ইকবাল নারী নির্যাতন, ইকরাম চুরি মামলার আসামি

ইকবাল নারী নির্যাতন, ইকরাম চুরি মামলার আসামি

ওসি আনওয়ারুল আজিম বলেন, ইকবালের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা হয়েছে ২০১৮ সালে, যেটির বিচার চলছে। ইকরামের নামে কুমিল্লায় চুরি, ছিনতাই ও অন্যের জায়গা দখলের অভিযোগে মামলা হয় ২০১৭ সালে। এ ছাড়া ফেনীতে তার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়।

কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখায় প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন নামে নারী নির্যাতন মামলা রয়েছে। মামলা রয়েছে মণ্ডপে কোরআন রাখার খবর ৯৯৯-এ জানানো ইকরাম হোসেনের নামেও।

পুলিশ বলছে, ইকরাম চুরি ও অন্যের জায়গা দখলের অভিযোগে করা মামলার আসামি। ইকবালের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা হয়েছে ২০১৮ সালে, যেটির বিচার চলছে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনওয়ারুল আজিম।

তিনি বলেন, ইকরামের নামে কুমিল্লায় চুরি, ছিনতাই ও অন্যর জায়গা দখলের অভিযোগে মামলা হয় ২০১৭ সালে। এ ছাড়া ফেনীতে তার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়।

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

নানুয়ার দিঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে চলে ব্যাপক ভাঙচুর, আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশকিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়।

যেখান থেকে সাম্প্রদায়িক এই সহিংসতার শুরু সেই নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপে কীভাবে উত্তেজনার শুরু এবং মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এলো, সে বিষয়ে টানা অনুসন্ধান চালায় নিউজবাংলা।

পূজার আয়োজক, এলাকাবাসী, তদন্তকারী কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার আগের রাত আড়াইটা পর্যন্ত মন্দিরে পূজাসংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি ছিল। এরপর ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দুজন নারী ভক্ত মণ্ডপে এসে হনুমানের মূর্তিতে প্রথম কোরআন শরিফটি দেখতে পান।

পূজার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন দিঘির পাড়ের বাসিন্দা তরুণ কান্তি মোদক। স্থানীয়রা তাকে মিথুন নামে চেনেন। মিথুন নিউজবাংলাকে জানান, রাত আড়াইটা পর্যন্ত তিনি মণ্ডপে ছিলেন। তখন পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। এরপর তিনি নৈশপ্রহরী শাহিনের কাছে মণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে বাসায় ফেরেন। সহিংসতার পর নৈশপ্রহরী শাহিনকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিউজবাংলার হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সহিংসতার আগের রাতে শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের মসজিদ থেকে একটি কোরআন শরিফ নিয়ে পাশের নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপের উদ্দেশে রওনা হন ইকবাল।

এর প্রায় এক ঘণ্টা পরের আরেকটি ফুটেজে মণ্ডপে কোরআন রেখে হনুমানের গদা হাতে ইকবালকে ফিরতে দেখা যায়।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের যে অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়া যায়, সেখানে শুরুতে প্রবেশে ব্যর্থ হয়েছিলেন প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন। এরপর তিনি গিয়েছিলেন ওই মণ্ডপ থেকে কিছুটা দূরে দিগম্বরীতলার গুপ্ত জগন্নাথ মন্দিরে।

মন্দিরটির গেটের তালা লাঠি দিয়ে ভাঙতে ব্যর্থ হন ইকবাল। এরপর আবার ফিরে আসেন নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে। এ সময় পূজাসংশ্লিষ্টদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তিনি কোরআন শরিফটি হনুমানের ওপর রাখেন। মসজিদ থেকে বের হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর কোরআন রেখে হনুমানের গদা হাতে ফিরে আসেন ইকবাল।

৩০ বছর বয়সী ইকবাল হোসেন কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিতীয় মুরাদপুর-লস্করপুকুর এলাকার নূর আহম্মদ আলমের ছেলে। নূর আলম পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। ইকবালকে গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ধর্ম অবমাননার মামলায় ইকবালসহ চারজনকে শনিবার সাত দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। অন্য আসামিরা হলেন, মণ্ডপে কোরআন পাওয়ার তথ্য ৯৯৯-এ কল করে জানানো ইকরাম হোসেন এবং নগরীর শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের সহকারী খাদেম হুমায়ুন আহমেদ ও ফয়সাল আহমেদ।

আরও পড়ুন:
জামিন নাকচ, রুমা সরকার কারাগারে
রুমা সরকারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন
‘সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘোলাটের অপচেষ্টা রুখতে হবে’
অপরাধী যে দলেরই হোক, বিচার হবে: আইনমন্ত্রী
সহিংসতার দায় এড়াতে পারে না ফেসবুক: তথ্যমন্ত্রী 

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তিতাস-মেঘনাজুড়ে বাঁশ-জালের ঘের, ঘটছে দুর্ঘটনা

তিতাস-মেঘনাজুড়ে বাঁশ-জালের ঘের, ঘটছে দুর্ঘটনা

উপজেলার অরুয়াইল ও পাকশিমুল এলাকায় তিতাস ও মেঘনা নদীতে ছোট ছোট ঘের তৈরি করে দীর্ঘদিন মাছ ধরা হলেও প্রভাবশালী চক্রটির বিরুদ্ধে কেউই মুখ খুলতে চান না। এখন নিয়মিত দুর্ঘটনার কারণে অনেকেই এগুলো সরিয়ে নিতে অভিযানের দাবি জানিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস ও মেঘনা নদীতে বাঁশ ও জাল দিয়ে ছোট ছোট ঘের তৈরি করে মাছ শিকারের কারণে বাড়ছে নৌ দুর্ঘটনা। ঘেরের কারণে গত এক বছরেই অন্তত আটটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ঘেরে ছোট ফাঁসের জাল দিয়ে মাছ ধরায় জীববৈচিত্র্যেরও ক্ষতি হচ্ছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, নদীর মাঝখানে বাঁশ পুঁতে এবং গাছের ডালপালাসহ কচুরিপানা ও জাল দিয়ে তৈরি করা হয় এসব ঘের। এর মধ্যে দেয়া হয় প্রচুর পরিমাণে মাছের খাবার। খাবারের খোঁজে মাছ ভেতরে এলে চারদিকে জাল দিয়ে ঘের আটকানো হয়। তারপর সেই মাছ ধরা হয়।

স্থানীয় প্রভাবশালীরা দীর্ঘ ৬০ থেকে ৭০ বছর ধরে এভাবে মাছ ধরছেন। অথচ নদীতে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে মাছ ধরা অপরাধ।

উপজেলার অরুয়াইল ও পাকশিমুল এলাকায় তিতাস ও মেঘনা নদীতে এভাবে দীর্ঘদিন মাছ ধরা হলেও প্রভাবশালী চক্রটির বিরুদ্ধে কেউই মুখ খুলতে চান না। এখন নিয়মিত দুর্ঘটনার কারণে অনেকেই এগুলো সরিয়ে নিতে অভিযানের দাবি জানিয়েছেন।

তিতাস-মেঘনাজুড়ে বাঁশ-জালের ঘের, ঘটছে দুর্ঘটনা

একটি দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া আব্দুল গাফফার বলেন, ‘আল্লাহর রহমত ছিল, সেই নৌ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গিয়েছিলাম। গত বছরের অক্টোবর মাসে নদীর পানি কমতে শুরু করার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এর মূল কারণ নদীতে থাকা ঘের।

‘ঘেরের কারণে নদী ছোট হয়ে যাওয়ায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে ১০-১২ জন যাত্রীসহ আমাদের নৌকাটির সঙ্গে তিতাস নদীতে অন্য একটি নৌকার সংঘর্ষ হয়। সঙ্গে সঙ্গেই নৌকাটি ডুবতে শুরু করে। পরে পাশ দিয়ে যাওয়া আরেকটি নৌকা আমাদের উদ্ধার করে।’

তিতাস-মেঘনাজুড়ে বাঁশ-জালের ঘের, ঘটছে দুর্ঘটনা

তিতাস নদী দিয়ে প্রতিদিন অরুয়াই বাজারে যাত্রীদের আনা-নেয়া করেন বাছির মিয়া। তিনি বলেন, ‘নদীতে ভাই অনেক ঘের। এইডিরে না হরাইলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা হইব।

‘কতলা স্বার্থপর বেডাইত আছে, এইডি করে। আপনেরা মিললা এইডি সরান। বিশেষ করে রাতের বেলায় ও শীতকালে কুয়াশার কারণে নৌকা ঘেরের মধ্যে উঠে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।’

ঘেরের কারণে সাধারণ জেলেরা নদীতে আর আগের মতো মাছ পান না বলেও অভিযোগ করেছেন।

উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের জেলে হিরণ মিয়া বলেন, ‘আমরা যারা নৌকা দিয়া মাছ ধরি, তাগো অনেক সময় খালি হাতেই বাড়িত যাওন লাগে। ঘেরের কারণে নদীতে এখন আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না।

‘নদীতে ঠিকমতো নামতেও পারি না। যেখানে-সেখানে ঝোপ তৈরি করার ফলে নৌকাও চালানো যায় না। আবার ঘেরের আশপাশে মাছ ধরতেও দেয়া হয় না।’

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, ঘেরগুলোর কারণে জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়ছে। কর্মকর্তারা জানান, ঘেরে ছোট ছিদ্রযুক্ত জাল ব্যবহার করায় মা ও পোনাসহ সব ধরনের মাছ আটকা পড়ছে। এতে জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হচ্ছে।

আবার পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় নদীগুলো নাব্যতা হারিয়ে ক্রমে মরা খালে পরিণত হচ্ছে। নদী দখল ও পলি জমে ভরাট হওয়ার পাশাপাশি অবৈধভাবে তৈরি এসব ঘের নদীর নাব্যতা সংকটের অন্যতম কারণ।

সরাইল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মায়মুন জাহান বলেন, ‘আমরা নদী থেকে ঘেরগুলো উঠানোর চেষ্টা করছি। কিছু ঘের উঠিয়েছি। যারা আমাদের কথা শুনবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

নদীতে ঘের বা ঝোপ দিয়ে মাছ শিকার নিষেধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর ফলে নদী নাব্যতা হারায় এবং মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হয়।’

আরও পড়ুন:
জামিন নাকচ, রুমা সরকার কারাগারে
রুমা সরকারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন
‘সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘোলাটের অপচেষ্টা রুখতে হবে’
অপরাধী যে দলেরই হোক, বিচার হবে: আইনমন্ত্রী
সহিংসতার দায় এড়াতে পারে না ফেসবুক: তথ্যমন্ত্রী 

শেয়ার করুন

যুবলীগ নেতা নিহতের ঘটনায় বিক্ষোভ, মামলা

যুবলীগ নেতা নিহতের ঘটনায় বিক্ষোভ, মামলা

ভোলায় যুবলীগ নেতা নিহতের ঘটনায় ১৬ জনের নামে মামলা এবং একজনকে আটক করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে ১৬ জনকে আসামি করে ভোলা থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন। তিনি বলেন, এ মামলায় আবুল বাশার নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে একটি স্পিড বোট।

ভোলায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত যুবলীগ নেতা খোরশেদ আলম টিটুর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের জানিয়ে সদর থানা ও পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।

নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন নান্নুর নেতৃত্বে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, এ হত্যার সঙ্গে জড়িত পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থী জামাল উদ্দিন চকেট ও তার সহযোগীরা। তাদের গ্রেপ্তারের দাবি তোলা হয়েছে।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে ১৬ জনকে আসামি করে ভোলা থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন। তিনি বলেন, এ মামলায় আবুল বাশার নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে একটি স্পিড বোট।

নির্বাচনের পর ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা কর্মীদের সঙ্গে শুক্রবার দুপুরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

মদনপুর থেকে দুপুরের খাবার খেয়ে তারা ফেরার পথে ভোলা সদরের দিকে ট্রলারে করে যাওয়ার সময় মাঝ নদীতে তাদের ওপর কয়েকজন এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এ সময় ট্রলারের থাকা খোরশেদ আলম টিটু গুলিবিদ্ধ হন। তাকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই ট্রলারে নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম নাছির উদ্দিন নান্নু, ইউপি সদস্য মো. হেলাল, আব্দুল খালেক, মো. ইউসুফসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
জামিন নাকচ, রুমা সরকার কারাগারে
রুমা সরকারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন
‘সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘোলাটের অপচেষ্টা রুখতে হবে’
অপরাধী যে দলেরই হোক, বিচার হবে: আইনমন্ত্রী
সহিংসতার দায় এড়াতে পারে না ফেসবুক: তথ্যমন্ত্রী 

শেয়ার করুন

আ.লীগের সমাবেশে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হামলার অভিযোগ

আ.লীগের সমাবেশে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হামলার অভিযোগ

উপজেলা চেয়ারম্যান ভিক্টোরিয়া পারভীন সাথী বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের নির্দেশনায় কর্মী সমাবেশে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছিলাম। দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে বিএনপির সন্ত্রাসীরা হঠাৎ তাণ্ডব চালায়। মূলত আমাকে হত্যা ও ভোটের আগে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই এ হামলা চালানো হয়েছে।’

যশোরের বাঘারপাড়ায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনি সমাবেশে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতার সমর্থকদের হামলার অভিযোগ উঠেছে।

জামদিয়া ইউনিয়নের ভাগুড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে হামলায় ২৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জনকে রাত ১১টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ওই ১০ জন হলেন ভাগুড়া গ্রামের শাহীন রেজা, জসিম উদ্দিন বুলু, তরিকুল মোল্লা, দেলোয়ার বিশ্বাস, ইদ্রিস বিশ্বাস, মো. লিকু, মো. রনি, মিলন বিশ্বাস, মুরাদ মণ্ডল ও তৌসিফ মণ্ডল।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইদ্রিস নিউজবাংলাকে জানান, শুক্রবার রাতে জামদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আরিফুল ইসলাম তিব্বতের নির্বাচনি সভায় আসেন বাঘারপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান ভিক্টোরিয়া পারভীন সাথী।

তিনি বক্তব্য দেয়ার সময় ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও আনারস প্রতীকের প্রার্থী আসলাম হোসেন এবং মোরগ প্রতীকের সদস্য প্রার্থী বিএনপি নেতা মো. সোলায়মানের সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালান। হামলার নেতৃত্বে ছিলেন সোলায়মান।

তারা চাপাতি, রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অফিস ভাঙচুর ও নৌকার সমর্থকদের পিটিয়ে, কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের হাসপাতালে নেয়।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জসিম উদ্দিন জানান, আহতদের মধ্যে লিপুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান ভিক্টোরিয়া পারভীন সাথী বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের নির্দেশনায় কর্মী সমাবেশে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছিলাম। দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে বিএনপির সন্ত্রাসীরা হঠাৎ তাণ্ডব চালায়। মূলত আমাকে হত্যা ও ভোটের আগে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই এ হামলা চালানো হয়েছে।’

নৌকার প্রার্থী তিব্বত বলেন, ‘নির্বাচনে নিজেদের হার নিশ্চিত জেনেই তারা হামলা চালিয়েছে।’

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আসলাম ও সোলায়মানকে একাধিকবার কল দিলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে। এখনও কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
জামিন নাকচ, রুমা সরকার কারাগারে
রুমা সরকারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন
‘সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘোলাটের অপচেষ্টা রুখতে হবে’
অপরাধী যে দলেরই হোক, বিচার হবে: আইনমন্ত্রী
সহিংসতার দায় এড়াতে পারে না ফেসবুক: তথ্যমন্ত্রী 

শেয়ার করুন

নিজ বাড়িতে দিনমজুরকে কুপিয়ে হত্যা

নিজ বাড়িতে দিনমজুরকে কুপিয়ে হত্যা

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বাড়িতে ঢুকে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সংগৃহীত ছবি

দিঘারপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, রেজাউল বেশ রাতে বাড়ি ফিরে একা একটি ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পাশের ঘরে তার স্ত্রী-সন্তানরা ছিলেন। রাত ৩টার দিকে কে বা কারা এসে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। 

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বাড়িতে ঢুকে এক দিনমজুরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

উপজেলার দিঘারপাড়া গ্রামে শুক্রবার রাত ৩টার দিকে রেজাউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

কালীগঞ্জের ত্বত্তিপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিজ বাড়িতে দিনমজুরকে কুপিয়ে হত্যা
স্বজনদের আহাজারি। ছবি: নিউজবাংলা

দিঘারপাড়া গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, রেজাউল বেশ রাতে বাড়ি ফিরে একা একটি ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পাশের ঘরে তার স্ত্রী-সন্তানরা ছিলেন। রাত ৩টার দিকে কে বা কারা এসে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।

রেজাউলের চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এসআই রফিকুল বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা হবে।’

আরও পড়ুন:
জামিন নাকচ, রুমা সরকার কারাগারে
রুমা সরকারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন
‘সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘোলাটের অপচেষ্টা রুখতে হবে’
অপরাধী যে দলেরই হোক, বিচার হবে: আইনমন্ত্রী
সহিংসতার দায় এড়াতে পারে না ফেসবুক: তথ্যমন্ত্রী 

শেয়ার করুন

হারিয়ে যাচ্ছে ঈশ্বরগঞ্জের মৃৎশিল্প

হারিয়ে যাচ্ছে ঈশ্বরগঞ্জের মৃৎশিল্প

মৃৎশিল্প এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। যারা এখনও এ পেশায় আছেন তারাও দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। ছবি: নিউজবাংলা

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার অলকা রানি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক যুগ আগেও এই উপজেলায় অনেক মৃৎশিল্পী ছিল। ধীরে ধীরে মাটির তৈজসপত্রের কদর কমে যাওয়ায় তারা এ পেশা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। শুধু আমাদের পরিবারটি এখনও টিকে আছে।’

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের খালবলা গ্রামের অলকা রানি। বংশপরম্পরায় মাটির তৈজসপত্র বানানোর কাজ করেন তিনি৷

তার স্বামী কুমার স্বপন চন্দ্র পালসহ পরিবারের আরও বেশ কয়েকজন নারী এ কাজ করেই সংসার চালান। তবে কয়েক বছর ধরে মৃৎশিল্পের কাজ করে তিন বেলা খাবার জোগাতে পারছেন না তারা।

মাটির তৈজসপত্রের বাজার এখন অনেকটাই দখলে কাঁচ, মেলামাইন, প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল ও সিরামিকের সামগ্রীতে। টেকসই, দাম কম ও সহজলভ্য হওয়ায় ক্রেতারা মাটির তৈজসপণ্যের বদলে ওই পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন।

এতে মৃৎশিল্প এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। যারা এখনও এ পেশায় আছেন তারাও দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন।

মাটি দিয়ে তৈজসপত্র বানানোর সময় কথা হয় অলকা রানির সঙ্গে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক যুগ আগেও এই উপজেলায় অনেক মৃৎশিল্পী ছিল। ধীরে ধীরে মাটির তৈজসপত্রের কদর কমে যাওয়ায় তারা এ পেশা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। শুধু আমাদের পরিবারটি এখনও টিকে আছে।’

হারিয়ে যাচ্ছে ঈশ্বরগঞ্জের মৃৎশিল্প

তিনি আরও বলেন, ‘একসময় আমাদের তৈরি মাটির তৈজসপত্র কিনতে বাড়িতে ভিড় জমাতেন লোকজন। কোথাও মেলা হলে এসব তৈজসপত্র বাড়ি থেকে কিনে বিক্রি করা হতো। ক্রেতারাও স্বাচ্ছন্দ্যে এসব মাটির জিনিস কিনে ব্যবহার করতেন।

‘তবে বর্তমানে মাটির জিনিস কেনার ক্রেতা নেই বললেই চলে। তাই আমরাও এ পেশা ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছি।’

কুমার স্বপন চন্দ্র পাল বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় হাঁড়ি-পাতিল, ডাবর-মটকি থেকে শুরু করে মাটির ব্যাংক, শো-পিস, গয়না, কলস, ফুলের টব, ফুলদানি, ঢাকনা, পিঠা তৈরির ছাঁচ এবং নানা রকম খেলনা তৈরি করছি নিয়মিত।

‘শহরবাসীর দালান-কোঠা সাজাতে মাটির তৈরি নানা পট-পটারি, ফুলদানি ও বাহারি মাটির হাঁড়ির কদর রয়েছে এখনও। সেগুলো বিক্রি করে কোনো রকমে খেয়ে পড়ে বেঁচে আছি। এগুলোতেও প্লাস্টিকসামগ্রী ব্যবহার হলে অন্য পেশায় শ্রমিক হিসেবে যোগ দেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পরিবার বংশপরম্পরায় মাটির তৈজসপত্র তৈরি করছে। আগ্রহ আর মাটির তৈরি তৈজসপত্র ব্যবহারের সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতেই অন্য পেশায় যাইনি।

‘তবে আমাদের ছেলে-মেয়েরা এ কাজে আগ্রহী না। তারা পড়াশোনা করে ভালো চাকরি করতে ইচ্ছুক। এতে বোঝা যায়, মাটির তৈজসপত্র বানানো ধীরে ধীরে এক দিন বন্ধ হয়ে যাবে।’

আঠারোবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুবের আলম রূপক বলেন, ‘প্লাস্টিক পণ্যের ওপর মজেছে মানুষ। ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের দৃষ্টি ক্রমেই কমে যাচ্ছে। একটা সময় মাটির তৈরি বাসন ছাড়া বাঙালি পরিবারগুলোর দিন চলত না।

‘মেজবান অনুষ্ঠানেও খাবার পরিবেশন হতো মাটির তৈরি বাসনে। এখন আর এমন চাহিদা না থাকায় এই মৃৎশিল্পটি হারিয়ে যেতে বসেছে।’

হারিয়ে যাচ্ছে ঈশ্বরগঞ্জের মৃৎশিল্প

তিনি আরও বলেন, ‘ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার শুধু আমাদের ইউনিয়নেই মাটির তৈজসপত্র বানানো হয়। আগে এই পেশার সঙ্গে অনেকে জড়িত থাকলেও এখন কয়েকজন জড়িত। এ পেশার সঙ্গে জড়িতদের যথাসম্ভব সহযোগিতা করব৷ তবে উপজেলা প্রশাসনেরও উচিত মৃৎশিল্পীদের আর্থিক সহায়তা করা।’

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজা জেসমিন বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও লোকজন কাঁধে করে মাটির তৈরি তৈজসপত্র বিক্রি করতেন। এখন আর সচরাচর তা চোখে পড়ে না।

‘মাটির তৈরি তৈজসপত্রের সঙ্গে বাঙালির ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে। এই শিল্পটা বাঁচিয়ে রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’

আরও পড়ুন:
জামিন নাকচ, রুমা সরকার কারাগারে
রুমা সরকারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন
‘সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘোলাটের অপচেষ্টা রুখতে হবে’
অপরাধী যে দলেরই হোক, বিচার হবে: আইনমন্ত্রী
সহিংসতার দায় এড়াতে পারে না ফেসবুক: তথ্যমন্ত্রী 

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের ৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের ৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল

২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর হাসপাতালটিকে ২০০ শয্যায় উন্নীত করতে আরও ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় মন্ত্রণালয়। ২০১৯ সালের মধ্যে এই কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ২০০ শয্যায় উন্নীতকরণ কার্যক্রমই শুরু হয়নি। চালু হয়নি শিশু হাসপাতালের কার্যক্রমও। কাজ না হওয়ায় বরাদ্দ করা ১০০ কোটি টাকা ফেরত যায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি সিলেট সফরে এসে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের উদ্বোধন করেন। এরপর হাসপাতালটি ২০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে প্রায় সাত বছর হতে চললেও এখনও এই শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফেরত গেছে বরাদ্দের টাকাও।

স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রশাসনিক অনুমোদন না পাওয়ায় ও লোকবল সংকটে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। আর গণপূর্ত বিভাগ ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতায় ২০০ শয্যায় উন্নীতকরণের কাজও শুরু হয়নি।

গত বছরের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে এখানে করোনা রোগীদের চিকিৎসা চলছে। এ কারণেও এই হাসপাতালকে শিশু হাসপাতালে উন্নীত করা যায়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের ৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল

২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকার সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালে সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এরপর বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এই টাকায় অবকাঠামোগত কিছু সংস্কার করে গণপূর্ত বিভাগ।

২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর হাসপাতালটিকে ২০০ শয্যায় উন্নীত করতে আরও ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় মন্ত্রণালয়। ২০১৯ সালের মধ্যে এই কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ২০০ শয্যায় উন্নীতকরণ কার্যক্রমই শুরু হয়নি। চালু হয়নি শিশু হাসপাতালের কার্যক্রমও। কাজ না হওয়ায় বরাদ্দ করা ১০০ কোটি টাকা ফেরত যায়।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘২০০ শয্যার মা ও শিশু হাসপাতালের ডিজাইন রেডি ছিল, অর্থ বরাদ্দও ছিল। সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। এর জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

‘সিলেটের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী টাকা দিচ্ছেন। কিন্তু এই টাকার যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। এটা খুবই দুঃখজনক।’

জানা যায়, ১৯৭৮ সালে সিলেট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (বর্তমান ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল) চৌহাট্টা থেকে কাজলশাহ এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। ১৯৭৮ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৩ বছর অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকে পুরনো হাসপাতালের স্থাপনা। ১৯৯২ সালে এটি সিলেট সদর হাসপাতাল হিসেবে পুনর্জন্ম লাভ করে। পরবর্তী সময়ে ১৯৯২ সাল থেকে এটি ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতাল ছিল। ১৯৯৮ সালে সিলেট শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল নামকরণ করা হয়।

তবে তাড়াহুড়ো করে লোকবল ও যন্ত্রপাতি সংকট নিয়ে চালু হয় শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল। ১০০ শয্যার হাসপাতালটিতে ৩০ শয্যার লোকবলও নেই। আনুষঙ্গিক অন্যান্য সুবিধাও অনুপস্থিত। জরুরি বিভাগ থাকলেও চিকিৎসক না থাকায় শুরু থেকেই তা বন্ধ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল হিসেবে চালু করতে পদ সৃষ্টি করে জনবল নিয়োগের জন্য ২০১৫-১৬ সালে চার দফা চিঠি পাঠানো হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে। তবে এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এর মধ্যে গত বছরের মার্চ থেকে ‘করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল’ ঘোষণা করে সিলেট বিভাগের মধ্যে একমাত্র এই হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা শুরু হয়।

বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু না হওয়া প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করলেও বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসনিক অনুমতি হয়নি। ফলে লোকবলও নিয়োগ হয়নি।

‘কেবল অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হাসপাতাল হয় না। হাসপাতালের জন্য লোকবল, যন্ত্রপাতি ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজন হয়। এসব না থাকায় বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করা যায়নি।’

২০০ শয্যায় উন্নীত করতে বরাদ্দ অর্থ ফেরত যাওয়া প্রসঙ্গে ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘অর্থ বরাদ্দ হলেও কাজটি গণপূর্ত বিভাগ না স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ করবে তা নিয়ে ঝামেলা দেখা দেয়। শেষ সময়ে এসে সিদ্ধান্ত হয় গণপূর্ত বিভাগ কাজটি করবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তারা কাজের নকশা জমা দিতে পারেনি।

‘বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর জন্য আমি আরেকটি প্রস্তাব তৈরি করেছি। দ্রুতই তা মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। করোনার কারণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমানে কাগজে-কলমে হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হলেও জনবল নেই ৩০ শয্যা হাসপাতালেরও। করোনার সংক্রমণ বাড়ার পর ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিৎিসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়ে এসে চালানো হয় এই হাসপাতালের কার্যক্রম।

এ ব্যাপারে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের অধীক্ষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হালদার বলেন, ‘বর্তমানে এখানে করোনা রোগীদের চিকিৎসা চলছে। লোকবল সংকট রয়েছে। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। আর বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করাটা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিষয়। এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই।’

আরও পড়ুন:
জামিন নাকচ, রুমা সরকার কারাগারে
রুমা সরকারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন
‘সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘোলাটের অপচেষ্টা রুখতে হবে’
অপরাধী যে দলেরই হোক, বিচার হবে: আইনমন্ত্রী
সহিংসতার দায় এড়াতে পারে না ফেসবুক: তথ্যমন্ত্রী 

শেয়ার করুন

আগুনে পুড়ল বস্তির ৫০০ ঘর

আগুনে পুড়ল বস্তির ৫০০ ঘর

টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ইকবাল হাসান বলেন, ‘ঘরগুলো একটার সঙ্গে আরেকটা লাগালাগি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে গেছে। বস্তিতে ঢোকার মতো রাস্তা না থাকায় আমাদের গাড়ি ভেতরে ঢুকতে পারেনি। বস্তির বাইরে থেকে পানি দিতে হয়েছে।’  

গাজীপুরের টঙ্গী বাজারের পার্শ্ববর্তী একটি বস্তিতে আগুনে প্রায় পাঁচ শতাধিক ঘর পুড়ে গেছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে লাগা আগুন ফায়ার সার্ভিসের নয়টি ইউনিটের চেষ্টায় ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ইকবাল হাসান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আমরা এখন ডাম্পিংয়ের কাজ করছি। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।’

প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, বস্তিতে প্রায় হাজার খানেক ঘর ছিল। তার মধ্যে ৫০০-এর বেশি পুড়ে গেছে।

আগুনে পুড়ল বস্তির ৫০০ ঘর

কীভাবে আগুন লেগেছে তা এখনও জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। ইকবাল হাসান বলেন, ‘ঘরগুলো একটার সঙ্গে আরেকটা লাগালাগি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে গেছে। বস্তিতে ঢোকার মতো রাস্তা না থাকায় আমাদের গাড়ি ভেতরে ঢুকতে পারেনি। বস্তির বাইরে থেকে পানি দিতে হয়েছে।’

স্থানীয় ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন সরকার জানান, পানির সংকট থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে স্থানীয়রাও আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে।

আরও পড়ুন:
জামিন নাকচ, রুমা সরকার কারাগারে
রুমা সরকারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন
‘সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘোলাটের অপচেষ্টা রুখতে হবে’
অপরাধী যে দলেরই হোক, বিচার হবে: আইনমন্ত্রী
সহিংসতার দায় এড়াতে পারে না ফেসবুক: তথ্যমন্ত্রী 

শেয়ার করুন