করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশ

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশ

করোনা মহামারির মধ্যেই পণ্য রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ। গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশের উদ্যোক্তারা মোট ৪১৭ কোটি ডলার বা ৩৫ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি করেছেন। অতীতে আর কোনো মাসেই এই পরিমাণ পণ্য রপ্তানি হয়নি। এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে সর্বোচ্চ ৩৯১ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল।

‘সময় এখন বাংলাদেশের। নানা বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আরও এগিয়ে যাব। কেউ আটকে রাখতে পারবে না। করোনা জয় করেছি। প্রচুর অর্ডার আসছে। সবার ব্যবসাই এখন রমরমা। সময় এখন আমাদের, পোশাকের দামে ছাড় দিচ্ছি না। বাধ্য হয়ে বায়াররা বেশি দামে পোশাক কিনছে। দেশে একটার পর একটা অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে। এগুলো ঠিকঠাক মতো পরিচালনা করতে পারলে বিনিয়োগে যে স্থবিরতা, সেটা কেটে যাবে; কর্মসংস্থান বাড়বে। অর্থনীতিতে আরও গতি আসবে। পাল্টে যাবে দেশের চেহারা। একটা ভিন্ন বাংলাদেশ দেখবে বিশ্ব।’

মঙ্গলবার রাজধানীতে এক গোলটেবিল আলোচনায় দৃঢ়তার সঙ্গে কথাগুলো বলছিলেন তরুণ উদ্যোক্তা অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহীর।

অনন্ত গ্রুপ দেশের অন্যতম প্রধান তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। ১৯৯১ সালে শিল্পপতি হুমায়ুন জহীর অনন্ত গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৩ সালে আততায়ীর হাতে হুমায়ুন জহীর নিহত হওয়ার পর স্ত্রী কামরুন নাহার জহীর প্রতিষ্ঠানের হাল ধরেন। এখন মায়ের সঙ্গে দুই ভাই শরীফ জহীর ও আসিফ জহীর এগিয়ে নিয়ে চলেছেন প্রতিষ্ঠানটি।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ব্যবসার প্রয়োজনে একের পর এক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে অনন্ত গ্রুপ। প্রতিটি উদ্যোগই ব্যবসাসফল। মাত্র ৫০০ কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান কর্মীসংখ্যা ২৮ হাজার। এর ২৫ হাজারই শ্রমিক। গ্রুপের লক্ষ্য, ২০২৪ সালের মধ্যে কর্মীর সংখ্যা ৮০ হাজারে উন্নীত করা। আর এককভাবে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করা।

গোলটেবিল আলোচনা শেষে শরীফ জহীর বাংলাদেশকে নিয়ে আশার কথা শুনিয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে একটা অদ্ভুত অন্তর্নিহিত শক্তি আছে। সেই শক্তি দিয়ে তারা যেকোনো বাধা-বিপত্তি, চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ায়। করোনা জয় করে তারা সেটা আবার প্রমাণ করেছে। এখন আমাদের জন্য খুবই ভালো সময়। সময় এখন বাংলাদেশের।

‘করোনা আমাদের অনেক সম্ভাবনার সুযোগ করে দিয়েছে। চায়না, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমার থেকে ক্রেতারা এখন বাংলাদেশে আসছেন। বেশি দামে পোশাক কিনছেন তারা। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও ২০ বিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে নেয়া সম্ভব। পোশাক খাতকে ঘিরেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে অর্থনীতি। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশা করি।’

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলো ঘাটলে শরীফ জহীরের কথার মিল খুঁজে পাওয়া যায়। সত্যিই করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ছাড়া অন্য সব সূচকই এখন ইতিবাচক। রপ্তানি আয়ে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। আমদানি বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। রাজস্ব আদায়ের গতিও বেশ ভালো। মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে আছে। পুঁজিবাজারেও কিছুদিন ধরে চাঙা ভাব।

মাথাপিছু আয়ে ফের ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে ছাড়িয়েছে অনেক আগেই। বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটাতে বন্ধুপ্রতিম দেশ শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের শরণাপন্ন হওয়ায় দেশটিকে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ২০ কোটি ডলার ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে বিনিয়োগে স্থবিরতা এখনও রয়েই গেছে। ইতিবাচক খবরে আত্মতুষ্টিতে না ভুগে এখন বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে সরকারকে সবচেয়ে বেশি নজর দিতে পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা।

মাঝে সমস্যা হলেও প্রায় ৫ কোটি মানুষকে এরই মধ্যে করোনার টিকা দিয়ে ফেলেছে সরকার। বাকিদের টিকার আওতায় আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশ
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গ্রহণ করেছে নানা পদক্ষেপ। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

বদলে যাওয়া শুরু

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।

এরপর আরও দুই দফায় আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই সময়ে বাংলাদেশ অর্জন করেছে প্রশংসনীয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি।

২০০৯ সাল থেকে শুরু হয় নতুন বাংলাদেশের যাত্রা। টানা তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে শেখ হাসিনা দেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। বাংলাদেশ এখন আর স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশ নয়, উন্নয়নশীল দেশ।

অর্থনৈতিক সূচকের পাশাপাশি সামাজিক সূচকেও বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে এই সাড়ে ১২ বছরে। অনেক ক্ষেত্রে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়েও এগিয়ে গেছে। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি দেশের সীমা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এখন আলোচিত। অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন সুযোগ পেলেই বাংলাদেশের এই সাফল্যের কথা দেশি-বিদেশি মানুষকে শোনান।

পাকিস্তানের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক উপদেষ্টা আবিদ হাসান গত মে মাসে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করে দিয়েছেন চমকপ্রদ তথ্য। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা বজায় থাকলে আগামী এক দশকের মধ্যে দেশটিকে বাংলাদেশের কাছে হাত পাততে হতে পারে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জিডিপি

করোনাভাইরাস মহামারির আগপর্যন্ত বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি (অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি) বেড়েই চলেছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ধারাবাহিক অগ্রগতির পথ ধরে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে বাংলাদেশ, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি।

গত এক দশকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। আর চার বছরে এই হার ছিল ৭ শতাংশের ওপরে।

তবে করোনার ধাক্কায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫১ শতাংশে নেমে আসে। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

মহামারির কারণে পৃথিবীর প্রায় সব দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমেছে। কোনো কোনো দেশে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হলেও এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বাংলাদেশ।

সরকার চলতি অর্থবছরে (২০২১-২২) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে, এবার বাংলাদেশে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলে আশার কথা শুনিয়ে উন্নয়ন সংস্থাটি বলেছে, ভবিষ্যতে দেশটির অর্থনীতি আরও চাঙা হবে।

গত ৭ অক্টোবর প্রকাশিত ‘সাউথ এশিয়ান ইকোনমিক ফোকাস’ নামক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশ
প্রবৃদ্ধিতে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক ভালো। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

মালদ্বীপ ও ভারতের পরই বেশি প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশে

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি আবার উচ্চ প্রবৃদ্ধির দিকে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বিশ্বব্যাংক বলেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় মালদ্বীপ ও ভারতের পরই সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হবে বাংলাদেশের।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই অর্থবছরে মালদ্বীপের প্রবৃদ্ধি হবে সবচেয়ে বেশি ১১ শতাংশ। ভারতে হবে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। এর পরই বাংলাদেশ ৬ দশমিক ৪ শতাংশ।

বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরে আরও বেড়ে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে বলে সুখবর দেয়া হয়েছে বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিবেদনে।

এর আগে গত জুন মাসে প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক প্রসপেক্ট’ রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক বলেছিল, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ দশমিক ১ শতাংশ।

ম্যানিলাভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলেছে, এই অর্থবছরে বাংলাদেশে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে। আর আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরে হবে ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশ

ভারতকে আবারও ছাড়িয়ে বাংলাদেশ

মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ভারতকে আবারও ছাড়িয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি ২০২১ সালে চলতি মূল্যে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হবে ২ হাজার ১৩৮ দশমিক ৭৯৪ ডলার। আর একই সময়ে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি হবে ২ হাজার ১১৬ দশমিক ৪৪৪ ডলার। ফলে এই নিয়ে পর পর দুই বছর ভারতকে পেছনে ফেলল বাংলাদেশ।

আইএমএফ গত ১২ অক্টোবর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (ডব্লিউইও) প্রকাশ করেছে। সেখানে সংস্থাটি বলছে, করোনার প্রভাব কাটিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত—উভয় দেশই বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। এর মধ্যে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে বেশি, ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, আর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ভারতের প্রবৃদ্ধি বাড়লেও আগের বছর ভারতের অর্থনীতি বেশি মাত্রায় সংকুচিত হয়েছিল। এ কারণেই আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছে বাংলাদেশের সামনে।

ঠিক এক বছর আগে আইএমএফ এবারের মতোই ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রকাশ করে জানিয়েছিল, ২০২০ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, আর ভারতের প্রবৃদ্ধি কমে হবে ঋণাত্মক, অর্থাৎ (-) ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হবে ১ হাজার ৮৮৮ ডলার ও ভারতের হবে ১ হাজার ৮৮৭ ডলার। সুতরাং গতবার বাংলাদেশ ছিল ঠিক এক ডলারে এগিয়ে।

আইএমএফ অবশ্য এখন এসে বলছে, ২০২০ সালে প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে ভারতের প্রবৃদ্ধি ছিল ঋণাত্মক, (-) ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে শেষ পর্যন্ত তাদের হিসাবে ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হয় ১ হাজার ৯৬১ দশমিক ৬১৪ ডলার এবং ভারতের ১ হাজার ৯২৯ দশমিক ৬৭৭ ডলার। আসলে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি বেশি হয়েছিল ৩১ দশমিক ৯৩৭ ডলার।

মূলত এবার রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি অর্জন করার কথা বলা হলেও আগের বছরের উচ্চ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির প্রভাবেই এখনও পিছিয়ে আছে ভারত। এমনকি আগামী বছরও ভারত পিছিয়ে থাকবে বলে আইএমএফ মনে করে। চলতি বছরের পূর্বাভাসে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি বেশি হবে ২২ দশমিক ৩৫ ডলার।

তবে, বাংলাদেশ জিডিপিসহ অর্থনীতির সব সূচকের হিসাব করে থাকে আর্থিক বছর (জুলাই থেকে জুন) ধরে। সেই হিসাবে বিবিএস ২০২০-২১ অর্থবছরের জিডিপি প্রাথমিক যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় এখন ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলার।

২০০৮-০৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ৭৫৯ ডলার। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এক যুগে মাথাপিছু আয় প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশ
দেশের মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে আছে বলে দাবি অর্থনীতিবিদদের। ছবি: নিউজবাংলা

মূল্যস্ফীতি

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক মূল্যস্ফীতি কিছুদিন ধরে সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিবিএসের সর্বশেষ হিসাবে গত সেপ্টেম্বর মাসে পয়েন্ট টু ভিত্তিতে (মাসওয়ারি) মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। আর গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছে সরকার।

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশ

রেমিট্যান্সে ভাটা

গত অর্থবছরে অর্থনীতির সূচকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় ছিল প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা প্রবাস আয়। করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও বছরজুড়ে রেমিট্যান্সের উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে। ওই অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২ হাজার ৪৭৮ কোটি (২৪.৭৮) ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

গত অর্থবছরের ১২ মাসের মধ্যে সাত মাসই ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে।

কিন্তু চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সপ্রবাহে ভাটার টান লক্ষ করা যায়। প্রথম মাস জুলাইয়ে আসে ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার। আগস্টে আসে ১৮১ কোটি ডলার। সেপ্টেম্বরে এসেছে আরও কম, ১৭২ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৫৪০ কোটি ৮০ লাখ (৫.৪০ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ কম।

২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ৬৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে।

চলতি অক্টোবর মাসেও সেই নেতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ১২০ কোটি ৭০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত বছরের অক্টোবর মাসে এসেছিল ২১০ কোটি ২১ লাখ ডলার।

রিজার্ভেও টান

রেমিট্যান্স কমায় আর আমদানি বাড়ায় বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়েছে। বুধবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৬ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।

গত ২৪ আগস্ট আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১৪৪ কোটি ৮০ লাখ (প্রায় ১.৪৫ বিলিয়ন) ডলার এসডিআর (স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস) ঋণ রিজার্ভে যোগ হওয়ায় এক লাফে রিজার্ভ বেড়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে।

সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জুলাই-আগস্ট মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে।

এর পর থেকে তা কমতে কমতে গত সপ্তাহে প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। গত কয়েক দিনে খানিকটা বেড়ে রোববার ৪৬ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশ

রপ্তানি আয়ে ভর করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে অর্থনীতি

মূলত রপ্তানি আয়ের ওপর ভর করেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। করোনা মহামারির মধ্যেই পণ্য রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ। গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশের উদ্যোক্তারা মোট ৪১৭ কোটি ডলার বা ৩৫ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি করেছেন। অতীতে আর কোনো মাসেই এই পরিমাণ পণ্য রপ্তানি হয়নি। এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে সর্বোচ্চ ৩৯১ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল।

পণ্য রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড হওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে তৈরি পোশাক খাত। গত মাসে এই খাত থেকে ৩৪২ কোটি ডলার বা ২৯ হাজার ৭০ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪১ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি।

গত মাসে রেকর্ড পরিমাণ রপ্তানির ফলে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক জুলাই-সেপ্টেম্বরে সব মিলিয়ে ১ হাজার ১০২ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় আগের ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি।

চলতি বছর রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৩ হাজার ৮৭৬ কোটি ডলারের পণ্য।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি হিমায়িত খাদ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশল ও রাসায়নিক পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে।

এই তিন মাসে মোট পণ্য রপ্তানি আয়ের ৮২ শতাংশ পোশাক খাত থেকে এসেছে। এই সময়ে রপ্তানি হয়েছে ৯০৫ কোটি ডলারের পোশাক, যা গত বছরের একই সময়ের ৮১৩ কোটি ডলারের চেয়ে সাড়ে ১১ শতাংশ বেশি।

আলোচ্য সময়ে ৫১৬ কোটি ডলারের নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে আলোচ্য সময়ে ৩৯০ কোটি ডলারের ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

বিপুলসংখ্যক মানুষকে করোনার টিকা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে। তাই সেসব দেশের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী গ্রীষ্ম ও বসন্ত মৌসুমের জন্য করোনার আগের মতোই ক্রয়াদেশ দিচ্ছে। তা ছাড়া মিয়ানমারে সেনাশাসন ও ভারতে করোনার ভয়াবহতার কারণেও কিছু ক্রয়াদেশ বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হয়। তার আগে থেকেই কিছু ক্রয়াদেশ চীন থেকে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে স্থানান্তর করেন ইউরোপ-আমেরিকার ক্রেতারা। ভিয়েতনামে লম্বা সময় লকডাউন থাকার কারণেও কিছু ক্রয়াদেশ এসেছে।

রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কা সামলে আমরা ঘুরে দাঁড়াচ্ছি। প্রচুর অর্ডার আসছে। ভালো দামও পাচ্ছি। বার্গেনিং (দেনদরবার) করে বেশি প্রাইস আদায় করে দিচ্ছি। এইটা আমরা ধরে রাখতে চাই। আমরা আর কম দামে কোনো পোশাক বিক্রি করব না; অর্ডার নেব না। সব রপ্তানিকারকদের এটা জানিয়ে দেয়া হয়েছে।’

‘তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে; এই যে আমরা পোশাকের বেশি দাম পাচ্ছি, সেটাতে কিন্তু আমাদের আয় বাড়ছে না। সুতাসহ সব ধরনের কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। জাহাজ ভাড়াও বেড়েছে।’

অন্যদিকে নিট পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘কারখানাগুলোতে প্রচুর ক্রয়াদেশ রয়েছে। সে জন্য আগের চেয়ে দামও কিছুটা বেশি নিতে পারছেন উদ্যোক্তারা। আশা করছি, আগামী মাসগুলোতে নিট পোশাক রপ্তানিতে ২০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হবে।’

তবে সুতার দামের অস্থিরতার কারণে রপ্তানিকারকরা খুব একটা স্বস্তিতে নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশ

আমদানির পালে হাওয়া

রপ্তানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আমদানি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাওয়া লেগেছে আমদানির পালে। আর এই আমদানি বাড়াকে দেশের অর্থনীতির জন্য মঙ্গল বলছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা।

বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের দুই মাসের (জুলাই-আগস্ট) আমদানির তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, সব মিলিয়ে এই দুই মাসে ১ হাজার ১৭২ কোটি ৪৪ লাখ (১১.৭২ বিলিয়ন) ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হয়েছে। এই অংক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৬ শতাংশ বেশি।

খাদ্যপণ্যের পাশপাশি নতুন বিনিয়োগের অন্যতম নির্দেশক মূলধনি যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল আমদানি সবই বাড়ছে।

করোনা মহামারির মধ্যেও গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬৫ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল বাংলাদেশ, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশ

রাজস্ব আদায়েও জোয়ার

সবচেয়ে বড় সুসংবাদ হচ্ছে রাজস্ব আদায়ে জোয়ার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অর্থনীতি যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা রাজস্ব আদায়ের দিকে তাকালেই বোঝা যায়।

করোনার প্রভাবে সৃষ্ট গভীর খাদ থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে দেশের রাজস্ব খাত। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাজস্ব আদায় বেড়েছে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় পাঁচ গুণ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বা রাজস্ব আহরণে সামগ্রিকভাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ।

এই তিন মাসে মোট রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৫৮ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ৪৯ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের এই চিত্র সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে রেকর্ড তৈরি করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ২১ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম থেকে রাজস্ব আয়ে গতিশীলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে গতি আরও বেড়েছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলছেন, ‘আমদানি-রপ্তানিতে গতি এসেছে। চাঙা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে রাজস্ব আহরণে।’

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশ

পুঁজিবাজারও চাঙা

পুঁজিাবাজরেও চাঙ্গাভাব বিরাজ করছে। টানা কয়েক মাসের উত্থানের পর মাঝে কয়েকদিন কিছুটা খারাপ অবস্থা গেলেও প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এখনও ৭০০০ পয়েন্টের ওপরে অবস্থান করছে। বুধবার এই সূচক খানিকটা বেড়ে ৭ হাজার ১২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, ‘পুঁজিবাজারে উত্থান-পতন থাকবেই। ঝুঁকি থাকবে। এটা জেনে-বুঝেই বিনিয়োগ করতে হবে। ধৈর্য্য ধরতে হবে বিনিয়োগকারীদের। গুজব শুনে শেয়ার কেনা যাবে না; আবার বিক্রিও করা যাবে না। আমি মনে করি, বাজার এখনও ভালো অবস্থায় আছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো হবে।’

বিনিয়োগে স্থবিরতা কাটছে না

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ছিল পাঁচের ঘরে। ১০ বছরে সেই প্রবৃদ্ধি বেড়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশে উঠেছিল।

কিন্তু বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা বলছে, গত ১২ বছরে দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির আনুপাতিক হারে বেড়েছে সামান্যই। সেই ৩১/৩২ শতাংশেই আটকে আছে বিনিয়োগ।

করোনার ধাক্কায় গত দেড় বছরে অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৪২ শতাংশে (আগস্ট) নেমে এসেছে। অথচ মুদ্রানীতিতে এই লক্ষ্য ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ ধরেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

করোনাকালে প্রণোদনার ঋণ ছাড়া অন্য ঋণ খুব একটা বিতরণ হয়নি। সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নেও গতি নেই।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার হলো ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর তিন মাসে এক হাজার ৫৯১ প্রকল্পের বিপরীতে খরচ হয়েছে মাত্র ১২ হাজার ৫৬৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ।

গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ১০.২১ শতাংশ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮.২৫ শতাংশ, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৮.০৬ শতাংশ এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮.০৬ শতাংশ।

তবে, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেছেন, ‘মহামারি করোনার ফলে দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে, যার প্রভাব এডিবি বাস্তবায়নে পড়েছে। এখন সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসছে। এডিপি বাস্তবায়নেও গতি আসবে। সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগও বাড়বে বলে আশা করছি।’

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশ
করোনায় দেশে বিনিয়োগ বাধা পেয়েছে

অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের পরামর্শ

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যে কারণেই হোক না কেন, এখন পর্যন্ত কোভিড বাংলাদেশকে খুব বেশি কাবু করতে পারেনি। মাঝে টিকা নিয়ে সমস্যা হলেও এখন সে সমস্যা আর নেই। ভালো গতিতেই চলছে, টিকাপ্রদান কর্মসূচি।’

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে করোনা মোকাবিলায় আমরা ভালো করেছি। টিকার পাশাপাশি সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ অর্থনীতিকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেছে। সবচেয়ে আশার কথা হচ্ছে রাজস্ব আদায়ে বেশ ভালো গতি এসেছে। এটাকে ধরে রাখতে হবে।

‘তবে এতে আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। ব্যাংকিং খাত ও রাজস্ব প্রশাসনে ব্যাপক সংস্কার করতে হবে। আমাদের ব্যাংকিং খাত কিন্তু ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। ব্যাংকগুলো যে বিপুল অঙ্কের প্রণোদনার ঋণ দিচ্ছে, সেগুলো যদি ঠিকমতো আদায় না হয়, তাহলে আরও সংকটে পড়বে।

‘রাজস্ব আদায় আরও বাড়াতে হবে; ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত কমপক্ষে ১৪-১৫তে নিয়ে যেতে হবে। যে করেই হোক বিনিয়োগ বাড়াতেই হবে।’

আরেক অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর হোসেন বলেন, ‘সংকটের সময় নতুন নতুন সম্ভাবনা দেখা দেয়। আমরা যদি সেগুলো ভালোভাবে বিচার-বিশ্লেষণ, পর্যবেক্ষণ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেই, তাহলে সেসব সম্ভাবনার সুফল পাব।’

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সময় যদি আমরা বিশ্ব পরিস্থিতি মাথায় রেখে সুনির্দিষ্ট খাত চিহ্নিত করে বিনিয়োগ করি, সহায়তা দেই, তাহলে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি বিশ্ববাজারও ধরতে পারব।’

‘এই যে রপ্তানি আয় বাড়ার একটা সমূহ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, চায়না, ভিয়েতনাম ও মায়ানমারের বাজার দখলের একটা সম্ভাবনা হাতছানি দিচ্ছে; প্রাইস বাড়ানোর সুযোগ এসেছে - এর সবগুলো ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে। সরকারি-বেসরকারি খাত মিলে দ্রুত গতিতে এই কাজগুলো করতে হবে।’

অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহীর বলেন, ‘আগামী বছর বাংলাদেশের জন্য হবে একটি বিশেষ বছর। এ বছরের জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে তিনটি বড় উন্নয়ন প্রকল্প চালু হয়ে যাবে। ২০২২ সালে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচল শুরু হবে; চলবে ট্রেনও। একই সময় রাজধানীর উত্তর থেকে দক্ষিণে ছুটবে মেট্রোরেল। দেশের দক্ষিণ-পূবের বন্দরনগরী চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশের সুড়ঙ্গপথও চালু হয়ে যাবে ততদিনে। এই টানেল কক্সবাজারের সঙ্গে চট্টগ্রামের দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার কমিয়ে দেবে। সম্প্রতি পায়রা সেতুর উদ্বোধন করা হয়েছে, যা দক্ষিণাঞ্চলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সক্ষমতা বেড়েছে কয়েকগুণ। ফলে অবকাঠামো সামর্থ্যে ভিন্ন এক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হতে চলেছে।’

‘সবকিছু যদি ঠিকঠাক মতো চলে, আর যদি কোনো দৈব-দুর্বিপাক না আসে, তাহলে সত্যিই আমাদের আর পেছন ফিরে তাকাতে হবে না। সময় এখন সত্যিই বাংলাদেশের।’

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের উচ্চাশা
অর্থবছরের শুরুতে বড় বাণিজ্য ঘাটতিতে ‘মঙ্গল বার্তা’
সুনীল অর্থনীতির বিকাশে রপ্তানি বাড়াতে চায় সরকার
মহামারির ধাক্কা সামলে উঠছে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাংলাদেশের পোশাকের সাফল্য প্রচার করবে সিএনএন

বাংলাদেশের পোশাকের সাফল্য প্রচার করবে সিএনএন

গুলশানে বিজিএমইএ অফিসে চুক্তি সই অনুষ্ঠান।

বিজিএমইএ জানিয়েছে, চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক খাত কিভাবে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখছে এবং আগামীতে এ খাত কী ধরনের অবদান রাখতে পারে- তা প্রচার করবে সিএনএন।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাককে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্র্যান্ডিং করবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম সিএনএন ইন্টারন্যাশনাল কমার্সিয়াল (সিএনএনআইসি)। ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে বাংলাদেশের পোশাক খাতের সাফল্য এবং সম্ভাবনার কথা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা হবে।

রোববার পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ এবং সিএনএনআইসির মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি চুক্তি হয়েছে। বিজিএমইএ এবং সিএনএনআইসির স্থানীয় প্রতিনিধি স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেডের মধ্যে এই চুক্তি হয়।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান এবং বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) প্রধান নির্বাহী জাফর উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের পোশাক খাত কিভাবে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখছে এবং আগামীতে এ খাতের কী ধরনের অবদান রাখার সম্ভাবনা আছে- তা প্রচার করবে সিএনএন। পোশাক খাতের উঠে আসার গল্পও বলা হবে এতে। বিশেষ করে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পোশাক খাতের কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়ন ও শ্রমিকদের কল্যাণে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরা হবে।

প্রতিযোগী সক্ষমতা, উদ্ভাবনী কার্যক্রম, পোশাকের মধ্যে বৈচিত্র্য আনার মতো বিষয়গুলোও থাকবে এর মধ্যে। সিএনএনের এই কার্যক্রমে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বিজিএমইএ।

রাজধানীর গুলশানে বিজিএমইএ অফিসে চুক্তি সই অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম, বিএফটিআই পরিচালক ওবায়দুল আজম এবং স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সাদেকুল আরেফিন উপস্থিত ছিলেন।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, মহামারি করোনার মধ্যেও ২০২০-২১ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৩৮ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার আয় করে বাংলাদেশ, যা ছিল আগের বছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। এই আয়ের মধ্যে ৮২ শতাংশই এসেছিল তৈরি পোশাক থেকে।

সেই ইতিবাচক ধারা চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরেও অব্যাহত রয়েছে। এই অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ১ হাজার ৫৭৫ কোটি (১৫.৭৫ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২২ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। লক্ষ্যের চেয়ে আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। আর এই আয়ের ৮০ দশমিক ১৩ শতাংশ এসেছে তৈরি পোশাক থেকে।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের উচ্চাশা
অর্থবছরের শুরুতে বড় বাণিজ্য ঘাটতিতে ‘মঙ্গল বার্তা’
সুনীল অর্থনীতির বিকাশে রপ্তানি বাড়াতে চায় সরকার
মহামারির ধাক্কা সামলে উঠছে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

শ্রমিকের পুষ্টিকর নাস্তা নিশ্চিত করুন: শ্রম প্রতিমন্ত্রী

শ্রমিকের পুষ্টিকর নাস্তা নিশ্চিত করুন: শ্রম প্রতিমন্ত্রী

অপুষ্টিকর ও দ্রুত প্রক্রিয়াজাত খাবার খেয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পোশাক শ্রমিকরা, এমনটি উঠে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য-অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের নতুন গবেষণায়। ফাইল ছবি

অনুষ্ঠানে উপস্থিত পোশাক খাতের মালিকদের সবচেয়ে বড় দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদেরকে প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, ‘পুষ্টিকর খাবার জনস্বাস্থ্যের তথা শারীরিক বৃদ্ধি, মেধা বিকাশ ও যথাযথ কর্মক্ষমতার জন্য খুবই গুরত্বপূর্ণ। তাই মালিকরা কারখানায় শ্রমিকদের যে নাস্তা দেয়, সেগুলো যেন পুষ্টিকর হয়। কারণ পুষ্টিকর খাবার খেয়ে শ্রমিক সুস্থ থাকলে উৎপাদন বাড়বে এবং এতে মালিকরাই লাভবান হবে। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদী অপুষ্টি শ্রমিকের কর্মক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।’

কারখানায় শ্রমিকদের পুষ্টিকর নাস্তা দিতে শিল্প মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। জানিয়েছেন, আয়রনের অভাবজনিত এনেমিয়ার কারণে বাংলাদেশে জিডিপির প্রায় ৮ শতাংশ কমে যায়।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘কর্মক্ষেত্র পুষ্টি কার্যক্রম: শিক্ষণ বিনিময়’ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।

‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইম্প্রুভড নিউট্রিশন-গেইন’ নামে একটি উদ্যোগের সহযোগিতায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত পোশাক খাতের মালিকদের সবচেয়ে বড় দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদেরকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পুষ্টিকর খাবার জনস্বাস্থ্যের তথা শারীরিক বৃদ্ধি, মেধা বিকাশ ও যথাযথ কর্মক্ষমতার জন্য খুবই গুরত্বপূর্ণ। তাই মালিকরা কারখানায় শ্রমিকদের যে নাস্তা দেয়, সেগুলো যেন পুষ্টিকর হয়।

‘কারণ পুষ্টিকর খাবার খেয়ে শ্রমিক সুস্থ থাকলে উৎপাদন বাড়বে এবং এতে মালিকরাই লাভবান হবে। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদী অপুষ্টি শ্রমিকের কর্মক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।

এ বিষয়ে সরকারের করণীয় উল্লেখ করে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু শ্রমিক নয় সকল জনগণের অপুষ্টির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশের মানুষের পুষ্টির অবস্থার উন্নতির জন্য সরকার পুষ্টি নীতি-২০১৫ প্রণয়ন করেছে এবং দ্বিতীয় জাতীয় পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা (২০১৬-২০২৫) গ্রহণ করেছে। সবাই মিলে সতের কোটি মানুষকে পুষ্টির বেড়াজালে আটকাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে মঙ্গাকে বিদায় করেছি, খাদ্য ঘাটতিকে দূর করেছি, মধ্যম আয়ের উন্নীত হয়েছি।’

নীতি, প্রশাসনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মাধ্যমে দেশের শুধু শ্রমজীবী মানুষই নয় সব নাগরিকের অপুষ্টিজনিত ঘাটতি দূর করার লক্ষ্য অর্জনে সরকার সফল হবে বলে প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রতিমন্ত্রী অনুষ্ঠানে সরকারী বেসরকারী উদ্যোগে একটি পুষ্টি কালচার তৈরির আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তৃতায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এহছানে এলাহী বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে স্বাস্থ্যই সম্পদ। আগামীতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মাধ্যমে পুষ্টি বিষয়ে শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে আরও বেশি বেশি প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।’

সেমিনারে কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এর মহাপরিদর্শক মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ, বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান, বিকেএমইএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মনসুর আহমেদ, আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর তোমো পুতিআইনেন, ন্যাশনাল নিউট্রেশন সার্ভিসের লাইন ডিরেক্টর ডা. এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যুগ্ম-মহাপরিদর্শক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং গেইনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. রুদাবা খন্দকার বক্তব্য দেন।

ওয়ার্ক ফোর্স নিউটেশন এবং ইভালুয়েশন এন্ড লার্নিং এর ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাজমা শাহীন এবং ডা. সাইদ আবুল হামিদ।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের উচ্চাশা
অর্থবছরের শুরুতে বড় বাণিজ্য ঘাটতিতে ‘মঙ্গল বার্তা’
সুনীল অর্থনীতির বিকাশে রপ্তানি বাড়াতে চায় সরকার
মহামারির ধাক্কা সামলে উঠছে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

তামাক কোম্পানির সিএসআর বন্ধের আহ্বান

তামাক কোম্পানির সিএসআর বন্ধের আহ্বান

রোববার ‘তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচক’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে অতিথিরা।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘কোভিডের চেয়ে তামাকের কারণে বাংলাদেশে অনেক বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। অথচ তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আসলে সরকারি সংস্থাগুলো এফসিটিসি এবং প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে ধারণ করছে কি না সেটাই মৌলিক প্রশ্ন।’

তামাক কোম্পানির সব সিএসআর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে তামাকবিরোধী সংগঠন প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা)।

সংগঠনটি জানিয়েছে, তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচক-২০২১ এ বাংলাদেশের স্কোর ৭২। গত বছর এই স্কোর ছিল ৬৮। করোনাভাইরাস মহামারিতে কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী কার্যক্রমে হুমকির মুখে পড়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওর্য়াক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোলের (এফসিটিসি) কার্যকর বাস্তবায়ন এবং তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য। ব্যবসা চালু রাখতে তামাক কোম্পানিগুলো সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি (সিএসআর), লবিং, অনুদান ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারসহ বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে।

রোববার ঢাকায় প্রকাশিত ‘তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচক: এফসিটিসি আর্টিক্যাল ৫.৩ বাস্তবায়ন প্রতিবেদন, বাংলাদেশ ২০২১’ গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) আয়োজিত অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘কোভিডের চেয়ে তামাকের কারণে বাংলাদেশে অনেক বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। অথচ তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আসলে সরকারি সংস্থাগুলো এফসিটিসি এবং প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে ধারণ করছে কি না সেটাই মৌলিক প্রশ্ন।’

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে অর্থনীতিবিদ এবং জাতীয় তামাকবিরোধী মঞ্চের আহ্বায়ক ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘হস্তক্ষেপ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান খুবই নাজুক। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ, সেটা কেন?’

তিনি বিএটিবির শেয়ার প্রত্যাহার এবং তামাকের ২৫ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক পুনর্বহালের দাবি জানান।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি সাংবাদিক এবং টিভি টুডের এডিটর ইন চিফ মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘সরকারি সংস্থাগুলোকে সচেতন করতে হবে যাতে তারা তামাক কোম্পানি থেকে কোনো সহায়তা না নেয়। তামাক কোম্পানির সহায়তা নেয়া এফসিটিসির সুস্পষ্ট লংঘন এবং প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

মূল গবেষণা তুলে ধরেন প্রজ্ঞার তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কর্মসূচি প্রধান মো. হাসান শাহরিয়ার।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ বেড়েছে এবং আর্টিক্যাল ৫.৩ এর নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি হয়নি। আবারও কূটনৈতিক মাধ্যম ব্যবহার করে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ এবং প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে।

গবেষণায় জানানো হয়, ‘জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল (জেটিআই) কোম্পানির পক্ষে অর্থমন্ত্রীকে লেখা জাপানি রাষ্ট্রদূতের চিঠিতে বলা হয়েছে, জেটিআইর ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন কোনো তামাকনিয়ন্ত্রণ পদক্ষেপ নেয়া হলে সেটি বাংলাদেশে ভবিষ্যত জাপানি বিনিয়োগের (এফডিআই) পথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবে।’

গবেষণায় আরও বলা হয়, ২০২০ সালে করোনা মহামারি চলার সময় তামাক কোম্পানিগুলো যেভাবে কথিত সিএসআর কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিল, এর আগে সেটি কখনও দেখা যায়নি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থাও তামাক কোম্পানিগুলোকে পুরস্কৃত করেছে।

গবেষণার সুপারিশে তামাক কোম্পানির সিএসআর কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধসহ তামাকনিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে এফসিটিসির সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার তাগিদ দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের উচ্চাশা
অর্থবছরের শুরুতে বড় বাণিজ্য ঘাটতিতে ‘মঙ্গল বার্তা’
সুনীল অর্থনীতির বিকাশে রপ্তানি বাড়াতে চায় সরকার
মহামারির ধাক্কা সামলে উঠছে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

‘বঙ্গোপসাগরের ৮০ ভাগে এখনো হাতই পড়েনি’

‘বঙ্গোপসাগরের ৮০ ভাগে এখনো হাতই পড়েনি’

ফাইল ছবি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, ‘মেরিন ট্যুরিজম বর্তমান বিশ্বে একটি সম্ভাবনাময় খাত। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই খাতে নিজেদেরকে এগিয়ে নিতে হবে।’

বাংলাদেশ গভীর সমুদ্রের মাত্র ২০ ভাগ এলাকায় মাছ আহরণ করে থাকে। বাকি ৮০ শতাংশ অধরা রয়ে গেছে। বঙ্গোপসাগরের এসব এলাকায় এখনও মৎস্যজীবীদের হাতই পড়েনি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।

রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা) আয়োজিত ব্লু ইকোনমি অন ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ড. মোমেন বলেন, মৎস্য শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মাত্র ১২ শতাংশ অবদান রাখে। দেশের মানুষের প্রাথমিক প্রোটিনের যোগান, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বৈদেশিক আয় ও খাদ্য নিরাপত্তা মৎস্য শিল্পের সঙ্গে জড়িত। তবে বাস্তবতা হল গভীর সমুদ্র থেকে মৎস্য আহরণে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে আছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্রে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের সমুদ্রে ৪৭৫টি জলজ প্রাণী রয়েছে। কিন্তু আমরা আহরণ করি মাত্র ১২০ প্রজাতির মাছ। অর্থাৎ মাত্র ২৫ শতাংশ মাছ ধরছি আমরা। গভীর সমুদ্রের মাত্র ৫০ থেকে ৬০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে আমরা মাছ ধরে থাকি।

‘অন্যদিকে বিশ্ব চাহিদার কারণে দেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্প উত্তরোত্তর উন্নতি করছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী জাহাজ নির্মাণ শিল্প ১৬শ’ বিলিয়ন ডলারের। বাংলাদেশ এর ১ শতাংশ দখল করতে পারলেও ১৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হতে পারে।’

মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশের তেল ও গ্যাস শিল্প বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। মেরিন ট্যুরিজম বর্তমান বিশ্বে একটি সম্ভাবনাময় খাত। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই খাতে নিজেদেরকে এগিয়ে নিতে হবে।

‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক সম্পদের ওপর বাংলাদেশের মানুষের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমুদ্রসম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণের জন্য ১৯৭৪ সালে টেরিটোরিয়াল ওয়াটার অ্যান্ড মেরিটাইম জোন আইন প্রণয়ন করেন।’

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের উচ্চাশা
অর্থবছরের শুরুতে বড় বাণিজ্য ঘাটতিতে ‘মঙ্গল বার্তা’
সুনীল অর্থনীতির বিকাশে রপ্তানি বাড়াতে চায় সরকার
মহামারির ধাক্কা সামলে উঠছে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

‘বদলে যাওয়া বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের বড় বাজার’

‘বদলে যাওয়া বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের বড় বাজার’

রোববার রাজধানীর রেডিসন হোটেলে শুরু হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট সামিট। ছবি: নিউজবাংলা

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশে এখন পুরোপুরি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গত ১২ বছরে আমরা নতুন বাংলাদেশ তৈরি করতে পেরেছি। বদলে যাওয়া বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের বড় বাজার। বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আসছে। বাড়ছে দেশি বিনিয়োগও।’

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবে মুনাফা কতটুকু হবে সে বিষয়ে সরকারের কিছুই করণীয় নেই বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তিনি বলেছেন, অবকাঠামো খাতের উন্নয়নসহ ব্যবসা করার ক্ষেত্রে সহজ উপায় বের করতে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে রোববার রাজধানীতে শুরু হয়েছে দু’দিনব্যাপী ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট সামিট (আইআইএস)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদ ভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন সরকার প্রধান।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ডের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সামিটে অংশ নিচ্ছে ৫৪টি দেশ। অনলাইনে যুক্ত হতে বিদেশ থেকে দু’হাজার ৫৭৪ জন ও দেশের দু’হাজার ১০৯ জন নিবন্ধন করেছেন।

রাজধানীর রেডিসন হোটেলে শুরু হওয়া সম্মেলনটি শেষ হবে সোমবার। সমাপনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল উপস্থিত থাকবেন।

সামিটে যোগ দিতে বেশ কয়েকটি দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসেছে। অনুষ্ঠানে সরাসরি যোগ দিতে সৌদি আরবের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল এখন ঢাকায়। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী ও চীনের ভাইস মিনিস্টার (বাণিজ্য মন্ত্রণালয়) ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন। এছাড়া জাপানের একজন ভাইস মিনিস্টারের বার্তা ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি সম্মেলনে পড়ে শোনান।

সামিটে বিডার পক্ষ থেকে ১১টি খাতকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কেউ এর বাইরে অন্য কোনো খাত নিয়ে আগ্রহ দেখালে তা নিয়েও আলোচনার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

এর আগে ২০১৬ সালে সর্বশেষ বিনিয়োগ সম্মেলন (ইনভেস্টমেন্ট সামিট) অনুষ্ঠিত হয়।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা নীতি সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বিনিয়োগের সফলতা পেতে পারে। এদেশে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবেন।

‘অবকাঠামোগত এসব উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশে এখন পুরোপুরি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ রয়েছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও বন্দরসহ বড় বড় বহু প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গত ১২ বছরে আমরা নতুন বাংলাদেশ তৈরি করতে পেরেছি। বদলে যাওয়া বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের বড় বাজার। বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আসছে। বাড়ছে দেশি বিনিয়োগও। একইসঙ্গে এখানে বিদেশি বিনিয়োগের নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ‘গত কয়েক বছর ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। জিডিপি ৪১১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু গড় আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৫৫৪ ডলার। আগের হিসেবে তা ছিল দুই হাজার ২২৭ ডলার। দেশের অভ্যন্তরে কৃষি, শিল্প ও সেবাসহ সব খাত এগিয়ে যাচ্ছে। সবজি উৎপাদনে আমরা বিশ্বে তৃতীয়, চাল উৎপাদনে চতুর্থ স্থানে রয়েছি।

‘তৈরি পোশাক, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, আইসিটি, প্লাস্টিক, চামড়াজাতীয় পণ্যসহ বাংলাদেশে কয়েকটি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। দেশে একশ’ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন হচ্ছে। এখানে বিনিয়োগে সব ধরনের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।’

বিডার আয়োজনে সামিটে সহযোগী হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস অথরিটি (বেজা), বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনস অথরিটি (বেপজা), বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক অথরিটি (বিএইচটিপিএ), পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ), ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই)।

এছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন ও ইউকেএইড সামিট আয়োজনে সহায়তা করছে।

সম্মেলনের প্রথম দিন বিজনেস সেশনে ‘ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড লজিস্টিক: দ্য রাইট মুভ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ‘ক্যাপিটাল মার্কেট: দ্য রাইজিং টাইগার’, ‘পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি: চার্জ অ্যাহেড’, ‘লিগাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস: এনশিউরিং সাসটেইন গ্রোথ’, ‘এগ্রোবিজনেস: গ্রোথ বাই ন্যাচার’, ‘লেদার অ্যান্ড লেদারগুডস: স্টেপ ইট আপ’, ‘রেডিমেড গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল: ওয়েভিং দ্য ওয়ে’, ‘ইলেকট্রিক্যাল ইলেক্ট্রনিকস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড প্লাস্টিক গুডস: রাইড দ্য কারেন্ট’ বিষয়ে সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন সোমবার প্লেনারি সেশনে থাকছে ইনভেস্টমেন্ট কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড বিজনেস এনভায়রনমেন্ট: রেসিং নিউ হাইস্ট ইন দ্য নিউ নরমাল শীর্ষক আলোচনা। দুটি বিজনেস সেশন ইন প্যারালালে থাকছে ইকোনমিক জুন: এক্সেডিং অল এক্সপেক্টেশনস, ব্লু ইকোনমি: ডিসকভার দ্য ফিউচার, লেভেরাজিং ফোর্থ-আইআর: নিউজ এভিনিউ ফর ইনোভেটিভ ইনভেস্টমেন্ট, হেলথ অ্যান্ড ফার্মাসিটিক্যালস: অ্যাফর্ডেবল ওয়েলবিং: হেলদি লিভিং ফর অল শীর্ষক আলোচনা।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের উচ্চাশা
অর্থবছরের শুরুতে বড় বাণিজ্য ঘাটতিতে ‘মঙ্গল বার্তা’
সুনীল অর্থনীতির বিকাশে রপ্তানি বাড়াতে চায় সরকার
মহামারির ধাক্কা সামলে উঠছে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

ইভ্যালির রাসেলের বিরুদ্ধে বরিশালে ৩ মামলা

ইভ্যালির রাসেলের বিরুদ্ধে বরিশালে ৩ মামলা

ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেল। ফাইল ছবি

মামলায় বলা হয়েছে, বরিশালের গ্রাহক নিলয়, সুরুজ ও ফেরদাউস মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকা দেন ইভ্যালির এমডি রাসেলকে। মোটরসাইকেল দিতে ব্যর্থ হয়ে ইভ্যালি ওই টাকার বিপরীতে তাদেরকে চেক দেয়। চেক ব্যাংকে জমা দিলে ফেরত দেয় কর্তৃপক্ষ।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেলের বিরুদ্ধে বরিশালে চেক প্রতারণার অভিযোগে তিনটি মামলা করা হয়েছে।

রোববার বরিশাল অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক গ্রাহকের করা আলাদা মামলা তিনটি আমলে নিয়ে সমন জারি করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী চারচিল ও বাদী পক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান।

মামলায় বলা হয়েছে, বরিশালের বাসিন্দা নিলয় শরীফ মোটরসাইকেল কেনার জন্য তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা, সাদিকুর রহমান সুরুজ দুই লাখ ৭১ হাজার টাকা এবং মো. ফেরদাউস এক লাখ ৭৪ হাজার টাকা দেন ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেলকে। মোটরসাইকেল দিতে ব্যর্থ হয়ে ইভ্যালি ওই টাকার বিপরীতে তাদেরকে চেক দেয়। চেক ব্যাংকে জমা দিলে ফেরত দেয় কর্তৃপক্ষ।

পরে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে টাকা ফেরত চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়। এর কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় গ্রাহক নিলয়, সুরুজ ও ফেরদাউস আলাদা তিনটি মামলা করেন ।

রাসেল-শামীমার বিরুদ্ধে অন্য মামলা

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আলোচিত ই-কমার্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে ১৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় মামলা হয়েছিল।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া নিউজবাংলাকে জানিয়েছিলেন, কামরুল ইসলাম নামে একজন মার্চেন্ট মামলাটি করেছেন। তিনি ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য সরবরাহ করেছেন, ইভ্যালি তার পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি।

১৬ সেপ্টেম্বর রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় মামলা করেন আরিফ বাকের নামে এক গ্রাহক। ওইদিন বিকেলেই রাসেলের মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। রাসেল ও শামীমাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন তাদের গুলশান থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের উচ্চাশা
অর্থবছরের শুরুতে বড় বাণিজ্য ঘাটতিতে ‘মঙ্গল বার্তা’
সুনীল অর্থনীতির বিকাশে রপ্তানি বাড়াতে চায় সরকার
মহামারির ধাক্কা সামলে উঠছে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

এবার লক্ষ্য উন্নত দেশ: প্রধানমন্ত্রী

এবার লক্ষ্য উন্নত দেশ: প্রধানমন্ত্রী

সরকারের সাম্প্রতিক উন্নয়নের অন্যতম স্মারক মেট্রোরেল উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চলবে। ছবি: সাইফুল ইসলাম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন আমাদের মূল লক্ষ্য একটি সামনে আছে। ২০৪১ সালের মধ্যে যেন বাংলাদেশ উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হয়, সে লক্ষ্য অর্জন করা।’

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার স্বীকৃতি পাওয়ার পর ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোনোর তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনের সমাপনী দিন রোববার সংসদ নেতার বক্তব্যে তিনি এ তাগিদ দেন।

বক্তব্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের যাত্রা সহজ ছিল না বলে উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের মূল লক্ষ্য একটি সামনে আছে। ২০৪১ সালের মধ্যে যেন বাংলাদেশ উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হয়, সে লক্ষ্য অর্জন করা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বিষয়ে আজ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করব। প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগ সরকারে ২০০৮ এর নির্বাচনি ইশতেহারে আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। রূপকল্প ২০২১ আমরা ঘোষণা দেই। তারই ভিত্তিতে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করি ২০১০ থেকে ২০২০ পর্যন্ত। সুপরিকল্পিতভাবে দেশের উন্নয়নে আমরা ব্যাপক কাজ করি। একটি লক্ষ্য স্থির করে কোনো দেশ যদি এগিয়ে যায়, তাহলে সেটা অর্জন করা সম্ভব। সেটা আমরা প্রমাণ করেছি।

‘২৪ নভেম্বর নিউইয়র্ক সময় সকাল ১০টা, তখন বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা। সে সময় জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ৭৬তম অধিবেশনে ৪০তম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের ঐতিহাসিক রেজুলেশন গৃহীত হয়। এ প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে আমরা এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া আমাদের সম্পন্ন হলো।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আমরা কাজ করে যাচ্ছিলাম দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে। আজকে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে যে গ্র্যাজুয়েশন, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটা এত তাড়াতাড়ি হয়নি। এটাও মনে রাখতে হবে।

‘আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকেই আমরা ২০০৯ সাল থেকে যে পরিকল্পনা নিয়েছি এবং তা বাস্তবায়ন করেছি। বাংলাদেশের দারিদ্র্যমুক্তি, মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন কাজ আমরা করেছি এবং খুব পরিকল্পিতভাবে।’

পদে পদে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ার কথা জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, ‘বারবার জনগণ ভোটে নির্বাচিত করেছে বলেই এ উত্তরণ সম্ভব হয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, এই কাজগুলো যে আমরা খুব সহজভাবে করতে পেরেছি, তা না। আমরা দেশের জনগণের জাতীয় জীবনের সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছি। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে মানুষের সে গৌরবজনক যাত্রা শুরু হয়।

‘আমরা ২০১৮ সালে প্রথম জাতিসংঘের যে কমিটি-সিডিপি, বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সুপারিশ করে। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে যে বারবার সরকারে আসতে পেরেছি, তার ফলে যে উন্নতি আমরা করতে পেরেছি, তারই ফসল হচ্ছে এ স্বীকৃতি।’

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী এলডিসি উত্তরণের জন্য সিডিপি পরপর দুবার ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা করে। এতেও বাংলাদেশ আমাদের অর্জিত মানদণ্ড ধরে রাখতে সক্ষম হই। কোভিড-১৯-এর প্রকোপে সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দেয়, বাংলাদেশেও। এরপরেও আমরা আমাদের অর্জনগুলো ধরে রাখি এবং ক্ষেত্রবিশেষে উন্নত করি।

‘২০২০ থেকে ২০২১ পর্যন্ত জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী অর্থাৎ মুজিববর্ষ। ২০২১ আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এ সময় এ অর্জন এটা আমাদের জন্য অনেক গৌরবের। বাঙালি জাতির জন্য বিরল সম্মান অর্জন। বিশ্বসভায় বাঙালি জাতির জন্য এক বিরল উত্তরণ।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে আওয়ামী লীগঘোষিত রূপকল্প ২০২১ এবং এর আলোকে আমরা যে পরিকল্পনাগুলো পরপর নিয়েছি, সে সময় প্রকৃতপক্ষে অনেকে ধারণাই করতে পারেনি যে, বাংলাদেশ এ ধরনের অর্জন করতে পারে, কিন্তু সুপরিকল্পিত লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগিয়েছি বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। আশু করণীয় কী, সেটা নিয়েও কিন্তু আমরা অনেক কাজ করেছি।

‘অনেক সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তারপরেও আমরা জানি এটার একটা ফলাফল বাংলাদেশের মানুষ পাবে। যেমন: রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে শুরু করে যখন বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে গেছি, অনেক সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা সমালোচনায় কান দেইনি, কারণ আমরা জানি, এ দেশটাকে আমরা চিনি।’

তিনি বলেন, ‘অভীষ্ট লক্ষ্য স্থির করেই আমরা কাজ করেছি। দেশে উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি আশু করণীয় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে আমরা কাজ করেছি।’

সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২১ থেকে ২০৪১ পর্যন্ত লক্ষ্য রেখে আমরা আরেকটি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা আমরা প্রণয়ন করেছি। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ যাতে একটি উন্নত দেশ হয়, সেই পরিকল্পনাই আমরা হাতে নিয়েছি। ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত স্থায়ী উন্নয়নের কাজও আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। বাংলাদেশের জনগণের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

‘এটি এ কারণে ২০০৮ এর নির্বাচন, এরপর ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন, প্রতিটিতে তারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন। আমাদের জয়যুক্ত করেছেন এবং আমরা জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। এর ফলে আজকে দীর্ঘদিন জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি বলে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তবে এ কথা ঠিক, এ যাত্রাপথ কখনো সুগম ছিল না। অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে, অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে, অনেক অপপ্রচারের শিকার হতে হয়েছে। আমরা দেখেছি আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা, পেট্রলবোমা মারা, চলন্ত বাস-স্কুটার থেকে মানুষকে টেনে বের করে পেট্রল দিয়ে, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে। সেই অগ্নিসন্ত্রাসের শিকার আমাদের একজন সংসদ সদস্যও আজ এখানে উপস্থিত আছেন।

‘ঠিক এভাবে রাস্তা কেটে ফেলা, হাজার হাজার গাছ কেটে ধ্বংস করা, মানুষ হত্যা, তারপর হরতাল-অবরোধ। অবরোধ মনে হয় এখনও বিএনপি তুলে নেয়নি। সেই অবরোধসহ নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করার জন্য। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগও কিন্তু আমাদের মোকাবিলা করতে হয়েছে। এটা হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের ফল।’

তিনি বলেন, ‘এরপরে আসল করোনাভাইরাস। করোনার মধ্যেও সারা বিশ্বের অর্থনীতি যেখানে স্থবির, সেখানে আমরা চেষ্টা করেছি অর্থনীতি সচল রাখতে। আমরা প্রায় এক লক্ষ ৮৩ কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়ে নগদ অর্থ সরবরাহ একেবারে গ্রামের তৃণমূল মানুষকে দিয়েছি।

‘আমরা অন্য সব বাদ দিয়ে মানুষের হাতে যেন টাকা যায়, মানুষের হাতে যেন খাবার যায়, সেটি নিয়ে ব্যাপক কর্মসূচি পালন করেছি। আমাদের কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ, চাকরীজীবী, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী সকলের যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, এ জন্য প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে সহযোগিতা করেছি।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘শুধু বাজেট থেকে বা সরকারি কোষাগার থেকে না প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকেও কয়েক শ কোটি টাকা মানুষের কাছে বিলিয়েছি। অর্থাৎ মানুষকে সব ধরনের সহযোগিতা করা, এটা আমরা করতে পেরেছি।

‘এর ফলাফল হলো এই অতিমারির মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি গতিশীল থেকেছে। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য একটি সামনে আছে। ২০৪১ সালের মধ্যে যেন বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হয়, সে লক্ষ্য অর্জন করা।’

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের উচ্চাশা
অর্থবছরের শুরুতে বড় বাণিজ্য ঘাটতিতে ‘মঙ্গল বার্তা’
সুনীল অর্থনীতির বিকাশে রপ্তানি বাড়াতে চায় সরকার
মহামারির ধাক্কা সামলে উঠছে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন