জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, লাগামহীন দাম বাড়ছে

জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, লাগামহীন দাম বাড়ছে

প্রতীকী ছবি

বিশ্ববাজারে গত এক বছরে এলএনজি, গ্যাসোলিন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর বেড়েছে প্রায় ১০০ ভাগ। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কয়লার দর। কেবল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এরই মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন প্রায় ২১ কোটি টাকা।

গত ছয় মাস ধরে অস্থির বিশ্ব জ্বালানি বাজার। প্রায় প্রতি মাসে আমদানিনির্ভর এই পণ্যের দর বাড়ছে। এই অবস্থায় চাপে পড়েছে জ্বালানি বিভাগ। এমনিতেই বেশি দরে পণ্য এনে কম দামে বিক্রি করে লোকসানে ছিল সরকার। তার ওপর এই অতিরিক্ত লোকসান দুশ্চিন্তায় ফেলেছে সরকারকে। জ্বালানি বিভাগে আলোচনা চলছে, জ্বালানি পণ্যের দর বাড়ানোর।

বিশ্ববাজারে গত এক বছরে লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি), গ্যাসোলিন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর বেড়েছে প্রায় ১০০ ভাগ। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কয়লার দর।

কেবল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এরই মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন প্রায় ২১ কোটি টাকা। করোনা কমায় জ্বালানির বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সংকট তৈরি হয়েছে এই অবস্থা। তবে এখনই দাম সমন্বয়ের পক্ষে নয় পেট্রোলিয়াম করপোরেশন।

অন্যদিকে বাড়তি দামের কারণে তেল ও আমদানীকৃত কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভর্তুকির চাপ বাড়ছে পিডিবির ওপর।

জ্বালানি বিভাগ জানায়, করোনার ধাক্কা কাটিয়ে চাঙ্গা হতে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতি। যার অন্যতম ইঙ্গিত জ্বালানি পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি। উৎপাদন, সমুদ্র পরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি, ভূ-রাজনীতিসহ নানা কারণে বাড়তে শুরু করেছে দাম।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের দর বাড়ার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হচ্ছে বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মজুত করার মানসিকতাকে। এ ব্যাপারে অভিযোগের আঙুল মূলত চীন ও অস্ট্রেলিয়ার দিকে।

সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুর দিকে ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর ছিল ৪৯ ডলার। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি তা বেড়ে হয়ে যায় ৬১ ডলার। চার মাস পর জুনের মাঝামাঝি আরও বেড়ে ৭১ ডলারে গিয়ে দাঁড়ায়। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি হয় ৭৫ ডলার। এরপর ধীরে ধীরে বেড়ে এখন তা ৮০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।

বাংলাদেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের ৬৫ শতাংশই ডিজেল, যা সবশেষ বিপিসি কিনেছে পরিশোধিত আকারে প্রতি ব্যারেল সাড়ে ৯৭ ডলারে। সে হিসাবে এক লিটারের পেছনে সব মিলিয়ে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭৮ টাকারও বেশি। কিন্তু বিপিসি তা বিক্রি করছে ৬৫ টাকায়। ফলে লোকসান দিতে হচ্ছে লিটারে ১৩ টাকা। সে হিসাবে প্রতিদিন দেশের সাড়ে ১২০০ টন ডিজেল বিক্রি করেই বিপিসির লোকসান হচ্ছে ১৯ কোটি টাকা।

তবে আপাতত দর বাড়াতে চায় না বিপিসি। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জুলাই থেকে ডিসেম্বরের যে ফেইজ, তাতে আমরা ডিজেল সরবরাহকারী বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যে মূল্য নির্ধারণ করেছিলাম, সেই মূল্যেই এখনও আমরা তা পাচ্ছি। যে কারণে জনগণের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে এমন কোনো সিদ্ধান্তের দিকে আমাদের এখনই যাওয়ার মতো অবস্থা নেই। তবে বর্তমান বাজারমূল্যকে কতটুকু বিবেচনায় নেয়া হবে, সেটা সরকারের পলিসির ওপর নির্ভর করে।’

জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। পিডিবির হিসাবে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো কেবল জুলাই মাসেই ব্যবহার করেছে ২ লাখ ৪৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৯০ হাজার টনে। ফলে বাড়তি চাহিদার এই জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে চড়া দামের জালে আটকা পড়ে বিপিসি। অন্যদিকে মাসের ব্যবধানে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডিজেলের চাহিদাও বেড়ে গেছে তিন গুণের মতো। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলে বিপিসির লোকসান ৮ টাকা করে মোট ১ কোটি টাকারও বেশি।

তবে বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, ‘ফার্নেস অয়েলের দর বাড়লেও সুবিধা হচ্ছে, আমরা এর মূল্য সমন্বয় করছি। যে কারণে এ তেল আনতে খরচ পড়লেও সেই অর্থে আমরা চাপে নেই।’

অন্যদিকে পিডিবির চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের যেহেতু সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, সুতরাং জ্বালানি তেলের কোনো প্রভাব বা জ্বালানি তেলের দামের কোনো প্রভাব নিয়ে আমাদের চিন্তা করার সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে যদি এটা এমন একটা অবস্থায় চলে যায়, সে ক্ষেত্রে হয়তো সরকার ভাবলেও ভাবতে পারে।’

মাসে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা আর মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে বছরে ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকার মতো লোকসান হতে পারে বলে ধারণা বিপিসির।

অস্থির বিশ্ব জ্বালানি বাজার

এক বছরের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে দ্বিগুণের ওপরে। বিশ্বখ্যাত অর্থনৈতিক ওয়েবসাইট ‘ট্রেডিং ইকোনমিক্স’ এর হিসাব অনুযায়ী গত (২০ অক্টোবর) শুক্রবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বা ক্রুড অয়েলের দর ছিল ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৭৬ ডলার, যা বৃহস্পতিবার থেকে ১ দশমিক ২৬ ডলার বা ১ দশমিক ৫৩ ভাগ বেশি। সাপ্তাহিক হিসেবে যা ১ দশমিক ৮০ ভাগ, আবার গত মাসের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ২৭ ভাগ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭২ দশমিক ৬৩ ভাগ বেশি।

অন্যদিকে বিশ্ববাজারে বর্তমানে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম। শুক্রবার প্রতি ইউনিট বা প্রতি ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট এলএনজির দাম ছিল ৫ দশমিক ৩০ ডলার, আগের দিনের চেয়ে যা প্রায় ২০ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৭৭ ভাগ্য বেশি, যদিও আগের সপ্তাহের তুলনায় তা প্রায় ২ ভাগ কম। অন্যদিকে সেপ্টেম্বরের তুলনায় তা ৬ দশমিক ৫৭ ভাগ ও গত বছরের একই সময়ের থেকে ১০৯ ভাগ বেশি।

বিশ্বে এখনও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় খনিজ কয়লা। এই কয়লার দর এখন সবচেয়ে বেশি ঊর্ধ্বমুখী। গত এক বছরে পণ্যটির দর বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। শুক্রবার প্রতিটন কয়লা বিশ্ববাজারে বিক্রি হয়েছে ২৩০ ডলারে, যা আগের দিন থেকে দেড় ডলার বা দশমিক ৬৬ ভাগ বেশি, যদিও তা গত সপ্তাহের তুলনায় ৪ দশমিক ১৭ ভাগ কম আবার গত মাসের তুলনায় ২৩ দশমিক ৭২ ভাগ এবং গত বছরের থেকে ১৮৫ দশমিক ৭১ ভাগ বেশি।

তিন কারণে অস্থির বিশ্ববাজার

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একদিকে জোগানের সংকট, অন্যদিকে চাহিদা বৃদ্ধি– এ দুটি মিলেই এখন স্পট মার্কেটগুলোতে মূল্যের বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ওপেক দেশগুলোর জ্বালানি তেল উৎপাদন হ্রাস, মেক্সিকো উপসাগরে হারিকেনের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত এবং বিশ্বব্যাপী চাহিদা বাড়ায় জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা চলছে। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে শীতকালে তাপমাত্রা কমতে শুরু করলে তেলের চাহিদা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে তেলের চাহিদা বাড়ার আরেকটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ চীন সরকারের নীতিগত অবস্থান। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ থেকে তেলভিত্তিক বিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছে চীন। এই কারণে চীনে তেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। এতে তেলের বাজার আরও চড়ছে। বিশ্ববাজারে রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল।

অন্যদিকে বহু বছর পর অস্ট্রেলিয়া-চীনে জ্বালানি পণ্য রপ্তানির ওপর থেকে তাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ফলে সাধারণ অস্ট্রেলিয়ানদের মধ্যেও জ্বালানি মজুতের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

দেশে কি দর বাড়বে?

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সারা বছরের জন্য দেশের জ্বালানি খাতে ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার কোটি টাকা। অথচ গত ছয় মাসে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে গিয়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে দেশের বাজারে গ্যাসের দাম বাড়তে পারে। আর গ্যাসের দাম বাড়লে বিদ্যুতের দামও বাড়বে।

জ্বালানি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানিতে লোকসান যা হয়েছে, তার সিংহ ভাগই এলএনজি কিনতে গিয়ে। এখন তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই লোকসানের পরিমাণ বাড়বে।

বাড়তি দামে এলএনজি কেনায় সরকারের কত টাকা লোকসান হচ্ছে তার হিসাব করছে সরকারের গ্যাস সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো।

তিতাস গ্যাস, কর্ণফুলী ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড এবং সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড কোম্পানি তাদের আর্থিক বিশ্লেষণের কাজ শেষে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দেবে মূল্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি)।

একই সঙ্গে পাইকারি গ্যাস সরবরাহকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান ও গ্যাসের সঞ্চালন বা হুইলিং সংস্থা গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডও (জিটিসিএল) দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেবে।

আরও পড়ুন:
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে রোডম্যাপ
সমুদ্রে জ্বালানি অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চায় বাংলাদেশ
১০ মাস বন্ধ জ্বালানি তেল শোধনাগার
যেখানে সেখানে শিল্প করলে গ্যাস বিদ্যুৎ নয়: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
বিশ্ববাজারে ৩ দিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জরুরি অবতরণ করা মালয়েশীয় ফ্লাইটে ‘বোমা’ মেলেনি

জরুরি অবতরণ করা মালয়েশীয় ফ্লাইটে ‘বোমা’ মেলেনি

নিরাপত্তা তল্লাশি চলাকালে রাতে সেনাবাহিনীর একটি টিম বিমানবন্দরের ভেতরে ঢোকে। ছবি: নিউজবাংলা

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বি এম ফরমান আলী বলেন, ‘বিমানবন্দরে একটি ম্যাসেজ আসে যে ফ্লাইটটিতে বোমা থাকতে পারে। এরপর নিরাপত্তাকর্মীরা ফ্লাইটটিতে তল্লাশি চালান।’

বোমা আতঙ্কে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট জরুরি অবতরণ করেছে। সকল যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে মধ্যরাত অবধি ফ্লাইটটিতে তল্লাশির সময় সন্দেহজনক কিছু মেলেনি। রাত দেড়টার দিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বোমা থাকার সত্যতা পাওয়া যায়নি। ফ্লাইটটি নিরাপদ উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

ফ্লাইটটি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে এসে রাত ৯টা ৩৮ মিনিটে ঢাকায় জরুরি অবতরণ করে বলে জানান বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বি এম ফরমান আলী।

তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরে একটি ম্যাসেজ আসে যে ফ্লাইটটিতে বোমা থাকতে পারে। এরপর নিরাপত্তাকর্মীরা ফ্লাইটটিতে তল্লাশি চালান।’

এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক রাত সাড়ে দশটায় বলেন, ‘আমরা কাজ করছি। পরে বিস্তারিত জানাব।’

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, জরুরি অবতরণের পর কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ফ্লাইটটি থেকে যাত্রী নামাতে সব এয়ারলাইনসের বাসগুলো বিমানের পাশে নেয়া হয়। সব যাত্রীকে নিরাপদ অবস্থানে সরিয়ে নিয়ে শুরু হয় তল্লাশি।

রাত সোয়া ১১টায় সেনাবাহিনীর একটি টিম বিমানবন্দরের ভেতরে ঢোকে। নিরাপত্তা তল্লাশিসহ সার্বিক কাজে সহায়তা করছে সেনা টিম।

শেষ সংবাদ পাওয়া পর্যন্ত লাগেজ তল্লাশিসহ আশেপাশে অনুসন্ধানে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ রাত ১ টা ২০ মিনিটে ব্রিফিং করে। তাতে নিশ্চিত করা হয় ফ্লাইটটিতে বোমা থাকার তথ্য সত্য নয়। সকল কিছু তল্লাশি ও পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। ফ্লাইটটি উড্ডয়নে কোনও বাধা নেই।

এর আগে ল্যান্ডিং গিয়ারে ত্রুটি থাকায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট।

বুধবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ৪২ যাত্রী নিয়ে বিমানটি অবতরণ করে বলে নিউজবাংলাকে জানান বিমানবন্দরের বিমান বাংলাদেশের সহকারী ম্যানেজার ওমর ফারুক।

আরও পড়ুন:
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে রোডম্যাপ
সমুদ্রে জ্বালানি অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চায় বাংলাদেশ
১০ মাস বন্ধ জ্বালানি তেল শোধনাগার
যেখানে সেখানে শিল্প করলে গ্যাস বিদ্যুৎ নয়: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
বিশ্ববাজারে ৩ দিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

শেয়ার করুন

সীমান্ত হত্যা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে: দোরাইস্বামী

সীমান্ত হত্যা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে: দোরাইস্বামী

বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। ফাইল ছবি

হাইকমিশনার বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা দুঃখজনক ঘটনা। সীমান্তে ভারতের দিকেই এটা হয়ে থাকে। কেননা অপরাধীরা সীমান্ত বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায়। বর্ডারহাট, অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়িয়ে সীমান্তের সমস্যা কমানো যেতে পারে। সীমান্তে মানবপাচারও রোধ করতে হবে।

রহমান মাসুদ, ঢাকা

সীমান্ত হত্যা দুঃখজনক, এটা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

বুধবার রাজধানীর এক হোটেলে ‘বাংলাদেশ-ভারত ৫০ বছরের অংশীদারত্ব: আগামী ৫০ বছরের অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক সেমিনারে হাইকমিশনার এ কথা বলেন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম ফর ডেভেলপিং কান্ট্রিজ (রিস) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

হাইকমিশনার বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা দুঃখজনক ঘটনা। সীমান্তে ভারতের দিকেই এটা হয়ে থাকে। কেননা অপরাধীরা সীমান্ত বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায়। বর্ডারহাট, অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়িয়ে সীমান্তের সমস্যা কমানো যেতে পারে। সীমান্তে মানবপাচারও হয়। যৌথভাবে এটা রোধ করতে হবে।

‘বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বাড়ানোর আরও সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের প্রধান সমস্যা হলো লজিস্টিক। বাণিজ্যের বেশির ভাগই হয়ে থাকে বেনাপোল ও পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে। তবে শুধু সড়কপথে নয়, নদী এবং রেলপথেও বাণিজ্য বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।’

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ড. বীনা সিক্রি, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে রোডম্যাপ
সমুদ্রে জ্বালানি অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চায় বাংলাদেশ
১০ মাস বন্ধ জ্বালানি তেল শোধনাগার
যেখানে সেখানে শিল্প করলে গ্যাস বিদ্যুৎ নয়: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
বিশ্ববাজারে ৩ দিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

শেয়ার করুন

৪২ যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামে বিমানের ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ

৪২ যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামে বিমানের ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে বাংলাদেশ বিমানের এই ফ্লাইটটি। ছবি: নিউজবাংলা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটির ল্যান্ডিং গিয়ারে সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে সেটি জরুরি অবতরণ করে। তবে প্রথমবার অবতরণের চেষ্টা সফল হয়নি।

ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী একটি উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ার পর সেটি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে।

রাত ৯টা ৪০ মিনিটে বিমানটি অবতরণ করে বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশের সহকারী ম্যানেজার ওমর ফারুক।

তিনি জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটির ল্যান্ডিং গিয়ারে সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে সেটি জরুরি অবতরণ করে। তবে প্রথমবার অবতরণের চেষ্টা সফল হয়নি।

তিনি আরও জানান, ফ্লাইটিতে ৪২ জন যাত্রী ছিলেন । ঢাকা থেকে রাত পৌনে ৯টায় এটি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে।

ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, ‘একটা বিমান ল্যান্ড করতে পারছে না এমন খবর পেয়ে কয়েকটি ইউনিট শাহ আমানতে পাঠানো হয়। রাত ৯টা ৪০ মিনিটে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো ফিরিয়ে আনা হয়।’

ফ্লাইটটিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফিরছিলেন সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

সংসদ সদস্যের স্ত্রী মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী রিজিয়া রেজা নদভী বলেন, ‘ফ্লাইটে সমস্যা হয়েছিল। পরে এমপি সাহেবসহ সব যাত্রী নিরাপদে নামতে পেরেছেন।’

আরও পড়ুন:
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে রোডম্যাপ
সমুদ্রে জ্বালানি অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চায় বাংলাদেশ
১০ মাস বন্ধ জ্বালানি তেল শোধনাগার
যেখানে সেখানে শিল্প করলে গ্যাস বিদ্যুৎ নয়: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
বিশ্ববাজারে ৩ দিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

শেয়ার করুন

বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নেবে ছয় দেশের সামরিক কন্টিনজেন্ট

বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নেবে ছয় দেশের সামরিক কন্টিনজেন্ট

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বুধবার ঢাকা সেনানিবাসে আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে মহান বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ-২০২১ এর লোগো উন্মোচন করেন। ছবি: আইএসপিআর

আইএসপিআর জানায়, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ যথাযোগ্য মর্যাদা ও উদ্দীপনার সঙ্গে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে উদ্‌যাপন হতে যাচ্ছে। প্রথম বারের মতো বন্ধুপ্রতিম ছয়টি দেশের সামরিক কন্টিনজেন্ট এই কুচকাওয়াজে যোগ দেবে।

মহান বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে ছয়টি দেশের সামরিক কন্টিনজেন্ট অংশ নেবে। প্রথমবারের মতো এ বছর কুচকাওয়াজে বন্ধুপ্রতিম এসব দেশ অংশ নিতে যাচ্ছে।

বুধবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে মহান বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ-২০২১ এর লোগো উন্মোচন করা হয়েছে।

বুধবার ঢাকা সেনানিবাসে আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে লোগো উন্মোচন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

আইএসপিআর জানায়, আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ-২০২১ যথাযোগ্য মর্যাদা ও উদ্দীপনার সঙ্গে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে উদ্‌যাপন হতে যাচ্ছে। এ বছর প্রথম বারের মতো বন্ধুপ্রতিম ছয়টি দেশের সামরিক কন্টিনজেন্ট বিজয় দিবস কুচকাওয়াজে যোগদান করবে।

জাঁকজমকপূর্ণ এই কুচকাওয়াজ আয়োজনের মাধ্যমে দেশবাসীর মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও প্রেরণা জাগ্রত হবে এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুজ্জল হবে আশা করা যায়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল ও ভারপ্রাপ্ত বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এম শফিকুল আলম।

এছাড়াও আসন্ন বিজয় দিবস প্যারেডে অংশগ্রহণকারী এবং ঢাকা এরিয়ার ঊধ্বর্তন সামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন:
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে রোডম্যাপ
সমুদ্রে জ্বালানি অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চায় বাংলাদেশ
১০ মাস বন্ধ জ্বালানি তেল শোধনাগার
যেখানে সেখানে শিল্প করলে গ্যাস বিদ্যুৎ নয়: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
বিশ্ববাজারে ৩ দিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

শেয়ার করুন

চলাফেরার স্বাধীনতা একচ্ছত্র অধিকার নয়: আপিল বিভাগ

চলাফেরার স্বাধীনতা একচ্ছত্র অধিকার নয়: আপিল বিভাগ

আদালত তার রায়ে বলেছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে এবং আইন মেনে যে কাউকে চলাফেরায় বাধা দেয়া যাবে। তবে আইন ও বিধি ছাড়া কারও চলাফেরার স্বাধীনতা খর্ব করা অসাংবিধানিক।

সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির চলাফেরার স্বাধীনতা একচ্ছত্র কোনো অধিকার নয় বলে রায় দিয়েছে আপিল বিভাগ। আদালত তার রায়ে বলেছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে এবং আইন মেনে যে কাউকে চলাফেরায় বাধা দেয়া যাবে। তবে, আইন ও বিধি ছাড়া কারও চলাফেরার স্বাধীনতা খর্ব করা অসাংবিধানিক।

বুধবার ১৮ পৃষ্ঠার একটি পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগ এমনটি বলেছে।

দুর্নীতি মামলার আসামি বা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তির বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদন নিষ্পত্তি করে দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে প্রধান বিচারপতির আপিল বিভাগ এই পর্যবেক্ষণ দেয়।

রায়ে বলা হয়েছে, ৩৬ অনুচ্ছেদে যে স্বাধীনতা দেয়া আছে তার মূল উদ্দেশ্য সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করা। তাই ফৌজদারি অপরাধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাসপোর্ট জব্দ ও তার বিদেশযাত্রা আটকানো যাবে। তার পরও যদি কেউ আইনকে পাশ কাটিয়ে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করে, তা হলে তাকে আটকানোর পর তিন কার্যদিবসের মধ্যে আদালতকে জানাতে হবে। কিন্তু ফৌজদারি অপরাধে কারও নাম এলেই তার বিদেশযাত্রা রোধ করা যাবে না।

সুনির্দিষ্ট বিধি বা আইন প্রণয়ন না করা পর্যন্ত দুর্নীতি মামলার আসামি বা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তির বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দুদকের আবেদন পর্যবেক্ষণসহ গত ২৬ সেপ্টেম্বর নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ।

দেশত্যাগে দুদকের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি রিটে হাইকোর্ট তিনটি রায় ও দুটি আদেশ দেয়। ওই সব আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে দুদক।

বিদেশ যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নরসিংদীর আতাউর রহমান ওরফে সুইডেন আতাউর রহমানের করা এক রিট আবেদনে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ১৬ মার্চ রায় দেয় হাইকোর্ট।

রায়ে বলা হয়, বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার বিষয়ে দুদকের সুনির্দিষ্ট আইন বা বিধি নেই। এ কারণে এ বিষয়ে দ্রুত সুনির্দিষ্ট আইন বা বিধিমালা করা প্রয়োজন। তাই আশা করছি, এ বিষয়ে দুদক বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় আইন বা বিধি করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক। সেই আপিলের শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত রায় দেয়। ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি বুধবার প্রকাশ হয়।

আরও পড়ুন:
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে রোডম্যাপ
সমুদ্রে জ্বালানি অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চায় বাংলাদেশ
১০ মাস বন্ধ জ্বালানি তেল শোধনাগার
যেখানে সেখানে শিল্প করলে গ্যাস বিদ্যুৎ নয়: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
বিশ্ববাজারে ৩ দিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

শেয়ার করুন

বিদেশে চিকিৎসাও খালেদার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ: এএসএলডিবি

বিদেশে চিকিৎসাও খালেদার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ: এএসএলডিবি

টিআইপিএস সাধারণ সম্পাদক ও বিএসএমএমইউ'র ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের বক্তব্যে তথ্য এসেছে যে তিনি লিভারসিরোসিসে আক্রান্ত। তার কিডনি ফেইলিওর হয়ে গেছে। হার্টের অবস্থাও খারাপ। এমন রোগীকে ট্রান্সজুগুলার ইন্ট্রাহেপাটিক পোর্টোসিস্টেমিক শান্ট (টিআইপিএস) করা হলে চিকিৎসার পর নানা জটিলতা দেখা দেবে।

লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতা রয়েছে। এমন বাস্তবতায় বিদেশে নিয়ে যে চিকিৎসা দেয়া হবে তা খালেজা জিয়ার জন্য ঝুঁকির বলে মত দিয়েছে লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব লিভার ডিজিজেস বাংলাদেশ (এএসএলডিবি)।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন আশঙ্কার কথা বলা হয়। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে পরবর্তী চিকিৎসার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের যথেষ্ট সচেষ্ট থাকারও পরামর্শ দিয়েছে এএসএলডিবি।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের বক্তব্যে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই আমাদের কাছে জানতে চাইছেন আসলেই এই রোগের চিকিৎসা দেশে সম্ভব কীনা। এমন পরিস্থিতিতে আমরা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি।’

ডা. মামুন আল মাহতাব বলেন, ‘মেডিক্যাল বোর্ডের বক্তব্যে তথ্য এসেছে যে খালেদা জিয়া লিভারসিরোসিসে আক্রান্ত। তার কিডনি ফেইলিওর হয়ে গেছে। হার্টের অবস্থাও খারাপ। এমন একজন রোগীকে ট্রান্সজুগুলার ইন্ট্রাহেপাটিক পোর্টোসিস্টেমিক শান্ট (টিআইপিএস) করা হলে চিকিৎসার পর নানা জটিলতা দেখা দেবে।

চিকিৎসায় ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘টিআইপিএসের ক্ষেত্রে চিকিৎসা-পরবর্তী জটিলতা বিশেষ করে হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি অর্থাৎ লিভার রোগজনিত অজ্ঞান হওয়ার প্রবণতা বা অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এছাড়াও টিআইপিএস করার সময় হার্টের জটিলতা দেখা দিতে পারে। শিরাপথে ডাই ব্যবহারে কিডনির জটিলতাও বহু মাত্রায় বাড়তে পারে। অর্থাৎ টিআইপিএস করার সময়ও হার্ট ডিজিজ বা কিডনি ডিজিজে আক্রান্ত রোগীদের প্রসিডিউরজনিত জটিলতার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। এসব ঝুঁকি মাথায় রেখে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার বিষয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। সবার জন্য উন্নত চিকিৎসা আছে। তবে সব রোগীর জন্য সব চিকিৎসা নয়।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে পোর্টাল হাইপারটেনশনজনিত বিভিন্ন কারণ, যেমন ইসোফেজিয়াল ভ্যারিক্স, গ্যাস্ট্রিক ভ্যারিক্স, গ্যাস্ট্রিক এন্ট্রাল ভাসকুলার একটাশিয়া ইত্যাদি থেকে খাদ্যনালী ও পাকস্থলীতে রক্তপাত হতে পারে।

ইসোফেজিয়াল ভ্যারিক্স থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধে ইসোফেজিয়াল ভ্যারিসিয়াল লাইগেশন (ইভিএল) একটি বহুল ব্যবহৃত স্বীকৃত চিকিৎসা। বার বার রক্তক্ষরণ বন্ধের ক্ষেত্রেও ইভিএল করা যায়। এছাড়া পোর্টাল হাইপারটেনশনের কারণে বার বার রক্তক্ষরণ এবং যথাযথ মাত্রার ওষুধ প্রয়োগের পরও বার বার আসা পেটের পানির (রিফ্র্যাক্টরি এসাইটিস) চিকিৎসার ক্ষেত্রেও টিআইপিএস করা যায়।

লিভার সিরোসিসের কারণে খালেদা জিয়ার শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে জানিয়ে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানির বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসার সুপারিশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, বিএনপি নেত্রীর যকৃৎ বা লিভারে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। একবার এই রক্তক্ষরণ সামাল দেয়া গেছে। তবে এখন তার যে অবস্থা সেটি আবার সামাল দেয়া কঠিন হবে।

দুই থেকে তিনবার রক্তক্ষরণ সামাল দেয়ার কারিগরি সুযোগ বাংলাদেশে নেই দাবি করে যত দ্রুত সম্ভব তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

গত রোববার সন্ধ্যায় বিএনপি নেত্রীর গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ব্রিফিং করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা। তারা দাবি করেন, খালেদা জিয়ার যে রোগ হয়েছে তার চিকিৎসা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির অল্প কয়েকটি বিশেষায়িত সেন্টারে সম্ভব। বাংলাদেশে এই চিকিৎসার কারিগরি সুযোগ-সুবিধা যেমন নেই, তেমনি ওষুধও নেই। আরও চার মাস আগে বিএনপি নেত্রীকে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে তার শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হতো না বলেও দাবি করেন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিএনপির গঠন করা মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান।

এরপর সোমবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) জানায়, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বাংলাদেশেই সম্ভব। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাই এ রোগের বিশ্ব মানের চিকিৎসা সেবা দিতে সক্ষম। এবার লিভার বিশেষজ্ঞদের বিজ্ঞপ্তি এলো গণমাধ্যমে।

আরও পড়ুন:
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে রোডম্যাপ
সমুদ্রে জ্বালানি অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চায় বাংলাদেশ
১০ মাস বন্ধ জ্বালানি তেল শোধনাগার
যেখানে সেখানে শিল্প করলে গ্যাস বিদ্যুৎ নয়: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
বিশ্ববাজারে ৩ দিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

শেয়ার করুন

‘বোমার তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি, এয়ারক্র্যাফট নিরাপদ’

‘বোমার তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি, এয়ারক্র্যাফট নিরাপদ’

উড়োজাহাজ,যাত্রী ও লাগেজের কোথাও বোমার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি, নিশ্চিত করেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম তৌহিদুল আহসান। ছবি: নিউজবাংলা

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম তৌহিদুল আহসান বলেন, ‘বোমা থাকার সত্যতা পাওয়া না গেলেও এমন তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা উড়োজাহাজটি একটি নিরাপদ জায়গায় রেখে তল্লাশি চালাই। যাত্রী, এয়ারক্র্যাফট ও লাগেজের কোথাও বোমার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফ্লাইটটি নিরাপদ উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।’

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের জরুরি অবতরণ করা ফ্লাইটটির কোথাও কোনও বোমা পাওয়া যায়নি।

বুধবার রাত দেড়টায় বিমানবন্দরে জরুরি ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম তৌহিদুল আহসান।

তিনি বলেন, ‘বোমা থাকার সত্যতা পাওয়া না গেলেও এমন তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা উড়োজাহাজটি একটি নিরাপদ জায়গায় রেখে তল্লাশি চালাই। যাত্রী, এয়ারক্র্যাফট ও লাগেজের কোথাও বোমার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।’

ব্রিফিংয়ের শুরুতে বিমানবন্দরের পরিচালক তৌহিদুল আহসান বলেন, ‘তথ্য পাওয়ার পর আমরা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে মিটিং করি। যদিও যে নিউজটা পেয়েছিলাম, সেটির সত্যতা মিটিংয়েও পাওয়া যায়নি। যেহেতু তথ্য পেয়েছি বিমানে বোমা থাকার সম্ভাবনা আছে, সে জন্য আমরা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইস্যুটিকে আমরা হাল্কাভাবে নেয়নি।’

‘বোমার তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি, এয়ারক্র্যাফট নিরাপদ’

বুধবার রাত দেড়টায় বিমানবন্দরে জরুরি ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম তৌহিদুল আহসান। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমরা সমস্ত অপারেশন নেয়ার জন্য প্রস্তুত হই। আমরা তখন ঘোষণা দেই যে আমরা এ্যাকশনে যাবো, আমরা সব তল্লাশি করবো। নিয়ম অনুসারে সে সময় সমস্ত প্রয়োজনীয় কাজ করার জন্য প্রস্তুত হই। তখন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে খবর দেয়া হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই বোমা নিষ্ক্রিয় টিমসহ অন্যান্য টিম হাজির হয়। এ্যায়ারক্রাফট যখন ল্যান্ড করে, তখন অন্যান্য সংস্থ্যা র‌্যাব, এপিবিএন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ গোয়েন্দা সংস্থাদের খবর দেয়া হয়।'

তিনি আরও বলেন, ‘তারপর ব্যাপক তল্লাশি চলে। যেভাবে তল্লাশি করার কথা, সেভাবেই হয়। প্রথমে আমরা যাত্রীদের অফলোড করি, এরপর তাদের নিরাপত্তা তল্লাশি করি। কার্গো অফলোড করা হয়। আমরা তল্লাশি করার সময় ডেনজারাস কিছু পাইনি।

‘এটা করতে একটু সময় লাগে। যাত্রীদের একে একে বের করে তাদেরকে নিখুঁতভাবে তল্লাশি করা হয়। এরপর লাগেজ কম্পাটমেন্ট দুটো রয়েছে, একটি সামনে আর একটি পেছনে। আমরা পেছনের কম্পাটমেন্ট থেকে লাগেজ নামিয়ে সেগুলোকে আস্তে আস্তে ট্রলিতে করে নামিয়ে বে’তে পাঠিয়ে দেই। এর পর সামনের কম্পাটমেন্ট থেকেও লাগেজ নামিয়ে স্ক্যান করি। রাত ১টার দিকে কাজ শেষ করি। তার আগে আমরা কেবিন স্ক্যান করি, সেখানেও কিছু পাওয়া যায়নি। বোম ডিস্পোজল টিমের কমান্ডার ছিলেন বিমান বাহিনীর। তিনি ঘোষণা দেন- এখানে কোন বোমার সন্ধান পাওয়া যায়নি, এয়ারক্র্যাফট নিরাপদ।’

‘বোমার তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি, এয়ারক্র্যাফট নিরাপদ’

বোমা আতঙ্ক নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণ করে বুধবার রাত ৯টা ৩৮ মিনিটে।

১৩৫ যাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকায় জরুরি অবতরণ করার আগেই সংবাদ মেলে যাত্রীর লাগেজে বোমা থাকার। তারই সূত্রে ফ্লাইটটিতে তল্লাশি হয়।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, জরুরি অবতরণের পর কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ফ্লাইটটি থেকে যাত্রী নামাতে সব এয়ারলাইনসের বাসগুলো বিমানের পাশে নেয়া হয়। সব যাত্রীকে নিরাপদ অবস্থানে সরিয়ে নিয়ে শুরু হয় তল্লাশি।

রাত সোয়া ১১টায় সেনাবাহিনীর একটি টিম বিমানবন্দরের ভেতরে ঢোকে। নিরাপত্তা তল্লাশিসহ সার্বিক কাজে সহায়তা করছে সেনা টিম।

একই রাতে ল্যান্ডিং গিয়ারে ত্রুটি থাকায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট।

বুধবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ৪২ যাত্রী নিয়ে সেই বিমানটি অবতরণ করে বলে নিউজবাংলাকে জানান বিমানবন্দরের বিমান বাংলাদেশের সহকারী ম্যানেজার ওমর ফারুক।

আরও পড়ুন:
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে রোডম্যাপ
সমুদ্রে জ্বালানি অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চায় বাংলাদেশ
১০ মাস বন্ধ জ্বালানি তেল শোধনাগার
যেখানে সেখানে শিল্প করলে গ্যাস বিদ্যুৎ নয়: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
বিশ্ববাজারে ৩ দিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

শেয়ার করুন