সদরঘাটগামী বাসে ‘হাফপাস’ চালু চান জবি শিক্ষার্থীরা

player
সদরঘাটগামী বাসে ‘হাফপাস’ চালু চান জবি শিক্ষার্থীরা

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হল না থাকায় বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাস করেন। প্রতিদিনই তাদের সদরঘাটগামী লোকাল বাসে যাতায়াত করতে হয়। বর্তমানে এই বাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড থাকার পরেও কোনো হাফ ভাড়া বা ছাড় দেয়া হয় না।

ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে ছেড়ে আসা সদরঘাটগামী বাসে নিজেদের জন্য ‘হাফপাস’ চালুর দাবি জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে দেয়া এক স্মারকলিপিতে এ দাবি জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হল না থাকায় বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাস করেন। প্রতিদিনই তাদের সদরঘাটগামী লোকাল বাসে যাতায়াত করতে হয়। বর্তমানে এই বাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড থাকার পরেও কোনো হাফ ভাড়া বা ছাড় দেয়া হয় না।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, হাফ পাসের কথা বললে বাসের হেলপার বা কন্ডাক্টররা বাগবিতণ্ডা করেন। অনেক সময় তারা শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছিতও করেন। এমনকি কখনও কখনও শিক্ষার্থীদের চলন্ত বাস থেকে নামিয়েও দেয়া হয়।

এতে বলা হয়েছে, করোনার আগে শিক্ষার্থীদের ভাড়া হাফ নেয়া হতো। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পরেও এখন আর বাসে হাফ ভাড়া নিতে চায় না। প্রশাসন যেন এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের দিক বিবেচনা করে বাসসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করব। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ডধারী সব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে হাফ ভাড়া নিতে তাদের বলব। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যেন কেউ কোনো ধরনের ঝামেলা না করে সে বিষয়ে কঠোর হতে বলব।’

আরও পড়ুন:
জবি শিক্ষার্থীদের এনআইডি কার্যক্রমের উদ্বোধন
শিক্ষক সমিতির পদত্যাগ চায় জবি নীলদল
জবিতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
জবিসহ ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা
৭ অক্টোবরই খুলেছে জবি: উপাচার্য

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘প্রয়োজনে সব শিক্ষার্থী অনশন করব’

‘প্রয়োজনে সব শিক্ষার্থী অনশন করব’

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অন্যতম মুখপাত্র মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘উপাচার্যের কাছে আমাদের জীবনের চেয়ে চেয়ারের মূল্য বেশি। এই অযোগ্য উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী অনশনে বসব। তবু আমরা আমাদের দাবি আদায় করে ছাড়ব।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা সাত দিন ধরে আমরণ অনশন করছেন। ২৮ ঘণ্টার জন্য তারা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বাসভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন রাখেন। তবে পদত্যাগের বিষয়ে কিছু জানাননি ফরিদ।

প্রয়োজনে এবার সব শিক্ষার্থী অনশন করবেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তবুও তারা দাবি আদায় করে ছাড়বেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অন্যতম মুখপাত্র মোহাইমিনুল বাশার রাজ মঙ্গলবার সকালে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ অহিংস পন্থায় আন্দোলন করছি। অহিংস আন্দোলনের সর্বোচ্চ ধাপ হচ্ছে অনশন। আমরা সাত দিন ধরে অনশন করছি তবুও উপাচার্য পদত্যাগ করছেন না। অনেকের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।

‘তার কাছে আমাদের জীবনের চেয়ে চেয়ারের মূল্য বেশি। এই অযোগ্য উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী অনশনে বসব। তবু আমরা আমাদের দাবি আদায় করে ছাড়ব।’

নাঈম আহমদ নামের এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে একটি মেডিক্যাল টিম চিকিৎসা সহায়তা দিচ্ছিল। তারাও সোমবার চলে গেছে। চিকিৎসার অভাবে অনশনকারীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অনশনকারীদের মধ্যে ১৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকি ১০ জন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান করছেন।

প্রেক্ষাপট

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শুরু ১৩ জানুয়ারি। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী।

১৬ জানুয়ারি বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে মুক্ত করে পুলিশ।

এরপর পুলিশ ৩০০ জনকে আসামি করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন নামেন।

বাসভবনের সামনে অবস্থানের কারণে গত ১৭ জানুয়ারি থেকেই অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

১৯ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশনে বসেন ২৪ শিক্ষার্থী।

তাদের মধ্যে একজনের বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি অনশন শুরুর পরদিনই বাড়ি চলে যান। বাকি ২৩ অনশনকারীর মধ্যে ১৬ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ২৩ জানুয়ারি আরও চারজন শিক্ষার্থী অনশনে যোগ দেন।

এর মাঝে উপাচার্য ইস্যুতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ২২ জানুয়ারি গভীর রাতে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। বৈঠকে উপাচার্যের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও দাবিগুলো লিখিতভাবে জমা দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

তবে বৈঠকের পর শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের মূল দাবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ। এই দাবি না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরবেন না।

২৩ জানুয়ারি দুপুরের পর শিক্ষার্থীদের আবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে তা না হওয়ায় তারা উপাচার্যকে অবরুদ্ধের ঘোষণা দেন।

ওই দিন রাত ৮টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ২৮ ঘণ্টা পর সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করেন তারা।

আরও পড়ুন:
জবি শিক্ষার্থীদের এনআইডি কার্যক্রমের উদ্বোধন
শিক্ষক সমিতির পদত্যাগ চায় জবি নীলদল
জবিতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
জবিসহ ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা
৭ অক্টোবরই খুলেছে জবি: উপাচার্য

শেয়ার করুন

উপাচার্য ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ দিলেন শাবি শিক্ষার্থীরা

উপাচার্য ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ দিলেন শাবি শিক্ষার্থীরা

ভিসির বাসভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করেছেন আন্দোলনকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী উমর ফারুক বলেন, ‘উপাচার্য ভবনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় কর্মচারীরাও বিদ্যুতবিহীন হয়ে পড়েছিলেন। তাদের বাসায় রোগীরা সমস্যায় পড়েছেন। তাদের অনুরোধে রাতে আমরা উপাচার্যের বাসভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে দিয়েছি।’

২৮ ঘণ্টা পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের বাসভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ ফের চালু করে দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করেন তারা।

এর আগে রোববার রাত ৮টার দিকে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী উমর ফারুক বলেন, ‘উপাচার্যের বাসভবনে বিদ্যুতের যে লাইনটি গিয়েছে সেই একই লাইন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০-৩৫ জন কর্মচারীর বাসায়ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে।

‘উপাচার্য ভবনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় ওই কর্মচারীরাও বিদ্যুতবিহীন হয়ে পড়েছিলেন। তাদের বাসায় রোগীরা সমস্যায় পড়েছেন জানিয়ে কর্মচারীরা আমাদের কাছে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করে দেয়ার অনুরোধ করেন। তাদের অনুরোধে রাতে আমরা উপাচার্যের বাসভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে দিয়েছি।’

উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তার পদত্যাগ দাবিতে গত ১৭ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার থেকে একই স্থানে অনশন শুরু করেন ২৪ শিক্ষার্থী।

বাসভবনের সামনে অবস্থানের কারণে গত ১৭ জানুয়ারি থেকেই অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

আরও পড়ুন:
জবি শিক্ষার্থীদের এনআইডি কার্যক্রমের উদ্বোধন
শিক্ষক সমিতির পদত্যাগ চায় জবি নীলদল
জবিতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
জবিসহ ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা
৭ অক্টোবরই খুলেছে জবি: উপাচার্য

শেয়ার করুন

প্রতিবাদের ঢেউয়ে শাবিতে ফিরেছে পেইন্টিং, দেয়াল লিখন

প্রতিবাদের ঢেউয়ে শাবিতে ফিরেছে পেইন্টিং, দেয়াল লিখন

সাদিয়া ইসলাম বলেন, ‘আমরা আগে যে কোনো উপলক্ষে ক্যাম্পাসের সড়কে আলপনা আঁকতাম। এই উপাচার্য তা বন্ধ করে দিয়েছেন... সড়কে ও দেয়ালে আঁকাআঁকির মাধ্যমে আমরা এসবেরও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের ওপর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ অনেকদিনের। তাদের নানা অভিযোগের মধ্যে একটি হলো, উপাচার্য ক্যাম্পাসের রাস্তায় পেইন্টিং ও দেয়াল লিখন নিষিদ্ধ করেছেন।

এবার উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে সেই ক্ষোভ দেয়াল লিখন ও পেইন্টিংয়ের মধ্য দিয়েই ফুটিয়ে তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

উপাচার্য ভবনের দেয়ালে তারা লিখেছেন, ‘নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ভিসি পদ ফাঁকা রয়েছে’। আর মুক্তমঞ্চের দেয়ালে টাঙানো ব্যানারে লেখা, ‘হীরক ভিসির শেষে।’

প্রতিবাদের ঢেউয়ে শাবিতে ফিরেছে পেইন্টিং, দেয়াল লিখন

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের এমন নানা পংক্তি ও উপাচার্যের ব্যাঙ্গচিত্র দেখা গেছে ক্যাম্পাসের দেয়ালে দেয়ালে।

শুধু উপাচার্যই নয়, এক শিক্ষকের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদও দেখা গেছে দেয়ালে। কোথাও লেখা, ‘চাষাভূষার এই ক্যাম্পাসে আর কত?’, কোথাও লেখা, ‘আমরা সবাই সাস্টিয়ান, চাষাভূষার সন্তান’।

প্রতিবাদের ঢেউয়ে শাবিতে ফিরেছে পেইন্টিং, দেয়াল লিখন

পুলিশি হামলার প্রতিবাদে এক দেয়ালে লেখা হয়েছে, ‘ফুলের বিরুদ্ধে বুলেট হলে বুলেটের বিরুদ্ধে কী?’

আন্দোলনকারী সামিউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ অহিংস পন্থায় আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। অনশন-অবস্থানের মাধ্যমে আমাদের দাবি জানাচ্ছি।

‘প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আমরা দেয়াল লিখন ও ব্যাঙ্গচিত্র আঁকছি। সড়কে উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে স্লোগান লিখছি। সব মিলিয়ে দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ উপায়ে যতকিছু করা যায় সবকিছু করছি আমরা। পুরো ক্যাম্পাসে ফরিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে আমাদের ক্ষোভ ছড়িয়ে দিতে চাই।’

প্রতিবাদের ঢেউয়ে শাবিতে ফিরেছে পেইন্টিং, দেয়াল লিখন

আন্দোলনরত সাদিয়া ইসলাম বলেন, ‘আমরা আগে যে কোনো উপলক্ষে ক্যাম্পাসের সড়কে আলপনা আঁকতাম। এই উপাচার্য তা বন্ধ করে দিয়েছেন। সব ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন। সড়কে ও দেয়ালে আঁকাআঁকির মাধ্যমে আমরা এসবেরও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

তবে এই দেয়াল লিখনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নাখোশ।

প্রতিবাদের ঢেউয়ে শাবিতে ফিরেছে পেইন্টিং, দেয়াল লিখন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ থেকে যে আন্দোলন করছেন তাতে আমার দ্বিমত নেই। তবে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো দেয়াল নষ্ট করে ফেলছেন। এই আন্দোলনের পর যিনিই উপাচার্য থাকুন না কেন, সবগুলো দেয়াল আবার নতুন করে রং করাতে হবে।’

প্রতিবাদের ঢেউয়ে শাবিতে ফিরেছে পেইন্টিং, দেয়াল লিখন

এদিকে, উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার রাতেও ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।

পদত্যাগের দাবিতে ষষ্ঠ দিনের মতো অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

অনশনে অংশ নেয়া ২৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০ জনই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ৮ জন উপাচার্য ভবনের সামনে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের অবস্থাও অবনতির দিকে। তবুও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় তারা।

শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম অপুর্ব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এতগুলো শিক্ষার্থীর জীবন সংকটাপন্ন, তবুও উপাচার্য তার চেয়ার আঁকড়ে ধরে আছেন। সবার জীবনের চাইতে তার কাছে চেয়ারের গুরুত্ব বেশি। আমরাও তার পদত্যাগের আগ পর্যন্ত অনশন থেকে উঠব না।’

আরও পড়ুন:
জবি শিক্ষার্থীদের এনআইডি কার্যক্রমের উদ্বোধন
শিক্ষক সমিতির পদত্যাগ চায় জবি নীলদল
জবিতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
জবিসহ ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা
৭ অক্টোবরই খুলেছে জবি: উপাচার্য

শেয়ার করুন

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

শাবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে করা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেছে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। শাবি উপাচার্যের নির্দেশে এই ন্যক্কারজনক হামলা হয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি ও উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে অনড় অবস্থানে থাকেন আন্দোলনকারীরা। অন্যদিকে, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে সেখানে ইন্ধন দিচ্ছে তৃতীয় পক্ষ।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে সোমবারও বিক্ষোভ হয়েছে দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের ব্যানারে এতে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। শাবি উপাচার্যের নির্দেশে এই ন্যক্কারজনক হামলা হয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি ও উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে অনড় অবস্থানে থাকেন আন্দোলনকারীরা।

অন্যদিকে, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে সেখানে ইন্ধন দিচ্ছে তৃতীয় পক্ষ।

নিজ বাসায় অবরুদ্ধ উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের জন্য সোমবার খাবার নিয়ে হাজির হন প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবীর।

ঢাবিতে মশাল মিছিল

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে করা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেছে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন।

সোমবার সন্ধ্যায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে এ মশাল মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি শাহবাগ, কাঁটাবন, নীলক্ষেত, রাজু ভাস্কর্য হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এসে শেষ হয়।

এর আগে বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন কয়েকটি ছাত্র সংগঠন নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক রেজোয়ানুল হক মুক্ত বলেন, শাবিপ্রবিতে বীরত্বপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে আমাদের সমর্থন আছে, শুধু সমর্থনই নয় সিলেটের আন্দোলন সারা দেশের ক্যাম্পাসগুলোতে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মুক্ত বলেন, আমরা মনে করি ছাত্ররা ভিসির পদত্যাগের দাবিতে যে আন্দোলন করছে তা ইতোমধ্যে নৈতিকভাবে সফল হয়েছে। কিন্তু মেরুদণ্ডহীন ভিসি এখনো পদত্যাগ করছেন না। তাই আমরা অবিলম্বে এই মেরুদণ্ডহীন ভিসিকে অপসারণ করার দাবি জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ তাদের প্রতি সমর্থন ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছে; তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করছে। কিন্তু এ দাবি বাস্তবায়নের কাজে যারা নিয়োজিত তারা হাসি তামাশা করছেন। ছাত্রদের এই ন্যায়সংগত দাবি কীভাবে ভূলুণ্ঠিত করা যায়, সেটা নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন তারা।

তিনি বলেন, ‘শাবিপ্রবির দুর্নীতি ও হামলাবাজ উপাচার্যের এখনই পদত্যাগ দাবি করছি। যারা উপাচার্যের পক্ষে কথা বলবে তারা তার দালাল, ফ্যাসিবাদের দালাল, অগণতান্ত্রিকতার দালাল।’

ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ বলেন, ‘একটা স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ঢুকার কথা না থাকলেও কিন্তু শাবিতে পুলিশ প্রবেশ করেছে। এর আগেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের আন্দোলন হয়েছে; উপাচার্যরা তালাবদ্ধ হয়েছেন কিন্তু পুলিশ আসেনি, লাঠিচার্জ হয়নি। কিন্তু এবার তা হয়েছে। আমরা এই হামলাবাজ উপাচার্যের পদত্যাগ চাই।’

তিনি বলেন, ‘শাবিপ্রবির ছাত্রদের সমর্থনে আমাদের ধারাবাহিক আন্দোলন যেমন চলছে সামনের দিনেও ছাত্রদের যে কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রগতিশীল সংগঠন তাদের পাশে থাকবে।’

রাফিকুজ্জামান ফরিদের সঞ্চালনায় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সুনয়ন চাকমা বিক্ষোভ সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন।

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক দীপক রায়, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সহ সভাপতি জহরলাল রায়, বাংলাদেশ ছাত্র কাউন্সিল এর সহসভাপতি সায়েদুল হক নিশান,সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুহায়েল আহমেদ শুভ ও বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সোহবত শোভন।

রাষ্ট্রপতির কাছে খোলা চিঠি

উপাচার্য পদে থাকার জন্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের নৈতিক অধিকার নেই উল্লেখ করে খোলা চিঠিতে বলা হয়, ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে এহেন বর্বর হামলায় মদদ দেয়ার পর অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের উপাচার্য হিসেবে থাকার আর কোন নৈতিক অধিকার নেই বলে আমরা মনে করি।’

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে খোলা চিঠি পাঠিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট।

সোমবার দুপুরে খোলা চিঠি জমা দিতে জোটের তিন প্রতিনিধি রাষ্ট্রপতির সরকারী বাসভবনে যান।

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

এই প্রতিনিধিরা হলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সোহাইল আহমেদ শুভ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আরফাত সাদ এবং ছাত্র ইউনিয়নের সহসাধারণ সম্পাদক মাহির শাহরিয়ার রেজা।

এর আগে জোটের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিক্ষোভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে তাদের বিক্ষোভ শুরু হয়।

বিক্ষোভ শেষে জোটের সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের প্রতীকী অনশন কর্মসূচি চলাকালীন এ খোলা চিঠি পাঠ করেন।

চিঠিতে শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুত্রপাত এবং আন্দোলনের বর্তমান অবস্থার সার্বিক দিক তুলে ধরা হয়।

রাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্ত্বরে দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। এসময় তারা, শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরে, প্রশাসন চুপ কেনো, শাবিপ্রবি নির্লজ্জ ভিসির অপসারন চাই, শিক্ষার্থীরা এক হও, অধিকার আদায় করো- সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাব্বত হোসেন মিলনের সঞ্চালনায় শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ জীবন্ত লাশ হয়ে বেঁচে আছে। ক্যম্পাসের স্বৈরাচারী কাঠামো ভাঙতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন নারী বিদ্বেষী, দালাল, স্বজনপ্রীতি, রক্ত পিপাসু হামলাকারী ভিসিকে শিক্ষার্থীরা আর চায় না। এমন ভিসির ক্যাম্পাসে জায়গা হবে না। শুধু পদত্যাগ নয়, এমন নজির রাখতে হবে যেনো সারাজীবন এটি শিক্ষনীয় হয়ে থাকে।’

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সমন্বয়ক আব্দুর মজিদ অন্তর বলেন, ‘আজ প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকে তাকালে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত অবহেলার শিকার হচ্ছে, নির্যাতিত হচ্ছে, শিক্ষকদের দ্বারা লাঞ্চিত হচ্ছে, প্রশাসন কর্তৃক মারধরের শিকার হচ্ছে, মামলা হামলার শিকার হচ্ছে। যে শিক্ষার্থীদেরকে কেন্দ্র করে জাতি গঠনের স্বপ্ন দেখা হয়, আজকে সেই শিক্ষার্থীদেরকে মেরুদ-হীন করার জন্য একের পর নির্যাতন চালানো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ওপর।

‘শিক্ষার্থী সমাজের বিরুদ্ধে লেগে জাতি কখনোই ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারেনি। শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে সকল সমস্যার সমাধান করুন। নির্লজ্জ বেহায়া ভিসিকে অপসারণ করুন।’

এসময় অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দাবি তোলেন।

দাবিগুলো হলো- অবিলম্বে শাবিপ্রবির স্বৈরাচারী ভিসিকে অপসারণ করতে হবে, তিনি যেভাবে নির্লজ্জভাবে হামলা চালিয়েছে শিক্ষার্থীদের ওপর এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা বানোয়াট মামলা দেয়া হয়েছে সে মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, একই সঙ্গে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র প্রতিনিধি নিশ্চিত করার জন্য ছাত্র সংসদ চালু করতে হবে, পূর্নাঙ্গভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সকল প্রতিনিধি নিশ্চিত করে সিনেট কার্যকর করতে হবে। যদি এর কোন সুরাহা না করা হয়, তাহলে আরো কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন অবস্থানরত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচি আরও বক্তব্য দেন আমানউল্লাহ আমান, নাঈম, রাকিব, সাকলাইন গৌরব ও মেহেদী হাসান মুন্না।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মশাল মিছিল

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত‌্যাগের দাবিতে বরিশালে মশাল মিছিল করেছে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সোমবার সন্ধ‌্যার পর নগরীতে এই মিছিল করা হয়।

নাজির মহল্লা এলাকা থেকে মশাল মিছিলটি শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ইউনিয়ন বিএম কলেজ শাখার সভাপতি কিশোর কুমার বালা, ছাত্র ফেডারেশনের জেলা সভাপতি মো. জাবের, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল জেলা সংগঠক হুজাইফা রহমান, রাকিব মাহামুদ, বরিশাল বিশ্ববিদ‌্যালয় শাখার আহবায়ক সুজয় শুভ, কবি ছোটন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ও সুমাইয়া আরেফিন।

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

মশাল মিছিলে শাবিপ্রবি ভিসি বিরোধী নানা শ্লোগান দেয় নেতাকর্মীরা।

মিছিল শেষে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল বরিশাল বিশ্ববিদ‌্যালয় শাখার আহ্বায়ক সুজয় শুভ বলেন, ‘শাবিপ্রবির ভিসিকে অবিলম্বে পদত‌্যাগ করতে হবে এবং নারীদের নিয়ে উনি যে উক্তি করেছেন সে কারণে তাকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা রেখে আমরাও কঠোর আন্দোলনে যাবো প্রয়োজন হলে।’

শাবিতে তৃতীয় পক্ষের ফায়দা হাসিলের চেষ্টা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বলছে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বাইরে তৃতীয় একটি পক্ষ শাবির আন্দোলনে ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে যে ধরনের তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপিত হয়েছে, তা থেকে প্রতীয়মান হয় যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বাইরে তৃতীয় একটি পক্ষ এই আন্দোলনে ফায়দা হাসিল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে সেখানে ইন্ধন দিচ্ছে তৃতীয় পক্ষ।

সমিতি বলছে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বাইরে তৃতীয় একটি পক্ষ এই আন্দোলনে ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

একটি বিশেষ মহল এই আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপান্তরের অপচেষ্টা করছে বলেও প্রতীয়মান হয়েছে দাবি শিক্ষক সমিতির।

সোমবার বিকেলে ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রহমতউল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৩ জানুয়ারি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের বিভিন্ন ইস্যুতে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রীরা আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলন চলাকালে পুলিশের বলপ্রয়োগের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ওই হলের প্রভোস্ট পদত্যাগ করেন। আন্দোলনকে পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের মূল দাবি পূরণ হওয়া সত্ত্বেও উপাচার্যের পদত্যাগের আন্দোলনে রূপ নেয়।

আন্দোলনের এই রূপান্তরের বিষয়টি অত্যন্ত অনভিপ্রেত এবং উদ্বেগের দাবি করে এটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করে শিক্ষক সমিতি।

উপাচার্যের বাসার পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা অমানবিক উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল আন্দোলনকারীরা হঠাৎ করেই উপাচার্যের বাসার পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে, যা অমানবিক এবং শিক্ষাঙ্গনের আন্দোলনে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত মাত্রা যুক্ত করেছে।

শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেকোনো সমস্যা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই বাঞ্ছনীয়।

প্রেক্ষাপট

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার আন্দোলনের চতুর্থ দিনে এসে তা সহিংসতায় রূপ নেয়।

এদিন বিকেলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করলে সন্ধ্যায় অ্যাকশনে যায় পুলিশ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ক্যাম্পাস। লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছুড়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সন্ধ্যার পর থেকে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে অবস্থা নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের অভিযোগ, ভিসির নির্দেশেই পুলিশ হামলা ও গুলি চালিয়েছে।

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

এই বিক্ষোভের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও হল ছাড়ার নির্দেশনা আসে। এরপর উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে রোববার রাত থেকেই আন্দোলন শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।

এ সময় বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরাও এসে যোগ দেন এই বিক্ষোভে। তারা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

বিকল্প বিদ্যুতে রাত পার শাবি উপাচার্যের

আন্দোলনের একপর্যায়ে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বাসভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও খুব বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে। বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থায় রোববার রাত পার করেছেন তিনি।

তবে ১৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও উপাচার্য ভবনে কারো যাতায়াত লক্ষ করা যায়নি। বিদ্যুৎ-পানির সমস্যার কথা জানিয়ে উপাচার্যের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়াও আসেনি।

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

বিদ্যুৎ-পানিবিহীন রাত কেমন কেটেছে তা জানতে সোমবার সকালে উপাচার্যের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি।

আরও পড়ুন:
জবি শিক্ষার্থীদের এনআইডি কার্যক্রমের উদ্বোধন
শিক্ষক সমিতির পদত্যাগ চায় জবি নীলদল
জবিতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
জবিসহ ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা
৭ অক্টোবরই খুলেছে জবি: উপাচার্য

শেয়ার করুন

শাবিতে আন্দোলনকারীদের বিকাশ অ্যাকাউন্ট ‘ব্লকড’

শাবিতে আন্দোলনকারীদের বিকাশ অ্যাকাউন্ট ‘ব্লকড’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র সাদিয়া আফরিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের আর্থিক লেনদেনের সবগুলো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এগুলো আমাদের আন্দোলন নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র বলে মনে করি। তবে এসব করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।’

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারীদের ৩টি বিকাশ অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ওই অ্যাকাউন্টে খাবার ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা আর্থিক সহায়তা পাঠাতেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

তাদের ফেসবুক পেজ থেকে সোমবার এই অভিযোগ তোলা হয়। তাতে বলা হয়, ‘সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি, আন্দোলনকারীদের খাবার ও চিকিৎসার জন্য যেসব ভাই-আপুরা অর্থসহায়তা পাঠাচ্ছিলেন সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এখন থেকে এসব অ্যাকাউন্টে কেউ টাকা পাঠাবেন না।’

আন্দোলনকারী দুই শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইস্টার্ন ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্ট, ৩টি বিকাশ অ্যাকাউন্ট, একটি রকেট ও একটি নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই অর্থসহায়তা আসছিল। প্রতিদিন লাখ দুয়েক টাকার মতো আসত। তা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থীর খাবারসহ আন্দোলনের সব খরচ করা হতো।

তাদের অভিযোগ, সোমবার থেকে অ্যাকাউন্টগুলোতে কোনো লেনদেন করা যাচ্ছে না। সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তারা প্রাথমিকভাবে বিকাশের কল সেন্টারে যোগাযোগ করলেও কোনো সদুত্তর পাননি।

আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র সাদিয়া আফরিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের আর্থিক লেনদেনের সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এগুলো আমাদের আন্দোলন নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র বলে মনে করি। তবে এসব করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।’

শাবিতে আন্দোলনকারীদের বিকাশ অ্যাকাউন্ট ‘ব্লকড’

এ ব্যাপারে বিকাশ সিলেটের ডিস্ট্রিবিউটর নাসিম হোসাইন বলেন, ‘অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে বিকাশে লেনদেনের কিছু নিয়ম আছে। ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা ও ব্যবসয়িক অ্যাকাউন্ট থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যায়। এর বেশি হলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’

এ ব্যাপারে কিছু জানা নেই বলে দাবি করেছেন বিকাশের বিভাগীয় বিপণন কর্মকর্তা এহসান আহমদ।

তিনি বলেন, ‘কোনো নাম্বারের লেনদেনের ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করলে আমরা কিছুক্ষণের জন্য ওই নাম্বারটি বন্ধ রাখি। তবে শাবির কারও নাম্বার বন্ধ রাখা হয়েছে কি না আমার জানা নেই।’

বিকাশের হেড অফ করপোরেট কমিউনিকেশনস শামসুদ্দিন হায়দার ডালিমও নিউজবাংলাকে জানান, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তিনি পাননি।

আরও পড়ুন:
জবি শিক্ষার্থীদের এনআইডি কার্যক্রমের উদ্বোধন
শিক্ষক সমিতির পদত্যাগ চায় জবি নীলদল
জবিতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
জবিসহ ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা
৭ অক্টোবরই খুলেছে জবি: উপাচার্য

শেয়ার করুন

করোনায় ব্যাহত ৩ কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা

করোনায় ব্যাহত ৩ কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা

মহামারির কারণে স্কুল সম্পূর্ণ বা আংশিক বন্ধ থাকায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬৩ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফাইল ছবি

প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, ‘কোভিড-১৯ মোকাবিলার ক্ষেত্রে স্কুল বন্ধ করতে হলে তা অবশ্যই শেষ অবলম্বন হিসেবে অস্থায়ী ভিত্তিতে করতে হবে। সংক্রমণের ঢেউ সামাল দিতে আমরা যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছি, তার মধ্যে প্রতিষ্ঠান বন্ধের ক্ষেত্রে সবার শেষে এবং খুলে দেয়ার তালিকায় শীর্ষে স্কুল থাকা উচিত।’

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দেশের ৩ কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।

সোমবার প্রকাশিত সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মোকাবিলার ক্ষেত্রে স্কুল বন্ধ করতে হলে তা অবশ্যই শেষ অবলম্বন হিসেবে অস্থায়ী ভিত্তিতে করতে হবে।

মহামারির কারণে স্কুল সম্পূর্ণ বা আংশিক বন্ধ থাকায় বিশ্বের ৬৩ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল বন্ধ থাকায় ব্যাহত হয়েছে বাংলাদেশের ৩ কোটি ৭০ লাখ শিশুর পড়াশোনা।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে দেড় বছর পর ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও চালু করা হয়।

এসব প্রতিষ্ঠানে ক্লাস হয়েছে সীমিত পরিসরে। প্রতিদিন সব শ্রেণিতে ক্লাসও নেয়া হয়নি।

এখন আবারও সংক্রমণ ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ১১ দফা নির্দেশনা জারি করে। গত ২১ জানুয়ারি দুই সপ্তাহের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে পাঁচ নির্দেশনা জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, ‘কোভিড-১৯ মোকাবিলার ক্ষেত্রে স্কুল বন্ধ করতে হলে তা অবশ্যই শেষ অবলম্বন হিসেবে অস্থায়ী ভিত্তিতে করতে হবে। সংক্রমণের ঢেউ সামাল দিতে আমরা যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছি, তার মধ্যে প্রতিষ্ঠান বন্ধের ক্ষেত্রে সবার শেষে এবং খুলে দেয়ার তালিকায় শীর্ষে স্কুল থাকা উচিত।’

স্কুল বন্ধ থাকার কারণে এর নেতিবাচক প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে বলে এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্কুল বন্ধ থাকায় তা পড়াশোনার ক্ষতির পাশাপাশি শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করেছে, তাদের নিয়মিত পুষ্টিপ্রাপ্তির উৎস কমিয়ে দিয়েছে এবং তাদের নিগ্রহের শিকার হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন:
জবি শিক্ষার্থীদের এনআইডি কার্যক্রমের উদ্বোধন
শিক্ষক সমিতির পদত্যাগ চায় জবি নীলদল
জবিতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
জবিসহ ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা
৭ অক্টোবরই খুলেছে জবি: উপাচার্য

শেয়ার করুন

শিক্ষা আইন দ্রুতই সংসদে উঠবে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা আইন দ্রুতই সংসদে উঠবে: শিক্ষামন্ত্রী

ব্যানবেইস ভবনে সোমবার আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থায় আমরা আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। এর জন্য আমরা নতুন যে কারিকুলাম তৈরি করেছি, তা ফেব্রুয়ারি মাসের গোড়া থেকে বাস্তবায়নে যাওয়ার কথা। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেহেতু বন্ধ আছে, আমরা ভাবছি অনলাইনে হলেও এটা শুরু করব। সরাসরি পাঠদান শুরু হলে শ্রেণিকক্ষেই তা বাস্তবায়ন হবে।’

‘শিক্ষা আইন’ চূড়ান্ত করার কাজ প্রায় শেষ। এ-সংক্রান্ত কমিটি আইনটি পর্যালোচনা করেছে। শিগগিরই এই আইনের খসড়া সংসদে উঠবে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সোমবার এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন।

রাজধানীর বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) ভবনে ‘পরিবর্তনশীল গতিপথ, রূপান্তরিত শিক্ষা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপু মনি বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০১০ সালে আমরা একটি জাতীয় শিক্ষানীতি পেয়েছিলাম। তা প্রস্তুত করা হয়েছিল সংবিধানের চার মূলনীতি ও ১৯৭৪ সালের কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের ওপর ভিত্তি করে।

‘শিক্ষার কাঠামো ঠিক রাখা, সমসাময়িক অসংগতি-অনিয়ম দূর করার জন্য আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা শিক্ষা আইন। এই আইন চূড়ান্ত করার কাজ শেষের দিকে। এ-সংক্রান্ত কমিটি আইনটির খসড়া পর্যালোচনা করেছে।’

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর কিছু পরিবর্তন-পরিমার্জন শেষে আইনটি সংসদে পাঠানো হবে বলে জানান মন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থায় আমরা আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। এর জন্য আমরা নতুন যে কারিকুলাম তৈরি করেছি, তা ফেব্রুয়ারি মাসের গোড়া থেকে বাস্তবায়নে যাওয়ার কথা। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেহেতু বন্ধ আছে, আমরা ভাবছি অনলাইনে হলেও এটা শুরু করব। সরাসরি পাঠদান শুরু হলে তখন শ্রেণিকক্ষেই সেটি বাস্তবায়ন হবে।’

দীপু মনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাকে রূপান্তরিত করতে হবে। কারণ বিশ্ব প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। জাতীয় উন্নয়নে দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ প্রয়োজন। তাই প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার প্রতিটি পর্যায় নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রতিবন্ধীদের জন্য কারিগরিনির্ভর শিক্ষাকাঠামো তৈরি করছি। আমরা চেষ্টা করছি যেন মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা থেকে কেউ বাদ না যায়। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী থেকে শুরু করে দুর্গম অঞ্চলের বাসিন্দাদেরও শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে কাজ করছি। সবাই মিলে চেষ্টা করলে নিশ্চয় তা বাস্তবায়ন সম্ভব।’

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘করোনায় আমরা কঠিন সময় পার করছি। সর্বতোভাবে আমরা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করছি। সমন্বিত চেষ্টায় এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা সক্ষম হব বলে বিশ্বাস করি।’

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব ও বিএনসিইউর মহাসচিব আবু বকর ছিদ্দীকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম, বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি মিজ বিয়াট্রিস কালদুন এবং বিএনসিইউর ডেপুটি সেক্রেটারি সোহেল ইমাম খান বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদ আবুল মোমেন।

আরও পড়ুন:
জবি শিক্ষার্থীদের এনআইডি কার্যক্রমের উদ্বোধন
শিক্ষক সমিতির পদত্যাগ চায় জবি নীলদল
জবিতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
জবিসহ ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা
৭ অক্টোবরই খুলেছে জবি: উপাচার্য

শেয়ার করুন