পুলিশ অফিসারদের প্রতিটি প্রাইমারি স্কুলে যাওয়া উচিত: জাফর ইকবাল

পুলিশ অফিসারদের প্রতিটি প্রাইমারি স্কুলে যাওয়া উচিত: জাফর ইকবাল

শনিবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশিং ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

জাফর ইকবাল বলেন, ‘প্রতিটা প্রাইমারি স্কুলে পুলিশ অফিসারদের যাওয়া উচিত। গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলা উচিত। সেখানে নারী পুলিশ গেলে মেয়েরা উদ্বুদ্ধ হবে। তারা ভাববে, কে বলেছে, মেয়েরা শুধু ঘরে বসে রান্না করবে, তারা পুলিশ অফিসার হতে পারবে।’

ভবিষ্যতে শিশুদের পুলিশে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করতে দেশের প্রতিটি প্রাইমারি স্কুলে পুলিশ কর্মকর্তাদের যাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

তিনি বলেছেন, ‘ছোট বাচ্চারা পুলিশের পোশাক দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়। কি সুন্দর পোশাক। এটা আমার খুব ভাল লেগেছে। কাজেই ছোট বাচ্চাদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য পুলিশের অনেক ভূমিকা রয়েছে।

‘প্রতিটা প্রাইমারি স্কুলে পুলিশ অফিসারদের যাওয়া উচিত। গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলা উচিত। সেখানে নারী পুলিশ গেলে মেয়েরা উদ্বুদ্ধ হবে। তারা ভাববে, কে বলেছে, মেয়েরা শুধু ঘরে বসে রান্না করবে, তারা পুলিশ অফিসার হতে পারবে।’

শনিবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে শহীদ শিরু মিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২১-এর উদ্বোধন ও আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক বলেন, ‘আমি যদি ভালো মানুষ না হই, যত কথাই বলি না কেন কেউ আমার কথা শুনবে না। যদি আমরা জনসেবা করতে চাই আমাদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে। ইতোমধ্যে পুলিশের অনেকে এই কাজ করে যাচ্ছেন।’

জাফর ইকবাল বলেন, ‘যখন আমি রাজারবাগ পুলিশ লাইনে ঢুকি, তখন মনে হয় আমি একটা তীর্থস্থানে এসেছি। এই জায়গা সেই যায়গা যেখানে পাকিস্তান আর্মির বিরুদ্ধে প্রথম বুলেট নিক্ষিপ্ত হয়েছিল। পুলিশ বাহিনীর পাকিস্তান আর্মির সঙ্গে যুদ্ধ করার ক্ষমতা ছিল না। কিন্তু তারা প্রথম প্রতিরোধ করেছিল।’

একাত্তরের ২৫ মার্চের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা একজন পুলিশ অফিসার ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে আমাদের সবার ঘুম ভেঙে গেল মাইকের একটা অ্যানাউন্স শুনে যে, বাংলাদেশে পাকিস্তান আর্মিরা গণহত্যা শুরু করেছে। আমার বাবাকে পাকিস্তানি বাহিনী গুলি করে একটা নদীতে ফেলে গিয়েছিল।

‘বাবার মরদেহ পানিতে ভেসেছে তিন দিন ধরে। মৃতদেহ তিন দিন পড়ে থাকলে সাধারণত স্বাভাবিক থাকে না। মানুষ সেটা ধরতে চায় না। কিন্তু আমার বাবা পুলিশের পোশাক পরে ছিলেন, মানুষ আবার বাবাকে ভালবাসতেন। কারণ তিনি একজন সৎ পুলিশ অফিসার ছিলেন। মানুষজন ধরে তাকে নদীর তীরে এনেছিলেন।’

জাফর ইকবাল বলেন, ‘এই কথাগুলো বলার কারণ, আমাকে ভালো মানুষ হতে হবে। আমি যদি ভালো মানুষ না হই, আমি যত ভালো কথাই বলি মানুষ আমার কথা শুনবে না। আমি যদি কিছু করতে চাই আমাকে ভালমানুষ হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘যখন আমি শুনেছি বাংলাদেশে কমিউনিটি পুলিশিং শুরু হয়েছে, আমি খুবই আনন্দিত হয়েছি। আমি কি একজনকে রোগাক্রান্ত করে হাসপাতালে নিয়ে আইসিইউতে রেখে, সিসিইউতে রেখে লাখ লাখ টাকা খরচ করে তাকে বাসায় আনব? নাকি চেষ্টা করব তার রোগটাই না হয়? অবশ্যই চেষ্টা করব, রোগটাই না হয়।’

জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমরা কী কাউকে অপরাধ করতে দিয়ে শাস্তি দিব? নাকি আমরা এমন একটা পরিবেশ তৈরি করব, যেখানে অপরাধের সংখ্যা কমে আসে?’

দেশের মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কিছু হলেই আমরা বিদেশের সঙ্গে তুলনা করি। বিদেশে অমুক আছে, তমুক আছে। আমি কিন্তু বিদেশের সঙ্গে তুলনা করতে রাজি না। পৃথিবীর অনেক আধুনিক দেশ আছে যে দেশের অবস্থা ভালো না। যুক্তরাষ্ট্রের জেলখানায় যত মানুষ আছে, আমার মনে হয় না পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের জেলখানায় এত মানুষ আছে।’

জাফর ইকবাল বলেন, ‘নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্কের মতো দেশ যথেষ্ট অপরাধী না থাকায় জেলখানা বন্ধ করে দেয়ার চিন্তা করছে। আমরাও এমন একটা দেশ চাই, যেখানে মানুষ অপরাধ করবে না।’

পুলিশের জনসেবার কথা উল্লেখ করে এই লেখক বলেন, ‘যদি আমরা জনসেবা করতে চাই, আমাদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে। ইতোমধ্যে অনেকে এই কাজ করে যাচ্ছেন। এক এলাকায় এক পুলিশ অফিসার দেখেন, তার এলাকায় যারা মোটরসাইকেল চালান, বেশিরভাগ মানুষের ড্রাইভিং লাইসেন্স নাই। কারণ কীভাবে লাইসেন্স করতে হয় তিনি জানেন না। তখন তিনি সবাইকে ডেকে নিজে ফরম পূরণ করে লাইসেন্স পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।’

জাফর ইকবাল বলেন, ‘এই কাজ পুলিশের কোথাও লেখা নাই, কিন্তু তিনি করেছেন। আমি অনেক জায়গায় দেখেছি পুলিশ সদস্যরা এসে স্কুলের বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলেন। গরিব বাচ্চাদের খাবারের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘যদি অনেক ভালো, অনেক বড় কিছু করতে চান তবে সেটা ভলেন্টিয়ারদের দিয়ে করতে হবে। টাকা দিয়ে সব হয় না। ভলেন্টিয়াররা যে কাজ করে সেটা মন থেকে করে। কাজেই এই কমিউনিটি পুলিশিং করার জন্য নিশ্চয়ই অনেক ভলেন্টিয়ার দরকার। সারা দেশে ভলেন্টিয়াররা পুলিশের পাশাপাশি বসে সেই কাজ করবে।’

বঙ্গবন্ধুর কথা উল্লেখ করে জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমাদের খুবই দুর্ভাগ্য বঙ্গবন্ধু মতো মানুষ সময় পেলেন না। দেশের মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সে তার চলে যেতে হল। সব কিছুতেই তার পরিষ্কার জ্ঞান ছিল।

‘তিনি পাকিস্তান কারাগার থেকে ফিরে এসে প্রথম শিক্ষানীতি তৈরি করলেন। দায়িত্ব দিলেন বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-এ-খুদাকে। তিনি বুঝেছিলেন বিজ্ঞানটা কত প্রয়োজন। কুদরত-এ-খুদা একটি সুন্দর শিক্ষানীতি তৈরি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু আনফরচুনেটলি সেটা কার্যকর হয় নাই। যদি তার শিক্ষা নীতি কার্যকর হতো, তাহলে এতদিন পরে এসে আমাদের জঙ্গি নিয়ে দুর্ভাবনা করতে হত না।’

তিনি বলেন, ‘দেশে যে পরিমাণ পুলিশ সদস্য থাকার কথা আমাদের দেশে তার ১০ ভাগের এক ভাগ আছে। বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে ইভটিজিং বন্ধ করে দিতে পারবেন। কারণ, ওই এলাকার লোকজন জানে কারা ইভটিজিং করে। এলাকায় বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়ে যাবে, কারণ ওই এলাকার মানুষ জানবে কে বাল্যবিবাহ দিচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
সাইবার ক্রাইম ইউনিটের আকার বাড়বে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
হেলিকপ্টার পাচ্ছে পুলিশ
সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর পক্ষে ডিএমপি কমিশনার
ডাকাতি করে চাকরি খোয়ালেন পুলিশ কনস্টেবল
কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার সময় পরিবর্তন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফুডপান্ডার সঙ্গে এবি ব্যাংকের চুক্তি

ফুডপান্ডার সঙ্গে এবি ব্যাংকের চুক্তি

চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ফুডপান্ডা বাংলাদেশের হেড অব কর্পোরেট সেলস সৈয়দ ফায়েদ মুনাইম ও এবি ব্যাংকের হেড অব প্রোডাক্ট অ্যান্ড সেগমেন্ট মো. রেজাউল শাহরিয়ার। ছবি: সংগৃহীত

ফুডপান্ডা বিজনেসের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ব্যাংকটির নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহককে ফ্রি গিফট ভাউচার দেবে এবি ব্যাংক।   

ফুডপান্ডা বিজনেসের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবি ব্যাংক লিমিটেড। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় ব্যাংকটির নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহককে ফ্রি গিফট ভাউচার দেবে এবি ব্যাংক।

ফুডপান্ডা বাংলাদেশের হেড অব কর্পোরেট সেলস সৈয়দ ফায়েদ মুনাইম ও এবি ব্যাংকের হেড অব প্রোডাক্ট অ্যান্ড সেগমেন্ট মো. রেজাউল শাহরিয়ার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে এবি ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবদুর রহমান ও ফুডপান্ডা বাংলাদেশের সেলস ডিরেক্টরশাহরুখ হাসনাইনসহ প্রতিষ্ঠান দুটির অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সাইবার ক্রাইম ইউনিটের আকার বাড়বে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
হেলিকপ্টার পাচ্ছে পুলিশ
সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর পক্ষে ডিএমপি কমিশনার
ডাকাতি করে চাকরি খোয়ালেন পুলিশ কনস্টেবল
কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার সময় পরিবর্তন

শেয়ার করুন

সরকার কেন চুক্তি করেছিল, প্রশ্ন সন্তু লারমার

সরকার কেন চুক্তি করেছিল, প্রশ্ন সন্তু লারমার

বৃহস্পতিবার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই যুগ পূর্তিতে আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে আলোচনায় বক্তব্য দেন দুই যুগ আগে সরকারের সঙ্গে চুক্তিতে সই করা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বা সন্তু লারমা। ছবি: নিউজবাংলা

দুই যুগ আগে সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে সই করা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বা সন্তু লারমা বলেন, ‘আজ প্রশ্ন করতে হচ্ছে, সরকার কেন চুক্তি করেছিল? পার্বত্য সমস্যাকে সমাধানের জন্য নাকি, জুম্ম জনগণের অস্তিত্বকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার জন্য?’

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি অভিযোগ করে একে হতাশাজনক বলেছেন দুই যুগ আগে সরকারের সঙ্গে চুক্তিতে সই করা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বা সন্তু লারমা।

যে সরকার এই চুক্তি করেছিল, গত ২৪ বছরে সেই সরকারই ক্ষমতায় আছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, তাহলে কেন এই চুক্তি করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই যুগ পূর্তিতে রাজধানীর ঢাকার আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে এক আলোচনায় তিনি এই প্রশ্ন রাখেন।

৮০ দশক থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে থাকা পার্বত্য চট্টগ্রম জনসংহতি সমিতির সামরিক শাখা ‘শান্তি বাহিনী’কে অস্ত্র সমর্পণে রাজি করিয়ে ১৯৯৭ সালের ১ ডিসেম্বর সই হয় ঐহিতাসিক চুক্তি। এতে সরকারের পক্ষ থেকে সরকারের পক্ষ থেকে সই করেন আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, আর জনসংহতি সমিতির পক্ষ থেকে সই করেন প্রধান সন্তু লারমা।

চুক্তিতে যেসব শর্তের উল্লেখ ছিল, তার অনেকগুলো বাস্তবায়ন হলেও বেশ কিছু ধারা এখনও অবাস্তবায়িত অবস্থায় আছে। প্রতি বছর চুক্তির বার্ষিকীতে সেই বিষয়গুলো উঠে আসে।

সন্তু লারমা বলেন, ‘আজ প্রশ্ন করতে হচ্ছে, সরকার কেন চুক্তি করেছিল? পার্বত্য সমস্যাকে সমাধানের জন্য নাকি, জুম্ম জনগণের অস্তিত্বকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার জন্য?’

তিনি বলেন, ‘যে সরকারের আমলে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, গত ২৪ বছরে সে সরকারই অধিকাংশ সময় ক্ষমতায় আছে। কিন্তু চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া একেবারেই থেমে আছে।... পাহাড়ের মানুষ শান্তিপ্রিয় বলে এখনও অপেক্ষা করছে সরকার চুক্তি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে।’

চুক্তি যদি বাস্তবায়ন না হয় তবে পাহাড়ের ছাত্র যুব সমাজ রুখে দাঁড়াবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সন্তু লামরা বলেন, ‘পার্বত্য জনগণ তাদের ভূমির অধিকার, অস্তিত্বকে সুরক্ষার জন্যই আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছিল। পাহাড়ের মানুষের জন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্য থাকত, তাহলে পাহাড়ের জুম্ম জনগণ সরকারের সঙ্গে আলোচনায় আসত না।’

জনসংহতি সমিতির সভাপতি বলেন, ‘সরকার বলছে তারা উন্নয়ন করছে। কিন্তু পাঁচ তারকা হোটেল করে পাহাড়িদের জীবিকার সর্বনাশ করার তাদের উন্নয়ন।...পার্বত্য চট্টগ্রাম আজ বড় ধরনের কারাগারে পরিণত হয়েছে। কারাগারে যেভাবে কয়েদিদের বসবাস করতে হয় আজকে সেভাবেই বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছি।’

সন্তু লারমা করেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে আজ দুটি পক্ষ। একটি পক্ষ যারা পাহাড়ের নিরীহ মানুষ, যারা চুক্তির বাস্তবায়ন চায়; আর আরেকটি পক্ষ সরকার এবং তার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষ।’

আজও জনসংহতি সমিতিকে ‘সন্ত্রাসী দল’ হিসাবে চিহ্নিত করে দমন-পীড়ন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয় আলোচনায়। বলেন, ‘অনেক নেতাকর্মীকে আজ মামলা দিয়ে, হামলা করে নিপীড়ন চালানো হচ্ছে।...বহিরাগত যে গরিব বাঙালিদেরকে জিয়াউর রহমান নিয়ে গিয়েছিল, তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এখনো চলমান। তারা আজ পাহাড়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।

‘সেখানে বলার অধিকার নেই, জীবিকার অধিকার নেই। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত পাহাড়ে আদিবাসী জনগণের জুম চাষ, আদা-হলুদ চাষের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।’

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং এর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের কো-চেয়ার সুলতানা কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মেসবাহ কামাল ও সাদেকা হালিমও আলোচনায় বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
সাইবার ক্রাইম ইউনিটের আকার বাড়বে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
হেলিকপ্টার পাচ্ছে পুলিশ
সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর পক্ষে ডিএমপি কমিশনার
ডাকাতি করে চাকরি খোয়ালেন পুলিশ কনস্টেবল
কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার সময় পরিবর্তন

শেয়ার করুন

৪১তম বিসিএস: বিষয়ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষা শুরু ২৯ ডিসেম্বর

৪১তম বিসিএস: বিষয়ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষা শুরু ২৯ ডিসেম্বর

সরকারি চাকরিতে বিভিন্ন ক্যাডারে ২ হাজার ১৩৫টি শূন্য পদে প্রার্থী নিয়োগ দিতে গত বছরের ২৭ নভেম্বর ৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। ফাইল ছবি

বৃহস্পতিবার পিএসসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নূর আহম্মদের সই করা অফিস আদেশে বলা হয়, ৪১তম বিসিএসের বিষয়ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২৯ ডিসেম্বর থেকে, চলবে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত। পরীক্ষার হল, আসন বিন্যাস ও বিস্তারিত বিষয়াধি পরে জানিয়ে দেয়া হবে। এর আগে গত ১৯ মার্চ দেশের আট বিভাগের কেন্দ্রে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৪১তম বিসিএসে আবেদন করেছিলেন ৪ লাখ ৪ হাজার ৫১৩ জন প্রার্থী। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৩ লাখ ৪ হাজার ৯০৭ জন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি ৯৯ হাজার ৬০৬ জন।

৪১তম বিসিএসের বিষয়ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২৯ ডিসেম্বর থেকে। চলবে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত। এর আগে গত ২৯ নভেম্বর থেকে ৪১তম বিসিএসের আবশ্যিক বিষয়গুলোর লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়। যা চলবে আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসসি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নূর আহম্মদের সই করা অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এতে বলা হয়, ৪১তম বিসিএসের বিষয়ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২৯ ডিসেম্বর থেকে, চলবে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত। পরীক্ষার হল, আসন বিন্যাস ও বিস্তারিত বিষয়াধি পরে জানিয়ে দেয়া হবে।

এর আগে গত ১৯ মার্চ দেশের আট বিভাগের কেন্দ্রে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৪১তম বিসিএসে আবেদন করেছিলেন ৪ লাখ ৪ হাজার ৫১৩ জন প্রার্থী। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৩ লাখ ৪ হাজার ৯০৭ জন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি ৯৯ হাজার ৬০৬ জন।

গত ১ আগস্ট প্রকাশিত প্রিলিমিনারির ফলাফলে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২১ হাজার ৫৬ জন। উত্তীর্ণরাই লিখিত পরীক্ষায় বসছেন।

সরকারি চাকরিতে বিভিন্ন ক্যাডারে ২ হাজার ১৩৫টি শূন্য পদে প্রার্থী নিয়োগ দিতে গত বছরের ২৭ নভেম্বর ৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রশাসন ক্যাডারে ৩২৩ জন, পুলিশে ১০০ জন, পররাষ্ট্রে ২৫ জন, আনসারে ২৩ জন, অর্থ মন্ত্রণালয়ে সহকারী মহাহিসাবরক্ষক (নিরীক্ষা ও হিসাব) ২৫ জন, সহকারী কর কমিশনার (কর) ৬০ জন, সহকারী কমিশনার (শুল্ক ও আবগারি) ২৩ জন ও সহকারী নিবন্ধক হিসেবে ৮ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে।

শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ দেয়া হবে ৯১৫ জনকে। বিসিএস স্বাস্থ্যে সহকারী সার্জন হিসেবে ১১০ জন ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন হিসেবে ৩০ জন নিয়োগ পাবেন।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে পরিসংখ্যান কর্মকর্তা হিসেবে ১২ জন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে সহকারী যন্ত্র প্রকৌশলী হিসেবে ৪ জন, সহকারী ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে ১ জন, সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক হিসেবে ১ জন, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) হিসেবে ২০ জন ও সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) হিসেবে ৩ জন নিয়োগ পাবেন।

তথ্য মন্ত্রণালয়ে সহকারী পরিচালক বা তথ্য কর্মকর্তা বা গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে ২২ জন, সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান) হিসেবে ১১ জন, সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক হিসেবে ৫ জন, সহকারী বেতার প্রকৌশলী হিসেবে ৯ জন, স্থানীয় সরকার বিভাগে বিসিএস জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ৩৬ জন, সহকারী বন সংরক্ষক হিসেবে ২০ জন নিয়োগ পাবেন।

সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেলে ২ জন, মৎস্যে ১৫ জন, পশুসম্পদে ৭৬ জন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে ১৮৩ জন ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে ৬ জন, বাণিজ্যে সহকারী নিয়ন্ত্রক হিসেবে ৪ জন নিয়োগ পাবেন।

এ ছাড়া পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদে ৪ জন, সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক পদে ৬ জন ও সহকারী রক্ষণ প্রকৌশলী পদে ২ জন, বিসিএস গণপূর্তে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে ৩৬ জন এবং সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) পদে ১৫ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
সাইবার ক্রাইম ইউনিটের আকার বাড়বে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
হেলিকপ্টার পাচ্ছে পুলিশ
সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর পক্ষে ডিএমপি কমিশনার
ডাকাতি করে চাকরি খোয়ালেন পুলিশ কনস্টেবল
কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার সময় পরিবর্তন

শেয়ার করুন

ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান খুঁজুন: জাতিসংঘে বাংলাদেশ

ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান খুঁজুন: জাতিসংঘে বাংলাদেশ

গাজা সীমান্তে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফিলিস্তিনিরা। ছবি: এএফপি

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ইসরায়েল যাতে সব আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইন এবং জাতিসংঘ রেজুলেশন ২৩৩৪-এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য জাতিসংঘ রেজুলেশন যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে সম্মত হয়, তা আমাদেরই নিশ্চিত করতে হবে।’

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই ফিলিস্তিন সংকটের মূল কারণ খুঁজে বের করে তার সমাধান করতে হবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ।

একই সঙ্গে ইসরায়েলি আগ্রাসনের অবসানে সত্যিকারের প্রচেষ্টা নেয়ারও আহ্বান জানিয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ইসরায়েল যাতে সব আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইন এবং জাতিসংঘ রেজুলেশন ২৩৩৪-এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য জাতিসংঘ রেজুলেশন যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে সম্মত হয়, তা আমাদেরই নিশ্চিত করতে হবে।’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিন প্রশ্নে আয়োজিত প্লেনারি সভায় দেশের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন সংস্থাটিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা।

১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন, কার্যকর ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের অটুট ও অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর মাধ্যমে বাড়িঘর ও অবকাঠামো ভেঙে ফেলা, দখল করা, বহিষ্কার, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং ফিলিস্তিনিদের রক্তপাত ঘটানোর কারণে ইসরায়েল অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ইসরায়েলের এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাতিসংঘ রেজুলেশন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের প্রতি সুস্পষ্ট অবজ্ঞা প্রদর্শন।

তিনি বলেন, অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার ঘৃণ্য সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে এবং অধিকৃত ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সংঘটিত নৃশংস অপরাধের অবশ্যই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন:
সাইবার ক্রাইম ইউনিটের আকার বাড়বে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
হেলিকপ্টার পাচ্ছে পুলিশ
সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর পক্ষে ডিএমপি কমিশনার
ডাকাতি করে চাকরি খোয়ালেন পুলিশ কনস্টেবল
কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার সময় পরিবর্তন

শেয়ার করুন

অপহরণের ১০ দিন পর শিশু উদ্ধার, নারী কারাগারে

অপহরণের ১০ দিন পর শিশু উদ্ধার, নারী কারাগারে

ফরিদপুর ভাঙ্গায় অপহরণে জড়িত অভিযোগে জোছনা আক্তার নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপহরণে জড়িত বলে জোছনাকে শনাক্ত করে পুলিশ। বুধবার পুলিশের একটি দল ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার মালিগ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখান থেকে অপহৃত শিশু আয়েশাকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

গাজীপুরের টঙ্গী থেকে অপহৃত পাঁচ মাসের এক শিশুকে ১০ দিন পর ফরিদপুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জোছনা আক্তার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জোছনাকে গাজীপুর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

টঙ্গী পূর্ব থানায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) হাসিবুল আলম।

তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার মালিগ্রাম থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। ওই সময় জোছনাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার জোছনা ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার চন্ডিদাসদী সোনাখোলা গ্রামের বাসিন্দা। উদ্ধার করা শিশু আয়েশা সিদ্দিকা গাজীপুরের টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুর বেলতলা এলাকার পান্না আক্তার-আবুল কাশেম দম্পতির মেয়ে।

পুলিশ কর্মকর্তা হাসিবুল জানান, বিয়ে বিচ্ছেদের পর পাঁচ মাসের শিশু আয়েশাকে নিয়ে টঙ্গীর বেলতলা এলাকায় থাকেন পান্না আক্তার। ১৯ নভেম্বর জোছনা আক্তার ননদ পরিচয়ে শিশুটিকে দেখতে এসে দুদিন পান্নার বাসায় থাকেন। ২১ নভেম্বর সকালে শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে শিশুটিকে না পেয়ে ২৪ নভেম্বর টঙ্গী পূর্ব থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন পান্না।

হাসিবুল বলেন, জিডির সূত্র ধরে বাসার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপহরণে জড়িত বলে জোছনাকে শনাক্ত করে পুলিশ। বুধবার পুলিশের একটি দল ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার মালিগ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। সেখান থেকে অপহৃত শিশু আয়েশাকেও উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জোছনা শিশুটিকে অপহরণের কথা স্বীকার করেছেন। জোছনা জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় তার শিশু মারা যায়। এ ঘটনা পরিবারের কাউকে জানাননি তিনি। শিশুটিকে অপহরণ করে গ্রামে নিয়ে নিজের সন্তান বলে পরিচয় দেন জোছনা।

এ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না জানতে তাকে রিমান্ডে নেয়া হবে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা হাসিবুল।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ মাসুদ বলেন, অপহরণের অভিযোগে জোছনার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দুপুরে তাকে আদালতে নিলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আরও পড়ুন:
সাইবার ক্রাইম ইউনিটের আকার বাড়বে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
হেলিকপ্টার পাচ্ছে পুলিশ
সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর পক্ষে ডিএমপি কমিশনার
ডাকাতি করে চাকরি খোয়ালেন পুলিশ কনস্টেবল
কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার সময় পরিবর্তন

শেয়ার করুন

বিজয়ের ৫০ উৎসবে আসছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি

বিজয়ের ৫০ উৎসবে আসছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি

ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দ। ফাইল ছবি। এএফপি

করোনা পরীক্ষা ছাড়া কেউই বিজয় দিবসের কোন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন না বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বলেন, ‘কোভিড দেশে থেকে যায়নি সেটি মাথায় রেখেই কোভিড টেস্ট বাধ্যতামূলক। যারা দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন তারাই সেখানে আসবেন। আমরা অবশ্যই নেগেটিভ সার্টিফিকেট পরীক্ষা করব। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এখানে আসতে সবাইকে আহ্বান করছি।’

বাংলাদেশের বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে থাকবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দ।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বিজয় দিবস উদযাপন সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত জেনেছি একজন রাষ্ট্রপ্রধান আসবেন। বিদেশি মেহমান আরও কিছু আসার কথা।’

গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার এই আগমনকে ঘিরে সে সময় দেশে ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা ব্যাপক হাঙ্গামা করেছিলেন।

প্রতিবাদ থেকে সহিংস হয়ে উঠে সংগঠনের কর্মীরা। পরে পুলিশের অভিযান শুরু হলে হেফাজতের নেতৃত্বেও ধরে ভাঙন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিজয় দিবসের ৫০ বছরের পূর্তি হতে যাচ্ছে। সেজন্য মানুষের মধ্যে একটা আগ্রহ রয়েছে। তারা সবাই উন্মুখ হয়ে আছেন তারা সবাই অংশগ্রহণ করবেন। বাংলাদেশের যে যেখানে থাকেন তারা এই অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নেবেন, যাতে নিরাপত্তার অভাব অনুভব না করেন, সেজন্য আমরা মিটিং করেছি।’

অনুষ্ঠানগুলো ঘিরে ট্রাফিক ব্যবস্থা কী হবে, নিরাপত্তার জন্য কী কী চ্যালেঞ্জ হতে পারে- সবকিছু নিয়ে আমরা আলাপ করার কথা জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘যার যা করণীয় সেগুলো আমরা ভাগ করে দিয়েছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশি মেহমান যারাই আসবেন, তাদের নিরাপত্তা, তাদের আসা-যাওয়া, তাদের অবস্থান...বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড স্কয়ার ও জাতীয় সংসদের সামনে মুজিব জন্মশতবর্ষের শেষ অনুষ্ঠান এবং বিজয় দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সব মিলে আমরা যে অনুষ্ঠানগুলো করতে যাচ্ছি, এর সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে।’

করোনা পরীক্ষা ছাড়া কেউই বিজয় দিবসের কোন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন না বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘কোভিড দেশে থেকে যায়নি সেটি মাথায় রেখেই কোভিড টেস্ট বাধ্যতামূলক। যারা দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন তারাই সেখানে আসবেন। আমরা অবশ্যেই নেগেটিভ সার্টিফিকেট পরীক্ষা করব। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এখানে আসতে সবাইকে আহ্বান করছি।’

আরও পড়ুন:
সাইবার ক্রাইম ইউনিটের আকার বাড়বে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
হেলিকপ্টার পাচ্ছে পুলিশ
সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর পক্ষে ডিএমপি কমিশনার
ডাকাতি করে চাকরি খোয়ালেন পুলিশ কনস্টেবল
কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার সময় পরিবর্তন

শেয়ার করুন

সন্তান জন্ম দিতে পারা রোবট উদ্ভাবন

সন্তান জন্ম দিতে পারা রোবট উদ্ভাবন

কম্পিউটার ডিজাইন মেনে বিশেষ এক ধরনের ব্যাঙের কোষ নতুন ধরনের প্রাণ তৈরি করেছে। অতি ক্ষুদ্র এই জীবসত্তা (অর্গানিজম) ক্ষুদ্র থালায় সাঁতার কাটতে পারে, নতুন একক কোষ খুঁজে বের করতে পারে ও এক সঙ্গে শত শত একত্রিত হতে সক্ষম।

টিকে থাকার প্রয়োজনে জীবের বংশবৃদ্ধি আবশ্যিক প্রাকৃতিক ঘটনা। তবে এই প্রথম জৈবিক প্রজননে সক্ষম রোবট উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, এই জীবন্ত রোবট ক্রমাগত তৈরি করতে পারে নিজের প্রতিলিপি।

যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানীর তৈরি রোবট এক ধরনের জেনোবট (জীবন্ত রোবট) । তবে রোবট বলতে প্রচলিত অর্থে আমরা যা বুঝি এই জেনোবট ঠিক তেমন নয়। সুপার কম্পিউটারের ডিজাইন অনুসারে জৈবিক বংশবিস্তারের এক নতুন কৌশল কাজে লাগানো হয়েছে এ ক্ষেত্রে।

গবেষণাগারে এই ডিজাইন মেনে বিশেষ এক ধরনের ব্যাঙের কোষ নতুন ধরনের প্রাণ তৈরি করেছে। অতি ক্ষুদ্র এই জীবসত্তা (অর্গানিজম) ক্ষুদ্র থালায় সাঁতার কাটতে পারে, নতুন একক কোষ খুঁজে বের করতে পারে ও এক সঙ্গে শত শত একত্রিত হতে সক্ষম।

এক মিলিমিটারের চেয়েও ছোট (০.০৪ ইঞ্চি) জেনোবটগুলো শিশু জেনোবট তৈরি করতে পারে। এসব শিশু জেনোবট এরপর আবার নতুন কোষ খুঁজে বের করে নিজেদের প্রতিলিপি তৈরি করতে সক্ষম। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই জেনোবট সনাতনি ধরনের রোবট যেমন নয়, তেমনি আবার কোনো প্রচলিত প্রাণীও নয়। কম্পিউটারে তৈরি ডিজাইন অনুসারে এটি কাজ করে এবং অতিক্ষুদ্র এই জীবসত্তার মাধ্যমে আগামীতে মানবদেহের অভ্যন্তরে ওষুধ পরিবহন সম্ভব।

গবেষণা দলের সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ভারমন্টের (ইউভিএম) কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও রোবটিকস বিশেষজ্ঞ জশুয়া বোনগার্ড বলেন, ‘সঠিক ডিজাইন করা গেলে জেনোবটগুলো নিজে থেকেই নিজেদের প্রতিলিপি তৈরি করবে।’

তাদের গবেষণার ফল গত ২৯ নভেম্বর প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সে প্রকাশিত হয়েছে।

জেনোবট তৈরিতে বেছে নেয়া হয়েছে আফ্রিকান ব্যাঙের প্রজাতি জেনোপাস লিভিসের বিশেষ ধরনের কোষ। এই ভ্রূণ কোষগুলো পরে ব্যাঙের ত্বকে পরিণত হয়।

গবেষণা দলের আরেক সদস্য ম্যাসাচুসেটসের টাফটস ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক মাইকেল লেভিন বলেন, ‘বিশেষ ভ্রূণকোষগুলো ব্যাঙাচি জন্মের ত্বক আবরণ তৈরি করে। এই কোষ শ্লেষাজাতীয় পদার্থের নিঃসরণ ঘটিয়ে ব্যাঙকে রোগজীবাণুর হাত থেকে সুরক্ষিত রাখে। তবে ল্যাবরেটরিতে আমরা এদের নতুন একটি পরিস্থিতিতে রেখেছি। এগুলোর বহুকোষী বৈশিষ্ট্যকে নতুন ভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করেছি। এর ফলে কোষগুলো নতুন যা তৈরি করছে তা ত্বক থেকে একেবারে আলাদা।’

গবেষক দলের সদস্য টাফটস ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ডগলাস ব্ল্যাকিস্টন বলেন, ‘এতদিন মানুষের ধারণা ছিল, জীবনের বিস্তার বা বংশবৃদ্ধি কীভাবে ঘটে সে বিষয়ক সব রহস্য ভেদ করে ফেলা হয়েছে। কিন্তু আমাদের এই পরীক্ষা এমন কিছু পাওয়া গেছে যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’

বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে গবেষক দলটি। অধ্যাপক মাইকেল লেভিন বলেন, ‘এই কোষগুলোতে ব্যাঙের জিনোম রয়েছে, কিন্তু এরা ব্যাঙাচিতে পরিণতা হওয়ার দায়িত্ব থেকে মুক্ত। ফলে এরা যৌথ বুদ্ধিমত্তা, নমনীয়তা প্রয়োগ করে অবাক করার মতো অনেক কিছু ঘটাতে সক্ষম।’
গবেষণায় দেখা গেছে, কম্পিউটারে ডিজাইন করা কোষগুলো নিজে থেকেই নিজের প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে।

গবেষণা দলের প্রধান স্যাম ক্রিগম্যান বলেন, ‘ব্যাঙের এই কোষগুলো নিজেদের প্রতিলিপি তৈরি করছে এক দম আলাদা পদ্ধতিতে। ব্যাঙের দেহে সাধারণভাবে প্রতিলিপি তৈরির চেয়ে এই প্রক্রিয়া একেবারে ভিন্ন।’

জেনোবটের জনক কোষ নিজে থেকেই ৩ হাজার কোষের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি বৃত্ত তৈরি করে।

ক্রিগম্যান বলেন, ‘এগুলো সন্তান তৈরি করতে পারে, কিন্তু এর পরই প্রক্রিয়াটির অবসান ঘটে। এই প্রক্রিয়াটি অব্যাহত রাখার পদ্ধতিটি খুবই জটিল।’

জেনোবটের আকৃতি তৈরির জন্য গবেষণায় ডিপ গ্রিন সুপার কম্পিউটারে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রোগ্রামের নতুন ধরনের এলগরিদম ব্যবহার করা হয়েছে। কোন আকৃতি বংশবিস্তারের জন্য উপযোগী সেটি জানতে ত্রিভূজ, চতুষ্কোণ, পিরামিড বা তারকাকৃতি তৈরি করা হয়েছে।

ক্রিগম্যান বলেন, ‘আমরা কম্পিউটারকে বলেছিলাম, জনকের আকৃতি ঠিক করতে। এআই কয়েক মাস চেষ্টার পর কয়েকটি অদ্ভূত ধরনের আকৃতি তৈরি করে, যার একটি দেখতে প্যাক-ম্যানের (ভিডিও গেইম চরিত্র) মতো। এটা সে সজ্ঞানে করেনি। এরপর ওই জনক থেকে সন্তান তৈরি হলো। তাদের থেকে আবার সন্তান ও তাদের থেকে আবারও। এক কথায় সঠিক ডিজাইনের কারণে বংশবিস্তার কয়েক প্রজন্ম পর্যন্ত চলেছে।’

বোনগার্ড বলেন, ‘আমরা আবিষ্কার করেছিম অর্গানিজম বা কোনো কোষীয় জীবন ব্যবস্থার মধ্যে এমন সব জায়গা রয়েছে যার সম্বন্ধে আমরা জানতাম না। এর আগে আমরা হাঁটতে পারে এমন রোবট পেয়েছি। সাঁতরাতে পারে এমন রোবট পেয়েছি। আর এই গবেষণায় পেলাম এমন কিছু জেনোবট যারা নিজেদের প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে।’

নতুন জেনোবটের সম্ভাবনা নিয়ে বোনগার্ড বলেন, ‘নতুন ওষুধ তৈরি করা বা পানি থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিষ্কার করার কাজে এ যন্ত্রগুলোকে ব্যবহার করা যাবে। আমরা চাই যে হারে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, ঠিক একই হারে প্রযুক্তিগত সমাধান খুঁজে বের করতে।’

আরও পড়ুন:
সাইবার ক্রাইম ইউনিটের আকার বাড়বে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
হেলিকপ্টার পাচ্ছে পুলিশ
সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর পক্ষে ডিএমপি কমিশনার
ডাকাতি করে চাকরি খোয়ালেন পুলিশ কনস্টেবল
কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার সময় পরিবর্তন

শেয়ার করুন