তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না: ফখরুল

তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না: ফখরুল

আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল।

যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফখরুল বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন যুবদল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তখন তিনি এমন একটি দল গঠন করতে চেয়েছিলেন, যে দল ভবিষ্যতে বিএনপিকে নেতৃত্ব দেবে। রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেবে এবং জাতি গঠনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখবে।’

নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এ দেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এ দেশে কোন নির্বাচন হবে না। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনও গঠন করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই আমরা একটি নতুন সরকার গঠন করব। আর যুবদলকে অনুরোধ করব তারা যেন স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। তারা যেন স্বপ্ন দেখে একটি আধুনিক রাষ্ট্রের, একটি আধুনিক জাতি গঠনের।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন যুবদল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তখন তিনি এমন একটি দল গঠন করতে চেয়েছিলেন, যে দল ভবিষ্যতে বিএনপিকে নেতৃত্ব দেবে। রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেবে এবং জাতি গঠনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখবে। ৪৩ বছরে জাতীয়তাবাদী যুবদল নিঃসন্দেহে তার সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে পেরেছে।’

গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ যুবদলের নেতা-কর্মীদের স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের সংকট মুহূর্তে যুবদলকে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। যুবদলের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সারা দেশের মানুষকে সংগঠিত করে আমাদের বুকের উপর চেপে বসা ভয়াবহ দানবীয় সরকারকে পরাজিত করতে হবে। যে সরকার আমাদের গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দীর্ঘদিন ধরে আটক করে রেখেছে, আমাদের স্বপ্নের নেতা তারেক রহমানকে নির্বাসিত করে রেখেছে, অসংখ্য নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে তাদেরকে পরাজিত করতে যুবদলকে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে।’

যুবদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরবের সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের যৌথ সঞ্চলনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম সহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল
মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল
সাম্প্রদায়িক হামলায় সরকারি মদদ: ফখরুল
সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়: ফখরুল
আসুন গণ-আন্দোলন সৃষ্টি করি: ফখরুল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খালেদার অবস্থা অস্থিতিশীল: চিকিৎসক

খালেদার অবস্থা অস্থিতিশীল: চিকিৎসক

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের একজন চিকিৎসক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খালেদা জিয়া ধীরে ধীরে কথা বলার চেষ্টা করছেন। মাঝে মাঝেই ওনার শরীর দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল। গতকাল থেকে এটা একটু কমে এসেছে। তবে শরীরের অবস্থা উন্নতির দিকে এটা বলা যাবে না। গতকাল থেকে এ পর্যন্ত তার শরীরের অবস্থা অবনতি হয়নি। তবে অস্থিতিশীল।’

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অস্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের একজন সদস্য।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে শনিবার সকালে ওই চিকিৎসক জানান, সকাল ৯ টার মধ্যে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নিতে হাসপাতালে আসেন মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার। তিনি প্রায় ১০ মিনিট খালেদার কেবিনে অবস্থান করেন।

তিনি বলেন, ‘এসময় আমি স্যারের সঙ্গে গিয়েছিলাম। খালেদা জিয়া ধীরে ধীরে কথা বলার চেষ্টা করছেন। মাঝে মাঝেই ওনার শরীর দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল। গতকাল থেকে এটা একটু কমে এসেছে। তবে শরীরের অবস্থা উন্নতির দিকে এটা বলা যাবে না। গতকাল থেকে এ পর্যন্ত তার শরীরের অবস্থা অবনতি হয়নি। তবে অস্থিতিশীল।’

ওই চিকিৎসক জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী একাধিক জটিল রোগে ভুগছেন। স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যালোচনা জন্য দিকে একাধিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। শুক্রবারও নিউক্লিয়ার মেডিসিনে এনে তার স্বাস্থ্যের পরীক্ষা করোনা হয়। তবে এখন খালেদা জিয়ার লিভারের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এছাড়া, মলে রক্ত আসাও বন্ধ হয়নি।

১৩ নভেম্বর বিকেলে খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে এভারকেয়ারে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হওয়ায় পরের দিন ভোরে তাকে সিসিইউতে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার।

খালেদার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য তার পরিবার ও দল থেকে সরকারের প্রতি বারবার আহ্বান জানানো হলেও তাতে সাড়া মিলছে না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের নেত্রীর অবস্থা ‘ভ্যারি ক্রিটিক্যাল’। তাকে অবিলম্বে বিদেশ নেয়া দরকার।

খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেয়ার অনুমতি আদায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল
মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল
সাম্প্রদায়িক হামলায় সরকারি মদদ: ফখরুল
সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়: ফখরুল
আসুন গণ-আন্দোলন সৃষ্টি করি: ফখরুল

শেয়ার করুন

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে মিরপুরে মশাল মিছিল

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে মিরপুরে মশাল মিছিল

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে মিরপুরে মশাল মিছিল। ছবি: নিউজবাংলা

শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে মিরপুর শেওড়াপাড়া থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ১০ নম্বর গোল চত্বরের কাছাকাছি গিয়ে শেষ হয়। এর আগে একই দাবিতে বৃহস্পতিবার রাতে নয়াপল্টন এলাকায় রিজভীর নেতৃত্বে মশাল মিছিল হয়।

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে মশাল মিছিল করেছে বিএনপি। মিছিলের নেতৃত্ব দেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে মিরপুর শেওড়াপাড়া থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ১০ নম্বর গোল চত্বরের কাছাকাছি গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে বিএনপির জনা বিশেক নেতাকর্মী অংশ নেন।

এর আগে একই দাবিতে বৃহস্পতিবার রাতে নয়াপল্টন এলাকায় রিজভীর নেতৃত্বে মশাল মিছিল হয়।

এছাড়া শুক্রবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় মসজিদে দোয়ার আয়োজন করা হয় বিএনপির উদ্যোগে। হিন্দুদের মন্দিরসহ অন্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়েও করা হয় বিশেষ প্রার্থনা।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নেতারা। ছিলেন জোটের শরিক দলের নেতারাও।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী এই মুহূর্তে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার রোগের বিস্তারিত না জানলেও বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের নেত্রী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন। তাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার দাবিও করা হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে।

তবে ২০১৮ সালে দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত নেত্রীকে দেশের বাইরে নিয়ে যেতে এখনও অনুমতি দেয়নি সরকার। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দণ্ডবিধির ৪০১ ধারা প্রয়োগ করে সাজা স্থগিত করিয়ে পৌনে দুই বছর আগে বিএনপি নেত্রীকে বাসায় ফেরার সুযোগ করে দিয়েছেন। এই ধারা দ্বিতীয়বার প্রয়োগের সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল
মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল
সাম্প্রদায়িক হামলায় সরকারি মদদ: ফখরুল
সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়: ফখরুল
আসুন গণ-আন্দোলন সৃষ্টি করি: ফখরুল

শেয়ার করুন

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা বিদেশে যাওয়ার অজুহাত: তথ্যমন্ত্রী

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা বিদেশে যাওয়ার অজুহাত: তথ্যমন্ত্রী

কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ছবি: নিউজবাংলা

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকে একটি অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে বিদেশ পাঠিয়ে দিতে চায় বিএনপি। সেখানে গিয়ে বেগম জিয়া রাজনীতি করতে পারেন। যেটি এখন করছেন তারেক রহমান।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকে তার বিদেশে যাওয়ার অজুহাত বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করার সময় এ মন্তব্য করেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকে একটি অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে বিদেশ পাঠিয়ে দিতে চায় বিএনপি। সেখানে গিয়ে বেগম জিয়া রাজনীতি করতে পারেন। যেটি এখন করছেন তারেক রহমান।’

খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত এবং তার সাজা মওকুফ হয়নি উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল যে ভাষায় কথা বলেছেন, তাতে মনে হয়েছে বেগম জিয়ার প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে মহানুভবতা দেখিয়েছেন তা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।’

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিমানে কক্সবাজার পৌঁছান আওয়ামী লীগের এ নেতা। সন্ধ্যায় কক্সবাজারের ইনানীর একটি অভিজাত হোটেলে জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন হাছান মাহমুদ।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল
মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল
সাম্প্রদায়িক হামলায় সরকারি মদদ: ফখরুল
সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়: ফখরুল
আসুন গণ-আন্দোলন সৃষ্টি করি: ফখরুল

শেয়ার করুন

‘জাহাঙ্গীরের বাড়ির ভিড়’ এখন কিরণের বাড়িতে

‘জাহাঙ্গীরের বাড়ির ভিড়’ এখন কিরণের বাড়িতে

আসাদুর রহমান কিরণ ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে টঙ্গীতে তার বাড়িতে নেতা-কর্মীদের ভিড় বেড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

বৃহস্পতিবার বিকেলে যখন জাহাঙ্গীরকে মেয়র পদ থেকে বরখাস্তের আর কিরণকে এক নম্বরে রেখে প্যানেল মেয়র গঠনের সিদ্ধান্ত আসে, তখন কিরণ ঢাকার সচিবালয়ে। তিনি এলাকায় ফেরার আগে আগে তার নিজ এলাকা টঙ্গীতে শুরু হয়ে যায় আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ। টঙ্গীতে বাসভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন নেতা-কর্মীরা।

আওয়ামী লীগে দলীয় পদের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ হারানোর পর জাহাঙ্গীর আলম এখন অনেকটাই একা। দীর্ঘ বছরের সঙ্গীরা এড়িয়ে চলছেন; বছরের পর বছর ধরে গমগম করা বাড়ি এখন খাঁ খাঁ।

অন্যদিকে জাহাঙ্গীরের পতনের পর ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পাওয়া প্যানেল মেয়র আসাদুর রহমান কিরণের বাড়ি এখন লোকে লোকারণ্য।

কাউন্সিলর কিরণ সিটি করপোরেশনের আগের মেয়াদেও আড়াই বছরের মতো মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১৩ সালে বিএনপির মেয়র এম এ মান্নান ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর তখনও দায়িত্বভার এসে পড়ে কিরণের হাতে। এবারও তাই হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে যখন জাহাঙ্গীরকে মেয়র পদ থেকে বরখাস্তের আর কিরণকে এক নম্বরে রেখে প্যানেল মেয়র গঠনের সিদ্ধান্ত আসে, তখন কিরণ ঢাকার সচিবালয়ে। তিনি এলাকায় ফেরার আগে আগে তার নিজ এলাকা টঙ্গীতে শুরু হয়ে যায় আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ। টঙ্গীতে বাসভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন নেতা-কর্মীরা।

ঢাকঢোল পিটিয়ে নেচে-গেয়ে, আতশবাজি ফুটিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন কিরণের সমর্থকরা। আর এর বৃহৎ একটি অংশ জাহাঙ্গীরবিরোধী।

পুরো বিপরীত চিত্র জাহাঙ্গীরের হারিক্যান ছয়দানা এলাকার বাড়িতে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যে বাড়িতে মানুষের ভিড় থাকত, সেই বাড়ি দেখা গেছে ফাঁকা।

গাজীপুরে বলাবলি হচ্ছে, জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ির ভিড় এখন কিরণের বাড়িতে।

‘জাহাঙ্গীরের বাড়ির ভিড়’ এখন কিরণের বাড়িতে
গাজীপুরের হারিক্যান ছয়দানা এলাকায় জাহাঙ্গীর আলমের বাসায় এখন চিরচেনা ভিড় নেই

রাত ১১টার দিকে বাসভবনে এসে পৌঁছান কিরণ। এ সময় মোটরসাইকেল বহর নিয়ে নেচে-গেয়ে ও আতশবাজি ফুটিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয় তাকে।

৪৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী খালেদুর রহমান রাসেল বলেন, ‘নগর পরিচালনায় অভিজ্ঞ আসাদুর রহমান কিরণকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র নির্বাচিত করায় গাজীপুরবাসী আনন্দিত। এর আগেও তিনি ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন, তাই তিনি জানেন কীভাবে নগর পরিচালনা করতে হয়।’

৫৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হোসেন বলেন, ‘টঙ্গী পৌরসভা থেকে অদ্যাবধি টানা পাঁচবার কাউন্সিলর হওয়ার গৌরব রয়েছে আসাদুর রহমান কিরণের৷ ২০১৩ সালের নির্বাচনের পর বিএনপির মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানের অবর্তমানে ২৭ মাস ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি নগরীর রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তাকে দায়িত্ব দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নকাজ আরও তরান্বিত হবে।’

‘জাহাঙ্গীরের বাড়ির ভিড়’ এখন কিরণের বাড়িতে
কিরণ গভীর রাতে এলাকায় যাওয়ার সময়ও শত শত কর্মী তার পক্ষে মিছিল করে

দ্বিতীয়বার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পেয়ে কিরণ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করছি। গত মেয়াদে প্রায় ২৭ মাস ১৩ দিন ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছি। আমার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি জানি কীভাবে দল ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার এক মাসের মধ্যে গাজীপুর সিটির যে বেহাল দশা রয়েছে, সেটি দলীয় নেতা-কর্মী ও কাউন্সিলরদের নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করব।’

রাস্তা প্রশস্তকরণে যারা জমি দিয়েছেন অথচ ক্ষতিপূরণ পাননি তাদের বিষয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার কথাও বলেন তিনি।

নেতা-কর্মীদের নিয়ে রাত ১২টার দিকে টঙ্গী বাজার এলাকায় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানের বাসায় যান আসাদুর রহমান কিরণ। সেখানে তিনি আজমত উল্লাহ খানের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে কুশল বিনিময় করেন।

ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান নগর পরিচালনায় কিরণকে সহযোগিতার অশ্বাস দেন। পরে তারা একে অপরকে মিষ্টিমুখও করান।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল
মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল
সাম্প্রদায়িক হামলায় সরকারি মদদ: ফখরুল
সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়: ফখরুল
আসুন গণ-আন্দোলন সৃষ্টি করি: ফখরুল

শেয়ার করুন

এবার ইউপি নির্বাচন বর্জনের হুমকি জাতীয় পার্টির

এবার ইউপি নির্বাচন বর্জনের হুমকি জাতীয় পার্টির

রংপুর পল্লী নিবাসে এরশাদের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। ছবি: নিউজবাংলা

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘আমি পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আপনার কর্মীদের বলেন, তাদের একটু নিয়ন্ত্রণ করেন। কারণ এভাবে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে বিএনপি নির্বাচনে আসে নাই, আগামীতে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাবে কি না তা নতুনভাবে চিন্তা করবে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধীনে ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। এবার নৌকার পক্ষে জোর করে ভোট নেয়ার অভিযোগ তুলে জাতীয় পার্টিও নির্বাচন বর্জন করতে পারে বলে হুমকি দিয়েছেন দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

রংপুর পল্লী নিবাসে এরশাদের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে এ কথা বলেন তিনি।

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘আমি পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আপনার কর্মীদের বলেন, তাদের একটু নিয়ন্ত্রণ করেন। কারণ এভাবে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে বিএনপি নির্বাচনে আসে নাই, আগামীতে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাবে কি না তা নতুনভাবে চিন্তা করবে।

‘এই নির্বাচনে এমন অবস্থা হয়েছে যে, যারা সরকারি দলের নৌকা মার্কার প্রার্থী তারা জোর করে ভোট নিবেন, এই কষ্টটা করতে চান না। তারা চান, তাদের বিরুদ্ধে যে লাঙ্গলের প্রার্থী আছে তারা যেন উইথড্র করে, তাহলে তারা বিনা কনটেস্টে বিজয়ী হবে।’

বিএনপি নেতা খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। জাপা মহাসচিব বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে সরকার মেরে ফেলতে চাইছে কি না, সেটা বিএনপি জানে আর সরকার জানে। আমরা বলতে পারব না।

‘আমরা বলতে পারি, মানবিক কারণে সরকার তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে দিতে পারে, সেটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। বাট তাকে মেরে ফেলা বা ষড়যন্ত্র করা, এটা বলতে পারব না। এটা বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নিজস্ব বিষয়।’

কার্যকর বিরোধী দলের বিষয়ে চুন্নু বলেন, ‘মানুষের মধ্যে একটা পারসেপশন আছে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো, কারণ কয়েকটা নির্বাচন আমরা একসঙ্গে করেছিলাম।

‘তবে আমরা সংসদে সরকারের ভুলত্রুটি নিয়ে কথা বলছি। সমালোচনা করছি। সরকার যখন আমাদের কথা শুনবে না বা শুনছে না তখন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় আন্দোলনে নামা হবে।’

এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, এস এম ইয়াসিরসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল
মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল
সাম্প্রদায়িক হামলায় সরকারি মদদ: ফখরুল
সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়: ফখরুল
আসুন গণ-আন্দোলন সৃষ্টি করি: ফখরুল

শেয়ার করুন

এবার আ.লীগ থেকে মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি

এবার আ.লীগ থেকে মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী। ছবি: সংগৃহীত

জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী কমিটির সদস্যপদ থেকে মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি দিয়ে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার মেয়র আব্বাসকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলা রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে এবার জেলা আওয়ামী লীগের সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী কমিটির সদস্যপদ থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়ে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভা শেষে এ কথা জানান সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুুদ দারা।

এর আগে গত বুধবার মেয়র আব্বাসকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

আব্বাস আলী রাজশাহীর কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে তিনি প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন।

ঘরোয়া একটি আলোচনায় মেয়র আব্বাস বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের বিরোধিতা করে কথা বলেন। গত সোমবার এই আলোচনার অডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের বক্তব্য শোনা যাচ্ছে, তিনি একজনকে বলছেন, ‘সিটি গেট আমার অংশে। … ফ্রার্মকে দিয়েছে তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে; ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা। কিন্তু একটু থেমে গেছি, গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে… যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর সেটা ইসলামি শরিয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না (রাখব না), সব করব তবে শেষ মাথাতে যেটা… ওটা (ম্যুরাল)।’

মেয়র আব্বাস আলী বলছেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, ম্যুরালটা ঠিক হবে না দিলে। আমার পাপ হবে; তো কেন দিব, দিব না। আমি তো কানা না, যেভাবে বুঝাইছে তাতে আমার মনে হয়েছে, ম্যুরালটা হলে আমার ভুল করা হবে।

‘এ খবরটা যদি যায় তাহলে আমার রাজনীতির বারোটা বাজবে যে এই ম্যুরাল দিছে না। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে গিয়ে… আল্লাহকে নারাজ করব নাকি। এ জন্য কিছু করার নাই। মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা যাবে না।’

এই বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে শুক্রবার বিকালে ফেসবুক লাইভে মেয়র আব্বাস বলেন, ‘আমি তো মানুষ। আমি তো ভুল করতেই পারি। তার জন্য ক্ষমা চাই। তারপরও মনঃপূত না হলে বহিষ্কার করবেন, আমার নামে মামলা দিবেন যতটুকু ভুল করেছি, তার জন্য, কিন্তু একের পর এক অত্যাচার জুলুম। আমার অসুস্থ মা তিন-চার দিন না খেয়ে আছে...

‘... আমি কী এত বড় অন্যায় করেছি? অন্যায় করলে তো আইন আছে। এভাবে এতকিছু করা কী ঠিক?... আমাকে বলা হচ্ছে, আমি দলের অনুপ্রবেশকারী। আমি যদি আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য কোনো দল জীবনে থাকি তাহলে সব শাস্তি মাথা পেত নেব... কেউ প্রমাণ করতে পারলে সুইসাইড করব।’

আরও পড়ুন:
আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল
মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল
সাম্প্রদায়িক হামলায় সরকারি মদদ: ফখরুল
সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়: ফখরুল
আসুন গণ-আন্দোলন সৃষ্টি করি: ফখরুল

শেয়ার করুন

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: লাইভে ক্ষমা চাইলেন মেয়র আব্বাস

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: লাইভে ক্ষমা চাইলেন মেয়র আব্বাস

ফেসবুক লাইভে কাঁদলেন রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী। ছবি: নিউজবাংলা

মেয়র আব্বাস বলেন, ‘আমি ভুল করেছি, তার জন্য আইন আছে। আমি আজ কয়েক দিন ধরে না খেয়ে আছি। আমি অসুস্থ হয়ে গেছি। আমাকে হেল্প করুন। আমাকে বাঁচান প্লিজ।’

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলা ভুল ছিল জানিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন রাজশাহীর কাটাখালীর পৌর মেয়র আব্বাস আলী।

ফেসবুকে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে লাইভে এসে তিনি তার ভাইরাল হওয়া অডিও রেকর্ডের বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষমা চান। লাইভে তাকে কাঁদতেও দেখা গেছে।

তিনি বলেন, ‘ম্যুরাল নিয়ে ছড়ানো অডিওটা একটি ঘরোয়া আড্ডার। সেখানে আমি গল্পে কিছু কথা বলেছি, কিন্তু বাস্তবে আমি ম্যুরালের বিরোধিতা করিনি... এটি আমি ভুল করে থাকতে পারি। মানুষই তো ভুল করে। এ জন্য আমি ক্ষমা চাই, কিন্তু আমাকে এ জন্য যে শাস্তি দেয়া হচ্ছে তা অনেক বেশি।’

গত ২৩ নভেম্বর থেকে মেয়র আব্বাসের একটি অডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। তাতে আব্বাসকে বলতে শোনা যায়, ‘সিটি গেট আমার অংশে…ফ্রার্মকে দিয়েছে তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে; ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা, কিন্তু একটু থেমে গেছি, গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে…যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর, সেটা ইসলামি শরিয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না (রাখব না), সব করব, তবে শেষ মাথাতে যেটা…ওটা (ম্যুরাল)।’

এটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে শুরু হয় সমালোচনা। ২৩ নভেম্বর রাতে এক ফেসবুক পোস্টে আব্বাস দাবি করেন, ওই অডিও এডিট করা।

মেয়র আব্বাসকে বুধবার দুপুরে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার তার ওপর অনাস্থা জানান পৌরসভার সব কাউন্সিলর।

তাকে আওয়ামী লীগের পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে আজীবন বহিষ্কারের দাবিতে শুক্রবার দিনভর রাজশাহী নগরীতে চলে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ-সমাবেশ।

ওই অডিও রেকর্ডের বক্তব্যের বিষয়ে লাইভে আব্বাস বলেন, ‘ম্যুরাল নিয়ে আমার কিছু কথা এখানে বলার আছে। কাটাখালীতে দুটি গেট করার জন্য আমি ভিডিও আপলোড দিয়েছিলাম। সবার মতামত চেয়েছিলাম। এখানে যে বিচ্যুতিটা আমার ঘটেছে, যে জিনিসটা নিয়ে কথা হচ্ছে। আমি একটা মানুষ, একটা দল করি, কিন্তু আমি মুসলমান। আমাদের এখানে একটা মাদ্রাসা আছে।

‘ম্যুরালের বক্তব্যটা নিয়ে যে কথা আসছে, ওই মাদ্রাসার যে বড় হুজুর, মাঝেমধ্যেই জানাজা বা অনুষ্ঠানের কারণে আমার যাওয়া হয়...মানুষটা বড় হুজুর, জামাল উদ্দিন মাহমুদ সন্দিপি... আমি মাদ্রাসায় বসেছি, কথা তুলতে তুলতে ভিডিওটা তো দেখলাম, ম্যুরালটার বিষয়ে কোনো চেঞ্জ আনা যায় না? কী সমস্যা? উনি ব্যাখা দিলেন। বোঝালেন। আমি শুনেছি। আমি তো মানুষ, আমি তো একটা মুসলমান। আল্লার কথায় আসলে কে না দুর্বল হয়। আমিও একটু দুর্বল হলাম। আমি সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করিনি। বলেছি, আমি ম্যুরালটা করলে ইসলামে ঠিক হবে না। এটা পাপ হবে। আড্ডার মধ্যে অনেক গল্পই তো করে। আমিও হয়তো করেছি। হয়তো ভুল করেছি, কত বড় ভুল করেছি?’

আব্বাস দাবি করেন, ওই অডিও ভাইরালের জেরে দল থেকে অব্যাহতি দেয়ার পর কাউন্সিলরদের হুমকি দিয়ে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা জানাতে বাধ্য করা হয়। তার কাটাখালীর দোকানে হামলা হয়। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানাননি, কার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করছেন।

আব্বাস বলেন, ‘আমি তো মানুষ। আমি তো ভুল করতেই পারি। তার জন্য ক্ষমা চাই। তারপরও মনঃপূত না হলে বহিষ্কার করবেন, আমার নামে মামলা দিবেন যতটুকু ভুল করেছি, তার জন্য, কিন্তু একের পর এক অত্যাচার জুলুম। আমার অসুস্থ মা তিন-চার দিন না খেয়ে আছে...

‘... আমি কী এত বড় অন্যায় করেছি? অন্যায় করলে তো আইন আছে। এভাবে এত কিছু করা ক ঠিক?... আমাকে বলা হচ্ছে, আমি দলের অনুপ্রবেশকারী। আমি যদি আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য কোনো দল জীবনে থাকি তাহলে সব শাস্তি মাথা পেত নেব... কেউ প্রমাণ করতে পারলে সুইসাইড করব।’

লাইভে তিনি সবার কাছে সাহায্য চেয়ে বলেছেন, ‘... যদি আমি মনে করেন, বড় অন্যায় করেছি, আমার পাশে দাঁড়ানোর দরকার নাই। যদি অন্যায় না হয় আমার পাশে দাঁড়ান, অনেক সহযোগিতা চাই। আমার অসহায় মাকে দেখতে দিন। কয়দিন আগে চিকিৎসা করিয়ে এসেছি। চার মাসের বাচ্চার কাছে যেতে চাই। আমার পাশে একটু দাঁড়ান প্লিজ। আল্লার ওয়াস্তে দাঁড়ান।

‘আমি ভুল করেছি, তার জন্য আইন আছে। আমি আজ কয়েক দিন ধরে না খেয়ে আছি। আমি অসুস্থ হয়ে গেছি। আমাকে হেল্প করুন। আমাকে বাঁচান প্লিজ।’

ভাইরাল ওই অডিও রেকর্ডের জেরে মেয়র আব্বাসের নামে গত বৃহস্পতিবার রাতে বোয়ালিয়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়।

এর আগে দলীয় কার্যালয়ে পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের জরুরি বৈঠকে বুধবার দুপুরে আব্বাসকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে কেন দলীয় সদস্যপদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হবে না, জানতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

আব্বাস আলী রাজশাহীর কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে তিনি প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল
মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল
সাম্প্রদায়িক হামলায় সরকারি মদদ: ফখরুল
সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়: ফখরুল
আসুন গণ-আন্দোলন সৃষ্টি করি: ফখরুল

শেয়ার করুন