নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ ধরতে প্রস্তুত জেলেরা

player
নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ ধরতে প্রস্তুত জেলেরা

নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ শিকারে নামার আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা। ছবি: নিউজবাংলা

নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে দেখে ভোলা, চাঁদপুর, বরগুনা, ঝালকাঠিসহ দেশের ইলিশের স্পটগুলোর জেলেদের মাঝে বিরাজ করছে উন্মাদনা। নিষেধাজ্ঞার এই সময়টায় তারা নৌকা, জাল মেরামতের কাজ সেরে রেখেছেন। ঘড়ির কাঁটা কখন সোমবার রাত ১২টায় পৌঁছাবে এখন শুধু সেই অপেক্ষা।

মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের দেয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ। ফের ইলিশ শিকারে নদীতে নামতে তর সইছে না জেলেদের। সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন তারা।

ভোলা, চাঁদপুর, বরগুনা, ঝালকাঠিসহ দেশের ইলিশের স্পটগুলোর জেলেদের মাঝে বিরাজ করছে উন্মাদনা। নিষেধাজ্ঞার এই সময়টায় তারা নৌকা, জাল মেরামতের কাজ সেরে রেখেছেন। ঘড়ির কাঁটা কখন সোমবার রাত ১২টায় পৌঁছাবে এখন শুধু সেই অপেক্ষা।

নদীতে নামতে প্রস্তুত ভোলার দুই লক্ষাধিক জেলে। আগে থেকেই তারা জাল, নৌকাসহ ইলিশ ধরার অন্যান্য সরঞ্জাম প্রস্তুত রেখেছেন।

মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ফের সরগরম হয়ে উঠবে মৎস্যঘাটগুলো। খুলবে বন্ধ থাকা বরফকল। জেলেপল্লিও হয়ে উঠবে মুখর। জেলে, মৎস্যজীবী ও আড়তদারদের হাঁকডাকে মুখরিত হয়ে উঠবে আড়তগুলো।

ভোলার তুলাতলী, নাছির মাছি, ভোলার খাল, ইলিশা, শিবপুরসহ ঘাটে ঘাটে ইলিশ ধরার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেউ জাল বুনছেন, কেউ নৌকায় রং দিচ্ছেন, কেউ বা নৌকা-ট্রলার মেরামত করছেন।

এ বিষয়ে কথা হয় তুলাতলী ঘাটের জেলে বশির মাঝি, হারুনসহ অন্যদের সঙ্গে। তারা জানালেন, এত দিন মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরা বন্ধ ছিল, ধারদেনা করে চলতে হয়েছে। আবার মাছ ধরা শুরু হচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মাছ পেলে ধারের টাকা শোধ করবেন তারা।

ভোলা জেলা সমিতির সভাপতি মো. এরশাদ ফরাজি বলেন, ‘ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা থাকায় অনেক জেলে নদীতে যায়নি, এই সময়ে সরকারের অভিযান ছিল। এত দিন জেলেরা অপেক্ষায় ছিল, কবে থেকে মাছ ধরা শুরু হবে। তাদের সেই প্রতীক্ষার পালা শেষ। তারা এখন নদীতে নামার প্রস্তুতি নিয়েছেন। জাল নৌকা নিয়ে জেলেরা নেমে পড়বেন মাছ শিকারে।

জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, ২১ দিনে জেলায় ৩৪২টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯৯ জেলের জেল-জরিমানা করা হয়েছে। ১১৮ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ২৮১ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া ৭ লাখ ৫৭ হাজার মিটার জাল এবং ২ হাজার ১৫৩ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ১১ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ৪ অক্টোবর থেকে ইলিশ ধরা বন্ধ ছিল। ২৬ অক্টোবর থেকে মাছ ধরা শুরু হচ্ছে। এখন জেলেদের মাছ ধরতে কোনো বাধা নেই। মৎস্য বিভাগের অভিযানে নদীতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। আশা করি, এ বছর ইলিশের উৎপাদন আগের চেয়ে অনেক বাড়বে।’

রাত ১২টার বাজার অপেক্ষায় আছেন বরগুনার জেলেরাও। ইতিমধ্যে জাল, ট্রলার, নৌকা মেরামত করে প্রস্তুত করে রেখেছেন তারা। প্রস্তুত সাগরযাত্রার জন্য। ট্রলারগুলোতে বাজার-সওদা আর বরফ ভর্তি করে অপেক্ষা করছেন। মধ্য রাতেই ছুটবেন।

জেলেরা জানান, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় তারা আর্থিক অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে পার করেছেন। কমবেশি সব জেলেই ঋণগ্রস্ত হয়েছেন।

আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় বরগুনা সদর, আমতলী, পাথরঘাটা, তালতলী উপজেলার জেলেপাড়াগুলো। দীর্ঘদিন সাগরে মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় এবার বেশি মাছ পাবেন বলে আশাবাদী জেলেরা।

সোমবার বরগুনা সদরের নিশানবাড়িয়া এলাকায় বিষখালী নদীসংলগ্ন জেলেপল্লিতে বেশ কয়েকজন জেলের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, ইলিশ ধরতে সাগরে যাওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি শেষ তাদের। জেলে শ্রমিকসহ আড়তদার, পাইকার ও ট্রলারের মালিকদের মুখে এখন হাসি। স্থানীয় মুদি-মনিহারি ব্যবসায়ীদের মধ্যেও আনন্দ বিরাজ করছে।

বরগুনা সদর উপজেলার নিশানবাড়িয়া এলাকার জেলে হারুন মিয়া বলেন, ‘২২ দিনের অবরোধ শেষ। এহন আবার সাগরে যাওনের পালা। দেহি যদি আল্লায় মুখ তুইল্লা চায়।’

নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ ধরতে প্রস্তুত জেলেরা

পাথরঘাটা উপজেলার মঠের খাল এলাকার জেলে জাফর হাওলাদার বলেন, ‘সরকারের আইনের প্রতি সম্মান রাইক্কা শত কষ্টেও সাগরে ইলিশ শিকারে যাইনি। খাইয়া না খাইয়া কোনো রহম দিন কাডাইছি, ধারদেনা কইরা কোনো রহম সংসার চলছে। এখন দেখি আল্লাহ কী রাখছে।’

তালতলী উপজেলার সোনাকাটা গ্রামের জেলে শামীম বলেন, ‘মোগো মাছ ধরা ছাড়া কামাই নাই, মাছ ধরা বন্ধ থাকলে খাওনও বন্ধ অইয়া যায়, ২২টা দিন কবে শ্যাষ অইবে খালি অপেক্ষা হরি, আইজ নামমু রাইত ১২টার পর, আল্লায় দেলে মাছ পাইলে আবার কামাই অইবে।’

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলতে থাকলে উপকূলের জেলেরা নিঃস্ব হয়ে পড়ে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশে অবরোধের সময়সীমা একসঙ্গে নির্ধারণ করে যাতে অবরোধ সময়সূচি করা হয়, সরকারের প্রতি আমরা এই দাবি জানাই।’

মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, এ বছর যত ইলিশ ধরা হয়েছে তার দ্বিগুণ ধরা পড়বে নিষেধাজ্ঞার সময় শেষে।

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, ‘বরগুনায় জেলেরা সরকারের আইন মেনে নিষেধাজ্ঞাকালীন ইলিশ শিকার বন্ধ রেখেছে। আমরা তাদের সাধুবাদ জানাই। জেলেদের খাদ্য সহায়তার জন্য চাল পৌঁছে দেয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, দক্ষিণ উপকূলে এবার প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে।’

নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে দেখে উৎসব উৎসব ভাব চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরের জেলেদের মাঝেও। জেলেরা নৌকা নিয়ে ভাসবেন মাছ ধরতে। তাই তারা সেরে নিচ্ছেন শেষ সময়ের প্রস্তুতি।

চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাট এলাকার জেলে ইদ্রিস মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সোমবার রাইতে শেষ অইব নিষেধাজ্ঞা। অহন আমরা জাল সিলাই কইরা ঠিক করতাছি। নিষেধাজ্ঞা শেষ অইলেই গাঙ্গো নাইমা যামু। যদি কিসমতে থাকে তয় মাছ পামু।’

নিষেধাজ্ঞার সময়টায় চলতে ফিরতে খুব কষ্ট হয়েছে বলে জানালেন অনেক জেলে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাঁদপুরের একজন জেলে বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সময় মাত্র ২০ কেজি কইরা চাউল দিবে কইছিল, কিন্তু আমরা তাও পাই নাই। ১৪ জনে ১৫ কেজি পাইছি। এই দিয়া কি সংসার চলে? সংসারের খরচ চালাইতে গিয়া বিভিন্ন এনজিও আর মহাজনের কাছ তনে ঋণ নিছি। জীবনের ঝুঁকি লইয়া গাঙ্গে গিয়া মাছ ধরছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জেলেদের যদি আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা করত, তয় কেউ আর নিষেধাজ্ঞা ভাইঙা গাঙ্গে যাইত না মাছ ধরতে। জরিমানাও দিতে হইত না, মা ইলিশও বাঁচত।’

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান নিউজবাংলাকে জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন চাঁদপুরের নদীতে মাছ ধরার কাজে নিবন্ধিত ৪৪ হাজার ৩৫ জন জেলেকে ২০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। এরপরও মাছ ধরতে যাওয়া দুই শতাধিক জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল-জরিমানা করাসহ প্রায় ১ কোটি মিটার কারেন্ট জাল ও এক টন ইলিশ জব্দ করেছে প্রশাসন।

নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ ধরতে প্রস্তুত জেলেরা

এই কর্মকর্তার দাবি, মা ইলিশ রক্ষা অভিযান সফল হয়েছে। আগামীতেও ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

পাশ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রায় ৫২ হাজার জেলের মধ্যে ৪২ হাজারের নিবন্ধন রয়েছে। তারা সবাই মেঘনা নদীতে মাছ ধরে সংসার চালান।

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন এ পর্যন্ত নদীতে ২৫৫টি অভিযান পরিচালনা করে ১৭ জন জেলেকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে ৩ লাখ মিটার জাল।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযান সফল হওয়ায় গত বছরের চেয়ে পাঁচ হাজার টন ইলিশ উৎপাদন বেশি হবে। এবারের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ হাজার টন।’

লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোছাইন আকন্দ বলেন, ‘প্রশাসন, পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযানে এবারের অভিযান সফল হয়েছে। আশা করছি, এবার ইলিশের উৎপাদন বেশি হবে।’

সাধারণত আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার আগে-পরে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ দিনের মধ্যে ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ে। এই সময়ে সাগরের নোনা জল ছেড়ে নদীমুখে ছুটে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ।

মা ইলিশ রক্ষায় ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ শিকার বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এ সময় সারা দেশে ইলিশ আহরণ, বিপণন, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, মজুত ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

আরও পড়ুন:
‘নিষেধাজ্ঞা শেষ অইলেই গাঙ্গো নাইমা যামু’
‘গ্রামগঞ্জে পৌঁছাবে ইলিশের স্বাদ’
নিষেধাজ্ঞায়ও থেমে নেই ইলিশ ধরা
পদ্মার চরে তাবু টানিয়ে ইলিশ বেচাকেনা
মেঘনায় জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ৫ পুলিশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাবার মৃত্যু সইতে পারেনি ছেলেও

বাবার মৃত্যু সইতে পারেনি ছেলেও

বাবা-ছেলের মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বলেন, ‘ছেলে জুলমত আলী সিঙ্গাপুর থেকে ১৮ দিন আগে বাড়িতে এসেছিলেন। শনিবার দুপুরে তার বাবা ছেলের বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে যান। আজ (রোববার) তার কাবিন হওয়ার কথা ছিল।’

ময়মনসিংহের ফুলপুরে বাবার মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে প্রবাস ফেরত ছেলে জুলমত আলীর মৃত্যু হয়েছে। ফুলপুর উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের গাইরা গ্রামের বাসিন্দা তারা।

শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবা আব্দুল জলিল আকন্দ ও রোববার ভোর চারটার দিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ছেলে জুলমত।

রামভদ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শনিবার রাত দশটার দিকে পঁচাত্তর বছর বয়সী আব্দুল জলিল আকন্দ নিজ এলাকায় ধর্মীয় ওয়াজ মাহফিল শুনে বাড়িতে এসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজন চিকিৎসার জন্য তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে রাত দুইটার দিকে তিনি মারা যান।

পরে জলিলের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসলে কান্নাকাটি করে অজ্ঞান হয়ে যান তার পঁচিশ বছর বয়সী ছেলে জুলমত আলী।

এ অবস্থায় জুলমতকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর চারটার দিকে তারও মৃত্যু হয়।

চেয়ারম্যান বলেন, ‘ছেলে জুলমত আলী সিঙ্গাপুর থেকে ১৮ দিন আগে বাড়িতে এসেছিলেন। শনিবার দুপুরে তার বাবা ছেলের বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে যান। আজ (রোববার) তার কাবিন হওয়ার কথা ছিল।’

চেয়ারম্যান জানান, বাবা-ছেলের এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শুক্রবার বিকেলে আসরের পর একসঙ্গে জানাজা শেষে বাবা-ছেলের মরদেহ দাফন করা হয়।

আরও পড়ুন:
‘নিষেধাজ্ঞা শেষ অইলেই গাঙ্গো নাইমা যামু’
‘গ্রামগঞ্জে পৌঁছাবে ইলিশের স্বাদ’
নিষেধাজ্ঞায়ও থেমে নেই ইলিশ ধরা
পদ্মার চরে তাবু টানিয়ে ইলিশ বেচাকেনা
মেঘনায় জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ৫ পুলিশ

শেয়ার করুন

গ্রামীণ ইউনিক্লোর শীতবস্ত্র পেল ১৩০০ পরিবার

গ্রামীণ ইউনিক্লোর শীতবস্ত্র পেল ১৩০০ পরিবার

গ্রামীণ ইউনিক্লো'র শীতবস্ত্র পেয়ে শীতার্ত দরিদ্র মানুষগুলোর মুখে স্বস্তির হাসি। ছবি: সংগৃহীত

গ্রামীন ইউনিক্লো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হক বলেন, ‘সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কার্যক্রম নিচ্ছি। তারই অংশ হিসেবে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। আগামীতেও আমাদের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

দেশের বিভিন্ন স্থানে এক হাজার ৩০০ শীতার্ত পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে পোশাক বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ ইউনিক্লো’। এসবের মধ্যে রয়েছে ফ্লানেল শার্ট, কম্বল, সোয়েটার, কার্ডিগ্যান, প্যান্ট ও শিশুদের পোশাক।

দেশের সর্ব উত্তরের শীতগ্রস্ত জেলা পঞ্চগড়ে সবচেয়ে বেশি ৬০০ মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়। এছাড়া রাজধানী ঢাকায় অসহায় ও গৃহহীন মানুষসহ অন্যান্য এলাকার ৭০০ মানুষকেও শীতবস্ত্র দিয়েছে গ্রামীন ইউনিক্লো।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হক বলেন, ‘গ্রামীণ ইউনিক্লো সামাজিক ব্যবসায় হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কার্যক্রম নিচ্ছি। তারই অংশ হিসেবে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছি। আগামীতেও আমাদের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন গ্রামীণ ইউনিক্লো’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

বর্তমানে এশিয়ার শীর্ষ পোশাক বিক্রয়কারী জাপানি প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লো’র সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ ইউনিক্লো’। গ্রামীণ ইউনিক্লো বাংলাদেশে ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠা হয় এবং ২০১৩ সাল থেকে বিভিন্ন স্থানে নতুন আউটলেট স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে প্রতিষ্ঠানটি সমাজের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘নিষেধাজ্ঞা শেষ অইলেই গাঙ্গো নাইমা যামু’
‘গ্রামগঞ্জে পৌঁছাবে ইলিশের স্বাদ’
নিষেধাজ্ঞায়ও থেমে নেই ইলিশ ধরা
পদ্মার চরে তাবু টানিয়ে ইলিশ বেচাকেনা
মেঘনায় জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ৫ পুলিশ

শেয়ার করুন

গরুর গাড়ি দৌড়িয়ে টেলিভিশন পেলেন নজরুল

গরুর গাড়ি দৌড়িয়ে টেলিভিশন পেলেন নজরুল

ঝিনাইদহ সদরে গরুর গাড়িদৌড়ে দুই প্রতিযোগী। ছবি: নিউজবাংলা

গান্না ইউনিয়নের বেতাই গ্রামে গরুর গাড়িদৌড়ের এই প্রতিযোগিতা হয় প্রতি বছরই। কয়েক হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে গ্রাম হয় ওঠে উৎসবমূখর।

কনকনে ঠান্ডা সত্ত্বেও নিজ নিজ গরু ও গরুর গাড়ি নিয়ে সকাল থেকে ঝিনাইদহ সদরে বেতাই গ্রামে জড়ো হতে থাকেন কয়েক হাজার প্রতিযোগী। গরুর গাড়ির দৌড়ের আয়োজন হয় সেখানে।

রোববার দিনভর প্রতিযোগিতা শেষে জয়ী হন যশোরের বাঘারপাড়া থেকে যাওয়া নজরুল মুন্সি। পুরস্কার হিসেবে পেয়ে যান একটি টেলিভিশন।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে ঝিনাইদহের মহেশপুরে দোলন হোসেন ও যশোরের রহমত আলী পান বাইসাইকেল ও ফ্যান।

গান্না ইউনিয়নের বেতাই গ্রামে গরুর গাড়িদৌড়ের এই প্রতিযোগিতা হয় প্রতি বছরই। এবারেরটি আয়োজন করেছেন ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আতিকুল হাসান মাসুম। কয়েক হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে গ্রাম হয় ওঠে উৎসবমূখর।

কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর গ্রাম থেকে প্রতিযোগিতা দেখতে যান কলেজছাত্র রাব্বি হোসেন।

তিনি বলেন, ‘গ্রাম বাংলার ঐহিত্য এই গরুর গাড়ির দৌড়। সত্যিই খুব মনোমুগ্ধকর। মানুষের মাঝে এক ধরনের আনন্দ কাজ করছে। প্রতি বছর এই আয়োজন অব্যাহত রাখা উচিত।’

ঝিনাইদহ শহর থেকে প্রতিযোগিতা দেখতে যাওয়া অন্তর মাহমুদ বলেন, ‘আমরা বন্ধুরা মিলে দেখতে এসেছি। খুবই ভালো লাগছে খেলা দেখতে। গ্রামের মানুষের মধ্যে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। খেলাটা সত্যিই উপভোগ্য। এ জন্য আয়োজকদের আমরা ধন্যবাদ জানাই।’

গরুর গাড়ি দৌড়িয়ে টেলিভিশন পেলেন নজরুল

ঝিনাইদহ সদরের জিয়ালা গ্রাম থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসেন কবির হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সারা বছর চাষাবাদ করি। বছরের এই সময়টা অপেক্ষায় থাকি এই খেলায় অংশ নেয়ার জন্য। মানুষ আমাদের খেলা দেখে আনন্দ পায়। তা দেখে আমরাও আনন্দ পাই। আনন্দের জন্যই আমরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিই।’

চেয়ারম্যান আতিকুলও জানান, গ্রামবাসীর আনন্দের জন্যই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন। আগামীতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন হবে বলে তিনি আশা করেছেন।

আরও পড়ুন:
‘নিষেধাজ্ঞা শেষ অইলেই গাঙ্গো নাইমা যামু’
‘গ্রামগঞ্জে পৌঁছাবে ইলিশের স্বাদ’
নিষেধাজ্ঞায়ও থেমে নেই ইলিশ ধরা
পদ্মার চরে তাবু টানিয়ে ইলিশ বেচাকেনা
মেঘনায় জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ৫ পুলিশ

শেয়ার করুন

করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নির্বাচন স্থগিত

করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নির্বাচন স্থগিত

করোনার তৃতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ জানুয়ারি এক আদেশে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্লাস আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ এসেছে।

করোনা ভাইসারের বিস্তারের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা অবস্থান ব্যবস্থাপনা কমিটি ও পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন স্থগিত রাখতে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

রোববার ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, ‘মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। করোনা ভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধকল্পে যে সমন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে, সে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করা হলো।’

করোনার তৃতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ জানুয়ারি এক আদেশে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্লাস আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ এসেছে। ২০২০ সালের মার্চে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুরুতে একটি সীমিত সময়ের জন্য বন্ধ করা হলেও পরে বারবার এর মেয়াদ বাড়ানো হয়। সে সময় সব মিলিয়ে দেড় বছর বন্ধ থাকে শিক্ষাঙ্গন। ক্লাস-পরীক্ষা নেয়া হয় অনলাইনে।

ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনায় বলা হয়, এবারও যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়, সেক্ষেত্রে নির্বাচনে এই নিষেধাজ্ঞা ছুটিকালীন সময় পর্যন্ত বহাল থাকবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের জারি করা গত ২২ জানুয়ারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত ১১ নির্দেশনা বাস্তবায়নে যথাযথভাবে প্রতিপালন করার জন্যও অনুরোধ করা হয় এই আদেশে।

আরও পড়ুন:
‘নিষেধাজ্ঞা শেষ অইলেই গাঙ্গো নাইমা যামু’
‘গ্রামগঞ্জে পৌঁছাবে ইলিশের স্বাদ’
নিষেধাজ্ঞায়ও থেমে নেই ইলিশ ধরা
পদ্মার চরে তাবু টানিয়ে ইলিশ বেচাকেনা
মেঘনায় জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ৫ পুলিশ

শেয়ার করুন

অমর একুশে: শহীদ মিনারে যেতে লাগবে টিকা সনদ

অমর একুশে: শহীদ মিনারে যেতে লাগবে টিকা সনদ

করোনার তৃতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার গত ১৩ জানুয়ারি নানা বিধিনিষেধ জারি করে সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করে। ২১ জানুয়ারি আরেক আদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্লাস এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় যে কোনো অনুষ্ঠানে এক শ জনের বেশি মানুষের উপস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। জানানো হয়, যারা উপস্থিত হবেন, তাদের হয় টিকার সনদ, নয় করোনা নেগেটিভ সনদ লাগবে।

২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যেতে হলে করোনা টিকার সনদ সঙ্গে রাখতে হবে। সেই সঙ্গে সবাইকে পরতে হবে মাস্ক।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে প্রতিটি সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হতে সর্বোচ্চ পাঁচজন প্রতিনিধি ও ব্যক্তি পর্যায়ে একসঙ্গে সর্বোচ্চ দুইজন শহীদ মিনারে ফুল দিতে পারবেন।

অমর একুশে উদযাপন বিষয়ে রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ভার্চুয়াল সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান এর সভাপতিত্ব করেন।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্যরা ছাড়াও কোষাধ্যক্ষ, সিনেট-সিন্ডিকেট সদস্য, রেজিস্ট্রার, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক, প্রক্টরও যুক্ত ছিলেন।

উপাচার্য বলেন, ‘কোভিড-১৯ উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ও সামজিক দূরত্ব বজায় রেখে সীমিত পরিসরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে মহান শহীদ দিবস আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হবে।’

করোনার তৃতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার গত ১৩ জানুয়ারি নানা বিধিনিষেধ জারি করে সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করে। ২১ জানুয়ারি আরেক আদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্লাস এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় যে কোনো অনুষ্ঠানে এক শ জনের বেশি মানুষের উপস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। জানানো হয়, যারা উপস্থিত হবেন, তাদের হয় টিকার সনদ, নয় করোনা নেগেটিভ সনদ লাগবে।

এই পরিস্থিতিতে অমর একুশের অনুষ্ঠান কীভাবে হবে, তা জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গত বছরের ন্যায় এ বছরও জনসমাগম এড়িয়ে চলার বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।’

সভায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে অমর একুশে উদযাপন কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি এবং বিভিন্ন উপ-কমিটিও গঠন করা হয়।

আরও পড়ুন:
‘নিষেধাজ্ঞা শেষ অইলেই গাঙ্গো নাইমা যামু’
‘গ্রামগঞ্জে পৌঁছাবে ইলিশের স্বাদ’
নিষেধাজ্ঞায়ও থেমে নেই ইলিশ ধরা
পদ্মার চরে তাবু টানিয়ে ইলিশ বেচাকেনা
মেঘনায় জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ৫ পুলিশ

শেয়ার করুন

উপাচার্যের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ চায় শাবি শিক্ষক সমিতি

উপাচার্যের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ চায় শাবি শিক্ষক সমিতি

শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহিত

শিক্ষক সমিতির সভাপতি তুলসী কুমার দাস বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছে তার নিন্দা জানিয়েছি। সেই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছি আমরা।’

উপাচার্যের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে শাবি শিক্ষক সমিতি।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ধরনের সহিংসতার শিকার না হয় সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সমিতির সভাপতি তুলসী কুমার দাস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে রোববার বেলা ৩টার দিকে বৈঠকে বসেন শিক্ষক সমিতির নেতারা।

টানা পাঁচ ঘণ্টা বৈঠক শেষে রাত ৮টার পরে তুলসী কুমার দাস বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছে তার নিন্দা জানিয়েছি। সেই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছি আমরা।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে প্রশাসনকে নজর রাখার আহ্বান জানিয়ে তুলসী কুমার দাস বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানোর ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। উপচার্যের পদত্যাগের বিষয়টি যেহেতু সরকারের এখতিয়ার, আমরা এ ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করছি।’

শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে একটি বিবৃতিও পাঠানো হয়েছে। শিক্ষকদের এই অবস্থানে উল্লাস প্রকাশ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘এটা আমাদের আন্দোলনের প্রাথমিক বিজয়। আমরা চূড়ান্ত বিজয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের চড়াও হওয়ার ঘটনাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিও।

রাজধানীর হেয়ার রোডে মন্ত্রীর বাসায় শাবি শিক্ষকদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘শাবিতে পুলিশি আচরণ (অ্যাকশন) দুঃখজনক। কিন্তু শিক্ষকদেরও লাঞ্ছিত করা হয়েছে। দুটোই অনভিপ্রেত।

মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়া শিক্ষকদের প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি তুলসী কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুহিবুল আলম, ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন মো. রাশেদ তালুকদার, অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস অনুষদের ডিন আরিফুল ইসলাম ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন খায়রুল ইসলাম।

পরে শিক্ষামন্ত্রী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন। তবে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই ওই বৈঠক শেষ হয়।

বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিনিধি দলের সদস্য আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অনশন নিয়ে চিন্তিত শিক্ষামন্ত্রী। তাই তিনি অনুরোধ করেছেন এই কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীরা যেন সরে আসেন। একই সঙ্গে কোনো শিক্ষার্থী অ্যাকাডেমিক বা আইনি হয়রানির শিকার যেন না হয় সেই বিষয়টি দেখা হবে।’

এর আগে হামলার ঘটনায় প্রশাসন দায় এড়াতে পারে না বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদের’ নেতারা।

আরও পড়ুন:
‘নিষেধাজ্ঞা শেষ অইলেই গাঙ্গো নাইমা যামু’
‘গ্রামগঞ্জে পৌঁছাবে ইলিশের স্বাদ’
নিষেধাজ্ঞায়ও থেমে নেই ইলিশ ধরা
পদ্মার চরে তাবু টানিয়ে ইলিশ বেচাকেনা
মেঘনায় জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ৫ পুলিশ

শেয়ার করুন

নিয়ম মেনে এমপিও’র আবেদন চায় মাউশি

নিয়ম মেনে এমপিও’র আবেদন চায় মাউশি

মাউশি মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক মো. শাহেদুল খবির চৌধুরীর সই করা অফিস আদেশে বলা হয়, বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজের কোনো কোনো অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, শিক্ষক ও কর্মচারীদের এমপিও বা এমপিও বকেয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করেননি। অনেকে সরাসরি আবেদন করছেন। এটা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা এবং বিধি-বিধান পরিপন্থী। এমনকি এসব কারণে এমপিও প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে।

এমপিও বা বকেয়া এমপিও পেতে অনেকেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করেন না। এতে নানামুখী সমস্যা হচ্ছে। এবার নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করতে শিক্ষক-কর্মচারীদের নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

রোববার মাউশি মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক মো. শাহেদুল খবির চৌধুরীর সই করা অফিস আদেশে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজের কোনো কোনো অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, শিক্ষক ও কর্মচারীদের এমপিও বা এমপিও বকেয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করেননি। অনেকে সরাসরি আবেদন করছেন। এটা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা এবং বিধি-বিধান পরিপন্থী। এমনকি এসব কারণে এমপিও প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এমপিও কমিটির সভার সিদ্ধান্তে বলা আছে, ‘কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও বকেয়ার বিষয়ে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানের অগ্রায়নপত্রসহ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপপরিচালক/পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে বকেয়ার কারণসহ যাচাই করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।

এমপিও হলো মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার বা মাসিক বেতন আদেশ, যার মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বদলে পরিশোধ করে সরকার।

আরও পড়ুন:
‘নিষেধাজ্ঞা শেষ অইলেই গাঙ্গো নাইমা যামু’
‘গ্রামগঞ্জে পৌঁছাবে ইলিশের স্বাদ’
নিষেধাজ্ঞায়ও থেমে নেই ইলিশ ধরা
পদ্মার চরে তাবু টানিয়ে ইলিশ বেচাকেনা
মেঘনায় জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ৫ পুলিশ

শেয়ার করুন