া বাছিয়া আছি।’

একই গ্রামের কৃষক জয়ন্ত দাস বলেন, ‘ছেলেমেয়েরে কিতা খাওয়াইতাম বাজারও যে জিনিসের দাম আগুন, এখন ধান লাগানিত গেলেও টাকা লাগব বেশি, আমরা কিতা করতাম, যা নিজে খাই তাই ছেলেরারে খাওয়াই, সরকার যদি আমরারে একটু দেখে তাইলে ভালা অইতো।’

দোয়ারাবাজারের আমবাড়ী এলাকার শিল্পী বেগম বলেন, ‘বাজারও নতুন নতুন সবজি আইছে, কিন্তু যে আগুন দাম ইতা কিনিয়া আনিয়া খাওয়ানি যাইত না। স্বাস্থ্যকর্মীরা আয় তারা টিকা আর ভিটামিন ট্যাবলেট দেয়, ইটাই শেষ আর কিচ্ছু করে না। যা কইবার মুখে কয়, কিন্তু গরিবের কথা শুনিয়া লাভ নাই, যদি পারে সাহায্য করতে পারে।’

বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান) সুনামগঞ্জের সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমরা হাওর এলাকার কৃষক-জেলে থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষকে ফসল ও শাকসবজি উৎপাদন এবং এসবের ভিটামিন সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছি। তারা প্রশিক্ষণ অনুযায়ী জীবনযাপন করলে পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্ট ফসল বিক্রি করে লাভবান হতে পারবেন।’

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘হাওরের প্রান্তিক পর্যায়ের শিশুরাই পুষ্টিহীনতায় বেশি ভুগছে, তাদের তুলনায় শহরকেন্দ্রিক বসবাস করা শিশুরা ভালো আছে।

‘হাওরের মায়েদেরও কিছুটা দায়সারা ভাব রয়েছে। এমনও দেখা যায়, পুষ্টিকর মাছ ধরে বিক্রি করে তারা চাল, ডাল, আলু আর পাঙাশ মাছ নিয়ে যাচ্ছেন। এখানে সব মানুষের খাবারে বৈচিত্র্যের অভাব রয়েছে। এক জরিপে দেখা গেছে, সুনামগঞ্জের ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবার দৈনিক ব্যবহারের জন্য শুধু প্রধান খাদ্য কেনে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কিছু করার নেই, এখানে আমি একাই কাজ করি। বাকি পদগুলো শূন্য রয়েছে। একা সবদিক কীভাবে দেখব। তবে প্রায় সময়ই নিয়োগের জন্য বলি, ফল হয় না।’

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন বলেন, ‘জেলার প্রতিটি ওয়ার্ডেই পুষ্টিবিষয়ক কার্যক্রম চালু আছে। মা সমাবেশসহ নানা প্রচারণা চালানো হয়। তবে আলাদাভাবে আমাদের হাতে কোনো প্রকল্প নেই।’

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭ নথি উধাও

শেয়ার করুন

করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ২৮ হাজার

করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ২৮ হাজার

দেশে এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ১ জনের। ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ৪৪৩ জনের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ১ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যু ছাড়িয়েছে ২৮ হাজার।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যু ছাড়িয়েছে ২৮ হাজার। এ সময়ের মধ্যে আরও ১৯৭ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

রোববার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত ২৪ ঘণ্টার এ তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ৪৪৩ জনের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ১ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৪৮টি ল্যাবে ১৯ হাজার ১৩২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে তিন জন নারী ও তিন জন পুরুষ রয়েছেন। এদের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব এক, চল্লিশোর্ধ্ব ২, ও ষাটোর্ধ্ব ৩ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়। এ বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। এ ছাড়া ময়মনসিংহে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২২৬ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ৪৪৩ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

দেশে করোনা প্রথম ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। এটি নিয়ন্ত্রণে আসার পর করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত মার্চ থেকে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার মাস পাঁচেক পর এটি নিয়ন্ত্রণে আসে গত অক্টোবরে। গত দুই মাস ধরে করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় নতুন শনাক্ত ওক্রিমণ নিয়ে নতুন শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নতুন শনাক্ত হওয়া এই ধরনকে রুখতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ১৫ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭ নথি উধাও

শেয়ার করুন

ওমিক্রন: ‘এখনই সীমান্ত বন্ধের পরিকল্পনা নেই’

ওমিক্রন: ‘এখনই সীমান্ত বন্ধের পরিকল্পনা নেই’

সাভারে নবনির্মিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের বর্ডার বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। বর্ডারে আমরা পরীক্ষা, স্ক্রিনিং ও কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা জোরদার করেছি। এখনও দেশে সে রকম কোনো পরিবেশ তৈরি হয়নি যে আমাদের লকডাউনের চিন্তা করতে হবে। দেশ ভালো আছে, নিরাপদে আছে।’ 

করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের কারণে এখনই সীমান্ত বন্ধের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সাভারে নবনির্মিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট পরিদর্শনে গিয়ে রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের বর্ডার বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। বর্ডারে আমরা পরীক্ষা, স্ক্রিনিং ও কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা জোরদার করেছি। এখনও দেশে সে রকম কোনো পরিবেশ তৈরি হয়নি যে আমাদের লকডাউনের চিন্তা করতে হবে। দেশ ভালো আছে, নিরাপদে আছে।

‘যারা বিদেশ থেকে আসবেন তারা যেন সংক্রমিত হয়ে দেশে না আসেন। আমি আহ্বান করব, বিশেষ করে সংক্রমিত আফ্রিকাতে যারা আছেন আপনার এই মুহূর্তে দেশে না এলে ভালো হয়। কারণ আপনাদের পরিবার ও দেশকে নিরাপদে রাখতে হলে এখন যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাভারে গণটিকাদান কর্মসূচি পরিদর্শন করেন। তার সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ওমিক্রন: ‘এখনই সীমান্ত বন্ধের পরিকল্পনা নেই’
সাভারে নবনির্মিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘ওমিক্রন প্রতিরোধে আমাদের যা যা প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব আমরা নিচ্ছি। আমাদের আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয়েছে। সেখানে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমাদের দেশে যারা আফ্রিকা থেকে আসছে তাদের ৪৮ ঘণ্টা আগে পরীক্ষা করে আসতে হবে এবং ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। ওমিক্রন আক্রান্ত দেশ থেকে এলেও পরীক্ষা করে আসতে হবে।

‘ঢাকায় অনেকগুলো কোয়ারেন্টিন সেন্টার করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোকে কোয়ারেন্টিন সেন্টার করার কথা বলা হয়েছে। যারা বিদেশ থেকে আসবে তাদের নিজ খরচে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই হাজার বর্গফুটের আরটিপিসিআর ল্যাব ছিল। সেটির আয়তন বাড়িয়ে তিন হাজারের বেশি বর্গফুটের করা হয়েছে। সেখানে পরীক্ষা, বসা, খাওয়া ও নামাজসহ সবকিছুর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের হাসপাতাল ও আইসিইউ প্রস্তুত রেখেছি। সব জেলা শহর ও বিভাগীয় কার্যালয়ে চিঠি দিয়ে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা প্রস্তুত আছি।

‘জনবল বাড়ানোর জন্য ৮ হাজার নার্স ও ৪ হাজার চিকিৎসক নতুন নিয়োগ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে টিকা কর্মসূচিও জোরদার করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ১০ কোটি টিকার ডোজ দেয়া হয়ে গেছে।’

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭ নথি উধাও

শেয়ার করুন

টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিলেন জবির ৪০০ শিক্ষার্থী

টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিলেন জবির ৪০০ শিক্ষার্থী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আধুনিক মেডিক্যাল সেন্টারে করোনার টিকা নিচ্ছেন এক শিক্ষার্থী। ছবি: নিউজবাংলা

মেডিক্যাল সেন্টার সূত্রে জানা যায়, সোমবার ৬০০ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়ার পর মঙ্গলবার শেষদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেয়া হবে। যারা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন শুধুমাত্র তারা দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারবেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আধুনিক মেডিক্যাল সেন্টারে রোববার দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন ৪০০ শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেয়া চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত।

মেডিক্যাল সেন্টার সূত্রে জানা যায়, টিকাদানের দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিনে রোববার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টিকা নেন ৪০০ শিক্ষার্থী। এরমধ্যে ২৪৯ জন ছাত্র ও ১৫১ জন ছাত্রী। তাদের সিনোফার্মের টিকা দেয়া হয়েছে।

সোমবার ৬০০ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়ার পর মঙ্গলবার শেষদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেয়া হবে। যারা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন শুধুমাত্র তারা দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারবেন।

টিকার এ কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (ছাত্র-কল্যাণ) অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলামসহ মেডিকেল সেন্টার, আইসিটি সেল ও ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তারা।

গত ২১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের দিনে করোনার টিকা কেন্দ্র উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক। এরপর ২৫ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি চলে। তখন প্রথম ডোজের টিকা নেন মোট ১ হাজার ৯৬০ জন।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭ নথি উধাও

শেয়ার করুন

বগুড়ায় হার্টে রিং পরানো শুরু

বগুড়ায় হার্টে রিং পরানো শুরু

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক মীর জামাল উদ্দিন শনিবার শজিমেক হাসপাতালে রোগীর হার্টে রিং পরানো কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ছবি: নিউজবাংলা

হাসপাতালের উপপরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘শজিমেক হাসপাতালে স্টেনটিং বা হার্টে রিং পরানো শুরু হলো। প্রফেসর মীর জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের টিম আজ ১৩ রোগীর এনজিওগ্রাম এবং দুই রোগীকে রিং পরিয়েছে।’

উত্তরের জেলা বগুড়ায় রোগীর হার্টে রিং পরানো শুরু হয়েছে।

দুই রোগীর হার্টে রিং পরানোর মধ্য দিয়ে শনিবার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে এই কার্যক্রম চালু হলো।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক মীর জামাল উদ্দিন সেখানে এ চিকিৎসা উদ্বোধন করেন। পরে তার নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের টিম হার্টে রিং পরানো শুরু করে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শজিমেকের অধ্যক্ষ রেজাউল আলম জুয়েল, হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ মহসীন, উপপরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ, কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক শেখ মো. শহিদুল হক।

হাসপাতালের উপপরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘শজিমেক হাসপাতালে স্টেনটিং বা হার্টে রিং পরানো শুরু হলো। প্রফেসর মীর জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের টিম আজ ১৩ রোগীর এনজিওগ্রাম এবং দুই রোগীকে রিং পরিয়েছে।’

হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ মহসীন জানান, শনিবার থেকে শুরু হওয়া রিং পরানো কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এখন থেকে বগুড়াসহ আশপাশের জেলার রোগীরা অল্প খরচে শজিমেক হাসপাতালে স্টেনটিং চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭ নথি উধাও

শেয়ার করুন

করোনায় আরও ৩ মৃত্যু, শনাক্ত ২৪৩

করোনায় আরও ৩ মৃত্যু, শনাক্ত ২৪৩

দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ৭০ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৯৮৯ জনের।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে ২৪৩ জনের দেহে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে শুক্রবার বিকেলে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ৭০ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৯৮৯ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৪৮টি ল্যাবে ১৭ হাজার ৩৮৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১ দশমিক ৪০ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন পুরুষ, একজন নারী। মৃতদের মধ্যে পঞ্চাশোর্ধ্ব দুজন, ষাটোর্ধ্ব একজন।

তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে দুজনের মৃত্যু হয়েছে, খুলনা বিভাগে মৃত্যু হয়েছে একজনের।

গত এক দিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২২৫ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৪১ হাজার ৮৮৬ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহ নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সে দেশের করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে ধরা হয়।

সে অনুযায়ী বাংলাদেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ইতিমধ্যে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সরকারের লক্ষ্য এই হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭ নথি উধাও

শেয়ার করুন