দেশ ও জাতির জন্য কিছু করতে হবে: হাইকোর্ট

player
দেশ ও জাতির জন্য কিছু করতে হবে: হাইকোর্ট

বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘আমরা সবাই ঘুমাইয়া পড়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। শুধু আসলাম, গেলাম, তা তো না। দেশ ও জাতির জন্য কিছু করা দরকার, করতে হবে।’

যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া ও বহিষ্কৃত কমিশনার মোমিনুল হক সাঈদসহ অর্থপাচার মামলায় জারি করা রুলের জবাব আট মাসেও না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।

ক্ষুব্ধ উচ্চ আদালত বলেছে, ‘দেশ ও জাতির জন্য কিছু করতে হবে। শুধু আসলাম আর গেলাম, তা হবে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কিছু একটা করতে হবে।’

বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এস এম মুজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এসব কথা বলে।

যুবলীগের বহিষ্কৃত দুই নেতা ও বহিষ্কৃত কমিশনারের বিরুদ্ধে গত ১৭ অক্টোবর প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করে আদালতে আজ শুনানি হয়।

শুনানির সময় বাকি ১৩ বিবাদী জবাব না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হাইকোর্ট।

ওই সময় আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে বলে, ‘কেন আদালতের আদেশ প্রতিপালন করা হয়নি? শুধু পুলিশ আদেশ প্রতিপালন করেছে। বাকিরা কোথায়? আমরা মামলাটি শুনানির দিন ঠিক করব। এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

‘এটা ঠিক নয়, আমরা কোর্ট একটা আদেশ দিলাম…আমরা রুল দিয়েছি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। প্রায় এক বছর হয়ে গেল। রুলের জবাবটাই দাখিল করা হলো না। আর কী বলব। এ নিয়ে কিছু বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।’

বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘আমরা সবাই ঘুমাইয়া পড়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। শুধু আসলাম, গেলাম, তা তো না। দেশ ও জাতির জন্য কিছু করা দরকার, করতে হবে।

‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আপনাকেই করতে হবে। এটা নিয়ে শুধু সরকার করবে, তা তো নয়। সরকারকে সহযোগিতা করার দায়িত্ব আমাদের।’

পরে আদালত অর্থসচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, বাণিজ্যসচিব, পররাষ্ট্রসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের রেজিস্ট্রারকে আগামী ২১ নভেম্বর জবাব জমা দেয়ার দিন ঠিক করে দেয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

অর্থ পাচারে সম্রাটসহ আসামিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে এমনটি জানিয়ে গত ১৭ অক্টোবর প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ।

সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে অর্থ পাচারের বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, খালিদ মাহমুদ ভূঁইয়া, এনামুল হক আরমান, রাজীব হোসেন রানা, জামাল ভাটারা, মোমিনুল হক সাঈদ, শাজাহান বাবলুর নাম রয়েছে।

বিদেশে অর্থ পাচারে জড়িতদের খুঁজে বের করতে বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশ দিয়েছিল। হাইকোর্টের নির্দেশের আলোকে প্রতিবেদন জমা দেয় সিআইডি।

আরও পড়ুন:
৪৫ মাস ধরে ঝুলছে ষোড়শ সংশোধনী মামলার রিভিউ
বনে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জায়গা বরাদ্দ স্থগিত
সেই ৫ দিনমজুরকে জামিন দিল হাইকোর্ট
অনুসন্ধান থেকে আ. লীগ নেতার নাম বাদ কেন অবৈধ নয়
দুই শিশু নিয়ে বাবা-মায়ের লড়াইয়ে আর নেই রোকন উদ্দিন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতিতে প্রধানমন্ত্রীর বিরক্তি প্রকাশ

উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতিতে প্রধানমন্ত্রীর বিরক্তি প্রকাশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে বারবার প্রকল্প সংশোধন বন্ধ করতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে এসব কথা বলেন সাংবাদিকদের জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ধীর গতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী একনেক সভায় বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। বার বার যেন প্রকল্পগুলো সংশোধনে না আসে সে বিষয়েও নির্দেশনা দেন তিনি।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘একনেক সভায় মঙ্গলবার ১০টি প্রকল্প অনুমোদন পায়। এর মধ্যে পাঁচটি প্রকল্প সংশোধিত এবং পাঁচটি প্রকল্প নতুন। তাই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বারবার কেন প্রকল্পগুলোর সংশোধন করতে হয়। এটা যেন বারবার না হয় সেটা দেখতে হবে।’

আরও আসছে...

আরও পড়ুন:
৪৫ মাস ধরে ঝুলছে ষোড়শ সংশোধনী মামলার রিভিউ
বনে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জায়গা বরাদ্দ স্থগিত
সেই ৫ দিনমজুরকে জামিন দিল হাইকোর্ট
অনুসন্ধান থেকে আ. লীগ নেতার নাম বাদ কেন অবৈধ নয়
দুই শিশু নিয়ে বাবা-মায়ের লড়াইয়ে আর নেই রোকন উদ্দিন

শেয়ার করুন

দুর্নীতির মামলায় ক্যাপ্টেন শওকতকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

দুর্নীতির মামলায় ক্যাপ্টেন শওকতকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

মাওয়া আরিচা ফেরিঘাটে ফগ লাইট পরীক্ষা করার পর দেখা যায়, ৭ হাজার ওয়ার্ডের ফগ লাইট কাজ করছে মাত্র ৩ হাজার ওয়ার্ডের সমান। ফাইল ছবি

আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের সাবেক মহাব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন শওকত সরদারকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ফেরির ফগ লাইট কেনায় অনিয়মের অভিযোগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের পরিচালক ও জিএমসহ ৭ কর্মকর্তার নামে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

ফেরির ফগ লাইট কেনায় অনিয়মের অভিযোগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের সাবেক মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ক্যাপ্টেন শওকত সরদারকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।

আগাম জামিন চেয়ে তার করা আবেদন খারিজ করে মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জে কে পাল। দুদকের পক্ষে ছিলেন শাহীন আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

ফেরির ফগ লাইট কেনায় অনিয়মের অভিযোগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) পরিচালক ও জিএমসহ ৭ কর্মকর্তার নামে ৫ জানুয়ারি দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলায় আসামি করা হয়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) সাবেক চেয়ারম্যান ও পরিচালক (কারিগরি) ড. জ্ঞান রঞ্জন শীল, মহাব্যবস্থাপক বা জিএম ক্যাপ্টেন শওকত সরদার, মো. নুরুল হুদা, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি পঙ্কজ কুমার পাল, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) সাবেক মহাব্যবস্থাপক (মেকানিক্যাল) ইঞ্জিনিয়ার মো. রহমত উল্লা, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) মেকানিক্যাল বিভাগের ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন এবং মেসার্স জনী করপোরেশনের মালিক ওমর আলী।

ঘন কুয়াশায় ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ১০ কিলোমিটার দেখা যায় এমন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ফগ অ্যান্ড সার্চ লাইট ক্রয়ে ৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাদের নামে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সাইদুজ্জামান বাদি হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও পিএসআই কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে সার্চ অ্যান্ড ফগ লাইটের পরিবর্তে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সার্চ লাইটসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্রয় করে সরকারের ৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধন করেছেন।

অনুমোদনকৃত মামলায় তাদের নামে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালে বিআইডব্লিউটিসির ৬ কোটি টাকার ফগলাইট কিনতে আমেরিকায় যায় প্রতিষ্ঠানটির তখনকার চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, পরিচালক জ্ঞান রঞ্জন শীল, জিএম ক্যাপ্টেন শওকত সরদার ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পংকজ কুমার পাল। এই চার সদস্যের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন মাত্র একজন।

৬ কোটি টাকা দিয়ে তারা ১০টি ফগ লাইট ক্রয় করে। যা ছিল নিম্ন মানের। এছাড়া দেশে ফিরে গ্রীষ্মকালেই তারা এই ফগ (কুয়াশা) লাইট পরীক্ষা করেছে। মাওয়া আরিচা ফেরিঘাটে ফগ লাইট পরীক্ষা করার পর দেখা যায়, ৭ হাজার ওয়ার্ডের ফগ লাইট কাজ করছে মাত্র ৩ হাজার ওয়ার্ডের সমান। কিন্তু এর মধ্যে টাকা তুলে নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জনি করপোরেশন। তবে অনিয়ম ধরা পড়ায় আটকে দেয়া হয় ব্যাংক গ্যারান্টির টাকা।

এরপর ২০১৬ সালে হাইকোর্টের দ্বারস্ত হয় ফগ লাইট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জনি করপোরেশন। ওই রিটের দীর্ঘ শুনানি শেষে রিটটি খারিজ করে দিয়ে এ রায় দেয় হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ।

আরও পড়ুন:
৪৫ মাস ধরে ঝুলছে ষোড়শ সংশোধনী মামলার রিভিউ
বনে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জায়গা বরাদ্দ স্থগিত
সেই ৫ দিনমজুরকে জামিন দিল হাইকোর্ট
অনুসন্ধান থেকে আ. লীগ নেতার নাম বাদ কেন অবৈধ নয়
দুই শিশু নিয়ে বাবা-মায়ের লড়াইয়ে আর নেই রোকন উদ্দিন

শেয়ার করুন

দেশের প্রতি যাদের মমত্ব কম, তারা অপপ্রচারে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের প্রতি যাদের মমত্ব কম, তারা অপপ্রচারে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ফাইল ছবি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘যারা দেশবিরোধী অপপ্রচার করে, তাদের কথায় বিশ্বাস না করার আহ্বান জানাচ্ছি। সঠিক তথ্য জানতে হবে। দেশের প্রতি যাদের মমত্ব কম তারাই অপপ্রচার করে দেশের ক্ষতি করে।’

দেশের প্রতি যাদের মমত্ব কম, তারা দেশবিরোধী অপপ্রচারে লিপ্ত। তাই সামনের বছরগুলোতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আসবে বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের কথা বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে হবে।

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে মঙ্গলবার সকালে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের ৮১টি মিশনে বঙ্গবন্ধু কর্নার করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে তা সংরক্ষণ করা হবে। ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ নিয়ে সেমিনার ও প্রদর্শনী করা হবে।

‘যারা দেশবিরোধী অপপ্রচার করে, তাদের কথায় বিশ্বাস না করার আহ্বান জানাচ্ছি। সঠিক তথ্য জানতে হবে। দেশের প্রতি যাদের মমত্ব কম, তারাই অপপ্রচার করে দেশের ক্ষতি করে।’

সম্প্রতি র‍্যাবকে শান্তি রক্ষা মিশনে না নিতে জাতিসংঘে ১২ সংগঠন চিঠি দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হলেই যে ভালো হবে, এমনটা ভাববার কারণ নেই।’

যে ১২ প্রতিষ্ঠান চিঠি লিখেছে, তাদের বিষয়ে জাতিসংঘে খোঁজখবর নেয়ার আহ্বান জানান মোমেন।

এসব চিঠি র‍্যাবের শান্তি রক্ষা মিশনে যাওয়ায় কোনো বড় রকমে প্রভাব পড়বে না বলে দাবি করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নেতারা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ফাউন্ডেশনটির সভাপতি। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ফাউন্ডেশনের অন্য নেতাদের শপথ পড়ান তিনি।

আরও পড়ুন:
৪৫ মাস ধরে ঝুলছে ষোড়শ সংশোধনী মামলার রিভিউ
বনে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জায়গা বরাদ্দ স্থগিত
সেই ৫ দিনমজুরকে জামিন দিল হাইকোর্ট
অনুসন্ধান থেকে আ. লীগ নেতার নাম বাদ কেন অবৈধ নয়
দুই শিশু নিয়ে বাবা-মায়ের লড়াইয়ে আর নেই রোকন উদ্দিন

শেয়ার করুন

দুর্নীতিতে বাংলাদেশ ১৩তম

দুর্নীতিতে বাংলাদেশ ১৩তম

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশ করা দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান।

বার্লিনভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশ করা দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই)-এ এই তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এক ধাপ উন্নতি হয়েছে। তবে স্কোর আগের মতোই, ২৬।

বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত’ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল। বার্লিনভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির প্রকাশ করা দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই)’-এ এই তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এ তথ্য জানায়।

বিশ্বের ১৮০টি দেশের ২০২১ সালের দুর্নীতি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তৈরি করা এই সূচকে ভালো অবস্থানে থাকা বা ওপরের দিক থেকে ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের স্থান ১৪৭তম। ২০২০ সালে এই অবস্থান ছিল ১৪৬তম।

নিচের দিক থেকে এবার অবস্থান ১৩তম। ২০২০ সালের পরিস্থিতি বিবেচনায় এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২তম। আর ১০০ নম্বরের মধ্যে গত তিন বছরের মতো এবারও বাংলাদেশের স্কোর ২৬।

দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে সপ্তম স্থানে। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে আছে আফগানিস্তান। আর সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে ভুটান। আর এশিয়ার মধ্যেও বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান খুবই হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা ভালোও করিনি, খারাপও করিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে যাদের হাতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব, তাদের একটি বড় অংশ সরাসরি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক আর প্রশাসনিক দায়িত্বে যারা আছেন, তারা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের ব্যক্তিগত ফায়দা আদায়ের জন্য ব্যবহার করেন। জনকল্যাণে কেউ কাজ করেন না।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক জানান, দুর্নীতির ধারণা সূচকের গবেষণায় পৃথিবীর কোনো দেশই ১০০-তে ১০০ স্কোর পায়নি। অর্থাৎ কম-বেশি পৃথিবীর সব দেশেই দুর্নীতি আছে। পৃথিবীর সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ডেনমার্ক। আর সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ দক্ষিণ সুদান।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আটটি জরিপের ফলাফল থেকে সূচকটি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান ইফতেখারুজ্জামান।

২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা ৫ বছর বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে টিআই প্রতিবেদনে তালিকাভুক্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। পরে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। তবে গত চার বছর ধরে স্কোরে উন্নতি হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
৪৫ মাস ধরে ঝুলছে ষোড়শ সংশোধনী মামলার রিভিউ
বনে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জায়গা বরাদ্দ স্থগিত
সেই ৫ দিনমজুরকে জামিন দিল হাইকোর্ট
অনুসন্ধান থেকে আ. লীগ নেতার নাম বাদ কেন অবৈধ নয়
দুই শিশু নিয়ে বাবা-মায়ের লড়াইয়ে আর নেই রোকন উদ্দিন

শেয়ার করুন

অস্ত্র-মাদক ও চোরাচালান পণ্য উদ্ধারে পুলিশে পুরস্কৃতরা

অস্ত্র-মাদক ও চোরাচালান পণ্য উদ্ধারে পুলিশে পুরস্কৃতরা

সোমবার পুলিশ সপ্তাহ-২০২২-এর দ্বিতীয় দিনে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে পুরস্কার তুলে দেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ।

২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও চোরাই পণ্য উদ্ধারের জন্য পুলিশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলাকে পুরস্কৃত করা হয়।

গত দুই বছরে বিভিন্ন অভিযানে অবৈধ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানের পণ্য উদ্ধারে বাংলাদেশ পুলিশের সেরাদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার পুলিশ সপ্তাহ-২০২২-এর দ্বিতীয় দিনে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের পুরস্কার দেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও চোরাই পণ্য উদ্ধারের জন্য তারা পুরস্কৃত হন।

আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযানে ২০২০ সালে ‘ক’ গ্রুপে প্রথম চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, দ্বিতীয় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও তৃতীয় পাবনা জেলা পুলিশ।

আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযানে ২০১৯ সালে ‘খ’ গ্রুপে প্রথম হয়েছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ, দ্বিতীয় যশোর জেলা পুলিশ ও তৃতীয় নোয়াখালী জেলা পুলিশ। ‘গ’ গ্রুপে এপিবিএন প্রথম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও রাজবাড়ী জেলা পুলিশ তৃতীয়।

‘ঘ’ গ্রুপে র‍্যাব-৭ চট্টগ্রাম প্রথম, র‍্যাব-৫ রাজশাহী দ্বিতীয় ও র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার তৃতীয়।

‘ঙ’ গ্রুপে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগ প্রথম, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর বিভাগ দ্বিতীয় ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল বিভাগ তৃতীয়।

আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে ২০২১ সালে ‘ক’ গ্রুপে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রথম, পাবনা জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ তৃতীয়। ‘খ’ গ্রুপে প্রথম কক্সবাজার জেলা পুলিশ, দ্বিতীয় নরসিংদী জেলা পুলিশ ও তৃতীয় নোয়াখালী জেলা পুলিশ। ‘গ’ গ্রুপে এপিবিএন প্রথম, গাজীপুর জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও রাজবাড়ী জেলা পুলিশ তৃতীয়। ‘ঘ’ গ্রুপে র‍্যাব-৭ চট্টগ্রাম প্রথম, র‍্যাব-৫ রাজশাহী দ্বিতীয়, র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার তৃতীয়।

‘ঙ’ গ্রুপে প্রথম ডিবি, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম দ্বিতীয় এবং যৌথভাবে তৃতীয় হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ ও ওয়ারী বিভাগ।

মাদকদ্রব্য উদ্ধার: ২০২০ সালে পুরস্কৃতরা

‘ক’ গ্রুপে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রথম, কুমিল্লা জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ তৃতীয়। ‘খ’ গ্রুপে কক্সবাজার জেলা পুলিশ প্রথম, যশোর জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও ঢাকা জেলা পুলিশ তৃতীয়। ‘গ’ গ্রুপে প্রথম জয়পুরহাট জেলা পুলিশ, দ্বিতীয় লালমনিরহাট জেলা পুলিশ ও তৃতীয় চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ। ‘ঘ’ গ্রুপে প্রথম র‍্যাব-৫ রাজশাহী, দ্বিতীয় র‍্যাব-৪ মিরপুর ও তৃতীয় র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার। ‘ঙ’ গ্রুপে প্রথম ডিবি, দ্বিতীয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ রমনা বিভাগ ও তৃতীয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ মিরপুর বিভাগ এবং ‘চ’ গ্রুপে প্রথম হাইওয়ে পুলিশ, দ্বিতীয় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও তৃতীয় রেলওয়ে পুলিশ।

২০২১ সালে মাদক উদ্ধারে বিজয়ীরা

‘ক’ গ্রুপে প্রথম কুমিল্লা জেলা পুলিশ, দ্বিতীয় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও তৃতীয় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। ‘খ’ গ্রুপে প্রথম কক্সবাজার জেলা পুলিশ, দ্বিতীয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ ও তৃতীয় যশোর জেলা পুলিশ। ‘গ’ গ্রুপে প্রথম জয়পুরহাট জেলা পুলিশ, দ্বিতীয় লালমনিরহাট জেলা পুলিশ ও তৃতীয় গাজীপুর জেলা পুলিশ। ‘ঘ’ গ্রুপে র‍্যাব-৭ প্রথম, র‍্যাব-১৫ দ্বিতীয় ও র‍্যাব-১১ তৃতীয়।

‘ঙ’ গ্রুপে ডিবি প্রথম, ডিএমপি দ্বিতীয় ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর বিভাগ তৃতীয়। ‘চ’ গ্রুপে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন প্রথম, হাইওয়ে পুলিশ দ্বিতীয় ও রেলওয়ে পুলিশ তৃতীয়।

চোরাচালান পণ্য উদ্ধারে ২০২০ সালে বিজয়ীরা

‘ক’ গ্রুপে প্রথম চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ, দ্বিতীয় কুমিল্লা জেলা পুলিশ ও তৃতীয় টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ। ‘খ’ গ্রুপে খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ প্রথম, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ দ্বিতীয় ও বান্দরবান জেলা পুলিশ তৃতীয়। ‘গ’ গ্রুপে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রথম, লালমনিরহাট জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও পঞ্চগড় জেলা পুলিশ তৃতীয়। ‘ঘ’ গ্রুপে র‍্যাব-৩ প্রথম, র‍্যাব-১০ দ্বিতীয় ও র‍্যাব-৭ তৃতীয়।‘

‘ঙ গ্রুপে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ মিরপুর বিভাগ প্রথম, ডিবি দ্বিতীয় ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ তৃতীয়। ‘চ’ গ্রুপে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন প্রথম, রেলওয়ে পুলিশ দ্বিতীয় ও হাইওয়ে পুলিশ তৃতীয়।

২০২১ সালে চোরাচালান মালামাল উদ্ধারের যারা বিজয়ী

‘ক’ গ্রুপে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রথম, কুমিল্লা জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও সিলেট জেলা পুলিশ তৃতীয়। ‘খ’ গ্রুপে প্রথম ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ, দ্বিতীয় বাগেরহাট জেলা পুলিশ ও তৃতীয় হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ। ‘গ’ গ্রুপে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ প্রথম, পঞ্চগড় জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও লালমনিরহাট জেলা পুলিশ তৃতীয়। ‘ঘ’ গ্রুপে র‍্যাব-১০ প্রথম, র‍্যাব-৭ দ্বিতীয় ও র‍্যাব-১৪ ময়মনসিংহ তৃতীয়। ‘ঙ’ গ্রুপে প্রথম ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগ, দ্বিতীয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর বিভাগ ও তৃতীয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের লালবাগ বিভাগ। ‘চ’ গ্রুপে প্রথম হয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, দ্বিতীয় রেলওয়ে পুলিশ ও তৃতীয় হাইওয়ে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
৪৫ মাস ধরে ঝুলছে ষোড়শ সংশোধনী মামলার রিভিউ
বনে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জায়গা বরাদ্দ স্থগিত
সেই ৫ দিনমজুরকে জামিন দিল হাইকোর্ট
অনুসন্ধান থেকে আ. লীগ নেতার নাম বাদ কেন অবৈধ নয়
দুই শিশু নিয়ে বাবা-মায়ের লড়াইয়ে আর নেই রোকন উদ্দিন

শেয়ার করুন

আঞ্চলিক বাণিজ্য: নেতৃত্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

আঞ্চলিক বাণিজ্য: নেতৃত্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

আঞ্চলিক উদ্যোগগুলোতে সফল হতে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য সম্পর্কিত ইস্যুতে সমন্বয় ও নেতৃত্ব দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে ‘লিড মিনিস্ট্রি’ নির্বাচন করেছে সরকার। বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক ট্রানজিট/কানেক্টিভিটি পর্যালোচনা সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আঞ্চলিক বাণিজ্য উন্নয়নে বাংলাদেশের নজর কয়েক দশক ধরেই। এ উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক ট্রানজিটে ভেড়ার লক্ষ্যে প্রতিবেশী ভারত, ভুটান, নেপালকে নিয়ে বিবিআইএন উদ্যোগে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু সফলতা আসেনি। এরপর ভুটানকে বাদ দিয়ে ভারত ও নেপালের সঙ্গে নতুন উদ্যোগ (বিআইএন) নেয় সরকার।

বিআইএন উদ্যোগটি চলমান থাকলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। তারও আগে বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম), সাউথ এশিয়ান সাব-রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (এসএএসইসি), রিজিওনাল ইন্টিগ্রেশন, এশিয়ান হাইওয়েজ, সিল্ক রোড, ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড উদ্যোগে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। কোনো উদ্যোগই ফল দেয়নি। মুক্ত বাণিজ্যের এই সময়েও জুঁজুর ভয়ে বাংলাদেশ আঞ্চলিক বাণিজ্য উন্নয়নের সুযোগ থেকে অনেকটা বঞ্চিত, একইসঙ্গে বিচ্ছিন্নও।

এদিকে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চূড়ান্ত পথে বাংলাদেশ। ২০২৯ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষেত্রে পাওয়া সব শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা হারাবে দেশ। উল্টো বিশ্বকে ডেকে আনতে হবে বাংলাদেশের আঙ্গিনায়। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে করতে হবে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ)। সেখানে সবচেয়ে সহজ উদ্যোগ আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তিও (আরটিএ) এখন পর্যন্ত সঠিকভাবে কার্যকর করতে পারেনি বাংলাদেশ। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে সরকারকে।

উদ্ভূত বাস্তবতায় ভবিষ্যতে আঞ্চলিক উদ্যোগগুলোতে সফল হতে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য সম্পর্কিত ইস্যুতে সমন্বয় ও নেতৃত্ব দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে লিড মিনিস্ট্রি নির্বাচন করেছে সরকার।

ট্রানজিট ও কানেক্টিভিটি ইস্যুটি বাণিজ্য সম্পর্কিত হলেও সেখানে মতামত দেয়ার ক্ষেত্রে সবাই নিজেকে ‘লিড মিনিস্ট্রি’ মনে করে। ফলে নীতিনির্ধারণী বৈঠকে আঞ্চলিক বাণিজ্য উন্নয়নে গুরুত্ব হারাচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। এছাড়া দায়িত্বশীল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দরকষাকষিতে অদূরদর্শিতাও আছে।

বিজনেস অ্যালোকেশন অনুসারে এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেয়ার এখতিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের থাকলেও বাস্তবে এতোদিন সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ বিচ্ছিন্নভাবে নিজেদের মতো করে কাজ করেছে। সে কারণে এসব কার্যক্রমে সামগ্রিক সমন্বয়ের অভাব ছিল। এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর সম্মতিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ‘লিড মিনিস্ট্রি’ নির্বাচিত হওয়ায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকারের অন্যান্য বিভাগও।

সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক ট্রানজিট/কানেক্টিভিটি পর্যালোচনা সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অংশ নেয় পররাষ্ট্র, নৌ, সড়ক, রেল মন্ত্রণালয় এবং এনবিআর, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন অংশীজন।

আঞ্চলিক বাণিজ্য উদ্যোগে ব্যর্থতা কোথায়

বৈঠকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নীতিনির্ধারণী অংশীজনরা তাদের পারস্পরিক মতামত রাখেন। তারা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ট্রানজিট ও কানেক্টিভিটি সংক্রান্ত ১৫টি উদ্যোগের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেন। সেগুলোয় সাফল্য না পাওয়ার পেছনে সম্ভাব্য কারণও চিহ্নিত করেছেন তারা।

সার্বিক বিষয় বিশ্লেষণে এসবের মোটাদাগে অজানা জুঁজুর ভয় এবং সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, একক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের হাতে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার থাকছে না। এখানে ভিন্ন ভিন্ন বিভাগ জড়িয়ে পড়ছে এবং তারা কাজের ক্ষেত্র ও দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনায় ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানের মতামত দিচ্ছে। যদিও অংশীজনদের সবাই সরকারেরই অংশ এবং সবার অভীষ্ট লক্ষ্য এক হওয়া সত্বেও বাস্তবে কোনোভাবেই অভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া যাচ্ছে না। এ কারণে কোনো উদ্যোগেই সাফল্য মিলছে না।

অন্যদিকে ট্রানজিট ও কানেক্টিভিটি ইস্যুটি বাণিজ্য সম্পর্কিত হলেও সেখানে মতামত দেয়ার ক্ষেত্রে সবাই নিজেকে ‘লিড মিনিস্ট্রি’ মনে করে। ফলে নীতিনির্ধারণী বৈঠকে আঞ্চলিক বাণিজ্য উন্নয়নে গুরুত্ব হারাচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। এছাড়া দায়িত্বশীল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দরকষাকষিতে অদূরদর্শিতাও আছে। সর্বোপরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারে অনাগ্রহ তো রয়েছেই।

‘লিড মিনিস্ট্রি’ কেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া ওই বৈঠকের একটি কার্যপত্র নিউজবাংলার হাতে এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ তথা কানেক্টিভিটি ও ট্রানজিট ইস্যুতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম/প্রকল্প নেয়া হয়। তবে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বেশি লাভবান হওয়ার বিষয়টি সব সময় জড়িত থাকে। তাই কোনো চুক্তি বা প্রতিশ্রুতিতে যাওয়ার আগে তা দেশীয় বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করাও জরুরি। এক্ষেত্রে বিভিন্ন উদ্যোগে মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয়ের দরকার হয়।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (শুল্ক, আন্তঃবাণিজ্য ও আধুনিকায়ন) জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘নেতৃত্বদানকারী মন্ত্রণালয় হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ কাজে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় ও আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া) রকিবুল হক বলেন, ‘কোনো দেশের পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক অবস্থান ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুক্ত বাণিজ্যের বর্তমান সময়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকার সুযোগ নেই। তাই প্রতিবেশী দেশগুলোকে ট্রানজিট দেয়ার ক্ষেত্রে সবার আগে অজানা ভয় থেকে মুক্ত হওয়া দরকার। সে সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

‘বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী দেশ ভারত বিপুল জনসংখ্যার কারণে আমাদের জন্য একটি সম্ভাব্য বাণিজ্য ক্ষেত্র হতে পারে। তবে ট্রানজিট/কানেক্টিভিটির বিষয়টি যথাযথভাবে সমন্বয়ের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করাটা জরুরি। সেটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও হতে পারে।’

‘আঞ্চলিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য করণীয় সব কার্যক্রম অ্যালোকেশন অফ বিজনেস অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সমন্বয় করা হলে তা দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য বিকাশে সহায়ক হবে। একইসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা/বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) মাহবুবুল হক বলেন, ‘বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে অ্যালোকেশন অফ বিজনেস-এর তফসিল ১, ১৯৯৬ (এপ্রিল ২০১৭) পর্যন্ত সংশোধিত এর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত অংশের ১৬ নং অনুচ্ছেদে ‘বাংলাদেশের মাধ্যমে ট্রানজিট বাণিজ্য’ শিরোনামে বাণিজ্যিক ট্রানজিট বিষয়ক কার্যক্রম বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা আছে। কিন্তু এসব উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ কর্তৃক বিচ্ছিন্নভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। এজন্য এসব কার্যক্রম ফলপ্রসূ করার ক্ষেত্রে সামগ্রিক সমন্বয়ের প্ৰয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।’

মাহবুবুল হক দাবি করেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য করণীয় সব কার্যক্রম অ্যালোকেশন অফ বিজনেস অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সমন্বয় করা হলে তা দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য বিকাশে সহায়ক হবে। একইসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা/বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

একইভাবে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরাও তাদের মতামত দেন। পরে সবার মতামতের ভিত্তিতে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলেন, ২০২৬ সালে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে আমাদের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এ আলোকে আঞ্চলিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে হবে। বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মাথায় রেখে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত দেয়া দরকার। তাই বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পণ্য পরিবহন ও আঞ্চলিক যোগাযোগ সমন্বয়ের বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ই সম্পন্ন করবে। এক্ষেত্রে সামগ্রিক কার্যক্রমের বিষয়ে কোনো অসামঞ্জস্য থাকলে তার সমাধানে সিদ্ধান্ত দেবে বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত ‘ন্যাশনাল ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন কমিটি’। এর আলোকে দ্রুত আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্পর্কে পা রাখতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন:
৪৫ মাস ধরে ঝুলছে ষোড়শ সংশোধনী মামলার রিভিউ
বনে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জায়গা বরাদ্দ স্থগিত
সেই ৫ দিনমজুরকে জামিন দিল হাইকোর্ট
অনুসন্ধান থেকে আ. লীগ নেতার নাম বাদ কেন অবৈধ নয়
দুই শিশু নিয়ে বাবা-মায়ের লড়াইয়ে আর নেই রোকন উদ্দিন

শেয়ার করুন

হাসপাতাল ছাড়লেন সেই মা

হাসপাতাল ছাড়লেন সেই মা

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে এক সন্তান কোলে আয়েশা বেগম। ছবি: নিউজবাংলা

শ্যামলীর আমার বাংলাদেশ হাসপাতালের ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা বিল শোধ করতে না পারায় ৬ জানুয়ারি তাদের বের করে দেয়া হয়। তখন দুই শিশুসহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন আয়েশা। তবে সেখানে পৌঁছার আগেই এক শিশুর মৃত্যু হয়।

যমজ সন্তানের একটিকে চিকিৎসকের অবহেলায় হারানোর পর আরেক সন্তানকে নিয়ে ১৮ দিন পর বাসায় ফিরেছেন সাভারের গৃহবধূ আয়েশা বেগম। র‍্যাবের সহযোগিতায় ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তির পর শিশুর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে সোমবার তিনি বাসায় ফিরে যান।

স্বজনরা জানান, ছয় মাস বয়সী আব্দুল্লাহ ও আহমেদুল্লা নামে যমজ শিশুর ঠান্ডাজনিত সমস্যার চিকিৎসা নিতে গত ৩১ ডিসেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আসেন সাভার রেডিও কলোনির বাসিন্দা আয়েশা বেগম। সেখান থেকে দালালের খপ্পরে পড়ে তিনি সন্তানদের ভর্তি করেন শ্যামলীর আমার বাংলাদেশ হাসপাতালে। এ হাসপাতালে ছয় দিন ভর্তি দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা বিল দাবি করে। কয়েক দফায় ৫০ হাজার ৫০০ টাকা দিলেও পুরো বিল পরিশোধ করতে পারেননি আয়েশা। ৬ জানুয়ারি হাসপাতাল থেকে তাদের বের করে দেয়া হয়। তখন দুই শিশুসহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন আয়েশা। তবে সেখানে পৌঁছার আগেই এক শিশুর মৃত্যু হয়।

বিল দিতে না পারায় হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া ও শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। অপর শিশুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়।

স্বজনরা জানান, যমজ শিশুর বাবা মোহাম্মদ জামাল সৌদিপ্রবাসী। সেখানে তিনি মরুভূমিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তাদের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায়।

অমানবিক এ ঘটনা জেনে র‍্যাবের টিম হাসপাতালের মালিক মোহাম্মদ গোলাম সারোয়ারকে আটক করে। পরে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়।

ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি শিশু ও তার মায়ের নিয়মিত খোঁজ রাখেন র‍্যাব কর্মকর্তারা। সন্তান হারানোর বেদনাদায়ক স্মৃতি নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় যখন হাসপাতাল ত্যাগ করেন আয়েশা তখন র‍্যাব-৩ কর্মকর্তারা তাকে দেন বেশ কিছু উপহার। বাসায় ফেরার অ্যাম্বুলেন্সটিও ঠিক করে দেয় র‍্যাব।

র‌্যাব-৩ টিকাটুলী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. রাহাত হারুন খান এ সময় হাসপাতাল গেটে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘শিশুসন্তানকে নিয়ে তার মাকে বাসায় ফেরার অনুমতি দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের বাসায় ফেরার সময় কিছু উপহার দিয়েছি, যেন সমস্যায় না পড়ে। ৩০ দিন পর শিশুকে চেকআপ করার জন্য আনতে হবে। মানবিক কর্ম হিসেবে র‍্যাব তাদের খোঁজ রাখছে।'

র‌্যাবের পক্ষ থেকে শিশু ও তার মাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

বাসায় যাবার আগে আয়েশা বেগম কৃতজ্ঞতা জানান র‌্যাব কর্মকর্তা, চিকিৎসকসহ যারা বিপদের দিনে পাশে ছিলেন তাদের সবার প্রতি।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার আহমেদুল্লাকে ওরা মেরে ফেলছে। ওদের লোভে আমার ছেলে মারা গেল। দুজনকে নিয়ে এসেছিলাম, ফিরতেছি একজনকে নিয়ে।’

আরও পড়ুন:
৪৫ মাস ধরে ঝুলছে ষোড়শ সংশোধনী মামলার রিভিউ
বনে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জায়গা বরাদ্দ স্থগিত
সেই ৫ দিনমজুরকে জামিন দিল হাইকোর্ট
অনুসন্ধান থেকে আ. লীগ নেতার নাম বাদ কেন অবৈধ নয়
দুই শিশু নিয়ে বাবা-মায়ের লড়াইয়ে আর নেই রোকন উদ্দিন

শেয়ার করুন