মিতু হত্যা: আদালতে বাবুল আকতার

player
মিতু হত্যা: আদালতে বাবুল আকতার

চট্টগ্রাম আদালতে মিতু হত্যার প্রধান আসামি সাবেক এসপি বাবুল আকতার। ছবি: নিউজবাংলা

প্রথম মামলার সংস্থা পিবিআইয়ের দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে গত ১৪ অক্টোবর নারাজির আবেদন করেন বাবুলের আইনজীবী। আদালত আবেদনটির শুনানির তারিখ ২৭ অক্টোবর নির্ধারণ করেন। এই শুনানিতে অংশ নিতে বাবুলের আইনজীবীর করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যার প্রথম মামলার বাদী হিসেবে নারাজির শুনানিতে অংশ নিতে আদালতে নেয়া হয়েছে মিতুর স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আকতারকে।

কড়া নিরাপত্তায় পুলিশের একটি দল বুধবার সকাল ১১টার দিকে তাকে নিয়ে চট্টগ্রাম আদালতে পৌঁছায়।

বাবুল আকতার মিতু হত্যার নতুন মামলার প্রধান আসামি।

প্রথম মামলায় তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে গত ১৪ অক্টোবর নারাজির আবেদন করেন বাবুলের আইনজীবী। আদালত আবেদনটির শুনানির তারিখ ২৭ অক্টোবর নির্ধারণ করেন।

এই শুনানিতে অংশ নিতে বাবুলের আইনজীবীর করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

পাঁচলাইশ থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) শাহীন ভূঁইয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মহানগর হাকিম মেহনাজ রহমানের আদালতে এই শুনানি হবে।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হওয়ার পর চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মাহমুদা খানম মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আকতার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

শুরুতে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলার তদন্তভার পিবিআইকে দেয়।

বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ এই হত্যার জন্য বাবুলকে দায়ী করে আসছিলেন।

মামলার তদন্তে হত্যাকাণ্ডে বাবুলের সম্পৃক্ততা পায় তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা। চলতি বছরের ১২ মে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন তিনি। একই দিন বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্ত্রী মিতুকে হত্যার অভিযোগে বাবুলকে আসামি করে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করা হয়।

মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের করা সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ওই দিনই বাবুলকে আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

১৬ মে আগের মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা।

রিমান্ড শেষ হওয়ার পর থেকে ফেনীর কারাগারে আছেন বাবুল।

আরও পড়ুন:
মিতু হত্যা: ভোলার জামিন নাকচ
ভোলার জবানবন্দিতে মিতু হত্যায় বাবুল আকতারের সংশ্লিষ্টতা
মিতু হত্যার ৫ বছর পর আসামি ভোলা গ্রেপ্তার 
মিতু হত্যা: ভোলার জামিন নাকচ, পরোয়ানা জারি
মিতু হত্যা: জামিন পাননি সাকু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘প্রয়োজনে সব শিক্ষার্থী অনশন করব’

‘প্রয়োজনে সব শিক্ষার্থী অনশন করব’

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অন্যতম মুখপাত্র মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘উপাচার্যের কাছে আমাদের জীবনের চেয়ে চেয়ারের মূল্য বেশি। এই অযোগ্য উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী অনশনে বসব। তবু আমরা আমাদের দাবি আদায় করে ছাড়ব।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা সাত দিন ধরে আমরণ অনশন করছেন। ২৮ ঘণ্টার জন্য তারা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বাসভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন রাখেন। তবে পদত্যাগের বিষয়ে কিছু জানাননি ফরিদ।

প্রয়োজনে এবার সব শিক্ষার্থী অনশন করবেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তবুও তারা দাবি আদায় করে ছাড়বেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অন্যতম মুখপাত্র মোহাইমিনুল বাশার রাজ মঙ্গলবার সকালে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ অহিংস পন্থায় আন্দোলন করছি। অহিংস আন্দোলনের সর্বোচ্চ ধাপ হচ্ছে অনশন। আমরা সাত দিন ধরে অনশন করছি তবুও উপাচার্য পদত্যাগ করছেন না। অনেকের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।

‘তার কাছে আমাদের জীবনের চেয়ে চেয়ারের মূল্য বেশি। এই অযোগ্য উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী অনশনে বসব। তবু আমরা আমাদের দাবি আদায় করে ছাড়ব।’

নাঈম আহমদ নামের এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে একটি মেডিক্যাল টিম চিকিৎসা সহায়তা দিচ্ছিল। তারাও সোমবার চলে গেছে। চিকিৎসার অভাবে অনশনকারীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অনশনকারীদের মধ্যে ১৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকি ১০ জন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান করছেন।

প্রেক্ষাপট

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শুরু ১৩ জানুয়ারি। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী।

১৬ জানুয়ারি বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে মুক্ত করে পুলিশ।

এরপর পুলিশ ৩০০ জনকে আসামি করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন নামেন।

বাসভবনের সামনে অবস্থানের কারণে গত ১৭ জানুয়ারি থেকেই অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

১৯ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশনে বসেন ২৪ শিক্ষার্থী।

তাদের মধ্যে একজনের বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি অনশন শুরুর পরদিনই বাড়ি চলে যান। বাকি ২৩ অনশনকারীর মধ্যে ১৬ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ২৩ জানুয়ারি আরও চারজন শিক্ষার্থী অনশনে যোগ দেন।

এর মাঝে উপাচার্য ইস্যুতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ২২ জানুয়ারি গভীর রাতে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। বৈঠকে উপাচার্যের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও দাবিগুলো লিখিতভাবে জমা দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

তবে বৈঠকের পর শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের মূল দাবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ। এই দাবি না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরবেন না।

২৩ জানুয়ারি দুপুরের পর শিক্ষার্থীদের আবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে তা না হওয়ায় তারা উপাচার্যকে অবরুদ্ধের ঘোষণা দেন।

ওই দিন রাত ৮টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ২৮ ঘণ্টা পর সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করেন তারা।

আরও পড়ুন:
মিতু হত্যা: ভোলার জামিন নাকচ
ভোলার জবানবন্দিতে মিতু হত্যায় বাবুল আকতারের সংশ্লিষ্টতা
মিতু হত্যার ৫ বছর পর আসামি ভোলা গ্রেপ্তার 
মিতু হত্যা: ভোলার জামিন নাকচ, পরোয়ানা জারি
মিতু হত্যা: জামিন পাননি সাকু

শেয়ার করুন

প্রতিবাদের ঢেউয়ে শাবিতে ফিরেছে পেইন্টিং, দেয়াল লিখন

প্রতিবাদের ঢেউয়ে শাবিতে ফিরেছে পেইন্টিং, দেয়াল লিখন

সাদিয়া ইসলাম বলেন, ‘আমরা আগে যে কোনো উপলক্ষে ক্যাম্পাসের সড়কে আলপনা আঁকতাম। এই উপাচার্য তা বন্ধ করে দিয়েছেন... সড়কে ও দেয়ালে আঁকাআঁকির মাধ্যমে আমরা এসবেরও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের ওপর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ অনেকদিনের। তাদের নানা অভিযোগের মধ্যে একটি হলো, উপাচার্য ক্যাম্পাসের রাস্তায় পেইন্টিং ও দেয়াল লিখন নিষিদ্ধ করেছেন।

এবার উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে সেই ক্ষোভ দেয়াল লিখন ও পেইন্টিংয়ের মধ্য দিয়েই ফুটিয়ে তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

উপাচার্য ভবনের দেয়ালে তারা লিখেছেন, ‘নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ভিসি পদ ফাঁকা রয়েছে’। আর মুক্তমঞ্চের দেয়ালে টাঙানো ব্যানারে লেখা, ‘হীরক ভিসির শেষে।’

প্রতিবাদের ঢেউয়ে শাবিতে ফিরেছে পেইন্টিং, দেয়াল লিখন

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের এমন নানা পংক্তি ও উপাচার্যের ব্যাঙ্গচিত্র দেখা গেছে ক্যাম্পাসের দেয়ালে দেয়ালে।

শুধু উপাচার্যই নয়, এক শিক্ষকের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদও দেখা গেছে দেয়ালে। কোথাও লেখা, ‘চাষাভূষার এই ক্যাম্পাসে আর কত?’, কোথাও লেখা, ‘আমরা সবাই সাস্টিয়ান, চাষাভূষার সন্তান’।

প্রতিবাদের ঢেউয়ে শাবিতে ফিরেছে পেইন্টিং, দেয়াল লিখন

পুলিশি হামলার প্রতিবাদে এক দেয়ালে লেখা হয়েছে, ‘ফুলের বিরুদ্ধে বুলেট হলে বুলেটের বিরুদ্ধে কী?’

আন্দোলনকারী সামিউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ অহিংস পন্থায় আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। অনশন-অবস্থানের মাধ্যমে আমাদের দাবি জানাচ্ছি।

‘প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আমরা দেয়াল লিখন ও ব্যাঙ্গচিত্র আঁকছি। সড়কে উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে স্লোগান লিখছি। সব মিলিয়ে দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ উপায়ে যতকিছু করা যায় সবকিছু করছি আমরা। পুরো ক্যাম্পাসে ফরিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে আমাদের ক্ষোভ ছড়িয়ে দিতে চাই।’

প্রতিবাদের ঢেউয়ে শাবিতে ফিরেছে পেইন্টিং, দেয়াল লিখন

আন্দোলনরত সাদিয়া ইসলাম বলেন, ‘আমরা আগে যে কোনো উপলক্ষে ক্যাম্পাসের সড়কে আলপনা আঁকতাম। এই উপাচার্য তা বন্ধ করে দিয়েছেন। সব ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন। সড়কে ও দেয়ালে আঁকাআঁকির মাধ্যমে আমরা এসবেরও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

তবে এই দেয়াল লিখনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নাখোশ।

প্রতিবাদের ঢেউয়ে শাবিতে ফিরেছে পেইন্টিং, দেয়াল লিখন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ থেকে যে আন্দোলন করছেন তাতে আমার দ্বিমত নেই। তবে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো দেয়াল নষ্ট করে ফেলছেন। এই আন্দোলনের পর যিনিই উপাচার্য থাকুন না কেন, সবগুলো দেয়াল আবার নতুন করে রং করাতে হবে।’

প্রতিবাদের ঢেউয়ে শাবিতে ফিরেছে পেইন্টিং, দেয়াল লিখন

এদিকে, উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার রাতেও ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।

পদত্যাগের দাবিতে ষষ্ঠ দিনের মতো অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

অনশনে অংশ নেয়া ২৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০ জনই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ৮ জন উপাচার্য ভবনের সামনে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের অবস্থাও অবনতির দিকে। তবুও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় তারা।

শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম অপুর্ব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এতগুলো শিক্ষার্থীর জীবন সংকটাপন্ন, তবুও উপাচার্য তার চেয়ার আঁকড়ে ধরে আছেন। সবার জীবনের চাইতে তার কাছে চেয়ারের গুরুত্ব বেশি। আমরাও তার পদত্যাগের আগ পর্যন্ত অনশন থেকে উঠব না।’

আরও পড়ুন:
মিতু হত্যা: ভোলার জামিন নাকচ
ভোলার জবানবন্দিতে মিতু হত্যায় বাবুল আকতারের সংশ্লিষ্টতা
মিতু হত্যার ৫ বছর পর আসামি ভোলা গ্রেপ্তার 
মিতু হত্যা: ভোলার জামিন নাকচ, পরোয়ানা জারি
মিতু হত্যা: জামিন পাননি সাকু

শেয়ার করুন

শাবিতে আন্দোলনকারীদের বিকাশ অ্যাকাউন্ট ‘ব্লকড’

শাবিতে আন্দোলনকারীদের বিকাশ অ্যাকাউন্ট ‘ব্লকড’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র সাদিয়া আফরিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের আর্থিক লেনদেনের সবগুলো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এগুলো আমাদের আন্দোলন নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র বলে মনে করি। তবে এসব করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।’

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারীদের ৩টি বিকাশ অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ওই অ্যাকাউন্টে খাবার ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা আর্থিক সহায়তা পাঠাতেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

তাদের ফেসবুক পেজ থেকে সোমবার এই অভিযোগ তোলা হয়। তাতে বলা হয়, ‘সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি, আন্দোলনকারীদের খাবার ও চিকিৎসার জন্য যেসব ভাই-আপুরা অর্থসহায়তা পাঠাচ্ছিলেন সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এখন থেকে এসব অ্যাকাউন্টে কেউ টাকা পাঠাবেন না।’

আন্দোলনকারী দুই শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইস্টার্ন ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্ট, ৩টি বিকাশ অ্যাকাউন্ট, একটি রকেট ও একটি নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই অর্থসহায়তা আসছিল। প্রতিদিন লাখ দুয়েক টাকার মতো আসত। তা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থীর খাবারসহ আন্দোলনের সব খরচ করা হতো।

তাদের অভিযোগ, সোমবার থেকে অ্যাকাউন্টগুলোতে কোনো লেনদেন করা যাচ্ছে না। সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তারা প্রাথমিকভাবে বিকাশের কল সেন্টারে যোগাযোগ করলেও কোনো সদুত্তর পাননি।

আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র সাদিয়া আফরিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের আর্থিক লেনদেনের সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এগুলো আমাদের আন্দোলন নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র বলে মনে করি। তবে এসব করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।’

শাবিতে আন্দোলনকারীদের বিকাশ অ্যাকাউন্ট ‘ব্লকড’

এ ব্যাপারে বিকাশ সিলেটের ডিস্ট্রিবিউটর নাসিম হোসাইন বলেন, ‘অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে বিকাশে লেনদেনের কিছু নিয়ম আছে। ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা ও ব্যবসয়িক অ্যাকাউন্ট থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যায়। এর বেশি হলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’

এ ব্যাপারে কিছু জানা নেই বলে দাবি করেছেন বিকাশের বিভাগীয় বিপণন কর্মকর্তা এহসান আহমদ।

তিনি বলেন, ‘কোনো নাম্বারের লেনদেনের ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করলে আমরা কিছুক্ষণের জন্য ওই নাম্বারটি বন্ধ রাখি। তবে শাবির কারও নাম্বার বন্ধ রাখা হয়েছে কি না আমার জানা নেই।’

বিকাশের হেড অফ করপোরেট কমিউনিকেশনস শামসুদ্দিন হায়দার ডালিমও নিউজবাংলাকে জানান, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তিনি পাননি।

আরও পড়ুন:
মিতু হত্যা: ভোলার জামিন নাকচ
ভোলার জবানবন্দিতে মিতু হত্যায় বাবুল আকতারের সংশ্লিষ্টতা
মিতু হত্যার ৫ বছর পর আসামি ভোলা গ্রেপ্তার 
মিতু হত্যা: ভোলার জামিন নাকচ, পরোয়ানা জারি
মিতু হত্যা: জামিন পাননি সাকু

শেয়ার করুন

শাবি উপাচার্যকে খাবার দিতে গিয়ে ফিরে এলেন প্রক্টর

শাবি উপাচার্যকে খাবার দিতে গিয়ে ফিরে এলেন প্রক্টর

খাবারের প্যাকেট হাতে ভিসির বাসভবনের সামনে শাবি শিক্ষকরা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রক্টর আলমগীর কবীর বলেন, ‘উপাচার্য বিদ্যুৎ ও পানিবিহীন অবস্থায় আছেন। তিনি অসুস্থ। আমরা মানবিক দায়িত্ব থেকে তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। শিক্ষার্থীদের জন্যও আমরা খাবার নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু শিক্ষার্থীরা আমাদের অনুরোধ রাখেনি। ফলে আমরা ভেতরে ঢুকতে পারিনি।’

নিজ বাসায় অবরুদ্ধ উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের জন্য খাবার নিয়ে গিয়েও ফিরে আসতে হলো প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবীরকে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাকে উপাচার্যের বাসায় ঢুকতে দেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের নেতৃত্বে সোমবার সন্ধ্যায় কয়েকজন শিক্ষক খাবার নিয়ে আসেন।

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বাসভবনে রোববার সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন শিক্ষার্থীরা। অবশ্য পরে বিকল্প ব্যবস্থায় তার বাসায় বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা করা হয়।

প্রক্টর উপাচার্যের জন্য খাবার নিয়ে এসেছেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে জড়ো হন। এ সময় উপাচার্য ভবনের সামনের ফটকে শুয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের বাধায় উপাচার্যের বাসায় যেতে না পেরে ফটকের সামনেই প্রক্টর আলমগীর কবীর বলেন, ‘উপাচার্য বিদ্যুৎ ও পানিবিহীন অবস্থায় আছেন। তিনি অসুস্থ। আমরা মানবিক দায়িত্ব থেকে তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। শিক্ষার্থীদের জন্যও আমরা খাবার নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু শিক্ষার্থীরা আমাদের অনুরোধ রাখেনি। ফলে আমরা ভেতরে ঢুকতে পারিনি।’

শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার বলেন, ‘আমরা এতদিন ধরে অনশন করছি, অনেকে মৃত্যুপথযাত্রী। অথচ স্যারেরা আমাদের কথা না ভেবে উপাচার্যের জন্য খাবার নিয়ে এসেছেন। এতে বোঝা যায় শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের কোনো দরদ নেই।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা অনশন করছে। তাদের জন্য আমাদের খারাপ লাগছে। তাদের সমবেদনা জানাতেও এসেছি। তাদের যে দাবি সেটি সম্পূর্ণ সরকারের বিবেচনার বিষয়। কোনো দাবি আদায়ের জন্য কারো খাবার, পানি ও বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয়া অনুচিত।’

এ ব্যাপারে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার বলেন, ‘আমরা এতদিন ধরে অনশন করছি, অনেকে মৃত্যুপথযাত্রী। অথচ স্যারেরা আমাদের কথা না ভেবে উপাচার্যের জন্য খাবার নিয়ে এসেছেন। এতে বোঝা যায় শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের কোনো দরদ নেই।’

এর আগে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের জন্য খাবার নিয়ে এসেছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের দুই কাউন্সিলর।

তারাও শিক্ষার্থীদের আপত্তির মুখে উপাচার্যকে খাবার পৌঁছে দিতে পারেননি। একই সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের জন্যও খাবার নিয়ে এসেছিলেন এই দুই কাউন্সিলর। তবে এই খাবারও গ্রহণ করেননি শিক্ষার্থীরা।

উপাচার্য ও শিক্ষার্থীদের জন্য সোমবার বেলা ২টার দিক খাবার নিয়ে আসেন সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মখলিসুর রহমান কামরান ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইলিয়াসুর রহমান। করপোরেশনের এই দুই ওয়ার্ডের পাশেই শাবি ক্যাম্পাস।

শাবিতে এসে মখলিসুর রহমান কামরান ও ইলিয়াসুর রহমান ৫ প্যাকেট খাবার নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে শিক্ষার্থীরা তাদের উপাচার্য ভবনে প্রবেশ করতে দেননি।

এরপর তারা দুজন অনশনস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের জন্য আনা খাবার গ্রহণের অনুরোধ জানান। তবে আন্দোলনকারীরা এই খাবার গ্রহণ করেননি।

কাউন্সিলর মখলিসুর রহমান কামরান বলেন, ‘উপাচার্যের বাসায় বিদ্যুৎ সংযোগ কাল বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। তিনি কীভাবে আছেন তা দেখতে এসেছিলাম। তার জন্য কিছু খাবার নিয়ে এসেছিলাম। তবে শিক্ষার্থীরা আমাদেরকে বাসভবনের ভেতরে না যেতে অনুরোধ করেছেন।’

শাবি উপাচার্যকে খাবার দিতে গিয়ে ফিরে এলেন প্রক্টর

কামরান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্যও আমরা খাবার নিয়ে এসেছিলাম। তবে তারা নেননি।’

কাউন্সিলর ইলিয়াসুর রহমান বলেন, ‘যারা আন্দোলন করছেন তাদের জন্য খাবার নিয়ে এসেছিলাম। তবে তারা গ্রহণ করেননি। তারা অনুরোধ করে বলেন, সাবেক এবং বর্তমান শিক্ষার্থী ছাড়া কারও কোনো কিছু গ্রহণ করতে পারছি না।’

এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি করার ঘটনায় নিন্দা জানান কাউন্সিলররা।

অনশন করতে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া ২০ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সেখানে তাদের খাবার দেয়া হলেও তা গ্রহণ না করে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই খাবার পথশিশুদের মধ্যে বিতরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘১৩ জানুয়ারি থেকে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। ১৬ জানুয়ারি তাদের ওপর পুলিশ হামলা করে। এর পর শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন।’

আন্দোলনে বহিরাগতরা আছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে সে প্রসঙ্গে তারা বলেন, ‘এটা শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। এর পরেও আমরা গেটে শিক্ষার্থী রেখেছি। পরিচয়পত্র দেখে ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেব।’

আরও পড়ুন:
মিতু হত্যা: ভোলার জামিন নাকচ
ভোলার জবানবন্দিতে মিতু হত্যায় বাবুল আকতারের সংশ্লিষ্টতা
মিতু হত্যার ৫ বছর পর আসামি ভোলা গ্রেপ্তার 
মিতু হত্যা: ভোলার জামিন নাকচ, পরোয়ানা জারি
মিতু হত্যা: জামিন পাননি সাকু

শেয়ার করুন

‘ধর্ষণ’: শিশুকে মাদ্রাসা থেকে বের করায় ক্ষমা প্রার্থনা

‘ধর্ষণ’: শিশুকে মাদ্রাসা থেকে বের করায় ক্ষমা প্রার্থনা

এই মাদ্রাসা থেকে ভর্তির তিন দিন পর বের করে দেয়া হয় ‘ধর্ষণের শিকার’ শিশুকে। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আমরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সোমবার সকালে কথা বলি। তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়েছেন। সেই সঙ্গে ওই ছাত্রীকে তারা সেখানে ভর্তি ও বিনা বেতনে পড়ানোর সুযোগ করে দিতে চেয়েছেন।’

রাজশাহী নগরীতে ‘ধর্ষণের শিকার’ হওয়ায় মাদ্রাসা থেকে শিশু শিক্ষার্থীকে বের করে দেয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটির কাছে ক্ষমা চেয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

তদন্ত কমিটির দায়িত্বে থাকা রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জয়া মারীয়া পেরেরা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন সোমবার সকালে ওই মাদ্রাসায় গেলে মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ তার ভুল শিকার করে ক্ষমা চান।

নিউজবাংলাকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আমরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সোমবার সকালে কথা বলি। তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়েছেন। সেই সঙ্গে ওই ছাত্রীকে তারা সেখানে ভর্তি ও বিনা বেতনে পড়ানোর সুযোগ করে দিতে চেয়েছেন।’

তবে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে এ মাদ্রাসায় আর পড়াবেন না বলে জানিয়েছেন তার মা।

নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা আজ (সোমবার) সেই মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম। মাদ্রাসার পরিচালক ক্ষমা চেয়েছেন। আমাদের মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তি করে সব খরচ তারাই দিতে চেয়েছিলেন। তবে মেয়েকে আমরা পাশের একটি সরকারি স্কুলে ভর্তি করেছি।’

‘তার পরও পেরেরা ম্যাডাম আমাকে ভেবে দেখতে বলেছেন। তিনি বলেছেন, আমি রাগের মাথায় আছি। আর একবার ভেবে দেখার জন্য। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি মেয়েকে এখানে আর পড়াব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আয়ার কাজ করি। বাসায় আসতে অনেক রাত হয়। এখানে মেয়েটা একটু নিরাপদে থাকার জন্যই দিয়েছিলাম। তারা যখন এমনটি করল, আমরা আর এখানে মেয়েকে পড়াব না।’

‘ধর্ষণের শিকার’ শিশুটি পড়ার সুযোগ পেল না মাদ্রাসাতেও শিরোনামে এ ঘটনার সংবাদ প্রথম প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

ওই শিশুটির বয়স ৮। দুই বছর আগে তাকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়। সেই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় প্রতিবেশী এক কিশোরকে, যে এখন আছে কারাগারে।

শিশুর মা নিউজবাংলাকে জানান, চলতি মাসের শুরুতে নগরীর হড়গ্রাম মুন্সিপাড়া এলাকার উম্মাহাতুল মুমিনীন মহিলা মাদ্রাসায় মেয়েকে ভর্তি করিয়েছিলেন। ভর্তির তিন দিন পরই শিশুটিকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়া হয়। ফেরত দেয়া হয় ভর্তি ও আবাসিকের জন্য জমা দেয়া টাকাও।

আরও পড়ুন:
মিতু হত্যা: ভোলার জামিন নাকচ
ভোলার জবানবন্দিতে মিতু হত্যায় বাবুল আকতারের সংশ্লিষ্টতা
মিতু হত্যার ৫ বছর পর আসামি ভোলা গ্রেপ্তার 
মিতু হত্যা: ভোলার জামিন নাকচ, পরোয়ানা জারি
মিতু হত্যা: জামিন পাননি সাকু

শেয়ার করুন

অবরুদ্ধ শাবি উপাচার্যের জন্য খাবার নিয়ে হাজির কাউন্সিলররা

অবরুদ্ধ শাবি উপাচার্যের জন্য খাবার নিয়ে হাজির কাউন্সিলররা

কাউন্সিলর মখলিসুর রহমান কামরান বলেন, ‘উপাচার্যের বাসায় বিদ্যুৎ সংযোগ কাল বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। তিনি কীভাবে আছেন তা দেখতে এসেছিলাম। তার জন্য কিছু খাবার নিয়ে এসেছিলাম। তবে শিক্ষার্থীরা আমাদেরকে বাসভবনের ভেতরে না যেতে অনুরোধ করেছেন।’

নিজ বাসায় অবরুদ্ধ থাকা সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের জন্য খাবার নিয়ে এসেছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের দুই কাউন্সিলর।

তবে শিক্ষার্থীদের আপত্তির কারণে উপাচার্যকে খাবার পৌঁছে দিতে পারেননি তারা। একই সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের জন্যও খাবার নিয়ে এসেছিলেন এই দুই কাউন্সিলর। তবে এই খাবারও গ্রহণ করেননি শিক্ষার্থীরা।

উপাচার্য ও শিক্ষার্থীদের জন্য সোমবার বেলা ২টার দিক খাবার নিয়ে আসেন সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মখলিসুর রহমান কামরান ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইলিয়াসুর রহমান। করপোরেশনের এই দুই ওয়ার্ডের পাশেই শাবি ক্যাম্পাস।

শাবিতে এসে মখলিসুর রহমান কামরান ও ইলিয়াসুর রহমান ৫ প্যাকেট খাবার নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে শিক্ষার্থীরা তাদের উপাচার্য ভবনে প্রবেশ করতে দেননি।

এরপর তারা দুজন অনশনস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের জন্য আনা খাবার গ্রহণের অনুরোধ জানান। তবে আন্দোলনকারীরা এই খাবার গ্রহণ করেননি।

কাউন্সিলর মখলিসুর রহমান কামরান বলেন, ‘উপাচার্যের বাসায় বিদ্যুৎ সংযোগ কাল বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। তিনি কীভাবে আছেন তা দেখতে এসেছিলাম। তার জন্য কিছু খাবার নিয়ে এসেছিলাম। তবে শিক্ষার্থীরা আমাদেরকে বাসভবনের ভেতরে না যেতে অনুরোধ করেছেন।’

কামরান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্যও আমরা খাবার নিয়ে এসেছিলাম। তবে তারা নেননি।’

কাউন্সিলর ইলিয়াসুর রহমান বলেন, ‘যারা আন্দোলন করছেন তাদের জন্য খাবার নিয়ে এসেছিলাম। তবে তারা গ্রহণ করেননি। তারা অনুরোধ করে বলেন, সাবেক এবং বর্তমান শিক্ষার্থী ছাড়া কারও কোনো কিছু গ্রহণ করতে পারছি না।’

অবরুদ্ধ শাবি উপাচার্যের জন্য খাবার নিয়ে হাজির কাউন্সিলররা


এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি করার ঘটনায় নিন্দা জানান কাউন্সিলররা।

অনশন করতে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া ২০ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সেখানে তাদের খাবার দেয়া হলেও তা গ্রহণ না করে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই খাবার পথশিশুদের মধ্যে বিতরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘১৩ জানুয়ারি থেকে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। ১৬ জানুয়ারি তাদের ওপর পুলিশ হামলা করে। এর পর শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন।’

আন্দোলনে বহিরাগতরা আছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে সে প্রসঙ্গে তারা বলেন, ‘এটা শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। এর পরেও আমরা গেটে শিক্ষার্থী রেখেছি। পরিচয়পত্র দেখে ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেব।’

আরও পড়ুন:
মিতু হত্যা: ভোলার জামিন নাকচ
ভোলার জবানবন্দিতে মিতু হত্যায় বাবুল আকতারের সংশ্লিষ্টতা
মিতু হত্যার ৫ বছর পর আসামি ভোলা গ্রেপ্তার 
মিতু হত্যা: ভোলার জামিন নাকচ, পরোয়ানা জারি
মিতু হত্যা: জামিন পাননি সাকু

শেয়ার করুন

জাবি ছাত্রীদের কাছে ক্ষমা চাইলেন শাবি ভিসি ফরিদ

জাবি ছাত্রীদের কাছে ক্ষমা চাইলেন শাবি ভিসি ফরিদ

শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আজ দুপুর ১২টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের কাছে ফোন করে ছাত্রীদের নিয়ে মন্তব্যের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন শাবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে তার আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার দুপুর ২টার দিকে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আজ দুপুর ১২টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের কাছে ফোন করে ছাত্রীদের নিয়ে মন্তব্যের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন শাবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘তার বক্তব্য সম্পাদনা (এডিট) করে ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে। এতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট সবাই আহত হয়েছেন।

‘তিনি এ বিষয়টি অনুধাবন করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উদার ও প্রগতিশীল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা তাকে ক্ষমা করে দেবেন।’

এর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ অস্বীকার করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

তার নামে ছড়িয়ে পড়া অডিওটিকে ‘বোগাস’ আখ্যায়িত করে উপাচার্যের দাবি, এ ধরনের কোনো মন্তব্য তিনি করেননি।

শাবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার থেকে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যেই অডিও ক্লিপটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

শাবি উপাচার্যের কথিত অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘যারা এই ধরনের দাবি (ছাত্রী হলে রাত ১০টা পর্যন্ত ঢোকার অনুমতি) তুলেছে, যে বিশ্ববিদ্যালয় সারা রাত খোলা রাখতে হবে, এইটা একটা জঘন্য রকম দাবি। আমরা মুখ দেখাইতে পারতাম না। এখানে আমাদের ছাত্রনেতা বলছে যে, জাহাঙ্গীরনগরের মেয়েদের সহজে কেউ বউ হিসেবে চায় না।

‘কারণ সারা রাত এরা ঘোরাফেরা করে। বাট আমি চাই না যে আমাদের যারা এত ভালো ভালো স্টুডেন্ট, যারা এত সুন্দর, এত সুন্দর ডিপার্টমেন্টগুলো, বিখ্যাত সব শিক্ষক... তারা যাদের গ্র্যাজুয়েট করবে, এ রকম একটা কালিমা লেপুক তাদের মধ্যে।’

শাবি উপাচার্যের এ ধরনের মন্তব্যে তৈরি হয়েছে নতুন ক্ষোভ। এর প্রতিবাদে সরব হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিও এই বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেয়।

যে বৈঠকে শাবি উপাচার্য এমন মন্তব্য করেন বলে দাবি করা হচ্ছে, সেটি কবে হয়েছে তা নিয়ে ভিন্ন মত থাকলেও বেশির ভাগ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, সেটি ২০২০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারির।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর দাবি, ছাত্রী হলের সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এক বৈঠকে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এমন কথা বলেন।

তারা জানান, বক্তব্যের সময় উপাচার্য যে ছাত্রনেতার বরাত দিয়েছেন তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তখনকার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমিন। তিনিও ওই বৈঠকে একই ধরনের মন্তব্য করেন।

সুলতানা ইয়াসমিন নামের এক ছাত্রী বলেন, ‘এটি উপাচার্যেরই কণ্ঠ। ছাত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে সেদিন তিনি এসব কথা বলেছিলেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার সামনেই উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও ছাত্রলীগ সভাপতি রুহুল আমিন এসব আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ছাত্রী হলের সান্ধ্য আইন বাতিলসহ কিছু দাবিদাওয়া নিয়ে তখন আন্দোলন করছিলাম আমরা। এই আন্দোলনের নাম ছিল ‘অর্বাচীন’।

‘এটা ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির দিকের ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের পরপরই। সমাবর্তন হয়েছিল ২০২০ সালের জানুয়ারিতে।”

ওমর ফারুক বলেন, ‘ওই আন্দোলনের পর উপাচার্য তার কক্ষে আমাদের বৈঠকে ডেকেছিলেন। বৈঠকে ছয়জন সাধারণ শিক্ষার্থী, ছয়জন ছাত্রলীগ নেতা ও ৩২ জন শিক্ষক ছিলেন। আলোচনার সময় উপাচার্য ও ছাত্রলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের নিয়ে এসব আপত্তিকর কথা বলেন। মেয়েদের রাতে বাইরে থাকা নিয়েও অনেক আপত্তিকর কথা বলেছিলেন তারা।’

ওই বৈঠকের পর ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন অনিরুদ্ধ অমিয় নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

স্ট্যাটাসে অনিরুদ্ধ লেখেন, ‘একজন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর যখন অন্য একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের নিয়ে খুবই অসংগতিপূর্ণ মন্তব্য করেন, তখন আসলে তার সঙ্গে আলোচনার জায়গাই থাকে না।

‘‘খুব স্পেসিফিক বললে ওনার বক্তব্য এ রকম ছিল- ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের কেউ বিয়ে করতে চায় না। আমি চাই না আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদেরও এই দশা হোক।’ ওনার আরেকটা বক্তব্য এমন ছিল- লাইব্রেরি খোলা রাখার মূল কারণ হচ্ছে, মেয়েদের রাতের বেলা বাইরে রাখা। এমন কথা শোনার পর লিটারেলি থ হয়ে গিয়েছিলাম।”

তবে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বৃহস্পতিবার বলেন, ‘এটা একদম বোগাস। আমি এ রকম কোনো কথা বলিনি। এগুলো কেউ এডিট করে প্রচার করতে পারে।’

আরও পড়ুন:
মিতু হত্যা: ভোলার জামিন নাকচ
ভোলার জবানবন্দিতে মিতু হত্যায় বাবুল আকতারের সংশ্লিষ্টতা
মিতু হত্যার ৫ বছর পর আসামি ভোলা গ্রেপ্তার 
মিতু হত্যা: ভোলার জামিন নাকচ, পরোয়ানা জারি
মিতু হত্যা: জামিন পাননি সাকু

শেয়ার করুন