বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস-শিক্ষার্থী কিছুই নেই, জনবল প্রায় ২০০

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস-শিক্ষার্থী কিছুই নেই, জনবল প্রায় ২০০

সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রম না থাকলেও তিন বছরে ১৭২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সবাই নিয়োগ পেয়েছেন এডহক ভিত্তিতে। অভিযোগ আছে, সরকারের নির্দেশনার পরোয়া না করে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বেশির ভাগ নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে।

দেশের চতুর্থ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২০১৮ সালে কার্যক্রম শুরু হয় সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের। প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব ক্যাম্পাসের জন্য দক্ষিণ সুরমায় ১০০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। ফলে শুরু হয়নি শিক্ষা কার্যক্রমও।

তেমন কোনো কার্যক্রম না থাকলেও তিন বছরে ১৭২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে ফেলেছে এই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সবাই নিয়োগ পেয়েছেন এডহক ভিত্তিতে। অভিযোগ আছে, সরকারের নির্দেশনার পরোয়া না করে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বেশির ভাগ নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের অনেকের যোগ্যতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দ্বিতীয় শ্রেণির এক কর্মকর্তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এডহক ভিত্তিতে এ ধরনের নিয়োগকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কর্মকর্তারা।

ইউজিসির সচিব ড. ফেরদৌস জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এডহক ভিত্তিতে সব ধরনের নিয়োগ বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এ ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে তিন দফা চিঠিও দেয়া হয়েছে। ফলে এডহক নিয়োগের এখতিয়ার কারও নেই। কেউ যদি দিয়ে থাকেন সেটা সম্পূর্ণ অবৈধ।’

অবশ্য ২০১৮ সালে পাস হওয়া সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনে রয়েছে, ‘উপাচার্য সিন্ডিকেটের পুর্বানুমোদনক্রমে কোনো শূন্য পদে সম্পূর্ণ অস্থায়ীভাবে অনধিক (৬ মাসের) জন্য কিছু পদে নিয়োগ করিতে পারিবেন। এবং প্রয়োজনে উক্তরূপ নিয়োগের মেয়াদ ৬ মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করিতে পারবেন। ...শর্ত থাকে যে, বর্ধিত মেয়াদের মধ্যে নিয়োগ নিয়মিত করা না হলে উক্ত মেয়াদ শেষে নিয়োগ বাতিল করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।’

এ আইনে সিন্ডিকেটের পুর্বানুমোদনক্রমে ও সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য অস্থায়ীভাবে নিয়োগের কথা উল্লেখ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস-শিক্ষার্থী কিছুই নেই, জনবল প্রায় ২০০


তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের কোনো পুর্বানুমোদন নেয়া হয়নি। এই প্রতিষ্ঠানের সিন্ডিকেট বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে সোমবার দুপুর ২টায়। এ ছাড়া গত তিন বছর ধরে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত কাউকেই স্থায়ী করা হয়নি।

এডহক ভিত্তিতে নিয়োগের কথা স্বীকার করে সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এডহক ভিত্তিতে শ’খানেক লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বেশির ভাগই কর্মচারী পদে নিয়োগ পেয়েছেন। যথাযথ নিয়ম মেনেই তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’

নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন

২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরীকে সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়। এর আগে তিনি ছিলেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ।

ডা. মোর্শেদ অধ্যক্ষ থাকার সময়ে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন আব্দুস সবুর। দ্বিতীয় শ্রেণির এই কর্মকর্তাকে প্রথম শ্রেণির ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অর্থ) হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া একজনের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ১.৬০, যা তৃতীয় শ্রেণির সমমর্যাদার। নিয়োগবিধি অনুসারে, কোনো পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণিপ্রাপ্ত কাউকে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেয়া যায় না।

কেবল এই দুজনই নয়, সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও অনেকের নিয়োগের ক্ষেত্রেই গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যোগ্যতা শিথিল করে নিয়োগ দেয়া হয়েছে অনেককে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের যোগ্যতার উল্লেখের নিয়ম থাকলেও তা অনুসরণ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস-শিক্ষার্থী কিছুই নেই, জনবল প্রায় ২০০

রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশে নিয়োগের পাশাপাশি উপাচার্যের কয়েক স্বজনকেও নিয়োগ দেয়া হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।

স্বজনদের নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে উপাচার্য ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুজন স্বজন নিয়োগ পেয়েছেন। তবে তারা যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ পেয়েছেন। বাকিদেরও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।’

শিক্ষার্থী নেই, জনবল অফুরন্ত

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী প্রায় ১০ হাজার। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা আছেন ২৬৪ জন। অন্যদিকে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীর সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা আছেন ১৪৯ জন।

অথচ সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী না থাকলেও ইতোমধ্যে সেখানে শ’খানেক কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালক পদে এক জন, উপ পরিচালক পদে এক জন, সহকারি পরিচালক পদে ছয় জন, সেকশন অফিসার পদে ৯ জন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পেয়েছেন ৫২ জন। এছাড়া কর্মচারী পদেও শ’খানেক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এত জনবল থাকা সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবনের নির্মাণ কাজই এখনও শুরু হয়নি। ভবন নির্মাণের জন্য ডিপিপি পাঠানো করা হলেও তা এখনও অনুমোদন পায়নি। ভবন নির্মাণ ও শিক্ষাকার্যক্রম শুরুর চেয়ে জনবল নিয়োগেই গত তিন বছর ধরে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে নগরীর চৌহাট্টায় উপাচার্যের কার্যালয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই ছোট্ট কার্যালয়ে এতো বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বসার জায়গাও নেই। প্রশাসনিক বিভিন্ন পদে লোকবল নিয়োগ দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্ট্রার পদটি শূন্য রয়েছে।

তবে রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. নঈমুল হক চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষাকার্যক্রম শুরু না হলেও আমাদের আওতাধীন মেডিক্যাল কলেজ ও নার্সিং কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়কেই দেখভাল করতে হয়। এজন্য অনেক লোকবলের প্রয়োজন হয়।

‘আট জন ডিনের প্রত্যেকের জন্য পাঁচ জন স্টাফ প্রয়োজন। এসব জরুরি প্রয়োজন মেটাতেই যথাযথ নিয়ম মেনে লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’

এডহক ভিত্তিতে নিয়োগে সরকারি নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞা পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য। নতুনদের জন্য নয়। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে উপাচার্য জরুরি প্রয়োজনে নিয়োগ দিতে পারেন।’

রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় আমাদের এখানে অনেক রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তদবির রয়েছে। এগুলো এড়ানো যায় না। তবে এই তদবিরের মধ্যে যাদের যোগ্যতা রয়েছে এবং আমাদের চাহিদা পুরণ করতে পেরেছেন তাদেরকেই নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’

এ পর্যন্ত কতজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১৩৫/১৩৬ জনের মতো জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কিছুসংখ্যককে গত জানুয়ারিতে স্থায়ী করা হয়। বাকিদের চাকরিও স্থায়ীকরণের প্রক্রিয়া চলছে।’

সিন্ডিকেটের পুর্বানুমোদন ছাড়া কীভাবে চাকরি স্থায়ী করা হলো, এমন প্রশ্ন করতেই তিনি ‘উপাচার্য মহোদয় আমাকে কল দিয়েছেন’ বলে ফোন রেখে দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস-শিক্ষার্থী কিছুই নেই, জনবল প্রায় ২০০

সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সদস্য সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমান।

সিন্ডিকেটের বৈঠকের আগে এত জনবল নিয়োগ পাওয়ার প্রসঙ্গে রোববার তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। সোমবার সিন্ডিকেটের বৈঠক আছে। ব্যস্ততার কারণে বৈঠকের আলোচ্যসূচিও এখন পর্যন্ত আমি দেখতে পারিনি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দিলে ফান্ড বন্ধ

‘স্ট্র্যাটিজিক প্ল্যান ফর হায়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: ২০১৮-৩০’ বাস্তবায়ন মনিটরিংয়ের লক্ষ্যে ইউজিসি পর্যায়ে গঠিত কমিটির এক বৈঠক হয় গত জুনে। সেই বৈঠকে পাবলিক বিশ্বদ্যালয়গুলোতে এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইউজিসির কর্মকর্তারা। এডহক ও মাস্টার রোলে নিয়োগ দেয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড বন্ধের বিষয়েও আলোচনা হয় সেখানে।

ওই বৈঠকে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক দিল আফরোজা বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এডহক ও মাস্টার রোলে নিয়োগ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। যদি কেউ ইউজিসির নির্দেশনা অমান্য করে তবে তার ফান্ড বন্ধ করে দেয়া হবে।’

সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এডহক ভিত্তিতে বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের তথ্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এত বিপুলসংখ্যক লোক এডহক ভিত্তিকে নিয়োগ হয় কী করে!’

তিনি বলেন, ‘এডহক ভিত্তিতে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে সবখানেই প্রশ্ন আছে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এত লোকবল এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে পারে না। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

আরও পড়ুন:
আমরা ধোয়া তুলসী পাতা নই: রেলের দুর্নীতি নিয়ে মন্ত্রী
অর্থ পাচারের মামলায় ফালুর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
রাতে বাসায় বসে জন্ম সনদ দেন ইউপি সচিব
ঘুষ নেয়ার অভিযোগে এএসআই প্রত্যাহার
এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার ৩ ভাই ৭ দিনের রিমান্ডে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে সমবায় সমিতি উধাও

গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে সমবায় সমিতি উধাও

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৪ সালে সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের দীঘলকান্দি ছয় মাথার মোড়ে বাঁধবাসী একতাবদ্ধ শ্রমজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি সমিতি স্থাপিত হয়। সদর ইউনিয়নের দীঘলকান্দি গ্রামের খোরশেদ আলী, টুকু মিয়া, জহির রায়হান, রহিম মিয়া এবং মিঠু মিয়া ওই সমবায় সমিতি খুলে শমসের আলীর কাছ থেকে দীর্ঘ কয়েক বছরে ১৮ লাখ ২১ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন। বর্তমানে তাদের কাউকেই এখন তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না।

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে গ্রাহকের প্রায় এক কোটি টাকা লোপাট করে গা ঢাকা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বাঁধবাসী একতাবদ্ধ শ্রমজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের পরিচালকদের বিরুদ্ধে।

উপজেলার পৌর এলাকাসহ বাইরের বিভিন্ন ইউনিয়নে এই সমিতির সদস্য সংখ্যা প্রায় ৬০০ জন। পরিচালকরা সদস্যদের কাছ থেকে মাসিক সঞ্চয় ও সাপ্তাহিক সঞ্চয়ের কথা বলে টাকা তুলতেন।

এ বিষয়ে সমিতির সদস্য পৌর এলাকার হিন্দুকান্দি গ্রামের শমশের আলী সারিয়াকান্দি থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৪ সালে সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের দীঘলকান্দি ছয় মাথার মোড়ে বাঁধবাসী একতাবদ্ধ শ্রমজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি সমিতি স্থাপিত হয়। সদর ইউনিয়নের দীঘলকান্দি গ্রামের খোরশেদ আলী, টুকু মিয়া, জহির রায়হান, রহিম মিয়া এবং মিঠু মিয়া ওই সমবায় সমিতি খুলে শমসের আলীর কাছ থেকে দীর্ঘ কয়েক বছরে ১৮ লাখ ২১ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন। বর্তমানে তাদের কাউকেই এখন তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না।

পৌর এলাকার চা দোকানি লিচু মিয়া জানান, তার ওই সমিতিতে প্রায় সাত লাখ টাকা জমা আছে।

সদর ইউনিয়নের পারতিত পরল গ্রামের সঞ্চিতা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। অনেক কষ্টে আমাদের সংসার চলে। মানুষের বাড়ি থেকে পানি নিয়ে এসে খাই। বাড়িতে টিউবওয়েল বসানোর জন্য সমিতিতে গত বছর থেকে দুই নামে দৈনিক ৫০ টাকা করে জমা করছি। সর্বমোট ৩১ হাজার টাকা জমা হয়েছে। সমিতির লোকদের উধাওয়ের কথা শুনে আমার সংসারে নানা ধরনের অশান্তি হচ্ছে।’

আমেনা বেগম নামে আরেক সদস্য বলেন, ‘দুই বছর ধরে আমি ওই এনজিওতে সঞ্চয় রাখছি। এখন দেখি ওই এনজিওর লোকজন নেই। আমার অনেক টাকা ছিল ওখানে। আমি টাকা না পেলে মারা যাব।’

সারিয়াকান্দি পৌরসভার মেয়র মতিউর রহমান মতি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সমিতির অনেক সদস্য আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসছে। অসহায়দের টাকা ফিরিয়ে দিতে আমি তাদেরকে প্রশাসনের সহায়তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছি।’

সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মানবিক দিক বিবেচনায় সমিতির অসহায় সদস্যদের টাকা উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
আমরা ধোয়া তুলসী পাতা নই: রেলের দুর্নীতি নিয়ে মন্ত্রী
অর্থ পাচারের মামলায় ফালুর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
রাতে বাসায় বসে জন্ম সনদ দেন ইউপি সচিব
ঘুষ নেয়ার অভিযোগে এএসআই প্রত্যাহার
এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার ৩ ভাই ৭ দিনের রিমান্ডে

শেয়ার করুন

আদালত থেকে পালানো আসামি গ্রেপ্তার

আদালত থেকে পালানো আসামি গ্রেপ্তার

টেকনাফ থানার ওসি খোরশেদ আলম বলেন, ‘চট্টগ্রাম আদালতে পুলিশের হেফাজত থেকে পালানো আসামি কালামকে টেকনাফ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে চট্টগ্রামে নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করে বিস্তারিত জানানো হবে।’

চট্টগ্রাম আদালতে পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া আসামিকে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ ও টেকনাফ থানা পুলিশের যৌথ চেষ্টায় সোমবার ভোররাতে আবুল কালামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মাদক মামলার আসামি কালামের বাড়ি টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘কালামকে টেকনাফ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে চট্টগ্রামে নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করে বিস্তারিত জানানো হবে।’

এর আগে চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার ওসি নেজাম উদ্দিন জানান, আবুল কালামকে রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর থানার জিআরও শাখায় রেজিস্ট্রেশন শেষে আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে নামানোর সময় কৌশলে তিনি পালিয়ে যান।

বিষয়টি জানাজানি হলে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আসামির সঙ্গে থাকা দুই পুলিশ কনস্টেবল মো. শাহাদাত ও মো. নজরুল এবং একজন উপপরিদর্শককে (এসআই) অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তবে ওই উপপরিদর্শকের নাম জানা যায়নি।

এর আগে চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা শাখা রোববার সকালে চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার কদমতলী মোড়ের উত্তর পাশের চায়ের দোকান থেকে ১ হাজার ৫০ পিস ইয়াবাসহ কালামকে আটক করে।

গোয়েন্দা শাখার এসআই মোহাম্মদ্দ টিপু সুলতান কোতোয়ালি থানায় কালামের নামে মামলা করেন। এরপর তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

আরও পড়ুন:
আমরা ধোয়া তুলসী পাতা নই: রেলের দুর্নীতি নিয়ে মন্ত্রী
অর্থ পাচারের মামলায় ফালুর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
রাতে বাসায় বসে জন্ম সনদ দেন ইউপি সচিব
ঘুষ নেয়ার অভিযোগে এএসআই প্রত্যাহার
এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার ৩ ভাই ৭ দিনের রিমান্ডে

শেয়ার করুন

ট্রাকে ট্রেনের ধাক্কা, ২ ঘণ্টা পর নাটোর-খুলনা রেল চালু

ট্রাকে ট্রেনের ধাক্কা, ২ ঘণ্টা পর নাটোর-খুলনা রেল চালু

নাটোর রেলস্টেশনের মাস্টার অশোক কুমার বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর নাটোর-ঢাকা রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক থাকলেও নাটোর-খুলনা রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ট্রাকটি লাইনের পাশ থেকে সরিয়ে ফেলায় দুই ঘণ্টা পর আবার ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।’

নাটোরে মিনি ট্রাকে ট্রেনের ধাক্কায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর খুলনার সঙ্গে নাটোরের রেল যোগাযোগ চালু হয়েছে।

শহরের তেবাড়িয়া লেভেলক্রসিং গেটে রোববার রাত ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

নাটোর রেলস্টেশনের মাস্টার অশোক কুমার নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রাত ৩টার দিকে তেবাড়িয়া লেভেলক্রসিংয়ের গেট ভেঙে একটি মিনি ট্রাক লাইনের ওপর উঠে আসে। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয়। এরপর ট্রেনের সঙ্গে বেঁধে ট্রাক ৫০০ গজ পর্যন্ত গিয়ে লাইনের পাশে পড়ে যায়।

এ ঘটনার পরপরই কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস তার গন্তব্যের উদ্দেশে চলে যায়।

অশোক কুমার বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর নাটোর-ঢাকা রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক থাকলেও নাটোর-খুলনা রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ট্রাকটি লাইনের পাশ থেকে সরিয়ে ফেলায় দুই ঘণ্টা পর আবার ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই ট্রাকের চালক ও হেলপার পলাতক। পুলিশ তাদের আটক করতে পারেনি।’

আরও পড়ুন:
আমরা ধোয়া তুলসী পাতা নই: রেলের দুর্নীতি নিয়ে মন্ত্রী
অর্থ পাচারের মামলায় ফালুর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
রাতে বাসায় বসে জন্ম সনদ দেন ইউপি সচিব
ঘুষ নেয়ার অভিযোগে এএসআই প্রত্যাহার
এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার ৩ ভাই ৭ দিনের রিমান্ডে

শেয়ার করুন

বিষপ্রয়োগে বৃদ্ধকে হত্যা: দায় স্বীকার করে নাতনির জবানবন্দি

বিষপ্রয়োগে বৃদ্ধকে হত্যা: দায় স্বীকার করে নাতনির জবানবন্দি

ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘সাবেক স্বামী হাসানের সঙ্গে বিয়েবিচ্ছেদের আগেই কামনা খাতুন বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। রাশেদের সঙ্গে সম্পর্কের কথা জেনে যান নানা শামসুল শেখ। বকাঝকাও করেন। পরে সম্পর্ক মেনে না নেয়ায় নানাকে খুন করার পরিকল্পনা করেন কামনা ও রাশেদ।’

চুয়াডাঙ্গায় ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে বিষ প্রয়োগ করে শামসুল শেখ নামে এক বৃদ্ধকে হত্যার ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে।

নাজামাই জাহিদ হাসান নন, বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে প্রেমিকের কথামতো নানাকে খুন করেছে বলে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে নাতনি কামনা খাতুন।

রোববার বিকেল ৫টাদিকে চুয়াডাঙ্গা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে তোলা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় কামনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডাকে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

শুক্রবার হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার গাইদঘাট থেকে কামনার কথিত প্রেমিক রাশেদ আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন সন্ধ্যায় তাকে আদালতে তোলা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘সাবেক স্বামী হাসানের সঙ্গে বিয়েবিচ্ছেদের আগেই কামনা খাতুন বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন রাশেদের সঙ্গে সম্পর্কের কথা জেনে যান নানা শামসুল শেখ। বকাঝকাও করেন। পরে সম্পর্ক মেনে না নেয়ায় নানাকে খুন করার পরিকল্পনা করেন কামনা ও রাশেদ।’

তিনি বলেন, ‘রাশেদের বুদ্ধিতেই ঘুমন্ত নানার ঘাড়ে কীটনাশক ভর্তি ইনজেকশন পুশ করেন কামনা। নানা উঠেই রাশেদকে দেখেন। তবে হাসানের চেহারার সঙ্গে মিল থাকায় অন্ধকারে তাকেই নাতজামাই হাসান মনে করেন। তাই হাসানের নামই বলতে থাকেন।’

ওসি বলেন, বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক বাঁচাতে নিজ হাতেই নানাকে খুন করেন কামনা। দোষ চাপান সাবেক স্বামী হাসানের পর। এখন মামলাটি একটি নতুন মোড় নিয়েছে। আমরা রাশেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করব।’

২৯ নভেম্বর রাতে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বেলগাছি গ্রামের শামসুল শেখকে ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে বিষ প্রয়োগ করা হয়। ওই ঘটনার পর রাত ১টার দিকে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়। পরদিন সকালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

বুধবার বৃদ্ধের নাতজামাই জাহিদ হাসানকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন নিহতের ছেলে রফিকুল ইসলাম। পরে রাত ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নাতজামাই জাহিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
আমরা ধোয়া তুলসী পাতা নই: রেলের দুর্নীতি নিয়ে মন্ত্রী
অর্থ পাচারের মামলায় ফালুর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
রাতে বাসায় বসে জন্ম সনদ দেন ইউপি সচিব
ঘুষ নেয়ার অভিযোগে এএসআই প্রত্যাহার
এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার ৩ ভাই ৭ দিনের রিমান্ডে

শেয়ার করুন

হাসন রাজারে বাউলা কে বানাইলো রে...

হাসন রাজারে বাউলা কে বানাইলো রে...

বাউল সাধক হাসন রাজা। ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের পরিচিতিও হয়ে উঠেছে ‘হাসন রাজার শহর’ হিসেবে। তবে নিজ শহরেই হাসন রাজার মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নেই কোনো আয়োজন। এতে ক্ষুব্ধ সংস্কৃতিকর্মীরা।

নামের সঙ্গে যুক্ত ‘রাজা’। উত্তরাধিকার সূত্রে ছিলেন জমিদার। কিন্তু কর্মে ও চিন্তায় ছিলেন আপাদমস্তক এক বাউল।

তিনি হাসন রাজা। নিজের কাছেই যার জিজ্ঞাসা ছিল- বাউলা কে বানাইলোরে/ হাসন রাজারে বাউলা কে বানাইলো রে।

বাংলা গানের এই খেয়ালি রাজার ৯৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯২২ সালের ৬ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন তিনি। আর জন্মেছিলেন ১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের লক্ষণশ্রীতে।

সুনামগঞ্জের তাই পরিচিতিও হয়ে উঠেছে ‘হাসন রাজার শহর’ হিসেবে। তবে নিজ শহরেই হাসন রাজার মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নেই কোনো আয়োজন। এতে ক্ষুব্ধ সংস্কৃতিকর্মীরা।

গানে গানে প্রেম, বিরহ, জীবনদর্শন, আধ্যাতিকতার কথা বলে গেছেন হাসন রাজা। গানকে তিনি নিয়েছিলেন সাধনা হিসেবে। বাংলা গানের যে মরমী ধারা, যুগের পর যুগ ধরে সংগীতপিপাসুদের তৃষ্ণা মিটিয়ে চলছে আর জিজ্ঞাসু করে তুলছে, সেই ধারার অন্যতম সাধক পুরুষ হাসন রাজা। যদিও গানে গানে তিনি নিজের সম্পর্কে বলে গেছেন- ‘আমি কিছু নয় রে, আমি কিছু নয়’।

নিজেকে ‘কিছু নয়’ বলে যাওয়া হাসন রাজা মৃত্যুর ৯৯ বছর পরও প্রবলভাবে প্রভাব বিস্তার করে বাংলার মাটিগন্ধা গান আর শেকড়ের সংস্কৃতিতে। জীবদ্দশায় প্রায় ২০০ গান লিখে গেছেন তিনি, যা আজও ঘুরে বেড়ায় লোকের মুখে মুখে। গীত হয় নানা শিল্পীর কণ্ঠে।

হাসন রাজারে বাউলা কে বানাইলো রে...

তবে হাসন রাজার সৃষ্টিকে সংরক্ষণ আর তার সংগীতের শুদ্ধ প্রচারের জন্যও এখন পর্যন্ত নেই তেমন কোনো উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরে হাসন রাজার নামে একটি একাডেমি গঠনের দাবি জানানো হলেও তা থেকে গেছে উপেক্ষিতই।

সুনামগঞ্জ জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাসন রাজাকে নিয়ে আমাদের চর্চা দিন দিন কমে যাচ্ছে আর সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ না নেয়া হলে আগামীতে এটি হারিয়ে যাবে। এ ছাড়া একটি হাসন রাজা একাডেমি যদি তৈরি করা হয় এবং সেখানে হাসন রাজার গানগুলো যদি শুদ্ধরূপে গাওয়ানো হয় তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তার গানের সুর ও কথাগুলোর সঠিক ধারণা পাবে।

হাসন রাজার নামে একটি একাডেমি গড়ার উদ্যোগ স্বাধীনতার পরপরই নেয়া হয়েছিল জানিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মী মলয় চক্রবর্তী রাজু বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই সময়েই হাসন রাজা একাডেমি তৈরির জন্য ২০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে অনেক দৌড়াদৌড়ি করার পর হাসন রাজা একাডেমি তৈরির জন্য মন্ত্রণালয় থেকে টাকা এলেও সেটিকে একটি মহল শিল্পকলা একাডেমি নামকরণ করে নেয়।

তিনি বলেন, ইউনিসকো হাসন রাজা চর্চার ওপর কিছু টাকা দিয়েছিল, সেই টাকা দিয়েই আমরা হাসন রাজার শতাধিক গান আবারও নতুন করে গাওয়া হয় এবং হাসন রাজার প্রপৌত্র সামারীন দেওয়ান হাসন জীবনী ও গানের দুটি বই লেখেন। তবে সরকারি উদ্যোগে হাসন রাজার সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ ও প্রচারে তেমন উদ্যোগ নেই।

মলয় চক্রবর্তী আরও বলেন, সুনামগঞ্জে হাসন রাজার মৃত্যুবার্ষিকী পালন হয় না এটি দুঃখের বিষয়। তবে আমরা তার জন্মশতবার্ষিকী বড় করে আয়োজন করব।

হাসন রাজা জন্ম ও মৃত্যবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী বলেন, হাসন রাজার নামে সুনামগঞ্জ জেলার পরিচিতি গড়ে উঠলেও এখানে তার সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ ও চর্চার কোনো উদ্যোগ নেই। তার জীবনী, ইতিহাস ও গানগুলো ধরে রাখতে হলেও হাসন রাজাকে নিয়ে চর্চা করার জন্য একটি একাডেমির দরকার।

সরকারিভাবে মৃত্যুবার্ষিকীতে কোনো আয়োজন নেই জানিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা আহমেদ মঞ্জুরুল চৌধুরী বলেন, ৬ ডিসেম্বর কোনো আয়োজন নেই, তবে সামনে একটি উৎসব আছে ১১-১২ জানুয়ারি। সেখানে আমরা তাকে স্মরণ করব।

রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ না থাকলে পারিবারিক উদ্যোগে সুনামগঞ্জে গড়ে তোলা হয়েছে হাসন রাজা স্মৃতি জাদুঘর। সেখানে সংরক্ষিত তার স্মৃতিগুলো দেখতে অনেকেই আসেন দূর-দূরান্ত থেকে।

আর তার গান তো ছড়িয়ে আছে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে। যার কথা ও সুর সংসারি মানুষের মধ্যেও আচমকা জাগিয়ে তুলে বাউলা মন। আপন মনেই গেয়ে ওঠে- ‘পরের জায়গা পরের জমি/ ঘর বানাইয়া আমি রই/ আমি তো সেই ঘরের মালিক নই।’

আরও পড়ুন:
আমরা ধোয়া তুলসী পাতা নই: রেলের দুর্নীতি নিয়ে মন্ত্রী
অর্থ পাচারের মামলায় ফালুর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
রাতে বাসায় বসে জন্ম সনদ দেন ইউপি সচিব
ঘুষ নেয়ার অভিযোগে এএসআই প্রত্যাহার
এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার ৩ ভাই ৭ দিনের রিমান্ডে

শেয়ার করুন

শ্বশুরের বিরুদ্ধে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, ছেলের আত্মহত্যার চেষ্টা

শ্বশুরের বিরুদ্ধে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, ছেলের আত্মহত্যার চেষ্টা

পুলিশ জানিয়েছে, তিন মাস আগে প্রতিবেশী এক নারীর সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেন ওই যুবক। জীবিকার প্রয়োজনে দিনেরবেলায় বাড়ির বাইরে থাকেন তিনি। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে ওই গৃহবধূকে কয়েক দফা ধর্ষণ করেন তার শ্বশুর।

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন ওই ব্যক্তির ছেলে।

পুলিশ জানিয়েছে, তিন মাস আগে প্রতিবেশী এক নারীর সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেন ওই যুবক। জীবিকার প্রয়োজনে দিনেরবেলায় বাড়ির বাইরে থাকেন তিনি। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে ওই গৃহবধূকে কয়েক দফা ধর্ষণ করেন তার শ্বশুর।একপর্যায়ে বিষয়টি তার স্বামী ও শাশুড়িকে জানান ওই গৃহবধূ।

পুলিশ জানিয়েছে, রোববার বিষয়টি নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান ওই যুবক। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করান স্বজনরা।

ওই নববধূ বলেন, ‘গত সাত দিন ধরে ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর বিষয়টি আমি স্বামী ও শাশুড়িকে জানাই। তারা প্রথমে বিশ্বাস করেনি আমার কথা। শেষ দিন আমার স্বামী নিজেই বিষয়টা দেখে ফেলেন। এই ক্ষোভে সে বিষপানে আত্মত্যার চেষ্টা করেছে।’

আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
আমরা ধোয়া তুলসী পাতা নই: রেলের দুর্নীতি নিয়ে মন্ত্রী
অর্থ পাচারের মামলায় ফালুর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
রাতে বাসায় বসে জন্ম সনদ দেন ইউপি সচিব
ঘুষ নেয়ার অভিযোগে এএসআই প্রত্যাহার
এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার ৩ ভাই ৭ দিনের রিমান্ডে

শেয়ার করুন

কক্সবাজারে র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

কক্সবাজারে র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

‘বন্দুকযুদ্ধ’ শেষে র‍্যাবের উদ্ধার করা অস্ত্র। ছবি: নিউজবাংলা

মেজর শেখ ইউসুফ আহমেদ বলেন, ‘একটি দল ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে- এমন খবর পেয়ে র‍্যাব সোমবার ভোররাতে পূর্ব বড় ভেওলায় অভিযান চালায়। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা গুলি চালাতে থাকে। আত্মরক্ষার্থে র‍্যাবও গুলি চালায়।’

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বন্দুকযুদ্ধে দুই ডাকাত নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে র‍্যাব। উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্র ও গুলি।

চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা এলাকায় সোমবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে।

কক্সবাজার র‌্যাব-১৫-এর সিপিসি কমান্ডার মেজর শেখ ইউসুফ আহমেদ নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি।

মেজর শেখ ইউসুফ আহমেদ বলেন, ‘একটি দল ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে- এমন খবর পেয়ে র‍্যাব সোমবার ভোররাতে পূর্ব বড় ভেওলায় অভিযান চালায়। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা গুলি চালাতে থাকে। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও গুলি চালায়।

‘গোলাগুলি শেষে আমরা সেখান থেকে দুজনকে আটক করেছি এবং দুজনকে পড়ে থাকতে দেখেছি। তাদের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি দেশীয় অস্ত্র, ছয়টি গুলি ও চারটি কার্তুজসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন:
আমরা ধোয়া তুলসী পাতা নই: রেলের দুর্নীতি নিয়ে মন্ত্রী
অর্থ পাচারের মামলায় ফালুর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
রাতে বাসায় বসে জন্ম সনদ দেন ইউপি সচিব
ঘুষ নেয়ার অভিযোগে এএসআই প্রত্যাহার
এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার ৩ ভাই ৭ দিনের রিমান্ডে

শেয়ার করুন