পুলিশ বাধা দিলেই বিশৃঙ্খলা করে বিএনপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশ বাধা দিলেই বিশৃঙ্খলা করে বিএনপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নয়াপল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অতীত অভিজ্ঞতায় দেখেছি বিএনপি সব সময়ই এমন করে। পুলিশ বাধা দিতে গেলেই এ ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে।’

পুলিশ বাধা দিলেই বিএনপি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএফআরএফ) সঙ্গে সংলাপে এ মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিন নয়াপল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘অতীত অভিজ্ঞতায় দেখেছি বিএনপি সব সময়ই এমন করে। পুলিশ বাধা দিতে গেলেই এ ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে।’

বিএনপির বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

নয়াপল্টনে প্রতিবাদ মিছিলে নেমে বিএনপি নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাহিনীটি।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দীন মিয়া। তিনি বলেন, ‘যাচাই বাছাই করে, মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে। রাস্তায় যান চলাচল স্বাভবিক রয়েছে।’

বিএনপির মিছিল থেকে নেতাকর্মীদের আটকের কথাও স্বীকার করেছেন ওসি সালাহউদ্দীন মিয়া। তিনি বলেন, ‘পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০-৩৫ জনকে আমরা আটক করেছি। যারা আটক আছেন যাচাই বাছাই করে সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়ে মামলার পর তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে।’

মঙ্গলবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে নয়াপল্টনে প্রতিবাদ মিছিলে নামে বিএনপি। এসময় দলটির নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বেলা পৌনে ১২টার দিকে মিছিল শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়তে দেখা যায়। নেতা-কর্মীরাও পুলিশকে উদ্দেশ করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন।

এর আগে সকাল থেকেই দলটির নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন ব্যানার-ফ্যাস্টুন নিয়ে নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে নয়াপল্টন এলাকা, নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে কাকরাইল পর্যন্ত সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক

পুলিশের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের সংঘষর্ষের ঘটনায় নয়াপল্টন এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ঘণ্টা ধরে ওই এলাকায় কোনো যান চলাচল করেনি।

নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপি নেতা-কর্মীরা একটি মিছিলের প্রস্তুতি নিলে পূর্ব অনুমতি না থাকায় তাতে বাধা দেয় পুলিশ।

তখন পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে মিছিল থেকে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। সে সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে পুলিশ।

এসময় নাইটিংগেল মোড় থেকে আরামবাগ মোড় পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ১ ঘণ্টা বন্ধ থাকে যান চলাচল। এর প্রভাব পড়ে আশপাশ এলাকার অন্যান্য সড়কে।

কাকরাইল, বিজয়নগর, শান্তিনগর, রাজারবাগ, প্রেসক্লাব, পল্টন, মতিঝিল এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। সাড়ে ১২ টার দিকে নাইটিংগেল মোড় থেকে আরামবাগ মোড় পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল স্বাভবিক হলেও যানজট রয়েছে সেখানে।

আরও পড়ুন:
নয়াপল্টনে বিএনপির মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ
নাশকতা মামলায় আসলাম চৌধুরীর বিচার শুরু
রিজভী-দুলুকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা
‘দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে জড়িতদের উৎসাহিত করছে সরকার’
আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তৃতীয় ধাপে আ.লীগের ৫২৫, স্বতন্ত্র ৪৪৬ চেয়ারম্যান

তৃতীয় ধাপে আ.লীগের ৫২৫, স্বতন্ত্র ৪৪৬ চেয়ারম্যান

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। ফাইল ছবি

ইসি সচিবালয় জানায়, নির্বাচনে ১ কোটি ৭৫ লাখ ৫৫ হাজার ২৬৬ ভোটারের মধ্যে ১ কোটি ৩০ লাখ ২৮ হাজার ৩১৮টি ভোট পড়েছে। এবার ভোটার উপস্থিতির হার ৭৪ দশমিক ২১ শতাংশ।

সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৫২৫ প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন। যার মধ্যে ৯৯ ইউপিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন ৯৯ জন।

তৃতীয় ধাপে ১ হাজার ৮টি ইউপিতে নির্বাচনের কথা থাকলেও নির্বাচন হয়েছে হাজারটিতে। যার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান হয়েছেন ৪৪৬ জন।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে একজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বলে সোমবার রাতে জানিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।

বেসরকারি ফলের ভিত্তিতে এ তথ্য জানায় নির্বাচন কমিশন।

রোববার নির্বাচনের পর নির্বাচন কমিশন দাবি করে, সহিংসতা ছাড়াই তৃতীয় ধাপের নির্বাচন সুষ্ঠ ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের দিন ও পরের দিনের সহিংসতায় দেশে ১০ প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

ইসি সচিবালয় জানায়, নির্বাচনে ১ কোটি ৭৫ লাখ ৫৫ হাজার ২৬৬ ভোটারের মধ্যে ১ কোটি ৩০ লাখ ২৮ হাজার ৩১৮টি ভোট পড়েছে। এবার ভোটার উপস্থিতির হার ৭৪ দশমিক ২১ শতাংশ।

আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে ১৭ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে ১ জন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ থেকে ১ জন, ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে ১ জন, সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদের একজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্মসচিব ও গণসংযোগ বিভাগের পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান নিউজবাংলাকে জানান, নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের এ ফল পাওয়া গেছে।

এবারের নির্বাচনি অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, শাখা কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন অফিসার এবং উপজেলা নির্বাচন অফিসারদের কাছ থেকে ফোনে এসব তথ্য পেয়েছে নির্বাচন কমিশন।

তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে ১ হাজার ৮টি ইউনিয়নে ভোটের কথা থাকলেও ভোট হয়েছে ১ হাজার ইউনিয়নে। ৮টিতে ভোট হয়নি। যার মধ্যে কয়েকটি ইউনিয়নে সহিংসতার কারণে ভোট স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।

এবার এবার মোট পাঁচ ধাপে দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়নের ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরই মধ্যে তিন ধাপের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এবং জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আরও দুই ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি। মেয়াদ শেষের আগেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলো শেষ করার পরিকল্পনা করেছে ইসি। গত জুন থেকে ধাপে ধাপে এসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকার প্রার্থীরা বেশি জয় পেলেও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

আরও পড়ুন:
নয়াপল্টনে বিএনপির মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ
নাশকতা মামলায় আসলাম চৌধুরীর বিচার শুরু
রিজভী-দুলুকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা
‘দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে জড়িতদের উৎসাহিত করছে সরকার’
আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল

শেয়ার করুন

নৌকা ডোবালেন ২৭২ আওয়ামী লীগ নেতা

নৌকা ডোবালেন ২৭২ আওয়ামী লীগ নেতা

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোলার একটি কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি। ছবি: নিউজবাংলা

রোববারের ভোটের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের সবচেয়ে বেশি ধরাশায়ী করেছেন খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের আওয়ামী লীগ নেতারা। সেখানে আওয়ামী লীগের যতজন জিতেছেন, তার প্রায় কাছাকাছি পর্যায়ে জয় পেয়েছেন মনোনয়ন না পাওয়া বিদ্রোহী নেতারা। আওয়ামী লীগের শক্তিশালী অবস্থান থাকা ঢাকা ও রংপুর বিভাগেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদ্রোহী নেতা হারিয়ে দিয়েছেন নৌকার প্রার্থীদের। অন্যদিকে রাজশাহী বিভাগে বিদ্রোহী প্রার্থীরা তুলনামূলক কম ভালো করেছেন।

রোববারের ভোটে সারা দেশে যেসব ইউনিয়নে ভোট হয়েছে, এর মধ্যে কয়েকটিতে ফলাফল স্থগিত আছে। বাকিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৩৯টি ইউনিয়নে জয় পেয়েছে নৌকা মার্কা নিয়ে লড়া আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭২টি ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন দলের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হিসেবে লড়াই করা প্রার্থীরা।

এর আগের দুই ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও নৌকা ডুবিয়েছেন কয়েক শ আওয়ামী লীগ নেতা। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে বহিষ্কারের পদক্ষেপ, ভবিষ্যতে আর কখনও মনোনয়ন না দেয়ার সতর্কতার পরেও বিদ্রোহী নেতারা সেসব গা করেননি। বরং প্রায় ৩০০ এলাকায় তাদের জয় এটা নির্দেশ করছে যে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন আসলে ভুল মানুষের হাতে উঠেছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য আব্দুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দল থেকে যাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তাদের বিচার-বিবেচনা করেই মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। আমরা মনে করি, তাদের জয়ে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। জনগণের অংশগ্রহণে যে নির্বাচন হয়েছে এটা নির্বাচনের সৌন্দর্য।’

বিজয়ী বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে আগের সিদ্ধান্তেই অটল থাকবে আওয়ামী লীগ বলে জানান দলের এই নেতা। বলেন, ‘তাদের জন্য আগের চেয়ে কঠোর সিদ্ধান্তও আসতে পারে।’

জাতীয় নির্বাচনের দুই বছর বাকি থাকতে স্থানীয় সরকারের মনোনয়ন নিয়ে দলের মধ্যে তৃণমূলে যে বিভাজন তৈরি হয়েছে, তা আগামী নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না- এমন প্রশ্নে আবদুর রহমান বলেন, ‘এটা আমরা মনে করি না। কারণ একজন প্রার্থী স্থানীয় নির্বাচনে দলের বিরুদ্ধে গেলেও তিনি একজন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। তাই জাতীয় নির্বাচনে তিনি ঠিক দলের বিরুদ্ধে যাবেন না।’

রোববারের ভোটের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের সবচেয়ে বেশি ধরাশায়ী করেছেন খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের আওয়ামী লীগ নেতারা। সেখানে আওয়ামী লীগের যতজন জিতেছেন, তার প্রায় কাছাকাছি পর্যায়ে জয় পেয়েছেন মনোনয়ন না পাওয়া বিদ্রোহী নেতারা।

আওয়ামী লীগের শক্তিশালী অবস্থান থাকা ঢাকা ও রংপুর বিভাগেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদ্রোহী নেতা হারিয়ে দিয়েছেন নৌকার প্রার্থীদের। অন্যদিকে রাজশাহী বিভাগে বিদ্রোহী প্রার্থীরা তুলনামূলক বিচারে কম ভালো করেছেন।

নৌকা ডোবালেন ২৭২ আওয়ামী লীগ নেতা

নৌকা-বিদ্রোহী সমানে সমান

খুলনা বিভাগে নৌকা নিয়ে ৬০ জন নেতার জয়ের মধ্যে ৫৮ জনই জিতে গেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিদ্রোহী নেতারা।

এই বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে ভোট হয়েছে ৯টিতে। এর মধ্যে চার জেলাতেই বিদ্রোহীরা জিতেছেন দলের প্রার্থীর চেয়ে বেশি। একটিতে ‘দুই পক্ষের’ আসন সমান সমান।

এর মধ্যে নড়াইলে নৌকা নিয়ে জিতেছেন কেবল দুজন। অপরপক্ষে দলের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহীরা জিতেছেন ১০টিতে।

খুলনার রূপসা ও তেরোখাদা উপজেলার মধ্যে ভোট হয়েছে ৭টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে নৌকা নিয়ে জিতেছেন ৫ নেতা। দুজন নৌকা না পেয়ে প্রার্থী হয়ে জিতেছেন।

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ এবং দেবহাটা উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ১৭টি ইউনিয়নে।

এর মধ্যে নৌকা জিতেছে মোট ৬টিতে, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী জিতেছেন ৫টিতে।

এই বিভাগের বাগেরহাটে তৃতীয় দফায় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়নি।

যশোরের তিন উপজেলা শার্শা, বাঘারপাড়া ও মনিরামপুরের ৩৫টি ইউনিয়নের ২১টিতে জিতেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা। বাকিগুলোর মধ্যে ১১টিতে জিতেছেন আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ভোট হয়েছে মোট ১৪টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা জিতেছেন ৪টিতে। ৯টিতে জিতেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

মেহেরপুর সদর ও গাংনী মিলিয়ে ভোট হয়েছে ৬টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে নৌকা জয় পেয়েছে তিনটিতে। তিনটিতে জিতেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ভোট হয়। এদের মধ্যে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ৫ জন। বাকি ৮ স্বতন্ত্র প্রার্থী জিতেছেন। এদের মধ্যে ৭ জনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী।

মাগুরার মহম্মদপুর ও শালিখা উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ১৫ ইউনিয়নে। এর মধ্যে নৌকা জয় পেয়েছে মোট ৯টিতে। পাঁচটিতে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

নৌকা ডোবালেন ২৭২ আওয়ামী লীগ নেতা

নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে নৌকা নিয়ে জয় পেয়েছেন দুজন। বাকি ১০ জনের সবাই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হিসেবে ভোটে লড়েছেন।

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জের ১৬ ইউনিয়নের মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগেই নির্বাচিত হন তিনজন। রোববারের ভোটে জেতেন ৫ জন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে জিতেছেন ৬ জন।

একই বিষয় দেখা গেছে ময়মনসিংহ বিভাগে। এই বিভাগে নৌকা নিয়ে ৩৮ জন পাস করেছেন। অন্যদিকে নৌকা না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে জিতেছেন ৩২ নেতা।

এই বিভাগের চার জেলার মধ্যে নেত্রকোণায় নৌকার প্রার্থীর চেয়ে বেশি জিতেছেন বিদ্রোহীরা। ময়মনসিংহ জেলায় দুই পক্ষের অবস্থান প্রায় সমান সমান।

ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল ও মুক্তাগাছা মিলিয়ে ভোট হয়েছে মোট ২৭টি ইউনিয়নে। এসব ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টিতে জিতেছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা। ১১টিতে জিতেছেন বিদ্রোহীরা।

নেত্রকোণায় ভোট হয়েছে কলমাকান্দা, দুর্গাপুর ও পূর্বধলা উপজেলার ২৪টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে ৮টিতে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। ১৩টিতে নৌকাকে হারিয়ে জিতেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

শেরপুরের নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ২১টি ইউনিয়নে।

এর মধ্যে নকলায় ৯ ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে নৌকা, ৪ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী, নালিতাবাড়ীর ১২ ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিতে আওয়ামী লীগের নৌকা জিতেছে। বাকি ৭টির দুটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জিতেছেন।

সব মিলিয়ে এই জেলায় নৌকা জিতেছে মোট ৯টি, ৬টিতে জিতেছেন বিদ্রোহী নেতারা।

জামালপুর সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিতে আওয়ামী লীগ জয় পেয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। বাকি ১০টির মধ্যে রোববার ৭টিতে নৌকা জিতেছে। একটিতে ফলাফল স্থগিত। দুটিতে জিতেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নেতারা।

রংপুর বিভাগে নৌকা জিতেছে মোট ৫৯টি ইউনিয়নে। আর বিদ্রোহীরা জিতেছেন ৪৩টিতে। এর মধ্যে দিনাজপুরে নৌকা নিয়ে যতজন জিতেছেন, দলীয় প্রতীক না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে জিতেছেন তার চেয়ে বেশি।

এর মধ্যে রংপুরের সদর, কাউনিয়া ও তারাগঞ্জ উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ১৩ ইউনিয়নে। এর মধ্যে সদরের দুই ইউনিয়নেই জিতেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নেতারা।

কাউনিয়ায় নৌকা জিতেছে তিনটি ইউনিয়নে। নৌকা না পেয়ে বিদ্রোহী নেতারাও জয় পেয়েছেন তিনটিতে।

তারাগঞ্জ উপজেলায় নৌকা জিতেছে একটিতে, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জিতেছেন দুটিতে।

সব মিলিয়ে এই জেলায় নৌকা জিতেছে চারটিতে, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা জিতেছেন সাতটিতে।

কুড়িগ্রামের ৩টি উপজেলার ২৭টি ইউনিয়নের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয় পেয়েছে ১০টি ইউনিয়নে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহ করা নেতারা জয় পেয়েছেন ৪টিতে।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও পলাশবাড়ী উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ১৯টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে নৌকা জিতেছে ৪টিতে। দলের বিদ্রোহীরা জিতেছেন তিনটিতে।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ১৬টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে নৌকা জয় পেয়েছে ৭টিতে। বাকিগুলোর মধ্যে একটিতে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নেতা।

লালমনিরহাট সদর ও কালিগঞ্জ উপজেলার মোট ১৭টি ইউনিয়নে হয়েছে ভোট। এর মধ্যে নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ৭ ইউনিয়নে। দলের বিদ্রোহী নেতারা জয় পেয়েছেন ৪টিতে।

পঞ্চগড় সদর ও আটোয়ারী উপজেলার মোট ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জিতেছেন ছয়টি ইউনিয়নে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহীরা জিতেছেন তিনটিতে।

দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী, বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ ইউনিয়নে ভোট হয়েছে মোট ২৩টি ইউনিয়নে।

এর মধ্যে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক জিতেছে সাতটিতে। ১৪টিতে জিতেছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী নেতারা।

ঠাকুরগাওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও পীরগঞ্জ উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে নৌকা জিতেছে ১৪টিতে। একটিতে জিতেছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়েও ভোটে লড়া এক নেতা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম বিভাগের যে চিত্র

ঢাকা বিভাগে নৌকা নিয়ে ৫৯ জনের জয়ের বিপরীতে দলের বিদ্রোহী নেতারা জয় পেয়েছেন ৩৮টি ইউনিয়নে। এই বিভাগের দুই জেলা মাদারীপুর ও শরীয়তপুরে ভোট হয়েছে দলীয় প্রতীক ছাড়া।

ঢাকা বিভাগের দুই জেলা গাজীপুর ও ফরিদপুরে নৌকা নিয়ে জিতেছেন যথাক্রমে এক ও দুজন। বিপরীতে দলের বিদ্রোহীরা জিতেছেন যথাক্রমে ৬ ও ১২ জন।

ঢাকা বিভাগের মধ্যে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে নৌকা জিতেছে কেবল একটিতে। বাকি ৬টিতে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৪ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৬ প্রার্থী জয় পেয়েছেন। তাদের মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চারজন।

সোমবার ভোট হয় চারটিতে। এর মধ্যে দুটিতে জিতেছেন নৌকার প্রার্থী, একটিতে জাতীয় পার্টি এবং একটিতে কোনো দল না করা নেতা জিতেছেন।

মুন্সিগঞ্জ সদর ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ২১টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে নৌকা জিতেছে ১১টিতে। এই জেলায় কোনো বিদ্রোহী নেতা জেতেননি।

নরসিংদী সদর ও রায়পুরার মোট ২২টি ইউনিয়নে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে নৌকা জিতেছে ১৪টি ইউনিয়নে। ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা জিতেছেন ৭টি ইউনিয়নে।

টাঙ্গাইলের নাগরপুর, মধুপুর ও কালিহাতী উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ২৪টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জিতেছেন মোট ১৬টিতে। দলের মনোনয়ন না পাওয়া বিদ্রোহী নেতারা জিতেছেন চারটি ইউনিয়নে।

কিশোরগঞ্জ জেলার তিন উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ২৩টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে কুলিয়ারচর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের সবকটিতে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীরা জিতেছেন।

নিকলী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা আর একটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জিতেছেন।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে জিতেছেন আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার প্রার্থীরা, ৫টিতে জিতেছেন দলের মনোনয়ন না পাওয়া বিদ্রোহীরা।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ১০টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জিতেছেন মোট আটটিতে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করা নেতারা জিতেছেন দুটিতে।

রাজবাড়ীর কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলায় ভোট হয় মোট ১৪টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে ৯টিতে জিতেছেন নৌকা মার্কার প্রার্থীরা। পাঁচটিতে জিতেছেন নৌকা না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করা নেতারা।

ফরিদপুরের জেলার ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসনের মোট ১৫টি ইউনিয়নে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগ জিতেছে একটিতে। নৌকা না পেয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা জিতেছেন ১২টিতে।

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩টিতে জিতেছে আওয়ামী লীগের নৌকা। একটিতে জিতেছেন দলের মনোনয়ন না পেয়ে লড়াই করা ক্ষমতাসীন দলের নেতা। দুটিতে জিতেছেন কোনো দলীয় রাজনীতি না করা স্বতন্ত্র প্রার্থী।

মাদারীপুর সদর উপ‌জেলার ১৪টি ইউপিতে স্বতন্ত্র সবাই বিজয়ী হ‌য়ে‌ছেন। এই উপ‌জেলায় আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় ম‌নোনয়ন দেয়া হয়‌নি। সেখানে আওয়ামী লীগ পদটি উন্মুক্ত করে দিয়েছে।

শরীয়তপুরের সোগাইরহাট উপজেলার ৭টি উপজেলায় ভোট হয়েছে। এখানে আওয়ামী লীগ কোনো দলীয় প্রার্থী দেয়নি। যারা জিতেছেন সবাই ক্ষমতাসীন দলেরই নেতা এবং তারা স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করেছেন।

চট্টগ্রামের দুই উপজেলা হাটহাজারী ও রাঙ্গুনিয়ায় ভোট হয়েছে মোট ২৬ উপজেলায়। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ১০ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। রোববার ভোট হয়েছে ১৬টিতে। এর মধ্যে নৌকা নিয়ে জিতেছেন ১১ জন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী জিতেছেন ৪টিতে।

রাঙামা‌টির কাউখালী, কাপ্তাই ও রাজস্থলী উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নৌকা প্রতীক নিয়ে জয় পেয়েছেন মোট ৭টিতে। এদের মধ্যে তিনজন নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। রোববার ভোট হয় মোট ৫টিতে। এর মধ্যে নৌকা জিতেছে ৪টিতে। ১টিতে জেতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়া বিদ্রোহী প্রার্থী।

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি ও দীঘিনালার ৭টি ইউনিয়নে ভোট হয় রোববার। এর মধ্যে দুটিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। তিনটির ফলাফল স্থগিত। দুটিতে জয় পেয়েছে জনসংহতি সমিতির নেতারা।

বান্দরবানের রুমা ও আলীকদমের ৮ ইউনিয়নের মধ্যে নৌকা জিতেছে ৫ ইউনিয়নে। ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী নেতারা জিতেছেন দুটিতে এবং বিএনপির স্থানীয় নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী পরিচয়ে জিতেছেন একটিতে।

কক্সবাজারের চকোরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ১৬ ইউনিয়নে। এর মধ্যে নৌকা জিতেছে ৬টিতে, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা জিতেছেন ৫টিতে।

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে একটিতে আওয়ামী লীগের এক নেতা জয় পেয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। বাকি ৪টির মধ্যে দুটি পেয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী, দুটি পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়া বিএনপি নেতা।

ফেনীর পরশুরাম ও ছাগলনাইয়ায় ভোট হয়েছে মোট ৮টি ইউনিয়নে। এর সবগুলোতেই জয় পেয়েছেন নৌকা মার্কার প্রার্থীরা।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ ও রায়পুর উপজেলার ২০ ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টিতে জিতেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। বাকি ছয়জন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। এদের মধ্যে তিনজন আগেই নির্বাচিত হয়েছিলেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। রোববার ভোট হয়েছে বাকি ১৭টিতে।

কুমিল্লার দাউদকান্দি, বরুড়া ও হোমনা উপজেলার ৩০টি ইউনিয়নে রোববার ভোট হয়।

এর মধ্যে ১৫ ইউনিয়নে জয় পেয়েছে নৌকা আর ১১ ইউনিয়নে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়া বিদ্রোহী নেতারা।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও দক্ষিণে ভোট হয়েছে মোট ১৮ ইউনিয়নে। এর মধ্যে একটিতে ফলাফল স্থগিত আছে। বাকি ১৭টির মধ্যে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা জিতেছেন ১০টি ইউনিয়নে। নৌকা না পেয়ে বিদ্রোহীরা জিতেছেন ৬ ইউনিয়নে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল, নবীনগর ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ৩২ ইউনিয়নে ভোট হয়। ৮ প্রার্থী আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যান। রোববার ভোট হয় বাকি ২৪টিতে। এর মধ্যে নৌকা জেতে ৯টিতে। ১১টিতে জয় পান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়া বিদ্রোহী নেতারা।

অন্য তিন বিভাগের চিত্র

বাকি তিন বিভাগ রাজশাহী, সিলেট ও বরিশালেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থী জিতেছেন। তবে অন্য পাঁচ বিভাগের মতো সংখ্যাটি এত বেশি নয়।

রাজশাহীর পবা ও মোহনপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টিতে আওয়ামী লীগ, দুটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নেতারা জিতেছেন।

একটি ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় ১১ ইউনিয়নের মধ্যে ৬টিতে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। বাকি ৫টির একটিতে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী নেতা জিতেছেন।

চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী থাকায় দুটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ভোট অনুষ্ঠিত হয়নি। ওই দুই ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

নওগাঁর মান্দা ও বদলগাছি উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে ভোট হয়েছে।

এর মধ্যে মান্দায় ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে তিনজন জিতেছেন। সেখানে নৌকা না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করা আওয়ামী লীগের নেতারা জিতেছেন ৪ ইউনিয়নে।

বদলগাছী উপজেলার আটটির মধ্যে নৌকা জিতেছে ৫টিতে। বাকি তিনটির মধ্যে দুটিতে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতারা। একজন কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

নাটোরের লালপুর এবং বাগাতিপাড়া উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে নৌকা প্রতীকে ৫টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জিতেছেন।

নৌকার চেয়ে বেশি জিতেছেন স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করা আওয়ামী লীগ নেতারা। তারা জয় পেয়েছেন মোট ৬টি ইউনিয়নে।

পাবনার ঈশ্বরদী, চাটমোহর, সাঁথিয়া এই তিন উপজেলার ২৭টি ইউনিয়ন ও বেড়া পৌরসভায় নির্বাচন হয়েছে। বেড়া পৌরসভাসহ ২০টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক ও ৭টি ইউনিয়নে জিতেছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করা নেতারা।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও বেলকুচি উপজেলার ১৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১৬টিতে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা জিতেছেন।

এদের মধ্যে ২ জন জিতেছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। রোববার ভোট হয়েছে বাকি ১৭টিতে। এর মধ্যে ১৪টিতে জয় পান নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা। ৩টিতে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়া বিদ্রোহী নেতারা।

বগুড়ায় ভোট হয়েছে মোট ২৭টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে নৌকা নিয়ে জিতেছেন আওয়ামী লীগের ১২ নেতা, ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহ করা নেতারা জিতেছেন চারটি ইউনিয়নে।

জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের প্রতিটিতেই জিতেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এর মধ্যে একটিতে জয় এসেছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। রোববার ভোট হয় বাকি চারটিতে।

সিলেট বিভাগে সিলেট জেলার ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টিতে আওয়ামী লীগ, ৩টিতে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।

সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জে ভোট হয়েছে।

সদর উপজেলার ৯ ইউনিয়নের একটিতেও জয় পায়নি নৌকা মার্কা। তবে দলের বিদ্রোহী নেতারা জয় পেয়েছেন দুটি ইউনিয়নে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৮ ইউনিয়নের মধ্যে নৌকা জিতেছে দুটিতে। নৌকা না পেয়ে বিদ্রোহী নেতারা জিতেছেন তিনটিতে।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলার ২৩টি ইউনিয়নের মধ্যে নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জিতেছেন ১২টিতে। দলের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহীরা জিতেছেন মোট ৭টিতে।

হবিগঞ্জের ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে আটটিতে নৌকা প্রতীক জয় পেয়েছে। ছয়টিতে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা।

বরিশাল বিভাগে নৌকা জিতেছে ১১টিতে, বিদ্রোহীরা ৬টিতে।

এর মধ্যে রিশালের পাঁচটি ইউ‌নিয়‌নে চেয়ারম্যান প‌দে উ‌জিরপু‌রের বামরাইল ও মুলাদীর বাটামারায় আওয়ামী লী‌গের দুজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন।

রোববার উ‌জিরপুরের হারতা ও বাবু‌গঞ্জের রহমতপু‌রে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জেতেন। উজিরপুরের গুঠিয়ায় জেতেন দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী। সেখানে নৌকার প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

পি‌রোজপুরের দুটি ইউনিয়নেই জিতেছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপ‌জেলার ছয়টি ইউ‌নিয়‌নের মধ্যে চার‌টি‌তে নৌকা ও দুটি‌তে স্বতন্ত্র হিসেবে আওয়ামী লী‌গের বি‌দ্রোহী প্রার্থীরা জিতেছেন।

বরগুনার পাথরঘাটায় চার‌টি ইউ‌নিয়‌নের মধ্যে একটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতেন আওয়ামী লী‌গের প্রার্থী। বা‌কি তিন‌টি‌তেও জেতেন নৌকা মার্কার প্রার্থীরা।

ভোলার চরফ্যাশন উপ‌জেলার সাত‌টি ইউ‌নিয়‌নের মধ্যে পাঁচটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জেতেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

বা‌কি দুটির ম‌ধ্যে এক‌টি‌তে আওয়ামী লী‌গের প্রার্থী এবং অপর‌টি‌তে আওয়ামী লী‌গের বি‌দ্রোহী প্রার্থী জয়লাভ ক‌রেন। ‌

প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন নিউজবাংলার জেলা প্রতিনিধিরা

আরও পড়ুন:
নয়াপল্টনে বিএনপির মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ
নাশকতা মামলায় আসলাম চৌধুরীর বিচার শুরু
রিজভী-দুলুকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা
‘দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে জড়িতদের উৎসাহিত করছে সরকার’
আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল

শেয়ার করুন

বিএন‌পির সমাবেশের ডাকে বিভাগীয় শহর সরগরম

বিএন‌পির সমাবেশের ডাকে বিভাগীয় শহর সরগরম

বিভাগীয় শহরগুলোতে বিএনপির মহাসমাবেশ সফল করতে নেতাকর্মী ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলের চেয়ারপারসনের মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার সুযোগের দাবিতে রাজধানীসহ সব বিভাগীয় শহরে মঙ্গলবার দুপুরে এই সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অসুস্থ থাকায় বরিশালে সমাবেশ পিছিয়ে ৩ ডিসেম্বর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার সুযোগের দাবিতে রাজধানীর নয়াপল্টনের পাশাপাশি মঙ্গলবার বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ করবে বিএনপি। সমাবেশ সফল করতে চলছে প্রস্তুতি, জেলা থেকে নেতাকর্মীরা নিজ নিজ বিভাগীয় শহরে জড়ো হতে শুরু করে দিয়েছেন সোমবার রাত থেকেই।

চট্টগ্রাম নগরীতে মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির সমাবেশ হবে বাকলিয়ায় এলাকায়। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের শামীম জানান, সমাবেশ থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকনসহ সব জেলার নেতাকর্মীরা।

রংপুর নগরীতে মঙ্গলবার দুপুরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের আয়োজন করেছে জেলা ও নগর বিএনপি।

এক বৈঠকে সোমবার সন্ধায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রইচ উদ্দিন জানান, সমাবেশে বিভাগের কয়েক হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত থাকবেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা পাবলিক লাইব্রেরিতে সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কিন্তু অনুমতি মেলেনি। তাই দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ হবে। আশা করছি সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। আমাদের নেত্রী, দেশনেত্রীকে চিকিৎসার সুযোগ, তার নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং নেতাকর্মীদের নাম করা মিথ্যা মামলা ও হয়রানি বন্ধ করবে।’

সিলেটে দলটির বিভাগীয় সমাবেশ হবে মঙ্গলবার দুপুর ২টায়, নগরীর রেজিস্টারি মাঠে।

জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত এই সমাবেশকে সফল করতে কয়েকদিন ধরেই সিলেটে প্রচার চালাচ্ছেন নেতারা।

সমাবেশ উপলক্ষ্যে সোমবার সন্ধ্যায় মতবিনিময় সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘পুলিশ আমাদের সব কর্মসূচিতে বাধা দেয়। আশা করছি এই মানবিক কর্মসূচিতে বাধা দেবে না। পুলিশের বাধা না পেলে কাল মহাসমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত করা হবে।’

ময়মনসিংহ নগরীর কৃষ্ণচূড়া চত্বরে দুপুরে সমাবেশের আয়োজন করেছে জেলা বিএনপি।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু জানান, সমাবেশে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন।

বিএন‌পির সমাবেশের ডাকে বিভাগীয় শহর সরগরম

রাজশাহীতে সমাবেশের স্থল সোমবার সন্ধ্যা অব্দি ঠিক করা যায়নি বলে জানান বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু।

তিনি বলেন, ‘রাজশাহীতে বড় সমাবেশ করার চেষ্টা করছি। শহরের বাটার মোড়ে করার চেষ্টা আছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও অনুমতি দেয়া হয়নি। বাটার মোড়ে অনুমতি না পেলে আমরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে ভূবন মোহন পার্কে সমাবেশ করবো।’

মিনু আরও বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। আমি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলাম। আমার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আসলে কারাগারে থাকাকালেই বেগম জিয়াকে স্লো পয়জনিং করা হয়েছে এবং তার প্রভাবেই আজ নেত্রীর এই অবস্থা। তাকে বিদেশে যেতে দেয়া হচ্ছে না একারণেই। কারণ বিদেশী চিকিৎসকরা বের করে ফেলবে কেন তার এই সমস্যা হলো।’

এদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অসুস্থ থাকায় বরিশালে বিভাগীয় সমাবেশ পিছিয়ে ৩ ডিসেম্বর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

মহানগর বিএন‌পির সদস‌্য স‌চিব মীর জা‌হিদুল ক‌বির জা‌হিদ এ তথ্য নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন।

তি‌নি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমা‌দের সব প্রস্তু‌তিই সম্পন্ন হয়েছে। তবে সমাবেশের স্থান নির্ধারণ হয়‌নি। আমরা দুই‌টি জায়গার জন‌্য পার‌মিশন চেয়ে‌ছিলাম। জিলা স্কুল ও ঈদগাহ খেলার মাঠ। সম্ভবত জিলা স্কু‌লেই আমরা সমাবেশ করবো‌। এটা আগামীকাল সিউর হওয়া যা‌বে।’

বিএন‌পির সমাবেশের ডাকে বিভাগীয় শহর সরগরম

সমাবেশের প্রস্তুতির বিষয়ে সোমবার সন্ধ্যায় জেলা ও মহানগর বিএন‌পির কার্যালয়ে সভা হয়েছে। সেখানে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম তস‌লিম বলেন, ‘বেগম খা‌লেদা জিয়ার সু‌চি‌কিৎসার দাবিতে মহাসমাবেশে লাখ লাখ নেতাকর্মী বিভাগের বি‌ভিন্ন স্থান থেকে এখানে আসবেন। এর জন‌্য যে প্রস্তু‌তি নেয়া দরকার সেটা অলরে‌ডি হয়ে গেছে।’

দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা করানোর সুযোগ দেয়ার দাবিতে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপি।

দণ্ড স্থগিত করে ২০২০ সালে বিএনপি নেত্রীকে কারাগারের বাইরে আসার সুযোগ করে দেয়া হয় দণ্ডবিধির ৪০১ ধারা প্রয়োগ করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া সে আদেশে শর্ত হিসেবে দেশের বাইরে না যাওয়ার কথা বলা ছিল।

তবে গত এপ্রিলে করোনা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে একদফা এবং সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আরেক দফা আবেদন করা হয়।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, দণ্ডবিধির ৪০১ ধারা একবার প্রয়োগ করার পর দ্বিতীয়বার প্রয়োগের সুযোগ নেই।

বিএনপি অবশ্য এই ব্যাখ্যা মানতে রাজি নয়। তাদের নেত্রীর লিভার সিরোসিস হয়েছে- এই বিষয়টি জানিয়ে ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানির মতো দেশেই এর চিকিৎসা আছে। বিদেশে পাঠাতে দেরি হলে বিএনপি নেত্রীকে বাঁচানো যাবে না- এমন শঙ্কার কথাও বলছেন নেতারা।

বিএন‌পির সমাবেশের ডাকে বিভাগীয় শহর সরগরম

এদিকে, লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত বেগম জিয়ার চিকিৎসা দেশেই সম্ভব বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)।

খালেদার চিকিৎসায় বিষয়ে সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিএমএ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বাংলাদেশেই সম্ভব। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিতৎসকরাই এই রোগের বিশ্ব মানের চিকিৎসাসেবা দিতে সক্ষম।’

আরও বলা হয়েছে, লিভার সিরোসিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আধুনিক পদ্ধতিতে দেশের সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা দিতে সক্ষম, তা করোনাকালে প্রমাণিত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
নয়াপল্টনে বিএনপির মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ
নাশকতা মামলায় আসলাম চৌধুরীর বিচার শুরু
রিজভী-দুলুকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা
‘দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে জড়িতদের উৎসাহিত করছে সরকার’
আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল

শেয়ার করুন

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেশে সম্ভব: বিএমএ

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেশে সম্ভব: বিএমএ

ফাইল ছবি

বিএমএর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে লিভার সিরোসিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আধুনিক পদ্ধতিতে দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা দিতে সক্ষম, তা করোনাকালীন সময়ে দৃঢ়ভাবে প্রমাণিত হয়েছে। কেননা এ সময়ে বাংলাদেশের প্রায় সব জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীরা দেশেই চিকিৎসা নিয়েছেন।

লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেশেই সম্ভব বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)।

খালেদার চিকিৎসায় বিষয়ে সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিএমএ।

বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণ সম্পর্কে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বাংলাদেশেই সম্ভব। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাই এই রোগের বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা দিতে সক্ষম।’

বিবৃতিতে বিএমএর বর্তমান ও সাবেক কেন্দ্রীয় নেতারাসহ দেশের স্বনামধন্য ছয়জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সই রয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে লিভার সিরোসিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আধুনিক পদ্ধতিতে দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা দিতে সক্ষম, তা করোনাকালীন সময়ে দৃঢ়ভাবে প্রমাণিত হয়েছে। কেননা এ সময়ে বাংলাদেশের প্রায় সব জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীরা দেশেই চিকিৎসা নিয়েছেন।

বিএমএর বিবৃতির এক দিন আগে রোববার বিএনপি নেত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের গঠন করা মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান এফ এম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত এবং দেশে এর যথাযথ চিকিৎসা সম্ভব নয়।

লিভার সিরোসিসের কারণে খালেদা জিয়ার শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে জানিয়ে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানির বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসার সুপারিশ করেন।

তারা জানিয়েছেন, বিএনপি নেত্রীর যকৃৎ বা লিভারে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। একবার এই রক্তক্ষরণ সামাল দেয়া গেছে। তবে এখন তার যে অবস্থা, সেটি আবার সামাল দেয়া কঠিন হবে।

দুই থেকে তিনবার রক্তক্ষরণ সামাল দেয়ার কারিগরি সুযোগ বাংলাদেশে নেই দাবি করে যত দ্রুত সম্ভব তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

রোববার সন্ধ্যায় বিএনপি নেত্রীর গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ব্রিফিং করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা। তারা দাবি করেন, বেগম খালেদা জিয়ার যে রোগ হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির অল্প কয়েকটি বিশেষায়িত সেন্টারে তার চিকিৎসা সম্ভব। বাংলাদেশে এই চিকিৎসার কারিগরি সুযোগ-সুবিধা যেমন নেই, তেমনি ওষুধও নেই।

আরও চার মাস আগে বিএনপি নেত্রীকে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে তার শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হতো না বলেও দাবি করেন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় দলের গঠন করা মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান।

বিএমএর বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে যে বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন সেখানে তিনি বা তার মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসকরা যদি প্রয়োজন মনে করেন তাহলে বিদেশ থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে এনে পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন। বর্তমানে শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে উনাকে অন্যত্র স্থানান্তর করা উপকারের পরিবর্তে ক্ষতির আশংকা বেশী বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মনে করেন। যা ওই হাসপাতালের চিকিৎসা দেয়া চিকিৎসকরাও এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেছেন।’

সুতরাং, রাজনৈতিক বিবেচনায় না নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ীই দেশেই তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া উচিত বলে জানিয়েছে বিএমএ।

বিবৃতিতে সই করেছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সাবেক সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান, বিএমএর সাবেক মহাসচিব ডা. মো. শফিকুর রহমান, আরেক সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ডা. কাজী শহিদুল আলম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া এবং বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

আরও পড়ুন:
নয়াপল্টনে বিএনপির মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ
নাশকতা মামলায় আসলাম চৌধুরীর বিচার শুরু
রিজভী-দুলুকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা
‘দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে জড়িতদের উৎসাহিত করছে সরকার’
আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল

শেয়ার করুন

নির্বাচনের দুই দিনে ১০ প্রাণহানি

নির্বাচনের দুই দিনে ১০ প্রাণহানি

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ এই যুবকের মৃত্যু হয় রংপুর মেডিক্যালে। ছবি: নিউজবাংলা

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ভোট চলাকালে প্রাণহানির কোনো ঘটনা না ঘটলেও ভোট শেষে বিভিন্ন জেলা থেকে সহিংসতার খবর আসতে থাকে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সাত জেলায় ১০ জন নিহতের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে আছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া দুজন।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ভোটের পরে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ হয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ে। জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর সনগাঁও ইউনিয়নের ওই সংঘর্ষের ঘটনায় সোমবার দুপুর পর্যন্ত তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম এ তথ্য নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সনগাঁও ইউনিয়নের গিডক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফল ঘোষণা নিয়ে হট্টগোলের পর কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের অবরুদ্ধ করেন স্থানীয়রা। তাদের হটিয়ে দিতে গেলে বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। বিজিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি চালালে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন।

ওসি জানান, গুলিবিদ্ধদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর চিকিৎসক শাহপলি নামে একজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুল জব্বার বলেন, ‘রাত ১২টার দিকে হাসপাতালে পাঁচজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আনা হয়। এর মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় পাই। বাকি চারজনকে সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।’

ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নাদিরুল আজিজ চয়ন বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে চারজনকে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। সারা রাত সেই দুজনকে আইসিইউতে রাখি এবং সকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করি। রাস্তায় সেই দুজন মারা যান।’

ওসি জাহাঙ্গীর জানান, সোমবার মারা যাওয়া দুজন হলেন ৪০ বছরের মো. মাজহারুল ও ১৭ বছরের আদিত্য রায়। তিনজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

যেভাবে সংঘর্ষ শুরু

ওসি জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভোট শেষ হওয়ার পর ফল ঘোষণা করতে দেরি করছিলেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুজ্জামানের সমর্থকদের বিতর্ক হয়। পরে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নৌকার প্রার্থী শহীদ হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

‘ফল ঘোষণার পর নাখোশ কিছু এলাকাবাসী ভোটকেন্দ্র অবরুদ্ধ করে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সেখান থেকে পালাতে পারলেও একটি রুমে অবরুদ্ধ করা হয় তিন পুলিশ ও ১৫-১৬ জন আনসার সদস্যকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও দুই প্লাটুন বিজিবি সেখানে যায়। এলাকাবাসী তাদের ওপর হামলা চালান। বিজিবি পরে গুলি চালালে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন।’

নির্বাচনের দুই দিনে ১০ প্রাণহানি
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ভোটের পর সহিংসতায় ঘটনাস্থলে নিহত হন এই ব্যক্তি

তিনি আরও জানান, গুলিবিদ্ধ দুজন রংপুর মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতায় সোমবার সিরাজগঞ্জ ও কক্সবাজারে দুজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে ভোট দেখতে গিয়ে মারধরে প্রাণ হারায় স্কুলছাত্র দেলোয়ার হোসেন সাগর। সে মাছুয়াকান্দি গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে ও সলঙ্গা ইসলামি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়ত।

হাটিকুমরুল ইউপির চেয়ারম্যান হেতায়েতুল আলম নিউজবাংলাকে জানান, রোববার দুপুরে ভোট চলাকালে মাছুয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী সেলিম রেজা মোল্লা ও হিরা সরদারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

ভোট দেখতে গিয়ে সেখানে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পড়ে আহত হয় সাগর। তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোররাতে ছেলেটি মারা যায়।

নির্বাচনের দুই দিনে ১০ প্রাণহানি
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত স্কুলছাত্র দেলোয়ার হোসেন সাগর

কক্সবাজারের চকরিয়ায় আওয়ামী লীগের নতুন চেয়ারম্যান নুরে হোছাইন আরিফের ভাগনেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে ফল ঘোষণার পর।

বদরখালী ইউনিয়নে রোববার রাত পৌনে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে সোমবার দুপুরে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমাণ গণি বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

নিহত গিয়াস উদ্দিন মিন্টুর বাড়ি ১ নম্বর ওয়ার্ড ঢেমুশিয়া পাড়ায়।

স্থানীয়দের বরাতে ওসি জানান, রোববার বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আরিফ জয়ী হন। ফল ঘোষণার পর মিছিল বের করেন তিনি। গাউসিয়া মসজিদ হেফজখানা এলাকায় রাত পৌনে ১১টার দিকে মিছিলে হামলা চালান চশমা প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী হেফাজ সিকদারের এক থেকে দেড় শ সমর্থক।

এ সময় আরিফের ভাগনে গিয়াস উদ্দিনকে লাঠি ও দা দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৩টার দিকে মিন্টুর মৃত্যু হয়।

এর আগে রোববার ভোটের পর সহিংসতায় নরসিংদীতে দুজন এবং লক্ষ্মীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও নীলফামারীতে তিনজন নিহত হয়েছেন।

নির্বাচনের দুই দিনে ১০ প্রাণহানি

ভোট শেষে রোববার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার জানান, সহিংসতাহীন নির্বাচন হয়েছে।

আগের দুই ধাপের তুলনায় এবার সহিংসতা কম হয়েছে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘এবার সহিংসতা যাতে না হয়, তার জন্য আগে থেকেই বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগের চেয়ে বেশি তৎপর ছিল। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও সহনশীল আচরণ করেছেন। এতে আগের চেয়ে বিচ্ছিন্ন ঘটনাও কম হয়েছে।

‘বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও নির্বাচন কমিশন একটি সহিংসতার ঘটনা ঘটবে বলেও আশা করে না। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ এবং প্রার্থীদের সহনশীল এমন আচরণ অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে সহিংসতা আরও কমবে।’

তার এই সংবাদ সম্মেলনের পরপরই বিভিন্ন জেলা থেকে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও প্রাণহানির খবর আসতে থাকে।

এর আগে দ্বিতীয় ধাপের ভোটের আগে-পরে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু নরসিংদীতেই মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। এ ছাড়া মাগুরায় ৪, মেহেরপুরে ২ এবং কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে নিহত হয়েছেন ১ জন করে।

আরও পড়ুন:
নয়াপল্টনে বিএনপির মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ
নাশকতা মামলায় আসলাম চৌধুরীর বিচার শুরু
রিজভী-দুলুকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা
‘দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে জড়িতদের উৎসাহিত করছে সরকার’
আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল

শেয়ার করুন

খালেদা ইস্যু: নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে বিএনপি

খালেদা ইস্যু: নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে বিএনপি

বিএনপির সমাবেশের আগের দিন সোমবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন দলের মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ করে দেয়ার দাবিতে গত ২০ নভেম্বর নয়াপল্টনে অনশন শেষে আট দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সেখানে অবশ্য মঙ্গলবারের এই সমাবেশের কথা ছিল না।

দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ করে দিতে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে পুলিশের অনুমতি পাওয়ার কথা জানিয়েছে বিএনপি।

মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে এই সমাবেশ হবে বলে জানিয়েছেন দলটির মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী। সমাবেশের আগের দিন সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান তিনি।

দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা করানোর সুযোগ দেয়ার দাবিতে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপি।

দণ্ড স্থগিত করে ২০২০ সালে বিএনপি নেত্রীকে কারাগারের বাইরে আসার সুযোগ করে দেয়া হয় দণ্ডবিধির ৪০১ ধারা প্রয়োগ করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া সে আদেশে শর্ত হিসেবে দেশের বাইরে না যাওয়ার কথা বলা ছিল।

তবে গত এপ্রিলে করোনা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে একদফা এবং সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আরেক দফা আবেদন করা হয়।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, দণ্ডবিধির ৪০১ ধারা একবার প্রয়োগ করার পর দ্বিতীয়বার প্রয়োগের সুযোগ নেই।

বিএনপি অবশ্য এই ব্যাখ্যা মানতে রাজি নয়। তাদের নেত্রীর লিভার সিরোসিস হয়েছে- এই বিষয়টি জানিয়ে ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানির মতো দেশেই এর চিকিৎসা আছে। বিদেশে পাঠাতে দেরি হলে বিএনপি নেত্রীকে বাঁচানো যাবে না- এমন শঙ্কার কথাও বলছেন নেতারা।

বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ করে দেয়ার দাবিতে গত ২০ নভেম্বর নয়াপল্টনে অনশন শেষে আট দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সেখানে অবশ্য মঙ্গলবারের এই সমাবেশের কথা ছিল না।

সোমবার সকাল থেকেই বিএনপিতে আলোচনা ছিল একটি সমাবেশ ডাকা হবে। তবে পুলিশের অনুমতি পাওয়া যাবে কি না, এ নিয়ে সংশয়ও ছিল। সেটি কেটে যাওয়ার পরেই মূলত গণমাধ্যমের সামনে আসেন রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, মুহাম্মদ মনির হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
নয়াপল্টনে বিএনপির মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ
নাশকতা মামলায় আসলাম চৌধুরীর বিচার শুরু
রিজভী-দুলুকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা
‘দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে জড়িতদের উৎসাহিত করছে সরকার’
আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল

শেয়ার করুন

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে: খালেদা প্রসঙ্গে কাদের

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে: খালেদা প্রসঙ্গে কাদের

নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা নিয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

কাদের বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) অসুস্থ। আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা আগেও বলেছি, বিদেশ থেকে ডাক্তার নিয়ে আসুন। আইনের কারণেই আমরা অপারগ। এটাই একটিমাত্র কারণ। তারপরও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার সকালে নবাবগঞ্জ পার্কে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে ইউনিট সম্মেলনে তিনি বিএনপির নেত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়েও কথা বলেন।

কাদের বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) অসুস্থ। আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা আগেও বলেছি, বিদেশ থেকে ডাক্তার নিয়ে আসুন। আইনের কারণেই আমরা অপারগ। এটাই একটিমাত্র কারণ। তারপরও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আমরা বেগম জিয়ার মৃত্যু কামনা করি না। তিনি দ্রুত আরোগ্য লাভ করুক, এটা আমরা চাই, কিন্তু সবকিছুর একটা নিয়ম আছে। আইনমন্ত্রী বলেছেন। এরপর এ বিষয়টি নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না।’

এ জন্য বিএনপির উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যাকে মারতে চেয়েছেন (শেখ হাসিনা) তিনিই মানবিক হয়েছেন খালেদা জিয়ার প্রতি, কিন্তু আপনারা তার পিতাকে হত্যা করেছেন আর তাকে হত্যা করার জন্য গ্রেনেড হামলা করেছেন।’

বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে রাজনীতি করছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে নিয়ে এত মায়াকান্না। বেগম জিয়ার মামলা ৭ বছর তারা ঝুলিয়ে রেখেছে, কিন্তু এখন তার জন্য তারা মায়াকান্না কাঁদে। বেগম জিয়া যদি বেশি অসুস্থ হন তাহলে তার জন্য দায়ী বিএনপি। বিএনপি খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে যত কথা বলেছে, তার চেয়ে বেশি রাজনীতি করেছে।’

এ সময় ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর ও ২১ আগস্ট ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন ওবায়দুল কাদের। এসব ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেন তিনি।

বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘বিএনপি নেতারা আন্দোলনের ডাক দিয়ে ঘরে বসে হিন্দি সিরিয়াল দেখে। বিএনপি নেতারাই মাঠে নামে না। আর টেলিফোনে খবর নেয়, পুলিশের গতিবিধি কেমন।’

‘বেসরকারি বাসমালিকদের অনুরোধ করেছেন নেত্রী’

শিক্ষার্থীদের জন্য বাস ভাড়া হাফ দাবির প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘তারা হাফ ভাড়া দাবি করেছে। সরকারের কাছে বিআরটিসি ছিল। নেত্রী বলেছেন, বিআরটিসি ৫০ শতাংশ করে দাও। আমরা ভাড়া মওকুফ করেছি। দাবি অনুসারে ঢাকা সিটিতে কনসেশন দেয়ার কথা, নেত্রী বললেন সারা দেশেই দাও। নেত্রী নিজে অনুরোধ করেছেন বেসরকারি বাসমালিকদের, আমিও করেছি।’

বাসমালিকদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাসমালিকদের আমি বলছি, এটার সামাজিক দায়বদ্ধতা আছে। ছাত্ররা কনসেশন বহু আগে থেকেই পেত। আমি আশা করি, এ বিষয়ে আপনারা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবেন। আমরা ছাত্রদের রাস্তায় দেখতে চাই না। তারা ক্যাম্পাসে ফিরে যাক। তাদেরও ফখরুল সাহেবরা সাপোর্ট করার নামে উসকানি দিচ্ছেন।’

ইউপি নির্বাচনে ভোটের উপস্থিতিতে রেকর্ড

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ব্যাপক উৎসব-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘৭০ থেকে ৭৫ ভাগ ভোটকেন্দ্রে গিয়েছে। মহিলারা ভোর থেকে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে। উৎসবমুখর একটা নির্বাচন হচ্ছে। অথচ কিছু বুদ্বিজীবী ও রাজনীতিক যে বলেন, মানুষ নাকি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।’

এ সময় ভালো আচরণ দিয়ে মানুষের মন জয় করার জন্য তৃণমূল নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। বলেন, ‘মানুষের মন জয় করতে হলে ভালো আচরণ দিয়ে জয় করতে হবে। মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করলে সরকারের অর্জন ম্নান হয়ে যাবে।

‘মনে রাখবেন একটা খারাপ আচরণ দশটা উন্নয়নকেও ঢেকে দিতে পারে। মানুষকে অখুশি করলে, ক্ষমতার দাপট দেখালে মানুষ হয়তো এখন আপনাদের ভয় করবে, কিন্তু নির্বাচন যখন হবে ব্যালটের মধ্যে শাস্তি দিয়ে দেবে। নির্বাচনে খারাপ ব্যবহারের শাস্তি পেতে হবে।’

দলের কিছু নেতা-কর্মীর অপকর্মের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের সব অর্জন ম্নান হয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘চাঁদাবাজির অভিযোগ আসে, সন্ত্রাস, জমি দখল, বাড়ি দখলের অভিযোগ আসে, মাদক ব্যবসার অভিযোগ আসে। এসব অপকর্ম আমাদের দলের উন্নয়নকে ম্নান করে দিচ্ছে। নেত্রী এত উন্নয়ন করেন, তারাই সব ধ্বংস করে দিচ্ছে।’

ইউনিট সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহম্মেদ মান্নাফি ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজি মোহাম্মদ সেলিমসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
নয়াপল্টনে বিএনপির মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ
নাশকতা মামলায় আসলাম চৌধুরীর বিচার শুরু
রিজভী-দুলুকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা
‘দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে জড়িতদের উৎসাহিত করছে সরকার’
আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল

শেয়ার করুন