স্কুলে যাওয়ার পথে দুই ছাত্রী নিখোঁজ

স্কুলে যাওয়ার পথে দুই ছাত্রী নিখোঁজ

পাথরঘাটা আদর্শ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী নিখোঁজ হয়েছে। ছবি: নিউজবংলা

পাথরঘাটা আদর্শ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম রেজা জানান, ‘গত দুই দিন সুখি ও লামিয়া নামের দুই ছাত্রী স্কুলে আসেনি। বিষয়টি উদ্বেগজনক।’

বরগুনার পাথরঘাটায় স্কুলে যাওয়ার পথে দুই ছাত্রী নিখোঁজ হয়েছে।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা হলো পাথরঘাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোশাররফ হোসেনের ১২ বছরের মেয়ে সুখি এবং আজাদ খানের একই বয়সের মেয়ে আয়শা আক্তার লামিয়া।

তারা পাথরঘাটা আদর্শ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এ ঘটনায় সোমবার রাত ৮টার দিকে পাথরঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন দুই শিশুর অভিভাবকরা।

অভিভাবকরা জানান, শনিবার সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য তারা বাড়ি থেকে বের হয়। পাথরঘাটা হল রোড দিয়ে দুজন স্কুলের দিকে যায়। স্কুল ছুটির পর বাড়ি না ফেরায় খুঁজতে বের হন তাদের অভিভাবকরা। স্কুলে গিয়ে জানা যায়, তারা স্কুলে যায়নি।

তবে স্থানীয় লোকজন তাদের একসঙ্গে স্কুলের দিকে যেতে দেখেছে।

সুখির খালা নুর জাহান জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে একটি নম্বর থেকে তার মোবাইল ফোনে কল আসে। কলটি রিসিভ করলে নারী কণ্ঠে হ্যালো বলে লাইনটি কেটে মোবাইলটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

পাথরঘাটা আদর্শ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম রেজা জানান, ‘গত দুই দিন সুখি ও লামিয়া নামের দুই ছাত্রী স্কুলে আসেনি। বিষয়টি উদ্বেগজনক।’

এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার বলেন, ‘ছাত্রীদের অভিভাবকরা সোমবার সন্ধ্যায় থানায় আলাদা দুটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখছি।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত

ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত

প্রতীকী ছবি

নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমাদুল জায়েদিন বলেন, ‘কাজ শেষে আমানুল্লাহ ধান ভাঙ্গার মেশিনে ইঞ্জিন লাগিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে রেলগেট এলাকায় এসে রাস্তা পারাপারের সময় নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী উপকূল এক্সপ্রেসের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।’

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার খানাবাড়িতে ট্রেনের ধাক্কায় এক যুবক নিহত হয়েছেন।

খানাবাড়ি রেলস্টেশনের অরক্ষিত রেলগেট এলাকায় রোববার বেলা ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম মো. আমানুল্লাহ। তার বাড়ি উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের পূর্ব পাড়া এলাকায়

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমাদুল জায়েদিন।

তিনি বলেন, ‘কাজ শেষে আমানুল্লাহ ধান ভাঙ্গার মেশিনে ইঞ্জিন লাগিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে রেলগেট এলাকায় এসে রাস্তা পারাপারের সময় নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী উপকূল এক্সপ্রেসের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ সনাক্ত করে। এ ঘটনায় পরিবারে স্বজনদের আপত্তি না থাকায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

শেয়ার করুন

তালই সম্বোধন করা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ২০

তালই সম্বোধন করা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ২০

দিরাই থানার ওসি (তদন্ত) আকরাম আলী বলেন, আত্মীয়তার সম্বোধন নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরিবারের অমতে ছয়মাস আগে পালিয়ে বিয়ে করেন রাজন বিশ্বাস ও শান্তনা দেবনাথ।

মেয়ে পক্ষের মামলায় রাজন জেল খাটলেও জামিনে ছাড়া পান রাজন। স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার চলছিল ঠিকঠাক। তবে হঠাৎ সেই সংসারের ছন্দপতন। এক আত্মীয়কে ‘তালই’ সম্বোধন করা নিয়ে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হয়েছে সংঘর্ষ।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার সকাল ১০টার দিকে দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের পুরাতন কর্ণগাঁও গ্রামে।

ছেলে পক্ষের আহতরা হলেন জীতেশ বিশ্বাস, স্বপন বিশ্বাস, সাজন বিশ্বাস, দিবিন্দ বিশ্বাস, নিরঞ্জন বিশ্বাস, ধরনী বিশ্বাস, রেনু বিশ্বাস, শান্তনা বিশ্বাস, সাগর বিশ্বাস, কাজল বিশ্বাস এবং মেয়ে পক্ষের জগবন্ধু দেবনাথ, রতিন্দ্র দেবনাথ, বাবুল দেবনাথ, বিপুল দেবনাথ, বনবামালি দেবনাথ, প্রদীপ দেবনাথ, শামল দেবনাথ, কান্ত দেবনাথ, রেখা দেবনাথ, বিজয়া দেবী, রুহিনী দেবী, সুচিত্রা দেবী। আহতরা দিরাই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দিরাই থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুরাতন কর্ণগাঁও গ্রামের লালমোহন বিশ্বাসের ছেলে রাজন ও শশাঙ্ক দেবনাথের মেয়ে শান্তনা পরিবারের অমতে পালিয়ে বিয়ে করেন। এ ঘটনায় মেয়ের পরিবার মামলা করলে দেড়মাস হাজতবাস শেষে জামিন পান রাজন।

তবে শনিবার রাতে রাজনের ভাই সাজন বিশ্বাস মেয়ের চাচা নীরেশ দেবনাথকে তালই সম্বোধন করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরই জেরে রোববার সকালে দুই পরিবারের লোকজন সংঘর্ষে জড়ায়।

দিরাই থানার ওসি (তদন্ত) আকরাম আলী নিউজবাংলাকে বলেন, আত্মীয়তার সম্বোধন নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

এমপির সামনে ‘অপদস্ত’ ইউএনও, ‘লাঞ্ছিত’ ব্যাংক কর্মকর্তা

এমপির সামনে ‘অপদস্ত’ ইউএনও, ‘লাঞ্ছিত’ ব্যাংক কর্মকর্তা

পলাশবাড়ি উপজেলা পরিষদ টাউন হলরুমে এমপির সামনে ইউএনওকে অপদস্ত ও ব্যাংক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। ছবি: নিউজবাংলা

অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় এক সংবাদকর্মী জানান, মহান বিজয় দিবসের আলোচনার শেষপর্যায়ে হঠাৎ এমপির উপস্থিতিতেই ব্যাংক ম্যানেজার রওশন জামিলকে গালিগালাজ করতে থাকেন চেয়ারম্যান মোকসেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ। এ সময় এমপিসহ উপস্থিত সবাই বিদ্যুৎকে থামানোর চেষ্টা করেন। তবে বিদ্যুৎ এমপিকে উপেক্ষা করে গালিগালাজ করতে থাকেন। তাৎক্ষণিক ইউএনও নয়ন এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বিদ্যুৎ। পরে তিনি ইউএনওর সঙ্গে তর্কে জড়ান।

গাইবান্ধার সংসদ সদস্য (এমপি) ও কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতির উপস্থিতিতেই এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে গালিগালাজ ও লাঞ্ছিতের অভিযোগ উঠেছে পলাশবাড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করে ইউএনও বাগবিতণ্ডা ও জেরার মুখে পড়েন।

তবে ব্যাংক ম্যানেজারকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে উপজেলা চেয়ারম্যান। আর সংসদ সদস্য বলছেন, ঘটনাটি দুঃখজনক।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলা পরিষদ টাউন হলরুমে ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকালে। এদিন উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা চলছিল।

সভায় পলাশবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান নয়নের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ি) আসনের এমপি উম্মে কুলসুম স্মৃতি, পলাশবাড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোকসেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ, পৌর মেয়র গোলাম সরোয়ার প্রধান বিপ্লব, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বকর প্রধান ও সোনালী ব্যাংক পলাশবাড়ি শাখার ম্যানেজার রওশন জামিলসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় এক সংবাদকর্মী জানান, মহান বিজয় দিবসের আলোচনার শেষপর্যায়ে হঠাৎ এমপির উপস্থিতেই ব্যাংক ম্যানেজার রওশন জামিলকে গালিগালাজ করতে থাকেন চেয়ারম্যান মোকসেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ।

এ সময় এমপিসহ উপস্থিত সবাই বিদ্যুৎকে থামানোর চেষ্টা করেন। তবে বিদ্যুৎ এমপিকে উপেক্ষা করে গালিগালাজ করতে থাকেন। তাৎক্ষণিক ইউএনও নয়ন এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বিদ্যুৎ। পরে তিনি ইউএনওর সঙ্গে তর্কে জড়ান।

এমপির সামনে ‘অপদস্ত’ ইউএনও, ‘লাঞ্ছিত’ ব্যাংক কর্মকর্তা


সেদিনের অনুষ্ঠানের প্রায় দেড় মিনিটের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়েছে। ভিডিওর শুরুতেই এমপি স্মৃতির সামনেই আঙুল তুলে ইউএনওকে শাসাতে দেখা যায় চেয়ারম্যান বিদ্যুৎকে। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘‘সে (রওশন জামিল) ‘শয়তানের বাচ্চা’ আবারও বললাম- আপনি (ইউএনও) লেখেন আমার বিরুদ্ধে।’’

জবাবে ইউএনও বলেন, ‘আমি লিখব না তো; আমার ওতো হক নাই। সে তো একজন অফিসার। সে তো এমনি এমনি আসে নাই। তার বাবা বেঁচে আছে কি না- তাকে তুলে এভাবে (গালিগালাজ), এটা কী হয়।’

এভাবে চলা বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ বলেন, ‘আপনার মতো বহু ইউএনওর সঙ্গে চাকরি করে আসছি। আমি পলাশবাড়িতেই থাকব।’

এ সময় নিজেকে সামান্য ইউএনও দাবি করে নয়ন বলেন, ‘আমি পলাশবাড়িতে হয়তো থাকব না। এটাই তো।’

তর্কের একপর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান বলে ওঠেন, ‘এই নির্বাচনটাও (তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন) তো আপনার জন্য হারছে পলাশবাড়িতে।’

‘সেটা যদি; নৌকা মার্কায় ভোট দিতে পারেন দেন। এখানে আমার অনিয়মটা কোথায়।’ বলেন ইউএনও।

দীর্ঘ সময় ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের চলা বাগবিতণ্ডা বারবার থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন এমপি স্মৃতি। এ সময় তাদের তর্ক দাঁড়িয়ে শুনছিলেন অন্যরা।

মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় লাঞ্ছিত হওয়া ব্যাংক ম্যানেজার রওশন জামিল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উনার নিজের নামে (উপজেলা চেয়ারম্যান) একটা লোন প্রস্তাব ছিল ১৫ লাখ টাকার। উনি ব্যবসার ওপর এসএমই লোন চান। কিন্তু আদৌ উনার কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নাই।

‘এই লোনের বিপরীতে আমার ক্ষমতা রয়েছে মাত্র ৪ লাখ। তবে প্রিন্সিপাল অফিস চাইলে দিতে পারে। কিন্তু তারাও প্রস্তাবটা ফেরত দিয়েছেন।’

ম্যানেজার বলেন, ‘আমিও তাকে সম্মানের সঙ্গে বলেছি, এটা তো এভাবে প্রসেস করা সম্ভব হচ্ছে না। তো এটাই উনার ক্ষোভ আর কী? এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ সেদিনের ঘটনা।’

বিজয় দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানের দিন কখন কীভাবে এ ঘটনার সূত্রপাত। এ প্রশ্নে রওশন জামিল বলেন, ‘‘অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে আমিসহ জনতা ব্যাংকের এক কর্মকর্তা এমপি স্যারকে সালাম জানাতে তার কাছে যাই। সালাম দিয়ে আপার সঙ্গে কথা বলছিলাম- ঠিক এমন সময় হঠাৎ উনি (উপজেলা চেয়ারম্যান) গালিগালাজ শুরু করেন। বলেন, ‘সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার একটা শয়তানের বাচ্চা।’ কথাটা বারবার বলল। আমি তখনও আপার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম।’’

এমপির সামনে ‘অপদস্ত’ ইউএনও, ‘লাঞ্ছিত’ ব্যাংক কর্মকর্তা


সবার সামনে আপনাকে গালিগালাজ দেয়ার পর কেউ প্রতিবাদ করেনি। এমন প্রশ্নে জামিল বলেন, ‘প্রথমে ম্যাডামই (এমপি) কথা ধরেছেন, বলেন- এই বিদ্যুৎ; তুমি কী বলছ এসব! থাম; কী হয়েছে, বিষয়টা শুনি। এর পর পরই ইউএনও স্যার কথা ধরেছেন।’

তবে ব্যাংক লোনের জন্য প্রস্তাব ও ব্যাংক ম্যানেজারকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ বলেন, ‘আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নেই। আমি তো তার কাছে লোন চাই নাই। তার কাছে কোনো পেপার্স (ডকুমেন্ট) আছে; আমার লোন চাওয়ার।’

এক প্রশ্নের উত্তরে বিদ্যুৎ বলেন, ‘আমার তো তার সঙ্গে কিছুই হয়নি। উনি যদি একজন উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতি শ্রদ্ধাবোধটুকু না রাখেন; পলিটিক্স করতে চান! করুক। উনি তো চাকরিবাকরি করবেন না এলাকায়। পলিটিক্স করবেন- সমস্যা কী, করুক। আমি তো ওনাকে অপমান-অপদস্ত করিনি। ওনার গায়ে হাত দেইনি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বিষয়ে বলেন, ‘আমাকে যা করা হয়েছে-সে বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নাই। তবে আমার মনে হয়েছে, একজন অফিসারকে এভাবে বলাটা ঠিক সমীচীন নয়- তাই আমি বলেছি (প্রতিবাদ)। আমার ধারণা, হঠাৎ করে রাগের মাথায় ঘটে থাকতে পারে ঘটনাটি।’

ইউএনও বলেন, ‘এটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। তাই এটা নিয়ে আমরা সবাই বিব্রত।’

ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে এমপি উম্মে কুলসুম স্মৃতি বলেন, ‘এমন ঘটনা কখনই কাম্য নয়।’

শেয়ার করুন

গরু চুরির ঘটনায় ৬ পুলিশ প্রত্যাহার

গরু চুরির ঘটনায় ৬ পুলিশ প্রত্যাহার

আশরাফুল ইসলামের এ খামার থেকে গরুগুলো চুরি হয়। ছবি:নিউজবাংলা

গোমস্তাপুর থানার ওসি দিলিপ কুমার বলেন, ‘চুরি হওয়া গরু উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় দায়িত্বে থাকা ৬ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে এক ব্যক্তির খামার থেকে ১৫টি গরু চুরির ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ৬ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

গোমস্তাপুর থানা থেকে শনিবার সন্ধ্যায় তাদের জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে একজন এসআই, দুজন এএসআই ও তিনজন কনস্টেবল রয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের জিনারপুরে আশরাফুল ইসলামের খামার থেকে গরুগুলো চুরি হয়।

এ ঘটনায় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসতে অনেক দেরি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন খামার মালিক আশরাফুল।

আশরাফুল বলেন, ‘শুক্রবার রাত ১টা ৩০ মিনিটে আমি ও আমার স্ত্রী খামারের মধ্যে ঘুমিয়ে ছিলাম। ৫ জন ডাকাত বাঁশের বাতা কেটে খামারে ঢুকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে বলে, খামারে মাদক আছে, তাই তল্লাশি করবে।

‘তাদের বাধা দিলে আমাদের দুজনকে বেঁধে বেধড়ক মারধর করে আড্ডা-সাপাহার সড়কের জিনারপুর গড়বাড়ি কালভার্টের পাশে ধানক্ষেতে ফেলে রাখে। এরপর তারা গরুগুলো নিয়ে ধানক্ষেত দিয়ে চলে যায়।’

গরু চুরির ঘটনায় ৬ পুলিশ প্রত্যাহার
বাঁশের বাতা কেটে খামারে ঢোকেন তারা।

তিনি আরও বলেন, ‘পরে কোনো রকম হাত-পায়ের বাঁধন খুলে চিৎকার শুরু করলে আমার ভাই মিজানুর রহমান বাড়ি থেকে বের হন। তাৎক্ষণিক তার ছেলে শাহীনকে পুলিশে খবর দিতে বলেন। শাহীন তার মোবাইল নম্বর থেকে রাত ৪টা ২৫ মিনিটে ৯৯৯-এ পুলিশি সহযোগিতা চেয়ে কল দেয়।

‘পুলিশ আসতে দেরি করায় ৪টা ৩৭ মিনিট এবং ৫৭ মিনিটে আবার কল দেয়া হয়। কিন্তু এর ৩ ঘণ্টা পর সকাল ৭টায় পুলিশের উপপরিদর্শক বদিউজ্জামান ঘটনাস্থলে আসেন।’

পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান, সহকারী পুলিশ সুপার গোমস্তাপুর সার্কেল শামছুল আজম শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলিপ কুমার বলেন, ‘গরু উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।’

এ ঘটনায় গোমস্তাপুর থানায় দায়িত্বে থাকা ৬ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন ওসি দিলিপ কুমার।

শেয়ার করুন

র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে ২ জলদস্যু’ নিহত

র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে ২ জলদস্যু’ নিহত

দক্ষিণ আইচা থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন জানান, রোববার ভোরে কুকরীমূকরী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জালিয়া খালের পাশে বাবুগঞ্জ গ্রামে র‍্যাব অভিযান চালায়। এ সময় জলদস্যুরা র‍্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে র‍্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি করে। এতে দুজন জলদস্যু নিহত হয়।

ভোলায় র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই জলদস্যু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার চর কুকরীমূকরী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে রোববার ভোরের দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম দুজন নিহতের বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

তবে নিহতদের নাম, ঠিকানা পুলিশ এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি।

দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, রোববার ভোরে ১ নম্বর ওয়ার্ডের জালিয়া খালের পাশে বাবুগঞ্জ গ্রামে র‍্যাব অভিযান চালায়। এ সময় জলদস্যুরা র‍্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে র‍্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি করে। এতে দুজন জলদস্যু নিহত হয়। বাকিরা পালিয়ে যায়।

পুলিশ সেখান থেকে তিনটি দেশি পিস্তল ও একটি রামদা উদ্ধার করেছে।

ওসি আরও জানান, মরদেহ দক্ষিণ আইচা থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

শেয়ার করুন

বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে আহত ৩

বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে আহত ৩

গৌরনদী মডেল থানার ওসি আফজাল হোসেন বলেন, ‘বোমা বি‌স্ফোরণের ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪ থেকে ৫ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়েছে। আহতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

ব‌রিশালের গৌরনদী উপজেলা ভাইস চেয়ারম‌্যানের পার্কে বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণে তিনজন আহতের অভিযোগ উঠেছে।

তাদের মধ্যে একজনের দুটি হাতই বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বি‌স্ফোরক আইনে মামলা করেছে পু‌লিশ। আহতরা পলাতক রয়েছেন।

উপজেলার কটকস্থলে উপজেলা প‌রিষদের ভাইস চেয়ারম‌্যান ও উপজেলা আওয়ামী লী‌গের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান ফরহাদের মা‌লিকানাধীন ‘ফা‌রিয়া গার্ডেন’ পার্কে শুক্রবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের আটকে পুলিশি অভিযান চলছে।

এ ঘটনায় পার্কের নিরাপত্তাকর্মী আব্দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

গৌরনদী মডেল থানার এসআই আবুল কালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘কী কারণে বোমা তৈরি করা হচ্ছিল তার অনুসন্ধান চলছে। আহতরা কোথায় চিকিৎসা নিচ্ছেন তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আশা করি, শিগগিরই মূল রহস্য উদঘাটন করা যাবে।’

স্থানীয়রা জা‌নায়, দক্ষিণ মাদ্রার ফারিয়া গার্ডেন পার্কের একটি টিনের ঘরে শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকজন বোমা তৈরি করছিলেন। এ সময় অসাবধানতায় বিকট শব্দে বোমা বিস্ফোরিত হয়।

এতে কারিগর হারুনের দুই হাত বি‌চ্ছিন্ন হয় এবং মুখ ঝলসে যায়। ঘটনার পরপরই তারা পার্ক থেকে বের হয়ে যান। তবে বিষয়‌টি ধামাচাপা দিতে তারা বোমা তৈরির সরঞ্জাম স‌রিয়ে ফেলেন।

আহত হারুনের বোন নাছিমা বেগম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেলে হারুন ঢাকা যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। তবে শুক্রবার রাতে তাকে আহত অবস্থায় দেখে‌ছি। তার দুই হাত উড়ে গেছে। তবে কোথায় চি‌কিৎসা নিচ্ছে তা জা‌নি না।’

গোপন সংবাদে আহতরা ব‌রিশাল শের-ই-বাংলা মে‌ডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চি‌কিৎসাধীন জেনে হাসপাতালে গেলেও সেখানে আহত কারও ভ‌র্তি বা চি‌কিৎসার বিষয়ে সত্যতা পাওয়া যায়নি।

গৌরনদী মডেল থানার ওসি আফজাল হোসেন বলেন, ‘বোমা বি‌স্ফোরণের ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪ থেকে ৫ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়েছে। আহতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান ফরহাদ মুন্সী বলেন, ‘ছেলের জন্মদিন পালন করতে ঢাকায় অবস্থান করছি। ঘটনা শুনেছি, তবে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারব না।

তবে তার পার্কে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পার্কের বাইরে পরিত্যক্ত একটি ঘরে এ ঘটনা ঘটেছে। সেখানে দেয়াল তুলতে পারিনি। আমি জেনেছি, কিছুলোক নিরাপত্তাকর্মীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মধ্যরাতে পার্কে ঢুকেছিল।’

শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘কনেপক্ষের হামলায়’ বরের চাচা নিহত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘কনেপক্ষের হামলায়’ বরের চাচা নিহত

উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে নিহত বেলালের মরদেহ। ছবি: নিউজবাংলা

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-৮-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কামরান হোসেন জানান, শনিবার রাত ৮টার দিকে বরের পরিবার বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করলে কনেপক্ষ এসে হামলা চালায়। এতে বরের চাচা মো. বেলালের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিয়ে বাড়িতে ‘কনেপক্ষের হামলায়’ বরের চাচা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কনের দুই চাচাতো ভাইকে আটক করেছে পুলিশ।

উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শনিবার রাত ৮টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আটক দুজন হলেন আনোয়ার সাদেক ও হারেসুর রহমান।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-৮-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কামরান হোসেন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ক্যাম্পের মো. ইদ্রিসের সঙ্গে একই ব্লকের ১৬ বছরের এক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। চার দিন আগে মেয়েটি ইদ্রিসের বাসায় চলে যায়। সেখানে বরের পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। তবে মেয়ের বাড়ির লোকজন এ বিয়ে মেনে নেয়নি।

শনিবার রাত ৮টার দিকে বরের পরিবার বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করলে কনেপক্ষ এসে হামলা চালায়। এতে বরের চাচা মো. বেলালের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। আহত হয় দুইপক্ষের আটজন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, বেলালের মরদেহ উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ময়নাতদন্তের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

শেয়ার করুন