স্থায়ী ভবন পাচ্ছে এনজিও ফাউন্ডেশন

স্থায়ী ভবন পাচ্ছে এনজিও ফাউন্ডেশন

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ছবি: সংগৃহীত

অর্থমন্ত্রী জানান, এনজিও ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পর আয়বিধায়ক তহবিল হিসেবে ১৬২ কোটি টাকা সরকারি অনুদান পেয়েছে। সেখান থেকে মুনাফা নিয়ে সহযোগী সংস্থাকে ১৫৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে ফাউন্ডেশন। তারপরও আয়বিধায়ক তহবিলের স্থিতি ২৭০ কোটি টাকা।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থায়ী ভবন পাচ্ছে এনজিও ফাউন্ডেশন। নিজস্ব ভবনে ফাউন্ডেশনের দারিদ্র্য বিমোচন কাজে গতিশীলতা বাড়বে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

এনজিও ফাউন্ডেশনের নির্মিতব্য ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছে রোববার। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার, ফাউন্ডেশনের পর্ষদ সদস্য, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক সিনিয়র অর্থসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘জাতির পিতা দারিদ্র্যমুক্ত ও শোষণমুক্ত একটি সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার অর্থনৈতিক দর্শন অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এক দশক দেশে গড়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে।

‘করোনার আঘাতে গত বছর বৈশ্বিক অর্থনীতি ৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এমন সময়ে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশ শীর্ষ পাঁচটি সহনশীল অর্থনীতির মধ্যে রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এনজিও ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পর আয়বিধায়ক তহবিল হিসেবে ১৬২ কোটি টাকা সরকারি অনুদান পেয়েছে। সেখান থেকে মুনাফা নিয়ে সহযোগী সংস্থাকে ১৫৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে ফাউন্ডেশন। তারপরও আয়বিধায়ক তহবিলে স্থিতি ২৭০ কোটি টাকা।

‘এনজিও ফাউন্ডেশন দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এনজিওর মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত, পিছিয়ে পড়া, অসহায়, অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। দারিদ্র্য বিমোচনে তারা কাজ করছে প্রায় সাড়ে সাত হাজার গ্রামে। ১ হাজার ১২০টি এনজিও হতদরিদ্র মানুষের সেবা করে যাচ্ছে ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে। নিজস্ব ভবন পেলে তাদের কাজে আরও গতিশীলতা আসবে বলে মনে করি।’

মাটির নীচে দোতলা বেজমেন্টসহ ১২ তলা ভবন নির্মানে ৩৮ দশমিক ৬৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আয়কর দেন না বেশির ভাগ মানুষ

আয়কর দেন না বেশির ভাগ মানুষ

আয়কর রিটার্ন জমা দেন না অনেকেই। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তার প্রথম বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে অন্তত ৪ কোটি লোক কর দেয়ার সামর্থ্য রাখেন। বিশেষজ্ঞসহ অর্থনীতিবিদদের মতে, এ দেশে যোগ্য করদাতা কমপক্ষে ৩ কোটি। অথচ নিয়মিত করদাতার সংখ্যা সর্বোচ্চ ২০ লাখের মতো।

দেশে প্রত্যক্ষ কর বা আয়কর আহরণ আগের চেয়ে বেড়েছে, কিন্তু তা প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়ছে না। যাদের করযোগ্য আয় আছে, তাদের অধিকাংশকে এখনও করের আওতায় আনতে না পারাকে এর প্রধান কারণ বলে মনে করেন রাজস্ব বিশেষজ্ঞসহ অর্থনীতিবিদরা।

অর্থনীতির আকার বা জিডিপির হিসাবে কী পরিমাণ কর আহরণ হওয়া উচিত, তার গবেষণালব্ধ কোনো তথ্য নেই। তবে ধারণা করা হয়, প্রতি বছর দেশে যে পরিমাণ কর সংগ্রহ হতে পারে, তার চেয়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা কম আদায় হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরিসংখ্যান মতে, গত অর্থবছরে কর আদায় হয় প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা, যা মোট রাজস্বের প্রায় ৩৩ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ফাঁকি রোধ করতে পারলে, আদায় প্রক্রিয়া আরও সহজ হলে, করবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে এবং সর্বোপরি কর বিভাগকে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের আওতায় আনা গেলে আরও ৫০ হাজারে কোটি টাকা বেশি কর আহরণ করা সম্ভব। বাস্তবতা হচ্ছে, এ সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

আয় অনুপাতে কর দেয়ার সক্ষমতা বাংলাদেশে কতজনের আছে, তার কোনো পরিসংখ্যান নেই। এনবিআর এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো জরিপ করেনি। তবে ধারণা করা হয়, সামর্থ্যবান বেশির ভাগ এখনও করের আওতার বাইরে।

বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশন এইডের ২০১৬ সালের এক জরিপে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ৬৯ লাখ লোকের কর দেয়ার সামর্থ্য রয়েছে। আর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তার প্রথম বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে অন্তত ৪ কোটি লোক কর দেয়ার সামর্থ্য রাখে।

বিশেষজ্ঞসহ অর্থনীতিবিদদের মতে, এ দেশে যোগ্য করদাতা কমপক্ষে ৩ কোটি।

বিত্তবানদের সংখ্যা বাড়লেও তাদের কাছ থেকে খুব কমই কর আদায় হয়। আইন অনুযায়ী, বাড়িগাড়িসহ ৩ কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে নিয়মিত আয়করের সঙ্গে অতিরক্তি কর দিতে হয়, যা ‘সারচার্জ’ নামে পরিচিত।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩ কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে, দেশে এমন করদাতার সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার। অর্থাৎ মাত্র ১৫ হাজার লোক সারচার্জ দিতে সাড়া দিয়েছেন। পরিসংখ্যানে বলে, সামর্থ্যবানদের মাত্র দশমিক ২৫ শতাংশ সারচার্জ দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে কোটিপতির সংখ্যা প্রায় ১ লাখ। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১ কোটি টাকা থেকে ৫ কোটি টাকা বেড়েছে এমন বিত্তবানের সংখ্যা ৭৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

কোটিপতির সংখ্যা বাড়লেও এদের অনেকেই করের আওতার বাইরে।

রাজস্ব বোর্ডের সবশেষ হিসাবমতে, দেশে করদাতা শণাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। এর মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দেন মাত্র ২৫ লাখ। অর্থাৎ ৬৪ ভাগই রিটার্ন জমা দেন না।

আয়কর বিশেষজ্ঞ, শীর্ষ ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, রাজস্ব বাড়াতে হলে সামর্থ্যবান সবাইকে করের আওতায় এনে আদায় নিশ্চিত করতে হবে। কর মেলার মতো সারা বছর রিটার্ন জমা ও কর পরিশোধ করতে পারেন, এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এমন বাস্তবতায় এনবিআরের উদ্যোগে মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে জাতীয় আয়কর দিবস। জনগণকে কর দিতে উদ্বুদ্ধ করতে দেশে প্রথম আয়কর দিবস উদযাপিত হয় ২০০৮ সালে।

যারা রিটার্ন জমা দেন, তারা সবাই কর দেন না। এনবিআর কর্মকর্তারা বলেন, ‘শূন্য’ অর্থাৎ কোনো কর আসে না এমন সংখ্যা মোট জমা পড়া রিটার্নের ১৫ শতাংশ। সে হিসাবে নিয়মিত করদাতার সংখ্যা সর্বোচ্চ ২০ লাখের মতো। অর্থাৎ ১৭ কোটি জনসংখ্যার দেশে ১ শতাংশেরও কম ব্যক্তি কর দেন।

সক্ষম জনগোষ্ঠীর বিশাল একটি অংশ করের আওতার বাইরে থাকাকে এ দেশের কর-সংস্কৃতির বড় দুর্বলতা বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এই হার মোট জনসংখ্যার ৪ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, দেশে কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি। তাদের অর্ধেকই করের আওতার বাইরে। শ্রমশক্তির প্রায় ৬০ ভাগই কৃষিনির্ভর।

তবে কৃষি থেকে অর্জিত আয় করমুক্ত। বড় একটি অংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের চাকুরে। তাদের কাছ থেকেও কর আসে মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ। আবার রপ্তানি ও শিল্প খাতে আছে কর মওকুফ সুবিধা। এ ছাড়া আয় গোপন করে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কর ফাঁকি দেয়া হয়।

রয়েছে কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও অদক্ষতা। সব মিলিয়ে মোট জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশের করযোগ্য আয় নেই কিংবা তারা কর আদায়ের আওতার বাইরে। তাই প্রত্যাশা অনুযায়ী আয়কর আদায় হচ্ছে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, ব্যক্তি ও কোম্পানি- এ দুই শ্রেণির করদাতা থেকে আয়কর আদায় হয়। এর মধ্যে মোট আয়কর আদায়ের ৬০ শতাংশ আসে কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান থেকে। বাকি ৪০ শতাংশ ব্যক্তি শ্রেণির কর, যদিও সংখ্যার দিক থেকে ব্যক্তি শ্রেণি করদাতার সংখ্যাই বেশি। কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম হলেও এ খাত থেকেই বেশি কর আদায় হয়।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, যাদের কর দেয়ার সামর্থ্য আছে, তাদের সবাইকে কর দিতে এগিয়ে আসতে হবে।

এনবিআরের সাবেক সদস্য আমিনুর রহমান বলেন, কর আদায় বাড়াতে হলে ইতিমধ্যে যাদের ই-টিআইএন আছে তাদের সবাইকে রিটার্ন জমা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া আদায় প্রক্রিয়া আরও সহজ ও নিবিড় তদারকি করতে হবে।

শেয়ার করুন

করোনায় ক্ষুধা নির্মূল চ্যালেঞ্জে: এডিবি  

করোনায় ক্ষুধা নির্মূল চ্যালেঞ্জে: এডিবি  

করোনায় ভেঙে পড়েছে এশিয়া অনেক দেশের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা। ছবি: এডিবি

করোনার কারণে ২০২০ সালের শুরুর দিকে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা চরম ব্যাহত হয়। জাহাজের ভাড়া বৃদ্ধি ও বৈরি আবহাওয়ায় এই সংকট দেখা দেয়।এর প্রভাবে বেড়েছে খাদ্যের দাম। অন্যদিকে কর্মক্ষেত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কমেছে মানুষের আয়।      

এশিয়ার দেশগুলোর ক্ষুধা নির্মূলের লক্ষ্যকে মহামারি করোনা শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ম্যানিলাভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থাটি বলছে, ২০২০ সালে এশিয়াজুড়ে অপুষ্টির শিকার মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি।

‘কোভিড-১৯ মহামারির কারণে উন্নয়নশীল এশিয়ায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা পরিস্থিত’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন সোমবার প্রকাশ করে এডিবি।

এতে বলা হয়েছে, এশিয়ার বেশিরভাগ দেশের মানুষের আয়ের বড় একটি অংশ বরাদ্দ থাকে খাদ্যের যোগানের পেছনে। খাদ্যের মূল্য আকস্মিক বেড়ে গেলে বিপুল জনগোষ্ঠীর ওপর বড় প্রভাব পড়ে।

করোনার কারণে ২০২০ সালের শুরুর দিকে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা চরম ব্যাহত হয়। জাহাজের ভাড়া বৃদ্ধি ও বৈরি আবহাওয়ায় এই সংকট দেখা দেয়। আর এতেই বেড়েছে খাদ্যের দাম। অন্যদিকে কর্মক্ষেত্র বন্ধ হয়ে যাওয়া কমেছে মানুষের আয়।

এডিবি বলছে, এই পরিস্থিতে ক্ষুধা নির্মূলের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, করোনার ছোবলে এশিয়ায় অপুষ্টির শিকার জনসংখ্যা ২০১৯ সালের ৩৬ কোটি ১৩ লাখ থেকে বেড়ে ২০২০ সালে ৪১ কোটি ৮০ লাখে এসে ঠেকেছে।

বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কোভিড-১৯ এর কারণে লকডাউন, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও খাদ্য রপ্তানিকারক কিছু দেশে আরোপিত বিধিনিষেধ খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে বাধা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধিও খাদ্যের মূল্যকে ঊর্ধ্বমুখী করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে উৎপাদন কম যাওয়াকেও অন্যতম কারণ মনে করছে এডিবি।

২০১৯-২০২০ এর মধ্যে এশিয়ার ৪১ দেশের মধ্যে খাদ্যমূল্য বেড়েছে ২৯ দেশে। যার মধ্যে ১৭ দেশের খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি বেড়েছে। এই অবস্থা সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা গেছে নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশগুলোতে।

পাকিস্তানের বেড়েছে ১১ দশমিক ৩ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ১০ দশমিক ৬, কিরগিজস্তানে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ ও ভুটানে বেড়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

তবে এডিবির প্রতিবেদন বলছে, করোনার এই এক বছরে খাদ্যের দাম বৃদ্ধি প্রশ্নে অনেটায় স্বস্তিতে ছিল বাংলাদেশ। এই সময়ে বাংলাদেশে খাদ্যের দাম খুব একটা বাড়েনি। ২০১৯ সালের বাংলাদেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২০ সালেও তা একই ছিল।

ভারতে ২০১৯ সালে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ৬ শতাংশ, ২০২০-এ তা বেড়ে হয়েছে ৮ শতাংশ।

বেকারত্ব বেড়েছে, কমেছে কর্মঘণ্টা

করোনার কারণে এই এক বছরে এশিয়ায় এডিবির ২৩ সদস্য দেশের মধ্যে ২১টিতেই বেকারত্ব বেড়েছে। কর্মঘণ্টা কমেছে ৪ শতাংশের কাছাকাছি। ১৬ দেশের বেকারত্বের হার প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি।

প্রতিবেদনে ফিলিপাইন, হংকং, চীন, আজারবাইজান, ভুটান ও ইন্দোনেশিয়ায় বেকারত্ব বৃদ্ধির হার উল্লেখ করা হলেও, বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।

শেয়ার করুন

২৩ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসছে

২৩ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসছে

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন থেকে ২৭০ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। ছবি: নিউজবাংলা

বেশিরভাগ বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে সৌদি আরব থেকে। এ ছাড়া তুরস্কের দুটি কোম্পানি, যুক্তরাষ্ট্রের একটি, চীনের তিনটি কোম্পানি বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। চীন বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এবং যুক্তরাষ্ট্র বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করবে।

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনে সৌদি আরব, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ২৭০ কোটি (২ দশমিক ৭ বিলিয়ন) ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ২৩ হাজার কোটি টাকার বেশি।

ঢাকায় দুই দিনের বিনিয়োগ সম্মেলন শেষে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এ কথা জানিয়েছে।

রাজধানীর রেডিসন হোটেলে অনুষ্ঠানে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান, যে সব খাতে এই বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, ঔষধ, সিমেন্ট ও হাসপাতাল খাত। খুব শিগগিরই বাংলাদেশে এ বিনিয়োগ আসবে।

বেশিরভাগ বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে সৌদি আরব থেকে। এ ছাড়া তুরস্কের দুটি কোম্পানি, যুক্তরাষ্ট্রের একটি, চীনের তিনটি কোম্পানি বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। চীন বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এবং যুক্তরাষ্ট্র বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করবে বলে জানিয়েছেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। আমরা তাদেরকে নতুন বাংলাদেশ সম্পর্কে ধারণা দিয়েছি। তারা বাংলাদেশ সম্পর্কে জেনে অভিভূত হয়েছেন। বলেছেন, বাংলাদেশের অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে।’

দুদিনের এই সম্মেলন রোববার ঢাকায় শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি উদ্বোধন করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল।

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের একটি আদর্শ গন্তব্য বলে অবহিত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের চমৎকার পরিবেশ বিরাজ করছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য সরকার কর প্রণোদনাসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ হচ্ছে বিনিয়োগের নিরাপদ স্থান। এখানে নীতি হচ্ছে উদার। আমাদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিশ্বের মধ্যে স্বীকৃত।’

এই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য বিনিয়োগকারীদের প্রতি উদাত্ত আহব্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার ব্যাপারে দ্বিধা করবেন না।’

প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ‘এই সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্বকে জানাতে পারলাম। বিশ্ববাসীও বাংলাদেশ সম্পর্কে জেনেছ, কীভাবে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। এটা একটি নতুন বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে।’

অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের ট্রান্সপোর্ট বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে তার চোখ খুলে গেছে। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে বিস্মিত হন।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে বাংলাদেশ অবশ্যই এশিয়ার মধ্যে বিনিয়োগের হাব হবে।’
মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঢাকা শহরকে পুরোপুরি বদলে ফেলব। আমি ঢাকা সিটিকে পুরো বদলে ফেলব। সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।’

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আসুন এবং বিনিয়োগের সুযোগ গ্রহণ করুন।’

সমাপনী অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ফরেন চেম্বারের সভাপতি রূপালী চৌধুরী।

শেয়ার করুন

বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী তুরস্কের উদ্যোক্তারা

বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী তুরস্কের উদ্যোক্তারা

সোমবার তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরানকে সঙ্গে নিয়ে ডিসিসিআই নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনায় যোগ দেয় তুরস্ক-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’র চেয়ারপারসন হুলিয়া জেডিকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট বাণিজ্য প্রতিনিধিদল। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৯-২০ অর্থবছরের দুদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬৮৬.৪১ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে আমদানি ছিল ২৩৩.৪১ মিলিয়ন, আর রপ্তানি ৪৫৩ মিলিয়ন ডলার। তবে ২০২০-২১ অর্থবছরে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়ে হয়েছে ৪৯৯.৭৯ মিলিয়ন ডলার।

বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে একটি উৎকৃষ্ট গন্তব্যস্থল বলেছেন ঢাকা সফররত তুরস্কের উচ্চ পর্যায়ের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল। বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ক নীতি ও আইনি কাঠামো এবং সার্বিকভাবে বাণিজ্যিক পরিবেশ বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য সহায়ক বলেও মনে করেন তারা।

বর্তমানে তুরস্ক-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’র চেয়ারপারসন হুলিয়া জেডিকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট বাণিজ্য প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে অবস্থান করছে।

সফরের ধারাবাহিকতার অংশ হিসাবে সোমবার তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরানকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনায় যোগ দেন তারা। এ সময় বাংলাদেশ সম্পর্কে এই মূল্যায়ন তুলে ধরেন তারা।

আলোচনায় তুরস্ক-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল-এর চেয়ারপারসন হুলিয়া জেডিক বলেন, ‘প্রয়োজনীয় যোগাযোগের অভাবে তুরস্কের উদ্যোক্তাদের কাছে বাংলাদেশের পরিচিত বেশ কম। এ পরিস্থিতিতে দুদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের টেকসই উন্নয়ন জরুরি।’

তিনি জানান, তুরস্কের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে সম্প্রতি তুরস্কে একটি ‘বাংলাদেশ রিসার্চ সেন্টার’ স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে বলে মনে করেন হুলিয়া জেডিক।

বাংলাদেশে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান বলেন, বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। অন্যদিকে পৃথিবীর ১০টি বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে উত্তরণের লক্ষ্যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক। দুই দেশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশেষ করে বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

বাংলাদেশের তথ্য-প্রযুক্তি, ওষুধ এবং হালকা প্রকৌশল খাতকে বেশ সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করে তার দেশের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তুর্কি দূত।

তুরস্কের উৎপাদিত যন্ত্রপাতি বিশ্বমানের হলেও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী মূল্যের হওয়ায় বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের বেশি হারে যন্ত্রপাতি আমদানি করতে পারে বলেও মত দেন তিনি।

তুরস্কের দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর কেনান কালাইসি জানান, ২০২১ সালের প্রথম নয় মাসে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। শিগগির বাংলাদেশ-তুরস্কের বাণিজ্য ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে।

আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতে তুরস্কের বাণিজ্য প্রতিনিধিদল কে স্বাগত জানান ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রহমান। তিনি বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের দুদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬৮৬.৪১ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে আমদানি ছিল ২৩৩.৪১ মিলিয়ন, আর রপ্তানি ৪৫৩ মিলিয়ন ডলার। তবে ২০২০-২১ অর্থবছরে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়ে হয়েছে ৪৯৯.৭৯ মিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশের অবকাঠামো, নির্মাণ, রেলওয়ে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অটোমোবাইল, স্বাস্থ্যসেবা, মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি, জাহাজ-নির্মাণ, কৃষি এবং হোম এমপ্লায়েন্স প্রভৃতি খাত বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য অন্তত সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেন ডিসিসিআই সভাপতি। বলেন, তুরস্কের উদ্যেক্তারা এসব খাতে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারেন।

শেয়ার করুন

বাজুস সভাপতি সায়েম সোবহান

বাজুস সভাপতি সায়েম সোবহান

নির্বাচনে সায়েম সোবহান আনভীর নেতৃত্বাধীন পুরো প্যানেল জয়লাভ করেছে। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক দিলীফ কুমার আগরওয়ালা।

দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির (বাজুস) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সায়েম সোবহান আনভীর। তিনি দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বসুন্ধরা গোল্ড রিফাইনারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকও তিনি।

সোমবার রাজধানীর বায়তুল মোকারম মার্কেটে বাজুস কার্যালয়ে ২০২১-২০২৩ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়। সংগঠনটির ৩৫ সদস্যের নির্বাহী সদস্য দ্বারা পরিচালিত হয়।

নির্বাচনে সায়েম সোবহান আনভীর নেতৃত্বাধীন পুরো প্যানেল জয়লাভ করেছে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন দিলীফ কুমার আগরওয়ালা। তিনি ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। টানা চার বার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন আগরওয়ালা।

রিহ্যাব সভাপতি ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই পরিচালক আলমগীর শামসুল আলামিন কাজল নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। বোর্ডের সদস্য ছিলেন এফবিসিসিআইর আরেক পরিচালক ইকবাল হোসেন চৌধুরী ও ঢাকা চেম্বারের পরিচালক হোসেন এ শিকদার।

বসুন্ধরা গোল্ড রিফাইনারি লিমিটেড ও আরিশা জুয়েলার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর গণমাধ্যমে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত স্বর্ণের গহনা অচিরেই বিশ্ববাজারে রপ্তানি হবে।

কমিটিতে যারা

নবনির্বাচিত ৭ জন সহসভাপতি হলেন- মেসার্স দি আপন জুয়েলার্সের কর্ণধার গুলজার আহমেদ, নিউ জেনারেল জুয়েলার্স লিমিটেডের আনোয়ার হোসেন, অলংকার নিকেতনের এম এ হান্নান আজদ, জড়োয়া হাউজের বাদল চন্দ্র রায়, সিরাজ জুয়েলার্সের দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন, এল রহমান জুয়েলার্সের আনিসুর রহমান দুলাল এবং আমিন জুয়েলার্সের কাজী নাজনীন ইসলাম নিপা।

নির্বাচিত ৯ জন সহসম্পাদক হলেন- গোল্ড ওয়ার্ল্ডের কর্ণধার মাসুদুর রহমান, ফেন্সী ডায়মন্ডের সমিত ঘোষ অপু, ভেনাস ডায়মন্ড কালেকশনের বিধান মালাকার, রিজভী জুয়েলার্সের জয়নাল আবেদীন খোকন, নিউ সোনারতরী জুয়েলার্সের লিটন হাওলাদার, মেসার্স বৈশাখী জুয়েলার্সের নারায়ণ চন্দ্র দে, মনি মালা জুয়েলার্সের তাজুল ইসলাম লাভলু, গোল্ড কিং জুয়েলার্সের এনামুল হক ভুঞা লিটন এবং পূরবী জুয়েলার্সের মুক্তা ঘোষ।

কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন কুন্দন জুয়েলারি হাউজ ও জায়া গোল্ডের কর্ণধার উত্তম বণিক।

নতুন কমিটির ১৬ জন সদস্য হলেন, গ্রামীণ ডায়মন্ড হাউজের কর্ণধার ও বাজুসের সাবেক সভাপতি দিলীপ কুমার রায়, শারমিন জুয়েলার্স ও ডায়মন্ড অ্যান্ড ডিভাসের কর্ণধার এবং বাজুসের বিদায়ী সভাপতি এনামুল হক খান দোলন, সুলতানা জুয়েলার্সের মোহাম্মদ বাবুল মিয়া, ডায়মন্ড সী’র ইমরান চৌধুরী, পি সি চন্দ্র জুয়েলার্সের পবিত্র চন্দ্র ঘোষ, জুয়েলারি হাউজের রিপনুল হাসান, রহমান জুয়েলার্সের মজিবুর রহমান খান, লিলি জুয়েলার্সের বাবলু দত্ত, রজনীগন্ধা জুয়েলার্সের শহিদুল ইসলাম, পার্ল ওয়েসিস জুয়েলার্সের জয়দেব সাহা, সাজনী জুয়েলার্সের ইকবাল উদ্দিন, শতরূপা জুয়েলার্সের কার্তিক কর্মকার, আফতাব জুয়েলার্সের উত্তম ঘোষ, শৈলী জুয়েলার্সের ফেরদৌস আলম শাহীন, জারা গোল্ডের কাজী নাজনীন হোসেন জারা এবং রয়েল মালাবার জুয়েলার্সের আসলাম খান।

শেয়ার করুন

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এসআইবিএলের উপশাখা

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এসআইবিএলের উপশাখা

ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সিরাজুল হক বেগমগঞ্জ চৌরাস্তায় উপশাখাটির উদ্বোধন করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের (এসআইবিএল) ৯৮তম উপশাখা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার প্রধান কার্যালয় হতে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সিরাজুল হক মাইজদী শাখার আওতাধীন বেগমগঞ্জ চৌরাস্তায় উপশাখাটির উদ্বোধন করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সামছুল হক, কোম্পানি সচিব আব্দুল হান্নান খান, মার্কেটিং এন্ড ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন ডিভিশনের প্রধান মোঃ মনিরুজ্জামান এবং ব্রাঞ্চেস কন্ট্রোল এন্ড জেনারেল ব্যাংকিং ডিভিশনের প্রধান সাইফ আল-আমীন।

এছাড়াও মাইজদী শাখার ব্যবস্থাপক, উপশাখার ইনচার্জসহ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

টানা চার মাস ধরে বাড়ছে মূল্যস্ফীতি

টানা চার মাস ধরে বাড়ছে মূল্যস্ফীতি

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করার পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছিল। তার প্রভাব পড়েছে ছোট-বড় সব দেশে। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফসহ বিভিন্ন আর্থিক সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছিল, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও চড়ছে মূল্যস্ফীতির পারদ। চলতি অর্থবছরের চতুর্থ মাস অক্টোবরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি) দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ।

এর অর্থ হলো, ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে যে পণ্য বা সেবার জন্য ১০০ টাকা খরচ করতে হতো, ২০২১ সালের অক্টোবরে সেই পণ্য বা সেবার জন্য ১০৫ টাকা ৭০ পয়সা খরচ করতে হয়েছে।

আগের মাস সেপ্টেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। আগস্টে হয়েছিল ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। জুলাইয়ে এই হার ছিল ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এর পর থেকেই বাড়ছে মূল্যস্ফীতি।

অক্টোবরে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক বেড়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সোমবার মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে, বিবিএস মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির তথ্য নতুন ভিত্তি বছরের (২০১৫-১৬) হিসাব কষে প্রকাশ করলেও মূল্যস্ফীতির তথ্য ১৫ বছর আগের ২০০৫-০৬ অর্থবছরকে ভিত্তি বছর ধরে প্রকাশ করেছে।

এ প্রসঙ্গে বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নতুন ভিত্তি বছরের হিসাবে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের কাজ চলছে। খুব শিগগিরই তা প্রকাশ করা হবে।’

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছে সরকার। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে এই লক্ষ্য ধরা ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু অর্থবছর শেষ হয় ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি নিয়ে।

অর্থাৎ বাজেটের লক্ষ্যের চেয়ে খানিকটা বেশি ছিল গড় মূল্যস্ফীতি।

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করার পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছিল। তার প্রভাব পড়েছে ছোট-বড় সব দেশে। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফসহ বিভিন্ন আর্থিক সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছিল, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলেছিল, খাদ্যশস্য ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে খাদ্যের মূল্য এখন ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এফএওর খাদ্যমূল্য সূচক দাঁড়িয়েছে ১৩০ শতাংশ। অথচ গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

খাদ্যে ব্যয় বৃদ্ধি অবস্থাপন্ন মানুষের জন্য বড় সমস্যা না হলেও দরিদ্র মানুষের জন্য তা বড় সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। কারণ, আনুপাতিক হারে দরিদ্র মানুষের খাদ্যব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি।

সংস্থাটি বলেছিল, সারা বিশ্বেই পণ্যের মূল্য বাড়ছে। ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই মূল্যস্ফীতি বাড়তির দিকে। আবার এ সমস্যার শিগগিরই সমাধান হচ্ছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

১৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে কানাডায়। সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যসূচক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে বেড়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। আগস্টের তুলনায় বেড়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। ২০০৩ সালের পর এই প্রথম এতটা মূল্যস্ফীতি বাড়ে কানাডায়। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, পরিবহন, আবাসন ও খাদ্যের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। বৈশ্বিক সরবরাহ ঘাটতির প্রভাব পড়েছে দেশটির ওপরে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার খবর আগেই প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

২০২১ সালে অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র, চিলি, হাঙ্গেরি, মেক্সিকো, পোল্যান্ড, তুরস্ক, ব্রাজিল, রাশিয়ায় মূল্যস্ফীতির হার ছাড়িয়েছে ৬ শতাংশের ওপরে। কারও কারও ছাড়িয়েছে দুই অঙ্ক। ট্রেডিং ইকোনমিকসের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশে, মেক্সিকো ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ, রাশিয়া ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ, ব্রাজিল ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ, তুরস্ক ১৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ ও আর্জেন্টিনা ৫২ দশমিক ২ শতাংশ।

গত ১২ অক্টোবর প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতিও বাড়বে।

আইএমএফ বলছে, গত ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এবার তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।

তবে, পরিস্থিতি এখন অনেকটা পাল্টেছে। করোনাভাইরাসের নতুন ধরন অতিসংক্রামক ওমিক্রনের ধাক্কায় ফের ফের বেসামাল বিশ্ব অর্থনীতি। ধস নেমেছে বিশ্বের বড় বড় পুঁজিবাজারে। জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় ৬৮ ডলারে নেমে এসেছে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশেও।

এ অবস্থায় বিশ্ব অর্থনীতির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতিতে ওমিক্রনের প্রভাব কতোটা পড়বে, তার জন্য আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করেন অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘অবস্থা বেশ খারাপ মনে হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে আরেকটি বড় ধাক্কা আসছে মনে হচ্ছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়বে। ওমিক্রনের ছোবলে যদি জ্বালানি তেলের সঙ্গে খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য পণ্যের দাম কমে যায়, তাহলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখি হবে।

‘তবে, আমাদের পরিসংখ্যান ব্যুরো মূল্যস্ফীতির যে তথ্য প্রকাশ করে, তার সঙ্গে বাজারের পণ্য মূল্যের বাস্তব প্রতিফলনের যথেষ্ঠ ঘাটতি থাকে বলে অনেকেই প্রশ্ন করেন। এ ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য বিবিএসের বাস্তবভিত্তিক তথ্য প্রকাশের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মাঠ পর্যায় থেকে যে তথ্য পাই, সেই তথ্যের ভিত্তিতেই মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করা হয়। এখানে কোনো প্রশ্ন ওঠার কারণ নেই।’

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে দেখা যায়, অক্টোবর মাসে বাংলাদেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ২২ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

আগের মাস সেপ্টেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫ দশমিক ২১ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৬ দশমিক ১৯ শতাংশ।

অক্টোবর মাসে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে এই হার ছিল ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অক্টোবরে শহরাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে হয়েছিল ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, অক্টোবর মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে গ্রামে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ।

এই মাসে শহর এলাকায় খাদ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৪ দশমিক ৩১ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতির হ্রাস-বৃদ্ধি পর্যালোচনায় পরিসংখ্যান ব্যুরো বলেছে, সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় অক্টোবরে চাল, আটা-ময়দা, চিনি, ব্রয়লার মুরগি, ডিম, পেঁয়াজ, সবজিসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দামই বেড়েছে।

শেয়ার করুন