স্বাচিপের সম্প্রীতি সমাবেশে বিএনপিকে দোষারোপ

player
স্বাচিপের সম্প্রীতি সমাবেশে বিএনপিকে দোষারোপ

শাহবাগের সম্প্রীতি সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন হাসাপাতালের অর্ধশতাধিক চিকিৎসক ও আওয়ামী লীগ নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, দেশে আবার অশান্তি সৃষ্টি করলে বিএনপিকে বড় শিক্ষা দেয়া হবে। তারা শান্তি মিছিলের নামে পুলিশকে আক্রমণ করছে। সরকার হটাতে গণঅভ্যুত্থানের নামে তারা পূজামণ্ডপে হামলা করছে। তারা প্রমাণ করতে চায় বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক ও অকার্যকর রাষ্ট্র।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) সম্প্রীতি সমাবেশ করেছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রদায়িক হামলার জন্য সমাবেশ থেকে দায়ী করা হয়েছে বিএনপি ও জামায়াতকে।

রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে বুধবার দুপুরে সম্প্রীতি সমাবেশ করে স্বাচিপ। চিকিৎসক ছাড়াও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এতে অংশ নেন।

সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, ‘দেশে আবার অশান্তি সৃষ্টি করলে বিএনপিকে বড় শিক্ষা দেয়া হবে। তারা শান্তি মিছিলের নামে অশান্তি করছে, পুলিশকে আক্রমণ করছে। সারাদেশে ২০১৩-১৪ সালে পেট্রোল বোমা হামলা ও সন্ত্রাস করে বিএনপি এখন মাশুল দিচ্ছে। জনপ্রতিরোধে বিএনপি-জামায়াত এখন কোনঠাসা হয়ে গেছে।

‘বিএনপি জামায়াত বাংলাদেশের অপশক্তি। সরকার হটাতে গণঅভ্যুত্থানের নামে তারা পূজামণ্ডপে হামলা করে। তারা প্রমাণ করতে চায় বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক ও অকার্যকর রাষ্ট্র। তবে এসব সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সারাদেশ ঐক্যবদ্ধ। সে ঐক্যের সামনে অপশক্তি পরাজিত হতে বাধ্য।’

সিরাজগঞ্জ ২ আসনের সাংসদ ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন উন্নতির শিখরে যাচ্ছে, তখন জামায়াত-বিএনপি দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি তাদেরকে দাঁতভাঙা জবাব দেবে। সকল ধর্মের মানুষ মিলে আমরা তাদের প্রতিরোধ করব।’

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ অধ্যাপক আব্দুল আজিজ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শরফুদ্দিন আহমেদ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক এম এ আজিজ, ডা. আব্দুর রউফ সরদার, অধ্যাপক আবু ইউসুফ ফকির, অধ্যাপক খলিলুর রহমান, মাকসুদুল আলম বাচ্চুসহ স্বাচিপ নেতারা।

রাজধানীর বিভিন্ন হাসাপাতালের অর্ধশতাধিক চিকিৎসকের পাশাপাশি সমাবেশে আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যাক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদ জানালেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীরা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কনক সারোয়ারের বোনের জামিন ইস্যুতে রুল

কনক সারোয়ারের বোনের জামিন ইস্যুতে রুল

সাংবাদিক কনক সারোয়ারের বোন রাকার জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানো হয়। ফাইল ছবি

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রেজাউল করিম বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় নুসরাত শাহরিন রাকাকে জামিন দিতে এক সপ্তাহের রুল জারি করেছেন আদালত। তবে মাদক মামলায় কোন আদেশ দেননি।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সাংবাদিক কনক সারোয়ারের বোন নুসরাত শাহরিন রাকাকে জামিন কেন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জেড আই খান পান্না। তার সঙ্গে ছিলেন জামিউল হক ফয়সাল। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রেজাউল করিম।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রেজাউল করিম বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় নুসরাত শাহরিন রাকাকে জামিন দিতে এক সপ্তাহের রুল জারি করেছেন আদালত। তবে মাদক মামলায় কোন আদেশ দেননি।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা ও মাদক আইনের দুই মামলায় জামিন চেয়ে গত ৮ নভেম্বর হাইকোর্টে আবেদন করেন সাংবাদিক কনক সারোয়ারের বোন নুসরাত শাহরিন রাকা।

গত বছরের ৪ অক্টোবর রাতে রাজধানীর উত্তরায় অভিযান চালিয়ে রাকাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) সদস্যরা।

র‌্যাবের দাবি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি এবং মাদক আইনে আরেকটি মামলা করে র‌্যাব।

গত ৬ অক্টোবর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় রাকার ৩ দিন এবং মাদক মামলায় ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে বিচারিক আদালত। রিমান্ড শেষে তাকে গত ১২ অক্টোবর কারাগারে পাঠায় আদালত।

আরও পড়ুন:
সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদ জানালেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীরা

শেয়ার করুন

আত্মসমর্পণের পর কারাগারে জি কে শামীমের মা

আত্মসমর্পণের পর কারাগারে জি কে শামীমের মা

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় আগেও জামিন নিতে অ্যাম্বুলেন্সে করে আদালতে যান জি কে শামীমের মা আয়েশা আক্তার। ফাইল ছবি

ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে মঙ্গলবার আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন আয়েশা আক্তার।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় যুবলীগের কথিত সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের মা আয়েশা আক্তার আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে মঙ্গলবার আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন আয়েশা আক্তার।

তার পক্ষে জামিন শুনানি করেন মিজানুর রহমান।

শুনানিতে মিজানুর রহমান বলেন, ‘তিনি (আয়েশা আক্তার) একজন বয়োবৃদ্ধা ও অসুস্থ মানুষ, এ মামলার বিষয়ে তিনি কিছু অবগত নন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে হুজুরের আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। যেকোনো শর্ত পূরণে রাজি আছেন, তাই তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করা হোক। যেকোনো শর্তে তার জামিনের প্রার্থনা করছি।’

দুদকের পক্ষে মোশাররফ হোসেন কাজল জামিনের বিরোধিতা করেন।

শুনানিতে তিনি বলেন, ‘উনি নারী হলেও অনেক দিন পলাতক থাকার পর আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। তিনি জামিন নিয়ে পলাতক হলে আবারও মামলার বিচার কাজ বিলম্বিত হবে।’

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন দুদকের আদালত পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম।

গত বছরের ১৬ নভেম্বর আদালত জি কে শামীম এবং তার মা আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে দুদকের দেয়া অভিযোগপত্র আমলে নেয়। তখন আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর জি কে শামীম ও তার মা আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে ২৯৭ কোটি ৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন। গত বছর দুই জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদ জানালেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীরা

শেয়ার করুন

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ছাত্রদলের প্রতীকী অনশন

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ছাত্রদলের প্রতীকী অনশন

শাবি শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে জাতীয় শহীদ মিনারে প্রতীকী অনশনে বসেছে ছাত্রদলেন নেতা-কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল বলেন, ‘শাহজালালের শিক্ষার্থীদের উপর যে ন্যাক্কারজনক হামলা হয়েছে, তার প্রতিবাদে আমরা প্রতীকী অনশন করছি। আমরা ভিসির অব্যাহতি চাই, শিক্ষার্থীদের নামে করা মামলা প্রত্যাহার চাই।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে প্রতিকী অনশন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে অনশনে বসেছেন তারা। প্রতীকী অনশন বিকেল ৩টা পর্যন্ত।

প্রতীকী অনশনে শাবি ভিসির অব্যাহতি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।

অনশনে অংশ নিয়েছেন ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। সঙ্গে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল বলেন, ‘শাহজালালের শিক্ষার্থীদের উপর যে ন্যাক্কারজনক হামলা হয়েছে, তার প্রতিবাদে আমরা প্রতীকী অনশন করছি। আমরা ভিসির অব্যাহতি চাই, শিক্ষার্থীদের নামে করা মামলা প্রত্যাহার চাই।’

তিনি বলেন, ‘দেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিটি যৌক্তিক দাবি ও আন্দোলনের পাশে ছাত্রদল রয়েছে।’

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ছাত্রদলের প্রতীকী অনশন
জাতীয় শহীদ মিনারে ছাত্রদলের প্রতীকী অনশনে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য। ছবি: নিউজবাংলা

অনশন কর্মসূচি প্রসঙ্গে রমনা জোনের সহকারী কমিশনার (পেট্রোল) বাহা উদ্দিন বলেন, ‘কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে আমরা কাউকেই এলাউ করছি না। কিন্তু তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করবে বলেছে। বিকেল ৩টা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহীদ মিনারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সঙ্গে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ওয়াটার ক্যানন।

এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্ক করে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের কয়েক মিনিটের মধ্যে কর্মসূচি শেষ করতে বলা হয়।

গত ১৩ জানুয়ারি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী।

১৬ জানুয়ারি বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে মুক্ত করে পুলিশ।

এরপর পুলিশ ৩০০ জনকে আসামি করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। গত বুধবার থেকে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন শুরু করেন।

আরও পড়ুন:
সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদ জানালেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীরা

শেয়ার করুন

আলটিমেটামের ২ মিনিটেই শহীদ মিনার ছাড়ল ছাত্রদল

আলটিমেটামের ২ মিনিটেই শহীদ মিনার ছাড়ল ছাত্রদল

শহীদ মিনারে ছাত্রদলের কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশ সদস্যরা।

বেলা ১১টা ৪৪ মিনিটে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনকে ডেকে দুই মিনিটের মধ্যে শহীদ মিনার এলাকা ছেড়ে দেয়ার আলটিমেটাম দেন রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার বায়েজীদুর রহমান।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে সংহতি, তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার ও ভিসি ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে জাতীয় শহীদ মিনারে প্রতীকী অনশনে বসে ছাত্রদল।

মঙ্গলবার সকাল ৯টার কিছু পরই শহীদ মিনারে অনশনে বসেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। প্রতীকী অনশন কর্মসূচি ৩টা পর্যন্ত চলবে বলে জানান নেতা-কর্মীরা।

তবে বেলা ১১টা ৪৬ মিনিটেই ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অনশন কর্মসূচি শেষ করেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকারের জারি করা বিধিনিষেধে সামাজিক, রাজনৈতিক বা যে কোনো ধরনের সমাবেশে ১০০ জনের বেশি অংশ নিতে পারবেন না বলা হয়েছে। অংশ নিলেও মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি, বাধ্যতামূলক পরতে হবে মাস্ক।

ছাত্রদলের নেতারা প্রতীকী অনশনে বসলেও তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। মানা হয়নি ১০০ জনের যে বাধ্যবাধকতা সেটিও।

আমরা সবাই সচেতন। করোনা সংক্রমণের হার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বেশি দেখানো হচ্ছে। প্রকৃত সংক্রমণের চেয়ে সরকার সংক্রমণ বাড়াচ্ছে বেশি। আপনি দেখবেন বাংলাদেশের শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করা হয়েছে, দেশের হাটবাজারসহ সব কিছু খোলা রয়েছে।

অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রস্তুত রাখা হয় ওয়াটার ক্যানন।

বেলা ১১টা ৪৪ মিনিটে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনকে ডেকে দুই মিনিটের মধ্যে শহীদ মিনার এলাকা ছেড়ে দেয়ার আলটিমেটাম দেন রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার বায়েজীদুর রহমান।

সে সময় ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা আরও সময় চান। তারা অন্তত পাঁচ মিনিট সময় চাইলে বায়েজীদুর রহমান বলেন, এর বেশি সময় তিনি দেবেন না। তারা যদি শহীদ মিনার এলাকা না ছাড়েন তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

আলটিমেটাম পেয়ে তড়িঘড়ি করে প্রতীকী অনশন শেষ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা ছেড়ে যান ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা।

শেষ করার আগে ছাত্রদল সভাপতি বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশি বাধার কারণে আমাদের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করতে হচ্ছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আমরা সমর্থন জানাচ্ছি। আমরা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ চাই। আমাদের দাবি মানা না পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।’

সিনিয়র সহকারী কমিশনার বায়েজীদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার বিধিনিষেধের মধ্যে এত লোকের সমাগমের অনুমতি নেই। আমরা বারবার নিষেধ করছিলাম। তারা না শোনায় ফোর্স করতে হয়েছে। তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা ছেড়ে গেছে।’

কর্মসূচি চলার সময় স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সবাই সচেতন। করোনা সংক্রমণের হার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বেশি দেখানো হচ্ছে। প্রকৃত সংক্রমণের চেয়ে সরকার সংক্রমণ বাড়াচ্ছে বেশি। আপনি দেখবেন, বাংলাদেশের শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করা হয়েছে, দেশের হাটবাজারসহ সব কিছু খোলা রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদ জানালেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীরা

শেয়ার করুন

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের হাজতির মৃত্যু

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের হাজতির মৃত্যু

হাজতির মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ফাইল ছবি

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।’

কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় রেজাউল করিম নামের এই হাজতিকে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালে নিয়ে আসা কারারক্ষী মোসেফ খান বলেন, ‘রেজাউল করিম কারাগারে হাজতি হিসেবে ছিলেন। আজ সকালে তিনি সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি কী মামলায় হাজতি হিসেবে ছিলেন সেটা জানি না। তার বাবার নাম মৃত হাজি লাল মিয়া। এর বেশি কিছু বলতে পারব না। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইলপত্র ঢামেক মর্গে নিয়ে যাবেন, তখন বিস্তারিত জানা যাবে।’

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।’

আরও পড়ুন:
সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদ জানালেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীরা

শেয়ার করুন

হাসপাতাল ছাড়লেন সেই মা

হাসপাতাল ছাড়লেন সেই মা

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে এক সন্তান কোলে আয়েশা বেগম। ছবি: নিউজবাংলা

শ্যামলীর আমার বাংলাদেশ হাসপাতালের ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা বিল শোধ করতে না পারায় ৬ জানুয়ারি তাদের বের করে দেয়া হয়। তখন দুই শিশুসহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন আয়েশা। তবে সেখানে পৌঁছার আগেই এক শিশুর মৃত্যু হয়।

যমজ সন্তানের একটিকে চিকিৎসকের অবহেলায় হারানোর পর আরেক সন্তানকে নিয়ে ১৮ দিন পর বাসায় ফিরেছেন সাভারের গৃহবধূ আয়েশা বেগম। র‍্যাবের সহযোগিতায় ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তির পর শিশুর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে সোমবার তিনি বাসায় ফিরে যান।

স্বজনরা জানান, ছয় মাস বয়সী আব্দুল্লাহ ও আহমেদুল্লা নামে যমজ শিশুর ঠান্ডাজনিত সমস্যার চিকিৎসা নিতে গত ৩১ ডিসেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আসেন সাভার রেডিও কলোনির বাসিন্দা আয়েশা বেগম। সেখান থেকে দালালের খপ্পরে পড়ে তিনি সন্তানদের ভর্তি করেন শ্যামলীর আমার বাংলাদেশ হাসপাতালে। এ হাসপাতালে ছয় দিন ভর্তি দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা বিল দাবি করে। কয়েক দফায় ৫০ হাজার ৫০০ টাকা দিলেও পুরো বিল পরিশোধ করতে পারেননি আয়েশা। ৬ জানুয়ারি হাসপাতাল থেকে তাদের বের করে দেয়া হয়। তখন দুই শিশুসহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন আয়েশা। তবে সেখানে পৌঁছার আগেই এক শিশুর মৃত্যু হয়।

বিল দিতে না পারায় হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া ও শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। অপর শিশুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়।

স্বজনরা জানান, যমজ শিশুর বাবা মোহাম্মদ জামাল সৌদিপ্রবাসী। সেখানে তিনি মরুভূমিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তাদের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায়।

অমানবিক এ ঘটনা জেনে র‍্যাবের টিম হাসপাতালের মালিক মোহাম্মদ গোলাম সারোয়ারকে আটক করে। পরে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়।

ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি শিশু ও তার মায়ের নিয়মিত খোঁজ রাখেন র‍্যাব কর্মকর্তারা। সন্তান হারানোর বেদনাদায়ক স্মৃতি নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় যখন হাসপাতাল ত্যাগ করেন আয়েশা তখন র‍্যাব-৩ কর্মকর্তারা তাকে দেন বেশ কিছু উপহার। বাসায় ফেরার অ্যাম্বুলেন্সটিও ঠিক করে দেয় র‍্যাব।

র‌্যাব-৩ টিকাটুলী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. রাহাত হারুন খান এ সময় হাসপাতাল গেটে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘শিশুসন্তানকে নিয়ে তার মাকে বাসায় ফেরার অনুমতি দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের বাসায় ফেরার সময় কিছু উপহার দিয়েছি, যেন সমস্যায় না পড়ে। ৩০ দিন পর শিশুকে চেকআপ করার জন্য আনতে হবে। মানবিক কর্ম হিসেবে র‍্যাব তাদের খোঁজ রাখছে।'

র‌্যাবের পক্ষ থেকে শিশু ও তার মাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

বাসায় যাবার আগে আয়েশা বেগম কৃতজ্ঞতা জানান র‌্যাব কর্মকর্তা, চিকিৎসকসহ যারা বিপদের দিনে পাশে ছিলেন তাদের সবার প্রতি।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার আহমেদুল্লাকে ওরা মেরে ফেলছে। ওদের লোভে আমার ছেলে মারা গেল। দুজনকে নিয়ে এসেছিলাম, ফিরতেছি একজনকে নিয়ে।’

আরও পড়ুন:
সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদ জানালেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীরা

শেয়ার করুন

৮৫ বার পেছাল সাগর-রুনি হত্যার প্রতিবেদন

৮৫ বার পেছাল সাগর-রুনি হত্যার প্রতিবেদন

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি। ফাইল ছবি

ঢাকার মহানগর হাকিম তরিকুল ইসলামের আদালতে সোমবার মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ ছিল। বরাবরের মতো এবারও তা জমা দিতে ব্যর্থ হন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে বিচারক ২৩ ফেব্রুয়ারি নতুন তারিখ নির্ধারণ করে দেন।

আবার পেছাল সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়ার তারিখ। এ নিয়ে ৮৫ বার পেছাল আলোচিত মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন।

ঢাকার মহানগর হাকিম তরিকুল ইসলামের আদালতে সোমবার মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ ছিল। বরাবরের মতো এবারও তা জমা দিতে ব্যর্থ হন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে বিচারক ২৩ ফেব্রুয়ারি নতুন তারিখ নির্ধারণ করে দেন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন আদালতে শেরেবাংলা নগর থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক জালাল উদ্দিন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুনি নিজ ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পর দিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রোমান পরের দিন শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার একজন উপপরিদর্শক (এসআই)। চার দিন পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে হত্যার রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলার তদন্তভার র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

খুনের ৯ বছরের বেশি সময় পার হলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি সংস্থাটি।

মামলায় রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আসামি আটজন। অন্য আসামিরা হলেন বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুন, পলাশ রুদ্র পাল, তানভীর ও আবু সাঈদ।

আরও পড়ুন:
সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদ জানালেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীরা

শেয়ার করুন