‘রোহিঙ্গা ক্যাম্প উত্তপ্ত মাদক ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে’

‘রোহিঙ্গা ক্যাম্প উত্তপ্ত মাদক ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে’

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দিন দিন বাড়ছে খুন খারাবি। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পগুলোতে আরসার নামে কিছু যুবক ঘুরে বেড়ায়। আপনারা দেখেছেন মুহিবুল্লাহ দেশে ফিরে যেতে চেয়েছিল। তাকে হত্যা করা হলো। যারা হত্যা করেছে তাদের আমরা চিহ্নিত করেছি। এই যে হত্যা-দখল-আধিপত্য বিস্তার… এখানে কিন্তু মাদকের ব্যবসাও শুরু হয়ে গিয়েছে। এরা মাঝে মাঝে দুর্গম এলাকা দিয়ে বর্ডার পার হয়ে মাদক নিয়ে আসে। এগুলো মিলেমিশেই সেখানে একটি ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।’

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তার পেছনে বিভিন্ন গ্রুপের আধিপত্য ও মাদক ব্যবসাকে দায়ী করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই রোহিঙ্গারা ভালো থাকুক, খুব শিগগিরই তারা নিজেদের দেশে ফিরে যাক। শুরুটা কোথায় আমরা সবাই জানি। আমরা কোনো কোনো জায়গায় এখনও সক্ষম হইনি বলেই এদের এখনও ফেরত পাঠাতে পারিনি। আমরা মনে করি যেকোনো সময় তারা ফেরত যাবে। এই যে এদের বলপূর্বক আমাদের দেশে ঢুকিয়ে দেয়া হলো, এটার পেছনেও তো অনেক কাহিনী আছে, আপনারা সবাই জানেন।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ের সহিংসতার পেছনে রাখাইনে স্বশস্ত্র বিদ্রোহী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) নাম আসছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আরসাকে কোথা থেকে কে নিয়ন্ত্রণ করে এটা তো আমরা জানি। আমাদের ক্যাম্পগুলোতে আরসার নামে কিছু যুবক ঘুরে বেড়ায়। আপনারা দেখেছেন মুহিবুল্লাহ দেশে ফিরে যেতে চেয়েছিল। তাকে হত্যা করা হলো। যারা হত্যা করেছে তাদের আমরা চিহ্নিত করেছি। এই যে হত্যা-দখল-আধিপত্য বিস্তার… এখানে কিন্তু মাদকের ব্যবসাও শুরু হয়ে গিয়েছে। এরা মাঝে মাঝে দুর্গম এলাকা দিয়ে বর্ডার পার হয়ে মাদক নিয়ে আসে। এগুলো মিলেমিশেই সেখানে একটি ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পের ভেতরের যে মুল সড়কগুলো রয়েছে সেগুলোতে যেতে পারবেন, কিন্তু ভেতরে ছোট ছোট পায়ে হাটার যে পথগুলো রয়েছে এগুলো আসলেই দুর্গম। এ ধরনের ঘটনাগুলো যখন ঘটে, নিরাপত্তা বাহিনীকে খবর না দিলে তারা চিহ্নিত করতে পারেন না। এটা অস্বীকার করার কিছু নেই।

‘আরশা বা এ ধরনের যে দলগুলো রয়েছে বা যারা জোর করে এখানে পাঠিয়েছে তাদেরও নানা ইন্টারেস্ট এখানে থাকতে পারে। সব কিছুই আমরা অনুমান করছি। কেন এসব করছে তা নিয়ে কাজ করছি।’

নির্বাচন কমিশন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের দায়িত্বভার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এনআইডি আমাদের এখানে দেয়া হয়েছে। এনআইডির কিছু জটিলতা রয়েছে। আইনের কিছু জটিলতা রয়েছে। সেই আইনের জন্য আমরা আইন মন্ত্রণালয়ে কিছু স্পষ্ট হতে চেয়েছি। অনেক ধারা উপধারা পরিবর্তন করতে হবে কি না, এজন্যই স্পষ্টিকরণের বিষয়টি চলে আসছে। তারা একটি মতামত দিলে আমরা পরবর্তী অ্যাকশনে যাব।’

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চট্টগ্রামে ড্রেনে পড়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু: ক্ষতিপূরণ নিয়ে হাইকোর্টের রুল

চট্টগ্রামে ড্রেনে পড়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু: ক্ষতিপূরণ নিয়ে হাইকোর্টের রুল

আইনজীবী অনিক আর হক বলেন, ‘ড্রেনে পড়ে অকাল মৃত্যুর ঘটনায় সাদিয়ার পরিবারকে কেন ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হবে না সেটি জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।’

চট্টগ্রামে ড্রেনে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সেহরীন মাহবুব সাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হবে না কেন সেটি জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাস্থলকে নিরাপদ জায়গা হিসেবে গড়ে তোলারও নির্দেশ দেয় হয়েছে।

এজন্য কী কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সেটি জানাতে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদনও দিতে বলা হয়েছে।

রোববার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অনিক আর হক। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

পরে আইনজীবী অনিক আর হক বলেন, ‘ড্রেনে পড়ে অকাল মৃত্যুর ঘটনায় সাদিয়ার পরিবারকে কেন ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হবে না সেটি জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।’

সাদিয়ার মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ চেয়ে ২৫ নভেম্বর আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), সিসিবি ফাউন্ডেশন ও নিহত শিক্ষার্থীর মামা জাহিদ উদ্দিন বেলালের পক্ষে রিট করেন।

এতে চট্টগ্রাম সিটির মেয়র, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে বিবাদী করা হয়।

২৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থী সেহরীন মাহবুব সাদিয়ার মৃত্যু হয়। তার বাসা হালিশহরের বড়পোল এলাকার মইন্যাপাড়ায়। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সাদিয়া ছিলেন সবার বড়।

ওই শিক্ষার্থী চশমা কিনে বাসায় ফেরার পথে চৌমুহনী এবং আগ্রাবাদের মাঝামাঝি এলাকার একটি ড্রেনে পা পিছলে পড়ে যান। সঙ্গে থাকা সাদিয়ার বাবাও মেয়েকে বাঁচাতে ঝাপ দেন ড্রেনে, তবে খোঁজ না পেয়ে খবর দেন ফায়ার সার্ভিসে। নিখোঁজের পাঁচ ঘণ্টা পর সাদিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

এর আগে ২৭ আগস্ট নগরীর মুরাদপুর এলাকায় জলাবদ্ধতার সময় ড্রেনে পড়ে সালেহ আহম্মেদ নামের এক সবজি ব্যবসায়ী নিখোঁজ হন। এরপর তার আর খোঁজ মেলেনি।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার

শেয়ার করুন

রাজারবাগ পিরের নামে মামলার নথি হাইকোর্টে

রাজারবাগ পিরের নামে মামলার নথি হাইকোর্টে

পির মো. দিল্লুর রহমান থাকেন রাজারবাগের এ দরবার শরিফে। ছবি: নিউজবাংলা

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী আদালতে পিরের মামলা সংক্রান্ত নথি উপস্থাপন করেন সুপারিনটেনডেন্ট।

রাজারবাগ দরবার শরিফের পির দিল্লুর রহমানসহ তার সঙ্গীদের নামে করা মামলা সংক্রান্ত নথি পাওয়া যাচ্ছে না শোনার পর দ্রুত তা খুঁজে বের করতে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের রিট দাখিল সেকশনের সুপারিনটেনডেন্টকে রোববার দুপুর ২টার মধ্যে এসব নথি আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী আদালতে সে নথি উপস্থাপন করেন সুপারিনটেনডেন্ট।

পরে শুনানি শেষে দুই বিচারপতির বেঞ্চ কিছু নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে রয়েছে সিআইডি, দুদক, কাউন্টার টেররিজম ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মনে করলে রাজারবাগের পির ও সঙ্গীদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে।

উচ্চ আদালত রাজারবাগ পিরের কর্মকাণ্ডের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখতে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে নির্দেশ দেয়।

রাজারবাগ পিরের বিষয়ে সিআইডির প্রতিবদনের আলোকে কোনো ভুক্তভোগী চাইলে মামলা করতে পারবে বলেও নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

আদালতে দুটি আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও এমাদুল হক বশির।

পির দিল্লুর রহমানসহ চারজনের বিদেশযাত্রায় গত ২ ডিসেম্বর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে সম্পূরক রিট আবেদন করা হয়। এতে দিল্লুরসহ শাকিরুল কবির, ফারুকুর রহমান ও মফিজুল ইসলামের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়।

ব্যবসায়ী একরামুল আহসান কাঞ্চনের পক্ষে আইনজীবী এমাদুল হক বশির আবেদনটি করেন।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় ৪৯টি মামলা হওয়ার বিরুদ্ধে কাঞ্চন হাইকোর্টে রিট করেন। সে রিটের শুনানি নিয়ে আদালত সিআইডিকে একরামুলের বিরুদ্ধে হওয়া ৪৯ মামলার তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে রুলসহ আদেশ দেয়।

পরে সিআইডির প্রতিবেদনে কাঞ্চনের বিরুদ্ধে পির দিল্লুর সিন্ডিকেটের করা হয়রানিমূলক মামলার তথ্য উঠে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাজারবাগ দরবার শরিফের সব সম্পদের তথ্য খুঁজতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

পিরের জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা তদন্ত করতে সিটিটিসি এবং হাইকোর্টে রিটকারী আটজনের বিরুদ্ধে করা হয়রানিমূলক মামলার বিষয়ে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার

শেয়ার করুন

ওমিক্রন: ‘এখনই সীমান্ত বন্ধের পরিকল্পনা নেই’

ওমিক্রন: ‘এখনই সীমান্ত বন্ধের পরিকল্পনা নেই’

সাভারে নবনির্মিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের বর্ডার বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। বর্ডারে আমরা পরীক্ষা, স্ক্রিনিং ও কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা জোরদার করেছি। এখনও দেশে সে রকম কোনো পরিবেশ তৈরি হয়নি যে আমাদের লকডাউনের চিন্তা করতে হবে। দেশ ভালো আছে, নিরাপদে আছে।’ 

করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের কারণে এখনই সীমান্ত বন্ধের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সাভারে নবনির্মিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট পরিদর্শনে গিয়ে রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের বর্ডার বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। বর্ডারে আমরা পরীক্ষা, স্ক্রিনিং ও কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা জোরদার করেছি। এখনও দেশে সে রকম কোনো পরিবেশ তৈরি হয়নি যে আমাদের লকডাউনের চিন্তা করতে হবে। দেশ ভালো আছে, নিরাপদে আছে।

‘যারা বিদেশ থেকে আসবেন তারা যেন সংক্রমিত হয়ে দেশে না আসেন। আমি আহ্বান করব, বিশেষ করে সংক্রমিত আফ্রিকাতে যারা আছেন আপনার এই মুহূর্তে দেশে না এলে ভালো হয়। কারণ আপনাদের পরিবার ও দেশকে নিরাপদে রাখতে হলে এখন যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাভারে গণটিকাদান কর্মসূচি পরিদর্শন করেন। তার সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ওমিক্রন: ‘এখনই সীমান্ত বন্ধের পরিকল্পনা নেই’
সাভারে নবনির্মিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘ওমিক্রন প্রতিরোধে আমাদের যা যা প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব আমরা নিচ্ছি। আমাদের আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয়েছে। সেখানে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমাদের দেশে যারা আফ্রিকা থেকে আসছে তাদের ৪৮ ঘণ্টা আগে পরীক্ষা করে আসতে হবে এবং ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। ওমিক্রন আক্রান্ত দেশ থেকে এলেও পরীক্ষা করে আসতে হবে।

‘ঢাকায় অনেকগুলো কোয়ারেন্টিন সেন্টার করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোকে কোয়ারেন্টিন সেন্টার করার কথা বলা হয়েছে। যারা বিদেশ থেকে আসবে তাদের নিজ খরচে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই হাজার বর্গফুটের আরটিপিসিআর ল্যাব ছিল। সেটির আয়তন বাড়িয়ে তিন হাজারের বেশি বর্গফুটের করা হয়েছে। সেখানে পরীক্ষা, বসা, খাওয়া ও নামাজসহ সবকিছুর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের হাসপাতাল ও আইসিইউ প্রস্তুত রেখেছি। সব জেলা শহর ও বিভাগীয় কার্যালয়ে চিঠি দিয়ে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা প্রস্তুত আছি।

‘জনবল বাড়ানোর জন্য ৮ হাজার নার্স ও ৪ হাজার চিকিৎসক নতুন নিয়োগ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে টিকা কর্মসূচিও জোরদার করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ১০ কোটি টিকার ডোজ দেয়া হয়ে গেছে।’

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার

শেয়ার করুন

সব সিটি সার্ভিসে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া

সব সিটি সার্ভিসে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া

চট্টগ্রামসহ দেশের যেখানেই সিটি সার্ভিস চালু আছে, সেখানেই হাফ ভাড়া কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। ফাইল ছবি

চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ জানান, হাফ ভাড়া শুধু চট্টগ্রাম শহরে কার্যকর হবে, বাইরে হবে না; তবে যেখানে সিটি সার্ভিস চালু আছে, সেখানেও এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

দেশের যেসব স্থানে সিটি সার্ভিস চালু আছে, সেগুলোতে শিক্ষার্থীদের শর্তসাপেক্ষ হাফ ভাড়া বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক মিলনায়তনে রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ।

তিনি জানিয়েছেন, সিটি সার্ভিস চালু থাকা শহরগুলোতে আগামী ১১ ডিসেম্বর, শনিবার থেকে হাফ ভাড়া কার্যকর হবে।

সব সিটি সার্ভিসে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া
সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার এনায়েত উল্যাহসহ নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

টানা আন্দোলনের মুখে গত ৩০ নভেম্বর ঢাকা মহানগরীতে বাসে শিক্ষার্থীদের ভাড়া অর্ধেক করার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবহন মালিক সমিতি। ওই দিন সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পয়লা ডিসেম্বর থেকে শর্তসাপেক্ষ এ ভাড়া কার্যকর হবে।

পরিবহন মালিক সমিতির সে সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ দাবি করে, দেশের সব শহরে শিক্ষার্থীদের ভাড়া অর্ধেক করতে হবে। তাদের এ দাবির মধ্যেই রোববার চট্টগ্রামসহ সিটি সার্ভিস থাকা শহরগুলোতে হাফ ভাড়া বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন এনায়েত উল্যাহ।

তিনি বলেন, ‘আগামী শনিবার থেকে চট্টগ্রাম শহরে হাফ ভাড়া কার্যকর হবে। হাফ ভাড়া কার্যকরের সময় সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা। এ জন্য শিক্ষার্থীর ছবিযুক্ত আইডি কার্ড প্রদর্শন করতে হবে।’

ছুটির দিনে হাফ ভাড়া কার্যকর হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকারি ছুটির দিন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মৌসুমি ছুটিতে হাফ ভাড়া কার্যকর হবে না।

‘আর হাফ ভাড়া শুধু চট্টগ্রাম শহরে কার্যকর হবে, বাইরে হবে না, তবে যেখানে সিটি সার্ভিস চালু আছে, সেখানেও এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।’

ঢাকায় হাফ ভাড়া কার্যকরের ঘোষণা দেয়ার দিনও একই ধরনের শর্তের কথা জানিয়েছিলেন সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির এ নেতা।

শিক্ষার্থীদের বাসায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ছাত্রদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে হাফ ভাড়া কার্যকর করেছি। সুতরাং তারা তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যাবে বলে আশা করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি কফিল উদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি খোরশেদ আলম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, ঢাকার যুগ্ম সম্পাদক নিয়াজ মোর্শেদ এলিট, চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব গোলাম রসুল বাবুল, যুগ্ম সম্পাদক মো. শাহজাহান, মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বেলালসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার

শেয়ার করুন

সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকীতে আ.লীগের শ্রদ্ধা

সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকীতে আ.লীগের শ্রদ্ধা

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর (মাঝে) সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (বাঁয়ে)। ছবি: সংগৃহীত

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে একজন ‘দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক’ আখ্যা দিয়ে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা।

‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ হিসেবে পরিচিত উপমহাদেশের বরেণ্য রাজনৈতিক নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন।

রোববার সকালে ঢাকার সুপ্রিম কোর্টের পাশে তিন নেতার মাজারে তার সমাধিতে এই শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের নেতারা।

১৯৬৩ সালের এই দিনে লেবাননের বৈরুতের এক হোটেলকক্ষে নিঃসঙ্গ অবস্থায় মারা যান তিনি।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী একাধারে ছিলেন রাজনীতিক, আইনজ্ঞ, বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভা ও গণপরিষদের সদস্য এবং অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রীসহ তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি শ্রমজীবীসহ অবহেলিত মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বার্থরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বরেণ্য এই রাজনীতিকের ৫৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আলাদা বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী আমৃত্যু আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন। গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গণতন্ত্রের বিকাশসহ এতদাঞ্চলের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নে যে অবদান রেখে গেছেন জাতি তা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তার জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক চিন্তাচেতনা ও জনগণের সার্বিক কল্যাণে উদ্বুদ্ধ করবে।’

আব্দুল হামিদ বলেন, ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী উপমহাদেশে রাজনীতি ও গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দেয়া বাণীতে বলেন, ‘হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি বিকাশের জন্য এ অঞ্চলের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সারা জীবন কাজ করেছেন।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে একজন ‘দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক’ আখ্যা দিয়ে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘একজন প্রতিভাবান রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে তার দক্ষ পরিচালনায় গণমানুষের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আরও বিকশিত হয়। তার সুযোগ্য উত্তরসূরি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব পাকিস্তান সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে।’

গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ও মানুষের কল্যাণে এ মহান নেতার জীবন ও আদর্শ সাহস ও প্রেরণা জোগায় বলেও উল্লেখ করেছেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘জাতি তার অবদান সব সময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।’

সোহরাওয়ার্দীর দেয়া গণতন্ত্র পঁচাত্তরের পর ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে বারবার বলি হয়েছে, নির্বাচনের কফিনে গণতন্ত্রকে বারবার লাশ বানানো হয়েছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এই গণতন্ত্রকে শৃঙ্খলমুক্ত করার আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।’

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জন্ম ১৮৯২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে। তিনি কলকাতা হাইকোর্টের খ্যাতনামা বিচারক স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দীর কনিষ্ঠ সন্তান।

পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন সোহরাওয়ার্দী।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর মুসলিম লীগ সরকারের একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করেন এই রাজনীতিক। তার প্রচেষ্টায় ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণীত হয়।

১৯৫২ সালের ভাষার জন্য রক্ত দিয়ে বাঙালির যে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটে, তার নেতৃত্বেও ছিলেন সোহরাওয়ার্দী।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার

শেয়ার করুন

খালেদার রক্তক্ষরণ আপাতত বন্ধ: চিকিৎসক

খালেদার রক্তক্ষরণ আপাতত বন্ধ: চিকিৎসক

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

মেডিক্যাল বোর্ডের এক চিকিৎসক বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শরীরের অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। ওষুধ প্রয়োগের কারণে খালেদা জিয়ার রক্তক্ষরণ সাময়িক বন্ধ হয়েছে। ওনার পুনরায় যেন রক্তক্ষরণ না হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ দেয়া হচ্ছে।’

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রধান অসুখ পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের এক সদস্য।

মেডিক্যাল বোর্ডের ওই সদস্য রোববার সকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শরীরের অবস্থা আগের চেয়ে ভালো ওষুধ প্রয়োগের কারণে খালেদা জিয়ার রক্তক্ষরণ সাময়িক বন্ধ হয়েছে। ওনার পুনরায় যেন রক্তক্ষরণ না হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ দেয়া হচ্ছে।’

প্রতিদিনের মতো গতকাল শনিবার বিকেলে খালেদার স্বাস্থ্যের বিষয় নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠক হয়েছে। মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ কয়েকজন চিকিৎসক বৈঠকে অংশ নেন। আজ বিকেলেও মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

গতকাল বৈঠক থেকে নতুন করে কয়েকটি স্বাস্থ্যের পরীক্ষা দেয়া হয়েছে বলে জানান ওই চিকিৎসক।

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক আছে। ইনসুলিন দিয়ে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। এখন রক্তের হিমোগ্লোবিন ৮ দশমিক ৫০ আছে।’

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বাসার তৈরি খাবার খাচ্ছেন খালেদা জিয়া।

শারীরিক নানা জটিলতা নিয়ে ১৩ নভেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে।

তার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের কথা বলা হয়। এমনকি তিনি চরম সংকটাপন্ন দাবি করে তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার দাবি তোলে দলটি।

তখন থেকে বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার দাবিতে বেশ কিছু কর্মসূচি পালন করে আসছে।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার

শেয়ার করুন

চাকরির পিছে না ছুটে উদ্যোক্তা হোন: তরুণদের প্রধানমন্ত্রী

চাকরির পিছে না ছুটে উদ্যোক্তা হোন: তরুণদের প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় এসএমই পণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: টিভি ফুটেজ থেকে নেয়া

তরুণদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজে কাজ করবেন, অন্যকে কাজের সুযোগ দেবেন, চাকরির সুযোগ দেবেন, নিজেরা উদ্যোক্তা হবেন। সেই উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি, সব ধরনের ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।’

পড়াশোনা শেষে চাকরির পিছে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ক্ষেত্রে সরকার সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

শিল্প মন্ত্রণালয় ও এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রে নবম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

দেশের তরুণদের জন্য সরকারের নানা কর্মসূচির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘উদ্যোক্তা হতে চাইল যে কেউ হতে পারে। শুধুমাত্র একটা পাস করে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরা উদ্যোক্তা হওয়া এবং নিজেরা অন্যকে চাকরি দেয়া, তরুণ সমাজের কাছে আমার এটাই থাকবে আবেদন।’

তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা নিয়ে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজে কাজ করবেন, অন্যকে কাজের সুযোগ দেবেন, চাকরির সুযোগ দেবেন, নিজেরা উদ্যোক্তা হবেন। সেই উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি, সব ধরনের ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।’

নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। আগামীতে দেশে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা আরও বাড়বে বলেও আশা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আমি অবশ্য আমাদের পুরুষ সমাজকে একটু পরামর্শ দিতে পারি। আপনারাও ব্যবসা করেন। তা আপনাদের স্ত্রীর নামে যদি আপনারা এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে ঋণ নিয়ে থাকেন তাকেও একটু কাজ করার সুযোগ করে দেন। তাহলে সংসারের সঙ্গে সঙ্গে মেয়েরাও কিন্তু সেই ধরনের শিল্পায়নও করতে পারবে। তাতে উদ্যোক্তাও সৃষ্টি হবে। সেই সুযোগটা আপনারা দিয়েন, অন্তত বাধা দিয়েন না।’

তিনি বলেন, ‘এসএমই ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যে সারা দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ১৭৭টি ক্লাস্টার চিহ্নিত করেছে। ক্লাস্টারসহ সারা দেশে রয়েছে ৭৮ লাখ এসএমই শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নতুন করে একজন মানুষের কাজের ব্যবস্থা হলেও কমপক্ষে ৭৮ লাখ বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।’

‘যত্রতত্র শিল্প নয়’

এসএমই ক্লাস্টারের উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিলেও যেখানে-সেখানে শিল্প করা যাবে না বলে সতর্ক করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যত্রতত্র কিন্তু শিল্প করা যাবে না। এটা বাস্তব। কারণ আমরা চাই আমাদের কৃষিজমি রক্ষা করতে। খাদ্যচাহিদা কখনও কমবে না, কারণ দিনের পর দিন বাড়বে। কোভিড-১৯-এর পর এই চাহিদা আরও বেড়েছে। অনেক উন্নত দেশ এখন খাদ্য সংকটে ভুগছে। আল্লাহর রহমতে আমাদের সেই সমস্যাটা নাই। করোনা দেখা দিল যখন তখন থেকেই আমি একটা নির্দেশ দিয়েছিলাম, যেভাবেই হোক খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। সে রকম আমরা ব্যবস্থাও নিয়েছি।’

দেশের ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির বিষয়টি সামনে এনে সরকারপ্রধান বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট জায়গায় সেই শিল্পটা গড়ে তোলা, যাতে করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাটাও ঠিক থাকে, পরিবেশ ঠিক থাকে, পরিবেশ যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। তাই আমি বলব, যত্রতত্র না করে ক্ষুদ্র বা কুটির শিল্প তো নিজেরাই করতে পারেন।’

এসএমই ফাউন্ডেশনেরও এ বিষয়ে ভূমিকা নেয়ার সুযোগ আছে বলে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে আমি এই ফাউন্ডেশনকে অনুরোধ করব, আপনারা এই ব্যাপারটায় একটু বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন। কেউ যদি উদ্যোক্তা হতে চায় তাহলে সে কোথায় কাজগুলো করতে পারে সুনির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করে দেয়া, নিজের ঘরে বা জমিতে যদি করে, সেখানেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বাজারজাত কীভাবে করবে সেগুলো ভালোভাবে দেখতে হবে।’

কৃষি প্রক্রিয়াজাত ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অঞ্চলভিত্তিক আমাদের কিছু পণ্য উৎপাদন হয়। কৃষি ছাড়াও অন্য যেসব পণ্য উৎপাদন হয় সেগুলোকেও কাজে লাগানো। তারই ভিত্তিতে ওইসব অঞ্চলে শিল্প গড়ে তোলা যাতে কাঁচা পণ্যটা আমরা নিজেদের দেশ থেকে আহরণ করতে পারি। সেদিকেও বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব শতবর্ষের মধ্যে শতভাগ মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা জায়গায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থাটা যদি ঠিক থাকে, তাহলে সেখানে পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কোনো সমস্যা হয় না। আমরা সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিচ্ছি।’

৭৫-পরবর্তী দীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে অন্য খাতগুলোর মতো এসএমই খাতকেও সরকার গুরুত্ব দিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশে যেন শিল্পায়নটা হয়, একটা জায়গার মধ্যে না, তার জন্য ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য দেশটাকে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, শিল্প খাতের উন্নয়ন করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য দারিদ্র্য বিমোচন, মানুষের আয় বৃদ্ধি করা, দারিদ্র্যের হাত থেকে এ দেশের মানুষকে মুক্ত করা। পাশাপাশি আমাদের নারীসমাজ, তারাও যেন অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে আমরা আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।’

অনুষ্ঠানে বর্ষসেরা চার উদ্যোক্তাকে দেয়া হয় সম্মাননা। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা (নারী) বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন হুমায়রা মুস্তফা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা (পুরুষ) বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন নাজমুল ইসলাম এবং সৈয়দ মো. শোয়াইব হাসান। আর মাঝারি উদ্যোক্তা (পুরুষ) শাখায় সম্মাননা গেছে মো. আজিজুল হকের হাতে।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুন বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার

শেয়ার করুন