চাপের মুখে জমা দিয়ে প্রকল্পের টাকা ফের উত্তোলন

চাপের মুখে জমা দিয়ে প্রকল্পের টাকা ফের উত্তোলন

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান এজেডএম সাজেদুল ইসলাম স্বাধীন।

গোপনে সাড়ে ১৮ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ চেষ্টা ফাঁস হওয়ার পর চেয়ারম্যান স্বাধীনের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন ইউপি সদস্য ও দলের নেতা-কর্মীরাও।

প্রকল্প ছাড়াই গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ভূমি হস্তান্তর কর বরাদ্দের সাড়ে ১৮ লাখ টাকা তুলে ফেলেছিলেন দামোদরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। পরে এই নিয়ে শোকজ করে স্থানীয় সরকার। নানাবিধ চাপে পরে সেই টাকা ব্যাংকে জমা দেয়া হয়। এ খবর প্রকাশিত হয় নিউজবাংলায়ও।

কিন্তু জমা দেয়ার পরদিনই ব্যাংক থেকে আবারও ওই টাকা তুলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগসাজশে টাকা জমা ও তুলে নেয়ার ঘটনায় এবার ইউপি সচিব নুরজামান মিয়াকে শোকজ করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

এর আগে একই অভিযোগে চেয়ারম্যান এ জেড এম সাজেদুল ইসলাম স্বাধীনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলে তিনি এর জবাবে ভুল স্বীকার করেছিলেন।

কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে ইউনিয়ন পরিষদের ভূমি হস্তান্তর কর (১ শতাংশ) বরাদ্দের ব্যাংক হিসাব নম্বরে সাড়ে ১৮ লাখ টাকা জমা করেন চেয়ারম্যান।

প্রকল্প ছাড়াই টাকা তোলার ঘটনাটি ধরা পড়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে নথিপত্র যাচাইয়ে। ২৯ সেপ্টেম্বর কারণ দর্শানোর নোটিশে চেয়ারম্যানকে এক সপ্তাহের মধ্যে লিখিত জবাব দেয়ার নির্দেশ দেন গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রোখছানা বেগম। ৭ অক্টোবর লিখিত জবাব দেন ইউপি চেয়ারম্যান স্বাধীন। এর আগের দিন তুলে নেওয়া সাড়ে ১৮ লাখ টাকা পরিষদের ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়।

এবার জমা করা টাকা আবারও তুলে নেয়ার ঘটনায় গত ১৯ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগ গাইবান্ধার উপপরিচালক (উপসচিব) মোছা. রোখছানা বেগম ইউনিয়নের সচিব নুরজামান মিয়াকে সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলেছেন।

ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক স্টেটমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ৩ অক্টোবর ওই সাড়ে ১৮ লাখ টাকা জমার পরদিনই দুটি চেকে আবারও পুরো টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

এদিকে গোপনে সাড়ে ১৮ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ চেষ্টা ফাঁস হওয়ার পর চেয়ারম্যান স্বাধীনের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন ইউপি সদস্য ও দলের নেতা-কর্মীরা। ইউপি সদস্য এস এম ওয়াহেদ মুরাদ, নুরুন্নবী আকন্দ, খোরশেদ আলম, রশিদুল ইসলাম ও নারী সদস্য মিনারা বেগম অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই স্বাধীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা করে আসছেন। সদস্যদের উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্তে তিনি বিভিন্ন প্রকল্প এবং সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করেও লাখ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন।

ট্রেড লাইসেন্স, হাট-বাজার ও ট্যাক্স আদায়ের টাকাও ব্যাংকে জমা না করার অভিযোগ আছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। গত ৫ বছরে তিনি বাড়ি-গাড়িসহ বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন ইউপি সদস্যরা।

আরও পড়ুন:
চিকিৎসক খালুর ‘৯৫ লাখ টাকা’ লোপাট, ২ ভাই গ্রেপ্তার
শিক্ষা বোর্ডের কোটি টাকা উধাও: পলাতক কর্মকর্তা বরখাস্ত
যশোর শিক্ষা বোর্ডের কোটি টাকা উধাও: তদন্তে দুদক
যশোর শিক্ষা বোর্ডের আড়াই কোটি টাকা উধাও
ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সদস্যের ভাতা আত্মসাতের মামলা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিজিবি সদস্য হত্যা: চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি করে মামলা

বিজিবি সদস্য হত্যা: চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি করে মামলা

নিহত বিজিবি নায়েক রুবেল মণ্ডল। ছবি: নিউজবাংলা

কিশোরগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক গুলনাহার বেগম জানান, মামলায় অজ্ঞাত অনেককে আসামি হিসেবে রাখা হয়েছে। সোমবার রাতে মামলাটি করা হয়। এতে প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছেন গাড়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিককে। তিনি লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে নির্বাচনি সহিংসতায় বিজিবি সদস্য রুবেল মণ্ডল হত্যা মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিককে। ওই মামলায় আরও ৯৫ জনকে আসামি করে হয়েছে।

মামলাটি কিশোরগঞ্জ থানায় সোমবার রাত সোয়া ১২টার দিকে করা হয়।

গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং অফিসার ললিত চন্দ্র রায় মামলাটি করেন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সারওয়ার আলম।

কিশোরগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক গুলনাহার বেগম জানান, মামলায় অজ্ঞাত অনেককে আসামি হিসেবে রাখা হয়েছে। সোমবার রাতে মামলাটি করা হয়। এতে প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছেন গাড়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিককে। তিনি লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন।

এ ছাড়া এ ঘটনায় বিভিন্ন সময় আটজনকে আটক করা হয়। আটকদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চিকিৎসক খালুর ‘৯৫ লাখ টাকা’ লোপাট, ২ ভাই গ্রেপ্তার
শিক্ষা বোর্ডের কোটি টাকা উধাও: পলাতক কর্মকর্তা বরখাস্ত
যশোর শিক্ষা বোর্ডের কোটি টাকা উধাও: তদন্তে দুদক
যশোর শিক্ষা বোর্ডের আড়াই কোটি টাকা উধাও
ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সদস্যের ভাতা আত্মসাতের মামলা

শেয়ার করুন

নির্বাচনি সহিংসতা: গুলিবিদ্ধ যুবলীগ কর্মীর মৃত্যু

নির্বাচনি সহিংসতা: গুলিবিদ্ধ যুবলীগ কর্মীর মৃত্যু

চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় গুলিবিদ্ধ যুবলীগ কর্মী দেলোয়ার হোসেন দিলুর। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয়রা জানান, ২৮ নভেম্বরের ভোটে দক্ষিণ গোবরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ প্রথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে গুলি ছুড়লে দেলোয়ারের মাথায় এসে লাগে।

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ যুবলীগ কর্মীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

রাজধানীর হেলথ কেয়ার হাসপাতালে সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দেলোয়ার হোসেন দিলুর মৃত্যু হয়।

৩৫ বছর বয়সী দিলুর বাড়ি কুলিয়ারচর উপজেলার ১ নম্বর গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পশ্চিম গোবরিয়া গ্রামে। তিনি গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. সাইফুলের কর্মী ছিলেন।

এই ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এনামুল হক আবু বক্কর নিউজবাংলাকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, ২৮ নভেম্বরের ভোটে দক্ষিণ গোবরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ প্রথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে গুলি ছুড়লে দেলোয়ারের মাথায় এসে লাগে।

পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেলোয়ারের মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফাকে কল দেয়া হলে তিনি ধরেননি।

আরও পড়ুন:
চিকিৎসক খালুর ‘৯৫ লাখ টাকা’ লোপাট, ২ ভাই গ্রেপ্তার
শিক্ষা বোর্ডের কোটি টাকা উধাও: পলাতক কর্মকর্তা বরখাস্ত
যশোর শিক্ষা বোর্ডের কোটি টাকা উধাও: তদন্তে দুদক
যশোর শিক্ষা বোর্ডের আড়াই কোটি টাকা উধাও
ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সদস্যের ভাতা আত্মসাতের মামলা

শেয়ার করুন

প্রিসাইডিং অফিসার ও এসআইয়ের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা

প্রিসাইডিং অফিসার ও এসআইয়ের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা

হামলায় আহত হন প্রিসাইডিং অফিসার গোলাম সারোয়ার ভূঁইয়া। ছবি: নিউজবাংলা

বরুড়া থানার ওসি ইকবাল বাহার জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত আছে। তদন্তের স্বার্থে কতজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে এবং কে মামলা করেছেন তা বলা যাচ্ছে না।

কুমিল্লার বরুড়ায় প্রিসাইডিং অফিসার ও পুলিশকে আহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে বরুড়া থানায় মামলাটি করেন ওই কেন্দ্রের এক সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরুড়া থানার ওসি ইকবাল বাহার। তবে এ ঘটনায় এ পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।

তিনি জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত আছে। তদন্তের স্বার্থে কতজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে এবং কে মামলা করেছেন তা বলা যাচ্ছে না।

হামলায় আহত হন প্রিসাইডিং অফিসার গোলাম সারোয়ার ভূঁইয়া ও এসআই আবু হানিফ।

এদিকে প্রিসাইডিং অফিসারের পকেট থেকে ৪৪ হাজার টাকা ছিনতাইকারীরা নিয়ে যায়। এতে ভাতা বঞ্চিত হন কেন্দ্রে দায়িত্ব থাকা ১৯ কর্মকর্তা-কর্মচারী। স্থানীয়রা জানান, তালা প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী মোখলেছুর রহমানের নেতৃত্বে এই হামলা হয়।

স্থানীয় পোলিং অফিসার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বরুড়ার ঝলম ইউনিয়নের ডেউয়াতলী কেন্দ্রে নির্বাচনের আগের দিন শনিবার রাতে ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করা হয়।

নির্বাচনের দিন রোববার সকাল ৮টা থেকে ৬টি বুথে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। সকাল ৯টার দিকে তালা প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী মোখলেছুর রহমান প্রিসাইডিং অফিসার গোলাম সারোয়ার ভূঁইয়ার কাছে ব্যালট বই নেয়ার দাবি করেন।

প্রিসাইডিং অফিসার তাকে ব্যালট বই দিতে রাজি না হলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর ভোট কেন্দ্রের বাইরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মোখলেছুরের নেতৃত্বে হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাতে ঘটাতে কেন্দ্রে ঢুকে পড়ে। আত্মরক্ষার্থে প্রিসাইডিং অফিসার কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন।

এ সময় হামলাকারীরা দরজা ভেঙে ফেলে। হামলাকারীরা প্রিসাইডিং অফিসারকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করলে বাধা দেন আবু হানিফ।

এতে লাঠি ও রামদা দিয়ে আঘাত করে তাকে মাটিতে ফেলে দেয় ছয়-সাতজনের একটি দল। মাটিতে ফেলে তার কোমরে ছুরি ও রামদা দিয়ে কোপানো হয়। তার পিস্তল ছিনতাই করা হয়। পরে সেটি উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রার্থী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘আমি একজন প্রতিবন্ধী ও নিরীহ প্রকৃতির মানুষ। প্রতিপক্ষের লোকজন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপপ্রচার করছে। আমি এ ঘটনার সময় ভয়ে পালিয়ে যাই। হামলা করতে যাব কেন?’

এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, ‘এটা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। হামলাকরীরা কেউ রেহাই পাবে না।’

আরও পড়ুন:
চিকিৎসক খালুর ‘৯৫ লাখ টাকা’ লোপাট, ২ ভাই গ্রেপ্তার
শিক্ষা বোর্ডের কোটি টাকা উধাও: পলাতক কর্মকর্তা বরখাস্ত
যশোর শিক্ষা বোর্ডের কোটি টাকা উধাও: তদন্তে দুদক
যশোর শিক্ষা বোর্ডের আড়াই কোটি টাকা উধাও
ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সদস্যের ভাতা আত্মসাতের মামলা

শেয়ার করুন

কলেজছাত্রী নাহিদার মৃত্যুর পর সেই সড়কের গর্ত ভরাট

কলেজছাত্রী নাহিদার মৃত্যুর পর সেই সড়কের গর্ত ভরাট

চট্টগ্রামের ডিটি রোডের গর্তে পড়ে কলেজছাত্রী নিহত হওয়ার পর সেই সড়কের গর্ত ভরাট করছে সিটি করপোরেশন। ছবি: নিউজবাংলা

এলাকাবাসীর দাবি, অনেক দিন থেকেই এই সড়কের গর্তের জন্য যান চলাচলে অসুবিধা হচ্ছিল। তবে সিটি করপোরেশন বলছে, ওয়াসার পাইপের লিকেজ থেকে বের হওয়া পানিতেই সড়কের এই গর্তের সৃষ্টি।

চট্টগ্রামের ডিটি রোডের গর্তে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে কলেজছাত্রী নিহত হওয়ার পর সেই সড়কের গর্ত ভরাট করছে সিটি করপোরেশন।

ওই সড়কে শুক্রবার বিকেল থেকে গর্ত ভরাট শুরু করেন সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। সোমবার বিকেলে সরেজমিনে ওই রাস্তায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কে থাকা আগের গর্তগুলো ভাঙা ইট, পাথর ও বিটুমিন ঢালাই দিয়ে ভরাট করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে (২৫ নভেম্বর) এই সড়কের গর্তে ঝাঁকি খেয়ে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হন কলেজছাত্রী নাহিদা আফরোজ আনিকা।

এলাকাবাসীর দাবি, অনেক দিন থেকেই এই সড়কের গর্তের জন্য যান চলাচলে অসুবিধা হচ্ছিল। তবে সিটি করপোরেশন বলছে, ওয়াসার পাইপের লিকেজ থেকে বের হওয়া পানিতেই সড়কের এই গর্তের সৃষ্টি।

দেওয়ানহাট এলাকার ব্যবসায়ী আকবর হোসেন বলেন, ‘আমিও বাইক নিয়ে এই সড়কে চলাচল করি। এই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় প্রাণ হাতে নিয়ে চলি রীতিমতো। এখানে অধিকাংশ সময়ই এ রকম গর্ত থাকে। সিটি করপোরেশন মাঝে মাঝে ভাঙা ইট দেয়, কিন্তু সেসব তো বেশি দিন থাকে না।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী বিপ্লব দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভারী যানের কারণে সড়কে গর্ত হয়। আমরা কিছুদিন আগেও সড়কটি সংস্কার করেছি। কিন্তু ওয়াসার পাইপের লিকেজ থেকে বের হওয়া পানিতে সড়ক বারবার নষ্ট হয়। তাছাড়া ওয়াসার পানির পাইপের কাজ করতে গিয়েও গর্তের সৃষ্টি হয়।’

সিটি করপোরেশনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী (মড-১) আব্দুর রউফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পাইপের লিকেজ এটা রানিং, পৃথিবীর সব দেশে এটা হয়। এটা আমরা চাইলেই শূন্যে আনতে পারব না। তবে আমরা কমানোর চেষ্টা করতেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুরোনো পাইপগুলো চেঞ্জ করে নতুন পাইপ বসাচ্ছি। আর পাইপের কাজ করানোর ফলে ওরা যে গর্ত হয়েছে দাবি করছে, আমরা তো সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়েই সড়কে পাইপের কাজ করি। আর কাজ করার পর টেম্পোরারি ঢালাই দিয়ে দিই।

‘এটা স্থায়ী সংস্কারের দায়িত্ব করপোরেশনের। কারণ যারাই সড়কে কাজ করুক, সড়ক কাটার জন্য অনুমতির প্রয়োজন হয়। আর টাকাও দিতে হয় ওদের।’

আরও পড়ুন:
চিকিৎসক খালুর ‘৯৫ লাখ টাকা’ লোপাট, ২ ভাই গ্রেপ্তার
শিক্ষা বোর্ডের কোটি টাকা উধাও: পলাতক কর্মকর্তা বরখাস্ত
যশোর শিক্ষা বোর্ডের কোটি টাকা উধাও: তদন্তে দুদক
যশোর শিক্ষা বোর্ডের আড়াই কোটি টাকা উধাও
ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সদস্যের ভাতা আত্মসাতের মামলা

শেয়ার করুন

কৃষক হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

কৃষক হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এমদাদুল হক জানান, ২০১৬ সালে সদর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মফি শেখ তার ছেলেকে নিয়ে উপবৃত্তির টাকা তুলতে যান। ফেরার পথে তার ওপর হামলা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মফির মৃত্যু হয়।

নড়াইলে কৃষক হত্যা মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুন্সী মো. মসিয়ার রহমান মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ২০১৬ সালে সদর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মফি শেখ তার ছেলেকে নিয়ে উপবৃত্তির টাকা তুলতে যান। ফেরার পথে তার ওপর হামলা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মফির মৃত্যু হয়।

বিস্তারিত আসছে...

আরও পড়ুন:
চিকিৎসক খালুর ‘৯৫ লাখ টাকা’ লোপাট, ২ ভাই গ্রেপ্তার
শিক্ষা বোর্ডের কোটি টাকা উধাও: পলাতক কর্মকর্তা বরখাস্ত
যশোর শিক্ষা বোর্ডের কোটি টাকা উধাও: তদন্তে দুদক
যশোর শিক্ষা বোর্ডের আড়াই কোটি টাকা উধাও
ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সদস্যের ভাতা আত্মসাতের মামলা

শেয়ার করুন

রাঙ্গামাটিতে গুলিতে নিহত জেএসএস কমান্ডার

রাঙ্গামাটিতে গুলিতে নিহত জেএসএস কমান্ডার

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তাপস রঞ্জন ঘোষ জানান, নিহত আবিষ্কার চাকমার বাড়ি বাঘাইছড়ি উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের শিজক এলাকায়। কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে তার বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

রাঙ্গামাটি সদর উপজেলায় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) এক কমান্ডারকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

উপজেলার বন্দুকভাঙা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কিচিং আদাম এলাকায় মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আবিষ্কার চাকমার বাড়ি বাঘাইছড়ি উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের শিজক এলাকায়।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তাপস রঞ্জন ঘোষ নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে তার বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে রওনা দিয়েছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’

আরও পড়ুন:
চিকিৎসক খালুর ‘৯৫ লাখ টাকা’ লোপাট, ২ ভাই গ্রেপ্তার
শিক্ষা বোর্ডের কোটি টাকা উধাও: পলাতক কর্মকর্তা বরখাস্ত
যশোর শিক্ষা বোর্ডের কোটি টাকা উধাও: তদন্তে দুদক
যশোর শিক্ষা বোর্ডের আড়াই কোটি টাকা উধাও
ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সদস্যের ভাতা আত্মসাতের মামলা

শেয়ার করুন

‘যারা আমাকে বিধবা করল আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন’

‘যারা আমাকে বিধবা করল আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন’

নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বিজিবি সদস্য রুবেল হোসেন মণ্ডল। ছবি: নিউজবাংলা

রুবেলের ভায়রা ভাই আবদুর রশিদ বলেন, ‘পিটিয়ে মারছে কি না তা বলতে পারব না। তবে বিজিবি যে ভাষ্য এখানে দিছে তা হলো, গলায় গুলি লাগছে। পোস্টমর্টেম বা কাটাকাটি যে করছে আমরা তার প্রমাণ পাইছি। লাশের গলায় কাফনের কাপড় প্যাঁচায়ে রাখা ছিল।’

বাবা, মা, স্ত্রী আর দুই সন্তান নিয়ে ছিল রুবেল হোসেন মণ্ডলের সংসার। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষে সহিংসতায় রুবেলের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে বাকি সদস্যরা এখন দিশেহারা।

২০০৩ সালের ডিসেম্বরে বিজিবিতে যোগ দেন রুবেল। নীলফামারী-৫৬ বিজিবির ল্যান্স নায়েক রুবেলের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শালমারা ইউনিয়নের বেইগুনি গ্রামে।

গ্রামের বাড়িতেই থাকেন কৃষক বাবা নজরুল ইসলাম, মা রুলি বেগম, স্ত্রী জেসমিন বেগম এবং দুই সন্তান রাফিহুর রহমান ও রাফিয়া আকতার রিয়া।

২৮ নভেম্বর নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের গাড়াগ্রাম ইউপি নির্বাচনের ফল ঘোষণা শেষে পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাতীয় পার্টির পরাজিত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিকের সমর্থকরা হামলা চালায়। হামলায় রুবেল নিহত হন বলে অভিযোগ ওঠে।

মোবাইলে কথা হয় রুবেলের স্ত্রী জেসমিন বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কীভাবে সে মারা গেল এখনও জানতে পারি নাই। কেউ বলে গুলিতে মরছে। কেউ বলে ডাংগে (পিটিয়ে) মারছে।

‘বিজিবির সদস্যরা বাড়িত লাশ আনছে। সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে মাটি হইছে। এখন আমার ছেলেমেয়েকে দেখবে কে? আমরা চলব কীভাবে?’

এতটুকু বলার পর কিছুক্ষণ থেমে জেসমিন আবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার চাই। যারা আমাকে বিধবা করল আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন।’

রুবেলের ১২ বছরের ছেলে রাফিহুর স্থানীয় একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে আর ১০ বছরের মেয়ে রিয়া পড়ে পঞ্চম শ্রেণিতে।

বাবার মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে দুই সন্তানই কেঁদে যাচ্ছে।

রুবেলের বাবা নজরুল ইসলামের প্রশ্ন, ‘ছেলেটাক ওমরা (তারা) কীসক (কেন) মারল? ওর কী দোষ?’

মায়ের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে রুলি বেগম কিছুই বলতে পারেননি। শুধু কাঁদছিলেন।

রুবেলের হত্যার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা হবে না বলে জানানো হয়েছে। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় মৃত্যু হওয়ায় বিজিবির পক্ষ থেকে মামলা হবে বলে জানানোয় তাদের এই সিদ্ধান্ত।

মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে রুবেলের ভায়রা ভাই আবদুর রশিদ বলেন, ‘পিটিয়ে মারছে কি না তা বলতে পারব না। তবে বিজিবি যে ভাষ্য এখানে দিছে তা হলো, গলায় গুলি লাগছে। পোস্টমর্টেম বা কাটাকাটি যে করছে আমরা তার প্রমাণ পাইছি। লাশের গলায় কাফনের কাপড় প্যাঁচায়ে রাখা ছিল।’

তবে কার গুলিতে মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত নন রশিদ। তিনি বলেন, ‘পুলিশের গুলিতেও হতে পারে, বিজিবির গুলিতেও হতে পারে। আবার আর কেউও গুলি করতে পারে। তবে গুলিতেই যে মারা গেছেন এটা সত্যি।

‘ডিফেন্সের যে পলিসি আছে সে মোতাবেক কিছু টাকা, দাফনের অর্থ আর চাল-ডাল পেয়েছি। বিজিবিই মামলা করবে বলেছে। তাই পরিবার কোনো মামলা করবে না।’

শালমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমির হোসেন শামীম জানান, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রুবেলের দাফন হয়েছে। জানাজায় পরিবার, প্রতিবেশী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেয়।

চেয়ারম্যান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রুবেলের পরিবার একেবারে অসহায় হয়ে গেল। তার অর্থেই পুরো পরিবার চলত। পরিবারটাকে এখন কে দেখবে?’

নির্বাচনি সহিংসতায় বিজিবি সদস্য নিহতের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নীলফামারী পুলিশ।

আরও পড়ুন:
চিকিৎসক খালুর ‘৯৫ লাখ টাকা’ লোপাট, ২ ভাই গ্রেপ্তার
শিক্ষা বোর্ডের কোটি টাকা উধাও: পলাতক কর্মকর্তা বরখাস্ত
যশোর শিক্ষা বোর্ডের কোটি টাকা উধাও: তদন্তে দুদক
যশোর শিক্ষা বোর্ডের আড়াই কোটি টাকা উধাও
ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সদস্যের ভাতা আত্মসাতের মামলা

শেয়ার করুন