পুলিশ-প্রশাসনকে ফখরুলের সতর্কতা

পুলিশ-প্রশাসনকে ফখরুলের সতর্কতা

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তব্য রাখছিলেন ফখরুল। ছবি: নিউজবাংলা

‘আপনারা এ দেশের সন্তান, আপনারা মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান করবেন না। আপনারা দুর্নীতিপরায়ণ ও নির্যাতনকারী। রাষ্ট্রের একটা দলের সঙ্গে মিশে আপনারা জনগণের ওপর এভাবে নির্যাতন করবেন না। আর এই সরকার আজ রাষ্ট্রের জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। জনগণের পকেট কেটে আওয়ামী লীগ নিজেদের পকেট ভারী করছে।’

পুলিশ ও প্রশাসন একটি দলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ করে তাদের সতর্ক করে দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, তারা দুর্নীতিপরায়ণ ও নির্যাতনকারী।

দলীয় নেতা-কর্মীদের সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হওয়ারও তাগিদ দিয়েছেন বিএনপি নেতা।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তব্য রাখছিলেন ফখরুল।

পুলিশ ও প্রশাসনকে উদ্দেশ করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘আপনারা এ দেশের সন্তান, আপনারা মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান করবেন না। আপনারা দুর্নীতিপরায়ণ ও নির্যাতনকারী। রাষ্ট্রের একটা দলের সঙ্গে মিশে আপনারা জনগণের ওপর এভাবে নির্যাতন করবেন না।

‘আর এই সরকার আজ রাষ্ট্রের জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। জনগণের পকেট কেটে আওয়ামী লীগ নিজেদের পকেট ভারী করছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংস করছে। সেটার প্রতিবাদে আমরা একটা আলোচনা সভা করেছিলাম আমাদের অফিসের সামনে। তারপর সবার শেষে আমাদের ছেলেরা যখন ফিরে যাচ্ছিল, তখন তাদের পেছন থেকে আক্রমণ করে, টিয়ার শেল মেরে, গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে।

‘আহত করা হয়েছে ৫০ জনের বেশি মানুষকে। উল্টো তারা আবার মামলা দিয়েছে ১৬০০ মানুষের বিরুদ্ধে।’

সরকার বিএনপিকে ভয় পায় দাবি করে তিনি বলেন, ‘ভয় পায় এই জন্য যে তাদের পায়ের নিচে মাটি নাই। জনগণ যেদিন বের হবে রাজপথে, সেদিন আপনারা পালানোর পথ খুঁজে পাবেন না।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা ও পাতি নেতাদের দৌরাত্ম্যে এখন আর কেউ থাকতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল। বলেন, ‘শরীয়তপুরের এমপি বলছেন, তিনি ঠিক করে দেবেন কে চেয়ারম্যান হবে আর কে মেম্বার হবে। অন্য কেউ দাঁড়াতে পারবে না।

‘আমরা চিন্তাই করতে পারি না। ১৯৭১ সালে আমরা যে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছিলাম, সেই গণতন্ত্রকে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিয়ে তারা এখন একটা একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছে।

‘এরা ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না। কারও সমালোচনা সহ্য করতে পারে না। সহনশীলতা বলতে তাদের কিচ্ছু নাই।’

নেতা-কর্মীদের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হওয়ারও তাগিদ দেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘আপনারা সংগঠিত হোন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা যেন একটি দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে পারি।

‘আমরা অবশ্যই নির্বাচন চাই, তবে সে নির্বাচন হতে হবে একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে।’

আরও পড়ুন:
আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল
মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল
সাম্প্রদায়িক হামলায় সরকারি মদদ: ফখরুল
সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়: ফখরুল
আসুন গণ-আন্দোলন সৃষ্টি করি: ফখরুল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘সহিংসতাহীন’ ভোটে নিহত বেড়ে ৭

‘সহিংসতাহীন’ ভোটে নিহত বেড়ে ৭

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে বিজিবির ছোড়া গুলিতে নিহত শাহপলি আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট চলাকালে সংঘর্ষ হয় অন্তত ১০ জেলায়। তবে বিকেল পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। ভোট শেষ হওয়ার পর পাঁচ জেলা থেকে সাতজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়।

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সহিংসতাহীন হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) দাবি করলেও শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত এই ভোটে আরও দুজনসহ প্রাণহানি হয়েছে সাতজনের। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক।

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট চলাকালে সংঘর্ষ হয় অন্তত ১০ জেলায়। তবে বিকেল পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

ভোট শেষে রাজধানীতে নিজ কার্যালয়ে ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, সহিংসতাহীন নির্বাচন হয়েছে।

এই নির্বাচন মডেল হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর পরপরই লক্ষ্মীপুর থেকে আসে প্রাণহানির প্রথম খবর। এরপর নরসিংদী ও মুন্সীগঞ্জে ভোটের পরে সংঘর্ষে তিনজন নিহতের খবর পাওয়া যায়।

রাত সাড়ে ৯টায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সহিংসতায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক সদস্য নিহত হন।

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিজিবির ছোড়া গুলিতে দুজন নিহতের খবর নিশ্চিত করেন পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল করিম।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ইউএনও জানান, ভোট শেষ হওয়ার পর ফল ঘোষণা করতে বেশ দেরি করছিলেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে চশমা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুজ্জামানের সমর্থকদের বাগবিতণ্ডা হয়।

পরে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নৌকার প্রার্থী শহীদ হোসেনকে জয়ী ঘোষণা করলে তাকে ভোটকেন্দ্রে অবরুদ্ধ করা হয়। তিনি বের হয়ে যেতে পারলেও একটি কক্ষে তিন পুলিশ সদস্যসহ ১৫ থেকে ১৬ জন আনসার সদস্য আটকা পড়েন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে যান বিজিবি সদস্যরা। ওই সময় হামলার চেষ্টা হলে আত্মরক্ষার্থে বিজিবি সদস্যরা গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলে শাহপলি আহমেদ নামে একজন নিহত হন। আহত চারজনকে পাঠানো হয় হাসপাতালে।

পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আব্দুল জাব্বার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাত ১২টার দিকে গুলিবিদ্ধ চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়। আমরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে পাঠাই।’

ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রাকিবুল ইসলাম চয়ন বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে চারজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। আধ ঘণ্টা পর তাদের মধ্যে মজাহারুল ইসলাম নামের একজনের মৃত্যু হয়।’

‘সহিংসতাহীন’ ভোটে নিহত বেড়ে ৭
কুমিল্লার বরুড়ায় একটি ‘কেন্দ্র দখল করতে’ হামলায় আহত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ফল ঘোষণার পর গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া ভোট কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

নিহত বিজিবি সদস্য হলেন নায়েক রুবেল হোসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই ভোট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ললিত চন্দ্র রায়।

তিনি জানান, ফল ঘোষণার পর লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মারুফ হোসেন অন্তিক লোকজন নিয়ে এসে ওই কেন্দ্রে তাকে জয়ী ঘোষণার দাবি জানিয়ে নির্বাচনি সরঞ্জাম নিতে বাধা দেয়।

তাদের হামলায় নায়েক রুবেল নিহত হন। আহত হন তিনি (প্রিসাইডিং অফিসার) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশ, বিজিবি ও আনসারের অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন।

মুন্সীগঞ্জ সদর ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় ভোটের পর গণনা চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সদরের বাংলাবাজার ইউনিয়নে সংঘর্ষে নিহত হন একজন।

ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বানিয়াল উত্তর ভূকৈলাশ সরকারি কাজিয়ারচর বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই সংঘর্ষ হয় বলে জানান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব।

তিনি জানান, বাংলাবাজার কেন্দ্রের ফল ঘোষণায় দেরি হওয়ায় সংরক্ষিত নারী আসদের দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম শাকিল মোল্লা। তার স্বজনরা জানান, বাড়ি শরীয়তপুর হলেও বাংলাবাজারে নানার বাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন শাকিল। সেখানে ভোটের সময় নারী সদস্য প্রার্থী রাবেয়া বেগমের সমর্থক হিসেবে কাজ করছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, ভোট শেষে উত্তর ভূকৈলাশ সরকারি কাজিয়ারচর বিদ্যালয়ে রাবেয়ার সমর্থকদের সঙ্গে আরেক প্রার্থী আরফা বেগমের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। সে সময় শাকিলকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষ। তাকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক শৈবাল বসাক জানান, শাকিলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার দেহে একাধিক জখম ছিল।

শৈবাল আরও জানান, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বেতকা ও দিঘিরপাড় ইউনিয়ন থেকে আহত অবস্থায় পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের সঙ্গে থাকা লোকজন জানিয়েছেন, ভোটের পর সহিংসতায় তারা আহত হয়েছেন।

‘সহিংসতাহীন’ ভোটে নিহত বেড়ে ৭

নরসিংদীর রায়পুরার ভোটের পর সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন।

উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ফল ঘোষণার জেরে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। তবে এ ব্যাপারে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিহত মো. আরিফের বাড়ি শিবপুর যোশর জাঙ্গারটেক গ্রামে। তিনি ছিলেন অটোরিকশার চালক।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, দাইরের পার সরকারি বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনার পর ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদে আব্দুল ওহাবকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়। এই ফল মেনে নেননি ওহাবের সমর্থকরা। ওহাব উত্তেজিত হয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যান।

কিছুক্ষণ পর অর্ধশতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ১৬ রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও এলোপাতাড়ি গুলিতে পুলিশের ভাড়া করা সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. আরিফ নিহত হন। গ্রামবাসীসহ আহত হন অন্তত ১০ জন।

রায়পুরায় উত্তর বাহার নগর এলাকার একটি কেন্দ্রে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে রাজধানীর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

নিহতের নাম ফরিদ মিয়া বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক আব্দুল খান।

তিনি জানান, ওই ব্যক্তির সঙ্গে আসা লোকজন জানিয়েছেন যে নির্বাচনি সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হন ফরিদ।

নিহতের শ্যালক শাহ আলম বলেন, ‘আমার দুলাভাই ফরিদ মিয়া একজন রিকশাচালক। রায়পুরা উত্তর বাখর নগর এলাকায় দুই মেম্বারের মধ্যে প্রাইমারি স্কুলের বাইরে গোলাগুলি শুরু হয়। ওই গোলাগুলির মধ্যে সে পড়ে যায়। এতে তার মাথায় গুলি লাগে।’

‘সহিংসতাহীন’ ভোটে নিহত বেড়ে ৭
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়নের নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত ছাত্রলীগ নেতা সজিব হোসেন

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়নের এক কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সংঘর্ষ হয়।

আওয়ামী লীগ ও এর বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের এই সংঘর্ষে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সজিব হোসেন নিহত হয়েছেন।

ভোট শেষ হওয়া আগমূহুর্তে ইউনিয়নের নয়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে এই সংঘর্ষ হয়।

নিহত সজিব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহনাজ আক্তারের সমর্থক ছিলেন।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, ওই কেন্দ্রের সামনে বিকেল পৌনে চারটার দিকে নৌকা ও এর বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আমির হোসেন খানের সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে এটি সংঘর্ষ পর্যন্ত গড়ায়।

সে সময় মাথায় আঘাত পান সজিব হোসেন। তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে চাঁদপুরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

‘সহিংসতাহীন’ ভোটে নিহত বেড়ে ৭
কিশোরগঞ্জে ভোটের পর সহিংসতায় আহত হন সদর থানার এক কনস্টেবল

ভোট শেষে হট্টগোল হয়েছে মেহেরপুর, কিশোরগঞ্জ, গাইবান্ধা, রাজবাড়ী ও লালমনিরহাটে।

মেহেরপুরের গাংনীর কাজিপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ‍্যালয় কেন্দ্রে ফল ঘোষণা দেয়ার আগমুহূর্তে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। কেন্দ্রের ভেতর আটকা পড়েন পোলিং অফিসারসহ অন্য কর্মকর্তারা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপু সরোয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সদস্য প্রার্থী মো. আলেহীম ও রাকিব হোসেনের সমর্থকরা ফল ঘোষণার আগে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। তারা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। তাদের হটিয়ে দিতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালায় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আটক করা হয় আলেহীম ও রাকিবকে।

কিশোরগঞ্জ সদরের বৌলাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে ফল নিয়ে বের হওয়ার সময় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

এতে আহত হন সদর থানার কনস্টেবল মো. মহসীন ও গণপূর্তের হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। তাদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কনস্টেবল মহসীনকে নেয়া হয় শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

তবে কারা হামলা চালিয়েছে তা নিশ্চিত করা যায়নি।

নিউজবাংলার প্রতিবেদক হাসপাতালে উপস্থিত সদর থানার পুলিশের কাছ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ফল ঘোষণার পর কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন কয়েকজন চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা। এক ঘণ্টা পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

‘সহিংসতাহীন’ ভোটে নিহত বেড়ে ৭

বটতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু রায়হান দোলন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ওই কেন্দ্রের ভোট আবার গণনা করা হবে। তাতেও সমাধান না আসলে আবার ভোট হবে ওই কেন্দ্রে।

রাজবাড়ির বালিয়াকান্দির সদর ইউনিয়নে ফল ঘোষণার পর পরাজিত সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।

সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাইককান্দি কেন্দ্রে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেকুজ্জামান ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, কেন্দ্রের পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় বিক্ষুব্ধরা একটি মাইক্রোবাস ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি আরও জানান, ওই ওয়ার্ডের সদস্যপদে আকরাম হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এরপর পরাজিত প্রার্থী মো. খোকনের সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে ব্যালট বাক্স কেড়ে নেয়। তাতেই সংঘর্ষ বাধে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন আহমেদ জানান, ব্যালটবাক্স পরে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা গেছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদের ফল ঘোষণা নিয়ে আনারস প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকরা লালমনিরহাট-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে।

স্থানীয়রা জানান, অবরোধকারীরা কয়েকটি দোকান ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর করে এবং সড়কে টায়ার জ্বালায়।

অবরোধের কারণে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক পথে যোগাযোগ কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।

এ ছাড়া ভোট চলাকালে দিনভর বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন জেলায়। জাল ভোট ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের খবরও এসেছে কিছু জেলা থেকে।

আগের দুই ধাপের তুলনায় এবার সহিংসতা কম হয়েছে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘এবার সহিংসতা যাতে না হয়, তার জন্য আগে থেকেই বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগের চেয়ে বেশি তৎপর ছিল। প্রতিদ্ধন্দ্বী প্রার্থীরাও সহনশীল আচরণ করেছেন। এতে আগের চেয়ে বিচ্ছিন্ন ঘটনাও কম হয়েছে।

‘বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও নির্বাচন কমিশন একটি সহিংসতার ঘটনা ঘটবে বলেও আশা করে না। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ এবং প্রার্থীদের সহনশীল এমন আচরণ অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে সহিংসতা আরও কমবে।’

এর আগে দ্বিতীয় ধাপের ভোটের আগে-পরে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু নরসিংদীতেই মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। এ ছাড়া মাগুরায় ৪, মেহেরপুরে ২ এবং কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে নিহত হয়েছেন ১ জন করে।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল
মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল
সাম্প্রদায়িক হামলায় সরকারি মদদ: ফখরুল
সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়: ফখরুল
আসুন গণ-আন্দোলন সৃষ্টি করি: ফখরুল

শেয়ার করুন

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৫

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৫

কিশোরগঞ্জে ভোটের পর সহিংসতায় আহত হয়েছেন সদর থানার এক কনস্টেবল। ছবি: নিউজবাংলা

ইসি সচিব জানান, আগের দুই ধাপের তুলনায় এবার সহিংসতা কম হয়েছে। এ কারণে তৃতীয় ধাপের এই নির্বাচন মডেল হতে পারে। এর পরপরই লক্ষ্মীপুর থেকে আসে প্রাণহানির প্রথম খবরটি। এরপর ভোটের পরে সংঘর্ষে মুন্সিগঞ্জে একজন ও নরসিংদীতে দুজন নিহতের খবর পাওয়া যায়। সবশেষ রাত সাড়ে ৯টায় নীলফামারিতে সংঘর্ষে এক বিজিবি সদস্য নিহত হন। এ ছাড়া ভোট শেষে হট্টগোল হয় মেহেরপুর, কিশোরগঞ্জ, রাজবাড়ী ও গাইবান্ধায়।

নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিতে ভোট হয়েছে শান্তিপূর্ণ। তবে এই ভোটেও মধ্যরাত পর্যন্ত এক বিজিবি সদস্যসহ পাঁচজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক।

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট চলাকালে সংঘর্ষ হয় অন্তত ১০ জেলায়। তবে বিকেল পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

ভোট শেষে রাজধানীতে নিজ কার্যালয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, সহিংসতাহীন নির্বাচন হয়েছে।

আগের দুই ধাপের তুলনায় এবার সহিংসতা কম হয়েছে জানিয়ে তৃতীয় ধাপের এই নির্বাচন মডেল হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর পরপরই লক্ষ্মীপুর থেকে আসে প্রাণহানির প্রথম খবরটি। এরপর নরসিংদী ও মুন্সিগঞ্জে ভোটের পরে সংঘর্ষে তিনজন নিহতের খবর পাওয়া যায়।

সবশেষ রাত সাড়ে ৯টায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সহিংসতায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক সদস্য নিহত হয়েছেন।

ফল ঘোষণার পর গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া ভোট কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বিজিবি সদস্য হলেন নায়েক রুবেল হোসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই ভোট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ললিত চন্দ্র রায়।

তিনি জানান, ফল ঘোষণার পর লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মারুফ হোসেন অন্তিক লোকজন নিয়ে এসে ওই কেন্দ্রে তাকে জয়ী ঘোষণার দাবি জানিয়ে নির্বাচনি সরঞ্জাম নিতে বাধা দেয়।

তাদের হামলায় নায়েক রুবেল নিহত হন। আহত হন তিনি (প্রিসাইডিং অফিসার) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশ, বিজিবি ও আনসারের অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়নের এক কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সংঘর্ষ হয়।

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৫

আওয়ামী লীগ ও এর বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের এই সংঘর্ষে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সজিব হোসেন নিহত হয়েছেন।

ভোট শেষ হওয়া আগমূহুর্তে ইউনিয়নের নয়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে এই সংঘর্ষ হয়।

নিহত সজিব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহনাজ আক্তারের সমর্থক ছিলেন।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, ওই কেন্দ্রের সামনে বিকেল পৌনে চারটার দিকে নৌকা ও এর বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আমির হোসেন খানের সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে এটি সংঘর্ষ পর্যন্ত গড়ায়।

সে সময় মাথায় আঘাত পান সজিব হোসেন। তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে চাঁদপুরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

নরসিংদীর রায়পুরার ভোটের পর সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন।

উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ফল ঘোষণার জেরে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। তবে এ ব্যাপারে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিহত মো. আরিফের বাড়ি শিবপুর যোশর জাঙ্গারটেক গ্রামে। তিনি ছিলেন অটোরিকশার চালক।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, দাইরের পার সরকারি বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনার পর ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদে আব্দুল ওহাবকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়। এই ফল মেনে নেননি ওহাবের সমর্থকরা। ওহাব উত্তেজিত হয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যান।

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৫

কিছুক্ষণ পর অর্ধশতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ১৬ রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও এলোপাতাড়ি গুলিতে পুলিশের ভাড়া করা সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. আরিফ নিহত হন। গ্রামবাসীসহ আহত হন অন্তত ১০ জন।

রায়পুরায় উত্তর বাহার নগর এলাকার একটি কেন্দ্রে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে রাজধানীর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

নিহতের নাম ফরিদ মিয়া বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক আব্দুল খান।

তিনি জানান, ওই ব্যক্তির সঙ্গে আসা লোকজন জানিয়েছেন যে নির্বাচনি সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হন ফরিদ।

নিহতের শ্যালক শাহ আলম বলেন, ‘আমার দুলাভাই ফরিদ মিয়া একজন রিকশাচালক। রায়পুরা উত্তর বাখর নগর এলাকায় দুই মেম্বারের মধ্যে প্রাইমারি স্কুলের বাইরে গোলাগুলি শুরু হয়। ওই গোলাগুলির মধ্যে সে পড়ে যায়। এতে তার মাথায় গুলি লাগে।’

মুন্সিগঞ্জে সদর ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় ভোটের পর গণনা চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সদরের বাংলাবাজার ইউনিয়নে সংঘর্ষে নিহত হন একজন।

ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বানিয়াল উত্তর ভূকৈলাশ সরকারি কাজিয়ারচর বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই সংঘর্ষ হয় বলে জানান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব।

তিনি জানান, বাংলাবাজারে কেন্দ্রের ফল ঘোষণায় দেরি হওয়ায় সংরক্ষিত নারী আসদের দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এ ঘটনা ঘটে।

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৫

নিহত ব্যক্তির নাম শাকিল মোল্লা। তার স্বজনরা জানান, বাড়ি শরীয়তপুর হলেও বাংলাবাজারে নানার বাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন শাকিল। সেখানে ভোটের সময় নারী সদস্য প্রার্থী রাবেয়া বেগমের সমর্থক হিসেবে কাজ করছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, ভোট শেষে উত্তর ভূকৈলাশ সরকারি কাজিয়ারচর বিদ্যালয়ে রাবেয়ার সমর্থকদের সঙ্গে আরেক প্রার্থী আরফা বেগমের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। সে সময় শাকিলকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষ। তাকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক শৈবাল বসাক জানান, শাকিলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার দেহে একাধিক জখম ছিল।

শৈবাল আরও জানান, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বেতকা ও দিঘিরপাড় ইউনিয়ন থেকে আহত অবস্থায় পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের সঙ্গে থাকা লোকজন জানিয়েছেন, ভোটের পর সহিংসতায় তারা আহত হয়েছেন।

ভোট শেষে হট্টগোল হয়েছে মেহেরপুর, কিশোরগঞ্জ ও গাইবান্ধায়।

মেহেরপুরের গাংনীর কাজিপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ‍্যালয় কেন্দ্রে ফল ঘোষণা দেয়ার আগমুহূর্তে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। কেন্দ্রের ভেতর আটকা পড়েন পোলিং অফিসারসহ অন্য কর্মকর্তারা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপু সরোয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৫

তিনি জানান, সদস্য প্রার্থী মো. আলেহীম ও রাকিব হোসেনের সমর্থকরা ফল ঘোষণার আগে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। তারা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। তাদের হটিয়ে দিতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালায় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আটক করা হয় আলেহীম ও রাকিবকে।

কিশোরগঞ্জ সদরের বৌলাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে ফল নিয়ে বের হওয়ার সময় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

এতে আহত হন সদর থানার কনস্টেবল মো. মহসীন ও গণপূর্তের হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। তাদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কনস্টেবল মহসীনকে নেয়া হয় শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

তবে কারা হামলা চালিয়েছে তা নিশ্চিত করা যায়নি।

নিউজবাংলার প্রতিবেদক হাসপাতালে উপস্থিত সদর থানার পুলিশের কাছ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ফল ঘোষণার পর কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন কয়েকজন চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা। এক ঘণ্টা পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৫

বটতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু রায়হান দোলন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ওই কেন্দ্রের ভোট আবার গণনা করা হবে। তাতেও সমাধান না আসলে আবার ভোট হবে ওই কেন্দ্রে।

রাজবাড়ির বালিয়াকান্দির সদর ইউনিয়নে ফল ঘোষণার পর পরাজিত সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।

সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাইককান্দি কেন্দ্রে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেকুজ্জামান ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, কেন্দ্রের পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় বিক্ষুব্ধরা একটি মাইক্রোবাস ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি আরও জানান, ওই ওয়ার্ডের সদস্যপদে আকরাম হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এরপর পরাজিত প্রার্থী মো. খোকনের সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে ব্যালট বাক্স কেড়ে নেয়। তাতেই সংঘর্ষ বাধে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন আহমেদ জানান, ব্যালটবাক্স পরে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা গেছে।

এ ছাড়া ভোট চলাকালে দিনভর বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন জেলায়। জাল ভোট ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের খবরও এসেছে কিছু জেলা থেকে।

আগের দুই ধাপের তুলনায় এবার সহিংসতা কম হয়েছে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘এবার সহিংসতা যাতে না হয়, তার জন্য আগে থেকেই বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগের চেয়ে বেশি তৎপর ছিল। প্রতিদ্ধন্দ্বী প্রার্থীরাও সহনশীল আচরণ করেছেন। এতে আগের চেয়ে বিচ্ছিন্ন ঘটনাও কম হয়েছে।

’বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও নির্বাচন কমিশন একটি সহিংসতার ঘটনা ঘটবে বলেও আশা করে না। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ এবং প্রার্থীদের সহনশীল এমন আচরণ অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে সহিংসতা আরও কমবে।’

এর আগে দ্বিতীয় ধাপের ভোটের আগে-পরে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু নরসিংদীতেই মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। এ ছাড়া মাগুরায় ৪, মেহেরপুরে ২ এবং কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে নিহত হয়েছেন ১ জন করে।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল
মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল
সাম্প্রদায়িক হামলায় সরকারি মদদ: ফখরুল
সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়: ফখরুল
আসুন গণ-আন্দোলন সৃষ্টি করি: ফখরুল

শেয়ার করুন

মুন্সিগঞ্জে ভোট শেষে সংঘর্ষ, নিহত ১

মুন্সিগঞ্জে ভোট শেষে সংঘর্ষ, নিহত ১

মুন্সিগঞ্জের বাংলাবাজারে ভোটের পর সংঘর্ষে নিহত হন এই যুবক। ছবি: নিউজবাংলা

মুন্সিগঞ্জের বাংলাবাজারে ভোটের পর সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে।

বাংলাবাজার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বানিয়াল উত্তর ভূকৈলাশ সরকারি কাজিয়ারচর বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনার পর সন্ধ্যায় এই সংঘর্ষ হয়।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বাংলাবাজারে কেন্দ্রের ফল ঘোষণায় দেরি হওয়ায় সংরক্ষিত নারী আসদের দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম শাকিল মোল্লা। তার স্বজনরা জানান, বাড়ি শরীয়তপুর হলেও বাংলাবাজারে নানার বাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন শাকিল। সেখানে ভোটের সময় নারী সদস্য প্রার্থী রাবেয়া বেগমের সমর্থক হিসেবে কাজ করছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, ভোট শেষে উত্তর ভূকৈলাশ সরকারি কাজিয়ারচর বিদ্যালয়ে রাবেয়ার সমর্থকদের সঙ্গে আরেক প্রার্থী আরফা বেগমের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। সে সময় শাকিলকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষ। তাকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক শৈবাল বসাক জানান, শাকিলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার দেহে একাধিক জখম ছিল।

ইউপির তৃতীয় ধাপের ভোটের দিন এ নিয়ে দুজনের প্রাণহানি হলো। এর আগে ভোট শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও এর বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সজিব হোসেন নিহত হন।

এ ছাড়া ভোট চলাকালে দিনভর বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন জেলায়। জাল ভোট ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের খবরও এসেছে কিছু জেলা থেকে।

তবে নির্বাচন কমিশন সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার ভোট শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তৃতীয় ধাপের এই নির্বাচন সহিংসতা নিরসনের মডেল হতে পারে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এবারের ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে এবং ভোটাররাও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছেন।’

এর আগে দ্বিতীয় ধাপের ভোটের আগে-পরে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু নরসিংদীতেই মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। এ ছাড়া মাগুরায় ৪, মেহেরপুরে ২ এবং কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে নিহত হয়েছেন ১ জন করে।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল
মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল
সাম্প্রদায়িক হামলায় সরকারি মদদ: ফখরুল
সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়: ফখরুল
আসুন গণ-আন্দোলন সৃষ্টি করি: ফখরুল

শেয়ার করুন

এলডিসি উত্তরণ: আবেগে ভাসলেন শেখ হাসিনা

এলডিসি উত্তরণ: আবেগে ভাসলেন শেখ হাসিনা

জাতীয় সংসদের সমাপনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আরও আগে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য অর্জন করা যেত। ছবি বিটিভির ভিডিও থেকে নেয়া

জাতির পিতাকে হত্যার পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তারা কেউই দেশের কথা ভাবেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জেনারেল জিয়ার কথা বলেন, জেনারেল এরশাদের কথা বলেন বা বেগম জিয়ার কথা বলেন। এরা তো কেউ দেশকে উন্নত করতে চায়নি। ক্ষমতা তাদের কাছে ছিল ভোগের বস্তু। ক্ষমতা তাদের কাছে ছিল নিজেদের জীবনকে বিলাসবহুল করে তোলার মাধ্যম।’

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার অর্জন তুলে ধরতে গিয়ে আবেগে ভাসলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় সংসদের সমাপনী অধিবেশনে সংসদ নেতার বক্তব্য দিতে গিয়ে বারবার স্মরণ করেন জাতি পিতাকে। বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আরও আগে এ লক্ষ্য অর্জিত হতো।

নিজের বক্তব্যে ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট প্রসঙ্গ আসতেই আবেগতাড়িত হতে দেখা যায় সরকারপ্রধানকে। কথা বলতে গিয়ে বাবরবারই কেঁপে উঠেছিল তার কণ্ঠ।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘৭৫-এর ১৫ আগস্ট সব হারিয়েছিলাম। আমার বাবা, আমার মা, ছোট তিনটি ভাই, ভ্রাতৃবধূ, একমাত্র চাচাসহ আত্মীয় স্বজনদের। সবকিছু হারিয়ে হারানোর বেদনা পাশে রেখে শুধু একটা লক্ষ্য সামনে রেখেছি।

‘এই বাংলাদেশ লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত। এই বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমার বাবা সারাটা জীবন কষ্ট করেছেন। জেল-জুলুম-অত্যাচার সহ্য করেছেন। নিজের জীবনে তিনি কিছু চাননি। পাশে থেকেছিলেন আমার মা। আমাদের দেশে বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমার মায়ের ভূমিকা রয়েছে। পর্দার আড়ালে থেকে এ দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামকে তিনি এগিয়ে নিয়ে গেছেন।’

তিনি বলেন, ‘কী আশ্চর্য! দুঃখের বিষয়, যে দেশের মানুষের জন্য তিনি সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন, এত তাগ স্বীকার করলেন, সেই বাংলাদেশের মানুষের হাতেই তাকে জীবন দিতে হলো। শুধু আমার বাবাকে না, পুরো পরিবারকে। রেহানা আর আমি বিদেশে ছিলাম বলে বেঁচে গিয়েছিলাম। রিফিউজি হিসেবে বিদেশে থাকতে হয়েছিল।

‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আমার অবর্তমানে যখন আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করে, তখন খুনিরা মুক্ত, যুদ্ধাপরাধীরা মুক্ত, তারাই দেশ চালাচ্ছে। যেখানে আমার ছোট ১০ বছরের ভাইকেও ছাড়েনি, সেখানে আমিও রেহাই পাব না। হয়তো যেকোনো সময় মৃত্যু আমার হতে পারে। এটা জেনেও শুধু দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের নিয়ত নিয়ে দেশে এসেছিলাম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ছোট বাচ্চা, ১০ বছরের ছেলে জয় আর ৮ বছরের মেয়েকে বোনের কাছে দিয়ে বাংলার মাটিতে ফিরে এসেছিলাম একটি লক্ষ্য নিয়ে। যে স্বপ্ন নিয়ে আমার বাবা এ দেশ স্বাধীন করেছেন, যে স্বপ্ন নিয়ে আমার বাবা তার সারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, যে স্বপ্নটা অধরা রয়ে গেছে। সেই স্বপ্নটা যেন পূরণ করতে পারি। সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।

‘বারবার আঘাত এসেছে, আমি জানি না, আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন আমাকে বাঁচিয়েছেন এবং আমার দলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন সময়ে মানবঢাল রচনা করে আমাকে সুরক্ষা দিয়েছেন। আমাকে এটুকু সুযোগ দিয়েছেন আজকে একটি মর্যাদায় বাংলাদেশকে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি।’

জাতির পিতাকে হত্যার পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তারা কেউই দেশের কথা ভাবেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জেনারেল জিয়ার কথা বলেন, জেনারেল এরশাদের কথা বলেন বা বেগম জিয়ার কথা বলেন। এরা তো কেউ দেশকে উন্নত করতে চায়নি। ক্ষমতা তাদের কাছে ছিল ভোগের বস্তু। ক্ষমতা তাদের কাছে ছিল নিজেদের জীবনকে বিলাসবহুল করে তোলার মাধ্যম।

‘তাদের সঙ্গে কিছু লোক, ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে দলে নিয়ে এলিট শ্রেণি তৈরি করা। দেশের সাধারণ মানুষ কিন্তু যে তিমিরে সেই তিমিরেই রয়ে ছিল। সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কেউ এগিয়ে আসেনি।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা একটি কথা সব সময় বলতেন আমাদের মাটি আছে মানুষ আছে। এ দিয়েই আমরা দেশ গড়ব। এ কথা কিন্তু এখন কেউ বাস্তবায়নও করেনি, চিন্তাও করেনি। বরং বিদেশ থেকে আরও আমদানি হবে, সেখান থেকে কমিশন খাবে, দেশে উৎপাদন হবে না। বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়বে।

‘সেই শস্যবীজ, ধানের বীজ সবকিছুতেই পরনির্ভরশীলতা। আর মানুষের কাছে ভিক্ষা চেয়ে হাত পাতা। এটাই ছিল তাদের নীতি। কিন্তু আওয়ামী লীগের নীতি হচ্ছে, যে আদর্শ জাতির পিতা দিয়ে গেছেন, যে আদর্শের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করেছি, সেটি বাস্তবায়ন করা। সেভাবে পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছি বলেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে।’

এলডিসি উত্তরণ বাংলাদেশের সামনে অনেক সুযোগ নিয়ে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘তবে এটি বাস্তবায়নের ফলে অনেক সুবিধাও আমরা যেখানে পাব, সেদিক আমি মনে করি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ আমাদের নিতে হবে এবং সেই প্রস্তুতিও কিন্তু আমরা নিয়ে রেখেছি। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বল্পোন্নত দেশের যে সুবিধাগুলো সেটি হয়তো পাব না সব, তবে আমরা একটি কাজ করেছি।

‘আমরা জাতিসংঘের কাছে একটি সময় চেয়ে নিয়েছি। ২০২৪ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণটা সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য আমরা সময় নিয়েছি ২০২৬ পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে আমরা পরিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সব কাজ করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণ অনেক সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের কাছে ব্র্যান্ডিং করার একটি নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করে দিয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি উদীয়মান। বাংলাদেশের জন্য একটি বড় বাজার সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এই বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে আমরা পৌঁছাতে পারব।

‘যে যেটাই বলুক, যত সমালোচনাই করুক। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং কাজ করে যাব। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের এ গতি যেন কেউ রোধ করতে না পারে। অনেক রকমের চক্রান্ত থাকবে। সেগুলোকে মাথায় নিয়েই আমাদের চলতে হবে। আমরা আজকে উন্নয়নশীল দেশের যে মার্যাদা পেয়েছি, এটি জনগণেরই অবদান। তাদের প্রতি আবারও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল
মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল
সাম্প্রদায়িক হামলায় সরকারি মদদ: ফখরুল
সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়: ফখরুল
আসুন গণ-আন্দোলন সৃষ্টি করি: ফখরুল

শেয়ার করুন

তোপের মুখে জাহাঙ্গীর সমর্থক নেতারা

তোপের মুখে জাহাঙ্গীর সমর্থক নেতারা

বক্তব্য দিতে গিয়ে নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে পড়েন জাহাঙ্গীরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ নয়ন। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ‘ভুয়া, ভুয়া...জাহাঙ্গীরের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে বক্তব্য না দিয়ে কিছুক্ষণ বসে থেকে অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যান এই নেতা।

গাজীপুর সিটির ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। জাহাঙ্গীরপন্থি হিসেবে পরিচিত এই নেতা ‌একপর্যায়ে অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন।

অনুষ্ঠানে সিটির মোট ৭৬ কাউন্সিলরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে করপোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হলেও জাহাঙ্গীরপন্থি জনপ্রতিনিধিরা ছিলেন অনুপস্থিত। তবে যারা বিভিন্ন সময় নানা ইস্যুতে সদ্য বরখাস্ত মেয়রের বিরোধিতা করেছেন তারা ছিলেন সরব।

অনুষ্ঠানের শুরুতে রোববার দুপুর ১২টার পর নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষ থেকে জাহাঙ্গীর আলমের দুটি ছবি অপসারণ করা হয়। এর পর একে একে বক্তব্য দেন মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মণ্ডল, সহসভাপতি ওয়াজ উদ্দিন মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি, সহসভাপতি রিপন সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহি, কাজী ইলিয়াস আহমেদসহ আরও অনেকে।

তবে বক্তব্য দিতে গিয়ে নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে পড়েন জাহাঙ্গীরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ নয়ন। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ‘ভুয়া, ভুয়া...জাহাঙ্গীরের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে বক্তব্য না দিয়ে কিছুক্ষণ বসে থেকে অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যান এই নেতা।

অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত ও সাধারণ ওয়ার্ডের সব কাউন্সিলরকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও অনেকেই উপস্থিত হননি। জাহাঙ্গীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মনির, ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম, ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাদেক আলী, ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্বাস উদ্দিনসহ ডজনখানেক কাউন্সিলরকে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি।

জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে কাউন্সিলরদের যত অভিযোগ

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কাউন্সিলররা বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।

তোপের মুখে জাহাঙ্গীর সমর্থক নেতারা

জাহাঙ্গীরবিরোধী আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়া কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল বলেন, ‘লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে গাজীপুর থেকে বঙ্গবন্ধুর কটূক্তিকারীকে উৎখাত এবং প্রধানমন্ত্রীর সঠিক সিদ্ধান্তে গাজীপুর কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত কাউন্সিলররা কারও ছাতা ধরতে, জুতা টানতে কাজ করবে না। যেসব কাউন্সিলর ভুল করেছেন তারা নিজেদের শুধরে সঠিক পথে ফিরে আসুন। এখন থেকে সব কাউন্সিলর জনগণের সেবক হয়ে কাজ করবেন।’

৪৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরু বলেন, ‘কারও গোলামি করতে আমরা নির্বাচিত হইনি। গাজীপুরে কোনো দিন নব্য মোশতাক ও স্বৈরাচারের স্থান হয়নি। আমরা স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছি। নগরীর উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। গত তিন বছরে কোনো কাউন্সিলর বলতে পারবেন না তার স্ব স্ব এলাকায় কোন কাজটি হয়েছে। কোনো রেজুলেশন কাউন্সিলরদের দেয়া হয়নি।’

হাজার হাজার কোটি টাকা কোথায় গেল প্রশ্ন রেখে কাউন্সিলর নুরু বলেন, ‘সিটি করপোরেশনে প্রতিবছর রাজস্ব আদায় হয় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। এত অর্থ কোথায় গেল আমরা ভারপ্রাপ্ত মেয়রের কাছে হিসাব চাই। সড়ক প্রশস্তের নামে ৩২ হাজার বাড়িঘর ভাঙা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। ভারপ্রাপ্ত মেয়রের কাছে দাবি, বাড়িঘর ভাঙার সঠিক তথ্য দেবেন এবং নগরবাসী যেন তাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পান।’

৫২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ আব্দুল আলিম মোল্লা বলেন, ‘অযোগ্য এবং অপদার্থ লোককে মনোনয়ন দিয়ে গাজীপুর সিটির মেয়র ও দলের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। এ ধরনের লোকজন যেন ভবিষ্যতে আমাদের দলে না আসতে পারে।’

আরও পড়ুন:
আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল
মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল
সাম্প্রদায়িক হামলায় সরকারি মদদ: ফখরুল
সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়: ফখরুল
আসুন গণ-আন্দোলন সৃষ্টি করি: ফখরুল

শেয়ার করুন

খালেদার লিভার সিরোসিস, চিকিৎসা দেশে নেই: চিকিৎসক

খালেদার লিভার সিরোসিস, চিকিৎসা দেশে নেই: চিকিৎসক

বিএনপি নেত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান এফ এম সিদ্দিকী

‘আমরা যে সকল রোগীদের ডিল করি তাদের দুই/তিন বার ব্লিডিং এর পরে সারভাইভ করানো যায় না। এর জন্য আমেরিকা, ইউরোপ বেস্ট। বিশেষত ইউকে জার্মানি এবং ইউএসএ। ওইসব দেশে এগুলোর জন্য অ্যাডভানস সেন্টার আছে। তবে সেসব দেশেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে নেই। দুই-চারটা সেন্টার আছে। বিশ্বের সব রোগীরা সেসব সেন্টারে যায়।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিসের কারণে ব্লিডিং হচ্ছে জানিয়ে তার চিকিৎসায় গঠিত দলের মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসকরা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানির বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার সুপারিশ করেছেন।

তারা জানিয়েছেন, বিএনপি নেত্রীর যকৃৎ বা লিভারে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। একবার এই রক্তক্ষরণ সামাল দেয়া গেছে। তবে এখন তার যে অবস্থা, সেটি আবার সামাল দেয়া কঠিন হবে।

বাংলাদেশে দুই থেকে তিনবার রক্তক্ষরণ সামাল দেয়ার কারিগরি সুযোগ নেই দাবি করে যত দ্রুত সম্ভব তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন তারা।

রোববার সন্ধ্যায় বিএনপি নেত্রীর গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ব্রিফিং করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা। তারা দাবি করেন, বেগম খালেদা জিয়ার যে রোগ হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিক অল্প কয়েকটি বিশেষায়িত সেন্টারে তার চিকিৎসা সম্ভব। বাংলাদেশে এই চিকিৎসার কারিগরি সুযোগ সুবিধা যেমন নেই, তেমনি ওষুধও নেই।

আরও চার মাস আগে বিএনপি নেত্রীকে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে তার শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হতো না বলেও দাবি করেন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় দলের গঠন করা মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান।

দণ্ডবিধির ৪০১ ধারা ব্যবহার করে দুর্নীতির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের দণ্ড স্থগিত করিয়ে ২০২০ সালের মার্চে তার মুক্তির ব্যবস্থা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময়ই শর্ত ছিল তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।

তবে মুক্ত হওয়ার পর বিএনপি নেত্রীর স্বজনরা সরকারের কাছে একাধিকবার তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। গত এপ্রিলে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর এক দফা সেই দাবি নাকচ করে সরকার।

সম্প্রতি খালেদা জিয়াকে আবার হাসপাতালে নেয়া হলে এই দাবি আবার তুলে ধরে তার স্বজন ও দল। সরকার এবারও নাচক করলে বিএনপি শুরু করে আন্দোলন কর্মসূচি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাঝে দাবি করেছেন, তাদের নেত্রী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন। বিদেশে পাঠাতে দেরি হলে তাকে বাঁচানো কঠিন হয়ে যাবে, এমন দাবিও করেন তিনি।

তবে বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের নেত্রীর অসুস্থতা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয় হয়নি। তার চিকিৎসা চলা ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে কোনো কিছু বলেনি।

ব্রিফিংয়ে বিএনপি নেত্রীর রোগ নিয়ে প্রাথমিক একটি বর্ণনা দেন ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের গঠন করা মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান এফ এম সিদ্দিকী।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পেট থেকে চাকা চাকা রক্ত যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ইউনাইটেড হাসপাতালে একবার রক্ত দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া গেছে। কিন্তু এ ধরনের রোগীকে বারবার রক্ত দেয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘আশঙ্কা করছি, আবার যদি ব্লিডিং হয়, তাহলে যদি এটাকে কন্ট্রোল করা সাপোর্ট করা যাবে না। ব্লিডিং হয়ে মৃত্যুঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে।’

এফ এম সিদ্দিক এই চিকিৎসায় টিপস নামে একটি পদ্ধতির উল্লেখ করেন, যার সুযোগ সুবিধা উন্নত বিশ্বে আছে।

ইন্টারভ্যানশনাল গ্যাস্ট্রো অ্যানালিস্ট চিকিৎসক শামসুল আরেফিন লিভারে রক্তক্ষরণ ঠেকাতে চিকিৎসা পদ্ধতি তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা যে সকল রোগীদের ডিল করি তাদের দুই/তিন বার ব্লিডিং এর পরে সারভাইভ করানো যায় না। এর জন্য আমেরিকা, ইউরোপ বেস্ট। বিশেষত ইউকে জার্মানি এবং ইউএসএ। ওইসব দেশে এগুলোর জন্য অ্যাডভানস সেন্টার আছে। তবে সেসব দেশেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে নেই। দুই-চারটা সেন্টার আছে। বিশ্বের সব রোগীরা সেসব সেন্টারে যায়।’

টিপস্ হিসেবে এফ এম সিদ্দিকী যা উল্লেখ করেছেন, তার ব্যাখ্যা কী- জানতে চাইলে শামসুল আরেফিন বলেন, ‘লিভারের ভেতরে পোর্টাল প্রেসার কমানোর জন্য সিস্টেমিক সার্কুলেশন এবং পোর্টাল সার্কুলেশনের মধ্যে একটা কমিউনিকেশন করে দেয়া। এটা একটি হাইলি টেকনিক্যাল কাজ। এটা সচরাচর হয় না। আমি দেখি নাই টিপস্ করা রোগী আমাদের দেশে আসছে।’

এই পর্যায়ে চিকিৎসার যে সুযোগ-সুবিধা দরকার, দেশে তার অভাব আছে বলে উল্লেখ করে খালেদা জিয়ার এই চিকিৎসক বলেন, ‘বিল্ডিং হলে আমাদের কিছু কিছু স্পেশাল কেমিক্যাল এজেন্ট আছে। এই কেমিক্যাল এজেন্টগুলো আমরা সেখানে ইনজেক্ট করি। আনফরচুনেটলি সেই ওষুধটা আমাদের দেশে এই মুহূর্তে এভেইলেবল না।’

এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) হিমোগ্লোবিন লেভেল প্রথমবার নেমে গিয়েছিল ৫ দশমিক ৫ এ। পরে আমরা সেটাকে চার ব্যাগ রক্ত দিয়ে ৯-১০ এর কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলাম। আবার সেটা কমে এসেছিল ৭ দশমিক ৮ এ। ‘ওনার ব্লিডিং-এর একটা ইম্পরট্যান্ট ব্যাপার হচ্ছে অনেক রক্ত দিয়ে হিমোগ্লোবিন বাড়াতে পারবেন না। তাহলে সেটা আবার রিব্লিট করবে। এ কারণে হিমোগ্লোবিনকে একটা লেভেলের মতো ধরে রাখতে হয়।

‘আবার যদি রিব্লিডিং হয় তবে সে বিল্ডিংকে কন্ট্রোল করার মতো বা বন্ধ করার মতো সাপোর্টেড টেকনোলজি আমাদের এখানে নেই। সেক্ষেত্রে ব্লিডিং হয়ে ওনার মৃত্যুঝুঁকি অনেকটা বেড়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘বিল্ডিংটা এখন বন্ধ হয়ে আছে। যে রিব্লিড করে ধরে নিতে পারেন সে আবার রিব্লিড করবে। সেই রিব্লিডিং এর চান্স আগামী ছয় সপ্তাহে হওয়ার সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ থেকে এর অধিক। তার মানে আপনাকে ধরে নিতে হবে রিব্লিড করবে। এজন্য আমরা অনেকটা অসহায় ফিল করছি।’

আবার রক্তক্ষরণ হলে কী বিপদ হতে পারে, তা উল্লেখ করে এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা যে রক্ত দেখেছি এরকম ব্লিডিং হলে যার হার্ট ফেইলর… হিমোগ্লোবিন কমে যায়, যার ডায়বেটিস আছে এবং এতো জটিলতার মধ্যে কিডনির ডিজিজ আছে ওনার… এনাল ফেইলর হয়ে যায়, এটাকে আমরা কীভাবে সাস্টেইন করব, যদি প্রেশারটা টিপস দিয়ে না কমাতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা হাসপাতাল অথরিটিকে জানিয়েছি, তারা ওনাদের (খালেদা জিয়া) রিলেটিভদেরকে জানিয়েছিলেন। কারণ এখনো সময় আছে।’

‘হাসপাতালে রক্তবমি’

এফ এম সিদ্দিকী বলেন, উনি গত ১২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাসায় চলে এসেছিলেন। বাসায় আসার পর কিছুদিন ভালো ছিলেন। এরপর হঠাৎ খুব দুর্বল হয়ে পড়েন। কয়েক কদম হাঁটতে গিয়েই হাঁপিয়ে পড়েছিলেন।

তখন রক্ত পরীক্ষায় দেখা যায় বিএনপি নেত্রীর রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেছে। এরপর তাকে এভারকেয়ারে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে নেয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রক্তবমি হয় বলেও জানান তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক। বলেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি ম্যাডামের যদি পুনরায় রক্তক্ষরণ হয়, তাহলে সেটা নিয়ন্ত্রণ করার মতো সাপোর্টিং টেকনোলজি আমাদের এখানে নেই। সে ক্ষেত্রে উনার আবার রক্তক্ষরণ হলে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে।’

১৭, ১৮ নভেম্বরের পর আবারও দফায় রক্তক্ষরণ হয়েছে খালেদা জিয়ার। তবে শেষ ২৪ ঘণ্টায় হয়নি বলে জানান তিনি।

বলেন, ‘আবার এমন অবস্থা সৃষ্টি হলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সে কারণে স্ট্যাবল অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা জার্মানিতে উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে তার চিকিৎসা দরকার।’

বিদেশে নিতে দেরি হলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে উল্লেখ করে এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘নেক্সট উইকে ফিফটি পারসেন্ট, নেক্সট সিক্স উইকে সেভেনটি পারসেন্ট এবং এরপর যদি আল্লাহ না করুন এটা একটা অবভিয়াস ব্যাপার ঘটতে যাচ্ছে।

‘আমরা যা করছি, তা সমস্ত সম্ভাবনার শেষটুকু দিয়ে। যেটা এ উপমহাদেশের মধ্যেও নেই। যতবার তিনি আক্রান্ত হচ্ছেন, কেন যেন তার সিরিয়াসনেসটা একেবারে ডেথ পয়েন্টে চলে যাচ্ছে।’

বিএনপি নেত্রীর চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এ কিউ এম মহসিন, নূর উদ্দিন, আল মামুনও ব্রিফিংয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল
মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল
সাম্প্রদায়িক হামলায় সরকারি মদদ: ফখরুল
সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়: ফখরুল
আসুন গণ-আন্দোলন সৃষ্টি করি: ফখরুল

শেয়ার করুন

সহিংসতাহীন ভোট হয়েছে: ইসি

সহিংসতাহীন ভোট হয়েছে: ইসি

‘কেন্দ্র দখল করতে’ কুমিল্লার বরুড়ায় একটি কেন্দ্রে হামলায় আহত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা (বামে) ও নরসিংদী সদরের একটি কেন্দ্রে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ যুবককে নেয়া হচ্ছে হাসপাতালে। ছবি: নিউজবাংলা

ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘তৃতীয় ধাপের এই নির্বাচন সহিংসতা নিরসনের মডেল হতে পারে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এবারের ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে... নির্বাচন কমিশন একটি সহিংসতার ঘটনা ঘটবে বলেও আশা করে না। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ এবং প্রার্থীদের সহনশীল এমন আচরণ অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে সহিংসতা আরও কমবে।’

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও ভোট সহিংসতাহীন হয়েছে বলে দাবি করেছন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার।

তবে প্রিসাইডিং অফিসারদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ২১টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ইসি সচিব আরও জানান, প্রাথমিক হিসাবে এ ধাপে ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে।

আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর।

তিনি আরও বলেন, ‘তৃতীয় ধাপের এই নির্বাচন সহিংসতা নিরসনের মডেল হতে পারে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এবারের ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে এবং ভোটাররাও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছেন।’

সহিংসতাহীন ভোট হয়েছে: ইসি
আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা

আগের দুই ধাপের তুলনায় এবার সহিংসতা কম হয়েছে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘এবার সহিংসতা যাতে না হয়, তার জন্য আগে থেকেই বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগের চেয়ে বেশি তৎপর ছিল। প্রতিদ্ধন্দ্বী প্রার্থীরাও সহনশীল আচরণ করেছেন। এতে আগের চেয়ে বিচ্ছিন্ন ঘটনাও কম হয়েছে।

’বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও নির্বাচন কমিশন একটি সহিংসতার ঘটনা ঘটবে বলেও আশা করে না। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ এবং প্রার্থীদের সহনশীল এমন আচরণ অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে সহিংসতা আরও কমবে।’

দিনভর বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও কোথাও প্রাণহানি হয়নি। তবে ভোট শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে লক্ষ্মীপুরের একটি কেন্দ্রে সংঘর্ষে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা নিহত হন।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল
মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল
সাম্প্রদায়িক হামলায় সরকারি মদদ: ফখরুল
সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়: ফখরুল
আসুন গণ-আন্দোলন সৃষ্টি করি: ফখরুল

শেয়ার করুন