হলের ছাদের পলেস্তারায় ঢাবি শিক্ষার্থী আহত

হলের ছাদের পলেস্তারায় ঢাবি শিক্ষার্থী আহত

আহত কামরুল হাসান বলেন, ‘আমি ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ ওপর থেকে খসে পড়া পলেস্তারার আঘাতে আমার ঘুম ভেঙে যায়। কপালে হাত দিয়ে দেখি রক্ত। এই পলেস্তারা আমার কপালে না পড়ে চোখেও পড়তে পারত। সবাই ঘুম থেকে উঠে দিনের আলো দেখলেও আমি হয়তো আজ চোখের আলো হারাতাম।’

ঘুমন্ত অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে রুমের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে আহত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী।

রোববার ভোরে হলের ১৩৬ নং রুমে এ ঘটনা ঘটে। আহত কামরুল হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

১৩৬ নং রুমটিতে চার বেডে আটজন শিক্ষার্থী থাকেন। এর মধ্যে একটি বেডে থাকেন কামরুল ও রুমান। রুমান ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী। ঘটনার সময় রুমান বাড়িতে ছিলেন।

কামরুল হাসানের আরেক রুমমেট আরফাত চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজ সকাল ছয়টার দিকে আমি পড়ছিলাম। তখন হঠাৎ আওয়াজ হয়। পাশে তাকিয়ে দেখি কামরুল হাসানের ওপর পলেস্তারা পড়েছে। তার কপাল ফেটে যায়। রক্ত চলে আসে। তবে গুরুতর কিছু না হওয়ায় সে ক্লাসে চলে যায়।’

কামরুল হাসান বলেন, ‘আমি ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ ওপর থেকে খসে পড়া পলেস্তারার আঘাতে আমার ঘুম ভেঙে যায়। কপালে হাত দিয়ে দেখি রক্ত। এই পলেস্তারা আমার কপালে না পড়ে চোখেও পড়তে পারত। সবাই ঘুম থেকে উঠে দিনের আলো দেখলেও আমি হয়তো আজ চোখের আলো হারাতাম।’

কামরুল বলেন, ‘আজকে হয়তোবা আমার চোখ রক্ষা পেয়েছে, কিন্তু ভবিষ্যতে হলের প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থীর জীবন কি রক্ষা হবে? এসব দেখার কি কেউ আছে? হল কর্তৃপক্ষ ঐতিহ্যের অজুহাত দিয়ে আমাদের হলটি বৃহৎ আকারে সংস্কার করছে না। শিক্ষার্থীদের জীবনের চেয়ে তাদের কাছে ঐতিহ্য রক্ষা বড় হয়ে গেছে। প্রশাসনের কাছে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা নাকি ঐতিহ্য রক্ষা করা।’

ঘটনার পরপরই প্রাধ্যক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হলের কর্মচারী তত্ত্বাবধায়ক হালিম। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি স্যারকে জানিয়েছি। বেলা ১১টার দিকে আমি সেই রুমে যাই। রুমের ছাদ থেকে খসে পড়তে পারে এ রকম পলেস্তারা ফেলে দিয়ে চলে আসি।’

তবে বিকেল পর্যন্ত ঘটনাস্থলে আসেননি হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মজিবুর রহমান।

বিষয়টি জানাতে তিনবার প্রভোস্ট অফিসে গেলেও একবারও প্রভোস্টের সাক্ষাৎ পাননি বলে জানান ভুক্তভোগী কামরুল হাসান।

হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৭ সালে একবার এবং সবশেষ ২০১৯ সালের শুরুতে হলের ঝুঁকিপূর্ণ সব রুমের ছাদে নতুন পলেস্তারা লাগানো হয়। তবে তা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।

হল তত্ত্বাবধায়ক আবদুল হালিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন হলের ঝুঁকিপূর্ণ রুমগুলোর ছাদে নতুন করে পলেস্তারা লাগিয়ে দিয়েছিল। তবে পলেস্তারা লাগানোর পর এসবে পানি দেয়া প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু রুমগুলোতে শিক্ষার্থীরা উঠে যাওয়ায় আর পানি দেয়া সম্ভব হয়নি।

পলেস্তারা খসে পড়ার বিষয়টি অবগত আছেন বলে জানালেন প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মজিবুর রহমান। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। আমি এখন একটা নিয়োগ বোর্ডের ভাইভাতে আছি। ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনকে বলেছি তারা যেন হলের প্রতিটি রুম চেক করে। আর আহত শিক্ষার্থীর দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে আমি হলে বলে দিচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিট: চট্টগ্রাম ও বরিশালে অনুপস্থিত ৩১ শতাংশ
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষার আগে কেন্দ্রে আগুন
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ৭৪ পরীক্ষার্থী
ঢাবির ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী টিকার আওতায়
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ২২ জন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এনটিআরসিএর সুপারিশ: দ্রুত নিয়োগের দাবি

এনটিআরসিএর সুপারিশ: দ্রুত নিয়োগের দাবি

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ফল গত ১৫ জুলাই রাতে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। তবে ৫১ হাজার ৭৬১টি পদে সুপারিশ করার কথা থাকলেও সুপারিশ করা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৮৬ জন প্রার্থীকে। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩৪ হাজার ৬১০ জনকে এবং ননএমপিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ৬৭৬ জনকে সুপারিশ করা হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে প্রাথমিক সুপারিশপ্রাপ্ত ৩৮ হাজার শিক্ষক দ্রুত নিয়োগের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা উপমন্ত্রী ও শিক্ষা সচিব বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে প্রার্থীরা।

গণবিজ্ঞপ্তি প্রত্যাশী শিক্ষক ফোরাম ও ১-১৫তম নিবন্ধিতদের পক্ষে প্রাথমিক সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকের প্রতিনিধি দল প্রথমে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা উপমন্ত্রী ও শিক্ষা সচিবের কাছে এই দাবি তুলে ধরে।

জানতে চাইলে গণবিজ্ঞপ্তিতে প্রাথমিক সুপারিশপ্রাপ্ত শান্ত আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষার সার্বিক উন্নয়ন, মুজিববর্ষে বেকারত্ব হ্রাসের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, শিক্ষকদের আর্থিক দুরবস্থাসহ সামাজিক মর্যাদার কথা চিন্তা করে এই ডিসেম্বর মাসেই যোগদানের ব্যবস্থা করতে হবে।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ফল গত ১৫ জুলাই রাতে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে এনটিআরসিএ।

তবে ৫১ হাজার ৭৬১টি পদে সুপারিশ করার কথা থাকলেও সুপারিশ করা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৮৬ জন প্রার্থীকে। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩৪ হাজার ৬১০ জনকে এবং ননএমপিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ৬৭৬ জনকে সুপারিশ করা হয়েছে।

এর আগে ১৫ জুলাই এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়োগ নিয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তিনি জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৪ হাজার শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দিতে আবেদনপ্রক্রিয়া শেষ করা হলেও আদালতে মামলার কারণে আবেদনকারীদের ফলাফল এত দিন প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষক নিবন্ধনের ১ থেকে ১২তম পর্যন্ত পাস করেও চাকরি না পাওয়া ২ হাজার ৫০০ জনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে এনটিআরসিএকে সুপারিশ করে রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট। সে রায় ২৮ জুন বাতিল করে দেয় আপিল বিভাগ।

চলতি বছরের ৩০ মার্চ তৃতীয় ধাপে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ৫৪ হাজার ৩০৪ শিক্ষক নিয়োগে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ।

গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৫৪ হাজার ৩০৪টি শূন্যপদের মধ্যে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে ৩১ হাজার ১০১টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত পদ ২৬ হাজার ৮৩৮টি। মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে মোট শূন্যপদ ২০ হাজার ৯৯৬টি। এর মধ্যে ১৯ হাজার ১৫৪টি এমপিওভুক্ত। আর ২ হাজার ২০৭টি এমপিও পদে রিট মামলায় অংশগ্রহণদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়।

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিট: চট্টগ্রাম ও বরিশালে অনুপস্থিত ৩১ শতাংশ
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষার আগে কেন্দ্রে আগুন
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ৭৪ পরীক্ষার্থী
ঢাবির ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী টিকার আওতায়
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ২২ জন

শেয়ার করুন

শিক্ষানীতি বদলালেও মৌলিক বিষয় ঠিক রাখতে হবে

শিক্ষানীতি বদলালেও মৌলিক বিষয় ঠিক রাখতে হবে

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ড. কাজী খলীকুজ্জমান। ছবি: নিউজবাংলা

সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘নীতিনির্ধারক, শিক্ষক, অভিভাবক, ছাত্র-ছাত্রী ও অ্যালামনাই সবাই মিলে আমাদের প্রাণের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও উজ্জ্বল করব- শতবর্ষের আজকের আয়োজন থেকে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’

জাতীয় শিক্ষানীতিতে পরিবর্তন আনলে মৌলিক বিষয় যাতে অক্ষুণ্ন থাকে সেদিকে খেয়াল রাখার তাগিদ দিয়েছেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার তৃতীয় দিন শুক্রবার এক আলোচনা সভায় তিনি এই তাগিদ দিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত এই আলোচনায় ড. খলীকুজ্জমান বলেন, ‘আমাদের একটি শিক্ষানীতি আছে। তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। নতুন করে আবার নাকি শিক্ষানীতি করা হবে।

‘আমরা ‍যদি এ রকম দুই বছর বা পাঁচ বছর পর পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাই তাহলে শিক্ষার্থীদের কী অবস্থা হবে। তারা এক ব্যবস্থা থেকে অন্য ব্যবস্থায় যাচ্ছে। আমার মনে হয় একটি মৌলিক বিষয় ঠিক রেখে অন্যান্য বিষয় পরিবর্তন করা যায়। মৌলিক বিষয় ঠিক রেখে পরিবর্তনের কথা ২০১০ সালের শিক্ষানীতিতেও বলা আছে।’

ড. খলীকুজ্জমান বলেন, ‘শিক্ষার মান এবং মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিষয়। মূল্যবোধের দিকে আমাদের বিশেষভাবে নজর দেয়া দরকার। তবে দক্ষতা ছাড়া শুধু মূল্যবোধ থাকলে হবে না। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই পারে দক্ষ ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ তৈরি করতে। তবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক থেকে মূল্যবোধ ও দক্ষতার ওপর জোর দেয়া না হলে তা সম্ভব হবে না।’

শুক্রবার বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া এই আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অনারারি অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান সভাপতিত্ব করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মুজাম্মেল হক বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টি না হলে পাকিস্তানও সৃষ্টি হতো না। বাঙালিরাই পাকিস্তান সৃষ্টি করেছিল। আজ যারা পাকিস্তানি তারা ১৯৪৭ সালে অবিভক্ত ভারতের পক্ষে ভোট দিয়েছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন ছাত্রনেতা হিসেবে তাঁর গুরু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে পাকিস্তান সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছিলেন।’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের গবেষণা বাড়াতে হবে। আমাদের জীবনমান ও চাহিদা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শিক্ষার যে বিষয়গুলো পরিবর্তন হচ্ছে সে ক্ষেত্রেও দৃষ্টি দিতে হবে। চিন্তা-চেতনায়ও পরিবর্তন আনতে হবে।’

সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘দেশের প্রতিটি আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল অগ্রণী ভূমিকায়। ছাত্র-ছাত্রীরা যেরকম অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে শিক্ষকরাও তাদের পাশে থেকেছেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর এই সম্পর্ক ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় বৈশিষ্ট্য। আজ আমরা ছাত্র-শিক্ষকের যে সম্পর্ক দেখি তা কাম্য নয়।’

ডাকসুর সাবেক এই সহসভাপতি বলেন, ‘আমরা উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হয়েছি। আমাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। নতুন এই চ্যালেঞ্জ কিভাবে মোকাবেলা করব, সেটা যদি নির্ধারণ করতে না পারি তাহলে উন্নয়নশীল দেশের তালিকা থেকে আবার আমরা ছিটকে পড়ব। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়কেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘নীতিনির্ধারক, শিক্ষক, অভিভাবক, ছাত্র-ছাত্রী, অ্যালামনাইসহ সবাই মিলে আমাদের প্রাণের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও উজ্জ্বল করব- শতবর্ষের আজকের আয়োজন থেকে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই সময়ে বিশ্বমানের জনসম্পদ গড়তে উন্নতমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার অঙ্গীকার করছি। তবে এ জন্য আমাদের বাড়তি মনোযোগ ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। সেই সক্ষমতা নিশ্চয়ই আমাদের সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের রয়েছে।’

সাবেক এই গভর্নর বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চয়ই বিশ্বমানের বিদ্যাপীঠ। এখনো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যেসব প্রকাশনা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হচ্ছে আমরা হয়তো সেভাবে সেগুলো রেকর্ড করতে পারছি না। আমরা এগুলো রেকর্ড করতে পারলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং নিশ্চয়ই আরো অনেক ওপরে উঠে যাবে।’

আলোচনা সভা শেষে সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে একটি বিতর্ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘এই সংসদ মনে করে, শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবলই ঐতিহ্যনির্ভর’ শীর্ষক এই বিতর্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

বিতর্ক শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন নাহিদ আফরোজ সুমি। এই পর্বে নাটক পরিবেশন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সংগীত পরিবেশন করে। ফাহিম হোসেন চৌধুরী, সুজিত মোস্তফা, রফিকুল আলম এবং শুভ্র দেব একক সংগীত পরিবেশন করবেন। ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করেন দলছুটের বাপ্পা মজুমদার। বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ হয়।

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিট: চট্টগ্রাম ও বরিশালে অনুপস্থিত ৩১ শতাংশ
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষার আগে কেন্দ্রে আগুন
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ৭৪ পরীক্ষার্থী
ঢাবির ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী টিকার আওতায়
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ২২ জন

শেয়ার করুন

হল ছাড়ার নির্দেশে ভোগান্তিতে কুয়েট শিক্ষার্থীরা

হল ছাড়ার নির্দেশে ভোগান্তিতে কুয়েট শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণার পর হল ছাড়ছেন কুয়েট শিক্ষার্থীরা।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘করোনায় ক্ষতি তো অনেক হয়েছে। এবারের বন্ধ ঘোষণার কারণে আরও কিছুটা ক্ষতি হবে। তবে যেহেতু তদন্তের স্বার্থে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তাই আমরা চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীরা চিহ্নিত হোক।’

একজন শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার পর হল ছাড়তে শুরু করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৮তম জরুরি সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার পরই হল ছাড়তে শুরু করেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের অধ্যাপক মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এদিন বিকেল ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়।

দুপুর থেকে ক্যাম্পাস ছাড়তে শুরু করেন অনেক শিক্ষার্থী। এসময় বাস বা ট্রেনের টিকিট পাওয়া নিয়ে অনেকে শঙ্কিত হয়ে পড়েন।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভোগের এক শিক্ষার্থী হল ছাড়ার সময় বলেন, ‘দিনাজপুর পর্যন্ত এখন কীভাবে যাব, সেই চিন্তায় আছি। হঠাৎ হল ছাড়ার সিদ্ধান্তে বিপাকেই পড়েছি। বিশেষ করে আমাদের মেয়েদের সমস্যা একটু বেশি। তবে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বাইরে তো কিছু করার থাকে না। আর বিষয়টা যেহেতু পলিটিক্যাল ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই আর কোনো বিষয়ে কথা বলতে চাই না।’

দীর্ঘ বিরতির পর এ বছরের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ক্যাম্পাস খোলার কিছুদিনের মধ্যে আবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেক শিক্ষার্থী।

ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিরিয়ারিং চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মঈন ঢালী ঢাকার বাসা থেকে ২২ অক্টোবর ক্যাম্পাসে এসেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘হঠাৎ বন্ধ হওয়ায় বিড়ম্বনায় পড়েছি। এখন আর বাড়ি ফিরব না। আমার বন্ধুর মেসে থাকব। সে ঢাকায় চলে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ব্যাপক বিড়ম্বনা।’

যন্ত্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হারুনুর রশীদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীর জন্য এটা চরম ভোগান্তির। ঠাকুরগাঁও সদরের টিকিট পেলে বাড়ি চলে যাব। আর না পেলে কী করব, তা এখনও ভাবিনি।’

যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওসমান গণি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘করোনার জন্য অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। এত দিন তো পড়ালেখা শেষ হয়ে যেত। ২৫ অক্টোবর ক্যাম্পাসে এসেছিলাম। আবার ভ্যাকেন্ট। আমাদের জন্য কষ্টদায়ক। পড়াশোনা শেষ করতে কত দিন লাগবে, জানি না। সব মিলিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

৩০ নভেম্বর দুপুরে কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সেলিম হোসেনের মৃত্যু হয়।

কিছু ছাত্রের কারণে এই শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে এমন দাবি তুলে বৃহস্পতিবার প্রতিবাদ র‍্যালি ও সমাবেশ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, উচ্ছৃঙ্খল কিছু ছাত্রের অপমান, অবরুদ্ধ ও মানসিক নির্যাতনে অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যু হয়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত শিক্ষকরা সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘করোনায় ক্ষতি তো অনেক হয়েছে। এবারের বন্ধ ঘোষণার কারণে আরও কিছুটা ক্ষতি হবে। তবে যেহেতু তদন্তের স্বার্থে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তাই আমরা চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীরা চিহ্নিত হোক।’

এদিকে শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ছাত্রলীগের একাংশ আবাসিক হল না ছাড়ার জন্য প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। পরে বিকেল ৪টার দিকে তারা প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে সরে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে কুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রতীক চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘সিন্ডিকেট থেকে যেসব সিদ্ধান্ত এসেছে, তা দেখে বুঝলাম, শিক্ষকদের রিলেটেড কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তাই আমাদের দাবি মানা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পর্যালোচনা করার মতো কিছু আসেনি। আজকের সিদ্ধান্তটা সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং হলকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সাধারণ সভায় আগে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেগুলোই বহাল থাকছে। শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা ব্যতীত আমাদের অবস্থান পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।’

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিট: চট্টগ্রাম ও বরিশালে অনুপস্থিত ৩১ শতাংশ
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষার আগে কেন্দ্রে আগুন
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ৭৪ পরীক্ষার্থী
ঢাবির ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী টিকার আওতায়
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ২২ জন

শেয়ার করুন

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য আমাদের তৈরি হতে হবে: দীপু মনি

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য আমাদের তৈরি হতে হবে: দীপু মনি

শুক্রবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে। তার জন্য আমাদের তৈরি হতে হবে। উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রথাগত পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে নতুন কিছুকে আলিঙ্গন করতে হবে।’

শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি বলেছেন, ‘আজকের যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে, তার জন্য আমাদের তৈরি হতে হবে। অনেক চ্যালেঞ্জ আসবে, তা মোকাবিলার জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।’

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে শুক্রবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাশ বাংলাদেশ চত্বরে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে দীপু মনি বলেন, ‘আমাদের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রথাগত পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে নতুন কিছুকে আলিঙ্গন করতে হবে।

‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। সেই গতির সঙ্গে আমাদের সবাইকে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। তার সেই গতিকে আমরা যেন আমাদের কাজ দিয়ে আটকে না দেই। পেছনে টেনে না ধরি। আমরা যেন তার হাতকে আরো বেগবান করতে পারি সেই কাজই আমাদের করতে হবে।

‘সম্মিলিতভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। নতুন কিছুকে মেনে নিতে হবে। তা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য খোলা মন নিয়ে কাজ করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিট: চট্টগ্রাম ও বরিশালে অনুপস্থিত ৩১ শতাংশ
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষার আগে কেন্দ্রে আগুন
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ৭৪ পরীক্ষার্থী
ঢাবির ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী টিকার আওতায়
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ২২ জন

শেয়ার করুন

দক্ষতার ভিত্তিতে অনুদান পাবেন শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা

দক্ষতার ভিত্তিতে অনুদান পাবেন শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা

প্রকল্প পরিচালক চিত্তরঞ্জন দেবনাথ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, এসডিজি-৪-এর লক্ষ্য অর্জন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রতিযোগিতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে। আশা করছি, জানুয়ারি থেকে মাঠপর্যায়ে অনুদান দেয়ার কার্যক্রম শুরু করতে পারব।’

মানসম্মত শিক্ষার প্রসারে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দক্ষতার ভিত্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের অনুদান দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

উদ্যোগটি বাস্তবায়ন হলে দক্ষতা আর ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আর্থিক অনুদান দেয়া হবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে নিয়ে যাওয়া হবে উন্নত দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে।

ইতিমধ্যে পারফরম্যান্স বেজড গ্র্যান্টস ফর সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশন নামে একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকার বেশি।

সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, উদ্যোগটি বাস্তবায়ন হলে শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা মানসম্মত শিক্ষাদানে উৎসাহ পাবেন।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষা বোর্ডের ফলের ভিত্তিতে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) বা জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) স্তরে একজন শিক্ষার্থী পাবে ১০ হাজার টাকা। এসএসসি বা এইচএসসির ফলের ভিত্তিতে প্রতি বিভাগ (বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা) থেকে দুজন করে ছয়জন এবং মাদ্রাসা স্তরে দুজন এবং কারিগরি/ভোকেশনাল থেকে দুজন শিক্ষার্থীকে দেয়া হবে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার। এ ছাড়া উপজেলার একজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এবং একজন শিক্ষিকাকে ১ লাখ টাকা করে দেয়া হবে।

শুধু শিক্ষক-শিক্ষার্থীই নয়, প্রতিবছর উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দেয়া হবে ৫ লাখ টাকার অনুদান। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে পুরস্কার হিসেবে নিয়ে যাওয়া হবে উন্নত দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে।

জানা যায়, এই প্রকল্পের আওতায় ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ২০ হাজার ৩০০ সাধারণ স্কুল, ৯ হাজার ৪০০ মাদ্রাসা, ১ হাজার ১৯০ ভোকেশনাল ইউনিটসহ সাধারণ স্কুলের ৩ লাখ ৫৭ হাজার শিক্ষক ও ১ কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থী ফলের ভিত্তিতে অনুদান পাবে।

প্রকল্প পরিচালক চিত্তরঞ্জন দেবনাথ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, এসডিজি-৪-এর লক্ষ্য অর্জন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রতিযোগিতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে।

‘প্রকল্পটির ম্যানুয়াল পাস হয়েছে। এখন ম্যানুয়ালটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বই আকারে পাস হয়ে আসবে। এরপর আমরা মাঠপর্যায়ে অনুদান দেয়া শুরু করব। আশা করছি, ডিসেম্বরে ম্যানুয়ালটি পাস হবে এবং নতুন বছরের জানুয়ারি থেকে মাঠপর্যায়ে অনুদান দেয়ার কার্যক্রম শুরু করতে পারব।’

ফলের ভিত্তিতে অনুদান দেয়ার উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগের ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা গড়ে উঠেবে। এটা অবশ্যই ইতিবাচক। তবে এ ক্ষেত্রে যেন কোনো রকম অনিয়ম না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।’

এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজের অধ্যক্ষ রাফিয়া আক্তারও একই ধরনের মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘সরকারের এই উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আছে, তারা এতে উৎসাহিত হবে। এতে সার্বিকভাবে দেশের শিক্ষার মান বাড়বে।

‘দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী আছেন। এই উদ্যোগে তারা উৎসাহিত হবেন এবং এর ফলে এক ধরনের ইতিবাচক প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হবে।

যেভাবে দেয়া হবে পুরস্কার

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ম্যানুয়ালটি পাস হওয়ার পর এর ভিত্তিতেই পুরস্কার দেয়া হবে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, যে কনটেন্ট তৈরি করতে দেয়া হলো তার পারফরম্যান্সসহ বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রতি উপজেলায় এ বিষয়ে সাত সদস্যের একটি কমিটি করা হবে। কমিটির প্রধান থাকবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। কমিটিতে আরও থাকবেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিনিধি, কলেজ অধ্যক্ষসহ অন্যরা। কমিটির কাজ মূল্যায়ন করবেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় ২০১৮ সালের ২৪ জুন ‘পারফরম্যান্স বেজড গ্র্যান্টস ফর সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশন’ শীর্ষক প্রকল্পটি পাস হয়। এরপর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এটির কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে প্রকল্পের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। করোনা স্থবিরতা কাটতে শুরু করায় এবার প্রকল্পটির কার্যক্রম গতি পাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিট: চট্টগ্রাম ও বরিশালে অনুপস্থিত ৩১ শতাংশ
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষার আগে কেন্দ্রে আগুন
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ৭৪ পরীক্ষার্থী
ঢাবির ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী টিকার আওতায়
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ২২ জন

শেয়ার করুন

কুয়েট বন্ধ ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত

কুয়েট বন্ধ ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত

কুয়েটের উপাচার্য কাজী সাজ্জাদ হোসেন জানান, সিন্ডিকেট সভায় ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শুক্রবার বিকেল ৪টার মধ্যে হল ত্যাগ করতে হবে।

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক মৃত্যুর জেরে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

কুয়েটের সিন্ডিকেট সভায় শুক্রবার সকালে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কাজী সাজ্জাদ হোসেন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সিন্ডিকেট সভায় ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শুক্রবার বিকেল ৪টার মধ্যে হল ত্যাগ করতে হবে।

গত ৩০ নভেম্বর দুপুরে কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সেলিম হোসেনের মৃত্যু হয়।

কিছু ছাত্রের কারণে এই শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে এমন দাবি তুলে বৃহস্পতিবার প্রতিবাদ র‍্যালি ও সমাবেশ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, উচ্ছৃঙ্খল কিছু ছাত্রের অপমান, অবরুদ্ধ ও মানসিক নির্যাতনে অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যু হয়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত শিক্ষকরা সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন।

এ ছাড়া কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান শিক্ষকরা।

এরপর শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা আসে।

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিট: চট্টগ্রাম ও বরিশালে অনুপস্থিত ৩১ শতাংশ
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষার আগে কেন্দ্রে আগুন
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ৭৪ পরীক্ষার্থী
ঢাবির ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী টিকার আওতায়
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ২২ জন

শেয়ার করুন

জবির ৪ বিভাগের ব্যাবহারিক-মৌখিক পরীক্ষা পেছাল

জবির ৪ বিভাগের ব্যাবহারিক-মৌখিক পরীক্ষা পেছাল

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভুক্ত ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হয় ১৭ অক্টোবর। ছবি: নিউজবাংলা

জবির রেজিস্ট্রার বলেন, আগামী ১০ ও ১৮ ডিসেম্বর চারুকলা বিভাগ এবং ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর সংগীত বিভাগের পরীক্ষা হবে। বাকি দুই বিভাগের পরীক্ষার সময়সূচিও দ্রুত ঘোষণা করা হবে।

২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) স্নাতক শ্রেণির সংগীত, চারুকলা, নাট্যকলা এবং ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের ব্যাবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা পিছিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বৃহস্পতিবার রাতে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, চার বিভাগের মধ্যে সংগীত ও চারুকলার মৌখিক ও ব্যাবহারিক পরীক্ষার নতুন সময় ঘোষণা করা হয়েছে।

চারটি বিভাগের ব্যাবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা শুক্রবার সংশ্লিষ্ট বিভাগে হওয়ার কথা ছিল।

রেজিস্ট্রার বলেন, আগামী ১০ ও ১৮ ডিসেম্বর চারুকলা বিভাগ এবং ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর সংগীত বিভাগের পরীক্ষা হবে। বাকি দুই বিভাগের পরীক্ষার সময়সূচিও দ্রুত ঘোষণা করা হবে।

সংগীত বিভাগ

আগামী ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে মৌখিক ও ব্যাবহারিক পরীক্ষা হবে।

চারুকলা বিভাগ

এ বিভাগের ব্যাবহারিক পরীক্ষা ১০ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত হবে। বিভাগে ৭০৩ ভর্তীচ্ছু আবেদন করেছেন। দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ পরীক্ষা জবির বিভিন্ন ভবনে হবে।

ব্যাবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থী ১৮ ডিসেম্বর মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

জবির চারুকলা বিভাগেই সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা হবে। মাঝে খাবারের বিরতি থাকবে দুপুর ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত।

পরীক্ষার ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের হলে প্রবেশ করতে হবে। প্রবেশপত্র ছাড়া কাউকে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া হবে না বলে ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত নোটিশে বলা হয়েছে।

পরীক্ষা সংক্রান্ত সব নোটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেখা যাবে।

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিট: চট্টগ্রাম ও বরিশালে অনুপস্থিত ৩১ শতাংশ
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষার আগে কেন্দ্রে আগুন
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ৭৪ পরীক্ষার্থী
ঢাবির ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী টিকার আওতায়
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ২২ জন

শেয়ার করুন