পর্যটনে প্রণোদনা ঋণ, আবেদন যেভাবে

পর্যটনে প্রণোদনা ঋণ, আবেদন যেভাবে

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে হাওরে গড়ে ওঠা দৃষ্টিনন্দন রিসোর্ট। ছবি: নিউজবাংলা

প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের জন্য ১ নভেম্বর থেকে আবেদন করতে পারবে ব্যাংকগুলো। আবেদন করা যাবে ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।  

করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটন শিল্প। এ শিল্পে চলতি মূলধনের জোগান দিতে ১ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল থেকে পর্যটন খাতে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দিতে ৪ শতাংশ সুদে উদ্যোক্তাদের এক বছর মেয়াদি ঋণ দেয়া হবে।

ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ তহবিল বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে জোগান দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাকি ৫০ শতাংশ অর্থ ব্যাংক তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে।

প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের জন্য ১ নভেম্বর থেকে আবেদন করতে পারবে ব্যাংকগুলো। আবেদন করা যাবে ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়।

সার্কুলারে বলা হয়, ‘ঋণ সুবিধা ভোগকারী পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে (হোটেল, মোটেল, থিম পার্ক) বর্তমানে কর্মরত কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের লক্ষ্যে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভিত্তিতে বিদ্যমান ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা বাবদ মঞ্জুর করা বা প্রদত্ত সীমার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ এবং এরূপ ক্ষতিগ্রস্ত যে সব প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ব্যাংক হতে ঋণ সুবিধা ভোগ করছে না সেসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আগ্রহী ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা বাবদ সম্ভাব্য ঋণ প্রাপ্যতার সীমার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করা যাবে।’

পুনঃঅর্থায়নের জন্য ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ৩১ অক্টোবর সময়ের মধ্যে অফ-সাইট সুপারভিশন বরাবর আবেদন করতে হবে।

ইচ্ছুক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণমূলক চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে।

ঋণের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় চাওয়া হয়েছে মর্মে প্রতিটি আবেদনের সঙ্গে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্তৃক স্বাক্ষরিত প্রত্যয়ন পত্র দাখিল করতে হবে।

প্রতিটি গ্রাহকের (পুরাতন/নতুন) ঋণ সীমা (বিদ্যমান ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধার অথবা প্রাপ্যতার পরিমাণের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ) নির্ধারণ সংক্রান্ত হিসাবায়ন নির্ধারিত ছকে আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদা মোতাবেক সংরক্ষণ করতে হবে।

শর্তসাপেক্ষে এককালীন বা কিস্তিতে ঋণ নেয়া যাবে না।

বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধের লক্ষ্যে এককালীন অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্র

যে তারিখ বা মাস হতে কর্মচারীদের বেতন বকেয়া আছে তার অব্যবহিত পূর্বের ৩ মাসের বেতনের গড় পরিমাণকে ভিত্তি ধরে হিসাব সম্পন্ন করতে হবে।

কর্মরত-কর্মচারীদের প্রকৃত সংখ্যা অনুসারে পরিশোধযোগ্য বেতনের পরিমাণ হিসাব করতে হবে।

প্রতি মাসের জন্য হিসাবায়িত বেতনের পরিমাণ প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় নির্ধারিত পরিমাণ (সর্বোচ্চ ৩০%) পর্যন্ত এককালীন বিতরণ করা যাবে। বিতরণকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরবরাহ তালিকা অনুসারে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাব আকলন করতে হবে। অর্থ প্রেরণের প্রমাণপত্র সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সংরক্ষণ করবে।

এসব প্রমাণপত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদা মোতাবেক প্রদর্শন করতে হবে বা নির্দেশিত হলে বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিল করতে হবে।

গ্রাহক ঋণ গ্রহণের এক বছরের মধ্যে যে কোনো সময় সম্পূর্ণ বা আংশিক আসল পরিশোধ করলে পরিশোধিত অর্থ ফেরত প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।

কিস্তিতে অর্থ বরাদ্দ যেভাবে

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আবেদনের ভিত্তিতে ব্যাংক প্রকৃত চাহিদার পরিমাণ হিসাবায়নপূর্বক ঋণ বিতরণ করবে এবং বিতরণ করা অর্থের সদ্ব্যবহার যাচাই করে বাংলাদেশ ব্যাংক হতে পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের জন্য আবেদন করবে।

প্রণোদনা প্যাকেজের সময়ের আওতায় প্রতি মাসের বেতন দেয়ার ক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধের জন্য গ্রাহক ঋণ গ্রহণের তারিখ হতে এক বছর সময় পাবেন।

ঋণের মোট সুদের হার হবে ৮ শতাংশ। এর মধ্যে উদ্যোক্তাকে দিতে হবে ৪ শতাংশ। সরকার ভর্তুকি হিসেবে দেবে ৪ শতাংশ। প্রণোদনার আওতায় উদ্যোক্তারা এক বছর এ ঋণ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

আবেদনে লাগবে যেসব দলিলা

প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় বিতরণ করা ঋণের পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা চাওয়া হয়েছে মর্মে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্তৃক স্বাক্ষর করা প্রত্যয়ন পত্র প্রয়োজন হবে।

গ্রাহকের (পুরাতন/নতুন) অনুকূলে ঋণের সীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত হিসাবায়ন ছক।

ঋণ প্রদানের মঞ্জুরিপত্র।

গ্রাহকের ঋণ বা বিনিয়োগ হিসাব বিবরণী।

প্রাপ্যতা অনুযায়ী সম্পূর্ণ আসলসহ সম্ভাব্য সুদের পরিমাণ।

এ সংক্রান্ত তথ্য প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগে জমা দিতে হবে।

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার সিএমএসএমই ঋণ বিতরণে নতুন নির্দেশনা
বিনিয়োগের খরা কাটছে, ব্যাংকে কমছে অলস টাকা
ক্ষুদ্র শিল্পের উন্নয়নে হাজার কোটি টাকা চায় বিসিক
পর্যটন খাতের জন্য আরও ৫০০ কোটি টাকার তহবিল
প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন ৭৫ ভাগ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

১০০তম উপশাখা খুললো এসআইবিএল

১০০তম উপশাখা খুললো এসআইবিএল

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের (এসআইবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কাজী ওসমান আলী বৃহস্পতিবার ভোলার বোরহানউদ্দিনে ৯৯তম ও চাঁদপুরের রুপসা বাজারে ১০০তম উপশাখার উদ্বোধন করেন।

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের (এসআইবিএল) ১০০তম উপশাখা উদ্বোধন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভোলার বোরহানউদ্দিনে ৯৯তম ও চাঁদপুরের রুপসা বাজারে ১০০তম উপশাখার কার্যক্রম শুরু হয়।

ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কাজী ওসমান আলী প্রধান অতিথি হিসেবে উপশাখা দুটির উদ্বোধন করেন।

এসময় ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তাজুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নাসের চৌধুরী, মো. সিরাজুল হক ও মো. সামছুল হক, কোম্পানি সচিব আব্দুল হান্নান খান, মার্কেটিং অ্যান্ড ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন ডিভিশনের প্রধান মো. মনিরুজ্জামান এবং ব্রাঞ্চেস কন্ট্রোল অ্যান্ড জেনারেল ব্যাংকিং ডিভিশন প্রধান সাইফ আল-আমীন উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও ভোলা ও চাঁদপুর শাখার ব্যবস্থাপক সহ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার সিএমএসএমই ঋণ বিতরণে নতুন নির্দেশনা
বিনিয়োগের খরা কাটছে, ব্যাংকে কমছে অলস টাকা
ক্ষুদ্র শিল্পের উন্নয়নে হাজার কোটি টাকা চায় বিসিক
পর্যটন খাতের জন্য আরও ৫০০ কোটি টাকার তহবিল
প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন ৭৫ ভাগ

শেয়ার করুন

বেসরকারি ঋণ প্রবাহে ঊর্ধ্বগতি

বেসরকারি ঋণ প্রবাহে ঊর্ধ্বগতি

ফাইল ছবি

অর্থনীতির গবেষক ও ব্যাংকাররা বলছেন, করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশ। আমদানি-রপ্তানি বাড়ছে সমান তালে। সব কিছু করোনার আগের অবস্থায় ফিরে আসতে শুরু করেছে। সে কারণে অর্থনীতির অন্য সূচকগুলোর মতো বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধিও বাড়ছে।

মহামারি করোনায় ধাক্কায় তলানিতে নামার পর গতি ফিরছে দেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান নিয়ামক বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহে।

গত কয়েক মাস অল্প অল্প করে বাড়লেও অক্টোবর মাসে বেশ খানিকটা বেড়ে ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশে উঠে এসেছে এই ঋণ প্রবৃদ্ধি। তবে এখনও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক নিচে রয়ে গেছে এই সূচক।

অর্থনীতির গবেষক ও ব্যাংকাররা বলছেন, করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশ। আমদানি-রপ্তানি বাড়ছে সমান তালে। সব কিছু করোনার আগের অবস্থায় ফিরে আসতে শুরু করেছে। সে কারণে অর্থনীতির অন্য সূচকগুলোর মতো বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধিও বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার দেশে অভ্যন্তরীণ ঋণপ্রবাহের যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, অক্টোবর মাসে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি সেপ্টেম্বরের চেয়ে প্রায় ১ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর অর্থ হলো, গত বছরের অক্টোবরের চেয়ে এই অক্টোবরে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেশি ঋণ পেয়েছেন।

সেপ্টেম্বরে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত জুলাই মাসে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছিল, তাতে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয় ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, অক্টোবর শেষে উদ্যোক্তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যের চেয়ে এখনও ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ পয়েন্ট কম ঋণ নিয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে দেশে বিনিয়োগে মন্দা চলছে। এর অন্যতম প্রধান নিয়ামক বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের চিত্রও ছিল হতাশাজনক। গত বছরের মার্চে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকে তা আরও কমতে থাকে।

প্রতি মাসেই কমতে কমতে মে মাসে তা ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশে নেমে আসে, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন।

অতীত ঘেঁটে দেখা যায়, বাংলাদেশের বর্ধিষ্ণু অর্থনীতিতে ব্যাংকের ঋণ বাড়তেই থাকে। ২০০৯-১০ অর্থবছর শেষে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ২৪ শতাংশের বেশি। বছরওয়ারি হিসেবে এরপর তা সব সময়ই ১০ শতাংশের বেশি ছিল। এমনকি ২৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তা দুই অঙ্কের নিচে (ডাবল ডিজিট), ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশে নেমে আসে। এর পর গত দুই বছর ধরে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কের নিচে (সিঙ্গেল ডিজিট) অবস্থান করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, মহামারির ধাক্কায় ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি কমে ৮ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে আসে। এরপর সরকারের প্রণোদনা ঋণে ভর করে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এই প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ হয়। আগস্টে তা আরও বেড়ে ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশে এবং সেপ্টেম্বরে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে ওঠে।

কিন্তু অক্টোবরে এই প্রবৃদ্ধি কমে ৮ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে আসে। নভেম্বরে তা আরও কমে ৮ দশমিক ২১ শতাংশ হয়। ডিসেম্বরে সামান্য বেড়ে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ হয়।

২০২১ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৫১ ও ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এপ্রিলে নেমে আসে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে। মে মাসে তা আরও কমে নেমে যায় ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশে।

তবে করোনার প্রকোপ কমতে থাকায় গত অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ঋণ প্রবৃদ্ধি খানিকটা বেড়ে ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশে উঠে কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়। তারপর থেকে ঋণপ্রবাহ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। জুলাই ও আগস্টে এই সূচক ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৩৮ ও ৮ দশমিক ৪২ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের চতুর্থ মাস অক্টোবর শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ১৯ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। গত বছরের অক্টোবর শেষে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ১৪ হাজার ৩২২ কোটি টাকা।

এ হিসাবেই অক্টোবর মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক জায়েদ বখত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মহামারির সময় সরকারের প্রণোদনার ঋণ ছাড়া ব্যাংকগুলো অন্য কোনো ঋণ বিতরণ করেনি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। আমদানি-রপ্তানি বাড়ছে, অর্থনীতিতে গতি ফিরে এসেছে। উদ্যোক্তারা নতুন পরিকল্পনা সাজিয়ে বিনিয়োগ করছেন। সে কারণেই বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি বাড়ছে।’

আগামী দিনগুলোতে বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

‘তবে, করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন কিভাবে বিস্তার লাভ করে তার উপর নির্ভর করছে সব কিছু।’

বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক সভাপতি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন সবকিছুই স্বাভাবিক হয়ে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ব্যাংকিং খাতেও চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। ঋণের চাহিদা বাড়ছে। সে কারণেই বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার সিএমএসএমই ঋণ বিতরণে নতুন নির্দেশনা
বিনিয়োগের খরা কাটছে, ব্যাংকে কমছে অলস টাকা
ক্ষুদ্র শিল্পের উন্নয়নে হাজার কোটি টাকা চায় বিসিক
পর্যটন খাতের জন্য আরও ৫০০ কোটি টাকার তহবিল
প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন ৭৫ ভাগ

শেয়ার করুন

ফুডপান্ডার সঙ্গে এবি ব্যাংকের চুক্তি

ফুডপান্ডার সঙ্গে এবি ব্যাংকের চুক্তি

চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ফুডপান্ডা বাংলাদেশের হেড অব কর্পোরেট সেলস সৈয়দ ফায়েদ মুনাইম ও এবি ব্যাংকের হেড অব প্রোডাক্ট অ্যান্ড সেগমেন্ট মো. রেজাউল শাহরিয়ার। ছবি: সংগৃহীত

ফুডপান্ডা বিজনেসের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ব্যাংকটির নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহককে ফ্রি গিফট ভাউচার দেবে এবি ব্যাংক।   

ফুডপান্ডা বিজনেসের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবি ব্যাংক লিমিটেড। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় ব্যাংকটির নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহককে ফ্রি গিফট ভাউচার দেবে এবি ব্যাংক।

ফুডপান্ডা বাংলাদেশের হেড অব কর্পোরেট সেলস সৈয়দ ফায়েদ মুনাইম ও এবি ব্যাংকের হেড অব প্রোডাক্ট অ্যান্ড সেগমেন্ট মো. রেজাউল শাহরিয়ার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে এবি ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবদুর রহমান ও ফুডপান্ডা বাংলাদেশের সেলস ডিরেক্টরশাহরুখ হাসনাইনসহ প্রতিষ্ঠান দুটির অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার সিএমএসএমই ঋণ বিতরণে নতুন নির্দেশনা
বিনিয়োগের খরা কাটছে, ব্যাংকে কমছে অলস টাকা
ক্ষুদ্র শিল্পের উন্নয়নে হাজার কোটি টাকা চায় বিসিক
পর্যটন খাতের জন্য আরও ৫০০ কোটি টাকার তহবিল
প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন ৭৫ ভাগ

শেয়ার করুন

ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমল এলপিজির

ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমল এলপিজির

ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দাম কমেছে। ফাইল ছবি

বিইআরসি চেয়ারম্যান জানান, এলপিজির প্রতি কেজির মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ছাড়া ৯৫.৯১ টাকা এবং মূসকসহ সর্বোচ্চ ১০২.৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম ৩ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের দাম ডিসেম্বরে কমিয়ে ১ হাজার ২২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

এটি আগের মাসের চেয়ে ৮৫ টাকা কম।

নভেম্বর মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩১৩ টাকা।

অন্যদিক যানবাহনে ব্যবহৃত অটো গ্যাস কেজিপ্রতি ৫৭.২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিইআরসি বৃহস্পতিবার নতুন এই দর ঘোষণা দিয়েছে।

ভার্চুয়াল এই দর ঘোষণা অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিইআরসি চেয়ারম্যান আবদুল জলিল, কমিশনের সদস্য মকবুল ই-এলাহী চৌধুরী, মোহাম্মদ আবু ফারুক, মোহাম্মদ বজলুর রহমান ও মো. কামরুজ্জামান।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জানান, এলপিজির প্রতি কেজির মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ছাড়া ৯৫.৯১ টাকা এবং মূসকসহ সর্বোচ্চ ১০২.৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম ৩ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

গত ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো এলপি গ্যাসের দর ঘোষণা করে বিইআরসি। তখন বলা হয়েছিল আমদানিনির্ভর এই পণ্যটির সৌদি রাষ্ট্রীয় কোম্পানি আরামকো ঘোষিত দরকে প্রতি মাসের ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে। সৌদির দর ওঠানামা করলে এলপিজির মূল্য ওঠানামা করবে।

আমদানিকারকের অন্যান্য কমিশন ও খরচ অপরিবর্তিত থাকবে। নভেম্বর মাসে সৌদি সিপির দর ছিল প্রোপেনে ৮৭০ ডলার এবং বিউটেনে ৮৩০ ডলার।

চলতি মাসে এলপিজির দর কমে যথাক্রমে টনপ্রতি ৭৯৫ ও ৭৫০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। ঘোষণার পর থেকে প্রতি মাসে এলপিজির দর ঘোষণা করে আসছে বিইআরসি, কিন্তু বাস্তবে সেই দরের কমই প্রতিফলন লক্ষ্যণীয়।

কোথাও বেশি দরে, আবার ক্ষেত্রবিশেষে কম দরে বিক্রির খবর মিলেছে। ১২ এপ্রিলের আগ পর্যন্ত এলপিজির দর ছিল কোম্পানিগুলোর ইচ্ছাধীন।

গত এপ্রিল ঘোষিত দরে এলপিজির আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার জন্য ১২ কেজির সিলিন্ডারে ৩৫৯ দশমিক ৪০ টাকা কমিশন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সেই কমিশন বাড়িয়ে অক্টোবরে করা হয় ৪৪১ টাকা। ডিলার এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন বাড়িয়ে যথাক্রমে ৩৪ ও ৩৮ টাকা করা হয়।

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার সিএমএসএমই ঋণ বিতরণে নতুন নির্দেশনা
বিনিয়োগের খরা কাটছে, ব্যাংকে কমছে অলস টাকা
ক্ষুদ্র শিল্পের উন্নয়নে হাজার কোটি টাকা চায় বিসিক
পর্যটন খাতের জন্য আরও ৫০০ কোটি টাকার তহবিল
প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন ৭৫ ভাগ

শেয়ার করুন

লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি রপ্তানি, নভেম্বরে বেড়েছে ৩১ শতাংশ

লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি রপ্তানি, নভেম্বরে বেড়েছে ৩১ শতাংশ

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের পাঁচ মাসের (জুলাই-নভেম্বর) হিসাবে প্রায় ২০ বিলিয়ন (১ হাজার ৯৭৯ কোটি) ডলার রপ্তানি আয় দেশে এসেছে। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি। আর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ২৭ শতাংশ।

রেমিট্যান্স নিম্নমুখী হওয়ার মধ্যে অর্থনীতিতে আশার আলো দেখাচ্ছে রপ্তানি আয়। ক্রমেই বাড়তে থাকা এই আয় এমনকি লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে, যা সচরাচর দেখা যায় না।

সদ্য সমাপ্ত নভেম্বর মাসে ৪০৪ কোটি ১৪ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৩৪ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা, যা গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে ৩১ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি।

আর চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের পাঁচ মাসের (জুলাই-নভেম্বর) হিসাবে প্রায় ২০ বিলিয়ন (১ হাজার ৯৭৯ কোটি) ডলার রপ্তানি আয় দেশে এসেছে। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি। আর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ২৭ শতাংশ।

তবে এই সুবাসের মধ্যে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ নিয়ে দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তা। রপ্তানিকারকরা বলছেন, যদি করোনার এই নতুন ধরন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে রপ্তানি বাণিজ্যেও আগের মতো নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বৃহস্পতিবার রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বরে) ১ হাজার ৯৭৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা টাকার হিসাবে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২১৫ কোটি টাকা। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি।

এ পাঁচ মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৭৪৭ কোটি ডলার। এ হিসাবেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ২৭ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জুলাই-নভেম্বর সময়ে তৈরি পোশাক ছাড়াও কৃষি প্রক্রিয়াজাত, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশল পণ্য ও হস্তশিল্প রপ্তানি বেড়েছে। ফলে সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয় কমেছে সাড়ে ১৭ শতাংশ।

মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে ১ হাজার ৫৮৫ কোটি ডলার এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২২ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া ৫৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলারের কৃষি প্রক্রিয়াজাত, ৫৬ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের হোম টেক্সটাইল, ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে ৮০ দশমিক ১১ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক থেকে। এরমধ্যে নিট পোশাক থেকে এসেছে ৮৯৮ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ। লক্ষ্যের চেয়ে বেশি এসেছে ১৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

ওভেন পোশাক থেকে এসেছে ৬৮৭ কোটি ডলার। আয় বেড়েছে ১৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের মোট লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪৩ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয়ের লক্ষ্য ধরা আছে ৩৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৩৮ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার আয় করে বাংলাদেশ, যা ছিল আগের বছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩ হাজার ৩৬৭ কোটি (৩৩.৬৭ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৭ শতাংশ কম।

পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান রপ্তানি আয়ের এই উল্লম্ফনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সত্যিই আমরা খুশি। এত দ্রুত করোনা মহামারির ধাক্কা সামলে আমরা ঘুরে দাঁড়াব, ভাবতে পারিনি। তবে, করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন আমাদের নতুন চিন্তার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। জানি না, কী হবে। যদি ওমিক্রন সার বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে আমাদের রপ্তানি আবার থমকে যাবে। আর যদি, তেমনটা না হয়, তাহলে এই ইতিবাচক ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।’

নিট পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ওমিক্রনকে গভীরভাবে পর‌্যবেক্ষণ করছি। সবকিছুই নির্ভর করছে করোনার এই নতুন ধরনের উপর। যদি ওমিক্রনের ছোবল বিশ্বে ছড়িয়ে না পড়ে, তাহলে আগামী দিনগুলোতেও রপ্তানি আয়ের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে। একটা ভালো প্রবৃদ্ধি নিয়ে আমরা অর্থবছর শেষ করতে পারব।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কমছেই। সদ্য সমাপ্ত নভেম্বর মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ১৫৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত দেড় বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। আর গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে কম ২৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। আগের মাস অক্টোবরের চেয়ে কম এসেছে ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

সব মিলিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক কমেছে ২১ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার সিএমএসএমই ঋণ বিতরণে নতুন নির্দেশনা
বিনিয়োগের খরা কাটছে, ব্যাংকে কমছে অলস টাকা
ক্ষুদ্র শিল্পের উন্নয়নে হাজার কোটি টাকা চায় বিসিক
পর্যটন খাতের জন্য আরও ৫০০ কোটি টাকার তহবিল
প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন ৭৫ ভাগ

শেয়ার করুন

নেটফ্লিক্সও নিল ভ্যাট নিবন্ধন

নেটফ্লিক্সও নিল ভ্যাট নিবন্ধন

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় কনটেন্ট স্ট্রিমিং অ্যাপ নেটফ্লিক্স। ছবি: এএফপি

নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি সিঙ্গাপুরের ঠিকানা ব্যবহার করেছে। নেটফ্লিক্স পিটিই লিমিটেড সিঙ্গাপুর নামে নিবন্ধন পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করে ভ্যাটের টাকা পরিশোধ করবে।

ফেসবুক, গুগল, অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের পর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও প্রযোজনা সংস্থা নেটফ্লিক্স জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ব্যবসায় নিবন্ধন নম্বর (বিআইবিএন) নিয়েছে; যা ভ্যাট নিবন্ধন নামে পরিচিত।

বুধবার ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেট থেকে বাংলাদেশের অনাবাসী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সংস্থাটি এই ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির ।

নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি সিঙ্গাপুরের ঠিকানা ব্যবহার করেছে। নেটফ্লিক্স পিটিই লিমিটেড সিঙ্গাপুর নামে নিবন্ধন পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করে ভ্যাটের টাকা পরিশোধ করবে।

প্রতিষ্ঠাটির স্থানীয় পরামর্শক হিসেবে প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারস ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ করেছে। ডিসেম্বর থেকে নেটফ্লিক্স নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করবে।

হুমায়ুন কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য জন্য ভালো খবর যে, নেটফ্লিক্সের মতো ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও প্রযোজনা সংস্থা ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে। এতে একদিকে যেমন আমাদের রাজস্ব আদায় বাড়বে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত এমন প্রতিষ্ঠান এলে বাংলাদেশের ইমেজও ভালো হবে।

‘এই ভ্যাট নিবন্ধনের ফলে নেটফ্লিক্সের ভ্যাটের আইন প্রতিপালন করা সহজ হবে এবং তাদের আয়-ব্যয়ের মধ্যে স্বচ্ছতা খতিয়ে দেখা যাবে।’

এর আগে ফেসবুক, গুগল, অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের মতো বিশ্বের বড় বড় টেক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান অনাবাসী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভ্যাটের ব্যবসায় শণাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) নেয়। গত ২৩ মে গুগল প্রথমে ভ্যাটের নিবন্ধন নেয়। এরপর দেড় মাসের মধ্যে ফেসবুক ও আমাজন ভ্যাট নিবন্ধন নেয়। পরে গত ১ জুলাই মাইক্রোসফট ভ্যাট নিবন্ধন নেয়।

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার সিএমএসএমই ঋণ বিতরণে নতুন নির্দেশনা
বিনিয়োগের খরা কাটছে, ব্যাংকে কমছে অলস টাকা
ক্ষুদ্র শিল্পের উন্নয়নে হাজার কোটি টাকা চায় বিসিক
পর্যটন খাতের জন্য আরও ৫০০ কোটি টাকার তহবিল
প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন ৭৫ ভাগ

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জায়গা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জায়গা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্সের ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ছবি: নিউজবাংলা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জায়গা। আমেরিকান বিনিয়োগকারীরা টাকা বানাতে আসতে পারে। আমাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাইটেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগ করতে পারে।’

বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের উত্তম জায়গা বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। এ দেশে বিনিয়োগ করতে আমেরিকান ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বৃহস্পতিবার আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্সের ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এ বছর আমরা আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর পালন করছি। আর আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্স ২৫ বছর পালন করছে। এটা আমাদের বন্ধুত্বের শক্ত অবস্থান প্রমাণ করে।

‘বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জায়গা। আমেরিকান বিনিয়োগকারীরা টাকা বানাতে আসতে পারে। আমাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাইটেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগ করতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রকে তুলা ও তুলাজাতীয় পণ্যের ওপর থেকে মাত্রাতিরিক্ত কর তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমেরিকা থেকে তুলা আমদানি করি। সেই আমদানিতে অনেক ট্যাক্স। ফলে সেই তুলার উৎপাদিত পণ্য আমেরিকান বাজারেও যায়, কিন্তু তাতেও অনেক ট্যাক্স। আমেরিকা এই ট্যাক্সটা তুলে নিতে পারে।’

জলবায়ু ইস্যুতে তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আর বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রধান। আমাদের নর্দান জোনের নদীভাঙন এই সমস্যার অন্যতম কারণ। এই সমস্যার সমাধান আছে আমাদের ডেল্টা প্ল্যানে।

‘যুক্তরাষ্ট্র নদীভাঙন রোধে নদী খনন ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে বিনিয়োগ করতে পারে। ফলে উদ্ধার করা জমি শিল্পাঞ্চল, নগর ও পুনর্ব্যবহার করা শক্তি উৎপাদনে ব্যবহার করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এ কাজে বিনিয়োগ করলে দুই দেশই লাভবান হবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ নিশ্চিত হওয়া ১০টি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ বন্ধ করেছে। এতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র এখন এ ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদনে বিনিয়োগ করতে পারে। এটা এখন একটি সুযোগ হিসেবে এসেছে।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের প্রশংসা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ১.১ মিলিয়ন রোহিঙ্গা পিপলের বোঝা বহন করে চলছে। এটা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই এই কঠিন দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের পাশে থেকেছে। জোর গলায় রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নেয়ার দাবি তুলেছে। রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার বাহিনীর অমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করেছে।

‘কোভিড-১৯-এর কঠিন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র তার বন্ধুত্বের হাত বাংলাদেশের দিকে বাড়িয়ে দিয়েছে। এটা সত্যিই খুব জটিল ও কঠিন সময় ছিল। যখন আমরা ভ্যাকসিনের জন্য হন্যে হয়ে দেশে দেশে হাত পাতছিলাম, তখন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের মিলিয়ন মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে।’

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার সিএমএসএমই ঋণ বিতরণে নতুন নির্দেশনা
বিনিয়োগের খরা কাটছে, ব্যাংকে কমছে অলস টাকা
ক্ষুদ্র শিল্পের উন্নয়নে হাজার কোটি টাকা চায় বিসিক
পর্যটন খাতের জন্য আরও ৫০০ কোটি টাকার তহবিল
প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন ৭৫ ভাগ

শেয়ার করুন