তীর্থযাত্রায় আলোকিত গারো পাহাড়

তীর্থযাত্রায় আলোকিত গারো পাহাড়

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় মহা খ্রিষ্টযাগ উৎসর্গ করেন বাংলাদেশের কার্ডিনাল পেট্রিক ডি রোজারিও সিএসসি। এরপর রাত ৯টায় ভক্তরা মোমবাতি নিয়ে পাহাড়ে শোভাযাত্রায় বের হন। পাপ স্বীকার ও নিশি জাগরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রথম দিনের আয়োজন।

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর গারো পাহাড়ে চলছে ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব তীর্থযাত্রা।

গারো পাহাড়ের বারোমারী সাধু লিওর খ্রিষ্টধর্ম পল্লিতে মহা খ্রিষ্টযাগের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুরু হয় দুই দিনের এই উৎসব। এর অংশ হিসেবে রাত ৯টায় মোমবাতি জ্বালিয়ে পাহাড়ে শোভাযাত্রা করেন সারা দেশ থেকে যাওয়া প্রায় ২০ হাজার রোমান ক্যাথলিক খ্রিষ্টভক্ত।

প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এ আলোক মিছিলে দুই বছর পর আলোকিত হয় গারো পাহাড়।

করোনার কারণে গত দুই বছর এই উৎসব হয়েছে সীমিত পরিসরে। সে সময় হয়নি এই আলোক শোভাযাত্রা।

‘ভ্রাতৃত্ব সমাজ গঠনে ফাতেমা রাণী মা মারিয়া’ এই মূল সুরের ওপর ভিত্তি করে এবারের উৎসবে মা মারিয়ার কাছে বিশ্বকে করোনা থেকে মুক্তির প্রার্থনা করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় মহা খ্রিষ্টযাগ উৎসর্গ করেন বাংলাদেশের কার্ডিনাল পেট্রিক ডি রোজারিও সিএসসি ৷ তাকে সহযোগিতা করেন ময়মনসিংহ ধর্ম প্রদেশের বিশপ পনেন পৌল কুবি সিএসসি।

তীর্থযাত্রায় আলোকিত গারো পাহাড়

এরপর রাত ৯টায় ভক্তরা মোমবাতি নিয়ে পাহাড়ে শোভাযাত্রায় বের হন। পাপ স্বীকার ও নিশি জাগরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রথম দিনের আয়োজন।

শুক্রবার সকালে জীবন্ত ক্রুশের পথ ও মহা খ্রিষ্টযাগের মাধ্যমে তীর্থ উৎসব শেষ হয়েছে।

নেত্রকোনার বিরিশিরি থেকে যাওয়া ক্যাথলিকভক্ত আঁখি মারাক বলেন, ‘পাপ মোচনসহ নানা সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে মা মারিয়ার কাছে ছুটে এসেছি। আমার সন্তানের অসুখের জন্য মানত ছিল, তাই এখানে এসেছি। আমার মানত ভালো হয়েছে।’

আরেক ভক্ত লিউনি নকরেক বলেন, ‘আমরা যেন ভালোভাবে শিক্ষা অর্জন করতে পারি, আগামী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে পারি, এ জন্য মা মারিয়ার সাহায্যের জন্য এসেছি।’

গারো পাহাড়ের নেত্রী কেয়া নকরেক বলেন, ‘আমাদের বারোমারী মিশনে সারা দেশ থেকে ক্যাথলিকসহ সব খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীরা এখানে আসেন, মা মারিয়ার কাছে সাহায্য চাইতে, পরিবারের শান্তির জন্য। আর এ বছর আমরা মা মারিয়ার কাছে প্রার্থনা করছি, সারা বিশ্ব যেন করোনা থেকে মুক্ত হতে পারে।’

তীর্থযাত্রায় আলোকিত গারো পাহাড়

বারোমারী লিওর খ্রিষ্টধর্ম পল্লিতে ১৯৯৮ সাল থেকে শুরু হয় এই তীর্থযাত্রা উৎসব। এর পর থেকে প্রতিবছরই অক্টোবর মাসের শেষ বৃহস্পতি ও শুক্রবার তীর্থযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

তীর্থযাত্রার সেখানে মেলাও বসে। এবারও মেলা বসেছে, তবে কেনাকাটা অন্য বছরের চেয়ে কম হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

জেলা প্রশাসক মোমিনুর রশিদ বলেন, ‘ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের এই উৎসব সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছে। আমরা সব সময় এর খোঁজখবর রেখেছি। আমাদের সবার সহযোগিতায় এ উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বর্ণিল শোভাযাত্রায় বিজয়ের মাস বরণ

বর্ণিল শোভাযাত্রায় বিজয়ের মাস বরণ

বিজয়ের মাসকে বরণ করে নিতে সিলেটে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ছবি: নিউজবাংলা

শোভাযাত্রায় সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে, তাদেরকে আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস জানাতেই এমন আয়োজন।’

মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে বিশাল জাতীয় পতাকা, কারো হাতে ফেস্টুন-ব্যানার, শিশুদের হাতে ছোটছোট পতাকা, খেলনা রাইফেল-গ্রেনেড। কেউ আবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদলে সেজে ভাষণে মগ্ন।

বিজয়ের মাস ডিসেম্বরকে প্রথম দিন এভাবেই বরণ করে নিয়েছে সিলেটবাসী।

বাঙালির গৌরবান্বিত এ মাসের বরণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করে সিলেট জেলা প্রশাসন। এতে মুক্তিযোদ্ধা, স্কুলশিক্ষার্থী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন।

‘বিজয়ের পঞ্চাশে; আমরা মাতি উল্লাসে’ এই শ্লোগানে বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু হয় বর্ণিল এই শোভাযাত্রা। নগর প্রদক্ষিণ শেষে তা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে, তাদেরকে আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস জানাতেই এমন আয়োজন।’

এই চেতনা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে বলে তিনি আশা করেন।

শোভাযাত্রায় পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মোশরাফ হোসেই ভূ্ইয়া, সিলেট মহানগর পুলিশ কমিমশনার নিশারুল আরিফ, সিলেটের জেলা প্রশাসক এম. কাজী এমদাদুল ইসলাম, সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেবোজিৎ সিনহাসহ মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন পেশাজীবী নেতৃবৃন্দরা অংশ নেন।

বিজয়ের মাস উদযাপনে শহীদ মিনারের মুক্তমঞ্চে দুইদিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ।

শেয়ার করুন

ডিআরইউর নেতৃত্বে মিঠু-হাসিব

ডিআরইউর নেতৃত্বে মিঠু-হাসিব

ডিআরইউ নির্বাচনে জয়ীদের একাংশের উচ্ছ্বাস। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

প্রাপ্ত ফলে সভাপতি পদে নির্বাচিত হন জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএমের বাংলাদেশ প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম মিঠু। আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন বাংলাদেশ পোস্টের বিশেষ প্রতিনিধি নূরুল ইসলাম হাসিব।

দেশে রিপোর্টারদের সবচেয়ে বড় সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নেতৃত্বে এসেছেন নজরুল ইসলাম মিঠু ও নূরুল ইসলাম হাসিব।

আগামী এক বছরের জন্য সংগঠনের নেতৃত্ব দেবেন তারা।

দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে সংগঠনটির নির্বাচন শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফল ঘোষণা করা হয়।

প্রাপ্ত ফলে সভাপতি পদে নির্বাচিত হন জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএমের বাংলাদেশ প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম মিঠু এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন বাংলাদেশ পোস্টের বিশেষ প্রতিনিধি নূরুল ইসলাম হাসিব।

সভাপতি পদে মিঠুর প্রাপ্ত ভোট ৪৪৯টি। সাধারণ সম্পাদক পদে হাসিব পান ৫০০টি ভোট।

সহসভাপতি পদে ৩৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন ওসমান গনি বাবুল। ৮৩২ ভোট পেয়ে যুগ্ম সম্পাদক হন শাহনাজ শারমীন। ৬৭৮ ভোট পেয়ে অর্থ সম্পাদক হন এস এম এ কালাম।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৮৭৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন আব্দুল্লাহ আল কাফি। ৭১৫ ভোট পেয়ে দপ্তর সম্পাদক হন রফিক রাফি।

৮৫৯ ভোট পেয়ে নারীবিষয়ক সম্পাদক হন তাপসী রাবেয়া আঁখি। অন্যদিকে ৭২৩ ভোটে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হন কামাল উদ্দিন সুমন।

কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় একমাত্র প্রার্থী হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক হন কামাল মোশারেফ। আপ্যায়ন সম্পাদক হন মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান।

মাকসুদা লিসা ৭২৩ ভোট পেয়ে ক্রীড়া সম্পাদক, নাদিয়া শারমিন ৯৭৩ ভোট পেয়ে সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং কামরুজ্জামান বাবলু ৭৮০ ভোট পেয়ে কল্যাণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হন হাসান জাবেদ, মাহমুদুল হাসান, সোলাইমান সালমান, সুশান্ত কুমার সাহা, মো. আল আমিন, এস কে রেজা পারভেজ, তানভীর আহমেদ এবং ছলিম উল্লাহ মেজবাহ।

এবারের নির্বাচনে ১ হাজার ৭২২ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ হাজার ৪৫৪ জন। এর মধ্যে একটি ভোট বাতিল হয়েছে।

শেয়ার করুন

রংপুরে চলছে জেলা ইজতেমা

রংপুরে চলছে জেলা ইজতেমা

আয়োজক কমিটির সদস্য ও খিত্তা জামাতের জিম্মাদার আহসান হাবীব জানান, হাজি দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে চলছে ইজতেমা। নাইজেরিয়া ও সৌদি আরবের তাবলিগ জামাতের সাথিরা এতে অংশ নিয়েছেন। রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকেও বিভিন্ন মারকাজের তাবলিগ জামাতের সাথিরা অংশ নিচ্ছেন।

রংপুরের হাজিরহাট রব্বানীর চরে শুরু হয়েছে তিন দিনের জেলা ইজতেমা। জেলার কেন্দ্রীয় মারকাজ মসজিদ কমিটি এর আয়োজন করেছে।

জাতীয় কওমি মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান মাওলানা জিয়া বিন কাশেমের বয়ানের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এই ইজতেমা শুরু হয়েছে।

আয়োজক কমিটির সদস্য ও খিত্তা জামাতের জিম্মাদার আহসান হাবীব জানান, হাজি দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে চলছে ইজতেমা। নাইজেরিয়া ও সৌদি আরবের তাবলিগ জামাতের সাথিরা এতে অংশ নিয়েছেন। রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকেও বিভিন্ন মারকাজের তাবলিগ জামাতের সাথিরা অংশ নিচ্ছেন।

আয়োজন কমিটির আরেক সদস্য মোস্তাফিজার রহমান সুমন জানান, সাদপন্থি তাবলিগ জামাতের হাজার হাজার অনুসারী ইজতেমায় যোগ দিয়েছেন। দেশের পাশাপাশি বিদেশি বক্তারাও বয়ান করবেন। আগামী শনিবার দুপুরে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এটি শেষ হবে।

ইজতেমা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পুলিশের টহল আছে বলে জানান রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার সাজ্জাদ হোসেন।

শেয়ার করুন

পুড়ে যাওয়া তাজরীন ভবনের সামনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা

পুড়ে যাওয়া তাজরীন ভবনের সামনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা

তাজরীন ফ্যাশন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের নবম বর্ষপূর্তিতে নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন আহত শ্রমিক ও নিহতদের স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। ছবি: নিউজবাংলা

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তপন সাহা বলেন, ‘তাজরীনে অগ্নিকাণ্ডের নবম বছরে এসেও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে আসছি। এ ছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট ও তদন্তে তাজরীন ফ্যাশনের অগ্নিকাণ্ডে মালিক দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। তারপরও সে বিচার এতদিনেও পায়নি ক্ষতিগ্রস্তরা।’

সাভারে তাজরীন ফ্যাশন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার নবম বর্ষপূর্তিতে নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আহত ও নিহতদের স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন।

আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে পুড়ে যাওয়া তাজরীন গার্মেন্টসের ফটকে বুধবার সকাল ৭টার দিকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারা।

টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এদিন প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

পুড়ে যাওয়া তাজরীন ভবনের সামনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা
তাজরীন ফ্যাশন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনার বর্ষপূর্তিতে নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন। ছবি: নিউজবাংলা

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তপন সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজকের এই দিনে প্রথম প্রহরে আমরা তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছি। বরাবরের মতোই এই কর্মসূচিতে শ্রমিকরা অংশ নিয়েছেন।

‘তাজরীনে অগ্নিকাণ্ডের নবম বছরে এসেও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে আসছি। এ ছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট ও তদন্তে তাজরীন ফ্যাশনের অগ্নিকাণ্ডে মালিক দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। তারপরও সে বিচার এতদিনেও পায়নি ক্ষতিগ্রস্তরা।’

তিনি বলেন, ‘নতুন করে আজকের এই দিনে আমরা আবারও ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনসহ মালিক দেলোয়ারের বিচার বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি কামনা করছি।’

তিনি জানান, দিনটিতে প্রতিবারই শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নানান কর্মসূচি পালন করা হয়। বুধবার গাজীপুর ও নিশ্চিন্তপুরে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ১১৪ জন শ্রমিক। আহত হন আরও দুই শতাধিক শ্রমিক।

শেয়ার করুন

নাচে-গানে খাসিয়াদের বর্ষবিদায়

নাচে-গানে খাসিয়াদের বর্ষবিদায়

উৎসবের মঞ্চ এবার সাজানো হয়েছে বাঁশ, কলাপাতা ও সুপারিপাতা দিয়ে। মেলাও বসে সেখানে। অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয় কলাপাতায় মোড়ানো ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে নাচে-গানে উদযাপিত হয়েছে খাসিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহীয় বর্ষ বিদায় ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান খাসি সেং কুটস্নেম। খাসিয়ারা নিজস্ব আয়োজনে ১২২ তম বছরকে বিদায় জানিয়েছেন।

কমলগঞ্জেের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন মাগুরছড়া খাসি পুঞ্জি মাঠে মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই উৎসব। নাচ-গানের পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও আলোচনা সভারও।

ব্রিটিশ আমল থেকে খাসিয়ারা প্রতি বছরের ২৩ নভেম্বর এই অনুষ্ঠান করে আসছেন।

মাগুরছড়া পুঞ্জির মন্ত্রী ও খাসি সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি জিডিশন প্রধান সুচিয়াং জানান, খাসি সেং কুটস্নেম উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এই আয়োজন করা হয়।

তিনি জানান, খাসিয়া জনগোষ্ঠীর রয়েছে বৈচিত্র্যময় জীবনগাঁথা। প্রাচীন খাসি সমাজে দেবতার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশের মধ্য দিয়েই এ উৎসব পালিত হত। এরই ধারাবাহিকতায় এখন নিজেদের বিশেষ বর্ণিল পোশাকে সেজে এই সম্প্রদায়ের লোকজন উৎসবটি উদযাপন করে। দিনভর চলে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

উৎসবের মঞ্চ এবার সাজানো হয়েছে বাঁশ, কলাপাতা ও সুপারিপাতা দিয়ে। মেলাও বসে সেখানে। অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয় কলাপাতায় মোড়ানো ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে।

খাসিয়া তরুণী সালভেশন বলেন, ‘আমাদের এ উৎসব একটা মিলনমেলার মতো। উৎসবকে কেন্দ্র করে আমরা সবাই জড়ো হই। এ বছর করোনার কারণে উপস্থিতি কম। তারপরও যতটুকু হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট।’

আদিবাসী রক্ষা আন্দোলনের নেতা ফিলা ফতমি বলেন, ‘খাসিরা দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করে আসছেন। পাহাড়ের পাদদেশে বিভিন্ন টিলা এলাকায় তাদের বসবাস। দরিদ্র্যসীমার নিচে বাস করলেও তারা অত্যন্ত নিরীহ। তারা প্রকৃতির পূজারী।’

অনুষ্ঠানে ছিলেন বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জিডিসন প্রধান সুচিয়াঙ, লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জি প্রধান ফিলা পত্মী, মণিপুরী সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আনন্দ মোহন সিংহ, সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক আকমল হোসেন নিপু, চা শ্রমিক নেতা পরিমল বাড়াইকসহ অনেকে।

উৎসব দেখতে জড়ো হন বাঙালি এবং বিদেশী পর্যটকরাও।

শেয়ার করুন

১ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে সম্মাননা

১ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে সম্মাননা

কুমিল্লার পাশাপাশি সম্মাননা পেয়েছে চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীর বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারও।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা সেনানিবাসে ১ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে সম্মাননা দেয়া হয়েছে।

সেনানিবাসের এম আর চৌধুরী প্রাঙ্গণে রোববার বিকেলে এই সম্মাননা দেয়া হয়।

কুমিল্লার পাশাপাশি সম্মাননা পেয়েছে চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীর বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারও।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপনে কেক কাটার পর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের হাতে সম্মাননা ও উপহার তুলে দেন সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও কুমিল্লা এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর হারুন।

অনুষ্ঠান শুরুর পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

এরিয়া কমান্ডার জাহাঙ্গীর বলেন, ‘দেশের উন্নয়নে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের কঠোর আত্মত্যাগ ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলা, অবকাঠামো নির্মাণ, আর্তমানবতার সেবা, পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন, জঙ্গি দমন, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।’

অনুষ্ঠানে ছিলেন জেলার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সংবাদমাধ্যমকর্মীরা৷

শেয়ার করুন

বিবাদ মিটিয়ে আজ ‘হ্যালো’ বলুন

বিবাদ মিটিয়ে আজ ‘হ্যালো’ বলুন

যুদ্ধের ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে ১৯৭৩ সালের ২১ নভেম্বর প্রথম হ্যালো দিবস উদযাপন করেন দুই ম্যাককরমেক। এখন বিশ্বের প্রায় ১৮০টি দেশে এই দিনটির উদযাপন করা হয়।

মানুষের ভাবনা প্রকাশের অন্যতম ভালো মাধ্যম ভাষা। ভাষা এমন এক সেতু যার মধ্য দিয়ে মানুষ তার চিন্তা, অনুভূতি, ধারণা, অভিজ্ঞতা একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করতে পারে।

শান্তিকামী একদল মানুষ বিশ্বাস করে, একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ বা কথা বলার মধ্য দিয়ে যে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব। তাই মানুষে মানুষে যোগাযোগ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন থেকে এসেছে ‘বিশ্ব হ্যালো দিবস’।

যাকে খুব অপছন্দ তাকেও ‘হ্যালো’ সম্ভাষণ জানিয়ে কাছে টানার সুযোগ নিতে পারেন আজ। মাত্র ১০ জন মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে উদযাপন করতে পারেন ৪৯তম হ্যালো দিবস।

যেভাবে এল দিনটি

১৯৭০ সাল। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আতঙ্ক, অজানা আশঙ্কা। মুখোমুখি অবস্থানে ইসরায়েল ও মিশর। মিশরের সমর্থনে আছে সিরিয়াও। যুদ্ধপরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে পুরো জনপদ।

তখনও কিছু মানুষ বলছিলেন, যুদ্ধ নয়, নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়িয়ে এই বিরোধের নিষ্পত্তি করুন। তাহলে প্রাণহানি যেমন থামানো যাবে, বিশ্বের সীমিত সম্পদের ক্ষতিও ঠেকানো যাবে।

তিন বছর ধরে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে, ১৯৭৩ সালের ৬ অক্টোবর শুরু হয় অক্টোবর বা ইয়োম কিপপুর যুদ্ধ। ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলা ওই যুদ্ধে হাজার হাজার সেনা ও বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারান। অনেক সেনা সদস্যরা যেমন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, অনেককে দেয়া হয়েছে মৃত্যুদণ্ড।

যুদ্ধ বেঁধে গেলেও আলোচনার মধ্য দিয়ে যে বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব, তার ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখেন অ্যারিজোনা স্টেস ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক ব্রায়ান ম্যাককরমেক এবং হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজেুয়েট মাইকেল ম্যাককরমেক। আর সেই বিশ্বাসটি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়োজন অনুভব করলেন তারা।

যুদ্ধের সেই ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে ১৯৭৩ সালের ২১ নভেম্বর প্রথম হ্যালো দিবস উদযাপন করেন দুই ম্যাককরমেক। এখন বিশ্বের প্রায় ১৮০টি দেশে এই দিনটির উদযাপন করা হয়।

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই দিনটির সম্ভাবনা অনুধাবন করতে পেরেছেন ৩১ নোবেল জয়ী। তাই দিনটি উদযাপনের পাশাপাশি যারা বিশ্ব শান্তিতে অবদান রাখতে চান, তাদের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

শেয়ার করুন